ইথিওপিয়ায় বন্যায় মৃত অন্তত ৩০

ইথিওপিয়ায় বন্যায় মৃত অন্তত ৩০ ইথিওপিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গামো এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ৩০ জন মারা গেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার রাতে গামো অঞ্চলের যোগাযোগ বিভাগ জানায়, ‘ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে, বিশেষ করে দেগামা এলাকায়, ৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অঞ্চল প্রশাসন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।’ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে গত শুক্রবার প্রতিবেশী কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা হলে সেখানে ডজনখানেক মানুষ নিহত হন। গত ২০ বছরে পূর্ব আফ্রিকায় চরম মাত্রার শুষ্ক ও অতিবৃষ্টির সময়কাল ক্রমশ বাড়ছে— এমন প্রবণতা একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবল বর্ষণসহ চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির সম্ভাবনা, স্থায়িত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী ৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে

মার্কিন সামরিক বাহিনী ৬টি পারমাণবিক বোমা হারিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার থেকে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ছয়টি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক পরিভাষায় ‘ব্রোকেন অ্যারো’ বা পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত ৩২টি ঘটনার মধ্যে এই ছয়টি বোমার হদিস আজও পাওয়া যায়নি।  বর্তমান সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘মৃত্যু ও ধ্বংসের’ হুমকির প্রেক্ষাপটে এই নিখোঁজ অস্ত্রগুলো কোনোভাবে শত্রুরাষ্ট্রের হাতে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।  এদিকে পারমাণবিক বহনকারী ‘ডুমসডে প্লেন’ ইরানের দিকে পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বোয়িং ৭০৭ এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানগুলো মূলত পারমাণবিক হামলা শুরু করা ও আকাশ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, তারা যেহেতু এই বোমাগুলো খুঁজে পায়নি, তাই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীরাও এগুলো খুঁজে পাবে না; তবে সমুদ্রের তলদেশে বা নির্জন স্থানে পড়ে থাকা এই মারণাস্ত্রগুলো যেকোনো সময় একটি বড় শহর ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। নিখোঁজ এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৫৮ সালে টাইবি দ্বীপের কাছে। তখন একটি বি-৪৭ হাইড্রোজেন বোমারু বিমান মাঝআকাশে অন্য একটি বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষের শিকার হলে নিজের কাছে থাকা ‘মার্ক ১৫’ হাইড্রোজেন বোমাটি সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হয়।  প্রাথমিক পর্যায়ে এটি একটি নকল বা ডামি বোমা বলে দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তথ্যে জানা যায় যে এটি একটি পূর্ণ মাত্রার শক্তিশালী অস্ত্র ছিল। ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও আজ পর্যন্ত সেই বোমার কোনো হদিস মেলেনি। এ ছাড়া গত কয়েক দশকে এমন আরও পাঁচটি পারমাণবিক বোমা সমুদ্রের অতল গহ্বরে অথবা দুর্গম স্থানে হারিয়ে গেছে যা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এই হারানো মারণাস্ত্রগুলোর ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরান যদি কোনোভাবে এই নিখোঁজ প্রযুক্তির নাগাল পায় তবে তা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।  বিশেষ করে টাইবি দ্বীপের মতো জায়গায় যেখানে বোমাটি হারিয়েছে, সেখানে এখন কোনো অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে না। কিন্তু আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ইরান বা অন্য কোনো পক্ষ যদি সমুদ্রের গভীরে তল্লাশি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পুরনো ভুলগুলোই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের শেষ দিকে পেন্টাগনকে রাশিয়া ও চীনের পাল্লা দিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন, যা এই খাতে নতুন করে প্রতিযোগিতার জন্ম দিয়েছে। পারমাণবিক অস্ত্রের এই আধুনিকায়ন এবং হারানো অস্ত্রের শঙ্কা—দুইয়ে মিলে বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।  সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটনাগুলো কেবল ইতিহাসের অংশ নয় বরং এগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি জীবন্ত হুমকি। যতদিন এই ছয়টি মারণাস্ত্রের চূড়ান্ত অবস্থান নিশ্চিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত এগুলো যেকোনো পক্ষকে আকস্মিক পারমাণবিক শক্তির অধিকারী করে দেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। সূত্র: মিরর ইউএস

ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

ভারতে প্রথম স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট ভারতে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ তেরো বছর শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকা দিল্লির যুবক হরীশ রানাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। এই সিদ্ধান্তকে ভারতের বিচার ব্যবস্থায় এক গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরীশ রানার বয়স বর্তমানে ৩২ বছর। তিনি এক সময় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী। তার শরীরের চারটি অঙ্গই কার্যত অচল। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে হরীশ এমন এক অবস্থায় আছেন যেখানে বাইরের জগৎ সম্পর্কে তার কোনো সচেতনতা নেই। নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেও তার কোনো অনুভূতি নেই। কেবল চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে তার শ্বাসপ্রশ্বাস এবং শরীরের ন্যূনতম কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হরীশের বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন। তারা আদালতের কাছে আবেদন জানান, ছেলেকে কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখার চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়ার জন্য। পরিবারের দাবি ছিল দীর্ঘ তেরো বছর ধরে এক অনিশ্চিত ও কষ্টকর পরিস্থিতিতে তাদের সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে ওঠার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নয়ডা জেলা হাসপাতালে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল হরীশ রানার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনে জানানো হয়, হরীশের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা কার্যত নেই। এরপর কেন্দ্র সরকার এবং চিকিৎসকদের মতামত বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক পর্যায়ে শুনানি হয়। গত বছর শুনানির সময় আদালত এই মামলাকে অত্যন্ত কঠিন সমস্যা বলে উল্লেখ করেছিলেন।  আদালতের মতে, বিষয়টি শুধু আইনের প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে মানবিকতা চিকিৎসা নীতি এবং জীবনের মর্যাদার বিষয়ও জড়িত। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালত হরীশ রানাকে কৃত্রিমভাবে জীবিত রাখার চিকিৎসা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারপতিরা উইলিয়াম শেক্‌সপিয়ারের বিখ্যাত নাটক হ্যামলেটের একটি লাইন উল্লেখ করেন— টু বি অর নট টু বি। আদালত ইঙ্গিত দেন, জীবনের অস্তিত্ব এবং মৃত্যুর প্রশ্ন অনেক সময় গভীর নৈতিক ও মানবিক দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতে সক্রিয় ইউথানেশিয়া (স্বেচ্ছামৃত্যু) এখনো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং তার সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে প্যাসিভ ইউথানেশিয়ার (অন্যের সহায়তায় স্বেচ্ছামৃত্যু) অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে আদালত কেন্দ্র সরকারকে স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে স্পষ্ট আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভারতের চিকিৎসা নীতি ও মানবাধিকার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে পারে।

ট্রাম্পের ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে 

ট্রাম্পের ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন বিশ্ববাজারে  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে’ ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর পূর্বের তুলনায় ২০ গুণ বেশি শক্তিশালী হামলা চালাবে। ট্রাম্পের এই আশ্বাসের পর আজ সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে: ব্রেন্ট ক্রুড: ১০% কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯২ ডলারে নেমেছে যা গতকাল ছিল ১২০ ডলার, নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুড: ১০ দশমিক ২% কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, বর্তমান দাম কমলেও ইসরায়েল-ইরান সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে।

যুদ্ধ শেষ হবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তে: ট্রাম্প

যুদ্ধ শেষ হবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্তে: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ কখন শেষ হবে সেই সিদ্ধান্ত তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথভাবে নেবেন। রবিবার (৮ মার্চ) টাইমস অব ইসরায়েলকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন। তিনি জানান, আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে ইসরায়েল কি যুদ্ধ চালিয়ে নিতে পারে এমন এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, এটি প্রয়োজন হবে না।” মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং বলেন, “দেখা যাক কী হয়।” এর আগে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে মোজতবা খামেনির বিরোধিতা করেছিলন। ট্রাম্প বলেছিলেন, “তাকে (ইরানের সর্বোচ্চ নেতা) আমাদের অনুমোদন নিতে হবে। যদি সে আমাদের অনুমোদন না নেয়, তাহলে সে দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারবে না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এমন নেতা তিনি চান যিনি শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হবেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪ বাংলাদেশি নিহত: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪ বাংলাদেশি নিহত: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “সংঘাত চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব শ্রমিক ও প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশ সরকার রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”  সোমবার (৯ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত বাংলাদেশি আলী আহমদের মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন,“ প্রবাসীদের যেকোনো সংকটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিবারের সদস্যদের মতো তাদের পাশে থাকবে।” মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চারজন বাংলাদেশি নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সার্বিক খোঁজখবরও রাখা হচ্চে।

হামলায় ইরানে নিহত ১২৫৫, আহত ১২ হাজারের বেশি

হামলায় ইরানে নিহত ১২৫৫, আহত ১২ হাজারের বেশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নয় দিনে ইরানে ১ হাজার ২৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আহত হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি।  ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী আলি জাফারিয়ান আলজাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে আট মাস থেকে ৮৮ বছর বয়সী ব্যক্তি রয়েছে। শুধু নারীই নিহত হয়েছেন ২০০। মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৮ শিশু নিহত হয়েছে। এছাড়া, হামলায় ৫৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী আহত এবং ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক, দুইজন নার্স ও তিনজন জরুরি সেবাকর্মী রয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। যুদ্ধ এখন ওই অঞ্চলের ১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের মতো এই দেশগুলোতেও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক জরুরি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।

ইরানের নতুন শীর্ষনেতা নির্বাচিত

ইরানের নতুন শীর্ষনেতা নির্বাচিত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী বিশেষজ্ঞ পরিষদ জানিয়েছে, নতুন নেতা নির্বাচনের ভোট সম্পন্ন হয়েছে, তবে নির্বাচিত ব্যক্তির নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পরিষদের সদস্য আহমেদ আল আমলহোদা বলেন, নেতা নিয়োগের ভোট হয়েছে এবং নেতা নির্বাচিত হয়েছে। শিগগিরই নাম ঘোষণা করা হবে।কিছু সদস্য ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা খামেনি এই পদে আসতে পারেন। মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনা করা হচ্ছিল। তার বাবা ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন।ইরানে সর্বোচ্চ নেতা পদটি দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শেষ কথা বলেন তিনি। আরেক সদস্য মোহসেন হায়দেরি বলেন, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী নির্ধারিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে বলেন, বড় শয়তানও (যুক্তরাষ্ট্র) নির্বাচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা থাকা উচিত এবং তিনি মোজতবা খামেনিকে দুর্বল প্রার্থী বলে মন্তব্য করেছেন। তবে ইরানের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই এবং থাকবে না। এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী পার্সিয়ান ভাষায় এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদেরও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। সূত্র: এএফপি

জ্বলছে তেলের ডিপো, তেহরানের রাস্তায় আগুনের নদী

জ্বলছে তেলের ডিপো, তেহরানের রাস্তায় আগুনের নদী ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেলের ডিপো ও পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এতে রাজধানী তেহরানজুড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেলের ডিপো থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কিছু অংশে মিশে গেছে। এর ফলে ইরানের রাজধানীর সব রাস্তা যেন ‘‘আগুনের নদীতে’’ পরিণত হয়েছে। পুরো রাজধানী শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত রাস্তার পাশের সব ড্রেন বর্তমানে দাউ দাউ করে জ্বলছে। ইরানের সংস্কৃতি ও শিল্পবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্ট ‘লিভিং ইন তেহরানের’ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের একটি রাস্তার পাশে আগুন জ্বলছে। পুরো রাস্তার পাশ ঘেঁষে আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলছে। এর আগে, ইরানের তেল মন্ত্রণালয় তেহরানের পশ্চিমের আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ তিনটি এলাকায় জ্বালানি ডিপোতে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনীর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। • সংঘাত আরও তীব্র হবে, ঘোষণা ইসরায়েলের ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরানের তেল স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং আমরা আগামী দিনগুলোতে আরও উত্তেজনার মুখোমুখি হবো। ইসরায়েলের রেডিও ১০৩ ব্রডকাস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ক্ষতি করতে সাহায্য করবে; এমন সব লক্ষ্যবস্তুই আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। যুদ্ধের পরিকল্পিত সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমরা জানি, যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছি তা অর্জনের জন্য আমাদের কতটুকু সময় প্রয়োজন। যুদ্ধের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটছে। আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়তে চাই না যে, আরও এক বা দুই বছর পর আমাদের নতুন কোনও ধাপে যেতে হয়। • ইসরায়েলে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫৭ জন। মন্ত্রণালয় বলেছে, হাসপাতালে ভর্তিকৃতদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জনের অবস্থা মাঝারি এবং ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ইসরায়েলিদের বড় অংশ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় আহত হয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি।

ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করলো চীন

ইরানে সরকার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করলো চীন চীন বলেছে, চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মধ্যে ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করলে তা জনগণের সমর্থন পাবে না। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রোববার বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা কোনো সমর্থন পাবে না। এই বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে। ওয়াং ই বলেন, চীনের প্রধান অবস্থান হলো ইরানসহ সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত, সংঘাত বাড়লে তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওয়াং বলেন, এই যুদ্ধ হওয়া উচিত ছিল না, এবং এটি কারও জন্যই ভালো নয়। শক্তি কোনো সমাধান দেয় না; সশস্ত্র সংঘাত কেবল ঘৃণা বাড়ায় এবং নতুন সংকট তৈরি করে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষেরাই অঞ্চলের প্রকৃত মালিক, তাই বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়া আঞ্চলিক দেশগুলোরই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা উচিত। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান হলেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষমতার কাঠামো সহজে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। এই তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পের সেই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে যে তিনি ইরানের নেতৃত্ব সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব বসাতে পারবেন। চীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাও নিন্দা করেছে। একইসঙ্গে ওয়াং বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক দৃঢ় ও অটুট থাকবে।