জয় শাহ ৩৬ বছর বয়সেই আইসিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে

জয় শাহ ৩৬ বছর বয়সেই আইসিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ঘোষণা এসেছিল আগেই। তবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছিল জয় শাহকে। ধারণা করা হচ্ছিল, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সমস্যার কারণে মসনদে বসছেন না তিনি। কিন্তু সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হলো। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেছেন জয় শাহ। আজ এক বিবৃতিতে জয় শাহকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর আগে গত আগস্টে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আইসিসির স্বাধীন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন জয় শাহ। আইসিসি বোর্ডের মনোনীত একমাত্র প্রার্থী ছিলেন জয় শাহ। তাই আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাস থেকে বিসিসিআই সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন জয় শাহ। তাছাড়া ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধানও তিনি। এবার দায়িত্ব শুরু করতে যাচ্ছেন আইসিসি প্রধান হিসেবে। আজ থেকেই দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। জয় শাহ আইসিসির সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান। এছাড়া পঞ্চম ভারতীয় হিসেবে আইসিসির প্রধান হয়েছেন তিনি। তার আগে এই দায়িত্ব পালন করেছেন জাগমোহন ডালমিয়া, শারাদ পাওয়ার, এন শ্রিনিবাসন ও শাশাঙ্ক মানোহার। আইসিসির চেয়ারম্যান হয়ে জয় শাহ জানালেন নারী ক্রিকেটের দিকে বেশি নজর দেওয়ার কথা। এছাড়া ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক গেমসেও নজর রাখার কথা জানান তিনি। জয় শাহ বলেন, ‘আমি আইসিসির চেয়ারম্যান হিসেবে বসতে পেরে গর্বিত এবং আইসিসির কর্মকর্তাদের কাছে কৃতজ্ঞ আমার উপর ভরসা রাখার জন্য। এটা ক্রিকেটের জন্য দারুণ সময় কারণ আমরা ২০২৮ সালে অলিম্পিকের জন্য তৈরি হচ্ছি। ফলে বিশ্বে আরও বেশি করে সমর্থক আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। নারী ক্রিকেট নিয়ে জয় শাহ বলেন, ‘মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নতিতে আমাদের আরও গতি বাড়াতে হবে। বিশ্বমঞ্চে ক্রিকেটের সেই ক্ষমতা আছে। আইসিসি টিম ও সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি।
খেলবেন তামিম ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে

খেলবেন তামিম ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে জাতীয় দল থেকে এখন অনেকটাই দূরে তামিম ইকবাল। কবে নাগাদ ফিরবেন, তাও অজানা। তবে ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকছেন এই ডানহাতি ওপেনার। এবার ভারতের লক্ষ্ণৌ ভিত্তিক একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে নাম লিখিয়েছেন তিনি। বিগ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) নামে ওই টুর্নামেন্টের ড্রাফট হয়েছে। যেখানে তামিমকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৭ লাখ ৮৯ হাজার টাকা) কিনেছে এমপি টাইগার্স। এই দলে তামিম সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন দিলশান মুনাবিরা, নামান ওঝা, স্টুয়ার্ট বিনি, অমিত মিশ্রকে। বিসিএলে খেলবে ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি। এমপি টাইগার্স বাদে বাকি পাঁচ দল হলো- সাউদার্ন স্পার্টান্স, রাজস্থান রেগালস, নর্দার্ন চ্যালেঞ্জার্স, ইউপি ব্রিজ স্টার্স ও মুম্বাই মেরিনস। টুর্নামেন্ট কবে নাগাদ মাঠে গড়াবে, তা এখনো জানা যায়নি। এই টুর্নামেন্টে খেলার কথা রয়েছে- ইরফান পাঠান, সুরেশ রায়না, শেখর ধাওয়ান, তিলকারত্নে দিলশান, হার্শেল গিবদ, লেন্ডল সিমন্সের মতো সাবেক তারকা ক্রিকেটাররা। প্রসঙ্গত তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে আছেন প্রায় ১৫ মাস ধরে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলেছেন তিনি। এমনকি ২০২৪ সালে তার নেতৃত্বেই বিপিএলের শিরোপা জেতে ফরচুন বরিশাল। নতুন আসরেও একই দলের হয়ে খেলবেন তিনি। তার আগে এনসিএল টি-টোয়েন্টি দিয়ে তামিমের ফেরার কথা রয়েছে।
বিপিএলের মাসকট ‘ডানা-৩৬’ উন্মোচন

