মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞ‌প্তি‌তে এ তথ‌্য জা‌নিয়েছে। বিজ্ঞ‌প্তি‌তে জানা‌নো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ আছেন। তিনি নাগরিক স্থাপনায় আকাশ থেকে নেমে আসা ধ্বংসাবশেষে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া, বাহরাইনে আরও একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মানামায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। কুয়েতে চারজন বাংলাদেশি— নবীনগরের আমিনুল ইসলাম (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সাথিয়ার রাবিউল ইসলাম (পাবনা), বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান (নোয়াখালি) ও চাঁদিনার দুলাল মিয়া (কুমিল্লা) ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন। তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। কুয়েত দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এবং দূত নিজেও হাসপাতালে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ বাংলার জয়যাত্রা বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থান করছে। দূতাবাস জাহাজের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং সব ক্রু সদস্য নিরাপদ রয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ছয় মিলিয়নেরও বেশি বাংলাদেশির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে প্রবাসীরা সতর্ক থাকেন এবং স্থানীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে চলেন। বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫

ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৫৫৫ ইরানে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আজ এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। এর আগে ১ মার্চ ২৪ ঘণ্টায় ইরানে ৫৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছিল রেড ক্রিসেন্ট। অন্যদিকে, ইরানের মিনাবে মেয়েদের একটি স্কুলে শনিবারের হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দেড়শ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি। শনিবার সকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বড় ধরনের হামলা চালায়। এ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার খামেনির কমপাউন্ডে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ‘আমেরিকা ও জায়নবাদী শাসনের যৌথ হামলায় শনিবার সকালে ইসলামী বিপ্লবের নেতা মহান আয়াতুল্লাহ ইমাম সাইয়্যিদ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন।’ ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরও জানায়, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। এদিকে, ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।অন্যদিকে, খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে লেবাননের হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এরপর ইসরায়েলও লেবাননে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। হামলা অব্যাহত রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চার সপ্তাহ যুদ্ধ চলতে পারে বলে জানিয়েছেন।

বাহরাইনে জাহাজে হামলা, হতাহত ৩

বাহরাইনে জাহাজে হামলা, হতাহত ৩ বাহরাইনের সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে একটি ‘বিদেশি জাহাজে’ মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লেগে তিনজন হতাহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নিহত ও দু’জন ‘গুরুতর আহত’ হয়েছে। বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাহরাইন নিউ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সম্পূর্ণরূপে নিভে গেছে। বাহরাইনের মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটিটি এর আগেও ইরানের মিসাইল হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রাপ্ত ভিডিওতে রবিবার একটি মার্কিন নৌঘাঁটির উপর দিয়ে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে।

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৩১

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৩১ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় হাইফার কাছে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর পর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ হামলায় লেবাননে কমপক্ষে ৩১ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন ১৪৯ জন। আজ এ তথ্য জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৩১ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন ১৪৯ জন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর পরপরই লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

মাটির নিচে ড্রোনঘাঁটির ভিডিও প্রকাশ ইরানের

মাটির নিচে ড্রোনঘাঁটির ভিডিও প্রকাশ ইরানের ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে তেহরানের গভীরে নির্মিত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলোতে হাজারো ড্রোন সারিবদ্ধভাবে সাজানো অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিওতে ড্রোনগুলো রকেট লঞ্চারগুলোর ওপর স্থাপিত এবং সুড়ঙ্গের দেয়ালে ইরানের পতাকা ও প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা গেছে। যা তাদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিএনএন তাঁদের প্রতিবেদনে এই ভিডিওটিকে প্রোপাগাণ্ডা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সূত্রে কোনো নির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য (যেমন ভিডিওর সময়, অবস্থান বা ড্রোনের ধরন) পাওয়া যায়নি, তবে এটি সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: বেড়েই চলেছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: বেড়েই চলেছে তেলের দাম ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে উল্লম্ফন ঘটেছে। গত তিনদিনে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ। তার আগের দিন বৃহস্পতিবার থেকেই চড়তে শুরু করে অপরিশোধিত তেলের বাজার। এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, ২৭ তারিখ শুক্রবার দিনের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রথম ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ৭২ ডলারে; কিন্তু দিনের শেষে এই দাম বেড়ে পৌঁছায় ৮২ ডলারে। আর দ্বিতীয় ব্র্যান্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট শুক্রবার দিনের শুরুতে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে ৬০ ডলারে কিন্তু দিনের শেষে এই দাম ৭০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগেই তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে তা ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এদিকে ২৮ তারিখ যুদ্ধ শুরুর দিনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল স্থগিত করে দিয়েছে ইরান। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এই স্থগিতাদেশ যদি অব্যাহত থাকে— তাহলে ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, তার ২০ শতাংশই যাতায়াত করে এই প্রণালী দিয়ে। জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থা রাইস্টাড এনার্জির কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক এএফপিকে বলেন, “তেল পরিবহনের জন্য হরমজু প্রনালী এড়িয়ে বিকল্প কিছু রুট ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে যদি এই প্রণালী বন্ধ থাকে— তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক তেলের সরবরাহ স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল কমে যাবে।”

