নিমে যে রোগের নিরাময় হয়

নিমে যে রোগের নিরাময় হয় নিমে যে রোগের নিরাময় হয়নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। নিম ওষুধি গাছ যার ডাল, পাতা, রস, সবই কাজে লাগে। শুধু নিম দিয়েই নিরাময় হয় ২২টি রোগ। নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই কার্যকর। নিমের কাঠও খুবই শক্ত। এ কাঠে কখনো ঘুণ ধরে না। পোকা বাসা বাঁধে না। উইপোকা খেতে পারে না। নিমের এই গুণাগুণের কথা বিবেচনা করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ বলে ঘোষণা করেছে। নিমে যে ২২টি রোগের নিরাময় হয়: খোস পাচড়া বা চুলকানি : নিম পাতা সিদ্ধ করে সেই জল দিয়ে স্নান করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়। পাতা ভেজে গুড়া করে সরিষার তেলের সাথে মিষিয়ে চুলকানিতে লাগালে যাদুর মতো কাজ হয়। নিম পাতার সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ পিষে নিয়ে আক্রান্ত স্থানে প্রলেপ আকারে ৭-১০ দিন ব্যবহার করলে খোস-পাঁচড়া ও পুরনো ক্ষতের উপশম হয়। নিম পাতা ঘিয়ে ভেজে সেই ঘি ক্ষতে লাগালে ক্ষত অতি সত্বর আরোগ্য হয়। কৃমিনাশক : পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। পেটে বড় হয়। চেহারা ফ্যকাশে হয়ে যায়। বাচ্ছাদের পেটে কৃমি নির্মূল করতে নিমের পাতার জুড়ি নেই। শিশুরাই বেশি কৃমি আক্রান্তের শিকার হয়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের মূলের ছালের গুড়া দিন ৩ বার সামান্য গরম জল সহ খেতে হবে। আবার ৩-৪ গ্রাম নিম ছাল চূর্ণ সামান্য পরিমাণ সৈন্ধব লবণসহ সকালে খালি পেটে সেবন করে গেলে কৃমির উপদ্রব হতে রক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত এক সপ্তাহ সেবন করে যেতে হব। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ১-২ গ্রাম মাত্রায় সেব্য। রূপচর্চায় : বহুদিন রূপচর্চায় নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকের দাগ দূর করতে নিম খুব ভালো কাজ করে। এছাড়াও এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। ব্রণ দূর করতে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন। আবার ঘরে তৈরি নিমের বড়িও খাওয়া যেতে পারে। বড়ি তৈরি করতে নিমপাতা ভালোভাবে ধুয়ে বেটে নিন। এবার হাতে ছোট ছোট বড়ি তৈরি করুন। বড় ডিশে ফ্যানের বাতাসে একদিন রেখে দিন। পরদিন রোদে শুকোতে দিন। নিমের বড়ির জল একেবারে শুকিয়ে এলে এয়ারটাইট বয়ামে সংরক্ষণ করুন। নিমপাতা ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া বিরোধী। তাই ত্বকের সুরক্ষায় এর জুড়ি নেই। ব্রণের সংক্রমণ হলেই নিমপাতা থেঁতো করে লাগালে ভালো ফল নিশ্চিত। মাথার ত্বকে অনেকেরই চুলকানি ভাব হয়, নিমপাতার রস মাথায় নিয়মিত লাগালে এই চুলকানি কমে। নিয়মিত নিমপাতার সাথে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও স্কিন টোন ঠিক হয়। তবে হলুদ ব্যবহার করলে রোদ এড়িয়ে চলাই ভালো। নিমপাতার চেয়ে হলুদের পরিমাণ কম হবে। নিমপাতা সিদ্ধ জল গোসলের জলর সাথে মিশিয়ে নিন। যাদের স্কিন ইরিটেশন এবং চুলকানি আছে তাদের এতে আরাম হবে আর গায়ে দুর্গন্ধের ব্যাপারটাও কমে যাবে আশা করা যায়। দাঁতের রোগ : দাঁতের সুস্থতায় নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার প্রচলন রয়েছে সেই প্রাচীনকাল থেকেই। নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত হবে মজবুত, রক্ষা পাবেন দন্ত রোগ থেকেও। কচি নিম ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকে। নিম পাতার নির্যাস জলে মিশিয়ে বা নিম দিয়ে মুখ আলতোভাবে ধুয়ে ফেললে দাঁতের আক্রমণ, দাঁতের পচন, রক্তপাত ও মাড়ির ব্যথা কমে যায় এবং বুকে কফ জমে গেলে নিম পাতা বেটে এর ৩০ ফোঁটা রস সামান্য গরম জলে মিশিয়ে দিনে তিন থেকে চারবার খেলে উপকার পাওয়া যায়। রক্তের সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে : নিম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চমৎকার ভাবে কাজ করে। নিমের পাতা রক্তের সুগার লেভেল কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও রক্ত নালীকে প্রসারিত করে রক্ত