বিপিএলের মাসকট ‘ডানা-৩৬’ উন্মোচন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ আসর শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। এ উপলক্ষে আজ বিশেষ এক আয়োজনে বিপিএলের মাসকট ‘ডানা-৩৬’ উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। „ মাসকট উন্মোচনের অনুষ্ঠানটি ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’-এর অংশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আরও ছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, এবং বিসিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা। এই আয়োজন পরিণত হলো যেন সাবেক এবং বর্তমান ক্রিকেটারদের মিলনমেলায়। বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল শান্ত থেকে শুরু করে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম। তাদের সবাইকে দেখা গেছে খোশ গল্পে মেতে উঠতে। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারী ক্রিকেট দলের সদস্যরাও। ‘ডানা-৩৬’ নামক মাসকটটি সাম্প্রতিক ছাত্র-নাগরিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে। এই মাসকটটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা এবং ক্রীড়ামোদীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এই পায়রার মাসকটটিকে স্বাধীনতার চেতনার সাথে মেলবন্ধন ঘটানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যা খেলাধুলার একটি অপরিহার্য অংশ এবং ক্রিকেট সংস্কৃতিরও একটি মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। পায়রাকে শান্তি এবং স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়, যা একটি জাতির শক্তি এবং ঐক্যকে প্রতিফলিত করে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। একই ধরনের অনুষ্ঠান ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে এবং ২৭ ডিসেম্বর সিলেট জেলা স্টেডিয়ামেও আয়োজন করা হবে বিপিএলের একাদশ আসর শুরু হবে ৩০ ডিসেম্বর এবং চলবে ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের টুর্নামেন্টে অংশ নেবে সাতটি দল- ঢাকা ক্যাপিটালস, চিটাগং কিংস, দুর্বার রাজশাহী, ফরচুন বরিশাল, খুলনা টাইগার্স, রংপুর রাইডার্স, এবং সিলেট স্ট্রাইকার্স।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় বাংলাদেশের

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডেতে রেকর্ড গড়ে জিতেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও আইরিশদের পাত্তা দিলো না নারী দল। মিরপুর শেরে বাংলায় ৫ উইকেট আর ৩৭ বল হাতে রেখে সফরকারী দলকে হারিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ এক ম্যাচ বাকি থাকতেই নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে একই ভেন্যুতে ২ ডিসেম্বর। শেরে বাংলায় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিল আয়ারল্যান্ড নারী দল। কিন্তু সুলতানা খাতুন, স্বর্ণা আক্তারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৬ উইকেটে ১৯৩ রানেই আটকে যায় আইরিশদের ইনিংস। অধিনায়ক অ্যামি হান্টার ৮৮ বল খেলে ৮ বাউন্ডারিতে ৬৮ রান করেন। ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট ৩৭ এবং লরা ডেলানি খেলেন ৩৩ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের সুলতানা খাতুন ৩২ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। নাহিদা আক্তার সমান রান খরচায় নেন একটি উইকেট। ভীষণ মিতব্যয়ী ছিলেন স্বর্ণা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে একটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৯৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার ফারজানা হকের ৫০ (৮৯ বলে), শারমিন আক্তারের ৪৩ (৬৩), অধিনায়ক নিগার সুলতানার ৩৯ বলে ৪০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস এবং শেষদিকে স্বর্ণা আক্তারের ২৯ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসে সহজ জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
আয়ারল্যান্ডকে বেশিদূর যেতে দিলো না বাংলাদেশ

আয়ারল্যান্ডকে বেশিদূর যেতে দিলো না বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিততে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের খুব বেশি চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে না। বোলাররা লক্ষ্য নাগালে রেখেছেন। ব্যাটিং করতে নেমে আয়ারল্যান্ড ৫০ ওভার ৬ উইকেটে ১৯৩ রান করেছে। মিরপুর শের-ই-বাংলায় আইসিসি ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের আরো ২ পয়েন্ট নিশ্চিত করার বড় সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। প্রথম ম্যাচ জিতে আয়ারল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। অতিথিরা সিরিজ বাঁচাতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে বড় স্কোরের কথা বলেছিলেন। কিন্তু ব্যাটিং সেভাবে হয়নি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে। বোলাররা খুব বেশি উইকেট নিতে না পারলেও চাপে রেখেছিলেন। তাতে আয়ারল্যান্ডের স্কোর বেশিদূর যায়নি। আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেছেন অ্যামি হান্টার। তিনে নেমে ৮৮ বলে ৮ চারে ইনিংসটি খেলেন। এছাড়া ওরলা প্রেডাগোনিস্ট ৩৭ এবং লওড়া ডেনলি ৩৩ রান করেন। শেষ দিকে উনা রেমোন্ডহেয়র ২১ রানে আয়ারল্যান্ড দুইশর কাছাকাছি স্কোর করে। বাংলাদেশের সফল বোলার স্পিনার সুলতানা খাতুন। ৩২ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন নাহিদা আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। দুই দল অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা প্রথম ওয়ানডেতে ২৫২ করে ম্যাচ জিতেছিল অনায়াসে। আজকের লক্ষ্যটা একেবারেই নাগালে। এক ম্যাচ হাতে রেখে বাংলাদেশ সিরিজ জিততে পারে কিনা সেটাই দেখার।
এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের দাপুটে জয়ে

এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের দাপুটে জয়ে জয়ে দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট হাতে সেঞ্চুরির দেখা পান অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। এরপর বোলারদের নৈপুণ্যে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৪৫ রানে হারিয়েছে যুবা টাইগাররা। শুক্রবার ২৯ নভেম্বর টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২২৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে আজিজুল তামিম করেন সর্বোচ্চ ১৩৩ বলে ১০৩ রান। এছাড়া কালাম সিদ্দিকি করেন ১১০ বলে ৬৬ রান। আফগানদের পক্ষে আব্দুল আজিজ, নুরিস্তানি ওমরজাই ও খাতির স্টানিকজাই নেন ২টি করে উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২১ রানে উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ১৯ বলে ৮ রান করে আউট হন উজাইরুল্লাহ নিজাই। এরপর মাহবুব খান ও ফয়সাল খান মিলে শুরু ধাক্কা সামাল দেন। ৪৫ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটার। তবে দলীয় ৬৬ রানে ৫৩ বলে ১৬ রান করে ফিরে যান মাহবুব। তবে ক্রিজে আসা নাসির খানকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন ফয়সাল। ৫০ রানের জুটি গড়েন তারা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন ফয়সাল। তবে দলীয় ১১৬ রানে ৫৮ বলে ৫৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। তার বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান। ৬০ বলে ৩৪ রান করে আউট হন নাসির খান। এরপর আর কোনো ব্যাটার সুবিধা করতে পারেননি। ইকবাল হোসেন ইমন ও আল ফাহাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৭ ওভার ৫ বলে ১৮৩ রানে অলআউট হয় আফগানরা। ইকবাল ও ফাহাদ নেন ৩টি করে উইকেট।
টেস্টে ৪২ রানে অল আউট শ্রীলংকা

টেস্টে ৪২ রানে অল আউট শ্রীলংকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৯১ রানে অলআউট করে খুশিমনেই ব্যাটিংয়ে নেমেছিল শ্রীলংকা। কিন্তু এরপর যা ঘটল, তা শ্রীলংকার টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসেই প্রথম, এমনকি বড় লজ্জার। ডারবানে প্রোটিয়াদের বোলিং তোপে মাত্র ৪২ রানে অলআউট হয়েছে লংকানরা। ১৯৮২ সালে প্রথম টেস্ট খেলা শ্রীলংকার নিজেদের ইতিহাসে এটা সর্বনিম্ন স্কোর। আগের সর্বনিম্ন স্কোরটি পাকিস্তানের বিপক্ষে। ১৯৯৪ সালে ক্যান্ডিতে ৭১ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এটা যে কোনো প্রতিপক্ষের সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড।২০১৩ সালে কেপটাউন টেস্টে নিউজিল্যান্ড দলটির কাছে ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল। এই ইনিংসে মাত্র ৮৩ বল খেলেছে লংকানরা। যা গত একশ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন, সব মিলিয়ে দ্বিতীয়। ১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭৫ বল টিকেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শ্রীলংকার ভুলে যাওয়ার মতো দিনে বাঁ হাতের পেসে আগুন ধরিয়েছেন মার্কো জানসেন। মাত্র ১৩ রানে তিনি নিয়েছেন ৭ উইকেট। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রোটিয়া বোলারদের যা সবচেয়ে ভালো ফিগার।এই স্পেল পেছনে রাখছে কলম্বোয় ২০১৮ সালে কেশভ মহারাজের ১২৯ রানে নেয়া ৯ উইকেটকে। জানসেনের স্পেলটি এই শতাব্দীতে প্রোটিয়া পেসারদের মধ্যে সেরা। শ্রীলংকার ৫ ব্যাটার আউট হয়েছেন ডাকে, দুজন স্পর্শ করেন দুই অঙ্কের ঘর। কাগিসো রাবাদা দিমুথ করুনারত্নেকে ২ রানে বিদায় করে দেওয়ার পর একাই ব্যাটন হাতে নেন জানসেন। তিনি টানা নেন পাথুম নিশাঙ্কা, দিনেশ চান্দিমাল ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজের উইকেট।অভিষেকের পর থেকে টানা ৮ ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলে বিশ্বরেকর্ড গড়ার রেকর্ড কামিন্দু মেন্ডিসের। তিনি ছাড়া এই রেকর্ড আর কারো নেই। তাকে ১৩ রানে ফেরান জেরাল্ড কোয়েৎজে।এটাই শ্রীলংকার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। এরপর আবার জানসেন। এবার নেন ধনঞ্জয় ও প্রবাথ জয়াসুরিয়ার উইকেট। কোয়েৎজে কুশল মেন্ডিসকে সাজঘরের পথ দেখানোর পরের দুটি উইকেটই নেন জানসেন। ১০ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন লাহিরু কুমারা।
মেয়েদের দুর্দান্ত জয় ব্যাটে-বলে

