পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা চলতি বছরের পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করে ছয় দিনের সরকারি ছুটি অনুমোদন দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আরবি বর্ষপঞ্জির সর্বশেষ মাস জিলহজ আগামী ১৮ মে শুরু হতে পারে। জিলহজের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা, এর আগের দিন অর্থাৎ আরাফাত দিবসে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী, ২৬ মে (মঙ্গলবার) হতে পারে পবিত্র হজ এবং ২৭ মে (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে শনি ও রোববার। তাই হজ ও ঈদুল আজহার ছুটি মিলিয়ে সরকারি ছুটি চলবে ২৬ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত। এ হিসেবে দেশটির বাসিন্দারা মোট ছয় দিন সরকারি ছুটি উপভোগ করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এই ছুটির পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।  

ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি না করতে নেতানিয়াহুর অনুরোধ

ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি না করতে নেতানিয়াহুর অনুরোধ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি না করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নিয়ে দুই মিত্র দেশের মধ্যেই এখন মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছে। বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পথে না যেতে আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে আনাদোলুর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর আগে গত রবিবার দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে নেতানিয়াহু সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন— এ ধরনের কোনও সমঝোতা কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো মেনে নিলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব। ওই কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইরানকে তাদের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। এদিকে নেতানিয়াহু সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানান, তিনি রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি ইরানে নিখোঁজ মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যকে উদ্ধারের ঘটনাকে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পও এই অভিযানে ইসরায়েলের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েলকে ‘অটল, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও শক্তিশালী মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে ‘ইরানের সন্ত্রাসী শাসনকে চূর্ণ করছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

ভারতে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

ভারতে বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ছয় বছর আগে কোভিড লকডাউনের সময় ভারতের তামিলনাড়ুর রাজ্যের থুথুকুডি জেলায় ঘটে যাওয়া বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী পি জয়রাজ ও তাঁর ছেলে জে বেনিক্সের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় ৯ পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। খবর এনডিটিভির সোমবার (৬ এপ্রিল) তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার একটি আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- ইন্সপেক্টর শ্রীধর, সাব-ইন্সপেক্টর বালাকৃষ্ণন ও রঘু গণেশ এবং কনস্টেবল মুরুগান, সামাদুরাই, মুথুরাজা, চেল্লাদুরাই, টমাস ফ্রান্সিস ও ভেইলুমুথু। আদালত এই ঘটনাকে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, তামিলনাড়ুতে অনেক সৎ পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন এবং এই রায় তাদের মধ্যে কোনো ভয়ের সঞ্চার করবে না। রায়ে আদালত উল্লেখ করে, বাবা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছিল—এ কথা পড়লে বুক শিউরে ওঠে। আদালত আরও জানান, প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে তাদের একে অপরের সামনে নির্যাতন করা হয়েছিল, যা মানবতার পরিপন্থী। আদালত জোর দিয়ে বলেছে, যারা জনগণের করের টাকায় বেতন পান, তারা এ ধরনের বর্বরতার জন্য মানসিক চাপকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখাতে পারেন না। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করে, মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চের নজরদারি না থাকলে “সত্য চাপা পড়ে যেত”। মামলাটিকে ‘বিরলতম’ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা Central Bureau of Investigation (সিবিআই) সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বা প্যারোলবিহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানায়। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ শক্ত প্রমাণ এই নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরে, যা সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত ১৫

তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত ১৫ ইরানের রাজধানী তেহরানের বাহারিস্তান জেলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। হামলায় নিহতের পাশাপাশি আরও বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ভয়াবহ হামলায় চারটি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া আশপাশের ৪০টিরও বেশি ঘরবাড়ি এবং স্থানীয় নাগরিকদের বেশ কিছু যানবাহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। জনবহুল আবাসিক এলাকায় এই ধরনের আকস্মিক হামলায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার কঠোর নিন্দা জানানো হয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে ইরানি প্রজেক্টাইলের আঘাতে আহত ৬

কুয়েতের উত্তরাঞ্চলে ইরানি প্রজেক্টাইলের আঘাতে আহত ৬ কুয়েতের উত্তরাঞ্চলের একটি আবাসিক এলাকায় ইরান থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইল ও গোলার টুকরোর (শ্রাপনেল) আঘাতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কুয়েত নিউজ এজেন্সির (কুনা) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানি হামলার পর আবাসিক এলাকাটিতে বেশ কিছু প্রজেক্টাইল এসে পড়ে, যার ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই দেশটির জরুরি চিকিৎসা দল এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুয়েতের সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও জরুরি বিভাগগুলো বর্তমানে সর্বোচ্চ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধানসৈয়দ মাজিদ খাদেমিকে হত্যা

আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধানসৈয়দ মাজিদ খাদেমিকে হত্যা   ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এনিয়ে আইআরজিসির একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ ভোর রাতে মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের এক সন্ত্রাসী হামলায় খাদেমি নিহত হয়েছেন। তবে এনিয়ে বিস্তারিত আর কিছু আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়নি বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে অতর্কিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার পর্যন্ত দেশ দুইটির যৌথ হামলা টানা ৩৮ দিনে গড়ালো। হামলার প্রথম দিনেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ বহু শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। এদিকে সর্বশেষ হরমুজ প্রণালিকে খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে কড়া হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের

কলকাতায় হামলার হুমকি পাকিস্তানের ভারতে আবারও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটলে পাকিস্তানকে নজিরবিহীন পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে বলে কয়েক দিন আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার এই হুঁশিয়ারির কয়েক দিন পর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভবিষ্যতে ভারতের যেকোনও ‘দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের’ জবাবে কলকাতায় হামলা চালাবে পাকিস্তান। জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের প্রাণহানির বার্ষিকীর আগে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশীর মাঝে ওই হুমকি-পাল্টা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। খাজা আসিফ বলেন, ভারত যদি এবার কোনও ‌‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা এটিকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব। খাজা আসিফের এমন হুমকির বিষয়ে ভারত এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভারত ‘নিজেদের লোক অথবা বন্দি পাকিস্তানিদের’ জড়িয়ে একটি সম্ভাব্য ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ অপারেশন পরিচালনা করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মরদেহ ফেলে রেখে সেটিকে সন্ত্রাসবাদের দায় দেওয়া হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও ভারতকে ভবিষ্যৎ আগ্রাসনের হুমকি দিয়ে খাজা আসিফ বলেছিলেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের অবকাশ আছে, এমনটা ভাবা অকল্পনীয়। তিনি ভারতের যেকোনও ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ‘দ্রুত’ ও ‘পরিমিত’ জবাব দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করে দেন। পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন, ‘‘কোনও অস্পষ্টতা থাকতে দেবেন না। পাকিস্তান শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প নিরঙ্কুশ, প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, পরিমিত ও চূড়ান্ত। • পাকিস্তানকে ভারতের হুঁশিয়ারি এর আগে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী রাজ্য কেরালায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় রাজনাথ সিং সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যেকোনও ‘দুঃসাহসিকতা’ নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছিল ভারত। তিনি বলেন, পেহেলগাম হামলার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় বাহিনী ২২ মিনিটের মধ্যে পাকিস্তানকে নতজানু করে ফেলেছিল এবং এটি ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের বৃহত্তম অভিযান। রাজনাথ বলেন, আমি আপনাদের বলতে চাই অভিযানটি এখনও শেষ হয়নি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে যদি এমন হীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সমুচিত জবাব দেবে; যা তারা কখনও ভুলবে না। এবার যা ঘটবে তা হবে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ। ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীন ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তান এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের ভেতরে অন্তত ৯টি সন্ত্রাসী আস্তানা ধ্বংস এবং দেশটির কয়েকটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছিল। এর মধ্যে কিছু অবকাঠামো এখনও সংস্কারাধীন রয়েছে। গত বছরের ১০ মে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানানোর পর শত্রুতা বন্ধ হয় এবং উভয় দেশ ধারাবাহিক কিছু প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়। রাজনাথ সিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী হয়েছে এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের ধরন বদলে গেছে। তিনি বলেন, উরি হামলার পর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হোক কিংবা ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে পুলওয়ামা বোমা হামলার জবাবে বিমান হামলা অথবা পেহেলগাম ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে অপারেশন সিঁদুর; আমরা সন্ত্রাসবাদের ওপর শক্তিশালী আঘাত হেনেছি। সূত্র: এনডিটিভি।

ইরানের হামলায় আমিরাত,বাহরাইন,কুয়েতে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি

ইরানের হামলায় আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েতে জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রোববার নতুন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত রুয়াইস ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আগুন লেগেছিল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর, সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে ‘বোরুজ’ পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টের বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এক বিবৃতিতে আমিরাতের কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কারখানাটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’ এর আগে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের একটি ড্রোন হামলায় তাদের একটি তেল সংরক্ষণাগারে আগুন লাগে। পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার ভোরে ড্রোন হামলায় বাপকো এনার্জিসের একটি সংরক্ষণাগারের ট্যাংকে আগুন ধরে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানিবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং পানি শোধনের প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং দুটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে এই অঞ্চলের পানি শোধন কেন্দ্রগুলো বড় ধরনের ঝুঁকিতে আছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পানির চাহিদা মেটাতে শোধন কেন্দ্রগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের রেকর্ড গড়ল ইরান

দীর্ঘতম ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের রেকর্ড গড়ল ইরান ইরানে চলমান ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা বা ব্ল্যাকআউট এখন পর্যন্ত বিশ্বের যেকোনো দেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম জাতীয় পর্যায়ের ইন্টারনেট শাটডাউনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নেটব্লকস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছে, ইরানের এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট টানা ৩৭তম দিনে পদার্পণ করেছে। মোট ৮৬৪ ঘণ্টা অতিক্রম করার মধ্য দিয়ে এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য সব সমজাতীয় ঘটনাকে তীব্রতার দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানই প্রথম দেশ যারা প্রথমে সংযুক্ত ছিল এবং পরবর্তীতে একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এর বিপরীতে উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলো কখনো বৈশ্বিক সংযোগের মূল ধারায় যুক্ত ছিল না এবং দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই দেশটির সরকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট অ্যাক্সেস প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। বর্তমানের এই নজিরবিহীন ব্ল্যাকআউটের আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময়ও ইরান কয়েক সপ্তাহব্যাপী একই ধরনের ইন্টারনেট শাটডাউন কার্যকর করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির ফলে দেশটির সাধারণ মানুষ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মহল তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। সূত্র: সিএনএন।