সংবহন উন্নত করে। ভালো ফল পেতে নিমের কচি পাতার রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। সকালে খালি পেটে ৫টি গোলমরিচ ও ১০টি নিম পাতা বেটে খেলে তা ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য করে। চুল উজ্জ্বল,সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন চুল পেতে নিম পাতার অবদান অপরিসীম। চুলের খুশকি দূর করতে শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সিদ্ধ জল দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি দূর হয়ে যাবে। চুলের জন্য নিম পাতার ব্যবহার অদ্বিতীয়। চুলে প্রতি সপ্তাহে ১ দিন নিমপাতা ভালো করে বেটে চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টার মতো রাখুন। এবার ১ ঘণ্টা পর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল পড়া কমার সাথে সাথে চুল নরম ও কোমল হবে। মধু ও নিমপাতার রস একত্রে মিশিয়ে সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ দিন চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগান। এবার ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর শ্যাম্পু করুন আর অধিকারী হোন ঝলমলে সুন্দর চুলের। এক চা চামচ আমলকির রস, এক চা চামচ নিমপাতার রস, এক চা চামচ লেবুর রস, প্রয়োজন অনুযায়ী টকদই মিশিয়ে সপ্তাহে ২ দিন চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর শ্যাম্পু করুন। উকুন বিনাশে : নিমের ব্যবহারে উকুনের সমস্যা দূর হয়। নিমের পেস্ট তৈরি করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন, তারপর মাথা শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন এবং উকুনের চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ান। সপ্তাহে ২-৩ বার ২ মাস এভাবে করুন। উকুন দূর হবে। খুশকি বিনাশে : নিমের ব্যাকটেরিয়া নাশক ও ছত্রাক নাশক উপাদানের জন্য খুশকির চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিম মাথার তালুর শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে। খুশকির চিকিৎসায় নিমের ব্যাকটেরিয়া নাশক ও ছত্রাক নাশক উপাদানের জন্য খুশকির চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিম মাথার তালুর শুষ্কতা ও চুলকানি দূর করে। চার কাপ জলে এক মুঠো নিমের পাতা দিয়ে গরম করতে হবে যতক্ষণ না জলটা সবুজ বর্ণ ধারণ করে এই জল ঠান্ডা হলে চুল শ্যাম্পু করার পর এই জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। নিমের জল কন্ডিশনারের মত কাজ করবে। সপ্তাহে ২-৩বার ব্যবহার করুন যতদিন না খুশকি দূর হয়। ওজন কমাতে : যদি আপনি ওজন কমাতে চান বিশেষ করে পেটের তাহলে নিমের ফুলের জুস খেতে হবে আপনাকে। নিমফুল মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে শরীরের চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে। একমুঠো নিমফুল চূর্ণ করে নিয়ে এর সাথে এক চামচ মধু এবং আধা চামচ লেবুর রস দিয়ে ভালোভাবে মিশান। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই মিশ্রণটি পান করুন। দেখবেন কাজ হবে। রক্ত পরিষ্কার করে : নিমপাতার রস রক্ত পরিষ্কার করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। এছাড়াও রক্ত চলাচল বাড়িয়ে হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক রাখে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও নিমের জুড়ি নেই। ঠান্ডাজনিত বুকের ব্যথা : অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে। এ জন্য ৩০ ফোটা নিম পাতার রস সামান্য গরম জলে মিশিয়ে দিতে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে। গর্ভবতীদের জন্য ঔষধটি নিষেধ। পোকা-মাকড়ের কামড় : পোকা মাকড় কামড় দিলে বা হুল ফোঁটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হবে। জন্ডিস : জন্ডিস হলে প্রতিদিন সকালে নিম পাতার রস একটু মধু মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে। ২৫-৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস একটু মধুর সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে খেলে জন্ডিস আরোগ্য হয়। জন্ডিস

দিনে কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ?

দিনে কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ? ডিম একটি স্বাস্থ্যকর প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার, তবে তার পরিমাণ জানা ও বুঝে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিমের তুলনা খুব কমই আছে। কিন্তু প্রোটিনের জন্য প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ? তার আগে জেনে নিন ডিমে কী কী পুষ্টি উপাদান থাকে? একটি মাঝারি আকারের ডিমে থাকে প্রায়: প্রোটিন ৬-৭ গ্রাম, কোলেস্টেরল ১৮৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন B12, D, A ও কোলিন লুটিন ও জিয়্যাক্সানথিন চোখের যত্নে কার্যকর ওমেগা-৩ (বিশেষ করে DHA) মস্তিষ্ক এবং হৃদয়ের জন্য উপকারী। দিনে কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি দিন ১-৩টি ডিম খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ, যদি আপনার কোনও কোলেস্টেরল বা হৃদরোগজনিত সমস্যা না থাকে। এই বিষয়ে একজন পুষ্টিবিদরা বলছেন, ‘দিনে তিনটি ডিম মানে আপনি প্রায় ১৮-২১ গ্রাম প্রোটিন পাচ্ছেন, যা একজন সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক প্রোটিন চাহিদার এক বড় অংশ পূরণ করে।’ দিনে বেশি ডিম খাওয়া কি ক্ষতিকর? কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে : একটি ডিমে ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। দিনে ৩টির বেশি ডিম খেলে হার্ট অ্যাটাক বা ব্লকেজের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে হাই কোলেস্টেরল ছিল, তাদের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে। কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে : অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষ করে যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করেন। বদহজম ও গ্যাস : কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডিম খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, ঢেকুর বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দেয়। তাহলে কীভাবে ডিম খাবেন? সেদ্ধ ডিম সবচেয়ে ভালো: কম ক্যালোরি ও কোলেস্টেরল অল্প তেলে পোচ বা স্ক্র্যাম্বলড: ভাজা ডিমে ট্রান্সফ্যাট ও কোলেস্টেরল বেশি হয় সকালে নাস্তার সঙ্গে খেলে বেশি উপকারী, কারণ এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরাট রাখতে সাহায্য করে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ : সাধারণ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে ১-২টি ডিম খেতে পারেন। যারা ব্যায়াম করেন বা পেশী গঠনের চেষ্টা করছেন, তারা দিনে ৩টি পর্যন্ত খেতে পারেন। যাদের ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল, কিডনির সমস্যা রয়েছে—তাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডিমের পাশাপাশি অন্য প্রোটিন উৎস কী কী? ডিম ছাড়াও আপনি মুরগির মাংস, মাছ (বিশেষ করে টুনা, স্যামন), ডাল ও ছোলা, দুধ ও দই, বাদাম ও বীজ খাবারগুলো থেকেও প্রোটিন পেতে পারেন। ডিম একটি স্বাস্থ্যকর প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার, তবে তার পরিমাণ জানা ও বুঝে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি সুস্থ হন, তবে দিনে ১-৩টি ডিম খাওয়া নিরাপদ এবং উপকারী। তবে সবসময় খেয়াল রাখুন আপনার দৈনিক খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় থাকছে কি না। আসলে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য সঠিক পুষ্টি এবং পরিমাণই সবথেকে বড় চাবিকাঠি।

