ট্রাম্পকে ইরানে হস্তক্ষেপের আহ্বান সাবেক শাহের পুত্রের

ট্রাম্পকে ইরানে হস্তক্ষেপের আহ্বান সাবেক শাহের পুত্রের ইরানের প্রয়াত সাবেক শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ইরানের জনগণকে সাহায্য করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার এক্স-এ এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। পোস্টে রেজা লিখেছেন, “মাননীয় প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার মনোযোগ, সমর্থন এবং পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। জনগণ এক ঘন্টার মধ্যে আবার রাস্তায় নেমে আসবে। আমি আপনাকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি।”যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বসবাসকারী রেজা পাহলভি ইরানিদের প্রতিবাদ করতে উৎসাহিত করেছেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তার সমর্থন সঠিকভাবে পরিমাপ করা অসম্ভব। তবুও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে ক্রমবর্ধমান স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে। রেজা তার পোস্টে আরো লিখেছেন, “আমি জনগণকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার জন্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে বিপুল সংখ্যক লোক নিয়ে পরাজিত করার জন্য রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছি।”গত ১৩ দিন ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে ছোট আকারেও হলেও এখন সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী তেহরানসহ শতাধিক শহরে। সরকার ইতিমধ্যে ইরানের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে ইরানকে ‘অত্যন্ত কঠোর’ আঘাত করা হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ‘নিজের দেশের সমস্যার দিকে মনোনিবেশ করতে’ বলেছেন।
রাশিয়া–চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প

রাশিয়া–চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মালিকানা’ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার এমন চাওয়াকে ঘিরে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে। এটি করা হবে ‘সহজ অথবা কঠিন উপায়ে’।”হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জানিয়েছে, ন্যাটো সদস্য দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটি দখলের সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়নি। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা উত্তর আটলান্টিক জোট বা ন্যাটোর অবসান ডেকে আনতে পারে। গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব আরো বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এখনও নর্থ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলতে শুরু করেছে, উন্মুক্ত হচ্ছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ ও নতুন নৌপথ। ফলে গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি বলেছেন, “অঞ্চলটির চারদিকে রাশিয়া ও চীনের জাহাজে ভরে আছে।”ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিনল্যান্ডে আরো সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইজারা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট নয়। ”তিনি বলেন, “দেশগুলো নয় বছরের চুক্তি বা এমনকি ১০০ বছরের চুক্তিও করতে পারে না। মালিকানা থাকতে হয়।” চীন ও রাশিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি চীনের জনগণকে ভালোবাসি। আমি রাশিয়ার জনগণকেও ভালোবাসি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে তাদের প্রতিবেশী হিসেবে চাই না, তা হতে দেওয়া হবে না। আর এ বিষয়টি ন্যাটোকেও বুঝতে হবে।” এর আগে গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, “প্রেসিডেন্ট ও তার দল এই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার মতো বিকল্পও তার হাতে আছে।” এরপরই ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডাসহ ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্ররা একযোগে ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একাধিক বিবৃতিতে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে, “ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়া তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আর কারও নেই।”যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই আগ্রহী ও সচেতন। তবে তাদের মতে, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও থাকবে। সেইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে চলতে বলেন। যার মাঝে আছে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অমান্য না করা।
ইউক্রেন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে নিরাপত্তা পরিষদ

ইউক্রেন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে নিরাপত্তা পরিষদ ইউক্রেন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। রাশিয়ার হামলার কারণে তাপপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো। এরপরেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছে। খবর এএফপির। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে ইউক্রেনের প্রেসিন্টে আন্দ্রে মেলনিক বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাশিয়ান ফেডারেশন যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের এক ভয়াবহ নতুন স্তরে পৌঁছেছে। মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেন, সর্বশেষ হামলার ফলে কিয়েভের অর্ধেক আবাসিক ভবনে তাপপ্রবাহের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।ক্রেমলিন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইউক্রেনে একটি ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ান ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, তারা লভিভ অঞ্চল লক্ষ্য করে একটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক ব্যবহার করেছে। এ ধরনের হামলা ইউরোপীয় মহাদেশের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর এবং অভূতপূর্ব হুমকির প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মস্কোর দাবি, ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরণের ওয়ারহেড দিয়ে সজ্জিত হতে পারে। এর গতিরোধ করা অসম্ভব। ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের অনুরোধকে ছয় সদস্য দেশ- ফ্রান্স, লাটভিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, লাইবেরিয়া এবং যুক্তরাজ্য সমর্থন করেছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে।
বিক্ষুব্ধ ইরানে নিহত বেড়ে ৪৫

বিক্ষুব্ধ ইরানে নিহত বেড়ে ৪৫ ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত মোট ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। নরওয়ে ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য। আইএইচআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগের দিন বুধবার ছিল বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। সেদিন দেশটির বিভিন্ন শহরে আইনশৃঙ্কলা বাহিনী ও বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘাতে নিহত হয়েছেন মোট ১৩ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী। প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর ধরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি, তার জেরে অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছিল ইরানের সাধারণ জনগণের। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। গতকাল দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু তারপরও দমানো যাচ্ছে না উত্তেজনা। এই বিক্ষোভ নিয়ে দেশটিতে সরকার ব্যাপক চাপে আছে।
ট্রাম্পের উৎখাতের হুমকির মুখেও অনড় খামেনি বললেন, পিছু হটবো না

ট্রাম্পের উৎখাতের হুমকির মুখেও অনড় খামেনি বললেন, পিছু হটবো না ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, বিক্ষোভের মুখে পিছু হটবে না ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া প্রায় দুই সপ্তাহের চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলনের মাঝে নিজের অনড় অবস্থানের বিষয়ে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশটির ৩১টি প্রদেশের শতাধিক শহরে ছড়িয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ থেকে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু’, ‘খামেনির মৃত্যু’ চাইসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। বৃহস্পতিবার রাতভর দেশটির বড় বড় সব শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটি শুক্রবার ভোরের দিকে বলেছে, ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় দেশটি ১২ ঘণ্টা ধরে অফলাইনে রয়েছে। এই বিক্ষোভকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাড়ে চার দশকের ইতিহাসে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে; বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যেই ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসান দাবি জানিয়েছেন। এদিকে,গ্তকাল গভীর রাতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা উৎখাতে অবিশ্বাস্য উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব। আমরা প্রস্তুত।’’
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতিতে জোরদারে ৪৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতিতে জোরদারে ৪৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি জোরদার করতে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল ডেসোমব্রে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সফর করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে একটি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। ডেসোমব্রে জানান, যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে মাদক পাচার ও সাইবার প্রতারণা দমনে সহায়তার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার দেবে। কম্বোডিয়ায় এসব বিষয় বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মিলিয়ন ডলার দেবে। এছাড়া মাইন অপসারণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার।ডেসোমব্রে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সরকারকে সহযোগিতা প্রদান চালিয়ে যাবে, যাতে কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণ ও অঞ্চলের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প তখন আসিয়ান আঞ্চলিক সংস্থার নেতৃত্ব দেন। তিন সপ্তাহের লড়াইয়ের পর ২৭ ডিসেম্বর দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। তবে গত মাসে আবার বড় ধরনের এক বিরোধ দেখা দেয়। কম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণে থাই সৈন্য আহত হওয়ার এক ঘটনায় ব্যাংকক কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার অভিযোগ করে। তবে কম্বোডিয়া স্থানীয় থাইল্যান্ড বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় ঘটনাটি অপারেশনাল ভুলের কারণে ঘটেছে। কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সীমান্তের কয়েকটি এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে। এগুলো নম পেন নিজেদের বলে দাবি করেছে। উপনিবেশিক আমলের সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দু’দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ট্রাম্প এই সংঘর্ষকে তার সমাধান করা একাধিক যুদ্ধের মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেন। এমন কি তিনি জোর দিয়েছেন এসব যুদ্ধের অবসানে তাঁর ভূমিকা নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ মিলিয়ন ডলার

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫ মিলিয়ন ডলার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি জোরদার করতে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল ডেসোম ব্রে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সফর করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে একটি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। ডেসোমব্রে জানান, যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে মাদক পাচার ও সাইবার প্রতারণা দমনে সহায়তার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার দেবে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মিলিয়ন ডলার দেবে। এছাড়া মাইন অপসারণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় লাল মাংস খাওয়ার পরামর্শ

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় লাল মাংস খাওয়ার পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আমেরিকানদের জন্য নতুন স্বাস্থ্য গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের। নতুন এই ফেডারেল ডায়েটারি গাইডলাইনে মার্কিন নাগরিকদেরকে উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে লাল মাংস (রেড মিট) ও ফুল-ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়ার বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হয়েছে, এটি এমন এক পরিবর্তন যা পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। নতুন গাইডলাইনে পূর্বের সুপারিশগুলোর তুলনায় প্রোটিনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটকে ফল ও সবজির পাশাপাশি অবস্থানে রাখা হয়েছে। ওটসের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ দানাদার খাবারগুলোকে একেবারে নিচে রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র বলেন, “এই নির্দেশিকা আমেরিকানদের খাদ্যাভ্যাসে ‘বিপ্লব’ ঘটাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার প্রতি পাঁচ বছর পর এই নির্দেশিকা আপডেট করে। এবারের আপডেটে চিনি গ্রহণের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, ১০ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার দেওয়া যাবে না এবং চিনিযুক্ত পানীয়ের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়েছে। আমেরিকানদের সাদা পাউরুটি বা টরটিলার মতো রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (পরিশোধিত শর্করা) সীমিত করতে এবং প্যাকেটজাত খাবারের চেয়ে ‘হোল ফুড’ বা প্রাকৃতিক খাবারকে প্রাধান্য দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, গড় আমেরিকান ডায়েটের প্রায় ৫৫ শতাংশ ক্যালরি আসে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ফ্যাট এবং মাংসের বিষয়ে দেওয়া পরামর্শগুলো কিছুটা অস্পষ্ট। আগের নির্দেশিকাগুলোতে চর্বিহীন মাংস এবং উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনকে উৎসাহিত করা হলেও, নতুন নথিতে লাল মাংস এবং ফুল-ফ্যাট দুগ্ধজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় দৈনিক প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ শরীরের ওজনের প্রতি কেজির বিপরীতে ১.২ থেকে ১.৬ গ্রাম সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে আগের নির্দেশিকা ছিল প্রায় ০.৮ গ্রাম। নতুন স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণের পরিমাণ দৈনিক ক্যালরির ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার আগের নিয়মটি বহাল রাখা হয়েছে, তবে রান্নার ক্ষেত্রে অলিভ অয়েলের পাশাপাশি মাখন বা গরুর চর্বি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গির্জায় বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৬

যুক্তরাষ্ট্রে গির্জায় বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৬ যুক্তরাষ্ট্রে একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর এনডিটিভির। প্রতিবেদনে বলা হয়, উটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটিতে স্থানীয় সময় বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থলে রয়েছে। সল্টলেক সিটি পুলিশের মুখপাত্র গ্লেন মিলস জানান, শহরের দ্য চার্চ অব জিজাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেন্টস’-এর সভাকক্ষের পার্কিং লটে আকস্মিক গুলিবষর্ণের এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সে সময় গির্জার ভেতরে একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া চলছিল। ‘দ্য চার্চ অব জিজাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেন্টস’-এর মুখপাত্র স্যাম পেনরড বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, এই ট্র্যাজেডিতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের প্রত্যেকের জন্য আমরা প্রার্থনা করছি। কোনো উপাসনার পবিত্র স্থান কেন এই ধরনের সহিংসতার শিকার হবে, তা নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।”একটি সন্দেহভাজন গাড়ি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে তাদের কাছে একাধিক তথ্য রয়েছে। তবে বন্দুকধারী একজন না কি একাধিক, সে বিষয়ে তারা এখনও নিশ্চিত নয়। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়নি। এফবিআই সল্টলেক সিটি অফিস এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা সল্টলেক সিটির ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং আইন প্রয়োগকারী অংশীদারদের সহায়তা করছি।”
ইন্দোনেশিয়ায় আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬

ইন্দোনেশিয়ায় আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬ ইন্দোনেশিয়ার সিয়াউ দ্বীপে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আজ দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, আকস্মিক বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে। বন্যায় ২২ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৭০০ গ্রামবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানান তিনি। আবদুল মুহারি বলেন, ভোর থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টিতে নদীর পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বড় বড় পাথর ও উপড়ে যাওয়া গাছ ভেসে গেছে। বন্যার কারণে কয়েকটি সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বহু বাড়িঘরসহ সরকারি ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে বন্যা দেখা যায়। গত বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যা হয়। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুমাত্রা দ্বীপে এসব দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ১৭৮ জন নিহত এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যদিও প্রতি বছরই বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তবে নভেম্বরের সুমাত্রার বন্যা ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির পর দ্বীপটিতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।