এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু

এক দশক পর জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের গণহত্যা মামলার বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত। নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের আদালতের অবস্থান। আজ দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব। জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে মিয়ানমারের সরকার। পরে এ হামলার জের ধরে ওই মাসেই বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে বর্মী সেনাবাহিনীর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন। ২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার। মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে। বৈশ্বিক আদালতে দায়ের কৃত রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে বলেন, “গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, কীভাবে গণহত্যা সম্পর্কিত অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করা যায়ে এবং কীভাবে এ ধরনের অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়— এসবের নিষ্পত্তিতে এই মামলা একটি নজির হয়ে থাকবে।”
গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ জাপানের

গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ জাপানের চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের লক্ষ্যে আজ এক ঐতিহাসিক অভিযানে যাত্রা শুরু করেছে জাপানের একটি গবেষণা জাহাজ। বৈজ্ঞানিক খনন জাহাজ ‘চিকিউ’ স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শিজুওকার শিমিজু বন্দর ত্যাগ করে প্রশান্ত মহাসাগরের দূরবর্তী দ্বীপ মিনামি তোরিশিমার উদ্দেশে রওনা দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির আশপাশের জলসীমায় বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ রয়েছে। টোকিও থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। এই পরীক্ষামূলক অভিযানটি এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন জাপানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ সরবরাহকারী চীন। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানে হামলা হলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই টানাপোড়েন তীব্র হয়। চীন স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বিরল খনিজে নিজের আধিপত্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধেও এই খাতটি চীনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার ছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে একদিন দেরিতে শুরু হওয়া ‘চিকিউ’-এর এই যাত্রা ভবিষ্যতে দেশে বিরল খনিজ উৎপাদনের পথ খুলে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরের কর্মসূচি পরিচালক শোইচি ইশি। বন্দরেই সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার কথা ভাবছি এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে চাইছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিরল খনিজের দেশীয় উৎপাদন নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’ বিরল খনিজ বলতে পৃথিবীর ভূত্বক থেকে উত্তোলনে জটিল ১৭ ধরনের ধাতুকে বোঝায়। এগুলো বৈদ্যুতিক যান, হার্ড ড্রাইভ, বায়ু টারবাইন থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। জাপান এজেন্সি ফর মেরিন-আর্থ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (জ্যামস্টেক) জানিয়েছে, ৬ হাজার মিটার গভীরতায় এ ধরনের পরীক্ষামূলক খনন বিশ্বে এই প্রথম।জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় অবস্থিত মিনামি তোরিশিমার আশপাশে ১ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি বিরল খনিজ মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিক্কেই বিজনেস ডেইলির তথ্য অনুযায়ী, এটি বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম মজুত। নিক্কেই জানিয়েছে, এই সমৃদ্ধ স্তরে রয়েছে প্রায় ৭৩০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ডিসপ্রোসিয়াম, যা মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির উচ্চক্ষমতার চুম্বকে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৭৮০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ইট্রিয়াম, যা লেজার প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর গবেষণা সহযোগী তাকাহিরো কামিসুনা এএফপিকে বলেন, ‘মিনামি তোরিশিমার আশপাশে যদি জাপান নিয়মিতভাবে বিরল খনিজ উত্তোলনে সফল হয়, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের জন্য একটি নিরাপদ দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত হবে।’ এই গবেষণা অভিযান চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে দুই মাস ধরে চলা উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বেইজিং জাপানি পণ্য আমদানিতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে ও টোকিওতে বিরল খনিজ রফতানির গতিও শ্লথ হয়েছে। চলতি মাসে চীন জাপানের কাছে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ কিছু পণ্যের রফতানি বন্ধ করেছে, যেগুলোর সামরিক ব্যবহার সম্ভব। এতে বেইজিং বিরল খনিজ সরবরাহও আটকে দিতে পারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে জাপানের, কারণ এর কিছু চীনের দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
ইরানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, দ্রুত চালু হবে ইন্টারনেট

ইরানে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, দ্রুত চালু হবে ইন্টারনেট তীব্র অর্থনৈতিক দুরাবস্থার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে নিহতের ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। একই সঙ্গে শিগগিরই ইন্টারনেট সংযোগ আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গ্তকাল দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের ‘শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সম্মানে এই শোক পালন করা হবে। যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ১০০ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী কর্মীরা দাবি করছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। এর মধ্যে শত শত বিক্ষোভকারীও মারা গেছেন। এদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সমন্বয় করে দ্রুত ইন্টারনেট পুনঃসংযোগ চালু করতে কাজ করছে। দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর ইন্টারনেট সংযোগও চালু করা হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি বিক্ষোভে আরও উসকানি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন আরাগচি। এদিকে, চলমান সহিংস বিক্ষোভের প্রতিবেদে আগামীকাল সোমবার ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে জাতীয় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছে ইরান সরকার। গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সরকার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত, তবে ‘দাঙ্গাবাজদের’ প্রতি কোনো ধরনের সহনশীলতা দেখানো হবে না। সূত্র: আল-জাজিরা, জিও নিউজ
ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ১৯২ : মানবাধিকার সংস্থা

ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ১৯২ : মানবাধিকার সংস্থা ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। রোববার প্রকাশিত এই তথ্য অনুযায়ী, আগের হিসাবে নিহত ৫১ জনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নরওয়ে-ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আরও সতর্ক করে বলেছে, টানা কয়েক দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
ট্রাম্পকে ইরানে হস্তক্ষেপের আহ্বান সাবেক শাহের পুত্রের

ট্রাম্পকে ইরানে হস্তক্ষেপের আহ্বান সাবেক শাহের পুত্রের ইরানের প্রয়াত সাবেক শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ইরানের জনগণকে সাহায্য করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার এক্স-এ এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। পোস্টে রেজা লিখেছেন, “মাননীয় প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার মনোযোগ, সমর্থন এবং পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। জনগণ এক ঘন্টার মধ্যে আবার রাস্তায় নেমে আসবে। আমি আপনাকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি।”যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় বসবাসকারী রেজা পাহলভি ইরানিদের প্রতিবাদ করতে উৎসাহিত করেছেন। যদিও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তার সমর্থন সঠিকভাবে পরিমাপ করা অসম্ভব। তবুও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে তার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে ক্রমবর্ধমান স্লোগান দিতে দেখা যাচ্ছে। রেজা তার পোস্টে আরো লিখেছেন, “আমি জনগণকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করার জন্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে বিপুল সংখ্যক লোক নিয়ে পরাজিত করার জন্য রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছি।”গত ১৩ দিন ধরে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে ছোট আকারেও হলেও এখন সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানী তেহরানসহ শতাধিক শহরে। সরকার ইতিমধ্যে ইরানের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে ইরানকে ‘অত্যন্ত কঠোর’ আঘাত করা হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ‘নিজের দেশের সমস্যার দিকে মনোনিবেশ করতে’ বলেছেন।
রাশিয়া–চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প

রাশিয়া–চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চান ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মালিকানা’ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার এমন চাওয়াকে ঘিরে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে হবে। এটি করা হবে ‘সহজ অথবা কঠিন উপায়ে’।”হোয়াইট হাউস সম্প্রতি জানিয়েছে, ন্যাটো সদস্য দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটি দখলের সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়নি। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। ডেনমার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা উত্তর আটলান্টিক জোট বা ন্যাটোর অবসান ডেকে আনতে পারে। গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর গুরুত্ব আরো বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ঠান্ডা যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। এখনও নর্থ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলতে শুরু করেছে, উন্মুক্ত হচ্ছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ ও নতুন নৌপথ। ফলে গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতের ভূরাজনীতিতে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অপরিহার্য। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি বলেছেন, “অঞ্চলটির চারদিকে রাশিয়া ও চীনের জাহাজে ভরে আছে।”ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিনল্যান্ডে আরো সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইজারা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট নয়। ”তিনি বলেন, “দেশগুলো নয় বছরের চুক্তি বা এমনকি ১০০ বছরের চুক্তিও করতে পারে না। মালিকানা থাকতে হয়।” চীন ও রাশিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমি চীনের জনগণকে ভালোবাসি। আমি রাশিয়ার জনগণকেও ভালোবাসি। কিন্তু গ্রিনল্যান্ডে তাদের প্রতিবেশী হিসেবে চাই না, তা হতে দেওয়া হবে না। আর এ বিষয়টি ন্যাটোকেও বুঝতে হবে।” এর আগে গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানায়, “প্রেসিডেন্ট ও তার দল এই গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করার মতো বিকল্পও তার হাতে আছে।” এরপরই ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডাসহ ডেনমার্কের ন্যাটো মিত্ররা একযোগে ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। একাধিক বিবৃতিতে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে, “ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়া তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আর কারও নেই।”যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর নেতারা জোর দিয়ে বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের মতোই আগ্রহী ও সচেতন। তবে তাদের মতে, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও থাকবে। সেইসঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা মেনে চলতে বলেন। যার মাঝে আছে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অমান্য না করা।
ইউক্রেন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে নিরাপত্তা পরিষদ

ইউক্রেন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে নিরাপত্তা পরিষদ ইউক্রেন ইস্যুতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। রাশিয়ার হামলার কারণে তাপপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো। এরপরেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছে। খবর এএফপির। শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে ইউক্রেনের প্রেসিন্টে আন্দ্রে মেলনিক বলেছেন, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের মাধ্যমে রাশিয়ান ফেডারেশন যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের এক ভয়াবহ নতুন স্তরে পৌঁছেছে। মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেন, সর্বশেষ হামলার ফলে কিয়েভের অর্ধেক আবাসিক ভবনে তাপপ্রবাহের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।ক্রেমলিন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইউক্রেনে একটি ওরেশনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ান ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে যে, তারা লভিভ অঞ্চল লক্ষ্য করে একটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরেশনিক ব্যবহার করেছে। এ ধরনের হামলা ইউরোপীয় মহাদেশের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর এবং অভূতপূর্ব হুমকির প্রতিনিধিত্ব করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। মস্কোর দাবি, ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক এবং প্রচলিত উভয় ধরণের ওয়ারহেড দিয়ে সজ্জিত হতে পারে। এর গতিরোধ করা অসম্ভব। ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের অনুরোধকে ছয় সদস্য দেশ- ফ্রান্স, লাটভিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস, লাইবেরিয়া এবং যুক্তরাজ্য সমর্থন করেছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে।
বিক্ষুব্ধ ইরানে নিহত বেড়ে ৪৫

বিক্ষুব্ধ ইরানে নিহত বেড়ে ৪৫ ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত মোট ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। নরওয়ে ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য। আইএইচআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগের দিন বুধবার ছিল বিক্ষোভের সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন। সেদিন দেশটির বিভিন্ন শহরে আইনশৃঙ্কলা বাহিনী ও বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘাতে নিহত হয়েছেন মোট ১৩ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ২ হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী। প্রসঙ্গত, বছরের পর বছর ধরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি, তার জেরে অসহনীয় মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠছিল ইরানের সাধারণ জনগণের। এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও বিক্ষোভ দমাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। গতকাল দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সরকার। কিন্তু তারপরও দমানো যাচ্ছে না উত্তেজনা। এই বিক্ষোভ নিয়ে দেশটিতে সরকার ব্যাপক চাপে আছে।
ট্রাম্পের উৎখাতের হুমকির মুখেও অনড় খামেনি বললেন, পিছু হটবো না

ট্রাম্পের উৎখাতের হুমকির মুখেও অনড় খামেনি বললেন, পিছু হটবো না ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, বিক্ষোভের মুখে পিছু হটবে না ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া প্রায় দুই সপ্তাহের চলমান বিক্ষোভ-আন্দোলনের মাঝে নিজের অনড় অবস্থানের বিষয়ে ওই মন্তব্য করেছেন তিনি। দেশটির ৩১টি প্রদেশের শতাধিক শহরে ছড়িয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ থেকে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় ‘স্বৈরাচারের মৃত্যু’, ‘খামেনির মৃত্যু’ চাইসহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। বৃহস্পতিবার রাতভর দেশটির বড় বড় সব শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটি শুক্রবার ভোরের দিকে বলেছে, ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় দেশটি ১২ ঘণ্টা ধরে অফলাইনে রয়েছে। এই বিক্ষোভকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাড়ে চার দশকের ইতিহাসে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে; বিক্ষোভকারীরা প্রকাশ্যেই ধর্মতান্ত্রিক শাসনের অবসান দাবি জানিয়েছেন। এদিকে,গ্তকাল গভীর রাতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা উৎখাতে অবিশ্বাস্য উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব। আমরা প্রস্তুত।’’
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতিতে জোরদারে ৪৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার যুদ্ধবিরতিতে জোরদারে ৪৫ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি জোরদার করতে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পূর্ব এশিয়া বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল ডেসোমব্রে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সফর করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে একটি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। ডেসোমব্রে জানান, যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকে মাদক পাচার ও সাইবার প্রতারণা দমনে সহায়তার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার দেবে। কম্বোডিয়ায় এসব বিষয় বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ মিলিয়ন ডলার দেবে। এছাড়া মাইন অপসারণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার।ডেসোমব্রে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সরকারকে সহযোগিতা প্রদান চালিয়ে যাবে, যাতে কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হয় এবং জনগণ ও অঞ্চলের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। অক্টোবর মাসে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্প তখন আসিয়ান আঞ্চলিক সংস্থার নেতৃত্ব দেন। তিন সপ্তাহের লড়াইয়ের পর ২৭ ডিসেম্বর দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। তবে গত মাসে আবার বড় ধরনের এক বিরোধ দেখা দেয়। কম্বোডিয়ার গোলাবর্ষণে থাই সৈন্য আহত হওয়ার এক ঘটনায় ব্যাংকক কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার অভিযোগ করে। তবে কম্বোডিয়া স্থানীয় থাইল্যান্ড বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় ঘটনাটি অপারেশনাল ভুলের কারণে ঘটেছে। কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন সীমান্তের কয়েকটি এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে। এগুলো নম পেন নিজেদের বলে দাবি করেছে। উপনিবেশিক আমলের সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দু’দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ট্রাম্প এই সংঘর্ষকে তার সমাধান করা একাধিক যুদ্ধের মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেন। এমন কি তিনি জোর দিয়েছেন এসব যুদ্ধের অবসানে তাঁর ভূমিকা নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।