দক্ষিণ এশিয়ায় জীবিকা নির্বাহ কঠিন হবে বলছে বিশ্বব্যাংক

দক্ষিণ এশিয়ায় জীবিকা নির্বাহ কঠিন হবে বলছে বিশ্বব্যাংক বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রাইজার বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের খ-িতকরণের কারণে সামনের দিনগুলোতে দক্ষিণ এশীয়দের জন্য উপযুক্ত জীবিকা নির্বাহে কাজ পাওয়া আরও কঠিন হবে। দুই দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রমশক্তিতে প্রবেশকারীদের সংখ্যা কমছে। শ্রমশক্তিতে নতুন প্রবেশকারীদের তুলনায় ৩০ কোটি কম চাকরি রয়েছে। আজ প্রকাশিত ‘রিথিংকিং সোশ্যাল প্রটেকশন ইন সাউথ এশিয়া : টুওয়ার্ডস প্রগ্রেসিভ ইউনিভার্সালিজম’ শীর্ষক প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরেন রাইজার। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেতিবাচক নানা ঝুঁকির অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ আচ্ছন্ন করেছে দক্ষিণ এশিয়া। শ্রীলঙ্কায় করোনার প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটে প্রায় ৩০ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পাকিস্তানে ২০২২ সালের বন্যা-জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্রের দিকে ঢেলে দিয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও খাদ্য সংকট আরও প্রসারিত হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে সরাসরি বিপাকে পড়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার কর্মজীবী মানুষ।’ মার্টিন রাইজার মতে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষম জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ কমে যাচ্ছে। এমন সময়ে নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে, যা বিশ্বকে এমনভাবে আগে প্রভাবিত করেনি।

চীনে জ্বালানি ট্যাঙ্কারে রান্নার তেল পরিবহন

চীনে জ্বালানি ট্যাঙ্কারে রান্নার তেল পরিবহন চীনে রান্নার তেল পরিবহনের জন্য জ্বালানি ট্যাঙ্কার ব্যবহার করার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) চীনা সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারি সংবাদপত্র বেইজিং নিউজ জানিয়েছে, তাদের একজন আন্ডারকভার প্রতিবেদক এক ট্রাক চালকের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। ওই চালক চীনের পশ্চিমে নিংজিয়া থেকে একটি ট্যাঙ্কার নিয়ে হেবেইয়ের পূর্ব উপকূলীয় শহর কিনহুয়াংদাওতে গিয়েছিলেন।  এক হাজার ২৯০ কিলোমিটার দূরের ওই পথ থেকে তাকে খালি গাড়ি নিয়ে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাকে ট্যাঙ্কারটি পরিষ্কার না করেই প্রায় ৩২ টন সয়াবিন তেল লোড করার জন্য হেবেইয়ের অন্য অংশে একটি কেন্দ্রে পাঠানো হয়। একই বৈশিষ্ট্যযুক্ত আরও কয়েকটি ট্যাঙ্কারে সয়াবিন তেল লোড করা হয়েছিল। এই কেলেঙ্কারিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ও শস্য কোম্পানি সিনোগ্রেন এবং বেসরকারি সংস্থা হোপফুল গ্রেইন অ্যান্ড অয়েল গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি বড় চীনা কোম্পানি জড়িত রয়েছে। উভয় সংস্থা জানিয়েছে, তারা অভিযোগ তদন্ত করছে। চলতি সপ্তাহে চীনের স্টেট কাউন্সিলের অধীনে খাদ্য নিরাপত্তা কমিশনের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা অভিযোগ তদন্ত করছে এবং ‘যে ব্যক্তিরা ট্যাঙ্কার ট্রাকের অনুপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করেছে তাদের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।’ এই ট্যাঙ্কারগুলোতে পরিবহন করা রান্নার তেল শেষ পর্যন্ত কোথায় পৌঁছানো হয়েছে তা স্পষ্ট নয়। বেইজিং নিউজ জানিয়েছে,  ট্যাঙ্কারগুলো চীনে গৃহস্থালী ব্র্যান্ডগুলোর প্যাকেজিং কেন্দ্রে তেল সরবরাহ করেছিল। তবে তেল শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, কিছু তেল শেষ পর্যন্ত বিদেশে রপ্তানির জন্য ছোট বোতলে প্যাকেটজাত করা হতে পারে।

গাজা শহর থেকে সব বাসিন্দাকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

গাজা শহর থেকে সব বাসিন্দাকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলের গাজা শহরের সব বাসিন্দাকে বের হয়ে যেতে বলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।  বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, বাসিন্দাদের বের হয়ে যেতে গাজা সিটিতে হাজার হাজার লিফলেট ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। লিফলেটে ‘গাজা শহরের প্রত্যেককে’ সম্বোধন করে শহর থেকে আরও দক্ষিণে মনোনীত নিরাপদ এলাকায় যাওয়ার রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে,  সেনাবাহিনী হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলে শহুরে এলাকা ‘একটি বিপজ্জনক যুদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হবে।’ এর আগে ২৭ জুন শহরের একটি অংশ থেকে বাসিন্দাদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার আকাশ থেকে ফেলা লিফলেটগুলোতে বলা হয়েছে, বাসিন্দারা ‘দ্রুত এবং পরিদর্শন ছাড়াই গাজা সিটি থেকে দেইর আল-বালাহ এবং আল-জাওইয়াতে আশ্রয়কেন্দ্রে’ দুটি নিরাপদ সড়ক বেছে নিতে সক্ষম হবে। এএফপি জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহতে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হলেও সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা চলছে। জাতিসংঘ ইসরায়েলের এই আদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, তারা ফিলিস্তিনিদের এমন অঞ্চলে যেতে বলেছে যেখানে যুদ্ধ চলছে।

ভারতে এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ১৮

ভারতে এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ১৮ ভারতের এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৯ জন। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (১০ জুলাই) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার উত্তর প্রদেশের লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে ডাবল-ডেকার বাসের সঙ্গে দুধের ট্যাংকারের সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ডাবল-ডেকার বাসটি বিহার রাজ্যের সীতামারহি থেকে দিল্লির দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাসটি বুধবার ভোরে লখনৌ-আগ্রা এক্সপ্রেসওয়েতে পেছন থেকে দুধের একটি ট্যাংকারকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।  উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এ দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তার অফিস জানিয়েছে।

‘পুরুষদের আত্মহত্যার জন্য নারীরা দায়ী’

‘পুরুষদের আত্মহত্যার জন্য নারীরা দায়ী’ আত্মহত্যার ক্ষেত্রে পুরুষদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নারীরা দায়ী। দক্ষিণ কোরিয়ার এক রাজনীতিবিদ এ মন্তব্য করেছেন বলে বুধবার জানিয়েছে বিবিসি। সিউল সিটি কাউন্সিলর কিম কি-ডাক জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পুরুষদের চাকরি পাওয়া এবং তাদের বিয়ে করতে চায় এমন নারীদের খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ‘নারীপ্রধান সমাজে পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে’ এবং এটি ‘পুরুষদের আত্মহত্যার প্রচেষ্টা বৃদ্ধির জন্য আংশিকভাবে দায়ী’ হতে পারে। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। কিন্তু লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে খারাপ রেকর্ড রয়েছে দেশটিতে। ডেমোক্রেটিক পার্টির কাউন্সিলর কিম রাজধানী সিউলের হান নদীর সেতুতে আত্মহত্যার চেষ্টার সংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। সিটি কাউন্সিলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, নদীর তীরে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তির সংখ্যা ২০১৮ সালে ছিল ৪৩০। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৩৫। এদের মধ্যে পুরুষদের অনুপাত ৬৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা কিমের এই মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিউলের ইয়নসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের অধ্যাপক সং ইন হ্যান বিবিসিকে বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই এই ধরনের দাবি করা বিপজ্জনক এবং বোকামির কাজ।’

