যে কারণে বিদেশি শিক্ষার্থী হারাচ্ছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

যে কারণে বিদেশি শিক্ষার্থী হারাচ্ছে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের শরৎকালের মধ্যে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোত নতুন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ১৭ শতাংশ কমে গেছে। ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের এক প্রতিবেদনের বরাতে বিশ্লেষণধর্মী সংবাদমাধ্যম ইউএসনিউজ তাদের এক নিবন্ধে লিখেছে, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি কমে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ১৭ শতাংশ কমেছে। যা আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিদদের সমিতির অনুমান অনুসারে, প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব এবং প্রায় ২৩,০০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানোর সমতুল্য। যদিও স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থী ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে স্নাতক এবং ডিগ্রিবিহীন প্রোগ্রামগুলোতে ভর্তি যথাক্রমে ১২ এবং ১৭ শতাংশ কমেছে। ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের গবেষণা ও মূল্যায়ন প্রধান মিরকা মার্টেল বলেন, এই প্রতিবেদনটি স্প্রিং সেমিস্টারের শুরুতে প্রায় ৮২৫টি প্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতির একটি প্রাথমিক চিত্র মাত্র। সম্পূর্ণ তথ্য ওপেন ডোরস ২০২৬ রিপোর্টে প্রকাশিত হবে। ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের মতে, এই প্রবণতার প্রধান কারণ হলো ভিসা সমস্যা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের প্রবেশের বিষয়ে মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত। এই প্রভাবগুলোর একটি উদাহরণ সান দিয়াগো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে দেখা গেছে। সেখানে বিদশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০২৪ সালের স্প্রিং সেশনে ভর্তি হওয়া ৯৫৭ জন থেকে কমে ২০২৫ সালের স্প্রিং সেশনে ৮৮৯-এ দাঁড়িয়েছে। এতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় দেশীয় শিক্ষার্থী ভর্তি জোরদার করেছে এবং তাদের ওয়েটিং লিস্ট দীর্ঘ করেছে। ৭০ শতাংশেরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের ২০২৬ সালের স্প্রিং সেশন পর্যন্ত ভর্তি স্থগিত রাখার অনুমতি দিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করার জন্য আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস বা অনলাইন লার্নিং প্রোগ্রামও ব্যবহার করেছে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এই প্রবণতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল, আন্তর্জাতিক একাডেমিক অংশীদারিত্ব এবং মার্কিন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, বেড়েছে তেলের দামও

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৫০০ ডলারের সীমা ছুঁইছুঁই করছে। মার্কিন-ভেনিজুয়েলা উত্তেজনার জেরে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মূল্যবান এই ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন। একইসঙ্গে রুপার দামও পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। আজ ২৩ ডিসেম্বর বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮৬ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, সেশনের শুরুতে যা রেকর্ড ৪ হাজার ৪৯৭ দশমিক ৫৫ ডলারে পৌঁছেছিল। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫১৯ দশমিক ৭০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘মার্কিন-ভেনিজুয়েলা উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের কাছে অনিশ্চয়তার বিপরীতে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে আবারও নজরে এনেছে। মার্কিন সুদের হার আরও কমতে পারে-এমন প্রত্যাশার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দামে এই উত্থান দেখা যাচ্ছে। এদিকে স্পট মার্কেটে রুপার দাম রেকর্ড ৬৯ দশমিক ৯৮ ডলার ছুঁয়েছে। চলতি বছরে রুপার দাম বেড়েছে ১৪১ শতাংশের বেশি। সরবরাহ ঘাটতি, শিল্প খাতে চাহিদা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের কারণে রুপার বৃদ্ধির হার স্বর্ণকেও ছাড়িয়ে গেছে। পেপারস্টোনের সিনিয়র কৌশলবিদ মাইকেল ব্রাউন বলেন, উৎসবের মৌসুমে তারল্য কমে যাওয়ায় বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যেতে পারে। তবে ভলিউম বাড়লে আবারও ঊর্ধ্বগতি শুরু হবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, আগামী বছর স্বর্ণের জন্য ৫ হাজার ডলার এবং দীর্ঘমেয়াদে রুপার জন্য ৭৫ ডলার একটি স্বাভাবিক লক্ষ্য হতে পারে। অন্যদিকে স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ১৪৫ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১৭ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্যালাডিয়ামের দামও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে তিন বছরের সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের নিন্দা যুক্তরাজ্যের

