কলম্বিয়ায় স্কুলবাস খাদে পড়ে নিহত ১৭, আহত ২০

কলম্বিয়ায় স্কুলবাস খাদে পড়ে নিহত ১৭, আহত ২০ কলম্বিয়ায় এক মর্মান্তিক স্কুলবাস দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২০ জন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ভোরে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় অ্যান্টিওকিয়া প্রদেশে একটি স্কুলবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর ডেইলি মেইলের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে অ্যান্টিওকিয়ার গভর্নর আন্দ্রেস জুলিয়ান জানান, বাসটি ক্যারিবীয় উপকূলীয় শহর টোলু থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেডেলিন শহরে ফিরছিল। বাসটিতে লিসেও অ্যান্টিওকেনো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সমুদ্রসৈকতে তাদের গ্র্যাজুয়েশন উদযাপন শেষে ফিরছিলেন। ডিসেম্বরের এমন সময়ে এই দুর্ঘটনা পুরো সম্প্রদায়ের জন্যই অত্যন্ত বেদনাদায়ক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এল কলোম্বিয়ানো জানায়, ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে রেমেদিওস ও সারাগোসা সংযোগকারী সড়কের এল চিসপেরো এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটিতে মোট ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি প্রায় ৮০ মিটার গভীর খাদে গড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও তদন্তাধীন।  স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভ্রমণটি স্কুলের আনুষ্ঠানিক কোনো কার্যক্রম ছিল না, এটি শিক্ষার্থীরাই নিজেরা আয়োজন করেছিলেন। অ্যান্টিওকেনো হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ২০২৫ সালের গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা যারা এই ভ্রমণে অংশ নিয়েছিল, এই গভীর শোকের মুহূর্তে আমরা তাদের এবং আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের পাশে আছি।’ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোও এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মার্কিন সেনা নিহতের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন সেনা নিহতের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ট্রাম্পের সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর অতর্কিত হামলায় দুই জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ায় গতকাল শনিবার (আইএস)-এর হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দো-ভাষী নিহত এবং সেনাবাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশিয়াল প্ল্যাটফর্মে বলেছেন, ‘আমরা সিরিয়ায় তিন জন ‘মহান দেশপ্রেমী আমেরিকানের’ মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি,’ এবং ‘অত্যন্ত কঠোর প্রতিশোধ’ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বলেছেন, সিরিয়ার পালমিরায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এখানে ইউনেস্কো-তালিকাভুক্ত প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এই অঞ্চলটি এক সময় আইএস (ইসলামিক স্টেট) গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আইএস গ্রুপটি আইএসআইএস নামেও পরিচিত এবং এক সময় সিরিয়ায় বিস্তৃত এলাকাকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, এই ভয়াবহ আক্রমণটি একজন আইএসআইএস বন্দুকধারী কর্তৃক পরিচালিত আক্রমণ। হামলায় অংশ নেওয়া ওই আইএস সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। ট্রাম্প এটিকে ‘সিরিয়ায় অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে আইএসআইএস-এর একটি আক্রমণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, আহত তিন জন মার্কিন সেনা ‘ভালো আছেন’।

কম্বোডিয়ায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা থাইল্যান্ডের

কম্বোডিয়ায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা থাইল্যান্ডের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই কম্বোডিয়ায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। আজ তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ফেসবুকে এক পোস্টে বলেছেন, আমাদের ভূমি এবং জনগণের জন্য আর কোনো ক্ষতি বন্ধ ও হুমকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। অক্টোবরে দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত বিরোধে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী ট্রাম্প গতকাল আনুতিন এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেটের সাথে কথা বলেছেন। ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপের পর দুই প্রতিবেশী দেশের কোনো নেতাই বিবৃতিতে কোনো চুক্তির কথা উল্লেখ করেননি। থাই প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি।

নতুন সংঘর্ষের পর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

নতুন সংঘর্ষের পর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কম্বোডিয়ার সীমান্তে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা নতুন সংঘর্ষের পর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। একইসঙ্গে তিনি ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। আজ প্রকাশিত এক রাজকীয় ডিক্রিতে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ৩ মাস আগে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তার সংখ্যালঘু সরকার যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে লড়াই করছে তার মধ্যে মারাত্মক সীমান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, সঠিক সমাধান হল পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া… যা জনগণের কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার একটি উপায়। ব্যবসায়ী আনুতিন ২০২৩ সালের আগস্টের পর থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেপ্টেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের সময় জানিয়েছিলেন, তিনি জানুয়ারির শেষের দিকে পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন। তবে, এখন অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়ে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছেন।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাস খাদে পড়ে নিহত ৯

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে বাস খাদে পড়ে নিহত ৯ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের অলুরি জেলায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আজ ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তুলাসিপাকালু গ্রামের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, জেলা কালেক্টর জানান, বাসটিতে মোট ৩৫ জন যাত্রী, ২ জন চালক এবং ১ জন সহকারী ছিলেন। ৭ জনকে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে সিএইচসি চিন্তুরে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল হলে ভদ্রাচলমে স্থানান্তর করা হবে।

হাসপাতালে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহত ৩৪

হাসপাতালে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর হামলায় নিহত ৩৪ হাসপাতালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত। এতে আরও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিসিবি। গতকাল রাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-উ শহরের একটি হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। এলাকাটি বর্তমানে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামরিক বাহিনী জাতিগত সেনাবাহিনীগুলোর কাছ থেকে এলাকা পুনরুদ্ধার করার জন্য বিমান হামলা আরও জোরদার করেছে। তারা শত্রুদের উপর বোমা ফেলতে প্যারগ্লাইডারও ব্যবহার করছে। এই হামলার বিষয়ে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, টেলিগ্রামে সামরিক বাহিনীর সমর্থক অ্যাকাউন্টগুলো দাবি করেছে যে এই সপ্তাহের হামলাগুলো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে করা হয়নি। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিহতদের বেশিরভাগই হাসপাতালের রোগী ছিলেন। তিনি বলেন, এটি বেসামরিক স্থান লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ ঘৃণ্য হামলা। সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদের উপর বোমা বর্ষণের জন্য দায় নিতে হবে।

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়া

স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রিয়া অস্ট্রিয়ার আইনপ্রণেতারা স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের জন্য হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি আইন অনুমোদন করতে পারে। আজ একটি আইন অনুমোদন করতে পারেন অস্ট্রিয়ার আইনপ্রণেতারা। এই আইন বৈষম্যমূলক ও সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে বলে মানবাধিকার সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তবে, রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি, বাড়তে থাকা অভিবাসী বিরোধী চাপের প্রেক্ষাপটে, এই নিষেধাজ্ঞা মেয়েদের ‘অত্যাচার থেকে রক্ষা’ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধের একটি আইন অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক বলে বাতিল করেছিল। তবে সরকার বলছে, এবার তাদের প্রস্তাবিত আইনের সাংবিধানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচের মেয়েদের ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা ঢেকে রাখা হিজাব, বোরকা পরে বা এ ধরনের যে কোনো পর্দা করে স্কুলে আসা নিষিদ্ধ করা হবে। এই বিল উপস্থাপনের সময় ইন্টিগ্রেশন মন্ত্রী ক্লাউডিয়া প্লাকোল্ম বলেন, ‘যখন একটি মেয়েকে বলা হয় সে পুরুষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শরীর ঢেকে রাখবে, তখন এটি কোনো ধর্মীয় আচার নয়, বরং নিপীড়ন।’ এই আইন পাস হলে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হবে। ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের নতুন নিয়ম ব্যাখ্যা করার একটি ‘পরিচিতি পর্ব’ চালু করা হবে, যেখানে নিয়ম ভাঙলে কোন শাস্তি দেওয়া হবে না। তবে বারবার এই নিয়মকে অমান্য করলে, অভিভাবকদের ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রিয়া প্রস্তাবিত আইনকে ‘মুসলিম মেয়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বৈষম্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ‘ইসলামবিরোধী বর্ণবাদের প্রকাশ’। এই সংগঠনের মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পূর্বধারণা ও কুসংস্কারকে আরও উসকে দিতে পারে। অস্ট্রিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সরকারি প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা আইজিজিওই আইনটির বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই নিষেধাজ্ঞা ‘সামাজিক সংহতিকে বিপন্ন করবে’ এবং বাচ্চাদের ক্ষমতায়নের বদলে ‘তাদেরকে কলঙ্কিত ও বিচ্ছিন্ন করবে’। নারী অধিকার সংগঠন ‘আমাজোনে’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা অ্যাটসিঙ্গার বলেন, হিজাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ মেয়েদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাবে, যে অন্যরা তাদের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সেটি গ্রহণযোগ্য। অ্যান্টি-রেসিজম সংগঠন ‘এসওএস মিটমেন্স’-এর জারি করা বিবৃতিতেও এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা

সৌদিজুড়ে ঝড়-বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা সৌদি আরবের অধিকাংশ অঞ্চলে প্রবল ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে কিছু এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর (এনসিএম)। আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মক্কা, মদিনা, কাসিম, রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে হাইল, তাবুক, আল জৌফ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় চলছে মৃদু থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত। অনেক অঞ্চলে মাঝারি বর্ষণের সঙ্গে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। মরুপ্রধান সৌদিতে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টি সাধারণত বিরল। তবে গত দুই-তিন বছরে বেশ কয়েকবার ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের ঘটনা ঘটেছে। এনসিএম জানায়, লোহিত সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। লোহিত সাগর উপকূলীয় দিক থেকে ১৮ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ঝড়ো হাওয়া বইছে, যা ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। পারস্য উপসাগরেও ঝড়ো আবহাওয়া শুরু হয়েছে। সেখান থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে ১০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এনসিএম দেশটির নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া, উপত্যকা বা নিচু এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলা এবং সব ধরনের সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বুলগেরিয়া

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বুলগেরিয়া সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বুলগেরিয়া। দুর্নীতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। সংবাদমাধ্যমর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। রাজধানী সোফিয়া এবং কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী দেশটির আরও কয়েক ডজন শহরে সর্বশেষ বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। এমন এক সময় দেশটিতে এই বিক্ষোভ-সমাবেশ হচ্ছে যখন আগামী ১ জানুয়ারি থেকে বুলগেরিয়া ইউরোকে তাদের সরকারি মুদ্রা হিসেবে গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা লেজার ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় সোফিয়ায় অবস্থিত পার্লামেন্ট ভবনে ‘পদত্যাগ’, মাফিয়া আউট এবং সুষ্ঠু নির্বাচনসহ বিভিন্ন শব্দ প্রদর্শন করে। সোফিয়ার বাসিন্দা ৬৪ বছর বয়সী ডোবরি লাকভ বলেন, আমি মনে করি জনগণের শক্তি ধীরে ধীরে তাদের (সরকারকে) পদত্যাগ করতে বাধ্য করবে কারণ অনেক সংস্কার প্রয়োজন। তিনি বলেন, প্রথমত বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রয়োজন। যদি বিচার ব্যবস্থা ঠিক করা হয়, তাহলে বাকি সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে, একেবারে সবকিছুই। বুলগেরিয়ার সংসদ আজ প্রধানমন্ত্রী রোজেন ঝেলিয়াজকভের সরকারের ওপর অনাস্থা ভোটের আয়োজন করবে। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর ষষ্ঠবারের মতো অনাস্থা ভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে সরকার ২০২৬ সালের বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয়। বিরোধী দল এবং অন্যান্য সংগঠন জানিয়েছে যে, তারা উচ্চতর রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের অর্থায়নের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা অবদান এবং লভ্যাংশের ওপর কর বৃদ্ধির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। বাজেট পরিকল্পনার বিষয়ে সরকার পিছু হটার পরেও গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের মধ্যে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইটি বিশেষজ্ঞ অ্যাঞ্জেলিন বাহচেভানোভ বলেন, অবশেষে বুলগেরিয়ায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসার এবং আমাদের অভিজাততন্ত্র, মাফিয়া এবং তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তি থেকে নিজেদের মুক্ত করার সময় এসেছে।

রাশিয়ার সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সব আরোহী

রাশিয়ার সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত, নিহত সব আরোহী রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর নিকটবর্তী ইভানোভো অঞ্চলে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের সময় একটি এএন-২২ সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানের কোনো আরোহীই জীবিত নেই বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। ওই বিমানে সাতজন আরোহী ছিলেন। খবর এনডিটিভির। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানটির ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামতের পর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে (টেস্ট ফ্লাইটে) পাঠানো হয়েছিল। উড্ডয়নের অল্প সময় পরই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইভানোভো জেলার একটি নির্জন স্থানে আছড়ে পড়ে। মস্কো থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। দুর্ঘটনাস্থল জনবসতিহীন হওয়ায় ক্রুদের বাইরে অন্য কারও হতাহতের আশঙ্কা নেই বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেশটির তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, তারা উড্ডয়ন প্রস্তুতির নিয়মকানুন সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে বা কিয়েভের জড়িত থাকার কোনো অভিযোগের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।