যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, নিহত বেড়ে ২৭৯

যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, নিহত বেড়ে ২৭৯ হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরেও গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১০ অক্টোবর দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি চলমান থাকার পরেও ফিলিস্তিনিদের ওপর দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন থামছে না। খবর বিবিসির। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ৩৯৩ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে এখন পর্যন্ত ২৭৯ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৬৫২ জন। এদিকে দক্ষিণ লেবাননের একটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ১৩ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অপরদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী এক শিশু এবং আল জাজিরার এক সাংবাদিককে গুলি করেছে। মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাড়ি চাপা ও ছুরিকাঘাতে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। সে সময় ইসরায়েলে মোট ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং প্রায় ২০০ জনকে জিম্মি হিসেবে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় দুই বছর ধরে গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ আগ্রাসনে কমপক্ষে ৬৯ হাজার ৪৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৭০৬ জন আহত হয়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গত দুই বছরের কম সময়ে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৯৪ ফিলিস্তিনি বন্দি ও আটক ব্যক্তি মারা গেছেন। সংগঠনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মৃত্যু পদ্ধতিগত হত্যা ও গোপন করার চেষ্টার অংশ হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগের ১০ বছরে ইসরায়েলি হেফাজতে প্রায় ৩০ ফিলিস্তিনি মারা যান। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনা মূলত শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা-সেবা অস্বীকার, অথবা দুইয়ের সংমিশ্রণে ঘটেছে।
জাপানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়েছে ১৭০টির বেশি ভবন

জাপানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়েছে ১৭০টির বেশি ভবন জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ওইতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭০টিরও বেশি ভবন পুড়ে গেছে। আগুন রাতভর জ্বলতে থাকার পরও স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় অগ্নি নির্বাপণ সংস্থা। বুধবার (১৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ওইতা শহরের সাগানোসেকি এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৭৫ বাসিন্দাকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় এখনো এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে তদন্ত চলছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে-ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে শহর, আর বহু ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওইতা প্রিফেকচারের অনুরোধে একটি সামরিক অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কিউশু দ্বীপে অবস্থিত ওইতা রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দূরে। পাহাড়ঘেরা এই উপকূলীয় শহরটি সাগানোসেকি মৎস্যবন্দর এবং উচ্চমানের ম্যাকারেল মাছের উৎপাদনের জন্য পরিচিত।
সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিতে রাজি ট্রাম্প

সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দিতে রাজি ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সৌদি আরবের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দেবেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণা আরব দেশগুলোতে অত্যাধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের একটি নতুন রূপ। খবর আলজাজিরার। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঠিক একদিন আগে সোমবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। রিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করব। হ্যাঁ, আমি এটি করার পরিকল্পনা করছি। তারা এগুলো কিনতে চায়। তারা আমাদের খুব ভালো মিত্র।” তার এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অস্ত্রনীতির বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তটিকে রিয়াদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য জয় হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প আব্রাহাম চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনে সৌদি আরবকে রাজি করানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও সৌদি নেতৃত্ব বারবার জানিয়েছে, তারা এখনো আরব শান্তি উদ্যোগের অবস্থানেই অটল। অর্থাৎ টেকসই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হলে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি নয়। এদিকে, সৌদি আরবকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়া হলে ইসরায়েলের ‘গুণগত সামরিক সুবিধা’ যা মার্কিন আইনে সুরক্ষিত- তা ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তা। সম্ভাব্য আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের উচ্চতর সামরিক ক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশক ধরে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ১৯৬৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের অধীনে প্রথম প্রতিষ্ঠিত এবং প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত এই নীতিটি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিকে পরিচালিত করে আসছে।
ফ্রান্স থেকে ১০০ রাফাল যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ইউক্রেন

