বিশ্বে ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হবে

বিশ্বে ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হবে ক্রমবর্ধমান স্থূলতা এবং রক্তে শর্করার মাত্রার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ১৮০ কোটি মানুষ মেটাবলিক লিভার ডিজিজে আক্রান্ত হবে। নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজেস, ইনজ্যুরিস, অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডি (জিবিডি) থেকে প্রাপ্ত এই গবেষণার ফলাফল ল্যানসেট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা অনুসারে, মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এমএএসএলডি) পূর্বে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) নামে পরিচিত ছিল। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে প্রচলিত এবং দ্রুত বর্ধনশীল লিভারের রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১৩০ কোটি মানুষ এমএএসএলডি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। মাত্র তিন দশকে এই রোগে আক্রান্তের হার ১৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বে প্রতি ছয়জনের মধ্যে প্রায় একজন- অর্থাৎ ১৬ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত।এই রোগের প্রাদুর্ভাব আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যেমন ক্রমবর্ধমান স্থূলতা ও উচ্চ রক্তে শর্করার মাত্রা। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ এমএএসএলডি নিয়ে বসবাস করছিলেন। ২০২৩ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ কোটিতে। ২০৫০ সালের মধ্যে এমএএসএলডি ১৮০ কোটি মানুষকে প্রভাবিত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী এই রোগের প্রাদুর্ভাবের হার প্রতি ১ লাখে ১৪ হাজার ৪২৯ জনে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি। এমএএসএলডি নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং ৮০ থেকে ৮৪ বছর বয়সী বয়স্কদের মধ্যে এর প্রাদুর্ভাবের হার সর্বোচ্চ। তবে, সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ কম বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ থেকে ৩৯ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৫৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী। বিশ্বব্যাপী এমএএসএলডি সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যার প্রধান কারণ রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা, এরপরেই রয়েছে উচ্চ বিএমআই এবং ধূমপান, যা টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার সাথে এর শক্তিশালী সংযোগকে তুলে ধরে। উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু অঞ্চলে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এমএএসএলডি- এর হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। তবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যায় তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে। গবেষণাটিতে আরো দেখা গেছে , যদিও আরো বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, তবে স্বাস্থ্যের উপর এর সামগ্রিক প্রভাব-যা অসুস্থতা বা মৃত্যুর কারণে হারানো বছরের নিরিখে পরিমাপ করা হয়-স্থিতিশীল ছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, চিকিৎসা ও পরিচর্যার অগ্রগতি মানুষকে দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি মূলত রোগের প্রাথমিক পর্যায়েই ঘটছে।  

আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাব: পোপ

আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাব: পোপ ক্যাথলিক চার্চের প্রধানের পোপ লিও চতুর্দশ বলেছেন, তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা চালিয়ে যাবেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার পর সোমবার (১৩ এপ্রিল) তিনি এ কথা বলেছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প ক্যাথলিক চার্চের প্রধানের বিরুদ্ধে মার্কিন স্বার্থবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তোলেন, বিশেষ করে পারমাণবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের বিষয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি এমন কোনো পোপ চান না ‘যিনি মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক আছে।’ সেই সঙ্গে তিনি বিদেশের মাটিতে মার্কিন পদক্ষেপের বিরোধিতা করার জন্য পোপের সমালোচনা করেন। লিও রয়টার্সকে বলেন, “আমি তার সাথে বিতর্কে জড়াতে চাই না। আমি মনে করি না যে সুসমাচারের বার্তার অপব্যবহার করা উচিত, যেভাবে কিছু লোক করছে।” তিনি বলেন, “আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে উচ্চস্বরে কথা বলা চালিয়ে যাব, শান্তির প্রচার করব, সংলাপকে উৎসাহিত করব এবং সমস্যাগুলোর ন্যায়সঙ্গত সমাধান খোঁজার জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেব। আজ বিশ্বে বহু মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। বহু নিরীহ মানুষ নিহত হচ্ছে। এবং আমি মনে করি, কাউকে উঠে দাঁড়িয়ে বলতে হবে: ‘এর চেয়ে ভালো একটি পথ আছে’।” পোপ বলেন, “গির্জার বার্তা, আমার বার্তা, সুসমাচারের বার্তা: ধন্য সেই শান্তি স্থাপনকারীরা। আমি আমার ভূমিকাকে রাজনৈতিক বা একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখি না।”

বৃহস্পতিবারই ফের আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

বৃহস্পতিবারই ফের আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই। মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এপির বরাতে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈঠকের জন্য আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাও একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদ বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এক্ষেত্রে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে।