বয়স ৫০ পেরিয়েও সুস্থ থাকার ৫ উপায়

বয়স ৫০ পেরিয়েও সুস্থ থাকার ৫ উপায় বর্তমান ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি চ্যালেঞ্জ। মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়মিত জীবনযাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব। এই বয়সে ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও হ্রাস পায়। সমাজের সঙ্গে যুক্ত থাকুন: সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে। প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন : প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান সম্পূর্ণ ছাড়ুন : ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি —এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

ছুটি হোক আনন্দের

ছুটি হোক আনন্দের ব্যস্ততার জন্য কর্মজীবীরা পরিবার এবং বন্ধুদের সেভাবে সময় দিতে পারেন না। কারণ প্রতিটি কথা এবং কাজ তাদের করতে হয় সময়ের কাটা ধরে। সপ্তাহ শেষে ছুটির দিনটির জন্য পরিবারের সবাই অপেক্ষা করি। বিশেষ এই দিনটিকে একবারে সাদামাটা না কাটিয়ে আনন্দময় করে তুললে পরবর্তী সপ্তাহে কাজের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। সেসঙ্গে সবার মধ্যে সম্পর্ক আরও মধুর হয়। দিনটিকে আলাদা করতে যা করতে পারি- ছুটি নেওয়ার আগেই পরিকল্পনা করুন এই সময়টা কীভাবে সবচেয়ে বেশি আনন্দে ভরে তোলা যায়। * চেষ্টা করুন পরিবারের সবার একদিনেই ডে অফ নিতে। যেমন বাচ্চার স্কুল, কর্তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর গিন্নির অফিস ছুটি একদিনে নিন। * এই দিনটিতে চেষ্টা করুন অফিসের ব্যস্ততা এবং টেনশন দুটো থেকেই মুক্ত থাকতে। প্রতিদিন সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকে, তাই ভোরেই ঘুম থেকে উঠতে হয়, ছুটির দিনটিতে একটু আরাম করে ঘুমানো যায়। * ছুটি মানে সারাদিন সংসারের কাজ করে আর বাজার করেই কাটিয়ে দেবেন না যেন। সবার মধ্যে কাজ ভাগ করে দিন। সময় নির্দিষ্ট করে নিন, সেই সময়ের মধ্যে সবার সাহায্য নিয়ে কাজগুলো গুছিয়ে নিন। * বাসায় সবার পছন্দমতো রান্না করুন অথবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে একবেলা বাইরে খান। * সন্ধ্যায় কোনো আত্মীয়, বন্ধুর বাড়িতে অথবা পছন্দের কোনো জায়গায় বেড়াতে যান। * মাঝেমাঝে নিজের বাড়িতেও বন্ধুদের চায়ের আমন্ত্রণ করতে পারেন। * লক্ষ্য রাখবেন ছুটির দিনে মান অভিমান বা মনোমালিন্য করে সময় নষ্ট করবেন না। পরিবারে বয়স্ক কেউ থাকলে ছুটির দিনে তাকেও সময় দিন। আর বেড়াতে যাওয়ার সময় তাকেও সঙ্গে নিন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছুটির দিনটিকে উপভোগ্য করে তুলুন।

