ওয়াশিংটন পোস্টের ৩৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা 

ওয়াশিংটন পোস্টের ৩৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা  আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ঐতিহ্যবাহী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ৮০০ সাংবাদিকের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশকে ছাঁটাই করেছে মালিকপক্ষ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনেক কর্মীকে বাড়িতে থাকার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংবাদমাধ্যমটির মুখপাত্র জানান, ছাঁটাই কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ কর্মী চাকরি হারাবেন। নিউজরুমের ‘শত শত’ কর্মী চাকরি হারাবেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন-বাল্টিমোর গিল্ড ইউনিয়ন। পোস্টের কর্মীরা ওই ইউনিয়নের সদস্য। দুইজন অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কোম্পানি প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এতে ব্যবসায়িক বিভাগ এবং প্রায় ৮০০ সাংবাদিকের মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি বাদ পড়েছে। অনলাইনে একটি লাভজনক সংবাদপত্র গড়ে তোলার এবং চালানোর পথ খুঁজে পাননি বলেই এই ছাঁটাই করেছেন বেজোস। তার মালিকানার প্রথম আট বছরে পত্রিকাটি সম্প্রসারিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংস্থা বেশ হোঁচট খেয়েছে। নতুন এই ছাঁটাইয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে গণমাধ্যমটির কয়েকটি বিট ও কার্যক্রম। সংকুচিত হবে বেশ কিছু সেক্টরও। ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে বলেন, ‘পুরোনো আমলে স্থানীয় পত্রিকাগুলো যেমন একচেটিয়া ব্যবসা করতো, সেরকম একটি ব্যবসায়িক কাঠামো আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে এসেছি। আমাদেরকে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ খুঁজে পেতে হবে এবং আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে হবে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, তারা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা দাবি করে, ব্যবসায়িক কারণেই এসব সিদ্ধান্ত। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, দ্য পোস্টের ক্রীড়া বিভাগ বন্ধ করা হবে, যদিও কিছু রিপোর্টার থাকবেন এবং ফিচার বিভাগে চলে এসে ক্রীড়ার সংস্কৃতি কভার করবেন। মেট্রো বিভাগ সংকুচিত হবে, এবং বই বিভাগ বন্ধ হবে, তদুপরি দৈনিক নিউজ পডকাস্ট বন্ধ হবে। ম্যাট মারে জানান, আন্তর্জাতিক কভারেজও কমে যাবে, তবে সাংবাদিকরা প্রায় একটি ডজন লোকেশনে থাকবেন। মধ্যপ্রাচ্য, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদক এবং সম্পাদক ছাঁটাই করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে মারে এই ছাঁটাইয়ের দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, এটি তার এবং তার টিমের পরিকল্পনার অংশ। ২০১৩ সালে পত্রিকাটি কিনে নেওয়ার সময় বেজোস কথা দিয়েছিলেন তিনি এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না। ২০২৩ সালে পত্রিকাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলার। বেজোস ২০২৩ সালের শেষদিকে উইল লুইসকে প্রকাশক হিসেবে নিয়োগ দেন দ্য পোস্টকে লাভজনক করার জন্য। কারণ পত্রিকা দর্শক ও সাবস্ক্রিপশন কমে যাচ্ছিল। লুইস বিভিন্ন পরিবর্তন পরীক্ষা করেছেন, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মন্তব্য, পডকাস্ট এবং নিউজ অ্যাগ্রিগেশন চালু করার ক্ষেত্রে। এরপরই আসে এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা।

মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি রমজানের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা কতটুকু

মধ্যপ্রাচ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি রমজানের চাঁদ দেখার সম্ভাবনা কতটুকু পবিত্র রমজান মাসের অপেক্ষা প্রায় শেষের পথে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে হবে শাবান মাসের ২৯তম দিন। সেদিন রমজানের অর্ধচন্দ্রের অনুসন্ধান করা হবে। ওইদিন কি চাঁদ দেখা যাবে? সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর জ্যোতির্বিদ্যা, মহাকাশ ও বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, তারা সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করে দেখেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা ‘অসম্ভব’। যে দলটি বিশ্লেষণ করেছে তারা বলেছে, ওইদিন আমিরাতের স্থানীয় সময় ৪টা ১ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। সেদিন সূর্যাস্তের সময় নতুন চাঁদের বয়স হবে ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিট। সূর্যাস্তের ঠিক আগ মূহুর্তে ওই চাঁদ অস্ত যাবে। যার অর্থ চাঁদ ও সূর্য একই সঙ্গে অস্ত যাবে। ফলে ওইদিন সন্ধ্যার পর রমজানের চাঁদ দেখা অসম্ভব। জ্যোতির্বিদ্যা, মহাকাশ ও বিজ্ঞান অ্যাকাডেমি আরও বলেছে, শুধুমাত্র খালি চোখে নয়; উন্নত প্রযুক্তির টেলিস্কোপেও চাঁদ দেখা যাবে না। এছাড়া শুধু যে আমিরাত বা শারজাহতে চাঁদের দেখা মিলবে না, এমনটি নয়। ইসলামিক বিশ্বের কোনো দেশেই রমজানের চাঁদ দেখা যাবে না। কিন্তু পরেরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে খালি চোখেই দেখা যাবে নতুন অর্ধচন্দ্র। ওইদিন চাঁদটির বয়স ২৬ ঘণ্টা পেরিয়ে যাবে এবং চাঁদ দিগন্ত থেকে প্রায় ১২ ডিগ্রি ও ২১ আর্ক-মিনিট উচ্চতায় থাকবে। ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কোনো যন্ত্র ছাড়াই মহিমান্বিত মাসের চাঁদ দেখতে পারবেন মুসল্লিরা। ফলে ওই অঞ্চলে প্রথম রোজা হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। অ্যাকাডেমিটি বলেছে, যেসব দেশ খালি চোখের বদলে জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী রমজান শুরুর ঘোষণা দেয়, সেসব দেশে প্রথম রোজা হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি। সূত্র: খালিজ টাইমস

এপস্টেইন অধ্যায় ভুলে সামনে এগোনো উচিত  ট্রাম্প

এপস্টেইন অধ্যায় ভুলে সামনে এগোনো উচিত  ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশের মানুষের এখন জেফরি এপস্টেইন ইস্যুটি ভুলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, এপস্টেইন এবং অন্যরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির। গত মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি এখন দেশের অন্য কিছুতে মনোযোগ দেওয়ার সময়। কারণ আমার বিরুদ্ধে কিছুই বেরিয়ে আসেনি বরং এটি ছিল আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র, যা আক্ষরিক অর্থেই এপস্টেইন এবং অন্যান্যরা মিলে করেছিলেন। তিনি আরো যোগ করেন, “মাইকেল উলফ নামের একজন সাংবাদিক এবং এপস্টেইন মিলে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এটি গতকালই সামনে এসেছে… তারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন যাতে নির্বাচনে আমার হার নিশ্চিত করা যায়। আমার সম্পর্কে কেবল এই বিষয়টিই সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এপস্টেইন ফাইলে উল্লেখিত অন্যান্য নাম, যেমন মার্কিন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প উত্তর দেন, “আমি নিশ্চিত তারা ঠিক আছেন। অন্যথায় এটি বড় সংবাদের শিরোনাম হতো।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে যে, তারা এপস্টেইনের যৌন-অপরাধ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কয়েক লাখ নথির পর্যালোচনা শেষ করেছে। ডেপুটি ইউএস অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, এই নথিগুলো নতুন করে কোনো মামলা করার জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “সেখানে প্রচুর চিঠিপত্র রয়েছে কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা কাউকে অভিযুক্ত করতে পারবো। তা সত্ত্বেও, মার্কিন কংগ্রেস তাদের নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আইন প্রণেতারা অবমাননার কার্যধারা শুরু করার হুমকি দেওয়ার পর, প্রতিনিধি পরিষদ এই মাসের শেষের দিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সাক্ষ্য গ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশ করা এপস্টেইন ফাইলগুলোতে ট্রাম্পের নাম ৬ হাজার বারের বেশি এসেছে, যার বেশিরভাগই এপস্টেইন ও তার সহযোগীদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে। নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ও এপস্টেইনকে একসঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকেই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। এপস্টেইনের যৌন অপরাধের শিকার কিছু ভুক্তভোগী বিচার বিভাগের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন ভুক্তভোগী বিবিসিকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং তাদের মনে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে ‘কোনো ধরনের খেলা খেলছে’। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, সব প্রাসঙ্গিক নথি জনসমক্ষে আনা হয়েছে কি না। সিনেটের মাইনরিটি লিডার চাক শুমার প্রশ্ন করেছেন, “যেসব নথিতে ‘ট্রাম্প’ শব্দটি উল্লেখ আছে তার সবকটি কি প্রকাশ করা হয়েছে? যদিও ট্রাম্পের কিছু সমর্থক বিষয়টি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে, তবে বিবিসি উল্লেখ করেছে, সম্পাদিত নয় এমন মূল নথিপত্রের দাবি এবং ভবিষ্যতে নতুন সমন জারির সম্ভাবনার কারণে এপস্টেইন মামলাটি মার্কিন রাজনীতি থেকে এত দ্রুত মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

ফেসবুক ও জিমেইলের ১৪৯ মিলিয়নের বেশি তথ্য ফাঁস

ফেসবুক ও জিমেইলের ১৪৯ মিলিয়নের বেশি তথ্য ফাঁস বিশ্বজুড়ে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুক ও জিমেইলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় অনলাইন সেবার ১৪৯ মিলিয়নের বেশি লগইন তথ্য একটি উন্মুক্ত অনলাইন ডাটাবেজে পাওয়া গেছে। এতে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে এটি গুগল বা মেটার সার্ভারে সরাসরি কোনো বড় হ্যাক নয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ঢুকে পড়া ‘ইনফোস্টিলার’ ধরনের ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যেভাবে ফাঁস হয় তথ্য সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জেরেমায়া ফাওলার একটি প্রায় ৯৬ গিগাবাইট আকারের ডাটাবেজ শনাক্ত করেন, যা কোনো পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ছাড়াই উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যে কেউ এই ডাটাবেজে প্রবেশ করতে পারত। ডাটাবেজটিতে ইমেইল ঠিকানা, ইউজারনেম, সরাসরি পাসওয়ার্ড এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের লগইন লিংক সংরক্ষিত ছিল—যা সাইবার অপরাধীদের জন্য কার্যত প্রস্তুত তালিকার মতো। কোন কোন সেবার তথ্য বেশি গবেষণায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি তথ্য ছিল ইমেইল অ্যাকাউন্টের। আনুমানিক হিসাবে, জিমেইল: ৪৮ মিলিয়ন, ফেসবুক: ১৭ মিলিয়ন, ইনস্টাগ্রাম: ৬.৫ মিলিয়ন, ইয়াহু মেইল: ৪ মিলিয়ন, নেটফ্লিক্স: ৩.৪ মিলিয়ন, আউটলুক: ১.৫ মিলিয়ন, আইক্লাউড মেইল: ৯ লাখ ও টিকটক: ৭.৮ লাখ। কেন ইমেইল অ্যাকাউন্ট সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ইমেইল অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলে হ্যাকাররা সহজেই অন্যান্য অ্যাকাউন্টও দখল করতে পারে। কারণ ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা স্বাস্থ্যসেবার মতো অধিকাংশ সেবার পাসওয়ার্ড রিসেট লিংক ইমেইলে পাঠানো হয়। ফলে ব্যক্তিগত নথি, বিল, ভ্রমণের তথ্যসহ সংবেদনশীল ডেটা ঝুঁকিতে পড়ে। কীভাবে ছড়ায় ম্যালওয়্যার এই তথ্য একদিনে চুরি হয়নি। ভুয়া সফটওয়্যার আপডেট, সন্দেহজনক ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট, ক্ষতিকর ব্রাউজার এক্সটেনশন কিংবা বিভ্রান্তিকর অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ডিভাইসে ঢুকে পড়ে। ব্যবহারকারী যখন পাসওয়ার্ড টাইপ করেন বা ব্রাউজারে সেভ করেন, তখনই তা চুরি হয়ে যায়। গবেষক ডাটাবেজটির বিষয়ে হোস্টিং কোম্পানিকে জানালেও প্রায় এক মাস এটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির সার্ভার তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত হলেও ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইস দুর্বল হলে ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই ব্যক্তিগত সাইবার সচেতনতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বেলুচিস্তানে তিন দিনের অভিযানে ২১৯ জন নিহত

বেলুচিস্তানে তিন দিনের অভিযানে ২১৯ জন নিহত পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন দিনের অভিযানে ভারত সমর্থিত বলে অভিযুক্ত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সঙ্গে যুক্ত ১৯৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। অভিযানের সময় প্রাণ হারিয়েছেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২২ সদস্য। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৯ জনে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জিও নিউজ জানায়, সম্প্রতি প্রদেশজুড়ে সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার পর এই অভিযান শুরু করা হয়। বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি শহরে একযোগে হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দেশ রক্ষা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে গত তিন দিনে ২২ জন সেনা শহীদ হন। এর আগে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) প্রদেশটির বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এসব হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিএলএ তাদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তানে কাজ করতে আসা অন্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানির স্থাপনাগুলো তাদের হামলার প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এর আগেও বড় ধরনের সহিংসতার নজির রয়েছে। গত বছর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রায় ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যা টানা দুই দিনের রক্তক্ষয়ী অবরোধে পরিণত হয়।

মিয়ানমারে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প

মিয়ানমারে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প মিয়ানমারে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার রাতে এই ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)। জিএফজেড জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে রেকর্ড করা হয়েছিল, যার ফলে বিস্তৃত অঞ্চলে কম্পনগুলো আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভূতাত্ত্বিক তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মধ্য মিয়ানমারের ইয়েনাংইয়াং থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মিয়ানমারে ভূমিকম্পের পর কলকাতা এবং পূর্ব ভারতের কিছু অংশে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা। শহরের বাসিন্দারা রাত ৯টা ৫ মিনিটে প্রায় ১০-১৫ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার ফলে অনেকেই তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। কলকাতায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। মিয়ানমার ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দেশটিতে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

গ্রিস কোস্টগার্ডের নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত

গ্রিস কোস্টগার্ডের নৌকার সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত সমুদ্রপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে গ্রিস কোস্টগার্ডের একটি টহল বোটের সঙ্গে অভিবাসীবোঝাই একটি নৌকার ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন। খবর বিবিসির। গ্রিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পূর্ব এজিয়ান সাগরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিবাসীদের বহনকারী নৌকাটি অত্যন্ত ছোট এবং অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছিল। গ্রিস কোস্টগার্ডের একটি দ্রুতগামী টহল বোটের সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হলে অভিবাসীদের নৌকাটি মুহূর্তের মধ্যেই ডুবে যায়। কোস্টগার্ড নৌকাটিকে তাড়া করছিল। দুর্ঘটনার পরপরই গ্রিস কোস্টগার্ড বড় আকারের উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকর্মীরা সমুদ্র থেকে এ পর্যন্ত ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইআরটি জানায়, যাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত। আহতদের মধ্যে সাতজন শিশু, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং কোস্টগার্ডের দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে সেখানে একটি বড় ধরনের তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চলছে। এই অভিযানে কোস্টগার্ডের চারটি জাহাজ, বেসামরিক ডুবুরি বহনকারী একটি ব্যক্তিগত নৌকা এবং একটি হেলিকপ্টার অংশ নিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কীভাবে এই সংঘর্ষটি ঘটল, তা কোস্টগার্ড এখনও স্পষ্ট করেনি।

শবে বরাতের রাতে ইসরায়েলি হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত

শবে বরাতের রাতে ইসরায়েলি হামলায় ১০ ফিলিস্তিনি নিহত মুসলিমদের পবিত্র শবে বরাতের রাতে গাজা উপত্যকায় রাতভর চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুকন্যাও রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক অভিযানের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক তরুণ ফিলিস্তিনি নিহত হন। গাজার দক্ষিণ সীমান্তে রাফাহ ক্রসিং আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার দ্বিতীয় দিনে ইসরায়েল মাত্র ১৬ জন ফিলিস্তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের গাজা ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে। এতে চিকিৎসা সহায়তার জন্য গাজা ছাড়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৮০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৫ জন আহত হয়েছেন।

এপস্টিন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন ক্লিনটন দম্পতি

এপস্টিন তদন্তে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন ক্লিনটন দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। মার্কিন কংগ্রেসকে অবমাননার অভিযোগে ক্লিনটন দম্পতিকে অভিযুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটির কয়েক দিন আগে এ ঘোষণা এল। কংগ্রেসের হাউজ নজরদারি কমিটির তলব সত্ত্বেও এর আগে ক্লিনটন দম্পতি সাড়া দেননি। এ নিয়ে কয়েকমাস ধরে অচলাবস্থা চলার পর অবশেষ কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হলেন তারা। বিল ক্লিনটন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যাওয়া এপস্টিনের সাথে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তিনি এপস্টিনের যৌন অপরাধের বিষয়ে জ্ঞাত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি দুই দশক আগে এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিলেন। সাক্ষ্য গ্রহণ কখন অনুষ্ঠিত হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর এটিই হবে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের প্যানেলে সাক্ষ্য প্রদান। সোমবার রাতে বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, ক্লিনটন দম্পতি প্যানেলের সামনে উপস্থিত হবেন।  

আইন লঙ্ঘন করায় সাড়ে ৩ হাজার প্রবাসী ফেরত পাঠিয়েছে কুয়েত

আইন লঙ্ঘন করায় সাড়ে ৩ হাজার প্রবাসী ফেরত পাঠিয়েছে কুয়েত আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৩ হাজার প্রবাসীকে গ্রেপ্তারের পর নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করেছে কুয়েত। গত মাসে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তারের পর ওই অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন করা হয় বলে সরকার জানিয়েছে। আজ কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারিতে কুয়েতের সব গভর্নরেটে অভিযান পরিচালনা করেছে কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে দেশের সব গভর্নরেটে সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ওই প্রবাসীদের গ্রেফতার ও বহিষ্কার করা হয়।