অরুণ চক্রবর্তী লাল পাহাড়ির দেশে র স্রষ্টা আর নেই
অরুণ চক্রবর্তী লাল পাহাড়ির দেশে র স্রষ্টা আর নেই চলে গেলেন বহুল জনপ্রিয় ‘লাল পাহাড়ির দেশে’ শিরোনামের গানের স্রষ্টা ভারতীয় কবি অরুণ চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গের চুঁচুড়ার ফার্ম সাইড রোডে নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই কবি, তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আনন্দবাজার অরুণ চক্রবর্তীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, শারীরিকভাবে ‘অশক্ত’ এই কবি শুক্রবার কলকাতার মোহরকুঞ্জে জঙ্গলমহল অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই কিছুটা ঠান্ডা লেগেছিল তার। কবির পুত্রবধূ সুদেষ্ণা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার ফুসফুসে সমস্যা ছিল। সকালে অরুণ চক্রবর্তীর মরদেহ চুঁচুড়া রবীন্দ্র ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তমঞ্চে মরদেহ রাখা হলে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনেকে। বহু কবিতা লিখলেও অরুণ চক্রবর্তীকে পরিচিতি এবং খ্যাতি এনে দিয়েছিল তার ‘লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙা মাটির দেশে যা’ গানটি। তার রচিত এই কবিতা পরে গান হয়ে লোকের মুখে মুখে ফিরেছে। এই গানে সুর দেন ঝুমুর শিল্পী সুভাষ চক্রবর্তী। কলকাতার বাগবাজারে ১৯৪৬ সালে জন্ম হয় অরুণের। পেশায় ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকরি করলেও ছিলেন পুরোদস্তুর কবি। থাকতেন চুঁচুড়ায়। অরুণের চর্চার বিষয় ছিল লোকসংস্কৃতি। কিছুটা বোহেমিয়ান জীবন পছন্দ করা এই কই ঘুরতেন পাহাড়, জঙ্গল ও আদিবাসী এলাকায়। তার পরনে থাকল লাল পোশাক, মাথায় বাঁধতেন রঙিন রুমাল। কবির কাঁধের ঝোলায় থাকত চকলেট। ছোটোদের দেখলে বা নতুন কারো সঙ্গে পরিচিত হলে হাত মিলিয়ে চকোলেট দিতেন।
বাংলাদেশি ছবিতে মিঠুন বিপরীতে থাকছেন মিমি

বাংলাদেশি ছবিতে মিঠুন বিপরীতে থাকছেন মিমি টালিউড কিংবা বলিউড সর্বত্রই আছেন কিংবদন্তি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সন্তান হোক বা শাস্ত্রী কিংবা কাবুলিওয়ালা—সব জায়গায় আছেন ফাটাকেষ্টখ্যাত এ অভিনেতা। নির্মাতারা যেন তাকে ছাড়ার পাত্র নয়, এখনো একাধিক ছবি আছে তার হাতে। এর মধ্যেই জানা গেছে হুমায়ূন আহমেদের গল্পে নতুন ছবিতে কাজ করবেন মিঠুন চক্রবর্তী। আনন্দবাজার সূত্রে জানা গেছে, মিঠুন চক্রবর্তীকে আগামীতে মানসমুকুল পালের ছবিতে দেখা যাবে। সহজ পাঠের গপ্পোখ্যাত পরিচালক এবার বাংলার শীর্ষ কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের একটি উপন্যাসকে ভিত্তি করে ছবি আনতে চলেছেন। তার বিপরীতে দেখা যাবে বাংলাদেশি অভিনেত্রী আফসানা মিমিকে। ভারতের জাতীয় পুরস্কার জয়ী এই পরিচালক চিত্রনাট্য লেখার আগে বাংলাদেশ ভ্রমণ করবেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ কেন? আসলে পরিচালক নিজে একবার উপন্যাসে থাকা জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে চান চিত্রনাট্য লেখার আগে। সেই বিষয়ে তিনি ভারতের একটি বাংলা গণমাধ্যমে বলেন, হুমায়ূন আহমেদের যে উপন্যাস অবলম্বনে চিত্রনাট্য লেখা শুরু করছি, তাতে বাংলাদেশের একাধিক জায়গা উল্লেখ রয়েছে। তাই ওখানকার ঢাকা, কিশোরগঞ্জসহ অন্যান্য জায়গায় যাওয়ার কথা আছে। সেই জায়গাগুলো নিজে গিয়ে দেখলে সেই উপলব্ধি আমার থাকবে, আর তাতে চিত্রনাট্য লেখার কাজও সহজ হবে। মানসমুকুল পাল বলেন, শুধু জায়গা পরিদর্শন নয়, বাংলাদেশে এসে অভিনেত্রী আফসানা মিমির সঙ্গেও দেখা করবেন তিনি। ছবির অনেকটা শুটিং বাংলাদেশে হবে। কিন্তু এখনই নয়; বর্তমানে তার হাতে আরও তিনটি ছবির কাজ রয়েছে। সে ছবিগুলো শেষ করে তবেই তিনি এই ছবির কাজে হাত দেবেন।
নজর কেড়েছেন তাহিয়া ছোটপর্দায়

নজর কেড়েছেন তাহিয়া ছোটপর্দায় ছোট পর্দার এই প্রজন্মের নবাগত অভিনেত্রী নওবা তাহিয়া। ইতিমধ্যে ভালো কিছু গল্পের নাটকে অভিনয় করে দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন। সম্প্রতি তার অভিনীত বেশ কিছু নাটক প্রচারিত হয়েছে। প্রথম নাটক পথিক সাধন রচিত ও পরিচালিত ‘আমার ঠিকানা তুমি’ ও অন্যটি সেজান নূর রচিত ও মোহন আহমেদ পরিচালিত ‘ভালোবেসে রেখো’। দুটি নাটকই অল্প সময়ের ব্যবধানে আলাদাভাবে দশ লাখেরও বেশি ভিউয়ার্স উপভোগ করেছেন। দুটি নাটকেই নওবার বিপরীতে অভিনয় করেছেন পার্থ শেখ। দুটি নাটকেই অনবদ্য অভিনয়ের জন্য বেশ সাড়া পাচ্ছেন এবং প্রশংসিত হচ্ছেন নওবা। নওবা তার সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘নাটক প্রকাশের পর থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। দুটি নাটকেরই গল্প এবং চরিত্র আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। অভিনয় করে আনন্দ পেয়েছি। ফলাফলও ভালো পেয়েছি। দর্শকের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সবসময় তারা আমার অভিনীত নাটক উপভোগ করেন এবং তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ধন্যবাদ জানাই নির্মাতা পথিক সাধন ভাইয়া ও মোহন আহমেদ ভাইকে। আমার সহশিল্পী পার্থ শেখ ভাইয়ার কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। আগামীতে আরো ভালো গল্পের নাটকে কাজ করার প্রত্যাশা রাখি। বিটিভিতে ছোটদের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি দিয়ে শুরু, এরপর বিটিভিতেই উপস্থাপনা। ২০২১ সালে বিটিভিতে প্রচারিত হয় তার প্রথম নাটক। এরপর থেকে নাটক ও বিজ্ঞাপনে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। ওয়েব ফিল্ম ‘পুনর্মিলনে’ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রশংসিত হন। এটা ছিল তার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এই ওয়েব ফিল্ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন অডিশন দিতে যাই, তখন সবাই বললেন, ‘‘তুমি একটু সিনথি চরিত্রটা করে দেখাও তো।’’ করে দেখানোর পর আরিয়ান ভাই বললেন,‘‘আমরা সিনথি পেয়ে গেছি।’’ তারপর সিনথি চরিত্রে অভিনয় করে আমি খুব প্রশংসা পেয়েছি ‘ মডেলিং, বিজ্ঞাপন, উপস্থাপনা এবং নাটকে নিয়মিত কাজ করে তিনি দর্শকের কাছে প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন। নওবা অভিনীত অন্যান্য আলোচিত নাটকের মধ্যে রয়েছে-‘সালিশ’, ‘মেঘফুল’, ‘প্রথম প্রেমের বানান ভুল’ (শর্টফিল্ম) সহ ‘বুনোহাঁস’, ‘বিসর্জন’, ‘বড্ড মায়া লাগে’, ‘সহযাত্রী’, ‘জেদ’ ইত্যাদি। অভিনয় দিয়ে এই কনিষ্ঠ অভিনেত্রী সবার মন জয় করে শোবিজ অঙ্গনে তারা হয়ে জ্বলজ্বল করতে চান।
বিয়ের পর বরকত বেড়ে গেছে বললেন নাদিয়া