তৈরি করুন ম্যাংগো ক্রিম পুডিং

তৈরি করুন ম্যাংগো ক্রিম পুডিং এখন আমের সময়। পাওয়া যাচ্ছে সবার প্রিয় পাকা আম। তাই তৈরি করতে পারেন দারুণ স্বাদের ম্যাংগো ক্রিম পুডিং। উপকরণ : পাকা মিষ্টি আমের রস-১ কাপ, ঘন দুধ ৩ কাপ, চিনি ১ কাপ, ডিম ৫টি, এলাচ গুঁড়া সামান্য, ক্রিম ২ টেবিল চামচ। যেভাবে করবেন : এক লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে অর্ধেক করুন। আমের রস ও ডিমের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে দুধ, ডিম, চিনি, এলাচ গুঁড়া ও ক্রিম দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। চিনি দিয়ে ক্যারামেল করা পাত্রে মিশ্রণ ঢেলে পাত্রের মুখ ঢাকনা দিয়ে ঢেকে প্রেসার কুকারে পানি দিয়ে ৮ সিটি ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পুডিং নিজে থেকে ঠাণ্ডা হলে ওপরে আমের টুকরো দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। ক্যারামেল তৈরি : ঢাকনাসহ স্টিলের বক্সে প্রথমে একটু চিনি দিয়ে চুলায় দিন। যতক্ষণ চিনি বাদামি রং না হয় সে পর্যন্ত পাত্রটি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব জায়গায় লাগিয়ে নিন। এবার ক্যারামেল ঠান্ডা করে পুডিং-এর মিশ্রণ ঢালুন।

কণ্ঠস্বর বসে গেলে যা করবেন

কণ্ঠস্বর বসে গেলে যা করবেন বর্ষা মৌসুম এলেই ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষ করে সর্দি-কাশি ও কফের সমস্যা দেখা দেয়। এর সঙ্গে আবার গলা বসে কথা ফ্যাসফেসে হয়ে যাওয়া আপাতদৃষ্টিতে খুবই সাধারণ সমস্যা মনে হলেও আদতে তা না-ও হতে পারে। গলা বসে যাওয়া অনেকেই খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। কিন্তু এই গলা ভাঙাই অনেক সময় মারাত্মক কোনো রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গলা বসার কারণ হলো শ্বাসনালিতে সংক্রমণ। এমনকি সাধারণ ঠান্ডা লাগা বা দীর্ঘক্ষণ জোরে কথা বললেও গলার স্বর ভাঙতে পারে। দীর্ঘদিন এ সমস্যা হচ্ছে, কিছুতেই সারছে না, বিশেষ করে আপনি যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন, কাজেই অবহেলা করবেন না! অল্পতেই তৎপর হন! তবে প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে গিয়ে গাদা গাদা অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে বরং ঘরোয়া উপায়ে এর মোকাবিলা করুন—লবণপানি দিয়ে গড়গড়া করাটা সবচেয়ে সাধারণ এবং একই সঙ্গে কার্যকর পদ্ধতি। দিনে অন্তত চারবার লবণপানি দিয়ে গড়গড়া করতে হবে। গলা ভাঙা উপশমে ভালো আরেকটি পদ্ধতি হলো গরম বাষ্প টানা। ফুটন্ত পানির বাষ্প যদি প্রতিদিন ১০ মিনিট মুখ ও গলা দিয়ে টানা হয়, তবে উপকার হবে। ভাঙা গলায় হালকা গরম লেবুপানি ও আদা বেশ কার্যকর। শুকনো আদায় ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী উপাদান রয়েছে, যা গলার বসে যাওয়া স্বরকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে। নাক, কান ও গলা বিভাগের চিকিৎসক জানাচ্ছেন, ১০ মিনিট গরম পানির ভাপ মুখ ও নাক দিয়ে নিলে গলার স্বর দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে। কণ্ঠস্বরেরও যত্ন দরকার। প্রথমেই চিৎকার-চেঁচামেচি থেকে বিরত থাকতে হবে। ঠান্ডা লেগে যদি গলা বসে যায়, তবে কথা বলা বন্ধ করতে হবে বা কমিয়ে দিতে হবে। এমনকি ফিসফিস করেও কথা বলবেন না তখন। ধূমপান গলার যে কোনো সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয় বা জটিল করে তোলে। তাই ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