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ পার হলো চীনা জাহাজ

মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ পার হলো চীনা জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একটি চীনা তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির খবরে বলা হয়, ‘রিচ স্টারি’ নামের ট্যাংকারটি ব্লকেড শুরুর পর প্রথমবারের মতো প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এলএসইজি), মেরিন ট্রাফিক এবং কেপলারের জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ট্যাংকারটির মালিক প্রতিষ্ঠান সাংহাই শুয়ানরুন শিপিং কোং লিমিটেডের ওপর এর আগে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুদ্ধ ইস্যুতে বেইজিং যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধ ইস্যুতে বেইজিং যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। আজ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও ​​জিয়াকুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করবেন। গুও বলেন, লাভরভ চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই-এর সঙ্গে আলোচনা করবেন, যেখানে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং অভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় এবং অবস্থান সমন্বয় করবেন। অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। বেইজিং এবং মস্কো ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার এবং ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

দুর্ভিক্ষের শঙ্কা: একবেলা খেয়ে বেঁচে আছেন সুদানের লাখো মানুষ

দুর্ভিক্ষের শঙ্কা: একবেলা খেয়ে বেঁচে আছেন সুদানের লাখো মানুষ সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধ তৃতীয় বছরে পা দিতে চলেছে। যার প্রভাবে খাদ্য সংকট পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে। যুদ্ধের কারণে চাষাবাদ ব্যাহত ও বাজার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ‘একবেলা খেয়ে বেঁচে থাকা’ এখন দেশটির অনেক পরিবারের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়নমূলক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি দুর্ভিক্ষে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির নর্থ দারফুর ও সাউথ কর্ডোফান অঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। অনেক পরিবার পুরো দিন না খেয়েও থাকছেন বলে জানিয়েছে একাধিক এনজিও। অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি), মার্সি কর্পস ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সংকট দিন দিন বাড়ছে। অনেক মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে গাছের পাতা ও পশুখাদ্য পর্যন্ত খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সংকট অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের মোট জনসংখ্যার ৬১.৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৮.৯ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিবারগুলো শুধু একবেলা খাবার খেতে পাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ দুর্ভিক্ষের খুব কাছাকাছি রয়েছে। উম বারু ও কেরনোয় শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার দুর্ভিক্ষের সীমা ছাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন আনে নারীরা। খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকে ধর্ষণ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পুরুষপ্রধান পরিবারের তুলনায় নারীপ্রধান পরিবারগুলো তিনগুণ বেশি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে দ্রুত। এনজিও সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি ও মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানে গৃহযুদ্ধের অন্যতম কারণ সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ২০১৯ সালে ওমর আল বশিরকে উৎখাতের পর বেসামরিক-সামরিক যৌথ সরকার গঠিত হয়। কিন্তু ২০২১ সালে আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও মোহাম্মদ হামদান দাগালো সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। পরবর্তী সময়ে র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সেনাবাহিনীতে একীভূত করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়। এই দ্বন্দ্বই দেশজুড়ে সশস্ত্র সংঘাতের সৃষ্টি করে এবং পরে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পিছু হটার ভিডিও প্রকাশ করল আইআরজিসি

হরমুজ প্রণালি থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পিছু হটার ভিডিও প্রকাশ করল আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের পিছু হটার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, প্রণালির পূর্ব অংশে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তার পর মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো সেখান থেকে সরে যায়। রবিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বলা হয়, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে শুধু বেসামরিক জাহাজগুলোকে এই জলপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে। আইআরজিসি আরও দাবি করে, মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, এ ধরনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সঠিক নয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) আগের দাবিও তারা নাকচ করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করে অভিযান চালিয়েছে।

হামলার জেরে ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সৌদি আরবের কড়া প্রতিবাদ

হামলার জেরে ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সৌদি আরবের কড়া প্রতিবাদ সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার ইরাকের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ইরাক থেকে হামলা চালানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রতিবাদ জানানো হয়। খবর এএফপি’র। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, মন্ত্রণালয় ‘ইরাকের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে চালানো হামলার কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।’ এ সময় রাষ্ট্রদূত ও সৌদি প্রতিনিধির বৈঠকের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়। এই বিবৃতিটি এই অঞ্চলে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি। যেখানে বলা হচ্ছে যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হামলাগুলো ইরাক থেকে চালানো হয়ে থাকতে পারে। এই কূটনৈতিক প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একই ধরনের অভিযোগ তোলার কয়েকদিন পরেই এল। উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইরাকও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। দেশটিতে মার্কিন স্বার্থ, বিশেষ করে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস এবং ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরাকের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রতিদিন ‘শত্রু ঘাঁটিতে’ হামলার দাবি করলেও, বুধবার তারা ঘোষণা দেয় যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তারা তাদের অভিযান স্থগিত করছে।

