বন্ধ হরমুজ প্রণালি, হাজারো নাবিক জানেন না ফিরবেন কবে 

বন্ধ হরমুজ প্রণালি, হাজারো নাবিক জানেন না ফিরবেন কবে  মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথহরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো নাবিক। ট্যাঙ্কার মালিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কো জানিয়েছে, বর্তমানে ১০৫টির বেশি ট্যাঙ্কারে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন নাবিক আটকে আছেন। ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশ্ববাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশই এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলছে। বিবিসির ‘টুডে’অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ইন্টারট্যাঙ্কোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিম উইলকিন্স বলেন, ইরানের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় বহু জাহাজ ও নাবিক আটকে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজে অবস্থান করায় ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ, মানসিক চাপ ও ক্লান্তি বাড়ছে। তিনি জানান, আটকে পড়া নাবিকদের খাবার, পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক বিষয়গুলোও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই জানেন না, কবে তারা ঘরে ফিরতে পারবেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, নৌপথে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি কার্গো জাহাজ ‘পরিদর্শনের’ জন্য আটক করে। অন্যদিকে, ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে এবং একাধিক নৌযান আটক করে। পাশাপাশি কিছু জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন বা ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই আলোচনা ব্যর্থ বলে অভিযোগ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই আলোচনা ব্যর্থ বলে অভিযোগ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর   যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আজ রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর পর ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক এই মন্তব্য করেন। এখানেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আব্বাস আরাগচির বৈঠক করার কথা রয়েছে। আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও অতিরিক্ত দাবির কারণে অগ্রগতি সত্ত্বেও আগের দফার আলোচনা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয় বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি অস্থিরতা দেখা দেয়। টানা ৩৯ দিন যুদ্ধ শেষে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই সময়ে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে এক রকম একক সিদ্ধান্তেই অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় বসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ইসলামাবাদ

স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে ইসলামাবাদ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে রবিবার সকাল থেকেই জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে জারি থাকা কঠোর নিরাপত্তা ও লকডাউন ব্যবস্থা শিথিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এই কড়াকড়ির ফলে ইসলামাবাদ এবং পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছিল। যাত্রীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে, প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল কমে গিয়েছিল এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছানো নিয়ে অভিভাবকদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। রবিবার নাগাদ শহরের প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল ধীরে ধীরে বাড়ছে। কয়েক দিনের অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার পর জনজীবনে স্বস্তি ফিরছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার রাতে সরকারের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে জানানো হয়েছে যে, পর্যটন কেন্দ্র, পার্ক এবং বাস টার্মিনালগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে শহরের রেড জোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও কঠোর রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোর অবস্থান এই এলাকায় এবং চলতি মাসের শুরুতে এখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সূত্র: এপি

বাবার একটাই চাওয়া বৃষ্টির লাশ খুঁজে বের করা

বাবার একটাই চাওয়া বৃষ্টির লাশ খুঁজে বের করা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ এখনো খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা জহির উদ্দিন আকন ওরফে দিল মোহাম্মদ। তাঁর একটাই চাওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন মেয়ের লাশ খুঁজে বের করে এবং বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তাঁর বাবা জহির উদ্দিন দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজধানীর মিরপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর মেয়ে নাহিদা সুলতানা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন। আজ রোববার সকালে নিহত বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটাকে আমি শেষবারের মতো দেখতে চাই। বৃষ্টির মা, ভাই সবাই খুব মন খারাপ করে আছে। কান্নাকাটি করছে। সবার মন মরা। এ অবস্থায় আমাদের একটাই আকুতি। ওর মরদেহটা যেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। আমরা এর বাইরে আর কিছু চাই না। জহির উদ্দিন আকন বলেন, ‘মেয়ের লাশ পাওয়ার খবরের আশায় গতকাল শনিবার রাত জেগে অপেক্ষা করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ আর ফোন করেনি। তাদের ফোন করার কথা ছিল। পরে আমরা যোগাযোগ করে জেনেছি, তারা (পুলিশ) এখনো বৃষ্টির মরদেহ খুঁজতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ লিমনের বাসা থেকে একটি দেহের খণ্ডিত অংশ পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বৃষ্টির দেহের অংশ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। আমাদের সঙ্গে নিয়মিত বৃষ্টির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পুলিশসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি যোগাযোগ রাখছে। আশ্বস্ত করেছে, বৃষ্টির হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতসহ তার লাশটি খুঁজে পেতে তারা সহযোগিতা করবে। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করতে পারছি না। বৃষ্টির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মিরপুরের নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) নিয়ে এসএসসি পাস করেন নাহিদা সুলতানা। পরে শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকেও জিপিএ-৫ (গোল্ডেন এ প্লাস) নিয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন। তবে স্নাতকোত্তর শেষ করার আগেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ফুল স্কলারশিপে পিএইচডি করার সুযোগ পেলে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বৃষ্টি। নিহত বৃষ্টির চাচা দানিয়াল আকন পরিবার নিয়ে মাদারীপুরে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পেশায় তিনি একজন কৃষক। ভাতিজি বৃষ্টিকে নিয়ে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি যে আমাদের ছেড়ে এভাবে চলে যাবে, তা আমার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। ওরা (বৃষ্টির পরিবার) বছরে একবার বড়জোড় দুবার দেশের বাড়িতে আসত। মেয়েটা ছোট থেকেই ঢাকায়। আমার ভাইয়ের মেয়ে ও ছেলে দুজনই পড়ালেখায় খুবই ভালো। এলাকায় ওদের নিয়ে সবাই গর্ব করত। বৃষ্টির মারা যাওয়ার কথা কেউ মানতে পারছে না। ওর জন্য সবাই কান্না করে যাচ্ছে। যারা বৃষ্টিকে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। আল্লাহ যেন তার বিচার করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত রয়েছি। নিহত বৃষ্টির পরিবারের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। একটি আবেদন লাগবে। পরে আমরা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বৃষ্টির লাশ আনাসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেব। আশা করছি, তাঁর লাশটি পুলিশ খুঁজে পেলেই এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি নামের দুই শিক্ষার্থী। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন। অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। শিগগিরই বিয়ের পরিকল্পনা ছিল পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন বৃষ্টির, তার আগেই সব শেষ গত শুক্রবার নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। ফ্লোরিডার হিলসবরোর স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এক সংবাদ সম্মেলনে ফ্লোরিডার ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায়। তাঁদের নিখোঁজের ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামের ২৬ বছরের আমেরিকার এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি জামিলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন। তবে হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর পারিবারিক বাড়ি থেকে।

সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল

সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রবিবার (২৬ এপ্রিল) চট্টগ্রামস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি ইতোমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে। জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এর পর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে।

যেসব মৌলিক শর্তে ঝুলে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

যেসব মৌলিক শর্তে ঝুলে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু মৌলিক শর্তে দুপক্ষের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। রোববার (২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। চলুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত চুক্তিতে রয়ে যাওয়া কিছু প্রধান অমীমাংসিত বিষয় দেখে নেওয়া যাক: পারমাণবিক কর্মসূচি: যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক, কিন্তু তেহরান বলছে, এ ধরনের যেকোনো নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই সীমিত সংখ্যক বছরের জন্য হতে হবে। ইউরেনিয়ামের মজুদ: ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়। তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালি: ইরান জোর দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে। কিন্তু ট্রাম্প বলেছেন, একটি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। জব্দকৃত সম্পদ: যেকোনো স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানি কর্মকর্তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি করছেন। যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ: মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানও প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।

ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক ইসলামাবাদে ইরান ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি তার এই সফরকে একটি সময়োপযোগী সফর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। এই সফরে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিরসন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনার পরিকল্পনা তাদের নেই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ইরানের অবস্থান এবং উদ্বেগগুলো সরাসরি নয় বরং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হবে। ওয়াশিংটন এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী হলেও তেহরান নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন অবরোধ বা নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি আলোচনায় বসার কোনো সম্ভাবনা নেই। মূলত পাকিস্তান বর্তমানে এই দুই দেশের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমিয়ে আনা। সূত্র: আলজাজিরা।

আইআরজিসির অভিযানে গ্রেফতার ২৪০ সন্দেহভাজন

আইআরজিসির অভিযানে গ্রেফতার ২৪০ সন্দেহভাজন ইরানের কুর্দিস্তান ও কেরমানশাহ প্রদেশে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৪০ সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস-আইআরজিসি| ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি কুর্দিস্তান প্রদেশে ১১ জনকে গ্রেফতার এবং একটি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এক সদস্যকে হত্যা করার দাবি করেছে| অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে| এছাড়া পৃথক অভিযানে আরও প্রায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করেছে আইআরজিসি| অপরদিকে, কেরমানশাহ প্রদেশে ১৫৫ জনকে গ্রেফতার করেছে আইআরজিসি|

৫৬ দিন পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু

৫৬ দিন পর ইরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বন্ধ করা তেহরানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুলে দিয়েছে ইরান। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা মেহের নিউজের বরাতে বিষয়টি জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। মেহের নিউজ বলছে, তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শনিবার সকালে কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, তেহরান থেকে প্রথম যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলো মাস্কাট, ইস্তাম্বুল এবং সৌদি আরবের মদিনার উদ্দেশে যাত্রা করেছে। দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদ বিমানবন্দরটি এই সপ্তাহের শুরুতে পুনরায় চালু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে যৌথ বিমান অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরুর দিনই, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজেদের আকাশসীমা এবং বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। এর আগে এই সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার নিজেদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুলল ইরান। এদিকে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে শুক্রবারই (২৪ এপ্রিল) পাকিস্তানে পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে ইরানের প্রতিনিধিদল।

মণিপুরে থামছে না সংঘর্ষ গোলাগুলিতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

মণিপুরে থামছে না সংঘর্ষ গোলাগুলিতে আরও ৩ জনের মৃত্যু ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাতিগত সহিংসতা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাতে রাজ্যের উখরুল জেলার মুল্লাম গ্রামে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। মণিপুর পুলিশ এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, উখরুল জেলায় দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি চলে। এতে তিনজন ঘটনাস্থলেই গুলবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তবে নিহতরা কোন সম্প্রদায়ের, তা এখনো স্পষ্ট করেনি প্রশাসন। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো এড়াতে ওই এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে চিরুনি অভিযান চলছে। প্রায় তিন বছর ধরে মণিপুরে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই এবং প্রধানত খ্রিস্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এই দ্বন্দ্বের মূল কারণ ভূমি ও সরকারি চাকরিতে আধিপত্য নিয়ে প্রতিযোগিতা। মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য স্থানীয় নেতারা এই জাতিগত বিভাজন আরও উসকে দিচ্ছেন। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সহিংসতায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় বলে সরকারি তথ্য জানায়। কিছুটা শান্ত হলেও চলতি মাসের শুরুতে আবার সহিংসতা বাড়ে।   একটি হামলায় দুই শিশুসহ চারজন নিহত হন এবং পরে মেইতেই সম্প্রদায়ের একদল মানুষ একটি আধাসামরিক ক্যাম্পে হামলা চালায়। এদিকে, বৃহস্পতিবার মণিপুর ও মিজোরাম থেকে ২৪৯ জন ভারতীয় তেল আবিব-এ পৌঁছেছেন। তারা বনেই মেনাশে সম্প্রদায়ের সদস্য, যারা নিজেদের ইসরায়েলের ‘হারিয়ে যাওয়া গোত্র’-এর বংশধর বলে দাবি করেন। ইসরায়েল সরকার গত নভেম্বরে এই সম্প্রদায়ের প্রায় ছয় হাজার সদস্যকে সেখানে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: এএফপি