‘ভুল হয়েছে’ বলে কয়েকঘণ্টা পরই অবসর ভাঙলেন ইহসানউল্লাহ

‘ভুল হয়েছে’ বলে কয়েকঘণ্টা পরই অবসর ভাঙলেন ইহসানউল্লাহ পাকিস্তান ক্রিকেটকে অনেক ভক্ত ‘সার্কাস’ বলে থাকেন। প্রায় সময় দেশটির ক্রিকেটে উদ্ভট সব ঘটনা দেখা যায়; সেখান থেকেই এমন মন্তব্য। এই যেমন গেল ২৮ ঘণ্টার মধ্যেই হয়েছে দুটি নাটকের মঞ্চায়ন। যার প্রযোজনায় ছিলেন ইহসানউল্লাহ। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দল পাননি, তারই প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ইহসানউল্লাহ। এক সাক্ষাৎকারে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ওপর ক্ষোভও ঝেড়েছেন ইহসানউল্লাহ। এরপর স্থায়ীভাবে পিএসএল বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইহসানউল্লাহ বলেছিলেন, ‘ভালো পারফরম্যান্স করা সত্ত্বেও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আমাকে বাছাই করেনি। এমনকি কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেনি। আমি আর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে চাই না, পিএসএলকে বয়কট করছি।’ কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তের ওপর ২৪ ঘণ্টাও স্থির থাকতে পারেননি ইহসানউল্লাহ। কয়েক ঘণ্টা পরই ইউটার্ন নিয়েছেন। জানিয়েছেন, রাগের মাথায় আবেগতাড়িত হয়ে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এটি ২২ বছর বয়সী তরুণ পেসারের প্রকৃত সিদ্ধান্ত ছিল না। অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কাল ‘জিও সুপার’কে ইহসানউল্লাহ বলেন, ‘আপনি জানেন, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আমাকে দলে নেয়নি। তাতে পরিবার ও সাধারণ মানুষের কথাতে আমি বিরক্ত হয়েছি। সে কারণে আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম। পিএসএলের এখনো ৪ মাস বাকি, আমি এ সময়ে কষ্ট করে যাবো, আল্লাহ চাইলে যারা এখন আমাকে নেয়নি, তারা পরে দলে নিতে পারে। সুতরাং পিএসএল থেকে অবসরের কোনো পরিকল্পনা নেই। আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’ নিজের ভুলও স্বীকার করেছেন ইহসানউল্লাহ। এর জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি। পাক তারকা বলেন, ‘পিএসএল শুরু হতে অনেক সময় বাকি, কিছু ঘরোয়া টুর্নামেন্টও সামনে আছে। গতকালের রাতের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে ক্ষমা চাইছি। রাগের মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেছি।’ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করে সবার নজরে আসেন ইহসানউল্লাহ। ২০২৩ সালের পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলেন ডানহাতি এই পেসার। ১৪ ম্যাচে শিকার করেন ২৩টি। ২০২৩ সালের এপ্রিলেই ডাক পান জাতীয় দলে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সিরিজেই (ওয়ানডে) কনুইয়ের ইনুজরিতে পড়েন তিনি। চোটের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে গত মাসে ক্রিকেটে ফেরেন ইহসানউল্লাহ। তবে আগের মতো গতিতে বোলিং করতে পারছিলেন না তিনি। যে কারণে এ পেসারের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন মুলতান সুলতানসের মালিক আলী তারিন। তিনি বলেছিলেন, আগের মতো গতিতে ইহসানউল্লাহ বোলিং করতে পারবেন না। এরপরই গণমাধ্যমে এসে বিদ্রোহ করেন ইহসানউল্লাহ। ইহসানউল্লাহ আশা করছেন, তিনি আবার ১৫০ কিলো গতিতে বোলিং করতে পারবেন। সেটি করতে পারলে হয়তো শেষ সময়ে পিএসএলে দলও পাবেন। তরুণ পেসার বলেন, ‘স্পিডগান অনুসারে ঘণ্টায় ১৩০-৩৫ কিলোমিটারে বোলিং করছি, সেটা আসলে টিভিতে যা দেখা যায়, তার ১৪০ কিলোমিটার গতির সমান। এক দিন আগে পেশোয়ারে একটি ম্যাচে আমি আরও গতিতে বোলিং করার চেষ্টা করেছি, সেখানে ঘণ্টায় ১৪২ কিলোমিটারও ছুঁয়েছি। আমি ধীরে ধীরে উন্নতি করার চেষ্টা করবো।’
সিলেটের সামনে ২০৪ রানের লক্ষ্য চিটাগাংয়ের

সিলেটের সামনে ২০৪ রানের লক্ষ্য চিটাগাংয়ের পারভেজ হোসেন ইমন ফেরেন শুরুতেই। তার ব্যর্থতার পর অবশ্য পথ হারায়নি চিটাগাং কিংস। উসমান খান ও গ্রাহাম ক্লার্কের জুটিতে তারা পায় বড় রানের ভিত। পরে শেষটা দারুণ করেন মোহাম্মদ মিঠুন ও হায়দার আলী। সিলেটে বিপিএলের ম্যাচে চিটাগাং কিংসের মুখোমুখি হয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান করেছে চিটাগাং। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় চিটাগাং কিংস। ১০ বলে স্রেফ ৭ রান করে আউট হয়ে যান পারভেজ হোসেন ইমন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে লিটন দাসের জায়গায় নেওয়া হয় তাকে। আগের দিন লিটন সেঞ্চুরি করলেও ব্যর্থ হন ইমন। তাকে হারালেও চিটাগাংকে পথ হারাতে দেননি উসমান খান ও গ্রাহাম ক্লার্ক। তাদের দুজনের জুটিতে ৩৯ বলে আসে ৬৮ রান। আরিফুল হকের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে উসমান আউট হলে এই জুটি ভেঙে যায়। ৩৫ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রান করেন তিনি। গ্রাহাম ক্লার্কও সেঞ্চুরি তুলেই ফেরেন। ৩৩ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৬০ রান করেন তিনি। শেষদিকে ১৯ বলে ২৮ রান করেন মিঠুন। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ১৮ বলে ৪২ রান করেন হায়দার আলী।
বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল ঘোষণা, বাদ পড়লেন সাকিব-লিটন

বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল ঘোষণা, বাদ পড়লেন সাকিব-লিটন সাকিব-লিটনকে ছাড়াই টাইগারদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। রোববার (১২ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ১টার এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি আসন্ন মেগা ইভেন্টটির জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। জানা গেছে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দলে আরও রয়েছেন সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমদুউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলী অনিক, রিশাদ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব ও নাহিদ রানা। এদিন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু দল ঘোষণা করেন। আইসিসির কাছে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড জমা দিলেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দল পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর্দা উঠবে, যা ৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে শান্ত বাহিনী।
তামিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে যা বললো বিসিবি

তামিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে যা বললো বিসিবি কিছুদিন আগেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াডে তামিমকে পাওয়া নিয়ে অপেক্ষার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে সব অনিশ্চয়তা দূর করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন দেশসেরা এই ওপেনার। দেশের ‘সবচেয়ে সুন্দর’ ওপেনিং ব্যাটার উল্লেখ করে তামিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বিসিবি। নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে তামিমের জন্য বার্তা দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। বিসিবি লিখেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ওপেনিং ব্যাটসম্যানের অবসর ঘোষণায় অসাধারণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়ে গেল। আইকনিক সেঞ্চুরি থেকে অগণিত অবিস্মরণীয় স্মৃতি, ক্রিকেটভক্তদের মনে আপনার লিগেসি চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।
বড় জয় দিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল শ্রীলঙ্কা

বড় জয় দিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল শ্রীলঙ্কা ২১ রান তুলতেই নেই ৫ উইকেট। ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের এমন করুণ দশা শেষ কবে হয়েছিল? ২০২৩ সালের ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬৩ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়েছিল তারা। কিন্তু পরের ৫ উইকেটে তারা যোগ করতে পারে মাত্র ৩৫ রান। অলআউট হয়েছিল ৯৮ রানে। আজ অবশ্য অকল্যান্ডে শুরুর বিপর্যয়ের পর কিছুটা লড়াই করতে পারে তারা। সবকটি উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করতে পারে ১৫০ রান। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ২৯০ রানের টার্গেটে তারা গুটিয়ে যায় অল্পতেই। ১৪০ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ হেরে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করার সূবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে কিউইরা। প্রথম দুই ম্যাচ জেতায় ওয়ানডে সিরিজ তারা নিশ্চিত করেছে ২-১ ব্যবধানে। যা তাদের ঘরের মাঠে টানা অষ্টম ওয়ানডে সিরিজ জয়। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে ২৯০ রান করে। জবাবে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে ২৯.৪ ওভারে অলআউট হন নিউ জিল্যান্ড।
হ্যাটট্রিক হলো না খুলনার, জয়ে ফিরল রাজশাহী

হ্যাটট্রিক হলো না খুলনার, জয়ে ফিরল রাজশাহী হ্যাটট্রিক জয় আর পাওয়া হলো না খুলনা টাইগার্সের। সেই সঙ্গে বিপিএলে তাদের অপরাজিত যাত্রাও থামল। ২৮ রানে হারিয়ে তাদের তিক্ত স্বাদটা দিয়েছে দুর্বার রাজশাহী। টানা তৃতীয় জয় পাওয়ার লক্ষ্যে ১৭৯ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় খুলনা। দলীয় ২৬ রানে ২ উইকেট হারায় তারা। ওপেনার উইলিয়াম বসিস্টোর ৬ রানের বিপরীতে অধিনায়ক মিরাজ আউট হন ১ রানে। চারে নেমে ৩৩ রান করা আফিফ হোসেন ধ্রুব দলের হাল ধরার চেষ্টা করলেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি তিনি। বাঁহাতি ব্যাটারের সঙ্গে হারের ব্যবধান কমাতে ওপেনার নাঈম শেখ করেন ২৪ রান। অন্যদিকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১৮ রানের বিপরীতে ১৮ রান করেন নাসুম আহমেদ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় পরে ১৫০ রানে অলআউট হয় খুলনা। রাজশাহীর হয়ে বোলিং করা ৭ বোলারই কমপক্ষে একটি করে উইকেট পেয়েছেন। টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের পর অবশেষে ২৮ রানের জয় পেয়েছে রাজশাহী। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে ১৭৮ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৪ রান করে দলকে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ হারিস ও জিশান আলম।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বরিশালকে হারিয়ে রংপুরের টানা ছয় জয়

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বরিশালকে হারিয়ে রংপুরের টানা ছয় জয় বিপিএলের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে হারিয়ে টানা ছয় জয় তুলে নিয়েছে রংপুর রাইডার্স। দারুণ ফর্মে থাকা উড়ন্ত রংপুরকে ১৯৮ রানের টার্গেট দিয়েছিল আগে ব্যাট করা ফরচুন বরিশাল। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত খেলা উপহার দেয় রংপুর। এলেক্স হেলসকে হারানোর ধাক্কা সামলে দেন রংপুরের ওপেনার তাওফিক খান। তাকে সঙ্গ দেন সাইফ হাসান। ইফতেখার আহমেদ ও খুশদিল শাহর ব্যাটে রংপুরের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। তাদের ৯১ রানের জুটি রংপুরকে লক্ষ্যের অনেকটা কাছে পৌঁছে দিলেও খেলার রোমাঞ্চ গড়ায় শেষ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত। শেষ দিকে অনেকটা অসম্ভব পরিসংখ্যানকে সম্ভব করেছেন রংপুরের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ৭ বলে ৩২ রানে দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ইনিংসের শেষ ওভারে গিয়ে দারুণ ছক্কায় দলকে জেতান সোহান। শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ২৬। বরিশাল বল তুলে দিয়েছিল কাইল মায়ার্সের হাতে। পার্ট টাইম বোলার হলেও ১ ওভারে ২৬ রান নেওয়া যেকোনো ব্যাটারের জন্য কঠিনই বটে। সোহান সেই কঠিন কাজটাই করলেন। তার ব্যাটে ভর করেই ৭ ইউকেট হারিয়ে রংপুর তোলে ২০২ রান। যেখানে জয়ের জন্য দরকার ছিলো ১৯৮ রান।
রংপুরকে ১৯৮ রানের লক্ষ্য দিলো বরিশাল

রংপুরকে ১৯৮ রানের লক্ষ্য দিলো বরিশাল দুই ওপেনার করলেন সাবধানী শুরু। তাদের বিদায়ের পর দলকে টেনে নিলেন কাইল মেয়ার্স ও তাওহীদ হৃদয়।শেষদিকে ফাহিম আশরাফ ঝড়ে বড় সংগ্রহই পেয়েছে বরিশাল। সিলেটে বিপিএলের ম্যাচে ফরচুন বরিশালের মুখোমুখি হয়েছে রংপুর রাইডার্স। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান করেছে বরিশাল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় রংপুর রাইডার্স। ৬১ বলে ৮১ রানের এই জুটি ভাঙে কামরুল ইসলাম রাব্বির শিকার হয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত ফিরলে। রান খরায় ভুগতে থাকা এই ব্যাটার এদিন অবশ্য রান করেন।৩০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করার পর খুশদিলের হাতে ক্যাচ দেন শান্ত। ওই ওভারের প্রথম বলে শান্তকে আউট করার পর শেষ বলে তামিমকে ফেরান কামরুল রাব্বি। ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৪ বলে ৪০ রান করে আউট হন তিনি। তৃতীয় উইকেটে বড় জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও কাইল মেয়ার্স। ৩৫ বলে ৫৯ রানের এই জুটি ভাঙেন আকিফ জাভেদ। ১৮ বলে ১ চার ও সমান ছক্কায় ২৩ রান করে আউট হন তিনি। ৪ বলে ২ রান করে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। এরপরই মেয়ার্সের সঙ্গী হন ফাহিম আশরাফ। উইকেটে এসেই ঝড় তোলেন তিনি। ৬ বলে ২০ রান আসে তার ব্যাট থেকে। শেষ অবধি অপরাজিত থেকে ২৯ বলে ৬১ রান করেন মেয়ার্স।
ফেরার বিষয়ে তামিমকে ‘বন্ধুবান্ধব-পরিবারের’ সঙ্গে কথা বলতে সময় দিয়েছেন নির্বাচকরা

ফেরার বিষয়ে তামিমকে ‘বন্ধুবান্ধব-পরিবারের’ সঙ্গে কথা বলতে সময় দিয়েছেন নির্বাচকরা বিপিএলের অনুশীলনে দলগুলোর ঠিকানা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। কিন্তু তাতে বুধবার আগ্রহ একদমই কম। সবার চোখ স্টেডিয়াম থেকে মিনিট দশেক দূরত্বের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল। এখানেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার বিষয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নির্বাচকরা। তামিমের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল অনেকদিন। তবে তাকে যে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দলে চান নির্বাচকরা, তাই স্পষ্ট হয় এই বৈঠকের মাধ্যমে। কিন্তু তামিম কি ফিরবেন? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দিতে পারেননি প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। বিকেলে ওই বৈঠকশেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দল ঘোষণার শেষ সময় ১২ জানুয়ারি। এজন্য তামিমকে কিছুদিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘আগেই হয়তো তামিমের সঙ্গে আমাদের আরেকটু আলোচনা হতে পারতো। যাই হোক, সামনে আমাদের একটা বড় ইভেন্ট আছে। আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো আলোচনাতেই সঙ্গে সঙ্গে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। কারণ এটা অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত। ’ ‘তার ঘনিষ্ঠজন, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব অনেক সময়, কিংবা তার প্রিয় কোচ অথবা শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার একটা ব্যাপার থাকে। সেক্ষেত্রে একটু সময় নেওয়ার তো ব্যাপার এসেই যায়। আমাদের যেহেতু ১২ জানুয়ারির মধ্যে দল ঘোষণা করতে হবে, তার আগেই আমাদেরকে দলটা দিতে হবে বোর্ডের কাছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে সময় আছে, সে সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিক। তাড়াহুড়োর কিছু নেই। ’ প্রায় দেড় বছর মতো সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে তামিম। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে আড্ডায় জানিয়েছিলেন, জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। বেশ কিছু সাক্ষাৎকারেও তামিম জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলে আর ফেরার আগ্রহ নেই। এখন তামিম কি ওই সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরও সরাসরি দেননি প্রধান নির্বাচক। তার চাওয়া, কিছু জানানোর থাকলে সেটা যেন তামিমই জানান। লিপু বলেন, ‘তামিম কী করতে চান, সে ব্যাপারে তিনি আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন আমার বিশ্বাস। এত বড় খেলোয়াড়। তারপরও কোন একটা কিছুর ক্ষেত্রে কিছু কিছু সময় সংশয় সৃষ্টি হয় তখন পরিবার থেকে, পরিবারকে কে না সম্মান করে! প্রত্যেকেই করে। কাজেই কোন একটা বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকে একটা মতামতের বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। ’ ‘আমি যদি স্টেটমেন্ট দেই, এটা একটা ঘোষণার মতো হয়ে যাবে তামিমের পক্ষে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাইবো এ ঘটনাটা, ফেরত আসা অথবা না আসা; আপনারা যে দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন; সেটা তামিম ইকবালের কাছ থেকেই আসুক। তিনি যেহেতু তার পরিবারের কাছ থেকে দূরে আছেন, সিলেটে আছেন, চট্টগ্রামে তার পরিবার থাকে; তো সে কারণেই আমার মনে হয় যে এটা ফেয়ার কল। ’
ফাহমিদা-আফিয়ার ব্যাটে সিরিজ টিকিয়ে রাখল বাংলাদেশ

ফাহমিদা-আফিয়ার ব্যাটে সিরিজ টিকিয়ে রাখল বাংলাদেশ চার ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তৃতীয় টি-টোয়িন্টিতে জয় পেয়েছে তারা। কলম্বোতে আজ এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে লঙ্কান মেয়েরা। এই রান ২ বল হাতে রেখে তাড়া করে ফেলে বাংলাদেশ। চার ম্যাচ সিরিজে প্রথম জয় পেল তারা। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা। একই মাঠে আগামী বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ভালো কোনো জুটি গড়তে পারেনি তারা। তবে শেষদিকে হিরুনি হানসিকা ও শাশিনি গিমহানির ২১ বলে ৩৬ রানের জুটিতে একশ পার করে দলটি। হানসিকা ১৯ বলে ২৪ ও গিমহানি ৭ বলে ১৪ রানের ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন আনিসা আক্তার সুবহা। এছাড়া নিশিতা আক্তার, ফাহমিদা, জান্নাতুল মাওয়ারাও দারুণ বোলিং করেন। রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম দুই বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পরপর ফেরেন মোসাম্মত ঈভা ও সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা। এই চাপ সামলে তৃতীয় উইকেটে ৪৩ রানের জুটি গড়েন সাদিয়া ইসলাম ও ফাহমিদা ছোঁয়া। ২৮ বলে ২৪ রান করে সাদিয়া ফিরলে ভাঙে এ জুটি। তবে লড়তে থাকেন ফাহমিদা। ৪২ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর ১৩ রান করে সুমাইয়া ফিরলে বাকি কাজটা শেষ করেন ফাহমিদা। ১৮ বলে ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।