টেন্ডুলকারের আউট নিয়ে ২২ বছর পর মুখ খুললেন বাকনার

টেন্ডুলকারের আউট নিয়ে ২২ বছর পর মুখ খুললেন বাকনার আম্পায়ারিং জীবনে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্টিভ বাকনার। যার ফলে ভুগতে হয়েছে ব্যাটারদের। আর সাবেক আম্পায়ার স্টিভ বাকনারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার সবচেয়ে বেশি হতে হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারকে। জামাইকান আম্পায়ার অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করলেন। ২২ বছর আগে শচীনের এক বিতর্কিত আউট নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ৭৯ বছর বয়সী স্টিভ বাকনার। ২০০৩-০৪ সালে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় কাটাচ্ছিলেন শচীন। কিন্তু ব্রিসবেনে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে মাত্র ৩ রানে আউট হন মাস্টার ব্লাস্টার। জেসন গিলেসপি, অ্যাডাম গিলক্রিস্টদের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সোজা আঙুল ওপরে তুলে দেন বাকনার। শচীন নিজেও অবাক হয়ে যান। বলের পিচ ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। আর উইকেটের অনেকটা ওপরে। বাকনারের মতো আম্পায়ারের চোখে এ রকম ভুল হওয়ার কথা নয়। অনেকে বলেন- তিনি শচীনকে দেখলে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আউট দিতেন। সেই ঘটনা নিয়ে বাকনার এখন বলেন, শচীনের ওই এলবিডব্লিউটা ভুল ছিল। কিন্তু এখনো ওই একটা আউট নিয়ে কথা বলে অনেকেই। কেন আমি ওকে আউট দিয়েছিলাম? ও কি সত্যিই আউট ছিল? এ ধরনের কথাবার্তা চলতেই থাকে। কিন্তু জীবনে ভুলভ্রান্তি হয়। আমি সেই ভুলটা মেনে নিয়েছি। জীবন নিজের পথে এগিয়ে গেছে। যদিও ভুল স্বীকার করলেও বাকনার ক্ষমা চাইতে নারাজ। কিন্তু ঘটনা হলো— শুধু এই একটা ঘটনা নয়, শচীনের বিরুদ্ধে এ রকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সৌরভ গাঙ্গুলিসহ অনেক ভারতীয় ব্যাটারই বাকনারের ভুলের শিকার। আবার বিপক্ষ দলের ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ঘটনাটা উল্টো। বছর কয়েক আগে ২০০৮ সালের সিডনি টেস্টের ভুল স্বীকার করেছিলেন তিনি। এবার বাকনার মেনে নিলেন ব্রিসবেনের ভুল।
জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে করছে ভারত

জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামে বিশেষ রাসায়নিক স্প্রে করছে ভারত চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ভারত। অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি ভারতীয়দের জন্য ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। চেন্নাইয়ের চিপকে এই ম্যাচটি হবে দিবা-রাত্রির। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে এই মাঠে দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে প্রচুর শিশির পড়ে, যা ব্যাটিং সহজ করে তোলে এবং বোলিং কঠিন হয়ে যায়। সেই সমস্যার সমাধানে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভারতীয় দলের জন্য ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, টস ও কন্ডিশনের প্রভাব নিয়ে চিন্তিত দেশটি। টস যাতে ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা না রাখতে পারে তাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ‘ডিউ কিউর’ নামের একটি রাসায়নিক উপাদান মাঠে ব্যবহার করছে ভারত। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে চিপকের আউটফিল্ড নতুন করে প্রস্তুত করার সময় তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিএনসিএ) এই বিশেষ রাসায়নিক আমদানি করে। ‘ডিউ কিউর’ মেজর লিগ বেসবলের বিভিন্ন ভেন্যুতেও নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। এর কার্যকারিতা হলো—একবার স্প্রে করলে ঘাসের পাতায় আর্দ্রতা জমতে পারে না; ভেজা হলে তা দ্রুত শোষিত হয়ে ঘাস দ্রুত শুকিয়ে যায়।
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ ফারহান-তারিকের

টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ ফারহান-তারিকের চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়েছে আইসিসির সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে। পাকিস্তান দলের একদিকে যেমন এসেছে সুখবর, অন্যদিকে তেমনি কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারের অবস্থান নেমেছে নিচে। সবচেয়ে বড় সুখবর ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে ঘিরে। দারুণ ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের পুরস্কার হিসেবে তিনি দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এখন টি-টোয়েন্টি ব্যাটারদের তালিকায় তিন নম্বরে। তার সামনে রয়েছেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। দ্বিতীয় স্থানে আছেন ইংলিশ তারকা। শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের অভিষেক শর্মা, যদিও এবারের বিশ্বকাপে তার ব্যাট থেকে বড় ইনিংস আসেনি। তবে পাকিস্তানের অন্য ব্যাটারদের জন্য খবরটা ততটা ভালো নয়। ওপেনার সাইম আইয়ুব তিন ধাপ নেমে ৩৪তম স্থানে চলে গেছেন। সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম এক ধাপ পিছিয়ে ৩৬তম স্থানে। বর্তমান অধিনায়ক সালমান আলি আঘা নেমেছেন ৩৮তম স্থানে, আর ফখর জামান পিছিয়ে গিয়ে অবস্থান করছেন ৮৮ নম্বরে। বোলারদের তালিকায়ও এসেছে পরিবর্তন। স্পিনার আবরার আহমেদ দুই ধাপ নেমে এখন পঞ্চম স্থানে, তার রেটিং পয়েন্ট ৭১২। মোহাম্মদ নেওয়াজ তিন ধাপ পিছিয়ে ১২তম স্থানে। তবে পেসার সালমান মির্জা এক ধাপ এগিয়ে ১৮তম এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি চার ধাপ এগিয়ে ৩১তম স্থানে উঠে এসেছেন। সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন উসমান তারিক। তিনি এক লাফে ৫৯ ধাপ এগিয়ে এখন ৫৫তম স্থানে। অন্যদিকে সুফিয়ান মুকিম ১০ ধাপ নেমে ৬০তম এবং শাদাব খান ১০ ধাপ এগিয়ে ৬৫তম স্থানে রয়েছেন। সাইম আইয়ুব বোলারদের তালিকায়ও ১১ ধাপ নেমে ৬৬তম স্থানে, আর হারিস রউফ পাঁচ ধাপ পিছিয়ে ৮১তম স্থানে। বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছেন ভারতের বরুণ চক্রবর্তী। দ্বিতীয় স্থানে আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান। বড় পরিবর্তন এসেছে তৃতীয় স্থানে, দক্ষিণ আফ্রিকার করবিন বোশ ২১ ধাপ এগিয়ে উঠে এখন তিন নম্বরে।
জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে ভারতকে যে পরামর্শ দিলেন পন্টিং

জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে ভারতকে যে পরামর্শ দিলেন পন্টিং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিলেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক রিকি পন্টিং। তার মতে, ম্যাচআপের হিসাব-নিকাশে না গিয়ে চেন্নাইয়ের কন্ডিশন অনুযায়ী ভারতের সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামা উচিত। চেন্নাইয়ের ঐতিহাসিক চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলবে ভারত। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের পর দলটি কিছুটা চাপে রয়েছে। আইসিসি রিভিউ অনুষ্ঠানে পন্টিং বলেন, ‘এই ধরনের ম্যাচে আমি হলে বেসিকে ফিরে যেতাম। আগে দেখতাম, চেন্নাইয়ের কন্ডিশনে আমাদের সেরা একাদশ কারা। সেই দল নিয়েই খেলতাম।’ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে অক্ষর প্যাটেলকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। শোনা গিয়েছিল প্রতিপক্ষের বাঁহাতি ব্যাটারদের কথা ভেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পন্টিংয়ের মতে, একজন অধিনায়কের দায়িত্ব হলো বোলারদের সঠিক সময়ে ব্যবহার করা, শুধু ম্যাচআপের ওপর নির্ভর করা নয়। তিনি আরো বলেন, ‘অক্ষর দলে থাকলে ভালো। আর আমি কুলদীপ যাদবকে দলে ফেরানোর কথাও ভাবতাম। সে ডানহাতি-বাঁহাতি যেকোনো ব্যাটারের বিপক্ষেই কার্যকর হতে পারে। স্পিনবান্ধব চেন্নাই উইকেটে কুলদীপ যাদব বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মত পন্টিংয়ের। এদিকে ভারতের সাবেক কোচ রবী শাস্ত্রীও মনে করেন, একাদশে পরিবর্তন আনা দরকার এবং অভিজ্ঞ স্পিনারদের সুযোগ দেওয়া উচিত। তার মতে, অতিরিক্ত একজন বোলিং অপশন থাকলে দল আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে। সুপার এইটে টিকে থাকতে ভারতের জন্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, পন্টিংয়ের পরামর্শ মেনে টিম ম্যানেজমেন্ট সেরা একাদশে আস্থা রাখে কিনা।
সেমিফাইনাল খেলতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের করণীয়

সেমিফাইনাল খেলতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভারতের করণীয় ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেকায়দায় ভারত। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সূর্যকুমার যাদবের দল সুপার এইটে এক হারেই সেমিফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কায় পড়ে গেছে। ভারতের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা আরও বড় ধাক্কা খেয়েছে গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ে সুপার এইটের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০৭ রানের বিশাল জয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হার আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই বড় জয়ের ফলে ভারতের নেট রান রেট (এনআরআর) ভালো রাখতে বাকি ম্যাচগুলো বড় ব্যবধানে জিততেই হবে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে শিমরন হেটমেয়ারের ৩৪ বলে ৮৫ রান এবং রোভম্যান পাওয়েলের দ্রুতগতির অর্ধশতকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান করে। জবাবে জিম্বাবুয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে এবং লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থাকতেই থেমে যায়। গুদাকেশ মোতি ৪টি উইকেট নেন। ভারত আগামীকাল চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। একই দিনে গ্রুপ ১-এর অন্য ম্যাচে আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ভারতের সেমিফাইনাল ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করবে এই ম্যাচের ফলের ওপর। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে ভারতের পথ কিছুটা সহজ হবে।
জয়ের লক্ষ্যে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পাকিস্তান

জয়ের লক্ষ্যে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে সেমিফাইনাল দৌড়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে আজ শক্তিশালী ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান। সুপার এইট পর্বের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। পরিসংখ্যান বলছে, এই ফরম্যাটে দুই দলের ৩১ বারের লড়াইয়ে ইংলিশরা জয় পেয়েছে ২০টিতে। বিপরীতে পাকিস্তানের জয় মাত্র ৯টি ম্যাচে। বাকি দুই ম্যাচের একটি টাই এবং অন্যটি পরিত্যক্ত হয়েছে।
নারী বিশ্বকাপে একই গ্রুপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত

নারী বিশ্বকাপে একই গ্রুপে বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত জুন-জুলাইয়ে বাংলাদেশ অংশ নেবে দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাছাইপর্বে সাত ম্যাচের সাতটি জিতে অপরাজিত দল হিসেবে বাংলাদেশ পেয়ে গেছে বিশ্বকাপের টিকিট। প্রথমবারের মতো নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১২ দল অংশ নেবে। সব মিলিয়ে ম্যাচ গড়াবে ৩৩টি। ১২ জুন টুর্নামেন্ট শুরু হবে। ২৪ দিনের রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা শেষ কবে ৫ জুলাই। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হবে ফাইনাল ম্যাচ। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি আজ ঘোষণা করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল। বাংলাদেশ পড়েছে গ্রুপ ‘এ’-তে। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানকে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে – লর্ডস, ওল্ড ট্রাফোর্ড, হেডিংলি, এজবাস্টন, হ্যাম্পশায়ার বোল, দ্য ওভাল এবং ব্রিস্টল।
বিশ্বকাপের মাঝপথে সূচিতে পরিবর্তন, নতুন ব্যাখ্যা আইসিসির

বিশ্বকাপের মাঝপথে সূচিতে পরিবর্তন, নতুন ব্যাখ্যা আইসিসির চলতি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ঘিরে সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে, সহ–স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে উঠলে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে নিজেদের মাঠেই খেলতে পারবে। তবে তা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষ ও পাকিস্তানের ফলাফলের ওপর। সুপার এইটের লাইনআপ চূড়ান্ত হওয়ার পর অংশীজনদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় সেমিফাইনালের ভেন্যু–সংক্রান্ত বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রথম সেমিফাইনাল থাকবে ‘ফ্লোটিং’ অবস্থায়—ম্যাচটি হবে হয় কলম্বোতে, নয়তো কলকাতায়। বার্তায় আরও জানানো হয়েছে, পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠলে তারা ৪ মার্চ কলম্বোতে সেমিফাইনাল–১ খেলবে। পাকিস্তান শেষ চারে না উঠলেও শ্রীলঙ্কা উঠলে এবং তাদের প্রতিপক্ষ ভারত না হলে ম্যাচটি কলম্বোতেই হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা, দুই দলই যদি সেমিফাইনালে না ওঠে, তাহলে সেমিফাইনাল–১ হবে কলকাতায় এবং সেমিফাইনাল–২ মুম্বাইয়ে। ভারত সেমিফাইনালে উঠলে তারা মুম্বাইয়েই খেলবে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ছাড়া যে দলই হোক। তবে ভারত–পাকিস্তান সেমিফাইনাল হলে ম্যাচটি হবে কলম্বোতে। আর যদি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তিন দলই সেমিফাইনালে না ওঠে, তাহলে সুপার এইটের গ্রুপ–১ চ্যাম্পিয়ন খেলবে গ্রুপ–২ রানার্স–আপের বিপক্ষে কলকাতায়। অন্য সেমিফাইনালে গ্রুপ–২ চ্যাম্পিয়ন মুখোমুখি হবে গ্রুপ–১ রানার্স–আপের, মুম্বাইয়ে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান, দুই দলই সুপার এইটের গ্রুপ–২ এ রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে সেমিফাইনাল হওয়ার সুযোগ নেই। গত নভেম্বরে ঘোষিত সূচিতে পাকিস্তান সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠলে কলম্বোকে ভেন্যু হিসেবে রাখা হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা নকআউটে উঠলে কী হবে, তা স্পষ্ট ছিল না। নতুন ব্যাখ্যায় সেই ধোঁয়াশা কেটেছে। সব মিলিয়ে সমীকরণ পরিষ্কার—শ্রীলঙ্কা শেষ চারে উঠতে পারলে এবং প্রতিপক্ষ ভারত না হলে, ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা জোরালো। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সুপার এইটের ফলাফলের ওপর।
ভারতীয় ওপেনারকে ‘স্লগার’ বলায় ব্যাখ্যা দিলেন আমির

ভারতীয় ওপেনারকে ‘স্লগার’ বলায় ব্যাখ্যা দিলেন আমির পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির ভারতীয় ওপেনার অভিষেক শর্মাকে ‘স্লগার’ বলায় তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। স্বীকার করেছেন, অনেকেই তার এই মন্তব্য পছন্দ করেননি। তবে তিনি বলেন, কাউকে ছোট করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এর সুপার এইট ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ভারতের ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর একটি পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলে কথা বলেন আমির। আমির আগে মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্ব ক্রিকেটে এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার অভিষেক শর্মার ডিফেন্সিভ টেকনিক যথেষ্ট নয় এবং কঠিন কন্ডিশনে মানসম্মত বোলারদের বিপক্ষে তিনি সমস্যায় পড়তে পারেন। সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। এবার আমির বলেন, “আমি একজন বোলারের দৃষ্টিকোণ থেকে তার টেকনিক নিয়ে কথা বলেছি। ‘স্লগার’ শব্দটি ব্যবহার করায় মানুষ কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু আমার উদ্দেশ্য তাকে অপমান করা ছিল না। তার টেকনিক এমন যে ভালো বোলারা তাকে ফাঁদে ফেলতে পারে। সে যে ১৪ রান করেছে, সবই এক পাশে খেলেছে। যেসব বল মেরেছে, সেগুলো ছিল খারাপ ডেলিভারি। কিন্তু যখন কাগিসো রাবাদা ভালো লাইন-লেংথে বল করা শুরু করল, তখন সে মানিয়ে নিতে পারেনি।’ তবে অভিষেকের প্রশংসাও করেন আমির। ‘সে ভালো খেলোয়াড়। টানা তিনটি শূন্য করার পরও তার ইতিবাচক মানসিকতা একই আছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকের উদ্দেশে প্রকাশ্য বার্তাও দেন আমির। তিনি বলেন, ‘আমার বার্তা যদি তার কাছে পৌঁছায়, আমি বলব—আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তোমার টেকনিক ধরা পড়ে যায়। একটু ধৈর্য ধরো, বলের মেরিট অনুযায়ী খেলো, তাহলে আরো ভালো করবে। তার দক্ষতা আছে, এখন সে কিভাবে তা ব্যবহার করবে সেটাই আসল বিষয়।’ গ্রুপ পর্বে পেটের সংক্রমণে ভোগার পর সুপার এইট ম্যাচে ১২ বলে ১৫ রান করেন অভিষেক। একটি ছক্কা ও একটি চার মারলেও দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের গতি ও ভ্যারিয়েশনে অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মার্কো ইয়ানসেনের স্লোয়ার বলে আউট হন। ১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ১৮.৫ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট এখনো অভিষেকের পাশে রয়েছে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালে ২১ ম্যাচে ৮৫৯ রান করে দলকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছিলেন অভিষেক। সহকারী কোচ রায়ান টেন ডুশাট বলেন, কোচিং স্টাফের কাজ হবে তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। ভারত তাদের পরবর্তী সুপার এইট ম্যাচে ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে। এখন দেখার বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ সেই ম্যাচে অভিষেক শর্মাকে একাদশে রাখা হয় কিনা।
ক্রিকেটার শেখ মেহেদী মা হারালেন

ক্রিকেটার শেখ মেহেদী মা হারালেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসানের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তার মা মমতাজ বেগম রবিবার সকালে খুলনায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। বিসিবি শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, ‘মমতাজ বেগমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা শেখ মেহেদী হাসান এবং তার পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাচ্ছি। শেখ মেহেদী টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডেও ছিলেন তিনি। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ শ্রীলংকা থেকে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার চেষ্টা করলেও আইসিসি সেই অনুরোধ গ্রহণ করেনি। মেহেদী ২০১৮ সালে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে অভিষেক করেন। এ ফরম্যাটে ৭০ ম্যাচে ৬৮ ইনিংসে ২৪.০৫ গড়ে ৬৮ উইকেট নিয়েছেন এবং ওভারপ্রতি ৬.৭৩ রান দিয়েছেন। ব্যাট হাতে ৪৮ ইনিংসে ১১.৮৬ গড়ে ৪২৭ রান করেছেন, স্ট্রাইকরেট ১০১.১৮। ওয়ানডে অভিষেক হয় ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ৩১.১৪ গড়ে ১৪ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ১২২ রান, গড় ১৫.২৫ করেছেন তিনি।