কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের ভারতে আবারও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে পাকিস্তানকে নজিরবিহীন পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে কয়েক দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার এই হুঁশিয়ারির কয়েক দিন পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারতের যেকোনও ‘দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের’ জবাবে কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান। জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানির বার্ষিকীর আগে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশীর মাঝে ওই হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। খাজা আসিফ বলেন, ভারত যদি এবার কোনও ‌‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা এটিকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব। খাজা আসিফের এমন হুমকির বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত ‘নিজেদের লোক অথবা বন্দি পাকিস্তানিদের’ জড়িয়ে একটি সম্ভাব্য ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মরদেহ ফেলে রেখে সেটিকে সন্ত্রাসবাদের দায় দেওয়া হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও ভারতকে ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের হুমকি দিয়ে খাজা আসিফ বলেছিলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের অবকাশ আছে, এমনটা ভাবা অকল্পনীয়। তিনি ভারতের যেকোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ‘দ্রুত’ ও ‘পরিমিত’ জবাব দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করে দেন। পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনও অস্পষ্টতা থাকতে দেবেন না। পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প নিরঙ্কুশ, প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, পরিমিত ও চূড়ান্ত। • পাকিস্তানকে ভারতের হুঁশিয়ারি এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী রাজ্য কেরালায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় রাজনাথ সিং সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যেকোনও ‘দুঃসাহসিকতা’ নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারত। তিনি বলেন, পেহেলগাম হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় বাহিনী ২২ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানকে নতজানু করে ফেলেছিল এবং এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের বৃহত্তম অভিযান। রাজনাথ বলেন, আমি আপনাদের বলতে চাই অভিযানটি এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যদি এমন হীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সমুচিত জবাব দেবে; যা তারা কখনও ভুলবে না। এবার যা ঘটবে তা হবে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ভেতরে অন্তত ৯টি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস এবং দেশটির কয়েকটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে কিছু অবকাঠামো এখনও সংস্কারাধীন রয়েছে। গত বছরের ১০ মে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানানোর পর শত্রুতা বন্ধ হয় এবং উভয় দেশ ধারাবাহিক কিছু প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়। রাজনাথ সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী হয়েছে এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের ধরন বদলে গেছে। তিনি বলেন, উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক কিংবা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে পুলওয়ামা বোমা হামলার জবাবে বিমান হামলা অথবা পেহেলগাম ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে অপারেশন সিঁদুর; আমরা সন্ত্রাসবাদের ওপর শক্তিশালী আঘাত হেনেছি। সূত্র: এনডিটিভি।

ইরানের হামলায় আমিরাত,বাহরাইন,কুয়েতে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি

ইরানের হামলায় আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েতে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রোববার নতুন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত রুয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন লেগেছিল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর, সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে ‘বোরুজ’ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টের বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কারখানাটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’ এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের একটি ড্রোন হামলায় তাদের একটি তেল সংরক্ষণাগারে আগুন লাগে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার ভোরে ড্রোন হামলায় বাপকো এনার্জিসের একটি সংরক্ষণাগারের ট্যাংকে আগুন ধরে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পানি শোধনের প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে এই অঞ্চলের পানি শোধন কেন্দ্রগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পানির চাহিদা মেটাতে শোধন কেন্দ্রগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের রেকর্ড গড়ল ইরান

দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের রেকর্ড গড়ল ইরান ইরানে চলমান ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা বা ব্ল্যাকআউট এখন পর্যন্ত বিশ্বের যেকোনো দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট শাটডাউনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট টানা ৩৭তম দিনে পদার্পণ করেছে। মোট ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য সব সমজাতীয় ঘটনাকে তীব্রতার দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানই প্রথম দেশ যারা প্রথমে সংযুক্ত ছিল এবং পরবর্তীতে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর বিপরীতে উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো কখনো বৈশ্বিক সংযোগের মূল ধারায় যুক্ত ছিল না এবং দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেস প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। বর্তমানের এই নজিরবিহীন ব্ল্যাকআউটের আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়ও ইরান কয়েক সপ্তাহব্যাপী একই ধরনের ইন্টারনেট শাটডাউন কার্যকর করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির ফলে দেশটির সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। সূত্র: সিএনএন।

ইরানে অভিযান চালিয়ে যেভাবে পাইলটকে উদ্ধার করলো মার্কিন বাহিনী

ইরানে অভিযান চালিয়ে যেভাবে পাইলটকে উদ্ধার করলো মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালাতে গিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন ওই ক্রু সদস্য। শনিবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের ‌‘‘অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান’’ পরিচালনা করে ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে। এরপর রোববার সকালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানে নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওই কর্মকর্তা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে মার্কিন ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের রোমহর্ষক অভিযানের তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন এবং তারা উভয়েই বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। তাদের একজনকে আগেই মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন ওই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এবং এটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখন প্রকাশ্যে আসছে। এই অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তা নিচে তুলে ধরা হলো… • কীভাবে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হলো? দক্ষিণ ইরানে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক প্রকার প্রতিযোগিতায় নামে। মার্কিন এই উদ্ধার অভিযানের সঠিক পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট। তবে অভিযানের বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি এটিকে দক্ষিণ ইরানে বিশাল কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) মিশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি জানতে পেরেছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং বিমান থেকে ইজেক্ট করার সময় পাইলট আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূপাতিত বিমানের ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করা মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং মিত্রদের জন্য অন্যতম জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ; যা কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) নামে পরিচিত। এই সিএসএআর মিশনের পেছনে থাকা বিমানবাহিনীর ইউনিটগুলোতে সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে উচ্চ শিক্ষিত এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা কাজ করেন।এসব মিশন সাধারণত হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়; যা শত্রু ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে নিচু হয়ে উড়ে যায়। পাশাপাশি অন্যান্য সামরিক বিমান ওই এলাকায় হামলা চালায় এবং টহল দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ওই পাইলট একজন কর্নেল। তিনি ইরানের দুর্গম পাহাড়ে শত্রু সীমানার ভেতর ছিলেন এবং আমাদের শত্রুরা তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল; যারা প্রতি ঘণ্টায় তার আরও কাছে চলে আসছিল। মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, উদ্ধারের পরিকল্পনা করা ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা ওই বৈমানিকের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিল। কোনও মার্কিনির প্রাণহানি কিংবা আহত হওয়া ছাড়াই এই অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, নিখোঁজ পাইলটকে খোঁজার সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সৈন্যরা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেন। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণ ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে। এর আগে ইরান বলেছিল, তেহরান নিখোঁজ আমেরিকান পাইলটকে জীবিত খুঁজে পেতে চায় এবং তাকে পেতে সাহায্য করার জন্য নাগরিকদের পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। বিধ্বস্ত বিমানের ক্রু সদস্যরা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। থিংক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের সামরিক বিশ্লেষণ বিষয়ক পরিচালক জেনিফার কাভানাঘ বিবিসিকে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে পাইলটকের এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো বেঁচে থাকা এবং বন্দিদশা এড়ানো।তিনি বলেন, তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যে, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং নড়াচড়া করতে অক্ষম হওয়ার মতো গুরুতর আহত না হলে তারা যেন ইজেক্ট করার স্থান থেকে যত দ্রুত সম্ভব দূরে সরে যায় এবং নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্য লুকিয়ে ফেলে। কাভানাঘ বলেন, তারা টিকে থাকার কলাকৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষিত; যাতে তারা খাবার বা পানি ছাড়াই চলতে পারে অথবা স্থানীয় ভূখণ্ড থেকে যতটা সম্ভব খাবার খুঁজে নিতে পারে। • কখন এবং কোথায় বিমানটি ভূপাতিত হয়? ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গত শুক্রবার প্রথম দাবি করে, দেশটির সামরিক বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। এফ-১৫ বিমানটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ এবং খুজেস্তান; এই দুটি সম্ভাব্য প্রদেশের নাম জানানো হয়। ভূপাতিত ওই বিমানে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমানের পাইলটকে আগের একটি অভিযানে উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ারথগ বিমানও অংশ নিয়েছিল; যা উপসাগরের ওপর আক্রান্ত হয় এবং উদ্ধারের আগে এর পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান থেকে উদ্ধার পাইলটকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আক্রান্ত হয় এবং এতে বিমানের ক্রু সদস্যরা আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, দেশটির পাহাড়ে বসবাসকারী যাযাবর উপজাতিরা দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে গুলি চালিয়েছে; যা মার্কিন উদ্ধার অভিযানের অংশ ছিল। বিবিসি ভেরিফাই শুক্রবারের একটি ভিডিও যাচাই-বাছাই করে দেখেছে। যেখানে দেখা যায়, অন্তত তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের দিকে গুলি ছুড়ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা বলেছে, ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড নতুন ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কৃতিত্ব দিয়েছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ অঞ্চলটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের পার্বত্য প্রদেশ। এই প্রদেশে যাযাবরসহ ৭ লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রত্যন্ত উচ্চভূমিতে বন্য প্রাণী এবং চুরি থেকে তাদের পশুর পাল ও ক্যাম্প রক্ষা করার জন্য ওই এলাকার যাযাবররা রাইফেল বহন করে থাকেন। ইরানের তেল এবং অন্যান্য শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খুজেস্তান প্রদেশ। সেখানে ৪৭ লাখের বেশি মানুষ বাস করেন। তাদের মধ্যে আরব, পার্সিয়ান, লোর এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জনগণ রয়েছে। • বিমানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা জানা গেল এফ-১৫ই বিমানটি আকাশ থেকে মাটি এবং আকাশ থেকে আকাশ উভয় ধরনের মিশনের জন্য নকশা করা হয়েছে। সম্ভবত ইরানি ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক কাজে জড়িত ছিল মার্কিন এই যুদ্ধবিমান। আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার ক্ষেত্রে বিমানটি লেজার এবং জিপিএস চালিত নির্ভুল যুদ্ধাস্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য বোমা নিক্ষেপ করতে পারে। এই বিমানে দুজন ক্রু থাকেন।তাদের একজন পাইলট এবং অন্যজন পেছনের আসনের অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। অস্ত্র কর্মকর্তাকে ‘উইজো’ বলা হয়, তিনি লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং অস্ত্রগুলো যথাযথ আক্রমণের জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেন। যুদ্ধবিমানে এই দুই-ক্রু ব্যবস্থা কাজের চাপ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে পাইলট যখন শত্রুর হুমকি এড়িয়ে বিমান চালানোর চেষ্টা করেন, সেই সময় এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ঠিক কী কারণে এই মার্কিন বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী যদি এই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে থাকে, সেক্ষেত্রে এখানে সম্ভবত স্থল থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র কাজ করেছে। সূত্র: বিবিসি।

ইসরায়েল হামলা করেছে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে

ইসরায়েল হামলা করেছে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (৪ এপ্রিল) আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ খবর প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কোনোভাবেই কোনো সম্পর্ক নেই, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরায়েলের যে কৌশল, তাতে এটি নিশ্চিতভাবে তারাই ঘটিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোকে এ অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান, যা এখনো চলমান রয়েছে।

জাপান ও ফ্রান্সের জাহাজ হরমুজ পার হলো

জাপান ও ফ্রান্সের জাহাজ হরমুজ পার হলো ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর প্রথমবারের মতো জাপান ও ফ্রান্স-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো পশ্চিমা ও জাপানি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারের সুযোগ পেল। দ্য গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা ও শিপ ট্র্যাকিং কোম্পানি মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের একটি কনটেইনার জাহাজ, জাপানের একটি এলএনজি ক্যারিয়ার এবং ওমানের মালিকানাধীন তিনটি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি পার হয়। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৫০টির মতো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। এসব জাহাজের সিংহভাগই ছিল ইরান, চীন বা ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই রুটটি বন্ধ করে দেয় এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বেছে বেছে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাতে থাকে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে বাণিজ্যিক চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল। শিপিং জার্নাল লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, জাপানের মিতসুই ওএসকে লাইন্সের সহমালিকানাধীন সোহারা এলএনজি নামের জাহাজটি বৃহস্পতিবার ওমান উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণ রুট দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করে। এটি যুদ্ধের পর উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা প্রথম জাপানি জাহাজ। এ সময় জাহাজটি তার ট্রান্সপন্ডারে নিজেকে ওমানের জাহাজ হিসেবে পরিচয় দেয়। জাপানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৪৫টি জাপানি জাহাজ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে এবং ঠিক কী কারণে বা কোন সমঝোতায় এই জাহাজটিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একই দিন ফ্রান্সের শিপিং গ্রুপ সিএমএ সিজিএমের মালিকানাধীন মাল্টার পতাকাবাহী ক্রিবি নামের একটি কনটেইনার জাহাজও প্রণালিটি অতিক্রম করে। এটি যুদ্ধ শুরুর পর এই পথ পাড়ি দেওয়া প্রথম কোনো পশ্চিমা জাহাজ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফরাসি জাহাজটি ইরানের জলসীমার ভেতরে একটি অনুমোদিত রুট ব্যবহার করেছে, যেটিকে নৌ-বিশেষজ্ঞরা তেহরান টোল বুথ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। যুদ্ধের শুরুতে ইরান এই রুটে যাতায়াতের জন্য বড় অংকের ফি দাবি করেছিল। ফরাসি জাহাজটি গত শুক্রবার ওমানের মাসকাট উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালেও তখনো তাদের ট্রান্সপন্ডারে ‘ওনার ফ্রান্স’ বার্তা প্রচার করছিল। এ ছাড়া ওমান শিপিং ম্যানেজমেন্টের দুটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং একটি এলএনজি ট্যাঙ্কারও একই সময়ে পারস্য উপসাগর পাড়ি দেয়। এর আগে গত মঙ্গলবার চীন তাদের তিনটি জাহাজ পার হওয়ার পর তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও যুদ্ধের শুরু থেকে এই সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২২১টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে, যার ৬০ শতাংশই হয় ইরানের নিজস্ব অথবা ইরানগামী। এদিকে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কারণ সার তৈরির কাঁচামালের এক-তৃতীয়াংশই এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সমন্বিত চাপের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই এই প্রণালি খুলে দিতে পারে, তবে তার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। দ্য গার্ডিয়ান

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেন জান্তাপ্রধান হ্লাইং

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেন জান্তাপ্রধান হ্লাইং নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাঁচ বছর পর মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন হং হ্লাইং পার্লামেন্টের ভে টে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশে তার রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে আরো পোক্ত হলো। আলজাজিরা লিখেছে, সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং আজ দেশটির সামরিকপন্থি পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের ৫৮৪টি ভোটের মধ্যে ৪২৯টি পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল ঘোষণা করেছেন পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্নকক্ষের যৌথ স্পিকার অং লিন দ্বে। ৬৯ বছর বয়সি মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটান এবং তাকে আটক করেন। এর ফলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়।

যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জ বরখাস্ত

যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জ বরখাস্ত মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। স্থানীয় সময় গতকাল তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় বলে জানিয়েছেন দেশটির তিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৪১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেনারেল জর্জ অবিলম্বে অবসরে যাচ্ছেন। তার মেয়াদের আরো এক বছরের বেশি সময় বাকি ছিল। একইসঙ্গে সেনার রূপান্তর ও প্রশিক্ষণ কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডনি ও চ্যাপলেইন কোরের প্রধান মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনকেও বরখাস্ত করেছেন সাবেক ফক্স নিউজ সঞ্চালক ও বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। যুদ্ধের সময় একজন শীর্ষ জেনারেলকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা মার্কিন সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।    

ইরানি মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ

ইরানি মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ  ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস করা যুদ্ধবিমানের ছবি পেয়েছে। যেটি সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড আজ ভূপাতিত করেছে। বিপ্লবী গার্ড যদিও জানিয়েছিল, তারা মার্কিনিদের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ভূপাতিত করেছে। মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। তাসনিম তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যুদ্ধবিমানটি ইংল্যান্ডের লেকেনহিথ বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের ৪৮তম স্কোয়াড্রনের। ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিতে স্কোয়াড্রনটিকে বর্তমানে সেন্ট্রাল কমান্ড মিশন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।  

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ‘এক বিপদ’: ডেমোক্র্যাট নেতারা

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ‘এক বিপদ’: ডেমোক্র্যাট নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য ‘এক বিপদ’ বলে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্যরা। একইসঙ্গে তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উদ্ভট, ভয়াবহ, অশুভ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ওয়াশিংটন সময় বুধবার (০১ এপ্রিল) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা। ৯ কোটি মানুষের ইরানকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন তার কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেসউম্যান ইয়াসামিন আনসারি। এই ধরনের বক্তব্যকে তিনি ‘উদ্ভট, ভয়াবহ এবং অশুভ’ বলে মন্তব্য করেন। কংগ্রেসমান জিম হাইমস বলেন, ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৫ ডলার বেড়ে গেছে। হাইমস আরও বলেন, ট্রুথ সোশ্যাল-এ আজ এক উত্তাল রাত কাটবে। আর তিনি (ট্রাম্প) আসলে কী বলেছেন, সে বিষয়ে আমি এখনও নিশ্চিত নই। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, ট্রাম্প যখন দুই সপ্তাহ আগে দাবি করেছিলেন ‘আমরা জিতেছি’, তখন তিনি আমেরিকার মানুষের কাছে মিথ্যা বলেছিলেন।ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য এক বিপদ বলে মন্তব্য করেন ক্রিস ভ্যান। কংগ্রেসমান লয়েড ডগেট বলেন, ট্রাম্পের ভাষণের মধ্যে ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যাটি’ খুঁজে বের করা কঠিন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই’ বলে তার দাবিটিই সম্ভবত জয়ী হবে। সূত্র: আল-জাজিরা