হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করে স্বস্তির বার্তা দিলো ইরান

হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করে স্বস্তির বার্তা দিলো ইরান দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিল ইরান। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত সকল বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে অবাধে যাতায়াত করতে পারবে। আরাঘচি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে সংহতি রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের ‘পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন’ কর্তৃক আগে থেকে নির্ধারিত সমন্বিত রুট বা পথ অনুসরণ করতে হবে। গত কয়েক দিন ধরে এই জলপথে মার্কিন অবরোধ এবং জাহাজ চলাচল নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ইরানের এই ঘোষণার পর সেখানে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি উন্মুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২০২৫ সালে সাগরে রেকর্ড সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু

২০২৫ সালে সাগরে রেকর্ড সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা মৃত বলে শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে। ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র বাবর বালোচ জেনেভায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত বছর সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকারী আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনেরও বেশি নিখোঁজ বা মৃত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ মৃত্যুহার। বালোচ জানিয়েছেন, এই বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা এই ধরনের যাত্রায় অংশ নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু।   তিনি বলেন, “যদি চরম হতাশা না থাকে, তাহলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম জেনেও কেউ তার পরিবারকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলবে না। মিয়ানমারের সংঘাতের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে এই প্রাণঘাতী সমুদ্রযাত্রা। কারণ রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিরাপত্তা ও সুযোগের সন্ধানে অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা, সমুদ্রযাত্রার অযোগ্য নৌকায় নিজেদের জীবন বিপন্ন করে চলেছে। নিজ দেশে সহিংসতা এবং বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরের শোচনীয় পরিস্থিতির কারণেই তারা দেশ ছাড়ছে। তারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের মতো দেশে নিরাপত্তা ও কাজের সুযোগের সন্ধানে যাওয়ার চেষ্টা করছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে ছেড়ে আসা একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার পর প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বালুচ জানান, বিশ্বব্যাপী দাতা সংস্থাগুলোর তহবিল হ্রাস, যা মানবিক সহায়তাকে প্রভাবিত করছে, তা বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে কয়েকজনের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, “এই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ধারা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হতাশার অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে।

