প্রিন্স মাহমুদ পঁচিশে নতুন করে দেখা দিয়েছেন

প্রিন্স মাহমুদ পঁচিশে নতুন করে দেখা দিয়েছেন ১৯৯৫ সাল থেকে এখনও নিজ মহিমায় উজ্জ্বল প্রিন্স মাহমুদ। যদিও গানের ভুবনে তাঁর পদযাত্রা শুরু হয়েছিল আরও কয়েক বছর আগে। তবে ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত মিশ্র ‘শক্তি’ অ্যালবামের মাধ্যমে সূচনা আজকের প্রিন্স মাহমুদ হয়ে ওঠা। সংগীতের মানের কাছে আপস না করার কারণে তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি হয়ে উঠেছে অনবদ্য; যা তাঁকে নিয়ে এসেছে কিংবদন্তিদের কাতারে। এ কারণে ২০২৫ সালেও নন্দিত এই গীতিকবি ও সুরকারের আয়োজন নিয়ে সংগীতপ্রেমীর কৌতূহল ছিল চোখে পড়ার মতো। এ বছরের বড় চমক ছিল একই সিনেমার জন্য এই সুরকারের একসঙ্গে চারটি ভিন্ন রকম গান তৈরির বিষয়টি। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘জংলি’ সিনেমার গানগুলোয় প্রিন্স নিজেকে উপস্থাপন করেছেন আরও নতুন ভাবে। ‘জংলি’ সিনেমার কাজ করার জন্য প্রিন্স মাহমুদের নাম ঈদজুড়ে ছিল আলোচনায়। এই আলোচনা শুরু হয়েছিল এক বছর আগে যখন ‘জংলি’ টিম ঘোষণা দেয়, ‘জংলি হবে প্রিন্স মাহমুদের সুরে’। ‘জংলি’ রিলিজ হওয়ার আগেই তাহসান ও আতিয়া আনিসার ‘জনম জনম’ গানটি আলোচনায় আসে। সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পায় ইমরান ও কনার দ্বৈত গান ‘বন্ধু গো শোনো’। এ গানটি প্রায় সবাই নব্বই দশকের সিনেমার দ্বৈত গানের আদল খুঁজে পান এবং বলেছেন, ‘অনেকদিন সিনেমায় এমন গান হয়নি’। অন্যদিকে হাবিব ওয়াহিদ প্রথমবারের মতো প্রিন্স মাহমুদের সুরে গেয়েছেন ‘যদি আলো আসত’ গানটি। এই গানও অনেকে পছন্দ করেছেন। এ ছাড়া ‘মায়াপাখি’ শিরোনামে মাহতিম সাকিবও একটা গান করেছেন, যা অনেক শ্রোতাকে আবেগে ভাসিয়ে নিয়েছে। এ কারণে ‘জংলি’র প্রচারে সিনেমার পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা-অভিনেত্রী সিয়াম, বুবলী, দীঘিসহ প্রত্যেকে প্রিন্স মাহমুদের প্রশংসায় সরব ছিলেন। যাদের কথায় এটিই স্পষ্ট, তারুণ্যে উদ্দীপ্ত পঁচিশের প্রিন্স মাহমুদ যেন নতুন করে দেখা দিয়েছেন ২০২৫ সালে। যে তারুণ্য কেবলই নতুন ও অভিনব সৃষ্টিতে মেতে ওঠার সাহস ও প্রেরণা জোগায়। এই প্রথম কোনো সিনেমায় একসঙ্গে চারটি গান তৈরি এবং তাঁর সুবাদে অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা কুড়িয়েও বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাস দেখাননি প্রিন্স মাহমুদ। তিনি আসলে এমনই। শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণ তাঁর শিল্পী সত্তাকে খুশি করলেও এ নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস, উন্মাদনা প্রকাশ করেন না। এ বিষয়টি স্বাভাবিক মেনে নিলেও সবাই অবাক হয়েছেন যে ঘোষণায় তাহলো– হঠাৎ করে সিনেমার গান তৈরির বিয়ষটিতে দাঁড়ি টেনে দেওয়ায়। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘এর মধ্যে বেশ কিছু সিনেমার কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি; যা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন না। সিনেমায় আসলে আমার নতুন কিছু দেওয়ার নেই। যে যাই বলুন সিনেমার গান নায়ক-পরিচালকের গান হয়, আমার গান হয় না। অকারণ ক্রেডিট নেওয়ার কোনো মনে হয় না। পুরোনো দিনের সুরকারদের জন্য হয়তো ঠিক ছিল কিন্তু এখন নয়। ভুল বুঝবেন না। আসলে সিনেমার কাজ এনজয় করছি না। প্রতিটি গান ঠিকঠাক করতে হবে নিজ তাগিদেই, কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না–এটি এ মুহূর্তে একটি মানসিক চাপ। নিজ খেয়ালে কাজ করা চিরকালের অভ্যাস। আমার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতিও ছিল না। তারপরও। তবে সিনেমার গান করতে গিয়ে সম্মান পেয়েছি। এটি বলতেই হবে। যোগাযোগ একদম বন্ধ রাখার পরও সর্বোচ্চ প্রচার পেয়েছি। অন্য কারও ক্ষেত্রে এমন ঘটেছে কিনা জানা নেই। এটিও চাপ। আপন আলোয় ভাবছি। রিগ্রেট নেই। যা ছেড়ে আসি, ছেড়েই আসি। যাই হোক, অডিওর গানে থাকব; যে গান আমার গান হবে। প্রিন্সের এ কথায় অনেকে হতাশ হবেন, তবু এই আশায় প্রহর গুনে যাবেন যে, একদিন না একদিন আবার তিনি ফিরবেন সিনেমার গানে। যদিও সিনেমায় গান তৈরির বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আর কিছু বলেননি প্রিন্স মাহমুদ। তবে নতুন গানের খবর ঠিকই জানিয়ে দিয়েছেন। সেখানেও থাকছে চমক। কারণ এবার তিনি গান তৈরি করছেন একাত্তর, চব্বিশ জুলাই ও বিভিন্ন সময়ের বীর শহীদদের নিয়ে; যার প্রথম গানটি প্রয়াত প্রতিবাদী তরুণ আবরার ফাহাদকে নিয়ে লেখা। একটি পোস্টে প্রিন্স লিখেছেন, ‘আবরার ফাহাদকে নিয়ে একটা গান করেছি। এটি আমার সেরা গানের একটি হতে যাচ্ছে। প্রতিটি লাইন সবার প্রিয় লাইন হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনেক বড় আয়োজনে আসছি। এখানে শেষ নয়, এই সুরকার জানিয়েছেন, আরও সাত শহীদকে নিয়ে আলাদাভাবে গান তৈরি করছেন। তাঁর কথায়, ‘কেউ কিছু করছে দেখে আমি সেটি করে ফেলি–এই ভাবনা কখনও মনের মধ্যে কাজ করে না। সময় চলে যাচ্ছে এখনই করতে হবে, এমনও নয়। কোনো কিছু শুরু করার আগে নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে কাজ করি। বেশ কিছু কমার্শিয়াল কাজ ছেড়েছি শুধু আবরার ফাহাদসহ জুলাই শহীদদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করব বলে। জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক, শহীদী মিছিলের নেতা আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনসহ ৭ জনকে নিয়ে কাজ করছি আপাতত। তাড়াহুড়ো করছি না। সংবাদের শিরোনাম হতে নয়, নিজের জন্য করেছি। তাড়না থেকে করেছি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বা উপলব্ধি থেকে বুঝি, সব গান গান হয়ে ওঠে না। এই গানগুলো গান হবে আশা করছি। ভালোবাসায় রাখবেন। এই কথার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ২০২৫ প্রসঙ্গের সমাপ্তি টেনেছেন, তেমনি আভাস দিয়ে রেখেছেন আগামী বছরেও ভিন্ন রকম করে তুলে ধরার।
থ্রি ইডিয়টসের সিক্যুয়েল নিয়ে চর্চা, নীরবতা ভাঙলেন সেই ‘রাজু’

থ্রি ইডিয়টসের সিক্যুয়েল নিয়ে চর্চা, নীরবতা ভাঙলেন সেই ‘রাজু’ গুণী নির্মাতা রাজকুমার হিরানি বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খানকে নিয়ে নির্মাণ করেন ‘থ্রি ইডিয়টস’। ২০০৯ সালে সিনেমাটি মুক্তির পর ইতিহাস রচনা করে। ২০১৬ সালে আমির খান সিনেমাটির সিক্যুয়েল নির্মাণের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। গত কয়েক দিন ধরে জোর গুঞ্জন উড়ছে, ১৫ বছর পর নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার সিক্যুয়েল। বহু প্রতীক্ষিত এই সিক্যুয়েলের চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করেছেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি। আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সিনেমাটির দৃশ্যধারণ শুরু হবে। এরপর পর থেকে ‘থ্রি ইডিয়টস’ ভক্তরা চর্চায় মেতেছেন। তবে মুখ খুলেননি আমির খান কিংবা রাজকুমার হিরানি। এবার বিষয়টি নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন সিনেমাটির অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘রাজু রাস্তোগি’ রূপায়নকারী শারমান যোশী। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারমান যোশী বলেন, “আমি সত্যিই আশাবাদী এটা হবে। কিন্তু এখনো আমাকে কিছু জানানো হয়নি।” অতীতের গুঞ্জন নিয়ে শারমান যোশী বলেন, “থ্রি ইডিয়টস’-এর সিক্যুয়েল নির্মাণ নিয়ে একাধিকবার গুঞ্জন উঠেছে। শেষবার যখন এই ধরনের খবর এসেছিল, তখন আসলে সেটা ছিল একটি বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইনের জন্য। আশা করি, এবার খবরটি সত্যি হবে।” ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমা যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই কী সিনেমাটির দ্বিতীয় পার্টের গল্প শুরু হবে? এ প্রশ্নের জবাবে শারমান যোশী বলেন, “এ বিষয়ে কিছু জানার অবস্থায় আমি নেই। সত্যি যদি সম্ভাবনা থাকে, তাহলে শুধু মাস্টার রাজু স্যার (রাজকুমার হিরানি), অভিজাত (অভিজাত যোশী, লেখক) স্যার এবং আমির এ নিয়ে কাজ করবেন।” ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করে শারমান যোশী বলেন, “আমি জিমে ছিলাম, সিক্স-প্যাক অ্যাবস বানাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই রাজু স্যারের চূড়ান্ত ফোনটা আসে। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘এখন তিন বছর পর্যন্ত তুই জিমের মুখ দেখবি না’।” ‘থ্রি ইডিয়টস’ আপনার জীবনে কী প্রভাব ফেলেছে? এ প্রশ্নের জবাবে শারমান যোশী বলেন, “আমি যখনই ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমার কথা ভাবি, তখনই আমার মুখে একটা হাসি চলে আসে। গল্পটা শোনার মুহূর্ত থেকে আজ পর্যন্ত সিনেমাটি আমার কাছে পুরোপুরি রূপকথার মতো।” পিঙ্কভিলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজকুমার হিরানি ‘থ্রি ইডিয়টস টু’ সিনেমার চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করেছেন। ২০২৬ সালে দৃশ্যধারণের কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। সিক্যুয়েলটিতে আমির খান, কারিনা কাপুর খান, আর. মাধবন ও শারমান যোশীসহ মূল অভিনেতাদের আবারো একসঙ্গে দেখা যেতে পারে। বক্স অফিসে সফল ‘থ্রি ইডিয়টস’ সিনেমা ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তি পায়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সিনেমাটি মুক্তির ১৬ বছর পূর্ণ হলো। মুক্তির পর একটি কাল্ট ক্ল্যাসিকে পরিণত হয়। এটি ২০০ কোটি রুপির ক্লাবে প্রবেশ করা প্রথম ভারতীয় সিনেমা হিসেবেও ইতিহাস গড়েছিল।
রিয়াজের মৃত্যুর গুঞ্জনে যা জানা গেল

রিয়াজের মৃত্যুর গুঞ্জনে যা জানা গেল আকস্মিকভাবে খবর ছড়িয়েছে, চিত্রনায়ক রিয়াজ মারা গেছেন। আত্মগোপনে থাকা ঢালিউডের এ নায়ককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর চর্চা চলছে। তার ভক্তরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এ পরিস্থিতিতে নীরবতা ভেঙেছেন রিয়াজের স্ত্রী। তার ভাষ্যএটি সম্পূর্ণ গুজব।”বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রিয়াজের স্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিনেতা জীবিত আছেন এবং সুস্থ রয়েছেন। এ ধরনের খবর একেবারেই সত্য নয়; যেখানেই আছেন, ভালো আছেন।” গণঅভ্যুত্থানের পর চিত্রনয়ক রিয়াজ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে গেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা ছিল তার। আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক কোনো পদে না থাকলেও দীর্ঘদিন দলটির পক্ষে সরব ছিলেন রিয়াজ। তারপর থেকে তাকে ঘিরে ‘পালিয়ে যাওয়ার’ গুঞ্জন ছড়ালেও প্রকাশ্যে আর দেখা মেলেনি। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কারো সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই তার। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকেও রিয়াজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর ফরিদপুর জেলা সদরের কমলাপুর মহল্লায় সম্ভ্রান্ত একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রিয়াজ। তার শৈশব কেটেছে ফরিদপুর শহরের সিএনবি স্টাফ কোয়াটারে। দুই ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে রিয়াজ সবার ছোট। এরপর ফরিদপুর থেকে পৈতৃক নিবাস যশোরে চলে যান। তার কলেজ জীবন শুরু হয় যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে। সেখান থেকেই এইচএসসি পাস করেন তিনি। এইচএসসি পাস করার পর বুয়েটে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসে কোচিং শুরু করেন রিয়াজ। কিন্তু পরিবারের উৎসাহে যশোরে বিমানবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। এরই মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএসসি (পাস কোর্স) সম্পন্ন করেন। যথাযথ প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বৈমানিক হিসেবে যোগদান করেন। বৈমানিক হিসেবে একটি জেট ফাইটারে মোট ৩০০ ঘণ্টা উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। পরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১৯৯৩ সালে বিমানবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন রিয়াজ। ১৯৯৫ সালে চাচাতো বোন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতার হাত ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন রিয়াজ। অভিনয়ের পাশাপাশি ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হৃদয়ের কথা’ চলচ্চিত্রটি প্রযোজনাও করেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—প্রাণের চেয়ে প্রিয় (১৯৯৭), স্বপ্নের পুরুষ (১৯৯৯), মিলন হবে কত দিনে, প্রেমের তাজমহল (২০০১), নিঃশ্বাসে তুমি বিঃশ্বাসে তুমি, ও প্রিয়া তুমি কোথায় (২০০২), মাটির ফুল, স্বপ্নের বাসর (২০০৩), রং নাম্বার (২০০৪), মোল্লা বাড়ির বউ (২০০৫), হৃদয়ের কথা (২০০৬), লোভে পাপে পাপে মৃত্যু (২০১৪) প্রভৃতি। জনপ্রিয় কিছু গল্প-উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রিয়াজ। এগুলো হলো—দুই দুয়ারী (২০০০), হাজার বছর ধরে (২০০৫), দারুচিনি দ্বীপ (২০০৭), মধুমতি (২০১১ প্রভৃতি। এছাড়া রিয়াজ বিকল্প ধারার কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যেমন: টক ঝাল মিষ্টি (২০০৪), না বোলনা, বকুল ফুলের মালা (২০০৬), মেঘের কোলে রোদ, কি যাদু করিলা, চন্দ্রগ্রহণ (২০০৮), এবাদত (২০০৯), কুসুম কুসুম প্রেম (২০১১) ইত্যাদি। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ রিয়াজ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে তিনবার এই পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি।
বড়দিন উপলক্ষে মেহজাবীনের সম্প্রতি বার্তা

বড়দিন উপলক্ষে মেহজাবীনের সম্প্রতি বার্তা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উপলক্ষে সম্প্রতি বার্তা দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। একইসঙ্গে নিজেকে নতুন রূপে মেলে ধরেছেন তিনি। সামাজিকমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেন মেহজাবীন। ছবিগুলোতে তাকে দেখা যায় পুরোপুরি বড়দিনের উৎসবমুখর সাজে। অভিনেত্রীর পরনে ছিল বড়দিনের চিরচেনা লাল রঙের সোয়েটার। মাথায় সবুজ রঙের ক্রিসমাস হ্যাট। এ সময় মেহজাবীনকে মিষ্টি হাসিতে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। আলোকসজ্জায় মোড়ানো ক্রিসমাস ট্রির পাশে দাঁড়িয়ে নানা ভঙ্গিতে পোজ দিতেও দেখা যায় তাকে। উৎসবের এই আমেজে তার মায়াবী হাসি মন ছুঁয়ে যায় ভক্তদের। ছবির ক্যাপশনে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানান মেহজাবীন। তিনি লেখেন, ‘বড়দিন উদযাপনকারী সকল বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা পাঠাচ্ছি।’ অভিনেত্রীর এই আন্তরিক শুভেচ্ছাবার্তাকে ধর্মীয় সম্প্রীতির সুন্দর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা।
লাল নাকি সবুজ, কোন আঙুর স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী?

