ঝিলিমে খরাসহিষ্ণু ফল ও ফসলের চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ

ঝিলিমে খরাসহিষ্ণু ফল ও ফসলের চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির ‘এক্সটেনডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট-ড্রাউট’ (ইসিসিসিপি-ড্রাউট) প্রকল্পের সিসিএজি সদস্যদের নিয়ে খরাসহিষ্ণু ফল ও ফসলের চাষাবাদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলার সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার সরকার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হাই। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)’র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ইসিসিসিপি-ড্রাউট প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ও প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম, প্রকল্প সমন্বয়ক বকুল কুমার ঘোষ, মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন অফিসার সোহেল রানা, কমিউিনিটি মোবিলাইজেশন অফিসার ওবায়দুল বারী। কর্মশালায় জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর লক্ষে টেকসই কৃষি অনুশীলনের ওপর আলোকপাত করা হয়। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো- অংশগ্রহণকারী সদস্যদের জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা এবং প্রশমন ব্যবস্থার ওপর ধারণা দেওয়া। খরাসহিষ্ণু ফল ও ফসলের জাত নির্বাচন, চাষ পদ্ধতি, বসতবাড়ির আশপাশ বা আঙ্গিনায় বাগান করার কৌশল, মাটির গুণাগুণের উন্নতি, পানি সংরক্ষণ এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে কার্যকর ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির প্রক্রিয়া বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা প্রদান করা। কর্মশালায় ২০ জন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপ্টেশন-সিসিএজি গ্রুপের সদস্যেরা অংশগ্রহণ করেন।

যুব ফোরামের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৩ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে

যুব ফোরামের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ৩ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে সংবেদনশীল ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে যুব নেতৃত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বিষয়ক যুব ফোরামের দক্ষতা বৃদ্ধির তিন দিনের প্রশিক্ষণ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। আস্থা প্রকল্পের আয়োজনে ও ডেমক্রেসিওয়াচ’র বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণটি গত ২২ অক্টোবর শুরু হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে গোমস্তাপুর উপজেলার ৩০ জন নারী-পুরুষ নিয়ে গঠিত যুব ফোরামের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনের প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও জেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সভাপতি শাহ আলম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক উম্মে কুলসুম, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এরফান ফারুক মাসুম, মাছরাঙ্গা টিভির জেলা প্রতিনিধি ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন আস্থা প্রকল্পের জেলা সমন্বয়ক রেজাউল করিম ও সিনিয়র ফিল্ড অফিসার আরিফা খাতুন। অতিথিরা যুব ফোরামের উদ্দেশ্যে নানা দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে একদিনে আরো ৫ জন আক্রান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে একদিনে আরো ৫ জন আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আরো ৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তে„ রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে ভর্তি আছে ১০ জন রোগী। তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা রয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৭ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে সুস্থ হওয়ায় ১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন নারীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হয়েছে চাঁপাইনবাগঞ্জে। আজ সকালে সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা বিভাগের সহায়তায় জেলায় এই টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা.এস.এম মাহমুদুর রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক দেবেন্দ্র নাথ ওরাঁও, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাছমিনা খাতুন, জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রশিদ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আনোয়ারুর আজিম,অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইকতেখারুল ইসলাম সহ স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়টির শিক্ষকগণ সহ অনান্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. রেশমা খাতুন। সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাহমুদুর রশিদ জানান, আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত জেলায় এ কার্যক্রম চলবে। জেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৯ হাজার ৬৯১ জন কিশোরিকে এইচপিভি টিকা দেয়া হবে । পঞ্চম থেকে নবম শ্রেনীর ছাত্রী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্হিভূত কিশোরীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন,সরকারি ছুটির দিন ব্যাতীত ১৮ দিনের এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা ৭ নভেম্বর পর্যন্ত টিকা নিতে পারবে। পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত কমিউনিটি পর্যায়ে অস্থায়ী ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা পাবেন কিশোরীরা। টিকা কার্যদিবসে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টিকা কার্যক্রম চলবে। গত বুধবার দুপুর পর্যন্ত রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে ২১ হাজার ৪৯০ জন কিশোরির। জেলায় ৭৩৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৮৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৯২টি কেজি স্কুল, ৯০টি প্রাথমিক মাদ্রাসা এবং ১৫২টি মাধ্যমিক মাদ্রাসায় এইচপিভি টিকা দেয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়েকে লালকার্ড প্রদর্শন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়েকে লালকার্ড প্রদর্শন চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু সুরক্ষা ও শিশুর অধিকার বিষয়ক সংবেদনশীল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং বেসরকারি খাতের ফোরামগুলোর সাথে আজ বিকেলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই সভার আয়োজন করে ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশের স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ প্রকল্প। ইউনিসেফের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘চলো আমরা করি প্রতিবাদ, সহিংসতা বন্ধে তুলি রেডকার্ড’Ñ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প সহায়তাকারী আব্দুর রহিম। আলোচনায় অংশ নেন, বালুগ্রাম আদর্শ কলেজের প্রভাষক আলহাজ্জ্ব মো. জাহাঙ্গীর আলম, গোবরাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ওয়ার্ড সদস্য তাশেম আলী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সদর উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার আব্দুল অদুদ, শিবগঞ্জ উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মুহাম্মদ শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা। প্রশিক্ষনটি সমন্বয় করেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের এসএসবি প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার উত্তম মন্ডল। সভায় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, যুবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিয়েকে লালকার্ড প্রদর্শন করেন। এছাড়াও হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৪ উপলক্ষে আগামীকাল থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগ ছাড়া, দেশের অন্যান্য বিভাগে ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে, জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক ১ ডোজ টিকাগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে জনসম্পৃক্তকরণ সভার আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন।