বিপজ্জনক বিশ্বে কৌশলগত পাকিস্তান

বিপজ্জনক বিশ্বে কৌশলগত পাকিস্তান ইসলামাবাদে ইরান-মার্কিন আলোচনার আগে ৯ এপ্রিল আইওয়ান-ই-সদর (রাষ্ট্রপতি ভবন)-এর বাইরে একজন নিরাপত্তা কর্মী টহল দিচ্ছেন। গত ৭২ ঘণ্টা অস্বাভাবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ থামাতে এবং দুই পক্ষকে সমঝোতার পথে আনতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন এক সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক টেলিফোন যোগাযোগ এবং তেহরান সফরের মাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে আস্থা ও বোঝাপড়া তৈরিতে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে রয়েছেন, যাতে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সম্পৃক্ত রাখা যায়।   এসব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, পাকিস্তান আর পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহে শুধু প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না; বরং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের এ ভূমিকা স্বীকার করছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার বড় সংকট কেবল বহুপাক্ষিকতার দুর্বলতা নয় এটি তো স্পষ্টই। মূল প্রশ্ন হলো- যুদ্ধ, কৌশলগত অবিশ্বাস এবং আঞ্চলিক সংকটের এ জটিল সময়ে এমন কোনো রাষ্ট্র কি আছে, যারা ন্যূনতম নিয়ম রক্ষা, অস্থিতিশীলতা কমানো এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে? মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো হয়তো পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামোর কিছু অংশ মেরামত করতে পারে। তারা স্থিতিশীলতা আনতে, সংলাপের আয়োজন করতে এবং সমন্বয় গড়ে তুলতে সক্ষম বিশেষ করে যখন বড় শক্তিগুলো নিজেরাই বিভাজন বাড়াচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে ১৯৪৫-পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে পড়ার লক্ষণ স্পষ্ট। জাতিসংঘ সনদে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বেছে বেছে আইন প্রয়োগ, ব্যতিক্রমকে স্বাভাবিক করে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার অবক্ষয়। সার্বভৌমত্ব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যমান, কিন্তু ওয়েস্টফালিয়ার শান্তিচুক্তি থেকে উদ্ভূত নীতির ওপর আস্থা ক্রমেই কমছে। অস্থিতিশীলতাই যেন এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত দ্রুতই একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলছে। এ প্রেক্ষাপটে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে। তারা সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে, উত্তেজনা কমাতে পারে এবং কূটনৈতিক পরিসর প্রসারিত করতে পারে যখন বড় শক্তিগুলো সংঘাতমুখী অবস্থানে আটকে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান নিজেকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম শক্তিধর দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। জনসংখ্যাগত গুরুত্ব, সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক প্রতিরোধ এবং দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও চীনের সংযোগস্থলে ভৌগোলিক অবস্থান সব মিলিয়ে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতা পাকিস্তানকে সরাসরি প্রভাবিত করে জ্বালানি নিরাপত্তা, নৌপরিবহণ, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের কূটনীতি ছিল সক্রিয় ও সুসংগঠিত। ১৪ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক এ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি ২৯ মার্চের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিম এশিয়া কোয়াড’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। এ উদ্যোগ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়; বরং একটি নমনীয় পরামর্শমূলক কাঠামো। তবে এটি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সমন্বয়ও এ বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ৩১ মার্চ বেইজিংয়ে ঘোষিত ‘পাঁচ দফা উদ্যোগ’-এ যুদ্ধবিরতি, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, বেসামরিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এটি শুধু আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নয়; বরং একটি মধ্যম শক্তিধর রাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্যোগ, যা শান্তি পুনর্গঠনের একটি কাঠামো তুলে ধরে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ভূমিকা মধ্যস্থতা, আলোচনার স্থান প্রদান এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন একটি মধ্যম শক্তিধর দেশের আদর্শ আচরণ। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে পাকিস্তানের এ ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী পদক্ষেপ উভয় ক্ষেত্রেই পাকিস্তান দেখিয়েছে, কীভাবে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো জটিল পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান প্রমাণ করেছে, তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে না পারলেও সংঘাতের মধ্যেও সমঝোতার সম্ভাবনা ধরে রাখতে পারে। আজকের দুর্বল বিশ্বব্যবস্থায় নতুন ধরনের রাষ্ট্রীয় আচরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সামরিক বাস্তবতা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং রাজনৈতিক সংযমের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে পাকিস্তান দেখিয়েছে কৌশলগত সক্ষমতা, কূটনৈতিক ধৈর্য ও রাজনৈতিক আস্থা থাকলে এখনো বিশ্বকে বিপর্যয়ের দোরগোড়া থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ বার্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান সংঘাতময় বিশ্বে পাকিস্তানের পশ্চিম এশিয়া অধ্যায় মনে করিয়ে দেয় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমর্থন থাকলে কূটনীতি এখনো কার্যকর এবং অপরিহার্য।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামের নতুন এক ধরনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে মার্কিন নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নৌবাহিনী জলমাইন অপসারের জন্য মানবচালিত মাইন-সুইপিং শিপ ব্যবহার করে থাকে। পানির নিচে পেতে রাখা মাইন শনাক্তের জন্য মাইন-সুইপিং শিপে সোনার সিস্টেম থাকে এবং সেই সিস্টেম দিয়ে শনাক্তের পর মাইন ধ্বংস করা হয়। যেহেতু মাইন-সুইপিং শিপ মানবচালিত, তাই স্বাভাবিকভাবেই জাহাজের চালক ও ক্রুদের মাইনফিল্ডে প্রবেশ করতে হয়, যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে লিটোরাল কমব্যাট শিপে সেই ঝুঁকি নেই। হালকা বা লাইটার ধরনের এই জাহাজটি পরিচালিত হয় রিমোট-কন্ট্রোল্ড রোবটদের দ্বারা। মাইন শনাক্ত থেকে ধ্বংস করা পর্যন্ত যাবতীয় কাজ হয় রোবটদের মাধ্যমে। তাই সেনাদের আর মাইন ধ্বংসের জন্য মাইনফিল্ডে প্রবেশের প্রয়োজন থাকে না। তাদের প্রধান কাজ তখন হয় দূর থেকে রিমোট-কন্ট্রোলের মাধ্যমে রোবটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে এমন ৩টি লিটোরাল কমব্যাট শিপ আছে, তবে বর্তমানে কার্যকর আছে একটি। বাকি দু’টি জাহাজকে মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেরামত শেষ হলেই বহরে সেই দু’টি জাহাজ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পাতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১ ডজন মাইন পেতেছে আইআরজিসি। তবে প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন পাতা হয়েছিল, তার রেকর্ড ঠিকমতো রাখেনি রেভল্যুনারি গার্ড কোর। ফলে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ করা। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় ২৫ ভাগ বা এক চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান হরমুজে অবরোধ জারি করায় ব্যাপক চাপে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে, অনেক দেশেই দেখা দেয় জ্বালানি সংকট। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সেই ঘোষণা দেওয়ার প্রায় দু’ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, হরমুজ থেকে মাইন অপসারনে কাজ শুরু হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

সাজা কমলো সুচির, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের দেওয়া হলো যাবজ্জীবন

সাজা কমলো সুচির, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের দেওয়া হলো যাবজ্জীবন শান্তিতে নোবেলজয়ী, কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমিয়েছে মিয়ানমার সরকার। শুক্রবার সু চির আইনজীবী বার্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া ৪৩৩৫ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার পর মিন অং হ্লাইং এর প্রথম আনুষ্ঠানিক আদেশে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ৮০ বছর বয়সী সু চি দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনে জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক একাধিক অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সুচির মিত্রদের দাবি, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হয়। সুচির আইনজীবী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, মিয়ানমার সরকার তার মক্কেলের সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে সু চিকে তার সাজার বাকি মেয়াদ গৃহবন্দি হিসেবে কাটাতে দেওয়া হবে কিনা, তা পরিষ্কার করা হয়নি।   ৪৩৩৫ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা এদিকে শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভশনের খবরে বলা হয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ৪৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন। এই নিয়ে গত ছয় মাসে তিনবার এ ধরনের পদক্ষেপ নিল মিয়ানমার। দেশটি সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস ও এপ্রিলে নতুন বছর উপলক্ষ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে থাকে। সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেন সাবেক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকে জান্তা সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন মিন অং হ্লাইং। ৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’ তবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সবাই এই সুবিধা পাবে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি। এটিকে একটি গণআদেশ হিসেবে বিবেচনা করলে দণ্ডিত সবাই সুবিধাটি পাবেন বলে ধরে নেওয়া যায়। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ৩৮ জন কয়েদীর মৃত্যুদণ্ড তুলে নেওয়া হয়। মিয়ানমারের ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। কার্যত গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে মিয়ানমার। এ অবস্থায় সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-এর নির্দেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের ব্যাপকহারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জাতিসংঘের তথ্য মতে, এক বছরের মধ্যে ১৩০ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যে কতজনের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা হয়েছে বা প্রকৃত সংখ্যাটি আদৌ আরও বেশি কী না, সেটা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ যুদ্ধবিরতির মধ্যেই শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল ইরান। দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস বন্ধ করে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে স্কুল ও কলেজের সব ক্লাস ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানায়নি ইরানের কর্তৃপক্ষ। ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ বা রিমোট লার্নিং পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলপর্যায়ের সব বিভাগ ও গ্রেডের শিক্ষার্থীরা এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। ফলে আপাতত দেশের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমেই চলবে। এর আগে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসও বন্ধ রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সৌদি আরবের পর দোহায় পৌঁছালেন শাহবাজ শরীফ

সৌদি আরবের পর দোহায় পৌঁছালেন শাহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রসারের লক্ষ্যে তিন দেশ সফরের অংশ হিসেবে আজ শাহবাজ শরীফ দোহায় পৌঁছেছেন। এরপর কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখি এর নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল শাহবাজ শরীফকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতরি মধ্যে ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় আলোচনা এগিয়ে নিতে চার দিনের সফরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফরে যাচ্ছেন। সফরের প্রথম পর্বে সৌদি আরবের পর তিনি তিনি কাতারে গেলেন। এদিকে শাহবাজ শরীফের সফরকে ঘিরে কাতারের বিমানবন্দরে এবং দেশটির রাজধানীর বিভিন্ন অংশে পাকিস্তানের পতাকা ব্যাপকভাবে প্রদর্শন করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। এই সফরকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরের পর প্রধানমন্ত্রী তুরস্কেও যাবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী চলমান সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন। তুরস্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে তিনি অন্যান্য বিশ্ব ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নেতাদের প্যানেলে যোগ দেবেন এবং পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুসারে, তুরস্কে ফোরামের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বহু প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, যা শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলেছিল। এটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। ২১ ঘণ্টার তীব্র আলোচনা সত্ত্বেও দুই পক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সমস্ত সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ট্রাম্প বলেছেন যে এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রপ্তানি বন্ধ, তবু থামছে না তেল উৎপাদন: কীভাবে টিকে আছে ইরান

