জ্বালানি সংকটে ভেনেজুয়েলায় এক সপ্তাহ ছুটি ঘোষণা

জ্বালানি সংকটে ভেনেজুয়েলায় এক সপ্তাহ ছুটি ঘোষণা ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ তীব্র গরম ও জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক সপ্তাহের ছুটি ঘোষণা করেছেন। আজ বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ সংকট ও রেশনিংয়ের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে ইস্টার উপলক্ষে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অতীতেও কর্মদিবস কমানো ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নজির রয়েছে। ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, পবিত্র সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়েও সীমিত কার্যক্রম বা ছুটি পালন করা হবে। তিনি জানান, টানা প্রায় ৪৫ দিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে, যা জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে। তবে জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উত্তাল ফিলিপাইন, দেশজুড়ে ধর্মঘট ও জরুরি অবস্থা জারি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে উত্তাল ফিলিপাইন, দেশজুড়ে ধর্মঘট ও জরুরি অবস্থা জারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানিসংকটে বিপর্যস্ত ফিলিপাইনে তেলের আকাশছোঁয়া দামের প্রতিবাদে রাজধানী ম্যানিলায় শত শত মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন। দেশটির পরিবহন ইউনিয়নগুলোর ডাকা দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের অংশ হিসেবে শুক্রবার এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিপাইনে ডিজেল ও পেট্রলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা ম্যানিলা শহর প্রদক্ষিণ করে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। জ্বালানি ঘাটতির কারণে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ফিলিপাইন বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সতর্ক করে বলেছেন যে, দেশের জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও প্রাপ্যতা বর্তমানে ‘আসন্ন বিপদের’ মুখে রয়েছে। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুত অবশিষ্ট রয়েছে। জ্বালানির এই উচ্চমূল্য দেশটির অর্থনীতিতে একটি ‘ক্যাসকেডিং এফেক্ট’ বা ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফিলিপাইন সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ী কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করার পাশাপাশি পরিবহন খরচ কমাতে জ্বালানি ভর্তুকি এবং অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুতদারি, মুনাফাখোরি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরবরাহব্যবস্থায় কারসাজি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে দেশটি।
অবসরে গেলেন নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সুশিলা কার্কি

অবসরে গেলেন নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সুশিলা কার্কি নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কি অবসর ভেঙে দেশের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে সরকার পতনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দায়িত্ব পালন শেষে আবারও অবসরে ফিরে গেলেন তিনি। ৭৩ বছর বয়সী কার্কি সংকটময় সময়ে দেশের হাল ধরার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটি ছিল দেশটির এক অস্থির সময়। বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, ‘এই দায়িত্ব নেওয়ার সময় আমি ভয় ও অনিশ্চয়তায় ডুবে ছিলাম।’ কার্কি বলেন, ‘তবে আমি বিশ্বাস নিয়ে এসেছিলাম-সংকটের সময় অন্তত আশা জাগাতে পারব।’ তিনি এমন এক দেশের নেতৃত্ব দেন, যা তখন গভীরভাবে বিভক্ত ছিল। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন দায়িত্ব নেন, তখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সহিংসতায় সংসদসহ বহু সরকারি ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ৭৭ জন নিহত হন। কার্কি বারবার বলেন, তিনি কখনো এই দায়িত্ব চাননি। জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভের কর্মীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডের মাধ্যমে তার নাম প্রস্তাব করে। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচিত হন। নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। গতকাল রাতে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের জন্য কাজ করা তরুণ প্রজন্মের অনুরোধে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এখন কিছুটা সন্তুষ্টি ও অনেক আশা নিয়ে বিদায় চাইছি।’ দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম কাজগুলোর একটি ছিল সহিংসতা তদন্তে কমিশন গঠন। কমিশন তার পূর্বসূরি চারবারের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিকে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া ৩৫ বছর বয়সী র্যাপার বালেন্দ্র শাহ ৫ মার্চ ভোট দেওয়ার পর কার্কির একটি ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, ‘আপনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে।’ ১৯৫২ সালে পূর্ব নেপালের শিল্পশহর বিরাটনগরে জন্ম কার্কির। ভারতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও কাঠমাণ্ডুতে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। এ সময়ে নারীদের জন্য আইন পেশায় প্রবেশ ছিল বিরল। দ্রুতই নির্ভীক আইনজীবী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন তিনি। অনেকেই এড়িয়ে যেতেন এমন মামলাও তিনি গ্রহণ করতেন।
যুদ্ধে লেবাননে নিহত বেড়ে ১ হাজার ১১৬, বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ

যুদ্ধে লেবাননে নিহত বেড়ে ১ হাজার ১১৬, বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে লেবাননে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৬ জনে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গ্তকাল পর্যন্ত এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু প্রাণহানিই নয়, যুদ্ধের এই তীব্রতায় আহতের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। লেবাননের বিপর্যয় ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৩ হাজার ২২৯ জন। প্রতিনিয়ত সংঘর্ষের কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। নিরাপত্তাহীনতা ও লাগাতার হামলার মুখে দেশজুড়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখো মানুষ। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন অস্থায়ী ক্যাম্পে, আবার কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে লেবাননের প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে লেবাননের বিভিন্ন এলাকা এখন কার্যত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ইরানি হামলায় ৮০০ মার্কিন ও ১ হাজার ৩২১ ইসরায়েলি সেনা নিহত : শেকারচি

ইরানি হামলায় ৮০০ মার্কিন ও ১ হাজার ৩২১ ইসরায়েলি সেনা নিহত : শেকারচি পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক কাঠামো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে এবং এই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ ইরান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেকারচি। গতকাল দেশটির জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মার্কিন সেনাবাহিনী এখন এতটাই বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে যে তারা নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহৃত হোটেলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। শেকারচির মতে, বেসামরিক স্থাপনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা আসলে মার্কিন বাহিনীর চরম পরাজয় এবং আত্মরক্ষায় তাদের অক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। ইরানি জেনারেল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলোও আর নিরাপদ নয়। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেন, যে দেশই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাবে, তাকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তেহরান শান্ত হবে না। গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তাদের সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং এখন তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান’ থেকে সরে এসে ‘আক্রমণাত্মক নীতি’ গ্রহণ করেছে। শেকারচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলামি বিপ্লবের নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা খামেনির দেওয়া চার দফা শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা মার্কিন বাহিনীকে রেহাই দেবেন না। সাক্ষাৎকারে জেনারেল শেকারচি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৮০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ হাজার সেনা আহত হয়েছে। এ ছাড়া ইরানি হামলায় ১,৩২১ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার তথ্যও তিনি প্রদান করেন, যদিও ইসরায়েল এই সংখ্যাটি গোপন করার চেষ্টা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শেকারচি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানান যাতে তারা মার্কিন বাহিনীকে কোনো প্রকার আশ্রয় প্রদান না করে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি কোনো দেশের ভূমি বা আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়, তবে সেই দেশকেও চরম পরিণাম ভোগ করতে হবে। মার্কিন ও ইসরায়েলি শক্তির ওপর ক্রমাগত আঘাত এবং ন্যাটোর অনীহা—সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দিন ফুরিয়ে এসেছে বলেই ইরান মনে করছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল আরও ৫ শতাংশ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল আরও ৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ নিয়ে চলমান আলোচনার অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কার কারণে নতুন করে আরও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আজ নতুন করে ৫.২ ডলার দাম বাড়ার পর ব্রেন্ট নর্থ সী ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৭.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দামও ৪.৯ শতাংশ বেড়ে ৯৪.৭১ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ১৩ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০৩ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৮ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৪০ ডলার হয়েছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সমাধানের নতুন সম্ভাবনা তেলের দামের এই পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
যুদ্ধের ২৭ দিনে ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৩৭

যুদ্ধের ২৭ দিনে ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৩৭ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা চলমান থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ জনে। আজ কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলি জাফারিয়ান। উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলি জাফারিয়ান জানান, যুদ্ধ চলাকালীন এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৪০ জন নারী এবং ২১২ জন শিশু রয়েছে। জাফারিয়ান আরও জানান, এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৮০০ জন নাগরিক আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার নারী এবং ১ হাজার ৬২১ জন শিশু রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই দিন থেকেই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। এভাবেই টানা ২৭তম দিন গড়িয়েছে যুদ্ধ। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।
হরমুজে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজে বাধা দেবে না ইরান

হরমুজে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজে বাধা দেবে না ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ প্রকাশিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই সমুদ্রপথ খোলা থাকবে। ইরানের এই বন্ধুরাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলে এই প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি-সংকট ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ওই সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি বন্ধ বলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম যে দাবি করে আসছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, “অনেক দেশের শিপিং কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা যাদের বন্ধুরাষ্ট্র মনে করি বা অন্য কোনও কারণে অনুমতি দিয়েছি, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে।” আরাগচি আরও বলেন, “আপনারা খবরে দেখেছেন, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত (এ তালিকায় আছে)। গত কয়েক রাতে ভারতের দুটি জাহাজ এই পথ দিয়ে পার হয়েছে। এমনকি আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশও এ তালিকায় আছে। এসব দেশ আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।” ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বা শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচিত, তাদের জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুদ্ধের নেপথ্যে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজ চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আরাগচি বলেন, “আমরা এখন যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই শত্রু বা তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকছে।” ইরান বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে। লয়েডস লিস্টের তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে এই পথে দৈনিক ১২০টির মতো জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে এ সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে হুথি বিদ্রোহীরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে হুথি বিদ্রোহীরা ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এবার সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক ‘অবহিত সূত্রের’ বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুথিরা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এখন তাদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি, যারা আনসারুল্লাহ নামেও পরিচিত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট শত শত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। শুধু ইসরায়েলই নয়, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমা নৌবাহিনীগুলো লোহিত সাগরে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করার চেষ্টা করলেও হুথিদের এই নিয়মিত আক্রমণ ঠেকাতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দাব প্রণালিটি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। যদি হুথি বিদ্রোহীরা এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তবে লোহিত সাগরে পশ্চিমা শক্তির বিকল্প পথগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। তাসনিম নিউজের দাবি অনুযায়ী, এই প্রণালি দখল করা হুথিদের জন্য একটি ‘সহজ কাজ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নতুন হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ার এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি ও পণ্য সংকটের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জি৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্থান পাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি

জি৭ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে স্থান পাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তেহরানের সঙ্গে ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধের মধ্যে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সাত দেশের অর্থনৈতিক জোট জি৭ এর বৈঠক।পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে দুই দিনের এই বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, পুনর্গঠন প্রচেষ্টা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা র সংস্কারের ওপর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আরব নিউজের প্রতিবেদনে একজন ফরাসি কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওই কূটনৈতিক বলেন, ‘বিশ্ব শাসনের সংস্কার’ বিষয়ক একটি ভিত্তিগত আলোচনার মাধ্যমে বৈঠকটি শুরু হবে, যা বৃহত্তর আলোচ্যসূচির রূপরেখা নির্ধারণ করবে। মন্ত্রী পর্যায়ের এই সমাবেশটি ছয়টি কার্যকরী অধিবেশনে বিভক্ত হবে। এর প্রথম তিনটি অধিবেশনে শুধু জি৭ সদস্যরাই নয়, আমন্ত্রিত অংশীদার—সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, ভারত এবং ইউক্রেনও—অংশগ্রহণ করবে এবং এরপর শেষ তিনটি অধিবেশনে শুধুমাত্র জি৭-এর সদস্যদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ফরাসি কূটনীতিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জি৭ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটি দুই দিনব্যাপী ছয়টি অধিবেশনে অনুষ্ঠিত হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, এই কাঠামোটি জি৭ সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রথম দিন: শাসনব্যবস্থা, পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রথম অধিবেশনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের ওপর আলোকপাত করা হবে, যার মধ্যে শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যকারিতা এবং খরচ কমাতে ও কার্যকারিতা বাড়াতে মানবিক সহায়তা সরবরাহ ব্যবস্থাকে যৌক্তিক করার প্রচেষ্টা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে একাধিক অঞ্চলের পুনর্গঠন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে, যার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হবে চেরনোবিলের আটক রাখার তোরণটির পুনরুদ্ধার। কূটনীতিক বলেন, “চেরনোবিল বিস্ফোরণের ৪০তম বার্ষিকীতে আমরা এই তোরণটি মেরামত করার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কাজ করব। তিনি আরও যোগ করেন, ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং প্রথমবারের মতো একটি বিস্তারিত ব্যয় মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। যার আনুমানিক পরিমাণ ‘কমপক্ষে কয়েক কোটি’ পর্যন্ত পৌঁছাবে। একই অধিবেশনে সিরিয়া এবং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ক্যাপটাগন মাদক পাচার প্রতিরোধের প্রচেষ্টা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণকে উৎসাহিত করার উদ্যোগগুলোও পর্যালোচনা করা হবে। কূটনীতিক ‘এই অঞ্চলে পুনর্গঠনের ব্যাপক প্রয়োজনীয়তার’ ওপর জোর দেন। দ্বিতীয় দিন: সার্বভৌমত্বের হুমকি ও বৈশ্বিক সংকট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে অনুভূমিক হুমকি ও সার্বভৌমত্ব বিষয়ক একটি অধিবেশনের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে মাদক পাচার মোকাবেলায় বন্দরগুলোর একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক তৈরির লক্ষ্যে একটি জি-৭ টাস্ক ফোর্স গঠনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যান্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জুলাই মাসে মার্টিনিকে অনুষ্ঠিতব্য ক্যারিবিয়ান আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলন, যা মাদক পাচারের উপর আলোকপাত করবে এবং ১৯ শে মে অনুষ্ঠিতব্য পঞ্চম ‘সন্ত্রাসে অর্থ নয়’ সম্মেলন। আলোচ্যসূচিতে মার্কিন ও কানাডীয় উদ্যোগসহ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। শুধুমাত্র জি-৭ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত শেষ তিনটি অধিবেশনে সবচেয়ে সংবেদনশীল কিছু ভূ-রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইউক্রেন, ইরান এবং বৈশ্বিক সংঘাতপূর্ণ এলাকা চতুর্থ অধিবেশনে ইউক্রেনের ওপর আলোকপাত করা হবে, যেখানে জ্বালানি, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর ধারাবাহিক চাপ প্রয়োগের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আশা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে অংশ নেবেন এবং আলোচনায় চেরনোবিল আর্চ প্রকল্প ও বৃহত্তর জ্বালানি স্থিতিস্থাপকতা সহায়তার বিষয়টিও পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। পঞ্চম অধিবেশনে ইরানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে, যার মধ্যে পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চূড়ান্ত অধিবেশনে ইন্দো-প্যাসিফিক, সুদান, হাইতি, গাজা, ভেনেজুয়েলা এবং কিউবাসহ একাধিক অঞ্চলের বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে। ফরাসি কূটনীতিক বলেন, আমরা যতটা সম্ভব, অবাধ ও অনানুষ্ঠানিক আদান-প্রদানকে সমর্থন করি, যা জি৭-এর চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অধিবেশনে গণমাধ্যমকর্মীরা কার্য অধিবেশনে প্রবেশাধিকার পাবেন না, তবে একটি নির্দিষ্ট প্রেস সেন্টার থেকে কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ) ফরাসি প্রেসিডেন্সি সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে। যা ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। প্রত্যাশিত ফলাফলগুলোর মধ্যে রয়েছে শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন এবং সামুদ্রিক বন্দর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক পাচার রোধে একটি জি-৭ টাস্ক ফোর্স চালু করা। আঞ্চলিক ফলোআপ সম্মেলনেরও পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মধ্যে ক্যারিবিয়ানে নিরাপত্তা বৈঠক এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্যাপটাগন পাচার বিষয়ক বৈঠক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পঞ্চম ‘সন্ত্রাসে কোনো অর্থ নয়’ সম্মেলনটি ১৯ মে অনুষ্ঠিত হবে, যার মূল লক্ষ্য থাকবে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোতে আর্থিক প্রবাহ ব্যাহত করা। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন এবং নভেম্বরে মার্সেইতে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে আরও রাজনৈতিক সমন্বয় প্রত্যাশিত, পাশাপাশি ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৭ জুন এভিয়ানে নির্ধারিত জি৭ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের আগেও এই সমন্বয় সভা হবে। ফরাসি কূটনীতিক এই এজেন্ডাকে নিরাপত্তা, পুনর্গঠন এবং শাসন সংস্কার জুড়ে ‘সুনির্দিষ্ট ফলাফল’ অর্জনের লক্ষ্যে একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা একইসাথে জি৭-এর আনুষ্ঠানিক সমন্বয় এবং অনানুষ্ঠানিক কূটনীতির ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।