আবারও আলোচনার কেন্দ্রে হানিয়া আমির

আবারও আলোচনার কেন্দ্রে হানিয়া আমির এক বছর পর নতুন ধারাবাহিকের মাধ্যমে টেলিভিশনে ফেলেছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। আরেক পাকিস্তানি সেনসেশন বিলাল আব্বাস খানের বিপরীতে ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ সিরিয়ালে দেখা যাচ্ছে তাকে। প্রচারের শুরু থেকেই দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল এই সিরিয়াল। পাকিস্তানের গণ্ডি পেড়িয়ে বাংলাদেশ ও ভারতেও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সিরিয়ালটি। বিরতির পরও যে হানিয়ার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি, তা আবারও প্রমাণ করেছেন তিনি। এর আগে ২০২৪ সালে ‘কাভি মে কাভি তুম’–এ অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছিলেন অভিনেত্রী। আইরা ও কাময়ার চরিত্রে এই নতুন জুটির পর্দার রসায়ন শুরু থেকেই দর্শকের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের অভিনয় ও রোমান্টিক মুহূর্ত নিয়ে প্রশংসা থামছে না। তবে সব প্রশংসার মধ্যেও কিছু সমালোচনা রয়েছে। গল্পের ধীরগতির উপস্থাপন ও অতিরিক্ত ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহারে একাংশ দর্শক মনে করছেন, চিত্রনাট্য আরও সংক্ষিপ্ত হলে সিরিয়ালটি আরও উপভোগ্য হতো। তবুও সব মিলিয়ে, ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’ এখন দর্শক মহলে আলোচনার শীর্ষে।

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানাতে চান রাফি

বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানাতে চান রাফি সত্য ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা ও ওয়েব ফিল্ম নির্মাণের জন্য খ্যাতি রয়েছে পরিচালক রায়হান রাফির। আগেও বেশকিছু বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে সিনেমা বানিয়ে হইচই ফেলেছেন গুণি এই নির্মাতা। এবার বহুল আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন রাফি। এমনটা নির্মাতা নিজেই জানিয়েছেন। সবশেষ ওটিটিতে রাফি পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’ মুক্তি পায়। ধারণা করা হয়ে থাকে, এটি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। যদিও বিষয়টি কখনোই সরাসরি স্বীকার করেননি তিনি। তবে সিনেমাটি মুক্তি দিতে কম কাঠ-খড় পোড়াতে হয়নি তাকে। প্রথমে ‘অমীমাংসিত’ মুক্তির সময় সেন্সর বোর্ড সিনেমাটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর এটি মুক্তির অনুমতি পায়। এদিকে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানানো প্রসঙ্গে রায়হান রাফি বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছে আছে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সিনেমা বানানোর। এতজন সেনাকে হত্যা করা হল, একের পর এক লাশ বের হল, গণকবর হল। ভেতরে কী ঘটনা ঘটেছিল তা এখনো পুরোপুরি জানি না। আরও তথ্য জানা গেলে তখন এ নিয়ে সিনেমা বানাব। সাহস থাকলে সত্য ঘটনা অবলম্বনে বারবার কাজ করা যায়। আমার লক্ষ্য হল, সমাজে একই ধরনের অন্যায় যেন পুনরায় না ঘটে, সেই সচেতনতা তৈরি করা। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সত্য ঘটনা অবলম্বনে কাজ করতে গিয়ে তাকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহে বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন।

লন্ডন মাতালেন সাগর বাউল

লন্ডন মাতালেন সাগর বাউল লন্ডনের কলোসিয়াম স্যুটে গেল ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ‘বাউল উৎসব লন্ডন-২০২৬’। বাংলা ক্রেজ ইউকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে শ্রোতাদের মাতালেন কণ্ঠশিল্পী সাগর বাউল। সাগর বাউল ছাড়াও আয়োজনে অংশ নেন কামরুজ্জামান রাব্বি ও বেলী আফরোজ। এছাড়াও ছিলেন লন্ডনপ্রবাসী বাঙালি শিল্পীরা। তাদের মধ্যে আছেন বাউল এম হোসেন, সাজ্জাদ নুর, বন্যা তালুকদার, বাউল ইকরাম উদ্দিন ও রানা এবং যৌথভাবে বাংলাদেশ-লন্ডনের শিল্পী হিসেবে পারফরম্যান্স করেন শারমিন দীপু। মূলত, এটি টিকিট শো হলেও প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে বলে জানান আয়োজকরা। সাগর বাউল বলেন, ‘দারুণ একটি শো শেষ করলাম। লন্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে গান পাগল সেটা আরেকবার প্রমাণিত হলো। বাংলা ক্রেজ ইউকের সিইও ফয়সাল আহমেদ ও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর শারমীন দীপুর অক্লান্ত পরিশ্রম আর আতিথেয়তার কথা না বললেই নয়। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে এখানকার দর্শকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। বিশেষ করে, বাংলা ক্রেজ ইউকে সংগঠনের সকল কলাকুশলীরা এই অনুষ্ঠানে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। বলা দরকার, লন্ডনে বসবাসরত বাঙালিরাই অনুষ্ঠানে যন্ত্রশিল্পী হিসেবে বাজিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তানিম, হাসান, রিজানসহ অনেকে।এদিকে, সাগর বাউল বিশ্বের ১৪টি দেশে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তবে সকল আয়োজনের মধ্যে লন্ডনের অনুষ্ঠানটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ লোকসংগীতের বিশাল এক প্রাণকেন্দ্র সিলেটের মানুষজন আর সেই সিলেটি মানুষের বিশাল একটি অংশ বসবাস করে লন্ডনে; যারা লোকগানের ভক্ত ও প্রচারক।

পারফর্মের সময় হেনস্তার শিকার মৌনী রায়

পারফর্মের সময় হেনস্তার শিকার মৌনী রায় ভারতের হরিয়ানায় একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে প্রকাশ্যে শারীরিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী মৌনী রায়। দর্শকদের মাঝ থেকে বয়স্ক ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন অভিজ্ঞতার শিকার বলেই অভিযোগ তার। এ ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। নিজের নিরাপত্তা ও নারী সম্মানের বিষয়টি সামনে এনে সামাজিক মাধ্যমে মৌনী রায় জানান, মঞ্চে ওঠার আগেই দুই বয়স্ক ব্যক্তি তার কোমরে হাত দিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করেন। মৌনী সরাসরি এর প্রতিবাদ জানিয়ে হাত সরাতে বললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পরে পারফরম্যান্সের সময় সামনের সারিতে থাকা ওই ব্যক্তিরা অভিনেত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, মৌনী তাদের সংযত হতে বললে তারা মঞ্চে গোলাপ ফুল ছুড়তে শুরু করেন। আয়োজকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন অভিনেত্রী। জানান, বিষয়টি এতটাই অস্বস্তিকর ছিল যে তিনি অনুষ্ঠান ফেলে চলে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পেশাদারিত্বের খাতিরে শেষ পর্যন্ত পারফর্ম করেন।মৌনী আরও বলেন, শিল্পীদের শিল্পের মাধ্যমেই মূল্যায়ন করা উচিত; এমন অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মৌনী রায় মূলত ছোট পর্দা থেকে ক্যারিয়ার শুরু করে বলিউডে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তার এই অভিযোগটি বর্তমানে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং নারী নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

হলিউডের ইতিহাস ওলটপালট-অস্কারে ১৬ মনোনয়ন সিনার্সের

হলিউডের ইতিহাস ওলটপালট-অস্কারে ১৬ মনোনয়ন সিনার্সের হলিউডের প্রায় শতবর্ষের ইতিহাস ওলটপালট করে দিয়ে অস্কারের ৯৭তম আসরে রেকর্ড ১৬টি মনোনয়ন বাগিয়ে নিয়েছে নির্মাতা রায়ান কুগলারের আলোচিত সিনেমা ‘সিনার্স’। গত বছর মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিস মাতানো এই চলচ্চিত্রটি কেন সমালোচকদের চোখে বছরের সেরা, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অথচ এই সিনেমাটি নির্মাণের শুরুতে খোদ হলিউড পাড়াতেই ছিল চরম সংশয়। মাত্র দুই মাসে লেখা চিত্রনাট্য আর ১০ কোটি ডলারের বিশাল বাজেট নিয়ে কুগলার যখন কাজ শুরু করেন, তখন অনেকেই এই প্রকল্পকে স্টুডিওর জন্য ‘আত্মঘাতী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ‘সিনার্স’ এখন অনন্য উচ্চতায়। ১৯৩০-এর দশকের জিম ক্রো যুগের দক্ষিণ আমেরিকার প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ভ্যাম্পায়ার হরর সিনেমাটি মূলত গভীর গবেষণালব্ধ কাজ। মিসিসিপি ডেল্টার লোককথা, দাসপ্রথা-পরবর্তী সংস্কৃতি এবং ব্লুজ সংগীতের ইতিহাসের এক অভাবনীয় মিশেল দেখা গেছে এতে। আইম্যাক্স ৭০ এমএম ফরম্যাটে ধারণ করা এই ছবিতে কুগলার কৃষ্ণাঙ্গ ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে এমন এক সময়ে তুলে এনেছেন, যখন এসব বিষয় রাজনৈতিকভাবে নানা বাধার সম্মুখীন। বিশেষ করে জুক-জয়েন্টের দৃশ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন ভাইরাল হয়েছে, তেমনি মার্কিন সংগীত ইতিহাসে এগুলোর গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সিনেমার সাফল্যের অন্যতম কারিগর মাইকেল বি. জর্ডান, যিনি এতে স্মোক ও স্ট্যাক নামের যমজ ভাইয়ের চরিত্রে দ্বৈত অভিনয় করেছেন। তাঁর নিখুঁত শারীরিক ভাষা ও কণ্ঠের পরিবর্তন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। পাশাপাশি হেইলি স্টেইনফেল্ড ও ডেলরয় লিন্ডোর অভিনয় ছবিটিকে দান করেছে এক বিশেষ গভীরতা। প্রচলিত সুন্দরের সংজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উনমি মোসাকুর উপস্থিতি হলিউডের দীর্ঘদিনের ছাঁচে ঢালা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। পর্দার পেছনের কারিগর কস্টিউম ডিজাইনার রুথ ই. কার্টার ও সেট ডেকোরেটর মনিক শ্যাম্পেন মিলে ১৯৩০-এর দশকের সেই জগতকে জীবন্ত করে তুলেছেন। বক্স অফিসে ৩৬৮ মিলিয়ন ডলার আয় করা এই সিনেমাটি গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে সফল মৌলিক চলচ্চিত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কোনো নামী ফ্র্যাঞ্চাইজি বা পরিচিত গল্পের ওপর ভিত্তি করে নয় বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব ঢঙে গল্প বলাতেই ‘সিনার্স’ আলাদা হয়ে উঠেছে। এটি একই সাথে হরর, মিউজিক্যাল, গ্যাংস্টার থ্রিলার এবং ঐতিহাসিক ড্রামা। পরিচালক রায়ান কুগলার একে তাঁর প্রয়াত মামার প্রতি এক ‘ভালোবাসার চিঠি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের অভূতপূর্ব সাড়া আর অস্কারের এই বিশাল স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, সৃজনশীল স্বাধীনতা আর শেকড়ের গল্প আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে সমাদৃত হতে পারে।

২০ টাকার সম্মানী থেকে চলচ্চিত্রের ইতিহাস- রাজ্জাকের পথচলা

২০ টাকার সম্মানী থেকে চলচ্চিত্রের ইতিহাস- রাজ্জাকের পথচলা বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে রাজ্জাক একটি আবেগের নাম, এক নির্ভরতার প্রতীক। অথচ তার শুরুটা ছিল নিতান্তই সাধারণ। ‘রতন লাল বাঙালি’ সিনেমায় একজন পকেটমারের ছোট্ট চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়েছিলেন তিনি। পরে ‘শিলালিপি’ ছবির একটি গানের দৃশ্যে অতিরিক্ত শিল্পী হিসেবে পেয়েছিলেন মাত্র ২০ টাকা সম্মানী। সেই সামান্য অর্থই বাড়িয়ে দিয়েছিল আত্মবিশ্বাস আর স্বপ্ন দেখার সাহস। তখন কেউ কল্পনাও করেননি, একদিন তিনিই হবেন বাংলা সিনেমার অবিসংবাদিত নায়ক। ১৯৪১ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার নাকতলা এলাকার এক জমিদার পরিবারে জন্ম রাজ্জাকের। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। সচ্ছল পরিবেশে বেড়ে উঠলেও অভিনয়ের প্রতি টান জন্ম নেয় স্কুলজীবনেই। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক শিক্ষকের অনুরোধে মঞ্চনাটকে অভিনয় করে নজর কাড়েন। সুদর্শন চেহারা ও সহজাত অভিনয়গুণে ধীরে ধীরে থিয়েটারপাড়ায় পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। সেখান থেকেই মাথায় ঢুকে পড়ে সিনেমার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন নিয়েই পাড়ি জমান তৎকালীন বম্বেতে। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। ফিরে আসেন কলকাতায়। জীবনের এই সময়েই তার জীবনে আসেন খায়রুন্নেসা—যিনি হয়ে ওঠেন তার শক্তি ও আশ্রয়। ২০ বছর বয়সে বিয়ে, এক বছরের মধ্যেই সন্তান লাভ। এর পরপরই শুরু হয় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। জন্মভূমি ছেড়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পূর্ব বাংলায় চলে আসেন রাজ্জাক। কমলাপুরে ৮০ টাকা মাসিক ভাড়ার বাসায় নতুন জীবনের শুরু। দেশান্তরিত হলেও স্বপ্ন ছাড়েননি। ঢাকায় থিয়েটার ও চলচ্চিত্রাঙ্গনের মানুষের খোঁজে ঘুরে বেড়ান তিনি। নির্মাতা আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে পরিচয় রাজ্জাকের জীবনে বড় মোড় এনে দেয়। তাঁর সহায়তায় কামাল আহমেদের ‘উজালা’ সিনেমায় সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রজগতে পা রাখেন রাজ্জাক। জীবিকার তাগিদে তখন টিভি নাটকে অভিনয় করতেন। সপ্তাহে আয় হতো ৬০–৬৫ টাকা, অথচ সংসারের খরচ ছিল প্রায় ৬০০ টাকা। সন্তানদের দুধ জোগাড় করতেই সব টাকা শেষ হয়ে যেত। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই উপোস থাকতে হয়েছে। সংগ্রামের মাঝেই ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা দিয়ে জায়গা করে নেন মূলধারার সিনেমায়। ১৯৬৫ সালে ‘আখেরি স্টেশন’ সিনেমায় সহকারী স্টেশনমাস্টারের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকার চলচ্চিত্রে তার আত্মপ্রকাশ। এরপর একের পর এক ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে করতে আসে জীবনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ সিনেমায় প্রথমবার নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রাজ্জাক। একসময়ের ‘এক্সট্রা’ রাতারাতি হয়ে ওঠেন দর্শকপ্রিয় নায়ক। ‘জীবন থেকে নেয়া’ সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন তিনি। সত্তর ও আশির দশকে রাজ্জাক হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত নায়ক। ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘রংবাজ’, ‘স্বরলিপি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘চাঁপা ডাঙ্গার বউ’, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’সহ অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাংলা সিনেমাকে নিয়ে যান নতুন উচ্চতায়। তাঁর রোমান্টিক উপস্থিতিতে মুগ্ধ হয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুটহীন সম্রাট। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও রেখেছেন সাফল্যের ছাপ। ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন রাজ্জাক। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার।

মেয়ের ছবি তুলতেই রেগে গেলেন বিপাশা

মেয়ের ছবি তুলতেই রেগে গেলেন বিপাশা ছবি শিকারিদের দৌরাত্ব্যে বিপর্যস্ত বলিউডের নায়ক-নায়িকারা। পরিবার-প্রিয়জনের সঙ্গে হোক বা সন্তানের সঙ্গে, তাদের দেখা গেলেই ক্যামেরা রীতিমতো তাক করে ‘এক্সক্লুসিভ’ ছবি বা ভিডিও পাওয়ার জন্য। আর তাতেই বিরক্তির মাত্রা এমন চরমে পৌঁছায় যে মাঝেমাঝেই তা নিয়ে গর্জে ওঠেন তারকারা। এবার সেই তালিকায় উঠে এলে বাঙালি কন্যা ও বলিউড নায়িকা বিপাশা বসুর। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে বান্দ্রায় মেয়ে দেবীকে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন বিপাশা। কোলে ছিল তার সন্তান। গাড়ি থেকে নামামাত্রই বিপাশার কোলে তার মেয়েকে দেখামাত্রই ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ঝলক দিয়ে ওঠে। তা বুঝতে পেরেই রীতিমতো মেজাজ হারান বিপাশা। ওই সময় রীতিমতো প্রতিবাদ করেন বিপাশা। মেয়ের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে ক্যামেরা থেকে আড়াল করে মুখে বিরক্তি নিয়ে বিপাশা ওই ফটোগ্রাফারকে বলেন, ‘কে আপনি?’ প্রশ্ন ছুড়েই তাড়াতাড়ি লিফটের দিকে পা বাড়ান তিনি। তার পিছনেই দেখা যায় তার স্বামী করণ সিং গ্রোভারকেও। ক্যামেরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনিও। বলে রাখা ভালো, এর আগে বিপাশাকে ক্যামেরাবন্দি করে তার আমূল পাল্টে যাওয়া চেহারা নিয়ে নানা ট্রোল ও মিম হয়েছে সামাজিকমাধ্যমে। সেক্ষেত্রেও একটা বড় ভূমিকা ছিল পাপারাজ্জিদের। ক্যামেরাবন্দি করা বিপাশার বিভিন্ন ভিডিও সেইসময় মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে পাপারাজ্জিদের থেকে সন্তানকে আড়াল করার এমন ঘটনা ঘটেছে দীপিকা পাড়ুকোনের ক্ষেত্রেও। মেয়ে দুয়াকে নিয়ে বিমানবন্দরে যাওয়ার সময় বিনা অনুমতিতে মেয়ে দুয়ার ছবি ক্যামেরাবন্দি করলে রীতিমতো বিরক্ত হয়েছিলেন দীপিকা।

আমি মন থেকে বিবাহিত

আমি মন থেকে বিবাহিত রিনা দত্ত, কিরণ রাওয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার পর বলিউড অভিনেতা আমির খানের একাকীত্ব নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। মাঝে অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখের সঙ্গে তার নাম জড়ালেও সেটি গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের নতুন সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করলেন আমির খান। প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন টিনসেল টাউনের আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ৬০ পেরিয়ে ৬১ বছরে পা রাখা এই অভিনেতা। গৌরীর সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে আমির বলেন, গৌরী ও আমি দুজনেই এই সম্পর্ককে খুব গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা পরস্পরের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার কথায় স্পষ্ট, এই সম্পর্ক কেবল আবেগের নয়, দায়িত্ব ও বিশ্বাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। আবেগপ্রবণ হয়ে আমির আরও বলেন, আমি মন থেকে ইতোমধ্যেই গৌরীর সঙ্গে বিবাহিত। তবে সামাজিক নিয়মকানুন কিংবা আনুষ্ঠানিক বিয়ের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি। আমিরের ভাষায়, বিয়ের মতো যে ধরনের নিয়মকানুন থাকে, সেগুলো সময়মতো আপনাদের জানাব। আমাদের সম্পর্কটা আরও কিছুটা সামনে এগিয়ে যাক। জানা গেছে, বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী গৌরী স্প্র্যাট পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে স্বাবলম্বী। তিনি এক পুত্রসন্তানের জননী। বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে আমির খানের সঙ্গে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন। দুজনের বয়সের ব্যবধান ১৪ বছর হলেও তাদের সম্পর্কের রসায়নে তা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

ট্রলিং নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী, চাইলেন সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা

ট্রলিং নিয়ে মুখ খুললেন বুবলী, চাইলেন সাইবার ক্রাইমের সহযোগিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমাগত ট্রলিংয়ের শিকার হন অভিনয়শিল্পীরা। এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম বুবলী। বিষয়টি নিয়ে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহযোগিতা চাইলেন তিনি।  সম্প্রতি একটি শোরুম উদ্বোধন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বুবলী বলেন, আমার কাছে খুব দুঃখ লাগে যে ইদানিং মেয়েরা মেয়েদেরকে বেশি ট্রলিং করে। অনেক হিজাব পরা নারী আছেন, বলতে বাধ্য হচ্ছি- তারাও অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ভিডিও বানাচ্ছেন। আমার মনে হয়, এটা আমাদের ইসলামকে অবমাননা করা। কারণ, আমাদের ইসলামে গিবত করাকে সবচেয়ে বেশি জঘন্য কাজ বলে গণ্য করা হয়। এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সহযোগিতা কামনা করে নায়িকা বলেন, শিল্পীদের দেশের বাইরে ছোট করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি মনে করি, দেশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দ্রুত এই বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এদিকে দ্বিতীয়বারের মতো মা হচ্ছেন বুবলী, এমন গুঞ্জন বাজারে ছড়িয়েছে। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রহস্য রেখেছেন তিনি। বলেছেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানুষের কৌতূহল থাকতেই পারে, আমি তাকে সম্মান করি। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আলাদা সময় ও উপলক্ষ থাকা প্রয়োজন।

সুখবর দিলেন সোনম কাপুর

সুখবর দিলেন সোনম কাপুর কাপুর পরিবারে আবারও খুশির জোয়ার। দুই বছর আগে পুত্রসন্তান বায়ুর আগমনের পর এবার দ্বিতীয় সন্তানের মা হতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেত্রী সোনম কাপুর। নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে বেবি বাম্পের ছবি শেয়ার করে এই ঘোষণা দেন অনিল-কন্যা। শুধু সুখবর দিয়েই থামেননি সোনম; বরাবরের মতো নিজের ফ্যাশন সেন্স দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনদের। সাধারণত গর্ভাবস্থায় ঢিলেঢালা পোশাকের চল থাকলেও সোনম বেছে নিয়েছেন সাহসের সঙ্গে শরীরের বাঁক ফুটিয়ে তোলা একটি ‘বডি-ফিটেড’ কালো পোশাক। বোন রিয়া কাপুরের স্টাইলিংয়ে সোনমের এই ‘ম্যাটারনিটি লুক’ ছিল আভিজাত্যে ভরপুর। হাই-নেক ক্রপ টপ, ডাবল কলার ব্লেজার আর পেন্সিল-ফিট ম্যাক্সি স্কার্টে তিনি যেন এক আধুনিক দেবীর প্রতিচ্ছবি।  উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আনন্দ আহুজাকে বিয়ে করেন সোনম। ২০২২ সালে তাদের কোলজুড়ে আসে প্রথম সন্তান বায়ু। বর্তমানে ৪০ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মাতৃত্বের স্বাদ নিতে যাওয়া এই অভিনেত্রী তার সাহসিকতা ও আভিজাত্যের জন্য অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন।