দাম কমাতে তুরস্ক-দ. কোরিয়া থেকে ডিম আমদানি করবে যুক্তরাষ্ট্র

দাম কমাতে তুরস্ক-দ. কোরিয়া থেকে ডিম আমদানি করবে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই হইচই চলছে। আর এবার পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ থেকে ডিম আমদানির পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।  শনিবার (২২ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্ক এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ডিম আমদানির পরিকল্পনা করছে এবং আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য ডিমের দাম হাতের নাগালে রাখতে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। দেশটির কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স শুক্রবার (২১ মার্চ) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, আমরা স্বল্পমেয়াদে লাখ লাখ ডিম আমদানির কথা বলছি। বার্ড ফ্লুর বিধ্বংসী প্রাদুর্ভাবের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং সেখানে ডিমের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে সেখানে চাহিদার সঙ্গে যোগানের সামঞ্জস্য রাখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন এই খাতে সম্প্রতি ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘোষণার দেওয়ার পর, এবার ডিম আমদানিরও ঘোষণা দিলো।  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, গত এক বছরে ডিমের দাম ৬৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে এবং ২০২৫ সালে এটি ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী রোলিন্স বলেছেন, তার দপ্তর নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা করছে। তবে কোন দেশগুলো তা নির্দিষ্ট করে তিনি বলেননি। পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার পোল্ট্রি সমিতিগুলো বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ডিম রপ্তানির বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ফেব্রুয়ারিতে, মার্কিন কৃষি বিভাগ ডিমের দাম মোকাবেলায় ১ বিলিয়ন ডলারের একটি পাঁচ-দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার বাজেট জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার, ভ্যাকসিন গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার এবং কৃষকদের আর্থিক ত্রাণ কর্মসূচির জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বাণিজ্যিক ডিম খামারগুলোকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পরিষেবা দেবে। বার্ড ফ্লুর বিস্তার রোধে দুর্বলতা মোকাবেলায় খরচের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে সেখানে বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবের পর ১৬ কোটি ২০ লাখ মুরগী, টার্কি এবং অন্যান্য পাখি নিধন করা হয়। যার ফলে ডিসেম্বর দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। গত বছর ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি মাসের শুরুতে কংগ্রেসে ট্রাম্প তার প্রথম ভাষণে পূর্বসূরী জো বাইডেনকে ডিমের দাম বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, “বিশেষ করে জো বাইডেন ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দিয়েছিলেন। আমরা দাম কমাতে কঠোর পরিশ্রম করছি।”

হিথ্রো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু

হিথ্রো বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা আজ শনিবার থেকে চালু হওয়ার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরের কাছের একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে (সাবস্টেশন) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে গতকাল শুক্রবার দিনভর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ছিল। খবর বিবিসির। এতে বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচলের সময়সূচি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় সীমিত আকারে উড়োজাহাজ চলাচল শুরু করে। হিথ্রো বিশ্বের পঞ্চম ব্যস্ততম বিমানবন্দর। প্রায় ৮০টি দেশ থেকে এই বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ চলাচল করে। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী হিথ্রো দিয়ে যাতায়াত করেন। বিমানবন্দরটি বন্ধের কারণে গতকাল ১ হাজার ৩০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কথা ছিল। এতে ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েন যাত্রীরা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২৩ মিনিটের দিকে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে প্রায় দেড় মাইল উত্তরে হেইস শহরে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে আগুন লাগে। ওই রাতেই ২টার দিকে বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগুনের ফলে বিমানবন্দর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন, পরিষেবা স্বাভাবিক হতে অন্তত ২৪ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে কর্মচারীরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয় বিমানবন্দরে। অনুমতিপ্রাপ্ত ফ্লাইটগুলো অবতরণ করতে শুরু করে। বিমানবন্দরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে অল্প কিছু ফ্লাইটকে চলাচলের অনুমতি দিলেও পুরোপুরিভাবে বিমান চলাচল শুরু হবে স্থানীয় সময় শনিবার। শুক্রবার রাতে বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানবন্দরের কর্মীবাহিনী এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই ফের চালু করা সম্ভব হয়েছে ফ্লাইট পরিচালনা। কীভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, এতে নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। লন্ডনের ফায়ার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছে, সাবস্টেশনে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা। এদিকে বিমানবন্দর বন্ধের ফলে কেবল যাত্রীদের দুর্ভোগই হয়নি, বরং বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যারা প্রশ্ন তুলেছে এত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা কীভাবে ব্যর্থ হতে পারে। বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী থমাস উল্ডবাই জানিয়েছেন, জরুরি ব্যাকআপ ব্যবস্থা কাজ করলেও তা পুরো বিমানবন্দর চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোতে শেষবার এত বড় আকারে বিঘ্ন ঘটেছিল ২০১০ সালে আইসল্যান্ডীয় আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের মেঘের কারণে, যার ফলে প্রায় ১ লাখ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।

ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র মার্কিন মালিকানায় নেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র মার্কিন মালিকানায় নেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলার একদিন পর, বুধবার (১৯ মার্চ) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও ফোনালাপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় এক ঘণ্টার এই আলাপচারিতা ‘বেশ ভালো ছিল’ বলে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসির। অপরদিকে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই বছরই স্থায়ী শান্তি অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্প-জেলেনস্কির ফোনালাপ শেষে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের বিষয়েও এসময় আলোচনা হয়েছে, তবে জেলেনস্কি এসময় জোর দিয়েছেন এটা কেবল রাশিয়ার নিয়ন্ত্র থাকা জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। গত মাসের শুরুতে হোয়াইট হাউজে জেলেনস্কির সফরের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার বাদানুবাদকে ঘিরে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, ফোনালাপের পরের পরিস্থিতি তার থেকে ভিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। ওভাল অফিসে বৈঠকের পর বুধবারই প্রথমবারের মতো দুই প্রেসিডেন্ট সরাসরি কথা বললেন। যদিও এর আগে সৌদি আরবে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইউক্রেন রাজিও হয়। যদিও ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়, কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের সময় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের সময় জেলেনস্কি বলেছেন, জ্বালানি অবকাঠামো, রেল ও বন্দর সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোয় হামলা বন্ধ সংক্রান্ত আংশিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি আছেন তিনি। তবে তিনি এই সতর্কবার্তাও দিয়েছেন যে মস্কো যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করলে তার দেশ প্রতিশোধ নেবে। “আমার মনে হয় যতক্ষণ না আমরা (রাশিয়ার সঙ্গে) একমত হচ্ছি এবং যতক্ষণ না আংশিক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া যাচ্ছে, সব কিছুই আসলে ভাসমান,” ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে এই কথা বলছিলেন জেলেনস্কি। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়াকে একটা সমান্তরালে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা ছিল এই ফোনকল। দুই পক্ষের ‘অনুরোধ ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে’ এটা করা হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা সঠিক পথেই চলছে বলেও জানান তিনি। পরে আরো বিশদ বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প ইউক্রেনকে, বিশেষ করে ইউরোপে অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছেন।  ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘণিভূত হওয়ায়’ দুই নেতা তাদের প্রতিরক্ষা কর্মীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে তথ্য বিনিময়ের বিষয়েও সম্মত হয়েছেন বলে রুবিও জানান। তার বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও জেলেনস্কি ট্রাম্পের ‘ইউক্রেনের বৈদ্যুতিক সরবরাহ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র’ নিয়ে আলোচনা করেছেন; ‘যুক্তরাষ্ট্র তার বিদ্যুৎ এবং ইউটিলিটি দক্ষতার ব্যবহার করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আরো ভালোভাব চালাতে পারে’ বলেও ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন। রুবিওর বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে, ‘আমেরিকান মালিকানা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সর্বোত্তম সুরক্ষা দেবে এবং ইউক্রেনীয় শক্তি অবকাঠামোর জন্য সহায়ক হবে।’ জেলেনস্কি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে, কিন্তু তারা শুধু জাপোরিঝিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথাই উল্লেখ করেছে। জেলেনস্কি বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি অনলাইন ব্রিফিংয়ের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথোপকথনকে ‘ইতিবাচক’, ‘খোলামেলা’ এবং ‘খুবই তাৎপর্যপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইউক্রেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সৌদি আরবে বৈঠকে বসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ১৬ হুতি সদস্য নিহত

ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় ১৬ হুতি সদস্য নিহত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, মার্কিন বিমান হামলায় তাদের ১৬ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি মার্কিন হামলায় হতাহতের পরিস্থিতি, সময় বা স্থান সম্পর্কে কিছু জানায়নি। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে, রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বেশ কয়েকটি এলাকায় মার্কিন বিমান হামলায় সাত নারী এবং দুই শিশু আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। হুতি-সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ টিভি অনুসারে, আল-জাওফ প্রদেশের সাদা, আল-হাজম জেলা এবং আল-বায়দা প্রদেশের আস সাওয়াদিয়াহ জেলায় বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি হুতিদের বিরুদ্ধে বড় আক্রমণ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হুতিদের আক্রমণ বন্ধ করার লক্ষ্যে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে এই অভিযান বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই ইয়েমেনে তীব্র বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। গত শনিবার মার্কিন হামলায় ৫৩ জন এবং ১০৭ জন আহত হন। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুতিদের বিরুদ্ধে ২৪/৭ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। এদিকে হুতি গোষ্ঠী বলেছে, ইসরায়েল গাজার ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা লোহিত সাগরের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে এবং তাদের বাহিনী হামলার জবাব দেবে।

মার্কিন চাপ কিংবা ইরানের অনুরোধে মাথা নত করবে না হুতিরা

মার্কিন চাপ কিংবা ইরানের অনুরোধে মাথা নত করবে না হুতিরা ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজের ওপর পাল্টা হামলা চালাতে ‘পিছপা’ হবে না। ইয়েমেনি হুতিদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ কিংবা ইরানের মতো মিত্রের কাছ থেকে আবেদনও তাদের হুতিদের হামলার গতি রোধ করতে পারবে না।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একের পর এক হামলা শুরু করেছে। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উত্তেজনা প্রশমিত করার জন্য ইরান শুক্রবার তেহরানে হুথি দূতকে মৌখিক বার্তা দিয়েছে এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিবার মাস্কাট সফরের সময় হুতিদের সাথে মধ্যস্থতাকারী ওমানকে একই বার্তা দিতে বলেছিলেন। উভয় কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। হুতিদের নতুন করে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়ে ইরান প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। তেহরান জানিয়েছে, এই দলটি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, হুতিদের দ্বারা পরিচালিত যেকোনো হামলার জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করবেন। সোমবার রাতে হুতি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জামাল আমের রয়টার্সের সাথে কথা বলেছেন, “গাজায় ত্রাণ অবরোধ শেষ না করা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ করার কোনো আলোচনা হবে না। ইরান আমাদের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে না, তবে যা ঘটছে তা হল তারা মাঝে মাঝে মধ্যস্থতা করে কিন্তু কিছু বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারে না।” তেহরানে হুতি দূতকে ইরান কোনো বার্তা দিয়েছে কিনা সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি উল্লেখ করে আমের জানান, অন্যান্য পক্ষ থেকে ফোনে করে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ইয়েমেন আমেরিকার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত এবং এর অর্থ হল আমাদের সকল সম্ভাব্য উপায়ে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তাই উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় হামলা হয়েছে: ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় হামলা হয়েছে: ইসরায়েল গাজায় রাতারাতি হামলা চালানোর আগে ইসরায়েলি সরকার হোয়াইট হাউসকে জানিয়েছিল বলে মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। এর কিছুক্ষণ পরেই একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার বলেছেন, যুদ্ধে ফিরে আসা ‘ওয়াশিংটনের সাথে সম্পূর্ণ সমন্বিত’ ছিল। হামলার ব্যাপারে ‘ইসরায়েলের প্রতি তাদের অদম্য সমর্থন’ এবং ‘ইসরায়েলের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য’ ট্রাম্প প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র জোট ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরো শক্তিশালী।’ অবশ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।  মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চার শতাধিক ছাড়িয়েছে।   জানুয়ারিতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। মার্চে চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় নিয়ে আলোচনা চলছিল। অথচ মঙ্গলবারের হামলার প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েল গাজায় নতুন করে হামলার অনুমোদন দেয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ করেছিল। ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ কাতারে হামাসের সঙ্গে চুক্তির জন্য আলোচনা করছিলেন। ট্রাম্প বরাবরই হামাসের প্রতি বিরক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে উপত্যকাটিকে অবসরযাপন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে পরামর্শ করেই গাজায় হামলা করেছে ইসরায়েল: হোয়াইট হাউজ

ট্রাম্পের সঙ্গে পরামর্শ করেই গাজায় হামলা করেছে ইসরায়েল: হোয়াইট হাউজ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আজ মঙ্গলবার ভোরে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় বিমান ও ট্যাংক হামলা চালিয়েছে। এতে কমপক্ষে ২৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অসংখ্য মানুষ। গাজায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যে এ হামলা হলো। খবর আল জাজিরার। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটের মতে, মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) গাজায় ব্যাপক আকারে হামলা শুরুর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরামর্শ করেছিল ইসরায়েল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মুখপাত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন স্পষ্ট করে বলেছেন, হামাস, হুতি, ইরান- যারা কেবল ইসরায়েলকে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে আতঙ্কিত করতে চায়- তাদের মূল্য দিতে হবে এবং তাদের ওপর সমগ্র নরক ভেঙে পড়বে।” ক্যারোলিন লিভিট আরো বলেন, “হুতি, হিজবুল্লাহ, হামাস, ইরান এবং ইরান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেয়া। কারণ ট্রাম্প বলছেন, তিনি আইন মেনে চলা মানুষের পক্ষে দাঁড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের বন্ধু ও মিত্র ইসরায়েলের পক্ষে দাঁড়াতে ভয় পান না।” উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে গাজা উপত্যকায় অবিরাম বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন লাখেরও বেশি মানুষ। গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় হামাস  ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়। ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর থেকে আজকের হামলাটি গাজায় সবচেয়ে বড় হামলা।  ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামাস আমাদের জিম্মিদের মুক্তি দিতে বারবার অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এটি করা হয়েছে।

গাজাজুড়ে ফের ভয়াবহ হামলা ইসরায়েলের, নিহত ২৩২

গাজাজুড়ে ফের ভয়াবহ হামলা ইসরায়েলের, নিহত ২৩২ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলী বাহিনী। আজ মঙ্গলবার ভোরে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় ইসরায়েলি বিমান ও ট্যাংক হামলায় অন্তত ২৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খলিল আল দেকরান নিহতের এ সংখ্যা জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) গাজার কেন্দ্রীয় শহর দেইর আল-বালাহ, গাজা সিটি, খান ইউনিস ও রাফাহ অঞ্চলের একাধিক স্থাপনায় ব্যাপক আকারে বিমান ও ট্যাংক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে আবাসিক ভবনসহ বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্তের পাশাপাশি হতাহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।  গত ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এটি গাজায় সবচেয়ে বড় হামলা। গাজা যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা বেশ কয়েকটি জায়গাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ পর্যন্ত এ হামলা অব্যাহত থাকবে এবং তা শুধু বিমান হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতি অনুসারে, মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামাস আমাদের জিম্মিদের মুক্তি দিতে বারবার অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এটি করা হয়েছে। ইসরায়েল এখন থেকে ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তির সঙ্গে হামাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এতে আরোবলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, হামলার পরিকল্পনা আইডিএফ সপ্তাহান্তে উপস্থাপন করেছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, হামলা চালানোর আগে ইসরায়েল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করেছিল। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভন্ডুল করেছে। আর এর মধ্য দিয়ে গাজায় এখনো আটক থাকা ৫৯ জন জিম্মির ভাগ্য অনিশ্চিত করে তুলেছে তারা।

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ২০০ ভেনেজুয়েলানকে নির্বাসন দিল ট্রাম্প প্রশাসন

আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে ২০০ ভেনেজুয়েলানকে নির্বাসন দিল ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন একটি আদালত কয়েক ঘণ্টা আগেই জোর করে অবৈধ অভিবাসীদের নির্বাসন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু এরপরও ২০০-এর বেশি ভেনেজুয়েলান নাগরিককে এল সালভাদরে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রবিবার সকালে একটি সামরিক বিমান তাঁর দেশে অবতরণ করে। এই বিমানে ২৩৮ জন ভেনেজুয়েলার কুখ্যাত গ্যাং ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র সদস্য এবং ২৩ জন আন্তর্জাতিক গ্যাং এমএস-১৩-এর সদস্য ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের আগে ফেডারেল বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ ১৭৯৮ সালের ‘অ্যালিয়েন এনিমি অ্যাক্ট’ ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাসন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এরপরও ওই ব্যক্তিদের বহনকারী বিমান উড়াল দেয় এবং এল সালভাদরে অবতরণ করে। এ নিয়ে ব্যঙ্গ করে বুকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ওপস… অনেক দেরি হয়ে গেছে।” মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নির্বাসন চুক্তিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নজিরবিহীন এবং ব্যতিক্রমী অভিবাসন ব্যবস্থা’ বলে উল্লেখ করেছেন।এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের এক বছরের জন্য এল সালভাদরের সন্ত্রাসবিরোধী বন্দিশিবির সিইসিওটি’তে রাখা হবে। তবে পরবর্তীতে এই সময় বাড়ানো হতে পারে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এদের জন্য খুব সামান্য পরিমাণ অর্থ দেবে, তবে আমাদের জন্য এর মূল্য অনেক বেশি।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নির্বাসিত গ্যাং সদস্যদের এল সালভাদরে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের প্রশংসা করে বলেছেন, “তিনি আমাদের অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা।” এর আগে, বিচারক বোয়াসবার্গ ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাসন নীতি বন্ধের আদেশ দিয়েছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখে। ভেনেজুয়েলা এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং বলেছে, “এই যুদ্ধকালীন আইন প্রয়োগ অভিবাসীদের অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করছে।” এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাত ও পা শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় সশস্ত্র কর্মকর্তারা বিমান থেকে নামানো বন্দিদের নিয়ে যাচ্ছেন। কিছু বন্দিকে সাঁজোয়া গাড়িতে তোলা হয়, অন্যদের মাথা নিচু করে বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়। ভিডিওতে এল সালভাদরের আলোচিত মেগা-জেল সিইসিওটি’র ভেতরে বন্দিদের নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার বন্দি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই উচ্চ-নিরাপত্তার কারাগার বুকেলের অপরাধ দমন পরিকল্পনার অন্যতম অংশ। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এটিকে বন্দিদের অমানবিক নির্যাতনের কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই নির্বাসন চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ও এল সালভাদরের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কো রুবিও বুকেলেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “আপনার সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই এল সালভাদর ছিল রুবিওর দ্বিতীয় সফরস্থল। ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেখানে গিয়ে বুকেলের সঙ্গে আলোচনায় নির্বাসিত বন্দিদের গ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হা*মলায় নি*হত বেড়ে ৫৩

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হা*মলায় নি*হত বেড়ে ৫৩ ইয়েমেনের হুতিরা জানিয়েছে, রোববার তাদের একাধিক অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। একইসাথে রেড সি উপকূলে হোদাইদা বন্দরে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিহতদের মধ্যে রয়েছে পাঁচট শিশুও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আলসবাহি জানান, হামলায় ৫৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশু ও দুইজন নারী রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৮ জন। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হুতিরা যদি ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর হামলার হুমকি না তুলে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। এই সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ধরনের অভিযান। বার্তাসংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। রোববার হুতিদের শীর্ষ নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তার যোদ্ধারা রেড সি-তে মার্কিন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাবে। তিনি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেন, যদি তারা হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে আমরাও আরও শক্তভাবে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাবো। এদিকে, হুতিদের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা মার্কিন হামলার পাল্টা জবাবে রেড সি-তে অবস্থান করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যান এবং এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে। তবে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ফক্স নিউজকে বলেছেন, যখনই হুতিরা বলবে তারা আমাদের জাহাজে হামলা বন্ধ করবে, তখনই আমরাও তাদের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করবো। তবে ততদিন পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। এটি শুধু আমাদের জাহাজের নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং রেড সি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ নিরাপদ রাখা আমাদের জাতীয় স্বার্থ। ইরান অনেকদিন ধরে হুতিদের সহযোগিতা করে আসছে। এবার তাদের সরে দাঁড়াতেই হবে।