রপ্তানি বন্ধ, তবু থামছে না তেল উৎপাদন: কীভাবে টিকে আছে ইরান মার্কিন অবরোধের মুখে পড়লেও ইরানের তেল খাত সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ছে না। বিশ্লেষকদের হিসাব বলছে, রপ্তানি বন্ধ থাকলেও অন্তত দুই মাস বর্তমান উৎপাদন ধরে রাখতে সক্ষম দেশটি। গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে চীনের মতো বড় ক্রেতার কাছে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে ইরানের উৎপাদন কমে গেলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে, বাড়তে পারে তেলের দাম। রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরান এখন স্থলভাগের স্টোরেজ ট্যাংকে তেল জমা করছে। তবে এসব ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেলে উৎপাদন কমানো ছাড়া উপায় থাকবে না। বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সট্যান্ট ইসিএ জানায়, ইরানের মোট ধারণক্ষমতা ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল হলেও বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রাখার সুযোগ রয়েছে। তাদের হিসাবে, রপ্তানি ছাড়াই দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ধরে রেখে প্রায় দুই মাস টিকে থাকা সম্ভব। উৎপাদন দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল কমালে এই সময় তিন মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। তবে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে জ্বালানি বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস। তাদের হিসাবে, ইরানের প্রকৃত মজুত সক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল। এই হিসেবে, দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল রপ্তানি বন্ধ থাকলে সর্বোচ্চ ১৬ দিন বর্তমান অবস্থা ধরে রাখা সম্ভব। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ বলেন, এপ্রিল মাসে অবরোধের প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। তবে মে মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি চললে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান পুরো ধারণক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের মে মাসে দেশটির মজুত সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা বাস্তবসম্মত সীমা হিসেবে বিবেচিত। উৎপাদন কমানো বিলম্বিত করতে ইরান বন্দরে থাকা ট্যাংকারগুলো ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলেও জানান তিনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে ইরান সংশ্লিষ্ট ৮টি তেলের ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দর থেকে বের হওয়ার সময় একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার দুটি ট্যাংকার থামিয়ে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ক্ষমতায় এসেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেপালে, শুরু হচ্ছে সম্পদ যাচাই

ক্ষমতায় এসেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেপালে, শুরু হচ্ছে সম্পদ যাচাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেপাল। ক্ষমতায় এসেই সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বালেন্দ্র শাহ সরকার। হিমালয় পাদদেশের দেশটিতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত প্যানেল গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পায় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি আরএসপি। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বালেন্দ্র শাহ। নির্বাচনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন তিনি। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা পান বালেন্দ্র শাহ। গত বছরের সেপ্টেম্বরের জেন জি আন্দোলনের সময়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। মন্ত্রিসভার মুখপাত্র সস্মিত পোখরেল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভাণ্ডারির নেতৃত্বে গঠিত এই প্যানেল প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্যানেলের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি। তবে প্যানেলটি কতদিনে তদন্ত শেষ করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে যারা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে ছিলেন, এমন শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তা এই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন। চার বছরের পুরোনো দল আরএসপি নির্বাচনের সময় দুর্নীতি দমনকে প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে সামনে এনেছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে প্রভাবশালী দলগুলোকে পেছনে ফেলে তাদের এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় দেশটির তেল শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো তেল পরিবহন পরিকাঠামো। এর আওতায় পেট্রোলিয়াম শিপিং টাইকুন মোহাম্মদ হোসেন শামখানির নেটওয়ার্কের মধ্যে পরিচালিত দুই ডজনেরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি এবং জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ট্রেজারি ‘ইকোনমিক ফিউরি’র মাধ্যমে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে শামখানি পরিবারের মতো শাসকগোষ্ঠীর সেইসব অভিজাতদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা ইরানি জনগণের স্বার্থের বিনিময়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে।তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি আর্থিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের ইঙ্গিত দেন। শামখানি হলেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি শামখানির ছেলে। যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উপদেষ্টা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের দুজনকেই হত্যা করা হয় এবং সেদিনই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালীকে জিম্মি করে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজস্ব আয়ের ক্ষমতাকে চূড়ান্তভাবে সীমিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে আত্মরক্ষার্থে প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তারা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মেয়াদ বাড়াবে না, যার ফলে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল বিক্রি করা সম্ভব হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার ওপর চাপ কমানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সক্রিয় শামখানি নেটওয়ার্কটি আপাতদৃষ্টিতে বৈধ বলে মনে হওয়া একদল পরামর্শক ও জাহাজ কোম্পানির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলে, যারা নেটওয়ার্কটির নৌবহর পরিচালনা করে।গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আরও ঘোষণা করেছে যে, তারা সৈয়দ নাইমাঈ বদরুদ্দিন মুসাভি নামের এক ইরানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যাকে তারা ইরান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অর্থদাতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার র্স্বণেল বিনিময়ে ইরানি তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি জটিল অর্থপাচার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।