পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে অভিনব উদ্যোগ ‘নো ওয়ান ব্যাকবেঞ্চার্স’

পশ্চিমবঙ্গের স্কুলে অভিনব উদ্যোগ ‘নো ওয়ান ব্যাকবেঞ্চার্স’ স্কুলের ক্লাসরুমে আর কাউকে বসতে হবে না পেছনের সারিতে। সবাই বসবে ফার্স্ট বেঞ্চে। কেউ আর অবহেলিত নয়। এমন লক্ষ্য নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা শহরের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বার্লো বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ‘নো ওয়ান ব্যাকবেঞ্চার্স’ পড়াশোনার ব্যবস্থা। সবাই ফার্স্ট বেঞ্চে, কীভাবে সম্ভব? প্রশ্নের উত্তরে স্কুলের এক শিক্ষিক বললেন, ‘এই বিষয়টি আমাদের ডিআই স্যারের মস্তিষ্কপ্রসূত। আসলে কেরালার স্কুলগুলোতে ক্লাসে বসার চিরকালীন ব্যবস্থাটাই পাল্টে দেওয়া হয়েছে। সেভাবেই আমরা কেরালার পথ অনুসরণ করতে চলেছি।” তিনি আরো বলেন, “সাধারণত ক্লাসরুমে পরপর বেঞ্চগুলো বসানো থাকে। ফলে কাউকে না কাউকে পিছনের দিকে বসতেই হয়। তাই পিছনের সারিতে বসা পড়ুয়ারা অনেকসময় পড়াশোনা বুঝতে পারে না। আবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পিছনের বেঞ্চে বসা পড়ুয়াদেরও নজরে রাখা সম্ভব হয় না। তাই এখন থেকে ক্লাসরুমে বেঞ্চ সাজানো হবে ইংরেজি ইউ-এর মতো করে। আর তাতেই সবাই বসবে সামনের বেঞ্চে। সব পড়ুয়াকে নজরে রাখতে পারবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।” পশ্চিমবঙ্গের মালদায় এই প্রথম ‘নো ওয়ান ব্যাকবেঞ্চার্স’ পদ্ধতিতে পড়ানো শুরু হলো। আগামীতে রাজ্যের অন্যান্য জেলার স্কুলে এই পদ্ধতিতে পড়াশোনা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। স্কুলের শিক্ষিকারা জানান, শ্রেণিকক্ষের বসার এই নতুন ব্যবস্থাটি প্রথম দেখানো হয় একটি মালয়ালাম চলচ্চিত্রে। বিনেশ বিশ্বনাথ পরিচালিত ‘স্থানার্থী শ্রীকুত্তান’ সিনেমায় প্রথম এই পদ্ধতিতে ক্লাসরুমে বসার ব্যবস্থা দেখানো হয়েছিল। এই সিনেমায় চারজন অবাধ্য ছাত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছিল। তাদের পড়াশোনায় মন ফিরিয়ে আনতে ‘নো ওয়ান ব্যাকবেঞ্চার্স’ পদ্ধতি চালু করা হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের বিভিন্ন সিনেমা হলে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল। এরপরেই পদ্ধতিটি বেছে নিয়ে কেরালার বিভিন্ন স্কুলে শুরু হয় ‘নো ওয়ান ব্যাকবেঞ্চার্স’ পদ্ধতিতে পাঠদান। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নতুন পদ্ধতিতে পড়াশোনা করতে তাদের খুব ভালো লাগছে। শিক্ষকদের সব কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন। এতদিন যারা পিছনের বেঞ্চে বসত, তারা সব কথা শুনতে পেত না। তাই ক্লাসের পড়া বুঝতে অসুবিধা হতো। এখন পড়া বুঝতে অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে। ‘নো ওয়ান ব্যাকবেঞ্চার্স পদ্ধতিতে পড়াশোনা হলে কোনো সহপাঠী আর মানসিক হীনম্মন্যতায় ভুগবে না। এক কথায় ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’ টাইপের ব্যাপার। শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে কেরালার পর পশ্চিমবঙ্গও নতুন পথে হাঁটছে। বার্লো বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে একজন কর্মকর্তার মতে, চলচ্চিত্র থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন বাস্তব প্রভাব সত্যিই বিরল এবং অনুপ্রেরণামূলক।
ক্লিনটন থেকে বাইডেন, সবাইকে বোকা বানিয়েছেন পুতিন, কিন্তু আমাকে নয়: ট্রাম্প

ক্লিনটন থেকে বাইডেন, সবাইকে বোকা বানিয়েছেন পুতিন, কিন্তু আমাকে নয়: ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘কঠিন মানুষ’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পুতিন অতীতে মার্কিন চার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানিয়েছেন, কিন্তু তাঁকে পারেননি। গতকাল হোয়াইট হাউজে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘এটা বহু বছর ধরে প্রমাণিত হয়েছে, পুতিন অনেক মানুষকে বোকা বানিয়েছেন… তিনি (পুতিন) ক্লিনটন, বুশ, ওবামা, বাইডেন— সবাইকে বোকা বানিয়েছেন। কিন্তু আমাকে ঠকাতে পারেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘একসময় কথার সময় শেষ হয়, তখন কাজে নামতে হয়, ফল আনতে হয়। আমি চাই সে (পুতিন) সেটা করুক। রাশিয়া এমন একটি শক্তিশালী দেশ, এত মানুষকে যুদ্ধের মাধ্যমে নষ্ট করা দুঃখজনক।’ ট্রাম্প জানান, রাশিয়া যদি ৫০ দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না করে, তাহলে নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করবে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের দায় চাপিয়েছেন তাঁর পূর্বসূরি জো বাইডেনের ওপর। ‘এই যুদ্ধ আমার নয়, বাইডেনের যুদ্ধ। এটা ডেমোক্র্যাটদের যুদ্ধ, রিপাবলিকান বা ট্রাম্পের নয়। এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না। আমি চেষ্টা করছি এই যুদ্ধ থামাতে,’ বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, দুই মাস আগেও তিনি ভেবেছিলেন পুতিনের সঙ্গে একটি চুক্তি হবে। কিন্তু সেটা হয়নি বলেই নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। বৈঠকে ট্রাম্প ও রুট ন্যাটোর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র কিনে ইউক্রেনকে পাঠানোর একটি বড় চুক্তির ঘোষণা দেন। এর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রুটে বলেন, ‘এই চুক্তি অনেক বড় পদক্ষেপ। ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একক বোঝা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ তিনি জানান, জার্মানি, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য এ অস্ত্র সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। ট্রাম্পের শাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তিনি পুতিনের সঙ্গে একটি সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তখন অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি হয়তো ইউক্রেনকে ‘বেচে’ দেবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প পুতিনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন, কারণ রুশ বাহিনী আগের চেয়ে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ট্রাম্প জানান, তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া এই বিষয়ে তাঁর মনোভাব পাল্টাতে সাহায্য করেছেন। ‘আমি বাড়ি ফিরে মেলানিয়াকে বলি, আমি আজ পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছি, দারুণ কথা হয়েছে। সে বলে, ও আচ্ছা? আরেকটা শহর তো হামলায় উড়ে গেল!’ পুতিন সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি বলছি না যে তিনি খুনি, তবে তিনি একজন কঠিন লোক।’ এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট দলের হাউজ মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিজ ট্রাম্পের ইউক্রেন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভ্লাদিমির পুতিন পুরো বছরজুড়েই ট্রাম্পকে নিয়ে খেলছেন।’ ‘ট্রাম্প তাঁর শাসনের প্রথম ছয় মাসে পুতিনের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা করেছেন, অথচ পুতিন যা করেছেন তা হলো— ইউক্রেনের শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষদের ওপর সন্ত্রাস চাপিয়ে দিয়েছেন,’ বলেন জেফরিজ। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। ‘আমেরিকান জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বারবার তা ভঙ্গ করছেন।’ জেফরিজ বলেন, কংগ্রেস স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। ‘ইউক্রেনের বিজয় শুধু তাদের নয়, বরং আমাদের মিত্র ও গোটা মুক্ত বিশ্বের বিজয়।’
৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন

৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ফিলিপাইন ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে আজ ৫.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইলোকোস নর্টে প্রদেশে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে কাগায়ান, ইলোকোস সুর, ইসাবেলা এবং আবরা প্রদেশগুলোও কেঁপে ওঠে।ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অফ ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।ফিলিপাইন স্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি পাসুকুইন শহর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ২৭ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত হানে।সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে, ভূমকম্পের আফটারশক এখনো প্রত্যাশিত। তবে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।প্রসঙ্গত, প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ারের পাশে অবস্থিত হওয়ার কারণে ফিলিপাইন ঘন ঘন ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়।
পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে ১১১ জনের মৃ*ত্যু

পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে ১১১ জনের মৃ*ত্যু বর্ষা মৌসুমের ভারী বৃষ্টিতে গত ২৬শে জুন থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে মোট ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ)। এনডিএমএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন থেকে গতকাল ১৪ জুলাইয়ের মাঝে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পাঞ্জাবে। এ পর্যন্ত ওই প্রদেশটিতে মারা গেছেন ৪০ জন। একই সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া, সিন্ধু, বালুচিস্তান প্রদেশে মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৭, ১৭ ও ১৬ জন। এই বৃষ্টিতে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরেও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতদের মাঝে ৫৩ জন শিশু এবং ১৯ জন নারী