লাল নাকি সবুজ, কোন আঙুর স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী? আঙুর একটি সুস্বাদু এবং জনপ্রিয় ফল, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর। বাজারে সাধারণত লাল এবং সবুজ এই দুই রঙের আঙুর সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। উভয়েরই রয়েছে চমৎকার স্বাস্থ্য উপকারিতা। তবে পুষ্টিগুণের বিচারে কোনটি বেশি কার্যকর, তা নিয়ে অনেকের মনেই কৌতূহল রয়েছে। আসুন জেনে নিই লাল ও সবুজ আঙুরের পুষ্টিগত পার্থক্য এবং কোনটি আপনার জন্য বেশি উপকারী। * পুষ্টির তুলনা : মিল ও অমিল সবুজ এবং লাল উভয় ধরনের আঙুরই জলীয় অংশ, প্রাকৃতিক শর্করা, ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘কে;’-র চমৎকার উৎস। ক্যালরি ও ফাইবারের দিক থেকেও এই দুই ফলের মধ্যে খুব একটা তফাত নেই। তবে এদের রঙের পার্থক্যের কারণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণে একটি বড় তফাত লক্ষ্য করা যায়। * লাল আঙুর কেন বেশি এগিয়ে? পুষ্টিবিদ এবং বিভিন্ন গবেষণায় লাল আঙুরকে কিছুটা বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মূল কারণ হলো রেসভেরাট্রল নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা লাল আঙুরের খোসায় প্রচুর থাকে। এর কিছু বিশেষ গুণ নিচে দেওয়া হলো— হৃদরোগ প্রতিরোধ : রেসভেরাট্রল রক্তনালীর ক্ষতি রোধ করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এটি শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বার্ধক্য রোধ : এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতি রোধ করে বার্ধক্য বিরোধী হিসেবে কাজ করে এবং দীর্ঘায়ু লাভে সহায়তা করে। মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য : লাল আঙুরের উপাদানগুলো মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ায়, যা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তা করার ক্ষমতাকে সুরক্ষা দেয়। * সবুজ আঙুরের গুণাবলি : সবুজ আঙুরও যথেষ্ট পুষ্টিকর। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এর বিশেষ কিছু গুণ হলো— হাড়ের সুরক্ষা : এতে প্রচুর ভিটামিন ‘কে’ থাকে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করার পাশাপাশি হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। প্রদাহ দূর করা : সবুজ আঙুরে থাকা ‘কোয়ারসেটিন’ শরীরের প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া এবং অ্যালার্জি প্রতিরোধে সাহায্য করে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা এবং বার্ধক্য প্রতিরোধের ক্ষেত্রে লাল আঙুর (বা কালো আঙুর) সামান্য বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে সবুজ আঙুরও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পুষ্টিবিদদের মতে, যেকোনো রঙের আঙুরই আপনার খাদ্যতালিকার জন্য দারুণ। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা। তাই আপনার পছন্দের আঙুরটি বেছে নিন এবং সুস্থ থাকতে নিয়মিত ফল খান।
‘হোমবাউন্ড’ গল্প চুরির দায়ে আইনি বিপাকে করণের

‘হোমবাউন্ড’ গল্প চুরির দায়ে আইনি বিপাকে করণের অস্কারের শর্টলিস্টে জায়গা করে নিয়ে ভারতীয় সিনেমা হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নাম উজ্জ্বল করেছিল ‘হোমবাউন্ড’। কিন্তু সেই সাফল্যের আনন্দের মাঝেই এবার বড়সড় ধাক্কা খেলেন নির্মাতা ও প্রযোজকরা। জনপ্রিয় বলিউড প্রযোজক করণ জোহরের প্রযোজনা সংস্থা এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে উঠেছে সরাসরি গল্প চুরির অভিযোগ। নীরজ ঘাওয়ান পরিচালিত এই ছবিটির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন সাংবাদিক ও লেখিকা পূজা ছাঙ্গোইওয়ালা। তার দাবি, ২০২১ সালে প্রকাশিত তার সাড়াজাগানো উপন্যাস ‘হোমবাউন্ড’ থেকে কোনো অনুমতি ছাড়াই এই সিনেমার প্লট ও চরিত্রগুলো নেওয়া হয়েছে। পূজা ছাঙ্গোইওয়ালা জানান, ২০২০ সালের করোনা মহামারির কঠিন সময়ে ভারতের পরিযায়ী শ্রমিকদের মানবেতর জীবন এবং তাদের সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উপন্যাসটি লিখেছিলেন। সিনেমাটি দেখার পর তিনি হতবাক হয়ে লক্ষ্য করেন, তার বইয়ের গল্প, মূল চরিত্র এবং প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ছবির হুবহু মিল রয়েছে। বিশেষ করে সিনেমার দ্বিতীয় অর্ধেকের সঙ্গে উপন্যাসের সাদৃশ্য অবিশ্বাস্য রকমের বেশি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ অক্টোবর ধর্মা প্রোডাকশন ও নেটফ্লিক্স এন্টারটেইনমেন্ট সার্ভিসেস ইন্ডিয়াকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন লেখিকা। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার সৃজনশীল কাজ কোনো অনুমতি ছাড়াই পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে, যা মেধাস্বত্ব আইনের লঙ্ঘন। অন্যদিকে, এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে করণ জোহরের প্রযোজনা সংস্থা এখন পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। আইনি নোটিশ পাওয়ার পর প্রযোজনা সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছে এবং আইনি পথেই এটি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়েছিলাম প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ায়

স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়েছিলাম প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ায় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। পর্দায় তাকে শান্ত ও লাবণ্যময়ী রূপে দেখা গেলেও, বাস্তব জীবনের এক ঘটনায় চমকে গেছেন তার ভক্তরা। সম্প্রতি দেশ টিভির একটি টক-শোতে অংশ নিয়ে নিজের স্কুল জীবনের স্মৃতি শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারে ঐশী জানান, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক তরুণ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবের উত্তরে যা ঘটেছিল, তা ছিল অভাবনীয়। ঐশী বলেন, ‘প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার প্যাটার্নের থেকে বড় কথা, প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল এমন একজনকে আমি ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়েছিলাম। ঘটনাটি শুনে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অবাক হয়ে জানতে চান, ঠিক কেন বা কোন পরিস্থিতিতে ঐশী এমন মারমুখী হয়ে উঠেছিলেন। উত্তরে ঐশী হেসে জানান, তখন তিনি অনেক ছোট ছিলেন এবং বিষয়টি বোঝার মতো পরিপক্কতা তার ছিল না। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ঐশী কিছুটা লজ্জিত হয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সেই তরুণের কাছে ক্ষমাও চান। তিনি বলেন, ‘সরি, আমি তখন ইমম্যাচিউর ছিলাম। আই অ্যাম সরি। আমি এখন তাকে উদ্দেশ্য করেই বলছি। প্রসঙ্গত, স্কুল জীবনের এই মজার এবং কিছুটা তেতো অভিজ্ঞতা শেয়ার করার সময় ঐশীকে বেশ হাসিখুশি মেজাজেই দেখা যায়। বর্তমানে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ব্যস্ত এই অভিনেত্রী নিজের কাজ নিয়ে নিয়মিত ছোট ও বড় পর্দায় সরব রয়েছেন।
ঢালিউডের আলোচিত ৪ সিনেমা

ঢালিউডের আলোচিত ৪ সিনেমা শেষ হতে চলেছে ২০২৫ সাল। শুরু হয়েছে সারাবছরের পর্যালোচনা। আর সে বাতাস লেগেছে ঢালিউডেও। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলতি বছর ঢালিউডে মুক্তি পেয়েছে প্রায় ৪৫টির মতো সিনেমা। তবে বছর জুড়ে দর্শক আলোচনায় ছিল মাত্র গুটি কয়েক সিনেমাই। ২০২৫ সালে রোজার ও কোরবানির ঈদ মিলে সর্বমোট ১২টি সিনেমা মুক্তি পায়। দুই ঈদ ছাড়াও সারাবছর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে প্রায় ৪ ডজন সিনেমা। এসব সিনেমার মধ্যে দর্শকমহলে সারা বছর আলোচনায় থাকতে দেখা যায় বরবাদ, অন্তরাত্মা, জিন থ্রি, দাগি, জংলি, তাণ্ডব, নীলচক্র, উৎসবের মতো সিনেমাগুলোকে। তবে দর্শকপ্রিয়তায় শীর্ষে ছিল মাত্র ৩টি সিনেমাই। বছরের শেষে আসুন আরও একবার ফিরে দেখি আলোচিত ও পছন্দের সেই সিনেমা- বরবাদ: ঢালিউড মেগাস্টার শাকিব খান অভিনীত সিনেমা ‘বরবাদ’। চলতি বছর তার অভিনীত আরও দুটি সিনেমা হলো ‘তাণ্ডব’ ও ‘অন্তরাত্মা’। এ তিন সিনেমার মধ্যে শাকিব খান অভিনীত সবচেয়ে বেশি আলোচিত সিনেমা ছিল ‘বরবাদ’। এ সিনেমার গান থেকে শুরু করে সংলাপ পর্যন্ত জনপ্রিয় হয় দর্শক মহলে। মেহেদী হাসান হৃদয় পরিচালিত এ সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেন কলকাতার ইধিকা পাল। সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করেন যিশু সেনগুপ্ত। সিনেমায় শাকিব খানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ‘জিল্লুর’ চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান কলকাতার অভিনেতা শ্যাম ভট্টাচার্য। জংলি: নির্মাতা এম রহিমের সিনেমা ‘জংলি’। চলতি বছর রোজার ঈদে সিনেমাটি মুক্তি পায়। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ- সব বয়সী দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায় সিনেমাটি। সিনেমায় শিশুদের শ্লীলতাহানির বিষয়টি সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষামূলক টপিক ছিল, যা প্রশংসা কুড়ায় সিনেপ্রেমীদের। ‘জংলি’তে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। সিনেমায় সিয়ামের বিপরীতে অভিনয় করেছেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি ও শবনম বুবলী। উৎসব: চলতি বছর কোরবানির ঈদে এক ঝাঁক তারকা নিয়ে মুক্তি পায় ‘উৎসব’ সিনেমাটি। তানিম নূর পরিচালিত এতে আফসানা মিমি, জাহিদ হাসান ছাড়াও অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, অপি করিম, চঞ্চল চৌধুরী, সাদিয়া আয়মানের মতো তারকারা। পারিবারিক সিনেমা হওয়ায় দর্শক আলোচনায় ও পছন্দের তালিকায় ছিল সিনেমাটি। তাণ্ডব: এবছরের ঈদুল অজহায় মুক্তি পায় রায়হান রাফীর সপ্তম সিনেমা ‘তাণ্ডব’। ৬ কোটির ক্লাবে শাকিব খানের ‘তাণ্ডব’ শাকিব খানের সঙ্গে এটি তার দ্বিতীয় কাজ। ‘তাণ্ডব’ সিনেমায় শাকিব খান ছাড়াও আরও অভিনয় করেছেন জয়া আহসান, সিয়াম আহমেদ, আফরান নিশো, আফজাল হোসেন, সাবিলা নূর, রোজী সিদ্দিকী, ডা. এজাজ, এফএস নাঈম, ফজলুর রহমান বাবু, কাজী রাকায়েতসহ আরও অনেকে।
মিষ্টি জান্নাত ভদ্র ব্যবহারের কোনো মূল্য নেই এই সমাজে

মিষ্টি জান্নাত ভদ্র ব্যবহারের কোনো মূল্য নেই এই সমাজে ঢালিউড সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাতের পর্দার উপস্থিতি যতটা না বেশি, তার চেয়ে বেশি সামাজিক মাধ্যমে সমালোচিত। অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিগতজীবন আর সোজাসাপ্টা মন্তব্যের কারণেই বেশি খবরের শিরোনামে থাকেন তিনি। এবার অভিনেত্রী সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। সামাজিক মাধ্যম পোস্টে মিষ্টি জান্নাত লিখেছেন বর্তমান সমাজে ভদ্র আচরণের কোনো কদর নেই। ভদ্র ব্যবহারের কোনো মূল্য নেই এই সমাজে। তাই আবার আগের ফর্মে ফেরত আসলাম। এর আগে আরেক বার্তায় তার ক্যারিয়ার ও পেশাদারত্ব নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন মিষ্টি জান্নাত। সেখানে অভিনেত্রী বলেছিলেন, সিনেমার ছোট কোনো চরিত্রে কাজ করে অসম্মানিত হওয়ার চেয়ে সম্মান বজায় রেখে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়াটাই প্রকৃত সাহসিকতা। কাজ কম করলেও নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিতে নারাজ এ অভিনেত্রী। হঠাৎ কেন মিষ্টির এই মেজাজ বদল, তা নিয়ে অবশ্য তার ভক্ত-অনুসারীদের মনে কৌতূহল দেখা দিলেও নেটিজেনদের বড় একটি অংশ তার এই মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তার পোস্টের কমেন্ট বক্সে সমর্থন জানিয়ে এক নেটিজেন লিখেছেন একদম ঠিক কথা বলেছেন; সঠিক সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ‘লাভ স্টেশন’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় অভিনেত্রী মিষ্টি জান্নাতের। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি দন্তচিকিৎসক হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। তবে প্রায়শই তার করা বিভিন্ন মন্তব্য বিনোদনপাড়ায় বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে এবার ‘ভদ্রতার মূল্য নেই’ বলে তিনি ঠিক কী ইঙ্গিত দিলেন, তা নিয়েই এখন চলছে জল্পনা-কল্পনা।
ব্রিটিশ রক ও ব্লুজ গায়ক ক্রিস রি আর নেই

ব্রিটিশ রক ও ব্লুজ গায়ক ক্রিস রি আর নেই ব্রিটিশ রক ও ব্লুজ গায়ক-গীতিকার ক্রিস রি আর নেই। তিন দিন আগে শরীরে অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি ‘ড্রাইভিং হোম ফর ক্রিসমাস’ এবং ‘দ্য রোড টু হেল’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান করেছেন। ক্রিস রি’র পরিবার জানায়, ‘অসীম দুঃখের সঙ্গে আমরা আমাদের প্রিয় ক্রিসের মৃত্যু ঘোষণা করছি। দীর্ঘ নয় মাসের অসুস্থতার পর তিনি আজ হাসপাতালে শান্তিপূর্ণভাবে প্রয়াত হয়েছেন। এসময় তার পরিবার পরিজনেরা ঘিরে ছিল। রিয়া ৩৩ বছর বয়সে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। পরে তার অগ্ন্যাশয় অপসারণ করান। অসুখের বিরুদ্ধে লড়ে তিনি মোট নয়টি অস্ত্রোপচারের সম্মুখীন হন। ২০১৬ সালে স্ট্রোক হওয়ার এক বছর পর তিনি ‘দ্য রোড সঙ্গস ফর লাভার্স’ লাইভ ট্যুর চালিয়ে গেছেন। ২০১৭ সালে অক্সফোর্ডের নিউ থিয়েটারে এক কনসার্টের সময় তিনি স্টেজে অচেতন হয়ে পড়েন। মিডলসব্রোতে জন্ম নেওয়া এই সংগীতশিল্পী ১৯৭৮ সালে তার বিখ্যাত ক্রিসমাস গান রচনা করেন। সেটি দশ বছর পর প্রকাশিত হয়। ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর উৎসবের সময় চার্টে দেখা যায় গানটি। চলতি বছরে গানটি ক্রিসমাস চার্টে ১৩তম স্থানে রয়েছে। এমঅ্যান্ডএস ফুডের ক্রিসমাস বিজ্ঞাপনেও কমেডিয়ান ডন ফ্রেঞ্চের সঙ্গে দেখানো হয়েছে গানটির ভিডিও। ক্রিস রি ২৫টির বেশি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে ‘দ্য রোড টু হেল’ (১৯৮৯) এবং ‘অবের্জ’ (১৯৯১) অ্যালবাম যুক্তরাজ্যের অ্যালবাম চার্টে প্রথম স্থান অর্জন করে। তিনি স্ত্রী জোয়ান এবং দুই কন্যা জোসেফিন ও জুলিয়াসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।