তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, প্রা*ণ*হা*নি বেড়ে ৩০

তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণহানি বেড়ে ৩০ যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ তুষারঝড়ে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। তীব্র ঠাণ্ডায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাতে চাপা পড়েছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। বাতিল করা হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট। বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে আট লাখের বেশি সেবাগ্রহীতা। এ দুর্যোগ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়া-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শীতের এ তীব্রতা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্য থেকে দক্ষিণের টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনা পর্যন্ত। এসব অঞ্চলে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। তুষারঝড়ের কবলে পড়েছেন ১১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ। দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে। সেখানে পাঁচজন মারা গেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল নিউইয়র্ক শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থতিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো খোলা হবে না। সেই সঙ্গে খুব জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত জনগণকে বাড়ির বাইরে বের নাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে বিমান চলাচলও স্থগিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিমানবন্দরে। দেশটির বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাতে জানা গেছে, রবিবার বিভিন্ন মার্কিন বিমান বন্দরে বাতিল করা হয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। করোনা ভাইরাস মহামারির পর এই প্রথম একদিনে এত বেশিসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, বহু মানুষ নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, বহু মানুষ নিখোঁজ প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান দ্বীপ জাভায় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম জাভার মাউন্ট বুড়াংরাং ঢাল থেকে নামা এই ধস পাসির লানগু গ্রামের ৩৪টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয়। এতে অনেক মানুষ কাদা, বড় পাথর এবং বড় গাছের নিচে চাপা পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে অস্থায়ী সরকারি আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে একের পর এক চেষ্টা চালাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকারীরা ফার্ম টুল এবং নির্দিষ্ট হাতের সাহায্যে কাদাতে ঢেকে থাকা মরদেহ তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা প্রায় অসম্ভব, কারণ ভূমি খুবই নরম এবং অস্থিতিশীল। কাদা মাটির মধ্য দিয়ে সাবধানে এগোতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কারণ অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে এবং জরুরি ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভারতে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা

ভারতে ছড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস, এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে সতর্কতা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো দেশগুলো তাদের বিমানবন্দর ও সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে কড়া নজরদারি এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে। থাইল্যান্ড বিশেষ করে ব্যাংকক এবং ফুকেট বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র সংগ্রহ করছে। একইভাবে নেপালও কাঠমান্ডু বিমানবন্দরসহ ভারতের সাথে সংযুক্ত স্থল সীমান্তগুলোতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এমনকি তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ নিপাহ ভাইরাসকে তাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ (ক্যাটাগরি ফাইভ) রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে এই সংক্রমণের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১১০ জনকে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। নিপাহ একটি অত্যন্ত বিপদজনক ভাইরাস। এটি মূলত পশু থেকে মানুষের দেহে ছড়ায়, তবে এটি মানুষ থেকে মানুষেও সংক্রমিত হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ভাইরাসটিকে কোভিড-১৯ এবং জিকার মতো শীর্ষ দশটি অগ্রাধিকারমূলক রোগের তালিকায় রেখেছে। এর প্রধান কারণ হলো, এই রোগের মৃত্যুর হার অনেক বেশি (৪০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে)। এখন পর্যন্ত এর কোনো কার্যকর টিকা বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত চার থেকে চৌদ্দ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রাথমিকভাবে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং বমি ভাব দেখা দিলেও তীব্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস হতে পারে। এগুলোই রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম এই ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এর প্রকোপ দেখা গেছে। বিশেষ করে ভারতের কেরালা রাজ্যে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সূত্র: বিবিসি

রাশিয়ার সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি ভারতের

রাশিয়ার সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে ১০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত। আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এই উচ্চতায় উন্নীত করার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি গত বছর দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পাদিত হয়। রাশিয়ায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কুমার এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় বৃহত্তম বার্তাসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিনয় কুমার বলেন, “রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, তবে এ ইস্যুতে গত বছরটি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ (গত বছর) আমরা যখন (রাশিয়ার) প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ সংক্রান্ত চুক্তির প্রস্তাব দিলাম— সেটি খুবই সফল হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পুতিন আমাদের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ১০ হাজার কোটি ডলারের উন্নীত করা বিষয়ক একটি বাণিজ্য চুক্তিতে দুই দেশের কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেছেন।” “চুক্তি অনুযায়ী ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে, অনেক নতুন উপাদান যুক্ত হচ্ছে এবং আমরা বিশ্বাস করি, নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মুক্ত বাণিজ্য খুব সহায়ক হবে”, বলেন বিনয় কুমার। প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮৭০ কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য করেছে ভারত ও রাশিয়া। দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যে এটি একটি রেকর্ড। অবশ্য এই বাণিজ্যের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল। সাক্ষাৎকারে বিনয় কুমার বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ভলিউম বাড়াতে গত দুই বছর ধরে দুই দেশের মুদ্রা রুপি ও রুবল ব্যবহার করছে ভারত-রাশিয়া। সামনের দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। গত মাসে ভারত সফরে এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা ও বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশিদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশিদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র এবার জানিয়েছে, ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) ভিসা দেওয়া হবে। আজ ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা বন্ড কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য হবে, সেগুলো হলো— -ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে -ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন -সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে -নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে -যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো— -বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS) -জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK) -ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD) নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে। বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে— আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা হয়। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে বলা হয়। উল্লেখ্য, অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।

মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ১১

মেক্সিকোতে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ১১ মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়ানাজুয়াতোতে একটি ফুটবল মাঠে বন্দুকধারীদের গুলিতে এক নারীসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গ্তকাল সালামানকা শহরের একটি পাড়ায় এই হামলার ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফুটবল ম্যাচ শেষে বন্দুকধারীরা মাঠে হামলায় চালায়। এতে ঘটনাস্থলে ১০ জনের মৃত্যু হয়। পরে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়। মেয়র কার্যালয় জানিয়েছে, গুয়ানাজুয়াতো একটি সমৃদ্ধ শিল্প কেন্দ্র। তবে সম্প্রীতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের কাছে আবেদন করেছেন। এছাড়া গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে,তারা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সাথে তদন্ত এবং সমন্বয় করে যাচ্ছেন। গত বছর গুয়ানাজুয়াতোতে সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সান্তা রোজা ডি লিমা নামে একটি স্থানীয় গ্যাং শক্তিশালী জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের সাথে লড়াই করছে। মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সাথে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম সহ-আয়োজক। এটি মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাজারা এবং মন্টেরেতে তিনটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন করবে। মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচসহ পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে অন্য দুটি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের চারটি খেলা এবং দুটি করে আন্তঃকনফেডারেশন প্লে-অফ অনুষ্ঠিত হবে।

শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন লাখ লাখ মানুষ

শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন লাখ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নজিরবিহীন শীতকালীন ঝড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। তীব্র ঠান্ডায় এ পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ৯ লাখ বাসিন্দা। ঝড়ের প্রভাবে দেশজুড়ে বহু স্কুল ও সড়ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টেক্সাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তুষার, বরফ ও হিমবৃষ্টি মিলিয়ে জীবননাশের ঝুঁকিপূর্ণ’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এই পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। এনডব্লিউএসের আবহাওয়াবিদ অ্যালিসন সান্তোরেলি বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে বলেন, “বরফ ও তুষার খুব ধীরে গলবে এবং দ্রুত সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হবে।” বিবিসি জানায়, শীতকালীন ঝড়ের কারণে লুইজিয়ানায় অন্তত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া টেক্সাসেও আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোচুল বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে এবং রাস্তায় বের না হতে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, “বছরের পর বছর ধরে এটাই সবচেয়ে ঠান্ডা শীতকালীন ঝড়। যেন এক ধরনের আর্কটিক অবরোধ আমাদের রাজ্যসহ গোটা দেশকে ঘিরে ফেলেছে।” গভর্নর হোচুল জানান, এই ‘নির্মম’ আবহাওয়া দীর্ঘ সময় ধরে শীত এবং বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তুষারপাত ডেকে আনতে পারে। “এটি হাড় কাঁপানো এবং ভীষণ বিপজ্জনক,” তিনি বলেন। কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার জানান, সেখানে প্রত্যাশার তুলনায় তুষারের চেয়ে বরফ বেশি পড়ছে, যা রাজ্যের জন্য ভালো খবর নয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ঝড়ের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বরফ। এতে গাছ ভেঙে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সড়ক চলাচল মারাত্মকভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ঝড়টি ভার্জিনিয়ায় প্রবেশ করার পর সেখানে ২০০টির বেশি গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