রয়েছেন। এদিকে, দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ ১৫ জুলাই থেকে আগামী ১৭ জুলাইয়ের মাঝে ভারী বৃষ্টির কারণে চিত্রাল, দির, সোয়াত, শাংলা, মানসেহরা, ম্যুরি গালিয়াত, কোহিস্তান, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডিসহ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নদী ও জলাধারগুলোতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। এসময় কিছু কিছু অঞ্চলে ভূমিধস হওয়ার শঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনে শিশুসহ ৭৮ জনকে হত্যা করল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনে শিশুসহ ৭৮ জনকে হত্যা করল ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও হামলা চালিয়ে শিশুসহ অন্তত ৭৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েল। সোমবার ১৪ জুলাই বিভিন্ন এলাকায় চালানো হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আলজাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় দক্ষিণ গাজার রাফা, খান ইউনিস, মধ্য গাজার বুরেইজ ও গাজা শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ফিলিস্তিনের বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, রাফায় একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে হামলা চালিয়ে অন্তত ৫ জন ত্রাণপ্রার্থীকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৩৮ জন ফিলিস্তিনি। এদের অনেকেই নারী ও শিশু।এছাড়া খান ইউনিসে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে চালানো হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৯ জন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। উত্তর গাজায়ও হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে একটি ট্যাংক হামলার শিকার হলে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর (আইডিএফ) তিন সদস্য নিহত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজা শহরের তুফাহ ও শুজাইয়া এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন। গাজা শহরে এইসব হামলায় অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে ইসরায়েলের পূর্ণাঙ্গ অবরোধের কারণে গাজায় জ্বালানি ও খাদ্য সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ হাসপাতাল ও জরুরি সেবা।
গুপ্তচরবৃত্তির শাস্তি কঠোর করে ইরানের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস

গুপ্তচরবৃত্তির শাস্তি কঠোর করে ইরানের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস ইরানের পার্লামেন্ট গুপ্তচরবৃত্তি এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি শত্রু রাষ্ট্রকে সহযোগিতার শাস্তি বাড়ানোর জন্য একটি বিলের সংশোধনী অনুমোদন করেছে। খবর বিবিসি ও ইরান ফ্রন্ট পেজের। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সংশোধনী প্রস্তাবটি আজ সোমবারের অধিবেশনে বিপুল ভোটে পাস হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যদি কেউ শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীর জন্য কোনো গোয়েন্দা ও গুপ্তচরবৃত্তির কার্যকলাপ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়, তfহলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা যাবে। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকে এই শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠী চিহ্নিত করার কর্তৃপক্ষ এবং মিনিস্ট্রি অব ইন্টেলিজেন্সকে শত্রুদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার কর্তৃপক্ষ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে প্রস্তাবের মূল বক্তব্যে। সুপ্রিম জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল (যারা ইতোমধ্যেই শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত) বাদে অন্যান্য শত্রু রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীগুলোকে মনোনীত করার ক্ষমতা রয়েছে। সংশোধিত আইনে শত্রু রাষ্ট্রগুলোকে আর্থিক, প্রযুক্তিগত বা সামরিকভাবে সহায়তাকেও অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের লক্ষ্যে স্টারলিংকের মতো অবৈধ যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহারও দণ্ডনীয়। এছাড়াও সংশোধিত মূল প্রস্তাবের আরেকটি অনুচ্ছেদে জনসাধারণের মধ্যে বিভাজন বা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে শত্রু বা বিদেশি নেটওয়ার্কগুলোতে যারা তথ্য বা ভিডিও পাঠায় তাদের শাস্তি নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এই কর্মকাণ্ডগুলো এখন থেকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। একইসাথে এর জন্য কারাদণ্ড এবং সরকারি ও জনসেবা থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়কে ‘প্রতিকূল মিডিয়া’ চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ চালু করা হয়েছে। ইরানের আইনপ্রণেতারা জোর দিয়ে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শত বছর বয়সেও প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা বিয়ার

শত বছর বয়সেও প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে নির্বাচনে লড়াইয়ের ঘোষণা বিয়ার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধান ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া (৯২)। তিনি চলতি বছরের নির্বাচনে অষ্টম মেয়াদের জন্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ১২ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি শতবর্ষ ছুঁইছুঁই বয়সেও দেশটির ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। রবিবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “‘আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, আপনারা নিশ্চিত থাকুন জাতি যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি আমি তা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করব।” সোমবার (১৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চার দশকেরও বেশি সময় আগে ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আহমেদো আহিদজো পদত্যাগ করলে ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন বিয়া। তার স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই জল্পনা-কল্পনা চলছে। সর্বশেষ গত বছরে তিনি ৪২ দিনের জন্য জনসাধারণের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অদৃশ্য হয়ে যান। তবে তার পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিল। রবিবার পল বিয়া আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে, বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালে, প্রথমবারের মতো, তিনি সেই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেছিলেন, যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনসাধারণের সঙ্গে একটি বিরল সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) নেতাকর্মীরা এবং তার সমর্থকরা গত বছর থেকে প্রকাশ্যে বিয়ার আরেক মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বিরোধী দল এবং কিছু নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী যুক্তি দিচ্ছে যে তার দীর্ঘ শাসন অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এরই মধ্যে দুই মিত্র ক্ষমতাসীন জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে এবং আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ক্যামেরুনের মানবাধিকার আইনজীবী নংহো ফেলিক্স আগবর সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট বিয়ার আবারো প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ক্যামেরুনের স্থবির রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ। ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পর দেশটির যা প্রয়োজন তা হল পুনর্নবীকরণ, পুনরাবৃত্তি নয়। ক্যামেরুনবাসী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন এবং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।” রবিবার বিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা নিশ্চিতভাবেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক পুনরুজ্জীবিত করবে। তিনি খুব কমই জনসমক্ষে উপস্থিত হন এবং প্রায়ই তার কার্যালয়ের ক্ষমতা শক্তিশালী চিফ অফ স্টাফের (সেনাপ্রধান) কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন। গত বছরের অক্টোবরে তিনি ৪২ দিন অনুপস্থিতির পর ক্যামেরুনে ফিরে আসলেও স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক চলতে থাকে। যদিও সরকার দাবি করে যে তিনি ভালো আছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় উল্লেখ করে তার স্বাস্থ্য নিয়ে সবধরনের আলোচনা নিষিদ্ধ করেছে। ২০০৮ সালে বিয়া প্রেসিডেন্টের নির্দিষ্ট মেয়াদসীমা বাতিল করে দেন, যার ফলে তার অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ পরিষ্কার হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ৭১.২৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যদিও বিরোধী দলগুলো ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল। ক্যামেরুন ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে মাত্র দুজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছে। আফ্রিকান কোকো ও তেল উৎপাদনকারী এই দেশটিকে বিয়ার দীর্ঘ শাসনামলে অর্থনৈতিক সংকট, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা ও উত্তরাঞ্চলে বোকো হারাম জঙ্গি হামলার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী বিরোধী নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন ২০১৮ সালের ক্যামেরুন রেনেসাঁ আন্দোলনের রানার-আপ মরিস কামটো, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের জোশুয়া ওসিহ, ক্যামেরুন পার্টি ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনের আইনজীবী আকেরে মুনা ও ক্যাব্রাল লিবি। তারা সবাই বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘ শাসনামলের সমালোচনা করেছেন এবং ২০২৫ সালে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন পদ্ধতিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬

রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৬ রাশিয়া রাতভর ৬২০টিরও বেশি ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায়। রাশিয়ার এ হামলায় কমপক্ষে ছয় ব্যক্তি নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছে। এ দিকে শনিবার ইউক্রেন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরো প্যাট্রিয়ট বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছে। এ জন্য তারা একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক ভাষণে বলেছেন, ‘রাশিয়ানরা আমাদের দেশের বিরুদ্ধে তাদের নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী কৌশল ব্যবহার করে চলেছে। রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর এবং বিভিন্ন অঞ্চলে মারাত্নক আঘাত করছে।’ মার্কিন নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কো বিমান হামলা বাড়িয়েছে। জেলেনস্কি ইরানের তৈরি ড্রোনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ছাব্বিশটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৯৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল রাশিয়া, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ছিল ‘শাহেদ’ নামের ড্রোন।’ ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা ৩১৯টি শাহেদ ড্রোন এবং ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তারা আরো জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ২০টি ড্রোন ‘পাঁচটি স্থানে আঘাত করেছে। জেলেনস্কি বলেছেন, পূর্ব ও দক্ষিণের সম্মুখ রেখা থেকে অনেক দূরে দক্ষিণ-পশ্চিম চেরনিভতসি অঞ্চলে এই হামলায় কমপক্ষে দুইজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘পশ্চিমে লভিভে ১২জন আহত হয়েছেন। কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, ডিনিপ্রোপেট্রোভস্কে দুইজন এবং খারকিভে তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, রাশিয়া উত্তর-পূর্ব সুমি অঞ্চলে ‘বেসামরিক লোকদের বাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে। হামলার ফলে দুজন নিহত হয়েছেন।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮০০ ছাড়াল

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮০০ ছাড়াল গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ জুলাই) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৬১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৩১ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহত মোট ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫৭ হাজার ৮২৩ জনে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে অবরুদ্ধ নগরীতে আহতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৭ জনে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি। কারণ অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলায় প্রায় ১২০০ নিহত ও দুই শতাধিক ইসরায়েলিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস যোদ্ধারা। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় বিমান হামলা ও পরে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দীর্ঘ ১৫ মাস ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় হামাস ও ইসরায়েল। তবে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় ফের তীব্র হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজায় নতুন করে ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ২৬১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৫ হাজার ৮৪৬ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযানের ফলে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ৮৫ শতাংশ জনসংখ্যা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, দীর্ঘ এ সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে মানবিক সংকটে দিন পার করছেন ফিলিস্তিনিরা। খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তার অভাবে উপত্যকাটির ২৩ লাখেরও বেশি বাসিন্দা চরম ক্ষুধা ও ভয়াবহ অপুষ্টিতে ভুগছেন। গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে তেল আবিবকে গণহত্যা বন্ধ করতে এবং গাজার বেসামরিক নাগরিকদের মানবিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রায় উপেক্ষা করে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ১,৩০০-এর বেশি কর্মীকে ছাঁটাই শুরু

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ১,৩০০-এর বেশি কর্মীকে ছাঁটাই শুরু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা শুরু করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। শনিবার (১২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক খাতে ‘গঠনমূলক সংস্কার’ আনার অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র দপ্তরে বড় ধরনের ছাঁটাই শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১১ জুলাই) থেকে এই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বিদেশে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং প্রচারের মার্কিন ক্ষমতাকে দুর্বল করবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা এক নোটিশে জানানো হয়, মোট ১ হাজার ৩৫৩ জনকে ছাঁটাই করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১ হাজার ১০৭ জন সিভিল সার্ভিস এবং ২৪৬ জন ফরেন সার্ভিস অফিসার। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ছাঁটাই হবে ধাপে ধাপে, যেখানে স্বেচ্ছা অবসানসহ প্রায় ৩ হাজার কর্মীকে বিদায় জানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার যে মোট ১৮ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই পদক্ষেপ তারই অংশ। রয়টার্স বলছে, এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে যখন ওয়াশিংটন বিশ্ব মঞ্চে একাধিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে: ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ, প্রায় দুই বছর ধরে গাজা সংঘাত এবং ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্য সংকট। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের পাঠানো পাঁচ পৃষ্ঠার একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে তারা পররাষ্ট্র ভবন ও তাদের ইমেল ঠিকানায় প্রবেশাধিকার হারাবেন। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশেষ অফিস খোলা হয়েছে, যেখানে তাদের অফিসিয়াল ব্যাজ, ল্যাপটপ, টেলিফোন ও অন্যান্য দপ্তরের সম্পদ জমা দিতে হচ্ছে। এসময় কর্মীদের অনেককেই সহকর্মীদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিদায় নিতে দেখা গেছে। ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি নিশ্চিত করার জন্য যে পুনর্গঠন চেয়েছেন, তার প্রথম ধাপ হলো এই পদক্ষেপ। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ যখন আগ্রাসী কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান আরো জোরদার করছে। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “এটি একটি হাস্যকর সিদ্ধান্ত এবং এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন চীন বিশ্বজুড়ে সামরিক ও পরিবহন ঘাঁটি স্থাপন করছে, রাশিয়া সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর বর্বর হামলা চালাচ্ছে, আর মধ্যপ্রাচ্য একের পর এক সংকটে জর্জরিত। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত শুধু দুর্ভাগ্যজনকই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।” চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনার অনুমোদন দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কাজের ধরন ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এতে সরকারি অর্থের কতটা সাশ্রয় হবে, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেনি প্রশাসন। ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে রুবিওকে প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র নীতি ‘বিশ্বস্ততার সঙ্গে’ বাস্তবায়িত হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য পররাষ্ট্র পরিষেবা পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প জানান, তিনি যেসব আমলাকে বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করেন তাদের বরখাস্ত করে ‘রাষ্ট্রকে পরিষ্কার’ করবেন। এই রদবদল ট্রাম্পের ফেডারেল আমলাতন্ত্রকে সংকুচিত করার এবং করদাতাদের অর্থের অপচয় কমানোর এক অভূতপূর্ব প্রচেষ্টার অংশ। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল এইড, যা বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য কাজ করে তা ভেঙে দিয়েছে এবং এটিকে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অধীনে গুটিয়ে এনেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পুনর্গঠনটি মূলত ১ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু চলমান মামলা-মোকদ্দমার মধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারেনি। কারণ, পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই বন্ধ করার বিচারিক আদেশের বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য অপেক্ষা করছিল। মঙ্গলবার, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চাকরি ছাঁটাই ও অসংখ্য সংস্থার আকার পরিবর্তনের পথ পরিষ্কার করে দেয়।