ইরানের নতুন শীর্ষনেতা নির্বাচিত

ইরানের নতুন শীর্ষনেতা নির্বাচিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী বিশেষজ্ঞ পরিষদ জানিয়েছে, নতুন নেতা নির্বাচনের ভোট সম্পন্ন হয়েছে, তবে নির্বাচিত ব্যক্তির নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পরিষদের সদস্য আহমেদ আল আমলহোদা বলেন, নেতা নিয়োগের ভোট হয়েছে এবং নেতা নির্বাচিত হয়েছে। শিগগিরই নাম ঘোষণা করা হবে।কিছু সদস্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি এই পদে আসতে পারেন। মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনা করা হচ্ছিল। তার বাবা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।ইরানে সর্বোচ্চ নেতা পদটি দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শেষ কথা বলেন তিনি। আরেক সদস্য মোহসেন হায়দেরি বলেন, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী নির্ধারিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বলেন, বড় শয়তানও (যুক্তরাষ্ট্র) নির্বাচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা থাকা উচিত এবং তিনি মোজতবা খামেনিকে দুর্বল প্রার্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ইরানের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই এবং থাকবে না। এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী পার্সিয়ান ভাষায় এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদেরও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। সূত্র: এএফপি
জ্বলছে তেলের ডিপো, তেহরানের রাস্তায় আগুনের নদী

জ্বলছে তেলের ডিপো, তেহরানের রাস্তায় আগুনের নদী ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানী তেহরানজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে মিশে গেছে। এর ফলে ইরানের রাজধানীর সব রাস্তা যেন ‘‘আগুনের নদীতে’’ পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানী শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত রাস্তার পাশের সব ড্রেন বর্তমানে দাউ দাউ করে জ্বলছে। ইরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরানের’ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের একটি রাস্তার পাশে আগুন জ্বলছে। পুরো রাস্তার পাশ ঘেঁষে আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে। এর আগে, ইরানের তেল মন্ত্রণালয় তেহরানের পশ্চিমের আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকায় জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। • সংঘাত আরও তীব্র হবে, ঘোষণা ইসরায়েলের ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তেজনার মুখোমুখি হবো। ইসরায়েলের রেডিও ১০৩ ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ক্ষতি করতে সাহায্য করবে; এমন সব লক্ষ্যবস্তুই আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। যুদ্ধের পরিকল্পিত সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা জানি, যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছি তা অর্জনের জন্য আমাদের কতটুকু সময় প্রয়োজন। যুদ্ধের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না যে, আরও এক বা দুই বছর পর আমাদের নতুন কোনও ধাপে যেতে হয়। • ইসরায়েলে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৭ জন। মন্ত্রণালয় বলেছে, হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জনের অবস্থা মাঝারি এবং ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ইসরায়েলিদের বড় অংশ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।
ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করলো চীন

ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করলো চীন চীন বলেছে, চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্যে ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা জনগণের সমর্থন পাবে না। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রোববার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা কোনো সমর্থন পাবে না। এই বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে। ওয়াং ই বলেন, চীনের প্রধান অবস্থান হলো ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত, সংঘাত বাড়লে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওয়াং বলেন, এই যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না, এবং এটি কারও জন্যই ভালো নয়। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষেরাই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক, তাই বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোরই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান হলেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এই তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে যে তিনি ইরানের নেতৃত্ব সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব বসাতে পারবেন। চীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাও নিন্দা করেছে। একইসঙ্গে ওয়াং বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক দৃঢ় ও অটুট থাকবে।
হামলা না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর আক্রমণ করবে না ইরান

হামলা না হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর আক্রমণ করবে না ইরান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশটির অন্তর্বর্তী পরিষদ গতকাল শুক্রবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর হামলা না হলে সেসব দেশে আর কোনো আক্রমণ চালানো হবে না। আজ শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ কথা জানান। পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিবেশী আরব দেশগুলো থেকে হামলা না হলে, সেখানে আর পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান। তিনি বলেন, ‘যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, ‘গতকাল (৬ মার্চ) অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং সেসব দেশ থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ না হলে কোনো ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হবে না। পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না। তার ভাষায়, ‘ইরানি জনগণের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন যারা দেখছে, তাদের সেই ইচ্ছা কবরেই নিয়ে যেতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর থেকে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
সৌদি-কুয়েত সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে

সৌদি-কুয়েত সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে কুয়েত ও সৌদি আরবের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আলী আবদুল্লাহ আল-সালেম আল-সবাহ সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে এই টেলিফোন সংলাপে অংশ নেন। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশ দুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করেন। এই সংলাপকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত বন্ধন সুসংহত করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা।
‘অপেক্ষায়’ ইরানের বিপ্লবী গার্ডস হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর

‘অপেক্ষায়’ ইরানের বিপ্লবী গার্ডস হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পাহারায় থাকা ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘অপেক্ষা’ করছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি’র মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি। শনিবার (৭ মার্চ) তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ‘আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী নাইনি বলেন, ‘আমরা মার্কিনিদের পরামর্শ দিচ্ছি, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা যেন ১৯৮৭ সালে মার্কিন সুপারট্যাঙ্কার ‘ব্রিজেটন’-এ লাগা আগুনের কথা এবং সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্যবস্তু হওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর কথা মনে রাখে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ঘোষণা করেছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
মার্কিন সেনারা ইরানের দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে কাঠগড়ায়

