মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে অংশ নিচ্ছে না, আবারও নিশ্চিত করলো ন্যাটো

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে অংশ নিচ্ছে না, আবারও নিশ্চিত করলো ন্যাটো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানে ন্যাটো সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ন্যাটো জোটের সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান ইতালির অ্যাডমিরাল গুয়েসেপ্পি ক্যাভো ড্রাগোন এ তথ্য জানিয়েছেন। ইতালির সংবাদপত্র লা রিপাবলিকা- কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংঘাত কতদিন চলতে পারে তা নিয়ে তিনি অনুমান করতে চান না।তার ভাষায়, মাঠের পরিস্থিতিতে অর্জিত ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে মূল্যায়ন করবে, সেটা দেখা দরকার। ন্যাটো সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না এবং তাই তাদের মতো করে পরিস্থিতি বিশ্লেষণের সুযোগও আমাদের নেই। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জটিল কাজ হলেও তা সম্ভব। এর আগে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ওক রুটে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই উত্তর আটলান্টিক জোট- ন্যাটোর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে রাজধানী তেহরান বেশ কয়েকটি বড় শহরে হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউজ দাবি করে, ইরানের কথিত ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির কারণে এ অভিযান চালানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে রাজধানী তেহরানসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে হামলা চালানো হয়। হোয়াইট হাউজ দাবি করে, ইরানের কথিত ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক হুমকির কারণে এ অভিযান চালানো হয়েছে। যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর জবাবে আইআরজিসি পাল্টা সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এ ছাড়া বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েল-মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ১২০০ এর বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ৬০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত ১,৪৪৪

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহত ১,৪৪৪ ইরানের তেহরানের তেল সংরক্ষণাগার থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখছেন একজন নারী। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৮ হাজার ৫৫১জন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বাদ পড়ছে না বেসামরিক স্থাপনাও। স্কুল, হাসপাতালসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। পাশাপাশি কয়েকটি আরব দেশে যেখানে মার্কিন ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আছে সেখানেও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ফলে এই সংঘাত এখন ওই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসনে আগুন, প্রাণ গেল পাঁচজনের

মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসনে আগুন, প্রাণ গেল পাঁচজনের মালদ্বীপের আলিফ ধাল অ্যাটলের ধিগুরাহ দ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের একটি আবাসিক ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রাত দুইটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দগ্ধ আটজনকে দ্রুত উদ্ধার করে ধিগুরাহ হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন মারা যান। আশঙ্কাজনক দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মালেতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। ধিগুরাহ কাউন্সিলের সভাপতি ইব্রাহিম উসমান স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রবাসী শ্রমিকদের আবাসিক ভবনটিতে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পরপরই এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করছে। তবে ওই ভবনে মোট কতজন প্রবাসী শ্রমিক বসবাস করতেন বা কোন প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে আবাসনটি পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কারণ অনুসন্ধানে চিকিৎসকসহ একটি বিশেষ তদন্ত দল ধিগুরাহ দ্বীপে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: সান এমভি
রাশিয়ার তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর কমছে দাম

রাশিয়ার তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর কমছে দাম ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ান তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধের কারণে ঊধ্বমুখী হওয়া তেলের দামের লাগাম টানার চেষ্টা করছেন। মার্কিন ছাড়ের ঘোষণার পর শুক্রবার সকালে এশিয়ায় তেলের দাম কমেছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির দূত কিরিল দিমিত্রিভের মতে, রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের ১০০ মিলিয়ন ব্যারেলকে প্রভাবিত করবে, যা প্রায় এক দিনের বিশ্বব্যাপী উৎপাদনের সমান। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ‘অস্থায়ী অনুমোদন’ ঘোষণা করেছেন, যার ফলে দেশগুলোকে ৩০ দিনের জন্য আটকে থাকা রাশিয়ান তেল কিনতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বেসেন্ট বলেছেন, “এই সংকীর্ণভাবে তৈরি, স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা শুধুমাত্র ইতিমধ্যে পরিবহনে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং রাশিয়ান সরকারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করবে না, যা তার জ্বালানি আয়ের বেশিরভাগ অংশ উত্তোলনের সময় নির্ধারিত কর থেকে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের তেল ও সমুদ্রগামী গ্যাস ট্যাঙ্কারগুলির প্রায় এক পঞ্চমাংশ যাতায়াত করে। ট্রাম্প প্রশাসন বারবার এই প্রণালী দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ইরানি সরকার ঘোষণা করেছে যে মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ অব্যাহত থাকাকালীন তারা এই অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেল’ রপ্তানি করতে দেবে না।
হিজবুল্লাহর ১৫০ রকেট, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল; ভয়ংকর রাত দেখল ইসরায়েল

হিজবুল্লাহর ১৫০ রকেট, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল; ভয়ংকর রাত দেখল ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তাপ ছড়িয়ে বুধবার রাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহ অন্তত ১৫০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। চলতি মাসে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটা হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সময়ে ইরান থেকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এই হামলাকে একটি ‘সমন্বিত অভিযানে’ রূপ দেয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে, এই জোরালো আক্রমণের ফলে দেশটির বিশাল এলাকা জুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় নিতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান বাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া প্রচণ্ড লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহ এই নতুন অভিযান শুরু করেছে। মূলত তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের ওপর চলমান হামলা ঠেকাতেই লেবানন থেকে এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে তারা হিজবুল্লাহর সাথে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করেছে। হামলার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গ্যালিলি থেকে শুরু করে হাইফা এবং সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরের জনপদগুলোতেও সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়। ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং হিজবুল্লাহর রকেট রুখে দিতে সক্ষম হলেও বেশ কিছু স্থানে আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। উত্তর ইসরায়েলের বি’ইনা নামক একটি শহরে রকেটের আঘাতে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে অন্তত দুজন সামান্য আহত হয়েছেন। মাগেন ডেভিড আদম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ৩৫ বছর বয়সী এক নারী এবং ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা বস্তুর আঘাতে জখম হন। এছাড়া বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে তীব্র আতঙ্কিত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে উদ্ধারকারী দল নিশ্চিত করেছে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই তাণ্ডব বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাহারিয়া, একর এবং হাইফার উপকণ্ঠে ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বারবার সাইরেন বাজানো হয়। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে তারা তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইউনিট ৮২০০-এর সদর দপ্তর বা ‘গ্লিলট বেস’ লক্ষ্য করে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ব্যারেজ নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের হোশেল হারনিয়েল এলাকায় একটি বাড়িতে সরাসরি রকেট আঘাত হানার খবর পাওয়া গেলেও সৌভাগ্যবশত সেখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জবাবে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্র গুদামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করছে। লেবাননের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৈরুত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, হিজবুল্লাহর হামলা আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবানন সরকার যদি হিজবুল্লাহর এই কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েল দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা শুরু করতে পারে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ রিপোর্ট করেছিল যে ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় ধরনের আক্রমণের আশঙ্কা করছে তেল আবিব। সেই আশঙ্কাই বুধবার রাতে বাস্তবে রূপ নিল যখন ইরান থেকে ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জেরুজালেম এবং ইসরায়েলের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সতর্কতা সংকেত বাজাতে বাধ্য করল। হিজবুল্লাহ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননের ডজনখানেক শহর এবং বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই তারা এই রকেট হামলা চালিয়েছে। তারা এই অভিযানকে একটি নতুন পর্যায়ের শুরু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্ট কমান্ড উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বোম্ব শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অনেক স্থানে রকেটের আঘাতে খোলা জায়গায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাতভর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন।
ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: প্রাথমিক তদন্ত

ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: প্রাথমিক তদন্ত ইরানের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র, প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তা সূত্রে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ইরানের ওই স্কুলে প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল মার্কিন বাহিনীই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে হামলার প্রথম দিনেই এই ঘটনাটি ঘটে। ইরানের মিনাবে শাজারা তায়েব প্রাথমিক স্কুলে গিয়ে পড়ে ক্ষেপণাস্ত্র। ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ওই প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রী। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও দুই দেশের কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। পরে জানা যায়, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছিল ওই স্কুলে। বস্তুত, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে আমেরিকা। বিশ্বের আরও কিছু দেশের হাতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও ইসরায়েলের কাছে তা নেই। বর্তমানে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর এই হামলার তদন্ত চালাচ্ছে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন তথ্যই উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। জানা গেছে, ‘ভুল’ করেই ওই স্কুলে হামলা করেছিল মার্কিন বাহিনী। ওই স্কুল লাগোয়া এক ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছিল মার্কিন বাহিনী। দাবি করা হচ্ছে, যেখানে স্কুল ভবনটি রয়েছে, সেটিও আগে ইরানের সেনাঘাঁটিরই অংশ ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া সেই পুরনো তথ্যের উপর ভিত্তি করেই নিশানা স্থির করেছিলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা। যদিও ওই সরকারি সূত্রের দাবি, এগুলো একেবারেই প্রাথমিক তথ্য। পুরনো তথ্য কেন যাচাই করে নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নেরও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের পাশাপাশি বেশ কিছু নিরপেক্ষ সংস্থাও নিজেদের মতো করে ইরানের স্কুলে হামলার তদন্ত করছে। তেমন এক সংস্থা ‘বেলিংক্যাট’। তারাও প্রাথমিকভাবে দাবি করছে, হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের স্কুলে আছড়ে পড়ার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অস্বস্তি বৃদ্ধি পেয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। ট্রাম্পকেও এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও তার দাবি, কী হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তিনি এ-ও স্মরণ করিয়ে দেন যে, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। অন্য কিছু দেশের হাতেও এটি আছে বলে দাবি ট্রাম্পের। যদিও পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষে জড়িত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সদরদপ্তরে হামলার দাবি ইরানের

