দেবের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে যা বললেন রুক্মীণী

দেবের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে যা বললেন রুক্মীণী ভারতীয় বাংলা সিনেমার তারকা অভিনেতা ও তৃণমূলের সংসদ সদস্য দেব। রাজনীতি ও চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বিয়াল্লিশের দেব এখনো অবিবাহিত। যদিও চিত্রনায়িকা রুক্মিণী মৈত্রর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের খবর কারো অজানা নয়। সুযোগ পেলেই রুক্মিণীকে নিয়ে অবসর কাটাতে বিদেশে উড়ে যান দেব। তার ভক্ত-অনুরাগীরাও চান তাদের প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী বিয়ে করুক। দেবের বাবা-মাও চান ছেলে বিয়ে করুক। এ নিয়ে নানা সময়ে নানা ধরনের পরিস্থিতিতে প্রসঙ্গ যেমন এড়িয়ে গিয়েছেন, তেমনি নানা মন্তব্যও করেছেন দেব-রুক্মিণী। সংগীত বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এবার মুখ খুললেন এই অভিনেত্রী। রুক্মিণী মৈত্র বলেন, “যে দিন আমাদের সবাই প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেবেন, সেদিন আমরা সকলকে চমকে দেব। তখন সবাই আশ্চর্য হয়ে যাবেন। কিন্তু বলা যায় না, বিয়ে কার কপালে কখন, কার সঙ্গে (এ কথা বলেই জিভ কাটেন নায়িকা)। ২০২৪ সালে গুগল সার্চ করে অনুরাগীরা চমকে গিয়েছিলেন। কারণ সেখানে লেখা ছিল দেব বিবাহিত! ২০২১ সালের ৬ মে রুক্মিণীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।   কেবল তাই নয়, তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। সাক্ষাৎকারে দেবকে প্রশ্ন করা হয়ছিল, দেব কি টলিউডের সালমান খান? ভাইজানের মতো তিনিও কি সারা জীবন একাই জীবন কাটানোর মন স্থির করেছেন? জবাবে দেব বলেছিলেন, “আমি কোনো খান হতে চাই না। দেব হয়েই বেশ ভালো আছি। যেখানে আছি, যার সঙ্গে আছে বেশ ভালোই আছি। তবে এই নয় যে, আমি একা ব্যাচেলর লাইফ লিড করব। রুক্মিণীকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে দেব বলেছিলেন, “বিয়ে হলো ভাগ্যের ব্যাপার। তবে এই নয় যে, আমি বিয়ে করতে চাই না। অবশ্যই করব। একটা প্ল্যান চলছে, খুব শিগগির সবাই জানতে পারবেন। দেবের তার হাত ধরে রুপালি জগতে পা রাখেন অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র। দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। পর্দার রসায়ন ব্যক্তিগত জীবনেও গড়িয়েছে। চুটিয়ে প্রেম করছেন তারা। ২০১৭ সালে ‘চ্যাম্প’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন রুক্মিণী। অভিষেক চলচ্চিত্রে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হন। তারপর ‘ককপিট’, ‘কবীর’, ‘কিডন্যাপ’, ‘পাসওয়ার্ড’, ‘ব্যোমকেশ ও দূর্গরহস্য’ প্রভৃতি সিনেমায় জুটিবদ্ধ হন তারা।

বিয়েতে নাচতে কত টাকা নেন শাহরুখ–সালমান–ক্যাটরিনারা?

বিয়েতে নাচতে কত টাকা নেন শাহরুখ–সালমান–ক্যাটরিনারা? ভারতের উদয়পুরে শিল্পপতি রাজু মন্টেনার কন্যা নেত্রা মন্টেনার বিয়ের আসর বসেছে। সেই বিয়েকে ঘিরে নানা মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও এখন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে পড়া এসব দৃশ্যেই দেখা যাচ্ছে বিয়েতে জমেছে বলিউড তারকাদের মেলা। রণবীর সিং থেকে জাহ্নবী কাপুরঅনেকেই সেখানে নেচেছেন। তবে এ আয়োজন প্রথম নয়। প্রায়ই নানা ‘হাই প্রোফাইল’ বিয়েতে নিয়মিতই নাচতে দেখা যায় বলিউড তারকাদের। এসব বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচার জন্য কার কত পারিশ্রমিক ধরা আছে? অনন্ত আম্বানির বিয়েতেও রণবীর সিংকে দারুণ নাচতে দেখা গিয়েছিল। প্রায়ই বিয়ের আসরে নাচেন তিনি। শোনা যায়, একটি অনুষ্ঠানে তিনি নেন প্রায় ১ কোটি রুপি বা তার কিছু বেশি। আলিয়া ভাটকেও একসময় নিয়মিতই বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে দেখা যেত। যদিও বিয়ের পর তাকে আর তেমন দেখা যায়নি। তবে অনন্ত আম্বানির বিয়েতে স্বামী রণবীর কাপুরের সঙ্গে তিনি নেচেছিলেন। বলা হয়, বিয়ের আসরে নেচে তিনি নেন প্রায় ১.৫ কোটি রুপি। সালমান খান নাচ দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান জমিয়ে তোলেন। তার উপস্থিতিতেই যেন পুরো পরিবেশ বদলে যায়। তিনি নাকি একটি অনুষ্ঠানে নাচার জন্য ২ কোটি রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক নেন। একসময় বিয়েতে নাচা নিয়ে আপত্তি থাকলেও রণবীর কাপুর নিজেই সেই ধারণা ভেঙেছেন। এখন নাচলে তিনিও নেন প্রায় ২ কোটি রুপি। দীপিকা পাড়ুকোন যেমন ছবিতে নাচে মুগ্ধ করেন, তেমনই বিয়ের মঞ্চেও তার নাচ দর্শক মাতিয়ে দেয়। তার পারিশ্রমিক প্রায় ১ কোটি রুপি। ভিকি কৌশলও নাচেন প্রায় ১ কোটি রুপির বিনিময়ে। তবে ভিকির স্ত্রী ক্যাটরিনা কাইফের পারিশ্রমিক তুলনামূলক অনেক বেশি। বলিউডে ‘শীলা কি জওয়ানি’, ‘চিকনি চামেলি’, ‘কমলি’–সহ বহু হিট নাচের গানের নায়িকা তিনি। ফলে বিয়ের আসরেও মুহূর্তেই পরিবেশ গরম করে ফেলেন ক্যাটরিনা পারিশ্রমিক শোনা যায় প্রায় ৩.৫ কোটি রুপি। এ ছাড়া বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে দেখা যায় বলিউড বাদশা শাহরুখ খানকেও। তিনি নাকি নেন প্রায় ৩ কোটি রুপি। আর অক্ষয় কুমারের পারিশ্রমিক ধরা হয় প্রায় ২.৫ কোটি রুপি।

