টেক্সাসে আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু

টেক্সাসে আকস্মিক বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মধ্যাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ১৫ শিশুসহ অন্তত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে আজ বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৫০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। বন্যায় সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের কের কাউন্টি। সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ জন। গুয়াদালুপে নদীর তীরে অবস্থিত একটি খ্রিস্টান শিশু-ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ রয়েছে আরও ২৭ জন শিশু। কের কাউন্টির শেরিফ ল্যারি লেইথা বলেন, যতক্ষণ না প্রত্যেক নিখোঁজকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ উদ্ধার অভিযান থামবে না। টেক্সাসের ট্র্যাভিস কাউন্টি ও টম গ্রিন কাউন্টি থেকেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সম্মত ইসরাইল

গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সম্মত ইসরাইল হামাস ‘অবিলম্বে’ যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত বলে জানানোর পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি প্রতিনিধিদলকে কাতারে পাঠাচ্ছেন। গাজা থেকে এএফপি জানিয়েছে, এই দল যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রওয়ানা দিবে। তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির খসড়া নিয়ে হামাস যে সংশোধনী দিয়েছে, তা ইসরাইলের কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’। আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রায় ২১ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধ থামাতে নতুন করে চেষ্টা শুরু করেছেন। এদিকে এমন প্রচেষ্টা চলার সময়ে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, গতকাল ইসরাইলি হামলায় সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছে।
টেক্সাসে বন্যায় মৃ*ত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪

টেক্সাসে বন্যায় মৃ*ত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪ টেক্সাস রাজ্যে শুক্রবার আকস্মিক বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। মেয়েদের একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকেও ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছে। টেক্সাস গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট বলেছেন, রাতভর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে, যদিও টেক্সাস কর্মকর্তারা নিখোঁজ ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেননি। নদীতে পানি বাড়ার আগে জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল। টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক বলেন, মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে গুয়াডালুপ নদীর পানি ২৬ ফুট বেড়ে যায় এবং এটি একটি ধ্বংসাত্মক বন্যা হয়ে ওঠে, যা দুর্ভাগ্যবশত সম্পদ ও প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কাছে ১৪টি হেলিকপ্টার, ১২টি ড্রোন, ৯টি উদ্ধার দল এবং জলে সাঁতারে পারদর্শী কর্মী রয়েছে মোট ৪০০-৫০০ জন মাঠে কাজ করছেন। এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেকের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে যার মধ্যে সেই গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের মেয়েরাও রয়েছে। শুক্রবার সকালে, রাজ্যে আকস্মিক বন্যার কারণে হিল কান্ট্রি এবং কনচো ভ্যালি নিজেদের দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা করে। কার কাউন্টিতে শেরিফ অফিসও সেখানে গুরুতর বন্যার কথা জানিয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকজন নিখোঁজ এবং প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি হা*মলা*য় আরও ১৩৮ জন নি*হত

গাজায় ইসরায়েলি হা*মলা*য় আরও ১৩৮ জন নি*হত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে একদিনে ১৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬২৫ জন। ৪ জুলাই সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুসারে, ইসরায়েলি বাহিনীর বৃহস্পতিবার-শুক্রবারের অভিযানে গাজায় গত ২১ মাসে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ২৬৮ জন এবং আহতের সংখ্যা এক লাখ ৩৫ হাজার ১৭৩ জনে পৌঁছেছে। আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়ে আছে। তাদের উদ্ধার করা যায়নি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে আইডিএফ। মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সোমবারের পর ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯২৭ জনে। এদের পাশাপাশি আহত হয়েছে আরও এক লাখ ২৬ হাজার ২২৭ জন ফিলিস্তিনি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিকগোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক হাজার ২শ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় তারা। হামাসের হামলার জবাব দিতে এবং জিম্মিদের মুক্ত করতে ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ১৫ মাস বেশি সময় ধরে টানা অভিযান চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতির দুই মাস শেষ হওয়ার আগেই গত ১৮ মার্চ থেকে আবারও গাজায় অভিযান চালায় আইডিএফ। দ্বিতীয় দফার এ অভিযানে গত আড়াই মাসে গাজায় নিহত হয়েছে ছয় হাজার ৭১০ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছে আরও প্রায় ২৩ হাজার ৫৮৪ জন।
করাচিতে ভবন ধসে নিহত ১৪, ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন অনেকে

