সুইজারল্যান্ডের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ‘নিহত ৪০’

সুইজারল্যান্ডের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ‘নিহত ৪০’ সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট শহর ক্র্যানস মন্টানার একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুইস পুলিশের বরাত দিয়ে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পুলিশের মুখপাত্র গেতান লাথিয়ন জানিয়েছিলেন, বুধবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ‘লে কনস্টেলেশন’ নামের পানশালায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন সেখানে নববর্ষের উদযাপন চলছিল। ভবনটির ভেতরে শতাধিক মানুষ ছিলেন। এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র নেই। ইতালীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইস পুলিশের বরাত দিয়ে বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে প্রায় ৪০ জন মারা গেছে। নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি কারণ তাদের দগ্ধের মাত্রা বেশি। এদিকে সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘কয়েক ডজন’ মানুষ নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ১০০ জন আহত হয়েছে। হতাহতরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আহতদের বেশিরভাগে অবস্থাই গুরুতর।’ ঘটনাস্থলে প্রায় ১০টি হেলিকপ্টার, ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ১৫০ জন উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে। জরুরি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। ভ্যালাইস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট এখন পূর্ণ, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পোড়া চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার এবং হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় চাপ না দেওয়ার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছেন।
সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গাজায় নতুন বছর শুরু

সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গাজায় নতুন বছর শুরু দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ-সংঘাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে গাজাবাসী। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই, সংগ্রাম করে যাচ্ছে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার সাধারণ মানুষ। ভয়াবহ মানবিক সংকটে দিশেহারা তারা। নতুন বছরেও তাদের মনে কোনো আনন্দ নেই। আছে শুধু বিষাদ আর হতাশা। এমনই একজন সানা ইসরা। সাদা প্লাস্টিকের তেরপলিন দিয়ে তৈরি তাঁবুতে সানা ইসা তার মেয়েদের সঙ্গে বসেছিলেন। নতুন বছর এবং গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নিয়ে সানা আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু বৃষ্টিতে তাঁবুতে ভেজা কম্বলের ওপর শুয়ে থাকা সানার কাছে ইতিবাচক হওয়ার মতো তেমন কোনো বিষয় এখন আসলে নেই। গাজা উপত্যকায় তিনি এবং তার মতো অন্যান্য বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের যে কঠিন বছরের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তার বর্ণনা দিয়ে সানা আল জাজিরাকে বলেন, আমরা যুদ্ধ, ঠান্ডা, নাকি ক্ষুধাকে দোষ দেব তা বুঝতে পারছি না। আমরা এক সংকট থেকে অন্য সংকটে চলে যাচ্ছি। মানবিক অবস্থার অবনতির মধ্যে গাজার ফিলিস্তিনিদের একসময়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী আশা, উন্নত ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের স্বপ্ন, হারিয়ে গেছে। এর বদলে জায়গা করে নিয়েছে মৌলিক মানবিক চাহিদা- আটা, খাবার এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা, ঠান্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁবু সংগ্রহ করা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা এবং বোমাবর্ষণ থেকে বেঁচে থাকা। সানার মতো ফিলিস্তিনিদের জন্য, নতুন বছরের আশা বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিনের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী সানা সাত সন্তানের জননী। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রথম বছরের শেষে ইসরায়েলি হামলায় তার স্বামী নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি তার সন্তানদের লালন-পালনের একমাত্র দায়িত্বে ছিলেন। সানা তার পরিবারের সাথে আল-বুরেইজ থেকে মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ এলাকায় পালিয়ে আসেন। শিশুদের প্রতি দায়িত্ব, স্থানচ্যুতি, খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা, এখানে-সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবকিছুই তার কাছে ছিল বেশ কঠিন বিষয়। ২০২৫ সালে সানার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘একটি রুটি’ জোগাড় করা এবং তার পরিবারের জন্য প্রতিদিন এক কেজি আটা জোগাড় করা। তিনি তিক্ত স্বরে বলেন, দুর্ভিক্ষের সময় আমি একটাই ইচ্ছা নিয়ে ঘুমাতাম এবং জেগে উঠতাম, সেটা হলো দিনের জন্য পর্যাপ্ত রুটি জোগাড় করা। যখন আমার বাচ্চারা আমার সামনে অনাহারে ছিল, আর আমি কিছুই করতে পারছিলাম না আমার মনে হচ্ছিল আমি মারা যাচ্ছি। আটার সন্ধানে অবশেষে সানা গাজাজুড়ে মে মাসের শেষের দিকে খোলা মার্কিন-সমর্থিত জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, প্রথমে আমি ভীত এবং দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, কিন্তু আমরা যে ক্ষুধার মধ্য দিয়ে বাস করছি তা আপনাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করতে পারে যা আপনি কখনো কল্পনাও করেননি। কিন্তু সাইটগুলিতে যাওয়া কেবল সানার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না, এটি এমন একটি পথ ছিল যা তার মর্যাদা কেড়ে নিয়েছিল এবং স্থায়ী ক্ষত রেখে গিয়েছিল। একবার মধ্য গাজার নেটজারিম বিতরণ পয়েন্টে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করার সময় সানা তার বাহুতে ছুরি দিয়ে আঘাত পান এবং রাফাহর পূর্বে মোরাগ পয়েন্টে তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে বুকে আঘাত পান। কিন্তু তার এই আঘাত তাকে আবারও চেষ্টা করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যদিও এরপর থেকে তিনি তার সন্তানদের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এলাকায় রেখে একাই যাওয়া শুরু করেন। গাজায় যুদ্ধের ফলে খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। গত বছরের মার্চের শেষের দিকে এই পরিস্থিতি শুরু হয় এবং জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ঘোষণা করে যা অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে তবে সংকট একেবারে শেষ হয়নি। গাজার কিছু অংশে খাদ্য সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে প্রবেশ করায় খাদ্য, পানি এবং ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে অপুষ্টির হার বেড়ে গেছে।
জনসংখ্যা বাড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ কর বসালো চীন

জনসংখ্যা বাড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ কর বসালো চীন টানা জনসংখ্যা হ্রাস মোকাবিলায় গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ বিক্রয় কর আরোপ করেছে চীন সরকার। গত বছরের শেষের দিকে ঘোষিত নতুন এই নীতিটি আজ ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে দেশটিতে কার্যকর করা হয়েছে। খবর বিবিসির। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন ২০১৫ সালে তাদের বির্তকিত ‘এক সন্তান নীতি’ বাতিলের পর থেকেই জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ঘোষিত সর্বশেষ নিয়মে একদিকে যেমন গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর বিক্রয় কর আরোপ করা হয়েছে, অন্যদিকে শিশু যত্ন বা চাইল্ডকেয়ার পরিষেবাগুলোকে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়মে বিয়ে-সংক্রান্ত পরিষেবা এবং বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার বিষয়গুলোকেও ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত সন্তান জন্মদানের জন্য দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নগদ অর্থ সহায়তার মতো বেইজিংয়ের বিস্তৃত প্রচেষ্টারই একটি অংশ। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা এবং ধীরগতির অর্থনীতির মুখে বেইজিং তরুণদের বিয়ে করতে এবং দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে চীনের জনসংখ্যা কমছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৯.৫৪ মিলিয়ন শিশু জন্ম নিয়েছে, যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এক দশক আগে থেকেই চীন তাদের সন্তান ধারণের সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে শুরু করেছিল। এদিকে, কনডম, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল এবং অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর এই কর আরোপ অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এবং এইচআইভি সংক্রমণের হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সন্তান পালনের খরচের তুলনায় দামী কনডম মানুষকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বেইজিংয়ের ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন শিশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ। উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে স্কুলের ফি এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্ব ও কর্মক্ষেত্রের ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্পত্তি খাতের সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে আঘাত হেনেছে। ফলে পরিবারগুলো, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। হেনান প্রদেশের ৩৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লুও বলেন, “আমার একটি সন্তান আছে এবং আমি আর চাই না।” তিনি কনডমের দাম বৃদ্ধি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তার ভাষ্য, “এক বক্স কনডমের দাম হয়তো ৫ ইউয়ান বা বড়জোর ২০ ইউয়ান বাড়বে। বছরে যা কয়েকশ ইউয়ান মাত্র, যা বহনযোগ্য।” তবে শি’আন শহরের বাসিন্দা রোজি ঝাও মনে করেন, অন্যদের জন্য এই খরচ সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, গর্ভনিরোধক একটি মৌলিক প্রয়োজন, এর দাম বেড়ে গেলে শিক্ষার্থী বা আর্থিকভাবে অসচ্ছলরা ‘ঝুঁকি নিতে’ পারে। তার মতে, এটিই এই নীতির ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক ফলাফল’ হতে পারে।
পবিত্র কোরআন হাতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি

পবিত্র কোরআন হাতে নিউ ইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ম্যানহাটনের একটি পরিত্যক্ত ঐতিহাসিক সাবওয়ে স্টেশনে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে এই শপথ গ্রহণ করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। খবর আল-জাজিরার। এই শপথের মাধ্যমে ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম এবং গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে কনিষ্ঠতম মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি পবিত্র কোরআনের ওপর হাত রেখে তার দাপ্তরিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্ঠানে মামদানি তার দাদার ব্যবহৃত কোরআন এবং নিউ ইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত ২০০ বছরের পুরোনো একটি কোরআন ব্যবহার করেন। নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস তাকে এই ঐতিহাসিক শপথবাক্য পাঠ করান, যা শহরটির বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। মধ্যরাতের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পর দুপুর ১টায় নিউ ইয়র্কের সিটি হলে আয়োজিত একটি বড় ধরনের জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। এ অনুষ্ঠানে মামদানি তার দাদা ও দাদির ব্যবহৃত দুটি কোরআন শরিফ ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এই মূল অনুষ্ঠানে মামদানির অন্যতম রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর ব্রডওয়ের ‘ক্যানিয়ন অব হিরোস’-এ একটি বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনা ও ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাতেগোনা কয়েকজন রাজনীতিবিদের মধ্যে মামদানি একজন, যারা ধর্মীয় গ্রন্থ ছুঁয়ে শপথ নিয়েছেন। নিউ ইয়র্কে মেয়রের শপথ গ্রহণের জন্য কোনো ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়, তবে অতীতের অনেক মেয়র বাইবেল ব্যবহার করেছেন। সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ তার পারিবারিক ১০০ বছরের পুরোনো বাইবেল ব্যবহার করেছিলেন, বিল ডি ব্লাসিও ব্যবহার করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের একটি বাইবেল। আর মামদানির পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসও শপথের জন্য পারিবারিক বাইবেল ব্যবহার করেছিলেন।
জার্মানির ব্যাংকে সিনেমা স্টাইলে ডাকাতি, ৩০ মিলিয়ন ইউরো লুট

জার্মানির ব্যাংকে সিনেমা স্টাইলে ডাকাতি, ৩০ মিলিয়ন ইউরো লুট জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার ভল্ট ভেঙে আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করেছে চোরেরা। পুলিশ জানিয়েছে, চোরেরা একটি বড় ড্রিল মেশিন ব্যবহার করে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। খবর বিবিসির। পুলিশের একজন মুখপাত্র এই চুরির ঘটনাটিকে ব্যাংক ডাকাতি নিয়ে হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘ওশেন’স ইলেভেন’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফটিতে তিনি বলেন, “এটি খুবই পেশাদারিত্বের সঙ্গে করা হয়েছে।” জেলসেনকির্খেন শহরের স্পার্কাসে সেভিংস ব্যাংকে চোরেরা তিন হাজারেরও বেশি নিরাপদ ব্যক্তিগত লকার ভেঙেছে, যেগুলোতে নগদ টাকা, সোনা এবং গয়না ছিল। চোরেরা বড়দিনের ছুটির শান্ত পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে এই ডাকাতি চালায়। গত শনিবার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। জেলসেনকির্খেন পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার ভোরে ব্যাংকে ফায়ার অ্যালার্ম বেজে উঠলে পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেড তল্লাশি চালিয়ে ব্যাংকের ভূগর্ভস্থ ভল্ট রুমের দেয়ালে একটি বড় গর্ত দেখতে পায়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, চোরেরা ব্যাংকের পাশের একটি পার্কিং গ্যারেজের দেয়াল ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত করে ভেতরে প্রবেশ করেছিল এবং সেই পথেই পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা শনিবার গভীর রাতে গ্যারেজের সিঁড়িতে কয়েকজন লোককে বড় বড় ব্যাগ বহন করতে দেখেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে সোমবার ভোরে একটি কালো রঙের অডি আরএস-সিক্স গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের হতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকের সামনে অনেক গ্রাহক ভিড় করেন এবং তথ্যের দাবি জানান। এক বৃদ্ধ গ্রাহক রয়টার্সকে বলেন, “আমি গতরাতে ঘুমাতে পারিনি। আমাদের কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। ওখানে আমার শেষ বয়সের সব সঞ্চয় ছিল।” স্পার্কাসে ব্যাংকের শাখাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গ্রাহকদের জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ নিরাপদ ব্যক্তিগত লকার ভেঙে ফেলা হয়েছে, তাই গ্রাহকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গভীর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গভীর শোক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁকে বাংলাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক শোকবার্তায় বলেছে, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করছে।” তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করে দূতাবাস বলেছে, “বেগম জিয়া তাঁর দেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্ব বাংলাদেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।” চীন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক এবং চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে চীন-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব ও সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছিল, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।” চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে চীনের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “এ সম্পর্ক জোরদারে তাঁর ভূমিকা চীন উচ্চভাবে মূল্যায়ন করে।” শোকবার্তায় আরো বলা হয়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বেইজিং। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করতে চীন প্রস্তুত রয়েছে, যেন উভয় দেশের জনগণ আরো বেশি উপকৃত হয়। ভারত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে গভীর শোক জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, “ঢাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সব মানুষের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা। সর্বশক্তিমান তাঁর পরিবারকে এই মর্মান্তিক ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বাংলাদেশের উন্নয়নে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান, সেইসাথে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে, সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০১৫ সালে ঢাকায় তাঁর সাথে আমার উষ্ণ সাক্ষাতের কথা আমি স্মরণ করছি। আমরা আশা করি তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং উত্তরাধিকার আমাদের অংশীদারিত্বকে পরিচালিত করবে। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।” পাকিস্তান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও শোকবার্তায় খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং পাকিস্তানের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাহবাজ শরীফ নিজের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে শোকবার্তা প্রকাশ করে লিখেছেন, “বিএনপির চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে তাঁর আজীবনের অবদান এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছে।” পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বেগম জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু ছিলেন। পাকিস্তান সরকার এবং পাকিস্তানের জনগণ এই শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। এই কঠিন সময়ে আমাদের চিন্তাভাবনা এবং প্রার্থনা তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার আত্মার শান্তি কামনা করুন। আমিন!” নেপাল নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে গভীর শোক জানিয়েছেন। সুশীলা কার্কি লিখেছেন, “বিএনপি চেয়ারপারসন এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। নেপাল সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে, আমি তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী আরো লিখেছেন, “বেগম জিয়া আজীবন জনসেবার এক অনন্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে। নেপালের একজন অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে, নেপাল ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর বিদেহী আত্মা চির শান্তিতে থাকুক।” যুক্তরাজ্য যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এক শোকবার্তায় বাংলাদেশে অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন বলেছে, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।” এই অত্যন্ত দুঃখজনক সময়ে হাইকমিশন তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে। জাপান জাপান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এক শোকবার্তায় বলেন, “বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সম্মানিত চেয়ারপারসন মহোদয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।” রাষ্ট্রদূত জানান, জাপান বেগম জিয়ার পরিবার, বিএনপির সব সদস্য এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম জিয়া দুইবার জাপান সফর করেছিলেন এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রেখেছিলেন।” রাষ্ট্রদূত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবশেষে তিনি বলেন, “তাঁর বিদেহী আত্মা চিরশান্তিতে থাকুক।” জার্মানি ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাস এক শোকবার্তায় বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের প্রথম নারী সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে দূতাবাস জানায়, “নিজের দীর্ঘ জনজীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।” প্রয়াত এই নেত্রীর সঙ্গে জার্মানির উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের কথা স্মরণ করে বার্তায় বলা হয়, “জার্মানি তাঁর সাথে কয়েক দশকের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকা সফরকালে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোশকা ফিশারের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ এবং ২০১১ সালে জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের রাষ্ট্রীয় সফর চলাকালীন তাঁর সাথে বৈঠক।” শোকবার্তায় আরো বলা হয়, “তিনি বছরের পর বছর ধরে জার্মানির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সাথেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।” “এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি তাঁর জাতীয় জীবনের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এবং তাঁর পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে।”সবশেষে বলা হয়, “জার্মানি আমাদের দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর আত্মা শান্তিতে থাকুক।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। ইইউ এক শোকবার্তায় বলেছে, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় ‘দেশনেত্রী’, ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। বেগম খালেদা জিয়া লিভার, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। উল্লেখ্য চলতি বছর ৭ জানুয়ারি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে বয়স প্রতিকূল থাকায় এবং নানাবিধ রোগের জটিলতার কারণে তিনি প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল, তিনি পূর্বের ন্যায় এবারও কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে চিরদিনের মতো না ফেরার দেশে
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানে আরো হামলার হুমকি ট্রাম্পের

নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানে আরো হামলার হুমকি ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি অস্ত্র না ছাড়ে তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের যেকোনো প্রচেষ্টাকে ‘দ্রুত নির্মূল’ এবং ‘গুড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। বৈঠকে গাজায় ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এগিয়ে নেওয়া এবং ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের উদ্বেগ দূর করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, গাজা যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েল তার ভূমিকা পালন করছে (যদিও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে যাতে অন্তত ৪০০ জন নিহত হয়েছে)। তিনি হামাসকে চুক্তির শর্ত মেনে চলার জন্য সতর্ক করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করেছি। অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য তাদেরকে খুব অল্প সময় দেওয়া হবে, দেখা যাক কী হয়।” তিনি আরো বলেন, “যদি তারা অস্ত্র না ছাড়ে, যা করতে তারা সম্মত হয়েছিল, তাহলে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।”এ বিষয়ে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি বন্দীদের বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি, ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং গাজা থেকে আংশিক ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। হামাস এখনও একজন ইসরায়েলি বন্দীর মরদেহ ফেরত দেয়নি। অন্যদিকে ইসরায়েল ক্রমাগত গাজায় প্রাণঘাতী হামলা চালানোর পাশাপাশি ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ে যাওয়ার দেরীর জন্য এককভাবে হামাসকেই দায়ী করেন। হামাস এর আগে বলেছিল যে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকা পর্যন্ত তারা অস্ত্র ত্যাগ করবে না। তবে তারা অস্ত্র একপাশে সরিয়ে রাখতে এবং ৭ থেকে ১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। এদিকে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, গত জুন মাসে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তেহরান আবারও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালুর চেষ্টা করছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি শুনতে পাচ্ছি ইরান আবার সবকিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। যদি তারা তা করে, তবে আমাদের তাদের গুঁড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাদের চরমভাবে আঘাত করব। তবে আশা করবো, এমনটা ঘটবে না।” ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করে, তাহলে ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘খুব দ্রুত সেই প্রচেষ্টা নির্মূল করা’ ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। তিনি সতর্ক করেন, এবারের হামলার ভয়াবহতা আগের বারের চেয়েও বেশি হতে পারে। আগের হামলায় ব্যবহৃত বোমারু বিমানের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ঠিক জানি তারা কোথায় যাচ্ছে এবং কী করছে। আমি আশা করি তারা এটা করছে না, কারণ আমি একটি বি-২ বোমারু বিমানের জ্বালানি অপচয় করতে চাই না। এটি আসা-যাওয়ায় ৩৭ ঘণ্টার পথ। আমি অনেক জ্বালানি অপচয় করতে চাই না।” ইরানের বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘ভালোভাবে বিজয়ী’ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পরাজিত না করলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আসত না। ইসরায়েল যদি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে হামলা চালায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সমর্থন দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি অব্যাহত রাখে, তবে হ্যাঁ। আর পারমাণবিক? দ্রুত। একটির ক্ষেত্রে উত্তর হলো: হ্যাঁ, অবশ্যই। অন্যটির (পারমাণবিক) ক্ষেত্রে: আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।” এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি। তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘একটি চুক্তিতে আসা’। তিনি বলেন, “যদি তারা চুক্তি করতে চায় তবে সেটিই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।”
জেন-জি বিক্ষোভের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে সাবেক র্যাপার

জেন-জি বিক্ষোভের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে সাবেক র্যাপার নেপালের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নাটকীয় মোড় নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশটির সাবেক র্যাপার ও কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তিনি ভক্তদের কাছে ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত। এবার তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি) সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়েছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই জোট নেপালের রাজনীতিতে গত তিন দশক ধরে আধিপত্য বিস্তারকারী পুরোনো দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় কর্মকর্তারা আজ সোমবার জানান, মেয়র বালেন গত রবিবার রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন আরএসপি পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। রবি লামিছানে নিজেও একজন সাবেক টিভি সঞ্চালক থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ব্যক্তিত্ব। চুক্তি অনুযায়ী, ৫ মার্চের সংসদ নির্বাচনে যদি আরএসপি জয়লাভ করে, তাহলে ৩৫ বছর বয়সী বালেন হবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, ৪৮ বছর বয়সী লামিছানে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নেপালে গত সেপ্টেম্বরে ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জেনারেশন জেড’ বা তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে ৭৭ জন নিহত হন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বালেন এবং লামিছানে উভয়েই সেই বিক্ষোভের দাবিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, “বালেন এবং তার তরুণ সমর্থকদের নিজেদের দলে ভেড়ানো আরএসপির জন্য একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কৌশলগত পদক্ষেপ। তরুণ ভোটারদের হারানোর ভয়ে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো এখন শঙ্কিত।” নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, নেপালের ৩ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের পর প্রায় ১০ লাখ নতুন ভোটার (যাদের বেশিরভাগই তরুণ) তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। বিক্ষোভের পর বালেন ব্যাপক আলোচনায় আসেন এবং তিনি ছিলেন আন্দোলনকারী তরুণদের একজন অঘোষিত নেতা। তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনেও সহায়তা করেছিলেন, যারা এই নির্বাচন পরিচালনা করবে। তবে কিছু সমালোচক বিক্ষোভের সময় বালেনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, তিনি জনসম্মুখে খুব কমই আসতেন এবং কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতেন। ১৯৯০ সালের পর নেপালে রাজতন্ত্রের অবসান এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেপি শর্মা ওলির নেতৃতাধীন কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) এবং মধ্যপন্থি নেপালি কংগ্রেস পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এখন বালেন তাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। মিছানে ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে আরএসপি গঠন করেন। একজন টিভি সঞ্চালক হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। লামিছানে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সমবায় সমিতিগুলোতে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জমানো অর্থ আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। নেপালি কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মাহাত বলেন, “বালেন এবং লামিছানে- উভয়েই ‘বিতর্কিত’ নেতা এবং তাদের এই জোট বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।” মাহাত রয়টার্সকে বলেন, “আমি মনে করি না তাদের এই জোটের কারণে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে। মানুষ এখনো পুরোনো এবং অভিজ্ঞ দলগুলোকেই বেছে নেবে।”
ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬

ইন্দোনেশিয়ায় বৃদ্ধাশ্রমে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৬ ইন্দোনেশিয়ার একটি বৃদ্ধাশ্রমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন নিহত এবং দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো ৩ জন। স্থানীয় কর্তপক্ষের বরাত দিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মানাদো শহরের দামাই রিটায়ারমেন্ট হোম-এ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শহরটির ফায়ার অ্যান্ড রেস্কিউ এজেন্সির প্রধান জিমি রোটিনসুলু বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পুলিশ এখনও অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ মরদেহগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের নির্দিষ্ট হাসপাতালে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। দেশটির এক কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেটিককমকে জানান, অনেক মরদেহ এমন অবস্থায় রয়েছে, যা শনাক্ত করা কঠিন। বৃদ্ধাশ্রমের কাছেই বসবাসকারী স্টিভেন মোকোদোমপিট জানান, তিনি যখন রাত ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছান, তখন বৃদ্ধাশ্রমের রান্নাঘরে আগুন জ্বলছিল। উদ্ধারকাজের সময় তারা একটি বিস্ফোরণ এবং সাহায্যের জন্য আর্তচিৎকার শুনতে পান। তিনি বলেন, “মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।” ন্দোনেশিয়ায় এমন প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড অস্বাভাবিক নয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে রাজধানী জাকার্তায় একটি সাত তলা অফিস ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত হয়েছিলেন।
ইউরোপে অ্যালকোহল পানে প্রতি বছর ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু

ইউরোপে অ্যালকোহল পানে প্রতি বছর ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু ইউরোপে অ্যালকোহল বা মদপানের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এটি এ অঞ্চলে প্রতি ১১টি মৃত্যুর মধ্যে একটির কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বে মদ্যপানের হার সবচেয়ে বেশি ইউরোপ মহাদেশে। এই অভ্যাসটি অকাল মৃত্যু ও শারীরিক আঘাতের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০১৯ সালের তথ্য (সবচেয়ে সাম্প্রতিক সহজলভ্য তথ্য) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপে অ্যালকোহলজনিত কারণে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ শারীরিক আঘাত পেয়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণগুলো হলো- আত্মহত্যা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মদ্যপানের সঙ্গে আন্তঃব্যক্তিগত সহিংসতা, যেমন- আক্রমণ এবং পারিবারিক নির্যাতনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুরো ইউরোপ অঞ্চল জুড়ে সহিংসতাজনিত মৃত্যুর পেছনে মদ্যপানকে একটি অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অ্যালকোহল তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, মদ্যপান স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি, যেমন- অ্যালকোহল আসক্তি এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে শারীরিক আঘাতজনিত পঙ্গুত্ব এবং অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অ্যালকোহলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউরোপে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অ্যালকোহল, অবৈধ মাদক ও কারাগার-স্বাস্থ্য বিষয়ক আঞ্চলিক উপদেষ্টা কারিনা ফেরেরা বোর্হেস বলেন, “অ্যালকোহল একটি বিষাক্ত পদার্থ যা কেবল সাত ধরনের ক্যানসার এবং অন্যান্য অসংক্রামক ব্যাধির সৃষ্টি করে না, বরং এটি মানুষের বিচারবুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, প্রতিক্রিয়ার গতি ধীর করে দেয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে উৎসাহ যোগায়। এই কারণেই এত বিপুল পরিমাণ প্রতিরোধযোগ্য দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর সঙ্গে মদ্যপানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।” তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে মৃত্যু সংখ্যার প্রায় অর্ধেকের জন্য অ্যালকোহলজনিত দুর্ঘটনা দায়ী, যেখানে পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপে এই হার ২০ শতাংশেরও কম।