01713248557

মেসিকে ছাড়াই কাপ নিয়ে দেশে ফিরলেন দি মারিয়ারা

মেসিকে ছাড়াই কাপ নিয়ে দেশে ফিরলেন দি মারিয়ারা কোপা আমেরিকা জিতে দেশে ফিরেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল। তবে এই বহরে ছিলেন না লিওনেল মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেস, নিকোলাস তালিয়াফিকো, হুলিয়ান আলভারেস, নিকোলাস ওতামেন্দি ও জেরনিমো রুইয়ি। তারা প্রত্যেকেই রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায়। শেষের তিনজন অবশ্য যোগ দেবেন প্যারিস অলিম্পক গেমসে।  চার্টার ফ্লাইটে করে সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় বুয়েনস আইরেসে পা রাখে লিওনেল স্কালোনির দল । তাদের বহন করে আনা বিমানে লেখা ছিল, ‘আমরা দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আসি। ‘ বিমান থেকে ট্রফি হাতে নিয়ে নামেন সহঅধিনায়ক আনহেল দি মারিয়া। তার পাশে ছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া। বিমানবন্দর থেকে এসেইসায় অবস্থিত লিওনেল মেসি এফএ ট্রেনিং ক্যাম্পের দিকে যায় পুরো দল। রাস্তার দুই প্রান্তে তাদের স্বাগত জানাতে ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। আর্জেন্টিনায় এখন শীতের মৌসুম। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৫ ডিগ্রি। এমনকি বইছিল হিমশীতল বাতাসও। কিন্তু তা উপেক্ষা করে পতাকা হতে নিয়ে ফুটবলারদের অভিবাদন জানান শিশু থেকে বুড়োরা। সেই পতাকা বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯০০ টাকায়। এছাড়া শিশুদের জন্য ২ হাজার ও  প্রাপ্ত বয়স্কদের ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে জার্সি। গত রোববার কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ও রেকর্ড ১৬তম কোপার শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা। ফাইনালে গোড়ালির চোটের কারণে ৬৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি মেসি। একটু সুস্থ হওয়ার পর পরিবার নিয়ে দেশে ফিরবেন তিনি। এদিকে পুরো দেশকে খুশির উপলক্ষ্য এনে দেওয়ায়  ফুটবল দলকে রাষ্ট্রীয় বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হাভিয়ের মিলেই। যদিও দি মারিয়ারা সেই আমন্ত্রণে যাবেন কি না, এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

চোট নিয়েও যেভাবে মার্তিনেসের গোল উদযাপন করলেন মেসি

চোট নিয়েও যেভাবে মার্তিনেসের গোল উদযাপন করলেন মেসি নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটে হলো না কোনো গোল। তাই খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়ার সমানে সমানে লড়াই। টাইব্রেকারে যাওয়াটাই যখন নিয়তি মেনে নিয়েছিলেন অনেকে, ঠিক তখনই আর্জেন্টিনাকে আশার আলো দেখালেন লাউতারো মার্তিনেস। অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে তার গোলেই কোপা আমেরিকার শিরোপার ধরে রাখে আলবিসেলেস্তেরা। সেই গোলের সময় মাঠে ছিলেন না লিওনেল মেসি। ডাগআউটে থেকেই উদযাপন করতে দেখা যায় আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে। গোল হওয়ার পর প্রথমে দুই হাত উঁচিয়ে ধরেন তিনি। এরপর চোট পাওয়া গোড়ালিতে খুব একটা ভর না করে আস্তে আস্তে হেঁটে  কোচিং স্টাফের সদস্য রবের্তো আয়ালাকে আলিঙ্গন করেন এই ফরোয়ার্ড। ভাগাভাগি করে নেন আনন্দ। এরপর তাকে এসে জড়িয়ে ধরেন লো সেলসো, কিটম্যান মারিও দে স্তেফানো, ট্রেনার দাদি দি’আন্দ্রেয়া ও লুইস মার্তিন। মেসি মূল উদযাপনে যোগ দিতে না পারলেও লাউতারো ঠিকই এসেছেন তার কাছে। আলিঙ্গনের পর মেসিকে গোল উৎসর্গ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করেননি এই ফরোয়ার্ড। গোড়ালিতে চোট পাওয়ার কারণে ফাইনালে পুরোটা সময়  খেলতে পারেননি মেসি। প্রথমার্ধেই ব্যথা পেয়েছিলেন। লম্বা শুশ্রূষা নেওয়ার পর মাঠে নামেন। এরপর প্রথমার্ধের বাকি সময়টা খেলেছেন ঠিকঠাক। দলের সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন তিনি।  কিন্তু এই দফায় লম্বা সময় মাঠে থাকতে পারেননি। কোনো রকম আঘাত ছাড়াই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ৬৫ মিনিটের দিকে মাঠ ছা]ড়তে হয় তাকে। মেসির জায়গায় নামেন নিকোলাস গনসালেস। মাঠ ছাড়ার সময়ই আবেগী হতে দেখা যায় মেসিকে। দুই হাতে মুখ ঢেকে রাখেন। এরপর বেঞ্চে বসে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাকে। মেসির পায়ে তখন বরফ দেওয়া ছিল।

