৯৭ হিমালয় পর্বতে বিনামূল্যে আরোহণের সুযোগ নেপালে

৯৭ হিমালয় পর্বতে বিনামূল্যে আরোহণের সুযোগ নেপালে পর্যটন শিল্প বাড়াতে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রচারে নেপাল সরকার আগামী দুই বছর ৯৭টি হিমালয় পর্বতে আরোহণের জন্য পারমিট ফি মওকুফ করছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) নেপালের দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। নেপালের সরকার এর আগে জানিয়েছিল যে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের খরচ বৃদ্ধি পাবে। এভারেস্ট আরোহণের পারমিট ফি ১১ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ১৫ হাজার ডলার হচ্ছে-প্রায় এক দশকের মধ্যে যা প্রথম বৃদ্ধি। তবে এবার নতুন সুখবর দিয়ে জানিয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৯৭টি পর্বতে বিনামূল্যে আরোহণ করা যাবে। নেপালের পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের ‘অজানা পর্যটন সম্ভাবনা ও গন্তব্যগুলোকে’ তুলে ধরা এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। পর্বতারোহণ নেপালের বড় আয়ের উৎস, যেখানে বিশ্বের ১০টি সর্বোচ্চ পর্বত অবস্থিত। শুধু গত বছরেই দেশটি এ খাত থেকে আয় করেছে ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার, যার তিন-চতুর্থাংশের বেশি এসেছে এভারেস্ট থেকে। যে ৯৭টি শৃঙ্গের ফি মওকুফ করা হবে, সেগুলো নেপালের কার্নালি ও সুদুরপশ্চিম প্রদেশে অবস্থিত। উচ্চতা ৫ হাজার ৯৭০ মিটার থেকে ৭ হাজার ১৩২ মিটার পর্যন্ত। নেপালের এই দুই প্রদেশই সবচেয়ে দরিদ্র ও অনুন্নত এলাকা হিসেবে পরিচিত। নেপালের পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক হিমাল গৌতম বলেন, “এসব পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও এখানে পর্যটক ও পর্বতারোহীর সংখ্যা খুব কম। যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টসাধ্য বলেই এমন হয়। আমরা আশা করি, নতুন বিধান এ পরিস্থিতি বদলাবে। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।” গত দুই বছরে এই ৯৭টি শৃঙ্গে মাত্র ৬৮ জন পর্বতারোহী গেছেন। বিপরীতে, ২০২৪ সালে কেবল এভারেস্টের জন্য ৪২১টি আরোহণ পারমিট দেয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট পাহাড়ের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এভারেস্টসহ কয়েকটি শৃঙ্গে সীমিতসংখ্যক পারমিট দেওয়ার নির্দেশ দেয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, নেপাল সরকার পারমিট ফিতে ৩৬ শতাংশ মার্ক-আপ ঘোষণা করে। মৌসুমের বাইরে, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সময়ে এভারেস্ট আরোহণের খরচ হবে ৭ হাজার ৫০০ ডলার এবং ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩ হাজার ৭৫০ ডলার।
শুল্ক বৃদ্ধি আরো ৯০ দিন স্থগিত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

শুল্ক বৃদ্ধি আরো ৯০ দিন স্থগিত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘোষিত ৩ অঙ্কের শুল্ক আরোপ আরো ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। ফলে আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত শুল্ক স্থগিতের মেয়াদ বাড়ল। শুল্ক কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগেই নতুন এই সময়সীমার ঘোষণা দেওয়া হয়। আজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, এ বছরের শুরুর দিকে ঘোষিত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত আরো ৩ মাসের জন্য স্থগিত থাকবে। এর আগে গত মাসে অনুষ্ঠিত আলোচনায় উভয়পক্ষই বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করেছিল।
গাজায় ইসরায়েলি হা*মলায় আল জাজিরার ৫ সাংবাদিক নি*হ*ত

গাজায় ইসরায়েলি হা*মলায় আল জাজিরার ৫ সাংবাদিক নি*হ*ত গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের বাইরে আল-জাজিরার তাঁবুতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে গণমাধ্যমটির ৫ কর্মী নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ। গতকাল রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত হওয়ার আগে শরিফ ও তার সহকর্মীরা গাজা সিটিতে বোমাবর্ষণের তথ্য ও ছবি ধারণের কাজ করছিলেন। খবর আল জাজিরার। ২৮ বছর বয়সী আনাস গাজার অন্যতম পরিচিত সাংবাদিক ছিলেন। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং মিথ্যে দাবি করেছে যে আনাস আল-শরিফ হামাসের সশস্ত্র বাহিনীর একটি ইউনিটের নেতা ছিলেন। হামলায় আল-জাজিরার নিহত অন্য চার কর্মী হলেন, সংবাদদাতা মোহাম্মদ ক্রেইকেহ, ক্যামেরাম্যান ইব্রাহিম জাহের ও মোয়ামেন আলিওয়া এবং তাদের সহকারী মোহাম্মদ নুফাল। টেলিফোনে আল-জাজিরার সংবাদদাতা হানি মাহমুদ জানান, তিনি জানতে পেরেছেন, আল-শিফা হাসপাতালের প্রধান গেটের কাছে সাংবাদিকদের ক্যাম্পে হামলা হয়েছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। সেই এ পর্যন্ত অন্তত ৬১ হাজার ৪৩০ জনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৫৩ হাজার ২১৩ জন।
সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে অস্ট্রেলিয়া

সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে অস্ট্রেলিয়া ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার পর অস্ট্রেলিয়া আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সোমবার বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে নেওয়া হবে এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বন্ধ করে গাজায় চলমান সংকট ও দুর্ভোগ দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দুই রাষ্ট্রের সমাধান, যা মানবতার জন্য একমাত্র আশার আলো। গাজা যুদ্ধ শেষ করতে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা হবে সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করার সমতুল্য। ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আগেও বলেছে, রাষ্ট্র স্বীকৃতি তাদের জনগণের আত্মনির্ধারণের প্রতি বাড়তি সমর্থনই নির্দেশ করে। আলবানিজ আরও জানান, তার সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর যে, হামাস ভবিষ্যতের কোনো রাষ্ট্রে কোনো ভূমিকা পালন করবে না।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারতের

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভারতের বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে খরচ। রোববার (১০ আগস্ট) থেকেই নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও গত এক বছর ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সাধারণ ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুধু জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য সীমিতসংখ্যক ভিসা দেওয়া হচ্ছে। ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের (আইভ্যাক) ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোতে (আইভ্যাক) জমা দেওয়া আবেদনের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি এক হাজার ৫০০ টাকা (সব অন্তর্ভুক্ত) করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮২৪ টাকা। আজ ১০ আগস্ট থেকে এটি কার্যকর হবে। আইভ্যাক জানায়, বিগত বছরগুলোতে উপকরণ ও পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে জমা দেওয়া আবেদনের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি ১০ আগস্ট থেকে সংশোধন করে এক হাজার ৫০০ টাকা (সবসহ) করা হবে। এই প্রক্রিয়াকরণ ফি ভিসা আবেদন পরিচালনার সুবিধার্থে আইভ্যাক কর্তৃক আরোপিত একটি সার্ভিস চার্জ। আইভ্যাক আরও জানায়, ২০১৮ সালের পর ভিসা প্রসেসিং ফি এই প্রথম সংশোধন করা হলো এবং সেবার মান ও অবকাঠামোগত উন্নতি অব্যাহত রাখতে এটি প্রয়োজনীয়। বিদ্যমান নীতি অনুসারে, ভারত সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না এবং সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ভারতীয় ভিসা বিনামূল্যেই থাকবে। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার ভিসা সেন্টারে শুধু জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য (যারা ভারত হয়ে তৃতীয় দেশে যাবেন) সীমিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট খোলা রেখেছে ভারত। তবে, এ ধরনের ভ্রমণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদেশি দূতাবাসে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা আবশ্যক।
বৈঠকের আগে রাশিয়ার ওপর আরও ‘চাপ’ বাড়ানোর আহ্বান

বৈঠকের আগে রাশিয়ার ওপর আরও ‘চাপ’ বাড়ানোর আহ্বান ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণার পর শনিবার রাতে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার ওপর অধিকতর ‘চাপ’ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে কিয়েভকে কিছু অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পুতিন ও ট্রাম্প এই শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যে এ বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন। তিন বছর ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে শীর্ষ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন যে, ‘উভয় পক্ষের উন্নতির জন্য কিছু অঞ্চল বিনিময় করা হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, শান্তির জন্য ইউক্রেন রাশিয়ার কাছে জমি সমর্পণ করবে না। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা তাদের জমি দখলদারকে দেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যে কোনো সিদ্ধান্ত, ইউক্রেন ছাড়া যে কোনো সিদ্ধান্তও শান্তির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত।’ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে এক ফোনালাপে জেলেনস্কি ইউক্রেনের মিত্রদের টেকসই শান্তি অর্জনের জন্য ‘স্পষ্ট পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় নেতারা শনিবার থেকে রোববার রাতে একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে বলেছেন যে, ‘সক্রিয় কূটনীতি, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ান ফেডারেশনের উপর তাদের অবৈধ যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টির সমন্বয়ে গঠিত একটি পদ্ধতিই সফল হতে পারে।’ তারা ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন বজায় রেখে এবং সেইসাথে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও আরোপ করে কূটনৈতিকভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, ব্রিটেন, ফিনল্যান্ড ও ইইউ কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেয়েনের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘বর্তমান যোগাযোগের লাইনটি আলোচনার সূচনা বিন্দু হওয়া উচিত।’ এতে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। তারা আরও বলেছেন, একটি প্রস্তাব ‘ইউক্রেন ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করতে হবে’- যার মধ্যে রয়েছে জোরালো ও বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রয়োজনীয়তা। এই নিরাপত্তা গ্যারান্টি ইউক্রেনকে কার্যকরভাবে তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে সক্ষম করবে। তারা আরো বলেন, ‘ইউক্রেনের শান্তির পথ ইউক্রেন ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।’ পুতিন-ট্রাম্প শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভের মিত্রদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা-যার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ দেশ ও যুক্তরাজ্য-শনিবার ব্রিটেনে একত্রিত হয়েছেন। জেলেনস্কি, স্টারমার ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সাথে ফোনালাপের পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘ইউক্রেনীয়দের ছাড়া ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যাবে না’ এবং ইউরোপকেও এই আলোচনায় জড়িত থাকতে হবে। শনিবার সন্ধ্যায় তার ভাষণে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই যুদ্ধের একটি সৎ সমাপ্তি হওয়া উচিত এবং যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছিল, সেই রাশিয়ার ওপরেই এটি শেষ করা নির্ভর করছে।’ এই বছর রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, লক্ষ লক্ষ লোককে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে।
তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে শনিবার তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। এর আগের দিনই গাজায় যুদ্ধ সম্প্রসারণে ইসরাইল সরকার গাজা দখলের ঘোষণা দিয়েছে। তেল আবিব থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে। এসময় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিনে জিম্মি থাকা ইসরাইলিদের ছবি তুলে ধরে সরকারের কাছে তাদের মুক্তির দাবি জানান। এএফপির সাংবাদিকরা এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক হাজার বলে অনুমান করেন। তবে জিম্মিদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল জানায়, এতে প্রায় ১ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। তবে সরকার জনসমাগমে উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত অন্যান্য যুদ্ধবিরোধী সমাবেশগুলোর চেয়ে এটি অনেক বড় ছিল। নিহত এক জিম্মির আত্মীয় শাহার মোর জাহিরো এএফপি’কে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আমরা সরাসরি একটি বার্তা দিতে চাই। তা হলো গাজার কোনো অংশ দখল করার কারণে জিম্মিরা যদি খুন হয় তবে আমরা আপনাকে ছাড়ব না। আমরা শহরের মোড়ে, নির্বাচনী প্রচারণায়, সব জায়গায় আপনার পিছু নেব।’ শুক্রবার নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহর দখলের জন্য একটি বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। যা দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় তোলে। ইসরাইলের মিত্র কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে এবং গাজায় মানবিক সংকট নিরসন করতে একটি সমঝোতামূলক যুদ্ধবিরতির জন্য নেতানিয়াহুকে চাপ দিচ্ছে। এতো সমালোচনা এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধের গুঞ্জন সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা গাজা দখল করতে যাচ্ছি না, আমরা হামাসের কাছ থেকে গাজাকে মুক্ত করতে যাচ্ছি। গত ২২ মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধের সময়ে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিয়মিত বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। অনেক সমাবেশে সরকার ও হামাসের মধ্যে একটি চুক্তি করার দাবি জানানো হয়। যেমনটা অতীতে জিম্মিদের বিনিময়ে ইসরাইলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে হামাস আক্রমণ চালিয়ে ২৫১ জন ইসরাইলিকে জিম্মি করে, যাদের মধ্যে ৪৯ জন এখনও গাজায় আটক আছেন। সামরিক বাহিনীর মতে, এদের মধ্যে ২৭ জন মারা গেছেন। এদিকে শনিবার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গাজায় ইসরাইলিদের অভিযান সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা’য় প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুযায়ী, ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, এই পরিকল্পনা একটি ‘নতুন অপরাধ’ এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’ তিনি গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে তার পূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। যে বৈঠকে গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়, একই বৈঠকে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজায় যুদ্ধ শেষ করার জন্য কিছু নীতিও গ্রহণ করে, যার মধ্যে ছিল একটি নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, যা হামাসও নয়, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও নয়। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের কিছু অংশে সীমিত শাসন পরিচালনা করে, কিন্তু হামাস শাসিত গাজায় তাদের কোনো উপস্থিতি নেই। ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পক্ষ থেকে শনিবার জারি করা এক বিবৃতিতে আবারও গাজা শহর দখলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়। তারা বলেন, এটি ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে, জিম্মিদের জীবনকে বিপন্ন করবে এবং সাধারণ জনগণের ব্যাপক বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াবে। এদিকে রাশিয়াও শনিবার এক বিবৃতিতে গাজা শহর দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনাকে নিন্দা জানিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ইতোমধ্যে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিতে রয়েছে। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে তা আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া বর্তমান লক্ষণ অনুযায়ী সেখানে একটি মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইসরাইলি হামলায় এই ভূখণ্ডে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক ত্রাণ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে। এএফপির দেওয়া সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামাসের হামলায় ১ হাজার ২১৭ জন নিহত হন, যার ফলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল।
ব্রিটেনে ব্যাপক ধরপাকড়, ২৮০ ডেলিভারি রাইডার গ্রেপ্তার

ব্রিটেনে ব্যাপক ধরপাকড়, ২৮০ ডেলিভারি রাইডার গ্রেপ্তার অবৈধ ‘ডেলিভারি রাইডার’ হিসেবে কাজ করা অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে সপ্তাহব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্য। গত মাসে চালানো এই অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়া প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আজ ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে অবৈধ রাইডারদের গ্রেপ্তারের এই তথ্য জানানো হয়েছে। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা গত ২০ থেকে ২৭ জুলাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৭৮০ জন ডেলিভারি রাইডারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় বৈধ নথিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫৩ জনের আশ্রয়-সংক্রান্ত সহায়তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দেশটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা সব কোম্পানিকে তাদের কর্মীদের অভিবাসন-বিষয়ক অবস্থা যাচাইয়ের নতুন আইনি বাধ্যবাধকতাও চালু করা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। কারণ সম্প্রতি দেশটির ব্রেক্সিটপন্থী নেতা নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে দলের প্রতি সমর্থন বাড়ছে। ব্রিটেনের সীমান্ত নিরাপত্তা-বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল বলেছেন, সরকার এটি নিশ্চিত করতে চায়, কোম্পানিগুলো সরকারি নিয়ম মানছে এবং তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গাড়ি ধোয়ার দোকান ও রেস্তোরাঁসহ ৫১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিভিল পেনাল্টি নোটিশ জারি করা হয়েছে। অবৈধ কর্মী নিয়োগে অভিযোগে জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে এসব প্রতিষ্ঠান। অভিযানে ব্রিটিশ পুলিশ ৫৮টি ই-বাইকসহ ৭১টি যানবাহন জব্দ করেছে। এছাড়া ৮ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ ও ৪ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড মূল্যের অবৈধ সিগারেটও জব্দ করেছে পুলিশ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অবৈধভাবে কাজ করা ঠেকাতে অভিবাসন আইনপ্রয়োগকারী দলকে অতিরিক্ত ৫০ লাখ পাউন্ডের তহবিল দেওয়া হবে। এর আগে, গত মাসে দেশটির সরকার ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান ডেলিভারু, উবার ইটস ও জাস্ট ইটের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তি করে। এই চুক্তির আওতায় অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানগুলো। গত জুলাই পর্যন্ত ১২ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩৫ হাজার ৫২ জন অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে ব্রিটেন। এসব অভিবাসীর কাছে দেশটিতে থাকার বৈধ অধিকার ছিল না। ব্রিটেনের অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর এই হার তার আগের ১২ মাসের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নি*হ*ত ৭২

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নি*হ*ত ৭২ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭২ জন। আহত হয়েছেন আরও ৩১৪ জনের বেশি। এতে করে চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৩০ জনে। শুক্রবার ৮ আগস্ট স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর বর্বর গোলাবর্ষণে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯ জন ফিলিস্তিনি। নিহত-আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শুধু যেসব মরদেহ ও আহতদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, কেবল তাদেরকেই এই হিসেবের মধ্যে ধরা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকা অনেক মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণ ও সরঞ্জামের সংকটে। এদিকে গাজার ওপর অবরোধের কারণে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ২০১ জনের, যাদের মধ্যে ৯৮ জনই শিশু। এছাড়া, ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১ হাজার ৭৭২ জন। শুক্রবারও ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ গেছে অন্তত ১৬ জনের। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও রাষ্ট্র ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ নিঃশেষ ও জিম্মিদের মুক্ত করা পর্যন্ত অভিযান চলবে। ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অভিযোগও দায়ের হয়েছে।
গাজায় অনাহারে প্রাণহানি বেড়ে ১৯৭

গাজায় অনাহারে প্রাণহানি বেড়ে ১৯৭ গাজায় ইসরায়েলের হামলা চলছেই। এতে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে অনাহার ও অপুষ্টিজনিও প্রাণহানিও। খবর আল জাজিরার। গতকাল সকাল থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ২২ ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে। আর অপুষ্টিজনিত কারণে আরও দুই শিশু মারা গেছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে আরও চারজনের প্রাণ গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনাহারজনিত প্রাণহানি বেড়ে ১৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে ৯৬ জনই শিশু। জাতিসংঘ বলছে, ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজার শতাধিক অপরিণত শিশুর জীবন এখন বিপদের মুখে। হাসপাতালে জ্বালানি সংকটে নবজাতকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গাজায় কাজ করা এনজিও নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, সেখানে দুই লাখের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। এর কারণ হিসেবে তারা শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের অভাবকে দায়ী করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তেরেসা রিবেরা বলেন, এই যুদ্ধ অনেকাংশেই গণহত্যার সংজ্ঞায় রূপ নিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৬১ হাজার ১৫৮ ফিলিস্তিনির প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৫১ হাজার ৪৪২ জন। গাজা সরকার বলছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন, তাদেরও নিহত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।