ফ্রান্স থেকে ১০০ রাফাল যুদ্ধবিমান পাচ্ছে ইউক্রেন রাশিয়ার ভয়াবহ আক্রমণ থেকে নিজেদের আত্মরক্ষার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি বড় চুক্তির আওতায় ফ্রান্সের কাছে থেকে ১০০টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাচ্ছে ইউক্রেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্যারিসের কাছে একটি বিমান ঘাঁটিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার পর, এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ২০৩৫ সালের মধ্যে রাফাল এফ-৪ বিমানগুলো সরবরাহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার আগে চলতি বছরেই শুরু হচ্ছে ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের যৌথ উৎপাদন। আর্থিক বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে ইউক্রেনকে অর্থায়নের চেষ্টা করবে ফ্রান্স। এছাড়া জব্দ করা রাশিয়ান সম্পদও ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে; এটি এমন একটি বিতর্কিত পদক্ষেপ যা নিয়ে ২৭ সদস্যের জোটের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সোমবার ম্যাখোঁর সঙ্গে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেন, “এটি একটি কৌশলগত চুক্তি যা আগামী বছর থেকে শুরু করে ১০ বছর ধরে চলবে। তিনি আরো বলেন, “ইউক্রেন খুব শক্তিশালী ফরাসি রাডার, আটটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য উন্নত অস্ত্র পাবে।” জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, “এই ধরনের উন্নত ব্যবস্থা ব্যবহার করার অর্থ ‘কারও জীবন রক্ষা করা…এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” রাশিয়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও রেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলায় দেশজুড়ে ব্যাপক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
চীন-জাপান উত্তেজনা: জাপানগামী প্রায় ৫ লাখ ফ্লাইট টিকিট বাতিল

চীন-জাপান উত্তেজনা: জাপানগামী প্রায় ৫ লাখ ফ্লাইট টিকিট বাতিল তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায়, বেইজিং তার নাগরিকদের দেশটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই চীনা ভ্রমণকারীরা জাপানগামী প্রায় ৪ লাখ ৯১ হাজার ফ্লাইট টিকিট বাতিল করেছেন। স্বাধীন বিশ্লেষক লি হানমিংয়ের গবেষণার ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে যে, জাপানে বুকিং করা প্রায় ৩২ শতাংশ টিকিট বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদেন এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস। লি জানান, রবিবার ৮২.১৪ শতাংশ এবং সোমবার ৭৫.৬ শতাংশ টিকিট বাতিল করা হয়েছে। তিনি কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পরে সাম্প্রতিক টিকিট বাতিলের এই সংখ্যাকে সবচেয়ে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। লি আরো জানান, রবিবার টিকিট বাতিলের সংখ্যা নতুন বুকিংয়ের তুলনায় ২৭ গুণ বেশি ছিল। এর কারণ হলো, নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার বেইজিং জাপানে তাদের ভ্রমণ সতর্কতা জারি করার পর বিমান সংস্থাগুলো জাপানগামী ফ্লাইটের জন্য সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে শুরু করে। নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনার শুরু হয় জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির একটি মন্তব্যকে ঘিরে। চলতি মাসের শুরুতে পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “চীন যদি তাইওয়ানে আক্রমণ চালায়, তাহলে তা জাপানের নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি এবং জাপান সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।” রবিবার বেইজিং সতর্ক করে বলেছে, তাইওয়ান ইস্যুতে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করলে তারা ‘ভয়াবহ পরাজয়’ বরণ করবে। পাশাপাশি জাপানে ভ্রমণের বিরুদ্ধে চীনা নাগরিকদের সতর্কও করা হয়। আর এটি জাপানের পর্যটনব্যবসার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “চীনের ভ্রমণ সতর্কতা ‘কৌশলগত, পারস্পরিক উপকারী সম্পর্ক উন্নয়নের বিস্তৃত দিকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’। আমরা চীনা পক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দৃঢ় অনুরোধ করেছি।”
সৌদিতে বাস-ট্যাঙ্কারের সংঘর্ষে ৪২ ভারতীয় ওমরাহযাত্রী নিহত

