প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে ইনস্টাগ্রামে ১০০ মিলিয়ন ক্লাবে মোদী

প্রথম বিশ্বনেতা হিসেবে ইনস্টাগ্রামে ১০০ মিলিয়ন ক্লাবে মোদী ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন অনুসারীর মাইলফলক ছুঁয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ইনস্টাগ্রামে ১০০ মিলিয়ন অনুসারি অর্জন করা বিশ্বের প্রথম রাজনীতিক ও প্রথম বিশ্বনেতা হলেন মোদী। ২০১৪ সালে ইনস্টাগ্রামে যোগ দেন নরেন্দ্র মোদী। গত এক দশকে তার অ্যাকাউন্টটি বিশ্বনেতাদের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় ও আলোচিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। বিশ্বের প্রধান নেতাদের মধ্যে এখন ইনস্টাগ্রামে সর্বোচ্চ অনুসারী মোদীর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার চেয়েও মোদীর অনুসারীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বিশ্বের পরবর্তী পাঁচজন বড় নেতার মোট অনুসারী যোগ করলেও তা নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত অনুসারীর সংখ্যাকে ছুঁতে পারবে না। ইনস্টাগ্রামে বিশ্বনেতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অনুসারী ৪৩ দশমিক ২ মিলিয়ন বা ৪ কোটি ৩২ লাখ। ১৫ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৫০ লাখ অনুসারী নিয়ে তৃতীয় স্থানে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। এরপর চতুর্থ স্থানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা, তার অনুসারীর সংখ্যা ১৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৪৪ লাখ। ১১ দশমিক ৬ মিলিয়ন আ ১ কোটি ১৬ লাখ অনুসারী নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। আর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ৪০ হাজার অনুসারী নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যার দিকে থেকে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকদের চেয়েও অনেক এগিয়ে আছেন মোদী। ১৬ দশমিক ১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৬১ লাখ অনুসারী নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আর তৃতীয় স্থানে আছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, যার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১২.৬ মিলিয়ন বা ১ কোটি ২৬ লাখ।

এপস্টেইন তদন্ত: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগসহ কয়েক ডজন ফাইল উধাও

এপস্টেইন তদন্ত: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগসহ কয়েক ডজন ফাইল উধাও যৌন অপরাধী ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্র নিয়ে সাম্প্রতিক তদন্তে গুরুতর অস্পষ্টতা প্রকাশ পেয়েছে। এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কিত সাক্ষাৎকারসহ কয়েক ডজন এফবিআই ফাইল উধাও হয়ে গেছে। পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক এপস্টেইনের নথিপত্র ব্যাপকভাবে প্রকাশের সময় প্রায় ৩২৫টি এফবিআই সাক্ষীর সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনের মধ্যে ৯০টিরও বেশি ফাইল বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে না বলে খবর বের হয়েছে। এই নথিগুলো যৌন পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এক আমেরিকান অর্থদাতা জেফ্রি এপস্টেইনের তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। হারিয়ে যাওয়া নথিপত্রের মধ্যে তিনটি প্রতিবেদন এমন এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত যিনি দাবি করেছিলেন যে, এপস্টেইন ১৩ বছর বয়স থেকেই তাকে নির্যাতন করেছিলেন এবং মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও তিনি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন। হাউজ ওভারসাইট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া এপস্টেইনের নথিপত্রের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের একজন বেঁচে থাকা ব্যক্তি আছেন যিনি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন, কিন্তু তার সঙ্গে এফবিআইয়ের কিছু সাক্ষাৎকার পাওয়া যায়নি। মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে মার্কিন সরকার আইন কতটা মেনে চলছে তা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এদিকে মার্কিন বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র নথি অপসারণের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, আমরা কিছুই সরিয়ে ফেলিনি এবং সব প্রাসঙ্গিক নথি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু নথি ‘নকল, গোপনীয়তা বা চলমান তদন্তের সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতার কারণে প্রকাশ করা হয়নি। বিচারিক স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ আইনি বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এফবিআইয়ের তথাকথিত ‘৩০২’ প্রতিবেদন যা সাক্ষাৎকারের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে এপস্টেইনের নথিগুলোর বহু বছরের তদন্ত বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এফবিআইয়ের সাবেক উপ-পরিচালক অ্যান্ড্রু ম্যাককেব নথিগুলোকে ‘যে কোনো তদন্তের কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে কিছু ভুক্তভোগী এপস্টেইনের নথি সম্পূর্ণ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘স্বচ্ছতার অভাব’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই ব্যর্থতা কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি গভীরভাবে ব্যক্তিগত এবং ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দায়ী বলে একজন বাদী ফেডারেল বিচারকের কাছে লেখা একটি চিঠিতে জানিয়েছেন। এপস্টেইনের মামলাটি আমেরিকার সবচেয়ে বিতর্কিত রাজনৈতিক ও বিচারিক কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটি এবং এর কিছু নথির ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা আমেরিকান প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

