আসিফের মন্তব্যের জবাব দিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ওমর সানী

আসিফের মন্তব্যের জবাব দিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ওমর সানী দেশের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। গত বছরের শেষের দিকে একটি পডকাস্টে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে চিত্রনায়ক ওমর সানীকে ‘সহজ-সরল’, ‘চাপ বিক্রেতা’ এবং ‘নারী শাসিত পুরুষ’ বলে মন্তব্য করেন আসিফ। তারপর এ নিয়ে তৈরি হয় আলোচনা। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ওমর সানী। এ ঘটনার পর কেটে গেছে বেশ খানিকটা সময়। একই পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছেন ওমর সানী। এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক বলেন, এর আগে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর এই পডকাস্টে এসে আপনার দোষ-গুণ নিয়ে কথা বলেছিলেন। আপনাকে ‘সহজ-সরল’ মানুষ বলেছিলেন, পাশাপাশি কিছু সমালোচনাও করেছিলেন। এ বিষয়ে আপনার মতামত জানতে চাই জবাবে ওমর সানী বলেন, “সে আমাকে যথেষ্ট পরিমাণে ‘সরি’ বলেছে এবং এসব কথা বলা উচিত হয় নাই বলেও জানিয়েছে। তার ছোট ছেলের জন্য দোয়া করতে বলেছে। ছোট ছেলের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছিল। ও আমাকে ভয়েস ওভার পাঠিয়েছিল। আমি বাংলাদেশে থাকলে ওর ছেলের বিয়েতে যেতাম; আমি ওর ছেলের জন্য দোয়া করি। আসিফ আকবরের সঙ্গে এই তর্ক-বিতর্কের অবসান চান ওমর সানী। তার ভাষায় “আগেও বলেছি, এখনো বলছি, চেয়ারের গরমের কারণে কাউকে কিছু দেওয়া (বলা) উচিত না। আমার মনে হয়, এটা এখানেই ফুল স্টপ হয়ে যাক। ওর ব্যাপারে আমি কোনো মন্দ কথা বলব না। এটুকু বলব, ওর জন্য দোয়া করি। ওর দুটো ছেলে আছে, মেয়ে আছে, স্ত্রী আছে ওরা সবাই ভালো থাকুক। আমি দোয়া করি, এ ধরনের কথাবার্তা থেকে যেন আল্লাহ পাক ওকে নিস্তার দেন। ওমর সানীর এই বক্তব্যের ভিডিও এখন ছড়িয়ে পড়েছে অন্তর্জালে। বিনয়ী বক্তব্যের কারণে ভূয়সী প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ওমর সানী। জ্যোতির্ময় তালুকদার লেখেন, “কুকুরের কাজ কুকুর করেছে, কামড় দিয়েছে পায়, তাই বলে কি কুকুরকে কামড়ানো মানুষের শোভা পায়? ধন্যবাদ ওমর সানী সাহেব!” ফরহাদ আব্দুল্লাহ লেখেন, “ভালো মানুষের উত্তর এমনই হয়, ওমর সানী ভাইর প্রতি ভালোবাসাটা বেড়ে গেল। আরেকজন লেখেন, “ওমর সানী একজন ভালো মানুষ।” মুহাম্মদ আইয়াস লেখেন, “ধন্যবাদ। বড় ভাইয়ের কাজ করছেন সানী ভাই।” লাভলী ইয়াসমীন লেখেন, “বাহ! দারুণ বলেছেন।” এমন অনকে মন্তব্য শোভা পাচ্ছে কমেন্ট বক্সে।

অবসরের পরিবর্তে যা চাইলেন অমিতাভ

অবসরের পরিবর্তে যা চাইলেন অমিতাভ বলিউডের কিংবদন্তী অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। এদিকে বয়সের চাকা আশি পেরিয়েছে বেশ আগে। শরীর সায় না দিলেও মনের জোরে আজও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যান তিনি। দীর্ঘ ছয় দশকের অভিনয় জীবনে কতই না চড়াই-উতরাই দেখেছেন। বড় পর্দা থেকে ছোট পর্দা, এমনকি আধুনিক ওটিটি বা সোশ্যাল মিডিয়া সব মাধ্যমেই তিনি সমান জনপ্রিয়। কিন্তু দীর্ঘ এই পথচলার শেষে এসে এক গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করলেন এই কিংবদন্তি। সম্প্রতি নিজের ব্লগে অমিতাভ জানিয়েছেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তন এবং নতুন নতুন মাধ্যমের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া কতটা কঠিন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে আমূল পরিবর্তনের এই নিরন্তর চেষ্টা তাকে মাঝে মাঝে ক্লান্ত করে তোলে। তবুও তিনি থেমে থাকেননি; আধুনিক সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এই বদলে যাওয়া সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিতে গিয়ে তাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হচ্ছে। তার আক্ষেপ যদি এই পরিবর্তনের শিক্ষা বা কারিগরি জ্ঞান তিনি আরও আগে অর্জন করতে পারতেন, তবে পথচলাটা হয়তো আরও সহজ হতো। জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (কেবিসি) থেকে শুরু করে ব্লগিং বা টুইটার সবখানে অমিতাভকে অ্যাক্টিভ দেখা গেলেও পর্দার পেছনের লড়াইটা সহজ ছিল না। তিনি মনে করেন, সময়ের সাথে তাল মেলানোটা এখনকার প্রজন্মের জন্য যতটা সহজ, তার মতো সিনিয়রদের জন্য ততটাই চ্যালেঞ্জিং। আর এই দেরি করে শেখার বিষয়টিই তাকে পোড়ায়। ৮৩ বছর বয়সেও অমিতাভ বচ্চন কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত। তবে এই নিরন্তর পরিবর্তনের চাপে মাঝে মাঝে যে তিনি হাঁপিয়ে ওঠেন, সেটাই ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তার লেখনীর মাধ্যমে।

এক শর্তে ডন করবেন শাহরুখ

এক শর্তে ডন করবেন শাহরুখ জনপ্রিয় বলিউড ছবি ‘ডন’-এর পরবর্তী কিস্তিতে রণবীর সিংয়ের অভিনয়ের কথা ছিল। সেভাবেই চলছিল প্রস্তুতি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে ‘ডন থ্রি’ থেকে সরে দাঁড়ান রণবীর। দর্শকমহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তাহলে কে হবে ডন? এ অবস্থায় জানা গেছে, নিজ ভূমিকায় ফিরতে পারেন স্বয়ং শাহরুখ খান। তবে এক শর্তে! শাহরুখের শর্ত, ‘জওয়ান’ ছবির পরিচালক অ্যাটলি কুমারকে ছবির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। যদিও এখন পর্যন্ত শাহরুখের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি হয়নি নির্মাতাদের। এমন কি এই শর্ত নিয়ে ‘ডন’ সিরিজের পরিচালক ফারহান আখতারও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। ১৯৭৮ সালে প্রথম মুক্তি পায় চন্দ্র ভরত পরিচালিত ‘ডন’। ওই ছবিতে ‘ডন’ হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন। এরপর ২০০৬ সালে ‘ডন: দ্য চেজ বিগিনস এগেইন’ এবং ২০১১ সালে ‘ডন ২: দ্য কিং ইজ ব্যাক’-এ অভিনয় করেন শাহরুখ খান। শেস দুই ছবির পরিচালক ছিলেন ফারহান আখতার। গত বছর নির্মাতারা ‘ডন থ্রি’র ঘোষণা দেন। শাহরুখের জায়গায় ঘোষণা করা হয় রণবীর সিংয়ের নাম। সম্প্রতি ছবি থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এরই মধ্যে তার অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ গ্যাংস্টার ঘরানায় ছবি হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে। আবারও ওই একই ঘরানায় আসতে চান না তিনি। বরং সঞ্জয় লীলা বানসালির মতো নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ তার! জানা গেছে, রণবীরের মতোই কিয়ারা আদভানিও সরে দাঁড়িয়েছেন ‘ডন’ থেকে। ছবিতে তার জায়গায় নেওয়া হতে পারে কৃতি শ্যাননকে। এ ছাড়া খলনায়ক চরিত্রে বিক্রান্ত ম্যাসি ও বিজয় দেবরাকোন্ডাকে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা দুজনই তা ফিরিয়ে দেন।