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের নিন্দা যুক্তরাজ্যের অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে ১৯টি অবৈধ বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বলেন, “যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি সরকারের অনুমোদনের নিন্দা জানাচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এগুলো অবৈধ।”সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু। ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের জানান, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। ফলে গত তিন বছরে অনুমোদিত অবৈধ বসতির মোট সংখ্যা ৬৯টিতে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ মন্ত্রী ফ্যালকনার বলেন, “ইসরায়েলের এ পদক্ষেপ ২০ দফা পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও নিরাপত্তার সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। কেবল দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানই সংকট নিরসনের একমাত্র পথ।” আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল ও পরে অঞ্চলটিকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। জেরুজালেমকে বাদ দিলে পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর বসবাস। দখল করা ভূমিতে ইসরায়েলের এ ধরনের বসতি স্থাপনকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও অবৈধ বলে মনে করে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও ইসরায়েলকে এসব কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে অসংখ্য প্রস্তাব পাস হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল বাস, নিহত ১৬

ইন্দোনেশিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল বাস, নিহত ১৬ ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে একটি মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানী জাকার্তা থেকে ইয়োকার্তাগামী একটি বাস মহাসড়কের ইন্টারচেঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর খালিজ টাইমসের। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান বুদিওনো জানান, বাসটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। হাইওয়ে ইন্টারচেঞ্জের একটি মোড় ঘোরার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের প্রতিবন্ধকতায় সজোরে ধাক্কা খায় এবং উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয়। বাসটিতে ৩৪ জন যাত্রী ছিল। বাকিদের উদ্ধার করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য সেমারাং শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার এই দেশটিতে পরিবহন দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে পুরোনো যানবাহনগুলো ঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না এবং নিয়মিত সড়কের নিয়ম-শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১০

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ১০ দক্ষিণ আফ্রিকায় এক বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত ও অপর ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। জোহানেসবার্গ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। পুলিশ এএফপিকে জানায়, নগরী থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বেকারসডালে এ গুলি হামলার ঘটনা ঘটে। তবে, গুলি চালানোর উদ্দেশ্য জানা যায়নি। পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের পরিচয় এখনো সনাক্ত করা যায়নি। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা রাস্তায় চলাচলরত ক’জনের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জেলেনস্কির আহ্বান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর আরও চাপ প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় রাজি করানোর সক্ষমতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জেলেনস্কির এই মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন নতুন দফার আলোচনার লক্ষ্যে কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে একত্রিত হয়েছেন। জেলেনস্কি বলেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ছয় মাসের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে যুদ্ধ শেষ করতে হলে মস্কোর ওপর আরও কঠোর চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ করতে রাশিয়াকে রাজি করানোর ক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই আছে। যদি কূটনীতি কাজ না করে, তাহলে পূর্ণ চাপ প্রয়োগ করতে হবে।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো সেই মাত্রার চাপ অনুভব করেননি, যা তার ওপর থাকা উচিত। তিনি ইউক্রেনে আরও অস্ত্র সরবরাহ এবং রাশিয়ার সমগ্র অর্থনীতির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত কিরিল দিমিত্রিভ মিয়ামিতে পৌঁছেছেন। সেখানে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দিমিত্রিভ সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা গঠনমূলকভাবে শুরু হয়েছে এবং তা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের দূতরা একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে। তবে এর বিনিময়ে কিয়েভকে কিছু ভূখণ্ড ছাড় দিতে হতে পারে—যা অনেক ইউক্রেনীয়র মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার জানিয়েছেন, ইউক্রেনের সম্মতি ছাড়া কোনো শান্তি চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “ইউক্রেন রাজি না হলে কোনো শান্তি চুক্তি হবে না।” রুবিও শনিবার নিজ শহর মিয়ামিতে আলোচনায় যোগ দিতে পারেন বলেও জানান। উল্লেখ্য, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ সরাসরি আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল গত জুলাই মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। ওই আলোচনার ফলে বন্দী বিনিময় হলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ইমরান-বুশরাকে তোশাখানা মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ড

ইমরান-বুশরাকে তোশাখানা মামলায় ১৭ বছরের কারাদন্ড পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে তোশাখানা-২ মামলায় ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি বিশেষ আদালত। খবর এনডিটিভির। রাষ্ট্রীয় উপহার বেআইনিভাবে গ্রহণ ও বিক্রির ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে মামলার শুনানি শেষে এ রায় দেয়া হয়। ইমরান খান এই কারাগারেই বন্দি আছেন। আদালত পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৪ ও ৪০৯ ধারার অধীনে ইমরান খানের জন্য ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে সাত বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে। একই ধারায় বুশরাকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত তাদের দুজনকেই এক কোটি ৬৪ লাখ টাকা জরিমানাও করেছে। আইন অনুযায়ী, জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায়ে বলা হয়েছে, সাজা প্রদানের সময় ইমরান খানের বয়স এবং বুশরা বিবি নারী হওয়াকে বিবেচনা করে শাস্তি কমানো হয়েছে। ইমরান খান ও বুশরার আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। মামলাটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো (এনএবি) দায়ের করেছিল।

তিন দশকের মধ্যে জাপানে সুদের হার বেড়ে সর্বোচ্চ

তিন দশকের মধ্যে জাপানে সুদের হার বেড়ে সর্বোচ্চ জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব জাপান’ (বিওজে) নীতিগত সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রধান নীতিগত সুদের হার ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ।  এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে সুদ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিওজে জানায়, সুদের হার বাড়ানো হলেও বাস্তব সুদের হার এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে ঋণাত্মক থাকবে। ফলে সহনশীল বা অ্যাকোমোডেটিভ আর্থিক নীতি অব্যাহত থাকবে। যা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন জোগাবে। শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশটির প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই ২২৫ বেড়েছে ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। তবে একই সময়ে ইয়েনের মান কমে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৫৫ দশমিক ৯২ ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। বিওজের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মূল মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে। সেজন্য খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির গতি কম রাখা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। তবে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জাপানের অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সংশোধিত জিডিপি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জাপানের অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় ০ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে বার্ষিক হিসাবে সংকুচিত হয়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ

পাকিস্তানে থাকা ৫৩৫ আফগান নাগরিককে আশ্রয় দেবে জার্মানি

পাকিস্তানে থাকা ৫৩৫ আফগান নাগরিককে আশ্রয় দেবে জার্মানি পাকিস্তানে আটকে থাকা ৫৩৫ জন আফগান নাগরিককে জার্মানিতে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জার্মান সরকার গতকাল জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট আরএনডি মিডিয়া নেটওয়ার্ককে বলেছেন, বার্লিন চায় ‘ডিসেম্বরে যতটা সম্ভব’ এসব মামলার প্রক্রিয়া শেষ করতে, যাতে সংশ্লিষ্ট আফগানরা জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারেন। এই আফগান নাগরিকদের আগের জার্মান সরকারের একটি শরণার্থী কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছিল। তবে মে মাসে রক্ষণশীল চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মসূচিটি স্থগিত হলে তারা পাকিস্তানে আটকা পড়েন। পাকিস্তান বছরের শেষ নাগাদ এসব মামলার নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল।

বায়ু দূষণ রোধ বাঁচাতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ১০০ কোটি মানুষের জীবন

বায়ু দূষণ রোধ বাঁচাতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার ১০০ কোটি মানুষের জীবন দক্ষিণ এশিয়ার ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশ (আইজিপি-এইচএফ) নামে পরিচিত অংশগুলোতে বায়ু দূষণ স্বাস্থ্য এবং উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি করছে। এটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুতর উন্নয়ন চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। এই অঞ্চলের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ অস্বাস্থ্যকর বায়ু শ্বাস নেয়, যার ফলে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। এর ফলে প্রতি বছর এই অঞ্চলে জিডিপির প্রায় ১০ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়ে থাকে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ‘পরিবর্তনের নিঃশ্বাস: ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি এবং হিমালয়ের পাদদেশে পরিচ্ছন্ন বাতাসের সমাধান’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং বিচারব্যবস্থায় কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে, জনস্বাস্থ্যের উন্নতি করতে এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থনে অবদান রাখবে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত আইজিপি-এইচএফ-এ বায়ু দূষণের মূল উৎস পাঁচটি। এর মধ্যে রয়েছে- রান্না ও গরম করার জন্য কঠিন জ্বালানি পোড়ানো, উপযুক্ত ফিল্টার প্রযুক্তি ছাড়াই জীবাশ্ম জ্বালানি ও জৈববস্তুপুঞ্জ পোড়ানো, অদক্ষ অভ্যন্তরীণ দহন যানবাহন ব্যবহার করা, কৃষকদের ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো এবং অদক্ষভাবে সার ও সার ব্যবস্থাপনা করা, এবং পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য পোড়ানো। প্রতিবেদনে এমন কিছু সমাধান তুলে ধরা হয়েছে, যা সহজেই গ্রহণ করা এবং এর ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে- বৈদ্যুতিক রান্না; শিল্প বয়লার, চুল্লি এবং ইটভাটার বিদ্যুতায়ন এবং আধুনিকীকরণ; অ-মোটরচালিত এবং বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থা; উন্নত ফসলের অবশিষ্টাংশ এবং পশুপালনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; এবং উন্নত বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং নিষ্কাশন। প্রতিবেদনে পরিচ্ছন্ন-বাতাস সমাধানগুলোকে তিনটি পারস্পরিকভাবে তিনটি ক্ষেত্রে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, রান্না, শিল্প, পরিবহন, কৃষি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তাদের উৎসে নির্গমন হ্রাস করে এমন হ্রাস সমাধান। দ্বিতীয়ত, সুরক্ষা ব্যবস্থা যা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে, যাতে পরিষ্কার বাতাসে রূপান্তরের সময় শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলো সুরক্ষিত থাকে। তৃতীয়ত, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজার-ভিত্তিক উপকরণ এবং আঞ্চলিক সমন্বয় দ্বারা সমর্থিত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যা সময়ের সাথে সাথে বহু-ক্ষেত্র এবং বহু-বিভাগীয় অগ্রগতি বজায় রাখে। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ অর্থনীতিবিদ মার্টিন হেগার বলেন, “এই প্রতিবেদন থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সমাধানগুলো নাগালের মধ্যেই রয়েছে এবং নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য সমন্বিত, সম্ভাব্য এবং প্রমাণ-ভিত্তিক সমাধানগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তব রোডম্যাপ প্রদান করে। দক্ষিণ এশীয় উদ্যোগ, পরিবার এবং কৃষকদের জন্য পরিষ্কার প্রযুক্তি এবং অনুশীলন গ্রহণের জন্য এবং সরকারগুলোকে তাদের সমর্থন করার জন্য শক্তিশালী আর্থিক ও অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে।” সমাধানগুলো কার্যকর করতে দেশগুলোকে সহায়তা করতে প্রতিবেদনটি ‘চারটি-আই’ এর উপর জোর দেয়। সেগুলো হলো:- ইনফরমেশন (তথ্য): পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিতার জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করে এমন তথ্য। ইনসেনটিভ (প্রণোদনা): পরিষ্কার বিকল্পগুলোর দিকে আচরণগত এবং বিনিয়োগ স্থানান্তরকে উৎসাহিত করে এমন প্রণোদনা। ইন্সটিটিউশন (প্রতিষ্ঠান): এমন প্রতিষ্ঠান যা কর্মের সমন্বয় সাধন করে, সম্মতি নিশ্চিত করে এবং জাতীয় ও স্থানীয় বাস্তবায়নকে সংযুক্ত করে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার (অবকাঠামো): আধুনিক ও দক্ষ শিল্প কার্যক্রমের সাথে পরিচ্ছন্ন শক্তি, পরিবহন এবং বর্জ্য ব্যবস্থা সক্ষম করে এমন অবকাঠামো। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের অনুশীলন ব্যবস্থাপক অ্যান জিনেট গ্লোবার বলেন, “পরিচ্ছন্ন বায়ু অর্জনের জন্য স্থানীয়, জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে অব্যাহত সহযোগিতা, টেকসই অর্থায়ন এবং শক্তিশালী বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একসাথে কাজ করার মাধ্যমে, সরকারগুলো দূষণ কমাতে, লাখ লাখ জীবন বাঁচাতে এবং সকলের জন্য পরিষ্কার বায়ু সরবরাহ করার এই পথ অনুসরণ করতে পারে।