বিদায়বেলায় ‘টাটা’ বলার প্রচলন যেভাবে শুরু

বিদায়বেলায় ‘টাটা’ বলার প্রচলন যেভাবে শুরু বিদায়ের সময় বন্ধুকে, সহকর্মীকে বা প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে আমরা প্রায়ই বলি – ‘টাটা’। এই শব্দটি এতটাই পরিচিত যে, বয়স বা প্রজন্ম নির্বিশেষে সবার মুখে এটি শোনা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- বিদায়ের সময় সবাই কেন বলে ‘টাটা’? ভাষাবিদদের মতে, ‘টাটা’ মূলত ব্রিটিশ ইংরেজি থেকে আগত একটি শব্দ। এটি ‘গুডবাই’ বা ‘ফেয়ারওয়েল’-এর তুলনায় অনেক বেশি অনানুষ্ঠানিক ও আন্তরিক অভিব্যক্তি। উনিশ শতকের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে, বিশেষ করে ককনি (Cockney) উপভাষায়, শব্দটির প্রচলন শুরু হয়। সেখান থেকে এটি পুরো ব্রিটিশ সমাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে উপনিবেশের প্রভাবে ভারতীয় উপমহাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর সহজ উচ্চারণ। শিশুদের মুখে উচ্চারণ সহজ বলে মা–বাবারা প্রাথমিকভাবে বিদায় জানাতে শেখানোর সময় বলেন- বলো টাটা। শিশুরাও হাসিমুখে হাত নাড়িয়ে বলে ‘টাটা’, যা একধরনের স্নেহমিশ্রিত বিদায়ের রীতি হয়ে ওঠে। আরও একটি মজার দিক হলো, অনেক ভাষায় ‘টাটা’ শব্দের অর্থ ‘বাবা’। ফলে যখন শিশুরা ‘টাটা’ বলে বিদায় জানায়, তখন সেটি একদিকে আবেগের প্রকাশ, অন্যদিকে ধ্বনিগতভাবে সহজ একটি বিদায়ের ইঙ্গিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মিষ্টি ধ্বনি বিদায়ের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ব্রিটিশ উপনিবেশের যুগে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শব্দটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এখন ‘টাটা’ এক অনানুষ্ঠানিক, বন্ধুত্বপূর্ণ বিদায়ের সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে। ভাষাবিদরা বলেন, আনুষ্ঠানিক পরিবেশে ‘গুডবাই’, ‘ফেয়ারওয়েল’ বা ‘বিদায়’ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ‘টাটা’, ‘বাই’ বা ‘সি ইউ লেটার’-এর মতো শব্দই আন্তরিকতা প্রকাশ করে।

বহুরূপী মানুষ চেনার সহজ উপায়

বহুরূপী মানুষ চেনার সহজ উপায় অনেক সময় আমরা মানুষের মিষ্টি কথায় সহজেই প্রলুব্ধ হয়ে যাই। কিন্তু কি জানেন? সব মিষ্টি কথা মানে সত্যিকারের ভালোবাসা বা আন্তরিকতা নয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বহুরূপী বা ফেক মানুষদের আচরণে এমন কিছু লক্ষণ থাকে যা চিনে নিলে আপনি মানসিক শান্তি ও আবেগ রক্ষায় সচেতন থাকতে পারবেন। . খুব দ্রুত এবং অতিরিক্ত ভালো আচরণ যারা সত্যিকারের ভাল মানুষ, তারা কখনোই অতিরিক্ত অভিনয় করে না বা খুব দ্রুত বিশ্বাস জেতার চেষ্টা করে না। কিন্তু বহুরূপী মানুষ প্রথম থেকেই অতিরিক্ত মিষ্টি বা দয়ালু হলে সেটি সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। . বারবার নিজের চরিত্র বদলানো একই ব্যক্তি বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। কেউ নম্র ও ভদ্র, আবার অন্য কারো কাছে আত্মবিশ্বাসী। এ ধরনের আচরণ মনোবিজ্ঞানে ‘ইম্প্রেশন ম্যানেজমেন্ট’ নামে পরিচিত। . সত্যিকারের আবেগ তৈরি করতে না পারা এরা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের স্বার্থে সম্পর্ক স্থাপন করে, সত্যিকারের ভালোবাসা বা সহানুভূতির জন্য নয়। . সব সময় অন্যের সমালোচনা করা বহুরূপী মানুষরা অন্যের গসিপ করে এবং সমালোচনা করতে ভালোবাসে। তারা নিজস্ব অনিশ্চয়তা ও কম আত্মবিশ্বাস লুকানোর জন্য এমন আচরণ করে। যারা অন্যদের খারাপ কথা বলে, তারা আপনার পেছনেও একই কাজ করবে। . বন্ধুসুলভ আচরণ করে গোপনে প্রতিযোগিতা যদিও বন্ধুত্বের ভান করে, তাদের মধ্যে হিংসা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব লুকানো থাকে। তারা আপনার সাফল্যে খুশি না হয়ে আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করে। মনোবিজ্ঞানে এটিকে ‘কভারট রাইভেলারি’ বলা হয়। সত্যিকারের বন্ধুত্ব হলো একে অপরকে উৎসাহ দেওয়া, আর বহুরূপী মানুষের সাথে সম্পর্ক মানসিক শান্তি নষ্ট করতে পারে। তাই, এই লক্ষণগুলো বুঝে সাবধান হওয়া জরুরি।

আজ একা থাকার দিন

আজ একা থাকার দিন আজ ১১ নভেম্বর বিশ্বের নানা প্রান্তে পালিত হচ্ছে ‘সিঙ্গেল ডে’ বা একা থাকার দিন। একা থাকা মানেই নিঃসঙ্গতা নয় বরং নিজের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতা, নির্বিবাদী জীবনযাপন, নিজের সত্তাকে উপভোগ করার সুযোগ। সিঙ্গেল মানেই ঝাড়া হাত-পা, কোনো কৈফিয়তের দায় নেই, নেই প্রেমের টানাপড়েন। কেউ কেউ হয়তো প্রেমহীনতার আফসোসে ভোগেন, কিন্তু অনেকেই এই একাকিত্বকেই স্বাধীনতার আনন্দ হিসেবে দেখেন একা থাকার আনন্দ যারা একবার অনুভব করেন, তারা জানেন এর ভেতর লুকিয়ে আছে মুক্তির স্বাদ। কেউ কেউ সম্পর্কের ব্যর্থতা বা বিচ্ছেদের পর নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন, আবার কেউ নিজের ইচ্ছায় একা থাকাকে বেছে নেন। এই ‘সিঙ্গেল ডে’ উদযাপনের সূত্রপাত চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী, যারা ভালোবাসায় ব্যর্থ হলেও জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখতেন, ১৯৯৩ সালে প্রথম এই দিবসটি উদযাপন করেন। দিনটি বেছে নেওয়া হয় ১১ নভেম্বর অর্থাৎ ১১-১১। প্রতিটি ‘১’ একক মানুষকে বোঝায়, আর চারটি এক মিলে জীবনের সম্মিলিত আনন্দকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। চীনে দিনটি মূলত ভালোবাসা দিবসের বিপরীতে একা মানুষদের উৎসব হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখন বিশ্বের নানা প্রান্তে এই দিনটি পালিত হয় আত্মপ্রেম, স্বাধীনতা এবং নিজেকে উদযাপনের বার্তা নিয়ে। ‘ডেজ অব দ্য ইয়ার’-এর তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রচারক ছিলেন টমাস ও রুথ রয় নামের দুজন ভদ্রলোক। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, মানুষ যেন একা থাকাকে লজ্জার নয়, বরং গর্বের বিষয় হিসেবে দেখতে শেখে। বহুরূপী মানুষ চেনার সহজ উপায় : তাই আজকের দিনটি হোক নিজের জন্য নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর, নিজের সঙ্গ উপভোগ করার দিন। একা থাকা মানেই কিন্তু শূন্যতা নয়; বরং স্বাধীনতার মিষ্টি পরশ।

বিকেলের নাস্তায় ঝটপট মজাদার আলুর কাটলেট 

বিকেলের নাস্তায় ঝটপট মজাদার আলুর কাটলেট  বিকেলের নাস্তায় ঝটপট মজাদার কিছু খেতে চাই আমরা সবাই। এ ধরনের খাবার বাড়িতে তৈরি করে খাওয়াই নিরাপদ। এতে স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে, তেমনই খরচও কম হয়। বাড়িতে থাকা আলু দিয়ে খুব সহজেই তৈরি করতে পারবেন আলুর কাটলেট। সঙ্গে প্রয়োজন হয়ে কয়েকটি ডিম আর অল্পকিছু উপকরণ। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আলুর কাটলেট তৈরির রেসিপি- তৈরি করতে যা লাগবে : বড় আলু- ৩টি ডিম- ৩টি পেঁয়াজ কুচি- ৩/৪ কাপ ধনিয়াপাতা কুচি- ৩ টেবিল চামচ কাঁচা মরিচ কুচি- স্বাদমতো মরিচের গুঁড়া- ১ চা চামচ চাট মসলা- ১ টেবিল চামচ ভাজা জিরার গুঁড়া- ৩/৪ চা চামচ কর্নফ্লাওয়ার- ৩ টেবিল চামচ ব্রেডক্রাম- পরিমাণমতো লবণ- স্বাদমতো তেল- প্রয়োজন অনুযায়ী। যেভাবে তৈরি করবেন : দুটি ডিম ও আলুগুলো সেদ্ধ করে নিতে হবে। এরপর খোসা ছাড়িয়ে গ্রেট করে নিন। তেল ও ব্রেডক্রাম ছাড়া বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার মাখানো আলু-ডিমের মিশ্রণ থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে কাটলেট আকারে তৈরি করে নিন। ডিম ফেটিয়ে নিন। কাটলেটগুলো একটি একটি করে ডিমে ডুবিয়ে ব্রেডক্রামে গড়িয়ে নিন। এবার তেল গরম করে দুই পিঠ সোনালি করে ভেজে তুলুন। কাটলেট তৈরি হয়ে গেলে পছন্দমতো সসের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুস্বাদু আলুর কাটলেট।

ছুটির দিনে সবার পছন্দের পাটিসাপটা পিঠা

ছুটির দিনে সবার পছন্দের পাটিসাপটা পিঠা ক্যালেন্ডারে বসন্ত এলেও প্রকৃতিতে এখনও শীতের আমেজ। পিঠা খাওয়ার সময়ও এখনই। খুব সহজে ছুটির দিনে তৈরি করুন সবার পছন্দের পাটিসাপটা পিঠা: উপকরণ পোলাও-এর চালের গুঁড়া – ৫০০ গ্রাম, আটা- ১ কাপ, দুধ- দেড় কেজি, খেজুরের গুড় দেড় কাপ ও তেল অল্প, এলাচ গুঁড়া ও লবণ সামান্য (ইচ্ছা)। প্রণালী ক্ষীর-দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা কমে এলে এক কাপ গুড় দিয়ে আবার জ্বাল দিতে হবে। মাঝে মাঝে নাড়তে হবে। দুধ কমে এলে ১ চা-চামচ চালের গুঁড়াতে অল্প দুধ মিশিয়ে বাকি দুধে ঢেলে নাড়তে হবে। কিছুক্ষণ পর এলাচ গুঁড়া দিয়ে ক্ষীর নামিয়ে নিতে হবে। চালের গুঁড়া, আটা, গুড়, লবণ এবং পানি মিলিয়ে মসৃণ গোলা তৈরি করতে হবে। পানি এমন আন্দাজে দিতে হবে যেন বেশি পাতলা বা ঘন না হয়। এবার তাওয়ায় সামান্য তেল দিয়ে বড় গোল ডালের চামচে এক চামচ গোলা তাওয়ায় দিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। ওপরটা শুকিয়ে এলে একপাশে এক টেবিল চামচ ক্ষীর রেখে পিঠা মুড়ে চেপে করে দিতে হবে। সবগুলো পিঠা তৈরি করে ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন দারুণ মজার ক্ষীর পাটিসাপটা।

আগামী রবিবার আংশিক সূর্যগ্রহণ

আগামী রবিবার আংশিক সূর্যগ্রহণ আগামী রবিবার ২১ সেপ্টেম্বর আংশিক সূর্যগ্রহণ হবে। সূর্যগ্রহণ শুরু হবে ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গ্রহণের সময় ২২ সেপ্টেম্বর ১টা ৪১ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে। গ্রহণ শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর ৩টা ৫৩ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। তবে, বাংলাদেশ থেকে সূর্যগ্রহণের এ বিরল দৃশ্য দেখা যাবে না। আজ আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, সূর্যগ্রহণের ব্যাপ্তিকাল থাকবে ৪ ঘণ্টা ২৪ মিনিট। নিউজিল্যান্ড, পূর্ব মেলানেশিয়া, দক্ষিণ পলিনেশিয়া ও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে সূর্যগ্রহণটি দৃশ্যমান হবে। গ্রহণটির কেন্দ্রীয় গতিপথের বিবরণ হলো— ২১ সেপ্টেম্বর গ্রহণ শুরু যুক্তরাষ্ট্রের সামোয়া দ্বীপ থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে স্থানীয় সময় ৫টা ৫৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে। সর্বোচ্চ গ্রহণ অ্যান্টার্কটিকার ডুমন্ট ডি’উরভিল আবহাওয়া কেন্দ্র থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ১০টা ১৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে। গ্রহণ শেষ অ্যান্টার্কটিকার আলেকজান্ডার দ্বীপ থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ১৭টা ৪৮ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডে। সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা থাকবে ০ দশমিক ৮৫৫।

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

আজ বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ আজ ১৮ই সেপ্টেম্বর, বিশ্ব বাঁশ দিবস। ঘাস পরিবারের বৃহত্তম এই সদস্য শুধু প্রকৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৈশ্বিকভাবে বাঁশ শিল্পের উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বিশ্ব বাঁশ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব বাঁশ কংগ্রেসে সংস্থার তৎকালীন সভাপতি কামেশ সালামের প্রস্তাবে ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে ১৮ই সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব বাঁশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই থেকে প্রতি বছর এই দিনে বাঁশের বহুবিধ ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি উদযাপন হয়ে আসছে। বাঁশকে সবুজ সোনা হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এটি দ্রুত বর্ধনশীল একটি উদ্ভিদ যা পরিবেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং তুলনামূলকভাবে বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর ব্যাপক ও গভীর শিকড় মাটির ক্ষয়রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অর্থনৈতিকভাবে, বাঁশ একটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। নির্মাণসামগ্রী, আসবাবপত্র, কাগজ, বস্ত্রশিল্প থেকে শুরু করে বাদ্যযন্ত্র ও নানান হস্তশিল্প তৈরিতে বাঁশের ব্যবহার অপরিসীম। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বাঁশ একটি মজবুত ভিত্তি প্রদান করে। বাংলাদেশেও ঘরবাড়ি তৈরি, চাটাই, ঝুড়ি, আসবাবসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা পণ্য তৈরিতে যুগ যুগ ধরে বাঁশের ব্যবহার চলে আসছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, বাঁশের প্রজাতি বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। বাংলাদেশে প্রায় ৩৩ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বাঁশ শিল্প ও চাষের সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্ভাবনী ডিজাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বাঁশ শিল্প শুধু দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি পরিবেশ সুরক্ষাতেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আজ প্রথম প্রেম দিবস

আজ প্রথম প্রেম দিবস বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম প্রেম পূর্ণতা পায় না। কিন্তু প্রথম প্রেমের মিষ্টিমধুর সময়টা মনে গেঁথে থাকে। কখনও কবিতায়, কখনও গানে সেই প্রেমের স্মৃতি ফিরে পায় মানুষ। আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রথম প্রেম দিবস। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই উদ্‌যাপিত হচ্ছে দিবসটি। প্রথম প্রেম মানুষ ভোলে না কেন? মানুষ প্রথম প্রেমে পড়ে কৈশোর কিংবা প্রথম তারুণ্যে। এ সময় শরীরে হ্যাপি হরমোনের প্রভাব থাকে প্রবল। যার ফলে ভালোবাসার মানুষের প্রতি আকর্ষণ থাকে বেশি। ভালো লাগার মুহূর্তগুলো মানুষকে সুখের অনুভূতি দেয়। যাকে ভাবলে এই অনুভূতি হয়, যে কাছে থাকলে নিজেকে পৃথিবীর সেরা সুখী মানুষ মনে হয়-সেই মানুষটিকে কোনো কারণে হারিয়ে ফেললেও ভোলা যায় না। আক্ষরিক অর্থে কেউ কাউকে ভালোবাসা শেখায় না, কিন্তু ভালোবাসার উপলক্ষ্য এনে দেয়। ভালোবাসার অনুভূতিগুলো যাকে প্রথম বলা যায়, তাকে তো ভোলার কথা না!

যে পানি মেটাতে পারে চুল ও ত্বকের সমস্যা

যে পানি মেটাতে পারে চুল ও ত্বকের সমস্যা আমরা অনেকেই চাল ধুয়ে সেই পানি ফেলে দিই। এই পানিও যে হাজারটা গুণাগুণসমৃদ্ধ সেটি আমরা জানি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাল ধোয়ার পানির মধ্যে বিভিন্ন রকমের খনিজ পদার্থ থাকে। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে একাধিক রকমের ভিটামিনও। ভাতের মাড় আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকি। তেমনই চাল ধোয়ার পানিও কিন্তু বেশ উপকারী। চাল ধুয়ে নেওয়ার সময় যে পানিটি অবশিষ্ট থাকে, তা একটি পাত্রে জমা করে নিলেই আপনি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন। চালের পানি আমাদের ত্বকের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার, যা খুবই উপকারী। এটি সহজেই তৈরি ও ব্যবহার করা যায়। এর নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের সুরক্ষা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে পারে। চলুন, তাহলে জেনে নেওয়া যাক চালের পানির কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা এবং এর ব্যবহার। ত্বক প্রশমিত করতে : চালের পানি উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার ত্বককে শান্তি ও সুরক্ষা দেয়। যার ফলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ভাব কমে। ত্বক পরিষ্কার করে : চালের পানি ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করতে সক্ষম। এটির ব্যবহার ত্বককে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে। বার্ধক্য রোধ করে : চালের পানিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও খনিজ পদার্থ থাকে। যা ত্বকের বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে সক্ষম। এ ছাড়া চালের পানিতে ভিটামিন বি ও ই, ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। চালের পানি কিভাবে ব্যবহার করবেন : প্রাকৃতিক ফেস টোনার হিসেবে : চালের পানি ফেস টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি প্রতিদিন মুখে লাগান এবং আলতো করে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বককে রক্ষা করে এবং এটিকে উজ্জ্বল করে। ফেস প্যাক হিসেবে : চালের পানি অন্যান্য প্রাকৃতিক ব্যবহারের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং স্বাস্থ্যকর করে তোলে। এ ছাড়া চালের পানি চুলের কন্ডিশনার হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ব্যবহারে চুলের উজ্জ্বলতা ও শক্তি বাড়বে। চালের পানি তৈরির পদ্ধতি : প্রথমে এক কাপ চাল ভালো করে ধুয়ে দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার ৩০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে ঠাণ্ডা করে পানি ছেঁকে নিন। এবার এই চালের পানি প্রস্তুত। এটিকে আপনি আপনার ত্বক ও চুলের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। এটি বিনা খরচেই প্রায় হয়ে যায়। আবার এটি সহজলভ্যও। এটি একটি প্রাকৃতিক উপায়, যা আপনার ত্বক ও চুল উভয়ের জন্যই উপকারী।

চটজলদি ওজন কমাবে দারুচিনির পানি

চটজলদি ওজন কমাবে দারুচিনির পানি ওজন কমাতে দারুচিনির জুড়ি মেলা ভার। তাই চটজলদি ওজন কমাতে দিনে অন্তত দু-বার করে খান দারুচিনির পানি।এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ফ্রি ব়্যাডিকেল দ্বারা সৃষ্ট অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুচিনির পানি দারুণ কাজ দেয়। দারুচিনি কীভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে? আপনার বিপাক হার যদি ভালো হয়, তাহলে ওজন নিয়ন্ত্রণেই থাকে। মেদ জমলেও তা ঝরানো সহজ হয়। এই বিপাক হার বাড়ানোর কাজটাই করে দারুচিনির পানি। দারুচিনির পানি হজমের সমস্যা দূর করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরে জমে থাকা টক্সিন বের করে দেয়। দারুচিনির মধ্যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্রনিক অসুখের ঝুঁকিও প্রতিরোধ করে। ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, পিসিওডি-এর মতো শারীরিক সমস্যায় ওজন বাড়ে। এই সব ক্ষেত্রেও দারুচিনি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক। দিনের কোন সময়ে দারুচিনির পানি খেলে দ্রুত ওজন কমবে? ১. সকালে খালি পেটে দারুচিনির পানি খেলে সারাদিন আর কোনো চিন্তা থাকবে না। এতে সকালেই পেট সাফ হয়ে যাবে এবং শরীর টক্সিনমুক্ত থাকবে। পাশাপাশি বিপাক হার ভালো থাকবে। সকালবেলা ডিটক্স ওয়াটার হিসেবে খেতে পারেন দারুচিনির পানি। ২. ডায়াবেটিসের রোগী হয়ে ওজন বশে রাখতে হলে লাঞ্চ বা ডিনারের ৩০ মিনিট আগে দারুচিনির পানি খান। এতে পেট ভরবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছেও কমবে। এ ভাবেও ওজন কমাতে পারেন। ৩. চটজলদি ওজন কমাতে জিমে গিয়ে কসরত করছেন। শরীরচর্চা শেষ করেও দারুচিনির পানি খেতে পারেন। এতে পেশির ক্ষয় দ্রুত নিরাময় হবে এবং ক্লান্তি দূর হবে। ৪. ঘুমোতে যাওয়ার আগেও দারুচিনির পানি খেতে পারেন। এতেও পেটের সমস্যা এড়াতে পারবেন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। কীভাবে দারুচিনির পানি বানাবেন? ২ কাপ পানি গরম বসান। এতে এক চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। দারুচিনির গুঁড়া না থাকলেও দুটি দারুচিনির কাঠিও ফুটিয়ে নিতে পারেন। ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে চায়ের মতো পান করুন দারুচিনির পানি। আবার আগের দিন রাতেও এই পানীয় বানিয়ে ফ্রিজে রাখতে পারেন। পরদিন সকালে খালি পেটে খেতে পারেন।