দক্ষ কর্মীদের ভিসা ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করলেন ট্রাম্প

দক্ষ কর্মীদের ভিসা ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করলেন ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চ-দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়িয়ে এক লাখ ডলার নির্ধারণ করার ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসার জন্য তিনি ফি বাড়িয়েছেন। ভারত থেকে আসা কর্মীরা ব্যাপকভাবে এই ভিসাটি ব্যবহার করেন বলে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি একথা জানিয়েছে। এইচ-১বি ভিসার ওপর নতুন করে বাড়ানো এই ফি ট্রাম্পের বৃহত্তর দমন-পীড়নের অংশ। ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে অভিবাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাপ শুরু করেছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে ভিসার খরচ এখন এক হাজার ডলারের নিচে, যা এক লাখ ডলারে উন্নীত করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের খবর প্রথম ব্লুমবার্গ নিউজ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর লটারি পদ্ধতিতে ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা প্রদান করে। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভিসা ভারতীয়রা পেয়ে থাকে। বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ভারতীয় কর্মীদের ওপর নির্ভর করে, যারা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হয় অথবা দুই দেশের মধ্যে আসা-যাওয়া করে। ট্রাম্পের সাবেক মিত্র ইলন মাস্কসহ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা এইচ-১বি ভিসার ওপর কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতের চাকরির শূন্যপদ পূরণের জন্য পর্যাপ্ত স্বদেশী প্রতিভা নেই।
সাইবার হামলা : ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল

সাইবার হামলা : ইউরোপজুড়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল ইউরোপের বড় বড় বিমানবন্দরগুলোতে চেক-ইন ও বোর্ডিং পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কলিনস অ্যারোস্পেসের ওয়েব সাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। এতে লন্ডনের হিথ্রো, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এবং জার্মানির বার্লিন বিমানবন্দরের বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে কলিন্স অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’র কারণে সংস্থাটি আপাতত পরিষেবা দিতে পারছে না এবং ত্রুটি সারাতে সময় লাগবে। প্রসঙ্গত বিশ্বের বেশ কয়েকটি বিমান পরিবহন সংস্থা (এয়ারলাইন্স) এবং বিমানবন্দরে পরিষেবা প্রদান করে কলিন্স অ্যারোস্পেস। ইউরোপভিত্তিক বেশিরভাগ বিমান পরিবহন সংস্থা কলিন্স অ্যারোস্পেসের পরিষেবার গ্রাহক। সাইবার হামলার ফলে বিমানের চেক-ইন ও বোর্ডিং পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এয়ারলাইন্সগুলোও তাদের ফ্লাইট বাতিলে বাধ্য হয়েছে। লন্ডন, ব্রাসেলস ও বার্লিন বিমানবন্দর ইতোমধ্যে যাত্রীদের ফোন নাম্বারে বার্তা প্রদানের মাধ্যমে ফ্লাইট বাতিলের ব্যাপারটি অবহিত করেছে। ইউরোপের সব বড় বিমানবন্দর অবশ্য এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ফ্রাঙ্কফুর্ট, হামবুর্গ ও জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক আছে।ব্রাসেলস বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইন্টারনেট পরিষেবা যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যাত্রীদের পরিষেবা প্রদান করা হবে। “এটা একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যদি শিগগিরই কলিন্স অ্যারোস্পেসের ত্রুটি না সারে, তাহলে প্রতিটি ফ্লাইটের ডিপার্চার সময় ৫৪ মিনিট পিছিয়ে যাবে”, ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলকে বলেছেন ওই কর্মকর্তা।
তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার প্রচেষ্টা ব্যর্থতার ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ প্রধান

তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার প্রচেষ্টা ব্যর্থতার ঝুঁকিতে : জাতিসংঘ প্রধান জলবায়ু উষ্ণায়নকে প্রাক-শিল্প স্তরের ওপরে ১.৫ সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শুক্রবার এএফপিকে এ কথা জানিয়েছেন। জাতিসংঘ তার বার্ষিক কূটনৈতিক সমাবেশের পাশাপাশি একটি জলবায়ু সপ্তাহ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) নামেও পরিচিত প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ২০৩৫ সালের জলবায়ু লক্ষ্য, প্রাথমিকভাবে কয়েক মাস আগে প্রত্যাশিত ছিল। তবে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা প্রক্রিয়াটির গতি ধীরে পর্যবসিত করে তুলেছে। গুতেরেস এএফপিকে বলেন, আমরা এই লক্ষ্য ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে। আমাদের দেশগুলোকে এমন জলবায়ু কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে, যা সম্পূর্ণরূপে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তাদের সমগ্র গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ও সমগ্র অর্থনীতি কভার করবে। তিনি আরো বলেন, ‘১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা বজায় রাখতে হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে কার্বন নির্গমনের ব্যাপক হ্রাস অপরিহার্য।’ ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হলো প্রাক-শিল্প যুগের সঙ্গে তুলনীয় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা। ব্রাজিলে কপ-৩০ সম্মেলনের দুই মাসেরও কম সময় আগে, বেশ কয়েকটি দেশ তাদের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে ধীরগতি দেখিয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু কূটনীতির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত শক্তি চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এদের অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসংখ্য সংকটের কারণে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টা পিছনে ফেলেছে। যার মধ্যে রয়েছে করোনাভাইরাস মহামারী ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধ। গুতেরেস এই বিষয়ের ওপর পুনরায় মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। জাতিসংঘ আশা করছে যে কপ-৩০-এর আগে বুধবার অনুষ্ঠেয় জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনটি প্রচেষ্টায় প্রাণ সঞ্চার করার একটি সুযোগ হবে। নিউইয়র্কে গুতেরেস ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার যৌথ সভাপতিত্বে এটি অনুষ্ঠিত হবে। গুতেরেস বলেন, তিনি উদ্বিগ্ন যে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান, বা জাতীয় জলবায়ু কর্ম পরিকল্পনা, বৈশ্বিক উষ্ণতাকে প্রাক-শিল্প স্তরের উপরে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্যকে চূড়ান্তভাবে সমর্থন নাও করতে পারে। তবে তিনি বলেন, এটা আতঙ্কিত হওয়ার বিষয় নয় বরং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার বিষয়। ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তির সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হলো শিল্প-পূর্ব যুগের সঙ্গে তুলনীয় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা। বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীদের কাজকে একত্রিত করে আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল (আইপিসিসি) ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে ২০৩০-২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু গড়ে ১.৫ সেলসিয়াস উষ্ণ হওয়ার আনুপাতিক সম্ভাবনা ৫০:৫০। বিজ্ঞানীরা বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছেন, কারণ প্রতিটি ডিগ্রি বৃদ্ধি তাপপ্রবাহ বা সামুদ্রিক প্রাণীর ধ্বংসের মতো ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। আইপিসিসির মতে, উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবর্তে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা হলে, এর সবচেয়ে বিপর্যয়কর পরিণতি উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হবে। জাতিসংঘের মতে, ২০২৪ সাল ছিল রেকর্ডকৃত উষ্ণতম বছর।
হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন এরদোয়ান

হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন এরদোয়ান বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তিসহ দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তি নিয়ে কাজ করছি, যার মধ্যে রয়েছে বৃহৎ পরিসরে বোয়িং বিমান বিক্রয়, একটি এফ-১৬ চুক্তি এবং এফ-৩৫ নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা। এ বিষয়গুলো আমরা ইতিবাচকভাবে শেষ হওয়ার আশা করছি।” তুরস্ক ও এরদোয়ানের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের বার্তা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “এরদোয়ান ও আমার মধ্যে সবসময়ই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। আমি ২৫ তারিখে তাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি!” তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সর্বশেষ ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন। ২০১৭-২১ মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলেও সিরিয়ায় কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক এবং মস্কোর সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের কারণে তাদের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েনও দেখা দেয়। তুরস্ক ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করে। প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের পরিকল্পিত বিক্রয় বাতিল করে এবং বিমানের যৌথ উৎপাদন কর্মসূচি থেকে আঙ্কারাকে বহিষ্কার করে। পরবর্তীতে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে সম্মত হয় তুরস্ক।
ইরানের পরমাণু ইস্যুতে যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে চীন-রাশিয়া

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে চীন-রাশিয়া ইরানের পারমাণবিক ইস্যু সমাধানে একটি যৌথ উদ্যোগ নিচ্ছে রাশিয়া ও চীন। খুব শিগগিরই এই উদ্যোগ উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ। এ সময় তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, তাদের পদক্ষেপ এই ইস্যুটিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও ইরানের মধ্যে সহযোগিতার মাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মিখাইলের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি, যা ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)’ নামে পরিচিত- অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে উঠিয়ে নেওয়া নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের বিষয়ে ভোটাভুটির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি তথাকথিত ‘স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম’ সক্রিয় করার পক্ষে চাপ দিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। জেসিপিওএ-এর বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, কোনও পক্ষ যদি দাবি করে ইরান চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাহলে তারা ২০০৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে গৃহীত নিরাপত্তা পরিষদের ছয়টি পূর্ববর্তী প্রস্তাব পুনর্বহালের দাবি করতে পারে। তবে ইরান বলছে, ইউরোপীয়রা এই প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে পারে না, কারণ তারাই প্রথম চুক্তি ভঙ্গ করেছে— ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর ক্ষতিপূরণ দিতে তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
মেক্সিকোতে গ্যাসবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণ, নিহত ২৫

মেক্সিকোতে গ্যাসবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণ, নিহত ২৫ মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে ভয়াবহ একটি বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলপিজি ট্যাংকার ট্রাক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের সৃষ্টি হলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬০ জন। আহতদের মধ্যে ২১ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মেক্সিকো সিটির সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ইজতাপালাপা’র একটি ব্যস্ত সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সীমানা দেয়ালে ধাক্কা খায় গ্যাসবাহী ট্যাংকারটি। ট্রাকটিতে প্রায় ৫০ হাজার লিটার এলপিজি মজুত ছিল। সংঘর্ষের পরপরই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশে থাকা অন্তত ৩০টি যানবাহনেও আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান অন্তত ১০ জন। বাকি ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ৩৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকের অদক্ষতা ও অতিরিক্ত গতিকে দায়ী করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের বই নিষিদ্ধ তালেবানের

আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের বই নিষিদ্ধ তালেবানের আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচি থেকে নারীদের লেখা বই সরিয়ে দিয়েছে তালেবান সরকার। একইসঙ্গে মানবাধিকার ও যৌন হয়রানি বিষয়ক পাঠদানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ৬৮০টি বইকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৪০টি বই নারী লেখকদের লেখা। এই তালিকায় ‘সেফটি ইন দ্য কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি’ নামের বইও রয়েছে। তালেবানের ভাষ্য, এসব বই ‘শরিয়াহ ও সরকারের নীতির পরিপন্থি’। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা ১৮টি বিষয় পড়াতে পারবে না। এগুলোর সবকটিই নারী বিষয়ক যেমন- ‘জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’, ‘দ্য রোল অব উইমেন ইন কমিউনিকেশন’ এবং ‘উইমেন’স সোসিওলজি’।
এবার বিক্ষোভে উত্তাল ইকুয়েডর, ৫ প্রদেশে কারফিউ জারি

এবার বিক্ষোভে উত্তাল ইকুয়েডর, ৫ প্রদেশে কারফিউ জারি ডিজেল জ্বালানি ভর্তুকি বাতিলের বিরুদ্ধে ইকুয়েডরে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ৫ প্রদেশে কারফিউ জারি করেছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ৮টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নথিতে বলা হয়েছে, প্রদেশগুলোতে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলাচলের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে: কোটোপ্যাক্সি, ইম্বাবুরা, চিম্বোরাজো, বলিভার এবং কার্চি। ৮ প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে: কার্চি, ইম্বাবুরা, পিচিঞ্চা, আজুয়ায়, বলিভার, কোটোপ্যাক্সি, সান্টো এবং চিম্বোরাজো। পৃথক এই বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের প্রশাসন বলেছে, যারা সন্ত্রাসবাদ, অবৈধভাবে রাস্তা অবরোধ এবং সংগঠিত সহিংসতার আশ্রয় নেবেন, তাদের আইন অনুসারে শাস্তি দেওয়া হবে। এটি দমন-পীড়ন নয়, এটি আইন প্রয়োগ। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডিজেল জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করেন। এর ফলে প্রতি গ্যালনের (৩.৭৮ লিটার) দাম ১ দশমিক ৮ ডলার থেকে ২ দশমিক ৮ ডলারে বৃদ্ধি পায়।
ট্রাম্পের সফর শেষে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য

ট্রাম্পের সফর শেষে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফর শেষ হওয়ার পর এই ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার চেকার্সে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা ছাপিয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় সফরের পর পর্যন্ত ঘোষণাটি বিলম্বিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই খবর জানিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত জুলাই মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘যদি ইসরায়েল গাজার দুর্ভোগ লাঘব এবং যুদ্ধবিরতির জন্য পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাজ্য।’ তবে ইসরায়েল যুক্তরাজ্যের এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে, যা কার্যত স্বীকৃতিকে নিশ্চিত করেছে।আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হবে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রত্যাশিত তালিকায় রয়েছে।উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ১৯৩ দেশের মধ্যে ১৪৭টি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে স্বাধীন দেশ হিসেবে।
ভারত-পাকিস্তানসহ ২৩ দেশকে ‘প্রধান মা*দ*ক পাচারকারী’ চিহ্নিত করলেন ট্রাম্প

ভারত-পাকিস্তানসহ ২৩ দেশকে ‘প্রধান মা*দ*ক পাচারকারী’ চিহ্নিত করলেন ট্রাম্প ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও চীনসহ ২৩টি দেশকে মাদকের ট্রানজিট বা অবৈধ মাদক উৎপাদনকারী প্রধান প্রধান দেশ হিসেবে চিহ্নিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার ১৫ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া এক ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ডিটারমিনেশন’-এ এই তালিকা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। এই তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, বাহামা, বেলিজ, বলিভিয়া, বার্মা (মিয়ানমার), চীন, কলোম্বিয়া, কোস্টা রিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, জ্যামাইকা, লাওস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান, পানামা, পেরু ও ভেনেজুয়েলা , তালিকায় উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে, আছে বেশ কয়েকটি ক্যারিবীয় দেশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন, আফগানিস্তান ও লাওসের পাশে ভারত ও পাকিস্তানের নাম বেশ চমক সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থান, বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক উপাদান বিবেচনায় এসব দেশ মাদক বা কাঁচামাল উৎপাদন ও পাচারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে তালিকায় থাকা মানে এই নয় যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না বা মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে না। এদিকে, আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলোম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলাকে ট্রাম্প প্রশাসন মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘অসফল’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, এসব দেশ গত এক বছরে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তি মানতে ব্যর্থ হয়েছে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। চীন সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রিকার্সার কেমিক্যাল সরবরাহকারী, যা অবৈধ ফেন্টানাইল উৎপাদনকে জ্বালানি দিচ্ছে। এছাড়া চীন নিতাজিনস ও মেথঅ্যামফেটামিনসহ অন্যান্য সিনথেটিক মাদক উৎপাদনেও বড় ভূমিকা রাখছে। আফগানিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তালেবান অবৈধ মাদকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও সেখানে মাদক মজুত ও উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে মেথঅ্যামফেটামিনের উৎপাদন বেড়েছে। এর অর্থ আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহার হচ্ছে। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ফেন্টানাইলসহ মারণ মাদক পাচারের কারণে একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে। ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকানদের মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব মাদক।