জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু

জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ এ আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টিভিকে জানিয়েছে, আলোচনা এখন চলছে, উভয় পক্ষই মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির সাথে তাদের মতামত ভাগ করে নিচ্ছে। বাঘাই জানান, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু পারমাণবিক-সম্পর্কিত বিষয়। ইরান এবং আইএইএর মধ্যে আলোচনা গতকাল হয়েছিল এবং আজ মার্কিন প্রতিনিধিদল এবং আইএইএর মহাপরিচালকের মধ্যেও একই রকম আলোচনা হচ্ছে। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জাতিসংঘে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন এবং ইরানের অবস্থান উপস্থাপন করবেন। চলতি মাসের শুরুতে ওমানে প্রথম দফায় ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে পরমাণু আলোচনা হয়েছিল। ওই সময় আলোচনা ভাল হয়েছে এবং এটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে দ্বিতীয় দফার আলোচনা এমন সময় শুরু হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছে আরো একটি যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার পরিণতি হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।

মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায়

মধ্যপ্রাচ্যে রমজান শুরু কবে, জানা যাবে সন্ধ্যায় ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার জন্য সকল মুসলিম নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় রবিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট আজ সন্ধ্যায় নাগরিকদের চাঁদ দেখার এ আহ্বান জানানো হয়। মুসলিম বিশ্ব চন্দ্রবর্ষ অনুসরণ করায় সাধারণত মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ শাবান মাসের ২৯ তারিখ। এদিন সন্ধ্যায় সৌদি আরবের আকাশে চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল থেকে দেশটিতে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। চাঁদ দেখার বিষয়ে আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর সময় জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরোর কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো। ইউক্রেনের জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) গতকাল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। গোপনে দেশত্যাগ করার সময় সাবেক ‘মিডাস’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারা হেফাজতে আছেন। আইন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে এ ব্যাপারর আরও বিস্তারিত জানানো হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির একজন ঘনিষ্ঠ মন্ত্রী ছিলেন গালুশচেঙ্কো। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলার অবৈধভাবে উপার্জন ও সেই অর্থ বিদেশে পাচার করার অভিযোগ ওঠে। গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি অর্থের বিনিময়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ী তিমরুর মিন্ডিচকে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এছাড়া ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির সবগুলো পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জোঅ্যাটমের ঠিকাদারদের কাছ থেকে যে কোনো কন্ট্রাক্টের বিনিময়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ ওঠার পর গত নভেম্বরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। তারপর গতকাল দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার করা হলো তাকে। ২০২৫ সালে ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তাইমোশেঙ্কোসহ কয়েক জন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গেরমান গালুশচেঙ্কোও তাদের মধ্যে অন্যতম। দুর্নীতি ইউক্রেনের সরকারি প্রশাসনের একটি বড় সমস্যা। মূলত এই কারণেই এখন পর্যন্ত ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের সদস্যপদ প্রাপ্তির ব্যাপারটি এখনও ঝুলে আছে।

পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার আলোচনায় প্রস্তুত ইরান

পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে সমঝোতার আলোচনায় প্রস্তুত ইরান ইরানের একজন মন্ত্রী বিবিসিকে বলেছেন, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী হলে পারমাণবিক চুক্তির জন্য সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান প্রস্তুত আছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য বারবার বলে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই আলোচনার প্রক্রিয়া থামিয়ে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির পক্ষে, কিন্তু ইরানের সাথে এটি করা খুবই কঠিন। তবে তেহরানে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেছেন, “বল এখন আমেরিকার কোর্টে যে, তারা চুক্তি চায় কি-না”। “তারা আন্তরিক হলে আমি নিশ্চিত আমরা সমঝোতার দিকেই এগিয়ে যাবো”। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময় সারাদেশে বিক্ষোভ সহিংস দমনের পর তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ওই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ফেব্রুয়ারির শুরুতে উপসাগরীয় দেশ ওমানে পরোক্ষভাবে বৈঠক করে। তাখত-রাভানচি নিশ্চিত করেছেন যে, দ্বিতীয় দফার বৈঠক মঙ্গলবার জেনেভায় হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা কমবেশি ইতিবাচক দিকেই এগিয়েছে, তবে এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। ট্রাম্পও এসব আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তেহরান ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা সমঝোতা বিষয়ে তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ। পারমাণবিক অস্ত্র মানের প্রায় কাছাকাছি এই মাত্রার সমৃদ্ধকরণের কারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে—এমন সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে। যদিও ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেন, “তারা যদি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত থাকে, তবে আমরা আমাদের কর্মসূচি–সংক্রান্ত এবং অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত আছি।” তবে তিনি এটি নিশ্চিত করেননি যে, তারা পুরো নিষেধাজ্ঞা নাকি কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলছেন। ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মতো এবারও চারশো কেজির বেশি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠাতে রাজি হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তাখত-রাভানচি বলেন, “আলোচনার প্রক্রিয়ায় কী ঘটবে তা বলার সময় আসেনি”। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ২০১৫ সালের বহুপাক্ষিক চুক্তির অংশ হিসেবে নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধ ১১,০০০ কেজি ইউরেনিয়াম গ্রহণ করেছিল রাশিয়া। তিন বছর পর সেই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। এখন রাশিয়া আবারও এই দ্রব্যটি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। এর বাইরে গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে ইরান আপাতত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আলোচনাটি যেন কেবল পারমাণবিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে। এ প্রসঙ্গে তাখত-রাভাঞ্চি বলেন, “আমাদের ধারণা, তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে যদি চুক্তি করতে চান, তবে পারমাণবিক ইস্যুতেই দৃষ্টি দিতে হবে।” এটি নিশ্চিত হলে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। কারণ, ওয়াশিংটনের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’সংক্রান্ত কঠোর দাবি ইরান সবসময়ই চুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে ভারত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে ভারত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে ভারত। সমালোচকদের দাবি, এই চুক্তি ওয়াশিংটনের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’। মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, চলতি মাসে ঘোষিত চুক্তিটি বিশেষ করে ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, সস্তা মার্কিন পণ্য আমদানি হলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভারতে ৭০ কোটির বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ হয়নি, শুধু একটি যৌথ বিবৃতি ও হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্র প্রকাশিত হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাস এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্পের যুগে নিশ্চিত বলে কিছু নেই।’ তার মতে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা টিকবে কি না, তা নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। সবচেয়ে বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি হলো- সভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছে। অথচ গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি ছিল প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার। নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, বছরে আমদানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা ‘অবাস্তব’। তিনি জানান, এ অঙ্গীকারের বড় অংশ বিমান কেনার সঙ্গে যুক্ত। তবে বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্তও মোট লক্ষ্যপূরণে যথেষ্ট হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, পাঁচ বছরে ২০০টি বোয়িং বিমান কিনলেও (প্রতি বিমানের আনুমানিক মূল্য ৩০০ মিলিয়ন ডলার) মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘অঙ্গীকার’ নয় বরং ‘ইচ্ছা’ হিসেবে লক্ষ্য নির্ধারণ করায় নয়াদিল্লির ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের শিভান ট্যান্ডন বলেন, লক্ষ্যকে বাধ্যবাধকতা না বানানোয় চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমেছে। আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো- ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করে। তবে যৌথ বিবৃতিতে এমন কোনো প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই এবং ভারত সরকারও বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। ভারত বলছে, তাদের জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থনির্ভর এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি রুশ তেল আমদানি করলেও জানুয়ারিতে তা কমে প্রায় ১১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো এপ্রিলের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল কেনা শুরু করেছে। তবে রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। আংশিকভাবে রাশিয়ার রোজনেফটের মালিকানাধীন মুম্বাইভিত্তিক নায়ারা এনার্জি প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল কেনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি এখনো ‘ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত। এ কারণে ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার মতো স্থিতিশীলতা এখনো তৈরি হয়নি।

ইরানে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে চান রেজা পাহলভি

ইরানে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে চান রেজা পাহলভি জার্মানির মিউনিখে ইরানি প্রবাসীদের এক বিশাল সমাবেশে দেশটির সাবেক যুবরাজ ও বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি বলেছেন, তিনি ইরানে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘রূপান্তর’ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। শনিবার মিউনিখের থেরেজিয়েনভিজে ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। পুলিশ জানায়, সমাবেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ইরানের বর্তমান শাসকদের অপসারণের দাবি জানান। রেজা পাহলভি বলেন, ‘আমি এখানে এসেছি একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে রূপান্তর নিশ্চিত করতে।’ ‘আমি আপনাদের জন্য এই রূপান্তরের নেতৃত্ব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে একদিন আমরা স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারি’, বলেন তিনি। ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি দীর্ঘদিন ধরেই বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকারের কড়া সমালোচক। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের পতনের পর থেকে তিনি প্রবাসে বসবাস করছেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

টিউলিপকে দেশে ফেরাতে আবেদন করবে নির্বাচিত সরকার

 টিউলিপকে দেশে ফেরাতে আবেদন করবে নির্বাচিত সরকার দুর্নীতির মামলায় লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাজ্যের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাবে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার। প্রধানমন্ত্রী-মনোনীত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক শীর্ষ সহযোগীর বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে। হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেটের এমপি ও সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকির বিরুদ্ধে ঢাকার একটি জমি অধিগ্রহণ চুক্তি সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলা রয়েছে। মামলার শুনানিতে অনুপস্থিতিত থাকলেও টিউলিপকে এ মামলার বিচারে চার বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা এই রায়কে স্বীকৃতি দেয় না। এই মামলায় টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে তার খালা, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পৃথকভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর তিনি ভারতে পালিয়ে যান। তারেক রহমানের সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আলোচিত হুমায়ুন কবির বলেছেন, নতুন বিএনপি সরকার দুর্নীতির মামলায় বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। তারা এখন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী। বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে এগোচ্ছে, দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন হুমায়ুন কবির। তবে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই ফলে টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফেরত পাঠানো অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে। চুক্তি ছাড়াও তাত্ত্বিকভাবে প্রত্যর্পণ সম্ভব হলেও, লেবার পার্টি এই বিচার প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেছে। লেবার পার্টি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ পাননি এবং অভিযোগের বিস্তারিত কখনও তাকে জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা এই রায়কে স্বীকৃতি দিতে পারি না। হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন সরকার মামলাগুলো প্রত্যাহার করবে না। আমরা হস্তক্ষেপ করব না। বিচারিক প্রক্রিয়াই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এছাড়া, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি কর্তৃক সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দ করার পদক্ষেপকে স্বাগত জানান হুমায়ুন কবির, তবে বলেন ,আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন। টিউলিপ সিদ্দিক এর আগে এই বিচারকে ত্রুটিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই কথিত রায় যেমন পূর্বনির্ধারিত, তেমনি অযৌক্তিক। আমি বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতিতে বিভ্রান্ত হব না; আমার মনোযোগ সবসময় আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি।

ঢাকায় আসছেন ভারতের স্পিকার-পররাষ্ট্র সচিব

ঢাকায় আসছেন ভারতের স্পিকার-পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা। সঙ্গে থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লোকসভার স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকার তথ্য জানিয়েছে। জানা গেছে, শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানায়, একই সময়ে ভারতে এআই সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছ। এতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁসহ প্রায় ২০ জন রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদির পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালু করলো চীন

দুই দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালু করলো চীন যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির কর্তৃপক্ষ কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে। রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কানাডীয় ও ব্রিটিশ নাগরিকরা চীনে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন বলে বেইজিংয়ের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বেইজিংয়ে ওই দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে চীনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর ঘোষণা এসেছে। এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সৌজন্য বিনিময় কর্মসূচি অথবা ট্রানজিটের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবেন। এই নীতি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বেইজিং। এর আগে, গত ১৬ জানুয়ারি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর চীনা কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, কানাডীয় নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের প্রস্তাবটি সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরদিন ১৭ জানুয়ারি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কানাডার প্রস্তাব এখনও আলোচনাধীন রয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য এক মাসের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর চীনা এই পদক্ষেপকে গত কয়েক বছর ধরে চলা সম্পর্কের দ্বিপাক্ষিক টানাপোড়েনের অবসানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৮ সালে কানাডায় চীনা নাগরিক মেং ওয়ানঝৌ গ্রেপ্তারের পর থেকেই চীন-কানাডা সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। পরবর্তীতে কানাডা হুয়াওয়ের ৫জি সরঞ্জামের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, বেইজিংয়ের এই ভিসা সংক্রান্ত বার্তায় উভয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে। তবে কানাডা চীনের নাগরিকদের জন্য পাল্টা কোনও সুবিধা দেবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে চীনা নাগরিকদের কানাডায় পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালু নেই। বরং ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) যাচাই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশটিতে চীনা নাগরিকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত হয়। সূত্র: এএফপি।

রমজানে আল-আকসায় মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করতে যাচ্ছে

রমজানে আল-আকসায় মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করতে যাচ্ছে  আসন্ন পবিত্র রমজানে মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায়ে প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি ও বিশিষ্ট ইসলামি আলেম শেখ একরিমা সাবরি আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। শেখ একরিমা সাবরি রমজান মাসে মুসলমানদের আল-আকসায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের ইসরায়েলি পরিকল্পনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন পুলিশ কমান্ডার হিসেবে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেদকে নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়েই ইসরায়েলের বাজে উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। এই নিয়োগকে অনেকেই আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ লিখেছে, ‘মনে হচ্ছে বেন-গভির আগুনে ঘি ঢালতে যা যা করা সম্ভব, সবই করছেন। শেখ সাবরি বলেন, ‘মুসলমানরা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণ করে শাবান মাসের শেষে আশাবাদ নিয়ে রমজানকে স্বাগত জানান। কিন্তু জেরুজালেমের ক্ষেত্রে আমরা দুঃখিত। কারণ, দখলদার কর্তৃপক্ষ আল-আকসা মসজিদে আসা মুসল্লিদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কয়েক ডজন তরুণকে মসজিদে প্রবেশে বাধা দিয়েছে। তারা ঘোষণা করেছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে রমজানে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের জন্য কোনো শিথিলতা দেওয়া হবে না’, বলেন তিনি। সাবরি বলেন, ‘এর মানে হলো আরও কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে। আল-আকসায় মুসল্লির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কম হবে। এটি ইবাদতের স্বাধীনতার পরিপন্থী।