কেন খাবেন মটরশুঁটি

কেন খাবেন মটরশুঁটি শীতকালে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি পাওয়া যায়। শীতকালের বাজার মানে সবজি সমাহার। নতুন আলু থেকে পালং শাক, মুলো কী নেই সেই তালিকায়। তবে শীতকালের সবজির মধ্যে অনেকেরই প্রথম পছন্দ মটরশুঁটি। ফুলকপি আলুর তরকারিতে স্বাদ বৃদ্ধি জন্য হোক, কিংবা গরম গরম ধোঁয়া ওঠা কচুরির পুরে, এই সবজির জুড়ি মেলা ভার। অনেকে তো আবার মুড়িতে মেখে কাঁচা মটরশুঁটি মেখে খেতেও পছন্দ করেন। কিন্তু রোজ মটরশুঁটি খাওয়া কি ভালো? এতে শরীরে ঠিক কী প্রভাব পড়ে? পুষ্টিগুণেও ভরপুর মটরশুঁটি। শীতকালে যদি প্রতিদিন মটরশুঁটি খাওয়া যায় তবে তা অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। মটরশুঁটি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এতে প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং বি কমপ্লেক্স যেমন থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন এবং ফলিক অ্যাসিড রয়েছে। তাছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পাওয়া যায়। আজ তার উপকারিতাগুলো জেনে নিন – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে : মটরশুঁটিতে থাকা উচ্চমাত্রার অ্যান্ট-অক্সিডেন্ট, ছোট-বড় অসুস্থতা থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখতে কাজ করে। এতে থাকা উচ্চমাত্রার মিনারেল তথা- আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক, কপার, ম্যাংগানিজ প্রভৃতি এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখে। ত্বকের বলীরেখা প্রতিরোধ করে : মটরশুঁটি থেকে পাওয়া যাবে অ্যান্টি এইজিং ইফেক্ট, যা ত্বকে সহজে বয়সের ছাপ পড়তে দেবে না। এতে থাকা ফ্ল্যাভনয়েডস ক্যাটেচিন, এপিক্যাটাচিন, ক্যারোটেনয়েড, আলফা ক্যারোটেনয়েড মূলক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীরগতি করে দেয় এবং ত্বক সুস্থ রাখতে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। আলঝেইমার ও আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করে : মটরশুঁটিতে থাকা ভিটামিন-কে বয়সকালীন বড় ধরণের রোগ তথা আলঝেইমার ও আর্থ্রাইটিস দেখা দেওয়া থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখে। এমনকি নিয়মিত মটরশুঁটি খাওয়ার ফলে আলঝেইমারের রোগীদের নিউরাল ড্যামেজের মাত্রা কমে আসে বেশ অনেকখানি। একদম ফ্রেশ মটরশুঁটি থেকে ভিটামিন-কে পাওয়া যাবে সবচেয়ে বেশি। নিয়ন্ত্রণে রাখে রক্তে চিনির মাত্রা : মটরশুঁটিতে থাকে পর্যাপ্ত আঁশ ও প্রোটিন, যার ফলে রক্তে চিনি মেশে ধীরগতিতে। এছাড়া মটরশুঁটিতে বাড়তি চিনি না থাকায়, এই সবজিটি খাওয়ার ফলে কোন সমস্যা দেখা দেয় না। পাশাপাশি রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রনেও ভূমিকা রাখে মটরশুঁটি। চোখের জন্য উপকারী : মটরশুঁটিতে থাকে পরিমিত মাত্রায় লুটেন, ক্যারোটেনিস, জি-জ্যান্থিন নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভনয়েড ও ভিটামিন-এ। এই সকল পুষ্টি উপাদান চোখের সুস্থতা ও সুস্থ দৃশ্তিশক্তির জন্য ভীষণ জরুরি। চুল পড়ার হার কমায় : ভিটামিন-এ ও কে এর সঙ্গে মটরশুঁটি থেকে পাওয়া যাবে ভিটামিন-সি। যা কোলাজেন তৈরিতে অবদান রাখে। চুলের গোড়ার বৃদ্ধির জন্য কোলাজেনের প্রয়োজন হয়। খুব অল্প মাত্রার ভিটামিন-সি এর অভাবের ফলে চুল পড়া ও চুল শুষ্ক হওয়ার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে অনেকখানি। ত্বকের প্রদাহ কমায় : মটরশুঁটিতে রয়েছে ত্বকের জন্য উপকারী পুষ্টি উপাদান তথা- ভিটামিন-বি৬, ভিটামিন-সি ও ফলেট। এই পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের যেকোন অংশের ত্বকের প্রদাহকে দ্রুত কমাতে ও ত্বক সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
শীতকালে ফুসফুস ভালো রাখবে এই পানীয়

শীতকালে ফুসফুস ভালো রাখবে এই পানীয় শীতকাল এলেই দূষণের পরিমাণ বেড়ে যায়। সূক্ষ্ম কণা (PM2.5) এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে, যা কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতির কারণ হয়। এই পরিবেশগত সংকটের মধ্যে অনেকেই ঐতিহ্যবাহী অনুশীলনগুলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন, যা একসময় ফুসফুসের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে বেছে নেওয়া হতো। এরকম একটি সহজ এবং সহজলভ্য প্রতিকার হলো গরম পানিতে গুড় মিশিয়ে খাওয়া। এই পানীয় শরীরের পরিষ্কারক প্রক্রিয়াগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে সহায়তা করে। গুড় কেন ফুসফুসের জন্য উপকারী গুড় হলো আখের রস থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত চিনি। এটি আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ট্রেস অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ধরে রাখে যা বিপাক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সমর্থনে ভূমিকা পালন করে। রক্ত পরিশোধন, গলার জ্বালা কমানো এবং শ্বাস নালী থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়ার জন্য গুড় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হালকা গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে এটি হালকা কফনাশক হিসেবে কাজ করে, শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মা আলগা এবং নির্গমনে সহায়তা করে, বিশেষ করে দূষণ বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের জন্য উপকারী। তাই নিয়মিত এই পানীয় পান করলে উপকারিতা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। আধুনিক পুষ্টি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, গুড় শরীরের মিউকোসিলিয়ারি ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। মিউকোসিলিয়ারি ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্বাসযন্ত্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা ফুসফুস থেকে দূষণকারী, ধুলো এবং অ্যালার্জেন আটকে রাখতে এবং অপসারণ করতে সহায়তা করে। শ্লেষ্মা গঠন বৃদ্ধি করে এবং লিম্ফ্যাটিক চলাচলে সহায়তা করে, গুড় শ্বাস-প্রশ্বাসের জ্বালা দূর করার জন্য শরীরের ক্ষমতা বাড়ায়। যদিও গুড় ভেজানো পানি পান করা চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না, তবে এর জৈবিক সক্রিয় বৈশিষ্ট্যগুলো দূষিত পরিবেশে শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যকে শক্তিশালী করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। সমস্যা বেড়ে গেলে অবশ্যই আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। গবেষণা কী বলছে লখনউয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল টক্সিকোলজি রিসার্চ সেন্টারের একটি গবেষণায় অনুসন্ধান করা হয়েছে যে, ধোঁয়াটে বা ধুলোযুক্ত পরিস্থিতিতে শিল্প কর্মীরা নিয়মিত গুড় খাওয়ার সময় কেন শ্বাসকষ্ট কম হয়। গবেষকরা কয়লার ধুলোর সংস্পর্শে আসা ইঁদুরের ওপর এই পর্যবেক্ষণ পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, যাদের গুড় দেওয়া হয়েছিল, তাদের ফুসফুস এবং লিম্ফ নোড থেকে ধূলিকণার পরিষ্কারের প্রক্রিয়া অপরিশোধিত প্রাণিদের তুলনায় ভালো ছিল। গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, গুড় ফুসফুসের টিস্যুর ক্ষতি এবং ফাইব্রোসিস কমিয়েছে, যা অঙ্গের প্রাকৃতিক স্থিতিস্থাপকতা সংরক্ষণে সহায়তা করেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, গুড় শ্লেষ্মায় সিয়ালিক অ্যাসিড বৃদ্ধি করে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দূষিত পদার্থ অপসারণের জন্য শরীরের প্রক্রিয়া, মিউকোসিলিয়ারি ক্লিয়ারেন্স বৃদ্ধি করেছে। এই যৌগটি একটি ঋণাত্মক চার্জ বহন করে যা ধনাত্মক চার্জযুক্ত ধুলো এবং ধোঁয়া কণাগুলোকে আকর্ষণ করে এবং আটকে রাখে, যা শ্বাসনালী থেকে দ্রুত অপসারণকে সক্ষম করে।
পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষ আর পিঁপড়ার ওজন সমান!

পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষ আর পিঁপড়ার ওজন সমান! বিশ্বে ১২,০০০-এর বেশি প্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে, এদের মধ্যে কিছু প্রজাতি বড় এবং কিছু প্রজাতি ছোট। একটি পিঁপড়া তার নিজের ওজনের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ গুণ বেশি ওজন বহন করতে পারে। পিঁপড়া গবেষকদের মতে, ‘‘পৃথিবীতে যত পিঁপড়া আছে, তাদের জৈববস্তু পৃথিবীতে বসবাসকারী ৭০০ কোটি মানুষের জৈববস্তুর ওজনের সমান।’’ পিঁপড়ার কোনো ফুসফুস বা কান নেই। তারা হাঁটু ও পায়ের বিশেষ কম্পন সেন্সরের মাধ্যমে আশেপাশের পরিস্থিতি বুঝতে পারে। পিঁপড়া ফেরোমন নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে এবং সারিবদ্ধভাবে খাবার সংগ্রহ করে। পিঁপড়াদের রানি, পুরুষ ও শ্রমিক পিঁপড়ার মধ্যে কাজের বিভাজন থাকে। রানি ডিম পাড়ে, পুরুষ প্রজননে সহায়তা করে, এবং শ্রমিকরা খাদ্য সংগ্রহ ও বাসা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে থাকে। প্রায় ২০০ প্রজাতির পিঁপড়াকে সৈনিক পিঁপড়া বলা হয়। সৈনিক পিঁপড়ারা আক্রমণাত্মক আচরণ করে। ক্ষুদ্র এই প্রাণীটি ডাইনোসরের সময় থেকে এখন পর্যন্ত টিকে আছে এবং বৈজ্ঞানিকদের ধারণা পৃথিবীতে মানব জাতির আগনের কয়েক কোটি বছর আগে থেকে পৃথিবীতে পিঁপড়া ছিলো। তথ্যসূত্র: নিউজ ১৮
যে পাখি দিনের কাজ শুরু করে ৯টায়

যে পাখি দিনের কাজ শুরু করে ৯টায় বিশ্বের বেশিরভাগ পাখি খুব ভোরে জেগে যায়, এবং খাদ্যের সন্ধ্যানে বেরিয়ে পড়ে। সেই বিচারে সেবু ফ্লাওয়ারপেকার আলাদা। নিজেদেরকে অন্যান্য শিকারি পাখির হাত থেকে বাঁচাতে সকালে তারা বাসাতেই থাকে। সেবু ফ্লাওয়ারপেকার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে খাদ্য সন্ধ্যানে বের হয়। বা এই সময়ের মধ্যে সক্রিয় থাকতে পছন্দ করে। খাদ্য সংগ্রহের সময়, এই পাখি তার পছন্দের ফুলের গাছের দিকে দ্রুত উড়ে যায়। খাবার খায় এবং তারপরে তাৎক্ষণিকভাবে উড়ে যায়। যদিও সেবু ফ্লাওয়ারপেকার খুব কমই ডাকে, এর শব্দ পিগমি ফ্লাওয়ারপেকারের ডাকের মতো। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মনে করা হয়েছিলো যে, পৃথিবীর বন থেকে ফ্লাওয়ারপেকার হারিয়ে গেছে, বা বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু ১৯৯২ সালে মধ্য সেবু সুরক্ষিত ভূমির ছোট এক চুনাপাথর বনে দেখা দেয়। এবং সেই ধারণা পাল্টে যায়। সেবু হলো ফিলিপাইনের একটি দ্বীপপুঞ্জ। বর্তমানে ধারণা করা হয়, ৮৫ থেকে ১০৫টি ফ্লাওয়ারপেকার জীবিত আছে। এই অল্পসংখ্যক পাখিকে টিকিয়ে রাখতে জোর চেষ্টা চলছে।
শীতকাল এলেই ‘স্নো ফেইরি’ হয়ে যায় বরফের বলের মতো

শীতকাল এলেই ‘স্নো ফেইরি’ হয়ে যায় বরফের বলের মতো ‘জাপানি স্নো ফেইরি’ হলো লম্বা লেজযুক্ত টিট পাখির একটি উপ-প্রজাতি, যা জাপানের হোক্কাইডো অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। এটি দেখতে ছোট ও তুলতুলে সাদা। স্নো ফেইরি দৈর্ঘ্যে সাধারণত ১২ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। এর লেজের অংশ কালো আর দেহের অংশ সাদা। এই পাখিটির আসল নাম শিমা এনাগা। শিমা মানে দ্বীপ। এনাগা মানে হচ্ছে লম্বা লেজওয়ালা পাখি। খুবই আদুরে এই পাখি জাপানের হোক্কাইদোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যদিও এর কিছু আত্মীয়-স্বজন ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও বাস করে। এই পাখির পুরো শরীর সাদা পালকে ঢাকা থাকে এবং চোখ দুটি ছোট ও কালো হওয়ায় এদের দেখতে অনেকটা তুলোর বলের মতো লাগে। এদের এই নরম তুলতুলে সাদা চেহারার কারণেই ‘বরফের পরী’ বা ‘স্নো ফেইরি’ ডাকনাম দেওয়া হয়েছে। শীতকালে এদের দেহের পালক শীত থেকে বাঁচার জন্য ফুলতে থাকে। যেন এরা নিজের দেহকে গরম রাখতে পারে। সে সময় এদের সাদা পালক এতটাই ফুলে ওঠে যে দেহটা গোলাকার হয়ে যায়। তখন পাখিগুলোকে দেখলে বরফের বল মনে হয়।