কাঁঠালের বিচির জাদুকরী স্বাস্থ্য উপকারিতা

কাঁঠালের বিচির জাদুকরী স্বাস্থ্য উপকারিতা কাঁঠালের বিচি শুধুই ফেলে দেওয়ার বস্তু নয়—এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্বাস্থ্যের জন্য রয়েছে একাধিক উপকারিতা। খেতেও সুস্বাদু। প্রতি ১শ গ্রাম বিচি থেকে শক্তি পাওয়া যায় ৯৮ ক্যালরি। এতে কার্বোহাইড্রেট ৩৮ দশমিক ৪ গ্রাম, প্রোটিন ৬ দশমিক ৬ গ্রাম, ফাইবার ১ দশমিক ৫ গ্রাম, চর্বি শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম শূন্য দশমিক ৫ থেকে শূন্য দশমিক ৫৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস শূন্য দশমিক ১৩ থেকে শূন্য দশমিক ২৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২ মিলিগ্রাম ও পটাসিয়াম ৪ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম রয়েছে। যেসব উপকারিতা মিলবে কাঁঠালের বিচি খেলে, আসুন জেনে নিই: * কাঁঠালের বিচি আয়রনের একটি বড় উৎস। নিয়মিত এটি খেলে রক্তস্বল্পতা ও অন্যান্য রক্তরোগের ঝুঁকি দূর হয়। এছাড়া আয়রন মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্র সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। * হেলথলাইন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলে বলা হচ্ছে, কাঁঠালের বিচিতে ব্যাকটেরিয়ারোধী উপাদান রয়েছে। এর উপরিভাগ ছোট ছোট কণা দ্বারা আবৃত থাকে যা ব্যাকটেরিয়ারোধী উপাদান হিসেবে কাজ করে। কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। * ফাইবার ও রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চসমৃদ্ধ কাঁঠালের বিচি খেলে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষুধা নিবারণ করা সহজ হয়। এরা শরীরে সহজে হজম হয় না। কিন্তু অন্ত্রে থাকা উপকারী। * ব্যাকটেরিয়াদের খাদ্য হিসেবে কাজ করে। * রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় কাঁঠালের বিচি। * স্টাইলক্রেজ ওয়েবসাইট বলছে, কাঁঠালের বিচিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যগুলো ফ্রি র‌্যাডিকেলের সঙ্গে লড়াই করতে পারে। *অকাল বার্ধক্য ও বলিরেখা থেকে দূরে থাকা যায়। ঠান্ডা দুধে কাঁঠালের বিচি পিষে ত্বকে লাগালে ত্বক টানটান থাকে। * কাঁঠালের বিচি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায়। * কাঁঠালের বিচিতে থাকা উচ্চ মানের প্রোটিন আমাদের পেশি তৈরিতে সাহায্য করে। * কাঁঠালের বিচি বদহজম রোধ করে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। * কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে আসে। * কাঁঠালের বিচি প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস সমৃদ্ধ যা মানসিক চাপ কমায়। * বলিরেখা দূর ও ত্বকের বিভিন্ন রোগ সারাতে সাহায্য করে। * প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ রয়েছে কাঁঠালের বিচিতে। চোখের জন্য উপকারি ও রাতকানা রোগ কাটাতেও সাহায্য করে। * চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করে ও চুল পড়া কমে। *নিয়মিত কাঁঠালের বিচি খেলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়বে। এটি খেলে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতাও দূর হবে।

জেল্লা বাড়াতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাস্ক

জেল্লা বাড়াতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী মাস্ক ত্বকের দীপ্তি ফেরাতে বাজারে নানা রকম উপাদানে তৈরি মাস্ক রয়েছে। কোন ত্বকের জন্য কোনটি ভালো, না বুঝে ব্যবহার করলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। ত্বক তৈলাক্ত। মুখময় ব্রণ। সেই মুখে যে মাস্ক ব্যবহার করা যায়, সেটাই কি মাখতে পারেন যাদের ত্বকের ধরন শুষ্ক, তারাও? কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই শুধু মাস্কের উপযোগিতা বিচার করে মুখে মাখছেন। উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে ত্বকের সমস্যা বা ধরন। তবে বিউটিশিয়ানদের পরামর্শ, সমস্যা এবং ত্বকের ধরন বুঝেই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। যে কোনো প্রসাধনী যেমন যে কোনো ত্বকের উপযোগী নয়, তেমনই মাস্কও সব ত্বকের জন্য এক রকম হতে পারে না। আর সে কারণেই বাজারে নানা রকম উপাদানে তৈরি মুখের মাস্ক রয়েছে। বেছে নেবেন কোনটি? শুষ্ক ত্বক: ত্বকের ধরন কারও কারও বেশ শুষ্ক হয়। মুখে কোনো ঔজ্জ্বল্য থাকে না। এমন ত্বকের জন্য দরকার হয় আর্দ্রতার। সেজন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে হাইড্রেটিং জেল বা ক্রিম মাস্ক। এই ধরনের মাস্ক ত্বকে আর্দ্রতার জোগান দিতে এবং সেই আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে। হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত শিট মাস্ক বা অন্য কোনও মাস্ক এ জন্য আদর্শ। কারণ, মুখে আর্দ্রতা জোগাতে এই উপাদান একাই একশো। জেল্লাহীন ত্বক: কারও ত্বক শুষ্ক না হলেও জেল্লা থাকে না। মুখের কোনও কোনও অংশ কালচে হয়। এমন ত্বকের জন্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যুক্ত প্রসাধনী জরুরি। দরকার হয় এক্সফোলিয়েশনের, যাতে ত্বকে জমা মৃত কোষ পরিষ্কার করা যায়। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন সি যুক্ত কোনও মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের কালচে ভাব দূর করে দীপ্তি ফেরাতে কাজে আসতে পারে নিয়াসিনামাইডও। স্পর্শকাতর: কারও ত্বক হয় স্পর্শকাতর। এমন ত্বকে যে কোনো জিনিস মাখা যায় না। সুগন্ধী, অ্যালকোহল মিশ্রিত কোনো প্রসাধনী বা মাস্ক এমন ত্বকের উপযোগী নয়। বরং ক্যালেন্ডুলা, ক্যামোমাইল অয়েল রয়েছে এমন উপাদান মিশ্রিত মাস্ক বেছে নেওয়া যায়। পরামর্শ, মুখের জন্য মাস্ক বেছে নেওয়ার আগে সেটি ত্বকের ওপর পরীক্ষিত কি না জেনে নেওয়া প্রয়োজন। ত্বকের ধরন স্পর্শকাতর হলে ক্লে মাস্ক বা এক্সফোলিয়েটিং মাস্ক এড়িয়ে চলা ভালো।

প্রতিদিন একটি কলা খেলে কী হয়?

