ফিট থাকতে নিয়মিত করুন সাইক্লিং

ফিট থাকতে নিয়মিত করুন সাইক্লিং খোলা আকাশের নিচে, গাছে ঘেরা রাস্তায় সাইকেল চালালে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এতে করে মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে যায়। সকালের দিকে দূষণ ও গাড়ির চাপ কম থাকে। তাই সকালে সাইক্লিং করুন, সকালে না পারলে সারাদিনে কিছুটা সময় বের করে সাইকেল চালান। আর নিরাপদ বাহন কিন্তু সাইকেল, চাইলে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য গণ-পরিবহনের পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহার করতে পারেন। সাইক্লিংয়ের উপকারিতা * সাইক্লিং শুধু পায়ের ব্যায়াম নয়। নিয়মিত সাইকেল চালালে আমাদের শরীরের প্রতিটি পেশিতে চাপ পড়ে, ফলে পেশি সুগঠিত ও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। * সাইক্লিং আমাদের হার্ট, ফুসফুস এবং রক্তচাপের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। আর এভাবে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। * আমাদের কাজ করার জন্য যে স্ট্যামিনা প্রয়োজন হয়, নিয়মিত সাইক্লিং থেকে আমরা সেই কর্মস্পৃহা পেয়ে থাকি। যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষে দ্রুত পৌঁছতে সাহায্য করে। * খোলা আকাশের নিচে, গাছে ঘেরা রাস্তায় সাইকেল চালালে প্রকৃতির সাথে আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এতে করে মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমানোর জন্য এটি খুব ভালো একটি উপায়।শরীরের মেদ কমে- নিয়মিত সাইক্লিং-এ আমাদের শরীরের বাড়তি মেদ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। * সাইক্লিংয়ের ফলে আমাদের শ্বাস এবং হার্ট বিট উন্নত হয়। সাইক্লিংয়ে সাবধানতা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সাইক্লিং করা সহজ নয়। এক্ষেত্রে নিজের সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইকেল কেনার সময় নিরাপত্তা গিয়ার ঠিক আছে কি না চেক করে নিন। সব সময় রাস্তার একপাশ দিয়ে সাইকেল চালাতে হবে। বাই সাইকেল চালালেও ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কখনোই খুব দ্রুত সাইকেল চালানো যাবে না। হেলমেট ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ডায়াবেটিস থাকলে সাইকেল চালানোর আগে কিছু খেয়ে নিতে হবে। সাইকেল চালানোর সময় অনেক ঘাম হয়। তাই ক্লান্তি দূর করতে সঙ্গে এক বোতল পানি বা জুস রাখুন। কখনো ব্যথা পেলে বা কোনো শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাইসাইকেল কিনতে ফনিক্স, এমটিভি, হারকিউলিক্স, হিরো, ফায়ারফক্সসহ ভালো মানের একটি সাইকেল কিনতে পারবেন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়। ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, নিউমার্কেট, বংশালসহ দেশের ছোট বড় সব শহরেই দেশি বিদেশি ব্র্যান্ডের সাইকেল পাওয়া যায়।

সকালে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা? দূর করবেন যেভাবে

সকালে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা? দূর করবেন যেভাবে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা শুরু হয়। কী করলে বা কী খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব তা অনেকেই জানেন না। গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সাময়িক সমাধান দিতে পারে ঠিকই তবে দীর্ঘমেয়াদে তা নানা শারীরিক অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় প্রাকৃতিক উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক- ১. আদার রস ও পানি আদার রসের অনেক উপকারিতার মধ্যে একটি হলো, এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে কাজ করে। এক চামচ আদার রসের সঙ্গে এক কাপ পানি মিশিয়ে খেয়ে নিন‌। অথবা শুধু এক টুকরো আদা চিবিয়ে খেয়েও পানি খেতে পারেন। এভাবে নিয়মিত খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হবে। ২. পুদিনার পানি পুদিনাপাতা বিভিন্ন খাবারে স্বাদ ও গন্ধ যুক্ত করতে সাহায্য করে। তবে এখানেই শেষ নয়, এর রয়েছে অনেক উপকারিতাও। এই পাতার পানি গ্যাস কমাতেও সমান কার্যকরী। নিয়মিত পুদিনা পাতা সেদ্ধ করা পানি পান করতে পারেন। এই পাতা কাঁচা চিবিয়ে খেলেও উপকার পাবেন। ৩. মৌরি ভেজানো পানি মৌরি ভেজানো পানি গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। শুধু পানিই নয়, এর সঙ্গে মৌরিগুলোও চিবিয়ে খেয়ে নিতে পারেন। তাতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হওয়ার পাশাপাশি আরও অনেক উপকার মিলবে। ৪. জিরা ভেজানো পানি জিরার অনেক উপকারিতা। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতেও এটি কাজ করে। জিরা ভেজানো পানি মৌরি ভেজানো পানির মতোই কাজ করে। প্রতিদিন সকালে পরিমিত পরিমাণে জিরা ভেজানো পানি পান করলে তা পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে পেট ঠান্ডা হয়। ৫. হালকা গরম পানি সকালে উঠে খালি পেটে পান করতে পারেন হালকা গরম পানি। হালকা গরম পানি পান করলে তা পেটের তাপমাত্রার হেরফের ঘটিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে এটি পেট পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে।

হঠাৎ খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, মানসিক চাপ নয়তো?

হঠাৎ খাবারের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, মানসিক চাপ নয়তো? উৎসবে আনন্দ করতে মানুষ পরিবারের সদস্যদের কাছে যায়। এই সময় পারিবারিক, সামাজিক সম্পর্ক আর দৃঢ় হয়। আবার এর উল্টোটাও ঘটে। একাধিক মানসিক চাপে হতাশ হয়ে মানুষ অধিক খাবার খাওয়া শুরু করে। বিশেষ করে ক্যালোরি বৃদ্ধি করে এমন খাবারগুলো তখন বেশি বেছে নেয়। মানসিক চাপ বাড়লে খাবার খাওয়ার প্রতি কেন আগ্রহ বাড়ে? এই বিষয়ে মনোবিদরা বলছেন, ‘‘মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মানুষ খাবারের সাহায্য নেয়। যার যে খাবারটা খেলে তৃপ্তি বোধ হয়, সে সেই খাবারই মানসিক চাপের মধ্যে বেশি খেতে থাকে। যাকে বলে ‘কমফোর্ট ফুড’। এই কমফোর্ট ফুড ক্ষণিকের জন্য স্ট্রেস থেকে মুক্তিও দেয়।’’ কেন এমন হয়? অধিক মানসিক চাপে শরীরের কর্টিসল হরমোন নির্গত হয়। এই হরমোন উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়। কিংবা যে খাবার খেলে মানুষ তৃপ্তি অনুভব করে, সেগুলোই বেশি করে খাবার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে। ‘কমফোর্ট ফুড’ তৃপ্তি আনে এবং ডোপামিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। তাই স্ট্রেসের মধ্যে মুখরোচক খাবার খেলে একটু হলেও স্বস্তি মেলে। কিন্তু এটা সাময়িক। ভারতীয় মনোবিদ ডা. সরখেল স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘কমফোর্ট ফুড খেয়ে স্ট্রেস থেকে সাময়িক রিলিফ মেলে। কিন্তু এটা কোনও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়। বরং এতে ওজন বাড়ে। আর ওবেসিটি অনেকের ক্ষেত্রে স্ট্রেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’’ এই সমস্যা এড়াতে হলে প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন। নিজেকে আলাদা করে সময় দিন। প্রার্থনা করতে পারেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। শুনতে পারেন প্রিয় গান, প্রিয় কোনো সুর। আবার নিজের খুব প্রিয় কোনো স্থানে গিয়ে কিছু সময় থাকতে পারেন। সুতরাং কোনো সম্পর্ককে অধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজেকে গুরুত্বহীন করে তুলবেন না।

ইফতারে তরমুজের পুডিং তৈরির রেসিপি

ইফতারে তরমুজের পুডিং তৈরির রেসিপি ইফতারে ঠান্ডা কিছু না হলে কি চলে? সারাদিন রোজা থাকার পর মন ও পেট দুটোই জুড়াতে বেছে নিতে পারেন তরমুজের পুডিং। ভাবছেন, তরমুজের পুডিং কী করে তৈরি করবেন? এটি একদমই কঠিন নয়, বরং বেশ সহজ। বাজারে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে। তার সঙ্গে দুই-তিনটি উপকরণ মিশিয়ে খুব সহজেই তৈরি করতে পারবেন তরমুজের পুডিং। চলুন জেনে নেওয়া যাক তরমুজের পুডিং তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে তরমুজের রস- ৪ কাপ চিনি-স্বাদ মতো কর্ন ফ্লাওয়ার- আধা কাপ পানি- পরিমাণ মতো। যেভাবে তৈরি করেবন তরমুজ খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে নিন। এবার তরমুজের বীজ ছাড়িয়ে নিন। তরমুজের টুকরাগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে রস বের করে নিন। এবার তরমুজের চুলায় মাঝারি আঁচে বসিয়ে দিন। অনবরত নাড়তে থাকুন। ফুটে উঠলে স্বাদ মতো চিনি দিন। এরপর অল্প পানি দিয়ে কর্ন ফ্লাওয়ার গুলিয়ে নিয়ে তরমুজের রসে অল্প অল্প করে মিশিয়ে দিন। এ সময় চুলার আঁচ কমিয়ে নিন। নাড়তে থাকুন। এভাবে ঘন ও আঠালো হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। পছন্দসই পাত্রে বাটার ব্রাশ করে তরমুজের মিশ্রণ ঢেলে দিন। কিছুক্ষণ পর নরমাল ফ্রিজে রাখুন। এভাবে অন্তত কয়েক ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর বের করে পরিবেশন করুন ঠান্ডা ঠান্ডা তরমুজের পুডিং।

দিনের শুরুতে মস্তিষ্কের যে ব্যায়ামগুলো করবেন

দিনের শুরুতে মস্তিষ্কের যে ব্যায়ামগুলো করবেন দিনের শুরুতে শরীরচর্চার সময় যেমন আপনার পেশীগুলোকে প্রসারিত করেন, তেমনই উদ্দীপক ব্যায়ামে আপনার মস্তিষ্ককে নিযুক্ত করুন। এটি মানসিক ক্ষমতাকে তীক্ষ্ণ করে তুলবে এবং একটি সৃজনশীলতায় সাহায্য করবে। অনেক সময় আধুনিক জীবনের গতি মানসিক ক্লান্তি এবং চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, সহজ, নিয়মিত মস্তিষ্কের ব্যায়াম স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং সামগ্রিক মানসিক তৎপরতা উন্নত করতে কাজ করে। তাহলে, কেন আপনার সকাল এমন একটি রুটিন দিয়ে শুরু করবেন না যা আপনার মস্তিষ্ককে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করে? মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত কিছু কার্যকর মস্তিষ্কের ব্যায়াম এখানে দেওয়া হলো- ১. মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য একটি দুর্দান্ত ব্যায়াম। বর্তমান মুহুর্তের ওপর মনোনিবেশ করে চাপ কমাতে এবং একাগ্রতা বাড়াতে পারেন। ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন কর্মক্ষম স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং মস্তিষ্কের নমনীয়তা উন্নত করে। সকালে মাত্র ১০ মিনিট মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন বেশ কার্যকরী হতে পারে।মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশনের জন্য একটি আরামদায়ক অবস্থানে বসুন, চোখ বন্ধ করুন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর মনোযোগ দিন। চিন্তাভাবনা জাগলে, আলতো করে আপনার মনোযোগ আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে ফিরিয়ে আনুন। ধীরে ধীরে এই সহজ অনুশীলন আপনার মানসিক স্বচ্ছতা এবং মানসিক স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করবে। ২. মেন্টাল ভিজ্যুয়ালাইজেশন মেন্টাল ভিজ্যুয়ালাইজেশনের মধ্যে রয়েছে দৃশ্যপট বা কার্যকলাপকে প্রাণবন্তভাবে বিশদভাবে কল্পনা করা। এই কৌশলটি কেবল সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে না বরং স্নায়ুতন্ত্রকেও শক্তিশালী করে। আপনার লক্ষ্য বা কাজকে কল্পনা করে দিন শুরু করুন। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার কোনো সভা থাকে, তাহলে নিজেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করার কল্পনা করুন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত এবং ইতিবাচক মানসিক অভ্যাসকে শক্তিশালী করবে। ৩. নতুন কিছু শেখা নতুন ক্রিয়াকলাপে জড়িত থাকলে তা মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করে এবং নিউরোপ্লাস্টিসিটি বাড়ায়। এটি হলো মস্তিষ্কের অভিযোজন এবং বৃদ্ধির ক্ষমতা। ডালাসের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বুনন বা ফটোগ্রাফির মতো নতুন দক্ষতা শিখলে তা প্রাপ্তবয়স্কদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বেশ উন্নত করে। সকালে কয়েক মিনিট একটি নতুন দক্ষতা অর্জন বা একটি চ্যালেঞ্জিং শখ পুনরায় করে দেখার জন্য উৎসর্গ করুন। সুডোকু ধাঁধা সমাধান করা, বিদেশী ভাষার কয়েকটি শব্দ শেখা, অথবা নতুন কোনো রান্না শেখা হোক না কেন, মূল বিষয় হলো অপরিচিত কিছু দিয়ে মস্তিষ্ককে চ্যালেঞ্জ করা। ৪. শারীরিক কার্যকলাপ শারীরিক ব্যায়াম মস্তিষ্কের জন্য যেমন উপকারী, তেমন আপনার শরীরের জন্যও উপকারী। জগিং, যোগব্যায়াম, এমনকি দ্রুত হাঁটার মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম মস্তিষ্কে রক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি করে, স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাভাবনা দক্ষতা বৃদ্ধি করে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছে যে, নিয়মিত ব্যায়াম নতুন মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে, বিশেষ করে হিপ্পোক্যাম্পাসে, যা স্মৃতির নেপথ্যে কাজ করে।আপনার সকালের রুটিনে একটি সংক্ষিপ্ত, উদ্যমী ব্যায়াম যোগ করুন। এটি মেজাজ উন্নত এবং মস্তিষ্ককে দিনের কাজের জন্য প্রস্তুত করে। ৫. কৃতজ্ঞতা জার্নালিং কৃতজ্ঞতা অনুশীলন করা কেবল আত্মার জন্যই ভালো নয়; এটি মস্তিষ্কের জন্যও ভালো। প্রতিদিন সকালে আপনি যে তিনটি জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞ তা লিখে রাখলে ইতিবাচকতা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত হতে পারে। আপনার বিছানার পাশে একটি জার্নাল রাখুন এবং ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আপনার জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করার অভ্যাস করুন।

