জুনের মধ্যে ইউক্রেনযুদ্ধ বন্ধ চান ট্রাম্প: জেলেনস্কি

জুনের মধ্যে ইউক্রেনযুদ্ধ বন্ধ চান ট্রাম্প: জেলেনস্কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী জুনের মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধ চান। এ তথ্য জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, প্রায় চার বছর ধরে চলা এ সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব করছে যেন রাশিয়া ও ইউক্রেন আসছে গ্রীষ্মের শুরুর দিকেই যুদ্ধ শেষ করে এবং সম্ভবত তারা এই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী উভয় পক্ষের ওপর চাপ তৈরি করবে।’ তবে তার এ মন্তব্য শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত প্রচার না করার শর্ত ছিল। জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের প্রশাসন সব ঘটনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার ওপর জোর দিয়েছে। তারা আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে (সম্ভবত মিয়ামিতে) পরবর্তী দফার ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ইউক্রেন ইতোমধ্যে এতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার দম্ভোক্তি করেছিলেন। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও কোনো শান্তিচুক্তি এখনও অধরা রয়ে গেছে। সমালোচকরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ক্রেমলিনের যুদ্ধের বয়ান এবং সর্বোচ্চ দাবিগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে মার্কিন-মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর এ নতুন সময়সীমা দেওয়া হলো। তবে ওই আলোচনায় খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে, কারণ উভয় পক্ষই তাদের বিপরীতমুখী দাবিতে অনড় ছিল। ক্রেমলিন দাবি করেছে যে, ইউক্রেনকে শিল্পসমৃদ্ধ পূর্ব দনবাস অঞ্চল (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) থেকে সরে যেতে হবে, যেখানে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। কিয়েভ এই শর্ত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী রাশিয়ার দাবি করা এ পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া নিষিদ্ধ। উভয়পক্ষ ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দী হস্তান্তরের বিষয়ে একমত হয়েছে। ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ৫ ফেব্রুয়ারি এই বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার জেলেনস্কি আরো জানান, চুক্তির আওতায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবন্দী বিনিময় অব্যাহত থাকবে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে আমেরিকান মধ্যস্থতাকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বৃহস্পতিবার বলেন যে শান্তি আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি থাকলেও’ বন্দী বিনিময় প্রমাণ করে যে ‘নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা বাস্তব ফলাফল বয়ে আনছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমাধান না এলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা কিছু জানাননি। এমনকি বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

২০২৬ সালের হজ ভিসা শুরু আগামীকাল ফেব্রুয়ারি থেকে

২০২৬ সালের হজ ভিসা শুরু আগামীকাল ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) হজ মৌসুমের জন্য আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ভিসা ইস্যু শুরু করবে সৌদি আরব। দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। খবর গালফ নিউজের। সংবাদ মাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হাজিদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর কয়েক মাস আগেই সেবার প্রস্তুতি জোরদার ও কার্যক্রম সহজ করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে অনেক আগেই ২০২৫ সালের ৮ জুন থেকে। তারিখটি হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৪৪৬ সালের ১২ জিলহজের সঙ্গে মিলে যায়। ওই সময় বিশ্বজুড়ে হজের কার্যক্রম তদারককারী দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনার নথিপত্র পাঠায় সৌদি মন্ত্রণালয়। সফর মাসের শুরুতে ‘নুসুক মাসার’ নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পবিত্র স্থানগুলোর বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এতে পরিকল্পনা, পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে মক্কা ও মদিনার আবাসন, পরিবহন ও অন্যান্য সেবাসংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন করা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা দেওয়া শুরু হবে। আর মার্চে ভিসা চূড়ান্তকরণ এবং হাজিদের আগমনের জন্য প্রস্তুতির তথ্য জমা দেওয়া হবে। ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ (১৪৪৭ হিজরির ১ জিলকদ) থেকে প্রথম দফার হাজিরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করবেন। হাজিদের আগমনের মাধ্যমে হজ মৌসুমের চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, হাজিদের আগমনের আগেই অবকাঠামো ও সেবাসমূহ পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতে ঘোষিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গালফ নিউজ জানায়, এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ হাজি নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে নিজ নিজ দেশ থেকে সরাসরি প্যাকেজ বুক করেছেন প্রায় ৩০ হাজার হাজি। আন্তর্জাতিক হাজিদের জন্য পবিত্র স্থানগুলোতে ৪৮৫টি ক্যাম্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ৭৩টি হজ বিষয়ক দপ্তর তাদের মৌলিক চুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন করেছে।

পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৩১, শোকাতুর ইসলামাবাদ

পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৩১, শোকাতুর ইসলামাবাদ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩১ জনের জানাজা ও দাফন আজ শনিবার সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা আরো হামলার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খবর রয়টার্সের। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানীর উপকণ্ঠে খাদিজাতুল কুবরা ইমামবারগাহ মসজিদ চত্বরে জুম্মার নামাজের সময় এক ব্যক্তি প্রথমে গুলি চালায় ও পরে নিজের শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে হামলাকারীসহ ৩১ জন নিহত এবং ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) টেলিগ্রাম অ্যাপে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। আজ শনিবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মসজিদের কাছের একটি খোলা মাঠে কয়েকজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পুলিশ ও এলিট কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছিলেন। জানাজার সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজা পরিচালনাকারী ইমাম দোয়া করেন, “যারা এই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত, সৃষ্টিকর্তা যেন তাদের জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেন।”কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা ইসলামাবাদে বোমা হামলার ঘটনা বিরল। তবে গত তিন মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় হামলা। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটায় প্রধান শহরগুলোতে আবারো বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, সরকার এই হামলার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তিনি আরো জানান, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শুক্রবার এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, হামলাকারীর আফগানিস্তান ভ্রমণের ইতিহাস ছিল। তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই হামলার পেছনে ভারতের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তবে ভারত এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে পাকিস্তান অন্যদের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে বিভ্রান্ত করছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।”২৪ কোটি জনসংখ্যার সুন্নিপ্রধান পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। এর আগেও তারা ইসলামিক স্টেট এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ১৫ প্রতিষ্ঠান-১৪ জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য, ১৫ প্রতিষ্ঠান-১৪ জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের সঙ্গে তেলের বাণিজ্য করা ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৪টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইরানি পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং ১৪টি ছায়া নৌবহরের জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরানের শাসকগোষ্ঠী বিদেশে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করতে এবং তার নাগরিকদের দমন করতে যে রাজস্ব প্রবাহ ব্যবহার করে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একাধিক ব্যক্তি এবং জাহাজকে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, পররাষ্ট্র দপ্তর ১৪টি ছায়া নৌবহরকে ইরানি পেট্রোলিয়াম, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য বা পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ব্যবসা করছে এমন ১৫টি প্রতিষ্ঠান এবং সেই সঙ্গে দুইজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি বারবার ইরান সরকার তার নিজস্ব নাগরিকদের নিরাপত্তার চেয়ে তাদের অস্থিতিশীল আচরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যেমনটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর শাসকগোষ্ঠীর গণহত্যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহন এবং অধিগ্রহণের সঙ্গে জড়িত জাহাজ এবং ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে, যা শাসকগোষ্ঠীর আয়ের প্রাথমিক উৎস। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। ওই আদেশে কত শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে তা বলা হয়নি। তবে উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোনো পণ্য বা সেবা ক্রয়, আমদানি বা অন্য কোনোভাবে সংগ্রহ করা হলে- এমন যেকোনো দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