মিস ইউনিভার্স’ মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

মিস ইউনিভার্স’ মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি সদ্য শেষ হওয়া মিস ইউনিভার্স ২০২৫ প্রতিযোগিতার রেশ কাটতে না কাটতেই সহ-মালিক ও থাই মিডিয়া উদ্যোক্তা অ্যান জাকাপং জাকরাজুততিপকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার (৩০ মিলিয়ন বাত) অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে থাইল্যান্ডের দক্ষিণ ব্যাংকক সিভিল কোর্ট। বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে আদালতের একটি সূত্র। এক থাই প্লাস্টিক সার্জন অভিযোগ করেছেন ২০২৩ সালে জাকাপং তাঁকে জেকেএন গ্লোবাল গ্রুপে বিনিয়োগে রাজি করানোর সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য গোপন করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ ফেরত দেওয়ার ভুল প্রতিশ্রুতি দেন। আদালত জানায়, এই আচরণ প্রতারণার শামিল এবং আদালতে তাঁর অনুপস্থিতি পালানোর চেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মঙ্গলবার ছিল মামলার রায় ঘোষণার কথা, কিন্তু জাকাপং আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর। স্থানীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা জাকাপং নাকি ইতিমধ্যেই মেক্সিকোতে চলে গেছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অর্গানাইজেশন এক বিবৃতিতে জানায়, ‘এই আইনি প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতা পরিচালনা বা আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসংশ্লিষ্ট। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা শুরু থেকেই ছিল বিতর্কে জর্জরিত। লাইভ অনুষ্ঠানে এক পুরুষ সঞ্চালকের আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। বিজয়ী মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোশ প্রচারণামূলক কনটেন্ট পোস্ট না করায় তিনি প্রকাশ্যে তাঁকে তিরস্কার করেন। অপমানজনক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বোশসহ কয়েকজন প্রতিযোগী মঞ্চ ত্যাগও করেন। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা চান ওই সঞ্চালক। ঘটনাটি নজর কেড়ে নেয় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবামেরও। মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতাটি একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানায় থাকলেও ২০২২ সালে জেকেএন গ্লোবাল গ্রুপ এটি ২০ মিলিয়ন ডলারে কিনে নেয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি এর অর্ধেক শেয়ার ১৬ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করে মেক্সিকোর লেগ্যাসি হোল্ডিং গ্রুপ ইউএসএর কাছে।

তিশার ‘পেশাদারিত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রযোজক

তিশার ‘পেশাদারিত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রযোজক জনপ্রিয় ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা সম্প্রতি ভারতীয় পরিচালক এম এন রাজের ‘ভালোবাসার মরশুম’ সিনেমাটি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এক অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে এই সংক্রান্ত সকল তথ্য ও গুজবকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রটনা’ বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী। তিশা তার বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ছবিটির শুটিং উপলক্ষে তার বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব যেমন ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, ফ্লাইটের টিকিট নিশ্চিত করা এবং সেখানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা চুক্তিনামা অনুযায়ী সম্পূর্ণরূপে পরিচালক ও প্রযোজকের ওপর ন্যস্ত ছিল। এর কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তার দায়ভার প্রযোজনা সংস্থার। তবে এই বিতর্কের সূত্র ধরে ছবিটির প্রযোজক সরিফুল সাবেক ভারতীয় গণমাধ্যমে পালটা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি তিশার পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘পেশাদারিত্ব কাকে বলে, তার (তানজিন তিশা) জানা নেই। ‘ভালোবাসার মরশুম’ সিনেমাটির অধিকাংশ দৃশ্যধারণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র আট দিনের শুটিং বাকি রয়েছে। এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড তারকা শরমন জোশী, সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় এবং গৌরব রায়চৌধুরী। এই পরিস্থিতিতে তানজিন তিশার পরিবর্তে বাকি অংশের জন্য একজন ওড়িয়া অভিনেত্রীকে দেখা যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘থার্সডে নাইট’-এ মিথিলার সঙ্গে কী ঘটেছিল

‘থার্সডে নাইট’-এ মিথিলার সঙ্গে কী ঘটেছিল   থার্সডে নাইট, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত মানেই একটু ফান–ফুর্তি। পরের দিন শুক্রবার বা ছুটির দিন হওয়ায় থার্সডে নাইট ব্যস্তময় জীবন থেকে একটু মুক্তির সময় যেন। বন্ধুদের সঙ্গে এমন এক আড্ডায় মুখর হতে চেয়েছিলেন কয়েক বন্ধু। কিন্তু সেই আড্ডা তাদের জীবনে প্রশান্তি তো আনেইনি বরং তৈরি করেছে সমস্যা। কী এবং কেন সেই সমস্যা? ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘থার্সডে নাইট’ গল্পের সব উত্তর মিলবে। এটি মূলত বন্ধুদের নিয়ে ইনভেস্টিগেশন থ্রিলার ঘরানার গল্প এবং সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় এটি নির্মাণ করেছেন জাহিদ প্রীতম। ২৬ নভেম্বর রাত ১২টায় কনটেন্টটি মুক্তি পাবে চরকিতে। এরইমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে ফ্ল্যাশ ফিকশন ’থার্সডে নাইট’–এর ট্রেলার। যেখানে ধারণা পাওয়া গেছে ’থার্সডে নাইট’-এর পার্টি, নির্দিষ্ট একটা সময়ের স্মৃতি মনে না পরার মতো ঘটনা এবং সেই ভুলে যাওয়া সময়টাই পুলিশের তদন্ত করে বের করার প্রয়াস। ফ্ল্যাশ ফিকশনটিতে বন্ধুদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিয়া জামান মিথিলা, সৌম্য জ্যোতি, ফররুখ আহমেদ রেহান, তাওহীদুল তামিলসহ অনেকে। এতে পুলিশের চরিত্রে আছেন সামিরা খান মাহি। মিথিলার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে বন্ধু–পুলিশ এবং একজন ড্রাইভারের নানা ঘটনায় এগিয়ে গেছে কাহিনি। জাহিদ প্রীতম জানান, ‘থার্সডে নাইট’– এর গল্পটি এদেশে ঘটে যাওয়া একটি অপরাধমূলক ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখেন তিনি। নির্মাতার দাবি, ফ্ল্যাশ ফিকশনটিতে তিনি একটি ঘটনাকে কয়েকজনের দৃষ্টিতে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, যেটাকে তিনি বলছেন ‘রশোমন ইফেক্ট’। বিনোদন জগতে তানজিয়া জামান মিথিলা এবং সামিরা খান মাহির বন্ধুত্বের কথা অনেকের জানা। দুজনেই দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন অনেকদিন ধরেই। তবে এটি তাদের একসঙ্গে প্রথম কোনো ফিকশন, জানান মাহি। অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি বলেন, ‘মিথিলা জন্যই আমার এই কনটেন্টে কাজ করা। আমরা প্রায়ই আমাদের কাজ নিয়ে আলোচনা করতাম। যখন সুযোগ এল একসঙ্গে কাজ করার, তখন আর না করিনি। রোমান্টিক চরিত্রে এ সময়ের দর্শকদের অন্যতম পছন্দের অভিনেতা ফররুখ আহমেদ রেহান। এখানে অবশ্য অন্যরকম। ছাত্রজীবনের রাফ–টাফ আর সামান্য রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। রেহান বলেন, ‘জাহিদ প্রীতমের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল এবং সেটা পূরণ হলো। আমি মূলত ডিরেক্টরকে ফলো করি। তিনি যেভাবে চান সেভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। এখানেও সেটাই করেছি। নির্মাতা এখানে আমার করা চরিত্রটি নিয়ে যেভাবে ভেবেছেন, সেটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। একটু অন্যরকম বলে আমিও খুব মজা পেয়েছি কাজটি করে। ফ্ল্যাশ ফিকশনটির গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ লিখেছেন জাহিদ প্রীতম। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নকশী তাবাসসুম, পারভেজ সুমন, মেহেদী হাসান মেধা, সাদিদ আদনান ওয়াহিদ, রেহনুমা আলম ঐশী।

নীলা তৌসিফের ডেডিকেশনের প্রেমে পড়েছি

নীলা তৌসিফের ডেডিকেশনের প্রেমে পড়েছি প্রথমবারের মতো নাটকে জুটি বেঁধেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব এবং মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ শাম্মি ইসলাম নীলা। তাদের অভিনীত নাটকটির নাম ‘ফার্স্ট লাভ’। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সহ-অভিনেতা তৌসিফকে নিয়ে অকপট প্রশংসা করলেন নীলা। নীলা বলেন, ‘তৌসিফ ভাইয়ের হার্ডওয়ার্কিং, ডেডিকেশন অ্যান্ড ভিশন-এর প্রেমে পড়ে গিয়েছি। এককথায় তিনি অসাধারণ একটা মানুষ। যখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করে মনে হচ্ছিল আর পারছি না, তখন যখন দেখি এই মানুষটা বসে বসে সবাইকে বলছেন, ‘হ্যাঁ এটা করো, এটা করো, এটা করো,’ এরপর আমার শট। আচ্ছা ঠিক আছে, নামাজটাও সুন্দরমতো মেইনটেইন করছিলেন। আমার মনে হয়, আসলে এই জিনিসগুলোর প্রেমে এখানে প্রত্যেকেই পড়ে গেছে। তৌসিফকে ‘অ্যামেজিং পার্সন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নীলা আরও বলেন, ‘আসলে বুঝতে পারি না যে একটা মানুষ কত রকম বা কীভাবে বা একটা মানুষ কিরকম হতে পারে। কিন্তু তৌসিফ ভাইয়া, আমি বলব যে, অ্যামেজিং একটা পার্সন। তো আসলে তার কাজের প্রেমে তো অবশ্যই আগে থেকেই ছিলাম, এখন মনে হয় যে তার যে ডেডিকেশন বা পেশেন্স, সেটার প্রেমে নতুন করে পড়েছি। ‘ফার্স্ট লাভ’ প্রসঙ্গে নীলা জানান, এটাই তার প্রথম কাজ, প্রথম লিডিং অ্যাক্ট্রেস হিসেবে অভিনয়। তার কথায়, ‘প্রথম কাজ, ফার্স্ট লিডিং অ্যাক্ট্রেস মনে হচ্ছে, ওয়াও! ফাইনালি নায়িকা হয়ে যাচ্ছি। এখন নায়িকা পুরোপুরি হতে পারছি কিনা, সেটা তো অডিয়েন্স ডিসাইড করবে। কিন্তু লিড অ্যাক্ট্রেস হিসেবে আসলে সবসময় চিন্তাই করতাম যে, না, করলে নায়িকার ক্যারেক্টার করব আর না হলে কিছু করব না। এই কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে নীলা বলেন, ‘গুড থিং ইজ শুধু লিড রোলের ক্যারেক্টার না, একটা ভালো টিম-এর সাথে একটা ভালো কাজ হয়েছে। অ্যান্ড আবারও আমি বললাম যে, ফার্স্ট লাভ ভোলার মতো যেহেতু না, আমার মনে হয় আমি ভুলতে পারব না যেহেতু আমার প্রথম কাজ। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘হয়তো ভালো লাগলে আগামীতে আরও কাজ দেখবেন, কিন্তু প্রথম কাজ, প্রথম। তো আপনাদেরও আমার মনে হয় এখানে যত মানুষ আছেন, আপনারা সবাই উইটনেস আমার প্রথম কাজের, ফার্স্ট লাভ-এর। অ্যান্ড ইনশাআল্লাহ আমার অডিয়েন্স যারা আছেন বা আমাদের যারা অডিয়েন্স যারা দেখবেন, তাদেরও প্রথম ভালোবাসার কথা মনে পড়ে যাবে বা মনে থাকবে যে, না, একটা কাজ ছিল যেটার নাম ছিল ফার্স্ট লাভ। থ্যাংক ইউ।

জয়ী না হয়েও জিতেছে বাংলাদেশ : মিথিলা

জয়ী না হয়েও জিতেছে বাংলাদেশ : মিথিলা থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা শেষে দেশে ফিরেছেন মডেল ও অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এসে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিথিলা। প্রথমে ধ্যনবাদ জানান যারা তাকে সমর্থন দিয়ে ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‌‌‘মিস ইউনিভার্সে অংশ নিয়ে আমি কাছ থেকে সব দেখে এসেছি। কীভাবে কি করতে হয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, বাংলাদেশ জয়ী না হয়েও জিতেছে। আমার মনে হয়, টপ ৩০ এ যারা উঠেছেন তাদের প্রত্যেকেরই ফিনালে যাওয়ার মতো সম্ভাবনা ও মান আছে। মিস ইউনিভার্সের মুকুট বহন করার ক্ষমতাও রয়েছে তাদের। আমি এই যাত্রায় গর্বিত। এরপর যে এখানে অংশ নিতে যাবে আমি তাকে সর্বোচ্চ সাহায্য করবো।’ গত ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মিথিলা। যদিও তিনি মিস ইউনিভার্সের মুকুট জয় করতে পারেননি তবুও এই প্রতিযোগিতায় এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। পিপলস চয়েসে ১২১ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তৃতীয় হয়েছেন এবং সেরা ৩০-এ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। মডেল তানজিয়া জামান মিথিলা বলিউডের ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমায় প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেন। সিনেমাটি পরিচালনা করেন বলিউডের নির্মাতা ও ফটোগ্রাফার হায়দার খান। এটি রোহিঙ্গা এবং হিন্দি দুই ভাষায় নির্মিত হয়েছে। প্রযোজনা করছে লায়ন প্রোডাকশন। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন ‘মিস্টার ভুটান’ স্যাঙ্গে।

নায়িকার পাত্র চেয়ে শহরজুড়ে পোস্টার!

নায়িকার পাত্র চেয়ে শহরজুড়ে পোস্টার! ভারতের কলকাতা শহরের বিভিন্ন ওলিতে গলিতে ঝুলছে অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রের ছবিসহ ‘পাত্র চাই’ লেখা পোস্টার। যেখানে পাত্রের যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণও দেওয়া। হঠাৎ এমন পোস্টার দেখে এতে পথচারীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।  প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, রুক্মিণীর ব্যক্তিগত জীবনের বিষয়ে এটি কোনো ঘোষণা। কিন্তু পোস্টারের মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দীপক চক্রবর্তীর নাম! প্রশ্ন ওঠে, কে এই দীপক চক্রবর্তী? পরে জানা যায়, অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর চরিত্রের নাম এটি! এতে কিছুটা ধোঁয়াশা কাটে। জানা যায়, এটি রুক্মিণী অভিনীত আসন্ন সিনেমা ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর প্রচারণার অংশ এই পোস্টার। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, সিনেমায় রুক্মিণীর বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন চিরঞ্জিত। তার চরিত্রই অনস্ক্রিন মেয়ের জন্য ‘পাত্র খুঁজছেন’, এ ধারণা থেকেই এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা। ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’-এর টিম জানিয়েছে,  প্রচারের ধরণ বদলে যাওয়ায় এখন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণে নতুন পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়। সেই কারণে শহরজুড়ে লাগানো হয়েছে এমন পোস্টার, যা দেখে অনেকে থমকে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ কেউ আবার মোবাইলে খুঁজে দেখছেন, ‘রুক্মিণীর বিয়ে কবে?’ এমনকি কেউ কেউ বিভ্রান্তও হচ্ছেন। দর্শকপ্রতিক্রিয়া থেকেই টিম ধারণা করছে, প্রচারণা সফল হয়েছে। বাংলা সিনেমার প্রচারে আগে এমন ব্যতিক্রমী কৌশল দেখা গেলেও সবসময় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এবার প্রচারণা নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পূজা

বিয়ে করলেন কণ্ঠশিল্পী পূজা বিয়ে করলেন দেশের এই সময়ের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাঁধন সরকার পূজা। পাত্রের নাম শুভংকর সেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন গায়িকা নিজে। পূজার স্বামী শুভংকর সেন পেশায় একজন মডেল এবং চাকরিজীবী। পূজা জানান, গত একবছর ধরে তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব। এরপর দুই পরিবারকে জানালে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয়। জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন পূজা। এটি পূজার দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজের সুবাদে পরিচয়ের সুবাদে ২০১৭ সালে তিনি মডেল অর্ণব দাস অন্তুকে বিয়ে করেছিলেন। ২০২১ সালের দিকে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। বাঁধন সরকার পূজা দেশের সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী। তার গাওয়া ১০টিরও বেশি গানের ভিউ কোটির ঘর ছাড়িয়েছে। সেই গানের তালিকায় রয়েছে- তুমি দূরে দূরে আর থেকো না, সাত জনম, এত কাছে, চুপি চুপি, একটাই তুমি, তোমার আমার ভালোবাসা, তুমি ছাড়া, কেন বারে বারে, মানে না মন, মিউজিক তোমায় ছেড়ে।