গোমস্তাপুরে ধ্বংস করা হয়েছে পৌনে ২ লাখ টাকার অবৈধ জাল

গোমস্তাপুরে ধ্বংস করা হয়েছে পৌনে ২ লাখ টাকার অবৈধ জাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পৌনে দুই লাখ টাকার অবৈধ জাল ধ্বংস করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে পুনর্ভবা নদীতে অবৈধ জাল অপসারণে অভিযান চালিয়ে জালগুলো আটক করে। অভিযানে ১৫টি চায়না দুয়ারি জাল ও ১টি সুতি জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জালগুলো রহনপুরস্থ বুড়িতলা ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিশাত আনজুম অনন্যা উপস্থিত হয়ে পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- গোমস্তাপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাজু চৌধুরী, ভোলাহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাসিরউদ্দিন, বিজিবির রহনপুর সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মুনসেদ আলী, গোমস্তাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. কালামসহ অন্যরা। গোমস্তাপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাজু চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর বুধবার পুনর্ভবা নদীতে অবৈধ জাল অপসারণে অভিযান চালায়। অভিযানে ১৫টি চায়না দুয়ারি জাল ও ১টি সুতি জাল জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য পৌনে দুই লাখ টাকা। এই অভিযানে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সহযোগিতা নেয়া হয়। পরে জব্দকৃত জালগুলো বুড়িতলা ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নিশাত আনজুম অনন্যার নির্দেশনায় পুড়িয়ে ফেলা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইঁদুর দমন অভিযান শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইঁদুর দমন অভিযান শুরু ‘ছাত্র শিক্ষক কৃষক ভাই, ইঁদুর দমনে সহযোগিতা চাই’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইঁদুর দমন অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে এ উপলক্ষে র‌্যালি বের হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে ইঁদুর মেরে দমন অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। আলোচনা সভায় পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় বাংলাদেশে ইঁদুর সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. পলাশ সরকার। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার সরকার, উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান, ইঁদুর নিধনে বিশেষ অবদান রাখায় রাজশাহী অঞ্চল থেকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত কৃষক মতি টুডু। সভায় জানানো হয়, ইঁদুর বহুমাত্রিক সমস্যা সৃষ্টি করে। ফসল নষ্ট করে, খাবার নষ্ট করে, ইলেকট্রিক তার পর্যন্ত কেটে দেয়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফুটো করে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এককথায় ইঁদুর মাঠঘাট, ঘারবাড়ি সবখানেই ক্ষতি করে। ইঁদুর মানুষের কল্যাণ করে না, ক্ষতি করে। তাই ইঁদুর নিধন জরুরি। ইঁদুর যে পরিমাণ ভক্ষণ করে তার দশগুণ কেটে নষ্ট করে। আমাদের দেশে যে ইঁদুরগুলো দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে বাদামি ইঁদুর, গেছো ইঁদুর, বাতি বা সেলই ইঁদুর, মাঠের কালো ইঁদুর, কালো বড় ইঁদুর, মাঠের নেংটি ইঁদুর, নরম পশমযুক্ত ইঁদুর এবং প্যাসিফিক ইঁদুর উল্লেখযোগ্য। ইঁদুর দ্রুত বংশবিস্তারকারী প্রাণী। এরা যে কোনো পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়ে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। উপযুক্ত এবং অনুকূল পরিবেশে একজোড়া প্রাপ্তবয়স্ক ইঁদুর বছরে প্রায় ২০০০টি বংশধর সৃষ্টি করতে পারে। এরা সন্তান জন্ম দেয়ার দুই দিনের মাথায় আবারো গর্ভধারণ করতে পারে। গর্ভধারণকাল ১৮-২২ দিন। ইঁদুর বছরে ৬ থেকে ৮ বার বাচ্চা দেয়। প্রতিবারে ৪ থেকে ১২টি বাচ্চা দিতে পারে। তিন মাসের মধ্যে বাচ্চা বড় হয়ে আবার প্রজননে সক্ষম হয়ে উঠে । ইঁদুরের সামনের দাঁত জন্ম থেকেই বাড়তে থাকে; ইঁদুর সাধারণত ৫ থেকে ১০ ভাগ ফসলের ক্ষতি করে; ইঁদুর যা খায় তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি ক্ষতি করে; একটি ইঁদুর বছরে ৫০ কেজি গোলাজাত শস্য নষ্ট করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত আরো ৪ হাসপাতালে ভর্তি ৮ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত আরো ৪ হাসপাতালে ভর্তি ৮ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে আরো ৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১২৭ জনে। সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ জানান, নতুন করে আরো ৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ২ জন ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন শনাক্ত হয়। বর্তমানে ভর্তি আছে ৮ জন রোগী। তাদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা রয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৪ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন রয়েছে। অন্যদিকে সুস্থ হওয়ায় ১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ।

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচপিভি টিকা দেয়া

জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে এইচপিভি টিকা দেয়া বাংলাদেশে প্রতিবছর জরায়ুমুখ ক্যান্সারে প্রতি এক লাখে গড়ে আক্রান্ত হয় ১১ জন নারী আর মারা যায় প্রায় ৫ হাজার জন। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৪ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই তথ্য জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ। তিনি বলেন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসটি প্রাকৃতিকভাবেই পুরুষ ও নারী উভয়েই বহন করে। আক্রান্ত হয় মেয়েরা। সমকামী যারা, তারাও আক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে বাল্যবিয়ের কারণে অল্পবয়সী মেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয়। ভবিষ্যতে যেন জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আর কোনো নারী আক্রান্ত না হয়, সেজন্য আগামীকাল ২৪ অক্টোবর  থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগ ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগে ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক ১ ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। সিভিল সার্জন জানান, এজন্য ১ হাজার ৫৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ম-৯ম শ্রেণীর ৮৬ হাজার ৮৯৪ জন ছাত্রী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায় না এমন ১০-১৪ বছর বয়সী ২ হাজার ৭৯৭ জন কিশোরীকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদেরকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নিজেরা কিংবা কোনো কম্পিউটারের দোকানে গিয়েও রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। সিভিল সার্জন বলেন, আগামী বছর থেকে শুধু ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীদেরই এই টিকা দেয়া হবে। এরপর আর জরায়ুমুখ ক্যান্সারে কোনো নালী আক্রান্ত হবে না। তিনি বলেন, এই রোগটি অনেক আগেই বাসা বাঁধলেও এর প্রকাশ পায় ১৫-২০ বছর পরে। কাজেই হেলাফেলা না করে সরকারি টিকা গ্রহণে নির্দিষ্ট বয়সের মেয়েদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি জানান, এই টিকা বাইরে থেকেও ক্রয় করে দেয়া যাবে, তবে দাম পড়বে ৬ হাজার টাকার উপর। সিভিল সার্জনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আলোচনায় আরো অংশগ্রহণ করেন- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভিলেন্স ইমুলাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা হক, সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মোছা. রেশমা খাতুন, ডা. শাহনাজ খাতুন। এসময় সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আস শামস তিলক ও জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা শামশুন নাহারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে দেয়া হবে মাসব্যাপী টিকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধে দেয়া হবে মাসব্যাপী টিকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৪ উপলক্ষে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় সিভিল সার্জন অফিস এই সভার আয়োজন করে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। সিভিল সার্জন এস এম মাহমুদুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উপসচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফাজ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাসুদ পারভেজ। সভায় মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) ও টিকাদান কর্মসূচি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভিলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. ফারহানা হক। সভায় জানানো হয়, আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১৮ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণী এবং হাই স্কুল ও মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রী এবং স্কুলে পড়ে না এমন ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক ১ ডোজ টিকা প্রদান করা হবে। এজন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এছাড়া একই বয়সের যেসব মেয়েরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায় না, তাদেরকে স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেয়া হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, রাজশাহী বিভাগে ৯৫ ভাগ মেয়েকে এই টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯ ভাগ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইতোমধ্যে ১২ ভাগ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অভিভাবক, শিক্ষক, ইমামসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মাদ্রাসাগুলোয় একটু সমস্যা হতে পারে। কাজেই মাদ্রাসা শিক্ষকদের এই টিকার গুরুত্বটি ভালোভাবে বোঝাতে হবে। এই কর্মসূচিটি সফল করতেই হবে।