মারা গেছেন অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী স্যালি কার্কল্যান্ড

মারা গেছেন অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী স্যালি কার্কল্যান্ড অস্কার মনোনীত মার্কিন অভিনেত্রী স্যালি কার্কল্যান্ড মারা গেছেন। গতকাল ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পাম স্প্রিংসে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন হলিউডের সহকর্মীরা ও ভক্তরা। অভিনেত্রীর মুখপাত্র মাইকেল গ্রিন সংবাদমাধ্যমকে তার মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত অক্টোবরে গোসল করার সময় পড়ে গিয়ে পাঁজর ও পায়ে আঘাত পান স্যালি। এরপর হাড়ের সংক্রমণ রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়ে, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। পাশাপাশি তিনি স্মৃতিভ্রংশজনিত (ডিমেনশিয়া) সমস্যায়ও ভুগছিলেন। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া স্যালি কার্কল্যান্ড অভিনয়জীবন শুরু করেন অফ–ব্রডওয়ে প্রোডাকশন ও অ্যাভান্ট–গার্ড থিয়েটারের মাধ্যমে। ১৯৮৪ সালে ‘ফেইটাল গেমস’ সিনেমায় প্রথমবার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। তবে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় ১৯৮৭ সালের ‘আনা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এই ছবির জন্য তিনি অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান এবং গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার জেতেন। ‘আনা’ ছাড়াও স্যালি কার্কল্যান্ড অভিনয় করেছেন ‘জেএফকে’, ‘ব্রুস অলমাইটি’, **‘হোপ ফর দ্য হলিডেজ’**সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে। পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন সিরিজেও নিয়মিত অভিনয় করতেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে স্যালি কার্কল্যান্ড হলিউডে ‘ঝলমলে স্বর্ণকেশী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন—তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি ও বহুমাত্রিক অভিনয় তাঁকে আজও স্মরণীয় করে রেখেছে।

ধর্মেন্দ্রর ‘মৃত্যুর’ খবরে হেমা মালিনীর ক্ষোভ প্রকাশ

ধর্মেন্দ্রর ‘মৃত্যুর’ খবরে হেমা মালিনীর ক্ষোভ প্রকাশ বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও প্রযোজক ধর্মেন্দ্র সিং দেওল ‘মারা গেছেন’ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহধর্মিণী হেমা মালিনী। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‌‘যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য! দায়িত্বশীল গণমাধ্যমগুলো কীভাবে একজন ব্যক্তি যিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন তার সম্পর্কে মিথ্যা খবর ছড়াতে পারে? এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। অনুগ্রহ করে পরিবার ও তাদের গোপনীয়তার প্রয়োজনীয়তার প্রতি যথাযথ সম্মান জানান।’ শ্বাসকষ্টের কারণে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি আছেন ধর্মেন্দ্র। এরমধ্যেই হঠাৎ প্রবীণ এই অভিনেতার মৃত্যুর ভুয়া খবর স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর সংবাদটি মিথ্যা বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে এশা দেওল। তিনি জানিয়েছেন, বাবা সুস্থ হয়ে উঠছেন। মিডিয়ায় বাবার মৃত্যুর খবরে ক্ষুব্ধ এশা দেওল ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লেখেন, ‘মিডিয়াগুলো অতিরিক্ত প্রচারণা চালাচ্ছে। মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমার বাবা স্থিতিশীল। সুস্থ হয়ে উঠছেন। আমরা সকলকে আমাদের পারিবারিক গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করছি। বাবার দ্রুত আরোগ্যের প্রার্থনার জন্য ধন্যবাদ।’

‘জীবনকেই বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না’- ব্ল্যাকপিঙ্কের রোজ

জীবনকেই বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না- ব্ল্যাকপিঙ্কের রোজ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের রেকর্ড অব দ্য ইয়ার বিভাগে মনোনয়ন পাওয়া শিল্পীদের নাম ঘোষণার সময় টিভির পর্দায় নিজের নাম শুনতেই আনন্দে ফেটে পড়েন কোরিয়ান পপ তারকা ব্ল্যাকপিঙ্ক ব্যান্ডের রোজ। আপ্লুত হয়ে রোজ বলেই দিলেন, ‘আমি আমার জীবনকেই বিশ্বাস করে উঠতে পারছি না! সবকিছু বুঝে উঠতে এখনো সময় লাগছে।’ গত ৭ নভেম্বর ঘোষিত গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মনোনয়ন তালিকায় শুধু এক বিভাগে নয়, রোজের নাম উঠে এসেছে তিন বিভাগে। রেকর্ড অব দ্য ইয়ার, সং অব দ্য ইয়ার এবং বেস্ট পপ ডুয়ো/ গ্রুপ পারফরম্যান্স বিভাগে জায়গা পেয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে কে-পপ তারকা হিসেবে বিশ্বে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন রোজ। তিনিই গ্র্যামিতে মনোনয়ন পাওয়া দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী শিল্পী। আর তার এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে তার ‘আপাতে’ গান দিয়ে। গানটিতে রোজের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ব্রুনো মার্স। গত বছর প্রকাশ পাওয়া রোজের প্রথম একক অ্যালবাম ‘রোজি’তে ছিল গানটি। প্রকাশের পর থেকেই ইউটিউব থেকে বিলবোর্ডের টপ লিস্ট—সবখানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে স্থান করে নেয় আপাতে। ফলে রোজে যে এবার গ্র্যামিতে মনোনয়ন পেতে পারেন, এ জল্পনা ছিল বছরজুড়ে। অবশেষে সে ধারণাই সত্যি হয়ে ধরা দিল। ব্যাড বানি, সাবরিনা কার্পেন্টার, দোয়েচি, বিলি আইলিশ, লেডি গাগা, কেনড্রিক লামারদের পেছনে ফেলে রোজে যদি এবার সত্যিই গ্র্যামি জিতে যান; তাহলে সেটা হবে কে-পপের ইতিহাসে আরেকটি বড় অর্জন।

‘কফি উইথ করণে’ কোহলিকে কখনো আমন্ত্রণ জানাননি করণ

  ‘কফি উইথ করণে’ কোহলিকে কখনো আমন্ত্রণ জানাননি করণ ভারতের জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’–এ কেন কখনো দেখা যায়নি দেশের অন্যতম বড় ক্রীড়া তারকা বিরাট কোহলিকে, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের কৌতূহল। অবশেষে সেই রহস্যের জট খুললেন শো-এর হোস্ট ও খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর। সম্প্রতি সানিয়া মির্জার পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করণ জানান, ২০১৯ সালে ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও কেএল রাহুলকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর তিনি আর কোনো ক্রিকেটারকে শোতে আমন্ত্রণ জানানোর ঝুঁকি নেননি। আর সেই কারণেই বিরাট কোহলিকেও কখনো ডাকেননি। ২০১৯ সালের সেই পর্বে হার্দিক ও রাহুল কয়েকটি অশালীন ও নারী-বিদ্বেষী মন্তব্য করেন, যা মুহূর্তেই চরম সমালোচনার জন্ম দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া, জনমতের চাপ, এমনকি বিসিসিআইয়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় দুই ক্রিকেটারই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। পরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন তারা, আর পর্বটি সরিয়ে দেওয়া হয় ডিজনি+ হটস্টার থেকে। ওই ঘটনার দায় নিজের ওপর নিয়েই করণ বলেন, ‘আমি বিরাটকে কখনো আমন্ত্রণ জানাইনি। হার্দিক+রাহুলের ঘটনার পর আমি আর কোনো ক্রিকেটারকে ডাকতে চাইনি। অনেকেই আছেন, যাদের আসার সম্ভাবনাই ছিল না, তাই কখনো চেষ্টা করিনি।’ সানিয়ার সঙ্গে আলাপচারিতায় করণ আরো জানান যে, ২০১৯ সালের ঘটনার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আঘাত পেয়েছিলেন। তার ভাষায়, ‘আমার সত্যিই খারাপ লেগেছিল। ওরা যা বলেছিল, সেটা যে এত বড় বিতর্কে রূপ নেবে, তা আমি ভাবিনি। শো হোস্ট করার দায়বদ্ধতা সম্পর্কে তখনই বড় শিক্ষা মিলেছে।’

ভাইয়ের অপেক্ষায় নিদ্রাহীন সেলিনা জেটলি

ভাইয়ের অপেক্ষায় নিদ্রাহীন সেলিনা জেটলি বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। তার ভাই বিক্রান্ত কুমার জেটলিকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক বছরের বেশি সময় ধরে আবুধাবিতে আটক রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মেজর বিক্রান্ত কুমার জেটলি। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সেলিনা। ভাইয়ের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন এই অভিনেত্রী। সেলিনা জেটলি তার ইনস্টাগ্রামে অভিনেত্রী বলেন, “আমার ডাম্পি, আশা করি তুমি ভালো আছো, আশা করি তুমি জানো আমি তোমার পাশে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছি। আশা করি তুমি জানো, আমি একরাতও তোমার জন্য না কেঁদে ঘুমাতে পারি না।” ভাই বিক্রান্তের দেশে ফেরার অপেক্ষায় সেলিনা। এ অভিনেত্রী বলেন, “তুমি জানো, তোমার জন্য আমি সবকিছু ত্যাগ করতে পারি। আশা করি তুমি জানো, আমাদের মাঝে কেউ কখনো আসতে পারবে না। আশা করি তুমি জানো, আমি কোনো প্রচেষ্টা বাকি রাখিনি। আশা করি, ঈশ্বর তোমার ও আমার প্রতি দয়া দেখাবেন। আমার ভাই, তোমার অপেক্ষায় আছি।” যথাযথ আইন ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াই মেজর বিক্রান্ত জেটলিকে আবুধাবিতে আটক রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে জেটলির পরিবার। জেটলি পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন রাঘব কাক্কর। রাঘব কাক্কর বলেন, “সরকার একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছেন, যাতে আবেদনকারী ও তার ভাইয়ের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন সহজ হয়, কার্যকর আইনগত সহায়তা প্রদান করা যায় এবং মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আমাদের আপডেট দেওয়া হয়…। এই পদক্ষেপগুলো তার মুক্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। এটি ভারত ও ইউএই-এর সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে।” দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে নোডাল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সেলিনা জেটলির পক্ষ থেকে আইনজীবী রাঘব কাক্কর ও মাধব আগরওয়াল উপস্থিত থাকবেন। পরিবারের তথ্যমতে, অবসরপ্রাপ্ত মেজর বিক্রান্ত কুমার জেটলি চতুর্থ প্রজন্মের সেনা কর্মকর্তা। বিশেষ বাহিনীতে (স্পেশাল ফোর্সেস) কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বিক্রান্তকে আটক করা হয়। ২০০১ সালে ‘জানশীন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় সেলিনা জেটলির। অভিনয় ক্যারিয়ারে বেশ কিছু সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথে আকস্মিকভাবে বিয়ে করেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া। তারপর অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন ৪৩ বছর বয়সি এই নায়িকা।

‘যেকোনো সম্পর্কে মতবিরোধ হওয়াটা জরুরি’

‘যেকোনো সম্পর্কে মতবিরোধ হওয়াটা জরুরি’ ভারতীয় বাংলা সিনেমার দাপুটে অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। ব্যক্তিগত জীবনে ছোট পর্দার অভিনেত্রী অপরাজিতা ঘোষের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন এই অভিনেতা। অবসর পেলেই স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন এই যুগল। বিলাসবহুল ভাবে সময় কাটানো নয়, বরং পরস্পরের সঙ্গে সময় কাটানোই এই দম্পতির মূল উদ্দেশ্য। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঋত্বিকের স্ত্রী অপরাজিতা ঘোষ। এ আলাপচারিতায় স্বামীর সঙ্গে তার রসায়ন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকের ‘কমলিনী’। ধারাবাহিকের কমলিনীর মতোই বাস্তব জীবনেও সংসার আগলে রেখেছেন এই অভিনেত্রী। অপরাজিতা ঘোষ বলেন, “ঋত্বিকের সঙ্গে আমার সম্পর্কের ফাউন্ডেশন বন্ধুত্বের। অনেক বছর আগে আমরা বন্ধু ছিলাম, মাঝে আমাদের বিয়ে হয়েছে ঠিকই, এখনো আমরা বন্ধু। আশা করি, আগামী দিনেও এই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের চেয়ে এগিয়ে থাকবে।” ব্যাখ্যা করে অপরাজিতা ঘোষ বলেন, “ব্যাপারটা খুব কঠিন তা কিন্তু নয়। এটা আমাদের সহজাত ধর্ম। ২৪ ঘণ্টা একটা মানুষের সঙ্গে থাকার পর আবার সেই মানুষটার সঙ্গেই আমার থাকতে ইচ্ছা করে। এই মানুষটার সঙ্গে আমি ভীষণ বুড়ো হতে চাই। কার কী হয় জানি না, তবে আমাদের এমনটাই লাগে।” স্বামী ঋত্বিকের সঙ্গে মনোমালিন্যর কথা স্বীকার করে অপরাজিতা ঘোষ বলেন, “অন্য যেকোনো দম্পতির মতো আমাদের মধ্যেও কথা কাটাকাটি হয়, মতবিরোধ হয়। এটা স্বাস্থ্যকর। যেকোনো সম্পর্কে মতবিরোধ হওয়াটা জরুরি। এটা ভীষণ স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তবে তার মানে এই নয় যে, আমরা একে অপরের মতকে সম্মান করি না। আমরা নিজেদের মতামত বলি এবং তারপর মাঝামাঝি একটা জায়গায় আসি। অনেক সময় এমনও হয় যে, আপনাদের একে অপরের মতই ঠিক বলে মনে হয়।” ২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ঋত্বিক ঘোষ ও অপরাজিতা। এ দম্পতির উপমন্যু নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা থেকে নায়ক- আরিফিন শুভ

ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা থেকে নায়ক- আরিফিন শুভ পর্দায় তারকারা যতই ঝলমলে দেখাক না কেন, পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য পরিশ্রম, হতাশা আর সংগ্রাম- শিক্ষার্থীদের মোটিভেশন দিতে এসে নিজের জীবনের সেই হতাশা আর সংগ্রামের গল্পই শোনালেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। সম্প্রতি মোটিভেশনাল ট্রেইনার ডন সামদানির একটি ইভেন্টে উপস্থিত হয়ে শুভ জানালেন, তার নায়ক হয়ে ওঠার পথ একেবারেই সহজ ছিল না। মডেলিং দিয়ে শুরু হলেও তারও আগে শুভ কাজ করতেন প্রডাকশনে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে। বিজ্ঞাপন নির্মাণের ইউনিটে পরিচালকের সহকারী হয়ে ছোটখাটো কাজ করতেন তিনি।নিজের সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নায়ক বলেন, ‘এক সময় আমি প্রডাকশনে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করতাম। মানে শুটিংয়ে ডিরেক্টর-শিল্পীদের আদেশ পালন করতাম। যেমন, এই এদিকে আয়, এই পানি দে, এই আর্টিস্টের স্যান্ডেল মোছ- এসব অর্ডার পালন করতাম।’ তারপর এক শুটিংয়ের স্মৃতি টেনে শুভ আরও বলেন, ‘একটা বিজ্ঞাপনের কাজ ছিল। সেই বিজ্ঞাপনে ডন ছিলেন মডেল আর আমি ছিলাম ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চা। কিন্তু আমার স্বপ্নটা বড় ছিল, তাই সেখান থেকে উঠে আজ আমি নায়ক হয়েছি।’মডেলিং দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আরিফিন শুভ পরে টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয় জয় করেন। ২০১৩ সালে ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। এরপর ‘ছুঁয়ে দিলে মন’, ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘ব্ল্যাক ওয়ার’সহ একাধিক সফল সিনেমায় অভিনয় করেছেন শুভ। এছাড়াও সম্প্রতি বলিউডের একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেও আলোচনায় এসেছেন অভিনেতা।

গোঁফওয়ালা নয়া লুকে শাকিবকে দেখে ভক্তদের উল্লাস

গোঁফওয়ালা নয়া লুকে শাকিবকে দেখে ভক্তদের উল্লাস একটি সুপারশপের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে পাকা রাস্তা। তার ওপরে দাঁড়িয়ে অগণিত মানুষ। কখনো শিস বাজাচ্ছেন, কখনো ‘উই লাভ শাকিব খান’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শো রুমের শাটার ধীরে ধীরে উঠছে, অপর প্রান্তে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছেন। সময়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে পুরোপুরি দেখা যায়, আর তাকে দেখেই উল্লাস করতে থাকেন উৎসুক জনতা। কারণ দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি অন্য কেউ নেন, ঢালিউড কিং শাকিব খান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। তবে শাকিব খানকে একদম নয়া লুকে দেখা যায়। গোঁফওয়ালা শাকিব খানকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন নেটিজেনরাও। দেলোয়ার নামে একজন লেখেন, “কিরে বাবা বয়স খালি কমে, বাড়ে না।” মুন্না লেখেন, “বস।” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে নেট দুনিয়ায়। কিছু দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে শাকিব খানের পরবর্তী সিনেমা ‘সোলজার’ এর লুক; যা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। সেই লুকেই শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীতে একটি সুপারশপের আউটলেট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজির হন শাকিব খান। তার যাওয়ার খবরে বনানীতে ভিড় করেন ভক্ত-অনুরাগীরা। নিঃসন্দেহে বলা যায়, ক্যারিয়ারে দারুণ সময় পার করছেন শাকিব খান। বাংলা চলচ্চিত্রের শীর্ষ এই নায়ককে নিয়ে নির্মাতা সাকিব ফাহাদ নির্মাণ করছেন ‘সোলজার’ সিনেমা। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর সিনেমাটি মুক্তি পাবে।

পরিচালকের বান্ধবী-স্ত্রী হতে চাননি বলেই দেশ ছেড়েছিলেন জয়া

পরিচালকের বান্ধবী-স্ত্রী হতে চাননি বলেই দেশ ছেড়েছিলেন জয়া অভিনয় দিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে দুই বাংলায় নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন জয়া আহসান। ঢাকার মেয়ে হয়েও কলকাতার সিনেমায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। তবে ঢালিউডে তাকে দেখা যায় তুলনামূলক কম। কেন এমনটা সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন সম্প্রতি এক পডকাস্টে। জয়া জানান, দেশে তিনি মনভরা কাজ পাচ্ছিলেন না। তাই শিল্পের প্রতি টান থেকেই কলকাতায় যাওয়া। তার ভাষায়, ‌‘তখন বাংলাদেশে আমি করতে পারি সে রকম কাজ পাচ্ছিলাম না। সেই কষ্টের জায়গা থেকে এবং শিল্পের প্রতি আমার প্যাশনের কারণেই কলকাতায় গিয়েছি। অভিনয় ছাড়া তো আমি কিছু করিনি বা পারি না। অভিনয় করতেই হতো আমাকে।’ দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে টিকে থাকতে অনেক সময় পরিচালকদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকা লাগে এমন ইঙ্গিত দিয়ে জয়া বলেন, ‘যে পরিচালকদের জন্য আমি সব সময় হাজির থেকেছি তারা আমাকে প্রোপারলি ব্যবহার করেননি। বাংলাদেশে একটা সমস্যা, পরিচালকের হয় বান্ধবী থাকে, না হয় স্ত্রী। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। এসবে আমি যাইনি, যাবও না। তাই হয়তো আমাকে কর্নারড হতে হয়েছে। কিন্তু কলকাতায় তেমন হয়নি। সেখানে আউটসাইডার হয়েও তারা আমাকে গুরুত্ব দিয়েছে, আমার জন্য গল্প লিখেছে। আমার জন্য চরিত্র তৈরি করেছে।’ নারীশিল্পীকে কেন্দ্র করে সিনেমা নির্মাণে অনীহার কথাও তুলে ধরেন জয়া আহসান। তিনি বলেন, ‘এখনও বাংলাদেশে নারীকে কেন্দ্র করে কাজ করতে ভয় পান অনেক পরিচালক। করলেও হয় তার বান্ধবীকে নেবেন, না হয় স্ত্রীকে। অথবা কোনো মেগাস্টারকে নেবেন। একজন পিওর আর্টিস্টকে নিয়ে বাজি ধরতে চান না তারা। তবে এর বাইরেও অনেক প্রতিভাবান নির্মাতা আছেন যারা আমার কাছ থেকে বা আরও গুণী শিল্পীদের কাছ থেকে ভালো কাজ বের করতে পারতেন। কিন্তু করেননি।’ সর্বশেষ জয়া আহসান অভিনয় করেছেন বাংলাদেশ ও ইরানের যৌথ প্রযোজনার ‘ফেরেশতে’ সিনেমায়। ইরানি নির্মাতা মুর্তজা অতাশ পরিচালিত ছবিটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুমন ফারুক।

আমাকে পুরস্কার দেওয়া হলে, তা ডাস্টবিনে ফেলে দেব: বিশাল

আমাকে পুরস্কার দেওয়া হলে, তা ডাস্টবিনে ফেলে দেব: বিশাল ভারতের তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা-প্রযোজক বিশাল কৃষ্ণা রেড্ডি। শিশুশিল্পী হিসেবে রুপালি জগতে পা রাখেন। পরবর্তীতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৪ সালে ‘চেলামাই’ সিনেমায় নায়ক হিসেবে পর্দায় হাজির হন। এরপর ‘সান্ডাকোঝি’, ‘তিমিরু’, ‘বেদি’-এর মতো অনেক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন। দুই দশকের বেশি সময়ের অভিনয় ক্যারিয়ারে এখনো ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি বিশাল। কয়েক দিন আগে ‘ইয়োর্স ফ্র্যাঙ্কলি বিশাল’ শিরোনামের পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই অভিনেতা। এ আলাপচারিতায় পুরস্কারের সংস্কৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার ভাষ্য—“আমাকে পুরস্কার দেওয়া হলে তা ডাস্টবিনে ফেলে দেব।” ‘চাক্রা’ তারকা বিশাল বলেন, “আমি পুরস্কারে বিশ্বাস করি না। পুরস্কার একেবারেই পাগলাটে ব্যাপার। সাত কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র চারজন মানুষ কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—কে সেরা অভিনেতা, কে সেরা সহ-অভিনেতা বা কোনটি সেরা সিনেমা হবে? এরা কি সবার বস? ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাননি, এজন্য আফসোস নেই ‘মার্ক অ্যান্টনি’ তারকার। এ তথ্য স্মরণ করে বিশাল বলেন, “আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়েও একই কথা বলছি। আমি পুরস্কার পাইনি বলে এসব কথা বলছি না। তবে জরিপ করে মানুষের মতামত নেওয়া উচিত। এটা গুরুত্বপূর্ণ। এই পুরস্কার আসলে আটজন মানুষ বসে ঠিক করে কে সেরা অভিনেতা—এটা হাস্যকর। আমি পুরস্কারে বিশ্বাস করি না; এটা বাজে ব্যাপার। আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ করে বিশাল বলেন, “আমি আয়োজকদের বলেছি, যদি আমাকে পুরস্কার দেওয়া হয়, আমি সেটা ডাস্টবিনে ফেলে দেব। যদি সেটা স্বর্ণ দিয়েও তৈরি হয়, আমি বিক্রি করে টাকাটা দান করে দেব। আমি তাদের অনুরোধ করি, আমাকে যেন পুরস্কার না দেওয়া হয়। বরং যে সত্যিকার অর্থে প্রাপ্য, তাকে দেওয়া হোক।” ব্যক্তিগত কারণে পুরস্কার গ্রহণ করেন না বিশাল। তবে এটাও স্বীকার করেন যে, অনেকেই এই স্বীকৃতি গুরুত্ব সহকারে নেন, তাই আয়োজকদের প্রতি আহ্বান, যারা পুরস্কারকে মূল্য দেন, তাদেরই যেন সম্মান জানানো হয়। উল্লেখ্য, তামিল সিনেমায় অবদানের জন্য ২০০৬ সালে বিশালকে কালাইমামানি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। জানা যায়, এ পুরস্কার তিনি গ্রহণ করেছেন। যদিও সেই মুহূর্তের কোনো ছবি খোঁজে পাওয়া যায়নি। বিশাল এখন ‘মাগুডাম’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অ্যাকশন-গ্যাংস্টার ঘরানার সিনেমাটিতে একাধিক চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করবেন দুশারা বিজয়ান। এটি পরিচালনা করছেন রবি আরাসু। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে এটি মুক্তির পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। তথ্যসূত্র: পিঙ্কভিলা