জরায়ু নিয়ে কোন বয়স থেকে মেয়েদের সতর্ক হওয়া উচিত

জরায়ু নিয়ে কোন বয়স থেকে মেয়েদের সতর্ক হওয়া উচিত ওজন বেশি বা স্থূলত্ব রয়েছে এমন মহিলাদের জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ওজন বেশি মানেই সিস্ট হবে, তা নয়। জরায়ুতে সিস্ট বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। তাই ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকাই জরুরি। ওভারিয়ান সিস্ট কী? ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ মূলত ডিম্বাশয়ের ভিতরে থলির মতো মাংসল পিণ্ড, যার ভিতরে রক্ত বা তরল পদার্থ থাকতে পারে। চিকিৎসক মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতে, সিস্ট মানেই ক্যানসার নয়। এটি একটি টিউমার জাতীয় বৃদ্ধি, যা ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারযুক্ত) অথবা বিনাইন (ক্যানসারহীন) হতে পারে। তবে যদি সিস্টের দেওয়াল পুরু হয় এবং কোষের অনিয়মিত বিভাজন শুরু হয়, তখন তা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে। কোন বয়স থেকে ঝুঁকি বাড়ে? বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মেয়েদের জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সময়ের সিস্ট তাড়াতাড়ি সেরে যায়। কিন্তু রজোনিবৃত্তির পর (menopause-এর পর) সিস্ট হলে তা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এ সময়ে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই হরমোনের পরিবর্তনের কারণেই সিস্ট মারাত্মক আকার নিতে পারে এবং অনিয়মিত রক্তপাতের ঝুঁকি তৈরি হয়। ওভারিয়ান সিস্টের ঝুঁকি যাদের বেশি : যাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) রয়েছে যাদের এন্ডোমেট্রিওসিস আছে হরমোন থেরাপি নেওয়া মহিলারা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন নারীরা অন্য কোনো ক্যানসারের চিকিৎসা যেমন রেডিয়োথেরাপি বা কেমোথেরাপি নিয়েছেন স্তন ক্যানসারের ওষুধ ব্যবহারকারীরা সম্ভাব্য জটিলতা ও চিকিৎসা ডিম্বাশয়ের সিস্ট থাকলে ডিম্বাণু পরিপক্ব হতে বা বেরোতে সমস্যা হয়, ফলে গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিস্ট বিনাইন হয় এবং ওষুধের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকলে CA-125 টেস্ট, আলট্রাসাউন্ড এবং প্রয়োজনে সার্জারি করা হয়। তবে প্রতিটি সিস্টের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট। চিকিৎসকদের পরামর্শ : ১৪ বছর বয়সের পর থেকেই মেয়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। মাসিক অনিয়ম, তলপেটে ব্যথা, ওজন বেড়ে যাওয়া বা মুখে ব্রণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রজোনিবৃত্তির পর অনিয়মিত রক্তপাত হলে দ্রুত গাইনোকলজিস্টের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা থাকলে ওভারিয়ান সিস্ট বড় কোনো সমস্যা নয়, বরং সময়মতো ধরা পড়লে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
বাজ অলড্রিনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে মানবজাতির প্রথম মহাকাশ সেলফি !

বাজ অলড্রিনের ক্যামেরায় ধরা পড়ে মানবজাতির প্রথম মহাকাশ সেলফি ! মহাকাশ অনুসন্ধানের ইতিহাসে ১৯৬৬ সাল একটি অনন্য অধ্যায়। ওই বছরই প্রথমবারের মতো একজন নভোচারী মহাকাশে নিজের ছবি তোলেন—যা ইতিহাসে স্থান পায় পৃথিবীর বাইরের প্রথম সেলফি হিসেবে। এই ঐতিহাসিক ছবিটি তুলেছিলেন মার্কিন নভোচারী এডউইন ই. ‘বাজ’ অলড্রিন জুনিয়র, জেমিনি–১২ মিশনের সময়। জেমিনি–১২ মিশনটি ১৯৬৬ সালের ১১ নভেম্বর মহাকাশে পাঠানো হয়, মহাকাশযানের ডকিং (সংযুক্তকরণ) কৌশল পরীক্ষা করার জন্য। অভিযানে কমান্ডার ছিলেন জেমস এ. লভেল জুনিয়র, আর পাইলট ছিলেন বাজ অলড্রিন। ১৩ নভেম্বর অলড্রিন তার তিনটি স্পেসওয়াকের (মহাশূন্যে হাঁটা) দ্বিতীয়টিতে অংশ নেন, যার সময়কাল ছিল ২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। মূলত দৃশ্যমান তারকাক্ষেত্রের ছবি তোলাই ছিল তার দায়িত্ব। কাজের ফাঁকেই তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের একটি ছবি তোলেন—যা পরবর্তীতে পৃথিবীর বাইরের প্রথম সেলফি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ছবিতে অলড্রিনকে দেখা যায় গভীর মহাকাশের পটভূমিতে, তার স্পেসস্যুট ও হেলমেটের প্রতিফলনে মহাকাশযান ও পৃথিবীর অংশও দেখা যায়। পরবর্তীতে অলড্রিন অ্যাপোলো–১১ অভিযানে চন্দ্রাভিযানেও অংশ নেন এবং জানান, তার ঝুলিতে এই ‘প্রথম সেলফি’ একটি গর্বের অর্জন। ছবিটি তোলার সময় অলড্রিন ব্যবহার করেছিলেন একটি বিশেষ আলট্রাভায়োলেট (ইউভি) ক্যামেরা, যা তৈরি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নভোচারী কার্ল হেনাইজ। ইউভি বিকিরণ (অদৃশ্য আলোর রশ্মি) পরিমাপের জন্য বিশেষ লেন্স ও ফিল্টার ব্যবহৃত হয়েছিল, যেন অন্য বিকিরণগুলো বাদ দেওয়া যায়। জেমিনি–১২ মিশনে ব্যবহৃত আসল ইউভি ক্যামেরাটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে এটা এক স্মারক হিসেবে বিবেচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় মিলল ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর প্রাচীন কুমিরের ডিমের খোসা !

অস্ট্রেলিয়ায় মিলল ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর প্রাচীন কুমিরের ডিমের খোসা ! অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে এক ভেড়ার খামারের পেছনের উঠোনে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর পুরোনো কুমিরের ডিমের খোসা পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগুলো সম্ভবত প্রাগৈতিহাসিক ধরনের কুমির ‘ড্রপ ক্রোক’-এর। তারা গাছে উঠে শিকার ধরত বলে ধারণা করা হয়। এই আবিষ্কারটি সম্প্রতি জার্নাল অব ভার্টিব্রেট প্যালিয়োনটোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ডিমের খোসাগুলো ‘মেকোসুকাইন’ নামের এক বিলুপ্ত কুমির প্রজাতির। তারা অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে বাস করত। অস্ট্রেলিয়া তখন ছিল অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত এক মহাদেশের অংশ। গবেষণার সহলেখক ও ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের জীবাশ্মবিজ্ঞানী প্রফেসর মাইকেল আর্চার বলেন, ড্রপ ক্রোক ধারণাটা অদ্ভুত শোনালেও, কিছু কুমির হয়তো চিতাবাঘের মতো গাছ থেকে লাফিয়ে নিচে পড়ে শিকার ধরত। এই প্রজাতির কুমিরের দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ মিটার পর্যন্ত হতো। তারা ৩৮ লাখ বছর আগের আধুনিক লবণপানির বা মিঠা পানির কুমিরের আগের যুগের বাসিন্দা ছিল। ডিমের খোসাগুলো বহু দশক আগে পাওয়া গেলেও সম্প্রতি স্পেনের বিজ্ঞানীদের সহায়তায় বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আগের কিছু গবেষণায় পাওয়া যায়, প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বছর আগেও মেকোসুকাইন কুমিররা বেঁচে ছিল এবং তাদের কিছু ছিল আধা-গাছে ওঠা বা আংশিক গাছে বসবাসকারী ‘ড্রপ ক্রোক’। প্রফেসর আর্চার ১৯৮০-এর দশক থেকে কুইন্সল্যান্ডের মারগন এলাকায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ জায়গাটি এখন অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে পুরনো জীবাশ্ম আবিষ্কারের স্থানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। গবেষক ড. মাইকেল স্টেইন জানান, এই প্রাচীন বনভূমিতেই পাওয়া গেছে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো গান গাওয়া পাখি, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম দিকের ব্যাঙ ও সাপ, দক্ষিণ আমেরিকান বংশের ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বাদুড়ের জীবাশ্ম। আর্চার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৮৩ সালে আমরা সেখানে গিয়ে স্থানীয় কৃষকের দরজায় কড়া নেড়ে বলেছিলাম—আমরা কি একটু খনন করতে পারি? তারা হাসিমুখে বলেছিল, ‘অবশ্যই।’ তারপর থেকেই একের পর এক অবাক করা আবিষ্কার আসছে, এবং আমরা জানি, এখনো অনেক রহস্য মাটির নিচে লুকিয়ে আছে। এই আবিষ্কার শুধু প্রাচীন প্রাণিবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত খুলেই দেয়নি, বরং লক্ষ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার প্রাণজগৎ কতটা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও চমকপ্রদ ছিল দেখিয়েছে। সূত্র : বিবিসি
সবুজ-লাল আলোয় রঙিন রাতের আকাশ !

সবুজ-লাল আলোয় রঙিন রাতের আকাশ ! সূর্যের শক্তিশালী বিকিরণে সৃষ্ট বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য নর্দার্ন লাইটস (Aurora Borealis) এবার দেখা গেছে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, আলাবামা, জর্জিয়া এবং এমনকি উত্তর ফ্লোরিডা থেকেও এই মনোমুগ্ধকর আলোকরেখা দেখা গেছে মঙ্গলবার রাতে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সূর্য থেকে নির্গত একাধিক শক্তিশালী বিকিরণ বা করোনাল মাস ইজেকশন পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে। এই বিকিরণগুলো বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে থাকা বিদ্যুতায়িত কণার সঙ্গে সংঘর্ষে রঙিন আলোর সৃষ্টি করেছে। ফলে আকাশজুড়ে সবুজ, লাল ও বেগুনি রঙের ঢেউয়ের মতো আলো ছড়িয়ে পড়েছে। এই সৌরঝড়কে জি-৪ (G4) পর্যায়ের ‘গুরুতর ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার। পাঁচ ধাপের স্কেলে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাত্রা। আগামী দুই রাতেও এমন ঝড় অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জি-৪ মাত্রার ঝড়ে সাধারণত বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ সমস্যা, জিপিএস সিগন্যাল বিভ্রাট, এবং রেডিও ও স্যাটেলাইট যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে এইবারের ঝড়টি এখন পর্যন্ত শুধু আকাশে চমৎকার আলোর প্রদর্শনী ঘটিয়েছে, বড় কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্পেস ওয়েদার বিশেষজ্ঞ শন ডাল জানিয়েছেন, সূর্যের সক্রিয় দাগের একটি বড় গুচ্ছ থেকে আরও শক্তিশালী বিকিরণ বুধবার দুপুর নাগাদ পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। এতে আগামী রাতগুলোতেও দক্ষিণাঞ্চলে আলোর এই নাচ দেখা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট এই নর্দার্ন লাইট কেবল মনোমুগ্ধকর দৃশ্যই নয়, বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানব সভ্যতা যত উন্নতই হোক না কেন, প্রকৃতি ও সূর্যের প্রভাবের বাইরে নয়।
হারাচ্ছে আলোর পোকা জোনাকি, ফেরানোর উপায় কি?

হারাচ্ছে আলোর পোকা জোনাকি, ফেরানোর উপায় কি? কখনও সন্ধ্যা নামলেই মাঠে, গাছতলায় কিংবা খোলা জলাভূমির ধারে জড়ো হতো শিশুর দল। তাদের হাতে ধরা পড়ত ছোট্ট একটি আলোর বিন্দু, নাম তার জোনাকি। সেই আলো ছিল নিখাদ বিস্ময়, ছিল রাতের সৌন্দর্য। কিন্তু সময় বদলেছে। শৈশবের সেই আলোর স্মৃতি এখন অতীত হয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে দ্রুত কমে যাচ্ছে জোনাকির সংখ্যা। আর এই বিলুপ্তির পেছনে আছে প্রধান তিনটি কারণ; বাসস্থান ধ্বংস, আলো দূষণ এবং কীটনাশকের ব্যবহার। বিশ্বে প্রায় দুই হাজার প্রজাতির জোনাকি রয়েছে। বেশিরভাগ জোনাকি পোকা জন্মায় এবং বেঁচে থাকে আর্দ্র পরিবেশে; পুকুরের ধারে, জলাভূমিতে, পচা কাঠের পাশে বা অন্ধকার বনে। কিন্তু উন্নয়ন আর নগরায়নের চাপ সেই পরিবেশকে গ্রাস করে নিচ্ছে। খোলা মাঠ ভরাট করে বহুতল ভবন, ম্যানগ্রোভ বনের জায়গায় কৃষিখামার, নদীর তীরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা; সব মিলিয়ে জোনাকির জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্ধকার এবং নীরব পরিবেশ হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী সারা লুইসের নেতৃত্বে ২০২০ সালে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, জোনাকিদের টিকে থাকার জন্য নির্দিষ্ট পরিবেশগত শর্ত প্রয়োজন। তার ভাষায়, জোনাকিদের জীবনচক্র এমন এক জায়গার ওপর নির্ভরশীল, যেখানে এদের জন্ম হয়, তারা সাধারণত সেখানেই থাকে। বলেন গবেষক দলটির প্রধান। সেই পরিবেশ হারালে তারা প্রজনন করতে পারে না, প্রজন্ম জন্মায় না। আরেকটি বড় হুমকি কৃত্রিম আলো। জোনাকিরা তাদের দেহের আলো ব্যবহার করে সঙ্গীর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং প্রজনন করে। পুরুষ জোনাকি আলো জ্বেলে উড়ে বেড়ায়, স্ত্রী জোনাকি অপেক্ষা করে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য। কিন্তু মানুষের রাস্তার লাইট, বিজ্ঞাপনের আলো, গাড়ির হেডলাইট; সব কৃত্রিম আলো জোনাকিদের নিজেদের সংকেত পাঠানো ব্যাহত করে। ফলে তারা সঙ্গী খুঁজে পায় না। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর মোট স্থলভাগের অন্তত ২৩ শতাংশ এলাকায় রাতের অন্ধকার আর অন্ধকার থাকে না, এটা জোনাকিদের জন্য মৃত্যুঘণ্টা। এদিকে কৃষিজমিতে ব্যবহার করা কীটনাশক জোনাকির লার্ভার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। লার্ভা সাধারণত এক থেকে দুই বছর বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু মাটির রাসায়নিক উপাদান তাদের বেড়ে ওঠার সময়ই ধ্বংস করে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কীটনাশকের প্রভাবে জোনাকির মৃত্যুহার ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এখন ‘জোনাকি ট্যুরিজম’ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নৌকায় করে নেওয়া হচ্ছে জোনাকির আবাসস্থলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পর্যটনে আলোর ব্যবহার, শব্দ এবং নৌকার ইঞ্জিন জোনাকিদের জীবনচক্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তবে আশার কথা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো সময় আছে। সচেতনতা বাড়ানো গেলে জোনাকিকে রক্ষা করা সম্ভব। তাদের বাঁচিয়ে রাখতে হলে অপ্রয়োজনীয় আলো কমাতে হবে, কীটনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং জলাভূমি, বন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করতে হবে।