আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো

আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো সৌদি প্রো লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উড়ন্ত জয় পেয়েছে আল নাসর। শুক্রবার রাতে আল তাউওনের মাঠে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৫–০ গোলের বড় জয় পেয়েছে তারা। এদিন স্মরণীয় এক অভিষেক হলো পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড জোয়াও ফেলিক্সের। প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি। গোলের দেখা পেয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। দলের হয়ে অন্য গোলটি করেছেন কিংসলে কোম্যান। এই ম্যাচে গোল করে অনন্য এক কীর্তি গড়েন রোনালদো। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ২৪ মৌসুমে গোল করলেন ‘সিআর সেভেন।’ রোনালদোর মোট গোলসংখ্যা এখন ৯৪০। অর্থাৎ এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে রোনালদোর প্রয়োজন আর ৬০ গোল। বয়স ৪০ পেরোনোর পর এ নিয়ে ৪০ গোলে অবদান রাখলেন রোনালদো। এই ম্যাচ শেষে প্রথম ধাপ পেরোনোর বার্তা দিয়ে একাধিক ছবিও পোস্ট করেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাব অনুযায়ী পেনাল্টি থেকে এ নিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১৭৬। রোনালদোর মাইলফলকের রাতটা অবশ্য বিশেষভাবে নিজের করে নিয়েছেন ফেলিক্স। খেলার শুরুতেই মাত্র সাত মিনিটে গোল করে এগিয়ে দেন আল নাসরকে। এরপর ৬৭ ও ৮৭ মিনিটে দ্বিতীয় ও তৃতীয় গোল করে তুলে নেন হ্যাটট্রিক। এর মাঝে এক মিনিটের ব্যবধানে গোল করেন রোনালদো ও আল নাসরের আরেক নতুন খেলোয়াড় কোমান। সৌদি লিগে আল নাসর পরের ম্যাচ খেলবে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে। সেই ম্যাচে রোনালদোদের প্রতিপক্ষ আল খোলুদ।

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৩৬ দল চূড়ান্ত

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ৩৬ দল চূড়ান্ত ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২০২৫-২৬ মৌসুমের জন্য ৩৬ দলের মূল পর্ব চূড়ান্ত হয়েছে। প্লে-অফ পর্ব শেষে গত মঙ্গলবার নিশ্চিত হয়েছে শেষ ছয় দল। তাদের সঙ্গে আগেই সরাসরি মূল পর্বে জায়গা পাওয়া ৩০টি দল মিলিয়ে পূর্ণ হলো চূড়ান্ত তালিকা। এবার সবচেয়ে বেশি দল অংশ নিচ্ছে ইংল্যান্ড থেকে মোট ছয়টি ক্লাব। পর্তুগিজ জায়ান্ট বেনফিকা ফিরেছে মূল পর্বে, জোসে মরিনিয়োর কোচিংয়ে থাকা তুরস্কের ফেনেরবাচেকে পিছনে ফেলে। দুই লেগ মিলিয়ে তারা এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে বেলজিয়ান ক্লাব ক্লাব ব্রুগ থেকে। স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্সকে দুই লেগে ৯-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে তারা জায়গা পাকা করেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। এর আগের দিন মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছিল নরওয়ের বোডো/গ্লিমট, কাজাখস্তানের কাইরাত আলমাটি এবং সাইপ্রাসের পাফোস তিন নবাগত ক্লাব।

আবারও স্থগিতাদেশের মুখে ভারতীয় ফুটবল, কড়া অবস্থানে ফিফা

আবারও স্থগিতাদেশের মুখে ভারতীয় ফুটবল, কড়া অবস্থানে ফিফা ভারতীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) আবারও ফিফার শাস্তির মুখে। বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবার সরাসরি সতর্ক করেছে যে, সংবিধান সংশোধন ও কার্যকর না হলে এআইএফএফকে স্থগিতাদেশের মুখে পড়তে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়েছে, এআইএফএফ’কে পাঠানো চিঠিতে ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, ৩০ আগস্টের মধ্যে নতুন সংবিধান চূড়ান্ত করে কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় ফিফা শাস্তি দেবে। একটি কড়া ভাষার চিঠিতে ফিফা এআইএফএফ-কে মনে করিয়ে দিয়েছে, তাদের অবশ্যই স্বাধীনভাবে সংস্থার কার্যক্রম চালাতে হবে এবং কোনোভাবেই সরকারের মতো বাহ্যিক বা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। আগামীকাল ২৮ আগস্ট ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। ফিফা চায়, সেদিনই আদালত এআইএফএফের সংবিধান অনুমোদন করুক। পাশাপাশি সংবিধানকে ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর গঠনতন্ত্র ও বিধির সঙ্গে মিল রেখে সাজাতে বলা হয়েছে। ফিফার চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘসূত্রিতা একটি শাসন ও পরিচালন সংকট তৈরি করেছে। দেশীয় প্রতিযোগিতার ক্যালেন্ডার নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে; ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়নি; আর উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা ও বিপণনসংক্রান্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে, যা ভারতীয় ফুটবলের পরিবেশকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (আইএসএল) খেলা ফুটবলাররা, যারা এআইএফএফের অধীনে থাকা ক্লাবগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। ’ এআইএফএফ ও ফুটবল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (এফএসডিএল)-এর মধ্যে অচলাবস্থার কারণে ২০২৫-২৬ মৌসুমের ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সূচি চূড়ান্ত করা যায়নি। এ কারণেই উভয় পক্ষকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফিফা তার চিঠিতে স্পষ্ট করেছে, সংবিধান চূড়ান্ত না হলে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ না সরালে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তারা লিখেছে, ‘এই শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে ফিফা ও এএফসি-র গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত শাস্তি কার্যকর হতে পারে, যার মধ্যে স্থগিতাদেশ অন্যতম। এমনকি যদি সংস্থা সরাসরি দায়ী না-ও হয়, তৃতীয় পক্ষের প্রভাব থাকলে সদস্যসংস্থা শাস্তি পেতে পারে। এআইএফএফ স্থগিত হলে ফিফা ও এএফসি সদস্য হিসেবে তার সব অধিকার হারাবে। ’ ফিফা আরও জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রো (FIFPRO) থেকে পাওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, আর্থিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিভিন্ন ক্লাব একতরফাভাবে খেলোয়াড়দের চাকরিচুক্তি বাতিল করছে। এর ফলে খেলোয়াড়দের জীবন-জীবিকা ও ক্যারিয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।

এশিয়ান কাপের আগে বড় প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ নারী দল

এশিয়ান কাপের আগে বড় প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ার সেরা প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই বিস্তৃত প্রস্তুতি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অক্টোবরের নারী ফিফা উইন্ডোতে থাইল্যান্ডে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ঋতুপর্ণা চাকমারা। ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে ২৫ ও ২৮ অক্টোবর। বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ আজ ফেডারেশন ভবনে সাংবাদিকদের জানান, থাইল্যান্ড সফর নিশ্চিত হয়েছে এবং নভেম্বর উইন্ডোতেও দুটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এ জন্য ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে। অক্টোবরের ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ দল যাবে জাপানে। সেখানে প্রায় তিন সপ্তাহের অনুশীলন ক্যাম্প হবে। যদিও জাপানে কোনো প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা নেই, তবে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য এ ক্যাম্পকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কিরণ। এরপর অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পথে সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া কিংবা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও রয়েছে। এই অনুশীলন ও প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনায় সিনিয়র দলের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলোয়াড়দেরও রাখা হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১০৩ নম্বরে অবস্থান করছে। সর্বশেষ র‍্যাংকিংয়ে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করা দল হিসেবে ফিফার বিশেষ আলোচনায়ও এসেছে তারা। তবে ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে এখনও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে জানান কিরণ। তার ভাষায়, অনেক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, সেখান থেকেই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। তবে কোচ পিটার আসতে দেরি করায় ক্যাম্প কিছুটা পিছিয়েছে। এখন সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অস্ট্রেলিয়া মিশনের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হবে। ক্যাম্পের ভেন্যু হতে পারে বসুন্ধরা কিংসের মাঠ বা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। বাজেট নিয়ে চিন্তার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন কিরণ, কারণ বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। অন্যদিকে দেশের নারী ফুটবল লিগ শুরু হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যে ক্লাব লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং প্রিমিয়ার ও চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের ক্লাবগুলোকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। কিরণ আরও জানিয়েছেন, একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান নারী দল গঠনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, সেটি শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তবে এতসব পরিকল্পনার মাঝেও একটি বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। প্রায় দশ মাস হতে চলল বর্তমান বাফুফে কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরও এখনো নারী ফুটবল কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ফলে পুরো দায়িত্ব সামলাচ্ছেন একাই মাহফুজা আক্তার কিরণ। গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নিয়মিত ব্রিফিং দিলেও, সবাই অপেক্ষায় আছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য।