রমজানেও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল আর কোমল

রমজানেও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল আর কোমল রমজানেও ত্বক থাকবে উজ্জ্বল আর কোমলপ্রতিদিন ত্বকের যত্ন নিন।রমজান মাসে আমাদের লাইফস্টাইলের রুটিন, খাবার খাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনের ফলে দিনে দীর্ঘ সময় পানি পান না করায় আমাদের ত্বকও শুষ্ক হয়ে পড়ে। ত্বকের সঠিক যত্ন নিলে রমজানেও ত্বকের নিস্তেজ ও শুষ্কভাব দূর হবে এবং আমাদের ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যকর, উজ্জ্বল ও কোমল। রমজানের সময় কীভাবে ত্বকের যত্ন নেবেন, জেনে নিন। এ সময় ত্বকের আর্দ্রতা কমে গিয়ে প্রাণহীন ও শুষ্ক হয়ে পড়ে। প্রতিদিন অন্তত দুইবার গোসল করুন। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখুন। গোসল এবং প্রতিবার মুখ ধোয়ার পর ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার বা লোশন ব্যবহার করুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে। এসময় ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায় তাই ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে লিপজেল বা পেট্রোলিয়ম জেলি ব্যবহার করুন। রমজানে সহজপাচ্য ও হালকা মশলাযুক্ত স্বাস্থ্যকর খাবার খান। নিয়মিত খেজুর, বাদাম, দুধ, শাক-সবজি, টাটকা ফল বেশি বেশি খান। আর ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত কম হলেও আট গ্লাস পানি পান করুন। টক-মিষ্টি-দই খেলে হজম ভালো হয়, ত্বকও ভালো থাকে। আম, লেবু, পেঁপে এবং বেলের শরবত খেতে পারেন, ইফতারে তেলে ভাজা খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। রান্নাঘর থেকেই বেছে নিন ত্বক চর্চার সামগ্রী। প্রতিদিন ইফতার তৈরি করি, যেমন পেঁপে, মসুরের ডাল, বেসন, শসার রস এগুলো থেকে একটু নিয়ে ত্বকে মেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে নিন। ত্বকের ময়লা ও শুষ্কভাব দূর হয়ে ত্বক থাকবে সজীব ও কোমল। সপ্তাহে অন্তত দুই বার ২ চামচ ময়দা, ১ চামচ মধু এবং পাকা পেঁপে বা পাকা কলার মাক্স লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হবে ঠিক যেমনটি আপনি চান। ত্বক অনুযায়ী বাড়িতে যেভাবে যত্ন নেবেন : স্বাভাবিক ত্বকের জন্য চন্দন বাটা ১ টেবিল চামচ, টমেটোর রস – ১ চা চামচ, শসার রস – ১ চা চামচ এই সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। শুষ্ক ত্বকের জন্য পেস্তা বাদামের পেস্ট ১ টেবিল চামচ, মধু – ১ চা চামচ, ডিমের কুসুম- ১ টি সব উপকরণ মিশিয়ে পুরো মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি ১ টেবিল চামচ, গোলাপ জল – ১ চা চামচ, লেবুর রস – ১ চা চামচ মিশিয়ে পুরো মুখে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়াও রোদে পোড়া, কোঁচকানো ত্বককে কোমল ও মসৃণ করতে বেকিং পাউডার অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমে একটি পাত্রে পানির সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরে একটি পরিষ্কার কাপড় ওই পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে হালকা ভাবে রোদে পোড়া ত্বক মুছে নিন। এতে রোদে পোড়া ত্বকে আরাম পাবেন আর ত্বকের কালো পোড়া দাগগুলো কিছু দিন পরে আর ত্বকে খুঁজে পাবেন না। সারাদিন কাজের চাপে বিশ্রাম নেওয়া হয় না। আর রাতে সেহেরি খাওয়ার জন্য অনেকেই রাতের ঘুমটা অনেকটা কমিয়ে দেন। চিন্তা করেন একবারে সেহেরি খেয়ে ঘুমাবেন, এতে ঘুম কম হলে শরীরের মতো আমাদের ত্বকেরও অবস্থা নাজুক হয়ে যায়। কারণ ঘুমের মধ্যেই আমাদের ত্বকের কোষগুলো ক্ষতি পুষিয়ে পরের দিনের জন্য তৈরি হয়। প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। মুখের সাথে সাথে শরীরেরও যত্ন নিন। নিয়মিত ত্বকের উপযোগী ভালো কোনো বডি লোশন ব্যবহার করুন। প্রতিদিন ত্বকের যত্ন নিন। পুরো রমজানে আপনার ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যকর, কোমল-মসৃণ আর আসছে ঈদে সবার মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করতে পারবেন নতুন রূপে।

