কালবৈশাখির ছোবল, জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমির আম আক্রান্ত

 কালবৈশাখির ছোবল, জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমির আম আক্রান্ত চাঁপাইনবাবঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম কাল বৈশাখী ঝড়। গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিক থেকে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মাঝারি মাত্রার এই ঝড় বয়ে যায় জেলাজুড়ে। সাথে ছিল বজ্রসহ বৃষ্টি। সামান্য শিলাবৃষ্টিও হয় এ সময়। ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বাড়ি,ঘর ও বিভিন্ন স্থাপণা। উপড়ে যায় আমসহ বহু গাছ। উড়ে যায়  অনেক ঘরের চাল। বিঘিœত হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঝরে যায় বড় হয়ে উঠতে থাকা বিপুল পরিমান আম। আজ  কৃষি বিভাগ সূত্র প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের পর জানায়, ঝড়ে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার প্রধান অর্থকরী আম ফসল। আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ৯ শত হেক্টর জমির আম। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অল্প জমির ইরি-বেরো ধান,সব্জি ও ভূট্টা। বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে গড়ে ১৭.৪ মি.মি। জেলা কৃষ্টি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, ঝড়ে সবথেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে জেলার প্রধান আম উৎপাদনকারী অঞ্চল শিবগঞ্জ উপজেলা। ঝড় এখানে তীব্র ছিল। শিলাপাতও বেশি  হয়েছে এই উপজেলায়। এরপরই আক্রান্ত সদর উপজেলা। তবে গোমস্তাপুর,নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় ঝড়ের  তীব্রতা ছিল অপেক্ষাকৃত কম। তিনি বলেন, বৃষ্টির পানির খুব প্রয়োজন ছিল। যা বৃষ্টি হয়েছে, তা আম,ধান সহ সকল ফসলের জন্য উপকার বয়ে আনবে। ছুড়ান্ত ক্ষতি নিরুপণের কাজ ছলছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা। সদর উপজেলার বিদিরপুর গ্রামের আম চাষী বিষু মিয়া(৬০) বলেন,  চলমান  তীব্র গরম ও ক্ষরার মধ্যে টানা বেশ কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় আমের বোঁটা দূর্বল হয়ে পড়েছিল। এমনিতেই ঝরে যাচ্ছিল গুটি আম। এ অবস্থায় ঝড়ে প্রচুর আম পড়ে গেছে। আমচাষীরা এ মৌসুমে আমের ফলন নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। উল্লেখ্য,গত ৭ এপ্রিল জেলায়  টানা প্রায় সাড়ে ৪ মাস অনাবৃষ্টির পর মাঝারি থেকে ভারী শিলাবৃষ্টি হয়। আক্রান্ত হয় ৭ হাজারেরও বেশি হেক্টর জমির আম ও ধান। বিপুল ক্ষতি হয় আমের। এছাড়া বিরুপ আবহাওয়া ও পোকার আক্রমনেও এ মৌুমে মুকুল অনুযায়ী আমের গুটি অনেক কম হয়েছে। জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে এবার আম চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯১২ টন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে প্রশিক্ষণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে প্রশিক্ষণ   চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিবেশ ও জলবায়ু বিপদাপন্নতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে| সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্পের আওতায় আজ প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রয়াস হসপিটালের হলরুমে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়| পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সহযোগিতায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে| প্রশিক্ষণে স্মার্ট প্রকল্পের ২৫ জন সদস্য অংশগ্রহণ করেন| এতে প্রশিক্ষণ দেন— পরিবেশ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু সাঈদ, দেবীনগর দিয়াড় কলেজের প্রভাষক আব্দুস সালাম| প্রশিক্ষণে কৃষি উপকরণের সাশ্রয়ী ব্যবহার ও কর্মপরিবেশ উন্নতকরণ, পরিবেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন (মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ কমবে) সাধিত হবে, ¯^াস্থ্য ঝুঁকি কমবে, বর্জ্যরে পরিমাণ কমে আসবে, ক্ষেত্রবিশেষ বর্জ্যকে পুনঃচক্রায়নের মাধ্যমে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে| এতে নতুন নতুন কর্মসংস্থান ˆতরি হবে, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এর ফলে সার্বিকভাবে উৎপাদন খরচ কমে আসবে ফলে উদ্যোক্তাগণ পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি ব্যতিরেকে আর্থিক ও মানসিকভাবে অধিকতর লাভবান হবেন ইত্যাদি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়| প্রশিক্ষণে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— প্রয়াসের পরিচালক (মানবসম্পদ প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) আলেয়া ফেরদৌস, স্মার্ট প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহাংগীর আলম, পরিবেশ কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ, টেকনিক্যাল অফিসার রিফাত আমিন, এমআইএস এবং ডকুমেন্টেশন অফিসার মনজিলা আক্তার সুমি, ইউনিট-৬ ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন, সহকারী টেকনিক্যাল অফিসার স্বপন কুমার সরকার| স্মার্ট প্রকল্প নিয়ে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলা এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে|

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় উন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ক্লাস্টার উন্নয়ন পরিকল্পনা, ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান, পৌরসভা ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান ও শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে| আজ সকাল থেকে পৌরসভা মিলনায়তনে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এবং এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়| কর্মশালায় মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন এলজিইডি’র জেন্ডার স্পেশালিস্ট সাজেদা বেগম| কর্মশালার উদ্বোধন পর্বে উপস্থিত ছিলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম তসি ও মোখলেশুর রহমান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ওমর ফারুক, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল ওদুদসহ অন্যরা| কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের পৌরসভাগুলোকে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের পৌরসভার সাথে সংযুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রসারণ, গ্রামীণ ও নগর এলাকার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং জলবায়ু সহনশীল নগর বাবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য| প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটি ৮১টি পৌরসভা এবং ৬টি সিটি করপোরেশনে বাস্তবায়িত হবে, যা বাংলাদেশের ৩৬টি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে| প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রায় ২.১ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন যার অর্ধেকই নারী| কর্মশালায় জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় রাস্তা ও ফুটপাত, সড়কবাতি উন্নয়ন, ড্রেন নির্মাণ, পাবলিক টয়লেট, বাজার ও বাস টার্মিনাল উন্নয়ন, ডাম্পিং স্টেশন, সুপার মার্কেট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, পৌরভবন নির্মাণসহ আধুনিক নগর সেবার বিভিন্ন দিক উন্নয়ন করা হবে| বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্প সামাজিক ও পরিবেশগত দিক বিবেচনা করে এবং নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পরিচালিত হবে| কর্মশালায় পৌরসভার টাউন-লেভেল কোঅর্ডিনেশন কমিটির (টিএলসিসি) সদস্যবৃন্দ, প্রকল্পের কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট পরামর্শকবৃন্দ, নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সাইফুর রহমান, সামাজিক ব্যবস্থাপন বিশেষজ্ঞ এম.টি.এস মেহমুদ ও মো. হাসিবুল হক এবং অরুমিতা প্রসাদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহসান হাবীব ও টাউন প্ল্যানার ইমরান হোসাইন উপস্থিত ছিলন|

শিবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

শিবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমানের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের ধোবড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)| তিনি ওই গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে| গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ধ্যজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান| মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে, ১ মেয়ে সহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন| আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ধোবড়া গ্রামের সরকারি গোরস্থান প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে জানাজার নামজের পর ওই গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়| দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন শিবগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আজিজ, শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সভাপতি মাহবুবুর রহমান মিজান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ|

সোনামসজিদে ভারতীয় ট্রাকে মিললো ৬ হাজার বোতল নেশার সিরাপ

সোনামসজিদে ভারতীয় ট্রাকে মিললো ৬ হাজার বোতল নেশার সিরাপ শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাথরবোঝাই একটি ভারতীয় ট্রাক থেকে ৫ হাজার ৯৩৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি| গতকাল রাত ১১টার দিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সংলগ্ন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের একটি স্টোন ইয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে এসব সিরাপ উদ্ধার করা হয়| চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবি মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন| তিনি জানান, স্টোন ইয়ার্ডে পার্কিংয়ে থাকা একটি ভারতীয় ট্রাক তল্লাশি করে পাথরের ভেতরে লুকানো অবস্থায় ২০ বস্তা নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়| তবে অভিযানের সময় ট্রাকচালক উপস্থিত না থাকায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি| জব্দকৃত ট্রাক ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি|  

শিবগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ১

শিবগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ১ শিবগঞ্জে পিকআপের ধাক্কায় রফিকুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে| আজ দুপুরে উপজেলার একাডেমি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে| নিহত ব্যক্তি উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে| শিবগঞ্জ থানার ওসি হুমায়ুন কবীর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন| তিনি জানান, রফিকুল ইসলাম বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে শিবগঞ্জ বাজার আসছিলেন| এ সময় একাডেমি মোড় দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন| হঠাৎ একটি পিকআপ তাকে ধাক্কা দেয়| এতে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি| পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে| এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি|

শিবগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে দুদিনে আহত ২৫, একজনের মৃত্যু

শিবগঞ্জে ভিমরুলের কামড়ে দুদিনে আহত ২৫, একজনের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ভিমরুলের হুলে সেরাজুল ইসলাম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। দুদিনের আক্রমণে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জনের বেশি পথচারী। দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ও শুক্রবার সকালে উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কারবালা পুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া সেরাজুল ইসলাম শিবগঞ্জ পৌরসভার সেলিমাবাদ মহল্লার আবেদ আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারবালা পুকুর পাড়ের রাস্তা দিয়ে সেরাজুল ইসলাম পাওয়ার টিলারযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। একই সময় শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কর্মচারী মোরসালিন ও শাহিন কাদের মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ অসংখ্য ভিমরুল তাদের ওপর আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে তারা পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে তারাও আক্রমণের শিকার হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক সেরাজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের সাতজনের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এছাড়া শুক্রবার সকালে ওই রাস্তা দিয়ে কৃষকরা এবং দেবিনগর গ্রামের কয়েকজন আসার পথে আবারো আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করেন এবং ভিমরুলের বাসাটি সেখান থেকে উচ্ছেদ করেন। উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ফায়ারম্যান কাদেরি কিবরিয়া জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ঘটনায় তারা ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ সময় আধাঘণ্টা রাস্তাটি লকডাউন করে ভিমরুলের বাসাটি উচ্ছেদ করা হয়। তবে স্থানীয়দের ওই রাস্তাটি দিয়ে আরো কয়েকদিন সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেন। এদিকে ওই রাস্তা ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে যারা পৌর বাজারের ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তাদের জন্য এ রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন। মান্নান কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী আ. মান্নান জানান, গত দুদিনে ২৫/২৭ জন ভিমরুলের আক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। কারবালা পুকুরপাড়টি তাদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা হওয়ায় চলাফেরা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। বাঁশমহল গ্রামের ফরিদ জানান, প্রতিদিন তিনি তার সন্তানদের শহরের স্কুলে নিয়ে যান। দ্রুত এর সমাধান না হলে তার মতো এ গ্রামের অনেক অভিভাবক বিপাকে পড়বেন। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল উদ্দিন জানান, ভিমরুলের কামড়ে আক্রান্ত তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সেরাজুল ইসলাম নামের একজনের মৃত্যু হয়। অপর দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে রাজশহাী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

জেলায় নতুন করে ২৩ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে ভর্তি ৬৬

জেলায় নতুন করে ২৩ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে ভর্তি ৬৬ হাম কবলিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট এই ৩ উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে চলছে হামের বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচী| গতকাল পর্যন্ত ওই ৩ উপজেলার টার্গেট ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮৭ শিশুর মধ্যে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৬ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে| আগামী রবিবার থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলার বাকী দুই উপজেলা নাচোল ও গোমস্তাপুরে টিকাদান শুরু হবে| এদিকে, আজ হাম সন্দেহে নতুন করে ২৩ জন জেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে| জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ নতুন করে ২১ রোগি ভর্তি হয়েছে| এখন হাসপাতালে ৬৪ জন সন্দেজনক অতি ছোঁয়াচে হাম রোগি চিকিৎসাধীণ| সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার গোমস্তাপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ২ জন রোগি ভর্তি হয়েছে| এদিকে এ পর্যন্ত জেলা থেকে পাঠানো ১৭৪ জনের নমুণা পরীক্ষা করে ৪৩ জনকে পজিটিভ পাওয়া গেছে|

গোমস্তাপুরে আবারো ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

গোমস্তাপুরে আবারো ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে আবারো মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  বুধবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুরে ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। তেল মজুত রাখার অপরাধে ওই ফিলিং স্টেশনকে এই অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। এর আগে তিনি গত ২৭ মার্চ একই অপরাধে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন এই ফিলিং স্টেশনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুরে মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। অথচ স্টোরেজ যাচাই করলে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোল মজুত রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক জাকির মুন্সী। জাকির মুন্সী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। ফিলিং স্টেশনটিতে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে তা আদায় করা হয়। পরে মজুতকৃত জ্বালানি পেট্রোল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন হাম, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালটির পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের সামনের মেঝেতেও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মায়েদের বসে থাকতে দেখা গেছে। পুরাতন ভবনের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়াই কষ্ট। সবখানেই রোগী ও তাদের স্বজনরা বসে বা শুয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় হাম আইসোলেশন কক্ষে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় কিছুটা কমেছে। কারণ হিসেবে জানা গেল, তুলনামূলক অবস্থা ভালো শিশু রোগীদের নিচতলায় নতুন হাম আইসোলেশন কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সুস্থ হয়ে ওঠা শিশুদের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান হ্যান্ডমাইকে রোগীর স্বজনদের হাম বিষয়ে সচেতন করছেন। ছাড়পত্র পাবার পর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন— হাম থেকে সুস্থ হয়ে গেলেও শরীরের ভেতরে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নিতে হবে। এজন্য শিশুদের ফলমূলসহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। বাড়িতে নিয়ে যাবার পর যদি কোনো কারণে শিশুর অবস্থা খারাপ হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে তৃতীয় তলায় মায়েদের অসুস্থ শিশুদের বুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ডাক্তার এলে শিশুদের চিকিৎসা করাবেন বলে তারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে কক্ষটি আগের মতো ভ্যাপসা নেই। কারণ অনেক রোগী নিচতলায় চলে গেছে। সদর উপজেলার ইসলামপুর থেকে আসা এক মা জানান, তার ৮ মাস বয়সী সন্তান নিশানকে বুধবার রাতে হাম সন্দেহভাজন হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুরের আরেক মা জানান, ২ বছর ৫ মাস বয়সী মেয়ে তাহমিনাকে কয়েকদিন আগে ভর্তি করেছেন। হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ঢুকতেই দেখা গেল, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে মেঝেতে বসে আছেন উপররাজারামপুরের এক মা। কথা হলো চকআলমপুরের এক মায়ের সঙ্গেও। তিনি জানান, এক বছরের শিশু রায়ান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে গত রবিবার ভর্তি করেন। ওষুধপত্র ঠিকমতো পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, কিছু পাচ্ছেন আবার কিছু কিনতেও হচ্ছে। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সন্দেহভাজন শিশু হাম রোগী ভর্তি আছে ৭৩ জন, শ্বাসকষ্টজনিত ১৭ জন এবং ডায়রিয়া রোগী ৮৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জ্বরসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো অনেক রোগী ভর্তি আছে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে এত রোগীকে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ৯ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে চক্ষু ও ফিজিক্যাল বিভাগে কনসালটেন্ট প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন— জনবল সংকটের পরও হাম সন্দেহভাজন শিশুদের কথা ভেবে নতুন আরেকটি কক্ষকে হাম আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে চালু করা হয়েছে।