আরও ১৫ বছর আর্জেন্টিনার কোচ থাকতে চান স্কালোনি

আরও ১৫ বছর আর্জেন্টিনার কোচ থাকতে চান স্কালোনি আর্জেন্টিনার সব দুঃখের অবসান ঘটিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। জাদুর কাঠি হাতে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ শিরোপা খড়া কাটিয়ে সাফল্যে ভরে দিলেন দলকে। আজ কলম্বিায়কে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পর নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন আরও ১৫ বছর আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। স্কালোনির সঙ্গে আরও দুই বছরের চুক্তি রয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘আর্জেন্টিনার সঙ্গে আমার আরও দুই বছরের চুক্তি রয়েছে। আমি প্রেসিডেন্টকে বলবো এই চুক্তি আরও ১৫ বছরের জন্য বৃদ্ধি করতে। সে রাজি হলে আমি তাকেই সাক্ষর করবো। ’ আর্জেন্টিনাকে দুটি কোপা আমেরিকা, একটি বিশ্বকাপ এবং একটি ফিনালিসিমার ট্রফি জিতিয়েছেন স্কালোনা। এমন সাফল্যমন্ডিত কোচের সঙ্গে নিজেদর চুক্তি বাড়াতে চাইবে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনও। ফাইনালে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য খেলায় দীর্ঘ বিরতী দিতে হয়েছে। দর্শকদের জন্য খেলায় প্রায় এক ঘন্টার বেশি সময় বিরতী ছিল। অন্যদিকে বিরতীর সময় শাকিরার পারফরম্যান্সের কারণেও দেরিতে খেলা শুরু হয়েছে। এই সব কারণে দুই দলের খেলোয়াড়দেরই বাড়তি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘খেলার আগে যা হয়েছে তা সত্যিই খুব অদ্ভুত। এটা বলে বোঝানো যাবে না। খেলোয়াড়রা তাদের পরিবার নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। এরমধ্যেই তাদের খেলা চালিয়ে যেতে হয়েছে। তারা দীর্ঘ অপেক্ষা করে খেলতে নেমেছে। এটাতে শরীরের উপরও প্রভাব পড়েছে। এছাড়া সমর্থকদের এমন পরিস্থিতে কি হতে পারে এটা সকলেরই জানা আছে। কলম্বিয়ার খেলোয়াড়দেরও একই সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ’ টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের পর এবার সামনে আরও ভালো কিছুর জন্য মুখিয়ে আছেন স্কালোনি। সামনে লা ফিনালিসিমায় খেলবে আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। সেই শিরোপাও ঘরে তুলতে মুখিয়ে আছেন স্কালোনি।

কোপার ফাইনালের এক টিকিটের দাম লাখ টাকা

কোপার ফাইনালের এক টিকিটের দাম লাখ টাকা কোপা আমেরিকার এবারের আসরেও ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়াও আসর জুড়ে উপহার দিয়েছে দুর্দান্ত ফুটবল। দুই দলের লড়াইটা যে জমজমাট হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরাও। টিকিটের জন্যও গুনতে হচ্ছে চড়া দাম। আসরের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এবারের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে। যার ধারণ ক্ষমতা ৬৫ হাজার। সেই তুলনায় টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি। দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা কনমেবলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফাইনাল ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে। যদিও টিকিটের দাম অনেক বেশি। শুরুতে টিকিটের দাম দর্শকের নাগালের মধ্যেই ছিল। মেসির দলে ফাইনালে ওঠার পরপরই বাড়তে শুরু করে টিকিটের দাম। টিকিট বিক্রির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট টিকিটমাস্টার থেকে জানা গেছে, ফাইনাল ম্যাচের জন্যে গোলপোস্টের পিছনের আসনগুলোর টিকিটের মূল্য সর্বনিম্ন ১২৫০ ডলার থেকে শুরু। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দেড় লাখ টাকা। ছাদের নিচের টিকিটের দাম উঠছে ১৮০০ ডলার থেকে শুরু করে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত। বাংলাদেশী টাকার অংকে যার পরিমাণ দুই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। মাঠের খুব কাছাকাছি বসে মেসিদের খেলা উপভোগ করার জন্য গুনতে হবে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার বা সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত।

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে ‘হুমকি’ কলম্বিয়ার

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনাকে ‘হুমকি’ কলম্বিয়ার বিশ্বমঞ্চে প্রতিটা লড়াইয়ের আগেই দুই দল কথার লড়াইয়ে মত্ত হয়। কোপা আমেরিকার ২০২৪ সালের আসরের ফাইনালকে সামনে রেখে এবার কথার লড়াইয়ে মত্ত হলো কলম্বিয়া। আর্জেন্টিনাকে হারানোর আগাম হুমকি দিয়ে রাখলেন কলম্বিয়ার সাবেক স্ট্রাইকার অ্যাডোলফো ভ্যালেন্সিয়া।  কোপার এবারের আসরে শক্তিমত্তার বিচারে এগিয়ে থাকা দুই দলই ফাইনালের মঞ্চে পা রেখেছে। আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া—দুই দলই অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে। কলম্বিয়ার দিকে তাকালে দেখা যায়, টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত তারা। এবারের আসরে পাঁচ ম্যাচে তাদের গোল ১২টি। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৬ অ্যাসিস্ট রয়েছে কলম্বিয়ার অধিনায়ক জেমস রদ্রিগেজের। দলের একতাবদ্ধ শক্তির দিকটা উল্লেখ করে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে ভ্যালেন্সিয়া বলেন, ‘আমরা জানি যে আর্জেন্টিনা খুবই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন। তবে ছেলেরা (কলম্বিয়ার) কী তাহলে? ছেলেরা খুবই আত্মবিশ্বাসী (জয়ের ব্যাপারে)।’এবারের আসরে মেসি নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। চার ম্যাচে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। অসুস্থতা নিয়েও তাঁকে খেলতে দেখা গেছে। গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল যেমন মেসি মিস করেছেন, তেমনি পেনাল্টি থেকেও গোল আদায় করতে পারেননি।  আর্জেন্টিনাকে খোঁচা দেওয়ার জন্য এ দিকটাই বেছে নিলেন ভ্যালেন্সিয়া। মেসি প্রসঙ্গে ভ্যালেন্সিয়া বলেন, ‘বার্সেলোনায় আমরা যে মেসিকে দেখে অভ্যস্ত, সে আর আগের মতো নেই। একাই ছয়-সাত খেলোয়াড়কে টপকে যেতে পারতো। বছরের পর বছর ধরে সে তার শক্তি হারিয়েছে। মেসিকে এখন যে কেউ আটকে রাখতে পারবে।’ তবে মেসিকে বাদ দিলেও যথেষ্ট শক্তিশালী আর্জেন্টিনা। আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে আছেন লাওতারো মার্টিনেজ। ৫ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন লাওতারো। তাছাড়া গোলপোস্টে অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তো আছেনই। টুর্নামেন্টে লিওনেল স্কালোনির দল হজম করেছে ১ গোল। আর্জেন্টিনা যে কতটা শক্তিশালী তা তো স্পষ্টই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র আয়োজনে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। আজ বিকেলে নবাবগঞ্জ জেলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর -৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে, অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নবাবগঞ্জ জেলা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুণ অর রশিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১, সালেহ উদ্দিন, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আয়াত নূর ইসলাম, শেখ রাসেল মেমোরিয়াল সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। টুর্নামেন্টে ২৪ ফুটবল দল অংশগ্রহণ করছে।

মেসির রেকর্ড ভেঙ্গে পেলেকে ছুঁলেন কলম্বিয়ার রদ্রিগেজ

মেসির রেকর্ড ভেঙ্গে পেলেকে ছুঁলেন কলম্বিয়ার রদ্রিগেজ কোপা আমেরিকার শুরু থেকেই কলম্বিয়া দলকে নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। দলটি টানা অপরাজিত থেকে টুর্নামেন্ট খেলতে আসে। ব্রাজিলের গ্রুপে পড়েও ব্রাজিলকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। সেমিতেও তারা প্রমাণ করলো কেন তারা এবারের শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার। আর সে লক্ষ্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির অধিনায়ক হামেশ রদ্রিগেজ। কোপা আমেরিকায় যেন পুনর্জন্ম হয়েছে হামেশ রদ্রিগেজের। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলে তাক লাগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। অনিয়মিত থেকে এখন ব্রাজিলের ক্লাবে খেলছেন এই মিডফিল্ডার। লিওনেল মেসির নাম সামনে আসলেই মনে হয় কোন অজেয় রেকর্ডের মালিকের নাম; কিন্তু মেসির রেকর্ডও যে ভাঙা যায় তা করে দেখালেন হামেশ রদ্রিগেজ। এক কোপা আমেরিকায় সর্বোচ্চ এসিস্ট করার রেকর্ড গড়লেন তিনি। ২০১৫, ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের কোপাতে অংশ নিয়ে এই প্রথমবার ফাইনালে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন হামেশ। টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে ছয়টি এসিস্ট করেছেন হামেশ। ২০২১ সালে ৫টি এসিস্ট করে রেকর্ড গড়েছিলেন লিওনেল মেসি। তিন বছর পর সেটিকে নিজের করে নিলেন সাবেক এই বায়ার্ন ও এভারটনে খেলা তারকা। শুধু তাই নয়, কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলের একটি বিরল রেকর্ডেও ভাগ বসালেন হামেশ। পেলের ৫৪ বছর পর বড় কোনো এক টুর্নামেন্টে ৬টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়লেন কলম্বিয়ান এই তারকা। ১৯৭০ বিশ্বকাপে সর্বশেষ ৬টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন পেলে। এবার এক ম্যাচ হাতে রেখেই পেলের সেই রেকর্ড ছুঁলেন হামেশ রদ্রিগেজ। ম্যাচ শেষে দলের এমন পারফরম্যান্সে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন হামেশ। ‘আজকের ম্যাচটি দুর্দান্ত ছিল। তবে রেফারি ভালো ছিল না। রক্ষণভাগ যারা সামলেছে তার অসাধারণভাবে কাজটি করেছে। আমি জাতীয় দলের হয়ে ১৩ বছর খেলছি এই মুহূর্তটার জন্য। আমরা খুব খুশি।’ টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকা কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনালে আগামী ১৪ জুলাই মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

নিজের ‘শেষ’ কোপা খেলার ইঙ্গিত মেসির

নিজের ‘শেষ’ কোপা খেলার ইঙ্গিত মেসির আগেই শেষবারের মতো কোপা আমেরিকা খেলার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন লিওনেল মেসি। এবার নিজের সঙ্গে যুক্ত করলেও আনহেল দি মারিয়া ও নিকোলাস ওতামেন্দিকেও। এবারের কোপার ফাইনালে উঠে এবারের আসরকে শেষ যুদ্ধ হিসেবেই দেখছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।  আজ বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় কোপার সেমিফাইনালে কানাডাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। সবশেষ আট আসরে এটি তাদের ষষ্ঠ ফাইনাল। ২০০৭ থেকে প্রতিটি আসরেরই খেলে আসছেন মেসি। তবে এবারের আসরকে তিনি দেখছেন শেষ হিসেবেই।  দি মারিয়া ও নিকোলাস ওতামেন্দির কথা উল্লেখ করে মেসি বলেন, ‘ইদানিং সবকিছু যেভাবে দেখছি, এটিও (কোপা আমেরিকা) সেভাবে দেখছি। দারুণ উপভোগ করছি। ফিদেও (আনহেল দি মারিয়া) ও ওতার (নিকোলাস ওতামেন্দি) মধ্যে যা চলছে, এগুলো যে শেষের লড়াই, সে সম্পর্কেও সচেতন আছি। ’শেষের লড়াইকে অবশ্য খুব বেশি সহজ হিসেবে নিচ্ছেন না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে দলের খেলা উপভোগ করার কথা তিনি জানিয়েছেন ঠিকই। মেসি বলেন, ‘দল হিসেবে আমাদের যা অভিজ্ঞতা হচ্ছে, চলুন উপভোগ করি। আবারও ফাইনালে ওঠা, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়াই করা সহজ নয়। ’ আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে শিরোপা জেতার লড়াইয়ে কলম্বিয়া অথবা উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।

মিউনিখে মহারণে মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন

মিউনিখে মহারণে মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন দেখতে দেখতে শেষের পথে ইউরো-২০২৪। ২৪টি দলের অংশগ্রহণে ১৪ জুন শুরু হয়েছিল ইউরোর এবারের আসর। এখন কেবল ৪টি দল টিকে আছে। তার মধ্যে আজ রাতে বিদায় নিবে একটি দল। বিদায়ের আগে প্রাণপণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও স্পেন। মিউনিখের সেই মহারণটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায়। অবশ্য সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের চিন্তার নাম গোল করতে না পারা। গ্রুপপর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত তারা ওপেন প্লেতে কোনো গোল করতে পারেনি। পোল্যান্ডের বিপক্ষে কেবল একটি গোল করেছে পেনাল্টি থেকে এবং সেটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়া অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারা দুটি আত্মঘাতী গোলে জিতেছিল। গ্রুপপর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল। আর কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে জিতেছিল। ফ্রান্স দলে তারকার অভাব না থাকলেও তারা এবার তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে ভক্ত-সমর্থক-দর্শকদের সন্তুষ্ট করতে পারছেন না। অবশ্য এই বিষয়টি মোটেও আমলে নিতে রাজি নন কোচ দিদিয়ের দেশম, ‘আপনি যদি আমাদের খেলা দেখে বিরক্ত হন, তাহলে অন্য খেলা দেখুন। সেটাই ভালো আপনার জন্য। আমাদের খেলা আপনার দেখতে হবে না। এটা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। এটা সবার জন্যই বেশ কঠিন।’ তবে ফ্রান্সের তুলনায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে স্পেন। তারা ইনিয়েস্ত-জাভি-রামোস-ক্যাসিয়াস-পুয়োল-পিকে-বুসকেটস-ভিয়াদের পর আরেকটি সোনালী প্রজন্ম পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ১২ বছর পর তারা আরও একটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠা এবং জয়ের অপেক্ষায় আছে। এবারের আসরে স্পেনের তরুণ প্রজন্মের ফুটবলাররা বেশ ভালো পারফরম্যান্স করছে। তারা গ্রুপপর্বে ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, জর্জিয়ার বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক ও শিরোপা প্রত্যাশী জার্মানিকে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে এসেছে। এ যাত্রায় তারা পারফরম্যান্স দিয়ে মন ভরিয়েছে ভক্ত-সমর্থক ও দর্শকদের। তাতে করে ফুটবলপ্রেমীরা স্পেনের এই দলটিকে সোনালী প্রজন্মের সেই দলের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেছে যারা ব্যাক টু ব্যাক তিন-তিনটি মেজর শিরোপা জিতেছিল। স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি জানিয়েছেন, সোনালী প্রজন্ম হতে তাদেরকে লিগ্যাসি তৈরি করতে হবে। যেমনটা করেছিলেন ক্যাসিয়াস-ইনিয়েস্তা-জাভিরা, ‘আমরা এখন যে সোনালী প্রজন্মের কথা বলি তারা কিন্তু শুরুতে সোনালী প্রজন্ম ছিল না। সেটা করতে তাদেরকে নিজেদের একটি লিগ্যাসি তৈরি করতে হয়েছে। এমন একটি দল হয়ে উঠতে হয়েছে। আমাদেরকেও তেমন করতে হবে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি দল হয়ে উঠতে হবে। নিজেদের লিগ্যাসি তৈরি করতে হবে। ফ্রান্সের বিপক্ষে খুবই কঠিন একটি ম্যাচ আমাদের। যারা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দল। তারা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিবে।’ ফ্রান্স ও স্পেন এ পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। তার মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৬টিতে। ফ্রান্সের জয় ১৩টিতে। ৭টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। সবশেষ পাঁচবারের দেখায় দুইবার জিতেছে ফ্রান্স, দুইবার জিতেছে স্পেন। একটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। বোঝাই যাচ্ছে আজও হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াই হবে মিউনিখে। সেমিফাইনালের আগে জার্মানির বিপক্ষের ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে যান পেদ্রি। তাকে আর ইউরোতে পাবেন না লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার পরিবর্তে যিনি খেলছেন সেই দান ওলমো আছেন দারুণ ছন্দে। ফ্রান্সের বিপক্ষের ম্যাচে শুরু থেকেই হয়তো খেলবেন ওলমো। এছাড়া ফুয়েন্তের হাতে আরও একজন বিকল্প আছেন, নাম তার মিকেল মেরিনো। যিনি জার্মানির বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে দলকে জিতিয়েছিলেন। নিষিদ্ধ হওয়া দানি কারবাহালের পরিবর্তে একাদশে আসবেন অভিজ্ঞ রাইটব্যাক জেসাস নাভাস। এদিকে ফ্রান্সের অবশ্য কোনো খেলোয়াড়ের নিষেধাজ্ঞা সমস্যা নেই। কোয়ার্টার ফাইনালে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সেমিফাইনালে ফিরেছেন আদ্রিয়েন র‌্যাবিয়ট। যিনি কোচ দেশমের বেশ প্রিয়ভাজন। সেক্ষেত্রে এডুয়ার্ডো কামাভিঙ্গার পরিবর্তে শুরুর একাদশে আসবেন র‌্যাবিয়ট। বেঞ্চে চলে যাবেন আঁতোয়ান গ্রিজমানও। ফ্রান্স তাদের আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে একাদশে ঢোকাতে পারে ওসমানে দেম্বেলে ও মার্কাস থুরামকেও। স্পেন ও ফ্রান্স উভয় দল ৪-৩-৩ ফরম্যাটে খেলতে পারে। স্পেনের সম্ভাব্য শুরুর লাইনআপ: সিমন, নাভাস, নাচো, ল্যাপোর্তে, কুকুরেলা, রদ্রি, ওলমো, ফ্যাবিয়ান, ইয়ামাল, মোরাতা ও উইলিয়ামস। ফ্রান্সের সম্ভাব্য শুরুর লাইনআপ: মাইগনান, কৌন্দে, উপামেকানো, সালিবা, হার্নান্দেজ, চৌমেনি, কান্তে, রাবিয়ট, দেম্বেলে, থুরাম ও এমবাপ্পে।

সেমিফাইনালের আগে সুখবর আর্জেন্টিনার

সেমিফাইনালের আগে সুখবর আর্জেন্টিনার চলমান কোপায় অপরাজিত থেকে সেমিফাইনালে পা রেখেছে আর্জেন্টিনা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কানাডা। এই ম্যাচে জয় পেলেই শিরোপার মঞ্চে পা রাখবে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আগামী ১০ জুলাই  বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় আর্জেন্টিনা ও কানাডার সেমিফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে।কানাডার বিপক্ষে সাফল্য পেতে পুরোদমে অনুশীলনে ব্যস্ত আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম টিওয়াইসি প্রকাশিত এক বার্তায় জানা যায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের অনুশীলনের সময় এমি মার্টিনেজ তার দলের সতীর্থ এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। তিনি বলেন, আরো একবার জয় তারপরই ফাইনাল।