নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানে আরো হামলার হুমকি ট্রাম্পের

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানে আরো হামলার হুমকি ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি অস্ত্র না ছাড়ে তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে ‘দ্রুত নির্মূল’ এবং ‘গুড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বৈঠকে গাজায় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের উদ্বেগ দূর করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।  ট্রাম্প দাবি করেন, গাজা যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল তার ভূমিকা পালন করছে (যদিও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে যাতে অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছে)। তিনি হামাসকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার জন্য সতর্ক করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করেছি। অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য তাদেরকে খুব অল্প সময় দেওয়া হবে, দেখা যাক কী হয়।” তিনি আরো বলেন, “যদি তারা অস্ত্র না ছাড়ে, যা করতে তারা সম্মত হয়েছিল, তাহলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।”এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি বন্দীদের বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি, ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং গাজা থেকে আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। হামাস এখনও একজন ইসরায়েলি বন্দীর মরদেহ ফেরত দেয়নি। অন্যদিকে ইসরায়েল ক্রমাগত গাজায় প্রাণঘাতী হামলা চালানোর পাশাপাশি ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার দেরীর জন্য এককভাবে হামাসকেই দায়ী করেন। হামাস এর আগে বলেছিল যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকা পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। তবে তারা অস্ত্র একপাশে সরিয়ে রাখতে এবং ৭ থেকে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। এদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, গত জুন মাসে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তেহরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি শুনতে পাচ্ছি ইরান আবার সবকিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। যদি তারা তা করে, তবে আমাদের তাদের গুঁড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাদের চরমভাবে আঘাত করব। তবে আশা করবো, এমনটা ঘটবে না।” ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে, তাহলে ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘খুব দ্রুত সেই প্রচেষ্টা নির্মূল করা’ ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তিনি সতর্ক করেন, এবারের হামলার ভয়াবহতা আগের বারের চেয়েও বেশি হতে পারে। আগের হামলায় ব্যবহৃত বোমারু বিমানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ঠিক জানি তারা কোথায় যাচ্ছে এবং কী করছে। আমি আশা করি তারা এটা করছে না, কারণ আমি একটি বি-২ বোমারু বিমানের জ্বালানি অপচয় করতে চাই না। এটি আসা-যাওয়ায় ৩৭ ঘণ্টার পথ। আমি অনেক জ্বালানি অপচয় করতে চাই না।” ইরানের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘ভালোভাবে বিজয়ী’ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাজিত না করলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসত না। ইসরায়েল যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সমর্থন দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি অব্যাহত রাখে, তবে হ্যাঁ। আর পারমাণবিক? দ্রুত। একটির ক্ষেত্রে উত্তর হলো: হ্যাঁ, অবশ্যই। অন্যটির (পারমাণবিক) ক্ষেত্রে: আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।” এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি। তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘একটি চুক্তিতে আসা’। তিনি বলেন, “যদি তারা চুক্তি করতে চায় তবে সেটিই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।”

জেন-জি বিক্ষোভের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে সাবেক র‍্যাপার

জেন-জি বিক্ষোভের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে সাবেক র‍্যাপার নেপালের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নাটকীয় মোড় নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশটির সাবেক র‌্যাপার ও কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তিনি ভক্তদের কাছে ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত। এবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই জোট নেপালের রাজনীতিতে গত তিন দশক ধরে আধিপত্য বিস্তারকারী পুরোনো দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় কর্মকর্তারা আজ সোমবার জানান, মেয়র বালেন গত রবিবার রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন আরএসপি পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। রবি লামিছানে নিজেও একজন সাবেক টিভি সঞ্চালক থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ব্যক্তিত্ব। চুক্তি অনুযায়ী, ৫ মার্চের সংসদ নির্বাচনে যদি আরএসপি জয়লাভ করে, তাহলে ৩৫ বছর বয়সী বালেন হবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, ৪৮ বছর বয়সী লামিছানে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নেপালে গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জেনারেশন জেড’ বা তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে ৭৭ জন নিহত হন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বালেন এবং লামিছানে উভয়েই সেই বিক্ষোভের দাবিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, “বালেন এবং তার তরুণ সমর্থকদের নিজেদের দলে ভেড়ানো আরএসপির জন্য একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগত পদক্ষেপ। তরুণ ভোটারদের হারানোর ভয়ে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো এখন শঙ্কিত।” নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নেপালের ৩ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের পর প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার (যাদের বেশিরভাগই তরুণ) তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বিক্ষোভের পর বালেন ব্যাপক আলোচনায় আসেন এবং তিনি ছিলেন আন্দোলনকারী তরুণদের একজন অঘোষিত নেতা। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনেও সহায়তা করেছিলেন, যারা এই নির্বাচন পরিচালনা করবে। তবে কিছু সমালোচক বিক্ষোভের সময় বালেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, তিনি জনসম্মুখে খুব কমই আসতেন এবং কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতেন। ১৯৯০ সালের পর নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেপি শর্মা ওলির নেতৃতাধীন কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) এবং মধ্যপন্থি নেপালি কংগ্রেস পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এখন বালেন তাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মিছানে ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে আরএসপি গঠন করেন। একজন টিভি সঞ্চালক হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। লামিছানে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সমবায় সমিতিগুলোতে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমানো অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। নেপালি কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মাহাত বলেন, “বালেন এবং লামিছানে- উভয়েই ‘বিতর্কিত’ নেতা এবং তাদের এই জোট বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।” মাহাত রয়টার্সকে বলেন, “আমি মনে করি না তাদের এই জোটের কারণে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে। মানুষ এখনো পুরোনো এবং অভিজ্ঞ দলগুলোকেই বেছে নেবে।”

ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬

ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬ ইন্দোনেশিয়ার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন নিহত এবং দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৩ জন। স্থানীয় কর্তপক্ষের বরাত দিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।  প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মানাদো শহরের দামাই রিটায়ারমেন্ট হোম-এ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।  শহরটির ফায়ার অ্যান্ড রেস্কিউ এজেন্সির প্রধান জিমি রোটিনসুলু বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পুলিশ এখনও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ মরদেহগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। দেশটির এক কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিককমকে জানান, অনেক মরদেহ এমন অবস্থায় রয়েছে, যা শনাক্ত করা কঠিন। বৃদ্ধাশ্রমের কাছেই বসবাসকারী স্টিভেন মোকোদোমপিট জানান, তিনি যখন রাত ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছান, তখন বৃদ্ধাশ্রমের রান্নাঘরে আগুন জ্বলছিল। উদ্ধারকাজের সময় তারা একটি বিস্ফোরণ এবং সাহায্যের জন্য আর্তচিৎকার শুনতে পান। তিনি বলেন, “মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।” ন্দোনেশিয়ায় এমন প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড অস্বাভাবিক নয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজধানী জাকার্তায় একটি সাত তলা অফিস ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত হয়েছিলেন।

ইউরোপে অ্যালকোহল পানে প্রতি বছর ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু

ইউরোপে অ্যালকোহল পানে প্রতি বছর ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু ইউরোপে অ্যালকোহল বা মদপানের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এটি এ অঞ্চলে প্রতি ১১টি মৃত্যুর মধ্যে একটির কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বে মদ্যপানের হার সবচেয়ে বেশি ইউরোপ মহাদেশে। এই অভ্যাসটি অকাল মৃত্যু ও শারীরিক আঘাতের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০১৯ সালের তথ্য (সবচেয়ে সাম্প্রতিক সহজলভ্য তথ্য) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপে অ্যালকোহলজনিত কারণে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ শারীরিক আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণগুলো হলো- আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মদ্যপানের সঙ্গে আন্তঃব্যক্তিগত সহিংসতা, যেমন- আক্রমণ এবং পারিবারিক নির্যাতনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুরো ইউরোপ অঞ্চল জুড়ে সহিংসতাজনিত মৃত্যুর পেছনে মদ্যপানকে একটি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যালকোহল তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মদ্যপান স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি, যেমন- অ্যালকোহল আসক্তি এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে শারীরিক আঘাতজনিত পঙ্গুত্ব এবং অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অ্যালকোহলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউরোপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যালকোহল, অবৈধ মাদক ও কারাগার-স্বাস্থ্য বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা কারিনা ফেরেরা বোর্হেস বলেন, “অ্যালকোহল একটি বিষাক্ত পদার্থ যা কেবল সাত ধরনের ক্যানসার এবং অন্যান্য অসংক্রামক ব্যাধির সৃষ্টি করে না, বরং এটি মানুষের বিচারবুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর করে দেয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে উৎসাহ যোগায়। এই কারণেই এত বিপুল পরিমাণ প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সঙ্গে মদ্যপানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।” তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে মৃত্যু সংখ্যার প্রায় অর্ধেকের জন্য অ্যালকোহলজনিত দুর্ঘটনা দায়ী, যেখানে পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপে এই হার ২০ শতাংশেরও কম।

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের কঠোর পদক্ষেপ

অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের কঠোর পদক্ষেপ অবৈধ অভিবাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত না নেওয়ার অভিযোগ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানায়। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়া তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। খবর বিবিসির। গত মাসে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘোষিত ব্যাপক সংস্কার নীতির অধীনে এই চুক্তিগুলোই প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন। এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো, শরণার্থী মর্যাদাকে অস্থায়ী করা এবং যুক্তরাজ্যে কাগজপত্র ছাড়াই আগতদের নির্বাসন দ্রুত করা। এই বিষয়ে আফ্রিকান তিন দেশ ডিআর কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা বা নামিবিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গো যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ ভিসা পরিষেবা এবং ভিআইপি ও নীতিনির্ধারকদের দেওয়া বিশেষ সুবিধাগুলো বাতিল করা হয়েছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, “সহযোগিতার দ্রুত উন্নতি না হলে ডিআর কঙ্গোর নাগরিকদের জন্য সম্পূর্ণ ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে যুক্তরাজ্য।” তিনি বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি দেশগুলো নিয়ম মেনে চলবে। যদি তাদের কোনো নাগরিকের এখানে থাকার অধিকার না থাকে, তবে তাদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “আমি অ্যাঙ্গোলা ও নামিবিয়াকে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এখন ডিআর কঙ্গোর সঠিক কাজটি করার সময়। আপনাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিন অথবা আমাদের দেশে প্রবেশের বিশেষ অধিকার হারান।” ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন মধ্য-বামপন্থি সরকার গত মাসে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে শরণার্থীদের এবং তাদের সন্তানদের সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মূলত অনিয়মিত অভিবাসীদের আগমন রোধ করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ, যা দেশটির কট্টর-ডানপন্থিদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষ ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের মোট সংখ্যার চেয়ে বেশি, তবে ২০২২ সালের রেকর্ড সংখ্যার চেয়ে কম। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে তার বক্তব্যে বলেছিলেন, ডেনমার্কের কঠোর আশ্রয় ব্যবস্থার আদলে নতুন সংস্কারগুলো শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করতে নিরুৎসাহিত করবে। তিনি বর্তমান ব্যবস্থাকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ উল্লেখ করে বলেন, “এটি একটি অস্বস্তিকর সত্য যা সরকারকে মোকাবিলা করতে হবে।” স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নতুন সংস্কার নীতির আওতায় শরণার্থী মর্যাদা সাময়িক হবে এবং প্রতি ৩০ মাস পর এটি পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের জন্য এখন ৫ বছরের পরিবর্তে ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। গত বছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেও বেশি অনুমোদনহীন অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাজ্য, যা পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। তবে, এই নীতির সমালোচনাও হচ্ছে তীব্রভাবে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক উপদেষ্টা মার্ক ডেভিস এটিকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘শরণার্থীদের সহায়তা করার জন্য ব্রিটেনের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি’ থেকে বিচ্যুতি বলে অভিহিত করেছেন। সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন এটিকে ‘বর্বর’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং কট্টর বর্ণবাদী শক্তিকে তুষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, একই সঙ্গে এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কনভেনশনকে ক্ষুণ্ন করে। যুক্তরাজ্যের শরণার্থী কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন সরকারকে নতুন নীতিটি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিকল্পনা অভিবাসীদের সমুদ্র পাড়ি দেওয়া থেকে বিরত করতে পারবে না। তার মতে, কঠোর পরিশ্রমী শরণার্থীদের ‘নিরাপদ, স্থায়ী জীবন’ গড়ে তুলতে সক্ষম হওয়া উচিত। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়েছে, যা একটি রেকর্ড। বেশিরভাগ আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থী বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসেন। দেশটিতে মোট অভিবাসীর সংখ্যা ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত রেকর্ড ৯ লাখ ৬ হাজারে পৌঁছানোর পর ২০২৪ সালে অংশিকভাবে কঠোর ভিসানীতি বাস্তবায়নের ফলে অভিবাসীর সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজারে নেমে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন ঝড়ের আশঙ্কায় হাজারো ফ্লাইট ব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রে শীতকালীন ঝড়ের আশঙ্কায় হাজারো ফ্লাইট ব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রে অবকাশ যাপনের এই মৌসুমে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।  শনিবার (২৭ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যার-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১ হাজার ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৭ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে যেসব বিমানবন্দরে, তার মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্ক এলাকার জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নিউয়ার্ক লিবার্টি এবং লাগার্ডিয়া। এছাড়াও বোস্টন, শিকাগো এবং কানাডার টরন্টো শহরেও এর প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত শীতকালীন ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে। নিউইয়র্ক এবং দক্ষিণ কানেকটিকাটে ৯ ইঞ্চি (২৩ সেমি) পর্যন্ত তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জেটব্লু এয়ারওয়েজ ২২৯টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, আর ডেল্টা এয়ারলাইন্স বাতিল করেছে ২৪১টি ফ্লাইট। রিপাবলিক এয়ারওয়েজ ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স যথাক্রমে ১৮০টি ও ১৫১টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রায় ১০০টি পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সোশাল মিডিয়া পোস্টে যাত্রীদের তাদের ফ্লাইটের অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে ভারী তুষারপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। গাড়িচালকদের বিপজ্জনক পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং সাথে জরুরি সরঞ্জাম রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেছেন, মানুষ যেন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলে। তিনি বলেন, “যদি ভ্রমণ করতেই হয়, তবে আগে থেকে পরিকল্পনা করুন, ধীরগতিতে গাড়ি চালান এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখুন।”

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষ বন্ধ করতে আজ শনিবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে একমত হয়েছে। খবর রয়টার্সের। স্থানীয় আজ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “উভয় পক্ষই বর্তমানে মোতায়েন করা সেনাদের কোনো প্রকার নড়াচড়া ছাড়াই বিদ্যমান অবস্থানে বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন উত্তেজনাকে আরো বাড়িয়ে তুলবে এবং পরিস্থিতি সমাধানের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।” থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাপন নাকফানিথ এবং কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী টে সিহা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে টানা ২০ দিনের লড়াইয়ের অবসান ঘটল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াই ছিল, যেখানে যুদ্ধবিমান, রকেট ও কামানের গোলাবর্ষণ তীব্র মাত্রায় ছিল। এই সংঘাতে উভয় পক্ষে অন্তত ১০১ জন নিহত এবং পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর আগে গত জুলাই মাসে চলা আগের দফার লড়াই থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন। ডিসেম্বরের শুরুতে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর এই সংঘাত পুনরায় শুরু হয়।

উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক যুদ্ধের ‘রক্তে’ আবদ্ধ: কিম

উত্তর কোরিয়া-রাশিয়ার সম্পর্ক যুদ্ধের ‘রক্তে’ আবদ্ধ: কিম ইউক্রেন যুদ্ধে ‘একই পরিখায় রক্ত, জীবন ও মৃত্যু ভাগ করে নেওয়ার’ মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাঠানো নববর্ষের এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এই কথা বলেন। খবর আল-জাজিরার। এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর কিমকে পাঠানো নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তায় পুতিন রাশিয়ার পশ্চিম কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের ‘বীরত্বপূর্ণ’ ভূমিকার প্রশংসা করেন। পুতিন বলেন, এটি দুই দেশের মধ্যে ‘অজেয় বন্ধুত্বেরই এক সুস্পষ্ট প্রমাণ’। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ কিমের এই বার্তাটি প্রকাশ করে। সেখানে কিম ২০২৫ সালকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য একটি ‘সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ বছর’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ককে একটি ‘অমূল্য অভিন্ন সম্পদ’ হিসেবে বর্ণনা করেন ‘যা কেবল বর্তমান সময়ে নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বজায় থাকবে’। কিম বলেন, “দুই দেশের জনগণের সম্পর্ক এবং তাদের ঐক্যকে কেউ ছিন্ন করতে পারবে না।” দক্ষিণ কোরিয়া এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। গত এপ্রিল মাসে উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, তারা রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য সেনা পাঠিয়েছে এবং তাদের বেশ কিছু সৈন্য যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে। পুতিনকে নববর্ষের বার্তা পাঠানোর আগের দিনই কিম তার কর্মকর্তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যুদ্ধাস্ত্র তৈরির জন্য আরো কারখানা স্থাপনের নির্দেশ দেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার হার বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় নিজেদের স্বল্প, মধ্যম এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। এছাড়া, এই ঘনঘন পরীক্ষা রাশিয়ার কাছে অস্ত্র রপ্তানির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি পিয়ংইয়ং মস্কোকে আর্টিলারি শেল, ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার রকেট সিস্টেম সরবরাহ করেছে বলে ধারণা করা হয়। এর বিনিময়ে রাশিয়া উত্তর কোরিয়াকে আর্থিক সহায়তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ করছে।

ইরান উপসাগরে তেলবাহী বিদেশী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান

ইরান উপসাগরে তেলবাহী বিদেশী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান ইরান উপসাগরের কৌশলগত এলাকায় ১৬ জন নাবিকসহ একটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান। কেশম দ্বীপের কাছে ওই ট্যাংকারটি আটক করা হয়। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্যাংকারটিতে প্রায় ৪০ লাখ লিটার বা ২৫ হাজার চোরাই জ্বালানি বহন করা হচ্ছিল। ইরানি কর্তৃপক্ষ জব্দকৃত ট্যাংকারটির নাম কিংবা সেটি কোন দেশের মালিকানাধীন— সেই বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ জন বিদেশি নাবিককে আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয়। দেশটির বিচার বিভাগের প্রাদেশিক প্রধান মোজতবা ঘরামানি বলেছেন, জব্দ হওয়া ট্যাংকারটি চোরাকারবারীদের জন্য একটি বড় ধরনের প্রদক্ষেপ। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, ট্যাংকারটি গত বুধবার জব্দ করা হয়। এর আগেও গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে ৬০ লাখ লিটার চোরাই ডিজেল বহনকারী আরেকটি বিদেশি ট্যাংকার আটক করার দাবি করেছিল তেহরান। সেক্ষেত্রেও ট্যাংকারের পরিচয় বা দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বড়দিনে ৬০ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার

বড়দিনে ৬০ বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ গতকাল অন্তত ৬০ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় এনজিও ফোরো পেনালের সাম্প্রতিক হিসাব অনুসারে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলায় কমপক্ষে ৯০২ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় এদের আটক করা হয়। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির জন্য কাজ করা মানবাধিকারকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত ‘কমিটি ফর দ্য ফ্রিডম অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স’ জানিয়েছে, এই মুক্তি কার্যক্রম ক্রিসমাস দিবসে শুরু হয়।