প্রতিদিন একটি কলা খেলে কী হয়? কলা সবচেয়ে সহজলভ্য ফলের একটি। এটি প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি, ফাইবার এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থে ভরপুর যা আমাদের শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। আপনি যদি প্রতিদিন মাত্র একটি কলা খাওয়া শুরু করেন তবে কী হবে? প্রতিদিন কলা খেলে শরীরে কী ঘটে? চলুন জেনে নেওয়া যাক দিনে একটি করে কলা খেলে তা আপনার শরীরের জন্য কী উপকারিতা নিয়ে আসতে পারে- ১. হজমশক্তি বৃদ্ধি পায় ২০২১ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, কলা ডায়েটারি ফাইবার, বিশেষ করে পেকটিন দিয়ে ভরপুর, যা অন্ত্রের গতিবিধি মসৃণ করতে সাহায্য করে। যদি প্রায়ই খাবারের পরে পেট ফাঁপা বোধ করেন, তাহলে দিনে একটি কলা খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি ভালো হজমে সহায়তা করে। কলায় প্রিবায়োটিক থাকে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কাজ করে। এটি নরম, সহজে হজমযোগ্য এবং হজমকে মসৃণ রাখার জন্য উপযুক্ত। ২. শক্তি বৃদ্ধি করে কলা হলো গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ এবং সুক্রোজের মতো প্রাকৃতিক শর্করার দ্রুত উৎস, যা আপনাকে স্থির শক্তি দেবে। ২০১২ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, এটি ক্রীড়াবিদদের কাছে প্রিয় ফল। ওয়ার্কআউটের আগে বা মধ্য-সকালের ঝিমঝিমের সময় একটি কলা খেলে তা শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি বৃদ্ধি করে। কলা ভিটামিন বি৬-তেও ভরপুর, যা খাবারকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। ৩. হৃদরোগ দূরে রাখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে, একটি মাঝারি কলায় ৪২২ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে তা ধীরে ধীরে হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি কমতে পারে। এই ফলে চর্বি এবং সোডিয়াম কম থাকে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। ৪. স্ট্রেস দূর করে কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরে সেরোটোনিন উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে, যা মানসিক চাপ দূর করে আমাদের প্রাণবন্ত রাখতে কাজ করে। তাই ক্লান্ত ও হতাশ বোধ করলে নিয়মিত কলা খেতে পারেন। এটি একটি প্রাকৃতিক খাবার যা জাঙ্ক ফুডের মতো রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। বরং ক্লান্তি দূর করে হাসিখুশি থাকতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী সবজি

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী সবজি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য খাবারের ক্ষেত্রে নানা নিষেধ মেনে চলতে হয়। এমনকী কিছু কিছু সবজিও এড়িয়ে চলতে হয়। তবে কিছু সবজি আছে যেগুলো ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী। কারণ সেগুলোর গ্লাইসেমিক সূচক কম। এ ধরনের সবজি নিয়মিত খেলে তা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন সবজিগুলো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী- ১. ব্রোকলি ব্রোকলি এমন একটি সবজি যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ২০১২ সালে রিসার্চ গেটে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, ব্রোকলির গ্লাইসেমিক সূচক কম এবং এতে সালফোরাফেন থাকে, যা শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ব্রোকলি ফাইবারে ভরপুর, যা চিনির শোষণকে ধীর করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরিয়ে রাখে। ব্রোকলি, সেদ্ধ যেভাবেই খান না কেন এটি আপনার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তাই ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে নিয়মিত এই সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন। ২. পালং শাক এই সবুজ পাতাযুক্ত শাক রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। পালং শাকের গ্লাইসেমিক সূচক ১৫, যার অর্থ এটি হঠাৎ করে সুগার স্পাইক তৈরি করে না। এটি ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর, যা রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, সবুজ পাতাযুক্ত শাক-সবজি খেলে তা টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে। তাই আপনার স্মুদি, তরকারি, সালাদ বা পরোটায় নিশ্চিন্তে পালং শাক যোগ করে নিন। এতে স্বাদ ও পুষ্টি দুটিই মিলবে। ৩. ফুলকপি পালং শাকের মতো ফুলকপিও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত। এই সবজির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ১৫ এবং ফাইবারের পরিমাণ বেশি, যার অর্থ এটি ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ যা আপনার শরীরকে সামগ্রিকভাবে পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। আপনি এটি ভাজতে পারেন, সুস্বাদু সবজি তৈরি করতে পারেন অথবা স্যুপে যোগ করতে পারেন, ফুলকপি নানাভাবে খাওয়া যায় আবার খেতেও সুস্বাদু। তাই ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত এই সবজি খেতে পারেন। এতে আরও অনেক উপকার মিলবে।