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের জয়

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের জয় লা লিগায় ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে একাদশ সাজিয়ে চমক দেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসো। শুরুর তালিকায় জায়গা হয়নি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। তবে বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। নিজে গোল করলেন, করলেন এমবাপ্পেকেও অ্যাসিস্ট। তাদের দুজনের দাপটেই ৩-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ। ম্যাচের শুরুটা ছিল এমবাপ্পের। ৩৭ মিনিটে তার গোলেই এগিয়ে যায় দল। দ্বিতীয়ার্ধে রদ্রিগোর পরিবর্তে ৬৩ মিনিটে মাঠে নামেন ভিনি। ৮৩ মিনিটে তার পাস থেকে এমবাপ্পে করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। আর যোগ হওয়া সময়ে ভিনিসিয়ুস নিজেই বল জালে জড়িয়ে দেন, নিশ্চিত করেন মাদ্রিদের বড় জয়। তবে গোল-অ্যাসিস্টের বাইরে ভিনির আচরণও আলোচনায় আসে। অ্যাসিস্ট করার পর রেফারির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে দেখা যায় তাকে। সতীর্থ এমবাপ্পে এগিয়ে এসে মুখ ঢেকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে গোল করার পর প্রতিপক্ষ সমর্থকদের সামনেই উদযাপন করেন ভিনি।

প্রথমবারের মতো ফিফা ই-বিশ্বকাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো ফিফা ই-বিশ্বকাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ চলতি বছরের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা ই-বিশ্বকাপ। এর আগে ই-ফুটবল কনসোল, মোবাইল ও রকেট লীগ-এ তিন বিভাগের বাছাই অনুষ্ঠিত হবে অক্টোবরে। প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে খেলোয়াড় বাছাই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর, ২০ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর, তিন বিভাগে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বাছাইপর্ব। এখান থেকে বাছাইকৃত প্রার্থীরা বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন এশিয়া-ইস্ট ও ওশেনিয়া অনলাইন রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার্সে। সেখান থেকে কনসোল বিভাগে ৩ দল ও মোবাইল বিভাগে ৪ জন খেলোয়াড় সরাসরি টিকিট পাবেন রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা ই-বিশ্বকাপে খেলার। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আমরা আরেকটা যাত্রায় পা দিলাম, সেটা হলো ই-স্পোর্টস। সব খেলা ই-স্পোর্টসের আওতায় পড়ে। আমরা শুধু ফুটবল নিয়ে কাজ করবো। আমরা আশাবাদী, অন্যান্য দেশ যেভাবে ই-স্পোর্টসের মাধ্যমে ফুটবলে এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশও সেভাবে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক সময় ই-স্পোর্টসকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন এটি বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে সফল একটি ক্ষেত্র। বাংলাদেশের গেমারদের জয় শতাংশ বিবেচনা করলে আমরা আশাবাদী। খুব শিগগিরই বাংলাদেশের নাম শীর্ষ তালিকায় দেখা যাবে।’ প্রতিযোগিতামূলক ভিডিও গেমিংকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও বৈধতা দেওয়ার ধারায় এবার যোগ হয়েছে হয়েছে বাংলাদেশের নামও। গত ১৩ই জুলাই এক প্রজ্ঞাপনে ‘ই-স্পোর্টস’কে এ স্বীকৃতি দেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