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সদরদপ্তরে হামলার দাবি ইরানের ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত সদরদপ্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের পালমাচিম বিমানঘাঁটি এবং দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতেও সফলভাবে ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে ইরানি বাহিনী। এই সামরিক অভিযানের সমান্তরালে চলমান সংঘাত বন্ধে তিনটি শর্ত ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই শর্তগুলো তুলে ধরেন। পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে পুনরায় আগ্রাসন না চালানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিলেই কেবল এই যুদ্ধের অবসান সম্ভব। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনায় ক্রমাগত হামলা চলছে। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই : মার্কিন গোয়েন্দা

ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই : মার্কিন গোয়েন্দা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা প্রায় দুই সপ্তাহের সামরিক হামলার পরও অদূর ভবিষ্যতে ইরানে সরকার পতনের ঝুঁকি নেই বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এমন মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে। সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে ধারাবাহিকভাবে দেখা গেছে যে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং দেশটির জনগণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় আছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানায়। একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আলোচনাতেও স্বীকার করা হয়েছে যে চলমান যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যেকোনো সময় ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয় ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)। হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সদস্যরা। যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেরাই দখল করার আহ্বান জানালেও পরে তার শীর্ষ সহকারীরা বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য নয়। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও বহু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
ইথিওপিয়ায় বন্যায় মৃত অন্তত ৩০

ইথিওপিয়ায় বন্যায় মৃত অন্তত ৩০ ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গামো এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৩০ জন মারা গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার রাতে গামো অঞ্চলের যোগাযোগ বিভাগ জানায়, ‘ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে, বিশেষ করে দেগামা এলাকায়, ৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অঞ্চল প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।’ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে গত শুক্রবার প্রতিবেশী কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হলে সেখানে ডজনখানেক মানুষ নিহত হন। গত ২০ বছরে পূর্ব আফ্রিকায় চরম মাত্রার শুষ্ক ও অতিবৃষ্টির সময়কাল ক্রমশ বাড়ছে— এমন প্রবণতা একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবল বর্ষণসহ চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির সম্ভাবনা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে

মার্কিন সামরিক বাহিনী ৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বা পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত ৩২টি ঘটনার মধ্যে এই ছয়টি বোমার হদিস আজও পাওয়া যায়নি। বর্তমান সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের’ হুমকির প্রেক্ষাপটে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো কোনোভাবে শত্রুরাষ্ট্রের হাতে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে পারমাণবিক বহনকারী ‘ডুমসডে প্লেন’ ইরানের দিকে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানগুলো মূলত পারমাণবিক হামলা শুরু করা ও আকাশ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, তারা যেহেতু এই বোমাগুলো খুঁজে পায়নি, তাই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরাও এগুলো খুঁজে পাবে না; তবে সমুদ্রের তলদেশে বা নির্জন স্থানে পড়ে থাকা এই মারণাস্ত্রগুলো যেকোনো সময় একটি বড় শহর ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নিখোঁজ এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের কাছে। তখন একটি বি-৪৭ হাইড্রোজেন বোমারু বিমান মাঝআকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের শিকার হলে নিজের কাছে থাকা ‘মার্ক ১৫’ হাইড্রোজেন বোমাটি সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি নকল বা ডামি বোমা বলে দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তথ্যে জানা যায় যে এটি একটি পূর্ণ মাত্রার শক্তিশালী অস্ত্র ছিল। ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও আজ পর্যন্ত সেই বোমার কোনো হদিস মেলেনি। এ ছাড়া গত কয়েক দশকে এমন আরও পাঁচটি পারমাণবিক বোমা সমুদ্রের অতল গহ্বরে অথবা দুর্গম স্থানে হারিয়ে গেছে যা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এই হারানো মারণাস্ত্রগুলোর ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরান যদি কোনোভাবে এই নিখোঁজ প্রযুক্তির নাগাল পায় তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে টাইবি দ্বীপের মতো জায়গায় যেখানে বোমাটি হারিয়েছে, সেখানে এখন কোনো অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে না। কিন্তু আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ যদি সমুদ্রের গভীরে তল্লাশি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পুরনো ভুলগুলোই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের শেষ দিকে পেন্টাগনকে রাশিয়া ও চীনের পাল্লা দিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন, যা এই খাতে নতুন করে প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের এই আধুনিকায়ন এবং হারানো অস্ত্রের শঙ্কা—দুইয়ে মিলে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনাগুলো কেবল ইতিহাসের অংশ নয় বরং এগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি জীবন্ত হুমকি। যতদিন এই ছয়টি মারণাস্ত্রের চূড়ান্ত অবস্থান নিশ্চিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত এগুলো যেকোনো পক্ষকে আকস্মিক পারমাণবিক শক্তির অধিকারী করে দেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। সূত্র: মিরর ইউএস