যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে সশরীরে ক্লাস বন্ধ যুদ্ধবিরতির মধ্যেই শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল ইরান। দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীর ক্লাস বন্ধ করে অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে স্কুল ও কলেজের সব ক্লাস ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানায়নি ইরানের কর্তৃপক্ষ। ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ বা রিমোট লার্নিং পদ্ধতি কার্যকর করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলপর্যায়ের সব বিভাগ ও গ্রেডের শিক্ষার্থীরা এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। ফলে আপাতত দেশের সব শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমেই চলবে। এর আগে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসও বন্ধ রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সৌদি আরবের পর দোহায় পৌঁছালেন শাহবাজ শরীফ

সৌদি আরবের পর দোহায় পৌঁছালেন শাহবাজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রসারের লক্ষ্যে তিন দেশ সফরের অংশ হিসেবে আজ শাহবাজ শরীফ দোহায় পৌঁছেছেন। এরপর কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখি এর নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল শাহবাজ শরীফকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতরি মধ্যে ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় আলোচনা এগিয়ে নিতে চার দিনের সফরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফরে যাচ্ছেন। সফরের প্রথম পর্বে সৌদি আরবের পর তিনি তিনি কাতারে গেলেন। এদিকে শাহবাজ শরীফের সফরকে ঘিরে কাতারের বিমানবন্দরে এবং দেশটির রাজধানীর বিভিন্ন অংশে পাকিস্তানের পতাকা ব্যাপকভাবে প্রদর্শন করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। এই সফরকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরের পর প্রধানমন্ত্রী তুরস্কেও যাবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী চলমান সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন। তুরস্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে তিনি অন্যান্য বিশ্ব ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নেতাদের প্যানেলে যোগ দেবেন এবং পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরবেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুসারে, তুরস্কে ফোরামের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বহু প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, যা শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলেছিল। এটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। ২১ ঘণ্টার তীব্র আলোচনা সত্ত্বেও দুই পক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সমস্ত সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ট্রাম্প বলেছেন যে এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রপ্তানি বন্ধ, তবু থামছে না তেল উৎপাদন: কীভাবে টিকে আছে ইরান

রপ্তানি বন্ধ, তবু থামছে না তেল উৎপাদন: কীভাবে টিকে আছে ইরান মার্কিন অবরোধের মুখে পড়লেও ইরানের তেল খাত সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ছে না। বিশ্লেষকদের হিসাব বলছে, রপ্তানি বন্ধ থাকলেও অন্তত দুই মাস বর্তমান উৎপাদন ধরে রাখতে সক্ষম দেশটি। গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে চীনের মতো বড় ক্রেতার কাছে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রতিদিন ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে ইরানের উৎপাদন কমে গেলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে, বাড়তে পারে তেলের দাম। রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরান এখন স্থলভাগের স্টোরেজ ট্যাংকে তেল জমা করছে। তবে এসব ট্যাংক পূর্ণ হয়ে গেলে উৎপাদন কমানো ছাড়া উপায় থাকবে না। বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সট্যান্ট ইসিএ জানায়, ইরানের মোট ধারণক্ষমতা ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল হলেও বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল মজুত রাখার সুযোগ রয়েছে। তাদের হিসাবে, রপ্তানি ছাড়াই দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ধরে রেখে প্রায় দুই মাস টিকে থাকা সম্ভব। উৎপাদন দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল কমালে এই সময় তিন মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, ইরানের অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। তবে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে জ্বালানি বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস। তাদের হিসাবে, ইরানের প্রকৃত মজুত সক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল। এই হিসেবে, দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল রপ্তানি বন্ধ থাকলে সর্বোচ্চ ১৬ দিন বর্তমান অবস্থা ধরে রাখা সম্ভব। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ বলেন, এপ্রিল মাসে অবরোধের প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। তবে মে মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি চললে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইরান পুরো ধারণক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের মে মাসে দেশটির মজুত সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা বাস্তবসম্মত সীমা হিসেবে বিবেচিত। উৎপাদন কমানো বিলম্বিত করতে ইরান বন্দরে থাকা ট্যাংকারগুলো ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলেও জানান তিনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধ শুরুর পর থেকে ইরান সংশ্লিষ্ট ৮টি তেলের ট্যাংকার আটক করা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওমান উপসাগরের চাবাহার বন্দর থেকে বের হওয়ার সময় একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার দুটি ট্যাংকার থামিয়ে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ক্ষমতায় এসেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেপালে, শুরু হচ্ছে সম্পদ যাচাই

ক্ষমতায় এসেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেপালে, শুরু হচ্ছে সম্পদ যাচাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নেপাল। ক্ষমতায় এসেই সাবেক ও বর্তমান রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বালেন্দ্র শাহ সরকার। হিমালয় পাদদেশের দেশটিতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত প্যানেল গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পায় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি আরএসপি। এরপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বালেন্দ্র শাহ। নির্বাচনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন তিনি। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে জনপ্রিয়তা পান বালেন্দ্র শাহ। গত বছরের সেপ্টেম্বরের জেন জি আন্দোলনের সময়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যা তাকে জাতীয় রাজনীতিতে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। মন্ত্রিসভার মুখপাত্র সস্মিত পোখরেল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভাণ্ডারির নেতৃত্বে গঠিত এই প্যানেল প্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো প্যানেলের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে বলেও জানান তিনি। তবে প্যানেলটি কতদিনে তদন্ত শেষ করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে যারা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় পদে ছিলেন, এমন শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তা এই তদন্তের আওতায় আসতে পারেন। চার বছরের পুরোনো দল আরএসপি নির্বাচনের সময় দুর্নীতি দমনকে প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে সামনে এনেছিল। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে প্রভাবশালী দলগুলোকে পেছনে ফেলে তাদের এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় দেশটির তেল শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো তেল পরিবহন পরিকাঠামো। এর আওতায় পেট্রোলিয়াম শিপিং টাইকুন মোহাম্মদ হোসেন শামখানির নেটওয়ার্কের মধ্যে পরিচালিত দুই ডজনেরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি এবং জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, “ট্রেজারি ‘ইকোনমিক ফিউরি’র মাধ্যমে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে শামখানি পরিবারের মতো শাসকগোষ্ঠীর সেইসব অভিজাতদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা ইরানি জনগণের স্বার্থের বিনিময়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে।তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি আর্থিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের ইঙ্গিত দেন। শামখানি হলেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি শামখানির ছেলে। যিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উপদেষ্টা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি তাদের দুজনকেই হত্যা করা হয় এবং সেদিনই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একটি পৃথক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালীকে জিম্মি করে রাখার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজস্ব আয়ের ক্ষমতাকে চূড়ান্তভাবে সীমিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে আত্মরক্ষার্থে প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, তারা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মেয়াদ বাড়াবে না, যার ফলে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল বিক্রি করা সম্ভব হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার ওপর চাপ কমানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সক্রিয় শামখানি নেটওয়ার্কটি আপাতদৃষ্টিতে বৈধ বলে মনে হওয়া একদল পরামর্শক ও জাহাজ কোম্পানির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলে, যারা নেটওয়ার্কটির নৌবহর পরিচালনা করে।গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আরও ঘোষণা করেছে যে, তারা সৈয়দ নাইমাঈ বদরুদ্দিন মুসাভি নামের এক ইরানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যাকে তারা ইরান-সমর্থিত জঙ্গি গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অর্থদাতা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার র্স্বণেল বিনিময়ে ইরানি তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি জটিল অর্থপাচার প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

মার্কিন অবরোধের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ পার হলো ২০ জাহাজ

মার্কিন অবরোধের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ পার হলো ২০ জাহাজ মার্কিন অবরোধ খুব একটা কাজে আসছে না। এখনও হরমুজ প্রণালি চলছে ইরানের কথেতেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন প্রশাসনের অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। সংবাদপত্রটির তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজগুলোর মধ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কার, শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ এবং কন্টেইনার ক্যারিয়ার রয়েছে। প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে যে, প্রণালিটি অতিক্রম করার সময় বেশ কিছু জাহাজ তাদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) যন্ত্রটি বন্ধ করে রেখেছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইসরায়েল এবং বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। একইসঙ্গে ইরান ঘোষণা করে যে, হরমোজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী কোনো দেশের জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের পক্ষে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকায় কোনো দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে দুই পক্ষই নিশ্চিত করেছে। আলোচনার এই ব্যর্থতার পর গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরান অভিমুখে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ অতিক্রম করলো দুটি ইরানি জাহাজ

হরমুজ অতিক্রম করলো দুটি ইরানি জাহাজ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ উপেক্ষা করে আজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে দুটি ইরানি জাহাজ। এর মধ্যে একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ (সুপার ট্যাংকার) রয়েছে, যার সক্ষমতা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল। ইরানি ফার্স নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় জাহাজটি উন্মুক্ত জলরাশি ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, খাদ্যপণ্য বহনকারী একটি বাল্ক ক্যারিয়ার পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বাধা ও অবরোধ থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনা দুটি ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

তেহরানের সম্মতি ছাড়া হরমুজে কোনও করিডর নয়, হুঁশিয়ারি ইরানের

তেহরানের সম্মতি ছাড়া হরমুজে কোনও করিডর নয়, হুঁশিয়ারি ইরানের হরমুজ প্রণালীতে ‘নিরাপদ সামুদ্রিক করিডর’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় (আইএমও) সংযুক্ত আরব আমিরাতের উত্থাপিত প্রস্তাবটিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান এই প্রস্তাবকে ‘আইনগতভাবে ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছে।গ্তকাল আইএমও লিগ্যাল কমিটির ১১৩তম সভায় ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি পুরিয়া কলিভান্দ এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাতের দাবি ও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই নথিতে একপাক্ষিক বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা ভিত্তিহীন দাবি এবং আইনগতভাবে অকার্যকর সিদ্ধান্তে ভরপুর। কলিভান্দ আরও বলেন, আইএমও একটি গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যা পদ্ধতিগতভাবে অবৈধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনও করিডর তৈরির ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের প্রধান উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের পূর্ণ সম্মতি ও সমন্বয় থাকতে হবে। ইরান দাবি করেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক জোটের ‘উসকানিমূলক আগ্রাসনই’ এই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মূল কারণ। কলিভান্দ তার বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকের বর্বর যুদ্ধের সরাসরি ফল, যা জাতিসংঘের সনদের চরম লঙ্ঘন।” তিনি আরও যোগ করেন, যেসব দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এই আগ্রাসনে সহায়তা করছে, তাদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দায়বদ্ধ থাকতে হবে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও হরমুজ প্রণালী সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে জানিয়ে কলিভান্দ বলেন, শুধুমাত্র আক্রমণকারী বা শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য চলাচল সীমিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আমিরাতের প্রস্তাবটি ইরানকে পরিস্থিতির জন্য দায়ী করার যে চেষ্টা করেছে, তা আইনি ও প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। ইরানের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধের ৪০ দিনে ইরানের ৩৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই হামলায় ২০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। আইএমও-এর কাছে জমা দেওয়া একটি কড়া বিবৃতিতে ইরান বলেছে, “এগুলো শুধু সংখ্যা নয়; এগুলো যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।” এতে আরও বলা হয়, আগ্রাসনের জবাবে ইরান জাতিসংঘের সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ইরানের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনও নিরাপদ সামুদ্রিক করিডর করার চেষ্টা আইএমও-এর কাজকে আরও রাজনৈতিকীকরণ করবে এবং এর প্রযুক্তিগত অখণ্ডতা নষ্ট করবে। এছাড়াও ইরান অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কিছু পারস্য উপসাগরীয় দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানকে আক্রমণের সুযোগ দিয়ে এই আগ্রাসনে সহায়তা করছে। কলিভান্দ ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রচেষ্টাকেও তীব্র নিন্দা জানান।

পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলার নতুন সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলার নতুন সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পাকিস্তানকে নতুন করে ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে আগের ৫ বিলিয়ন ডলারের জমার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বৈঠকের ফাঁকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এই অর্থ খুব শিগগিরই ছাড় করা হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে। আগের ৫ বিলিয়ন ডলার জমা আগে প্রতি বছর নবায়ন করা হতো। এখন তা দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানো হচ্ছে। এতে রিজার্ভে স্থিতিশীলতা আসবে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে। সৌদি অর্থমন্ত্রী কয়েক মাস আগে ইসলামাবাদ সফর করে সহায়তার আশ্বাস দেন। পাকিস্তানের অন্য একটি উপসাগরীয় দেশ থেকে অর্থ কমে যাওয়ার যে শঙ্কা ছিল, তা এখন কাটল। চলতি অর্থবছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক জমা নবায়নের চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। এর মধ্যে সৌদি আরব ও চীন থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত আগে ২ বিলিয়ন ডলারের জমা স্বল্পমেয়াদে নবায়ন করে। এর একটি অংশ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরিশোধযোগ্য। আইএমএফের ৭ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির অধীনে জুনের মধ্যে ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রিজার্ভ গড়ার লক্ষ্য রয়েছে পাকিস্তানের। গত সপ্তাহে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড পরিশোধ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। ভবিষ্যতে উপসাগরীয় সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন অর্থায়নের পথ খুঁজছে ইসলামাবাদ। এর মধ্যে গ্লোবাল মিডিয়াম টার্ম নোট কর্মসূচি এবং চীনের বাজারে পাণ্ডা বন্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নাকচ করলেন ট্রাম্প

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নাকচ করলেন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ‘যুদ্ধ শেষের দিকে’ আসায় একটি সমঝোতামূলক চুক্তিকেই তিনি ‘সেরা বিকল্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এবিসি নিউজের একজন সংবাদদাতার সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধির কথা ভাবছি না। এমনকি আমি এটাকে প্রয়োজনীয়ও মনে করি না। আপনারা সামনে দুটি চমৎকার দিন দেখতে যাচ্ছেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, একটি চুক্তি হলে তা ইরানকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেবে। দেশটির শাসনব্যবস্থার মধ্যে পরিবর্তন আনার দাবিও করেন তিনি। ‘যা-ই হোক না কেন, আমরা চরমপন্থীদের সরিয়ে দিয়েছি’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা চললেও যুদ্ধ এখন ‘শেষের কাছাকাছি’।