হামলা না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর আক্রমণ করবে না ইরান

হামলা না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর আক্রমণ করবে না ইরান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশটির অন্তর্বর্তী পরিষদ গতকাল শুক্রবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আর কোনো আক্রমণ চালানো হবে না। আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান। পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিবেশী আরব দেশগুলো থেকে হামলা না হলে, সেখানে আর পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান। তিনি বলেন, ‘যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, ‘গতকাল (৬ মার্চ) অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং সেসব দেশ থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ না হলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হবে না। পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না। তার ভাষায়, ‘ইরানি জনগণের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন যারা দেখছে, তাদের সেই ইচ্ছা কবরেই নিয়ে যেতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর থেকে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

সৌদি-কুয়েত সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে

সৌদি-কুয়েত সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে কুয়েত ও সৌদি আরবের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সবাহ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে এই টেলিফোন সংলাপে অংশ নেন। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশ দুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। এই সংলাপকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত বন্ধন সুসংহত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা।

‘অপেক্ষায়’ ইরানের বিপ্লবী গার্ডস হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর

‘অপেক্ষায়’ ইরানের বিপ্লবী গার্ডস হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পাহারায় থাকা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি’র মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি। শনিবার (৭ মার্চ) তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী নাইনি বলেন, ‘আমরা মার্কিনিদের পরামর্শ দিচ্ছি, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা যেন ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটন’-এ লাগা আগুনের কথা এবং সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা মনে রাখে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ঘোষণা করেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

মার্কিন সেনারা ইরানের দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে কাঠগড়ায়

মার্কিন সেনারা ইরানের দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে কাঠগড়ায় গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুই করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ১৮০শিশুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন সেনারা। অবশেষে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ওয়াশিংটন। দুই আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে, ইরানের মিনাবের শাজরা তাইয়িবা বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল। যদিও তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বা তাদের তদন্ত শেষ করেননি বলে জানিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মিনাবের স্কুলটিতে হামলায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানায়, এতে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, প্রায় সবাই শিশু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। ইসরাইল বলেছে, তারা ওই এলাকায় কোনো অভিযানের কথা জানে না। আর যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ঘটনাটি এখনো তদন্ত করা হচ্ছে এবং তারা কখনো বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে আমেরিকার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। অবশ্য তারা নতুন প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দায়মুক্ত করে এবং এই ঘটনার জন্য অন্য কোনো পক্ষের দিকে ইঙ্গিত দিতে পারে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের স্কুলটির পাশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বা আইআরজিসির ঘাঁটি ছিল। সেই জায়গাজুড়ে কাছাকাছি সময়ে একাধিক হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি ভেরিফাই। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের ইন্সটাগ্রামের একটি পোস্ট থেকে দেখা যায়, আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টার মানচিত্রে ইরানের দক্ষিণে হামলার স্থান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে যার মধ্যে মিনাবও ছিল।

চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান

চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতার নাম নিয়ে খবর প্রচার হয়েছে। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক সদস্যও বলেছিলেন, দ্রুতই নাম ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সাতদিনেও তা না হওয়ায় গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে। আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভবত পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন হয়ে গেছে। কিন্তু নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে তা এখনো ঘোষণা করা হচ্ছে না। জোহরেহ খারাজমি নামের ওই অধ্যাপক আলজাজিরাকে বলেছেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস -এর আট সদস্য নেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন- এমন খবর গুজব। পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা খুবই যৌক্তিক। সম্ভবত এই নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণেই নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না। অধ্যাপক খারাজমি আরও বলেন, গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু বাস্তবে কুর্দিরা ইরানের পক্ষেই আছে। বৃহস্পতিবার ইরানি বাহিনী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অভিযান চালিয়েছে। অধ্যাপক খারাজমি বলছেন, এসব খবর মূলত রাজনৈতিক প্রচারণা। ‘আমার মনে হয় এটা রাজনৈতিক প্রচারণা। ইরানিরা তাদের (কুর্দি) দমন করবে এমনটা আমি মনে করি না।’-বলেন অধ্যাপক খারাজমি।

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই ও সংকটের আশঙ্কা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি। সাংবাদিকদের বিরোল বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ‘লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন’ অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে পর্যাপ্ত ও বিশাল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তেল রয়েছে তেল রয়েছে। জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি আইইএ বিবেচনা করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোল বলেন, সব ধরনের বিকল্পই টেবিলে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। বিরোল আরও বলেন, আমরা মূলত সাময়িক একটি বিঘ্নের মুখে পড়েছি, এটি একটি লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ও এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা ‘পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জেনারেল। আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে বুধবার (৩ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল সরদার জব্বারি বলেন, আমরা তেলের পাইপলাইনেও হামলা চালাবো ও এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবো না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। এই হুমকির পরে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পরিবহন হওয়া এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপরও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর বড় ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের সময় আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে আইইএ গঠন করা হয়েছিল। সূত্র: এএফপি

জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে

জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পবিত্র আল আকসা মসজিদে রমজানের তৃতীয় জুম্মার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভিডিওবার্তায় এ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ)। একইসঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমের সকল ধর্মীয় স্থাপনা। জানা গেছে, চলতি রমজানে প্রথমবারের মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত দুই জুম্মায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির অংশগ্রহণে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় আল আকসা প্রাঙ্গণে। প্রসঙ্গত, এবারের রমজান মাসে পশ্চিম তীর থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল।

কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণ

কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণ কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দোহায় অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশের বাসিন্দাদের ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থার’ অংশ হিসেবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছিল কাতার। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্থাপনা নিশানা করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস হামলার শিকার হয়। এ ছাড়া দুবাইয়ের মার্কিন কনস্যুলেটেও হামলা হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। এখন দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেল।

ইরানের সাথে যুদ্ধের মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল

ইরানের সাথে যুদ্ধের মাশুল গুনছে ইসরায়েল, সপ্তাহে ক্ষতি ৯ বিলিয়ন শেকেল ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে গত শনিবার থেকে যৌথ হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে ইসরায়েল। ৪ মার্চ ইসরায়েলি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাথে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের ফলে ইসরায়েলের সাপ্তাহিক অর্থনেতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে নয় বিলিয়ন সেকেলে। বর্তমানে ইসরায়েলে ‘রেড লেভেল’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে এবং স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে। যদি বিধিনিষেধ ‘রেড লেভেল’ থেকে কমিয়ে ‘অরেঞ্জ লেভেল’ এ আনা হয় তাহলে সাপ্তাহিক অর্থনৈতিক ক্ষতি চার দশমিক তিন বিলিয়ন শেকেলে নেমে আসবে। কারণ ‘অরেঞ্জ লেভেল’ এ ‘রেড লেভেল’ এর তুলনায় কর্মক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ কম। ইরানে হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলার ঢেউ শুরু হয়েছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। আমেরিকান এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জরুরি সেবা ব্যতীত সব ধরনের কর্মক্ষেত্র বন্ধ রাখা হয়েছে; বেশিরভাগ কর্মচারী বর্তমানে বাড়ি থেকে কাজ করছেন। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নিমূলের নামে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে ইসরায়েল। গাজায় বিশাল অর্থ ব্যয় করে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ২০২৫ সালে ইসরায়েলের অর্থনীতি ৩.১% বৃদ্ধি পেয়েছিল। গেল অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতির পর ধারণা করা হচ্ছিল ২০২৬ সালে এই প্রবৃদ্ধির হার ৫% ছাড়িয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, এক মার্কিন ডলার সমান তিন শেকেলের কিছু বেশি।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে যুদ্ধ, চোরাবালিতে আটকে গেছেন ট্রাম্প

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে যুদ্ধ, চোরাবালিতে আটকে গেছেন ট্রাম্প ইসরায়েলের সাথে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পেন্টাগন। ওয়াশিংটনের প্রাথমিক ধারণা ছিল এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে কিন্তু সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা বলছে এই লড়াই আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ফ্লোরিডার সদর দপ্তরে অতিরিক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে। অন্তত ১০০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যেই এই বাড়তি জনবল চাওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিই গোয়েন্দা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রথম বড় কোনো পদক্ষেপ। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, ওয়াশিংটন এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতে এই অভিযান চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা জানালেও এখন স্বীকার করছেন যে এটি অনেক দীর্ঘ হতে পারে। পেন্টাগনের ভেতরে এই আকস্মিক তোড়জোড় দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর হামলার পরবর্তী ভয়াবহতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আগে সঠিক ধারণা ছিল না। এদিকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে কুয়েতে ইরানের পাল্টা হামলায় ছয় মার্কিন সেনার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বীকার করেছেন, ইসরায়েলের পদক্ষেপের কারণেই ওয়াশিংটন এই সংঘাতে সরাসরি জড়াতে বাধ্য হয়েছে। তিনি জানান, ইসরায়েলের হামলার পর মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি আক্রমণ ঠেকাতে তারা আগেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সামরিক অভিযানকে তার দীর্ঘ ৪০ বছরের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।