বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়ে

বাংলাদেশ ব্যাটিং বিপর্যয়ে ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরও একটি টেস্ট হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশের রান ৩১ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯। জয়ের জন‍্য শেষ দিনে প্রয়োজন ২২৫ রান, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ৩ উইকেট। তাসকিনের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের কল্যাণে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ১৫২ রানে অলআউট করলেও প্রথম ইনিংসে ১৮১ রানে পিছিয়ে থাকায় জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৩৪ রান। সে লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে লড়াই তো দূরে থাক, ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারছেন না বাংলাদেশের ব্যাটাররা। স্বাগতিক বোলারদের মোকাবিলায় একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ৫৯ রানের মাথায় হারিয়েছে ৫টি উইকেট। বর্তমানে ১৫ রানে ব‍্যাট করছেন জাকের আলি, আর এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি হাসান মাহমুদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কেমার রোচ ও জেডেন সিলস তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। আর একটি উইকেট পেয়েছেন আলজারি জোসেফ।

দূরের বাতিঘর এখন আইপিএল

দূরের বাতিঘর এখন আইপিএল বাংলাদেশের হয়ে আইপিএলের কোনো না কোনো আসরে মুস্তাফিজ-সাকিবের মধ্যে কেউই একজন থাকলেও এবার কেউই সুযোগ পায়নি। ফোন ধরার আগমুহূর্ত পর্যন্ত লম্বা সময় টিভিতেই চোখ আটকে ছিল তার। কিসের অপেক্ষায়, সেটিও স্পষ্ট আব্দুর রাজ্জাকের কথায়, ‘আইপিএলের নিলাম দেখছিলাম। যদি আমাদের কাউকে নেয়। প্রতিবার এমন অপেক্ষায় পুরো বাংলাদেশই থাকে। দুই-একজনের দল পাওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ছিল। কিন্তু এবার? একজনও নয়। আগের বছরও আইপিএলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। তাই বলে হা-হুতাশ এবং হাপিত্যেশ থেমে ছিল না। কেন আরো বেশি বাংলাদেশি খেলোয়াড় নেয় না ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো, এই প্রশ্নে হাহাকার উঠত। অবশ্য সম্প্রতি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাংলাদেশের যা পারফরম্যান্স, তাতে পাল্টা এই প্রশ্ন তোলারও সুযোগ আছে যে কেন নেবে? প্রশ্নটি শুনে নির্বাচক রাজ্জাক একটু যেন বিব্রতও হলেন, ‘এটি তো আমার জন্য জটিল প্রশ্ন হয়ে গেল। বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তর দেওয়া মুশকিল।’ তবু তাকে আলোচনায় ঢুকতে হয়। কারণ সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার আইপিএল খেলা প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার। ২০০৯ সালে চার দিনের ব্যবধানে মোহাম্মদ আশরাফুল এবং মাশরাফি বিন মর্তুজার আইপিএল অভিষেক হয়। রাজ্জাকের মাঠে নামার অভিজ্ঞতা হয়েছে তারও এক বছর আগে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে। ১৬ বছর পর আরেকটি আইপিএলের ড্রাফটের সময় অবশ্য ভিন্ন কিছু দেখার মানসিক প্রস্তুতি ছিল রাজ্জাকের। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তা-ই। এই নির্বাচক মেনে নিচ্ছেন যে আইপিএলে দল পাওয়ার মতো টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স ছিল না বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের, ‘আমার কাছে তা-ই মনে হয়েছে। সিরিজ বা টুর্নামেন্ট, শেষ আমরা যা-ই খেলেছি, আমাদের আসলে খুব একটা আহামরি কিছু হয়নি। উল্লেখযোগ্য ও রকম কিছু (পারফরম্যান্স) এখন পর্যন্ত নেই। আমার মনে হয়, এ জন্যই আমাদের খেলোয়াড়দের আইপিএলে দেখা যাচ্ছে না। কারো দল না পাওয়াতে অযুক্তির কিছুও দেখেননি তিনি, ‘কার মান কী রকম, সেটি আমার কথা নয়। আমার কথা হচ্ছে, শেষ যে টুর্নামেন্টগুলো হয়েছে, সেগুলোতে আমাদের পারফরম্যান্স কী ছিল? (দল গড়ার ক্ষেত্রে) আইপিএলের দলগুলো অনেক বেশি নির্দিষ্ট। তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দল সাজায়। তারা যদি (বাংলাদেশের কাউকে) না নেয়, অবশ্যই সেখানে যৌক্তিকতা আছে।’ নিজেদের চাহিদা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন বলেও মনে হয়েছে রাজ্জাকের, ‘কে কোথাকার, তারা (আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি) আসলে এসব দেখে না। ওরা টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কেনে। চাহিদা তৈরি করার অবস্থায় থাকলে ওরা কাউকে না কাউকে নিত। আইপিএলের গত আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সও ছিল। রাজ্জাক এবার যা একটু আশা করেছিলেন, তা এই বাঁহাতি পেসারকে নিয়েই, ‘আমি খুবই আশাবাদী ছিলাম যে মুস্তাফিজ থাকবে। এবার আগামী তিন মৌসুমের পুরো সময়ের জন্য ১২ জন ক্রিকেটারকে ছাড়পত্র দিয়েছিল বিসিবি। তবুও কারো সুযোগ না পাওয়াকে হতাশার বলছেন না রাজ্জাক। তিনি বরং তাগিদ দিচ্ছেন আইপিএলে ডাক পাওয়ার উপযোগী করে নিজেদের তৈরি করার দিকে, ‘আমার কাছে এটি (কারো সুযোগ না পাওয়া) হতাশার নয়। যত দেশে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হচ্ছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়। টাকা-পয়সা এবং খেলোয়াড়দের সম্পৃক্ততার দিক থেকে। আমাদের খেলোয়াড়রা থাকতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগত। দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে একজন খেলোয়াড়ের জন্য ওই দলকেই পুরো দেশ সমর্থন দিচ্ছে। যেভাবে খেললে আইপিএলে নেবে, আমাদের খেলোয়াড়দের উচিত নিজেদের সেভাবে তৈরি করার দিকে মনোযোগী হওয়া।

বৈভবকে দলে ভিড়িয়ে উচ্ছ্বসিত রাজস্থান

বৈভবকে দলে ভিড়িয়ে উচ্ছ্বসিত রাজস্থান শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী আইপিএলের মেগা নিলাম। সোমবার ২৫ নভেম্বর নিলামের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে দল পান ভারতের আলোচিত ১৩ বছর বয়সী ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। ১ কোটি ১০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় রাজস্থান রয়্যালস। সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে দল পেয়ে ইতিহাস গড়েছেন বৈভব। তার ভিত্তি মূল্য ছিল ৩০ লাখ। রাজস্থানের পাশাপাশি বৈভবকে পাওয়ার লড়াইয়ে ছিল দিল্লি। তবে ১ কোটি পর্যন্ত দাম বলে থেমে যায় দিল্লি। আরও ১০ লাখ বাড়িয়ে বৈভব সূর্যবংশীকে পেয়ে যায় রাজস্থান। ১৩ বছরম বয়সী এই ক্রিকেটারকে দলে পেয়ে বেশ খুশি রাজস্থানের প্রধান নির্বাহী জেইক ম্যাকক্রাম। তিনি বলেন, ‘নাগপুরে আমাদের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে ছিল সে। সেখানে সে ট্রায়াল দিয়েছে এবং আমাদের সেখানকার কোচিং স্টাফদের মুগ্ধতা উপহার দিয়েছে। সে অবিশ্বাস্য এক প্রতিভা এবং অবশ্যই সেই আত্মবিশ্বাস তো থাকতেই হবে যেন আইপিএলের মানের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘সামনের কয়েক মাসে তাকে আরও উন্নত করে তোলার জন্য অনেক কাজ করা হবে। তবে অসাধারণ এক প্রতিভা সে এবং তাকে আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশ হিসেবে পেয়ে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত।

বোলিংয়ে  দাপুটে পারফরম্যান্সে ভারতের পার্থ জয়

বোলিংয়ে  দাপুটে পারফরম্যান্সে ভারতের পার্থ জয় এর আগে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল পার্থে কখনো টেস্ট হারেনি। বর্ডার-গাভাস্কার সিরিজ শুরুর আগে এই আলোচনাটা হচ্ছিল বেশ জোরেশোরে। মাঠে নামার পর অস্ট্রেলিয়ার দাপটের সেই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছিল। ভারতকে তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ১৫০ রানে। কিন্তু ভারত তো হাল ছাড়ার দল নয়। বোলিংয়ে জবাব দিল তারাও। অস্ট্রেলিয়াকে আটকে দেয় ১০৪ রানে। ৬ উইকেটে রান ৪৮৭। যে দাপটে দ্বিতীয় ইনিংসে জবাব দেওয়ার শক্তিটাই পেল না অস্ট্রেলিয়া। ৫৩৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় ২৩৮ রানে শেষ অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। প্রথম দল হিসেবে পার্থের অপটাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে হারের তিক্ত স্বাদ দিল ভারত। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ভারত এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

নতুন রেকর্ড জয়সওয়ালের

নতুন রেকর্ড জয়সওয়ালের প্রথম দিন পড়ল ১৭ উইকেট। সেই একই পিচে দ্বিতীয় দিনে তিনটির বেশি উইকেট পড়েনি। তিনটিই অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার। জবাবে প্রতিপক্ষের কোনো উইকেটই ফেলতে পারেনি স্বাগতিকরা। ওপেনিংয়ে নামা যশস্বী জয়সওয়াল ও লোকেশ রাহুলের অবিচ্ছিন্ন ১৭২ রানের জুটিতে শক্ত অবস্থানে আছে ভারত। যার ফলে ২১৮ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করেছে সফরকারীরা দাপুটে এই দিনে টেস্টে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন জয়সওয়াল। চলতি বছর এনিয়ে ৩৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। ভাঙেন ১০ বছর আগে গড়া নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার ব্রেন্ডন ম্যাককালামের রেকর্ড। ২০১৪ সালে ৯ ম্যাচ ৩৩ ছক্কা মেরেছেন তিনি। জয়সওয়ালের বছর যদিও এখনো শেষ হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৯০ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। অন্যদিকে রাহুল অপরাজিত আছেন ১৫৩ বলে ৪ চারে ৬২ রান নিয়ে। এর আগে ভারতের ১৫০ রানের বিপরীতে প্রথম দিন শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ৬৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। আজ মিচেল স্টার্কের (২৬) দৃঢ়তায় শেষমেষ ১০০ পেরোতে সক্ষম হয়। যদিও খুব বেশি দূর যেতে পারেনি গুটিয়ে যায় ১০৪ রানেই। ভারতের হয়ে কেবল ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন অধিনায়ক জাসপ্রিত বুমরাহ। ক্যারিয়ারে এটি তার ১১তম ফাইফার। এছাড়া অভিষিক্ত হারশিত রানা ৩টি ও মোহাম্মদ সিরাজ নেন দুটি উইকেট। দিনের বাকি গল্পটা জয়সওয়াল ও রাহুলকে নিয়েই। সাবধানী হয়ে ব্যাটিং করে অজি বোলারদের তেমন কোনো সুযোগই দেননি তারা।

তামিমকে অধিনায়ক করে এশিয়া কাপের দল ঘোষণা

তামিমকে অধিনায়ক করে এশিয়া কাপের দল ঘোষণা চলতি মাসে মাঠে গড়াবে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের এবারের আসর। ওয়ানডে ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন এই টুর্নামেন্টের জন্য ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।এই আসরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নেতৃত্ব দেবেন আজিজুল হাকিম তামিম। আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে এই আসর মাঠে গড়াতে যাচ্ছে।বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে, প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে শ্রীলংকা, পাকিস্তান ও নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জাপান। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে আজিজুল হাকিম তামিমরা। দ্বিতীয় ম্যাচে ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ খেলবে নেপালের বিপক্ষে। আর ৩ ডিসেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লংকানদের বিপক্ষে খেলবে জুনিয়র টাইগাররা।প্রতি গ্রুপ থেকে সেরা দুটি দল খেলবে সেমি ফাইনাল। ৬ ডিসেম্বর মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের দুটি সেমি ফাইনাল, আর ফাইনাল হবে ৮ ডিসেম্বর। টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচই হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও শারজাহতে।সবশেষ গেল বছর ২০২৩ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ যুবারা। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল- আজিজুল হাকিম তামিম (অধিনায়ক), জাওয়াদ আবরার (সহ অধিনায়ক), রিফাত বেগ, সামিউন বশির রাতুল, দেবাশীষ সরকার দেবা, রিজান হোসেন, আল ফাহাদ, ইকবাল হাসান ইমন, রাফিউজ্জামান রাফি, ফরিদ হাসান ফয়সাল, মারুফ মৃধা, শিহাব জেমস, আশরাফুজ্জামান বরেণ্য, সাদ ইসলাম রাজিন।অতিরিক্ত- কালাম সিদ্দিকী, শাহরিয়ার আজমীর, ইয়াসির আরাফাত, সানজিদ মজুমদার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচে মুরাদের হ্যাটট্রিক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচে মুরাদের হ্যাটট্রিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ভালো একটা প্রস্তুতি সারল বাংলাদেশের বোলাররা। অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্বাচিত একাদশের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে কেউ জেতেনি। দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি হয়েছে ড্র। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। যেখানে টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন জাকের আলী। ১১০ বলে ৪৮ রান করেন তিনি। এছাড়াও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৮৭ বলে ৪১ আর মুমিনুল এবং লিটন দাসের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। তবে এই ম্যাচে মূল আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের বোলারদের দিকে। নাহিদ রানা এবং তাইজুল বাদে সকলেই উইকেট পেয়েছেন। তবে সবার নজর কেড়েছেন হ্যাটট্রিক করা হাসান মুরাদ। ১.৪ ওভারে ১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এই বাঁহাতি স্পিনার ২৬তম ওভারে প্রথম ওভারটি করেন। সেই ওভারে ১ রান দেয়া মুরাদ নিজের পরের ওভারের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পেয়ে যান। এদিকে মুরাদ ছাড়াও আলো ছড়িয়েছেন হাসান মাহমুদ এবং তাসকিন আহমেদ। হাসান ১৫ রানে ২ এবং তাসকিন ২১ রানে ২ উইকেট পেয়েছেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল এবং মিরাজ। আগামী শুক্রবার (২২ নভেম্বর) অ্যান্টিগার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্ট। সংক্ষিপ্ত স্কোর বাংলাদেশ: ৭৩.২ ওভারে ২৫৩/৭ ইনিংস ঘোষণা (জাকের ৪৮, মুমিনুল ৩১, লিটন ৩১, শাহাদাত ২৫; জেয়ার ম্যাকঅ্যালিস্টার ৪৮/২)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্বাচিত একাদশ: ২৭.৪ ওভারে ৮৭/৯ (মেরিয়ুস ২৩, গ্রিভস ২০, বেকফোর্ড ১৯; হাসান মাহমুদ ২/১৫, তাসকিন ২/২১, শরীফুল ১/১২, হাসান মুরাদ ৩/১, মিরাজ ১/০)। ম্যাচের ফল: ড্র।

নারীদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দলে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া

নারীদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দলে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ২০২৫ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। গত আসরের মত এবারও অস্ট্রেলিয়ার সাথে একই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ। সাথে রয়েছে নেপাল এবং স্কটল্যান্ড। গ্রুপ ‘ডি’ তে খেলবে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম আসরেও একই গ্রুপে ছিল অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশ। এবার মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিতব্য আসরেও একই গ্রুপে রয়েছে দুই দল। দক্ষিণ আফ্রিকায় অজিদের পরাজিত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সুপার সিক্সেও গিয়েছিল, কিন্তু সেমিফাইনালে খেলা হয়নি। এই গ্রুপ থেকে সুপার সিক্সে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া। বাকি দুই দল স্কটল্যান্ড এবং এশিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্ব পার করে আসা নেপালও নিশ্চিতভাবে ছেড়ে কথা বলবে না। চার গ্রুপের শীর্ষ ৩টি করে দল নিয়ে মোট ১২ দল যাবে সুপার সিক্স রাউন্ডে। সেখানে দুই গ্রুপে ৬টি করে দল ভাগ হয়ে লড়বে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে। দুই গ্রুপের শীর্ষ ২টি করে মোট ৪টি দল যাবে সেমিতে। গ্রুপ ‘এ’ তে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কার সাথে রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত। সাথে থাকবে আয়োজক মালয়েশিয়াও। গ্রুপ ‘বি’ ও কাগজে-কলমে বেশ শক্তিশালী। পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইংল্যান্ড রয়েছে এই গ্রুপে। গ্রুপ ‘সি’ তে রয়েছে ইতিহাসের হাতছানি। সামোয়া এবং নাইজেরিয়ার মধ্যে যেকোনো এক দলের সামনে সুযোগ রয়েছে সুপার সিক্সের টিকিট কেটে ফেলার। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ী দলই সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে সুপার সিক্সের দৌড়ে। দুই দলই এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছে নারীদের যুব বিশ্বকাপ। গ্রুপের বাকি দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নিউজিল্যান্ড। মালয়েশিয়াতে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি মাঠে গড়াবে নারীদের যুব বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসর। ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।

ঘুরে বেড়াচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আসবে বাংলাদেশেও

ঘুরে বেড়াচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আসবে বাংলাদেশেও সব ঠিক থাকলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগামী আসর বসবে পাকিস্তানে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেই টুর্নামেন্টের পর্দা উঠবে। তবে মূল টুর্নামেন্টের আগে আইসিসির উদ্যোগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ঘুরে বেড়াবে কয়েকটি দেশ, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। আইসিসির এক সূত্র থেকে জানা গেছে, এই ট্রফি এরই মধ্যে ১৪ নভেম্বর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ট্রফিটি পৌঁছেছে এবং পরবর্তী সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এটি প্রদর্শিত হবে। আইসিসি জানিয়েছে, পাকিস্তানের মুরি, হুনজা, মুজাফফরাবাদ ও স্কার্দুতে ট্রফিটি নিয়ে যাওয়া হবে, এমনকি কেওটুজ পাহাড়েও ট্রফিটি নিয়ে যাওয়া হবে যা পর্যটন প্রচারের অংশ। তবে করাচি, লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডি শহরগুলোতে এটি নিয়ে যাওয়া হবে না, কারণ সেখানে বর্তমানে ধোঁয়াশার কারণে প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশে ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্রফির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে, যা ঢাকার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াম এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 ক্রিকেট আয়োজন নিষিদ্ধ করা উচিত পাকিস্তানে ও ভারতে

 ক্রিকেট আয়োজন নিষিদ্ধ করা উচিত পাকিস্তানে ও ভারতে পাকিস্তানে হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে নাটকীয়তা এখন সবারই জানা। এবার সেই বিষয়টির প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটার রশিদ লতিফ বলেছেন, তার হাতে ক্ষমতা থাকলে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানকে খেলতে দিতেন না তিনি। এছাড়া, ঝামেলা সমাধানের আগে পাকিস্তান ও ভারতে বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে দেওয়া আইসিসির উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার কথা আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থা বিসিসিআই। এমন ধারণাও করা হচ্ছে, পুরো টুর্নামেন্টটি পাকিস্তানের বাইরে আয়োজিত হতে পারে। ভারত দলের পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়টির লিখিত আইসিসির কাছে চেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সোজাসাপ্টা কথা বলার জন্য পরিচিত লতিফ পিটিআইকে বলেন, ‘একটা বড় সম্ভাবনা আছে ভারতের বিপক্ষে খেলাই বন্ধ করে দিতে পারে পাকিস্তান। আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত হ্যাঁ, আমি শক্ত পদক্ষেপ নিতাম। আমি এজন্য কাউকেই দোষ দিচ্ছি না। যদি তোমরা পাকিস্তানে খেলতে না চাও, তাহলে কোনো প্রতিযোগিতায়ই খেলার দরকার নেই। পাকিস্তানের হয়ে ৩৭টি টেস্ট ও ১৬৬ ওয়ানডে খেলা লতিফ আরও বলেন, ‘আমার মতে, এসব ঝামেলা মিমাংসা হওয়ার আগে আইসিসির উচিত দেশ দুইটি থেকে আয়োজনের স্বত্ব তুলে নেওয়া। মূলত, সরকারের পরামর্শেই পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত ক্রিকেট দল। ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, বিশেষ করে এশিয়ায়; লতিফ টেনে এনেছেন শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ে প্রসঙ্গও। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলংকাকে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। লতিফ বলেন, ‘ভারত এবং পাকিস্তান নিষিদ্ধ হচ্ছে না কেন? কারণ, আইসিসি অনেকাংশে তাদের ওপর নির্ভর করে। নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ভারত দলের পাকিস্তানে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের চরম সমালোচনা করেছেন লতিফ। তিনি বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো, আমি বলব বিসিসিআই ভুল করছে। তারা যে কারণ (পাকিস্তানে না যাওয়ার) দেখিয়েছে সেটা খুবই দুর্বল। এটা তাদের লিখিত দেওয়া উচিত যে বিসিসিআই এবং ভারত ক্রিকেট দল হুমকি অনুভব করছে। আইসিসির নিরাপত্তা দল এখানে (পাকিস্তানে) এসেছে এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনে সবুজ সংকেত দিয়েছে। যদি আপনাদের কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে অভিযোগ জানাতে পারেন।