হুমায়ুন ফরীদিকে হারানোর ১৩ বছর

হুমায়ুন ফরীদিকে হারানোর ১৩ বছর চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের শক্তিমান অভিনেতা ছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। বসন্তের রঙে বিষাদ ছড়িয়ে না ফেরার দেশে চলে যান এই কিংবদন্তি। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুনে ৬০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। দেখতে দেখতে তার চলে যাওয়ার ১৩ বছর কেটে গেলো। তিন দশকেরও বেশি সময় মঞ্চ, টেলিভিশন আর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে রং ছড়িয়েছেন নন্দিত ও বরেণ্য এই অভিনেতা। হুমায়ুন ফরীদির দেহ বিদায় নিলেও তার স্মৃতি এখনও ভক্তদের চোখ অশ্রুসিক্ত করে। ১৯৫২ সালের ২৯মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মেছিলেন হুমায়ুন ফরীদি। তার বাবার নাম এটিএম নুরুল ইসলাম, মায়ের নাম বেগম ফরীদা ইসলাম। চার ভাই-বোনের মধ্যে ফরীদি ছিলেন দ্বিতীয়। ১৯৭০ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে ভর্তি হন স্নাতক করতে। পরের বছর ১৯৭১ সালে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন হুমায়ুন ফরীদি। সেখানেই তার অভিনয় প্রতিভার বিকাশ ঘটে। সেলিম আল দীনের কাছে নাট্যতত্ত্বে দীক্ষা নেন তিনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই সদস্যপদ পান ঢাকা থিয়েটারের। এই নাট্যদল থেকেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার অভিনয়ের রঙগুলো। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নাট্য সম্পাদক। ঢাকা থিয়েটারের ‘শকুন্তলা’, ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘কীর্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’র মতো মঞ্চনাটকে অভিনয় করে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন ফরীদি। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সদস্য হিসেবে গ্রাম থিয়েটারের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘নীল নকশার সন্ধ্যায়’ ও ‘দূরবীন দিয়ে দেখুন’ নাটকে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’কে কানকাটা রমজান চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যান। তার পরিচালিত সর্বশেষ নাটক ‘তখন হেমন্ত’ এবং অভিনীত ‘পূর্ণ চাঁদের অপূর্ণতায়’। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের তালিকায় রয়েছে- ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’, ‘বকুলপুর কতদূর’, ‘দুই ভুবনের দুই বাসিন্দা’, ‘একটি লাল শাড়ি’, ‘মহুয়ার মন’, ‘সাত আসমানের সিঁড়ি’, ‘একদিন হঠাৎ’, ‘অযাত্রা’, ‘পাথর সময়’, ‘দুই ভাই’, ‘শীতের পাখি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘তিনি একজন’, ‘চন্দ্রগ্রস্ত’, ‘কাছের মানুষ’, ‘মোহনা’, ‘শৃঙ্খল’, ‘প্রিয়জন নিবাস’। তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’ সিনেমার মধ্য দিয়ে হুমায়ুন ফরীদি বড় পর্দায় নাম লেখান। নব্বই দশকে বাণিজ্যিক সিনেমার পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের ‘সন্ত্রাস’, ‘দিনমজুর’, ‘বীরপুরুষ’ ও ‘লড়াকু’ সিনেমাতে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এরপরেই দেশীয় চলচ্চিত্রে খল-নায়কের চরিত্র হিসেবে তিনি নন্দিত হন। শহীদুল ইসলাম খোকন ‘বিশ্বপ্রেমিক’, ‘অপহরণ’, ‘দুঃসাহস’সহ ২৮টি সিনেমার মধ্যে ২৫টিতেই রাখেন ফরীদিকে। এছাড়া হুমায়ুন ফরীদি ‘দহন’, ‘একাত্তরের যীশু’, ‘দূরত্ব’, ‘ব্যাচেলর’, ‘জয়যাত্রা’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘মায়ের অধিকার’, ‘অধিকার চাই’, ‘ত্যাগ’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মাতৃত্ব’ ও ‘আহা!’র মতো অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আশির দশকের শুরুর দিকে মিনুকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন ফরীদি। ২০০৮ সালে সেই সম্পর্কেরও বিচ্ছেদ ঘটে।
সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদে আমার ছেলে অবসাদে চলে যায় : নাগার্জুন

সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদে আমার ছেলে অবসাদে চলে যায় : নাগার্জুন ছেলে নাগা চৈতন্যকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন দক্ষিণী তারকা নাগার্জুন। সামান্থা প্রভুর সঙ্গে চার বছরের দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার পর কেমন থাকবেন নাগা? এই প্রশ্নই দিনরাত ভাবাচ্ছিল তাকে। যদিও শোভিতার সঙ্গে নাগার দ্বিতীয় বিয়ের পর নিশ্চিন্ত বাবা। তবে প্রাক্তন বৌমা সামান্থাকে ছেলেকে অবসাদে ফেলে চলে যাওয়ার জন্য দোষারোপ করলেন দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেতা নাগার্জুন! সামান্থার সঙ্গে নাগা চৈতন্যের বিচ্ছেদের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোপের মুখে পড়তে হয় নাগাকে। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে নাগার দ্বিতীয় বিয়ের কারণ খুঁজতে শুরু করে নেটাপাড়ার বাসিন্দারা। ২০১৭ সালে সামান্থাকে বিয়ের পর ২০২১-এ বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন নাগা চৈতন্য। এই তারকা জুটি দু’জনে মিলেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিচ্ছেদের সময় তারা জানান, দুজনের পথচলা আলাদা হয়ে গেলেও পরস্পরকে শ্রদ্ধা করবেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নাগা চৈতন্য জানান, সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা সংবাদমাধ্যমে যেভাবে আলোচনা হয়, তাতে করে নিজেকেই অপরাধী মনে হয়। অভিনেতা সাফ জানান, ‘লোকে আমাদের বিচ্ছেদের বিষয়টাকে এমনভাবে দেখছে, যেন আমি একাই দোষ করেছি।’ নাগা চৈতন্যর এমন মন্তব্যের পর এবার ছেলের কথার রেষ টেনে নাগার্জুন জানালেন, সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নাগা অবসাদে ডুবে গিয়েছিল। দক্ষিণী জনপ্রিয় এই তারকা বলেন, ‘আমার ছেলেটা খুব দুঃখে ছিল। সে কারও কাছে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে না। তবে বাবা হিসেবে আমি বুঝতাম। ও আসলে সামান্থার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর অবসাদে ডুবে গিয়েছিল। এখন ওকে ফের খুশি দেখে নিশ্চিন্ত।’এদিকে নাগার্জুনের এমন মন্তব্য ভালোভাবে নেয়নি সামান্থার অনুরাগীরা। তারা এখনও অভিনেত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য নাগা চৈতন্যকেই দায়ী করছেন।
সালমানকে নিয়ে অ্যাটলির নয়া মিশন, বাজেট ৭০০ কোটি টাকা!

সালমানকে নিয়ে অ্যাটলির নয়া মিশন, বাজেট ৭০০ কোটি টাকা! ভারতের দক্ষিণী সিনেমার তারকা পরিচালক অ্যাটলি কুমার। ২০১৩ সালে তামিল ভাষার ‘রাজা রানি’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক ঘটে। নির্মাণ ক্যারিয়ারে বেশ কিছু সিনেমা উপহার দিয়েছেন। তার মধ্যে অধিকাংশ সিনেমাই ব্যবসাসফল। এবার বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে নিয়ে নতুন মিশন শুরু করতে যাচ্ছেন অ্যাটলি। বলিউড হাঙ্গামা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘অ্যাটলি৬’ বা ‘এ৬’ সিনেমায় ভিন্ন একটি জগৎ তৈরি করার পরিকল্পনা করেছেন পরিচালক। ৫০০ কোটি রুপির (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০০ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি) বিশাল বাজেটে নির্মিত হবে সিনেমাটি। আর এতে অভিনয় করবেন সালমান খান ও রজনীকান্ত। এরই মধ্যে ভারতের এই দুই তারকার সঙ্গে কথাও বলেছেন পরিচালক অ্যাটলি কুমার। একটি সূত্র বলিউড হাঙ্গামাকে বলেন, “পুনর্জন্মের গল্প নিয়ে পিরিয়ড ড্রামা ঘরানার সিনেমা নির্মাণ করতে যাচ্ছেন অ্যাটলি কুমার। ‘এ৬’ সিনেমায় এমন একটি অদৃশ্য জগৎ তৈরির পরিকল্পনা করছেন, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। অ্যাটলির সঙ্গে নতুন কিছু আবিষ্কারের যাত্রা নিয়ে উচ্ছ্বসিত সালমান খানও। সিনেমাটির জন্য ওজন কমাতে হবে সালমান খানকে এবং নির্দিষ্ট ধরণের শারীরিক গড়ন প্রয়োজন তার।” সালমান-রজনীকান্ত ছাড়া অন্য আর কে কে অভিনয় করছেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে খুব শিগগির এ বিষয়ে জানা যাবে বলেও এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্মাণ ক্যারিয়ারে বেশ কিছু সিনেমা নির্মাণ করেছেন অ্যাটলি কুমার। তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো— ‘থেরি’, ‘মের্শাল’, ‘বিগিলি’, ‘জওয়ান’ প্রভৃতি।
শাকিব খানের পরিশ্রম অনুপ্রেরণা দিয়েছে: প্রভা

শাকিব খানের পরিশ্রম অনুপ্রেরণা দিয়েছে: প্রভা ‘‘আমি শাকিব খানের সঙ্গে একটা ফটোশুট করেছিলাম। উনি এত গুড লুকিং সামনাসামনি দেখতে! আমি তাকে বলেছিলাম ‘আপনি অনেক সুন্দর।’’-কথাগুলো বলেছেন আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছেন প্রভা। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন তিনি। এই আয়োজনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি ঢালিউড সুপারস্টারকে নিয়ে কথা বলেন। শাকিব খানের কাজ সেভাবে না দেখলেও সম্প্রতি পরপর তিনটি সিনেমা দেখেছেন প্রভা। বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি পরপর তিনবার তার সিনেমা দেখেছি। এরপর আমি উনার ভক্ত হয়ে গেছি। কারণ তার পরিশ্রমটা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। তুফান অবশ্যই, রাজকুমার দেখে মনে হয়েছে প্রচুর পরিশ্রম করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ছোট পর্দায় অভিনয় করছেন প্রভা। তার সমসাময়িক অনেকেই সিনেমায় কাজ করেছেন। এতদিনেও বড় পর্দায় কাজ না করার কারণ জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, সত্যি কথা বলতে আমার মনে হয়- সিনেমায় আমার ভাগ্য সহায় হয় না। যখন ব্যাটে-বলে মিলে যায় তারপর কেন জানি কাজটা আর হয় না। এভাবেই আমার পুরো জীবনটা গেছে। এখন আর তাই বলি না সিনেমা করব, যদি করি তখন তখন বলব। অভিনয়ের পাশাপাশি মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন প্রভা। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ‘দ্য মেকআপ একাডেমি’ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজও করছেন তিনি। তবে অভিনয়কে জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান তিনি। প্রভা বলেন, আমার ফার্স্ট ভালোবাসা অবশ্যই অভিনয়। যে কোনও ক্রিয়েটিভ কিছু আমার পছন্দ। আমি মেকআপ আর্টিস্ট এই মুহূর্তে। যে কোন মানুষকে দেখলে কথা বলার সময় তার স্ক্রিন দেখতে থাকি, কেমন। তার কোন সেডটা ভালো সেটা সারাক্ষণ মাথার মধ্যে ঘুরে। পর্দায় তারকাদের ঝলমলে জীবন উঠে আসলেও, ক্যামেরার পেছনে কষ্ট কম নয়। বিষয়টি তুলে ধরে প্রভা বলেন, আমি আমাদের কাজটাকে বলি, ‘নাইন টু ফরএভার জব’। কারণ নয়টার সময় শুটিংয়ে গেলে কখন বাসায় আসবেন তার গ্যারান্টি নাই। যারা বাইরে থেকে দেখে তারা ভাবে- এটা বিলাসবহুল জীবন! কোন কষ্ট নাই, শুধু মেকআপ দাও আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু একটা কার্যক্রম করো। কিন্তু এটা অনেক কষ্টের এবং ধৈর্যের একটা কাজ। যখনই কষ্টের মূল্যায়ন করা হয় তখন আর একটু অনুপ্রাণিত হওয়া যায়। চলছে ভ্যালেন্টাইন উইক। এ কারণে ভালোবাসা নিয়েও কথা বলেন প্রভা। তার মতে ভালোবাসার সংজ্ঞা, যে মানুষটাকে আমি ভালোবাসবো তার প্রতি যথেষ্ট পরিমাণ সম্মান আর বিশ্বাস থাকবে।
জীবন মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী

জীবন মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী জীবন মৃত্যু’র সন্ধিক্ষণে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। বর্তমানে হাসপাতালে ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিটে (আইটিইউ) চিকিৎসা চলছে তার। গেল কয়েক সপ্তাহ ধরেই এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ‘আমি বাংলায় গান গাই’র স্রষ্টা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ত্রের অপারেশনের পর হার্ট অ্যাটাক হয় গায়ক প্রতুলের। পরে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবচেতন অবস্থায় আছেন এ গায়ক। নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আর সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তার খোঁজ নেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার নির্দেশে রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেন। ইতোমধ্যেই প্রতুলের চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড থেকে সোমবার রাতেও জানানো হয়েছে, আইটিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রখ্যাত গায়ক। কয়েকদিন আগেও হাসপাতালের বিছানা থেকে চিকিৎসকদের ‘আমি বাংলার গান গাই’ গেয়ে শোনান প্রতুল। সপ্তাহখানেক আগে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, হার্ট অ্যাটাকও হয়। পরে কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয় তাকে। এ সময় ফুসফুসের সমস্যা শনাক্ত হয়। সেই সংক্রমণ ব্যাকটেরিয়া না ভাইরাস থেকে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, ১৯৪২ সালের ২৫ জুন অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন প্রতুল। বাবা প্রভাতচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। দেশভাগের সময় পরিবারের সবাই ভারতে পাড়ি জমান। শৈশব কাটিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চুঁচুড়ায়। ছোটবেলা থেকেই নিজের লেখা গান সুর করতেন। তার অনেক অনবদ্য সৃষ্টির মধ্যে বিশেষভাবে সমাদৃত ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানটি।
অভিনয়ে নায়ক ইমনের স্ত্রী

অভিনয়ে নায়ক ইমনের স্ত্রী অনেক আগে বাস্তব জীবনে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন মডেল-অভিনেতা মামনুন ইমন। তার স্ত্রী আয়েশা ইসলাম আশা সবসময় শোবিজ অঙ্গন থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। এবার নাম লেখালেন শোবিজে। ইমন তার স্ত্রী আশার সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করলেন। এর মাধ্যমে অভিনয়ে নাম লেখালেন আয়েশা। হারলেনের এই ওভিসির শুটিং সম্প্রতি শেষ হয়েছে। স্ত্রীর সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইমন বলেন, “এটি একটি অনন্য এবং স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল আমার জন্য। স্বামী-স্ত্রী মিলে কাজ করেছি। রোমান্টিক গল্পের বিজ্ঞাপন। আশা করছি, দর্শকদেরও এটি ভালো লাগবে।” স্বামী ইমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আশা বলেন, “ইমন সাহস জুগিয়েছে তাই কাজটি করতে পারলাম। আমার জন্য এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা। দেখার অপেক্ষায় আছি কেমন ফিডব্যাক আসে।” খুব শিগরি বিজ্ঞাপনটি দেশের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হবে বলে জানিয়েছেন ইমন। মামনুন ইমন তার ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতে পছন্দ করেন। ২০০৮ সালে আয়েশাকে বিয়ে করেন তিনি। সাত বছর পর বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
অভিনয় ছেড়ে বিদেশে, কী বললেন পারসা ইভানা?

অভিনয় ছেড়ে বিদেশে, কী বললেন পারসা ইভানা? ছোট পর্দার অভিনেত্রী পারসা ইভানা। বিশেষ করে তরুণদের মাঝে তুমুল আলোচিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিক নাটক দিয়ে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছেন করেছেন তিনি। সেখানে ইভা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এরপর নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করে যাচ্ছেন। তবে সম্প্রতি একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেছিলেন পারসা ইভানা। সেখানে এই তারকা দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘যদি কখনও অভিনয় বন্ধ করে দেন তাহলে তার কোন বিষয় মিস করবে?’ এরপর থেকেই অনেকের প্রশ্ন, তাহলে কী অভিনয় ছেড়ে দেবেন পারসা ইভানা? প্রসঙ্গটি নিয়ে একটি টেলিভিশন টকশোতে কথা বলেন ছোট পর্দার এই অভিনয়শিল্পী। তার কথায়, অভিনয় ছাড়ার বিষয়টা ঠিক না, একটু আবেগের বসে বলেছিলাম। আমার কাছে মনে হয় একজন অভিনেত্রী খুব কম সুযোগ-সুবিধা পায়। খুব কম ভালো কাজের স্ক্রিপ্ট আসে আমার কাছে। যেহেতু আমার মা দেশের বাইরে থাকে, আম্মুরও ইচ্ছে আমি যাতে চলে যাই। কিন্তু আমি যাচ্ছি না, কারণ এই জায়গাটার প্রতি অনেক সফট কর্নার আছে। ওইটা চিন্তা করে আমি ইমোশনাল হয়ে যাই। যদি কখনও আমার অভিনয় ছেড়ে দিতে হয়, আমার মনে হয় অনেক বেশি ডিপ্রেশন পরে যাব। সেই অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ইভানাকে প্রশ্ন করেন- যদি কখনও অভিনয় ছেড়ে দেন সেক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো মিস করবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে পারসা ইভানা বলেন, শুটিং সেটে যাওয়া, স্ক্রিপ্ট পড়া, সহ-শিল্পীদের মিস করা, নির্মাতাদের মিস করা। আমার মনে হয় আমি অভিনয় ছাড়া কিছু পারি না। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন চরিত্রে পর্দায় নিজেকে মেলে ধরেছেস পারসা ইভানা। তবে তার ইচ্ছে বাস্তবধর্মী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে পর্দায় নিজেকে দেখার। এই অভিনেত্রী ভাষ্য, একটা সময় ইচ্ছা ছিল এ ধরণের কিংবা ওই ধরণের চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে ছোট পর্দায় অনেক চরিত্র এক্সপ্লোর করে ফেলেছি। তবে এখন যেসব কন্টেন্ট হচ্ছে দেশের বাইরে নেটফ্লিক্সে, অনেক রিয়েলিস্টিক কাজ হচ্ছে, আমি চাই এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে। যেমন, আলিয়া ভাট গাঙ্গুবাই করেছিল। যদি কখনও সুযোগ পাই করা হবে। ব্যক্তিজীবনে অনেকটাই সাধারণ পারসা ইভানা। তার কথায়, আমি সাধারণ মানুষের মতো চলাচল করি। প্রতিদিন রিক্সা করে বের হয়ে ঘুরাফেরা করি, ঝালমুড়ি খাই, ফুচকা খাই। সাধারণ জীবন আমি খুব পছন্দ করি। এদিন রান্নায় কতটা পারদর্শী সে বিষয়েও কথা বলেন পারসা ইভানা। তিনি বলেন, আমার আম্মু অনেক ভালো রান্না করে। ছোটবেলা থেকেই যেখানেই বেড়াতে যেতাম, যার বাসায় হোক কারও হাতে রান্না খেতাম না। আম্মুকে বলতাম ‘তোমাকে রান্না করতে হবে, না হলে আমি যাব না’। এখনতো বড় হয়ে গেছি, অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। তবে সেই জায়গা থেকে রান্নার প্রতি আমার তেমন ফেসিনেশন নেই। সবাইকে দিয়ে সব কিছু হয় না, হয়তো রান্নাটা আমার জন্য না। তবে আমার বন্ধুদের জন্য মাঝে মাঝে রান্না করি, তারা বলে ‘মজা হয়েছে’। আমার করা কালাভুনা বেশি ভালো হয়, একবার রোস্ট করেছিলাম সেটাও নাকি ভালো হয়েছিল। এদিকে, সবশেষ ‘প্রাকৃতজন’ নাটকে দেখা গেছে পারসা ইভানাকে। ভিকি জাহেদ পরিচালিত সাসপেন্স, থ্রিলারধর্মী এই এই নাটকে মিতা চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। এতে তার বিপরীতে জাকির চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাসার। এর গল্পে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট করা একজন ব্যাচেলর চাকুরীজীবি জাকির। চট্টগ্রাম থেকে মিতা নামের এক অসহায় মেয়ে পালিয়ে আসে। এরপর পরিচয় হয় জাকিরের সঙ্গে। মেয়ের বিপদের কথা শুনে তাকে নিজের বাসায় থাকতে দেন। মেয়েটিকে পছন্দ করতে শুরু করে জাকির কিন্তু তার মাথায় সারাক্ষণ পরকীয়ার ভয় ভর করে থাকে। একটা সময়ে সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েটিকে বিয়ে করবে। এরপরই ঘটে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এরপর নানা ঘটনায় এগিয়ে যায় নাটকটি।
সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা, বিয়ের পিঁড়িতে বসে প্রশংসায় ইনফ্লুয়েন্সার

সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা, বিয়ের পিঁড়িতে বসে প্রশংসায় ইনফ্লুয়েন্সার একটা সময় নারীর কালো-ঘন চুল নিয়ে কবি সাহিত্যিকেরা কতই না কবিতা-উক্তি লিখে গেছেন। বলা হয়, নারীদের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী অলংকার চুল। কিন্তু এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ রীতিমতো পাল্টে দিলো সৌন্দর্যের সংজ্ঞা! চুল ছাড়াও ফুটে উঠতে পারে নারীর সৌন্দর্য, তা দেখিয়ে দিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত আমেরিকান মেকআপ আর্টিস্ট নীহার সচদেভা। ইনস্টাগ্রামে ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত নীহার। তার রয়েছে অসংখ্য অনুসারী সংখ্যা। তার দেখানো ফ্যাশন সেন্সের ওপর ভক্ত নেটিজেনরা। এবার নিজের কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন নীহার। আদতে, ছবিগুলো তার বিয়ের। আর সাধারণের মতো নজরকাড়া পোশাক-গহনা পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তিনি। আর তা দেখেই নীহারের সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন তার অনুরাগীরা। নীহার পরনে ছিল ভারী কাজের লেহেঙ্গা। শরীর জুড়ে কুন্দনের গহনা, মাথার ওপর থেকে বুক পর্যন্ত ভেল ঝুলছে— এমনই সাজে বিয়ের মণ্ডপে প্রবেশ করেন নীহার। সেখান থেকে চোখ আটকে যায় তার টিকলিতে। চুল ছাড়া কোনো মাথায় টিকলিটি যেন আলাদা সৌন্দর্য এনে দিয়েছে! খুব উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বরকে নিয়ে বিয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন নীহার। আর সেই মুহূর্তগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই নীহারের রূপে মুগ্ধ নেটিজেনরা; সঙ্গে তার এমন সাহসীকতার তারিফের পাশাপাশি সম্মানও জানান তারা। মূলত অ্যালোপেশিয়া রোগে আক্রান্ত নীহার। জন্মের মাত্র ছয়মাস বয়সে বিরল এই অসুখ ধরা পড়ে তার। তাই চিকিৎসা হাতে নিলেও আলোর মুখ দেখেনি। প্রথমে তার মাথার এক অংশ থেকে চুল পড়া শুরু হয়। ধীরে ধীরে পুরো মাথায় ছেয়ে যায়। এরপরও এসব কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি নীহারের। ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সিং চালিয়েছেন নিজের গতিতেই। সাহস করে সেই মাথাতেই পরলেন টিকলি, বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে। এবার জীবনের নতুন অধ্যায়ের পদাপর্ণে শুভকামনা জানাতে ব্যস্ত নীহারের অনুরাগীরা।
সোনু সুদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

সোনু সুদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আর্থিক দুর্নীতি মামলায় নামা জড়ালো বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সোনু সুদের। তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন ভারতের পাঞ্জাবের লুধিয়ানার এক আদালত। সম্প্রতি লুধিয়ানা আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়। যেখানে রাজেশ খান্না নামের এক আইনজীবী একটি আর্থিক জালিয়াতির বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জানা গেছে, মোহিত শুক্লা নামের এক ব্যক্তি ‘রিজিকা কয়েন’ নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পে ১০ লাখ রুপি বিনিয়োগ করতে বলেন। সেই মামলায় সোনুকে আদালতে সাক্ষী দেওয়ার জন্য তলব করা হয়। কিন্তু তিনি আদালতে হাজিরা দিতে যাননি। পরে বিচারক তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোনু। তিনি জানান যে, এই মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক বা সংযোগ নেই। ইতোমধ্যেই আইনজীবীর মাধ্যমে যা করণীয়, করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বিবৃতি দেবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা। এও স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিনিয়োগের তিনি ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নন। কোনোভাবে যুক্তও নন। অভিনেতার মতে, অপ্রয়োজনীয় কারণে, শুধু সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক যে তারকারা সফট টার্গেটে পরিণত হয়েছে, আমরা এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব। তবে গ্রেপ্তার হতে পারেন- এমন খবরে উদ্বেগে রয়েছেন অভিনেতার ভক্তরা। করোনা মহামারির সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সোনু। কেউ কেউ তাকে ‘গরিবের মসিয়ে’ বলেও সম্বোধন করেন।
পরীমণির জামিনদার তরুণ গায়ক

পরীমণির জামিনদার তরুণ গায়ক নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিনের মাথায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুনাইদ তাকে জামিন দেন। গায়ক শেখ সাদী হয়েছেন পরীমণির জামিনদার। বিষয়টি নিশ্চিত করে পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, আদালতে পরীমণি আসতে না পারায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পরীমণিকে খবরটি জানান। এরপর পরীমণি সিদ্ধান্ত নেন, সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন। ওইদিন তিনি আদালত থেকে জামিনও পেয়ে যান। নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, আদালতের জামিন আদেশের পর পরীমণির জামিননামা লেখা হয়। আমি জামিনদার হয়েছি। আরেকজন জামিনদার হয়েছেন শেখ সাদী। জামিননামাটি আদালতে জমাও দিয়েছি। জামিনদার হয়ে শেখ সাদী আদালতে শুরু থেকে পরীমণির সঙ্গে ছিলেন। পরীমণির জামিনদার হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ সাদী বলেন, পরীমণি আমার সহকর্মী। যখন তিনি গণমাধ্যমে পরীমণির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর শুনলেন, তখন বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তখন পরীমণির সঙ্গে কথা হয়। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। এ জন্য আমিও আজ আদালতে আসি। জামিন হওয়ার পর তার আইনজীবী একজন জামিনদার হন। আমিও আরেকজন জামিনদার হলাম। শেখ সাদী জানান, একই অঙ্গনে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে পরীমণির সঙ্গে বেশ আগেই পরিচয় হয়েছিল। তখন থেকে পেশাগত বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা হয়। তরুণ গায়ক শেখ সাদীর বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান রয়েছে। ইউটিউবে এসব গানের ভিউ কোটি পার হয়েছে। শেখ সাদীর জামিনদার হওয়া প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমণি বলেন, হঠাৎ করে আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম বলে গতকাল আদালতে যেতে পারিনি। যখন শুনলাম, আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটি যখন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, তখন আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে আমার বন্ধুবান্ধবরা আমাকে সাহস জুগিয়েছে। শেখ সাদীও আমার সহকর্মী। তার সঙ্গেও গতকাল কথা হয়। আজ আদালতে শুনানির সময় সে ছিল। জামিন পাওয়ার পর আইনজীবী জামিনদারের পাশাপাশি স্থানীয় একজন জামিনদারের প্রয়োজন হয়। শেখ সাদী তখন জামিননামায় স্বাক্ষর করে। মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার আদালতে নালিশি মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৮ জুন পরীমণি ও তার সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন। রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি তাকে ডাক দেন। পরে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি হত্যাচেষ্টার জন্য একটি গ্লাস ছুড়ে মারেন, যা তার মাথায় ও বুকে লাগে। এদিকে ২০২১ সালের ৮ জুন সাভারের বিরুলিয়ায় ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে পরীমণি ব্যবসায়ী নাসিরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তিন আসামির বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৮ মে অভিযোগ গঠন করেন। পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত বলেন, মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এ। মামলাটিও সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।