নোবেল শান্তি পুরস্কারে ২৮৭ মনোনয়ন, সম্ভাবনায় ট্রাম্প!

নোবেল শান্তি পুরস্কারে ২৮৭ মনোনয়ন, সম্ভাবনায় ট্রাম্প! ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন প্রার্থী বিবেচনায় আছেন বলে জানিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন। ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেন জানান, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জমা পড়া মনোনয়নের মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এবার তালিকায় নতুন নামের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রতি বছর তালিকায় নতুনত্ব আসার বিষয়টি তাকে অবাক করে বলে জানান ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়া হার্পভিকেন। বিশ্বজুড়ে সংঘাতের বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাপের মুখে থাকলেও শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের গুরুত্ব এখনও অর্থবহ বলেই মনে করেন তিনি। হার্পভিকেন বলেন, ‘আমরা যে সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, তাতে শান্তি পুরস্কার আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মনোনয়ন পাকিস্থান, ইসরায়েল ও কম্বোডিয়ার নেতারা জানিয়েছেন, তারা এ বছরের শান্তি পুরস্কারের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মনোনীত করেছেন। যদি এসব মনোনয়ন ২০২৫ সালের নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ জানুয়ারি মধ্যে জমা পড়ে থাকে, তবে সেগুলো বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। যেহেতু পুরো মনোনয়ন তালিকা ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। ফলে ট্রাম্প সত্যিই তালিকায় আছেন কি-না তা যাচাই করা সম্ভব নয়। কমিটির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিয়তা দেওয়া হয়নি। কাউকে মনোনীত করার মানেই যে পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থার অনুমোদন পাওয়া তা নয়। নোবেল কমিটির সদস্যরা ছাড়াও বিশ্বের অনেকেই এই পুরস্কারের জন্য যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নাম প্রস্তাব করতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংসদের সদস্য, রাষ্ট্রপ্রধান, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, আইন ও দর্শনের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, পূর্ববর্তী নোবেল বিজয়ীরা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য মনোনীতদের তালিকায় রয়েছেন- রাশিয়ার বিরোধীনেতা আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া, পোপ লিও, সুদানের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’, মার্কিন সিনেটর লিসা মারকাওস্কি, গ্রিনল্যান্ড থেকে ডেনিশ পার্লামেন্ট সদস্য আজা কেমনিটজ। বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর। আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ ডিসেম্বর অসলোতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হবে।
লিমন বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া গেলো চলছে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া

লিমন বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া গেলো চলছে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় মরদেহটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (১ মে) এক হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা।তিনি জানান, ফ্লোরিডার একটি পুলিশ বিভাগ বৃষ্টির ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সমন্বয়ে এরই মধ্যে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজন জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ আগামী ৪ মে ঢাকায় পৌঁছাবে। গোলাম মোর্তোজা জানান, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে লিমনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এর আগে একটি ফিউনারেল হোম মরদেহটি গ্রহণ করে ও ২ মে রাত ৮টা ৫০ মিনিটে অরল্যান্ডো থেকে দুবাই হয়ে ফ্লাইটে পাঠানো হবে। লিমন ও বৃষ্টি দুজনই ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সর্বশেষ দেখা যায় একটি অফ-ক্যাম্পাস আবাসিক কমপ্লেক্সে, যেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহ (২৬) ও আরেক রুমমেটের সঙ্গে থাকতেন। মার্কিন গোয়েন্দারা মোবাইল ফোনের লোকেশন ও লাইসেন্স প্লেট রিডার ডেটা ব্যবহার করে আবুঘারবিয়েহর গাড়ি এবং লিমনের ফোনের অবস্থান শনাক্ত করেন। এর মাধ্যমে ২৪ এপ্রিল একটি সেতু থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রসিকিউটরদের দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল ও তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। পরে ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা পরে বৃষ্টির বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার কয়েকদিন পর সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘারবিয়েহকে তার বাবা-মায়ের বাসা থেকে একটি সোয়াত টিম গ্রেফতারর করে। আদালত তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছে। টাম্পায় সংক্ষিপ্ত শুনানিতে হিলসবরো কাউন্টির বিচারক লোগান মারফি নির্দেশ দেন, আবুঘারবিয়েহ কোনো সাক্ষী বা ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করে প্রথম ডিগ্রির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, যদিও প্রসিকিউটররা এখনো চূড়ান্তভাবে মৃত্যুদণ্ড চাইবেন কি না তা জানাননি। সূত্র: ইউএনবি
যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠালো ইরান

যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠালো ইরান যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের কাছে সংশোধিত নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের হাতে প্রস্তাবটি পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এক ইরানি কূটনীতিক। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি আজ শুক্রবার বলেছেন, পাকিস্তানের কাছে গতকাল প্রস্তাবটি পাঠানো হয়। ইরানের এ নতুন প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে গত সপ্তাহে ইরান যে প্রস্তাবটি দিয়েছিল সেটি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ইরানের ওই প্রস্তাবে আগে যুদ্ধ বন্ধ ও পরবর্তীতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প যুদ্ধাবস্থা চলার মধ্যেই পারমাণবিক চুক্তি করতে চান। নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে ইরান কি বলেছে সেটি এখনো জানা যায়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এরপর টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় আরব দেশগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান প্রথমে দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামোকে টার্গেট করে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুরু করে তখন ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে আরব দেশগুলোর অবকাঠামোতে হামলা করে। এমন হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। যা এখনো চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল হুমকি দিয়েছে যদি আলোচনা সফল না হয় তাহলে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে। সূত্র: আলজাজিরা
নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদ মজুদ করছে যুক্তরাষ্ট্র

নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদ মজুদ করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ শুরু করতে হতে পারে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুঁশিয়ারির পর যুদ্ধজাহাজে নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদ মজুদ শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র| মার্কিন সেন্টকমের বরাতে আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে| সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেন্টকমের শেয়ার করা কিছু ছবিতে দেখা যায়, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’-এ বিপুল পরিমাণ রসদ তোলা হচ্ছে| প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিতে থাকা এ রণতরি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা করছে|
বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে শিশুসহ নিহত ৭

বেঙ্গালুরুতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে শিশুসহ নিহত ৭ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বেঙ্গালুরুতে একটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ৮ ফুট (২.৫ মিটার) উঁচু দেয়াল ধসে সাতজন নিহত হয়েছেন। গত বুধবার রাজ্যের একজন সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কর্ণাটক রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এক বিবৃতিতে জানান, দেয়াল ধসে এক শিশু ও চারজন হকার ছাড়াও কেরালা রাজ্যের আরও দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। উপ-মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন এবং তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দেয়াল ধসের পর আহত এক নারীকে একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েক সপ্তাহের তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর গত বুধবার বেঙ্গালুরুর আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন আসে। শহরের বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়।
লিবিয়ার উপকূলে নৌকা ভেঙে ১৭ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত, নিখোঁজ আরও ৯

লিবিয়ার উপকূলে নৌকা ভেঙে ১৭ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত, নিখোঁজ আরও ৯ লিবিয়ার ভূমধসাগরের উপকূলে নৌকা ভেঙে শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং এখনও নিখোঁজ আছেন আরও অন্তত ৯ জন। আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা রেড ক্রিসেন্টের লিবিয়া শাখা এবং দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।এক বিবৃতিতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর তবরুকের উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নৌকাটি ভেঙে পড়েছিল এবং আট দিন ধরে সাগরে ভাসছিল। দেশটির নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও স্বেচ্ছাসেবীরা ঘটনাস্থল এবং তার চার-পাশ থেকে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। অনুসন্ধান কার্যক্রম ইতোমধ্যে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি যে ৯ জন নিখোঁজ আছেন, তাদের মরদেহ সাগরে ঢেউয়ে তীরে ভেসে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত সাব-সাহারান অঞ্চরের দেশগুলোর অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার জন্য লিবিয়া বেশ জনপ্রিয় একটি রুট।আফ্রিকা মহাদেশে মোট দেশের সংখ্যা ৫৪টি। এসব দেশের ৪৭টিই সাব সাহারান অঞ্চলভুক্ত। যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তারা সবাই সাব-সাহারান অঞ্চলের। তবে কে কোন দেশের নাগরিক— তা জানা যায়নি।
অবতরণের সময় অস্ট্রেলিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২

অবতরণের সময় অস্ট্রেলিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের প্যারাফিল্ড বিমানবন্দরে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুইজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে বিমানটি অবতরণের চেষ্টা করার সময় একটি হ্যাঙ্গারে (বিমান রাখার গ্যারেজ বা শেড ) আঘাত করে। আঘাতের পরপরই এলাকায় কালো ধোঁয়ার বড় স্তম্ভ দেখা যায় এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় বিমানের চালক ও এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হ্যাঙ্গারের ভেতরে থাকা ১১ জন কর্মী গুরুতর দগ্ধ হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে চারজনকে রয়্যাল অ্যাডিলেড হাসপাতাল এবং সাতজনকে লায়েল ম্যাকইউইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর প্যারাফিল্ড বিমানবন্দর সব ধরনের বিমান চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিবহন নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট ডায়মন্ড ডিএ ৪২ ধরনের এই বিমান দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাজধানী ক্যানবেরা ও ব্রিসবেন থেকে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হয়েছে, যারা ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে। এ বছর এটিই প্যারাফিল্ড বিমানবন্দরের দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। এর আগে জানুয়ারিতে একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হলেও চালক প্রাণে বেঁচে যান।
মামলার শুনানির জন্য ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে আরও ২০ বছর অপেক্ষার নির্দেশ

মামলার শুনানির জন্য ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে আরও ২০ বছর অপেক্ষার নির্দেশ মানহানির মামলার শুনানির জন্য ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে আরও ২০ বছর অপেক্ষা করার নির্দেশ দিলেন বোম্বে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি জিতেন্দ্র জৈনের একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করতে গিয়ে একে ‘অহংকারের লড়াই’ বলে অভিহিত করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ বলা হয়েছে, এই আইনি বিবাদ বিচারব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে। এর প্রেক্ষিতেই বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে, ২০৪৬ সালের আগে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে না। ২০১৭ সালে তারিণীবেন এবং ধ্বনি দেশাই, কিলকিলরাজ বনশালি ও অন্যদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার মূল ঘটনাটি ছিল ২০১৫ সালে ‘শ্যাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় ঘটা কিছু অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ে। আবেদনকারীদের দাবি, সেই ঘটনার কারণে তারা মানসিকভাবে হেনস্তা ও দুর্দশার শিকার হয়েছেন, যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ কোটি রুপি দাবি করা হয়েছে। মামলার গতিপ্রকৃতি দেখে বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মক্কেলদের এই জেদ বিচারব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। এর ফলে আদালত এমন সব মামলা হাতে নিতে পারছে না যেগুলোর প্রকৃতপক্ষেই অগ্রাধিকার প্রয়োজন। এর আগে, আদালতের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ৯০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা মানহানির মামলা চালিয়ে যেতে অনড় থাকেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আবেদনকারী একজন ‘সুপার সিনিয়র সিটিজেন’ বা অতি প্রবীণ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও এই মামলাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা এই মামলায় সাক্ষী ও নথি পেশের সুযোগ দেওয়া হলেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি, যা শেষ পর্যন্ত আদালতের এই কড়া নির্দেশের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একতরফাভাবে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি টানার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন: রিপোর্ট

একতরফাভাবে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি টানার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন: রিপোর্ট ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে মার্কিন প্রশাসন একতরফা বিজয় ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের অনুরোধে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বর্তমানে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ফলাফল বিশ্লেষণ করছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হঠাৎ করেই এই যুদ্ধে নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেন, তবে তেহরান ঠিক কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, সেটিই এখন ওয়াশিংটনের মূল চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে যুদ্ধের ময়দান থেকে সরে আসার পেছনে সামরিক কৌশলের চেয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপই বেশি কাজ করছে। চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন দলটির নীতি-নির্ধারকরা। ইরানে পরিচালিত এই দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল সামরিক অভিযানের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। নির্বাচনে হার এড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন যুদ্ধ থেকে দ্রুত বের হয়ে আসার পথ খুঁজছেন। যদিও যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে ওয়াশিংটন এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। রয়টার্স বলছে, ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে ইরান বিরোধী সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন প্রেসিডেন্টের ওপর থাকা রাজনৈতিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে। যদিও এতে একটি বড় ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে; একতরফা বিজয় ঘোষণা করলে ইরান তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের জন্য নতুন করে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সাথে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধের কারণে নিজের এবং তার দলের রাজনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন। প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রেসিডেন্টের ওপর বর্তমানে ‘বিশাল’ ঘরোয়া চাপ রয়েছে। তবে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অস্ত্রবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রচুর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার করে নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করেছে। ফলে এখন নতুন করে যুদ্ধ শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগের চেয়েও বড় মূল্য দিতে হতে পারে। এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ডের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। সিআইএ’র জন সংযোগ দপ্তরের পরিচালক লিজ লায়ন্স জানিয়েছেন, তারা এ ধরনের কোনো গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে অবগত নন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের শান্ত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বড় কোনো ঘোষণা দেওয়ার পথেই হাঁটছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরান থেকে মার্কিন মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া।
বন্ধ হরমুজ প্রণালি, হাজারো নাবিক জানেন না ফিরবেন কবে

বন্ধ হরমুজ প্রণালি, হাজারো নাবিক জানেন না ফিরবেন কবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথহরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো নাবিক। ট্যাঙ্কার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কো জানিয়েছে, বর্তমানে ১০৫টির বেশি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নাবিক আটকে আছেন। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলছে। বিবিসির ‘টুডে’অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ইন্টারট্যাঙ্কোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স বলেন, ইরানের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বহু জাহাজ ও নাবিক আটকে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজে অবস্থান করায় ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়ছে। তিনি জানান, আটকে পড়া নাবিকদের খাবার, পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক বিষয়গুলোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই জানেন না, কবে তারা ঘরে ফিরতে পারবেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, নৌপথে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি কার্গো জাহাজ ‘পরিদর্শনের’ জন্য আটক করে। অন্যদিকে, ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে এবং একাধিক নৌযান আটক করে। পাশাপাশি কিছু জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন বা ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।