ইন্দোনেশিয়ায় আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬

ইন্দোনেশিয়ায় আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬ ইন্দোনেশিয়ার সিয়াউ দ্বীপে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আজ দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, আকস্মিক বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে উদ্ধারকারী দল তল্লাশি চালাচ্ছে। বন্যায় ২২ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৭০০ গ্রামবাসী বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানান তিনি। আবদুল মুহারি বলেন, ভোর থেকে শুরু হওয়া তীব্র বৃষ্টিতে নদীর পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, বড় বড় পাথর ও উপড়ে যাওয়া গাছ ভেসে গেছে। বন্যার কারণে কয়েকটি সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বহু বাড়িঘরসহ সরকারি ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে বন্যা দেখা যায়। গত বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যা হয়। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুমাত্রা দ্বীপে এসব দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ১৭৮ জন নিহত এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যদিও প্রতি বছরই বর্ষায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়, তবে নভেম্বরের সুমাত্রার বন্যা ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও সুনামির পর দ্বীপটিতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগগুলোর একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫ জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হওয়ার কারণে ইরানে টানা ৯ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে দেশজুড়ে সহিংসতা ও প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। ইন্টারনেট সংযোগে ব্যাপক বিঘ্ন এবং কঠোর নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে প্রকৃত হতাহত ও গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। আজ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৯ জন বিক্ষোভকারী, ৪ জন শিশু এবং ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ২ জন সদস্য রয়েছেন। ইরানের ভেতর থাকা বিস্তৃত কর্মী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দেশটির অতীতের অস্থিরতার সময়েও নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজনা, মারভদাশত ও কোরভেহ শহরে অন্তত ৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বিক্ষোভে আহত হয়েছেন অন্তত ৬৪ জন, যাদের অধিকাংশের শরীরে পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটের আঘাত রয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ৪৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু এলাকায় সরাসরি গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠলেও দেশটির অন্তত ৮৮টি শহরের ২৫৭টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও শ্রমিক ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়েই মৃত্যু ও গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ও অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো, তবে পরিসংখ্যান ভিন্ন ছিল। রয়টার্স এসব সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। ২০২২ সালে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে ২২ বছরের কুর্দি ইরানি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যুর পর দেখা দেওয়া গণবিক্ষোভের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। তবে এবার জনগণের অসন্তোষের ব্যাপারে দেশটি শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সুর তুলনামূলকভাবে অনেকটা নরম। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিনিধিদের’ সঙ্গে বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়ে ‘সমস্যা সমাধানে’ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব মাচাদোর

ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব মাচাদোর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বছর প্রাপ্ত তার নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। গতকাল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা বিশ্বাস করেন এই পুরস্কারটি তাদের সবার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে এর অংশীদার করতে পারলে খুশি হবেন। মাচাদো গত বছর যখন নোবেল পুরস্কারটি জেতেন, তখন ট্রাম্পও এটি পাওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে যখন নরওয়ের অসলোতে উপস্থিত হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন মাচাদো, তখন থেকেই তাদের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুহূর্তে ট্রাম্পের এই অসন্তোষ মাচাদোর ক্ষমতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মাচাদোর নোবেল গ্রহণ করার সিদ্ধান্তটিকে ট্রাম্প ইতিবাচকভাবে নেননি। কর্মকর্তারা মনে করেন, মাচাদো যদি পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করতেন, তবে হয়তো আজ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট থাকতেন তিনি। এদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা আটক করার পর সামাজিকমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। ওই পোস্টে তিনি বলেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে এবং তারা এখন ক্ষমতা নিতে প্রস্তুত। কিন্তু এর দুই ঘণ্টা পর এক সংবাদ সম্মেলনে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়- মাচাদো ভেনেজুয়েলার পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলাকে চালানোর মতো সমর্থন ও সক্ষমতা মাচাদোর নেই। দেশটির সবাই তাকে সম্মান করেন না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলার জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক চিঠিতে মাচাদো বলেন, জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাদুরোর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে মাচাদো বলেন, নিকোলাস মাদুরো আজ থেকে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন। ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের জন্য তাকে এখন জবাবদিহি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে মাদুরো বারবার অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে মার্কিন সরকার আইন প্রয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মাচাদোর ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় এখন জনগণের শাসন ও সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার সময় এসেছে। তিনি বলেন, দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং একটি নতুন ভেনেজুয়েলা গড়ে তোলা হবে।

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান ফের শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান। দেশটির পশ্চিম উপকূলে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ৬ দশমিক ২ মাত্রার এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে দেশজুড়ে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। খবর এএফপির। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, শিমান প্রিফেকচারে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ওই ভূমিকম্প থেকে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বলছে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়াসুগিতে কম্পনের শিন্দো স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা পাঁচের বেশি। এই স্তরে ভারী আসবাবপত্র পড়ে যেতে পারে এবং চালকদের স্টিয়ারিংয়ে সমস্যা হতে পারে। জেএমএ জানিয়েছে, একই অঞ্চলে ৪.৫, ৫.১, ৩.৮ এবং ৫.৪ মাত্রার বেশ কয়েকটি ছোট ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের ‌‘রিং অফ ফায়ার’ এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপরে অবস্থিত এবং বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্প-সক্রিয় দেশগুলোর মধ্যে একটি। প্রায় ১২৫ মিলিয়ন মানুষের আবাসস্থল এই দ্বীপপুঞ্জে প্রতি বছর প্রায় ১৫০০টি ভূমিকম্প অনুভূত হয় যাদের বেশিরভাগই কম মাত্রার।

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের ঘটনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত

মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের ঘটনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ইয়ার ল্যাপিড তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, “ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে সেদিকে ইরান সরকারের কড়া নজর রাখা উচিত।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করার এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার হুমকি দেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মাদুরোকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার কারণ সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর আল-জাজিরার। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদির মতে, “আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের দৃষ্টান্ত বিশ্বকে অস্থিতিশীল এবং যুদ্ধকে আরো সম্ভাব্য করে তুলছে।” তিনি আরো বলেন, “মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের অপহরণের ঘটনাটি ইরানকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতি নিতে প্ররোচিত করতে পারে, যা তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে উসকে দেবে।”  সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল-জাজিরাকে বলেন, “ভেনেজুয়েলায় মার্কিন পদক্ষেপ ট্রাম্পের সর্বোচ্চ লক্ষ্যগুলো প্রদর্শন করে, যা কূটনীতির সম্ভাবনাকে আরো ক্ষীণ করে দিচ্ছে।” তিনি বলেন, “ইসরায়েল, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি সম্ভাব্য সংঘাতের পথে রয়েছে।” ইরান-ভেনেজুয়েলা জোট মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার এই মার্কিন অভিযানটি ট্রাম্পের কয়েক মাসের তীব্র বাগাড়ম্বরের পর চালানো হলো। মার্কিন কর্মকর্তারা মাদুরোর বিরুদ্ধে একটি মাদক সংগঠন পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন এবং ট্রাম্প দাবি করছেন, ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের অধিকারী হওয়ার যোগ্য। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মাদুরোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দেশটিতে শক্ত অবস্থান করে দিচ্ছে। ইরানের মিত্র সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হওয়ার পর, মাদুরোর বিদায়ে ইরানের মিত্রদের বলয় আরো সংকুচিত হতে পারে। ইরান সরকার ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ইঙ্গিত দেন যে, মাদুরোর অপহরণ ওয়াশিংটনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য একটি বার্তা। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই অভিযানের পরও তার কঠোর বার্তা বজায় রেখেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমরা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। আমরা শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব।” ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকি গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরান যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন করে তাহলে তিনি আবারও দেশটিতে বোমা হামলা করবেন। ইসরায়েল গত জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল, এতে তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, বেশ কয়েকজন পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং কয়েক শ’ বেসামরিক মানুষ নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রও সেই হামলায় যোগ দিয়ে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। ট্রাম্প এই যুদ্ধকে সফল দাবি করলেও ইরানে সরকার টিকে রয়েছে। তেহরান ইসরায়েলের দিকে শত শত রকেট নিক্ষেপ করে এর জবাব দিয়েছিল। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদির মতে, ইরানে ভেনেজুয়েলার অভিযান চালানো অনেক বেশি কঠিন হবে, কারণ ইরানের পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা অনেক বেশি। মাদুরোবিহীন ভেনেজুয়েলা ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে সরিয়ে দিলেও দেশটির শাসনব্যবস্থায় ধস নামেনি। ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এখন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি মাদুরোকেই ভেনেজুয়েলার ‘প্রকৃত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে মানার কথা বলেছেন। ট্রাম্প রদ্রিগেজকেও হুমকি দিয়েছেন যে, তিনি যদি মার্কিন দাবি না মানেন তাহলে তাকে মাদুরোর চেয়েও ‘বড় মূল্য’ দিতে হবে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় আবারো বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তেলের ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনসহ আরো কয়েকজন যুক্তি দিচ্ছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে সফল হয়, তাহলে তারা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ফলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা করতে পারবে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ইরানের হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ হয়, যা যুদ্ধের সময় তেহরান বন্ধ করে দিতে পারে। আবদি বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল তাত্ত্বিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি হ্রাসের ক্ষতি পূরণ করতে পারে, তবে এটি নির্ভর করছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা কতটা সফল হয় তার ওপর।

মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলায় মার্কিন আদালতের মুখোমুখি মাদুরো

মাদক-সন্ত্রাসবাদের মামলায় মার্কিন আদালতের মুখোমুখি মাদুরো ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার মাত্র দুইদিন পরেই এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা তেলসমৃদ্ধ এই দক্ষিণ আমেরিকান দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনী তাদের আটক করে। মার্কিন জেলা জজ আলভিন কে হেলরস্টেইনের আদালতে স্থানীয় সময় আজ দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়) তাদের হাজির করার কথা রয়েছে। তারা কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাদুরো বিজয় ঘোষণা করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাকে একজন অবৈধ স্বৈরশাসক হিসেবে অভিহিত করে আসছিল। তার এই গ্রেপ্তার ৩৭ বছর আগে পানামায় মার্কিন আগ্রাসনের পর ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিতর্কিত হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, মাদুরো ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কার্টেলের মূল হোতা। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার টন কোকেন পাচার করেছে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের একটি মামলায় মাদুরোকে প্রথম অভিযুক্ত করা হয়েছিল। গত শনিবার প্রকাশিত একটি নতুন অভিযোগপত্রে মার্কিন প্রসিকিউটররা দাবি করেন, মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে একটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক তদারকি করতেন। এই নেটওয়ার্ক মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জেতাস কার্টেল, কলম্বিয়ার আধাসামরিক গোষ্ঠী এফএআরসি এবং ভেনেজুয়েলার গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র মতো বিশ্বের সবচেয়ে সহিংস ও শক্তিশালী মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছিল। নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের প্রসিকিউটরদের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমান কার্যত শাসক হিসেবে মাদুরো নিজের, তার পরিবারের এবং তার শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের স্বার্থে কোকেন-নির্ভর দুর্নীতির বিকাশ ঘটিয়েছেন।” মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখা এবং সেগুলো ব্যবহারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার কয়েক দশক থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। প্রসিকিউটররা আরো বলছেন, ২০০০ সালে ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে ২০০৬-২০১৩ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং ২০১৩ সালে হুগো শাভেজের উত্তরসূরি হিসেবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেও মাদুরো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন মাদুরো পরিচিত মাদক পাচারকারীদের কাছে কূটনৈতিক পাসপোর্ট বিক্রি করেছেন এবং মেক্সিকো থেকে ভেনেজুয়েলায় মাদক বিক্রির টাকা পরিবহনের জন্য বিমানের কূটনৈতিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার স্ত্রী রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট অপরাধী গ্যাং ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষের জব্দ করা কোকেন পাচার করেছেন এবং নিজেদের কার্যক্রম রক্ষা ও ঋণ আদায়ের জন্য অপহরণ, মারধর ও হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন মাদুরো কোকেন পাচারের রুট নির্ধারণ, চালানের সুরক্ষায় সামরিক বাহিনী ব্যবহার, সহিংস পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেওয়া এবং মাদক সরানোর জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল সুবিধা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদুরোর সাজা নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটরদের মাদক পাচারে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ দেখাতে হবে। যদি তিনি নিজেকে পর্দার আড়ালে রেখে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন, তবে তা প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। মাদুরো দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে শক্ত হাতে ভেনেজুয়েলা শাসন করেছেন। তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের অভ্যন্তরীণ বিরোধী দল ও বিদেশি সরকারগুলোর চাপ প্রতিরোধ করে এসেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েক মাসের চাপের পর মাদুরোকে আটক করা হয়। আন্তর্জাতিক আইনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন করে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও মাদুরোকে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আজ সোমবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্কিন অভিযানটিকে একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রধান সমর্থক রাশিয়া ও চীনও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে।

ভারতের ওপর আরো শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

ভারতের ওপর আরো শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের রুশ তেল কেনা কমানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি ভারত না মানলে নয়াদিল্লির ওপর আরো শুল্ক বাড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রবিবার (৪ জানুয়ারি) ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি একজন ভালো মানুষ। কিন্তু তিনি জানেন আমি খুশি নই এবং আমাকে খুশি করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” ভারতের রুশ তেল কেনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “তারা রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করে এবং আমরা তাদের ওপর খুব দ্রুত শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি।”  ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছিল। এরপর থেকে কয়েক মাস ধরে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চললেও বাণিজ্য চুক্তি এখনো অধরাই থেকে গেছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি তারই ধারাবাহিকতা। সোমবার ভারতের শেয়ার বাজারে এর প্রভাব দেখা গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্টক ইনডেক্স প্রায় ২.৫ শতাংশ কমে গত এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা শঙ্কিত যে, তিক্ত বাণিজ্য সম্পর্কের কারণে মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি আরো বিলম্বিত হতে পারে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সফরসঙ্গী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, রুশ তেল কোম্পানিগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ভারতের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ নয়াদিল্লিকে তেল আমদানি কমাতে বাধ্য করেছে। গ্রাহাম এমন একটি আইনের সমর্থন করছেন যা ভারতের মতো দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে, যদি তারা রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখে। তিনি বলেন, “আপনি যদি সস্তায় রুশ তেল কেনেন, তবে আপনি পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সচল রাখছেন। আমরা প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে তিনি শুল্কের মাধ্যমে বিষয়টিকে একটি পথে নিয়ে যেতে পারেন।” গ্রাহামের মতে, ট্রাম্পের পদক্ষেপের কারণেই ভারত এখন ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কম রুশ তেল’ কিনছে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন বলেছেন, নয়াদিল্লির এই সতর্ক অবস্থান তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ভারতীয় রপ্তানি পণ্য ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদিও ভারতীয় কোম্পানিগুলো রুশ তেল কেনা কমিয়েছে কিন্তু কেনাকাটা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এটি ভারতকে একটি ‘কৌশলগত অবস্থানে’ রেখে দিয়েছে। শ্রীবাস্তব বলেন, “অস্পষ্টতা এখন আর কাজে আসবে না।” তিনি ভারতকে রুশ তেলের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেল কেনা পুরোপুরি বন্ধ করলেও মার্কিন চাপ কমবে না; বরং তা অন্য বাণিজ্যিক দাবিতে স্থানান্তরিত হতে পারে। কিন্তু উচ্চ শুল্কের কারণে রপ্তানিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।” এদিকে, গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভারত সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। ওয়াশিংটনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ভারত সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারত সরকার দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি সপ্তাহে রুশ ও মার্কিন তেল ক্রয়ের তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। শুল্ক আরোপের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তত তিনবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত মাসে ভারতের বাণিজ্য সচিব মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেও আলোচনা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়। খবর আল-জাজিরার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন  হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য রয়েছে।’মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনা নামাতে পারে। এরপর সেই সেনারাই মাদুরোর অবস্থানে হামলা চালায়। ভেনেজুয়েলার সূত্র জানায়, কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে দরিদ্র উপকূলীয় এলাকা ‘কাটিয়া লা মার’ এলাকার একটি আবাসিক ভবনেও বিমান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রোসা গঞ্জালেজ নামে ৮০ বছর বয়সী এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার শাসনভার যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে। তিনি বলেন, “যতদিন না আমরা নিরাপদ, সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারছি, ততদিন আমরাই ওই দেশ পরিচালনা করব। ভেনেজ়ুয়েলার স্বার্থ বোঝে না এমন কারো হাতে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারি না।” সেই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের। ইরাক যুদ্ধের পর কোনো দেশে এমন সরাসরি ক্ষমতা দখলের ঘটনা নজিরবিহীন। সমালোচকরা ইতিমধ্যেই এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মাদুরোকে বন্দি করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আইনত।

নিউ ইয়র্কে বন্দি মাদুরোর ভিডিও প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্কে বন্দি মাদুরোর ভিডিও প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোতে গতকাল শনিবার ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামক এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে কারাকাস থেকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আটকের পর মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজে করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের স্টুয়ার্ট বিমানঘাঁটি থেকে হেলিকপ্টারে করে নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন বরোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাদুরোকে সেখানকার মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে উচ্চ-নিরাপত্তার আসামিদের রাখা হয়। এই কারাগারে এর আগে এল চ্যাপো এবং জেফরি এপস্টাইনের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখা হয়েছিল। হোয়াইট হাউজের ‘র‍্যাপিড রেসপন্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা দেখা যাচ্ছে যে, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে একটি করিডোর দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “অপরাধী হেঁটে যাচ্ছেন।”মাদুরোর হাত হ্যান্ডকাফ দিয়ে বাঁধা রয়েছে এবং তার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে। ভেনেজুয়েলায় সামারিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া এবং চীন এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ বিষয়টিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন ডেলসি রদ্রিগেজ

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক চেম্বার এ নির্দেশ দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার। আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং জাতির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে’ রদ্রিগেজ ‘বলিভারিয়ান রিপাবলিক অব ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের’ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আদালত আরো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা, সরকার পরিচালনা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কোন আইনগত কাঠামো প্রযোজ্য হবে তা নির্ধারণে আদালত আরো আলোচনা ও পর্যালোচনা করবেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আপাতত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতায় অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ব্যবস্থা কার্যকর হলো। এদিকে, রবিবার (৪ জানুয়ারি) দিনের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা দখল করবে না, যদি রদ্রিগেজ ‘যুক্তরাষ্ট্র যা চায় তা করেন’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র যা চাইবে, তা করতে তিনি প্রস্তুত- এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ, যিনি বর্তমানে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থক। ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনিই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাদুরো ও তার স্ত্রীর জীবিত থাকার প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান।