সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা

সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা সৌদি আরবের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রবল ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনসিএম)। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মক্কা, মদিনা, কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হাইল, তাবুক, আল জৌফ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় চলছে মৃদু থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। অনেক অঞ্চলে মাঝারি বর্ষণের সঙ্গে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। মরুপ্রধান সৌদিতে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টি সাধারণত বিরল। তবে গত দুই-তিন বছরে বেশ কয়েকবার ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের ঘটনা ঘটেছে। এনসিএম জানায়, লোহিত সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। লোহিত সাগর উপকূলীয় দিক থেকে ১৮ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো হাওয়া বইছে, যা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। পারস্য উপসাগরেও ঝড়ো আবহাওয়া শুরু হয়েছে। সেখান থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এনসিএম দেশটির নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া, উপত্যকা বা নিচু এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং সব ধরনের সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বুলগেরিয়া

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বুলগেরিয়া সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বুলগেরিয়া। দুর্নীতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সংবাদমাধ্যমর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। রাজধানী সোফিয়া এবং কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশটির আরও কয়েক ডজন শহরে সর্বশেষ বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এমন এক সময় দেশটিতে এই বিক্ষোভ-সমাবেশ হচ্ছে যখন আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বুলগেরিয়া ইউরোকে তাদের সরকারি মুদ্রা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা লেজার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সোফিয়ায় অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবনে ‘পদত্যাগ’, মাফিয়া আউট এবং সুষ্ঠু নির্বাচনসহ বিভিন্ন শব্দ প্রদর্শন করে। সোফিয়ার বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী ডোবরি লাকভ বলেন, আমি মনে করি জনগণের শক্তি ধীরে ধীরে তাদের (সরকারকে) পদত্যাগ করতে বাধ্য করবে কারণ অনেক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রথমত বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রয়োজন। যদি বিচার ব্যবস্থা ঠিক করা হয়, তাহলে বাকি সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে, একেবারে সবকিছুই। বুলগেরিয়ার সংসদ আজ প্রধানমন্ত্রী রোজেন ঝেলিয়াজকভের সরকারের ওপর অনাস্থা ভোটের আয়োজন করবে। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর ষষ্ঠবারের মতো অনাস্থা ভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে সরকার ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয়। বিরোধী দল এবং অন্যান্য সংগঠন জানিয়েছে যে, তারা উচ্চতর রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের অর্থায়নের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা অবদান এবং লভ্যাংশের ওপর কর বৃদ্ধির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। বাজেট পরিকল্পনার বিষয়ে সরকার পিছু হটার পরেও গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের মধ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইটি বিশেষজ্ঞ অ্যাঞ্জেলিন বাহচেভানোভ বলেন, অবশেষে বুলগেরিয়ায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসার এবং আমাদের অভিজাততন্ত্র, মাফিয়া এবং তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করার সময় এসেছে।
রাশিয়ার সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সব আরোহী

রাশিয়ার সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সব আরোহী রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর নিকটবর্তী ইভানোভো অঞ্চলে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় একটি এএন-২২ সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানের কোনো আরোহীই জীবিত নেই বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। ওই বিমানে সাতজন আরোহী ছিলেন। খবর এনডিটিভির। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানটির ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামতের পর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে (টেস্ট ফ্লাইটে) পাঠানো হয়েছিল। উড্ডয়নের অল্প সময় পরই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইভানোভো জেলার একটি নির্জন স্থানে আছড়ে পড়ে। মস্কো থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। দুর্ঘটনাস্থল জনবসতিহীন হওয়ায় ক্রুদের বাইরে অন্য কারও হতাহতের আশঙ্কা নেই বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেশটির তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তারা উড্ডয়ন প্রস্তুতির নিয়মকানুন সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে বা কিয়েভের জড়িত থাকার কোনো অভিযোগের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
ফ্লোরিডায় চলন্ত গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল বিমান

ফ্লোরিডায় চলন্ত গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল বিমান যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কোকোয়া শহরে সড়ক চলমান একটি গাড়ির ওপর আছড়ে পড়েছে ছোটো আকারের একটি বিমান। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে ঘটেছে এই এই দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় ওই গাড়ির চালক সামান্য আহত হয়েছেন। বিমান আছড়ে পড়ার দৃশ্যটি সড়কে চলাচলরত গাড়ির ড্যাশক্যামে ধরা পড়ে। ফ্লোরিডা হাইওয়ে পেট্রোল পুলিশের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, কোকোয়ার আই-১৯ মহাসড়কে জরুরি অবতরণের সময় একটি চলমান টয়োটা ক্যাম্রি গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে বিমানটি। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৫৭ বছর বয়সী এক নারী। আর বিমানটিতে চালকের সঙ্গে একজন যাত্রী ছিলেন। উভয়েরই বয়স ২৭ বছর। তারা অক্ষত রয়েছেন। দুর্ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানটি আছড়ে পরার পর গাড়ি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছিটকে পড়ছিল। কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি ‘অবিশ্বাস্যভাবে সৌভাগ্যজনক’ ঘটনা, কারণ আঘাতের তীব্রতা থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ক্যাম্রি গাড়িটির পেছনের অংশ পুরোপুরি চ্যাপ্টা হয়ে গেছে। বিমানটির সামনের অংশ এবং চাকা ভেঙে গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাইলট। তার পরিকল্পনা ছিল যে মহাসড়কের পাশে ফাঁকা ঝোপ এলাকায় অবতরণ করবেন। কিন্তু ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর সড়কের ওপারে যেতে না পেরে সেখানেই আছড়ে পড়েছিল বিমানটি। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সংঘর্ষ অব্যাহত, সীমান্ত থেকে পালিয়েছে ৫ লাখ মানুষ

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সংঘর্ষ অব্যাহত, সীমান্ত থেকে পালিয়েছে ৫ লাখ মানুষ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ টানা তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, সীমান্তের ওপার থেকে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার ফলে পাঁচ লাখের বেশি বেসামরিক মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। খবর আল-জাজিরার। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের কর্মকর্তারা একে অপরকে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া আন্তসীমান্ত সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জন সেনা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। সীমান্তের উভয় পাশের ৫ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরসান্ত কংসিরি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাতটি প্রদেশে ৪ লাখেরও বেশি মানুষকে লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য আসন্ন হুমকি হিসাবে যা মূল্যায়ন করেছি, তার কারণে বেসামরিক লোকদের বিপুল সংখ্যক সরিয়ে নিতে হয়েছে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার সকালে কম্বোডিয়া থেকে ছোড়া রকেট সুরিনের ফানম ডং রাক হাসপাতালের কাছে এসে পড়ে, যার ফলে রোগী ও হাসপাতালের কর্মীরা একটি বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা বলেন, পাঁচটি প্রদেশে ১ লাখ ১ হাজার ২২৯ জনকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কম্বোডিয়ার সংবাদমাধ্যম কম্বোডিয়ানেসের খবর অনুসারে, থাইল্যান্ডের এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো দেশের দুটি এলাকায় হামলা করেছে। সীমান্তবর্তী আরো অন্তত ৩টি এলাকায় থাইল্যান্ডের গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ম্যাটিচনের খবর অনুসারে, বুধবার সকালে সীমান্তে ‘একটি কম্বোডিয়ান সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলার করার জন্য দেশটির সেনাবাহিনী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে থাইল্যান্ডের দ্য নেশন সংবাদমাধ্যমের মতে, বুধবার ভোরে থাইল্যান্ডের ৪টি প্রদেশের ১২টি ফ্রন্ট-লাইন এলাকা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে কম্বোডিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশ থেকে রিপোর্ট করা আল-জাজিরার সংবাদিক রব ম্যাকব্রাইড বলেন, থাই সেনাবাহিনী মঙ্গলবার রাতে বলেছে, কম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী প্রায় সব প্রদেশেই লড়াই চলছে। ম্যাকব্রাইড বলেন, কেবল সুরিন প্রদেশেই পাঁচটি ভিন্ন স্থানে গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে এবং এখানকার বেশিরভাগ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, “সীমান্তের উভয় পাশেই কয়েক লাখ মানুষ অতীতের মতো আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং লড়াই অব্যাহত রয়েছে।” উত্তর-পশ্চিম কম্বোডিয়ার ওডার মিঞ্চে থেকে রিপোর্ট করে আল-জাজিরার সাংবাদিক বার্নাবি লো বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে পাঁচটি সীমান্ত প্রদেশে লড়াই ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় ১০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের আবাসস্থলের একটি শিবিরে অনেকে প্লাস্টিকের অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিচ্ছে, আবার অন্যদের কাছে রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আশ্রয় তৈরির উপকরণও নেই। লো বলেন, “কিন্তু এখানে আরো বড় উদ্বেগ হলো, সহিংসতা আরো ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই মুহূর্তে, মানুষজন জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে, কারণ যেখানে লড়াই চলছে সেখান থেকে আমরা কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা সত্ত্বেও বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শুনতে পাচ্ছি। তাই মানুষজন জিনিসপত্র গুছিয়ে অন্য একটি আশ্রয় শিবিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।” লো আরো বলেন, কম্বোডিয়ার সিনেট প্রেসিডেন্ট ও সাবেক নেতা হুন সেন থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ফলে এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর আগে, গত জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের সীমান্তযুদ্ধ হয়েছিল। এতে বহু মানুষ প্রাণ হারায় এবং তিন লাখের মতো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপের মাধ্যমে ২৭ জুলাই প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করান। ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে বলেন, তিনি নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই বন্ধ করার জন্য সরাসরি ফোন করবেন। ট্রাম্প মার্কিন রাজ্য পেনসিলভানিয়ায় একটি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, “আমাকে একটি ফোন কল করতে হবে। আর কে বলবে, আমি একটি ফোন কল করব এবং দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার যুদ্ধ থামাব।” তবে, থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকিও আল জাজিরাকে বলেন, সীমান্ত সংঘাত বন্ধে তিনি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না। তিনি আরো দাবি করেন, ব্যাংকক সংঘর্ষ শুরু করেনি। মঙ্গলবার কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে যে, থাইল্যান্ড নির্বিচারে বেসামরিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে, ফলে তাদের সেনাদের প্রতিরোধ করা ছাড়া উপায় ছিল না। ব্যাংকক অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরো অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে, কম্বোডিয়া বুধবার ঘোষণা করেছে যে, ‘গুরুতর উদ্বেগের’ কারণে তারা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় গেমস থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে।
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৩০

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে আহত অন্তত ৩০ জাপানে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘরের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্যানুসারে, সোমবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে দেশটির উত্তরাঞ্চল। আওমোরি অঞ্চলের উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর ফলে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়, যা এখন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই আওমোরি ও হোক্কাইডোর কিছু অংশে ৭০ সেমি (২৭ ইঞ্চি) উঁচু ঢেউ দেখা যায়। এসময়, সরিয়ে নেওয়া হয় উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের। ভূমিকম্পের প্রভাবে বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আড়াই হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। ইস্ট জাপান রেলওয়ে কয়েকটি রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, আগামী দিনে আরো শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে। জনসাধারণকে কমপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের উদ্দেশে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি বলেন, “আপনারা সবাই সামনের কয়েক দিন সতর্ক থাকবেন। কম্পন অনুভূত হওয়ামাত্র যেখানেই থাকুন- তাৎক্ষণিকভাবে যেন বাইরে বেরিয়ে পড়তে পারেন- সে বিষয়ক প্রস্তুতি রাখবেন। ভূমিকম্পের নিজেদের মূল্যবান সম্পত্তি-আসবাবপত্র যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়- সে বিষয়েও সতর্ক থাকবেন।” বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ভূমিকম্প ও সুনামি সতর্কতা জারি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে আওমোরি এবং আশপাশের উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন জাপানের দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের উদ্ধারকারী বাহিনী। জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, “আমরা ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমসহ জরুরি দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।” জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ২০১১ সালে। হোনশু অঞ্চলে ৯.০ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের আঘাতে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং পুরো অঞ্চলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। এটি রিং অব ফায়ারে অবস্থিত, যার ফলস্বরূপ, বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই বছরের শুরুতে, জাপানের ভূমিকম্প তদন্ত প্যানেল বলেছিল, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে নানকাই খাদে একটি মেগাভূমিকম্প হওয়ার ৬০-৯০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি অনুসারে, এটি ট্রিলিয়ন কোটি আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল বরাবর বিস্তৃত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল নানকাই খাদে ভূমিকম্পে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।
ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ভারতের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তিনি কৃষি আমদানির ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করতে পারেন। তিনি বিশেষ করে ভারত থেকে চাল আমদানি এবং কানাডা থেকে সার আমদানির ওপর এই শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, কারণ উভয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই চলছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) হোয়াইট হাউজে আমেরিকান কৃষকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প দেশটির কৃষকদের জন্য ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করার পর এই মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, আমদানি দেশীয় উৎপাদকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কথা তিনি জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ভারতীয় চাল যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম দামে বিক্রি করে বাজার নষ্ট করার অভিযোগ তিনি খতিয়ে দেখবেন। তিনি জানান, আমেরিকান কৃষকরা অভিযোগ করেছেন- ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে কম দামে চাল আমদানি হওয়ায় দেশের চালের দাম কমে যাচ্ছে এবং এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্প মার্কিন কৃষকদের জন্য কয়েকশো কোটি ডলারের কৃষি ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেন ও একই সঙ্গে ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলো থেকে কৃষিপণ্য আমদানির তীব্র সমালোচনা করেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর অনুসারে, বৈঠকে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান চাল কোম্পানি কেনেডি রাইস মিলসের সিইও মেরিল কেনেডি-সহ উপস্থিত কৃষকদের থেকে কোন কোন দেশ থেকে ভর্তুকিযুক্ত কৃষি পণ্য আমদানি করা হয় তার তালিকা চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই তালিকায় ছিল ভারত, থাইল্যান্ড এবং চিনের মতো দেশের নাম। এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা চাল পাঠানোর অভিযোগ। তালিকাটি দেখে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘ভারত সম্পর্কে বলুন। ভারত কেন এটি করছে? চালের উপর কি কোনও শুল্ক ছাড় আছে?’ ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন যে, আমেরিকান কৃষকদের সুরক্ষার জন্য, ভারতীয় চালের ওপর আরো কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই বছরের আগস্টে ট্রাম্প রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে আপত্তি তুলে ভারতের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেন। ভারত থেকে আমদানি করা বেশিরভাগ পণ্যের উপর শুল্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। আগামী ১০ এবং ১১ ডিসেম্বর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতে আসছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। তার মধ্যেই ফের আরো শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেন ট্রাম্প।
মেক্সিকোতে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে তিন পুলিশসহ নিহত ৫

মেক্সিকোতে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে তিন পুলিশসহ নিহত ৫ মেক্সিকোর পশ্চিমাঞ্চলের মিচোয়াকান রাজ্যে একটি পুলিশ স্টেশনের কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে পাঁচজন নিহত এবং আরো ১২ জন আহত হয়েছেন। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এবিসি নিউজের। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার দুপুরের কিছু আগে উপকূলীয় শহর কোয়াহুয়ায়ানার পুলিশ স্টেশনের সামনেই গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন এবং আহতদের মধ্যে পাঁচজন একটি কমিউনিটি পুলিশ বাহিনীর সদস্য। এই রাজ্যে অসংখ্য অপরাধী গোষ্ঠী সক্রিয়, যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল। চলমান সহিংসতার কারণে সরকার সম্প্রতি এখানেই একটি বড় নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে। মিচোয়াকানে অপরাধী গোষ্ঠীগুলো ড্রোন থেকে বিস্ফোরক ফেলা বা রাস্তার পাশে মাইন পাতার মতো কৌশল ব্যবহার করে থাকে। কমিউনিটি পুলিশের কমান্ডার হেক্টর জেপেদার মতে, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে মানুষের দেহাবশেষ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। রাজ্যের গভর্নর আলফ্রেডো রামিরেজ বেদোল্লা, ক্ষমতাসীন মোরেনা দলের সরকারের সাত বছর উদযাপনের জন্য মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের সাথে একটি পাবলিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। দুই দশক ধরে বিভিন্ন সংগঠিত অপরাধ গোষ্ঠী অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করে আসছে, কারণ মিচোয়াকান সিন্থেটিক ড্রাগ তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের প্রবেশদ্বার। তাদের আরেকটি লাভজনক ব্যবসাও রয়েছে: চাঁদাবাজি। ট্রাম্প প্রশাসন যে ছয়টি মাদক কার্টেলকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করেছে তার মধ্যে অন্তত তিনটি – জালিস্কো নিউ জেনারেশন, ইউনাইটেড কার্টেলস এবং দ্য নিউ মিচোয়াকান ফ্যামিলি- মিচোয়াকানে কাজ করে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দেশীয় সশস্ত্র স্প্লিন্টার গ্রুপও রয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু সিনালোয়া কার্টেল দ্বারা সমর্থিত।
প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জন্য নগদ অর্থের পাহাড়!

প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের জন্য নগদ অর্থের পাহাড়! পশ্চিমবঙ্গে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ মসজিদ নির্মাণকে ঘিরে বিপুল অনুদানের ফলে তৈরি হয়েছে কার্যত নগদ অর্থের পাহাড়। ট্রাঙ্ক ভর্তি টাকা (রুপি) এনে ঘরের মাঝে ঢালা হচ্ছে, আর চারিদিকে বসা মানুষ সেই টাকা গুনছেন।একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলছে টাকা গোনা। টাকা গোনার জন্য আনা হয়েছে টাকা গোনার মেশিন। টাকা ভর্তি ১১টি ট্রাঙ্ক রয়েছে। আর সেই ট্রাঙ্কে থাকা টাকা গুনতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৩০ জনকে। টাকা গোনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে। অনুদানের এই টাকা জমা পড়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ ইসলামিক ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার’ অধীনে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যত নগদ অর্থ দান হিসাবে জমা পড়েছে, তা আলেম-ওলামাদের উপস্থিতিতে গোনা শুরু হয়। রাত ১২টার পরও চলে টাকা গোনা। তখনও পর্যন্ত ৭টি ট্রাঙ্ক খোলা হয়, যা থেকে মেলে ৩৭ লাখ টাকা। পুরো টাকা গোনার কাজ চলছে সিসিটিভির কড়া নজরদারিতে। হুমায়ুন কবিরের দাবি, বাবরি মসজিদ নির্মাণের আগেই কতটা জনপ্রিয় তা শুধু এই অনুদানের টাকা দেখেই বোঝা যায়। তিনি আরো দাবি করেন, কেবল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনই কিআর কোড স্ক্যান করেই জমা পড়েছে ৯৩ লাখ টাকা। মসজিদ নির্মাণের জন্য ২ দিনেই দান হিসাবে পাওয়া গেছে অন্তত ১৫ লাখ ইট। গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিন মুর্শিদাবাদে আবারো বাবরি মসজিদের নির্মাণের জন্য শিলান্যাস করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। রবিবার নিজে হাতে ইট নিয়ে সেখানে হাজির হয়েছিলেন। সেইদিনই তিনি জানিয়েছিলেন যে, বাবরি মসজিদ তৈরি করতে খরচ হবে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা। তবে টাকা নিয়ে চিন্তা করছেন না হুমায়ুন, কারণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তিই নাকি ৮০ কোটি টাকা অনুদান দেবেন বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য। আরো বহু মানুষ অনুদান দিচ্ছেন। হুমায়ুন দাবি করেছেন, মুর্শিদাবাদের সঙ্গে বীরভূম, মালদাতেও ‘বাবরি’ মসজিদ তৈরির প্রস্তাব এসেছে। রামপুরহাট, সিউড়ি থেকে কিছু লোক এসে অনুরোধ করেছেন। মালদা থেকেও অনেকে যোগাযোগ করেছেন, দাবি হুমায়ুনের। বীরভূম, মালদায় ‘বাবরি’ মসজিদের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস হুমায়ুন কবীরের। বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য যে আপাতত নগদ অর্থের অভাব হবে না, তা এই বিপুল জমা অর্থ দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছে। তবে টাকা গোনার এমন ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। সাধারণ মানুষের একাংশ হুমায়ুনের স্বচ্ছতা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও, বিরোধীরা নতুন প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে দানের উৎস, হিসাব ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে।
চীনা সামরিক বিমানের রাডার লক করা ‘বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড’ বলে ক্ষোভ টোকিওর

চীনা সামরিক বিমানের রাডার লক করা ‘বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড’ বলে ক্ষোভ টোকিওর দক্ষিণ-পূর্ব ওকিনাওয়ার আকাশ সীমায় জাপানি যুদ্ধবিমানের ওপর চীনা সামরিক বিমান একাধিকবার রাডার লক করেছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। টোকিও এই ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। গত এক মাস ধরে বেইজিং-টোকিও সম্পর্ক ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর, বিশেষভাবে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। তাকাইচি তার ওই মন্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে তাইওয়ানের ওপর হামলার ক্ষেত্রে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তিনি বলেছিলেন যে বল প্রয়োগ জড়িত থাকা তাইওয়ানের একটি জরুরি অবস্থা জাপানের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রোববার ভোরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ঘটনাকে ‘বিপজ্জনক ও অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, জাপান এই ঘটনায় চীনকে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, শনিবার ঘটে যাওয়া এ সব ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ওকিনাওয়া দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্র এলাকায়। সেখানে চীনা নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী লিয়াওনিং থেকে উড্ডয়ন করা একটি জে-১৫ যুদ্ধবিমান জাপানি আকাশ সীমায় অনুপ্রবেশের পর, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উড়তে যাওয়া জাপানি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ওপর বিরতিহীনভাবে রাডার লক করে। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর, একই রণতরী থেকে আরও একটি জে-১৫ বিমান অন্য একটি জাপানি যুদ্ধবিমানের ওপর একই ধরনের রাডার লকঅন করে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই ধরনের রাডার লক কেবল নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় সীমার বাইরে গিয়ে বিপজ্জনক আচরণের শামিল।’ বিবৃতিতে এ ধরনের ঘটনা ‘চরমভাবে দুঃখজনক’ বলেও মন্তব্য করা হয়। সামরিক বাহিনী সাধারণত ফায়ার কন্ট্রোল বা লক্ষ্য শনাক্তকরণের জন্য রাডার ব্যবহার করে থাকে। কোনো যুদ্ধবিমানের ওপর রাডার লক করা আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হয়।