করাচিতে ভবন ধসে নিহত ১৪, ধ্বংসস্তূপে আটকে আছেন অনেকে করাচির লিয়ারির বাগদাদী এলাকায় শুক্রবার ৪ জুলাই ধসে পড়া একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অন্তত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও আটজন পুরুষ রয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন। এছাড়া তিনজন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ৬ থেকে ৭ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভবনটি ঘনবসতিপূর্ণ লিয়ারির বাগদাদী এলাকায় অবস্থিত ছিল। এতে প্রায় ২০টি ফ্ল্যাটে ৪০ জনের বেশি বাসিন্দা ছিলেন। শুক্রবার হঠাৎই ভবনটি ধসে পড়ে, যার ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে শনাক্ত করতে ট্র্যাপড পারসন লোকেটর নামে একটি বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ধ্বংসস্তূপের নিচে হৃদস্পন্দন শনাক্ত করতে পারে। প্রতিটি স্তরের ধ্বংসাবশেষ সরানোর পর এই যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে উদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হলেও নিখুঁতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানে আরও ৭-৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে করাচি কমিশনার সৈয়দ হাসান নকভি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, আমরা কাউকে জোর করে সেখান থেকে সরাতে পারি না। তিনি আরও জানান, ভবনটির অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে শিগগিরই সিন্ধ বিল্ডিং কন্ট্রোল অথরিটির সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তালিবানকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ রাশিয়া

তালিবানকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশ রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এই সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গতকাল কাবুলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মুত্তাকি রাশিয়ার এই স্বীকৃতিকে ‘ইতিবাচক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মানের নতুন অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এটিকে অন্য দেশগুলোর জন্য ‘উদাহরণ’ বলে দাবি করেন। তালিবানরা ২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিনিয়োগের চেষ্টা চালিয়ে আসছে, যদিও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শক্তি, কৃষি, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে। এ ছাড়া, রাশিয়া আফগানিস্তানকে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সাহায্য অব্যাহত রাখবে।
২৪ ঘণ্টার ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ১০৯

২৪ ঘণ্টার ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত ১০৯ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর গতকালের (১ জুলাই) চালানো একের পর এক হামলায় কমপক্ষে ১০৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার চিকিৎসা সূত্রগুলো একপ্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ১৬ জন ক্ষুধার্ত ত্রাণ প্রত্যাশী, যারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বিতর্কিত সংস্থা গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে সমবেত হয়েছিলেন। সেখানে ইসরায়েলি সেনারা ভিড় করা মানুষজনের ওপর গুলি চালালে তারা নিহত হন। জিএইচএফ গত মে মাসের শেষ দিকে সীমিত ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাদের কেন্দ্র গুলোতে প্রায় ৬০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গতকাল গাজা সিটির উত্তরে, যেখানে ইসরায়েল সম্প্রতি জোরপূর্বক নির্বাসন নির্দেশ জারি করেছে, সেই এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। ওই এলাকা ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানায়, একটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোনের হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার অন্তত ৮২ শতাংশ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি সেনা নিয়ন্ত্রিত বা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকির মধ্যে রয়েছে এবং মানুষের আর কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। দক্ষিণে খান ইউনুস ও এর আল-মাওয়াসি এলাকায় আল-জানাতি পরিবারের একটি বাড়ি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হন। একইসঙ্গে একটি বাস্তুহারা শিবিরে চালানো বিমান হামলায় এক শিশুর মৃত্যু এবং আরও কয়েকজন আহত হন। মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-আওয়দা হাসপাতাল সূত্র। এছাড়া আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে একটি জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের ওপর হামলায় আরও দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু’ ও ‘সশস্ত্র যোদ্ধা’দের লক্ষ্য করে গাজায় ১৪০ বারের বেশি হামলা চালিয়েছে। তবে, বাস্তবতা হলো নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ ফিলিস্তিনি নাগরিক, যাদের অনেকে আশ্রয়, খাবার বা জীবন বাঁচাতে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
পুত্রবধূকে সিনেট নির্বাচনের প্রার্থী করছেন ট্রাম্প

পুত্রবধূকে সিনেট নির্বাচনের প্রার্থী করছেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নির্বাচনে নিজের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পকে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন ট্রাম্প। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী সিনেট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। খবর রয়টার্সের। সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ট্রাম্প বলেন, “লারা নর্থ ক্যারোলাইনায় জন্মেছে ও বেড়ে উঠেছে। যদিও এখন সে ফ্লোরিডায় বাস করে, তবে মানসিকভাবে সে সবসময়ই নিজেকে নর্থ ক্যারোলাইনার মনে করে। সে খুব চমৎকার একজন মানুষ, আমি সবসময়েই চাইতাম যে সে পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা করুক।” লারা ট্রাম্প হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের তৃতীয় ছেলে এরিক ট্রাম্পের স্ত্রী। পেশাগতভাবে তিনি একজন টেলিভিশন উপস্থাপিকা এবং রাজনীতির মঞ্চেও তার সরব উপস্থিতি রয়েছে। তিনি ফক্স নিউজে ‘মাই ভিউ উইথ লারা ট্রাম্প’ নামে একটি সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বে গঠিত রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির কো-চেয়ার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কর সংস্কার ও অভিবাসন সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে সিনেটে। সেই বিলে ধনীদের জন্য কর ছাড় এবং দরিদ্রদের স্বাস্থ্যবিমার বিপুল অর্থ ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব করেছেন ট্রাম্প। সিনেটে ভোটাভুটির জন্য বিলটি যখন উত্থাপন করা হয়েছিল, সে সময় নর্থ ক্যারোলাইনার সিনেটর থম টিলিস বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় টিলিসের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প। তাই আসন্ন সিনেট নির্বাচনে টিলিসকে মনোনয়ন না দিয়ে নর্থ ক্যারোলাইনার ওই আসনে নিজের পুত্রবধুকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা ৫০টি, আর কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মোট আসনসংখ্যা ১০০টি। বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যের কোনোটি রিপাবলিকান আবার কোনোটি ডেমোক্রেটিক পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এর বাইরে অল্প কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের সময় রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নর্থ ক্যারোলাইনা সেই সব অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম।
বৃষ্টি-বন্যায় বিপর্যস্ত ভারত ও পাকিস্তান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩

বৃষ্টি-বন্যায় বিপর্যস্ত ভারত ও পাকিস্তান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ পাকিস্তান ও ভারতে চলমান বৃষ্টিপাত এবং আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, দেশের বেশ কয়েকটি অংশে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা অব্যাহত থাকবে। পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, ২৬ জুন থেকে পাকিস্তানজুড়ে বৃষ্টিপাতজনিত ঘটনায় কমপক্ষে ৬৩ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এনডিএমএ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। মোট মৃত্যুর মধ্যে পাঞ্জাবে ১১ শিশুসহ ২১ জন, খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১০ শিশু ও পাঁচজন নারীসহ ২২ জন, সিন্ধুতে ১৫ জন এবং বেলুচিস্তান প্রদেশে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে, বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলীয় ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জরুরি অপারেশন সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৩২ ঘণ্টায় হিমাচলের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও তিনটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তান ও ভারতে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষাকাল থাকে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই মৃত্যুদণ্ড, ইরানে আইন পাস

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই মৃত্যুদণ্ড, ইরানে আইন পাস দখলদার ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক থাকলেই পেতে হবে মৃত্যুদণ্ড। এছাড়াও অন্য ‘শত্রু’ দেশগুলোর সঙ্গেও ইরানের কোনও মানুষ যোগাযোগ রাখলে একই শাস্তি পেতে হবে। আজ ইরানের সংসদে নতুন এই আইন পাস হয়েছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো, গুপ্তচরগিরি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শত্রু দেশের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ‘পৃথিবীতে দুর্নীতির’ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। বিশেষভাবে ইসরায়েলের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যারা ইসরায়েলকে সামরিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ভোগ করতে হবে। অপরদিকে স্টারলিংকসহ অন্যান্য অননুমোদিত ইন্টারনেট সেবার সরঞ্জাম ক্রয়, বিক্রি ও কাছে রাখা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। কেউ এ অপরাধে অভিযুক্ত হলে তাকে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড পেতে হবে। আর যারা এসব নিষিদ্ধ যন্ত্রাংশ ১০টির বেশি উৎপাদন বা আমদানি করবে তাদের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। এছাড়া কেউ যদি সামরিক ড্রোন তৈরি করে, সাইবার হামলা করে অথবা শত্রুদের জন্য ইরানি অবকাঠামোয় কোনও নাশকতামূলক কাজ করে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। এমনকি যদি শুধুমাত্র কেউ এ ধরনের কোনও চেষ্টা চালায়, তাকেই মৃত্যুদণ্ড পেতে হবে। এরসঙ্গে কেউ যদি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ ও এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে যেগুলো মানুষের মধ্যে ‘বিভক্তি, ভয়’ তৈরি করে এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়’ তাদের ১০ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া বিদেশি গণমাধ্যমকে কোনও ছবি বা ভিডিও পাঠালে সেগুলো যদি ইরানি জনগণের ‘মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত করে’ তাহলে দুই থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় আদেশ বা ফতোয়া জারি করেছেন ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি। এই ফতোয়ায় তিনি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘আল্লাহর শত্রু’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি বা শাসক ইসলামের নেতা বা শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে হুমকি দেয়, সে ‘যুদ্ধপিপাসু’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে।