কিউবায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে যাওয়া দুই নৌকা নিখোঁজ

কিউবায় ত্রাণ সহায়তা নিয়ে যাওয়া দুই নৌকা নিখোঁজ মানবিক সহায়তা সামগ্রী নিয়ে কিউবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা দুটি পাল-তোলা নৌকা মেক্সিকো ছাড়ার পর সাগরে নিখোঁজ হয়েছে। নৌকা দুটি খুঁজে বের করতে ক্যারিবিয়ান সাগরে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনী জানিয়েছে, নিখোঁজ নৌকাগুলোর নাম ‘ফ্রেন্ডশিপ’ এবং ‘টিগার মথ’। নৌকা দুটিতে অন্তত ৯ জন ক্রু ছিলেন। নৌকাগুলো ২০ মার্চ মেক্সিকোর ইসলা মুহেরেস থেকে কিউবার রাজধানী হাভানা পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মেক্সিকোর নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা আশপাশের দেশগুলোর সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র এবং কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নৌকা দুটি উদ্ধারে কাজ করছে। ক্রুদের মধ্যে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা রয়েছেন। ত্রাণবাহী নৌকাগুলোর এক মুখপাত্র জানিয়েছে, ‘ক্যাপ্টেন এবং ক্রুরা অত্যন্ত অভিজ্ঞ নাবিক। নৌকাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংকেত পাঠানোর আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুরোপুরি সহযোগিতা করছি এবং বিশ্বাস করি, নাবিকরা নিরাপদে হাভানায় পৌঁছাতে সক্ষম হবেন।’ নৌকাগুলোতে কিউবার জনগণের জন্য খাদ্য, ওষুধ, সোলার প্যানেল, শিশুখাদ্য ও বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা ছিল। যাত্রার সময় ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর ক্যাপ্টেন আদনান স্টুমো বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমরা বিপুল পরিমাণ ত্রাণ এবং সংহতি প্রকাশ করা একদল কর্মী নিয়ে সরাসরি কিউবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছি। কিউবার জনগণের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনকে ধ্বংস করার অবরোধের পাশে আমরা দাঁড়াব না।’ কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ নৌকাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই সহযাত্রী ভাইদের উদ্ধারে আমাদের দেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে নিহত ৩ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের কাউয়াই দ্বীপে একটি পর্যটকবাহী হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দেশ্টির স্থানীয় সময় গতকাল বিকেলে কালালাউ সমুদ্র উপকূলের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্ট গার্ড। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটিতে একজন পাইলটসহ মোট পাঁচজন ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এবং কাউয়াই ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। আহত দুইজনকে দ্রুত উদ্ধার করে উইলকক্স মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটির কোস্ট গার্ড জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৪টার দিকে হেলিকপ্টারটি কালালাউ বিচ থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি বালুচরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটি ছিল একটি হিউজেস ওএইচ-৬ কায়ুজ মডেলের। হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিল এয়ারবোন এভিয়েশন নামের একটি ট্যুর কোম্পানি। কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রিউ উইলিয়ামস বলেন, এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে দুঃখিত। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এদিকে, এ দুর্ঘটনার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড।

হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠাট্টা

হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঠাট্টা প্রায় চার সপ্তাহ ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে এবং এ অচলাবস্থা দ্রুতই কাটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরের জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বলে ঠাট্টা করেছেন তিনি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে সৌদি আরব সমর্থিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের স্বার্থে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। এসময় তিনি হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বললে উল্লেখ করেন। বক্তৃতার সময় ট্রাম্প বলেন, তাদের ‘স্ট্রেইট অব ট্রাম্প’- মানে হরমুজ- খুলে দিতে হবে। দুঃখিত, এটা বড় ভুল হয়ে গেছে। পরে নিজেই মন্তব্যটি ঘিরে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে সরব হতে পারে, তবে তার ক্ষেত্রে এমন ভুল সচরাচর ঘটে না।

সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট

সুয়েজ খাল অচল করে দিতে পারে ইরান সমর্থিত হুথিরা : রিপোর্ট ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে সরাসরি তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন’কে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করে, তবে হুথিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। এদিকে, কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরির মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অংশগ্রহণ বিশ্ব বাণিজ্যের দ্বিতীয় একটি প্রধান নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে এলমাসরি বলেন, ‘গত আড়াই বছরে আমরা দেখেছি যে হুথিদের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। যদি তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর ফলে লোহিত সাগর ও শেষ পর্যন্ত সুয়েজ খালে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তাহলে আমরা দু’টি প্রধান ‘চোকপয়েন্ট’ বা বাধাগ্রস্ত পয়েন্টের (হরমুজ প্রণালী ও সুয়েজ খাল) সম্মুখীন হব।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই রুটগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য প্রধান বৈশ্বিক নৌপথ। তাই আমি মনে করি সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।’ তার মতে, হুথিদের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন হামলা ইসরায়েলের শক্তিশালী কিন্তু ‘অভেদ্য নয়’ এমন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিজবুল্লাহর মিসাইল ও রকেট এবং ইরানের মিসাইলগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন যদি ইসরায়েল ইয়েমেন থেকে আসা মিসাইলগুলো মোকাবিলা করতে বাধ্য হয়, তবে তা তাদের জন্য পরিস্থিতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও জটিল করে তুলবে।’ এলমাসরি জানান, ‘রাজনৈতিকভাবে-এবং হয়তো কিছুটা অদ্ভুতভাবে-ইসরায়েল এটিকে স্বাগত জানাতে পারে। কারণ তারা এই যুদ্ধকে বিস্তৃত ও দীর্ঘায়িত করতে চায়। তারা নিশ্চিত করতে চায় যেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিকট ভবিষ্যতে যুদ্ধের সমাপ্তি না ঘটান। কারণ ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলো এখনও অর্জিত হয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৯তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে সারাবিশ্বে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখনও বাকি ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু : ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি, এখনও বাকি ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু : ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়নি মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসি„ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার বাকি আছে। গ্তকাল ফ্লোরিডার মায়ামি বিচে ফায়েনা ফোরামের ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এফআইআই) ইনস্টিটিউটের সম্মেলনে এমন কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং এখনো ইরানের আরও ৩ হাজার ৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা বাকি রয়েছে। খুব দ্রুতই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা সম্পন্ন করা হবে। ইরান এর আগে কখনো এমন কিছু দেখেনি বলেও হুঁশিয়ার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘কোনো স্থলবাহিনী ছাড়াই’ তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে এবং এই যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার সমান্তরালে ইরানে ‘চূড়ান্ত হামলার’ প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে খবর দিয়েছে একাধিক সংবাদমাধ্যম। সেক্ষেত্রে ইরানে ব্যাপক পরিমাণে বিমান হামলার পাশপাশি স্থলবাহিনী নামানোর চিন্তাও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরো দুইজনের বরাতে এ প্রস্তুতির খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’। খবরে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে মূলত বড় হামলার পথে হাঁটবে মার্কিন বাহিনী। অ্যাক্সিওস লিখেছে, খার্ক, লারাক কিংবা আবু মুসারে মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে আক্রমণ হতে পারে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজে অবরোধ আরোপের মতো পরিকল্পনাও আছে। খবরে বলা হয়, কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, বড় ধরনের হামলা চালালে তা শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। দুই পক্ষের আলোচনায় যুক্ত থাকা এক ব্যক্তি বলেন, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর সংলাপ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অ্যাক্সিওস লিখেছে, সম্ভাব্য অনেক বিকল্প মার্কিন প্রশাসন ভেবে রাখলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এছাড়া হোয়াইট হাউসের অনেক কর্মকর্তা স্থল অভিযানকে এখনো ‘কাল্পনিক’ হিসেবেই দেখেন। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট, সিএনএন

উত্তেজনা বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে বিশাল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

উত্তেজনা বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পথে বিশাল মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাসমান এয়ারবেস ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ— যা ৮০টিরও বেশি বিমান বহন করতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যের ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতায় এটিকে মোতায়েন করা হবে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সিবিএসকে বলেন, রণতরীটি এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ চলতি মাসের শুরুতে মোতায়েন-পূর্ব প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে এবং এখন তারা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে যোগ দিতে পারে। দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ডোনাল্ড কুক এবং ইউএসএস ম্যাসন—এই সপ্তাহে ইরানে চলমান মার্কিন অভিযানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে। আরেকটি ডেস্ট্রয়ার— ইউএসএস রস, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে, যদিও এর গন্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তারপরও এই মার্কিন বিমানবাহী রণতরী নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা।

জ্বালানি সংকটে ভেনেজুয়েলায় এক সপ্তাহ ছুটি ঘোষণা

জ্বালানি সংকটে ভেনেজুয়েলায় এক সপ্তাহ ছুটি ঘোষণা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তীব্র গরম ও জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি ঘোষণা করেছেন। আজ বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সংকট ও রেশনিংয়ের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে ইস্টার উপলক্ষে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অতীতেও কর্মদিবস কমানো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নজির রয়েছে। ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, পবিত্র সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও সীমিত কার্যক্রম বা ছুটি পালন করা হবে। তিনি জানান, টানা প্রায় ৪৫ দিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে। তবে জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উত্তাল ফিলিপাইন, দেশজুড়ে ধর্মঘট ও জরুরি অবস্থা জারি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উত্তাল ফিলিপাইন, দেশজুড়ে ধর্মঘট ও জরুরি অবস্থা জারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানিসংকটে বিপর্যস্ত ফিলিপাইনে তেলের আকাশছোঁয়া দামের প্রতিবাদে রাজধানী ম্যানিলায় শত শত মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। দেশটির পরিবহন ইউনিয়নগুলোর ডাকা দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের অংশ হিসেবে শুক্রবার এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিপাইনে ডিজেল ও পেট্রলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা ম্যানিলা শহর প্রদক্ষিণ করে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ফিলিপাইন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সতর্ক করে বলেছেন যে, দেশের জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও প্রাপ্যতা বর্তমানে ‘আসন্ন বিপদের’ মুখে রয়েছে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুত অবশিষ্ট রয়েছে। জ্বালানির এই উচ্চমূল্য দেশটির অর্থনীতিতে একটি ‘ক্যাসকেডিং এফেক্ট’ বা ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিলিপাইন সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ী কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করার পাশাপাশি পরিবহন খরচ কমাতে জ্বালানি ভর্তুকি এবং অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুতদারি, মুনাফাখোরি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহব্যবস্থায় কারসাজি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে দেশটি।

অবসরে গেলেন নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সুশিলা কার্কি

অবসরে গেলেন নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সুশিলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি অবসর ভেঙে দেশের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে সরকার পতনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দায়িত্ব পালন শেষে আবারও অবসরে ফিরে গেলেন তিনি। ৭৩ বছর বয়সী কার্কি সংকটময় সময়ে দেশের হাল ধরার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটি ছিল দেশটির এক অস্থির সময়। বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, ‘এই দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমি ভয় ও অনিশ্চয়তায় ডুবে ছিলাম।’ কার্কি বলেন, ‘তবে আমি বিশ্বাস নিয়ে এসেছিলাম-সংকটের সময় অন্তত আশা জাগাতে পারব।’ তিনি এমন এক দেশের নেতৃত্ব দেন, যা তখন গভীরভাবে বিভক্ত ছিল। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন দায়িত্ব নেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সহিংসতায় সংসদসহ বহু সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ৭৭ জন নিহত হন। কার্কি বারবার বলেন, তিনি কখনো এই দায়িত্ব চাননি। জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভের কর্মীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডের মাধ্যমে তার নাম প্রস্তাব করে। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত হন। নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। গতকাল রাতে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য কাজ করা তরুণ প্রজন্মের অনুরোধে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন কিছুটা সন্তুষ্টি ও অনেক আশা নিয়ে বিদায় চাইছি।’ দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম কাজগুলোর একটি ছিল সহিংসতা তদন্তে কমিশন গঠন। কমিশন তার পূর্বসূরি চারবারের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিকে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ ৫ মার্চ ভোট দেওয়ার পর কার্কির একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।’ ১৯৫২ সালে পূর্ব নেপালের শিল্পশহর বিরাটনগরে জন্ম কার্কির। ভারতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও কাঠমাণ্ডুতে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। এ সময়ে নারীদের জন্য আইন পেশায় প্রবেশ ছিল বিরল। দ্রুতই নির্ভীক আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন তিনি। অনেকেই এড়িয়ে যেতেন এমন মামলাও তিনি গ্রহণ করতেন।

যুদ্ধে লেবাননে নিহত বেড়ে ১ হাজার ১১৬, বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ

যুদ্ধে লেবাননে নিহত বেড়ে ১ হাজার ১১৬, বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৬ জনে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্তকাল পর্যন্ত এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু প্রাণহানিই নয়, যুদ্ধের এই তীব্রতায় আহতের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। লেবাননের বিপর্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২২৯ জন। প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। নিরাপত্তাহীনতা ও লাগাতার হামলার মুখে দেশজুড়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী ক্যাম্পে, আবার কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে লেবাননের বিভিন্ন এলাকা এখন কার্যত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।