ইফতারে প্রাণ জুড়াবে সাবুদানার শরবত

ইফতারে প্রাণ জুড়াবে সাবুদানার শরবত সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়ার চেয়ে শরবত জাতীয় খাবার সবচেয়ে ভালো। তাই প্রথম দিন ইফতারির জন্য তেমনই একটি শরবত হচ্ছে সাবুদানার শরবত। এটি পান করলে দেহ ও মনের ক্লান্তি কেটে যাবে। আসুন জেনে নিই ইফতারে যেভাবে বানাবেন সাবুদানার শরবত। যা লাগবে: সাবু ও আগার আগার বা জেলি গুঁড়া, চিনি-দুধ-রুহআফজা ও বাদাম। যেভাবে বানাবেন পরিমাণমতো পানি একটি পাত্রে নিয়ে ফোটান। তাতে সাবুদানা দিয়ে দিন এবং মাঝারি আঁচে ১৫ মিনিট ফোটান। সাবু স্বচ্ছ হলে নামিয়ে ছেঁকে নিন। সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিন। পানি ঝরিয়ে একপাশে রেখে দিন। এবার জেলি বানানোর জন্য চুলায় এক কাপ পানি বসান। পানি ফুটে এলে যেকোনো ফ্লেভারের একটি প্যাকেট জেলির গুঁড়া বা আগার আগার দিয়ে দিন। এরপর মাঝারি আঁচে তিন মিনিট রাখুন চুলায়। এরপর নামিয়ে হিট প্রুফ বাটিতে ঢেলে দিন। একটু ঠান্ডা হলে ফ্রিজে রেখে দিন জমার জন্য। ভালোমতো জমে গেলে পছন্দমতো টুকরা করে কেটে নিন। এরপরে এক লিটার দুধে স্বাদমতো চিনি ও চার টেবিল চামচ রুহ আফজা মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। পরিবেশনের আগে বের করে জেলির টুকরা ও বাদামের কুচি মিশিয়ে নিন। ব্যস! হয়ে গেল স্বাস্থ্যকর মজাদার সাবুর শরবত।

ইফতারে যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখবেন

ইফতারে যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখবেন স্বাস্থ্যকর সাহরি খাওয়ার পাশাপাশি ইফতার হলো রমজানের প্রধান খাবার। তাই আমাদের রোজা ভাঙার সময় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খাচ্ছি। স্বাস্থ্যকর ইফতার বরকতময় মাসে আমাদের ইবাদত থেকে সর্বাধিক সুবিধা পেতে এবং অস্বাস্থ্যকর ইফতারের কারণে এই মাসে যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে বাঁচতে এড়াতে সাহায্য করবে। রমজানে উদ্যমী ও সুস্থ বোধ করার জন্য এবং ক্লান্তি এড়াতে ইফতারে এই বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখা জরুরি- ধীরে ধীরে খান এবং স্বাদ গ্রহণ করুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ রোজা ভাঙবে, তখন সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, কারণ তা বরকতময়। যদি তা না পাওয়া যায়, তাহলে যেন সে পানি দিয়ে ইফতার করে, কারণ তা পবিত্র।” সুনান আত-তিরমিযী ৬৯৫ ইফতারের সময় যতটা সম্ভব তাড়াতাড়ি খাওয়া এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। খেজুর, এক গ্লাস পানি এবং এক বাটি ফল দিয়ে ইফতার শুরু করুন। মাগরিবের নামাজ পড়ুন এবং তারপর বাকি খাবারের জন্য টেবিলে বসুন। নামাজ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত না খেয়ে ধীর গতিতে খেতে পারেন, এভাবে আপনার খাবার উপভোগ করতে পারবেন। ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন রমজানে ডিপ ফ্রায়ার সরিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। খাবার বেক করার জন্য চুলা অথবা এয়ার ফ্রায়ার ব্যবহার করুন। এই দুই পদ্ধতিই ভাজা থেকে আসা ফ্যাট এবং ক্যালোরির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। প্রোটিন, প্রোটিন এবং প্রোটিন বেশিরভাগ ইফতারে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে এবং প্রোটিনের অভাব থাকে। দীর্ঘ সময় রোজা থাকার পর শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করার জন্য প্রতিটি ইফতারে প্রোটিনের যোগ করতে ভুলবেন না। প্রোটিনের উৎসের মধ্যে কেবল মুরগি এবং মাছ নয়, বরং ডাল এবং বিনের মতো উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনও রয়েছে। চিনির শরবতের বদলে পানি পান করুন তৃষ্ণা নিবারণের জন্য গ্লাস ভরা শরবত বা জুস পান করা লোভনীয় হতে পারে, তবে এতে প্রচুর চিনি এবং ক্যালোরিও থাকে! তাই এর বদলে পানি পান করুন। স্বাদের জন্য তাতে লেবুর টুকরা, পুদিনা পাতা এবং তাজা ফল মিশিয়ে নিতে পারেন।

ফর্সা ত্বক চান? নিয়মিত খেতে হবে এই জুস

ফর্সা ত্বক চান? নিয়মিত খেতে হবে এই জুস আপনি কি সব ধরণের ক্রিম এবং ক্লিনজার ব্যবহার করে ক্লান্ত, কিন্তু কিছুই আপনার নিস্তেজ ত্বকের উন্নতি করে না? যদি তাই হয়, তাহলে আপনার ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। কীভাবে? অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে। এই খাবারগুলো কেবল সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী নয় বরং প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল, নরম এবং স্বাস্থ্যকর ত্বককে উন্নীত করতেও সাহায্য করে। সাম্প্রতিক একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে, সুস্থতা বিশেষজ্ঞ এবং সৌন্দর্য লেখক বসুধা রাই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জুস তৈরির রেসিপি শেয়ার করেছেন। এটি প্রস্তুত করা সহজ এবং মাত্র কয়েকটি উপাদানের প্রয়োজন। চলুন জেনে নেওয়া যাক এর পুষ্টিগুণ কীভাবে তৈরি করবেন- বিটরুট ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, বিটরুট প্রাকৃতিক ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এর প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য ব্রণ কমাতে এবং ত্বকের জ্বালাপোড়া প্রশমিত করতে সাহায্য করে। গাজর গাজর হলো ভিটামিন এ (রেটিনল) এর একটি দুর্দান্ত উৎস, যা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের একটি জনপ্রিয় উপাদান। রেটিনল ত্বকের কোষ উৎপাদনে সহায়তা করে, ছিদ্র খুলে দেয়, ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে এবং কোলাজেন উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। আমলকি আমলকি ভিটামিন সি থাকে, যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং দৃঢ়, তরুণ ত্বকের জন্য কোলাজেন উৎপাদনকে সমর্থন করে। হলুদ হলুদের প্রধান সক্রিয় যৌগ, কারকিউমিন, অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং বার্ধক্যের দৃশ্যমান লক্ষণকে বিলম্বিত করতে সাহায্য করে। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ব্রণ এবং ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। আদা আদার শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের বার্ধক্য কমাতে এটিকে চমৎকার করে তোলে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেও সমৃদ্ধ যা একটি স্বাস্থ্যকর, উজ্জ্বল ত্বকে অবদান রাখে। জুস তৈরির রেসিপি তৈরি করতে যা লাগবে ২-৩টি বিটরুট ৬-৮টি গাজর ৫টি আমলকি ছোট এক টুকরো কাঁচা হলুদ ছোট এক টুকরো আদা। যেভাবে তৈরি করবেন সবকিছু ঠান্ডা জুসারে ব্লেন্ড করে নিন। এবার গ্লাসে ঢেলে খেয়ে নিনন। যদি জুসার না থাকে, তাহলে ব্লেন্ডারে সবকিছু ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিন। এভাবে নিয়মিত পান করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে দ্রুতই।

কিডনি ড্যামেজ হওয়ার ৭ লক্ষণ

কিডনি ড্যামেজ হওয়ার ৭ লক্ষণ কিডনির স্বাস্থ্যের কথা বলতে গেলে, বেশিরভাগ মানুষই কোমরের ব্যথা এবং প্রস্রাবের পরিবর্তনের মতো সাধারণ লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন। তবে কিডনির ক্ষতি অস্বাভাবিক উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করা হয়। সেই প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণগুলো সনাক্ত করতে পারলে তা জটিলতা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিডনি ড্যামেজ হওয়ার কিছু লক্ষণ সম্পর্কে- ১. মুখের মধ্যে ধাতব স্বাদ দীর্ঘস্থায়ী ধাতব স্বাদ বা মুখে দুর্গন্ধ কিডনির ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে। এটি রক্তপ্রবাহে বিষাক্ত পদার্থ জমা হওয়ার কারণে ঘটে, যা ইউরেমিয়া নামে পরিচিত। যা স্বাদ উপলব্ধি এবং নিঃশ্বাসের গন্ধকে পরিবর্তন করে। ২. চুলকানি এবং শুষ্ক ত্বক যদিও ত্বকে চুলকানি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, তবে ক্রমাগত শুষ্কতা এবং জ্বালা কিডনির কর্মহীনতা নির্দেশ করতে পারে। কিডনি খনিজ এবং তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিডনি ড্যামেজ হতে শুরু করলে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ত্বকের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। ৩. অস্বাভাবিক স্থানে ফোলাভাব এটি কিডনি রোগের একটি সুপরিচিত লক্ষণ, তবে এটি সবসময় গোড়ালি এবং পায়ের মতো স্থানে দেখা যায় না। মুখ, হাত, এমনকি চোখের চারপাশে ফোলাভাব কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসের একটি প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণ হতে পারে। ৪. শ্বাসকষ্ট হালকা কাজের পরে যদি বাতাসের জন্য হাঁপাতে থাকেন, তবে এটি কিডনির ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কিডনি শরীরে তরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সঠিকভাবে কাজ না করলে ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমা হতে পারে, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। ৫. ক্লান্তি দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের ফলে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন কমে যেতে পারে, যার ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্ক এবং পেশীতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। যার ফলে ক্রমাগত ক্লান্তি এবং মনোযোগ দিতে সমস্যা দেখা দেয়। ৬. ঘন ঘন পেশীতে খিঁচুনি ক্যালসিয়ামের কম মাত্রা এবং ফসফরাসের উচ্চ মাত্রার মতো ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা ঘন ঘন পেশীতে খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে। যদি আপনি কোনো আপাত কারণ ছাড়াই এই সমস্যাগুলো অনুভব করেন, তাহলে কিডনির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিন। ৭. সব সময় ঠান্ডা লাগা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা উষ্ণ পরিবেশেও অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগার কথা জানান। এটি রক্তস্বল্পতার সঙ্গে সম্পর্কিত। যা টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে দেয়, এর ফলে ক্রমাগত ঠান্ডা লাগার অনুভূতি হয়।