মার্কিন সেনারা ইরানের দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে কাঠগড়ায় গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুই করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ১৮০শিশুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে মার্কিন সেনারা। অবশেষে এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ওয়াশিংটন। দুই আমেরিকান কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে, ইরানের মিনাবের শাজরা তাইয়িবা বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল। যদিও তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বা তাদের তদন্ত শেষ করেননি বলে জানিয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মিনাবের স্কুলটিতে হামলায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জানায়, এতে ১৮০ জন নিহত হয়েছে, প্রায় সবাই শিশু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। ইসরাইল বলেছে, তারা ওই এলাকায় কোনো অভিযানের কথা জানে না। আর যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ঘটনাটি এখনো তদন্ত করা হচ্ছে এবং তারা কখনো বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে আমেরিকার দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। অবশ্য তারা নতুন প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি, যা যুক্তরাষ্ট্রকে দায়মুক্ত করে এবং এই ঘটনার জন্য অন্য কোনো পক্ষের দিকে ইঙ্গিত দিতে পারে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের স্কুলটির পাশে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বা আইআরজিসির ঘাঁটি ছিল। সেই জায়গাজুড়ে কাছাকাছি সময়ে একাধিক হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি ভেরিফাই। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ারের ইন্সটাগ্রামের একটি পোস্ট থেকে দেখা যায়, আমেরিকা-ইসরাইলের যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টার মানচিত্রে ইরানের দক্ষিণে হামলার স্থান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে যার মধ্যে মিনাবও ছিল।
চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান

চূড়ান্ত হলেও নতুন নেতা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে ইরান আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ নেতার নাম নিয়ে খবর প্রচার হয়েছে। ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের এক সদস্যও বলেছিলেন, দ্রুতই নাম ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সাতদিনেও তা না হওয়ায় গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটছে। আলজাজিরাকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহযোগী অধ্যাপক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভবত পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন হয়ে গেছে। কিন্তু নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে তা এখনো ঘোষণা করা হচ্ছে না। জোহরেহ খারাজমি নামের ওই অধ্যাপক আলজাজিরাকে বলেছেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস -এর আট সদস্য নেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন- এমন খবর গুজব। পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা খুবই যৌক্তিক। সম্ভবত এই নিরাপত্তা প্রটোকলের কারণেই নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না। অধ্যাপক খারাজমি আরও বলেন, গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু বাস্তবে কুর্দিরা ইরানের পক্ষেই আছে। বৃহস্পতিবার ইরানি বাহিনী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অভিযান চালিয়েছে। অধ্যাপক খারাজমি বলছেন, এসব খবর মূলত রাজনৈতিক প্রচারণা। ‘আমার মনে হয় এটা রাজনৈতিক প্রচারণা। ইরানিরা তাদের (কুর্দি) দমন করবে এমনটা আমি মনে করি না।’-বলেন অধ্যাপক খারাজমি।
বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই

বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই বিশ্ববাজারে তেলের কোনো ঘাটতি নেই ও সংকটের আশঙ্কা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি। সাংবাদিকদের বিরোল বলেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ‘লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন’ অনেক দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে পর্যাপ্ত ও বিশাল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তেল রয়েছে তেল রয়েছে। জরুরি মজুত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি আইইএ বিবেচনা করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে বিরোল বলেন, সব ধরনের বিকল্পই টেবিলে রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে কোনো সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। বিরোল আরও বলেন, আমরা মূলত সাময়িক একটি বিঘ্নের মুখে পড়েছি, এটি একটি লজিস্টিক্যাল বিঘ্ন। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ও এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আবারও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ না করলেও, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা ‘পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক জেনারেল। আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে বুধবার (৩ মার্চ) দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল সরদার জব্বারি বলেন, আমরা তেলের পাইপলাইনেও হামলা চালাবো ও এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবো না। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। এই হুমকির পরে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস পরিবহন হওয়া এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এরপরও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে। সংঘাত শুরু হওয়ার আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের পর বড় ধরনের জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের সময় আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে আইইএ গঠন করা হয়েছিল। সূত্র: এএফপি
জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে

জুমার নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরায়েল আল আকসা মসজিদে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পবিত্র আল আকসা মসজিদে রমজানের তৃতীয় জুম্মার নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভিডিওবার্তায় এ সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ)। একইসঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে পবিত্র নগরী জেরুজালেমের সকল ধর্মীয় স্থাপনা। জানা গেছে, চলতি রমজানে প্রথমবারের মতো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত দুই জুম্মায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনির অংশগ্রহণে নামাজ অনুষ্ঠিত হয় আল আকসা প্রাঙ্গণে। প্রসঙ্গত, এবারের রমজান মাসে পশ্চিম তীর থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফিলিস্তিনিকে আল আকসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছিল ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, জেরুজালেমে অবস্থিত আল আকসা মসজিদ মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান। ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধের পর জেরুজালেম দখল করে নেয় ইসরায়েল।