ইরানে অভিযান চালিয়ে যেভাবে পাইলটকে উদ্ধার করলো মার্কিন বাহিনী

ইরানে অভিযান চালিয়ে যেভাবে পাইলটকে উদ্ধার করলো মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালাতে গিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন ওই ক্রু সদস্য। শনিবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের ইতিহাসের ‌‘‘অন্যতম সাহসী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান’’ পরিচালনা করে ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে। এরপর রোববার সকালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানে নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওই কর্মকর্তা বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে মার্কিন ওই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারের রোমহর্ষক অভিযানের তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিমানটিতে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন এবং তারা উভয়েই বিমান থেকে প্যারাসুট নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। তাদের একজনকে আগেই মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করে। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন ওই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এবং এটি কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখন প্রকাশ্যে আসছে। এই অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তা নিচে তুলে ধরা হলো… • কীভাবে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হলো? দক্ষিণ ইরানে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এক প্রকার প্রতিযোগিতায় নামে। মার্কিন এই উদ্ধার অভিযানের সঠিক পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট। তবে অভিযানের বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি এটিকে দক্ষিণ ইরানে বিশাল কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) মিশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি জানতে পেরেছে, উদ্ধার অভিযান চলাকালীন মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং বিমান থেকে ইজেক্ট করার সময় পাইলট আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূপাতিত বিমানের ক্রু সদস্যদের উদ্ধার করা মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং মিত্রদের জন্য অন্যতম জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ; যা কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (সিএসএআর) নামে পরিচিত। এই সিএসএআর মিশনের পেছনে থাকা বিমানবাহিনীর ইউনিটগুলোতে সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে উচ্চ শিক্ষিত এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা কাজ করেন।এসব মিশন সাধারণত হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়; যা শত্রু ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে নিচু হয়ে উড়ে যায়। পাশাপাশি অন্যান্য সামরিক বিমান ওই এলাকায় হামলা চালায় এবং টহল দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ওই পাইলট একজন কর্নেল। তিনি ইরানের দুর্গম পাহাড়ে শত্রু সীমানার ভেতর ছিলেন এবং আমাদের শত্রুরা তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল; যারা প্রতি ঘণ্টায় তার আরও কাছে চলে আসছিল। মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, উদ্ধারের পরিকল্পনা করা ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টা ওই বৈমানিকের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছিল। কোনও মার্কিনির প্রাণহানি কিংবা আহত হওয়া ছাড়াই এই অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, নিখোঁজ পাইলটকে খোঁজার সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সৈন্যরা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেন। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণ ইসফাহান প্রদেশে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে। এর আগে ইরান বলেছিল, তেহরান নিখোঁজ আমেরিকান পাইলটকে জীবিত খুঁজে পেতে চায় এবং তাকে পেতে সাহায্য করার জন্য নাগরিকদের পুরস্কারের ঘোষণা দেয়। বিধ্বস্ত বিমানের ক্রু সদস্যরা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। থিংক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের সামরিক বিশ্লেষণ বিষয়ক পরিচালক জেনিফার কাভানাঘ বিবিসিকে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে পাইলটকের এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো বেঁচে থাকা এবং বন্দিদশা এড়ানো।তিনি বলেন, তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় যে, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং নড়াচড়া করতে অক্ষম হওয়ার মতো গুরুতর আহত না হলে তারা যেন ইজেক্ট করার স্থান থেকে যত দ্রুত সম্ভব দূরে সরে যায় এবং নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্য লুকিয়ে ফেলে। কাভানাঘ বলেন, তারা টিকে থাকার কলাকৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষিত; যাতে তারা খাবার বা পানি ছাড়াই চলতে পারে অথবা স্থানীয় ভূখণ্ড থেকে যতটা সম্ভব খাবার খুঁজে নিতে পারে। • কখন এবং কোথায় বিমানটি ভূপাতিত হয়? ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গত শুক্রবার প্রথম দাবি করে, দেশটির সামরিক বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করেছে। এফ-১৫ বিমানটি ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ এবং খুজেস্তান; এই দুটি সম্ভাব্য প্রদেশের নাম জানানো হয়। ভূপাতিত ওই বিমানে দুজন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমানের পাইলটকে আগের একটি অভিযানে উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযানে একটি এ-১০ ওয়ারথগ বিমানও অংশ নিয়েছিল; যা উপসাগরের ওপর আক্রান্ত হয় এবং উদ্ধারের আগে এর পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান থেকে উদ্ধার পাইলটকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে আক্রান্ত হয় এবং এতে বিমানের ক্রু সদস্যরা আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, দেশটির পাহাড়ে বসবাসকারী যাযাবর উপজাতিরা দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারে গুলি চালিয়েছে; যা মার্কিন উদ্ধার অভিযানের অংশ ছিল। বিবিসি ভেরিফাই শুক্রবারের একটি ভিডিও যাচাই-বাছাই করে দেখেছে। যেখানে দেখা যায়, অন্তত তিনজন সশস্ত্র ব্যক্তি দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের দিকে গুলি ছুড়ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা বলেছে, ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড নতুন ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার কৃতিত্ব দিয়েছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ অঞ্চলটি ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের পার্বত্য প্রদেশ। এই প্রদেশে যাযাবরসহ ৭ লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে। প্রত্যন্ত উচ্চভূমিতে বন্য প্রাণী এবং চুরি থেকে তাদের পশুর পাল ও ক্যাম্প রক্ষা করার জন্য ওই এলাকার যাযাবররা রাইফেল বহন করে থাকেন। ইরানের তেল এবং অন্যান্য শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খুজেস্তান প্রদেশ। সেখানে ৪৭ লাখের বেশি মানুষ বাস করেন। তাদের মধ্যে আরব, পার্সিয়ান, লোর এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জনগণ রয়েছে। • বিমানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যা জানা গেল এফ-১৫ই বিমানটি আকাশ থেকে মাটি এবং আকাশ থেকে আকাশ উভয় ধরনের মিশনের জন্য নকশা করা হয়েছে। সম্ভবত ইরানি ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক কাজে জড়িত ছিল মার্কিন এই যুদ্ধবিমান। আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার ক্ষেত্রে বিমানটি লেজার এবং জিপিএস চালিত নির্ভুল যুদ্ধাস্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য বোমা নিক্ষেপ করতে পারে। এই বিমানে দুজন ক্রু থাকেন।তাদের একজন পাইলট এবং অন্যজন পেছনের আসনের অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা। অস্ত্র কর্মকর্তাকে ‘উইজো’ বলা হয়, তিনি লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং অস্ত্রগুলো যথাযথ আক্রমণের জন্য প্রোগ্রাম করা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেন। যুদ্ধবিমানে এই দুই-ক্রু ব্যবস্থা কাজের চাপ ভাগাভাগি করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বিশেষ করে পাইলট যখন শত্রুর হুমকি এড়িয়ে বিমান চালানোর চেষ্টা করেন, সেই সময় এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ঠিক কী কারণে এই মার্কিন বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী যদি এই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে থাকে, সেক্ষেত্রে এখানে সম্ভবত স্থল থেকে আকাশে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র কাজ করেছে। সূত্র: বিবিসি।