বরেণ্য অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন

বরেণ্য অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন বলিউডের বরেণ্য অভিনেতা ধর্মেন্দ্র মারা গেছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) মুম্বাইয়ের বাসভবনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই, ইন্ডিয়া টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলিউড সিনেমার গুণী পরিচালক করন জোহর ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। গুণী তারকার একটি ছবি পোস্ট করে এই নির্মাতা-সঞ্চালক লেখেন, “একটি যুগের অবসান… এক মহাতারার প্রস্থান… মূলধারার সিনেমার এক বীরের প্রতিচ্ছবি… অবিশ্বাস্য রূপবান এবং পর্দায় এক অনন্য রহস্যময় উপস্থিতি… তিনি ছিলেন এবং চিরকাল থাকবেন ভারতীয় সিনেমার এক সত্যিকারের জীবন্ত কিংবদন্তি… যিনি সিনেমার ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে আছেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন।” শূন্যতার কথা জানিয়ে করন জোহর লেখেন, “আজ আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো… এমন এক শূন্যতা, যা কোনোদিন কোনোভাবে পূরণ হবে না… তিনি চিরকালই আমাদের একমাত্র ধর্মজি… আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সদয় মহাশয়… আমরা আপনাকে ভীষণ মিস করব… আজ স্বর্গ ধন্য হলো… আপনার সঙ্গে কাজ করা ছিল আমার আশীর্বাদ…।” অনেক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন ধর্মেন্দ্র। গত ১১ নভেম্বর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সেই খবর সঠিক ছিল না। তারপর থেকে বাড়িতে রেখে তার চিকিৎসা চলছিল। সোমবার (২৪ নভেম্বর) ফের তার মৃত্যুর খবর নেট দুনিয়ায় চাউর হয়। মূলত, আজ এ অভিনেতার বাড়িতে অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার পর এই গুঞ্জনের সূচনা। তাছাড়া শোবিজ অঙ্গনের অনেকে ধর্মেন্দ্রর বাড়িতে হাজির হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিয়ে পরিবার থেকে কিছু জানানো হয়নি।   ১৯৩৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার সাহনেওয়াল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষণ দেওল। ছোটবেলায় সিনেমার পর্দা ছিল তার কাছে জাদুর জানালা। সেই গ্রাম থেকে, কাদামাখা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তিনিও একদিন বড় পর্দায় আলো ছড়াবেন। ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনের ‘ট্যালেন্ট কনটেস্ট’-এ জয়ী হন। ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্র। প্রথম সিনেমা মুক্তির পরই  নজর কাড়েন। তবে প্রকৃত সাফল্য আসে তারও কয়েক বছর পর। বিশেষ করে ‘শোলা আউর শবনম’ (১৯৬১), ‘বন্দিনী’ (১৯৬৩), ‘ফুল আউর পাথর’ (১৯৬৬) ও ‘সত্যকাম’ (১৯৬৯) সিনেমার মাধ্যমে। ষাট ও সত্তরের দশক ছিল ধর্মেন্দ্রর সোনালি যুগ। শক্তিমত্তা, মাধুর্য ও সংবেদনশীলতার এমন মিশেল বলিউড আগে দেখেনি। ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘শোলে’—প্রতিটি সিনেমায় ধর্মেন্দ্র হয়ে উঠেছেন ভারতীয় পুরুষত্বর নতুন সংজ্ঞা। শক্তির মধ্যে প্রেম, সাহসের মধ্যে কোমলতা—এই অনন্য ভারসাম্যই তাকে আলাদা করে দেয় সমসাময়িক নায়কদের থেকে। ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর প্রেমের গল্পই যেন একটি সিনেমা। ‘তুম হাসিন ম্যায় জওয়ান’ সিনেমার শুটিং সেটে তাদের দেখা হয়। তারপর ‘শোলে’, ‘সীতা আউর গীতা’, ‘ড্রিম গার্ল’ এর মতো একের পর এক সিনেমায় রোমান্সের পরত জমতে থাকে। তখন ধর্মেন্দ্রর সংসারে ছিলেন প্রথম স্ত্রী প্রকাশ কৌর। তবু হৃদয়ের টান থামেনি। সমাজের চোখ রাঙানি, সমালোচনা, বিতর্ক—সব পেরিয়ে ধর্মেন্দ্র ও হেমা এক হয়েছেন। ধর্মেন্দ্র বলেছিলেন, “আমি কাউকে আঘাত করিনি, আমি শুধু হৃদয়ের কথা শুনেছি।” হেমা মালিনী তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, “তিনি একসঙ্গে শক্তিশালী ও কোমল। ঝড়ের মাঝেও পাহাড়ের মতো পাশে থেকেছেন।” তাদের দুই মেয়ে এষা ও অহনা আজও বলেন—বাবা এখনো মায়ের জন্য শায়রি লেখেন, ভালোবাসায় বলেন, “মেরি হেমা।” ধর্মেন্দ্রর দুই সংসারে ছয়জন সন্তান রয়েছে। তারা হলেন—পুত্র সানি ও ববি দেওল, কন্যা এষা, অহনা, বিজেতা ও অজিতা। ধর্মেন্দ্রর অভিনয়ে অদ্ভুত মানবিকতা ছিল। ‘সত্যকাম’ সিনেমায় আদর্শবাদী যুবক থেকে শুরু করে ‘অনুপমা’ সিনেমার সংবেদনশীল লেখক—প্রতিটি চরিত্রেই জীবনের রঙ ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। ‘শোলে’ সিনেমায় ‘বীরু’ চরিত্রে তার সংলাপ—“বসন্তি, ইন কুত্তো কে সামনে মৎ নাচনা” এখনো ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর। কিন্তু পর্দার বাইরে তিনি একেবারে আলাদা মানুষ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “স্রষ্টা আমাকে সব দিয়েছেন। কিন্তু আমি কখনো দাবিদার হইনি।” এটাই ধর্মেন্দ্রর জীবনের দর্শন, বিনয়, মহত্ত্ব।  খ্যাতির চূড়ায় থেকেও ধর্মেন্দ্র তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত মাটির মানুষ ছিলেন। লোনাভালার খামারে কাজ করেছেন, ট্র্যাক্টর চালিয়ে ভিডিও পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে। ২০২৫ সালের দশেরা উপলক্ষে ভিডিও বার্তায় বলেন, “ভালো মানুষ হয়ে বাঁচুন, তবেই সাফল্য আপনার পিছু নেবে।” তার এই সরলতাই তাকে কোটি ভক্তের হৃদয়ে অমর করেছে।  ধর্মেন্দ্রর জীবন মানেই হিন্দি সিনেমার ক্রমবিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। সাদা-কালো যুগের সামাজিক নাটক থেকে সত্তরের দশকের অ্যাকশন ব্লকবাস্টার—সবকিছুতেই তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো— ফুল আউর পাথর (১৯৬৬), সত্যকাম (১৯৬৯), মেরা গাঁও মেরা দেশ (১৯৭১), শোলে (১৯৭৫), চুপকে চুপকে (১৯৭৫), দ্য বার্নিং ট্রেন (১৯৮০), লাইফ ইন আ মেট্রো (২০০৭), আপনে (২০০৭), রকি আউর রানি কি প্রেম কাহানি (২০২৪) প্রভৃতি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত ‘ইক্কিস’ সিনেমা। আগামী ডিসেম্বরে এটি মুক্তির কথা রয়েছে।   অভিনয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ বেশ কিছু সম্মাননা জমা পড়েছে ধর্মেন্দ্রর ঝুলিতে। ১৯৯০ সালে ‘ঘায়েল’ সিনেমার জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন ধর্মেন্দ্র। ২০১২ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার পান। ২০০৪ সালে লোকসভায় বিকানেরের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাছাড়া অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন এই অভিনেতা। তবে পুরস্কার ধর্মেন্দ্র একবার বলেছিলেন—“আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার সাধারণ মানুষের হাসিমুখ।”