আর্জেন্টিনাকে আনতে বিশাল অঙ্ক খরচ ভারতের 

আর্জেন্টিনাকে আনতে বিশাল অঙ্ক খরচ ভারতের আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল ভারতে আসছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দল। তবে অনিশ্চয়তা আর টানাপড়েনের কারণে একপর্যায়ে আইনি লড়াইয়ের মতো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে সব প্রতিবন্ধকতা শেষে ভারত সফরে আসতে রাজি হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। এজন্য অবশ্য বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হচ্ছে ভারতকে। আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বরে কেরালায় প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসছে লিওনেল মেসি-মার্টিনেজরা। এএফএ জানিয়েছে, নভেম্বরের ফিফা উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা ৩টি ম্যাচ খেলবে। এর মধ্যে দুটি অনুষ্ঠিত হবে অ্যাঙ্গোলার রাজধানী লুয়ান্ডায় এবং বাকিটি ভারতের কেরালায়। প্রীতি ম্যাচ চূড়ান্ত হলেও এখনও নির্ধারিত হয়নি প্রতিপক্ষ। একটি প্রীতি ম্যাচের জন‌্য ভারতের যা খরচ হচ্ছে তা চোখ কপালে উঠার মতো! শুধু আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে ভারতে আনতে এবং ম‌্যাচ খেলাতে ভারতের খরচ হচ্ছে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় তা দাঁড়ায় ১৩০ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৮১ কোটি টাকা। এর আগে সর্বশেষ ২০১১ সালে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে খেলেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের সামনে মেসি ম্যাজিক ছড়িয়েছিলেন দারুণ অ্যাসিস্ট দিয়ে নিকোলাস ওতামেন্দিকে গোল করিয়ে।

কেইনের হ্যাটট্রিক, বড় জয়ে মৌসুম শুরু জয় বায়ার্নের

কেইনের হ্যাটট্রিক, বড় জয়ে মৌসুম শুরু জয় বায়ার্নের ৬৪ থেকে ৭৮-এই ১৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ল-ভ- করেন হ্যারি কেইন। ৩ বার বল জালে পাঠিয়ে করেন হ্যাটট্রিক। এতেই বড় জয়ে নতুন মৌসুম শুরু করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। কেইনের হ্যাটট্রিকে আরবি লাইপজিগকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বাভারিয়ানরা। এছাড়া জোড়া গোলের দেখা পেয়েছেন মাইকেল ওলিস। আর একটি গোল করেছেন লিভারপুল থেকে বায়ার্নে আসা লুইস দিয়াজ। টটেনহাম থেকে ২০২৩ সালে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর এটি কেইনের নবম হ্যাটট্রিক। শেষ মুহূর্তে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের করতালিতে সিক্ত হন ইংল্যান্ড তারকা। বায়ার্নের অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ ম্যাচ শেষে বলেছেন, কেইন শুধু গোল করে না, বরং সতীর্থদের দিয়ে করায় এবং রক্ষণেও সাহায্য করে। দলের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় উপকার।

ভারতের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭

ভারতের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল। শুক্রবার (২২ আগস্ট) ভুটানের থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই এক গোলে পিছিয়ে পড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল হজম করে ম্যাচ শেষ করে দুই গোলের ব্যবধানে। ১৪তম মিনিটে ভারতের পার্ল ফার্নান্দেসের গোলে এগিয়ে যায় প্রতিপক্ষ। মাঝমাঠ থেকে বল কাড়ার পর বাংলাদেশের ডিফেন্স ভেদ করে দেওয়া পাস থেকে পাওয়া শটে গোল করেন তিনি। বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম চেষ্টা করেও শটটি ঠেকাতে পারেননি। প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। কর্নার থেকে আলপি আক্তারের একটি হেড লক্ষ্যে ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের আক্রমণও অব্যাহত থাকে। ৭৬ মিনিটে কর্নার থেকে নিখুঁত ভলিতে দ্বিতীয় গোলটি করেন বনিপিলা শুলাই। এই হারে টানা পাঁচ ম্যাচের জয়ের ধারা থেমে গেল বাংলাদেশের। সর্বশেষ তারা হেরেছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।

৩ বছর পর আবার মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ

৩ বছর পর আবার মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ আশি-নব্বইয়ের দশকে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল দেশের ফুটবল ক্যালেন্ডারের অন্যতম আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জৌলুস ম্লান হয়ে যায়, আয়োজনে আসে অনিয়মিততা। সর্বশেষ ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর দীর্ঘ ৩ বছর অপেক্ষার পর আবার মাঠে ফিরছে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা। ২০২৫ সালের জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ আগস্ট। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে, ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ড্র। আয়োজনটি ঘিরে গতকাল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) অর্গানাইজিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরি হ্যাপি। সভা শেষে তিনি জানান, প্রতিযোগিতাটি তিন মাসব্যাপী চলবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। প্রতিযোগিতায় এবার অংশ নিচ্ছে দেশের ৬৪টি জেলা দল। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবার রাখা হয়নি। আয়োজক কমিটির প্রধান বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় আমরা এবার শুধুমাত্র জেলা দলগুলো নিয়েই আয়োজন করছি। এটি আন্তঃজেলা প্রতিযোগিতা হিসেবেই আয়োজন করা হচ্ছে। “ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পর্বে মোট ১১২টি ম্যাচ হবে। প্রতিটি ম্যাচ হবে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। ম্যাচ ড্র হলে খেলা সরাসরি টাইব্রেকারে গড়াবে। দ্বিতীয় পর্বে উত্তীর্ণ হবে ৩২টি দল, যারা একই ফরম্যাটে পরবর্তী ধাপের খেলা খেলবে। এবারের আয়োজনকে কেন্দ্র করে থাকছে বাড়তি কিছু আকর্ষণও। মূল প্রতিযোগিতার মধ্যবর্তী সময়ে আয়োজন করা হবে বয়সভিত্তিক দুটি টুর্নামেন্ট—একটি অনূর্ধ্ব-১৭ দল নিয়ে, অন্যটি নারীদের বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা। জেলা পর্যায়ের ফুটবল বিকাশে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বাফুফে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাফুফের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এবারের আসর উৎসর্গ করা হয়েছে দেশের তরুণ শহীদদের স্মৃতিতে। আয়োজকরা বলছে, “তারুণ্যের উৎসব” প্রতিপাদ্যে এই আয়োজন তরুণদের আত্মত্যাগ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণে তাঁদের অবদানকে স্মরণ করতেই নেওয়া হয়েছে। দেশকে ভাগ করা হয়েছে আটটি জোনে, আর প্রতিটি জোনের নামকরণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত আট শহীদের নামে। তারা হলেন- মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ (মীর মুগ্ধ), নাফিসা হোসেন মারওয়া, মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, সাকিব আনজুম, আবু সাঈদ মিয়া, শেখ মো. সাকিব রায়হান, আব্দুল্লাহ আল বাহার ও গোলাম নাফিজ। বাংলা বর্ণমালার ভিত্তিতে জেলাগুলোকে ভাগ করে জোন বিন্যাস করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পাশাপাশি গঠিত হয়েছে আট সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি। এই কমিটির প্রধান উপদেষ্টা করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁয়াকে। এ ছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন বাফুফে সভাপতি, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক, বিকেএসপির মহাপরিচালক এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ক্রীড়া-১)। দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ দেশের ঘরোয়া ফুটবলের পুনর্জাগরণে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, সে দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা।