পাকিস্তানে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধস, নিহত অন্তত ১৩

পাকিস্তানে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধস, নিহত অন্তত ১৩ পাকিস্তানে একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন শিশু ও তিনজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ১৪ জন। গতকাল রাতে করাচির সোলজার বাজার নং ৩ -এলাকায় ভবনের প্রথম তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আজ উদ্ধার কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অনুসন্ধান কার্যক্রমে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, সম্ভবত গ্যাস সাকশন মেশিন থেকে।কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনের আশপাশের সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কায় সংসদ সদস্যদের পেনশন সুবিধা বাতিল

শ্রীলঙ্কায় সংসদ সদস্যদের পেনশন সুবিধা বাতিল শ্রীলঙ্কায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং প্রয়াত সংসদ সদস্যদের স্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত পেনশন সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে কোনো সাবেক এমপি বা প্রয়াত এমপির স্ত্রী আর সরকারি আর্থিক সুবিধা পাবেন না। বিচারবিষয়ক মন্ত্রী হরসানা নানায়াক্কারা আজ পার্লামেন্টে এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘জনগণ যখন টেলিভিশনে পার্লামেন্টে এমপিদের বিতর্ক দেখেন, তখন তারা মনে করেন এমপিরা পেনশন পাওয়ার যোগ্য নন।’ এর আগে গতকাল পার্লামেন্টে এমপিদের পেনশন বাতিল সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হয় এবং তা পাস হয়। ২২৫ আসনের সংসদে ১৫৪ জন সদস্য বিলের পক্ষে ভোট দেন। ২০২১ সালের পর থেকে করোনাভাইরাস মহামারি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি গভীর সংকটে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন বামপন্থী নেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ধাপে ধাপে এমপিদের আবাসন, যানবাহন ও দেহরক্ষীর সুবিধা বাতিল করেন। সর্বশেষ পেনশন সুবিধাও বাতিল করা হলো। তবে বিলটির বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘পেনশন আইনপ্রণেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এটি বাতিল হলে তারা দ্বিধাহীনভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

চীনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন বৈঠক, ক্ষমতাচ্যুত পেরুর প্রেসিডেন্ট

চীনা ব্যবসায়ীর সঙ্গে গোপন বৈঠক, ক্ষমতাচ্যুত পেরুর প্রেসিডেন্ট চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ‘অফিশিয়াল শিডিউলের’ বাইরে গোপন বৈঠকের জেরে অপসারিত হলেন পেরুর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশটির কংগ্রেস তাকে অভিশংসিত করে। গত বছর অক্টোবরে দিনা বোলুয়ার্তের অভিশংসনের পর জেরি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তবে তিনিও শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির কলঙ্ক এড়াতে পারলেন না। ২০১৬ সালের পর থেকে তিনি দেশটির সপ্তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, যা পেরুর ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ। এই রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিটি স্থানীয়ভাবে ‘চিফা-গেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে, যা মূলত চীনা ও পেরুভীয় ফিউশন খাবারের রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট জেরি গভীর রাতে হুডি পরে ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াংয়ের রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ইয়াং এমন একজন ব্যবসায়ী যিনি সরকারি নজরদারিতে ছিলেন এবং একটি বড় জ্বালানি প্রকল্পের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করছিলেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই বৈঠকগুলোতে এমন এক চীনা নাগরিক উপস্থিত ছিলেন, যিনি অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তখন গৃহবন্দী ছিলেন। পেরুর আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রতিটি অফিশিয়াল কার্যক্রম নথিবদ্ধ করার কথা থাকলেও জেরি এই বৈঠকগুলোর কোনও তথ্যই প্রকাশ করেননি। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন লেনদেনের পাশাপাশি জেরির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর নৈতিক অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রাসাদে কয়েকজন নারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের নামে বিভিন্ন সরকারি চুক্তি বরাদ্দ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার জেরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করলে চারদিক থেকে চাপের মুখে পড়েন তিনি। যদিও জেরি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৫-২৪ ভোটে কংগ্রেস তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। আইনপ্রণেতা রুথ লুক বলেন, নাগরিকরা হুডি পরা নেতা কিংবা গোপন স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি আর দেখতে চায় না। আগামী এপ্রিলে পেরুর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে একটি স্থায়ী সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে দেশটির মানুষ। হোসে জেরি ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় দেশটিতে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। বর্তমানে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য কংগ্রেসে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তবে বারবার নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি পেরুর গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিহারে মাছ-মাংস বিক্রিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা

বিহারে মাছ-মাংস বিক্রিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ভারতের বিহারে প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সরকার। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার সিন্‌হা জানিয়েছেন, এখন থেকে খোলা জায়গায় আর মাছ বা মাংস বিক্রি করা যাবে না। এই নিয়ম কার্যকর হলে শুধুমাত্র লাইসেন্সধারী নির্দিষ্ট দোকানেই এসব পণ্য কেনাবেচা করা যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই নতুন নিয়ম সবাইকে মানতে হবে এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এই নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে বা নিয়ম ভাঙলে ঠিক কী শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনও জানানো হয়নি। এর আগে, ২০২৫ সালে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল। উল্লেখ্য, বিহারে আগে থেকেই মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে এবং এবার আমিষ জাতীয় পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও নতুন এই নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটল রাজ্যটি।

জাপানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন তাকাইচি

জাপানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হলেন তাকাইচি জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের সাধারণ নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা সানা তাকাইচিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৩৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিম্নকক্ষে ভোটের পাশাপাশি এলডিপি এবং তার জোটের অংশীদার জাপান রেস্টোরেশন পার্টি দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসন দখল করে আছে। উচ্চকক্ষেও ভোট হচ্ছে, যেখানে ক্ষমতাসীন ব্লক সংখ্যালঘু। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিম্নকক্ষের, যার অর্থ তাকাইচি কার্যকরভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। পুনর্নির্বাচনের পর তাকাইচি তার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের মতে, কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই এবং সমস্ত মন্ত্রী তাদের পদ বহাল রাখবেন। আজ সন্ধ্যায় সম্রাট নারুহিতো সরকার গঠন অনুমোদন করবেন, যার পরে তাকাইচি তার মূল রাজনৈতিক অগ্রাধিকারগুলো রূপরেখা দেওয়ার জন্য একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন। গত সপ্তাহের ভূমিধস নির্বাচনে জয়ের পর তাকাইচি আশা করেন, দেশের নীতিমালায় কট্টর-ডানপন্থীদের পদক্ষেপের সুযোগ করে দিবে। পূর্ববর্তী সকল মন্ত্রীকে বহাল রাখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এলডিপি সংসদের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩১৬টি আসন পেয়েছে। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ছিল দলের সেরা ফলাফল। এই নির্বাচন এলডিপিকে সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রদান করে, যা আইন পাসের সময় সংসদের উচ্চকক্ষের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার সুযোগ দেয় এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়। বিজয়ের পর সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, আরও সরকারি ব্যয় এবং রক্ষণশীল সামাজিক নীতি জোরদার করার ওপর জোর দিচ্ছে তাকাইচি।

২৪ ঘণ্টায় ইরানের আশপাশে ৫০ যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র্র

২৪ ঘণ্টায় ইরানের আশপাশে ৫০ যুদ্ধবিমান পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার জেট রয়েছে এই বহরে। পেন্টাগনের বিশাল সমরপ্রস্তুতিকে অনেকেই তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বভাস হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান যদি পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতায় না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদী সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে রেখেছে। এদিকে মার্কিন সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। সামরিক মহড়ার নামে তেহরান ইতিমধ্যে এই সমুদ্রপথের একটি অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো মার্কিন রণতরী ডুবিয়ে দেওয়ার মতো বিধ্বংসী অস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে মজুত রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন। আলোচনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো অনেক পথ বাকি এবং ইরানের পরবর্তী প্রস্তাবের ওপরই নির্ভর করছে যুদ্ধের বদলে শান্তি আসবে কি না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি একদিকে যেমন আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমন ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। এমনকি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলি হামলাকে সমর্থন দেবে ওয়াশিংটন। ফলে এক হাতে শান্তির প্রস্তাব এবং অন্য হাতে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি এবং মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই বিশাল সমাবেশ কেবল মনস্তাত্ত্বিক চাপ নয় বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরান তাদের নতুন পরমাণু প্রস্তাব পেশ করবে বলে কথা দিয়েছে, আর এই সময়টুকুই নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের ধোঁয়া উড়বে নাকি কূটনৈতিক সমাধান আসবে।

