যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ভেনেজুয়েলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে চালানো যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক মানুষও রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়। খবর আল-জাজিরার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মার্কিন  হামলায় অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্য রয়েছে।’মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়, যাতে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনা নামাতে পারে। এরপর সেই সেনারাই মাদুরোর অবস্থানে হামলা চালায়। ভেনেজুয়েলার সূত্র জানায়, কারাকাস বিমানবন্দরের পশ্চিমে দরিদ্র উপকূলীয় এলাকা ‘কাটিয়া লা মার’ এলাকার একটি আবাসিক ভবনেও বিমান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে রোসা গঞ্জালেজ নামে ৮০ বছর বয়সী এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মাদুরোকে আটক করে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লোরিডায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, আপাতত ভেনেজ়ুয়েলার শাসনভার যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই থাকবে। তিনি বলেন, “যতদিন না আমরা নিরাপদ, সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারছি, ততদিন আমরাই ওই দেশ পরিচালনা করব। ভেনেজ়ুয়েলার স্বার্থ বোঝে না এমন কারো হাতে আমরা ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে পারি না।” সেই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের ভাণ্ডার ব্যবহার করে তা অন্যান্য দেশে বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের। ইরাক যুদ্ধের পর কোনো দেশে এমন সরাসরি ক্ষমতা দখলের ঘটনা নজিরবিহীন। সমালোচকরা ইতিমধ্যেই এই অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মাদুরোকে বন্দি করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আইনত।

নিউ ইয়র্কে বন্দি মাদুরোর ভিডিও প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

নিউ ইয়র্কে বন্দি মাদুরোর ভিডিও প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোতে গতকাল শনিবার ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামক এক ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে কারাকাস থেকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আটকের পর মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজে করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের স্টুয়ার্ট বিমানঘাঁটি থেকে হেলিকপ্টারে করে নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন বরোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাদুরোকে সেখানকার মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে উচ্চ-নিরাপত্তার আসামিদের রাখা হয়। এই কারাগারে এর আগে এল চ্যাপো এবং জেফরি এপস্টাইনের মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখা হয়েছিল। হোয়াইট হাউজের ‘র‍্যাপিড রেসপন্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা দেখা যাচ্ছে যে, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে একটি করিডোর দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “অপরাধী হেঁটে যাচ্ছেন।”মাদুরোর হাত হ্যান্ডকাফ দিয়ে বাঁধা রয়েছে এবং তার চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে। ভেনেজুয়েলায় সামারিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে আটক এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ঘটনা। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছে। রাশিয়া এবং চীন এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ বিষয়টিকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন ডেলসি রদ্রিগেজ

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হলেন ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক চেম্বার এ নির্দেশ দিয়েছেন। খবর আল-জাজিরার। আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং জাতির সামগ্রিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে’ রদ্রিগেজ ‘বলিভারিয়ান রিপাবলিক অব ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের’ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। আদালত আরো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা, সরকার পরিচালনা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কোন আইনগত কাঠামো প্রযোজ্য হবে তা নির্ধারণে আদালত আরো আলোচনা ও পর্যালোচনা করবেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আপাতত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতায় অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের ব্যবস্থা কার্যকর হলো। এদিকে, রবিবার (৪ জানুয়ারি) দিনের শুরুর দিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা দখল করবে না, যদি রদ্রিগেজ ‘যুক্তরাষ্ট্র যা চায় তা করেন’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্র যা চাইবে, তা করতে তিনি প্রস্তুত- এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্য অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ, যিনি বর্তমানে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থক। ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তিনিই প্রথম কোনো শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাদুরো ও তার স্ত্রীর জীবিত থাকার প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণ

ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে বিস্ফোরণ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে এ ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরে শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। ভোর ২টার দিকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতার কারণ কী ছিল বা ঠিক কোথায় তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওগুলো যাচাই করতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের হুমকি দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে তার লক্ষ্যগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেননি তবে ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন। ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছিলেন, মাদুরোর ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া ‘বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে।  ট্রাম্প গত মাসে মাদুরোকে চাপ দেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় প্রবেশ বা বাইরে যাওয়া সমস্ত অনুমোদিত জাহাজ অবরোধের ঘোষণা করেছিলেন। ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদ দখলের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মাদুরো। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো এক্স-এ লিখেছেন, “এই মুহূর্তে তারা কারাকাসে বোমা হামলা চালাচ্ছে। সবাইকে সতর্ক করুন – তারা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করেছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বোমা হামলা চালাচ্ছে। (আমেরিকান স্টেটস অর্গানাইজেশন) এবং জাতিসংঘকে অবিলম্বে বৈঠকে বসতে হবে।”মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে সামরিক বাহিনী মোতায়েন তৈরি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে একটি বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত যুদ্ধবিমান।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে: ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নিয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলা হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্টকে স্ত্রীসহ আটক করা হয় বলে দাবি করছেন ট্রাম্প। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে নিকোলাস মাদুরোর পাশাপাশি তার স্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে মাদুরোকে আটকের বিষয়ে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর আকাশ দিয়ে নিচু হয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা চাপের মুখে ভেনেজুয়েলার বর্তমান সরকার এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। বিস্ফোরণের আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় মার্কিন বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। চলমান সামরিক তৎপরতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই সময় কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তুষারপাত ও আকস্মিক বন্যায় আফগানিস্তানে ১৭ জনের মৃত্যু

তুষারপাত ও আকস্মিক বন্যায় আফগানিস্তানে ১৭ জনের মৃত্যু ভারি বৃষ্টিপাত এবং তুষারপাতের ফলে আফগানিস্তানে দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ার অবসান ঘটলেও কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বন্যায় কমপক্ষে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১১ জন। হেরাত প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ সাঈদী জানিয়েছেন, গতকাল হেরাত প্রদেশের কাবকান জেলায় ছাদ ধসে একই পরিবারের ৫জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। আফগানিস্তান জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএনডিএমএ) মুখপাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ হাম্মাদ জানিয়েছেন, গত সোমবার থেকে বেশিরভাগ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বন্যা কবলিত জেলাগুলোতে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হয়েছে মধ্য, উত্তর, দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও।

২০২৫ সালে পাকিস্তানে ৩৪ শতাংশ বেড়েছে সন্ত্রাসী তৎপরতা 

২০২৫ সালে পাকিস্তানে ৩৪ শতাংশ বেড়েছে সন্ত্রাসী তৎপরতা  পাকিস্তানে ২০২৫ সালে রেকর্ডসংখ্যক ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি সত্ত্বেও দেশটিতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদ-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস) প্রকাশিত ‘পাকিস্তান নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৫’ অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ এবং এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ২১ শতাংশ বেড়েছে। বছরজুড়ে দেশটিতে অন্তত ৬৯৯টি সন্ত্রাসী হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানা গেছে। পিআইপিএস-এর এই বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় কমপক্ষে ১ হাজার ৩৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৬৬ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার এই বিস্তৃতি মূলত খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তান প্রদেশকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে, যেখানে মোট সহিংসতার ৯৫ শতাংশেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছরে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর ৪২ শতাংশেরও বেশি শিকার হয়েছেন নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। দায়িত্বরত অবস্থায় ৪৩৭ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই লড়াইয়ের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকরাও এই সহিংসতার চরম মূল্য দিচ্ছে, বছরজুড়ে নিহত হয়েছেন ৩৫৪ জন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান এবং আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ২৪৩ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি মার্কিন থিঙ্কট্যাংকের প্রতিবেদনেও ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পিআইপিএস-এর তথ্যমতে, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে বেলুচিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে, যা মোকাবিলা করতে রাষ্ট্রকে আরও গভীর নিরাপত্তা পরিকল্পনার দিকে নজর দিতে হবে।

সুইজারল্যান্ডের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ‘নিহত ৪০’

সুইজারল্যান্ডের পানশালায় অগ্নিকাণ্ডে ‘নিহত ৪০’ সুইজারল্যান্ডের বিলাসবহুল স্কি রিসোর্ট শহর ক্র্যানস মন্টানার একটি পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুইস পুলিশের বরাত দিয়ে  ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পুলিশের মুখপাত্র গেতান লাথিয়ন জানিয়েছিলেন, বুধবার রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ‘লে কনস্টেলেশন’ নামের পানশালায় আগুনের সূত্রপাত হয়। তখন সেখানে নববর্ষের উদযাপন চলছিল। ভবনটির ভেতরে শতাধিক মানুষ ছিলেন। এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র নেই। ইতালীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইস পুলিশের বরাত দিয়ে বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে প্রায় ৪০ জন মারা গেছে। নিহতদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি কারণ তাদের দগ্ধের মাত্রা বেশি। এদিকে সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘কয়েক ডজন’ মানুষ নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ১০০ জন আহত হয়েছে। হতাহতরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। আহতদের বেশিরভাগে অবস্থাই গুরুতর।’ ঘটনাস্থলে প্রায় ১০টি হেলিকপ্টার, ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ১৫০ জন উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে। জরুরি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। ভ্যালাইস হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট এখন পূর্ণ, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পোড়া চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। কর্মকর্তারা অতিরিক্ত যত্ন নেওয়ার এবং হাসপাতালে অপ্রয়োজনীয় চাপ না দেওয়ার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছেন।

সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গাজায় নতুন বছর শুরু

সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে গাজায় নতুন বছর শুরু দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ-সংঘাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে গাজাবাসী। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই, সংগ্রাম করে যাচ্ছে অবরুদ্ধ এই উপত্যকার সাধারণ মানুষ। ভয়াবহ মানবিক সংকটে দিশেহারা তারা। নতুন বছরেও তাদের মনে কোনো আনন্দ নেই। আছে শুধু বিষাদ আর হতাশা। এমনই একজন সানা ইসরা। সাদা প্লাস্টিকের তেরপলিন দিয়ে তৈরি তাঁবুতে সানা ইসা তার মেয়েদের সঙ্গে বসেছিলেন। নতুন বছর এবং গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর নিয়ে সানা আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু বৃষ্টিতে তাঁবুতে ভেজা কম্বলের ওপর শুয়ে থাকা সানার কাছে ইতিবাচক হওয়ার মতো তেমন কোনো বিষয় এখন আসলে নেই। গাজা উপত্যকায় তিনি এবং তার মতো অন্যান্য বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের যে কঠিন বছরের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তার বর্ণনা দিয়ে সানা আল জাজিরাকে বলেন, আমরা যুদ্ধ, ঠান্ডা, নাকি ক্ষুধাকে দোষ দেব তা বুঝতে পারছি না। আমরা এক সংকট থেকে অন্য সংকটে চলে যাচ্ছি। মানবিক অবস্থার অবনতির মধ্যে গাজার ফিলিস্তিনিদের একসময়ের উচ্চাকাঙ্ক্ষী আশা, উন্নত ভবিষ্যৎ, সমৃদ্ধি এবং পুনর্গঠনের স্বপ্ন, হারিয়ে গেছে। এর বদলে জায়গা করে নিয়েছে মৌলিক মানবিক চাহিদা- আটা, খাবার এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি নিশ্চিত করা, ঠান্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য তাঁবু সংগ্রহ করা, চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করা এবং বোমাবর্ষণ থেকে বেঁচে থাকা। সানার মতো ফিলিস্তিনিদের জন্য, নতুন বছরের আশা বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিনের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী সানা সাত সন্তানের জননী। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রথম বছরের শেষে ইসরায়েলি হামলায় তার স্বামী নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি তার সন্তানদের লালন-পালনের একমাত্র দায়িত্বে ছিলেন। সানা তার পরিবারের সাথে আল-বুরেইজ থেকে মধ্য গাজার দেইর এল-বালাহ এলাকায় পালিয়ে আসেন। শিশুদের প্রতি দায়িত্ব, স্থানচ্যুতি, খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা, এখানে-সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবকিছুই তার কাছে ছিল বেশ কঠিন বিষয়। ২০২৫ সালে সানার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘একটি রুটি’ জোগাড় করা এবং তার পরিবারের জন্য প্রতিদিন এক কেজি আটা জোগাড় করা। তিনি তিক্ত স্বরে বলেন, দুর্ভিক্ষের সময় আমি একটাই ইচ্ছা নিয়ে ঘুমাতাম এবং জেগে উঠতাম, সেটা হলো দিনের জন্য পর্যাপ্ত রুটি জোগাড় করা। যখন আমার বাচ্চারা আমার সামনে অনাহারে ছিল, আর আমি কিছুই করতে পারছিলাম না আমার মনে হচ্ছিল আমি মারা যাচ্ছি। আটার সন্ধানে অবশেষে সানা গাজাজুড়ে মে মাসের শেষের দিকে খোলা মার্কিন-সমর্থিত জিএইচএফ ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, প্রথমে আমি ভীত এবং দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, কিন্তু আমরা যে ক্ষুধার মধ্য দিয়ে বাস করছি তা আপনাকে এমন কিছু করতে বাধ্য করতে পারে যা আপনি কখনো কল্পনাও করেননি। কিন্তু সাইটগুলিতে যাওয়া কেবল সানার জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না, এটি এমন একটি পথ ছিল যা তার মর্যাদা কেড়ে নিয়েছিল এবং স্থায়ী ক্ষত রেখে গিয়েছিল। একবার মধ্য গাজার নেটজারিম বিতরণ পয়েন্টে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করার সময় সানা তার বাহুতে ছুরি দিয়ে আঘাত পান এবং রাফাহর পূর্বে মোরাগ পয়েন্টে তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে বুকে আঘাত পান। কিন্তু তার এই আঘাত তাকে আবারও চেষ্টা করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। যদিও এরপর থেকে তিনি তার সন্তানদের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এলাকায় রেখে একাই যাওয়া শুরু করেন। গাজায় যুদ্ধের ফলে খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। গত বছরের মার্চের শেষের দিকে এই পরিস্থিতি শুরু হয় এবং জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি ঘোষণা করে যা অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যদিও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে তবে সংকট একেবারে শেষ হয়নি। গাজার কিছু অংশে খাদ্য সংকট ভয়াবহ পর্যায়ে প্রবেশ করায় খাদ্য, পানি এবং ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের মধ্যে অপুষ্টির হার বেড়ে গেছে।

জনসংখ্যা বাড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ কর বসালো চীন

জনসংখ্যা বাড়াতে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ কর বসালো চীন টানা জনসংখ্যা হ্রাস মোকাবিলায় গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর ১৩ শতাংশ বিক্রয় কর আরোপ করেছে চীন সরকার। গত বছরের শেষের দিকে ঘোষিত নতুন এই নীতিটি আজ ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে দেশটিতে কার্যকর করা হয়েছে। খবর বিবিসির।  প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন ২০১৫ সালে তাদের বির্তকিত ‘এক সন্তান নীতি’ বাতিলের পর থেকেই জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ডিসেম্বরে ঘোষিত সর্বশেষ নিয়মে একদিকে যেমন গর্ভনিরোধক সামগ্রীর ওপর বিক্রয় কর আরোপ করা হয়েছে, অন্যদিকে  শিশু যত্ন বা চাইল্ডকেয়ার পরিষেবাগুলোকে কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নিয়মে বিয়ে-সংক্রান্ত পরিষেবা এবং বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার বিষয়গুলোকেও ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত সন্তান জন্মদানের জন্য দীর্ঘ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং নগদ অর্থ সহায়তার মতো বেইজিংয়ের বিস্তৃত প্রচেষ্টারই একটি অংশ। ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যা এবং ধীরগতির অর্থনীতির মুখে বেইজিং তরুণদের বিয়ে করতে এবং দম্পতিদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে চীনের জনসংখ্যা কমছে। ২০২৪ সালে মাত্র ৯.৫৪ মিলিয়ন শিশু জন্ম নিয়েছে, যা এক দশক আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। এক দশক আগে থেকেই চীন তাদের সন্তান ধারণের সীমাবদ্ধতা শিথিল করতে শুরু করেছিল। এদিকে, কনডম, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল এবং অন্যান্য সরঞ্জামের ওপর এই কর আরোপ অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এবং এইচআইভি সংক্রমণের হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সন্তান পালনের খরচের তুলনায় দামী কনডম মানুষকে সন্তান নিতে উৎসাহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। বেইজিংয়ের ইউওয়া পপুলেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন শিশু লালন-পালনের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ। উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে স্কুলের ফি এবং কর্মজীবী নারীদের জন্য মাতৃত্ব ও কর্মক্ষেত্রের ভারসাম্য রক্ষা করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্পত্তি খাতের সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দা সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ে আঘাত হেনেছে। ফলে পরিবারগুলো, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। হেনান প্রদেশের ৩৬ বছর বয়সী ড্যানিয়েল লুও বলেন, “আমার একটি সন্তান আছে এবং আমি আর চাই না।” তিনি কনডমের দাম বৃদ্ধি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তার ভাষ্য, “এক বক্স কনডমের দাম হয়তো ৫ ইউয়ান বা বড়জোর ২০ ইউয়ান বাড়বে। বছরে যা কয়েকশ ইউয়ান মাত্র, যা বহনযোগ্য।” তবে শি’আন শহরের বাসিন্দা রোজি ঝাও মনে করেন, অন্যদের জন্য এই খরচ সমস্যার কারণ হতে পারে। তিনি বলেন, গর্ভনিরোধক একটি মৌলিক প্রয়োজন, এর দাম বেড়ে গেলে শিক্ষার্থী বা আর্থিকভাবে অসচ্ছলরা ‘ঝুঁকি নিতে’ পারে। তার মতে, এটিই এই নীতির ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক ফলাফল’ হতে পারে।