বিয়ের পর বরকত বেড়ে গেছে বললেন নাদিয়া অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। চলতি বছরের জুন মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সালহা খানম নাদিয়া ও সালমান আরাফাত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিয়ের পরবর্তী সময় কেমন কাটছে ও বিভিন্ন বিষয়ে এ অভিনেত্রী কথা বলেছেন। বিয়ের পরবর্তী সময় নিয়ে নাদিয়া বলেন, ‘হানিমুনে যাওয়ার দুইদিন পর চলে আসছি আলহামদুলিল্লাহ আরও বরকত বেড়ে গেছে, দু’জন একসঙ্গে কাজ করছি। নাদিয়া জানান, ‘আমার মায়ের অনুপ্রেরণায় মিডিয়ায় পথচলা শুরু। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও শত্রু নেই, নাটকের হিরো হিসেবে মনির খান শিমুল ভাইকে বেশি ভালো লাগতো। এখন তো সে মেইনস্ট্রিম নাটকে কাজ করছে না। এরপর মিশু ভাই মোশাররফ ভাইকে ভালো লাগে। শাকিব খানের নায়িকা হয়ে কাজ করার অফার প্রসঙ্গে নাদিয়া বলেন, ‘এটা নির্ভর করবে সিনেমাতে আমার ক্যারেক্টার কেমন হবে, তার সঙ্গে কাজ করতে কোনও সমস্যা নেই। এছাড়া কলকাতায় কাজ করেছেন ‘সুনেত্রা সুন্দরম’ নামের একটি চলচ্চিত্রে। অভিনয়ের পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নাদিয়া। অভিনয়ের বাইরে যতটা সময় পান, সেখানেই দেন।
নতুন প্রেম নিয়ে পরীমণির ‘প্রাঙ্ক’

নতুন প্রেম নিয়ে পরীমণির ‘প্রাঙ্ক’ নভেম্বর ১৯, ২০২৪: কোনো না কোনো বিষয়ে হামেশাই সংবাদের শিরোনাম হন দেশের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি। সদ্যই ঘোষণা দিয়ে বসেছিলেন, নতুন করে প্রেমে পড়েছেন তিনি! আর তা অনুরাগীদের বিশ্বাস করতেও কতক্ষণ! স্বাভাবিকভাবেই তারা ধরে নিয়েছেন, সত্যিই বোধহয় নতুন সঙ্গী পেয়েছেন পরী। অবশ্য, অনুরাগীরাও একরকম ভুল বোঝেনি। সম্প্রতি এমন একটি ভিডিও সামনে এনেছিলেন নায়িকা, তা দেখলে যে কারও মনে হবে, প্রেমিকের সঙ্গে ছাড়া এমন কাজ সম্ভব না। তো কী ছিল সেই ভিডিওতে? যেখানে দেখা গেছে, চলন্ত গাড়িতে কারও হাতের ওপর হাত রেখেছেন নায়িকা পরীমণি। অনেকটা আলিঙ্গনরত মুহূর্তে যুগলরা যেভাবে একে অপরের হাত ধরে, ঠিক সেভাবেই। যদিও পাশে থাকা পুরুষটির চেহারা তখনও প্রকাশ্যে আনেননি পরী। সেই ভিডিও শেয়ার করে নায়িকা লিখেছেন, ‘হ্যাঁ! আমি আবারও প্রেমে পড়েছি।’ পোস্টটি শেয়ার করার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় শোরগোল। পরীকে রীতিমতো শুভকামনা জানাতে থাকেন তার অনুরাগীরা। জীবনের আরেকটি নতুন অধ্যায়ে পা দেওয়ায় অভিনন্দন বার্তায় ভরে ওঠে পরীর মন্তব্য ঘর। একদিকে অনুরাগীরা বিষয়টিকে যেমন ‘সিরিয়াস’ হিসেবে নিয়েছেন, অন্যদিকে একে একে সংবাদের শিরোনাম হয়ে উঠছিলেন পরীমণি। পরীর প্রেমে পড়ার বিষয়টি কারও কারও কাছে একটা ধোঁয়াশায়ও পরিণত হয়। কারও কারও আবার আগ্রহ জন্মায় পরীর বিপরীতের সেই পুরুষটিকে এক ঝলক দেখার। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়তেই হঠাৎ সেই ভিডিওটি আবার সামনে আনলেন পরীমণি। বোঝাতে চাইলেন, আদতে ভিডিওটি করা হয়েছিল ভক্তদের চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং মজার ছলে; তথা, পুরো বিষয়টি ছিল শুধুমাত্র একটি ‘প্র্যাঙ্ক’। পরে ভিডিওটির বাকি অংশটুকুতে তার সেই সঙ্গীকে দেখানো হয়। সেখানে তাদের হাসতে হাসতে ফেটে পড়তেও দেখা যায়। তাদের অট্টহাসির ধ্বনির মাত্রাই বুঝিয়ে দেয়, অনুরাগীদের বোকা বানিয়ে কতটা আনন্দিত তারা! ভিডিওর শেষের দিকে তাদের এও বলতে শোনা যায়, ‘গুজবে কান দেবেন না।’ আর সেই ভিডিওর ক্যাপশনে মজার ছলে প্রশ্ন রাখেন, ‘প্রাংক টা কি একটু বেশি হলে গেছিলো ?’ উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতেই পরীমণি জানিয়েছিলেন, তার পক্ষে নতুন সম্পর্কে জড়ানো সম্ভব না। জীবনে যা সহ্য করেছেন তারপর আর কারও সঙ্গে তিনি সম্পর্কে নিজেকে বাঁধবেন না। বলা যায়, অভিনেতা শরিফুল রাজের সঙ্গে ডিভোর্সের পর যখন নতুন করে জীবনে বাঁচা শুরু করলেন পরী, তখন বারবার তিনি এ কথাই জানিয়েছিলেন যে ছেলে এবং মেয়ে তার দুটি ডানা। পরীর আর নতুন সম্পর্কের দরকার নেই।
আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছে-দূর্ঘটনা থেকে ফিরে রুবেল

আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছে-দূর্ঘটনা থেকে ফিরে রুবেল নন্দিত নায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও, মার্শাল আর্ট নিয়ে তিনি ব্যস্ত সময় কাটান। দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ কারণে তাকে যেতে হয়। তেমনই এক কাজে আজ তিনি বরগুনার আমতলী যাচ্ছিলেন। সেখানে কারাতে একাডেমির আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন এই নায়ক। শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সমাদ্দার নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন রুবেলের সঙ্গে থাকা ২ জন। রুবেল বলেন, ‘‘আজ অল্পের জন্য বেঁচে গেছি। আমতলীতে কারাতে একাডেমির আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে আজ আমার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সকালে আমরা মাইক্রোবাসে সেখানে যাচ্ছিলাম। আমাদের গাড়ি চালক একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে দেখতে পান, সামনে থেকে দ্রুত গতিতে আরেকটি বাস আসছে। তখন উপায় না পেয়ে মাইক্রোবাসটি তিনি রাস্তার একপাশে নামিয়ে দেন। সেসময় একটি গাছের সঙ্গে সজোরে মাইক্রোবাসের ধাক্কা লাগে।” তিনি আরো বলেন, ‘‘দুর্ঘটনায় গাড়ির একপাশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ভাগ্য ভালো হওয়ায় আল্লাহ এই যাত্রায় আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তবে মাইক্রোবাসে থাকা সবাই কমবেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা একটু বেশি খারাপ। তারা মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।’’ মাদারীপুর হাসপাতালে রুবেল নিজেও প্রথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘‘আমার খুব বেশি কিছু হয়নি। আমরা আমতলীতে যাচ্ছি।’’
শুভ কলকাতা থেকে শিগগিরই ফিরছেন না

শুভ কলকাতা থেকে শিগগিরই ফিরছেন না সময় খুব একটা ভালো যাচ্ছে না ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভর। হাসিনা সরকার পতনের পর থেকেই আড়ালে চলে যান এই অভিনেতা। তিনি সবশেষ ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ সিনেমায় মুজিব চরিত্রে অভিনয় করেন। মাত্র এক টাকা পারিশ্রমিকে অভিনয় করে জয় করেন হাসিনার মন। বিনিময়ে পেয়ে যান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প থেকে সংরক্ষিত কোটায় প্লট বরাদ্দ। তবে তাকে বরাদ্দ দেওয়া সেই ১০ কাঠার প্লটটি বাতিল করে রাজউক। এদিকে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হাতে কোনো কাজ না থাকায় নিজেকে একেবারেই গুটিয়ে নিয়েছিলেন মিডিয়া থেকে। তবে এবার ভারতীয় একটি গণমাধ্যমের বরাতে এ অভিনেতার খোঁজ পাওয়া গেল। তিনি বর্তমানে কলকাতা অবস্থান করছেন। সতর্কতার সঙ্গে গোপনে বাংলাদেশ ছেড়েছেন তিনি। ভারতীর গণমাধ্যমটি জানায়, ভারতের নির্মাতা সৌমিক সেনের ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাজ সিটি’র শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। প্রায় দশদিন ধরে চলা এ শুটিংয়ে কলকাতার অংশের কাজে যোগ দিয়েছেন শুভ। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরিজের শুটিং চলবে। তবে বিভিন্ন সূত্র জানায়, কলকাতা থেকে শিগ্গিরই দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই আরিফিন শুভর। সিরিজের কাজ শেষ করে সেখানেই আরও কিছুদিন অবস্থান করবেন তিনি। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত ‘নূর’ ও ‘নীলচক্র’ নামে দুটি সিনেমা।
সিয়াম আবারও শুভেচ্ছাদূত হলেন

সিয়াম আবারও শুভেচ্ছাদূত হলেন বর্তমানে নতুন কোনো সিনেমার কাজ করছেন না সিয়াম আহমেদ। তবে বসে নেই তিনি। সিনেমার পাশাপাশি কর্পোরেট দুনিয়ায় এ নায়কের বিচরণ রয়েছে। বিজ্ঞাপনের শুটিং ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূত হিসাবে রয়েছে তার ব্যস্ততা। কিছুদিন আগেও নতুন কিছু বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করেছেন। এদিকে সম্প্রতি চিত্রনায়ক শাকিব খানের প্রতিষ্ঠানেও শুভেচ্ছাদূত হিসাবে যুক্ত হন তিনি। এর কয়েক সপ্তাহ না পেরোতেই নতুন আরও একটি প্রতিষ্ঠানে শুভেচ্ছাদূত হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন এ নায়ক। স্টেইনলেস স্টিল প্রস্তুতকারক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের চুক্তিও সারেন। এ প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, ‘নতুন এ পরিবারের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত। প্রতিষ্ঠানটির কাজের ধরন আমার ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ। তাই এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে সিয়াম অভিনীত ‘জংলি’ নামে একটি সিনেমা। এম রাহিম পরিচালিত এ সিনেমায় তার বিপরীতে রয়েছেন শবনম বুবলী। সিনেমাটি গত ঈদুল আজহায় মুক্তির ঘোষণা দিয়েও অবশেষে পিছিয়ে যায়। কবে নাগাদ এটি মুক্তি পাবে সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি সংশ্লিষ্টরা। এদিকে মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় একটি সিনেমায় কাজ করার কথা শোনা যাচ্ছে সিয়ামের। তবে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
আজ শব্দের জাদুকরের জন্মদিন

আজ শব্দের জাদুকরের জন্মদিন ডাক নাম ছিল কাজল। বাবার রাখা প্রথম নাম শামসুর রহমান হলেও পরে তার বাবা ছেলের নাম বদলে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ। একাধারে লেখক,ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, কবি ও গীতিকার হুমায়ূন শিল্পসৃষ্টি ও মনোরঞ্জনের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন অবলীলায়। শব্দের জাদুকর হুমায়ূন আহমেদের ৭৪তম জন্মদিন আজ। হুমায়ূনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। তাঁর পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। তাঁর বাবা পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করতেন। বগুড়া থাকার সময় তিনি একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেছিলেন। গ্রন্থের নাম দ্বীপ নেভা যার ঘরে। তাঁর মায়ের লেখালেখির অভ্যাস না থাকলেও একটি আত্মজীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম জীবন যে রকম। তাঁর অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের একজন বিজ্ঞান শিক্ষক এবং কথাসাহিত্যিক ; সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা আহসান হাবীব রম্য সাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্ট। সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনাহীন। তাঁর সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলো বাংলাদেশের যুবকশ্রেণিকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তাঁর অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, শঙ্খনীল কারাগার, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন হুমায়ূন। লেখালেখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্যজীবনের শুরু। এই উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭২-এ কবি-সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স কর্তৃক গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রখ্যাত বাংলা ভাষাশাস্ত্র পণ্ডিত আহমদ শরীফ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখে দিলে বাংলাদেশের সাহিত্যামোদী মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শঙ্খনীল কারাগার তাঁর দ্বিতীয় গ্রন্থ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দুই শতাধিক গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস রচনা করেছেন। হুমায়ূন আহমেদের প্রথমা স্ত্রীর নাম গুলতেকিন আহমেদ। তাঁদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে। এই দম্পতির তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে। তিন মেয়ের নাম বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ এবং ছেলের নাম নুহাশ আহমেদ। অন্য আরেকটি ছেলে অকালে মারা যায়। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগ থেকে শীলার বান্ধবী বেশ কিছু নাটক-চলচ্চিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী শাওনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠতা জন্মে। এর ফলে সৃষ্ট পারিবারিক অশান্তির অবসানকল্পে ২০০৫-এ গুলতেকিনের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয় এবং ওই বছরই শাওনকে বিয়ে করেন। এ ঘরে তাদের তিন ছেলে-মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। প্রথম ভূমিষ্ঠ কন্যাটি মারা যায়। ছেলেদের নাম নিষাদ হুমায়ূন ও নিনিত হুমায়ূন। বিষয়বস্তুর দিক থেকে হুমায়ূন আহমেদের গ্রন্থসম্ভার কয়েকটি শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়। যেমন : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : শ্যামল ছায়া (১৯৭৪), আগুনের পরশমণি (১৯৮৬), অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২), ১৯৭১ (১৯৯৩), জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি। স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ : শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩), আনন্দ বেদনার কাব্য (১৯৮৪), যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ (১৯৮৪), আমার আছে জল (১৯৮৫), ফেরা (১৯৮৬), নক্ষত্রের রাত (১৯৮৭), প্রিয়তমেষু (১৯৮৮), বাসর (১৯৮৮), এলেবেলে (১ম পর্ব-১৯৯০), এলেবেলে (২য় পর্ব-১৯৯০), সাজঘর (১৯৮৯), ছায়াসঙ্গী (১৯৯০), এই সব দিনরাত্রি (১৯৯০), বহুব্রীহি (১৯৯০), অয়োময় (১৯৯০), গৌরীপুর জংশন (১৯৯০), শ্রাবণ মেঘের দিন (১৯৯০), আশাবরী (১৯৯১), অমানুষ (১৯৯১), চাঁদের আলোয় কয়েকজন যুবক (১৯৯১), দুই দুয়ারী (১৯৯১), নৃপতি (১৯৯১), নী (১৯৯২), কোথাও কেউ নেই (১৯৯২), মন্দ্রসপ্তক (১৯৯৩), কবি (১৯৯৬), মহাপুরুষ (১৯৯৬), আমাদের সাদা বাড়ি (১৯৯৬), মেঘ বলেছে যাব (১৯৯৭), দূরে কোথায় (১৯৯৭), বৃষ্টিবিলাস (২০০০), মৃন্ময়ী (২০০১), হুমায়ূন আহমেদের হাতে ৫টি নীল পদ্ম (২০০১), বৃষ্টি ও মেঘমালা (২০০১), আজ চিত্রার বিয়ে (২০০৩), এপিটাফ (২০০৪), লীলাবতী (২০০৫), তিন পুরুষ (২০০৫), মধ্যাহ্ন-১ (২০০৭), মধ্যাহ্ন-২ (২০০৮), বৃক্ষকথা (২০০৯), বাদশাহ নামদার (২০১১), মেঘের ওপর বাড়ি (২০১২) প্রভৃতি। সায়েন্স ফিকশন : তোমাদের জন্য ভালোবাসা (১৯৭৩), তারা তিনজন (১৯৮৪), ইরিনা (১৯৮৮), কুহক (১৯৯১), ফিহা সমীকরণ (১৯৯২), শূন্য (১৯৯৪), ইমা (১৯৯৮), অনন্ত নক্ষত্র বীথি (১৯৯৮), ওমেগা পয়েন্ট (২০০০), দ্বিতীয় মানব (২০০২) প্রভৃতি। তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ কোয়ান্টাম রসায়ন। রহস্যধর্মী ও ভূত বিষয়ক : বোতল ভূত (১৯৮৯), ভূত ভূতং ভূতৌ (১৯৯১), ভয় (১৯৯১), একি কান্ড (১৯৯৩), চেরাগের দৈত্য এবং বাবলু (১৯৯৭), বোকাভু (১৯৯৭), কানী ডাইনী (২০০০), ভূতসমগ্র (২০০২), মজার ভূত (২০০৫), ভয়ংকর ভূতুড়ে (২০০৮), অতিপ্রাকৃত (২০০৮), নির্বাচিত ভূতের গল্প (২০০৯), ভূতমন্ত্র (২০১০) প্রভৃতি। শিশু-কিশোর গ্রন্থ : নুহাশ এবং আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ (১৯৯২), ছোটদের সেরা গল্প (১৯৯৫), পরীর মেয়ে মেঘবতী (১৯৯৭), তোমাদের জন্য রূপকথা (১৯৯৮), কালো জাদুকর (১৯৯৮), কাক ও কাঠগোলাম (২০০২), ছোটদের জন্য এক ব্যাগ হুমায়ূন (২০০৩), বোকা রাজার সোনার সিংহাসন (২০০৩), নীল মানুষ (২০০২), কুহুরানী (২০০৬), হলুদ পরী (২০০৯), বনের রাজা (২০১০) প্রভৃতি। আত্মজৈবনিক গ্রন্থ : হোটেল গ্রেভারইন (১৯৮৯), আমার ছেলেবেলা (১৯৯১), কিছু শৈশব (২০০৭), বলপয়েন্ট (২০০৯), কাঠপেন্সিল (২০০৯), ফাউন্টেন পেন (২০১১), রঙ পেন্সিল (২০১১), নিউইয়র্কের নিলাকাশে ঝকঝকে রোদ (২০১২)। হিমু সিরিজ : ময়ূরাক্ষী (১৯৯০), দরজার ওপাশে (১৯৯৩), হিমু (১৯৯৩), পারাপার (১৯৯৩), এবং হিমু (১৯৯৫), হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম (১৯৯৬), হিমুর দ্বিতীয় প্রহর (১৯৯৭), হিমুর রূপালী রাত্রি (১৯৯৮), একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা (১৯৯৯), তোমাদের এই নগরে (২০০০), সে আসে ধীরে (২০০২), চলে যায় বসন্তের দিন (২০০২), হিমু মামা (২০০৪), আঙুল কাটা জগলু (২০০৫), হলুদ হিমু কালো র্যাব (২০০৬), আজ হিমুর বিয়ে (২০০৭), হিমু রিমান্ডে (২০০৮), হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য (২০০৮), হিমুর মধ্যদুপুর (২০০৯), হিমুর বাবার কথামালা (২০০৯), হিমুর নীল জোছনা (২০১০), হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী (২০১১), হিমুর আছে জল (২০১১), হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচ.ডি বল্টু ভাই (২০১২) প্রভৃতি। মিসির আলি সিরিজ : দেবী (১৯৮৫), অন্যভুবন (১৯৮৭), বিপদ (১৯৯১), মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য (১৯৯৪) প্রভৃতি। শুভ্র সিরিজ: দারুচিনি দ্বীপ (১৯৯১), রূপালী দ্বীপ (১৯৯৪), শুভ্র (১৯৯৮), এই শুভ্র ! এই (২০০৩), শুভ্র গেছে বনে (২০১০) প্রভৃতি। হুমায়ূনের প্রতিটি বই-উপন্যাস ছিল পাঠকদের জন্য অমৃতসুধার মতো। তাঁর লেখনী এক গভীর মায়ায় আচ্ছন্ন করে রাখে পাঠকদের। টেলিভিশনের জন্য একের পর এক দর্শক-নন্দিত নাটক রচনার পর হুমায়ূন আহমেদ ১৯৯০-এর গোড়ার দিকে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। তাঁর পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি মুক্তি পায় ১৯৯৪ সালে। ২০০০ সালে শ্রাবণ মেঘের দিন ও ২০০১ সালে দুই দুয়ারী চলচ্চিত্র দুটি প্রথম শ্রেণির দর্শকদের কাছে দারুন গ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৩-এ নির্মান করেন চন্দ্রকথা নামে একটি চলচ্চিত্র। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে নির্মান করেন শ্যামল ছায়া
লেখালেখিতেও সিদ্ধহস্ত বরণ্যে অভিনেতা আফজাল হোসেন

লেখালেখিতেও সিদ্ধহস্ত বরণ্যে অভিনেতা আফজাল হোসেন নির্মাণ আর অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিতেও সিদ্ধহস্ত বরণ্যে অভিনেতা আফজাল হোসেন। প্রায় সময় তার লেখা উঠে আসে নানা ইস্যু। আবার কখনও তিনি মনের কথাগুলো তুলে ধরেন ভক্ত-দর্শকদের কাছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার তিনি লিখেছেন, বাঙালির স্বভাব ও আচরণ নিয়ে। আজ শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে আফজাল হোসেন লিখেছেন, ‘আজ-কালকার মানুষেরা নিজেদের বিচারে নিজেরাই ঠিক করে নেয়, কারা ভালো আর মন্দ কারা। শুধুমাত্র নিজের, নিজ গোষ্ঠী ও নিজের স্বার্থের মানুষদের ভালো মনে করে, নিজেদের ভালোই মন দিয়ে চায়। যত দোষ নন্দ ঘোষের মত, অন্যদেরকে খুবই খারাপ ভাবে। ভাবে, তাদের দোষেই দেশ-সমাজ-মানুষ সবই যাচ্ছে রসাতলে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে একটা জাতি চোখ থাকিতে অন্ধের মতো। তারা যেটা দেখতে চায় সেটা দেখে, যা দেখতে চায় না- দেখে না। তারা বুঝেও নিজ নিজ সুবিধামতো। খুশি হওয়া উচিত হবে না মনে করে খুশি হওয়ার মতো বিষয়েও মুখ বেজার করে থাকে। স্বার্থপর চিন্তা, চরিত্র কারো ভালো ডেকে আনে না। পিছন ফিরে তাকালে নিজেদের স্বভাবের মন্দ দিকটা স্পষ্ট দেখা যায়। দেশে বিশেষ হয়ে উঠবার একঘেয়ে ফর্মুলা হচ্ছে- আমি ভালো, তুমি খারাপ। দেশটা স্বাধীন হওয়ার পর থেকে যারা যারাই শাসনক্ষমতায় এসেছে- টিকিয়ে রেখেছে ওই একটাই ভাব, বিশ্বাস, মন্ত্র- আমি ভালো তুমি খারাপ। অন্যের প্রতি ঘৃণার করে মুক্তি মেলে না সেকথা উল্লেখ করে আফজাল হোসেন লিখেছেন, ‘একটা জাতি একজীবনে দেখে যেতে পারল না, আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা নিয়ে কেউ মানুষের পক্ষ নিয়ে দাঁড়িয়েছে। কালে কালে দেখতে হয়েছে- আমার আপন আর অন্যের পর হও- তাতেই মানুষ তোমার মিলবে মুক্তি। পর হয়ে শত্রু বনে, অন্যদের প্রতি ঘৃণার পাহাড় তৈরি করে মুক্তি মেলে না। শত্রু শত্রু খেলতে খেলতে এখন কে, কাকে বন্ধু বলে ভাবতে পারে মানুষ? কে, কাকে বিশ্বাস করে? দিনভর যদি দেখতে হয় কারো প্রতি কারো শ্রদ্ধা নেই, ভক্তির প্রয়োজন নেই, পরস্পরকে অসম্মান অমর্যাদা করে আত্মসুখ মিলছে- এসবের কোনোটাই কোনো মানুষের অর্জন নয়। সবশেষে এই অভিনেতা ও নির্মাত লিখেছেন, ‘আমরা দেশের, দল বা গোষ্ঠীর গৌরবে গৌরবান্বিত বোধ করি কিন্তু মানুষ পরিচয়ের গৌরব কিসে, কিভাবে তা অর্জিত হতে পারে- তা নিয়ে ভাবি না। আমরা জিততে চাই গায়ের জোরে, প্রতিহিংসার তীব্রতা দিয়ে। জিতি। আনন্দ উল্লাস করি কিন্তু জানা হয় না মানুষ থাকছি না কেউ, রোজ হেরে হেরে ভূত হয়ে যাচ্ছি।