মার্কিন নৌযানে পাল্টা অভিযান চালাল কিউবা, নিহত ৪

মার্কিন নৌযানে পাল্টা অভিযান চালাল কিউবা, নিহত ৪ মার্কিন নৌযানে পাল্টা অভিযান চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে কিউবার নৌবাহিনী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নিজেদের জলসীমায় ঢুকে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা-নিবন্ধিত একটি স্পিডবোট থেকে কিউবান নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো হলে এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়। এতে নৌকাটিতে থাকা চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় এক কিউবান কর্মকর্তাসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।  বুধবার এক বিবৃতিতে কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনাটি ঘটে দেশটির উত্তর উপকূলের কাছে কায়ো ফ্যালকোনেসের উত্তর-পূর্বে প্রায় এক মাইল দূরে। গোলাগুলির সময় নৌকাটি কিউবার জলসীমার ভেতরে অবস্থান করছিল বলেও দাবি করা হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানে জড়িত স্পিডবোটটির নিবন্ধন নম্বর তাদের কাছে রয়েছে, তবে নৌকাটিতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরে কিউবান কর্তৃপক্ষ দাবি করে, ওই নৌকাটিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবানরা ছিলেন, যারা কিউবায় অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াএ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা বিষয়টি তাদের নিজেদের মতো করে যাচাই করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, এটি কোনও মার্কিন সরকারি অভিযান ছিল না এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কেউ জড়িত ছিলেন না। নৌকাটিতে থাকা ব্যক্তিরা মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রুবিও আরও বলেন, খোলা সমুদ্রে এ ধরনের গোলাগুলি খুবই অস্বাভাবিক। এটা প্রতিদিন ঘটে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, হোয়াইট হাউস পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা চাই এটা যেন আমাদের আশঙ্কার মতো গুরুতর না হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উটমেয়ার জানিয়েছেন, ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করতে তিনি স্টেটওয়াইড প্রসিকিউশন অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনাটি কিউবা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উগান্ডায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ায় ২ তরুণী গ্রেফতার

উগান্ডায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ায় ২ তরুণী গ্রেফতার পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ায় দুই তরুণীকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, ওই দুই তরুণীকে সমকামী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। উগান্ডা ২০২৩ সালে কঠোর সমকামিতা বিরোধী আইন পাস করে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ব্যাপক সমালোচনা ও পশ্চিমা সরকারের চাপ উপেক্ষা করেই আইনটি কার্যকর করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুই তরুণীর একজন ২২ বছর বয়সী বিনোদনকর্মী, অন্যজন ২১ বছর বয়সী বেকার। ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আরুয়া সিটি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নারী অস্বাভাবিক ও সমকামি আচরণে জড়িত ছিলেন, যা যৌন প্রকৃতির বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদেরকে দিনের বেলা প্রকাশ্যে চুম্বন করতে দেখা গেছে। পুলিশ দাবি করে, গ্রেফতার দুই তরুণীর বিরুদ্ধে গত বছর থেকেই অভিযোগ আসতে শুরু করেছিল। বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর এলজিবিটি-নির্দেশিত আইনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত উগান্ডার এই আইন অনুযায়ী, একই লিঙ্গের মধ্যে যৌন সম্পর্কের শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড। আর ‘অ্যাগ্রাভেটেড’ বা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত ক্ষেত্রে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড। গুরুতর অপরাধের সংজ্ঞায় রয়েছে- বারবার অপরাধ করা, সমকামী যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে মরণব্যাধি ছড়িয়ে পড়া, অথবা কোনো নাবালক, প্রবীণ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সঙ্গে একই লিঙ্গের যৌন সম্পর্ক স্থাপন। উগান্ডায় এই কঠোর আইন বিতর্কের কেন্দ্রে থাকলেও, কর্তৃপক্ষ বলছে আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে সাবেক ক্রিকেট তারকার একজন মুখপাত্র অভিযোগ করেছে, ইমরানকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে আছেন। তাকে গত বছরের শেষের দিকে তার স্ত্রীর সাথে দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের পরিবার এবং আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি তার ডান চোখের বেশিরভাগ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। খানকে দ্বিতীয় ডোজ চোখের ইনজেকশনের জন্য ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অবশ্য ইমরান খানের প্রেস উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফিকার বুখারি বলেছেন, ইমরান খানকে “তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া উচিত।” গত সপ্তাহে ইমরান খানের স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বিগ্ন এক ডজনেরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক ইসলামাবাদ সরকারের কাছে তাকে ‘পর্যাপ্ত’ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

ইউক্রেন যুদ্ধে সবদিক দিয়েই ব্যর্থ রাশিয়া বলেছেন ম্যাক্রোঁ

ইউক্রেন যুদ্ধে সবদিক দিয়েই ব্যর্থ রাশিয়া বলেছেন ম্যাক্রোঁ ইউক্রেন যুদ্ধের চতৃর্থ বার্ষিকীতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার জন্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আজ এক এক্স বার্তায় ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, একদিন রাশিয়ানরা তাদের নামে সংঘটিত অপরাধের মাত্রা, যে অজুহাতগুলো দেয়া হয়েছে তার অকার্যকারিতা এবং দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী বিধ্বংসী প্রভাব উপলব্ধি করবে। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের চতৃর্থ বার্ষিকীতে দেশটির সমর্থনে কিয়েভ সফর করছেন ইউরোপীয় নেতারা। আজ ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি অ্যান্টোনিও কস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন কিয়েভে পৌঁছেছেন।

ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া

ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া দ্রুজবা পাইপলাইন ঘিরে তেল সরবরাহ বিরোধের জেরে ইউক্রেনে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছে স্লোভাকিয়া। গ্তকাল এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। ইউক্রেনের দাবি, দ্রুজবা পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এত পাইপলাইনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং মেরামত না করা হলে এই পাইপলাইন দিয়ে তেলের চলাচল সম্ভব নয়। এর ফলে গত ২৭ জানুয়ারি থেকে দ্রুজবা পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশ দিয়ে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে রাশিয়ার তেল প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুজবা পাইপলাইনে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। এদিকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া উভয়েই পাইপলাইন বন্ধের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। ফিকো এক বিবৃতিতে বলেন, স্লোভাকিয়ায় ঘোষিত ‘তেল জরুরি অবস্থা’র প্রেক্ষিতে “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা” হিসেবে বিদ্যুৎ সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে। তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হলে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ আকাঙ্ক্ষায় সমর্থন পুনর্বিবেচনা করার সতর্ক করেন তিনি। তবে স্লোভাকিয়ার বিরোধী দল সরকারের এমন পদক্ষেপে নিন্দা জানান। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা উভয় দেশকে গঠনমূলক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে রাশিয়া থেকে ইউক্রেন, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও জার্মানিতে সরাসরি তেল সরবরাহের জন্য দ্রুজবা পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছিল।

রেকর্ড তুষারপাতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল

রেকর্ড তুষারপাতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী একটি তুষারঝড় আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় গ্তকাল এই তুষাড়ঝড় হয়। এতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী তুষারপাতের ফলে কয়েক লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ও কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যানুসারে, রোড আইল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের কিছু অংশে প্রায় ৩৭ ইঞ্চি (৯৪ সেমি) পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে ১৯ ইঞ্চিরও বেশি তুষারপাত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যাতায়াতের পরিস্থিতি ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্ব উপকূলের প্রায় ৬ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে নিউ জার্সি এবং ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রোড আইল্যান্ড এবং পার্শ্ববর্তী কানেকটিকাটে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলিও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি দক্ষিণ-পূর্ব ম্যাসাচুসেটসে অপরিহার্য নয় এমন সব ড্রাইভিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছি এবং হাইওয়েতে গতিসীমা কমিয়ে ৪০ মাইল করছি। আবহাওয়া এতটাই খারাপ যে আপনি কোথাও আটকে গেলে সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হবে। তাই আমি সবাইকে রাস্তা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করছি।” তুষারঝড়ে কারণে ম্যাসাচুসেটসের প্রায় ৩ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে ৮৫ শতাংশ গ্রাহক কেপ কড এলাকার। নিউ ইয়র্ক সিটিতে সোমবার দুপুরে জরুরি পরিস্থিতি তুলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ৮৫ লাখ মানুষের এই শহরটি কার্যত অচল ছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্যানুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে যাতায়াতকারী মোট ৫ হাজার ৭০৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এই রেশ কাটবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বোস্টন ও নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আরও দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পেরুতে টানা বৃষ্টিপাতে ভূমিধস, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

পেরুতে টানা বৃষ্টিপাতে ভূমিধস, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের ইকা ও আরেকুইপা অঞ্চলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবল বর্ষণের মধ্যে ভূমিধসে ভেসে যাওয়া এক বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরেকুইপার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নর জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এদিকে পেরুর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সোমবার ঘোষণা করেছে, দেশজুড়ে ৭০০টিরও বেশি জেলাকে জরুরি অবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরেকুইপার কায়মা এলাকায় আকস্মিক বন্যায় সড়ক ভেঙে পড়েছে এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংসের মুখে রয়েছে। একটি গাড়ি কাদার নিচে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাস্তা পরিষ্কার করছেন। এই দুর্যোগের মধ্যেই সোমবার বন্যা উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ জন নিহত হন। চালা জেলায় হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজনই শিশু। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের পেছনে ‘এল নিনো কোস্তেরো’ নামের উপকূলীয় জলবায়ু পরিস্থিতি দায়ী। আগামী মাসে এটি আরো শক্তিশালী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়াবে।

উত্তেজনার মধ্যে লেবানন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

উত্তেজনার মধ্যে লেবানন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, এই উত্তেজনা যুদ্ধের দিকে গড়ালে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বৈরুতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মার্কিন দূতাবাসের অন্তত ৩০ থেকে ৫০ জন কর্মীকে দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে- এমন আশঙ্কাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গেল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি অর্থবহ চুক্তি চান, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনও চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। এর আগেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে থাকা তার দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটি থেকে কর্মী সরিয়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার আগে ইরাক, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকেও অপ্রয়োজনীয় কর্মী প্রত্যাহার করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “পররাষ্ট্র দফতর বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার পর আমরা মনে করেছি, কেবল প্রয়োজনীয় কর্মী রেখে উপস্থিতি কমানোই যুক্তিসংগত।” তবে দূতাবাস পুরোপুরি বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে হলেও চালু থাকবে।”