জোভানের সঙ্গে পাগল বেশে ভাইরাল কে এই অভিনেত্রী

জোভানের সঙ্গে পাগল বেশে ভাইরাল কে এই অভিনেত্রী প্রথম দেখায় যে কেউই বিভ্রান্ত হতে পারেন পাগল ভেবে। উস্কোখুস্কো চুল, ময়লা পোশাক আর মুখভর্তি ধুলোমাখা চেহারায় একটি ভিডিওতে এমনই এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর উপস্থিতি চোখে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। ভিডিওর শুরুতে বুঝতে না পারলেও একটু পরেই চমকে উঠছেন নেটিজেনরা। কারণ সেই ভিডিওতে হঠাৎ করেই হাজির হন জনপ্রিয় অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান। এতেই তৈরি হয় কৌতূহল প্রথম দেখায় ঘটনার বিষয়বস্তু ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে শনাক্ত করা বেশ কঠিন। পরে জানা যায়, এটি কোনো বাস্তব ঘটনা নয় বরং একটি নাটকের শুটিংয়ের দৃশ্য। জোভানের সঙ্গে পাগল বেশে ভাইরাল নারীটি কেয়া পায়েলই। সম্প্রতি এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন জোভান নিজেই। ভিডিওতে দেখা যায়, কেয়া পায়েল একজন ভবঘুরে কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। একপর্যায়ে তাকে উচ্চস্বরে বলতে শোনা যায়, কেউ নাকি তার দিকে বল ছুড়ে মেরেছে। আর সে এর বিচার চায়। ঠিক তখনই মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে পৌঁছান জোভান। তাকে দেখেই কেয়া তেড়ে যান এবং অদ্ভুত আচরণ করতে থাকেন। ভিডিওটি শেয়ার করে মজার ছলে জোভান ক্যাপশনে লেখেন, ‘ছেমরি পাগল নাকি? আমারে কয় খাইয়া লাইবো!’ ভিডিও প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেক ভক্ত মন্তব্য করেছেন, প্রথম দেখায় তারা কেয়া পায়েলকে চিনতেই পারেননি। একজন লিখেছেন, ‘বাপরে বাপ, কী মারাত্মক অভিনয়!’ অন্য একজন মন্তব্য করেন, ‘মানিয়েছে, একদম পারফেক্ট মেকআপ।’সব মিলিয়ে কেয়ার এই ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়, মেকআপ ও চরিত্রের প্রতি তার একাগ্রতা নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি নতুন নাটকের অংশ, যেখানে কেয়ার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন ফারহান আহমেদ জোভান। তবে নাটকটির নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

বক্স অফিসে কত টাকা আয় করল ‘দ্য রাজাসাব’?

বক্স অফিসে কত টাকা আয় করল ‘দ্য রাজাসাব’? আলোচিত ‘দ্য রাজাসাব’ সিনেমা দিয়ে ২০২৬ সাল শুরু করেছেন তারকা অভিনেতা প্রভাস। মারুতি নির্মিত এ সিনেমা গত ৯ জানুয়ারি থেকে বিশ্বের ৩ হাজার ২০০ পর্দায় প্রদর্শিত হচ্ছে। ফ্যান্টাসি হরর-কমেডি ঘরানার সিনেমাটি তেলেগু, তামিল, কন্নড়, মালায়ালাম ও হিন্দি ভাষায় মুক্তি পেয়েছে।  মুক্তির পরই সমালোচকদের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করে সিনেমাটি। দুর্বল চিত্রনাট্য, বিষয়বস্তুর অভাব, যুক্তিহীনভাবে গল্প টেনে নেওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। যদিও প্রভাসের অভিনয় প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ডেকান ক্রনিকলের বি.ভি.এস. প্রকাশ সিনেমাটিকে পাঁচে রেটিং দিয়েছেন দুই। এটিকে হালকা গল্প, সেকেলে হাস্যরস অসামঞ্জস্যপূর্ণ নির্মাণশৈলী বলে মন্তব্য করেছেন। ‘দ্য রাজাসাব’ নিয়ে সমালোচকেরা কড়া সমালোচনা করলেও বক্স অফিসে শুরুটা দারুণ। তারপর ওঠানামার মধ্য দিয়ে যায় আয়ের গ্রাফ। যদিও এখন তা নিম্নমুখী। বলি মুভি রিভিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মুক্তির প্রথম দিয়ে সিনেমাটি আয় করেছে ৫৪ কোটি রুপি (নিট), দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ২৫ কোটি রুপি (নিট), তৃতীয় দিনে আয় করেছে ২০ কোটি রুপি, চতুর্থ দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি। পঞ্চম দিনে আয় করেছে ৫ কোটি রুপি (নিট), ৬ষ্ঠ দিনে আয় করেছে ৫ কোটি রুপি, সপ্তম দিনে আয় করেছে ৬ কোটি রুপি, অষ্টম ও নবম দিনে যথাক্রমে আয় করেছে ৩.২৫, ৩ কোটি রুপি। ভারতে সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১২৯.২৫ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় ১৯৭.৯ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬৬.৭২ কোটি টাকার বেশি। তবে স্যাকনিল্কের প্রতিবেদনে আয় খানিকটা কম। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ৯ দিনে ‘দ্য রাজাসাব’ সিনেমা ভারতে আয় করেছে ১৩৬.৬১ কোটি রুপি (নিট)। বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১৯৩ কোটি রুপি (গ্রস)। বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৬০ কোটি ১২ লাখ টাকা। প্রভাস ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় দত্ত, নিধি আগরওয়াল, মালবিকা মোহনান, ঋদ্ধি কুমার প্রমুখ। সিনেমাটিতে ‘বেসি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিধি আগারওয়াল। এটি তার জীবনের অন্যতম বিশেষ সিনেমা। এ অভিনেত্রী বলেন, “শুটিং সেটে যে আনন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য পেয়েছি, তা আগে কখনো পাইনি।” ৪০০ কোটি রুপি বাজেটের এ সিনেমা প্রযোজনা করেছেন টি. জি. বিশ্ব প্রসাদ। মুক্তির আগে ‘দ্য রাজাসাব’ সিনেমা আয় করেছে ২০৭ কোটি রুপি।

ভালোবাসা দিবসে ধানুশকে বিয়ে করছেন ম্রুণাল?

ভালোবাসা দিবসে ধানুশকে বিয়ে করছেন ম্রুণাল? ২০২৫ সালের শুরু থেকেই ম্রুণাল ঠাকুর ও ধানুশের প্রেমের গুঞ্জন চলছিল। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে সেই গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলে ম্রুণাল। এই অভিনেত্রী জানান, ধানুশ তার কাছে ‘শুধুই একজন ভালো বন্ধু’। নতুন করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন ম্রুণাল ঠাকুর ও ধানুশ। গুঞ্জন অনুযায়ী, এই বিয়ে হবে একেবারেই ব্যক্তিগত পরিসরে, যেখানে থাকবেন কেবল পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা। তবে এই বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই অভিনয়শিৈল্পী বা তাদের টিমের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ‘সন অব সরদার ২’-এর বিশেষ প্রদর্শনীতে হাজির হয়েছিলেন ধানুশ। তখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, ম্রুণালের জন্যই চেন্নাই থেকে মুম্বাই উড়ে এসেছেন ধানুশ। এ বিষয়ে ম্রুণাল বলেছিলেন, ধানুশ ‘সন অব সরদার ২’-এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে এটা নিয়ে কেউ যেন ভুল না বোঝেন। তাকে আমি নই, আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অজয় দেবগন। এ ছাড়া ধানুশের ‘তেরে ইশ্ক মে’-এর সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও ম্রুণাল তার সিনেমার র‍্যাপআপ পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন, যা নিয়েও অনুরাগীরা নানা প্রশ্ন তোলেন। ১ আগস্ট ম্রুণালের জন্মদিনের পার্টিতেও উপস্থিত ছিলেন ধানুশ। ধানুশ এর আগে ২০০৪ সালে অভিনেতা রজনীকান্তর কন্যা নির্মাতা ঐশ্বরিয়া রজনীকান্তকে বিয়ে করেন। ২০২২ সালে তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত ও ২০২৪ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

ছেলেকে পর্দায় নিয়ে আসবেন প্রসেনজিৎ?

ছেলেকে পর্দায় নিয়ে আসবেন প্রসেনজিৎ? স্বজনপোষণ বিতর্কে বারবার বলিউডের একাধিক তারকার নাম উঠে এসেছে। সেই আলোচনার বাইরে নেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টলিউডও। তারকা-সন্তানেরা মা-বাবার পথ অনুসরণ করলেই অনেক সময় ধেয়ে আসে কটাক্ষের ঝড়। প্রশ্ন ওঠে যোগ্যতা আর পরিশ্রমের মানদণ্ড নিয়েও।  অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে তৃষাণজিৎ ওরফে মিশুককে নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শোনা যাচ্ছে, বাবার মতোই অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চলেছেন তিনি। তারকা-সন্তান হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার আগেই তাকে ঘিরে কৌতূহল, প্রত্যাশা ও সমালোচনা, সবই দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রসেনজিৎ। তিনি জানান, ছেলে মিশুক এখন অভিনেতা হয়ে ওঠার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। ছেলের স্বপ্নপূরণে তিনি পাশে থাকলেও, পর্দায় হাতেখড়ির ক্ষেত্রে তারকা বাবার কোনও রকম হস্তক্ষেপ থাকবে না।  অভিনেতার কথায়, ও যদি অভিনেতা হতে চায়, ওকেও আর দশজন অভিনেতার মতোই ওই জার্নিটার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যেটা ও করছে। মুম্বাই যাচ্ছে, ভালো ভালো মানুষদের কাছে সাতদিন-আটদিন করে ওয়ার্কশপ করছে। প্রসেনজিৎ জানান, ইতোমধ্যেই অভিনেতা হিসাবে পরিণত হওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছেন মিশুক। নিজেকে সব দিক থেকেই প্রস্তুত করছেন তিনি। অভিনেতা বলেন, এই জায়গাটা খুব কঠিন। শুধু ভাগ্যের উপর নির্ভর করে কিছু হয় না। তাই ও প্রস্তুত হোক। যেদিন ও বুঝবে, ও ওর মতো করে আসতে পারবে, আসবে। আমি ওকে বলে দিয়েছি, এই জায়গাটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র। লড়াই করতে হবে। এর মধ্যে ভালো থাকবে, মন্দ থাকবে। তোমাকে লড়াই করতে হবে। পূজায় মুক্তি পাওয়া ‘দেবী চৌধুরাণী’র সাফল্যের পর নতুন সিনেমা নিয়ে বড়পর্দায় ফিরছেন প্রসেনজিৎ। আবারো জনপ্রিয় চরিত্র ‘কাকাবাবু’র ভূমিকায় তাকে দেখা যাবে। চলতি মাসেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘বিজয়নগরের হীরে’। আপাতত তারই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অভিনেতা।

বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী এখন জোয়ি সালডানা

বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী এখন জোয়ি সালডানা বৈচিত্রময় সব চরিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকের মন জয় করে চলেছেন। এবার লিখলেন দারুণ এক ইতিহাস। সবশেষ জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ দিয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন অভিনেত্রী জোয়ি সালডানা। তিনিই এখন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যবসাসফল অভিনয়শিল্পী প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তিনটি সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমায় অভিনয় করেছেন সালডানা। সেগুলো হলো- ২০০৯ সালের ‘অ্যাভাটার’, ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ও ২০২২ সালের ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’। এছাড়া তিনি প্রথম নারী অভিনেত্রী যিনি চারটি ছবিতে দুটি বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়্যার’ ছবিটি। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে গ্যামোরা চরিত্রে তিনটি ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জোয়ি সালডানা। পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ ট্রিলজিতে তিনি অভিনয় করেছেন নিয়োটা উহুরা চরিত্রে, যে সিরিজের মোট আয়ও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সালডানার সিনেমাগুলোর মোট আয় ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি, তখন তিনি ছিলেন স্কারলেট জোহানসন ও স্যামুয়েল এল জ্যাকসনের পর তৃতীয় স্থানে। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ একাই আয় করেছে ১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে একলাফে শীর্ষে তুলে এনেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালডানা একটি ভিডিও পোস্ট করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‌‘আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, এই অসাধারণ যাত্রার জন্য যা আমাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেত্রী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এই অর্জন সম্ভব হয়েছে আমি যেসব প্রকল্পে কাজ করেছি সেগুলোর অসাধারণ টিম এবং পরিচালকদের জন্য। ‘স্টার ট্রেক’ পরিচালক জে. জে. অ্যাব্রামস, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ পরিচালক জো ও অ্যান্থনি রুসো, ‘গার্ডিয়ানস’ পরিচালক জেমস গানের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ‘অ্যাভাটার’-এর জেমস ক্যামেরনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আপনাদের বিশ্বাস এবং দিকনির্দেশনা কেবল এই ছবিগুলোকেই নয়, আমাকে একজন শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে।’ভক্তদের উদ্দেশ্যে সালডানা বলেন, ‘আপনারা ছাড়া এই অর্জন সম্ভব হতো না। এই সাফল্য আমাদের সকলের। আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’একইসঙ্গে পরবর্তী রেকর্ড ভাঙার ব্যক্তি আবার একজন নারীই যেন হন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সাল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে ছিল স্মরণীয়। মার্চে তিনি ‘এমিলিয়া পেরেজ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন। এর মাধ্যমে তিনি হন প্রথম ডোমিনিকান-আমেরিকান অভিনেত্রী, যিনি একাডেমি পুরস্কার জিতেছেন।জাক অদিয়ার পরিচালিত এই সংগীতধর্মী ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়। এরপর সালডানা জিতে নেন স্যাগ অ্যাওয়ার্ড, বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব ও ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ড-পুরো মৌসুমেই ছিল তার একচ্ছত্র দাপট। ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এ সালডানা আবার ফিরেছেন নাভি যোদ্ধা নেইতিরি চরিত্রে। মানব থেকে নাভি হয়ে ওঠা নেতা জেক সালির (স্যাম ওয়ারথিংটন) সঙ্গে নেইতিরির সম্পর্কই এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল আবেগ। নীল রঙের, আট ফুট লম্বা এই চরিত্রে রূপ দিতে ব্যবহৃত হয়েছে জেমস ক্যামেরনের উদ্ভাবিত পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তি। সালডানা বলেন, ‘এই জগৎ এত বাস্তব মনে হয়, কারণ অভিনয়টাই জিমের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারফরম্যান্স ক্যাপচার আমাদের সব মনোযোগ আর আবেগ দৃশ্যের ভেতর ঢেলে দেওয়ার সুযোগ দেয়। জোয়ি সালডানাকে আবার দেখা যাবে ‘অ্যাভাটার ৪’ (ডিসেম্বর ২০২৯) ও ‘অ্যাভাটার ৫’-এ (ডিসেম্বর ২০৩১)। অর্থাৎ বক্স অফিসে তাঁর আধিপত্য আরও বাড়বে-এটা বলাই যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্যাসাইকে জোয়ি সালডানার জন্ম। তার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে। পুয়ের্তো রিকান মা ও ডোমিনিকান বাবার ঘরে জন্ম নেওয়া তিনি ও তার দুই বোন ঘরে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে বড় হয়েছেন। তবে তার বয়স যখন মাত্র ৯, তখন এক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবার মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারসহ তিনি ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে চলে যান। সেখানে ইকোস এস্পাসিও দে দান্সা নৃত্যশালায় নৃত্যের প্রশিক্ষণ নেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি আবার নিউ ইয়র্কে ফিরে আসেন এবং যুব থিয়েটার দলগুলোর সঙ্গে অভিনয় শুরু করেন। ২০০৯ সালটা ছিল জোয়ি সালডানার ক্যারিয়ারে মোড় ঘোরানো বছর। ওই বছরই তিনি একসঙ্গে দুটি আইকনিক চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান। প্রথমত, জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজের চরিত্রগুলোকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা সিনেমা ‘স্টার ট্রেক’-এ তিনি লেফটেন্যান্ট উহুরার চরিত্রে অভিনয় করেন। একই বছরে মোশন ক্যাপচার প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি জেমস ক্যামেরনের বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘অ্যাভাটার’-এ নেইতিরি চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। এরপর কেবলই নতুন নতুন সাফল্যে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।  

‘কিং’ মুক্তির আগেই আইএমডিবির শীর্ষে

‘কিং’ মুক্তির আগেই আইএমডিবির শীর্ষে তিন বছর পর সিনেমায় প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। চলতি বছরেই এ অভিনেতার বহুল আলোচিত ছবি ‘কিং’ মুক্তি পেতে চলেছে। তবে প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই নতুন করে কীর্তি গড়ল সিনেমাটি। সেটা হল, চলতি বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমাগুলো নিয়ে একটি তালিকা করেছে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তথ্যভাণ্ডার ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ (আইএমডিবি)। এই তালিকারই শীর্ষস্থান দখল করেছে ‘কিং’। আইএমডিবি থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাপী দর্শকদের প্রকৃত আগ্রহ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রতি মাসে প্ল্যাটফর্মটিতে আসা প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর পেজভিউ বিশ্লেষণ করে এই র‍্যাংকিং করা হয়, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতীয় সিনেমার প্রতি দর্শকের বাড়তি আগ্রহকেই প্রতিফলন করে। ২০২৬ সালের বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমার যে তালিকা আইএমডিবি প্রকাশ করেছে সেখানে মোট ২০টি ছবি জায়গা করে নিয়েছে। মোট পাঁচটি ভাষায় নির্মিত এই ছবিগুলোর মধ্যে অর্ধেকই আবার হিন্দি ভাষার। আর তেলেগু ভাষার সিনেমা রয়েছে পাঁচটি, তামিল ভাষার তিনটি এবং মালয়ালম ও কন্নড় ভাষার একটি করে সিনেমা স্থান দখল করেছে। তালিকায় সবার উপরে রয়েছে শাহরুখ খানের ‘কিং’। এরপর দ্বিতীয় স্থানে আছে নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ও রণবীর কাপুর অভিনীত ‘রামায়ণ পার্ট ১’। তৃতীয় স্থানে আছে এইচ ভিনোথ পরিচালিত থালাপতি বিজয় অভিনীত মুক্তির শঙ্কায় থাকা আলোচিত ছবি ‘জন নায়াগন’। চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে প্রভাস অভিনীত ও সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত ‘স্পিরিট’। আর পঞ্চম স্থানে গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন যশ। এ সিনেমাটি ইতোমধ্যেই প্রকাশিত টিজার দিয়েই নেটদুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এদিকে, ২০২৩ সালের দুই ব্লকবাস্টার সিনেমা মুক্তির পর আবারও বিগ বাজেটের ছবি দিয়ে রুপালি পর্দায় ফিরতে যাচ্ছেন শাহরুখ। তার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীরাও কতটাও উচ্ছ্বসিত সেটা আইএমডিবির তালিকা থেকেই স্পষ্ট। এবারও কি বক্স অফিসে ঝড় তুলবেন বলিউডের কিং? সেটা সময়ই বলে দিবে।

‘সুলতানাস ড্রিম’ সিনেমায় কী আছে

‘সুলতানাস ড্রিম’ সিনেমায় কী আছে বাঙালি মুসলমান নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার কালজয়ী রচনা ‘সুলতানার স্বপ্ন’ অবলম্বনে নির্মিত অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘সুলতানাস ড্রিম’ এবার বাংলাদেশের দর্শকদের সামনে আসছে। নারী অধিকার, কল্পনা ও মুক্তচিন্তার এক অনন্য ভুবন নিয়ে তৈরি সিনেমাটি আগামী ১৬ জানুয়ারি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে। অনগ্রসর বাঙালি সমাজে নারীদের অবহেলার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন-নারীরা নিজেদের অধিকারে মাথা তুলে দাঁড়াবে-সেই ভাবনাকেই গল্পের মূল উপজীব্য করেছেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। স্প্যানিশ ভাষায় নির্মিত ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই অ্যানিমেশন সিনেমার মূল নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’, যার ইংরেজি শিরোনাম ‘সুলতানাস ড্রিম’। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ সান সেবাস্তিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার হয়। এরপর ইউরোপিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, গোয়া ফেস্টিভ্যাল, ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে সিনেমাটি। উল্লেখ্য, ১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত ‘সুলতানাস ড্রিম’ তৎকালীন ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাংলায় নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একটি বৈপ্লবিক কল্পকাহিনি হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে ১৯২২ সালে বেগম রোকেয়া নিজেই কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মাধ্যমে গ্রন্থটি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে বাংলায় অনুবাদ করেন। এই গল্পের সঙ্গে নিজের পরিচয়ের কথাও জানিয়েছেন নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০১২ সালে দিল্লি সফরের সময় প্রবল বৃষ্টিতে একটি আর্ট গ্যালারিতে আটকে পড়েন তিনি। সেখানেই তার হাতে আসে ‘সুলতানাস ড্রিম’ বইটি। ইসাবেলের ভাষায়, ‘এত বছর আগে লেখা একটি বই, যেখানে নারীদের জন্য কল্পিত এক ভিন্ন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখানো হয়েছে-পড়ে আমি বিস্মিত হই। প্রথম দেখাতেই প্রেমে পড়ার মতো। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে সিনেমা বানাবো। সুলতানাস ড্রিম’ ইসাবেল হারগুয়েরার প্রথম ফিচার ফিল্ম। জিয়ানমার্কো সেরার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এর চিত্রনাট্য লিখেছেন। সিনেমাটিতে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও বাস্কসহ একাধিক ভাষার ব্যবহার রয়েছে। এতে কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গানও রয়েছে, যার সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ এবং কণ্ঠ দিয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য। স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন, সাহস ও প্রত্যয়ের গল্প নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে ভিন্নমাত্রিক শিল্পভাষায়।