গ্রিসে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাডুবিতে দুইজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩

গ্রিসে অভিবাসন প্রত্যাশীদের নৌকাডুবিতে দুইজনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৩ গ্রিস উপকূলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের একটি নৌকা ডুবির ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকায় মোট ৫০ এর বেশি অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন। কোস্টগার্ড গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে। উত্তর ইজিয়ান সাগরের ইক্রিয়া দ্বীপের কাছে এই দুর্ঘটনার পর এক কোস্টগার্ড মুখপাত্র জানান, ‘৫০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের দেখাশোনা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজদের সন্ধানে একটি উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। আজকের মধ্যে রেসকিউ দলের সদস্য ও ডাইভারদেরও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’ এথেন্স থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। স্থানীয় সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান ইআরটি জানায়, তীব্র বাতাস উদ্ধার কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। ইক্রিয়া দ্বীপ তুরস্কের পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত। অভিবাসন প্রত্যাশীরা প্রায়শই এই দ্বীপকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য নৌকা ছাড়ার পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। অনেক অভিবাসী লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ পর্যন্ত অনেক দীর্ঘ পথও পাড়ি দেয়। এই ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রা প্রায়শই প্রাণহানির কারণ হয়। ডিসেম্বরের শুরুতে ক্রিট উপকূলে একটি নৌকা ডুবে ১৭ জনের মৃত্যু হয় ও আরও ১৫ জন নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় কেবল দুই জনই বেঁচে যান। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গ্রিস উপকূলে ১০৭ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, ২০১৪ সালের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৩৩ হাজার অভিবাসী মারা গেছে বা নিখোঁজ হয়েছেন।

ফিলিপাইনে যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবি, নিহত ১৫

ফিলিপাইনে যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবি, নিহত ১৫ ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বাসিলানে যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবির ঘটনায় ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ স্থানীয় সময় ভোরবেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসিলানের মেয়র আরসিনা লাজা কাথিং নানোহ এবং ফিলিপাইন কোস্টগার্ড বাহিনীর বাসিলান শাখার কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেরিটিতে ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন ক্রুসহ ছিলেন। দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ৪৩ জন। এছাড়া জীবিত অবস্থায় এ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ১৩৮ জনকে উদ্ধার করেছেন কোস্টগার্ড বাহিনীর ডুবুরিরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার স্থানীয় সময় ভোরের দিকে বাসিলানের জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে পার্শ্ববর্তী মিন্দানাও প্রদেশের জোলো দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘ত্রিশা কেরস্টিন ৩’ নামের সেই ফেরিটি; কিন্তু যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ডুবে যায়। ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল— তা এখনও জানা যায়নি। কোস্টগার্ড ও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপতত তারা ডুবে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারে মনোযোগ দিচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকারী দলের মুখপাত্র রোনালিন পেরেজ এএফপিকে বলেছেন, “আমরা এখন পর্যন্ত ১৩৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। তাদের মধ্যে ১৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।” তিনি আরও বলেন, “উদ্ধার তৎপরতায় গতি আনতে মিন্দানাও প্রাদেশিক প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এই মূহূর্তে আমাদের কর্মীসংকট চলছে। উদ্ধার তৎপরতাকে গতিশীল করতে আমরা মিন্দানাও দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে তৎপরতা চালাচ্ছি। মিন্দানাও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ এই তৎপরতার সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে আছে।”

মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু, বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু, বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই। আজ রোববার দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন তিনি বিবিসির হয়ে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওতে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ আর বাঙালির দুর্দশার প্রকৃত চিত্র মার্ক টালি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন তিনি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশিদের জন্য অকৃত্রিম বন্ধু। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্ক টালির মৃত্যুর বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব।ব্রিটিশ-ভারতীয় মার্ক টালি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল দেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনে ভূমিকা রাখায় মার্ক টালিকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয় বাংলাদেশ। ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্ম নেওয়া মার্ক টালি পেশাগত জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন ভারতে। টানা ২০ বছর তিনি নয়াদিল্লিতে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন।