ইরান ইস্যুতে পেজেশকিয়ান-নেতানিয়াহুর সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ

ইরান ইস্যুতে পেজেশকিয়ান-নেতানিয়াহুর সঙ্গে পুতিনের ফোনালাপ ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এক বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানায়, ‘ভ্লাদিমির পুতিন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন’, এবং এতে ‘মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে রাশিয়ার প্রস্তুতির’ কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের ‘ফলাফল খুব শিগগিরই’ জানানো হবে। তিনি আরো বলেন, পুতিন ‘উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন’।
ইরানে দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করল নিউজিল্যান্ড

ইরানে দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করল নিউজিল্যান্ড ইরানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে নিউজিল্যান্ড। আজ দেশটির জানায়, দূতাবাসের কূটনীতিকদের নিরাপদে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, বাণিজ্যিক বিমানে করে কূটনৈতিক কর্মীরা ইরান ত্যাগ করেছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তেহরান দূতাবাসের কার্যক্রম এখন তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ইরান ভ্রমণের বিষয়ে নিউজিল্যান্ড সরকার আগের মতোই সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে। বর্তমানে যেসব নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত দেশ ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সামরিক আইন জারির ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড

সামরিক আইন জারির ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। এই সাজা দেয়া হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিতর্কিত সামরিক আইন জারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে। সরাসরি সম্প্রচার করা হয় আদালতের এই রায়টি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) মামলার রায়ে আদালত জানিয়েছেন, ইউন সুক ইওল বিচারিক কাজে বাধা প্রদান এবং সরকারি নথিপত্র জাল করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে তার জারি করা সামরিক আইন সংক্রান্ত গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধা দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে আদালতে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির চেষ্টার পর ইউনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটিই তার বিরুদ্ধে প্রথম কোনো বড় রায়। এ ছাড়া সরকারি নথিপত্র জাল করা এবং মার্শাল ল জারির ক্ষেত্রে সংবিধান ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগেও সাবেক প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সিউলের সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট আদালত এ মামলায় ইউন সুক ইওলকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একাধিক অভিযোগে।
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইসরায়েল

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইসরায়েল ইসরায়েলে ৪ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। আজ জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইউরোপিয়ান-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ২ হিসেবে নিশ্চিত করেছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ ইসরায়েলের ডিমোনা শহরের কাছাকাছি এলাকায়। ভূমিকম্পের পরপরই লোহিত সাগর অঞ্চল ও দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমিতে সতর্কতা জারি করে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড। সতর্কতার পর এসব অঞ্চলের বাসিন্দারা ভূমিকম্প অনুভব করার কথা জানান। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসাসেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত

নির্বাচনের আগে নেপালের সবচেয়ে পুরোনো দল বিভক্ত নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে, দেশটির সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলটির বিদ্রোহী একটি অংশ সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সভাপতি নির্বাচন করেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। এই বিভাজন নেপালের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সেপ্টেম্বর দুর্নীতি, শাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে হওয়া বিক্ষোভে নেপালের আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। আজ ভোরে দেওয়া বক্তব্যে নেপালি কংগ্রেসের নব-নির্বাচিত সভাপতি গগন থাপা বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাকে নেপালি কংগ্রেসের মতো একটি দলের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । এটি ছোট কোনো দায়িত্ব নয়। আমি আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করছি যে আপনাদের হতাশ করব না।’ তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। নেপালি কংগ্রেসের কোন অংশটি বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আগামী ৫ মার্চ নির্ধারিত নির্বাচনে ঐতিহ্যবাহী গাছ প্রতীক ও দলীয় পতাকা ব্যবহার করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টারাই এএফপিকে বলেন, ‘কমিশন চিঠিপত্র পেয়েছে এবং এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।’ পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা ২০১৬ সাল থেকে নেপালি কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে বিদ্রোহী নেতারা একটি বিশেষ সম্মেলনের আহ্বান করেন। বিভক্তি এড়াতে বুধবার পর্যন্ত আলোচনা চললেও, শের বাহাদুর দেউবার সরে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে থাপাসহ দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিদ্রোহী অংশ গগন থাপাকে তাদের সভাপতি নির্বাচন করে। ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপা নেপালি কংগ্রেসের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং তিনি আগে দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। নেপালি কংগ্রেসের এই ভাঙন দেশটির রাজনীতিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রজন্মগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার দাবি পুরোনো দলগুলোর কাঠামো বদলে দিচ্ছে এবং নতুন মুখদেরকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। বছরের পর বছর অর্থনৈতিক স্থবিরতায় জন-অসন্তোষ আরও তীব্র হয়। অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি আগামী নির্বাচনের জন্য একটি ‘ন্যায্য ও ভয়মুক্ত’ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইরানে হামলার শঙ্কা: আতঙ্কে সৌদি, আমিরাত ও কাতার

ইরানে হামলার শঙ্কা: আতঙ্কে সৌদি, আমিরাত ও কাতার ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর তেহরানের কঠোর দমনপীড়ন এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো। তেহরান ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তবে সেই ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এমন হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অতিসত্ত্বর ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।প্রয়োজনে তুরস্ক বা আর্মেনিয়া হয়ে স্থলপথে সীমান্ত পার হওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে। এদিকে ইরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানালেও সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিক্ষোভকারীদের সাহসের প্রশংসা করে ইরানে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাত হয়েছিল। ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সব পক্ষ। আরব দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে চরম সাবধানতা বজায় রাখছে। চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোড়া লাগানোর পর রিয়াদ এখন আর নতুন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। সৌদি বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে যদি সম্পূর্ণ অরাজকতা তৈরি হয় বা বর্তমান সরকারের পতন ঘটে, তবে সেই বিশৃঙ্খলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। এটা রিয়াদের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার জন্য বড় হুমকি। একই সুর শোনা যাচ্ছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কণ্ঠেও। কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে। গত জুনে কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার স্মৃতি এখনো দগদগে। অন্যদিকে ইরাকও এই সংকটের বাইরে নয়। যুদ্ধের আঁচ যেন তাদের সীমানায় না পৌঁছায় সে জন্য বাগদাদ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক বর্তমানে কোনো পক্ষ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দেশটি চরম বিপাকে পড়বে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সবাই চাইছে বড় কোনো সংঘাত এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখতে।
দোলাচলে গ্রিনল্যান্ডবাসী, সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক

দোলাচলে গ্রিনল্যান্ডবাসী, সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে একসঙ্গে উদ্বেগ ও স্বস্তির অনুভূতি দেখা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা দ্বীপটি নিয়ে বুধবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন আর্কটিক এই ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘মৌলিক মতপার্থক্যের’ কথা জানান। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন ‘ শেষ পর্যন্ত কিছু একটা সমাধান আসবে।’ এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অনমনীয় মনোভাব প্রকাশের পর সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইতোমধ্যে ডেনমার্কের সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের বেশ কয়েকটি ইউনিটকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। ডেনমার্কের সংবাদমাধ্যম ডিআর-এর বরাতে আরও জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অগ্রবর্তী কমান্ডের এই ইউনিটগুলোর মূল দায়িত্ব হবে গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি সংখ্যক সেনা উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা তৈরি করা। ডেনমার্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি সরকারের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এনহেডস্লিস্টেন পার্টির এক মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে ডি আর-কে বলেন, আমরা গত সপ্তাহে সরকারকে এমন একটি অনুরোধ করেছিলাম। এটা খুবই সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং আমরা সংবাদ পেয়েছি যে ইউরোপের অন্যান্য দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডে যদি কোনো বড় শক্তি হামলা করতে চায়, সেক্ষেত্রে এটা সেই বড় শক্তির উদ্দেশে পাঠানো স্পষ্ট সতর্কতা সঙ্কেত। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন। এই জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও এই দ্বীপটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রদেশ। এ দ্বীপের বাসিন্দারাও ডেনমার্ক এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিক।
ফের আকাশসীমা চালু করল ইরান

ফের আকাশসীমা চালু করল ইরান হঠাৎ করেই আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। ফলে শুরু হয়েছিল নতুন গুঞ্জন। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো আসন্ন মার্কিন হামলা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। তবে কয়েক ঘণ্টা যেতেই আবারও নিজেদের আকাশসীমা চালু করেছে ইরান। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থানীয় সময় আজ ভোররাতে আকাশসীমায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় দেশটি। সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় বুধবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তেহরান। মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশ অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় রাত দশটা পনেরো মিনিট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। সে সময় আন্তর্জাতিক আগমন ও প্রস্থানকারী বিশেষ অনুমোদিত ফ্লাইট ছাড়া সব ধরনের বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে গ্রিনিচ মান সময় বৃহস্পতিবার রাত তিনটার কিছু আগে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সার্ভিস ফ্লাইটরাডার-টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, আকাশসীমা খোলার পরপরই ইরানের অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু ফ্লাইট পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে।
ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২,৬০০ জন: মানবাধিকার সংস্থা

ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২,৬০০ জন: মানবাধিকার সংস্থা ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভে অন্তত ২,৬০০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী, সাধারণ বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে। এইচআরএএনএ জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য তারা যাচাই করেছে। এ ছাড়া সরকার সংশ্লিষ্ট অন্তত ১৪৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, দেশজুড়ে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অস্থিরতায় প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীরা’ দায়ী। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। এদিকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির শাসকদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে ‘সব ধরনের বিকল্প’ খোলা রয়েছে। দ্রুত বিচার চায় ইরানের প্রধান বিচারপতি তেহরানের একটি কারাগার পরিদর্শনের সময়, যেখানে গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীদের রাখা হয়েছে, ইরানের প্রধান বিচারপতি বলেন—যারা মানুষকে শিরচ্ছেদ করেছে বা পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত বিচার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে। এইচআরএএনএ আরও জানিয়েছে, এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ১৮,১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার তেহরানে অস্থিরতার সময় নিহত ১০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীর স্মরণে একটি জানাজা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেঙ্গাও (Hengaw) জানিয়েছে, কারাজ শহরে বিক্ষোভসংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বুধবার কার্যকর করার কথা ছিল। হেঙ্গাও রয়টার্সকে জানায়, ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সোলতানির সাজা কার্যকর হয়েছে কি না, তা তারা নিশ্চিত করতে পারেনি। রয়টার্সও স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি।
গ্রিনল্যান্ডে দূতাবাস খুলবে ফ্রান্স

গ্রিনল্যান্ডে দূতাবাস খুলবে ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে দূতাবাস খুলবে ফ্রান্স। বুধবার এক বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেছেন, ফ্রান্স আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি গ্রিনল্যান্ডে একটি দূতাবাস খুলবে। তিনি এই পদক্ষেপকে ডেনিশ ভূখণ্ডের ওপর একটি কৌশলগত ‘রাজনৈতিক সংকেত’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর এমন পদক্ষেপের কথা জানালো ফ্রান্স। খবর এএফপির।প্রায় এক বছর আগে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলে আসছেন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট ফরাসি আরটিএল সম্প্রচারককে বলেন, গত গ্রীষ্মে যখন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গ্রিনল্যান্ড সফরে এসেছিলেন, তখন সমর্থন প্রকাশের জন্য সেখানে দূতাবাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি আগস্টের শেষে সেখানে গিয়েছিলাম দূতাবাসের বিষয়ে পরিকল্পনা করার জন্য, যা আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি খোলা হবে। এটি একটি রাজনৈতিক সংকেত যা বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রসহ গ্রিনল্যান্ডে আরও বেশি উপস্থিতির আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড মালিকানাধীন, শাসিত… অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হতে চায় না। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক, ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বেছে নিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের নেতারা বলেছেন যে, দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবেই থাকতে পছন্দ করবে। অপরদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া বা চীনের দখলের হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডকে দখল করা প্রয়োজন।