বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত অন্তত ৫ হাজার, স্বীকার করলো ইরান

বিক্ষোভ-সহিংসতায় নিহত অন্তত ৫ হাজার, স্বীকার করলো ইরান ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রথমবারের মতো দেশটির সরকার স্বীকার করেছে। রোববার দেশটির আঞ্চলিক এক সরকারি কর্মকর্তা বিক্ষোভ সহিংসতায় হতাহতের শিকার লোকজনের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে কর্তৃপক্ষ এমন পরিসংখ্যান পেয়েছে বলে জানিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, দেশে চলমান বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য কর্তৃপক্ষ যাচাই করেছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৫০০ সদস্য রয়েছেন। তিনি এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজদের দায়ী করে বলেছেন, তারা ‘‘নিরীহ ইরানিদের’’ হত্যা করেছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাত ও সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ওই অঞ্চলে কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় রয়েছেন এবং দেশটির অতীতের অস্থিতিশীলতার সময়ও সেখানে ভয়াবহ সহিংসতার রেকর্ড রয়েছে। দেশটির সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেছেন, বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রাণহানির চূড়ান্ত সংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফনের সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও বিদেশে থাকা সশস্ত্র বিভিন্ন গোষ্ঠী রাস্তায় নামা লোকজনকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির জন্য বিদেশি শত্রুদের দায়ী করে থাকে। এর মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কট্টর বিরোধী প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলও রয়েছে। গত বছরের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও সাম্প্রতিক বিক্ষোভ-সহিংসতায় উসকানি ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এদিকে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলেছে, ইরান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটির নজিরবিহীন এই সংঘাতে আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানি কর্তৃপক্ষ ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি কুর্দিপন্থীদের মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও বলেছে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা সবচেয়ে সহিংস আকারে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর-পশ্চিমের কুর্দি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায়। অন্যদিকে, রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানি চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ বছরের কম এবং তরুণ। এছাড়া বিক্ষোভে আহত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। বেশিরভাগই মানুষ নিহত হয়েছেন দু’দিনের ব্যবধানে। ইরানি-জার্মান চক্ষু চিকিৎসক প্রফেসর আমির পারাস্তা সানডে টাইমসকে বলেছেন, এটি অন্য মাত্রার নৃশংসতা। এবার তারা মিলিটারি গ্রেডের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আমরা মাথা, গলা, বুকে গুলি এবং শার্পনেলের আঘাত দেখতে পেয়েছি। সানডে টাইমস বলছে, ইরানের বড় আটটি চক্ষু হাসপাতাল এবং ১৬টি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে হতাহতের ওই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে। চিকিৎসকরা সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও নিষিদ্ধ স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করে যোগাযোগ করতে সমর্থ হয়েছেন বলে দাবি করেছে সানডে টাইমস। আহতদের অনেকে চোখে আঘাত পেয়েছেন বলেও এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ওপর শটগান থেকে গুলিবর্ষণ করেছেন। গুলিতে প্রায় ৭০০ জন অন্ধ হয়ে গেছেন। গত মাসের শেষ দিকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং গত ৭ ও ৮ জানুয়ারি তা সহিংস আকার ধারণ করে। ওই সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের শঙ্কাও তৈরি হয়। তবে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যাওয়ায় বর্তমানে বিক্ষোভ প্রায় স্থিমিত হয়ে পড়েছে। সূত্র: রয়টার্স, সানডে টাইমস।
মোদির সভা শুরুর আগেই ডিম-ভাত খেলেন বিজেপি কর্মীরা

মোদির সভা শুরুর আগেই ডিম-ভাত খেলেন বিজেপি কর্মীরা ভারতের হুগলির সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেগা জনসভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের বিজেপি কর্মীরা দলবেঁধে ডিম-ভাত খেয়ে সভার প্রস্তুতি সারেন। সারাদিন সভার ব্যস্ততায় খাওয়ার সময় পাওয়া যাবে না এই আশঙ্কায় সকাল সকাল পেট ভরে আহার সেরে নেন তারা। আনন্দবাজার অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি কর্মীদের এই ‘ডিম-ভাত’ ভোজ মূলত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেডের সেই আলোচিত ‘ডিম্ভাত’ স্মৃতিকেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।রোববার সকালে হুগলির গ্রামাঞ্চলে শীতের আমেজ থাকলেও মোদির সভাকে কেন্দ্র করে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ছিল বনভোজনের মেজাজ। ইটের অস্থায়ী উনুন বানিয়ে বড় কড়াইয়ে চলছে রান্না। মেনু হিসেবে প্রায় সর্বত্রই ছিল গরম ভাত আর ডিমের ঝোল, কোথাও আবার বাড়তি পদ হিসেবে ছিল সয়াবিনের তরকারি। বিজেপি কর্মীদের দাবি, কম সময়ে এবং স্বল্প খরচে ডিম-ভাতের চেয়ে পুষ্টিকর ও দ্রুত তৈরি করা যায় এমন খাবার আর নেই। তাই দীর্ঘক্ষণ সভায় থাকার শক্তি জোগাতে তারা এই পদকেই বেছে নিয়েছেন। বাংলার রাজনীতিতে বড় সভার আগে সমর্থকদের ডিম-ভাত খাওয়ানোর সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের এবং এটি কোনো বিশেষ দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০১৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ব্রিগেডে বিরোধী জোটের সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন, তখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে কর্মীদের জন্য ডিম-ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সময় দেওয়াল লিখনে বানান ভুলের কারণে ‘ডিম্ভাত’ শব্দটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছিল। এমনকি বামপন্থীদের সভাতেও কর্মীদের ডিম-ভাত খেতে দেখা গেছে। মোদির সভার আগে বিজেপির এই আয়োজন প্রমাণ করল যে রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও জনসভার ঝক্কি সামলাতে সব পক্ষই শেষ পর্যন্ত সস্তা ও সুষম আহার হিসেবে ডিম-ভাতের ওপরই ভরসা রাখে। সিঙ্গুরের ‘টাটার মাঠে’ আয়োজিত এই সভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই বাসে করে রওনা দেন কর্মীরা। মূলত তৃণমূলের দুর্নীতি এবং সিঙ্গুরের হারানো শিল্প ফিরিয়ে আনার দাবিকে সামনে রেখেই এই ‘পরিবর্তন সংকল্প জনসভা’র আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই কর্মীদের মধ্যে চনমনে ভাব বজায় রাখতে দলীয় স্তরে এই খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। রাজনীতির মাঠে ‘ডিম্ভাত’ নিয়ে যতই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ হোক না কেন, বাস্তব চিত্র হলো কঠোর পরিশ্রমী কর্মী-সমর্থকদের কাছে চার দেয়ালের রাজনীতির চেয়েও পাতের এই সহজলভ্য আহারটি অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক ও কার্যকর। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
করাচিতে শপিং মলে আগুন, নিহত ৬

করাচিতে শপিং মলে আগুন, নিহত ৬ পাকিস্তানের করাচির একটি শপিং মলে আগুনে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। শনিবার রাতে গুল প্লাজা নামে ওই শপিং মলে আগুন লাগে বলে জানায় স্থানীয় কর্মকর্তারা। রোববার সকাল পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধার অভিযান চলছে। খবর আল-জাজিরার । করাচির সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সাবির মেমন জানান, তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। করাচির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সৈয়দ আসাদ রেজা বলেন, এ ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫ হয়েছে। পরে ইধি ফাউন্ডেশন ছয়জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহত ব্যক্তিদের এ সংখ্যা নিশ্চিত করে উদ্ধারকাজের মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খান জানান, আহত হয়েছেন ২০ জন। তিনি বলেন, সকাল পর্যন্ত আগুন প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ওই শপিং মলে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকান রয়েছে। কাপড়, তৈজসপত্র, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ নানা পণ্য কেনাবেচা হয় সেখানে। এসব পণ্যের কারণে আগুনের তীব্রতা বেড়েছে।
গাজায় পাকিস্তানকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প

গাজায় পাকিস্তানকে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য ঘোষিত বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে পাকিস্তানকে আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে আমন্ত্রণ জানানোর খবরটি নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকবে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বলেছেন, ‘জাতিসংঘের প্রস্তাবনার আলোকে ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় পাকিস্তান সম্পৃক্ত থাকবে। ট্রাম্পের এই শান্তি পরিষদের ঘোষণা ভালোভাবে নেয়নি ইসরাইল। দখলদার দেশটির হাতে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে চলমান গণহত্যা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই পরিষদ। রোববার এই বিষয়ে বিরোধীতা করে শাসক জোটের অংশীদারদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।এএফপি জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় গাজা বিষয়ক নির্বাহী বোর্ডের গঠন নিয়ে আপত্তি তোলে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বোর্ড অব পিসের অধীন গঠিত গাজা নির্বাহী বোর্ডের গঠন সংক্রান্ত ঘোষণা ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় না করেই দেওয়া হয়েছে। এটি ইসরায়েলের নীতির পরিপন্থী।তবে আপত্তির সুনির্দিষ্ট কারণ বিবৃতিতে ব্যাখ্যা করা হয়নি। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘শান্তি পরিষদ ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের, বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এই পরিষদের সদস্যদের নাম ‘শিগগির’ ঘোষণা করা হবে।
মাদুরোকে অপহরণের আগে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন আলাপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

মাদুরোকে অপহরণের আগে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গোপন আলাপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের জন্য মার্কিন অভিযানের কয়েক মাস আগে ভেনেজুয়েলার কট্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলোর সাথে আলোচনা করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তখন থেকেই তার সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে শনিবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। চারটি সূত্র জানিয়েছে, কর্মকর্তারা ৬২ বছর বয়সী ক্যাবেলোকে দেশের বিরোধী দলকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তার তত্ত্বাবধানে থাকা নিরাপত্তা পরিষেবা বা শাসকদলের সমর্থকদের ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। ৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানের পরেও গোয়েন্দা পরিষেবা, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি মূলত অক্ষত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মাদুরোকে গ্রেপ্তারের জন্য যে মার্কিন মাদক পাচারের অভিযোগ এনেছিল, সেই একই অভিযোগে ক্যাবেলোর নাম রয়েছে। কিন্তু অভিযানের অংশ হিসেবে তার নাম নেওয়া হয়নি। ক্যাবেলোর সাথে যোগাযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক দিনগুলো থেকে শুরু হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঠিক আগের সপ্তাহগুলোতেও তা অব্যাহত ছিল বলে আলোচনার সাথে পরিচিত দুটি সূত্র জানিয়েছে। মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রশাসন ক্যাবেলোর সাথেও যোগাযোগ রেখেছে বলে চারজন জানিয়েছেন। এমন যোগাযোগগুলো ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাবেলো যদি তার নিয়ন্ত্রণে থাকা শক্তিগুলোকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটি ট্রাম্প যে ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে চান তা বাড়িয়ে তুলতে পারে। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ক্ষমতার উপর দখলকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে মার্কিন উদ্বেগ সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্র জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ক্যাবেলোর আলোচনা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। ক্যাবেলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা মেনে নিয়েছেন কিনা তাও স্পষ্ট নয়। তিনি প্রকাশ্যে রদ্রিগেজের সাথে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাকে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রশংসা করেছেন। যদিও রদ্রিগেজকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলার কৌশলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেখেছে, তবুও ক্যাবেলোর ব্যাপারে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে তিনি এই পরিকল্পনাগুলোকে ট্র্যাকে রাখতে বা সেগুলিকে প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাখেন। কথোপকথনের সাথে পরিচিত একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার মন্ত্রী সরাসরি এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। হোয়াইট হাউস এবং ভেনেজুয়েলার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সকে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সামরিক নেতা ডুম্বুয়া

গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন সামরিক নেতা ডুম্বুয়া পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ২০২১ সালে দেশটির সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী জেনারেল মামাদি ডুম্বুয়া। খবর আল-জাজিরার। গত মাসের নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষিত হওয়ার পর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) হাজার হাজার সমর্থক এবং বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে এই শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। চার বছর আগে প্রেসিডেন্ট আলফা কন্ডেকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ডুম্বুয়ার অধীনে এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। ক্ষমতা দখলের পর শুরুতে নির্বাচনে না দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, শেষ পর্যন্ত ডুম্বুয়া আটজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে তার প্রধান বিরোধীরা নির্বাসিত থাকায় বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছিল। পরবর্তীতে গিনির সুপ্রিম কোর্ট জানায় যে, ডুম্বুয়া ৮৬.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। রাজধানী কোনাক্রির উপকণ্ঠে জেনারেল ল্যানসানা কন্টে স্টেডিয়ামে কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে প্রথাগত পোশাক পরিহিত ডুম্বুয়া সংবিধান রক্ষার শপথ নেন। উল্লেখ্য, তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে সম্প্রতি দেশটির সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়। শপথ বাক্য পাঠকালে তিনি বলেন, “আমি ঈশ্বর এবং গিনির জনগণের সামনে আমার সম্মানের শপথ নিচ্ছি যে, আমি সংবিধান, আইন, বিধিবিধান এবং বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে সম্মান ও কার্যকর করব। অনুষ্ঠানে রুয়ান্ডা, গাম্বিয়া এবং সেনেগালসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা যোগ দেন। এছাড়া চীন, নাইজেরিয়া, ঘানা এবং নিরক্ষীয় গিনির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ২০২০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ মালির ক্ষমতায় আসা জেনারেল আসিনি গোইতাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেপ্টেম্বরে গিনির নাগরিকরা এক নতুন সংবিধানের অনুমোদন দেয়, যা সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়। এই সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে এবং দুই মেয়াদের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে। ডুম্বুয়ার দাবি, আলফা কন্ডের শাসনামলে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে সামরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য ছিল। ১৯৫৮ সালে গিনি স্বাধীনতা লাভের পর ২০১০ সালে আলফা কন্ডে দেশটির ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। তিনি ২০১৫ এবং ২০২০ সালেও পুনরায় নির্বাচিত হন। তবে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর জেনারেল মামাদি ডুম্বুয়ার সামরিক সরকার গত চার বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্ত করে ও সংবিধান স্থগিত করে। এই সময়ে তারা পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস-এর সঙ্গে বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকারে ফেরার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে ডুম্বুয়ার বিরুদ্ধে নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করা, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও রয়েছে। গিনির প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে। ডুম্বুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি দেশটির বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম বক্সাইট ভাণ্ডার এবং অব্যবহৃত আকরিক লোহা উত্তোলন করে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন।
১১ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

১১ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে নিখোঁজ হওয়া মৎস্য নজরদারি বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানে থাকা ১১ জন আরোহীকে এখনো পাওয়া যায়নি। কুয়াশাচ্ছন্ন একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর রয়টার্সের। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের মালিকানাধীন এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের টার্বোপ্রপ বিমান শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের আকাশসীমায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটিতে আটজন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীরা ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মী। মৎস্য নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় বিমানটি ভাড়া করেছিল। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার স্থানীয় টেলিভিশনে বলেন, ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পর এখন নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে ১ হাজার ২০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো ভিকটিমদের খুঁজে বের করা এবং আমরা আশা করছি যে তাদের কয়েকজনকে আমরা নিরাপদে উদ্ধার করতে পারব।” যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি ইয়োগিয়াকার্তা প্রদেশ থেকে রওনা হয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের দিকে যাচ্ছিল। দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান জানান, রবিবার সকালে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা মারোস অঞ্চলের মাউন্ট বুলুসারাউং-এর আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। পাহাড়টি দেশটির রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। সুলতান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হেলিকপ্টার ক্রুরা সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে বিমানের জানালার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। এরপর সকাল ৭ টা ৪৯ মিনিটের দিকে আমরা বিমানের বড় একটি অংশ দেখতে পাই, যা বিমানের ফিউজলেজ (মূল কাঠামো) বলে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরো যোগ করেন, পাহাড়ের ঢালের নিচে বিমানের পেছনের অংশও দেখা গেছে। সুলতান জানান, যেখানে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে সেখানে উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে তল্লাশি অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী সংস্থার শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও প্রবল বাতাসের মধ্যে পাহাড়ে বিমানের একটি জানালা ছড়িয়ে ছিঁড়ে পড়ে আছে। সুলতান আরো জানান, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি এই দুর্ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেবে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা একাধিক কারণের সমন্বয়ে ঘটে থাকে। ফরাসি-ইতালীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এটিআর-এর তৈরি এটিআর ৪২-৫০০ মডেলটি একটি আঞ্চলিক টার্বোপ্রপ বিমান, যা ৪২ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, বিমানটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে কম উচ্চতায় উড়ছিল, যার ফলে এর ট্র্যাকিং কভারেজ সীমিত ছিল।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি

মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা জারি মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশের ওপর দিয়ে বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি’ নিয়ে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। আজ আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এফএএ জানায়, তারা বিমান সংস্থাগুলোকে মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর পাশাপাশি ইকুয়েডর, কলম্বিয়া ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশসীমার কিছু অংশে ‘সতর্কতা অবলম্বনের’ আহ্বান জানিয়ে নোটিশ জারি করেছে। সংস্থাটি বলেছে, গতকাল জারি করা এই সতর্কতা আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
জানাজায় যাওয়ার পথে পাকিস্তানে ট্রাক উল্টে নিহত ১৪

জানাজায় যাওয়ার পথে পাকিস্তানে ট্রাক উল্টে নিহত ১৪ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরগোধায় ঘন কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক উল্টে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। তারা সবাই একটি জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। খবর জিও টিভির। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে সরগোধা শহরের কোট মোমিন এলাকার ঘালাপুর বাংলা খালের পাশে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি খাদে পড়ে যায়। ঘটনার সময় ট্রাকটিতে মোট ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। জিও টিভি জানিয়েছে, ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ৭ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে উদ্ধারকারীরা। হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী টিএইচকিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৭ জন মারা যান। উল্লেখ্য, পুরো পাঞ্জাব প্রদেশ এখন ঘন কুয়াশায় ছেয়ে আছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে কুয়াশার কারণে খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খানেও একই ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে ইন্দাস মহাসড়কের তাউন্সা শরিফ সীমান্তবর্তী বাস্তি দাওয়ানা এলাকায় চিনিবাহী একটি ট্রেইলার ও যাত্রীবাহী ভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হন।
সৌদিতে মিলল বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার, মজুদ বাড়ল দুই লাখ কেজির বেশি

সৌদিতে মিলল বিশাল স্বর্ণভাণ্ডার, মজুদ বাড়ল দুই লাখ কেজির বেশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাদেন দেশটির চারটি স্থানে নতুন করে মোট ৭৮ লাখ আউন্স বা দুই লাখ ২১ হাজার কেজির বেশি স্বর্ণের মজুদের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশের খনিজ সম্পদ সম্প্রসারণ এবং বিশ্বমানের স্বর্ণ শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রিলিং বা খনন কার্যক্রমে প্রাথমিকভাবে ৯০ লাখ আউন্সের বেশি স্বর্ণের অস্তিত্ব মিললেও বার্ষিক হিসাব সমন্বয়ের পর নিট ৭৮ লাখ আউন্স মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। মাদেন জানায়aJ, তাদের প্রধান প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ, উরুক ২০/২১, উম্ম আস সালাম এবং নতুন আবিষ্কৃত ওয়াদি আল জাও এলাকায় এই স্বর্ণের মজুদের সন্ধান মিলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে, যেখানে গত বছরের তুলনায় স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে ৩০ লাখ আউন্স। উরুক ২০/২১ ও উম্ম আস সালাম প্রকল্পে ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স এবং ওয়াদি আল জাও প্রকল্পে প্রথমবারের মতো ৩০ লাখ ৮০ হাজার আউন্স স্বর্ণের মজুদ পাওয়া গেছে। মাদেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বব উইল্ট বলেন, এই সাফল্য সৌদি আরবের খনিজ সম্পদ কাজে লাগানো এবং বৈশ্বিক খনি শিল্পে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ কারণেই সৌদি আরবের স্বর্ণ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চারটি স্থানে ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ আবিষ্কার মাদেনের সক্ষমতা ও ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রমাণ। এতে কোম্পানির স্বর্ণ পোর্টফোলিও আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে নগদ আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের অনুসন্ধান কর্মসূচিতে মধ্য সৌদি আরবের স্বর্ণসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেখানে নতুন খনিজ অঞ্চলের সন্ধান মিলেছে, যা বিদ্যমান খনিগুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ঐতিহাসিক মাহদ স্বর্ণ খনি এলাকাতেও নতুন খনিজ স্তরের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা খনিটির আয়ুষ্কাল বাড়াতে সহায়ক হবে। মাদেন জানায়, তাদের সবচেয়ে বড় প্রকল্প মানসুরা মাসারাহ খনিতে বর্তমানে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন আকরিক মজুদের ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে প্রতি টন আকরিক থেকে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম হারে মোট এক কোটি চার লাখ আউন্স স্বর্ণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বশেষ ড্রিলিংয়ের ফলে এই প্রকল্পে গত বছরের তুলনায় নিট ৩০ লাখ আউন্স স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে। কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, মানসুরা ও মাসারাহ খনির গভীর স্তরে নতুন খনিজ আকরিক পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালজুড়ে সেখানে ড্রিলিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা হালনাগাদ করা হবে। সূত্র: গালফ নিউজ