ভারতের ওপর থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের

ভারতের ওপর থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি অনলাইন। ট্রাম্প স্বাক্ষরিত একটি নির্বাহী আদেশ অনুসারে, “ভারত রাশিয়ান ফেডারেশনের তেল আমদানি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।”নয়াদিল্লি জানিয়েছে, তারা মার্কিন জ্বালানি পণ্য কিনবে, ‘এবং আগামী ১০ বছর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি কাঠামোতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।’শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সময় রাত ১২টা ১ মিনিটে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ মার্কিন শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প ভারতের উপর শুল্ক কমানোর জন্য একটি বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করার কয়েকদিন পরেই এই নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই চুক্তিতে ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর তথাকথিত ‘পাল্টা’ শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনবে। এই পরিবর্তনটি ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন শুল্কের উল্লেখযোগ্য হ্রাসকে চিহ্নিত করে, যা গত বছরের শেষের দিকে ৫০ শতাংশ ছিল। শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতি অনুসারে, চুক্তির অন্যান্য শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বিমান এবং যন্ত্রাংশের উপর শুল্ক প্রত্যাহার। ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন জ্বালানি পণ্য, বিমান এবং যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তি পণ্য এবং কোকিং কয়লা কিনতে চায়।

ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা কমাতে এপস্টেইনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী

ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা কমাতে এপস্টেইনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা কমানোর ব্যাপারে ইসরায়েলের প্রচেষ্টা নিয়ে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও ছিল। এপস্টেইনকে এহুদ বারাক জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জানিয়েছেন ইসরায়েলের ১০ লাখ রুশভাষী অভিবাসীকে গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অতীতের তুলনায় আরো ‘যাচাই-বাছাইপ্রবণ এবং ‘মানকে আরো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ ১৯৪৮ সালের মে মাসে ইসরায়েলের সৃষ্টির আগে এবং এর প্রাথমিক বছরগুলোতে অভিবাসনের প্রধান উৎস ছিল পূর্ব ইউরোপীয় আশকেনাজি ইহুদি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সেফারদি ইহুদিরা। অডিওতে বারাক সেফারদি ইহুদিদের অবমাননা করছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলছেন যে, ‘উত্তর আফ্রিকা, আরব, যেকোনো জায়গা থেকে’ ইহুদিদের ধরে নিয়ে দেশটি যা করতে পেরেছে তা করেছে। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে ইসরায়েলে ব্যাপক অভিবাসন প্রবাহ শুরু হয়। সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০০৯ সাল পর্যন্ত সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯ জন অভিবাসী ইসরায়েলে এসেছিলেন। তাদের রাজনীতি ডানপন্থীদের সাথে সংযুক্ত ছিল। বারাক ধর্মীয় এবং ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদিদের মধ্যে গভীর বিভাজনের উপরও জোর দিয়েছিলেন। তিনি কঠোর ধর্মীয় নিয়মের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আমাদের বিবাহ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং যেকোনো কিছুর উপর এবং ইহুদির সংজ্ঞার উপর অর্থোডক্স রাব্বিদের একচেটিয়া শাসন ভেঙে ফেলতে হবে। এটি একটি পরিশীলিত, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, ইহুদি ধর্মে ব্যাপক রূপান্তরের দরজা খুলে দেবে। এটি একটি সফল দেশ, অনেকেই এটি প্রয়োগ করবে।” বারাক জানান, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জনসংখ্যার মান ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’ ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠাতাদের তুলনায়। তিনি বলেন, “এটি উত্তর আফ্রিকা, আরব (বিশ্ব) বা যেকোনো জায়গা থেকে এক ধরণের মুক্তির ঢেউ ছিল। তারা যা আসত তা গ্রহণ করেছিল; এখন, আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারি। আমরা সহজেই আরো ১০ লাখ মানুষ গ্রহণ করতে পারি। আমি পুতিনকে সবসময় বলতাম, আমাদের যা প্রয়োজন তা হল আরো ১০ লাখ মানুষ।”

ইংল্যান্ডে বেড়েই চলেছে গৃহহীন শরণার্থীর সংখ্যা

ইংল্যান্ডে বেড়েই চলেছে গৃহহীন শরণার্থীর সংখ্যা ইংল্যান্ডে গত চার বছরে আশ্রয়প্রার্থী থেকে শরণার্থী হওয়া মানুষের মধ্যে গৃহহীন বা গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের সংখ্যা পাঁচ গুণ বেড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে বিবিসি জানিয়েছে, ইংল্যান্ডে ২০২১-২২ অর্থবছরে গৃহহীন বা গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৬০। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩১০-এ। দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, এই পরিস্থিতি মূলত সরকারের নীতির ‘সরাসরি ফল’। তাদের অভিযোগ, নতুন করে স্বীকৃতি পাওয়া শরণার্থীদের মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে সরকারি আবাসন ছাড়তে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্ত দ্রুত দেওয়ার ফলে বেশি মানুষ শরণার্থী মর্যাদা পেলেও, তাদের থাকার জায়গা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেই। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, তারা শরণার্থীদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজস্ব বাসস্থানে যেতে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং গৃহহীনতার ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। এই সংকট এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন পরপর কয়েকটি সরকার যুক্তরাজ্যের চাপগ্রস্ত আশ্রয় ব্যবস্থাকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আবেদন ও আপিলের বিশাল জট জমে আছে। লেবার সরকার সেই জট দ্রুত কমাতে চায়, যার ফলে একদিকে বেশি মানুষ শরণার্থী মর্যাদা পাচ্ছেন, অন্যদিকে তাদের জন্য বাসস্থান সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। গৃহহীন শরণার্থীদের সহায়তাকারী এক সংস্থা জানিয়েছে, সাহায্য চাইতে আসা অধিকাংশই ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণী। তাদের একজন ২৬ বছর বয়সী ইউসরা। সুদানে যুদ্ধ থেকে পালিয়ে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসেন তিনি। ইউসরা জানান, যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর আগেই তার পরিবারের সবাই নিহত হন। প্রায় পাঁচ মাস সরকার-নির্ধারিত এক আশ্রয় হোটেলে থাকার পর গত আগস্টের শেষ দিকে তিনি শরণার্থী মর্যাদা পান। কিন্তু এরপর থেকে তিনি গ্রেটার ম্যানচেস্টারের রাস্তায় একটি তাঁবুতে রাত কাটাচ্ছেন। ইউসরা বলেন, ‘কখনো কখনো মাতাল লোকজন এসে তাঁবু খুলতে চেষ্টা করে। আমি চিৎকার শুরু করি। ভোর না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে পারি না।’ তিনি জানান, আবাসন ছাড়ার আগেই স্থানীয় কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু একক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সামাজিক বাসস্থানের তালিকায় তার অগ্রাধিকার কম। শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার পর একজনকে ২৮ দিনের মধ্যে সরকারি আবাসন ছাড়তে হয় এবং একই সময়ে কাজ খুঁজতে বা ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের জন্য আবেদন করতে হয়। অথচ সরকার নিজেই বলছে, প্রথম কিস্তির ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পেতে গড়ে ৩৫ দিন লাগে। ফলে অনেক শরণার্থী কোনো আয় বা বাসস্থানের ব্যবস্থা করার আগেই আশ্রয় সহায়তা হারান। জাতীয় গৃহহীনতা দাতব্য সংস্থা ক্রাইসিসের নীতি ও প্রচার প্রধান জ্যাসমিন বাসরান বলেন, ‘২৮ দিন মোটেই যথেষ্ট সময় নয়। আমরা শরণার্থীদের মধ্যে গৃহহীনতার সর্বোচ্চ বৃদ্ধি দেখছি।’ তার মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, কারণ সরকারি পরিসংখ্যানে শুধু স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো ঘটনাগুলোই ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল স্বল্পমেয়াদি সমাধান নয়, আশ্রয় নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডাইভারসিটির পরিচালক জ্যাকুই ব্রডহেড বলেন, হোটেলের মতো বেসরকারি ব্যবস্থার বদলে সরকার নিজস্ব অস্থায়ী আবাসনে বিনিয়োগ করলে তা আশ্রয় সংকটের পাশাপাশি সামগ্রিক আবাসন ঘাটতিও কমাতে পারে।

ইসলামাবাদে শিয়াদের মসজিদে বিস্ফোরণ

ইসলামাবাদে শিয়াদের মসজিদে বিস্ফোরণ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জুমার নামাজের সময় শিয়াদের প্রার্থনাস্থল ইমামবাড়ায় বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। আজ এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ডন অনলাইন। রাজধানীর তারলাই এলাকার ইমামবাড়া খাদিজা আল-কুবরাতে এই বিস্ফোরণ ঘটে। উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিওয়েভের দুই দিনের সরকারি সফরের সময় এই হামলাটি ঘটলো। ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরি পুলিশের মুখপাত্র তাকি জাওয়াদ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের প্রকৃতি নির্ধারণ করা এখনো সম্ভব হয়নি। ফেডারেল রাজধানীর পলিক্লিনিক, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস এবং সিডিএ হাসপাতালেও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু নানান জল্পনা ও কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বৈঠক শুরু হয়। এতে ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ। এছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জের্ড ক্রুসনারও ওমানে এসেছেন। বৈঠক শুরুর আগে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্বাভাবিক দাবিদাওয়া ও রাজনৈতিক হঠকারিতার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছেন। স্টিভ উইটকোফের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেন আরাগচি। তিনি সেখানে জানান, ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা কূটনীতির পথকে বেঁছে নেবেন। এদিকে গত বছরের জুনেও আলোচনায় বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ইরান। কিন্তু ওই আলোচনার মধ্যেই ইরানে হামলা চালিয়ে বসে দখলদার ইসরায়েল। এরপর শুরু হয় যুদ্ধ। যা ১২দিন স্থায়ী হয়। সে যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে যোগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রও। মার্কিনিরা মূলত ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। আলোচনার মধ্যে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে হামলা চালানোয় মার্কিনিদের বিশ্বাস করা বন্ধ করে দেয় ইরান। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ফের সেই বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশপাশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও প্রক্সি বাহিনীকে সহায়তা নিয়েও আলোচনা করতে চায়। তবে ইরান জানিয়ে দিয়েছে তারা তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

জাপানে সচল হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

জাপানে সচল হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর জাপানে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর থেকে কাশিয়াজাকি-কারিওয়া নামের এই বিশাল স্থাপনাটি বন্ধ ছিল। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো) পরিচালিত এই কেন্দ্রটির একটি রিঅ্যাক্টর ৯ ফেব্রুয়ারি পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান প্ল্যান্টের প্রধান তাকেইউকি ইনাগাকি। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি রি-অ্যাক্টরটি চালু করার চেষ্টা করা হলেও একটি সতর্কঘণ্টা বা অ্যালার্ম বেজে ওঠায় পরদিনই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কারিগরি ত্রুটির কারণে ওই অ্যালার্মটি বেজে উঠলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বর্তমানে রিঅ্যাক্টরটি অপারেশনের জন্য নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন মূলত ১৮ মার্চ বা তার পরবর্তী সময়ে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাশিয়াজাকি-কারিওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে মোট সাতটি রিঅ্যাক্টর থাকলেও আপাতত মাত্র একটি চালু করা হচ্ছে। ২০১১ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রে বিপর্যয় ঘটার পর জাপান তাদের সমস্ত পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে বর্তমানে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে দেশটি পুনরায় পারমাণবিক শক্তির দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই কেন্দ্রটির সচল হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সরকার।বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর বিষয়টি কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিগাতা প্রিফেকচারের এক জরিপ বলছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে সাতটি প্রতিবাদী গোষ্ঠী প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর করা একটি আবেদন জমা দিয়ে দাবি করেছে যে এই স্থাপনাটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্প প্রবণ চ্যুতির ওপর অবস্থিত। তাদের আশঙ্কা, ২০০৭ সালের মতো শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প আবারও এখানে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে সব শঙ্কা ও বিতর্ক কাটিয়ে টেপকো চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকেই এগোচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি।