তিন মাস আগেই শেষ ব্রাজিল তারকা রদ্রিগোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন

তিন মাস আগেই শেষ ব্রাজিল তারকা রদ্রিগোর বিশ্বকাপ স্বপ্ন বিশ্বকাপ শুরু হতে„ এখনও তিন মাসের বেশি সময় বাকি। তার আগেই ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ। তিন মাস আগেই বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো ব্রাজিলের রিয়াল মাদ্রিদ তারকা রদ্রিগোর। গুরুতর হাঁটুর চোটে মৌসুমের বাকি অংশ থেকেও ছিটকে গেছেন তিনি। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার ডান হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ও ল্যাটেরাল মেনিস্কাস ছিঁড়ে গেছে। সোমবার লা লিগায় গেতাফের বিপক্ষে ১-০ গোলের অপ্রত্যাশিত হারের ম্যাচেই চোটটি পান রদ্রিগো। এর আগে কিছুদিন ধরে হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করছিলেন বলে জানা গেছে। পরীক্ষার পর রিয়াল মাদ্রিদ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে তার এসিএল ও মেনিস্কাসে র‌্যাপচার ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন ব্রাজিল তারকা। তিনি লেখেন, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি। আমার জীবন ও ক্যারিয়ারে বড় একটি বাধা এসেছে। কিছুদিনের জন্য আমি যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা করতে পারব না। ক্লাবের হয়ে মৌসুমের বাকি সময় এবং দেশের হয়ে বিশ্বকাপ- দুটোই মিস করব, যা আমার স্বপ্ন ছিল। এখন শক্ত থাকা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই।’ রদ্রিগোর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাকে প্রায় আট মাস মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকবে এবং সুস্থতার অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করবে মাঠে ফেরার সময়সূচি। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক বিবৃতিতে রদ্রিগোর প্রতি সংহতি জানিয়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। তারা জানিয়েছে, জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের ডান হাঁটুর এসিএল ও বাইরের মেনিস্কাসে গুরুতর চোট ধরা পড়েছে। ২০২৩ সালে একই ধরনের চোটে পড়েছিলেন নেইমার। রদ্রিগোর খবর শুনে তিনিও সামাজিক মাধ্যমে সমবেদনা জানান। তিনি লেখেন, ‘এই চোটের কষ্ট, দুশ্চিন্তা আর ভয় আমি জানি। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো মানসিকভাবে শক্ত থাকা। তুমি আরও শক্ত হয়ে ফিরবে।’ চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ২৭ ম্যাচ খেলেছেন রদ্রিগো। করেছেন তিন গোল, সঙ্গে ছয়টি অ্যাসিস্ট। তার অনুপস্থিতি রিয়ালের আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা হয়ে আসবে, আর ব্রাজিল জাতীয় দলের বিশ্বকাপ পরিকল্পনাতেও তৈরি করবে নতুন সমীকরণ।

