গুরুতর অসুস্থ নুসরাত ফারিয়া চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে

গুরুতর অসুস্থ নুসরাত ফারিয়া চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে গেল রোববার (১৮ মে) সকালে থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন নুসরাত ফারিয়া। পরের দিন আদালত থেকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় তাকে। তবে মঙ্গলবার (২০ মে) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। কারাগার থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি এই অভিনেত্রী। তবে এই সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদের উদ্দেশে ফেসবুক পেজের এক স্ট্যাটাসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই নায়িকা। এরপর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আবারও নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি। এরপর ফারিয়ার আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (২৩ মে) এক ফেসবুক পোস্টে এ চিত্রনায়িকা জানিয়েছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ, চিকিৎসার অংশ হিসেবেই সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। ফারিয়া লেখেন, আমি জানি, আপনারা অনেকেই আমার খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আপনাদের ভালোবাসা ও উদ্বেগ আমাকে সত্যিই ছুঁয়ে যাচ্ছে। তবে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, বর্তমানে আমি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছি। চিকিৎসার অংশ হিসেবে এখন কিছু সময়ের জন্য বাইরের সঙ্গে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফোন ব্যবহারের ওপরও রয়েছে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা। যোগ করে ঢাকাই সিনেমার এই অভিনেত্রী লেখেন, এই পরিস্থিতিতে কারো সঙ্গে কথা বলতে না পারার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি, আপনারা বিষয়টি বুঝবেন। আমি বিশ্বাস করি, এই কঠিন সময়টা দ্রুতই পেরিয়ে আবার সুস্থভাবে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারব। গত কয়েকদিনকে দুঃসহ সময় উল্লেখ করে ফারিয়া লেখেন, গত কয়েকদিন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ ও সংবেদনশীল সময়। মানসিক ও শারীরিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও সাহচর্য আমাকে এগিয়ে চলার শক্তি দিয়েছে। আপনাদের সকলের প্রতি- আপামর জনসাধারণ, প্রতি আমি হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞ। গণমাধ্যমের বন্ধুদের ধন্যবাদ জানিয়ে এই চিত্রতারকা লেখেন, বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বন্ধুদের, যাদের মানবিকতা ও ইতিবাচক ভূমিকাটি এই সময়ে আমার জন্য ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক। আপনারা পাশে না থাকলে হয়তো এত দ্রুত নিজের ভেতরের সাহস খুঁজে পেতাম না। আমি আজীবন মনে রাখব এই ভালোবাসা ও নিরন্তর সহমর্মিতার কথা। সবার প্রতি রইল আন্তরিক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। খুব শিগগিরই আবার দেখা হবে। উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর ভাটারা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এনামুল হক (৩৫)। চলতি বছরের ৩ মে এনামুল হক ঢাকার সিএমএম আদালতে ২৮৩ জনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা করেন। মামলার দুই সপ্তাহ পর গ্রেপ্তার করা হয় নুসরাত ফারিয়াকে।

 ১৫ দিনে ওজন কমাতে পারি-ভালো আছি- ঐশ্বরিয়া

১৫ দিনে ওজন কমাতে পারি-ভালো আছি- ঐশ্বরিয়া একজন নারীর শরীরে মাতৃত্বের পর যে পরিবর্তন আসে, তা খুবই স্বাভাবিক। মা হওয়ার পর শরীরের গঠন বদলানো, ওজন বেড়ে যাওয়া- এসবকে এখনও অনেকেই নেতিবাচকভাবে দেখে থাকেন। সাধারণ নারী থেকে শুরু করে তারকারাও এর ব্যতিক্রম নন। সন্তান জন্মের পর থেকে প্রায়ই চেহারা আর গড়ন নিয়ে কটাক্ষের শিকার হয়ে আসছেন বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। বিশ্বসুন্দরী খেতাব জয়ী এই অভিনেত্রীকে গেল কয়েক বছর ধরেই সামাজিকমাধ্যমে ওজন বৃদ্ধি, সাজপোশাক, এমনকি চুলের স্টাইল নিয়েও নানা রকম মন্তব্য শুনতে হয়েছে। অনেকেই বলছেন, মুখে ফোলাভাব এসেছে- অবধারিতভাবে ধারণা করছেন, হয়তো কোনও রকম অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ঐশ্বরিয়ার উপস্থিতি নজর কেড়েছে। তার ঝলমলে লুক মুগ্ধ করলেও, ওজন নিয়ে বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি অনেকেই। কারও মন্তব্য, ‘চেহারায় আগের সেই লাবণ্য নেই’, আবার কেউ লিখেছেন, ‘মুখ ফুলে গিয়েছে, আর ভালো লাগে না। ’ এসব নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ঐশ্বরিয়া নিজেই। সরাসরি জানিয়ে দিলেন, “আমি মোটা হয়েছি তো আপনাদের কী সমস্যা হয়েছে? আমার চেহারা নিয়ে আপনাদের এত আগ্রহ কেন?” তিনি আরও বলেন, “এই মুহূর্তে আমি আমার মেয়ে আরাধ্যার বিষয়েই সবচেয়ে বেশি ভাবি। আমার ওজন নিয়ে আমি চিন্তিত নই। চাইলে ১৫ দিনের মধ্যেই ওজন কমিয়ে ফেলতে পারি। কিন্তু আমি যেমন আছি, তাতেই ভালো আছি। অন্যরা কী ভাবল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ” নিজের মত প্রকাশে দ্বিধাহীন এই অভিনেত্রী আরও একবার প্রমাণ করলেন, শরীর নয়, ব্যক্তিত্বই একজন নারীর সবচেয়ে বড় শক্তি।

কানের লাল গালিচায় অন্য ঐশ্বরিয়া

কানের লাল গালিচায় অন্য ঐশ্বরিয়া ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের শহর কানে বসেছে চলচ্চিত্রজগতের সম্মানজনক আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব। গত ১৩ মে এ উৎসবের ৭৮তম আসরের পর্দা উঠেছে। বরাবরের মতো এবারের আসরে হাজির হয়ে নজর কাড়লেন প্রাক্তন বিশ্ব সুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। তবে ওয়েস্টার্ন লুকে নয়, শাড়ি পরে লাল গালিচায় হেঁটে প্রশংসায় ভাসছেন এই তারকা। কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন পরেন সাদা রঙের বেনারসি। শাড়ির সঙ্গে পেয়ারআপ করেন এমেরাল্ড পিঙ্ক জুয়েলারি। ঐশ্বরিয়া রাইয়ের শাড়ির ডিজাইন করেন মণীশ মালহোত্রা। তবে বচ্চন-বধূর যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তা হলো— সিঁথি ভরা সিঁদুর, যা পুরো সাজটাই বদলে দিয়েছে। ঐশ্বরিয়া শাড়ির সঙ্গে বেছে নিয়েছেন সাদা রঙের ফুল স্লিভ ব্লাউজ। একই সঙ্গে শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং ওড়নাও বয়ে বেড়ান। মেকআপও একেবারে সামান্য রেখেছিলেন অভিনেত্রী। ন্যুড মেকআপের সঙ্গে ব্রাউন লিপস্টিক ঠোঁটে লাগান। ঐশ্বরিয়ার গলার হারটি ২৯০ ক্যারেটেরও বেশি মোজাম্বিক রুবি দিয়ে তৈরি করা। এটি ডিজাইন করেছেন মণীশ মলহোত্রা। এই স্টেটমেন্ট পিসটির সঙ্গে ৩০ ক্যারেটেরও বেশি রুবি দিয়ে তৈরি একটি নেকলেস ব্যবহার করেছেন, যাতে হীরা বসানো। সঙ্গে নজর কাড়ে রাই-সুন্দরীর রেনেসাঁ অফ রুবিস স্টেটমেন্ট আংটিটি। কানের লাল গালিচায় ঐশ্বরিয়ার হাঁটার নানা মুহূর্ত ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা দেখে ভূয়সী প্রশংসা করছেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। আশু মিশ্রা লেখেন, “আমাদের রানি এখানে।” আরশাদ লেখেন, “অবশেষে কানের রানি।” কাজল লেখেন, “ঐশ্বরিয়াকে ছাড়া কান অসম্পূর্ণ।”একজন লেখেন, “উফ এই সিঁদুরটা! সবটা বদলে দিল।” অন্য একজন লেখেন, “আসল রানি, কোনো তুলনা হয় না।” প্রগতি সিনহা লেখেন, “সাদা শাড়িতেও কীভাবে কাউকে এত সুন্দর লাগতে পারে। ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।” এমন অসংখ্য মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে।

আদালত চত্বরে মমতাজের ওপর ডিম-জুতা নিক্ষেপ

আদালত চত্বরে মমতাজের ওপর ডিম-জুতা নিক্ষেপ মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চারজনকে হত্যা এবং হরিরামপুরে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর ও হরিরামপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আদালতের কার্যক্রম শেষে প্রিজন ভ্যানে নেওয়ার সময় বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালত-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুন নূর সিংগাইর উপজেলার হত্যা মামলায় মমতাজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় চিফ জুডিশিয়াল আদালত-৩ এর বিচারক আইভি আক্তার হরিরামপুর থানার হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় মমতাজ বেগমকে মামলার শুনানির জন্য গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মানিকগঞ্জ আদালতে আনা হয়। মমতাজ বেগমকে আদালতে ওঠানোর সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা তার শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা মধ্যে রিমান্ড শুনানি শেষে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় আসামি মমতাজ বেগমের ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করেন। কোর্ট ওসি আবুল খায়ের জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় হরতালের সমর্থনে করা মিছিলে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালে ২৫ অক্টোবর মমতাজ বেগমকে তিন নম্বর আসামি করে সিঙ্গাইর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের মো. মজনু মোল্লা। এর পর তার নির্বাচনি এলাকা হরিরামপুর থানায় হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে আরেকটি মামলা হয়। গত ২৯ অক্টোবর হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন মামলাটি দায়ের করেন।  ওসি আরো জানান, বৃহস্পতিবার পৃথক দুটি আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। একটি আদালতে দুই দিন ও অন্য আদালতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। আসামিকে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ঢাকায় বেশকিছু থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মমতাজ বেগম চার দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ড শেষে মমতাজ বেগমকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছিল।

আবারো পৃথিবীর মুখোমুখি হব আরও শক্তিশালী হয়ে: নুসরাত ফারিয়া

আবারো পৃথিবীর মুখোমুখি হব আরও শক্তিশালী হয়ে: নুসরাত ফারিয়া জামিনে মুক্তির পর সামাজিকমাধ্যমে সরব হয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। মঙ্গলবার (২০ মে) কারামুক্ত হওয়ার পর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান এই অভিনেত্রী। এরপর এদিন রাতে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আবারও নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে ফারিয়া বলেন, জীবনের এই ঝড়-ঝঞ্ঝাটে আমি জেনে গেছি, কারা আমার জীবনের অটুট সঙ্গী। আমার পরিবার- তোমাদের ভালোবাসা আমার শক্তি। আমার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা- তোমাদের প্রার্থনাই আমাকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। আর আমার পুরো দেশ- তোমাদের সমর্থনে আমি বাকরুদ্ধ, হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এ সময় ফারিয়া বলেন, এই যাত্রা আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু ভাঙতে পারেনি। ক্ষত গভীর, তবে ন্যায়ের ওপর এবং মানুষের ভালত্বের ওপর আমার বিশ্বাসও ততটাই গভীর।ইনস্টাগ্রামে পোস্টটির শেষে ফারিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষত সেরে যাবে, আর আমি আবারও পৃথিবীর মুখোমুখি হব আরও শক্তিশালী, আরও প্রজ্ঞাময় হয়ে এবং প্রতিটি আত্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা নিয়ে, যারা আমার পাশে থেকেছেন। এর আগে মঙ্গলবার ফেসবুক পোস্টে ফারিয়া বলেছিলেন, জীবনের সবচেয়ে মুমূর্ষু সময় পার করেছি এই দুইটা দিন। মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েছিলাম। এসময় যারা পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান। ধন্যবাদ জানান শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির মানুষ থেকে তার ভক্ত অনুরাগীদেরও। গেল রোববার সকালে থাইল্যান্ড সফরে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। এরপর রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। জানা যায়, গত মার্চ মাসে এনামুল হক নামের এক ব্যক্তি ঢাকার একটি আদালতে ২৮৩ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে নুসরাত ফারিয়াসহ আরও কয়েকজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বও রয়েছেন।

ক্ষুব্ধ হানিফ সংকেত, নিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা

ক্ষুব্ধ হানিফ সংকেত, নিচ্ছেন আইনি ব্যবস্থা দেশের তুমুল জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক হানিফ সংকেত। দেশের কিংবদন্তি এই উপস্থাপক এবার সরব হয়েছেন নিজের কণ্ঠস্বর নকল করে প্রচার চালানোর বিরুদ্ধে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ভুয়া বিজ্ঞাপনে তার কণ্ঠ নকল করায় তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হানিফ সংকেত লেখেন, প্রযুক্তির এই যুগে সুবিধার পাশাপাশি অপব্যবহারও বেড়েছে। এখন এমন এক সময়, যেখানে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতারণাও সম্ভব। আমি লক্ষ্য করেছি, একটি প্রতারক চক্র ইত্যাদি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনার ভঙ্গি ও আমার কণ্ঠ অনুকরণ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি ডায়াবেটিসবিষয়ক ভুয়া বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে। কণ্ঠ শুনলেই বোঝা যায়, এটা আসল নয়, বিদেশি উচ্চারণে নকল কণ্ঠ। তিনি লেখেন, আমি কখনোই কোনো বিজ্ঞাপনে অংশ নেইনি। অনেকবার প্রস্তাব পেয়েছি, তবুও রাজি হইনি। তাই কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন। এই প্রতারণার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এই প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফেসবুক পোস্টে হানিফ সংকেত আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার থেকে শিল্প-সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে এখনই নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। তিনি লেখেন, ব্রিটেনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক এআই-এর অপব্যবহার ঠেকাতে কপিরাইট আইন হালনাগাদ করার দাবি তুলেছেন। ডুয়া লিপা, এলটন জন, ডেভিড হেয়ার, কাজুও ইশিগুরোর মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আমিও একমত। সবশেষে হানিফ সংকেত মন্তব্য করেন, এআই প্রযুক্তি যেন মানুষের অধিকার হরণ না করে, সেটা নিশ্চিত করতে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর এখনই নীতিমালা করা উচিত।

বিয়ে করতে যাচ্ছেন সিদ্দিকের প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া মিম

বিয়ে করতে যাচ্ছেন সিদ্দিকের প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া মিম সময় নিজের গতিতে বয়ে চলে। সময়ের স্রোতে অনেক সম্পর্ক হারিয়ে যায়, কেবল জমা থাকে স্মৃতি। স্মৃতির গোদামে সময়কে রেখে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে যাচ্ছেন অভিনেতা সিদ্দিকের প্রাক্তন স্ত্রী মারিয়া মিম। ২০১২ সালে সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন স্পেনপ্রবাসী মারিয়া মিম। সেই সূত্রেই বাংলাদেশে থিতু হন। শুরু করেছিলেন মডেলিং, স্বপ্ন দেখেছিলেন শোবিজে ক্যারিয়ার গড়ার। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েনে সে স্বপ্ন আর এগোয়নি। সংসার আর পেশাগত পথচলার মাঝে তৈরি হয় দূরত্ব। সর্বশেষ ২০১৯ সালে বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে আলাদা হয়ে যান এই দম্পতি। এরপর কেটে গেছে ছয়টি বছর। জীবনের নতুন অধ্যায়ে ফের প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন মিম। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও পোস্ট করে এই সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রেমিকের মুখ আড়ালে থাকলেও ক্যাপশনে মিম লেখেন— “আমার ভালোবাসা।” বিয়ের প্রসঙ্গে মারিয়া বলেন, “আমি প্রেম করছি। তবে আমার বয়ফ্রেন্ড মিডিয়ার কেউ নন, তিনি একজন সাধারণ মানুষ। খুব শিগগিরই আমরা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হবো।” প্রাক্তন স্বামী সিদ্দিককে নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে মারিয়া বলেন, “সিদ্দিক তো আমার প্রাক্তন। ডিভোর্স হয়ে গেলে দেখা করাটাও অনুচিত। তিনি এখন আমার জন্য পরপুরুষ। দয়া করে তাকে আমার সঙ্গে জড়াবেন না।”সম্প্রতি একটি ঘটনার জেরে আলোচনায় রয়েছেন অভিনেতা সিদ্দিক, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করা হচ্ছে। এর কিছু অংশ মারিয়াকে উদ্দেশ করে কটাক্ষ হিসেবে এসেছে। জবাবে মারিয়া সাফ জানিয়ে দেন, “ডিভোর্সের ৫-৬ বছর পরও কেউ জামাই থাকে না। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অকারণে মন্তব্য না করাই শ্রেয়।” নিজের মতামত ও জীবন নিয়ে স্পষ্টভাবে অবস্থান জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মারিয়া মিম। এখন দেখার পালা— তার নতুন জীবনের সূচনা কীভাবে হয়।

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া

হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ মে) বাংলাদেশ সময় দুপুরে তিনি থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দর তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুপুরে গ্রেপ্তারের পর বিমানবন্দরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নুসরাত ফারিয়াকে রাজধানীর ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে আটক দেখিয়ে বিমানবন্দর থেকে ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার মামলা রয়েছে ভাটারা থানায়। যেহেতু মামলা রয়েছে সেজন্য ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছেন। এরপর ভাটারা থানা তাকে হস্তান্তর করা হয়। দুপুর সাড়ে তিনটায় এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর নুসরাত ফারিয়াকে থানায় আনা হয়েছিল। তবে থানায় তাকে না রেখে পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মুনমুনের উপস্থাপনা এখনও মিস করেন অনেকেই

মুনমুনের উপস্থাপনা এখনও মিস করেন অনেকেই উপস্থাপনা একটি শিল্প। বর্তমানে এর মান কতটুকু ধরে রাখা যাচ্ছে সেটা একটা বড় প্রশ্ন। দেখা যাচ্ছে যে, বিনোদন জগতের তারকাদেরকে বিভিন্ন উপস্থাপক যেসব প্রশ্ন করেন- তা অনেক সময় নেটিজেনদের কাছে হাস্য-রসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও এ দায় কেবল উপস্থাপককে দেওয়া চলে না, দর্শক কি গ্রহণ করছেন, কেন গ্রহণ করছেন-তা নিয়েও বিস্তর বলার আছে। যাইহোক, সাবলীল এবং পরিমিতিবোধ সম্পন্ন উপস্থাপনার জন্য রুমানা মালিক মুনমুনকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই আলোচনা করছেন। বাংলা চলচ্চিত্র নামের একটি গ্রুপ পেইজে রহমান মতি নামের একজন রুমানা মালিক মুনমুনকে নিয়ে একটি পোস্ট করার পরেই শুরু হয় তুমুল আলোচনা। রহমান মতি লিখেছেন, ‘‘আজকাল উপস্থাপনাটা সস্তা হয়ে গেছে। লাউ প্রিয় না টমেটো প্রিয় এ সমস্ত প্রশ্ন পর্যন্ত ইন্টারভিউতে উপস্থাপকরা করেন, ব্যক্তিগত জীবনের বিব্রতকর প্রশ্ন তো আছেই। মুনমুনকে কখনো এগুলো বলতে দেখিনি। জনপ্রিয় ‘আমার আমি’ অনুষ্ঠানের নিয়মিত উপস্থাপক ছিলেন মুনমুন। হুমায়ুন ফরীদি-র পর্বে তাকে ভদ্রভাবে আগে থেকে জিজ্ঞেস করে বলেছিল-‘আমি কি সুবর্ণা মুস্তাফাকে নিয়ে কোনো প্রশ্ন করতে পারব?’- ফরীদি বলেছিলেন ‘না’। মুনমুন আর কোনো প্রশ্ন করেননি। এই যে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি এত সুন্দর কার্টেসি আজকাল উপস্থাপনায় দেখা যায় না। মুনমুনের ভয়েস আর হাসিও তার উপস্থাপনার সৌন্দর্য ছিল।’ ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে একজন লিখেছেন, ‘‘এখনকার উপস্থাপনা দেখলে আমার মুনমুন ম্যাম এর কথাই মনে পড়ে, কি সুন্দর ভদ্রতা, বাচনভঙ্গি, কাউকে বিন্দুমাত্র ছোট না করে উপস্থাপনা করা, এছাড়াও তখনকার যারা ছিলো সবাই ভালোভাবে প্রশ্ন করতো, এখনকার সবতো কত নোংরা প্রশ্ন করা যায় সে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।’’ মো. জেহাদ নামের একজন লিখেছেন, ‘‘উনি যাদের ইন্টারভিউ নিয়েছেন বর্তমান সময়ের উপস্থাপক/উপস্থাপিকাদের যোগ্যতা নেই তাদের সামনে বসার। এখনকার উপস্থাপকরা তো লিজেন্ডদের সামনেও পা তুলে বসে আর প্রশ্ন করে আপনার মাসিক ইনকাম কতো।’’ তবে মুনমুন যেসব তারকাদের সাক্ষাৎকার নিতেন তারা ছিলেন উঁচুমানের শিল্পী, সে কথাও বলছেন নেটিজেনরা। একজন লিখেছেন, ‘‘এখানে আরেকটা বিষয় আছে। ওই সময়ের সেলিব্রেটিরাও এখনকার সেলিব্রেটিদের মতো ছিলেন না। এখন তো টিকটকাররাও সেলিব্রিটি তাই প্রশ্ন ও তেমন ই আসে।’’ নেটিজেনদের অনেকেই মুনমুনকে উপস্থাপনায় আবারও দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দীপিকার শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন রোগ, সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত স্বামী

দীপিকার শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন রোগ, সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত স্বামী কোলের সন্তান এখনও স্তন্যপান করেন। মাকে ছাড়া যেন একমুহূর্তও চলে না একরত্তির। মাতৃত্ব নিয়ে যখন ব্যস্ত হিন্দি টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা কক্কর, ঠিক সেই সময় তার জীবনে ঝড়! অভিনেত্রীর শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন রোগ। লিভার টিউমারে আক্রান্ত তিনি। ভক্তদের সেই দুঃসংবাদ জানালেন দীপিকার স্বামী শোয়েব ইব্রাহিম। এমন পরিস্থিতিতে ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে চিন্তিত তিনি। শোয়েব ইব্রাহিম বলেন, “দীপিকা ভালো নেই। আমার মনে হয় পেটে কোনও সমস্যা হয়েছে। যখন আমি চণ্ডীগড়ে ছিলাম তখন ওর পেটে ব্যথা শুরু হয়। আমরা ভেবেছিলাম, হয়তো অম্বলজনিত সমস্যা। কিন্তু ব্যথা কিছুতেই যখন কমছে না তখন পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান দীপিকা। পারিবারিক চিকিৎসক আমার বাবারও চিকিৎসা করেন। তিনি কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক দেন। বেশ কয়েকটি রক্তপরীক্ষা করাতে বলেন। ৫ মে পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক খান দীপিকা। সেই সময় তিনি সুস্থই ছিলেন। বাবার জন্মদিনের পর আবার পেটে ব্যথা শুরু হয়। এরইমধ্যে রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টও চলে আসে। যখন বোঝা যায় শরীরে কিছু একটা সংক্রমণ হয়েছে।” অভিনেত্রীর স্বামী শোয়ের আরও বলেন, “আবার চিকিৎসকের কাছে যাই। চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করাতে বলেন। জানা যায় দীপিকা পেটের বাঁ দিকে একটি টিউমার হয়েছে। এটা টেনিস বলের মতো আকারের হয়ে গেছে, যা শুনে আমরা অবাক হয়ে যাই।” বলে রাখা ভালো, এখনও বেশ কয়েকটি রিপোর্ট হাতে পাওয়া বাকি অভিনেত্রী। ওই রিপোর্টে আরও কোনও দুঃসংবাদ রয়েছে কিনা, তা ভেবেই চিন্তিত শোয়েব। চিকিৎসক যদিও দীপিকাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবুও তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা কমছে না স্বামী শোয়েবের। হিন্দি ছোট পর্দার চেনা মুখ দীপিকা। প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। ২০১৮ সালে শোয়েব ইব্রাহিমের সঙ্গে ভোপালে গাঁটছড়া বাঁধেন অভিনেত্রী। বিয়ের পর থেকে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। কোলের সন্তান ছোট্ট রুহানকে নিয়ে সুখের সংসার তাদের। তারই মাঝে এই দুঃসংবাদে স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ অনুরাগীদের।