সৌদিতে বাস-ট্যাঙ্কারের সংঘর্ষে ৪২ ভারতীয় ওমরাহযাত্রী নিহত সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া ভারতীয় যাত্রী বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি ডিজেলবাহী ট্যাংকারের কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন। খবর এনডিটিভির। মুফরিহাটের কাছে ভারতীয় সময় রাত দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাসটি মক্কা থেকে মদিনার দিকে যাচ্ছিল। বাসের বেশিরভাগ যাত্রী তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ থেকে এসেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় দলটি তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে মদিনার দিকে ফিরছিল বলে জানা গেছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, সংঘর্ষের পর বাসটিতে আগুন ধরে যাওয়ার সময় অনেক যাত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে, ফলে তাদের পালানোর সুযোগ খুব কম ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ১১ জন নারী এবং ১০ জন শিশু রয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ এখনও সংখ্যাটি যাচাই করছে। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, বাসটি সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে, যার ফলে নিহতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা রিয়াদে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি নয়াদিল্লির কর্মকর্তাদের দূতাবাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করতে বলেছেন।
বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় ৩০০ জন

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় ৩০০ জন পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এ নিয়ে আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় ভারতীয় সীমান্তে জড়ো হচ্ছে শত শত মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানা এলাকার হাকিমপুর সীমান্তে এমন ঘটনা দেখা গেছে। বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র এই সীমান্তেই জড়ো হয়েছেন নারী শিশু সহ অন্তত ৩০০ জন বাংলাদেশি নাগরিক। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, শহর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতে অনুপ্রবেশকারী এই বাংলাদেশিরা ফের বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য হাকিমপুর সীমান্তে এসে পৌঁছেছেন। কেউ দালালের মাধ্যমে কেউ আবার নিজেরাই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এসেছেন সীমান্তে। কিন্তু বিএসএফের বাধায় সীমান্তেই আটকে পড়েছেন এই বাংলাদেশিরা। আটকে পড়া ব্যক্তিরা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে ভারতে অনুপ্রবেশের পর তারা কলকাতা, দিল্লি, ব্যাঙ্গালুরু থেকে মুম্বাইয়ের মতো শহরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ভারত জুড়ে শুরু হওয়া এসআইআরের কারণে জেল ও জরিমানা এড়াতে দেশে তারা ফিরতে চাইছেন। অফিসিয়াল বিবৃতি জারি না করলেও বিএসএফ সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে এমন ছবি শুধুমাত্র হাকিমপুর সীমান্তের নয়। এই সীমান্তে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সংখ্যাটা অনেক বেশি। বিএসএফ জানিয়েছে, আটকে পড়া এই বাংলাদেশিদের মানবিক বিবেচনায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্বের দাবির স্বপক্ষে নিথিপত্র বিএসএফের ১৪৩ নম্বর ব্যাটালিয়ন খতিয়ে দেখছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে আগামী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হায়দ্রাবাদে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭

হায়দ্রাবাদে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭ পাকিস্তানের হায়দ্রাবাদের লতিফাবাদ এলাকার একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গতকাল রাতে উদ্ধারকারীরা একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। দেশটির উদ্ধারকারী পরিষেবা ১১২২-এর মুখপাত্র জানান, লাঘারি গোথ নদীর তীরে, লতিফাবাদ পুলিশ স্টেশন এলাকার একটি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দ বহু মাইল দূরে পর্যন্ত শোনা গেছে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে অনেক কক্ষ ও দেওয়াল ভেঙে পড়ায় আরও কয়েকজন আটকা পড়ার শঙ্কা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা তাদের বের করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের শরীরের ৯৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। হায়দ্রাবাদের মেয়র কাশিফ শোরো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিস্ফোরণে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। লতিফাবাদ সহকারী কমিশনার সৌদ লুন্ড জানিয়েছেন, কারখানাটি একটি বাড়িতে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, কার্যক্রম পরিচালনার কোনো লাইসেন্স ছিল না।
যুক্তরাজ্যে শরণার্থীরা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন ২০ বছর পর

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীরা স্থায়ী নাগরিকত্ব পাবেন ২০ বছর পর অবৈধভাবে প্রবেশ ঠেকাতে ও আশ্রয়ের আবেদন কমাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শরণার্থীরা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাবেন ২০ বছর পর। আগামীকাল এ সংস্কার চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শরণার্থীরা যুক্তরাজ্যে সাময়িকভাবে থাকতে পারবেন। তাদের বিষয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। যাদের নিজ দেশ নিরাপদ বলে বিবেচিত হবে, তাদের ফিরে যেতে হবে। বর্তমান নিয়মে শরণার্থী অবস্থায় পাঁচ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকা যায়। পরে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর)-এর জন্য আবেদন করতে হয়। নতুন নীতি অনুযায়ী প্রাথমিক সময়কাল ৫ বছর থেকে কমিয়ে আড়াই বছর করা হবে। এরপর নিয়মিত পুনর্মূল্যায়ন হবে। আর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়কাল ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শাবানা মাহমুদের মতে এই সংস্কার অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেশটিতে আসতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন আমাদের দেশকে বিভক্ত করছে। সরকারের কাজ দেশকে একত্রিত করা। এদিকে, নতুন নীতিকে রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সোলোমন ‘কঠোর ও অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ নীতি নির্যাতনের শিকার ও নৃশংস যুদ্ধে পরিবার হারানো মানুষদের আসা বন্ধ করতে পারবে না। যুক্তরাজ্যের নীতিটি ডেনমার্কের অভিবাসন ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হয়েছে। ডেনমার্ক শরণার্থীদের দুই বছরের অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়। মেয়াদ শেষ হলে ফের আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে হয়।
ঝড়ের তাণ্ডবে পর্তুগালে ৩ মৃত্যু, ইংল্যান্ডে বন্যা

ঝড়ের তাণ্ডবে পর্তুগালে ৩ মৃত্যু, ইংল্যান্ডে বন্যা বিধ্বংসী ঝড় ক্লাদিয়া কয়েক দিন ধরে পর্তুগাল, স্পেন ও ব্রিটেনে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তীব্র ঝড়ো বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই ঝড় শনিবারের মধ্যে ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশে পৌঁছে গেছে। যার প্রভাবে পর্তুগালে ৩ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ব্রিটেনের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অনেক এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বৃহস্পতিবার পর্তুগালের লিসবনের ফেরনাও ফেরো এলাকায় পানিতে ডুবে যাওয়া একটি বাড়ি থেকে বয়স্ক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা রাতে পানি বাড়তে থাকায় বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি। আঞ্চলিক সিভিল প্রোটেকশন কমান্ডার ভিতর ভাজ পিন্টো জানান, পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আলবুফেইরায় ঝড়টির আঘাতে একটি ক্যাম্পিং এলাকায় বেশকিছু ক্যারাভান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে ৮৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নারী নিহত হয়েছেন। শহরটির একটি হোটেলে অবস্থান করা ২৮ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। এদিকে, শনিবার ব্রিটেনে তীব্র বন্যা দক্ষিণ-পূর্ব ওয়েলসের মোনমাউথ শহর ও আশপাশের এলাকাগুলোকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, তারা উদ্ধার অভিযান, বাসিন্দা সরিয়ে নেওয়া ও বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়েলশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, টানা বৃষ্টি ও নদীর পানি ওয়েলসের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি করেছে। এতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউরোপে ক্লাদিয়ার মতো ঝড়গুলো পশ্চিম থেকে পূর্বে বয়ে গিয়ে ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করে। এটি ঠাণ্ডা ও মৃদু বায়ুর সংঘর্ষ থেকে শক্তি সংগ্রহ করে।