কম্বোডিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্তদের নাগরিকত্ব বাতিলের আইন পাস

কম্বোডিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহে অভিযুক্তদের নাগরিকত্ব বাতিলের আইন পাস রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কম্বোডিয়া। সোমবার (২৫ আগস্ট) দেশটির পার্লামেন্ট এ আইন পাস করে। বিশ্লেষকরা এটিকে বিরোধীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা ক্ষমতাসীন কম্বোডিয়ান পিপলস পার্টির অব্যাহত দমন-পীড়নের মধ্যে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। সিপিপি-নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদের ১২৫ জন সদস্যের মধ্যে ১২০ জনের অনুমোদিত এই বিলটি রাষ্ট্রকে ‘বিদেশি দেশের সঙ্গে ষড়যন্ত্র বা কম্বোডিয়ার স্বার্থের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে অভিযুক্ত যে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করার অনুমতি দেবে। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৭ সালে কম্বোডিয়ান ন্যাশনাল রেসকিউ পার্টি নিষিদ্ধ করার পর বিরোধীদের দমন করার তীব্র প্রচেষ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কম্বোডিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন।
উষ্ণতা ও ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইউরোপ

উষ্ণতা ও ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইউরোপ উষ্ণতা ও ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত গোটা ইউরোপ মহাদেশ। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় দ্রুততম হারে উষ্ণ হয়ে উঠছে ইউরোপ। ১৯৯৫ সালের পর থেকে প্রতি দশকে এই মহাদেশের গড় তাপমাত্রা বেড়েছে ০.৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা বৈশ্বিক স্থলভাগের গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি। জুনে উত্তর ইউরোপ ও আগস্টে দক্ষিণ ইউরোপে চলা তীব্র তাপপ্রবাহে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে গোটা মহাদেশে। ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম-এর তথ্যানুযায়ী, ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে, যা ২০০৬ সাল থেকে একই সময়ের গড়-এর চারগুণেরও বেশি। দাবানল ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলকান, সাইপ্রাস, ফ্রান্স, গ্রিস, পর্তুগাল ও স্পেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। অনেক ক্ষেত্রে আগুন পৌঁছে গেছে মাদ্রিদ, পোর্তো, পোডগোরিকা এবং গ্রিসের তৃতীয় বৃহত্তম শহর পাতরাসের কাছাকাছি পর্যন্ত। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইইউ’র সিভিল-প্রোটেকশন মেকানিজম এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো রেকর্ড ১৭ বার সহায়তা চেয়েছে, যা মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমন্বয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে পর্তুগাল, যেখানে দেশটির মোট ভূখণ্ডের ২.৯ শতাংশ (২৬০০ বর্গকিমি) আগুনে পুড়ে গেছে।যা গত বছর পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নে আগুনে পুড়ে যাওয়া মোট এলাকার চেয়েও বেশি। পাশাপাশি স্পেনে ৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দাবানলে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৩০ হাজার বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে অনেক জায়গায় মানবীয় চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব, যা স্বীকার করেছেন স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবলেস। দাবানলের এই ভয়াবহতার পেছনে প্রাকৃতিক কারণ যেমন রয়েছে, তেমনি মানবসৃষ্ট কারণই প্রধান। ইউরোপে দাবানলের কারণ নিয়ে সর্বশেষ গবেষণা অনুযায়ী (২০১৬ সালের তথ্য), মাত্র ৪ শতাংশ দাবানল শুরু হয়েছিল প্রাকৃতিকভাবে, যেমন বজ্রপাত। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ ছিল দুর্ঘটনা বা অবহেলা এবং সর্বোচ্চ ৫৭ শতাংশ ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো আগুন। ২০০১ সালের ইতালির ফরেস্ট পুলিশ বিভাগের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৬০ শতাংশ দাবানল ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়। মানসিকভাবে অসুস্থদের দ্বারা ঘটিত দাবানল ছিল মাত্র ১০ শতাংশ। আবার অনেক সময় পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়, যাতে জমি পরবর্তীতে নির্মাণযোগ্য এলাকা হিসেবে পুনঃশ্রেণীকরণ করা যায়।
ক্যামেরুনে অপহৃত ১০ শিশু উদ্ধার, আটক ৫০

ক্যামেরুনে অপহৃত ১০ শিশু উদ্ধার, আটক ৫০ ক্যামেরুনের উত্তরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে গত সপ্তাহে অপহরণ হওয়া ১০ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অপহৃতদের একজন মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দে থেকে এএফপি জানায়, কাউসেরি থেকে বাসে করে মারোয়া যাওয়ার পথে সীমান্ত পার করে নাইজেরিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর থেকে শিশুদের জিম্মি রাখা হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় ক্যামেরুন কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। গত বৃহস্পতিবার ফার নর্থ প্রদেশের গভর্নর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, নাইজেরিয়া ও চাঁদের সেনাবাহিনীসহ ক্যামেরুনের সেনাবাহিনী ও জিহাদি-বিরোধী টাস্কফোর্সের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১০ শিশুকে উদ্ধার করেছে।
শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে গ্রেপ্তার

শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে গ্রেপ্তার সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, ঊর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপ্রধান থাকাকালীন যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। কর্মকর্তা বলেন, তারা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের অভিযোগে চাপ দিচ্ছেন। আমরা তাকে কলম্বো ফোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করছি। বিক্রমাসিংহে ২০২৩ সালে হাভানা থেকে ফেরার পথে লন্ডনে থেমেছিলেন। সেখানে তিনি এবং তার স্ত্রী মাইথ্রি উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিক্রমাসিংহে দাবি করেছিলেন, তার স্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় তিনি বহন করেন। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যবহার করা হয়নি। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ অভিযোগ করেছে, বিক্রমাসিংহে ব্যক্তিগত সফরে ভ্রমণের জন্য সরকারি অর্থ ব্যবহার করেছিলেন এবং তার দেহরক্ষীদেরও রাষ্ট্রীয় অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে কয়েক মাস ধরে চলা বিক্ষোভের পর গোতাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করার পর ২০২২ সালের জুলাই মাসে বাকি মেয়াদের জন্য বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্ট হন।
উগান্ডা ও হন্ডুরাসে অভিবাসী পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র

উগান্ডা ও হন্ডুরাসে অভিবাসী পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতির অংশ হিসাবে হন্ডুরাস ও উগান্ডার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী, নিজেদের নাগরিক নন এমন অভিবাসীদের গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে দেশ দুটি। এটি ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ এবং আন্তর্জাতিকভাবে অভিবাসী পুনর্বাসনের একটি বড় পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলেও চুক্তিটি ঠিক কবে হয়েছে তা প্রকাশ করেনি দেশগুলো। গতকাল উগান্ডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব বাগিইর ভিনসেন্ট ওয়াইসওয়া জানিয়েছেন, দুই দেশ এখন চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, উগান্ডা প্রায় ২০ লাখ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীকে আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে। যাদের অধিকাংশই ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কংগো, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং সুদানসহ পূর্ব আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে।
ইউক্রেনে রাতভর হামলা রাশিয়ার

ইউক্রেনে রাতভর হামলা রাশিয়ার ইউক্রেনের উপর রাতভর শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এটি ক্রেমলিনের আক্রমণ থামানোর জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্কোর সবচেয়ে বড় আক্রমণ।কিয়েভ, ইউক্রেন থেকে এএফপি। বিমান বাহিনী জানিয়েছে যে রাশিয়ান বাহিনী ৫৭৪টি ড্রোন এবং ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। যার ফলে কমপক্ষে একজন নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ৫৪৬টি ড্রোন এবং ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
প্রথমে ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’, তারপর পুতিনের সঙ্গে বৈঠক: জেলেনস্কি

প্রথমে ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’, তারপর পুতিনের সঙ্গে বৈঠক: জেলেনস্কি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে এর আগে তার মিত্রদেরকে ইউক্রেনের ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ নিয়ে সম্মত হতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে রাশিয়া ইউক্রেনে আর হামলা করতে না পারে। বৃহস্পতিবার জেলেনস্কি সতর্ক করেন, উভয় পক্ষই আরও লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাশিয়া দক্ষিণ ফ্রন্টলাইনে সৈন্য বাড়াচ্ছে এবং ইউক্রেন নতুন করে দূর-পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার সাড়ে তিন বছরের দীর্ঘ আগ্রাসন বন্ধে জেলেনস্কি ও পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় মনোনিবেশ করেছেন। এ বৈঠকের ফলে রাশিয়ান নেতা পুতিনকে বিচ্ছিন্ন করার দীর্ঘমেয়াদী পশ্চিমা নীতিতে পরিবর্তনে এসেছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা কাঠামো নিয়ে ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চাই। আমাদেরকে বুঝতে হবে, কোন দেশ কী করবে এবং নির্দিষ্ট কোন সময়ে তারা কী করতে প্রস্তুত।’ কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে মিত্রদের একটি দল ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য একটি সামরিক কোয়ালিশন তৈরি করছে। জেলেনস্কি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার খসড়া তৈরি হলে, ট্রাম্প পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চান। তবে তিনি বলেন, রাশিয়ান নেতার সঙ্গে বৈঠকটি ‘নিরপেক্ষ’ ইউরোপীয় দেশে হওয়া উচিত এবং মস্কোতে কোনো বৈঠক করা যাবে না। তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ড বা অস্ট্রিয়ায় বৈঠক করতে আমরা একমত। তুরস্ক একটি ন্যাটোভুক্ত দেশ এবং ইউরোপের অংশ। আমরা সেখানে বৈঠক করারও বিরোধী নই। এদিকে, ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া গত রাতে ৫৭৪টি ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে সবচেয়ে বড় হামলা। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলেন, এই হামলা প্রমাণ করে, রাশিয়া শান্তি চুক্তির প্রতি মনযোগী নয়। যদিও গত কয়েকদিনে মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরালো হয়েছে। এদিকে, জেলেনস্কি ঘোষণা করেছেন ইউক্রেন ‘ফ্লেমিঙ্গো’ নামক একটি দূর-পাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা ৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম এবং ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এটি সফলভাবে পরীক্ষা হয়েছে। বর্তমানে এটি আমাদের সবচেয়ে সফল ক্ষেপণাস্ত্র।
আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা

আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা আজ পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা। হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারটি মুসলিম বিশ্বে স্মরণ করা হয় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রোগমুক্তির দিন হিসেবে। ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ ফারসি শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ- শেষ বুধবার। নবুয়তের ২৩তম বছর তথা ১১ হিজরির সফর মাসে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর ঠিক এই দিনেই কিছুটা সুস্থতা লাভ করেছিলেন মহানবী (সা.)। তিনি শেষবারের মতো গোসল করে মসজিদে গিয়ে নামাজের ইমামতিও করেন। এ সময় তাঁর সুস্থতার খবরে সাহাবিরা খুশি হয়ে দান-সদকা করেন, পশু কোরবানি দেন এবং দাস মুক্ত করেন। তাদের এই আদর্শ অনুসরণে মুসলমানরা প্রতিবছর এ দিনটিতে দোয়া, ইবাদত-বন্দেগি, দান ও সদকার মাধ্যমে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকেন। যদিও ইসলামী শরিয়তে এ দিনকে ঘিরে কোনো নির্দিষ্ট ইবাদতের বিধান নেই, তবু দিনটির ইতিহাস ও তাৎপর্য স্মরণে অনেকেই নেক আমলে অংশ নেন। আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দিনব্যাপী দোয়া-মাহফিল, কোরআন খতম ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশেও দিনটি বিভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়, বিশেষত দোয়া ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে। দিনটির মূল শিক্ষা রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা, নেক আমলের প্রতি আগ্রহ এবং নবীজির (সা.) জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ।
গাজায় প্রায় ১৯ হাজার শিশু নি*হ*ত, হা*ম*লা তীব্রতর

গাজায় প্রায় ১৯ হাজার শিশু নি*হ*ত, হা*ম*লা তীব্রতর গাজায় ইসরায়েলের হা*মলা*য় এ পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নি*হ*ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৮৮৫ জনই শিশু। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাজায় শিশুদের জন্য আর কোনো স্থানই নিরাপদ নয়। ইসরায়েলের অবরোধে খাদ্য ও ওষুধের সংকট তীব্র হওয়ায় ক্ষুধা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন লাখো বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। কিন্তু ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে এসব আশ্রয়কেন্দ্রও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, জাতিসংঘের পতাকার নিচে আশ্রয় নিলেও সেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ইউনিসেফের তথ্য উদ্ধৃত করে সংস্থাটি জানিয়েছে, গত পাঁচ মাসে—ইসরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা শুরুর পর থেকে—প্রতি মাসে গড়ে ৫৪০ জনেরও বেশি শিশু নি*হ*ত হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তার মধ্যেই মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন ফিলিস্তিনি নি*হ*ত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন নি*হ*ত হন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত জিএইচএফের খাদ্য বিতরণকেন্দ্রের কাছে। গাজার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। দেইর আল-বালাহর একটি তাঁবুতে হামলায় আরও চারজনের মৃ*ত্যু হয়েছে। এদিকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইসরায়েল গাজা সিটিতে আক্রমণ জোরদার করছে। জয়তুন এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দক্ষিণ গাজায় বাড়িঘর উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পূর্বের তুফফাহ এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ চালানো হয়েছে। অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে, হামাস একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। প্রস্তাবটিতে রয়েছে ৬০ দিনের অস্ত্রবিরতি ও আংশিক জিম্মি বিনিময়। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যম বলছে, সরকার গাজায় আটক সব জিম্মিকে (জীবিত ও মৃত) একসঙ্গে ফেরত চাইছে। পরিকল্পনায় আরও রয়েছে গাজা থেকে আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার (বর্তমানে যার ৭৫ শতাংশ দখলে) এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি। যদিও ইসরায়েলের সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বো*মা ও গু*লির পাশাপাশি ক্ষুধা ও অপুষ্টিতেও মানুষের মৃ*ত্যু হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজন মারা গেছেন। জুনের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১১২ জন শিশু অপুষ্টি ও অনাহারে প্রা*ণ হারিয়েছে।
২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলেছে মালয়েশিয়া

২৪ লাখ ৬৭ হাজার কলিং ভিসার কোটা খুলেছে মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে কলিং ভিসার কোটা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এ তথ্যটি গতকাল দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল নিশ্চিত করেছেন। খবরটি মালয়েশিয়ার প্রায় সবকটি প্রধানধারার গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, কৃষি, বাগান ও খনি খাতসহ মোট ১৩টি উপখাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে সার্ভিস সেক্টরের হোলসেল অ্যান্ড রিটেল, ল্যান্ড ওয়্যারহাউস, সিকিউরিটি গার্ডস, মেটাল অ্যান্ড স্ক্রাপ ম্যাটেরিয়ালস, রেস্তোরাঁ, লন্ড্রি, কার্গো এবং বিল্ডিং ক্লিনিং খাতে শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ থাকছে। তিনি আরও বলেন, নির্মাণ খাত অর্থাৎ কনস্ট্রাকশন সেক্টরে নিয়োগ কেবল সরকারি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে, আর উৎপাদন (ম্যানুফ্যাক্টর) খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) এর আওতাধীন নতুন বিনিয়োগকে। এবারের কলিং ভিসা/বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদনের সুযোগ শুধু খাতভিত্তিক অফিসিয়াল এজেন্সিগুলো পাবে। আগের মতো কোনো এজেন্ট বা সরাসরি নিয়োগকর্তা স্বাধীনভাবে আবেদন করতে পারবে না। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তা অনুমোদন করবে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিকাল কমিটি এবং পরে জয়েন্ট (যৌথ) কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানিয়েছে, এখন ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন শ্রমিকের কোটা চালু আছে, যা বছর শেষ (৩১ ডিসেম্বর-২০২৫) পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সীমিত করে কেবল দেশের মোট জন শক্তির ১০% পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এ কোটায় বাংলাদেশিরা কতজন আবেদন করতে পারবে তা জানায়নি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা মিডিয়াগুলো।