চীনের বিপক্ষে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের

চীনের বিপক্ষে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীন। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলতে গেছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতায় চীনের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা। এশিয়ান কাপে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের, কিন্তু হারলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। মঙ্গলবার ওয়েস্টার্ন সিডনিতে এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ম্যাচের দুটি গোলই হয় প্রথমার্ধের শেষের দিকে। ৮৬ মিনিটে হালিমাকে তুলে মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়াকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক ঘটল বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সুইডেন প্রবাসী আনিকার। চীনের র‌্যাংকিং ১৭, বাংলাদেশের ১১২ কাগজে-কলমে এটি ছিল স্পষ্ট অসম লড়াই। তবে মাঠে সেই ব্যবধান পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে দেয়নি বাংলাদেশ নারী দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট জুড়ে তারা খেলেছে ইতিবাচক ফুটবল। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল ফিজিক্যাল ও টেকনিক্যাল দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল। চীনকে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। প্রথমার্ধের শেষ দুই মিনিটে দুই গোল করে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ বলের দখলে আগের চেয়ে উন্নতি করে এবং রক্ষণাত্মক খোলস ভেঙে আক্রমণের ধারাও বাড়ায়। বিরতির পর বাংলাদেশ তিন পরিবর্তন আনে উমহেলা, শিউলি ও নবীরনের জায়গায় নামেন তহুরা, হালিমা ও স্বপ্না। ৮৫ মিনিটে জাতীয় দলে অভিষেক হয় সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রহমানের। চীনও দ্বিতীয়ার্ধে তিন পরিবর্তন করলেও আর গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ায় চলমান এএফসি নারী এশিয়ান কাপে রয়েছে ভিএআর প্রযুক্তি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের একটি আক্রমণে পেনাল্টির সম্ভাবনা ভিএআরে পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যায়নি বাংলাদেশের পক্ষে। ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি আসে ১৪তম মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পান ঋতুপর্ণা চাকমা। ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট প্রায় জালেই জড়িয়ে যাচ্ছিল। চীনের গোলরক্ষক চেন চেন পেছনে লাফিয়ে অসাধারণ সেভ না করলে সেটি হতে পারত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল। ২২ মিনিটে চীন প্রথমবার বল জালে পাঠালেও ভিএআরে সেটি বাতিল হয়। অবশেষে ৪৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং দূরপাল্লার শটে গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। এক মিনিট পর ঝাং রুইয়ের শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের পায়ে লেগে জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

একাদশে নেই রুপনা ও আনিকা, গোলবারের নিচে মিলি

একাদশে নেই রুপনা ও আনিকা, গোলবারের নিচে মিলি ৪ দশক পর এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের ফুটবল। এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিপক্ষ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল চীন। বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম শহর সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে ম্যাচটি। আজকের ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা হয়নি নিয়মিত ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রুপনার চাকমার। তার জায়গায় চীনের বিপক্ষে গোলপোস্ট সামলাবেন মিলি আক্তার। এছাড়া একাদশে নেই সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীও। পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে শুরু করছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার ছাড়াও রক্ষণে আছেন শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, কোহাতি কিসকু এবং নবীবরণ খাতুন।

অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের এশিয়ান কাপ শুরু

অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েদের এশিয়ান কাপ শুরু ১৯৭৫ থেকে ২০২২। এই সময়ের মধ্যে ২০ বার হয়েছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ ফুটবল। আয়োজক হওয়া তো দূরের কথা এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই এশিয়ান কাপ নিয়ে চার বছর আগেও কোনো আগ্রহ ছিল না লাল-সবুজের দলটির। কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে বইছে অন্যরকম এক আবহ। বাছাইপর্বে মিয়ানমারকে হারিয়ে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করার পর থেকেই আফঈদা খন্দকার-ঋতুপর্ণা চাকমাদের ঘিরে নতুন স্বপ্নের জাল বোনেন ফুটবল সমর্থকরা। আসল লড়াইয়ে তাদের ফুটবল শৈলী দেখার অপেক্ষায় কোটি বাঙালি। সেই অপেক্ষা ফুরাচ্ছে মঙ্গলবার। এশিয়ান কাপে গ্রুপ ‘বি’তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সিডনিতে চীনের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের দল। তবে এশিয়ান কাপের সেরা ১২ দলের আসল লড়াই শুরু হচ্ছে আজ। পার্থ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া খেলবে ফিলিপাইনের বিপক্ষে। মেয়েদের এশিয়ান কাপ মানেই চীনের দাপট। এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় ৯ বার শিরোপা জিতেছে তারা। তিনবার করে চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া ও চায়নিজ তাইপে। গ্রুপ ‘বি’তে বাংলাদেশের সঙ্গী চীন ও উত্তর কোরিয়া। আছে উজবেকিস্তানও। গ্রুপ ‘এ’তে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ছাড়া বাকি দলগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ফিলিপাইন। গ্রুপ ‘সি’তে খেলবে জাপান, ভিয়েতনাম, চায়নিজ তাইপে ও ভারত। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি করে ছয়টি এবং সেরা দুটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলবে উঠবে কোয়ার্টার ফাইনালে। এর মধ্যে চার কোয়ার্টার ফাইনালজয়ী দল সরাসরি টিকিট কাটবে ২০২৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপের। বাকি চার দল খেলবে প্লে-অফে। সেখান থেকে দুটি দল উঠবে বিশ্বকাপে। গ্রুপের দিকে তাকালে বাংলাদেশের সেরা দুই দলের একটি হওয়া কঠিন। পিটার বাটলারের দলের টার্গেট উজবেকিস্তান। ৯ মার্চ পার্থে এই ম্যাচ জিতলে তৃতীয় হওয়া সেরা দুটির একটি হওয়ার সম্ভাবনা জাগবে। তাতে খুলে যাবে বিশ্বকাপের দরজা। বাংলাদেশের প্রথম দুটি ম্যাচ সিডনিতে। তাই বেশ কয়েকদিন ধরেই সেখানে প্রস্তুতি নিচ্ছে লাল-সবুজের দলটি। আর সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে আফঈদাদের নিয়ে বাড়তি মনোযোগ কোচ বাটলারের। হাতে যেহেতু সময় কম, তাই শেষ মুহূর্তের ভুলত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কোচ। ওয়েস্টার্নের বিপক্ষে প্রীতিম্যাচের পর এখন পুরো দলকে আসল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন বাটলার। সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে চীনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে শনিবারও অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছে মেয়েরা। এখন লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফরোয়ার্ড সুরভি আকন্দ প্রীতি, ‘এই প্রথমবার বাংলাদেশ এত বড় একটা মঞ্চে আসছে, তো এটা ভালো লাগারই কথা। কাজ তো হচ্ছেই, সব দিক দিয়েই ট্রেনিং সেশনে যা আমাদের ভুলত্রুটি হয় সেটা ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তো ওইটা শোধরানোর চেষ্টা করছি আমরা। ভালো (প্রস্তুতি হচ্ছে), সবকিছু মিলিয়ে। এখানে আসার পর আমরা একটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি, তো ওখানে যা ভুলত্রুটি হয়েছে, কোচ আমাদের সেটা নিয়ে দুটি ট্রেনিং সেশন করিয়েছেন, ওখানে শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ‘ওই ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে (১-১ ড্র হয়েছিল ম্যাচটি)। আমরা ভালো করেছি, ওরাও তো শক্তিশালী দল। ফিজিও ইস্যুতে শুরুতে সমস্যা ছিল বাংলাদেশ শিবিরে। নিয়মিত ফিজিও লাইজু ইয়াসমিন লিপা ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ালে দায়িত্ব পড়েছিল জাকিয়া রহমানের কাঁধে। তিনিও অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ায় কাজ চালিয়ে যেতে পারেননি। ফিজিও ছাড়াই অস্ট্রেলিয়া এসে ঝামেলায় পড়েছিল দল। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। তবে আশার কথা অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ফিজিও ইসনাদ জামকনকে নিয়োগ দিয়ে সমস্যার সমাধান করেছে বাংলাদেশ।

ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে ৫ সমর্থক নিষিদ্ধ

ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে ৫ সমর্থক নিষিদ্ধ রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগে পাঁচ সমর্থককে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বেনফিকা। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধও হতে পারেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি লিসবনের স্টেডিয়াম অব লাইটে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের পর কয়েকজন সমর্থককে গ্যালারিতে বানরসুলভ অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। বিবৃতিতে বেনফিকা জানায়, ‘ম্যাচের পর গ্যালারিতে বর্ণবাদী ও অনুপযুক্ত আচরণের ঘটনায় তদন্ত শুরু করা হয়। ক্লাবের মূল্যবোধ ও নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এমন আচরণ আমরা মেনে নেই না।’ চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফের প্রথম লেগের সেই ম্যাচে ১০ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। রিয়ালের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র অভিযোগ করেন, তাকে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে। রেফারি তখন বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল চালু করেন। অভিযোগের তীর ছিল বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির দিকে। তবে আর্জেন্টাইন উইঙ্গার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ক্লাবও তাকে সমর্থন দিয়ে বলেছে, তিনি ‘মানহানির শিকার’ হয়েছেন। এই ঘটনার পর দ্রুত তদন্ত শুরু করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা। প্রেস্তিয়ান্নিকে সাময়িকভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞার কারণে বুধবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগের ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। বার্নাব্যুতে ফিরতি লেগে ৩ হাজারের বেশি বেনফিকা সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচের শুরুতে ভিনিসিয়ুস বল ছুঁলেই তাকে দুয়ো দেওয়া হয়, এমনকি শুরুর একাদশে তার নাম ঘোষণার সময়ও শিস শোনা যায় গ্যালারি থেকে। প্রথম লেগে লিসবনে ১-০ ব্যবধানে জেতার পর, ঘরের মাঠে ২-১ গোলের জয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

পিএসজি তারকাকে পেতে রিয়াল-সিটি-লিভারপুলের ত্রিমুখী লড়াই

পিএসজি তারকাকে পেতে রিয়াল-সিটি-লিভারপুলের ত্রিমুখী লড়াই ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন ট্রান্সফার নাটকের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন জোয়াও নেভেস। পিএসজির এই তরুণ মিডফিল্ডারকে দলে টানতে ত্রিমুখী লড়াইয়ে নেমেছে রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি ‍ও লিভারপুল।  গেল দুই মৌসুমে লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়নস লিগে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন নেভেস। মাঝমাঠে তার পজিশনিং, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং এক-দুই টাচে প্রতিপক্ষের প্রেস ভেঙে দেওয়ার দক্ষতা তাকে ইউরোপের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন মিডফিল্ডারে পরিণত করেছে। বয়স কম হলেও খেলার পরিপক্বতায় তিনি অনেক সিনিয়র তারকাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মিডফিল্ডে তরুণ শক্তি যোগ করতে চায়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেভেসকে ‘ফাইনাল পিস’ হিসেবে দেখছে লস ব্লাঙ্কোরা। ক্লাবের স্কাউটরা ইতিমধ্যে তার ওপর ইতিবাচক রিপোর্ট জমা দিয়েছে বলে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের দাবি। এদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলার কৌশলভিত্তিক ফুটবলে মানিয়ে নিতে পারবেন, এমন খেলোয়াড়ই খুঁজছে সিটি। বল দখল ও পাসে দক্ষ নেভেসকে তাই আদর্শ মনে করছে ইংলিশ জায়ান্টরা। শোনা যাচ্ছে, সিটি তার জন্য বড় অঙ্কের প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, লিভারপুলও মাঝমাঠে নতুন ভারসাম্য খুঁজছে। ক্লাবটির বিশ্লেষক দল মনে করছে, নেভেস এলে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই গতি ও স্থিরতা বাড়বে। তাই আনফিল্ডও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। তবে পিএসজি সহজে ছাড় দেবে না। ক্লাবটি ইতোমধ্যে নেভেসের চুক্তি ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়িয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে, বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব ছাড়া কোনো আলোচনা নয়। বিভিন্ন সূত্র মতে, ১৫০–১৬০ মিলিয়ন ইউরোর কমে তারা রাজি হবে না। সব মিলিয়ে, গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো ঘিরে ইউরোপীয় ফুটবলে বড় এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলছে। এখন দেখার বিষয়—পিএসজি কি তাদের রত্নকে ধরে রাখতে পারে, নাকি রিয়াল-সিটি-লিভারপুলের মধ্যে কেউ ইতিহাস গড়ে তাকে দলে ভেড়ায়।

চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর ড্র অনুষ্ঠিত

চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর ড্র অনুষ্ঠিত ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে উত্তেজনা আরো বেড়ে গেল। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে, আর ড্র থেকেই মিলেছে একাধিক মহারণের ইঙ্গিত। ইউরোপের জায়ান্ট ক্লাবগুলো একে অপরের বিপক্ষে পড়ায় নকআউট পর্ব জমে উঠতে যাচ্ছে শুরু থেকেই। সবচেয়ে বড় লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটি। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে এই দুই দলের দ্বৈরথ চ্যাম্পিয়নস লিগে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। দুই ফেভারিটের একজনকে বিদায় নিতে হবে শেষ ষোলোর পরই। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন খেলবে পিএসজি খেলবে চেলসির বিপক্ষে। গ্রীষ্মের ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি এখনও টাটকা—সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে ইউরোপের মঞ্চে। ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল মুখোমুখি হবে গালাতাসারায়ের। আর লিগ পর্বে শতভাগ জয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল পাবে কঠিন প্রতিপক্ষ বায়ার লেভারকুজেনকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী গানার্সরা। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা সফরে যাবে সেন্ট জেমস’ পার্কে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউক্যাসল ইউনাইটেড। জার্মান শক্তি বায়ার্ন মিউনিখ লড়বে ইতালিয়ান ক্লাব আতালান্তার বিপক্ষে। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জায়গা করে নেওয়া আতালান্তা যে সহজ প্রতিপক্ষ নয়, সেটি ভালোভাবেই জানে বায়ার্ন। অন্য ম্যাচগুলোতে মুখোমুখি হচ্ছে, আতলেতিকো মাদ্রিদ বনাম টটেনহাম এবং বোদো/গ্লিম্ট বনাম স্পোর্টিং সিপি। দুই লেগ মিলিয়ে নির্ধারিত হবে কোয়ার্টার ফাইনালের আট দল। প্রথম লেগ অনুষ্ঠিত হবে ১০ ও ১১ মার্চ, আর লেগ ১৭ ও ১৮ মার্চ।

টেন্ডুলকারের আউট নিয়ে ২২ বছর পর মুখ খুললেন বাকনার

টেন্ডুলকারের আউট নিয়ে ২২ বছর পর মুখ খুললেন বাকনার আম্পায়ারিং জীবনে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্টিভ বাকনার। যার ফলে ভুগতে হয়েছে ব্যাটারদের। আর সাবেক আম্পায়ার স্টিভ বাকনারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার সবচেয়ে বেশি হতে হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারকে। জামাইকান আম্পায়ার অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করলেন। ২২ বছর আগে শচীনের এক বিতর্কিত আউট নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ৭৯ বছর বয়সী  স্টিভ বাকনার। ২০০৩-০৪ সালে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটাচ্ছিলেন শচীন। কিন্তু ব্রিসবেনে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে মাত্র ৩ রানে আউট হন মাস্টার ব্লাস্টার। জেসন গিলেসপি, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সোজা আঙুল ওপরে তুলে দেন বাকনার। শচীন নিজেও অবাক হয়ে যান। বলের পিচ ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। আর উইকেটের অনেকটা ওপরে। বাকনারের মতো আম্পায়ারের চোখে এ রকম ভুল হওয়ার কথা নয়। অনেকে বলেন- তিনি শচীনকে দেখলে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আউট দিতেন। সেই ঘটনা নিয়ে বাকনার এখন বলেন, শচীনের ওই এলবিডব্লিউটা ভুল ছিল। কিন্তু এখনো ওই একটা আউট নিয়ে কথা বলে অনেকেই। কেন আমি ওকে আউট দিয়েছিলাম? ও কি সত্যিই আউট ছিল? এ ধরনের কথাবার্তা চলতেই থাকে। কিন্তু জীবনে ভুলভ্রান্তি হয়। আমি সেই ভুলটা মেনে নিয়েছি। জীবন নিজের পথে এগিয়ে গেছে। যদিও ভুল স্বীকার করলেও বাকনার ক্ষমা চাইতে নারাজ। কিন্তু ঘটনা হলো— শুধু এই একটা ঘটনা নয়, শচীনের বিরুদ্ধে এ রকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সৌরভ গাঙ্গুলিসহ অনেক ভারতীয় ব্যাটারই বাকনারের ভুলের শিকার। আবার বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ঘটনাটা উল্টো। বছর কয়েক আগে ২০০৮ সালের সিডনি টেস্টের ভুল স্বীকার করেছিলেন তিনি। এবার বাকনার মেনে নিলেন ব্রিসবেনের ভুল।

বিশ্বকাপে যে দেশের বিপক্ষে খেলতে চান না মেসি

বিশ্বকাপে যে দেশের বিপক্ষে খেলতে চান না মেসি ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপকে সামনে রেখে শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন। উত্তর আমেরিকার মাটিতে বসতে যাওয়া ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর এই আসরে শিরোপা রক্ষার মিশনে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যার নেতৃত্বে থাকতে পারেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে নতুন মিশনের আগে এক প্রতিপক্ষকে এড়িয়ে চলার ইচ্ছার কথা খোলাখুলিই জানালেন মেসি। সেই দলটি হলো মেক্সিকো। সাবেক সতীর্থ ও বর্তমানে টিগ্রেস ইউএএনএলের গোলরক্ষক নাহুয়েল গুজমানের সঙ্গে ‘মিরো দে আতরাস’ পডকাস্টে আলাপকালে ২০২২ বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করেন মেসি। কাতারে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়টি ছিল আর্জেন্টিনার জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর আরেকটি পরাজয় মানেই বিদায়। এমন চাপ নিয়েই মাঠে নেমেছিল দলটি। মেসি বলেন, ‘আমরা সত্যি বলতে ভয় নিয়েই সেই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলাম।’ ইতিহাসে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আর্জেন্টিনা। তবু মেসির মতে, মেক্সিকো সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। বল দখলে রাখার ক্ষমতা, ছন্দ নষ্ট করার কৌশল এবং সমর্থকদের তুমুল সমর্থন সব মিলিয়ে তারা যে কোনো দলকে চাপে ফেলতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। স্বাগতিক হিসেবে উত্তর আমেরিকার দলগুলো বাড়তি সমর্থন পাবে। সেই বাস্তবতায় টুর্নামেন্টের শুরুতেই মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলতে চান না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসি আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে প্রায়ই আমাদের দেখা হয়, আর বেশির ভাগ সময়ই সেটা হয় বাঁচা-মরার ম্যাচে। এবার তোমাদের (মেক্সিকো) ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দারুণ সুযোগ। তবে আশা করি এবার আমাদের মুখোমুখি হতে হবে না।’ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামার আগে মেসির এই মন্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও বড় মঞ্চে চাপ ও হিসাব-নিকাশের বাইরে কেউ নয়।

এভারটনকে হারিয়ে শীর্ষ চারে ম্যানইউ

এভারটনকে হারিয়ে শীর্ষ চারে ম্যানইউ এভারটনের মাঠে কঠিন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত হাসলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগে সোমবার এভারটনকে ১-০ গোলে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষ চারে ওঠে গেছে রেড ডেভিলরা। এভারটনের মাঠ হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে প্রথম হাফে বল নিজেদের দখলে রাখলেও, আক্রমণে তেমন গোছানো ছিল না ম্যানইউর। স্বাগতিক এভারটনও সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট। বিরতির পর ম্যাচের গতি বাড়ে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। এই সময় তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক ছিল এভারটন। তবে সব পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে ৭১তম মিনিটে। বদলি হিসেবে নামার মাত্র ১৩ মিনিটের মাথায় এক দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জয়সূচক গোলটি করেন বেঞ্জামিন শেস্কো। এরপর দুই দলই কিছু চেষ্টা করলেও আর গোলের দেখা মেলেনি। প্রথম দেখায় ১-০ ব্যবধানে হারার প্রতিশোধটা এভাবেই সুদে-আসলে তুলে নিল ম্যানইউ।২৭ ম্যাচ শেষে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সমান ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে রয়েছে এভারটন। অন্যদিকে ২৮ ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে শীর্ষে অবস্থান করছে।