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ এ আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টিভিকে জানিয়েছে, আলোচনা এখন চলছে, উভয় পক্ষই মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সাথে তাদের মতামত ভাগ করে নিচ্ছে। বাঘাই জানান, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু পারমাণবিক-সম্পর্কিত বিষয়। ইরান এবং আইএইএর মধ্যে আলোচনা গতকাল হয়েছিল এবং আজ মার্কিন প্রতিনিধিদল এবং আইএইএর মহাপরিচালকের মধ্যেও একই রকম আলোচনা হচ্ছে। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন এবং ইরানের অবস্থান উপস্থাপন করবেন। চলতি মাসের শুরুতে ওমানে প্রথম দফায় ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে পরমাণু আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় আলোচনা ভাল হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে দ্বিতীয় দফার আলোচনা এমন সময় শুরু হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছে আরো একটি যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার পরিণতি হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।

মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায় ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার জন্য সকল মুসলিম নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় রবিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট আজ সন্ধ্যায় নাগরিকদের চাঁদ দেখার এ আহ্বান জানানো হয়। মুসলিম বিশ্ব চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করায় সাধারণত মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ শাবান মাসের ২৯ তারিখ। এদিন সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল থেকে দেশটিতে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। চাঁদ দেখার বিষয়ে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) গতকাল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। গোপনে দেশত্যাগ করার সময় সাবেক ‘মিডাস’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে আছেন। আইন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারর আরও বিস্তারিত জানানো হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন গালুশচেঙ্কো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলার অবৈধভাবে উপার্জন ও সেই অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগ ওঠে। গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ী তিমরুর মিন্ডিচকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এছাড়া ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সবগুলো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জোঅ্যাটমের ঠিকাদারদের কাছ থেকে যে কোনো কন্ট্রাক্টের বিনিময়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ ওঠার পর গত নভেম্বরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। তারপর গতকাল দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করা হলো তাকে। ২০২৫ সালে ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কোসহ কয়েক জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গেরমান গালুশচেঙ্কোও তাদের মধ্যে অন্যতম। দুর্নীতি ইউক্রেনের সরকারি প্রশাসনের একটি বড় সমস্যা। মূলত এই কারণেই এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তির ব্যাপারটি এখনও ঝুলে আছে।

পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার আলোচনায় প্রস্তুত ইরান

পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার আলোচনায় প্রস্তুত ইরান ইরানের একজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলে পারমাণবিক চুক্তির জন্য সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান প্রস্তুত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য বারবার বলে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই আলোচনার প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির পক্ষে, কিন্তু ইরানের সাথে এটি করা খুবই কঠিন। তবে তেহরানে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, “বল এখন আমেরিকার কোর্টে যে, তারা চুক্তি চায় কি-না”। “তারা আন্তরিক হলে আমি নিশ্চিত আমরা সমঝোতার দিকেই এগিয়ে যাবো”। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময় সারাদেশে বিক্ষোভ সহিংস দমনের পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ওই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ফেব্রুয়ারির শুরুতে উপসাগরীয় দেশ ওমানে পরোক্ষভাবে বৈঠক করে। তাখত-রাভানচি নিশ্চিত করেছেন যে, দ্বিতীয় দফার বৈঠক মঙ্গলবার জেনেভায় হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা কমবেশি ইতিবাচক দিকেই এগিয়েছে, তবে এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। ট্রাম্পও এসব আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা সমঝোতা বিষয়ে তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ। পারমাণবিক অস্ত্র মানের প্রায় কাছাকাছি এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণের কারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে—এমন সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেন, “তারা যদি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকে, তবে আমরা আমাদের কর্মসূচি–সংক্রান্ত এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত আছি।” তবে তিনি এটি নিশ্চিত করেননি যে, তারা পুরো নিষেধাজ্ঞা নাকি কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলছেন। ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো এবারও চারশো কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠাতে রাজি হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাখত-রাভানচি বলেন, “আলোচনার প্রক্রিয়ায় কী ঘটবে তা বলার সময় আসেনি”। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ২০১৫ সালের বহুপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ১১,০০০ কেজি ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল রাশিয়া। তিন বছর পর সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। এখন রাশিয়া আবারও এই দ্রব্যটি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বাইরে গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে ইরান আপাতত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আলোচনাটি যেন কেবল পারমাণবিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে। এ প্রসঙ্গে তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, “আমাদের ধারণা, তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যদি চুক্তি করতে চান, তবে পারমাণবিক ইস্যুতেই দৃষ্টি দিতে হবে।” এটি নিশ্চিত হলে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, ওয়াশিংটনের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’সংক্রান্ত কঠোর দাবি ইরান সবসময়ই চুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।