পাকিস্তানে তালেবানের হামলায় ১২ সৈন্য নিহত

পাকিস্তানে তালেবানের হামলায় ১২ সৈন্য নিহত পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে তালেবানের জঙ্গিদের হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর অন্তত ১২ সদস্য নিহত হয়েছেন। আজ ভোরের দিকে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের প্রত্যন্ত এক এলাকায় সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা গাড়িবহর নিয়ে আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের দুর্গম বাদার এলাকায় পৌঁছানোর পর সেখানে হামলার শিকার হন। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, তীব্র গোলাগুলির পর সংঘর্ষে অন্তত ১২ সৈন্য ও ১৩ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে এই হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানি তালেবান। গোষ্ঠীটি সেনাবাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ও ড্রোন লুট করার দাবিও করেছে। ইসলামাবাদ বলছে, নিষিদ্ধঘোষিত এই জঙ্গি গোষ্ঠীটির ঘাঁটি আফগানিস্তানে অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, ভোরের দিকে হওয়া এই হামলার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে উড়োজাহাজ টহল দিয়েছে। এছাড়া হামলায় আহতদের উদ্ধারের পর স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। সাধারণত পাকিস্তানের ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর গাড়িবহর চলাচলের আগে কারফিউ জারি করা হয়। জঙ্গিদের সক্রিয় অবস্থান থাকায় স্থানীয় প্রশাসন প্রায়ই এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে বলেছে, পাকিস্তানি তালেবানকে আফগান তালেবান প্রশাসন ভারতের সমর্থনে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল ও নয়াদিল্লি উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী আফগানিস্তানের তালেবানের অনুসারী।২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানি তালেবান দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা বৃদ্ধি করেছে।পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, আফগান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে প্রত্যাশা করছে ইসলামাবাদ।

রাশিয়ায় ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা

রাশিয়ায় ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের কারণে সুনামির ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। আজ দেশটির কামচাটকা অঞ্চলে ভূমিকম্প আঘাত হানে। খবর রয়টার্সের। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল)। অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৪ এবং গভীরতা ৩৯.৫ কিলোমিটার (২৪.৫ মাইল)। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি এখনও পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির বা মানুষের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ৩০ জুলাই কামচাটকাতে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা রাশিয়ার ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত। এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, তবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বিদেশি সিনেমা টিভি সিরিজ দেখার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড

বিদেশি সিনেমা টিভি সিরিজ দেখার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড উত্তর কোরিয়ার সরকার এখন আগের চেয়ে আরও বেশি মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে বিশেষ করে যারা বিদেশি সিনেমা ও টিভি সিরিজ দেখে বা তা ছড়িয়ে দেয়, তাদের ক্ষেত্রে। জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এই একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র এটির জনগণের স্বাধীনতা আরও কঠোরভাবে দমন করছে এবং তাদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।জাতিসংঘ মানবাধিকার দফতর জানায়, গত এক দশকে উত্তর কোরিয়া তার নাগরিকদের জীবনের প্রতিটি দিক আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, আধুনিক বিশ্বে আর কোনো জনগোষ্ঠীর ওপর এত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। এতে আরও বলা হয়, নজরদারির মাত্রা অনেক বেড়েছে, যা আংশিকভাবে প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতেই থাকে, তাহলে উত্তর কোরিয়ার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে যেসব ভোগান্তি, নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন ও ভয়াবহ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা আরও বেড়ে যাবে। গত ১০ বছরে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ৩শ’ জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডের হার বেড়ে গেছে। ২০১৫ সালের পর অন্তত ৬টি নতুন আইন চালু হয়েছে যা বিভিন্ন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য করেছে। এর মধ্যে একটি অপরাধ হলো বিদেশি চলচ্চিত্র ও টিভি কনটেন্ট দেখা বা শেয়ার করা। কিম জং উন জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ সীমিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। ২০১৯ সালের পর পালিয়ে আসা লোকেরা জানান, ২০২০ সাল থেকে বিদেশি কনটেন্ট বিতরণের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সংখ্যা বেড়ে গেছে। তারা বলেন, এসব মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে গুলি করে কার্যকর করা হয়, যাতে জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হয় এবং কেউ আইন ভঙ্গ না করে। ২০২৩ সালে পালিয়ে আসা উত্তর কোরিয়ান কাং গিউরি বলেন, তার তিন বন্ধু দক্ষিণ কোরিয়ার কনটেন্ট রাখার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড পান। তিনি একজন ২৩ বছর বয়সী বন্ধুর বিচারে উপস্থিত ছিলেন, যিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি বলেন, ‘সে মাদকাসক্ত অপরাধীদের সঙ্গে একসঙ্গে বিচার পেয়েছিল। এখন এই ধরনের অপরাধকে একে অপরের সমান বলে মনে করা হয়।তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের পর থেকে জনগণ আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এসব ঘটনা উত্তর কোরিয়ার জনগণের বিগত দশকের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০১১ সালে কিম জং উন ক্ষমতায় এলে অনেকেই আশা করেছিলেন পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কারণ তিনি বলেছিলেন জনগণকে আর ‘কষ্ট করে বাঁচতে হবে না’ অর্থাৎ তারা পর্যাপ্ত খাবার পাবে। তিনি দেশটির পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, ২০১৯ সালে পশ্চিমা বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করে কিম যখন তার অস্ত্র কর্মসূচিতে জোর দেন, তখন থেকেই মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ২০১৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পালিয়ে আসা এক তরুণী বলেন, ‘কিম জং উনের শাসনের প্রথমদিকে কিছু আশা ছিল, কিন্তু তা বেশিদিন টেকেনি। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ধীরে ধীরে মানুষের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার পথ বন্ধ করে দেয়, আর প্রতিদিন বেঁচে থাকাটাই এক ধরনের যন্ত্রণায় পরিণত হয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গত ১০ বছরে সরকার জনগণের ওপর প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে, যার ফলে তারা নিজেদের অর্থনৈতিক, সামাজিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি এই দমন-পীড়ন আরও সহজ করেছে। সূত্র: বিবিসি নিউজ।

ধর্মগুরুদের যৌন নির্যাতনের বিরুধে সোচ্ছার হতে নির্দেশ পোপের

ধর্মগুরুদের যৌন নির্যাতনের বিরুধে সোচ্ছার হতে নির্দেশ পোপের ভ্যাটিকানের প্রকাশিত এক বার্তায় ক্যাথলিক চার্চের ধর্মগুরুদের সংঘটিত যে কোনো যৌন নির্যাতনের বিরুধে সোচ্ছার হতে বিশপদের নির্দেশ দিয়েছেন পোপ লিও। সেই সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগগুলোও যেন সামনে এনে নিস্পত্তি করা হয়, সেই পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যৌন নির্যাতনের কেলেঙ্কারি চার্চকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং নৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে এর অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই ঘটনাগুলো ব্যয়বহুল মামলার সূত্রপাত করেছে এবং এর ফলে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট বিশপ পদত্যাগ করেছেন। বিশ্বজুড়ে ক্যাথলিক ডায়োসিসের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিযুক্ত প্রায় ২০০ বিশপের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পোপ বলেন, ‘(অভিযোগ) গোপন রাখা যাবে না। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের প্রতি করুণা এবং সত্যিকারের ন্যায়বিচারের অনুভূতি নিয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে। পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর মে মাসে নির্বাচিত লিও এর আগে পুরোহিতদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘দৃঢ় এবং সিদ্ধান্তমূলক’ হতে বলেছেন। ১২ বছর ধরে ১.৪ বিলিয়ন সদস্যের চার্চের নেতৃত্ব দেওয়া ফ্রান্সিসও ধর্মীয় গুরুদের ঘটানো যৌন নির্যাতনের ঘটনাগুলো দমন করাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারে রেখেছিলেন। তবে এর ফলাফল মিশ্র ছিল। নতুন বিশপদের সঙ্গে বৈঠকে লিও ফ্রান্সিসের অগ্রাধিকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। বিশপদের সকলকে স্বাগত জানিয়ে একটি গির্জা তৈরি করতে উৎসাহিত করেছেন, যেমনটি প্রয়াত পোপ প্রায়শই আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভ্যাটিকানের সারসংক্ষেপ অনুসারে, লিও ধর্মযাজকদের বলেছেন, ‘আমাদের সময়ের পুরুষ ও নারীরা যে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করছেন, তার উত্তর দেওয়ার জন্য তাদের (বিশপদের) বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ পুনর্নবীকরণ করা উচিত। ২৫ বছর আগে সেমিনারিতে শেখা প্রস্তুতিমূলক উত্তরগুলো যথেষ্ট নয়।

সৌদিতে প্রথম নারীর খেলার টিভি চ্যানেল

সৌদিতে প্রথম নারীর খেলার টিভি চ্যানেল সৌদি আরবে শুধু নারীকে খেলা দেখানোর একটি টিভি চ্যানেল চালু হয়েছে। দেশটির নারী প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলের ম্যাচ ও অন্যান্য ইভেন্ট চ্যানেলটিতে দেখানো হবে। এটি চব্বিশ ঘণ্টা চলবে এবং চব্বিশ ঘণ্টাই নারীর বিভিন্ন খেলা প্রচারিত হবে। সৌদি আরবে চ্যানেলটি চালু করেছে অল ওমেন্স স্পোর্টস নেটওয়ার্ক (এডব্লিউএসএন)। সৌদির ফুটবল ফেডারেশন এবং জাতীয় ব্রডকাস্টার সৌদি স্পোর্টস কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ ভিত্তিতে চ্যানেলটির যাত্রা শুরু হয়েছে।‘এসএসজি এডব্লিউএসএন’ নামের এ চ্যানেলটির সম্প্রচার এমবিসি শহীদ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। ভিশন ২০৩০ সামনে রেখে সৌদি আরবে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দেশটির নারীকে আগের যে কোনো বিষয় থেকে এখন বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। তারা নিজেরা গাড়ি চালানোর অনুমতিও পেয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা‘চিতাবাঘ’ আখ্যা দিলেন জামায়াতে ইসলামীকে

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা‘চিতাবাঘ’ আখ্যা দিলেন জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশে সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার ও ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জামায়াতে ইসলামীকে ‘চিতাবাঘ’ আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে দলটির ভূমিকা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ‘আমরা কি বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত?’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেছেন। খবর দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন। হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানিয়েছেন, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশীদের সাথে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। তবে নয়া দিল্লিকে অবশ্যই তার মূল স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন যেকোনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে। সাবেক এই কূটনীতিক বলেছেন, “এটা বলা যায় যে, ক্ষমতায় যারা আসবে তাদের সাথেই আমরা কাজ করব। কিন্তু যদি কেউ আপনার স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে আপনাকে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ভারত প্রতিবেশীদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিকে সম্মান করে উল্লেখ করে রাজ্যসভার এই সদস্য বলেছেন, “যেসব দেশের সাথে আমাদের সীমান্ত রয়েছে, সেখানে স্রেফ অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে কিছু নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের বিজয়ের কথা উল্লেখ করে শ্রিংলা জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ‘সহায়ক বাহিনী’ হিসেবে এই সংগঠনের ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, “তাদের হাতে রক্ত ​​লেগে আছে এবং তারা মুসলিম ব্রাদারহুডেরও একটি অংশ। বাংলাদেশ, মিশর, পাকিস্তান ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একই মুসলিম ব্রাদারহুড বিদ্যমান। এবং এই চিতাবাঘ তার অবস্থান পরিবর্তন করবে না। ৬৩ বছর বয়সী এই সাবেক কূটনীতিক ভারতের সীমান্তে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের তৎপরতার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান পদচিহ্নের দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এটি “বিদ্বেষী শক্তির মধ্যে যোগসাজশের একটি প্রকৃত বিপদ তৈরি করেছে, যা মূলত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ব্যবস্থা সমর্থন করছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে এমন সম্ভাবনার কথাও স্বীকার করেছেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

নেপালে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৫১

নেপালে বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৫১ নেপালে জেন-জি বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) নেপাল পুলিশের মুখপাত্র ডিআইজি বিনোদ ঘিমিরে জানান, নিহতদের মধ্যে ২১ জন বিক্ষোভকারী, তিনজন পুলিশ কর্মী, নয়জন বন্দি, ১৮ জন অন্যান্য ও একজন ভারতীয় নারী রয়েছে। এর আগে, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের সচিব ডা. বিকাশ দেবকোটা জানান, বর্তমানে সারা দেশের ৫২টি বিভিন্ন হাসপাতালে ২৮৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ১ হাজার ৭৭১ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীসহ পোখরা, বুটওয়াল, ভৈরবাওয়া, ভারতপুর, ইতাহারি ও দমকসহ বিভিন্ন শহরের তরুণরা দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন। কাঠমান্ডুর নিউ বানেশ্বর এলাকা থেকে বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে তরুণ বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের ঠেকাতে বলপ্রয়োগ করে। পরে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার পর কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী ওই সময়, শুধুমাত্র কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে কমপক্ষে ১৭ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে জাতীয় ট্রমা সেন্টারে আটজন, এভারেস্ট হাসপাতালে তিনজন, সিভিল হাসপাতালে তিনজন, কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে দুজন এবং ত্রিভুবন টিচিং হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সুনসারির ইতাহারিতে বিক্ষোভের সময় গুলিতে আহত দুজনও মারা গেলে দেশব্যাপী নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কমপক্ষে ৩৪৭ জন আহত বিক্ষোভকারী চিকিৎসাধীন। একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, বহু রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। এভারেস্ট হাসপাতালের অনিল অধিকারী বলেন, চারজনের অবস্থা গুরুতর, আর ট্রমা সেন্টারের ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে জানান, ১০ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাদের মাথা ও বুকে গুলির ক্ষত আছে। বানেশ্বরে বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে জমায়েত হন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে পুলিশ। একই ধরনের বিক্ষোভ দেশের বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতি দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের উভয় পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। কমিশন বলেছে, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। তারা ভাঙচুর ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। সূত্র: দ্য হিমালয়ান

নাসার মহাকাশ কর্মসূচিতে চীনা নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা

নাসার মহাকাশ কর্মসূচিতে চীনা নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও চীনা নাগরিকদের কাজ করা থেকে বিরত রাখছে। এই ঘটনার মধ্য মধ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র হয়ে ওঠা মহাকাশ প্রতিযোগিতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নীতিগত এই পরিবর্তনের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ নিউজ এবং পরে মার্কিন সরকারি সংস্থা নাসা বিষয়টি নিশ্চিত করে। ১১ সেপ্টেম্বর নাসার প্রেস সেক্রেটারি বেথানি স্টিভেন্স বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘নাসা চীনা নাগরিকদের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ নিয়েছে। আমাদের কাজের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাদের জন্য আমাদের বিভিন্ন স্থাপনা, সরঞ্জাম ও নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার সীমিত করেছি।’ ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে চীনা নাগরিকরা নাসার কর্মী হিসেবে না হলেও, ঠিকাদার বা শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণা কাজে অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু ৫ সেপ্টেম্বর বেশ কয়েকজন চীনা ব্যক্তি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ব্লুমবার্গকে জানান, হঠাৎ করেই আইটি সিস্টেমে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতেও তাদের যেতে নিষেধ করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে চীন-বিরোধী মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন— উভয়ই চাঁদে নভোচারী পাঠানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাপোলো’ কর্মসূচির (১৯৬৯-১৯৭২) ধারাবাহিকতায় ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই কর্মসূচিতে বাজেট বৃদ্ধি ও সময়ক্ষেপণের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, চীন ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের ‘তাইকোনট’দের (চীনা নভোচারী) চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তারা তাদের নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে বেশ সফল হয়েছে। নাসার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক সিন ডাফি বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গল গ্রহে মার্কিন রোভারের সাম্প্রতিক আবিষ্কার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘আমরা এখন দ্বিতীয় মহাকাশ প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘চীন আমাদের আগে চাঁদে ফিরে যেতে চায়। সেটা হতে দেব না। যুক্তরাষ্ট্র অতীতে মহাকাশ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেবে।’ মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করছে চীন। এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালে একটি রোবট মিশন পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যা দ্রুততম সময়ে ২০৩১ সালের মধ্যে নমুনা নিয়ে ফিরতে পারে। এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের বাজেট প্রস্তাবনায় ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সঙ্গে যৌথভাবে পরিকল্পিত ‘মার্স স্যাম্পল রিটার্ন মিশন’ প্রকল্পটি বাতিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এই কাজটি নভোচারী-চালিত মিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে, যদিও এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি।

ইন্দোনেশিয়ার আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯

ইন্দোনেশিয়ার আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ পর্যটন কেন্দ্র বালিসহ ইন্দোনেশিয়ার দুটি দ্বীপে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জাকার্তা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, প্রাকৃতকি এই দুর্যোগে আরও পাঁচ জন নিখোঁজ রয়েছে।ন্যাশনাল ডিজাসটার মিটিগেশন এজেন্সি’র মুখপাত্র আব্দুল মুহারি এক বিবৃতিতে বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বালির সাতটি জেলায় বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। আব্দুল বলেন, বুধবার রাতে বালিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ছিল নয় জন এবং দুই জন নিখোঁজ ছিল। স্কুল, গ্রামীণ হল ও মসজিদসহ সরকারি স্থাপনাগুলো অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত করে পাঁচ শতাধিক মানুষকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ফ্লোরেস দ্বীপের নাগেকিও জেলায় এক শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর, আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ জনে দাঁড়িয়েছে। ফাতুর আরো জানান, নাগেকিওতে এখনও নিখোঁজ তিন জনের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা খননকারী যন্ত্র ও একটি ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছে। আজ এএফপি’র সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, বালির প্রাদেশিক রাজধানী ডেনপাসারে আবহাওয়া পরিষ্কার হয়ে গেছে। তবে, ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা এই সপ্তাহে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, শুক্রবার থেকে সোমবারের মধ্যে বালিসহ প্রদেশগুলোয় আবারও মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

মেক্সিকোতে গ্যাস সরবরাহ গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ৬৭

মেক্সিকোতে গ্যাস সরবরাহ গাড়ি বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ৬৭ মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে স্থানীয় সময় বুধবার গ্যাস সরবরাহকারী (ট্যাংকার) গাড়ি বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছে। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মেক্সিকো সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। মেক্সিকো সিটি মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা বলেন, শহরের পূর্বাঞ্চলে ঘনবসতিপূর্ণ ইজতাপালাপা জেলার একটি সেতুর উপর গ্যাস ট্যাংকার গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়। এসময় তিনজন নিহত হয় ও ৬৭ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে। ট্যাংকার বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। পরে তা টেলিভিশনে সম্প্রচার হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।