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে নিহত ১১, নিখোঁজ ১৯

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে নিহত ১১, নিখোঁজ ১৯ ইন্দোনেশিয়ায় ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ১৯ জন। আজ সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশটির সুলাসি দ্বীপের গোরন্তালো প্রদেশের বোন বোলাঙ্গ জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে অবৈধ সোনার খনিতে নিরাপত্তা না থাকায় ১১ জনের মৃত্যু হয়। ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাসের স্থানীয় প্রধান হেরিয়ান্তো বলেন, ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে ৮ জনের মরদেহ বের করে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া ৫ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ৩ জন নিহত লোকের দেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হেরিয়ান্তো জানান, ভূমিধসে এলাকার বেশ কয়েকটি সেতু ভেঙে পড়েছে এবং উদ্ধারকর্মীদের হেঁটে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার। শুক্রবার (৫ জুলাই) বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে কিয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এরই মধ্যে তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে ফেলেছেন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ৪১২টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে লেবার পার্টি। অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১টি আসন। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের মোট ৬৫০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য কোনো দলকে এককভাবে পেতে হবে ৩২৬টি আসন। সে হিসেবে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে লেবার পার্টি। স্টারমার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর, শুক্রবারই মন্ত্রিসভা গঠনের কথা জানায় ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট। শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেল নাগাদ ডাউনিং স্ট্রিটে একে একে ডাক পান লেবার পার্টির অপেক্ষাকৃত জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যরা। স্টারমার ২০ জন মন্ত্রী বেছে নিয়ে তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছেন। এই মন্ত্রীসভায় গুরুত্বপূর্ণ অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর অব একচেকার) পদসহ রেকর্ড ১১টি পদে নারীদের বেছে নিয়েছেন স্টারমার। দেশটির নতুন উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যাঞ্জেলা রেইনাহকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে দেশটির প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী হয়েছেন র‌্যাচেল রিভস। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ৪৫ বছর বয়সী রিভসই প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। দেশটির নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন ইয়েভেত্তে কুপার। অপরদিকে ডেভিড ল্যামিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী করা হয়েছে ওয়েস স্ট্রিটিংকে।  এদিকে শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন ব্রিজেট ফিলিপসন। তিনি স্টারমারের খুবই ঘনিষ্ঠ। জ্বালানিমন্ত্রী করা হয়েছে এড মিলিব্যান্ডকে। এছাড়া বিচারমন্ত্রী করা হয়েছে শাবানা মাহমুদকে। তুখোড় এই আইনজীবী অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে রাজনীতিতে এসেছেন। সাবেক কনজারভেটিভ নেত্রী লিজ ট্রাসের পর তিনিই দ্বিতীয় নারী হিসেবে এই দায়িত্ব পেলেন। জোনাথন রেনল্ড হয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী এবং লিজ কেন্ডাল শ্রম ও কারামন্ত্রী হয়েছেন। এছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে জন হিলিকে। লুইস হেইঘ হয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী, স্টিভ রিড পরিবেশমন্ত্রী, পিটার কাইলি বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিষয়কমন্ত্রী। অপরদিকে লিসা ন্যান্ডিকে সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী করা হয়েছে। এছাড়া, কমন্স নেতা করা হয়েছে লুসি পাওয়েলকে। লর্ডসের নেতা হয়েছেন ব্যারোনেস স্মিথ। পার্লামেন্টে লেবার পার্টির চিফ হুইপ করা হয়েছে অ্যালান ক্যাম্বলকে। অর্থমন্ত্রী রেইচেল রিজের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড্যারেন জোনস। ল্যাঙ্কাস্টারের ডাচির চ্যান্সেলর হয়েছেন প্যাট ম্যাকফ্যাডেন। যুক্তরাজ্যের নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল পদ দেওয়া হয়েছে রিচার্ড হারমারকে।  বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনের ভোট শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে হেরে কনজারভেটিভ পার্টিকে টানা ১৪ বছর পর ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হলো।

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী বিচারমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ

যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী বিচারমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ যুক্তরাজ্যের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে লেবার পার্টি। ইতোমধ্যে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলটির নেতা কিয়ার স্টারমার। এর মধ্য দিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির দীর্ঘ ১৪ বছরের শাসনামলের অবসান হল। দায়িত্ব গ্রহণ করেই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন একজন মুসলিম নারী। তার নাম শাবানা মাহমুদ। শাবানা মাহমুদের জন্ম ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে। তবে তিনি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণাধীন আজাদ-কাশ্মীর বংশোদ্ভূত। তার বাবা-মা আজাদ কাশ্মীরের মিরপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তবে শাবানা মাহমুদের শৈশব কেটেছে সৌদি আরবের তায়েফে। তিনি ইংরেজির পাশাপাশি উর্দু ও মিরপুরি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। ২০১০ সালে তিনি প্রথমবারের মতো অ-ব্রিটিশ মুসলিম নারী হিসেবে হাউস অব কমন্সে যান। ওই বছরই প্রথম মুসলিম অ-ব্রিটিশ হিসেবে আরও দু’জন নারী (বাংলাদেশি রুশনারা আলী ও পাকিস্তানি ইয়াসমিন কুরেশি) সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। শাবানা মাহমুদ হলেন যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম নারী বিচারমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, তিনি দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী ‘লর্ড অব চ্যান্সেলর’ নামের এই প্রাচীন পদটি গ্রহণ করলেন। এদিকে, যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারে অ্যাঞ্জেলা রায়নারকে উপপ্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন র‍্যাচেল রিভস। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী।

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লস। আজ বাকিংহাম প্রাসাদে রাজার সঙ্গে দেখা গেলে তিনি স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। বাকিংহাম প্রাসাদের প্রকাশ করা একটি ছবিতে দেখা গেছে, রাজা চার্লস স্টারমারের সঙ্গে করমর্দন করছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ঋষি সুনাকের পদপত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪১২টি আসনে জয় পেয়েছে লেবার পার্টি। কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য কোনো দলের প্রয়োজন হয় ৩২৬ আসন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যে টানা ১৪ বছর পর ক্ষমতা থেকে সরে গেল কনজারভেটিভ পার্টি। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘পরিবর্তন এখন থেকেই শুরু হলো।’ আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রথম ভাষণে স্টারমার বলেছেন, জনগণ সুচিন্তিতভাবে পরিবর্তন এবং জনগণের সেবামূলক রাজনীতির জন্য ভোট দিয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের জন্য সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশকে পরিবর্তন করা সুইচ টেপার মতো বিষয় নয়। এর জন্য সময় প্রয়োজন হবে। তবে পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করা হবে। ইটের ওপর ইট তুলে দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্টারমার। নতুন নতুন বিদ্যালয় ও ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার মতো খেটে খাওয়া পরিবারগুলো যাতে জীবন চালাতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’

নির্বাচনে হেরে গেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে হেরে গেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হেরে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। বরিস জনসন পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর দুই বছর আগে লিজ ট্রাস প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু মাত্র ৪৫ দিন পর তিনিও পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আর দুই বছর পর ভোটাররা তাকে পার্লামেন্ট থেকেই বিদায় করে দিয়েছেন। লিজ ট্রাসের নামের পাশে রয়েছে ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকার লজ্জার রেকর্ড। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নেন। কিন্তু তার এ পরিকল্পনা বাজারে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এরপর চাপে পড়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। ট্রাস তার নির্বাচনী আসনে ১১ হাজার ২১৭ ভোট পেয়েছেন। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার প্রার্থী পেয়েছেন ১১ হাজার ৮৪৭ ভোট। তিনি মাত্র ৬৩০ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এবারের নির্বাচনে ঋষি সুনাকের কনজারভেটিভ পার্টির যে বিপর্যয় হয়েছে; সেটি আরও ফুটে উঠেছে লিজ ট্রাসের পরাজয়ের মাধ্যমে। ট্রাস যে নির্বাচন হারবেন— এমন চিন্তা খুব কম মানুষই করেছেন। কারণ তার আসনটি কনজারভেটিভদের শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। এর আগে ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল পোর্টিলো হেরে গিয়েছিলেন। আর এবার হারলেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী। টানা ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভদের শোচনীয় পরাজয়ের ব্যাপারে আগে থেকেই পূর্বাভাস পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ৪ জুলাই নির্বাচনের পর যখন ফলাফল ঘোষণা শুরু হয় তখন এটি স্পষ্ট হওয়া শুরু করে।