মেয়েদের দুর্দান্ত জয় ব্যাটে-বলে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ নারী দল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন তারা। শারমিন সুলতানা সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন। রান পেয়েছেন ওপেনার ফারজানা হক। বল হাতে সুলতানা আক্তার, মারুফা খাতুনরা করেছেন বাজিমাত। বাংলাদেশ নারী দলও পেয়েছে ১৫৪ রানের বড় জয়। বুধবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে পায় ৫৯ রান। মুর্শিদা খাতুন ৩৮ রান করে ফিরে যান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১০৪ রান যোগ করে বাংলাদেশ। সাজঘরে ফেরার আগে ওপেনার ফারজানা হক খেলেন ১১০ বলে ৬১ রানের ইনিংস। তবে ব্যাটারদের মধ্যে সেরা ইনিংসটা খেলেছেন তিনে নামা শামীমা আক্তার। তিনি ৮৯ বলে ৯৬ রান করে আউট হন। ১৪টি চার আসে এই ব্যাটারের ব্যাট থেকে। এছাড়া অধিনায়ক নিগার সুলতানা ২৮ ও স্বর্ণা আক্তার ১৩ রান যোগ করেন। বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রান করে। জবাব দিতে নেমে আয়ারল্যান্ড নারী ক্রিকেট দল ২৮.৫ ওভারে মাত্র ৯৮ রান তুলে অলআউট হয়েছে। আইরিশ মেয়েদের পক্ষে ওপেনার সারাহ ফোরবেস ২৫ রান করেন। চারে নেমে অর্লা প্রিন্ডারগাস্ট ১৯ ও লাউরা ডিলানি ২২ রানের ইনিংস খেলেন। তাদের ধসিয়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন বাংলাদেশের তিন বোলার। এর মধ্যে সুলতানা খাতুন ৮.৫ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন। পেসার মারুফা ৪ ওভার বোলিং করে নেন ২ উইকেট। নাহিদা আক্তার নেন ২ উইকেট। ওপেনারসহ দলটির তিন ব্যাটার রান আউট হয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়ে

বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরও একটি টেস্ট হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের রান ৩১ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯। জয়ের জন্য শেষ দিনে প্রয়োজন ২২৫ রান, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ৩ উইকেট। তাসকিনের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কল্যাণে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৫২ রানে অলআউট করলেও প্রথম ইনিংসে ১৮১ রানে পিছিয়ে থাকায় জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৩৪ রান। সে লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লড়াই তো দূরে থাক, ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারছেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। স্বাগতিক বোলারদের মোকাবিলায় একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ৫৯ রানের মাথায় হারিয়েছে ৫টি উইকেট। বর্তমানে ১৫ রানে ব্যাট করছেন জাকের আলি, আর এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি হাসান মাহমুদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কেমার রোচ ও জেডেন সিলস তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। আর একটি উইকেট পেয়েছেন আলজারি জোসেফ।
দূরের বাতিঘর এখন আইপিএল

দূরের বাতিঘর এখন আইপিএল বাংলাদেশের হয়ে আইপিএলের কোনো না কোনো আসরে মুস্তাফিজ-সাকিবের মধ্যে কেউই একজন থাকলেও এবার কেউই সুযোগ পায়নি। ফোন ধরার আগমুহূর্ত পর্যন্ত লম্বা সময় টিভিতেই চোখ আটকে ছিল তার। কিসের অপেক্ষায়, সেটিও স্পষ্ট আব্দুর রাজ্জাকের কথায়, ‘আইপিএলের নিলাম দেখছিলাম। যদি আমাদের কাউকে নেয়। প্রতিবার এমন অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশই থাকে। দুই-একজনের দল পাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ছিল। কিন্তু এবার? একজনও নয়। আগের বছরও আইপিএলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। তাই বলে হা-হুতাশ এবং হাপিত্যেশ থেমে ছিল না। কেন আরো বেশি বাংলাদেশি খেলোয়াড় নেয় না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো, এই প্রশ্নে হাহাকার উঠত। অবশ্য সম্প্রতি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশের যা পারফরম্যান্স, তাতে পাল্টা এই প্রশ্ন তোলারও সুযোগ আছে যে কেন নেবে? প্রশ্নটি শুনে নির্বাচক রাজ্জাক একটু যেন বিব্রতও হলেন, ‘এটি তো আমার জন্য জটিল প্রশ্ন হয়ে গেল। বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তর দেওয়া মুশকিল।’ তবু তাকে আলোচনায় ঢুকতে হয়। কারণ সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার আইপিএল খেলা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার। ২০০৯ সালে চার দিনের ব্যবধানে মোহাম্মদ আশরাফুল এবং মাশরাফি বিন মর্তুজার আইপিএল অভিষেক হয়। রাজ্জাকের মাঠে নামার অভিজ্ঞতা হয়েছে তারও এক বছর আগে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে। ১৬ বছর পর আরেকটি আইপিএলের ড্রাফটের সময় অবশ্য ভিন্ন কিছু দেখার মানসিক প্রস্তুতি ছিল রাজ্জাকের। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তা-ই। এই নির্বাচক মেনে নিচ্ছেন যে আইপিএলে দল পাওয়ার মতো টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স ছিল না বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের, ‘আমার কাছে তা-ই মনে হয়েছে। সিরিজ বা টুর্নামেন্ট, শেষ আমরা যা-ই খেলেছি, আমাদের আসলে খুব একটা আহামরি কিছু হয়নি। উল্লেখযোগ্য ও রকম কিছু (পারফরম্যান্স) এখন পর্যন্ত নেই। আমার মনে হয়, এ জন্যই আমাদের খেলোয়াড়দের আইপিএলে দেখা যাচ্ছে না। কারো দল না পাওয়াতে অযুক্তির কিছুও দেখেননি তিনি, ‘কার মান কী রকম, সেটি আমার কথা নয়। আমার কথা হচ্ছে, শেষ যে টুর্নামেন্টগুলো হয়েছে, সেগুলোতে আমাদের পারফরম্যান্স কী ছিল? (দল গড়ার ক্ষেত্রে) আইপিএলের দলগুলো অনেক বেশি নির্দিষ্ট। তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দল সাজায়। তারা যদি (বাংলাদেশের কাউকে) না নেয়, অবশ্যই সেখানে যৌক্তিকতা আছে।’ নিজেদের চাহিদা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বলেও মনে হয়েছে রাজ্জাকের, ‘কে কোথাকার, তারা (আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি) আসলে এসব দেখে না। ওরা টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কেনে। চাহিদা তৈরি করার অবস্থায় থাকলে ওরা কাউকে না কাউকে নিত। আইপিএলের গত আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সও ছিল। রাজ্জাক এবার যা একটু আশা করেছিলেন, তা এই বাঁহাতি পেসারকে নিয়েই, ‘আমি খুবই আশাবাদী ছিলাম যে মুস্তাফিজ থাকবে। এবার আগামী তিন মৌসুমের পুরো সময়ের জন্য ১২ জন ক্রিকেটারকে ছাড়পত্র দিয়েছিল বিসিবি। তবুও কারো সুযোগ না পাওয়াকে হতাশার বলছেন না রাজ্জাক। তিনি বরং তাগিদ দিচ্ছেন আইপিএলে ডাক পাওয়ার উপযোগী করে নিজেদের তৈরি করার দিকে, ‘আমার কাছে এটি (কারো সুযোগ না পাওয়া) হতাশার নয়। যত দেশে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হচ্ছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। টাকা-পয়সা এবং খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততার দিক থেকে। আমাদের খেলোয়াড়রা থাকতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগত। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে একজন খেলোয়াড়ের জন্য ওই দলকেই পুরো দেশ সমর্থন দিচ্ছে। যেভাবে খেললে আইপিএলে নেবে, আমাদের খেলোয়াড়দের উচিত নিজেদের সেভাবে তৈরি করার দিকে মনোযোগী হওয়া।