ইউক্রেন যুদ্ধে সবদিক দিয়েই ব্যর্থ রাশিয়া বলেছেন ম্যাক্রোঁ

ইউক্রেন যুদ্ধে সবদিক দিয়েই ব্যর্থ রাশিয়া বলেছেন ম্যাক্রোঁ ইউক্রেন যুদ্ধের চতৃর্থ বার্ষিকীতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার জন্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আজ এক এক্স বার্তায় ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, একদিন রাশিয়ানরা তাদের নামে সংঘটিত অপরাধের মাত্রা, যে অজুহাতগুলো দেয়া হয়েছে তার অকার্যকারিতা এবং দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদী বিধ্বংসী প্রভাব উপলব্ধি করবে। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের চতৃর্থ বার্ষিকীতে দেশটির সমর্থনে কিয়েভ সফর করছেন ইউরোপীয় নেতারা। আজ ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি অ্যান্টোনিও কস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন কিয়েভে পৌঁছেছেন।
ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া

ইউক্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া দ্রুজবা পাইপলাইন ঘিরে তেল সরবরাহ বিরোধের জেরে ইউক্রেনে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছে স্লোভাকিয়া। গ্তকাল এ সিদ্ধান্তের কথা জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। ইউক্রেনের দাবি, দ্রুজবা পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এত পাইপলাইনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং মেরামত না করা হলে এই পাইপলাইন দিয়ে তেলের চলাচল সম্ভব নয়। এর ফলে গত ২৭ জানুয়ারি থেকে দ্রুজবা পাইপলাইনের ইউক্রেন অংশ দিয়ে স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে রাশিয়ার তেল প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুজবা পাইপলাইনে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে মস্কো। এদিকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া উভয়েই পাইপলাইন বন্ধের জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। ফিকো এক বিবৃতিতে বলেন, স্লোভাকিয়ায় ঘোষিত ‘তেল জরুরি অবস্থা’র প্রেক্ষিতে “তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা” হিসেবে বিদ্যুৎ সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে। তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হলে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন তিনি। পাশাপাশি পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ আকাঙ্ক্ষায় সমর্থন পুনর্বিবেচনা করার সতর্ক করেন তিনি। তবে স্লোভাকিয়ার বিরোধী দল সরকারের এমন পদক্ষেপে নিন্দা জানান। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা উভয় দেশকে গঠনমূলক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলে রাশিয়া থেকে ইউক্রেন, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও জার্মানিতে সরাসরি তেল সরবরাহের জন্য দ্রুজবা পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছিল।
রেকর্ড তুষারপাতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল

রেকর্ড তুষারপাতে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী একটি তুষারঝড় আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় গ্তকাল এই তুষাড়ঝড় হয়। এতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী তুষারপাতের ফলে কয়েক লাখ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ও কয়েক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্যানুসারে, রোড আইল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের কিছু অংশে প্রায় ৩৭ ইঞ্চি (৯৪ সেমি) পর্যন্ত তুষারপাত হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে ১৯ ইঞ্চিরও বেশি তুষারপাত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যাতায়াতের পরিস্থিতি ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্ব উপকূলের প্রায় ৬ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে নিউ জার্সি এবং ম্যাসাচুসেটস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। রোড আইল্যান্ড এবং পার্শ্ববর্তী কানেকটিকাটে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর মাউরা হিলিও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি দক্ষিণ-পূর্ব ম্যাসাচুসেটসে অপরিহার্য নয় এমন সব ড্রাইভিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছি এবং হাইওয়েতে গতিসীমা কমিয়ে ৪০ মাইল করছি। আবহাওয়া এতটাই খারাপ যে আপনি কোথাও আটকে গেলে সাহায্য পৌঁছানো কঠিন হবে। তাই আমি সবাইকে রাস্তা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করছি।” তুষারঝড়ে কারণে ম্যাসাচুসেটসের প্রায় ৩ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে ৮৫ শতাংশ গ্রাহক কেপ কড এলাকার। নিউ ইয়র্ক সিটিতে সোমবার দুপুরে জরুরি পরিস্থিতি তুলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ৮৫ লাখ মানুষের এই শহরটি কার্যত অচল ছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার-এর তথ্যানুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে যাতায়াতকারী মোট ৫ হাজার ৭০৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এই রেশ কাটবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বোস্টন ও নিউ ইয়র্কের বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আরও দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পেরুতে টানা বৃষ্টিপাতে ভূমিধস, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

পেরুতে টানা বৃষ্টিপাতে ভূমিধস, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের ইকা ও আরেকুইপা অঞ্চলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। প্রবল বর্ষণের মধ্যে ভূমিধসে ভেসে যাওয়া এক বাবা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। দুর্যোগে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরেকুইপার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অঞ্চলটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নর জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এদিকে পেরুর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সোমবার ঘোষণা করেছে, দেশজুড়ে ৭০০টিরও বেশি জেলাকে জরুরি অবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরেকুইপার কায়মা এলাকায় আকস্মিক বন্যায় সড়ক ভেঙে পড়েছে এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংসের মুখে রয়েছে। একটি গাড়ি কাদার নিচে অর্ধডুবন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাস্তা পরিষ্কার করছেন। এই দুর্যোগের মধ্যেই সোমবার বন্যা উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৫ জন নিহত হন। চালা জেলায় হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ১১ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু সদস্য ছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজনই শিশু। আবহাওয়াবিদদের মতে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের পেছনে ‘এল নিনো কোস্তেরো’ নামের উপকূলীয় জলবায়ু পরিস্থিতি দায়ী। আগামী মাসে এটি আরো শক্তিশালী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাতের ঝুঁকি বাড়াবে।
উত্তেজনার মধ্যে লেবানন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র

উত্তেজনার মধ্যে লেবানন দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের। সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রের এমন আচরণ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, এই উত্তেজনা যুদ্ধের দিকে গড়ালে ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় বৈরুতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে মার্কিন দূতাবাসের অন্তত ৩০ থেকে ৫০ জন কর্মীকে দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো ইরান–সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে- এমন আশঙ্কাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান গেল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি অর্থবহ চুক্তি চান, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনও চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। এর আগেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে থাকা তার দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটি থেকে কর্মী সরিয়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার আগে ইরাক, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকেও অপ্রয়োজনীয় কর্মী প্রত্যাহার করা হয়েছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “পররাষ্ট্র দফতর বৈরুতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জরুরি নয় এমন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনার পর আমরা মনে করেছি, কেবল প্রয়োজনীয় কর্মী রেখে উপস্থিতি কমানোই যুক্তিসংগত।” তবে দূতাবাস পুরোপুরি বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে হলেও চালু থাকবে।”
ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ঝুঁকিতে ৫ কোটি মানুষ

ভয়াবহ তুষারঝড়ে নিউ ইয়র্ক সিটিতে ঝুঁকিতে ৫ কোটি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ তুষারঝড় আঘাত হানতে শুরু করেছে। এর ফলে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ মানুষ আবহাওয়া সতর্কতার আওতায় রয়েছে। ঝড়ের কারণে অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, নিউ জার্সি এবং রোড আইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তুষারঝড়ের কারণে বেশ কিছু রাজ্য যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যা থেকে সোমবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং কানাডার মেরিটাইম অঞ্চলের একটি বড় অংশ এই ঝড়ের কবলে থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি গত এক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘নর’ইস্টার’ ঝড় হতে যাচ্ছে, যা প্রচুর তুষারপাত, তীব্র বাতাস এবং উপকূলীয় বন্যার কারণ হবে। পাওয়ারআউটলেজ ডট ইউএস-এর তথ্যমতে, নিউ জার্সিতে ইতোমধ্যেই ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। ভার্জিনিয়া, ডেলাওয়্যার এবং ম্যারিল্যান্ডেও হাজার হাজার মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
নেপালের নদীতে বাস উল্টে পড়ে ১৮ জন নিহত

নেপালের নদীতে বাস উল্টে পড়ে ১৮ জন নিহত নেপালে একটি যাত্রীবাহী বাস ছিটকে নদীতে পড়ে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল গভীর রাতে নেপালের ধাদিং জেলার গাজুরি এলাকায় ত্রিশুলি নদীতে ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। খবর এএফপির। জানা গেছে, মোট ৪৬ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডু’র উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। পিৃথ্বী হাইওয়ে দিয়ে চলার সময় দুর্ঘটনা বশত বাসটি পার্শ্ববর্তী ত্রিশুলি নদীতে উল্টে পড়ে। স্থানীয় সময় রাত ১ টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটে এ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা কবলিত বাস এবং নদী থেকে মোট ১৮ জন যাত্রীর মরদেহ এবং ২৮ জন যাত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের একজন নাগরিক আছেন এবং তিনি পুরুষ। আর আহতদের মধ্যে জাপান এবং নেদারল্যান্ডসের দু’জন নারী আছেন। পর্যটক হিসেবে নেপালে এসেছিলেন তারা। ঠিক কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশের ধারণা, দুর্ঘটনার জন্য বাসটির উচ্চগতি দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নিচ্ছে কাতার ও বাহরাইন থেকে

যুক্তরাষ্ট্র সেনা সরিয়ে নিচ্ছে কাতার ও বাহরাইন থেকে ইরানের সঙ্গে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতার ও বাহরাইনে থাকা সামরিক ঘাঁটি থেকে এ প্রত্যাহার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। পেন্টাগনের গোপন সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে ইতোমধ্যে কয়েক শ মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, যেখানে নিয়মিত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন থাকেন। বাহরাইন থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরা জানিয়েছিল, সিরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এসব পদক্ষেপ ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে তেহরান পাল্টা জবাবে এ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন এক চিঠিতে সতর্ক করে বলেছে, ইরান আক্রান্ত হলে এ অঞ্চলে থাকা শত্রু বাহিনীর সব ঘাঁটি ও স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দায়ভার ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে কাতার ও বাহরাইন থেকে সেনা কমালেও ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটিতে এখনো মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রশাসন ও পেন্টাগনের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে চাইলে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সতর্ক করেছেন এই সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বৈশ্বিক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের

বৈশ্বিক শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা ট্রাম্পের বৈশ্বিক পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। বিবিসি, রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেন। আদালত বলেন, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত আইনের আওতায় উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আদালতের এই রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিন্ন একটি বাণিজ্য আইনে বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। শনিবার এটা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছি যে, আজ থেকেই বিশ্বের সব দেশের ওপর আমাদের আরোপ করা ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হলো। অনেক দেশ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছিল এবং এর কোনো বিচারও হচ্ছিল না (যতক্ষণ না আমি ক্ষমতায় এসেছি!)। এখন থেকে আইন মেনেই তাদের ওপর এই বাড়তি কর কার্যকর হবে। এর আগে শুক্রবার আদালত কর্তৃক বাতিল হওয়া শুল্কের জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২–এর অধীনে নতুন করে ১৫ শতাংশ কর আরোপের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ কিছু দেশের জন্য প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ এসব দেশ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ শতাংশ শুল্ক চুক্তি করেছিল। আইনে বলা আছে, নতুন এই কর প্রায় পাঁচ মাস পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। এরপর এটি চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে। আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকেই তার ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা। এখন সেটি যদি ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হয় তাহলে সেটি কখন থেকে কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, গত বছর জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইন (আইইইপিএ)) এর অধীনে বিশ্বের সব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। আদালত বলেছেন, ট্রাম্প তার ক্ষমতার অধিক ব্যবহার করেছেন। শুল্ক আরোপের আগে তার কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া উচিত ছিল।
আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকা তৃতীয়

আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকা তৃতীয় বায়ুদূষণের তালিকায় আজ শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে তৃতীয় নম্বরে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে থাকা লাহোরের দূষণ ৩৯২ স্কোর— অর্থাৎ এখানকার বাতাস বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। ২১০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। অপরদিকে, দূষণ তালিকায় ১৯৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় নম্বরে রয়েছে ঢাকা। এই শহরের বায়ুর মান খুবই অস্বাস্থ্যকর। স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় ধরা হয় বায়ুর মান। সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। এ ছাড়া ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়