হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের মেঘ

হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধের মেঘ বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে উত্তেজনা এখন চরমে। মাত্র একদিন আগে সাময়িক খুলে দেওয়ার পর শনিবার আবারও এই কৌশলগত জলপথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথে চলাচল করতে পারবে না। কোনো জাহাজ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, শনিবার ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারত সরকার। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, অনেক জাহাজ মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বা গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সংবাদিকদের বলেন, ইরান আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না। তিনি আরও জানান, ইরানের সাথে বর্তমানে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে, তবে তেহরান যদি জলপথকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তবে ওয়াশিংটন নতি স্বীকার করবে না। উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ কার্যকর করছে, যার ফলে এ পর্যন্ত ২৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) জানিয়েছে, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তেহরান বর্তমানে এই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে, তবে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, তাই তার আগেই একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে চাইছে দুই পক্ষ। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। হরমুজ সংকটের সমান্তরালে লেবাননেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, দেশটিতে শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা এক ফরাসি সৈন্য বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে ‘ইয়েলো লাইন’ বা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি-রয়টার্স
পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত

পাকিস্তানে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫, যা হঠাৎ করেই বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আজ স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৯৯ কিলোমিটার। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পটি গভীরে উৎপন্ন হওয়ায় এর কম্পন বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে আকস্মিক এই কম্পনের কারণে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল ছেড়ে আতঙ্কে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।ইসলামাবাদের পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ার, চিত্রাল, সোয়াত, মালাকান্দ ও চারসাদ্দাসহ বেশ কয়েকটি শহরে কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া বাট্টাগ্রাম, মানসেহরা ও শাংলাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দুর্গম অঞ্চলগুলো থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর আসে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার্ন, বাড়ালো রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর ছাড়ের মেয়াদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটার্ন, বাড়ালো রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর ছাড়ের মেয়াদ বাড়াবে না বলেও রাশিয়ার তেল কেনায় ছাড়ের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটে পড়া দেশগুলো এ সময় সাগর থেকে রাশিয়ার তেল কেনার সুযোগ পাবে। স্থানীয় সময় গতকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ–সংক্রান্ত একটি অনুমতিপত্র পোস্ট করা হয়েছে। অনুমতিপত্রে বলা হয়, গ্তকাল থেকে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সমুদ্রে জাহাজ থেকে রাশিয়ার তেল ও পরিশোধিত তেলজাত পণ্য কেনা যাবে। অথচ মাত্র দুই দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, রাশিয়ার তেল কেনার ওপর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এই ছাড়ের সুযোগে দেশগুলো শুক্রবার থেকে ১৬ মে পর্যন্ত জাহাজে তোলা রাশিয়ার তেল ও পেট্রলিয়াম পণ্য কিনতে পারবে। এর আগে বিশ্ব বাজারে সৃষ্ট চাপ মোকাবেলায় রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞায় ৩০ দিনের ছাড়া দিয়েছিল ওয়াশিংটন যা ১১ এপ্রিল শেষ হয়েছে। ইরান, কিউবা ও উত্তর কোরিয়া সম্পর্কিত লেনদেন ওই ছাড়ের বাইরে রাখা হয়েছিল, সেটিই আবার নবায়ন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেয় ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয় ও জ্বালানির দাম চড়তে শুরু করে। বিশ্বজুড়ে সৃষট সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার তেল নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দিতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে। মূলত তারাই রাশিয়ার মতো নিষেধাজ্ঞায় থাকা উৎপাদকদের বাজারে প্রবেশ করার অনুমতি দিতে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন, “(ইরানের সঙ্গে) আলোচনা গতিশীল হওয়ায়, যাদের প্রয়োজন ট্রেজারি তাদের জন্য তেল সহজলভ্য করতে চেয়েছে।” মাত্র দুই দিন আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট বলেছিলেন, ওয়াশিংটন রাশিয়া তেল ও ইরানি তেলের নিষেধাজ্ঞা ছাড় আর নবায়ন করবে না। ইরানের তেলেও ওপর ছাড়ের মেয়াদ রোববার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।গ্তকাল ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা জানানোর পর বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে আসে। কিন্তু ইতোমধ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে জ্বালানি সরবরাহ সংকট তৈরি হয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে। আজ ৮ সপ্তাহে প্রবেশ করা ইরান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ৮০টির বেশি তেল ও গ্যাস স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এরমধ্যে ইরান জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলো থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে না নিলে তারা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।। তেলের উচ্চ মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহকর্মী রিপাবলিকানদের জন্যও একটি হুমকি হয়ে আছে। এর পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে জি২০ ভুক্ত মিত্র দেশগুলো, বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বৈঠকের ফাঁকেও তেল ছাড়ের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছিল।
১৩৭ বছর পর দেশে ফিরল জিম্বাবুয়ের সেই ঐতিহাসিক ‘পাখি’

১৩৭ বছর পর দেশে ফিরল জিম্বাবুয়ের সেই ঐতিহাসিক ‘পাখি’ দীর্ঘ ১৩৭ বছর পর জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক পাথরে খোদাই করা পাখির ভাস্কর্যগুলো আবারও নিজ দেশে ফিরেছে। ‘জিম্বাবুয়ে বার্ড’ নামে পরিচিত এই প্রতীকটি দেশটির জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এই ভাস্কর্যগুলো একসময় ঔপনিবেশিক শাসনামলে জিম্বাবুয়ে থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ পাখিটি এই সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরত আনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া এই ঘটনাকে একটি জাতীয় প্রতীকের প্রত্যাবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ধূসর সোপস্টোনে তৈরি এই ভাস্কর্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী সেসিল রোডসের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা জিম্বাবুয়ের আরও কিছু দেহাবশেষ ফেরত দিয়েছে, যেগুলো একসময় ঔপনিবেশিক গবেষণার নামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ভাস্কর্য ফেরত পাওয়া নয়, বরং ঔপনিবেশিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রতীকী সমাপ্তি। একই সঙ্গে এটি আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সম্পদ ফেরতের একটি বিরল উদাহরণ। এই পাখির ভাস্কর্যগুলো মধ্যযুগীয় গ্রেট জিম্বাবুয়ে নগরীর ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত এই শহরের দেয়ালে এগুলো স্থাপন করা ছিল। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এগুলো জিম্বাবুয়ের অন্যতম মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৯৮০ সালে স্বাধীনতার পর জিম্বাবুয়ে এসব নিদর্শন ফেরত আনার উদ্যোগ নেয়। ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশ থেকে ভাস্কর্যগুলো ফিরিয়ে আনা হয়। তবে সর্বশেষ পাখিটি ফেরত পেতে আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় লেগেছে। শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষ ব্যবস্থায় এটি জিম্বাবুয়েতে আনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি আর কখনো দেশটির বাইরে যাবে না। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই প্রত্যাবর্তন দেশটির মানুষের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিল ইরান

মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিল ইরান মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে আবারও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ইরান। বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রণালিতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আজ স্থানীয় সময় দুপুরে ইরানের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে ‘পূর্বের অবস্থায়’ ফিরে যাবে এবং পুরো এলাকা সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ, ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি এবং আইআরআইবি আইআরজিসির বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘জলদস্যুতা’ বা সামুদ্রিক ডাকাতির অভিযোগ তোলে। তারা বলেছে, ওয়াশিংটনের তথাকথিত অবরোধ মূলত সামুদ্রিক লুটপাটের শামিল। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে নির্ধারিত রুট মেনে চলতে হবে। কিন্তু এই ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। এই অবস্থানের মধ্যেই ইরান আবার প্রণালির নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। মাঝখানে স্বল্প সময়ের জন্য কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ এই নৌপথ দিয়ে চলাচল করলেও, ঠিক কতগুলো জাহাজ শেষ পর্যন্ত পার হতে পেরেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করে স্বস্তির বার্তা দিলো ইরান

হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করে স্বস্তির বার্তা দিলো ইরান দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে স্বস্তির বার্তা দিল ইরান। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছে তেহরান। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত সকল বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে অবাধে যাতায়াত করতে পারবে। আরাঘচি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, লেবাননের পরিস্থিতির সঙ্গে সংহতি রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের ‘পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন’ কর্তৃক আগে থেকে নির্ধারিত সমন্বিত রুট বা পথ অনুসরণ করতে হবে। গত কয়েক দিন ধরে এই জলপথে মার্কিন অবরোধ এবং জাহাজ চলাচল নিয়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ইরানের এই ঘোষণার পর সেখানে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি উন্মুক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৫ সালে সাগরে রেকর্ড সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু

২০২৫ সালে সাগরে রেকর্ড সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিখোঁজ বা মৃত বলে শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে। ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র বাবর বালোচ জেনেভায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত বছর সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টাকারী আনুমানিক ৬ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনেরও বেশি নিখোঁজ বা মৃত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ মৃত্যুহার। বালোচ জানিয়েছেন, এই বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা ২০২৬ সালেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা এই ধরনের যাত্রায় অংশ নিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই যাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি নারী ও শিশু। তিনি বলেন, “যদি চরম হতাশা না থাকে, তাহলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম জেনেও কেউ তার পরিবারকে একটি ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলবে না। মিয়ানমারের সংঘাতের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে এই প্রাণঘাতী সমুদ্রযাত্রা। কারণ রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা নিরাপত্তা ও সুযোগের সন্ধানে অতিরিক্ত ভিড়ে ঠাসা, সমুদ্রযাত্রার অযোগ্য নৌকায় নিজেদের জীবন বিপন্ন করে চলেছে। নিজ দেশে সহিংসতা এবং বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরের শোচনীয় পরিস্থিতির কারণেই তারা দেশ ছাড়ছে। তারা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া বা থাইল্যান্ডের মতো দেশে নিরাপত্তা ও কাজের সুযোগের সন্ধানে যাওয়ার চেষ্টা করছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে ছেড়ে আসা একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার পর প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বালুচ জানান, বিশ্বব্যাপী দাতা সংস্থাগুলোর তহবিল হ্রাস, যা মানবিক সহায়তাকে প্রভাবিত করছে, তা বর্তমানে বাংলাদেশে থাকা দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মধ্যে কয়েকজনের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, “এই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ধারা এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই হতাশার অনুভূতি অব্যাহত রয়েছে।
বিপজ্জনক বিশ্বে কৌশলগত পাকিস্তান

বিপজ্জনক বিশ্বে কৌশলগত পাকিস্তান ইসলামাবাদে ইরান-মার্কিন আলোচনার আগে ৯ এপ্রিল আইওয়ান-ই-সদর (রাষ্ট্রপতি ভবন)-এর বাইরে একজন নিরাপত্তা কর্মী টহল দিচ্ছেন। গত ৭২ ঘণ্টা অস্বাভাবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের ইরানবিরোধী হামলার প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ থামাতে এবং দুই পক্ষকে সমঝোতার পথে আনতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা এখন এক সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক টেলিফোন যোগাযোগ এবং তেহরান সফরের মাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে আস্থা ও বোঝাপড়া তৈরিতে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে রয়েছেন, যাতে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের সম্পৃক্ত রাখা যায়। এসব পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট, পাকিস্তান আর পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহে শুধু প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না; বরং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। উভয় পক্ষই প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগতভাবে পাকিস্তানের এ ভূমিকা স্বীকার করছে। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার বড় সংকট কেবল বহুপাক্ষিকতার দুর্বলতা নয় এটি তো স্পষ্টই। মূল প্রশ্ন হলো- যুদ্ধ, কৌশলগত অবিশ্বাস এবং আঞ্চলিক সংকটের এ জটিল সময়ে এমন কোনো রাষ্ট্র কি আছে, যারা ন্যূনতম নিয়ম রক্ষা, অস্থিতিশীলতা কমানো এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পারে? মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো হয়তো পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তবে ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামোর কিছু অংশ মেরামত করতে পারে। তারা স্থিতিশীলতা আনতে, সংলাপের আয়োজন করতে এবং সমন্বয় গড়ে তুলতে সক্ষম বিশেষ করে যখন বড় শক্তিগুলো নিজেরাই বিভাজন বাড়াচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে ১৯৪৫-পরবর্তী যে আন্তর্জাতিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে পড়ার লক্ষণ স্পষ্ট। জাতিসংঘ সনদে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে বেছে বেছে আইন প্রয়োগ, ব্যতিক্রমকে স্বাভাবিক করে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার অবক্ষয়। সার্বভৌমত্ব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যমান, কিন্তু ওয়েস্টফালিয়ার শান্তিচুক্তি থেকে উদ্ভূত নীতির ওপর আস্থা ক্রমেই কমছে। অস্থিতিশীলতাই যেন এখন স্বাভাবিক বাস্তবতা।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংঘাত দ্রুতই একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলছে। এ প্রেক্ষাপটে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলোর গুরুত্ব বাড়ছে। তারা সংলাপের সুযোগ তৈরি করতে পারে, উত্তেজনা কমাতে পারে এবং কূটনৈতিক পরিসর প্রসারিত করতে পারে যখন বড় শক্তিগুলো সংঘাতমুখী অবস্থানে আটকে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান নিজেকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম শক্তিধর দেশ হিসেবে তুলে ধরেছে। জনসংখ্যাগত গুরুত্ব, সামরিক সক্ষমতা, পারমাণবিক প্রতিরোধ এবং দক্ষিণ এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া ও চীনের সংযোগস্থলে ভৌগোলিক অবস্থান সব মিলিয়ে পাকিস্তানের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীলতা পাকিস্তানকে সরাসরি প্রভাবিত করে জ্বালানি নিরাপত্তা, নৌপরিবহণ, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের কূটনীতি ছিল সক্রিয় ও সুসংগঠিত। ১৪ এপ্রিল ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক এ প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি ২৯ মার্চের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিম এশিয়া কোয়াড’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। এ উদ্যোগ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জোট নয়; বরং একটি নমনীয় পরামর্শমূলক কাঠামো। তবে এটি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সমন্বয়ও এ বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ৩১ মার্চ বেইজিংয়ে ঘোষিত ‘পাঁচ দফা উদ্যোগ’-এ যুদ্ধবিরতি, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, বেসামরিক সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এটি শুধু আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নয়; বরং একটি মধ্যম শক্তিধর রাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্যোগ, যা শান্তি পুনর্গঠনের একটি কাঠামো তুলে ধরে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ভূমিকা মধ্যস্থতা, আলোচনার স্থান প্রদান এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন একটি মধ্যম শক্তিধর দেশের আদর্শ আচরণ। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে পাকিস্তানের এ ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী পদক্ষেপ উভয় ক্ষেত্রেই পাকিস্তান দেখিয়েছে, কীভাবে মধ্যম শক্তিধর দেশগুলো জটিল পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তান প্রমাণ করেছে, তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে না পারলেও সংঘাতের মধ্যেও সমঝোতার সম্ভাবনা ধরে রাখতে পারে। আজকের দুর্বল বিশ্বব্যবস্থায় নতুন ধরনের রাষ্ট্রীয় আচরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সামরিক বাস্তবতা, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং রাজনৈতিক সংযমের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে পাকিস্তান দেখিয়েছে কৌশলগত সক্ষমতা, কূটনৈতিক ধৈর্য ও রাজনৈতিক আস্থা থাকলে এখনো বিশ্বকে বিপর্যয়ের দোরগোড়া থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ বার্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান সংঘাতময় বিশ্বে পাকিস্তানের পশ্চিম এশিয়া অধ্যায় মনে করিয়ে দেয় গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমর্থন থাকলে কূটনীতি এখনো কার্যকর এবং অপরিহার্য।
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামের নতুন এক ধরনের যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করছে মার্কিন নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নৌবাহিনী জলমাইন অপসারের জন্য মানবচালিত মাইন-সুইপিং শিপ ব্যবহার করে থাকে। পানির নিচে পেতে রাখা মাইন শনাক্তের জন্য মাইন-সুইপিং শিপে সোনার সিস্টেম থাকে এবং সেই সিস্টেম দিয়ে শনাক্তের পর মাইন ধ্বংস করা হয়। যেহেতু মাইন-সুইপিং শিপ মানবচালিত, তাই স্বাভাবিকভাবেই জাহাজের চালক ও ক্রুদের মাইনফিল্ডে প্রবেশ করতে হয়, যা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে লিটোরাল কমব্যাট শিপে সেই ঝুঁকি নেই। হালকা বা লাইটার ধরনের এই জাহাজটি পরিচালিত হয় রিমোট-কন্ট্রোল্ড রোবটদের দ্বারা। মাইন শনাক্ত থেকে ধ্বংস করা পর্যন্ত যাবতীয় কাজ হয় রোবটদের মাধ্যমে। তাই সেনাদের আর মাইন ধ্বংসের জন্য মাইনফিল্ডে প্রবেশের প্রয়োজন থাকে না। তাদের প্রধান কাজ তখন হয় দূর থেকে রিমোট-কন্ট্রোলের মাধ্যমে রোবটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা। মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে এমন ৩টি লিটোরাল কমব্যাট শিপ আছে, তবে বর্তমানে কার্যকর আছে একটি। বাকি দু’টি জাহাজকে মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেরামত শেষ হলেই বহরে সেই দু’টি জাহাজ যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পাতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ধারণা করা হচ্ছে, হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১ ডজন মাইন পেতেছে আইআরজিসি। তবে প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন পাতা হয়েছিল, তার রেকর্ড ঠিকমতো রাখেনি রেভল্যুনারি গার্ড কোর। ফলে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ করা। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় ২৫ ভাগ বা এক চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরান হরমুজে অবরোধ জারি করায় ব্যাপক চাপে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকে, অনেক দেশেই দেখা দেয় জ্বালানি সংকট। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রনিধিদের সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামরিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি সেই ঘোষণা দেওয়ার প্রায় দু’ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) জানায়, হরমুজ থেকে মাইন অপসারনে কাজ শুরু হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
সাজা কমলো সুচির, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের দেওয়া হলো যাবজ্জীবন

সাজা কমলো সুচির, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের দেওয়া হলো যাবজ্জীবন শান্তিতে নোবেলজয়ী, কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সাজার মেয়াদ কমিয়েছে মিয়ানমার সরকার। শুক্রবার সু চির আইনজীবী বার্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া ৪৩৩৫ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার পর মিন অং হ্লাইং এর প্রথম আনুষ্ঠানিক আদেশে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ৮০ বছর বয়সী সু চি দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনে জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক একাধিক অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সুচির মিত্রদের দাবি, তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ আনা হয়। সুচির আইনজীবী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, মিয়ানমার সরকার তার মক্কেলের সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমিয়েছে। তবে সু চিকে তার সাজার বাকি মেয়াদ গৃহবন্দি হিসেবে কাটাতে দেওয়া হবে কিনা, তা পরিষ্কার করা হয়নি। ৪৩৩৫ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা এদিকে শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভশনের খবরে বলা হয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং ৪৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন। এই নিয়ে গত ছয় মাসে তিনবার এ ধরনের পদক্ষেপ নিল মিয়ানমার। দেশটি সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস ও এপ্রিলে নতুন বছর উপলক্ষ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে থাকে। সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেন সাবেক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এরপর থেকে জান্তা সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন মিন অং হ্লাইং। ৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হয়নি। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অপরাধীদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’ তবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সবাই এই সুবিধা পাবে কিনা তা নিশ্চিত করা হয়নি। এটিকে একটি গণআদেশ হিসেবে বিবেচনা করলে দণ্ডিত সবাই সুবিধাটি পাবেন বলে ধরে নেওয়া যায়। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ৩৮ জন কয়েদীর মৃত্যুদণ্ড তুলে নেওয়া হয়। মিয়ানমারের ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে। কার্যত গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে মিয়ানমার। এ অবস্থায় সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-এর নির্দেশে ভিন্নমতাবলম্বীদের ব্যাপকহারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। জাতিসংঘের তথ্য মতে, এক বছরের মধ্যে ১৩০ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে এর মধ্যে কতজনের ক্ষেত্রে তা কার্যকর করা হয়েছে বা প্রকৃত সংখ্যাটি আদৌ আরও বেশি কী না, সেটা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।