নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারেন

নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারেন নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে পছন্দের শীর্ষস্থানে রয়েছেন। প্রচণ্ড বিক্ষোভে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পতনের পর ‘জেন জি’ বিক্ষোভকারীদের একজন প্রতিনিধি আজ এ তথ্য জানিয়েছেন। কাঠমান্ডু থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মঙ্গলবার দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় সরকার উৎখাত এবং সংসদে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর, ৩ কোটি মানুষের হিমালয়ের এই দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী কারফিউ জারি করে। বিক্ষোভ আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে একজন সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, বুধবার সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগডেল গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ‘জেন জি’র প্রতিনিধিদের’ সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত কর্মী রক্ষা বাম বলেন, ‘এখনই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সুশীলা কার্কির নাম আসছে। আমরা এখন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপ নেওয়ার অপেক্ষায় আছি।’ সোমবার কাঠমান্ডুতে সরকারের স্বল্পস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই দমন-পীড়নে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়। একদিন পর, বিক্ষোভ দেশব্যাপী ক্ষোভের ঝড়ে পরিণত হয়, সরকারি অফিস, একটি বড় হোটেল ও অন্যান্য ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ভূত বিশৃঙ্খলার মধ্যে ১৩ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি বন্দী কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। বাম এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সেনাপ্রধানের সাথে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছি।’ ‘কথোপকথনটি ছিল দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখে আমরা কীভাবে এগিয়ে যেতে পারি তা নিয়ে।’ ৭৩ বছর বয়সী শিক্ষাবিদ এবং নেপালের প্রথম সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কার্কি এএফপিকে বলেছেন যে ‘এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করার জন্য বিশেষজ্ঞদের একত্রিত হওয়া দরকার।’তিনি আরো বলেন, সংসদ এখনও টিকে আছে। সাংবিধানিকভাবে, ৮০ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলের উচিত বৃহত্তম সংসদীয় দলের নেতাকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো। কিন্তু রাজনৈতিক পুরাতন শক্তির বেশিরভাগই দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে। কার্কির প্রতি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন সর্বসম্মত নয়। বুধবার ডিসকর্ড প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় কর্মীরা তাদের প্রতিনিধিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে বিতর্ক করেছিলেন। এতে বেশ কয়েকটি নাম উঠে এসেছে। পরস্পরবিরোধী যুক্তি তুলে ধরা হয় ও বেশ কয়েকটি নাম প্রস্তাব করা হয়।

আগামীকাল থেকে নেপালে শুরু হচ্ছে বিমান চলাচল

আগামীকাল থেকে নেপালে শুরু হচ্ছে বিমান চলাচল ২ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে ফের সচল হচ্ছে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর -টিআইএ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিষেবা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থা বুদ্ধ এয়ার। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, যাত্রীরা এখন থেকে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন পোর্টাল এবং অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট বুক করতে পারবেন। কাঠমান্ডু উপত্যকায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২ দিন ধরে টিআইএ বন্ধ ছিল। আজ সন্ধ্যায় একটি নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিমানবন্দরটি পুনরায় খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। এর পরপরই বুদ্ধ এয়ার ফ্লাইট চালুর এই ঘোষণা দিল।

ভারতে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিচার প্রক্রিয়া ১০ দিনের মধ্যে

ভারতে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিচার প্রক্রিয়া ১০ দিনের মধ্যে ভারতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের দ্রুত শনাক্ত ও বহিষ্কারের লক্ষ্যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে আসামের বিজেপি সরকার। রাজ্যের মন্ত্রিসভা সম্প্রতি বিদেশিদের বহিষ্কারের জন্য একটি নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুমোদন করেছে, যেখানে মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে বহিষ্কার কার্যকর করার বিধান রাখা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ইমিগ্রেশন আইন অনুসারে এতদিন বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তিকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত ক্ষমতা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের হাতে ছিল। তবে নতুন ব্যবস্থায় সন্দেহভাজন অভিবাসীকে এখন সরাসরি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (এডিসি) সামনে হাজির হয়ে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি প্রমাণ করতে হবে। কর্মকর্তারা নথি যাচাই করে ১০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবেন। যদি তারা নথিতে সন্তুষ্ট না হন, তাহলে ১১তম দিনেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হবে। সেখান থেকে প্রক্রিয়া শেষে বিএসএফের সহায়তায় সীমান্ত পেরিয়ে তাকে নির্বাসিত করা হবে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে জানান, ডিসির সিদ্ধান্তের পর সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে এবং বিএসএফকে সঙ্গে নিয়েই তাকে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের পর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যেসব বিষয়ে ডিসি বা এডিসি নিশ্চিত হতে পারবেন না, সেসব মামলা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। ট্রাইব্যুনাল যদি প্রমাণ পায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশি, তবে সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাসন কার্যকর হবে। নতুন এসওপি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আসামে প্রবেশের ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশিকে সরাসরি ফেরত পাঠানোর ক্ষমতাও জেলা প্রশাসকের হাতে থাকবে। এখানে এনআরসির কোনো প্রভাব নেই। এনআরসিতে নাম থাকলেও কেউ বিদেশি হিসেবে প্রমাণিত হলে তাকে নির্বাসিত করা হবে। সুপ্রিম কোর্টও এ বিষয়ে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। আসাম সরকারের হিসাবে, ইতোমধ্যে রাজ্য থেকে ৩০ হাজার ১২৮ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন এই প্রক্রিয়া কার্যকর হলে বহিষ্কারের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই নতুন এসওপি কার্যকর হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

কাতারে ইসরায়েলের হামলায় ‘খুশি নন’ ডোনাল্ড ট্রাম্প

কাতারে ইসরায়েলের হামলায় ‘খুশি নন’ ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলের হামলায় বিরক্তি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘খুশি নন’। গতকাল বিকেলের ওই হামলার কারণে এখন ভেস্তে যেতে বসেছে গাজায় যুদ্ধ বিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ। কারণ ইসরায়েল যেখানে হামলা করেছে সে ভবনেই আলোচনার জন্য বসেছিলেন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের শীর্ষ কূটনৈতিক নেতারা। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর, ১৫টি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে একটি লক্ষ্যবস্তুতে ১০টি গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছিল। দোহার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা আটটি পৃথক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। হামাস জানিয়েছে, তাদের পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব বেঁচে গেছে। হামাস বলেছে, এই হামলা ‘একটি জঘন্য অপরাধ, একটি স্পষ্ট আগ্রাসন এবং সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম ও আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’। কাতার বলেছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’, পাশাপাশি কাতারের জন্য ‘গুরুতর হুমকি’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ এবং হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি ‘এর প্রতিটি দিক নিয়ে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট’। ট্রাম্প বলেন, হামলা চলাকালীন মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছ থেকে তিনি হামলার কথা জানতে পেরেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে কাতারে, তাই আমেরিকার অনুমতি ছাড়া এ হামলা হয়েছে, তা বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জাতিসংঘের নেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কাতারের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার, আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই বেআইনি এবং বিনা প্ররোচনায় আক্রমণের মুখে বাংলাদেশ ভ্রাতৃপ্রতিম কাতার সরকার এবং জনগণের সাথে দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করে।

নেপালের সংসদে আগুন, আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান মেয়রের

নেপালের সংসদে আগুন, আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান মেয়রের নেপালে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন ও সংঘাতে প্রাণহানির জেরে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর দেশটির সংসদ ভবনে অনুপ্রবেশ করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে জেন-জি বিক্ষোভকারীরা। সংসদ সচিবালয়ের মুখপাত্র একরাম গিরি অভিযোগ করে বলেছেন, শত শত বিক্ষোভকারী সংসদ এলাকায় ঢুকে মূল ভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কাঠমান্ডু মহানগরীর মেয়র বালেন্দ্র শাহ আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। খবরে বলা হয়, জেন-জিদের দুঃসাহসিক আন্দোলনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন কে পি শর্মা ওলি। এরপরই বিক্ষোভকারীরা আরও কঠোর অবস্থান নেয়। তারা ওলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। এরপর তারা পার্লামেন্টভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীরা কাঠামোগত সংস্কার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি দাবি করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এসেছেন মেয়র বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তিনি জেন-জি বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে বালেন্দ্র শাহ বলেন, যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন, তাই এখন আর প্রাণহানি ও সম্পদ ক্ষতির দিকে যাওয়া উচিত নয়। সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ আসলে জনগণেরই যৌথ সম্পদ। তাই তরুণদের এসব ধ্বংস না করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আরও লিখেছেন, দয়া করে শান্ত থাকুন। জাতীয় সম্পদের ক্ষতি মানে আমাদের সবার ক্ষতি। এখন আমাদের সবার সংযম প্রদর্শনের সময়। এখান থেকে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের প্রজন্মের। এর আগে সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে জেন-জি তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হন।

আস্থা ভোটে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর অপসারণ

আস্থা ভোটে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর অপসারণ ফ্রান্সের পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে পদচ্যুত হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু। ০৮ সেপ্টেম্বর তাকে অপসারণ করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ফরাসি পার্লামেন্টের বেশির ভাগ সদস্য। প্রধানমন্ত্রী বাইরুকে পরাজিত করতে তার বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৩৬৪টি। অপরদিকে তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন পার্লামেন্টের ১৯৪ জন সদস্য। এই পরাজয়ের অর্থ হলো, মঙ্গলবার বাইরু তার সরকারের পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর কাছে জমা দেবেন। প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হবে। এভাবে ফ্রান্স দুই বছরেরও কম সময়ে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগোচ্ছে। এটি একটি হতাশাজনক রেকর্ড, যা প্রেসিডেন্ট মাখোঁর দ্বিতীয় মেয়াদের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা অচলাবস্থা ও হতাশাকে স্পষ্ট করে। বাইরুর পতন ঘটে যখন তিনি তার সরকারকে দাঁড় করান জরুরি আস্থা ভোটে, যেখানে মূল বিষয় ছিল ফ্রান্সের ঋণ। তিনি সারা গ্রীষ্মকাল ধরে ভাষণ, সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, ফ্রান্স যদি তার ৩.৪ ট্রিলিয়ন ইউরোর দায় শোধে উদ্যোগ না নেয় তবে দেশটি ‘অস্তিত্ব সংকটে’ পড়বে। কিন্তু তার এই আর্থিক বিপর্যয়ের ভবিষ্যদ্বাণী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রভাবিত করতে ব্যর্থ হয়। জাতীয় পরিষদে কোনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায়, বামপন্থী ও কট্টর-ডানপন্থীরা এক হয়ে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। আর এতেই তার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। কেউ কেউ ধারণা করছেন, এবার মাখোঁ হয়তো একজন বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন, যেহেতু আগে তিনি রক্ষণশীল বার্নিয়ে ও মধ্যপন্থী বাইরুকে দিয়ে চেষ্টা করেছেন। তবে সমাজতান্ত্রিক দল (পিএস) স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা মাখোঁর ব্যবসাবান্ধব নীতির সঙ্গে কোনোভাবেই চলতে রাজি নয়। ফলে আপাতত মনে হচ্ছে, মাখোঁ তার নিজের রাজনৈতিক শিবির থেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজবেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু, শ্রমমন্ত্রী ক্যাথেরিন ভোট্রা ও অর্থমন্ত্রী এরিক লম্বারের নাম আলোচনায় রয়েছে।

নেপালে বিক্ষোভে পুলিশের গু*লি, সংঘ*র্ষে নি*হ*ত বেড়ে ১৯

নেপালে বিক্ষোভে পুলিশের গু*লি, সংঘ*র্ষে নি*হ*ত বেড়ে ১৯ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে জেন-জিদের বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালিয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহ*ত হয়েছেন। ৮ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটে। খবর দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের। এদিন রাজধানীসহ পোখরা, বুটওয়াল, ভৈরবাওয়া, ভারতপুর, ইতাহারি ও দমকসহ বিভিন্ন শহরের তরুণরা দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। কাঠমান্ডুর নিউ বানেশ্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে তরুণ বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ঠেকাতে বলপ্রয়োগ করে। পরে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার পর কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে কমপক্ষে ১৭ জন মা*রা গেছেন। এর মধ্যে জাতীয় ট্রমা সেন্টারে আটজন, এভারেস্ট হাসপাতালে তিনজন, সিভিল হাসপাতালে তিনজন, কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে দুজন এবং ত্রিভুবন টিচিং হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুনসারির ইতাহারিতে বিক্ষোভের সময় গুলিতে আহত দুজনও মারা গেলে দেশব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কমপক্ষে ৩৪৭ জন আহত বিক্ষোভকারী চিকিৎসাধীন। একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহু রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। এভারেস্ট হাসপাতালের অনিল অধিকারী বলেন, চারজনের অবস্থা গুরুতর, আর ট্রমা সেন্টারের ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে জানান, ১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের মাথা ও বুকে গুলির ক্ষত আছে। বানেশ্বরে বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জমায়েত হন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পুলিশ। একই ধরনের বিক্ষোভ দেশের বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতি দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের উভয় পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কমিশন বলেছে, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। তারা ভাঙচুর ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। এই আন্দোলন প্রধানত জেনারেশন জেড পরিচিত তরুণদের নেতৃত্বে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে। তারা দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন। সকাল থেকেই কাঠমান্ডু এবং অন্যান্য শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে শিক্ষার্থী ও যুবসংগঠনের প্রতিনিধিরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। কর্তৃপক্ষ কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে, এবং যেখানে বিক্ষোভ সবচেয়ে তীব্র সেখানে জনসমাগম ও চলাচল সীমিত করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে আহতদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী কাঠমান্ডু ও অন্যান্য শহরের প্রধান প্রধান এলাকায় টহল দিচ্ছে।

বিক্ষোভ-প্রাণহানির জেরে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

বিক্ষোভ-প্রাণহানির জেরে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নেপালে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের তুমুল আন্দোলন ও সংঘাতে প্রাণহানির জেরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। আজ তার উপদেষ্টা প্রকাশ সিলওয়াল এ তথ্য জানিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে গতকাল বিক্ষোভ চলাকালীন ১৯ জন নিহত হওয়ার পর আজ দুপুরে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। খবর রয়টার্সের। পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী ওলি লিখেছেন, সাংবিধানিক পথে সংকটের সমাধানের পথ তৈরির জন্য তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে ভাঙচুর চালায়। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়। কিন্তু আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের এই কারফিউ ভেঙেই রাস্তায় নামেন। এর প্রেক্ষাপটে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেও নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু এবং অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীরা। বিক্ষোভ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

ইসরায়েলের বিমান হামলা সিরিয়ায়

ইসরায়েলের বিমান হামলা সিরিয়ায় সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় দুই প্রদেশ হোমস এবং লাতাকিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার ৯ সেপ্টেম্বর অঞ্চলগুলোতে অবস্থিত সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হয় এই হামলা। আজ সকালে এক প্রতিবেদনে খবরটি নিশ্চিত করেছে বিবিসি। হামলায় টার্গেট করা হয় একটি বিমান ঘাঁটি, সামরিক ব্যারাকসহ বেশ কয়েকটি অস্ত্রাগার। এতে বেশ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সহিংসতা থামাতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিরিয়া প্রশাসন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১শ’র বেশি দফায় সিরিয়ায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। এর আগে, সোমবার গভীর হোমস এবং পালমিরার পাশাপাশি উপকূলীয় শহর লাতাকিয়াতেও হামলা চালায় ইসরায়েল। ব্রিটেন ভিত্তিক যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) বলেছে, হোমসের কাছে ইসরায়েলি হামলাটি শহরের দক্ষিণে একটি সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। তবে এতেও হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

আজও রাস্তায় তরুণরা বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল

আজও রাস্তায় তরুণরা বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল   নেপালে দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলন রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায়। সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৯ জন, আর দেশজুড়ে একাধিক এলাকায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবারেও ৯ সেপ্টেম্বর রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন নেপালের তরুণরা। সকাল থেকেই দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে তরুণরা জড়ো হচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর নতুন বানেশ্বরে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে তরুণরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। তাদের হাতে কোনো ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড নেই। সেখানে এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “গতকালের ঘটনাই সরকারের ব্যর্থতা প্রমাণ করেছে। তাই আমি তরুণদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। এর আগে সোমবার দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ‘জেনারেশন জি’-এর বিক্ষোভে ১৯ জন নিহত হন। এ ঘটনায় সরকার যে দমননীতি অনুসরণ করেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় নেতারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন রিং রোড ঘিরে কাঠমান্ডুর বড় অংশে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি ললিতপুর জেলাতেও আলাদা কারফিউ জারি হয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্ট বলছে, দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলন রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার দেশজুড়ে একাধিক শহরে তরুণরা বিক্ষোভে অংশ নেন। বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে দামাক, বীরাটমোড়, ইটাহারি, বীরাটনগর, জনকপুর, ভরতপুর, পোখারা, বীরগঞ্জ, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া, তুলসিপুর ও ধানগড়িসহ বিভিন্ন শহরে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে সুনসারির ইটাহারি সাব-মহানগর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে দুইজন নিহত ও একজন আহত হন। বিক্ষোভকারীরা কার্যালয়ের মূল ফটক, মেয়রের দপ্তর ও দুটি বাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনার পর দুপুর সাড়ে ৩টা থেকে ইটাহারির মূল এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। এছাড়া ঝাপার বীরাটমোড় ও দামাকে সংঘর্ষে এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হন। বিক্ষোভকারীরা বীরাটমোড় পুলিশ পোস্টে আগুন ধরিয়ে দেন এবং দামাকে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় পুলিশ গুলি ছুড়ে সতর্ক করে। পরে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। পোখারায় কাস্কি জেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে। দুপুর ২টা থেকে কার্যকর এই আদেশে শহরের প্রশাসনিক কেন্দ্রীয় এলাকায় পাঁচজনের বেশি জড়ো হওয়া, মিছিল বা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। পরিস্থিতি সহিংস হলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও পানিকামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষে দুই বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হন। নেপালি সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মূলত কলেজ শেষে তরুণরা রাস্তায় নামলেও পরে অন্য শ্রেণির মানুষও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।