ইসরায়েল হামলা করেছে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে

ইসরায়েল হামলা করেছে সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শনিবার (৪ এপ্রিল) আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাতে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ খবর প্রকাশ করেছে। আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এ হামলার সঙ্গে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কোনোভাবেই কোনো সম্পর্ক নেই, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ‘জায়নবাদী শত্রু’ ইসরায়েলের যে কৌশল, তাতে এটি নিশ্চিতভাবে তারাই ঘটিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোকে এ অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। জবাবে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান, যা এখনো চলমান রয়েছে।

জাপান ও ফ্রান্সের জাহাজ হরমুজ পার হলো

জাপান ও ফ্রান্সের জাহাজ হরমুজ পার হলো ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর প্রথমবারের মতো জাপান ও ফ্রান্স-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো পশ্চিমা ও জাপানি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহারের সুযোগ পেল। দ্য গার্ডিয়ান ও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা ও শিপ ট্র্যাকিং কোম্পানি মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের একটি কনটেইনার জাহাজ, জাপানের একটি এলএনজি ক্যারিয়ার এবং ওমানের মালিকানাধীন তিনটি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি পার হয়। সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ১৫০টির মতো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। এসব জাহাজের সিংহভাগই ছিল ইরান, চীন বা ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই রুটটি বন্ধ করে দেয় এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বেছে বেছে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালাতে থাকে। ফলে গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে বাণিজ্যিক চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছিল। শিপিং জার্নাল লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, জাপানের মিতসুই ওএসকে লাইন্সের সহমালিকানাধীন সোহারা এলএনজি নামের জাহাজটি বৃহস্পতিবার ওমান উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণ রুট দিয়ে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করে। এটি যুদ্ধের পর উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা প্রথম জাপানি জাহাজ। এ সময় জাহাজটি তার ট্রান্সপন্ডারে নিজেকে ওমানের জাহাজ হিসেবে পরিচয় দেয়। জাপানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৪৫টি জাপানি জাহাজ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে এবং ঠিক কী কারণে বা কোন সমঝোতায় এই জাহাজটিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একই দিন ফ্রান্সের শিপিং গ্রুপ সিএমএ সিজিএমের মালিকানাধীন মাল্টার পতাকাবাহী ক্রিবি নামের একটি কনটেইনার জাহাজও প্রণালিটি অতিক্রম করে। এটি যুদ্ধ শুরুর পর এই পথ পাড়ি দেওয়া প্রথম কোনো পশ্চিমা জাহাজ। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফরাসি জাহাজটি ইরানের জলসীমার ভেতরে একটি অনুমোদিত রুট ব্যবহার করেছে, যেটিকে নৌ-বিশেষজ্ঞরা তেহরান টোল বুথ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। যুদ্ধের শুরুতে ইরান এই রুটে যাতায়াতের জন্য বড় অংকের ফি দাবি করেছিল। ফরাসি জাহাজটি গত শুক্রবার ওমানের মাসকাট উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালেও তখনো তাদের ট্রান্সপন্ডারে ‘ওনার ফ্রান্স’ বার্তা প্রচার করছিল। এ ছাড়া ওমান শিপিং ম্যানেজমেন্টের দুটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং একটি এলএনজি ট্যাঙ্কারও একই সময়ে পারস্য উপসাগর পাড়ি দেয়। এর আগে গত মঙ্গলবার চীন তাদের তিনটি জাহাজ পার হওয়ার পর তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করলেও যুদ্ধের শুরু থেকে এই সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যায়। গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২২১টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করেছে, যার ৬০ শতাংশই হয় ইরানের নিজস্ব অথবা ইরানগামী। এদিকে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কারণ সার তৈরির কাঁচামালের এক-তৃতীয়াংশই এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এই জলপথ পুনরায় উন্মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক সমন্বিত চাপের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই এই প্রণালি খুলে দিতে পারে, তবে তার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। দ্য গার্ডিয়ান

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেন জান্তাপ্রধান হ্লাইং

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেন জান্তাপ্রধান হ্লাইং নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাঁচ বছর পর মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান মিন হং হ্লাইং পার্লামেন্টের ভে টে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশে তার রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে আরো পোক্ত হলো। আলজাজিরা লিখেছে, সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং আজ দেশটির সামরিকপন্থি পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের ৫৮৪টি ভোটের মধ্যে ৪২৯টি পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই ফলাফল ঘোষণা করেছেন পার্লামেন্টের উচ্চ ও নিম্নকক্ষের যৌথ স্পিকার অং লিন দ্বে। ৬৯ বছর বয়সি মিন অং হ্লাইং ২০২১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটান এবং তাকে আটক করেন। এর ফলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়।

যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জ বরখাস্ত

যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জ বরখাস্ত মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। স্থানীয় সময় গতকাল তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় বলে জানিয়েছেন দেশটির তিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৪১তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেনারেল জর্জ অবিলম্বে অবসরে যাচ্ছেন। তার মেয়াদের আরো এক বছরের বেশি সময় বাকি ছিল। একইসঙ্গে সেনার রূপান্তর ও প্রশিক্ষণ কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড হোডনি ও চ্যাপলেইন কোরের প্রধান মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনকেও বরখাস্ত করেছেন সাবেক ফক্স নিউজ সঞ্চালক ও বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ। যুদ্ধের সময় একজন শীর্ষ জেনারেলকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা মার্কিন সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।    

ইরানি মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ

ইরানি মিডিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ  ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংস করা যুদ্ধবিমানের ছবি পেয়েছে। যেটি সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড আজ ভূপাতিত করেছে। বিপ্লবী গার্ড যদিও জানিয়েছিল, তারা মার্কিনিদের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ভূপাতিত করেছে। মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড এফ-৩৫, এফ-১৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। তাসনিম তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, যুদ্ধবিমানটি ইংল্যান্ডের লেকেনহিথ বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের ৪৮তম স্কোয়াড্রনের। ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নিতে স্কোয়াড্রনটিকে বর্তমানে সেন্ট্রাল কমান্ড মিশন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।  

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ‘এক বিপদ’: ডেমোক্র্যাট নেতারা

ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য ‘এক বিপদ’: ডেমোক্র্যাট নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য ‘এক বিপদ’ বলে মন্তব্য করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্যরা। একইসঙ্গে তারা ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উদ্ভট, ভয়াবহ, অশুভ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ওয়াশিংটন সময় বুধবার (০১ এপ্রিল) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতারা। ৯ কোটি মানুষের ইরানকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন তার কড়া সমালোচনা করেন কংগ্রেসউম্যান ইয়াসামিন আনসারি। এই ধরনের বক্তব্যকে তিনি ‘উদ্ভট, ভয়াবহ এবং অশুভ’ বলে মন্তব্য করেন। কংগ্রেসমান জিম হাইমস বলেন, ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৫ ডলার বেড়ে গেছে। হাইমস আরও বলেন, ট্রুথ সোশ্যাল-এ আজ এক উত্তাল রাত কাটবে। আর তিনি (ট্রাম্প) আসলে কী বলেছেন, সে বিষয়ে আমি এখনও নিশ্চিত নই। সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, ট্রাম্প যখন দুই সপ্তাহ আগে দাবি করেছিলেন ‘আমরা জিতেছি’, তখন তিনি আমেরিকার মানুষের কাছে মিথ্যা বলেছিলেন।ট্রাম্পকে বিভ্রান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য এক বিপদ বলে মন্তব্য করেন ক্রিস ভ্যান। কংগ্রেসমান লয়েড ডগেট বলেন, ট্রাম্পের ভাষণের মধ্যে ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যাটি’ খুঁজে বের করা কঠিন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘কোনো মুদ্রাস্ফীতি নেই’ বলে তার দাবিটিই সম্ভবত জয়ী হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

‘যুদ্ধ-আলোচনা-যুদ্ধবিরতির দুষ্টচক্র’ সহ্য করব না: ইরান

‘যুদ্ধ-আলোচনা-যুদ্ধবিরতির দুষ্টচক্র’ সহ্য করব না: ইরান ইরান ‘যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং তারপর আবার যুদ্ধ’ এই দুষ্টচক্র সহ্য করবে না বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এ কথা বলেন। ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অত্যন্ত কঠোরভাবে এবং সম্ভবত একই সঙ্গে আঘাত হানা হবে। ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুদ্ধ, আলোচনা, যুদ্ধবিরতি এবং তারপর আবার একই ধারা পুনরাবৃত্তি—এই দুষ্টচক্র আমরা সহ্য করব না।’ তিনি চলমান সংঘাতকে ‘শুধু ইরানের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে ইরান পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। তেহরান উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের শত্রু হিসেবে দেখে না—এ অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি, তাদের সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে। ইসমাইল বাঘাই আরও বলেন, এটি একটি অন্যায্য যুদ্ধ, যা ইরানের জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। শক্তভাবে প্রতিরোধ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। সূত্র: আল-জাজিরা

ইসরায়েলে ইরানের বিমান হামলা, আহত ১৬

ইসরায়েলে ইরানের বিমান হামলা, আহত ১৬ ইসরায়েলের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব এবং নিকটবর্তী বনেই ব্রাক শহরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডোম (এমডিএ) জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গোলার আঘাতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এমডিএ আরও জানিয়েছে, বাকি আহতদের আঘাত তুলনামূলকভাবে মাঝারি বা সামান্য এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবারের এই আকস্মিক হামলায় ওই এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকেই ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

ইরানের নিশানায় এবার অ্যাপল-গুগলের অফিস, কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ

ইরানের নিশানায় এবার অ্যাপল-গুগলের অফিস, কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ছাড়ার নির্দেশ ইরানের ভেতরে মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সহায়তার অভিযোগে ১৮টি শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সংস্থাকে সরাসরি হামলার হুমকি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, অ্যাপল, গুগল, মেটা এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টসহ এইচপি, ইনটেল, আইবিএম ও সিস্কোর মতো হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই তালিকায় টেসলা, এনভিডিয়া, ওরাকল এবং বোয়িংয়ের মতো বড় নামও রয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই সংস্থাগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইন্টারনেট যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে গুপ্তহত্যা ও নাশকতামূলক হামলার ছক তৈরি করছে। ইরান সময় ১ এপ্রিল রাত ৮টা থেকে এই প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা এসব কোম্পানির আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো ‘ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান এই কঠোর অবস্থান নিল। সম্ভাব্য এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আইআরজিসি ওইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অবিলম্বে কর্মস্থল ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশে থাকা এই কোম্পানিগুলোর অফিসের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বারবার সতর্ক করার পরেও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি, যার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে মঙ্গলবারও বেশ কয়েকজন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি

শর্ত মানলে সংঘাত অবসানের সদিচ্ছা আছে ইরানের

শর্ত মানলে সংঘাত অবসানের সদিচ্ছা আছে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের ‘সদিচ্ছা’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।  ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপের সময় এ মন্তব্য করেন পেজেশকিয়ান। বিবিসির সিনিয়র নিউজ করেসপন্ডেন্ট জন সাডওয়ার্থ জানিয়েছেন, ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তা মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বাজার এ মন্তব্যে আশার আলো দেখলেও ইরানের অবস্থান নিয়ে পরিষ্কার আশাবাদ দেখছেন না অনেকে। জন সাডওয়ার্থ বলছেন, যুদ্ধ শেষ করার ‘সদিচ্ছার’ দাবির সঙ্গে কঠোর শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেজেশকিয়ান নিশ্চয়তা দাবি করেছেন যে, ভবিষ্যতে পুনরায় কোনো সংঘাত শুরু হবে না।গত সপ্তাহে আমেরিকার ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার জবাবে ইরান যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, তাতেও আগ্রাসনবিরোধী নিশ্চয়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদিকে, প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর আইআরসিজি পাল্টা আঘাতের পরিধি বাড়িয়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করার নতুন হুমকি দিয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা