হরমুজে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজে বাধা দেবে না ইরান

হরমুজে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজে বাধা দেবে না ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ প্রকাশিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই সমুদ্রপথ খোলা থাকবে। ইরানের এই বন্ধুরাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি-সংকট ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ওই সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম যে দাবি করে আসছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, “অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি বা অন্য কোনও কারণে অনুমতি দিয়েছি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।” আরাগচি আরও বলেন, “আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত (এ তালিকায় আছে)। গত কয়েক রাতে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এমনকি আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশও এ তালিকায় আছে। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আরাগচি বলেন, “আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকছে।” ইরান বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে এই পথে দৈনিক ১২০টির মতো জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে হুথি বিদ্রোহীরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে হুথি বিদ্রোহীরা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এবার সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক ‘অবহিত সূত্রের’ বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুথিরা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এখন তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি, যারা আনসারুল্লাহ নামেও পরিচিত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। শুধু ইসরায়েলই নয়, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমা নৌবাহিনীগুলো লোহিত সাগরে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করার চেষ্টা করলেও হুথিদের এই নিয়মিত আক্রমণ ঠেকাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দাব প্রণালিটি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। যদি হুথি বিদ্রোহীরা এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তবে লোহিত সাগরে পশ্চিমা শক্তির বিকল্প পথগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। তাসনিম নিউজের দাবি অনুযায়ী, এই প্রণালি দখল করা হুথিদের জন্য একটি ‘সহজ কাজ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নতুন হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি ও পণ্য সংকটের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জি৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্থান পাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি

জি৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্থান পাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের সঙ্গে ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধের মধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সাত দেশের অর্থনৈতিক জোট জি৭ এর বৈঠক।পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে দুই দিনের এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, পুনর্গঠন প্রচেষ্টা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা র সংস্কারের ওপর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে একজন ফরাসি কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওই কূটনৈতিক বলেন, ‘বিশ্ব শাসনের সংস্কার’ বিষয়ক একটি ভিত্তিগত আলোচনার মাধ্যমে বৈঠকটি শুরু হবে, যা বৃহত্তর আলোচ্যসূচির রূপরেখা নির্ধারণ করবে। মন্ত্রী পর্যায়ের এই সমাবেশটি ছয়টি কার্যকরী অধিবেশনে বিভক্ত হবে। এর প্রথম তিনটি অধিবেশনে শুধু জি৭ সদস্যরাই নয়, আমন্ত্রিত অংশীদার—সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, ভারত এবং ইউক্রেনও—অংশগ্রহণ করবে এবং এরপর শেষ তিনটি অধিবেশনে শুধুমাত্র জি৭-এর সদস্যদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ফরাসি কূটনীতিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জি৭ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটি দুই দিনব্যাপী ছয়টি অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই কাঠামোটি জি৭ সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রথম দিন: শাসনব্যবস্থা, পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রথম অধিবেশনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের ওপর আলোকপাত করা হবে, যার মধ্যে শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যকারিতা এবং খরচ কমাতে ও কার্যকারিতা বাড়াতে মানবিক সহায়তা সরবরাহ ব্যবস্থাকে যৌক্তিক করার প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে একাধিক অঞ্চলের পুনর্গঠন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, যার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে চেরনোবিলের আটক রাখার তোরণটির পুনরুদ্ধার। কূটনীতিক বলেন, “চেরনোবিল বিস্ফোরণের ৪০তম বার্ষিকীতে আমরা এই তোরণটি মেরামত করার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করব। তিনি আরও যোগ করেন, ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং প্রথমবারের মতো একটি বিস্তারিত ব্যয় মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। যার আনুমানিক পরিমাণ ‘কমপক্ষে কয়েক কোটি’ পর্যন্ত পৌঁছাবে। একই অধিবেশনে সিরিয়া এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ক্যাপটাগন মাদক পাচার প্রতিরোধের প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণকে উৎসাহিত করার উদ্যোগগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। কূটনীতিক ‘এই অঞ্চলে পুনর্গঠনের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তার’ ওপর জোর দেন। দ্বিতীয় দিন: সার্বভৌমত্বের হুমকি ও বৈশ্বিক সংকট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে অনুভূমিক হুমকি ও সার্বভৌমত্ব বিষয়ক একটি অধিবেশনের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে মাদক পাচার মোকাবেলায় বন্দরগুলোর একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে একটি জি-৭ টাস্ক ফোর্স গঠনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যান্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই মাসে মার্টিনিকে অনুষ্ঠিতব্য ক্যারিবিয়ান আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন, যা মাদক পাচারের উপর আলোকপাত করবে এবং ১৯ শে মে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম ‘সন্ত্রাসে অর্থ নয়’ সম্মেলন। আলোচ্যসূচিতে মার্কিন ও কানাডীয় উদ্যোগসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুধুমাত্র জি-৭ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত শেষ তিনটি অধিবেশনে সবচেয়ে সংবেদনশীল কিছু ভূ-রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইউক্রেন, ইরান এবং বৈশ্বিক সংঘাতপূর্ণ এলাকা চতুর্থ অধিবেশনে ইউক্রেনের ওপর আলোকপাত করা হবে, যেখানে জ্বালানি, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর ধারাবাহিক চাপ প্রয়োগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আশা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে অংশ নেবেন এবং আলোচনায় চেরনোবিল আর্চ প্রকল্প ও বৃহত্তর জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা সহায়তার বিষয়টিও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। পঞ্চম অধিবেশনে ইরানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যার মধ্যে পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চূড়ান্ত অধিবেশনে ইন্দো-প্যাসিফিক, সুদান, হাইতি, গাজা, ভেনেজুয়েলা এবং কিউবাসহ একাধিক অঞ্চলের বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। ফরাসি কূটনীতিক বলেন, আমরা যতটা সম্ভব, অবাধ ও অনানুষ্ঠানিক আদান-প্রদানকে সমর্থন করি, যা জি৭-এর চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অধিবেশনে গণমাধ্যমকর্মীরা কার্য অধিবেশনে প্রবেশাধিকার পাবেন না, তবে একটি নির্দিষ্ট প্রেস সেন্টার থেকে কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ফরাসি প্রেসিডেন্সি সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে। যা ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। প্রত্যাশিত ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছে শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন এবং সামুদ্রিক বন্দর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক পাচার রোধে একটি জি-৭ টাস্ক ফোর্স চালু করা। আঞ্চলিক ফলোআপ সম্মেলনেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ক্যারিবিয়ানে নিরাপত্তা বৈঠক এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্যাপটাগন পাচার বিষয়ক বৈঠক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পঞ্চম ‘সন্ত্রাসে কোনো অর্থ নয়’ সম্মেলনটি ১৯ মে অনুষ্ঠিত হবে, যার মূল লক্ষ্য থাকবে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোতে আর্থিক প্রবাহ ব্যাহত করা। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন এবং নভেম্বরে মার্সেইতে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে আরও রাজনৈতিক সমন্বয় প্রত্যাশিত, পাশাপাশি ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৭ জুন এভিয়ানে নির্ধারিত জি৭ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের আগেও এই সমন্বয় সভা হবে। ফরাসি কূটনীতিক এই এজেন্ডাকে নিরাপত্তা, পুনর্গঠন এবং শাসন সংস্কার জুড়ে ‘সুনির্দিষ্ট ফলাফল’ অর্জনের লক্ষ্যে একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা একইসাথে জি৭-এর আনুষ্ঠানিক সমন্বয় এবং অনানুষ্ঠানিক কূটনীতির ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত ১৪

ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে নিহত ১৪ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পাথরবোঝাই লরির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর আগুনে দগ্ধ হয়ে অন্তত ১৪ যাত্রী মারা গেছেন। আজ ভোররাতে রাজ্যের মারকাপুরাম জেলার কাছে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৩ জন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জানা গেছে, এদিন ভোরের দিকে যাত্রীবাহী বাসটি তেলেঙ্গানার জাগিট্যাল থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার কি কালিগিরির উদ্দেশে যাচ্ছিল। এ সময় মারকাপুরম এলাকায় উল্টো দিক থেকে আসছিল নুড়ি বোঝাই একটি ট্রাক। সংঘর্ষের পরেই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। আর তাতেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে বেশিরভাগ যাত্রীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় মানুষ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত উদ্ধার কাজ চালায়। এরপর অগ্নিদগ্ধ বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনায় ট্রাকের চালককেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্থ বাসটিতে অন্তত ৩৭ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনাস্থলে একাধিক যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরও কয়েকজন যাত্রী মারা যান। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মারকাপুরাম জেলার পুলিশ সুপার ভি হর্ষবর্ধন রাজু জানিয়েছেন, ‘আমরা ২৩ জন মানুষকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সন্ধানে প্রচেষ্টা চলছে।’ মুখ্যমন্ত্রী নারা চন্দ্রবাবু নাইডু এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
নিজ নাগরিকদের ইরাক ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র

নিজ নাগরিকদের ইরাক ছাড়তে বললো যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ছেড়ে যেতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় এ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকি দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশজুড়ে—কুর্দি অঞ্চলে, মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্র–সম্পর্কিত লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এ কারণে মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ত্যাগ করতে এবং বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা এরবিলে থাকা কনস্যুলেট জেনারেলে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ইরাকের আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রকেট হামলার ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান। এ কারণে দেশটির আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। যারা দেশ ছাড়তে চান, তাদেরকে আকাশপথের পরিবর্তে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব ও তুরস্কগামী স্থলপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় তেল মজুদ ছাড়তে শুরু করেছে জাপান

রাষ্ট্রীয় তেল মজুদ ছাড়তে শুরু করেছে জাপান ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রশমিত করতে নিজেদের কৌশলগত রাষ্ট্রীয় তেল মজুদ থেকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে জাপান। দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কানামে মোরিমোতো এক সংবাদ সংস্থাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, টোকিও এক মাসের সমপরিমাণ সরকারি মজুদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এখন বেসরকারি খাতের ১৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুদ বাজারে ছাড়ার কাজ শুরু করেছেন কর্মকর্তারা। জাপান বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক রাষ্ট্র। দেশটির মোট চাহিদার ৯০ শতাংশেরও বেশি তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার ফলে এই অঞ্চলের যেকোনো অস্থিতিশীলতা জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। আজ ইরানের সেনাবাহিনী এমন দাবি করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত মিডিয়া এমন খবর প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, কোস্টাল ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে। প্রেস টিভিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ইরনা সংবাদ সংস্থা নৌবাহিনী কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই অপারেশন পরিচালিত হয়েছে। ইরনার তথ্যানুযায়ী, ইরানি নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি বলেন, শত্রুপক্ষের এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার অ্যাব্রাহাম লিংকনের চলাচল নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমায় প্রবেশ করলে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে আঘাত করা হবে। সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, কোস্টাল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন ক্যারিয়ার গ্রুপের দিকে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। যার ফলে ক্যারিয়ারকে অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৬তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সম্পত্তির দাম কমছে দুবাইয়ে

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সম্পত্তির দাম কমছে দুবাইয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধ তিন সপ্তাহ পেরিয়ে চার সপ্তাহে পড়েছে। এ কারণে ইউএইর বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে গড়ে ওঠা ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দুবাইয়ে প্রোপার্ট মার্কেট বা সম্পত্তির বাজারে লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত কমছে। ইতোমধ্যে কিছু আবাসন এজেন্ট দাম কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এদিকে আবাসন কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামও কমেছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা ইমার প্রোপার্টিজের শেয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাই শেয়ারবাজারে ২৬ শতাংশের বেশি কমেছে। চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকদের এক নোট অনুযায়ী, চলতি মার্চের প্রথম ১২ দিনে ইউএইর আবাসন খাতে লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। একইভাবে গত মাসের (ফেব্রুয়ারি) একই সময়ের তুলনায় লেনদেন পরিমাণ ৪৯ শতাংশ কম। ইতিমধ্যে ইউএইর কিছু সম্পত্তি বড় ছাড়ে বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের তথ্য ও রয়টার্সের পর্যালোচনা করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা অনুযায়ী, সম্পত্তির দাম কোথাও কোথাও ১২-১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রিয়েল এস্টেট খাতের উত্থান দুবাইয়ের অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলেছে। তবে টানা পাঁচ বছর দাম বাড়ার পর বাজারে মন্দার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। বর্তমান সংঘাত এই বাজারের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। করমুক্ত নীতির কারণে ধনী অভিবাসীদের ঢলই এত দিন চাহিদা বাড়িয়ে রেখেছিল। সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই যুদ্ধ দুবাইয়ে ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রত্যাশায় ‘উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করেছে। এতে বাড়ির ক্রেতা ও সম্পত্তি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধসহ ৫ শর্ত ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধসহ ৫ শর্ত ইরানের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে পৌঁছাতে পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান। সোমবার হিব্রু গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরান পাঁচটি শর্ত দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে এই সংঘাত নিরসনে ইরান কিছু কঠোর আনুষ্ঠানিক দাবি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম শর্ত হিসেবে ইরান চেয়েছে ভবিষ্যতে আর যেন যুদ্ধ শুরু না হয়-এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাদের হাতেই থাকতে হবে। তৃতীয় শর্ত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ইরান। তাদের মতে, এসব ঘাঁটি থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। চতুর্থ শর্তে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, সাম্প্রতিক হামলায় দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতির বড় ক্ষতি হয়েছে, তাই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পঞ্চম শর্ত হিসেবে ইরান অভিযোগ করেছে, কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া বা তাদের হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে দেশটি। এর আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন বেশ কিছুদিন ধরে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান আলোচনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। এরপর থেকে ইরান ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছেই।
৪র্থ বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জির সরকার

৪র্থ বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জির সরকার পশ্চিমবঙ্গে আরও একটি মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারে মমতা ব্যানার্জি-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে দলটি ১৮৪–১৯৪টি আসন পেতে পারে বলে একটি জনমত জরিপে আভাস মিলেছে। সর্বভারতীয় গণমাধ্যম CNN-News18-এ প্রকাশিত ‘ভোট-ভাইব’ জরিপ অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেতে পারে ৯৮–১০৮টি আসন। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে থাকবে। জরিপে আরও বলা হয়েছে, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট-সহ অন্যান্য দল মিলিয়ে পেতে পারে মাত্র ১-৩টি আসন। ভোটের হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৪১.৯ শতাংশ এবং বিজেপি ৩৪.৯ শতাংশ ভোট। জরিপে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রবণতারই প্রতিফলন ঘটতে পারে এবারের বিধানসভা ভোটে। সম্প্রদায়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুসলিম ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের শক্ত অবস্থান বজায় রয়েছে—৫৭.৬ শতাংশ তাদের সমর্থন করছে। অন্যদিকে তফসিলি উপজাতিদের মধ্যে বিজেপির সমর্থন ৫১ শতাংশ। তফসিলি জাতি ও দলিত ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভাজন থাকলেও ৪৩ শতাংশ বিজেপি এবং ৩৯.৫ শতাংশ তৃণমূলকে সমর্থন করছে। মুখ্যমন্ত্রী পদের পছন্দের তালিকাতেও এগিয়ে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি—৪৮.৫ শতাংশ সমর্থন নিয়ে শীর্ষে। তাঁর পরে রয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (৩৩.৪ শতাংশ)। এছাড়া মোহাম্মদ সেলিম পেয়েছেন ৪.৩ শতাংশ এবং অধীর রঞ্জন চৌধুরী পেয়েছেন ৩.৭ শতাংশ সমর্থন। জরিপে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু বেকারত্ব—৩৭.২ শতাংশ উত্তরদাতা এটিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা, মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্নীতিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জরিপে বলা হয়েছে, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণও প্রভাব ফেলতে পারে নির্বাচনে। বিশেষ করে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এজেইউপি) এবং অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম)-এর জোট তৃণমূলের ভোটব্যাংকে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের কাজকে ৪৩.৩ শতাংশ মানুষ ‘ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ বললেও ৩৮.৯ শতাংশ একে ‘খারাপ’ বা ‘খুব খারাপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। এতে বোঝা যায়, সরকারের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি কিছুটা অসন্তোষও রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্বের অভাব, দুর্বল সংগঠন ও জনসংযোগের ঘাটতি। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।