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ‘স্কাইলাইট’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওমানের সমুদ্রবিষয়ক নিরাপত্তা কেন্দ্র। খবর আল-জাজিরা। ওমানের মুসানদাম এলাকা থেকে প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউয়ের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’ লক্ষ্য করে এ আক্রমণ চালানো হয়। ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরপরই জাহাজে থাকা ২০ জন নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আহত চারজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়েও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এর আগে ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির দুকম বন্দর এলাকায় দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় একজন বিদেশি শ্রমিক আহত হন। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হলো হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের বড় অংশই এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। ফলে এ এলাকায় যেকোনো হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

যেভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে

যেভাবে হত্যা করা হয় খামেনিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোরের দিকে তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের শেষ মুহূর্তের তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে উচ্চপর্যায়ের অত্যন্ত গোপনীয় এক বৈঠক চলাকালীন ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। একেবারে গোপনীয় এবং সুরক্ষিত কক্ষে বৈঠকের সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নিখুঁত হামলা ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীকে সেই সময় একেবারে অপ্রস্তুত করে দেয়। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্সকে একাধিক মার্কিন সূত্র বলেছে, খামেনি শনিবার সকালে তেহরানের মধ্যাঞ্চলের একটি সুরক্ষিত ভবনে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনিকে নজরদারিতে রেখেছিল এবং তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে ছিল। সেসব তথ্য প্রতি মুহূর্তে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে আসছিল সিআইএ।   • শেষ মুহূর্তের গোয়েন্দা তথ্যে নির্ধারিত হয় খামেনির পরিণতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শুরুতে রাতের দিকে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারেন, খামেনির নির্ধারিত বৈঠকটি সন্ধ্যার পরিবর্তে শনিবার সকালেই শুরু হয়েছে। গোয়েন্দাদের এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন সূত্র বলেছে, শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে খামেনির বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বিমান ও নৌ হামলা শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ সময় পেলে তিনি আত্মগোপনে যেতে পারেন; এমন ধারণা ছিল মার্কিন গোয়েন্দাদের। ইরানি দুটি নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা দেশটির প্রতিরক্ষা পরিষদের সেক্রেটারি আলী শামখানি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টায় শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েলের ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান তেহরানে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে খামেনির ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টিত ভবনে ৩০টি বোমা ফেলে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন ট্র্যাকিং সিস্টেম খামেনির অবস্থান শনাক্ত করেছিল এবং এই হামলায় তাকেসহ অন্য ইরানি নেতাদের হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তাও খামেনির মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েল বলেছে, খামেনির সঙ্গে আলী শামখানি এবং আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ কয়েকজন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাও নিহত হয়েছেন। • শোকে ভাসছে ইরান রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ইসরায়েলি-মার্কিন হামলায় শামখানি ও পাকপুরের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া বিপ্লবী গার্ডের অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সৈয়দ মজিদ মুসাভি এবং গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজিসহ প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা ওই যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্যও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে তার মেয়ে, জামাতা, নাতি এবং এক পুত্রবধূ রয়েছেন। পরে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। • খামেনির দায়িত্বে কারা? ইরান এই ঘটনায় ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হামলার আদেশদাতারা শিগগিরই তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা করবে। খামেনির উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ দ্রুত নতুন নেতা নির্বাচন করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগীয় প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেমকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের কাউন্সিল খামেনির দায়িত্ব পালন করবে। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলছে, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে আইআরজিসির কট্টরপন্থীরা ক্ষমতায় আসতে পারেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এর ফলে একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কয়েকজন ভালো প্রার্থী রয়েছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স, এএফপি।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের সে দেশে সরকারি স্বাস্থ্য সহায়তা গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।  শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, বিদেশি দর্শনার্থীরা যদি যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা সেবার ব্যয় মেটাতে মেডিকেড বা সরকারি সহায়তা ব্যবহার করেন, তবে তা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এতে সৃষ্ট ব্যয় শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ওপর বর্তায়। বার্তায় আরো বলা হয়, কেউ যদি যুক্তরাষ্ট্রের সু‌বিধা অপব্যবহার করেন বা সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন- তবে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হতে পারেন।

‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র’

‘ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র’ ইরানে চালানো হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত প্রায় আট মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। ভিডিওতে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ‘মেজর কমব্যাট অপারেশনস’ বা বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণে রাজি হয়নি। ‘ইরান আমাদের যা প্রয়োজন, তা দিতে চায়নি। তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না,’ বলেন ট্রাম্প। ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমরা বারবার একটি চুক্তি করার চেষ্টা করেছি।’ তিনি আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করবে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প ‘সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে। এর আগে গতকাল শুক্রবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরানে হামলার বিষয়ে তখনও যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের আলোচনার অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘আমি তাদের অবস্থানে সন্তুষ্ট নই।’চলতি সপ্তাহের শুরুতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই তখন অগ্রগতির কথা জানিয়েছিল। তবে সেই প্রেক্ষাপটেই সামরিক অভিযানের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর আগে হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যখন যুদ্ধ হয়, তখন সবকিছুরই ঝুঁকি থাকে—ভালোও, খারাপও।’