এই গরমে প্রাণ জুড়াতে যা খাবেন

এই গরমে প্রাণ জুড়াতে যা খাবেন গরমে ঠান্ডা কিছু খাওয়ার জন্য মন হাহাকার করবেই। হাত বাড়ালেই যেখানে আইসক্রিম, বিভিন্ন প্যাকেটজাত জুস আর কোল্ড ড্রিংকস পাওয়া যায়, সেখানে স্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ার অভ্যাস রাখা আসলেই কঠিন। তবে একটা কথা, আপনার শরীরের যত্ন নিতে হবে আপনাকেই। কোনটা আপনার জন্য ভালো, কোনটা নয় সেটুকু জানা জরুরি। সেইসঙ্গে খেতে হবে এমন কিছু যা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হবে না। এই গরমে প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নিন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন পানীয়গুলো এসময় পান করতে পারেন- ১. আখের রস আখের রস বিভিন্ন সমস্যার প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক। আখের রস খেলে তা রক্তরস এবং শরীরের তরল তৈরিতে সাহায্য করে, যা পানিশূন্যতা এবং শরীরের নিস্তেজভাব মোকাবিলায় সাহায্য করে। আখের রসে পুদিনা পাতা মিশিয়ে পান করতে পারেন। এতে স্বাদ আরও বাড়বে, সেইসঙ্গে আপনি আরও সতেজ অনুভব করবেন। ২. লাচ্ছি দই দিয়ে তৈরি এই পানীয় গরমে আপনাকে শীতল রাখতে অন্যতম কার্যকরী পানীয়। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সহজেই এতে অনেক বৈচিত্র্য যোগ করা যায়। ক্লাসিক থেকে পুদিনা, অ্যাভোকাডো, আম থেকে কলা আখরোট এবং আরও অনেক কিছু। ৩. লেবুর শরবত গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয় লেবুর শরবত কেন মিস করবেন? দ্রুত তৈরি করা যায় এবং সুস্বাদু বলে এই পানীয় সবার কাছেই বেশ পছন্দের। পুদিনা পাতা, লেবু, চিনি এবং পানি দিয়ে তৈরি করে নিন লেবুর শরবত। স্বাদ ও পুষ্টি বাড়াতে চাইলে জিরা, গোল মরিচ ইত্যাদি মসলাও যোগ করতে পারেন। ৪. তরমুজের রস গ্রীষ্মের সেরা ফলের মধ্যে একটি হলো তরমুজ। এর রস আরও ভালো। এর অত্যন্ত সতেজ এবং হাইড্রেটিং বৈশিষ্ট্য শরীরকে হাইড্রেটেড এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তাই এই গরমে প্রাণ জুড়াতে তরমুজের টাটকা রসে চুমুক দিতেই পারেন। ৫. বার্লি ওয়াটার বার্লি ওয়াটার সুস্বাস্থ্যের জন্য একটি প্রাচীন প্রতিকার। এটি তৈরি করতে আপনার যা যা লাগবে তা হলো বার্লি, পানি, লবণ, কয়েক ফোঁটা মধু এবং লেবু। সুস্বাদু এই পানীয় গরমে আপনার প্রাণ তো জুড়াবেই, সেইসঙ্গে এটি শরীরের জন্য আরও অনেক উপকারিতা নিয়ে আসবে।
আপনার হার্ট ভালো নেই, বুঝবেন যেভাবে

আপনার হার্ট ভালো নেই, বুঝবেন যেভাবে বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ। কখনো কখনো এমন কিছু প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেগুলো আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপেক্ষা করি। হার্টের সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ বোঝা, হৃদযন্ত্র-বান্ধব খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি হৃদরোগ সম্পর্কিত সমস্যা প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখবেন, প্রতিরোধ সবসময় নিরাময়ের চেয়ে ভালো। হৃদরোগের ৫টি প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণ হৃদযন্ত্রের গঠন এবং কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে এমন বিভিন্ন অবস্থাকে হৃদরোগ বলা হয়। প্রাথমিক লক্ষণ সনাক্ত করার মাধ্যমে সময়মতো চিকিৎসা করা যেতে পারে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের মতে, মূল সতর্কতা লক্ষণের মধ্যে রয়েছে: বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি: প্রায়ই চাপ বা বুক ভারী বোধ হতে পারে। শ্বাসকষ্ট: বিশ্রাম বা শারীরিক কার্যকলাপের সময় শ্বাস নিতে অসুবিধা। গোড়ালি বা পায়ে ফোলাভাব: হৃদপিণ্ডের পাম্পিং দক্ষতা হ্রাসের কারণে তরল জমা। ক্লান্তি: নিয়মিত কার্যকলাপের সময় অস্বাভাবিক ক্লান্তি। মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই মাথা ঘোরা বা জ্ঞান হারানো। এই লক্ষণগুলো হৃদরোগের নির্দিষ্ট অবস্থার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, করোনারি ধমনী রোগে প্রায়ই বুকে ব্যথা দেখা দেয়, অন্যদিকে হার্ট ফেইলিওর ফুলে যাওয়া এবং ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সনাক্ত করে এবং সময়মতো চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে হৃদরোগ প্রতিরোধ করা যেতে পারে। হৃদরোগের জন্য ডায়েট টিপস সম্পূর্ণ খাবার গ্রহণ করুন: বিভিন্ন ধরণের ফল, শাক-সবজি, গোটা শস্য, বাদাম এবং বীজ অন্তর্ভুক্ত করুন। এই খাবারগুলোতে ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে যা হৃদরোগ প্রতিরোধে কাজ করে। স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিন: অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো এবং স্যামনের মতো ফ্যাটি মাছের মতো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নিন। এই চর্বিগুলো ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। লবণ এবং চিনি গ্রহণ সীমিত করুন: অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে পারে, অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি খেলে তা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধির করতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় কমাতে চেষ্টা করুন। হাইড্রেটেড থাকুন: প্রচুর পাি পান করুন। ডাবের পাি এবং লেবু মিশ্রিত পানি নিয়মিত পান করুন। পরিমিত খাবার: খাবারের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকুন। এটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করবে, যা আপনার হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ কমাতে পারে।
ব্যস্ত জীবনে কেন দরকার স্লো লিভিং?

ব্যস্ত জীবনে কেন দরকার স্লো লিভিং? জীবন যেন দৌড়ে চলছে। সকাল থেকে রাত-মিটিং, ক্লাস, যানজট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা। এসবের ভিড়ে নিজের জন্য একটু সময় রাখাও যেন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠিক এমন সময়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এক নতুন জীবনদর্শন ‘স্লো লিভিং’। শব্দটির অর্থই বলে দেয়, জীবনকে একটু ধীরে উপভোগ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণটি কেবল ধীরে কাজ করা নয়, বরং প্রতিটি কাজকে মন দিয়ে করা। দ্রুততার চাপে আমরা অনেক কিছুই মিস করি-যেমন প্রিয় মানুষের হাসি, সকালের রোদ, বিকেলের বাতাস কিংবা চায়ের কাপের গন্ধ। স্লো লিভিং-এর প্রভাব যেভাবে পড়ে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে-জীবনযাপনে স্ট্রেস কমে: নিয়মিত সময় নিয়ে কাজ করলে মস্তিষ্কে চাপ কম পড়ে। ঘুম ভালো হয়: ব্যস্ততা কমালে ঘুমের মান বাড়ে। সম্পর্ক মজবুত হয়: কাছের মানুষদের জন্য সময় পাওয়া যায়। সৃজনশীলতা বাড়ে: মন হালকা থাকলে চিন্তা পরিষ্কার হয়। কীভাবে শুরু করবেন? দিনে অন্তত ৩০ মিনিট নিজের জন্য রাখুন। খাবার সময় ফোন দূরে রাখুন। মৃদু গানের সঙ্গে সকালে হাঁটার চেষ্টা করুন। ‘না’ বলতে শিখুন, সবকিছুতেই হ্যাঁ বলা জরুরি নয়। জীবন একবারই পাওয়া যায়। কাজ, দায়িত্ব আর প্রতিযোগিতার মধ্যেও দরকার একটু থেমে নিজের দিকে ফিরে তাকানো। তাই মাঝে মাঝে গতি কমান, নিঃশ্বাস নিন, আর উপভোগ করুন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো।
গরমে বাড়ছে জ্বর-অসুস্থতা, সুস্থ থাকতে করণীয়

গরমে বাড়ছে জ্বর-অসুস্থতা, সুস্থ থাকতে করণীয় প্রচণ্ড গরম পড়েছে। এই আবহাওয়ায় শরীর খাপ খাওয়াতে না পেরে অনেকেই জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খাবারে অরুচি ও পানিশূন্যতায় ভুগছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, গরমকালীন এই সময়টিতে শরীর থেকে দ্রুত ঘামের মাধ্যমে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, দেখা দেয় হালকা জ্বর বা ভাইরাল ইনফেকশন। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং যারা আগে থেকেই দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এই সময়ে সচেতন না হলে সাধারণ ঠান্ডা ও জ্বর থেকেও বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য তারা পরামর্শ দিয়েছেন—প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করতে, হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেতে, আর বাইরের ভাজাপোড়া খাবার একেবারেই এড়িয়ে চলতে। জ্বর বা দুর্বলতা দেখা দিলে বিশ্রাম নিতে হবে। হালকা খাবার খেতে হবে বারবার করে। পাতলা স্যুপ, ডাবের পানি, লেবু শরবত, ওআরএস এসব শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে সাহায্য করে। গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে দিনে দুইবার গোসল করাও উপকারী। এই সময় হালকা রঙের সুতির পোশাক পরার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি দুপুর ১২টা থেকে ৪টার মধ্যে রোদে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি বের হতেই হয়, তাহলে ছাতা, সানগ্লাস, টুপি এবং পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখতে হবে। গরমে জ্বর বা ক্লান্তি তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা অতিরিক্ত দুর্বলতা, বমি, মাথা ঘোরা, প্রস্রাব কমে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এসবই পানিশূন্যতার লক্ষণ। আর বাড়ির ছোট সদস্য ও বয়স্কদের বিশেষ যত্নে রাখারও তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ওজন কমানোর পাঁচ পানীয়

ওজন কমানোর পাঁচ পানীয় সকালের একটি ছোট অভ্যাস বদলে দিতে পারে পুরো শরীর। প্রতিদিন সকালে মাত্র এক গ্লাস স্বাস্থ্যকর পানীয় শরীরের অতিরিক্ত মেদ গলাতে এবং মেটাবলিজম বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যালান্সড ডায়েট ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি কিছু সহজ ঘরোয়া পানীয় আপনার ওজন কমানোর যাত্রাকে আরও সহজ করে তুলতে পারে। চলুন জেনে নিই এমন ৫টি ‘ওজন কমানোর’ সকালের পানীয়— ১. লেবু পানি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজ পানীয়। লেবুতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর ডিটক্স করতে সহায়তা করে, হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং খিদে নিয়ন্ত্রণে রাখে। যেভাবে খাবেন সকালে খালি পেটে, এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে আধা লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। ২. জিরা পানি রান্নার পরিচিত উপাদান হলেও জিরা পানির রয়েছে অতুলনীয় উপকারিতা। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, পানিশূন্যতা দূর করে এবং শরীরের ফ্যাট ভাঙতে সাহায্য করে। প্রস্তুত প্রণালি ১ চা চামচ জিরা এক কাপ পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেটা ফুটিয়ে নিন। ছেঁকে নাশতার অন্তত ২০ মিনিট আগে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। ৩. আমলকির রস গরম পানিতে আমলকি এক কথায় একটি সুপারফ্রুট। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্যাট কমাতেও সহায়তা করে। খাওয়ার নিয়ম ২ টেবিল চামচ আমলকির রস এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খালি পেটে পান করুন। পান করার পর অন্তত ৩০ মিনিটের মধ্যে চা বা কফি পান করবেন না। ৪. দারচিনি পানি দারচিনি ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে চর্বি জমা প্রতিরোধ করে। একই সঙ্গে মেটাবলিজম বাড়িয়ে ওজন কমাতেও সহায়তা করে। যেভাবে তৈরি করবেন এক কাপ পানি ফুটিয়ে তাতে ১ চা চামচ গুঁড়ো দারচিনি অথবা একটি দারচিনি স্টিক দিন। ১০ মিনিট রেখে ছেঁকে নিয়ে গরম গরম পান করুন। এই সহজ ৫টি পানীয় নিয়মিত সকালে গ্রহণ করলে শরীর যেমন হালকা লাগবে, তেমনি ওজনও কমানো যাবে। ৫. অপরাজিতার চা প্রাকৃতিক নীল রঙের হারবাল পানীয় অপরাজিতার চা। এটি ক্যাফেইন-মুক্ত ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ডিটক্সে সহায়ক। লেবু মিশিয়ে গরম গরম উপভোগ করুন। তবে মনে রাখতে হবে—শুধু পানীয় নয়, এর সঙ্গে চাই সঠিক ডায়েট ও নিয়মিত শরীরচর্চা।
শুধুই চিনি নয়, ক্যান্সারের ঝুঁ*কি রয়েছে দৈনন্দিন খাবারেও

শুধুই চিনি নয়, ক্যান্সারের ঝুঁ*কি রয়েছে দৈনন্দিন খাবারেও চিনি অনেকদিন ধরেই ক্যান্সারসহ নানা প্রাণঘাতী রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। যদিও অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ যে ক্ষতিকর, তা অস্বীকার করার উপায় নেই, তবুও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে—স্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত অনেক সাধারণ খাবারও দীর্ঘমেয়াদে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি কোনো খাবারকে দোষারোপ করার বিষয় নয়। বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে সচেতনতা বাড়ানো। বিজ্ঞানীরা যখন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধির পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করছেন, তখন পরিষ্কার হয়ে উঠছে যে— নিয়মিত যেসব খাবার আমরা গ্রহণ করি, সেগুলোরই বড় ভূমিকা রয়েছে। গবেষণা বলছে, ক্যান্সার কোষ সত্যিই সাধারণ কোষের তুলনায় বেশি গ্লুকোজ গ্রহণ করে, তবে সম্পূর্ণ চিনি বাদ দিলেই ক্যান্সার থেমে যাবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। গ্লুকোজ মানবদেহের সব কোষের জন্যই প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস। আসল উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে আমাদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস। দীর্ঘদিনের প্রদাহ, স্থূলতা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধের মতো সমস্যা—যেগুলো অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও লাল মাংসের সঙ্গে যুক্ত এবং ক্যান্সারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এদিকে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে ডিমের ক্ষেত্রেও। সাধারণভাবে ডিমকে উচ্চমানের প্রোটিন ও পুষ্টির উৎস হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু উরুগুয়েতে ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এক বড় গবেষণায় দেখা গেছে, অতিমাত্রায় ডিম খাওয়ার সঙ্গে কয়েক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। ৩,৫০০-এর বেশি ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ২,০০০-এর বেশি নিয়ন্ত্রণ দলের (হাসপাতালে থাকা সাধারণ রোগী) উপর চালানো এই গবেষণায় ধরা পড়ে, যারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে ডিম খেতেন, তাদের মধ্যে কোলন, ফুসফুস, স্তন, প্রোস্টেট, মূত্রাশয়, মুখগহ্বর এবং উপরের শ্বাসনালী ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। গবেষকরা ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং সার্বিক খাদ্যাভ্যাসের মতো উপাদানগুলোর হিসাব করে ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন। তারপরও ডিমের সাথে ক্যান্সারের ঝুঁকির সংযোগ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সরাসরি কারণ নয় বরং একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক সম্পর্ক। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলছে— অতিরিক্ত ডিম গ্রহণ কি ধূমপান, খারাপ খাদ্যাভ্যাস বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের মতো অন্যান্য ঝুঁকির সাথে মিলে ক্যান্সার প্রবণতা বাড়াতে পারে? এই বিষয়ে গবেষকরা আরও মানবভিত্তিক গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে এই সংযোগের প্রকৃত কারণ আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। ডিম নিয়ে সব গবেষণা কিন্তু নেতিবাচক নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের প্রোটিন ও পেপটাইড—বিশেষ করে বিশুদ্ধভাবে তৈরি হলে—অ্যান্টি-ক্যান্সার এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে। তবে সমস্যা হলো, এই ফলাফলগুলো মূলত ল্যাবরেটরিতে কোষের উপর (ইন ভিট্রো) করা পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে। মানবদেহে এগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই পর্যাপ্ত মানবভিত্তিক গবেষণা ছাড়া ডিমের এই স্বাস্থ্যগুণ এখনও শুধুই প্রতিশ্রুতির পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, চিনির পরে যদি কোনো খাদ্যাভ্যাস সত্যিকারের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তা হলো অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের বেড়ে চলা প্রবণতা। প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, তৈরি খাবার, কোমল পানীয় এবং ফাস্টফুড—এইসব খাবার আধুনিক খাদ্যাভ্যাসের বড় একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের উচ্চমাত্রায় গ্রহণের ফলে, দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ, অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা, স্থূলতা এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ-এর মত সমস্যা তৈরি হয় এগুলো সবই ক্যান্সার সৃষ্টির বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। তাহলে আসলে গুরুত্বপূর্ণ কী? স্বাস্থ্য সচেতনতার ক্ষেত্রে অনেকেই একটি ‘সুপারফুড’ খুঁজে নেন বা কোনো ‘খারাপ’ খাবার পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে চান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একক কোনো খাবারই আপনার স্বাস্থ্য গড়তেও পারে না, ভাঙতেও পারে না। আসল গুরুত্ব রয়েছে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসে—আপনি কতটা বৈচিত্র্যময় এবং সুষম খাবার খান, সেটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে, ফলমূল, সবজি, সম্পূর্ণ শস্য, বাদাম, বীজ এবং জলপাই তেল, অ্যাভোকাডো ও মাছের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বিতে সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ওপর জোর দেওয়া উচিত। এসব খাবার উচ্চমাত্রায় ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে, যা শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। প্রদাহ কমানো মানেই দীর্ঘমেয়াদি রোগের (যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সার) ঝুঁকি হ্রাস করা। এছাড়া, সুস্থ থাকা মানে আপনার প্রিয় খাবার একেবারে ছেড়ে দিতে হবে—এমন নয়। মাঝেমধ্যে কেকের টুকরো খাওয়া ঠিক আছে, যদি আপনার প্রতিদিনের খাবারের বড় অংশ হয় সতেজ ও পুষ্টিকর উপাদানে ভরা। ডিমও খাদ্যতালিকায় থাকতে পারে, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ এবং প্রদাহ সৃষ্টিকারী অন্য খাবারের সাথে অতিরিক্ত সংমিশ্রণ ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পেটের চর্বি কমাতে হলে যা যা করতে হবে

পেটের চর্বি কমাতে হলে যা যা করতে হবে পেটে চর্বি জমে গেলে আমরা পেটের ব্যায়াম করি। কিন্তু ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র পেটের ব্যায়াম করে চর্বি কমানো সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয়?— চলুন এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাক। ফিটনেস বিষয়ক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এ এস তাজ একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘আমরা অনেকে মনে করি পেটের ব্যায়াম করবো এবং পেটের চর্বি কমে যাবে। শুধুমাত্র পেটের ব্যায়াম করে পেটের চর্বি কমানো সম্ভব না। আমরা যদি আমাদের পুরো শরীরকে একটা সুইমিংপুল হিসেবে ধরি, সুইমিংপুলে যখন আপনি পানি তুলেন তখন গভীর এবং অগভীর সব জায়গা থেকে এক সঙ্গে পানি কমবে। কিন্তু আমরা রেজাল্ট সর্ব প্রথম অগভীর জায়গায় দেখবো। সর্ব প্রথম দেখা যাবে সিঁড়ি থেকে পানি কমে গেছে। আমাদের শরীরটাও একই।’’ এ এস তাজ আরও বলেন, ‘‘মেয়েদের ক্ষেত্রে হিপ থেকে হাঁটু পর্যন্ত ফ্যাট জমে। চর্বির জন্য এটা গভীর জায়গা। আর ছেলেদের নাভি। মেয়েরা যদি অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করে তাহলে তাদের হিপ থেকে নিচের দিকে চর্বি জমতে থাকবে। ছেলেরা যদি অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করে সবার প্রথমে তাদের পেট মোটা হতে শুরু করে। সেক্ষেত্রে যদি স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন শুরু করা যায়, তাহলে সবার প্রথমে পেট এবং হিপ থেকে চর্বি’ কমতে শুরু করে।’’ ‘‘যেকোন ব্যক্তি ডায়েট শুরু করলে সবার প্রথমে তার মুখ শুকিয়ে যায়। এরপর হাতের কবজি এবং পায়ের কবজি শুকিয়ে যায়। কারণ এগুলো হচ্ছে অগভীর জায়গা। পেটের চর্বি কমাতে ফুল বডি এক্সারসাইজ করতে হবে। যেন আপনার ব্রেন ফিল করে যে এই ব্যক্তির প্রত্যেকটা মাসল আগের থেকে বেশি কাজ করে। তখন আপনি রেজাল্টটা বেশি পাবেন। মেটাবোলিক রেট ফার্স্ট হবে। ব্লাড হার্ট থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত পৌঁছাবে। পায়ের আঙুল পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং ব্রেন পর্যন্ত পৌঁছাবে। সুতরাং ফিটনেস পেতে হতে পুরো বডির এক্সারসাইজ করতে হবে।’’- যোগ করেন এ এস তাজ
মন খারাপ থাকলে যা করতে পারেন

মন খারাপ থাকলে যা করতে পারেন সব সময় আমাদের মন ভালো থাকবে, এমনটা নাও হতে পারে। মন খারাপ থাকলে যা করতে পারেন- ১. সহানুভূতিশীল বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে বেশি সময় কাটান। সহানুভূতিশীল মানুষ অন্যের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনে। নিজের খারাপ লাগার কথাটি খুলে বলতে পারলে, অনেক সময় মন হালকা হয়। ২. সাধ্যের অতিরিক্ত চাপ নিতে যাবেন না। অতিরিক্ত কাজের চাপ মন ও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। ৩. যেসব কাজ আপনাকে আনন্দ দেয়, মন খারাপের সময় সেসব কাজ বেশি করে করুন। আনন্দের কাজটিও করতে ‘ভালো লাগছে না’ মনে হলেও, এক পর্যায়ে দেখবেন ভালো লাগতে শুরু করেছে। ৪. খারাপ লাগা দূর করার জন্য ঘর থেকে বের হোন। বাজার করা, শপিংয়ে যাওয়া বা একটু হাঁটার জন্য হলেও বের হোন। দূরে কোথাও যেতে হবে তা নয়, প্রকৃতির কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যান। ৫. অল্প সময়ের জন্য হালকা ব্যায়ামও করতে পারেন। বেশি না, ১৫-৩০ মিনিট হাঁটাও মন ও শরীরের জন্য বেশ উপকারী। ৬. জীবনে কী কী ভালো ঘটনা ঘটেছে, তার একটি লিস্ট করুন। দেখবেন, মন ভালো লাগছে। নিজেকে বলুন, আপনি সব সময় খারাপ ছিলেন না। আবারও ভালো সময় আসবে। ৭. নিজের প্রতি ধৈর্যশীল হোন। খারাপ কিছু ঘটলে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকা বা সেটি নিয়ে বার বার ভাবা বন্ধ করুন। আত্মসমালোচনা যেন আপনার মধ্যে নেগেটিভিটি না আনে। ৮. মন খারাপ থাকলে সাধারণত আমাদের আত্মবিশ্বাসও কমে যায়। এই সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। ৯. ভালো একটা ঘুম দিন। রাতে ভালো ঘুম না হলেও মন খারাপ হতে পারে। অনেক সময় মনে হয়, কারণ ছাড়াই খারাপ লাগছে। আসলে সবকিছুর ১১. পেছনেই কারণ থাকে। ভালো ঘুম হলে, শরীর ও মন ফ্রেশ লাগতে পারে। ১২. যদি প্রায়ই এবং দীর্ঘ সময় ধরে মন খারাপ থাকে তাহলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলে, কাউন্সেলিংও প্রয়োজন হতে পারে।
শরীরচর্চার অভ্যাসে বাড়ে মনোযোগ

শরীরচর্চার অভ্যাসে বাড়ে মনোযোগ ওজন কমাতে শরীরচর্চার জুড়ি নেই। রোগা হওয়ার তাগিদে জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে ব্যস্ত সবাই। নিয়মিত শরীরচর্চা করার পরে ওজন যদি নাও কমে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা অবধারিত বাড়ে। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা গবেষণা তেমনটাই জানাচ্ছে। ব্যায়াম শুধু শরীর আর মনের খেয়াল রাখে না। মস্তিষ্ক সচল রাখতেও শরীরচর্চা করা জরুরি বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসে বশে থাকে ওজন। হাঁটুতে ব্যথা, রক্তচাপের সমস্যা, ডায়াবিটিস থাকলেও ব্যায়াম করে সুফল পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি শরীরচর্চা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। স্মৃতিভ্রম যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে তার উদাহরণ হলো ডিমেনশিয়া। মাত্র কয়েক দশকে ডিমেনশিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়বে প্রায় ২শ শতাংশ। টাইপ-২ ডায়াবিটিস থাকলেও ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। শরীরচর্চা টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও কমায়। ফলে প্রতিদিনের শারীরিক কসরতের অভ্যাস একসঙ্গে বহু রোগের আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কীভাবে বাড়িয়ে তোলে শরীরচর্চা। নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাসে স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলে। শরীরচর্চা মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে। এর ফলে মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ সচল থাকে। কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে স্মৃতি ধরে রাখাও অনেক বেশি সহজ হয়ে যায়। তবে জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানোর বদলে হাঁটলে কিংবা সাইকেল চালালেও উপকার পাওয়া যাবে। শরীরচর্চার অভ্যাসে বাড়ে মনোযোগ। ইঁদুরদৌড়ের জীবনে যেটা অত্যন্ত প্রয়োজন। মনোযোগহীন কাজের গুণমান নিয়ে সংশয় থাকেই। কার্ডিও মনোযোগ বাড়িয়ে তোলে। হার্টের খেয়াল রাখতেও কার্ডিওর জুড়ি মেলা ভার। ব্যায়াম করলে শুধু ওজন কমে না, মনও ভালো থাকে। সার্বিকভাবে ভালো থাকতে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি কমালে চলবে না। মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও সমান নজর দিতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য বিঘ্নিত হলে শরীরের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।
ফিট থাকতে নিয়মিত করুন সাইক্লিং
ফিট থাকতে নিয়মিত করুন সাইক্লিং খোলা আকাশের নিচে, গাছে ঘেরা রাস্তায় সাইকেল চালালে প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এতে করে মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে যায়। সকালের দিকে দূষণ ও গাড়ির চাপ কম থাকে। তাই সকালে সাইক্লিং করুন, সকালে না পারলে সারাদিনে কিছুটা সময় বের করে সাইকেল চালান। আর নিরাপদ বাহন কিন্তু সাইকেল, চাইলে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য গণ-পরিবহনের পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহার করতে পারেন। সাইক্লিংয়ের উপকারিতা * সাইক্লিং শুধু পায়ের ব্যায়াম নয়। নিয়মিত সাইকেল চালালে আমাদের শরীরের প্রতিটি পেশিতে চাপ পড়ে, ফলে পেশি সুগঠিত ও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। * সাইক্লিং আমাদের হার্ট, ফুসফুস এবং রক্তচাপের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে। আর এভাবে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। * আমাদের কাজ করার জন্য যে স্ট্যামিনা প্রয়োজন হয়, নিয়মিত সাইক্লিং থেকে আমরা সেই কর্মস্পৃহা পেয়ে থাকি। যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষে দ্রুত পৌঁছতে সাহায্য করে। * খোলা আকাশের নিচে, গাছে ঘেরা রাস্তায় সাইকেল চালালে প্রকৃতির সাথে আমাদের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। এতে করে মাথা থেকে দুশ্চিন্তাগুলো বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে যায়। ফলে মানসিক চাপ কমানোর জন্য এটি খুব ভালো একটি উপায়।শরীরের মেদ কমে- নিয়মিত সাইক্লিং-এ আমাদের শরীরের বাড়তি মেদ কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। * সাইক্লিংয়ের ফলে আমাদের শ্বাস এবং হার্ট বিট উন্নত হয়। সাইক্লিংয়ে সাবধানতা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় সাইক্লিং করা সহজ নয়। এক্ষেত্রে নিজের সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইকেল কেনার সময় নিরাপত্তা গিয়ার ঠিক আছে কি না চেক করে নিন। সব সময় রাস্তার একপাশ দিয়ে সাইকেল চালাতে হবে। বাই সাইকেল চালালেও ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। কখনোই খুব দ্রুত সাইকেল চালানো যাবে না। হেলমেট ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ডায়াবেটিস থাকলে সাইকেল চালানোর আগে কিছু খেয়ে নিতে হবে। সাইকেল চালানোর সময় অনেক ঘাম হয়। তাই ক্লান্তি দূর করতে সঙ্গে এক বোতল পানি বা জুস রাখুন। কখনো ব্যথা পেলে বা কোনো শারীরিক সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাইসাইকেল কিনতে ফনিক্স, এমটিভি, হারকিউলিক্স, হিরো, ফায়ারফক্সসহ ভালো মানের একটি সাইকেল কিনতে পারবেন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকায়। ঢাকার গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, নিউমার্কেট, বংশালসহ দেশের ছোট বড় সব শহরেই দেশি বিদেশি ব্র্যান্ডের সাইকেল পাওয়া যায়।