৮০ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে: বিশ্বব্যাংক

৮০ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে: বিশ্বব্যাংক মধ্যেপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ হলেও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১২০ কোটি মানুষের চাকরির বিশাল ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় ​​বাঙ্গা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মক্ষম ৪০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবে, ফলে ৮০ কোটি চাকরির ঘাটতি থেকে যাবে মাস্টারকার্ডের সাবেক এই সিইও স্বীকার করেন, কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে।ধারাবাহিক স্বল্পমেয়াদী ধাক্কার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী বিষয়ের ওপর মনোনিবেশ করানো একটি কঠিন কাজ। তিনি বলেন, আর্থিক কর্মকর্তারা যেন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষকে বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মতো দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর মনোযোগ ধরে রাখেন। আমাদের একই সঙ্গে হাঁটতে ও চুইংগাম চিবোতে হচ্ছে। আমরা এখন একটি স্বল্প গতির চক্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘগতির চক্রটি হলো এই চাকরির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ছায়ায় এই সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে সারাবিশ্ব থেকে হাজার হাজার অর্থ কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে সমবেত হবেন। এই যুদ্ধ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করে দেওয়া এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে তোলার হুমকি দিচ্ছে। অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের ওপর। এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যকর অবরোধের অবসান ঘটাতে পারেনি, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নিয়ে এসেছ। এছাড়াও তিনি লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত শান্ত করতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, উন্নয়ন কমিটি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে এমন নীতি ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলী সহজ করার জন্য কাজ করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। বাঙ্গা বলেন, আলোচনায় অনুমতি সংক্রান্ত স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন, শ্রম আইন, ভূমি আইন, ব্যবসা খোলার প্রতিবন্ধকতা, সরবরাহ ব্যবস্থা, উন্নত বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল্য-বহির্ভূত বাধার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আশাবাদী তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং তাদের চাহিদা পূরণকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ৎআমি জানি না আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এমন কোনো আদর্শ পরিস্থিতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, যেখানে প্রত্যেকের প্রয়োজন মেটানো হবে। এমনটা ঘটবে বলে আমার সন্দেহ আছে, কিন্তু যদি তা না করা হয়, তবে অবৈধ অভিবাসন এবং অস্থিতিশীলতার দিক থেকে এর পরিণতি বেশ গুরুতর হবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে ১১৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। বঙ্গা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংস্থাগুলো নিজেরাই বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করেছে, যার মধ্যে ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও মাহিন্দ্রা গ্রুপ এবং নাইজেরিয়ার ডাঙ্গোটে অন্তর্ভুক্ত। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনায় দেখা গেছে, তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও বেশি এবং উন্নত মানের চাকরি তৈরিতে আগ্রহী। এর পাশাপাশি পানির বিষয়টিও একটি বড় মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে। বিশ্বব্যাংক, অন্যান্য উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে আরও এক বিলিয়ন মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ ঘোষণা করতে চলেছে। এছাড়াও আফ্রিকায় ৩০ কোটি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য বিদ্যমান উদ্যোগগুলোও এতে যুক্ত হবে। বাঙ্গা বলেন, গত শরতে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে বিশ্বব্যাংক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক ও ভৌত অবকাঠামোর ওপর মনোযোগ দিয়েছিল এবং এই শরতে ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিয়ে এই ধারা অব্যাহত রাখবে। ব্যাংকটি এমন পাঁচটি খাত চিহ্নিত করেছে যেগুলো বিনিয়োগ থেকে লাভবান হবে এবং যেগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্য বা উন্নত দেশগুলো থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। অবকাঠামো, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কৃষি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজিত উৎপাদন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এই খাতগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, সমস্যাটা হলো, আমরা এটা একা করতে পারব না। ৮০০ মিলিয়নের সেই আশ্চর্যজনক সংখ্যায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের এই বরফের গোলাটিকে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নামাতে হবে, আর গড়ানোর পথে এটি যেন প্রচুর বরফ সংগ্রহ করে।

হাইতির ঐতিহাসিক দুর্গে পদদলিত হয়ে নিহত ৩০

হাইতির ঐতিহাসিক দুর্গে পদদলিত হয়ে নিহত ৩০ হাইতির একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থলে পদদলিতের ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশটির উত্তরাঞ্চলের মিলো শহরে অবস্থিত ঐতিহাসিক সিটাডেল লাফেরিয়াতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-অ্যামি। তিনি জানান,মিলো শহরের ওই স্থানে একটি পর্যটন অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণীর উপস্থিতির সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাইতির সংস্কৃতি মন্ত্রী ইমানুয়েল মেনার্ড বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আহতরা বর্তমানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন এবং একটি উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করছে। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুর্গটি ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর নির্মাণ করা হয়। বিপ্লবী নেতা হেনরি ক্রিস্টোফি স্বাধীনতার পরপরই এটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে সিটাডেল লাফেরিয়া ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত।