ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্কারোপ অবৈধ : মার্কিন আদালত

ট্রাম্পের অধিকাংশ শুল্কারোপ অবৈধ : মার্কিন আদালত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ। এই রায়ের ফলে তার বহুল আলোচিত পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যনীতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লো। খবর বিবিসির। ৭-৪ ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত জানায়, ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) ব্যবহার করে শুল্ক আরোপ করেছেন। কিন্তু এই আইন প্রেসিডেন্টকে এ ধরনের ক্ষমতা দেয় না। শুল্ক আরোপ কংগ্রেসের সাংবিধানিক এখতিয়ার বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। নতুন এই রায় কার্যকর হবে আগামী ১৪ অক্টোবর। এর আগে প্রশাসন চাইলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মামলাটি এখন প্রায় নিশ্চিতভাবেই সর্বোচ্চ আদালতে গড়াচ্ছে। বর্তমানে চীন, মেক্সিকো এবং কানাডার মতো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের ওপরই অন্যায্য শুল্ক আরোপ করে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প এই রায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, যদি বহাল থাকতে দেওয়া হয়, তাহলে এই সিদ্ধান্ত আক্ষরিক অর্থেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে। তিনি লিখেছেন, আজ একটি আপিল আদালত বলেছে আমাদের শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত, কিন্তু তারা জানে যে শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই জিতবে। এই রায় সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, যদি শুল্ক তুলে নেওয়া হয় তবে এটি দেশের জন্য একটি সম্পূর্ণ বিপর্যয় হবে। এটি আমাদের আর্থিকভাবে দুর্বল করে দেবে। কিন্তু আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। ট্রাম্প বাণিজ্যের ওপর জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আদালত রায় দিয়েছে যে, শুল্ক আরোপ করা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না এবং শুল্ক নির্ধারণ কংগ্রেসের মূল ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। রায়ে মার্কিন ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত ট্রাম্পের সেই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার আওতায় শুল্ক আরোপ বৈধ। কিন্তু আদালত স্পষ্ট বলেছে, এই শুল্কগুলো ‘অবৈধ ও আইনের পরিপন্থি’। ১২৭ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায়ে বলা হয়, আইইইপিএ কোথাও শুল্ক কিংবা এর কোনো প্রতিশব্দ উল্লেখ করেনি। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতায় স্পষ্ট সীমা টানার মতো কোনো প্রক্রিয়াগত সুরক্ষাও এতে নেই। তাই আদালতের মতে, কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই বহাল থাকবে। রায়ে আদালত আরো বলেছে, ১৯৭৭ সালে কংগ্রেস যখন এই আইনটি পাশ করেছিল তখন অতীতের অনুশীলন থেকে সরে এসে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের সীমাহীন কর্তৃত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল বলে মনে হয় না। আদালত রায়ে লিখেছে, যখনই কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে চায়, তখন সেটা স্পষ্টভাবে কখনো ‘ট্যারিফ’ বা ‘ডিউটি’র মতো সুস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্য জোটের দায়ের করা দুইটি মামলার প্রেক্ষিতেই এই রায় দিয়েছে আদালত। ওই মামলাগুলো হয়েছিল গত এপ্রিলে দেওয়া নির্বাহী আদেশের পর। সেই আদেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ মূল শুল্ক এবং আরও ডজনখানেক দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। এবং ওই দিনটিকে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকার অন্যায্য বাণিজ্যনীতির হাত থেকে মুক্তির দিন হিসেবে। এরপর মে মাসে নিউইয়র্কভিত্তিক কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড রায় দিয়েছিল, এসব শুল্ক অবৈধ। তবে আপিল প্রক্রিয়া চলার কারণে সেই রায় স্থগিত রাখা হয়। শুক্রবারের রায়ে শুধু বৈশ্বিক শুল্কই নয়, কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের ওপর আরোপিত শুল্কও বাতিল করা হয়েছে। আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এসব শুল্ক মাদক আমদানি ঠেকাতে খুব জরুরি ছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর আরোপিত শুল্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ সেগুলো ভিন্ন ক্ষমতাবলে আরোপ করা হয়েছিল।রায় ঘোষণার আগে হোয়াইট হাউজের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, এসব শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করা হলে তা ১৯২৯ সালের মহামন্দার মতো আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তারা এক চিঠিতে লিখেছিলেন, আইইইপিএ-এর আওতায় প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা হঠাৎ বাতিল করা হলে তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি ও অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে।
বাংলাভাষী মানেই বাংলাদেশি, মোদি সরকারের ব্যাখ্যা চাইলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

বাংলাভাষী মানেই বাংলাদেশি, মোদি সরকারের ব্যাখ্যা চাইলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাভাষী হলেই লোকজনকে আটক করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি না- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেকে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল বিষয়টি নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।এদিন, আদালতে বিচারপতি সুর্য কান্ত, জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পানচোলির বেঞ্চ বলেন, দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা থাকলেও প্রশ্ন হলো- কোনো বিশেষ ভাষাভাষীকে শুধু সেই ভাষার কারণেই বিদেশি হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে কি না। বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, আমরা পরিষ্কার হতে চাই, এই অভিযোগ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কি আসলেই একটি নির্দিষ্ট ভাষা ব্যবহারকারীকে বিদেশি বলে ধরে নিচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ক্ষমতা প্রয়োগ কতটা সঠিক? জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিয়ায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন পর্ষদের চেয়ারপারসন ও তৃণমূল সংসদ সদস্য সমিরুল ইসলাম। তার অভিযোগ, বাংলাভাষী অভিবাসী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে ও নাগরিকত্ব যাচাই না করেই বাংলাদেশে পুশ ইন করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, কলকাতা হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস করপাস মামলা করা হয়েছিল এক নারীর পক্ষ থেকে, যাকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়। হাইকোর্টে ওই মামলা মুলতবি রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টে চলা এই মামলার কারণে। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানায়- দুটি মামলা আলাদা। হাইকোর্ট যেন অবিলম্বে শুনানি শুরু করেন ও নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রশ্নও সেখানে তোলা যেতে পারে। ভূষণ অভিযোগ করেন, শুধু বাংলায় কথা বলার কারণে একজন নারীকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, বাংলা মানেই বাংলাদেশি ভাষা, আর তাই যারা বাংলায় কথা বলে তারা বাংলাদেশি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল কিংবা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি ঘোষণা না করেই কীভাবে কাউকে ঠেলে দেওয়া হয়? তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সমঝোতাও নেই। অন্য কোনো দেশ কাউকে গ্রহণে সম্মতি না দিলে জোর করে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। বিচারপতি কান্ত বলেন, এখানে নানা বাস্তব প্রশ্ন রয়েছে, যা হাইকোর্টকেই দেখতে হবে। বিচারপতি বাগচি মন্তব্য করেন, সীমান্তে ধরা পড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে প্রতিহত করার অধিকার নিরাপত্তাবাহিনীর রয়েছে। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রম করার পর যদি কেউ দেশের ভেতরে থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, কেন ব্যক্তিগত ভুক্তভোগীরা আদালতে আসছেন না? কেন বিভিন্ন সংগঠন সামনে আসছে? ভারত বিশ্বের অবৈধ অভিবাসীদের রাজধানী নয়। আমাদের নাগরিকদের জন্য যে সম্পদ রয়েছে, অবৈধ অভিবাসীরা যেন তা নষ্ট না করে, সেটাই আমরা নিশ্চিত করছি। তবে বিচারপতি কান্ত ইঙ্গিত দেন, অভিযোগ হচ্ছে- কেবল বাংলায় কথা বলার কারণে মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে। মেহেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, না, আমরা সংবাদমাধ্যমের খবরের ওপর নির্ভর করতে পারি না। বিচারপতি বাগচি বলেন, এখানে বিষয়টি সংবেদনশীল। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, সম্পদের সুরক্ষা; অন্যদিকে আমাদের যৌথ ঐতিহ্য- যেমন পাঞ্জাব ও বাংলায় ভাষা এক হলেও সীমান্ত আমাদের আলাদা করেছে। তাই এই অভিযোগ যদি আবেদনে থাকে, তবে কেন্দ্রের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি। মেহেতা জবাব দেন, তিনি সরকারের অবস্থান জানাবেন। তবে এই আইনজীবী ব্যক্তিগত ভুক্তভোগীদের আদালতে আসার ওপর জোর দেন। বিচারপতি কান্ত বলেন, সব ক্ষেত্রে হয়তো ব্যক্তিরা সরাসরি আসতে সক্ষম নন। মেহেতা আরও বলেন, প্রশান্ত ভূষণের মতো ‘জনহিতৈষীরা’ চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অবৈধ অভিবাসন সমস্যায় সাহায্য করতে পারেন। উত্তরে বিচারপতি বাগচি রসিকতা করে প্রশ্ন করেন, আমরাও কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেয়াল তুলব? আলোচনার একপর্যায়ে ভূষণ বলেন, বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত না করে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করার অধিকার আইন দেয় না। মেহেতা প্রস্তাব দেন, এ মামলাটি রোহিঙ্গা ইস্যু সংক্রান্ত চলমান মামলার সঙ্গে একত্রে শোনা হোক। আদালত আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং সলিসিটর জেনারেলকে এই মামলা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক মামলায় সরকারের জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
গাজায় দুর্ভিক্ষে আরও পাঁচ মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়াল

গাজায় দুর্ভিক্ষে আরও পাঁচ মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ছাড়াল গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ২৩ জন ত্রাণপ্রার্থীসহ কমপক্ষে ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার ২৯ আগস্ট গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২৪ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৫৯ হাজার ৪৯০ জনে। চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর ২৭ মে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এড়িয়ে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে একটি পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করে। এতে সমর্থন দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ত্রাণ সম্প্রদায় ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দখলদার বাহিনী খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শত শত মানুষ নিহত হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে জড়ো হওয়া ২ হাজার ২০৩ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। একই সময়ে ত্রাণ নিতে গিয়ে ১৬ হাজার ২২৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। অনাহারে আরও পাঁচ ফিলিস্তিনির মৃত্যু: গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ২৪ ঘণ্টায় দুর্ভিক্ষজনিত কারণে পাঁচ জনের মৃত্যুর রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে দু’জন শিশু রয়েছে। এর ফলে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ৩২২ জনে দাঁড়ালো, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু। গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য নেতানিয়াহু ও তার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। উপত্যকাজুড়ে যুদ্ধের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলারও মুখোমুখি।
রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত

রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত। এমনই অভিযোগ করেছেন ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয় তাদের। এমন অবস্থায় মিয়ানমারের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে এসব রোহিঙ্গা শরণার্থী আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘ বলছে, ভারত রোহিঙ্গাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকির’ মুখে ঠেলে দিয়েছে। শুক্রবার ২৯ আগস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গত ৯ মে সর্বশেষ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন নুরুল আমিন। ফোনালাপটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু ভয়ংকর সংবাদ বয়ে আনে। তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরও চারজনকে ভারতের সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। মূলত ওই দেশটি থেকে তারা বহু বছর আগে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছিলেন। বর্তমানে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলকারী জান্তার বিরুদ্ধে লড়ছে জাতিগত গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে আমিনের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। দিল্লিতে বসে ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কী যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি”। বিবিসি বলছে, তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর বিবিসি মিয়ানমারে ওই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পায়। বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বাহটু আর্মি (বিএইচএ)-এর কাছে। বিএইচএ মূলত একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠী যারা দক্ষিণ-পশ্চিম মিয়ানমারে জান্তার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়ছে। ভিডিও কলে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র”। কাঠের তৈরি ওই আশ্রয়ে তার সঙ্গে ছিলেন আরও ছয়জন রোহিঙ্গা। শরণার্থীরা ও দিল্লিতে থাকা তাদের স্বজনদের ভাষ্য, বিশেষজ্ঞদের তদন্ত ও তথ্য জোগাড় করে বিবিসি ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করেছে। তথ্য অনুযায়ী, তাদের দিল্লি থেকে বিমানে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে শেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে সাঁতরে তীরে ওঠেন তারা। এখন তারা মিয়ানমারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশটি থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপীড়ন এড়াতে পালিয়ে এসেছেন বহু মুসলিম রোহিঙ্গা। জন নামে এক রোহিঙ্গা ফোনে তার ভাইকে জানান, “আমাদের হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে বন্দির মতো জাহাজে তোলা হলো। তারপর সমুদ্রে ফেলে দিলো।” ক্ষোভ প্রকাশ করে নুরুল আমিন বলেন, “মানুষকে কীভাবে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? মানবতা পৃথিবীতে এখনও বেঁচে আছে, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে আমি কোনো মানবতা দেখিনি।”মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এসব অভিযোগ প্রমাণের মতো “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য” তার হাতে আছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণও জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। বিবিসি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বহুবার যোগাযোগ করেছে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি। ভারতে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটি তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত হলেও, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ অভিযানের পর লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। বিবিসি বলছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় থানায় ডেকে পাঠানো হয়। বলা হয়েছিল, সরকারনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর তাদের শহরের ইন্দরলোক আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। আমিন জানান, সেই সময় তার ভাই ফোন করে জানায় তাদের মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং আইনজীবীর সাহায্য নিতে ও ইউএনএইচসিআরকে খবর দিতে বলেন। এরপর ৭ মে তাদের হিন্দন বিমানবন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছে বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। বাসগুলোর গায়ে লেখা ছিল “ভারতীয় নৌবাহিনী”। সৈয়দ নূর বলেন, “বাসে উঠেই আমাদের হাত প্লাস্টিক দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়, আর মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়”। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের নৌবাহিনীর একটি জাহাজে তোলা হয়। বড় যুদ্ধজাহাজটিতে তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিলেন। খাওয়ানো হয়েছিল ভাত, ডাল আর পনির।কিন্তু এ সময় অনেককে মারধর করা হয়, অপমান করা হয়। সৈয়দ নূর বলছেন, “আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। কয়েকজনকে বারবার চড় মারা হয়, অনেককে মারধর করা হয়।” ভিডিও কলে ফয়াজ উল্লাহ তার হাতে আঘাতের দাগ দেখান। তিনি জানান, তাকে ঘুষি, চড় মারা হয়েছিল, বাঁশ দিয়ে খোঁচানো হয়েছিল। জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—“ভারতে অবৈধভাবে কেন এসেছো?”৪০ জনের মধ্যে ১৫ জন ছিলেন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা। নূরের দাবি, তাদের জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেন ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম নিয়েছেন, কেন হিন্দু হননি। এমনকি তাদের খতনা হয়েছে কি না সেটিও পরীক্ষা করা হয়। এমনকি তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগাম হামলায় জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়। অথচ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্কের প্রমাণ নেই। এরপর ৮ মে সন্ধ্যায় তাদের ছোট ছোট রাবারের নৌকায় তুলে সমুদ্রে নামতে বাধ্য করা হয়। হাতে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছেন। কিন্তু আসলে তারা ছিল মিয়ানমারে। এরপর ৯ মে ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খুঁজে পান। জেলেরা তাদের ফোন ব্যবহার করতে দেন, সেখান থেকেই তারা ভারতে থাকা স্বজনদের খবর দেন। এরপর থেকে বাহটু আর্মি ওই রোহিঙ্গাদের খাবার ও আশ্রয় দিচ্ছে। কিন্তু ভারতে থাকা পরিবারগুলো তাদের ভাগ্য নিয়ে ভীষণ আতঙ্কে। জাতিসংঘ বলেছে, ভারত রোহিঙ্গাদের আন্দামান সাগরে ফেলে দিয়ে তাদের জীবনকে “চরম ঝুঁকিতে” ফেলেছে। এদিতে গত ১৭ মে নুরুল আমিনসহ তার এক আত্মীয় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা হয়, এভাবে নির্বাসনে পাঠানোর কাজ বন্ধ করা হয় এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তবে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেন। মামলার শুনানি স্থগিত হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। তখন সিদ্ধান্ত হবে, রোহিঙ্গারা শরণার্থী নাকি অবৈধ অভিবাসী এবং তাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না। জাতিসংঘ থেকে অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি, তারা এসেছে মিয়ানমারের ভয়ংকর সহিংসতা থেকে পালিয়ে। তারা সত্যিই প্রাণ বাঁচাতে ছুটছে।
চীন-ভারত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ

চীন-ভারত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র করার সময়ই ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো চীনা প্রেসিডেন্টের এক গোপন চিঠির মাধ্যমে দুপক্ষে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুতে যখন চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র করছিলেন, তখনই বেইজিং নীরবে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা শুরু করে। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুরমুকে ব্যক্তিগতভাবে একটি গোপন চিঠি পাঠিয়েছিলেন। যদিও চিঠি রাষ্ট্রপতি মুরমুর কাছে পাঠানো হয়েছিল, তারপরও চিঠিটির বার্তা দ্রুতই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের যে কোনও সম্ভাব্য চুক্তি বেইজিংয়ের স্বার্থে ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট বেইজিংয়ের উদ্যোগ পরিচালনার জন্য একজন প্রাদেশিক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। জুনে মোদী সরকার চীনের এই উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করে। তখন ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা এবং ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর ভারতের পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত থামাতে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি করার দাবি নিয়ে সরব হওয়ায় নয়াদিল্লি বিরক্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে চীনের পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছে। কিন্তু ট্রাম্প হঠাৎ ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে সেই কৌশলকেই দুর্বল করে দেন। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভারত ও চীন ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পরেও সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়। দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর ফলে ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি যাত্রী ফ্লাইট শুরু হতে পারে। বেইজিং ভারতকে ইউরিয়া সরবরাহে বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চীনা নাগরিকদের পর্যটন ভিসাও পুনরায় চালু করা হয়েছে। অদ্ভুত হলেও, সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের সূচনা ট্রাম্পের শুল্ক নীতি থেকেই হয়েছে—যা মূলত বেইজিং এবং পরে ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ছিল। মার্চে ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতকে আহ্বান জানায় “আধিপত্যবাদ ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরোধিতা” করার জন্য। শি নিজেই বলেন, “হাতি ও ড্রাগনকে একসঙ্গে নাচানোই একমাত্র সঠিক পথ।”জুলাইয়ে চীনা কর্মকর্তারা একই রূপক ব্যবহার করতে থাকেন। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব দৈনিক গ্লোবাল টাইমস আরেক ধাপ এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক মোকাবেলা করতে দুই এশীয় শক্তির মধ্যে “ব্যালে নৃত্য” করার আহ্বান জানায়। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি লিখেছে, মোদী এ সপ্তাহে শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য চীনে যাবেন। সেখানে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর চীনে সাত বছরের বেশি সময় পর প্রথম সফর। এর আগে তারা শেষবার গত বছরের রাশিয়ার কাজান শহরে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে সাক্ষাৎ করেছিলেন। চীনা-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্টের প্রধান সম্পাদক এরিক ওল্যান্ডার রয়টার্সকে বলেন, “শি সম্মেলনকে ব্যবহার করবেন দেখানোর জন্য যে, যুক্তরাষ্ট্র-পরবর্তী নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কেমন হতে পারে এবং জানুয়ারি থেকে হোয়াইট হাউজের চীন, ইরান, রাশিয়া ও ভারতের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। তিনি আরও বলেন, “ব্রিকস কতটা ট্রাম্পকে হতবাক করেছে, তা দেখলেই বোঝা যায়—এই জোটগুলো ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই তৈরি।” ২০০১ সালে এসসিও প্রতিষ্ঠার পর এ বছরের সম্মেলনটি সর্ববৃহৎ হবে।
ইয়েমেনে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত

ইয়েমেনে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের প্রধানমন্ত্রীর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ২৯ আগস্ট ইসরায়েলের বিমান হামলায় প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাবি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের গণমাধ্যম আল-জুমহুরিয়া টেলিভিশন ও দৈনিক ‘আদেন আল-গাদ’। হামলায় তার কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীরও মৃত্যু হয়েছে বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। বৃহস্পতিবার আরেকটি পৃথক হামলায় হুথি নেতৃত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত হানার চেষ্টা হয়। খবর অনুযায়ী, রাজধানীর বাইরে হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথির ভাষণ শোনার জন্য জড়ো হওয়া ১০ জন শীর্ষ মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, হামলাটি সফল হয়েছে এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াই-নেট জানিয়েছে, হুথিদের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ওই বৈঠকের তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহ করে হামলার সমন্বয় ঘটায়। ভারী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়। হামলার সময় আবদুল মালিক আল-হুথি সরাসরি ভাষণ দিচ্ছিলেন। তবে তিনি বুঝতে পারেননি যে তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলার শিকার হচ্ছেন।লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে ছিলেন হুথিদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুহাম্মদ নাসের আল-আত্তাফি ও সেনাপ্রধান মুহাম্মদ আল-গামারি। আল-আত্তাফি ২০১৬ সাল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে আছেন ও ইরানি বিপ্লবী গার্ড ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। সেনাপ্রধান গামারিও লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। জুন মাসে এক হামলায় তিনি গুরুতর আহত হলেও বেঁচে গিয়েছিলেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এর এক সূত্র জানিয়েছে, আসলে গত রোববারই হুথি নেতৃত্বকে সানায় নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা বৃহস্পতিবার কার্যকর করা হয়।অন্যদিকে, হুথি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হামলায় কোনো শীর্ষ নেতার নিহত হওয়ার খবর অস্বীকার করে বলেন, ইসরায়েল মূলত বেসামরিক স্থাপনা ও সাধারণ ইয়েমেনি জনগণকে নিশানা করছে, কারণ তারা ফিলিস্তিনের গাজার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এ হামলার মাধ্যমে ইয়েমেনে ইসরায়েলের ১৬তম হামলা সংঘটিত হলো। প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলেও হুথিরা নিয়মিতভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের স্লোগান ‘যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস, ইসরায়েলের ধ্বংস ও ইহুদিদের ওপর অভিশাপ’ গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পরপরই হুথিরা ইসরায়েল ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্য করা শুরু করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে অস্ত্রবিরতি হলে তারা কিছুদিন হামলা বন্ধ রাখলেও মার্চে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের পুনরায় শুরু হওয়ার পর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা নতুন করে বেড়ে যায়। এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩টিরও বেশি ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যার কয়েকটি ইসরায়েলের ভেতরে আঘাত হেনেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ও ইসরায়েল এর পাল্টা হামলায় ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কৌশলগত উপকূলীয় শহর হোদাইদাসহ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। মে মাসে ইসরায়েলি হামলায় সানা বিমানবন্দর অচল হয়ে যায়। মে মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হুথিদের সঙ্গে এক চুক্তি ঘোষণা করে। যাতে বলা হয়েছিল, জাহাজ চলাচলে হামলা বন্ধের বিনিময়ে বিমান হামলা বন্ধ হবে। তবে হুথিরা জানায়, তারা ইসরায়েল-সমর্থিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে।
থাই প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করল আদালত

থাই প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত করল আদালত থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী পায়েতংটার্ন সিনাওয়াত্রাকে শুক্রবার তার পদ থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে। মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পর বরখাস্ত হলেন পায়েতংটার্ন। এই ঘটনা সিনাওয়াত্রা পরিবারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা, যা নতুন অস্থিরতার যুগের সূচনা করতে পারে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ৩৯ বছর বয়সী পায়েতংটার্নকে জুলাইয়ে অস্থায়ীভাবে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালত তার রায়ে জানিয়েছে, জুন মাসে ফাঁস হওয়া একটি টেলিফোন কলে পায়েতংটার্ন নীতি লঙ্ঘন করেছেন। ওই ফোনকলে তিনি কম্বোডিয়ার প্রাক্তন নেতা হুন সেনের প্রতি অনুগত ছিলেন বলে প্রমানিত হয়েছে। অথচ ওই সময় উভয় দেশ সশস্ত্র সীমান্ত সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে ছিল। ৬-৩ ভোটে রায়ে আদালত বলেছে যে পায়েতংটার্ন জাতির স্বার্থের আগে তার ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং দেশের সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন, যার ফলে জনসাধারণের আস্থা নষ্ট হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পার্লামেন্টে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পথ সুগম হবে। তবে পায়েতংটার্নের ক্ষমতাসীন ফিউ থাই দল দর কষাকষির ক্ষমতা হারাবে এবং ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে একটি ভঙ্গুর জোট গঠনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।থাইল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী পায়েতংটার্ন, দেশের যুদ্ধরত অভিজাতদের মধ্যে ক্ষমতার জন্য দুই দশক ধরে চলা অস্থির লড়াইয়ের মধ্যে সামরিক বা বিচার বিভাগ কর্তৃক অপসারণ করা বিলিয়নেয়ার শিনাওয়াত্রা পরিবারের ষষ্ঠ বা সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তানের পাঞ্জাবে বন্যায় ১৫ জনের প্রাণহানি

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে বন্যায় ১৫ জনের প্রাণহানি পাকিস্তানের জনবহুল প্রদেশ পাঞ্জাবে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সুতলেজ, রাভি এবং চেনাব— তিন নদীর পানি ফুলেফেঁপে উঠায় এ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে অবকাঠামো, ডুবে গেছে কৃষিজমি, আর ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে হাজারো মানুষকে। বন্যায় ইতোমধ্যে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এতে পাঞ্জাবের মধ্যাঞ্চলীয় জেলাগুলো প্লাবিত হয় এবং এখন বন্যার পানি দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। পাঞ্জাবের শিয়ালকোট, নারওয়াল, হাফিজাবাদ, সারগোদা, লাহোর, কাসুর, ওকারা, গুজরানওয়ালা ও ফয়সালাবাদে ত্রাণ কার্যক্রম ও বন্যা মোকাবেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গুজরানওয়ালার কমিশনার জানান, নিহত ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন শিয়ালকোটে, চারজন গুজরাটে, তিনজন নারওয়ালে, দুইজন হাফিজাবাদে এবং একজন গুজরানওয়ালায় মারা গেছেন। জুনে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানে বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০২ জনে। এর অর্ধেকের মৃত্যু হয়েছে শুধু আগস্ট মাসেই। পাকিস্তানের আবহাওয়য়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঞ্জাবের দক্ষিণাঞ্চলেও এই বন্যা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ)-এর মুখপাত্র ডনকে জানিয়েছে, প্রদেশের ১৭টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এই জেলাগুলো হলো সিয়ালকোট, সারগোধা, চিনিওট, গুজরানওয়ালা, নানকানা, হাফিজাবাদ, মান্দি বাহাউদ্দিন, গুজরাট, লাহোর, নারোয়াল, কাসুর, ওকারা, পাকপাত্তান, ভাওয়ালনগর, ভেহারি, ভাওয়ালপুর এবং লোধরান। ১৭ জেলার মধ্যে আটটি জেলার বন্যা পরিস্থিত অনেক বেশি উদ্বেগজনক।
স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে কঠোর ব্যবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ার

স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে কঠোর ব্যবস্থা দক্ষিণ কোরিয়ার স্কুলের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ বিষয়ে সদ্য একটি আইন পাস হয়েছে যেটি কার্যকর হবে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে। এই আইন মূলত শিশু ও কিশোরদের স্মার্টফোন আসক্তি কমাতে আনা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ক্ষতি করছে এবং একাগ্রতা কমিয়ে দিচ্ছে। নতুন আইনে বলা হয়েছে— ক্লাস চলাকালে কেউ ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। শিক্ষকরা প্রয়োজনে পুরো স্কুল প্রাঙ্গণেই ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে পারবেন। বিশেষ প্রয়োজনে, যেমন—শিক্ষার্থীদের অক্ষমতা, বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন, শিক্ষামূলক কাজ বা জরুরি পরিস্থিতিতে ফোন ব্যবহার করার অনুমতি থাকবে। স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের সঠিক ব্যবহার শেখানোর ব্যবস্থা নেবে। বুধবার সংসদে বিলটি পাস হয়। উপস্থিত ১৬৩ সংসদ সদস্যের মধ্যে ১১৫ জন এর পক্ষে ভোট দেন। এর আগে অনেক স্কুল নিজেরা নিয়ম করে ফোন নিয়ন্ত্রণ করলেও এবার তা আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক হলো। শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুত্ব গড়া, খেলাধুলা কিংবা অন্যান্য কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থীরা দূরে সরে যাচ্ছে। সরকারি জরিপ অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষই ফোনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। কিশোরদের মধ্যে এ হার ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখেই সময় নষ্ট করে। তবে এ আইন নিয়ে শিক্ষার্থী ও কিছু শিক্ষক দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, সমস্যার মূল জায়গা হলো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা (সুনুং)। এই পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শিশুদের প্রথম থেকেই দীর্ঘ সময় পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী মনে করে, শুধু ফোন কেড়ে নেওয়ায় সমস্যার সমাধান হবে না; বরং তাদের শেখাতে হবে কীভাবে ফোন ছাড়া সময় ব্যবহার করা যায়।শিক্ষক সংগঠনগুলোতেও মতভেদ আছে। একটি সংগঠন আইনটির পক্ষে সমর্থন জানালেও অন্যটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। কিছু শিক্ষক মনে করেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে, আবার কেউ কেউ মনে করেন ক্লাসের শৃঙ্খলা রক্ষায় এটি কার্যকর হবে।
শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে যাচ্ছেন কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা

শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে যাচ্ছেন কিম-পুতিনসহ ২৬ বিশ্বনেতা দীর্ঘ ৬ বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন তিনি। এছাড়াও কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা প্রধান দেশগুলোর কোন শীর্ষ নেতা এতে যোগ দিচ্ছেন না। গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক কোনও অনুষ্ঠানে কিমের প্রথম অংশগ্রহণ। তাছাড়া কিমের এ সফর ২০১৯ সালের পর চীনে তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে কিম এ সফরে যাচ্ছেন।