চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের সঙ্গী হচ্ছেন হাসান মাহমুদ

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলের সঙ্গী হচ্ছেন হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের ঘোষিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ১৫ সদস্যের দলে নেই পেসার হাসান মাহমুদ। তবে প্রস্তুতির জন্য তাকে দলের সঙ্গে রাখা হচ্ছে। রাইজিংবিডকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। টুর্নামেন্ট শুরু হলে হাসান আবার দেশে ফিরে আসবেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান-নিউ জিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ফাইনাল হবে ৯ মার্চ করাচিতে, ভারত ফাইনালে গেলে দুবাইয়ে। বাংলাদেশ মাঠে নামবে টুর্নামেন্ট শুরুর দ্বিতীয় দিনে। বাংলাদেশ খেলবে ‘এ’ গ্রুপে। ২০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে লড়বে ভারতের বিপক্ষে, দুবাইয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচ ২৪ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। বাংলাদেশ দল:
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিম হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জাকের আলি অনিক, মেহেদী হাসান মিরাজ, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমন, নাসুম আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব ও নাহিদ রানা।

বিপিএলে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন তাসকিন

বিপিএলে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন তাসকিন সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রান উৎসবের মাঝেও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করেছেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে থাকা বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদ।  দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ১২ দশমিক ০৪ গড়ে ২৫ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। এর মাধ্যমে বিপিএল ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারে সাকিব আল হাসানের রেকর্ড ভেঙ্গেছেন তিনি। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ২৩ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব। এছাড়াও বিপিএল ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়েছেন তাসকিন। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ১৯ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। শুধুমাত্র বিপিএল ইতিহাসেই নয় এমন ইনিংসের সুবাদে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সেরা বোলিং পারফরমেন্সে শীর্ষে তিনে জায়গা করে নিয়েছেন তাসকিন। টুর্নামেন্টের প্লে-অফে রাজশাহী উঠতে পারলে উইকেট সংখ্যাকে আরও বাড়ানোর সুযোগ পেতেন তাসকিন। ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন পেসার তানজিম হাসান সাকিবও। ৯ ম্যাচে ১৮ দশমিক ১৮ গড়ে ১৬ উইকেট শিকার করে তালিকার সপ্তম স্থানে ছিলেন তিনি। ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে বোলার তালিকার দশমস্থানে আছেন খুলনা টাইগার্সের বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। এবারের আসরে তার সেরা পারফরমেন্স ছিল এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ১৬ রানে ৩ উইকেট। ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট নেন ঢাকার পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। বল হাতে নিজের সেরাটা দিতে না পারায় দলের ম্যাচ জয়ে অবদান রাখতে পারেননি ফিজ। ১২ ম্যাচে ৮ দশমিক ১৩ ইকোনমি রেটে ১০ উইকেট নিয়েছেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে গতি দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রেখেছেন তিনি। ১০ ম্যাচে ৮ দশমিক ৪২ ইকোনমি রেটে ৭ উইকেট নিয়েছেন লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ৬ বলে ২টি ছক্কায় ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে বরিশালের শিরোপা নিশ্চিত করেছেন রিশাদ। ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলেছিলো বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত আইসিসির টুর্নামেন্টে এটাই সেরা সাফল্য টাইগারদের। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশ ছাড়তে পারে ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের সাথে ‘এ’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ। ২০ ফেব্রুয়ারি দুবাইতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে  চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন শুরু করবে টাইগাররা। এরপর ২৪ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড এবং স্বাগতিক পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। দু’টি ম্যাচই রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে।

শিরোপা জিতে পুরো দলকে আইফোন উপহার ফরচুন বরিশালের

শিরোপা জিতে পুরো দলকে আইফোন উপহার ফরচুন বরিশালের চিটাগাং কিংসকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিপিএলের শিরোপা জিতেছে ফরচুন বরিশাল। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার শিরোপা জিতে উচ্ছ্বসিত বরিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় থাকা ফরচুন গ্রুপও। তারই নমুনা দেখা গেল খেলোয়াড়দের বাড়তি বোনাসে। চ্যাম্পিয়ন দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টে থাকা সবাইকে আইফোন ১৬ উপহার দিয়েছে ফরচুন বরিশাল। খেলোয়াড়দের এই বোনাসের খবর নিশ্চিত করেছেন ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান। তিনি জানান, খেলোয়াড় এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সবার হাতেই এরইমাঝে আইফোন ১৬ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বিপিএলের একাদশ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার জিতেছে ফ্রাঞ্জাইজিটি। চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে আড়াই কোটি টাকা প্রাইজমানি পেয়েছে তারা।

ইতিহাস গড়ে বিপিএলে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বরিশাল

ইতিহাস গড়ে বিপিএলে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন বরিশাল ফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে চিটাগং কিংসকে হায়িয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ-বিপিএলের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুললো ফরচুন বরিশাল। প্রথমে ব্যাট করে বরিশালকে ১৯৫ রানের টার্গেট দিয়েছিলো চিটাগং। চিটাগংয়ের দেয়া বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভালো শুরু করেন বরিশালের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও তাওহিদ হৃদয়। ৪৯ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ডেভিড মালান ব্যাট হাতে সুবিধা করতে না পারলেও চারে নেমে হাল ধরেন কাইল মায়ার্স। ২৮ বলে ৪৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তবে শেষের দিকে চাপে পড়ে বরিশাল। সেই চাপ অবশ্য সামলে নিয়েছেন রিশাদ হোসেন। তার ঝড়েই জয় পেয়েছে বরিশাল। এর আগে টস জিতে চট্টগ্রামকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। খাজা নাফি ও পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে দারুণ শুরু করে চিটাগং। ৭৬ বলে ১২১ রানের জুটি গড়েন তারা। ব্যক্তিগত ৬৬ রানে নাফি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ইমন। ৪৯ বলে ৭৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন ইমন। বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো উদ্বোধনী জুটিতে তারা দলীয় সেঞ্চুরি এনে দেন বিপিএলের ফাইনালে এর আগে শতরানের কোনো উদ্বোধনী জুটি ছিল না। বরিশালের হয়ে তামিম ইকবাল ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৬ রানের জুটি গড়েছিলেন গত বছর, যা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তিনে নেমে ঝড় তোলেন গ্রাহাম ক্লার্কও। ২৩ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি।নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান তুলতে পেরেছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। বরিশালের হয়ে একটি করে উইকেট পেয়েছেন এবাদত হোসেন ও মোহাম্মদ আলি।

শিরোপার লড়াইয়ে বরিশালকে ১৯৫ রানের টার্গেট  চিটাগং এর

শিরোপার লড়াইয়ে বরিশালকে ১৯৫ রানের টার্গেট  চিটাগং এর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ফরচুন বরিশালকে ১৯৫ রানের টার্গেট দিয়েছে চিটাগং কিংস। টস জিতে চট্টগ্রামকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। খাজা নাফি ও পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে দারুণ শুরু করে চিটাগং। ৭৬ বলে ১২১ রানের জুটি গড়েন তারা। ব্যক্তিগত ৬৬ রানে নাফি ফিরলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ইমন। ৪৯ বলে ৭৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছেন ইমন। বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো উদ্বোধনী জুটিতে তারা দলীয় সেঞ্চুরি এনে দেন। বিপিএলের ফাইনালে এর আগে শতরানের কোনো উদ্বোধনী জুটি ছিল না। বরিশালের হয়ে তামিম ইকবাল ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৬ রানের জুটি গড়েছিলেন গত বছর, যা এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তিনে নেমে ঝড় তোলেন গ্রাহাম ক্লার্কও। ২৩ বলে ৪৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান তুলতে পেরেছে মোহাম্মদ মিঠুনের দল। বরিশালের হয়ে একটি করে উইকেট পেয়েছেন এবাদত হোসেন ও মোহাম্মদ আলি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে থেকেও আকস্মিক অবসরে স্টয়নিস

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে থেকেও আকস্মিক অবসরে স্টয়নিস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর আগে একাধিক চোটে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়া দল। এবার আকস্মিকভাবে ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন দলের তারকা অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। মূলত টি-টোয়েন্টিতে বাড়তি মনোযোগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত তার। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ৭১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন স্টয়নিস। এর মধ্যে ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপও আছে। গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে পার্থে সর্বশেষ এই ফরম্যাটে খেলতে দেখা গেছে তাকে। এই ফরম্যাটে তার রান ১৪৯৫ এবং ৪৮ উইকেট। স্টয়নিস ২০২৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলেরও অংশ ছিলেন৩৫ বছর বয়সী স্টয়নিস ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অস্ট্রেলিয়া স্কোয়াডে ছিলেন। এখন তার বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে অজি নির্বাচকদের। তার আগে অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন। এছাড়া দলের দুই মূল পেসার প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।  সবমিলিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এখন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে সম্ভবত ৪টি পরিবর্তন আনতে হবে। তাদের বিকল্প হিসেবে স্পেন্সার জনসন, জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক ও শন অ্যাবটের নাম ভাবা হচ্ছে। এছাড়া অজি কিংবদন্তি রিকি পন্টিং ২৩ বছর বয়সী অলরাউন্ডার মিচ ওয়েনের নাম উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে অনেকেই স্টয়নিসের ছায়া দেখতে পান। স্টয়নিসের অবসরে অস্ট্রেলিয়ান প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘স্টয়নিস গত দশ বছর ধরে আমাদের ওডিআই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে শুধু ভালো খেলোয়াড়ই নয়, একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্বও। তার ওয়ানডে ক্যারিয়ার এবং সমস্ত অর্জনের জন্য তাকে অভিনন্দন জানানো উচিত। ’

দায়িত্ব ছাড়লেন নারী ক্রিকেট দলের কোচ

দায়িত্ব ছাড়লেন নারী ক্রিকেট দলের কোচ বাংলাদেশের জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের পদ ছেড়েছেন হাসান তিলকরত্নে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, নিজের সিদ্ধান্তের কথা বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছেন লঙ্কান কোচ। ২০২২ সালের অক্টোবরে দুই বছরের চুক্তিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিলকরত্নে। পড়ে সদ্য সমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানালেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবির নারী বিভাগের ইন-চার্জ হাবিবুল বাশার ক্রিকবাজকে বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময়ই তিলকরত্নে জানিয়েছিলেন, তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে চান না। ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিলকারত্নের অধীনে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে খুব একটা সন্তুষ্ট ছিল না বিসিবি। যে কারণে চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বরং বিকল্প খোঁজার কথা ভাবা হচ্ছিল। শোনা যাচ্ছে, বিসিবি এবার দেশি কোনো কোচকে দায়িত্ব দিতে চাচ্ছে। সম্ভাব্য কোচ হিসেবে উঠে আসছে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ সারোয়ার ইমরানের নাম।

রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে খুলনা

রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে খুলনা এলিমিনেটরের জন্য গতকাল রাতেই উড়িয়ে আনা হয়েছে জেমস ভিন্স, টিম ডেভিড ও আন্দ্রে রাসেলের মতো তারকাদের। কিন্তু মাঠে নেমে ব্যর্থই হয়েছেন তারা। কারও ব্যাট থেকে আসেনি রান। বাকিদেরও ব্যর্থতায় অল্প রানে গুটিয়ো যায় রংপুর রাইডার্স। জবাব দিতে নেমে আলো ছড়ালেন নাঈম শেখ ও অ্যালেক্স রস। দারুণ জয়ে খুলনাকে ওঠালেন কোয়ালিফায়ারে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এলিমিনেটর ম্যাচ আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরকে ৯ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা টাইগার্স। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৬ ওভার ৫ বলে ৮৫ রান করে অলআউট হয় রংপুর। জবাব দিতে নেমে ৫৮ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য তাড়া করে ফেলে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।  ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সৌম্য সরকারকে হারিয়ে শুরু হয় রংপুরের ইনিংস। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। স্রেফ ১৫ রানে হারায় ৫ উইকেট। উড়িয়ে আনা নতুন ওপেনার ভিন্সের ব্যাট থেকে আসেনি কোনো রান। একে একে উইকেট হারান সাইফ হাসান, মাহেদী হাসান ও সাইফউদ্দিনও। মাঝে কিছুটা রান যোগ করেন নুরুল হাসান সোহান। ২৫ বলে ২৩ রান করেন রংপুর অধিনায়ক। এরপর টিম ডেভিড ৭ রানে উইকেট হারান। আন্দ্রে রাসেল করতে পারেন ৪ রান। শেষদিকে আকিফ জাভেদের ১৮ বলে ৩২ রানে আশির ঘর পার করে রংপুর।  খুলনার হয়ে দারুণ বোলিং করেন মিরাজ। ৪ ওভারে স্রেফ ১০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ১৬ রান দিয়ে সমান উইকেট পান নাসুম আহমেদও। একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নওয়াজ, হাসান মাহমুদ ও মুশফিক হাসান।  রান তাড়ায় নেমে তৃতীয় বলে উইকেট বিলিয়ে দেন খুলনার অধিনায়ক মিরাজ। এই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে দলকে জেতান নাঈম শেখ ও অ্যালেক্স রস। ৩৩ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থানেক নাঈম। ২৭ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস খেলেন রস।

ব্যর্থ ডেভিড-রাসেল, রংপুরকে ৮৫ রানে গুটিয়ে দিলো খুলনা

ব্যর্থ ডেভিড-রাসেল, রংপুরকে ৮৫ রানে গুটিয়ে দিলো খুলনা জরুরি ভিত্তিতে আরব আমিরাত থেকে তিন বিদেশি ক্রিকেটার- জেমস ভিন্স. আন্দ্রে রাসেল ও টিম ডেভিডকে উড়িয়ে এনেছিল রংপুর রাইডার্স। আশা ছিল, তিনটি ভিন্ন দেশের তারকাদের প্লে-অফের ম্যাচে কাজে লাগিয়ে শিরোপার দিকে ছুটবে নুরুল হাসান সোহানের দল। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ৩ ভিনদেশির কেউই। এমনকি দেশি ক্রিকেটাররা আজ জ্বলে উঠতে পারেননি। দৃষ্টিকটু ব্যাটিংয়ে এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে মাত্র ৮৫ রানে অলআউট হয়ে গেছে রংপুর। অর্থাৎ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করতে খুুলনাকে করতে হবে ৮৬ রান। আজ সোমবার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং নেয় রংপুর। সদ্য দলে যোগ দেওয়া ইংলিশ ব্যাটার জেমস ভিন্সের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে কোনো বল খেলার আগেই ননস্ট্রাইক প্রান্তে অপ্রত্যাশিত রানআউটের শিকার হন ওপেনার সৌম্য সরকার। ৭ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন ভিন্সও। ১০ বলে খেললেও মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরত যান সাইফ হাসানও। তিন টপঅর্ডারের সঙ্গে আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন ব্যাটিংঅর্ডার পরিবর্তন করে ওপরের দিকে নামা শেখ মেহেদী (৫ বলে ১) ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (৮ বলে ৮)। মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট হারায় রংপুর। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে দলকে টানার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সোহান ও টিম ডেভিড। কিন্তু ১৭ রানের এই জুটি শেষ হয় ডেভিড আউট হলে। ৯ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরত যান অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। আন্দ্রে রাসেলও ব্যর্থ হন। ৯ বলে ৪ রান করে মোহাম্মদ নওয়াজের বলে বোল্ড হন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটার। ২৫ বলে ২৩ রান করে আউট হন সোহান। দশম উইকেটে রংপুরকে কিছু রান এনে দেন আকিভ জাভেদ ও নাহিদ রানা। এই জুটিতে ২৬ বলে ৩৩ রান করেন তারা। নাহিদ রানা ৯ বল খেললেও কোনো রান করেননি। অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে শুধু আকিভকে সহায়তা করেছেন তিনি। রংপুরের ইনিংসের সর্বোচ্চ ১৮ বলে ৩২ রান করেন আকিভ। বল হাতে খুলনার হয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাসুম আহমেদ। ১টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নওয়াজ, হাসান মাহমুদ ও মুশফিক হাসান।

এলিমিনেটরে হারের বৃত্ত ভাঙতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে রংপুর

এলিমিনেটরে হারের বৃত্ত ভাঙতে স্থানীয় খেলোয়াড়দের দিকে তাকিয়ে রংপুর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে স্থানীয় খেলোয়াড়দের বড় অবদান রাখতে হবে বলে মনে করেন রংপুর রাইডার্সের অলরাউন্ডার মাহেদি হাসান। আগামীকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনার মুখোমুখি হবে রংপুর। এ ম্যাচের বিজীয় দল ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে খেলবে। আর হেরে যাওয়া দল বিপিএল থেকে বিদায় নিবে। এলিমিনেটর ম্যাচটি শুরু হবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। গত দুই আসরে বিপিএলের এলিমিনেটর রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছিলো রংপুর। এবার এলিমিনেটর বাঁধা টপকে যাওয়াই রংপুরের মূল লক্ষ্য বলে জানান মাহেদি। আজ মাহেদি বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে আমরা এলিমিনেটর ম্যাচে হেরে যাওয়ায় ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছি। এটা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এ বছরও আমাদের সুযোগ আছে। এবার আমরা এলিমিনেটর বাঁধা টপকাতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফাইনালে যেতে চাই। ফাইনালে উঠার জন্য আগামীকালের ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সাতজন স্থানীয় খেলোয়াড় আছে, এ ম্যাচে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের চার বিদেশি খেলোয়াড়ও ছন্দে আছে। কিন্তু নক আউট ম্যাচে স্থানীয় খেলোয়াড়দের বড় ভূমিকা রাখা উচিত।’ গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সুপার লিগ (জিএসএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপার স্বাদ নিয়ে বিপিএল খেলতে নামে রংপুর। জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে বিপিএলে টানা আট ম্যাচ জিতে প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করে রংপুর। কিন্তু‘ নবম ম্যাচ থেকে খেই হারায় তারা। শেষ চার ম্যাচের সবগুলোতেই হেরে যায় দলটি। পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয়স্থানে নেমে যাওয়ায় এলিমিনেটর খেলতে হবে নুরুল হাসান সোহানের দলকে। প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে খেলবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল ও চট্টগ্রাম কিংস। প্রথম কোয়ালিফাইয়ারের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে খেলবে। আর হেরে যাওয়া দল দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে খেলবে এলিমিনেটর ম্যাচের বিজয়ী দলের সাথে। যা অঘোষিত সেমিফাইনাল হিসেবে বিবেচিত। লিগ পর্বের শেষ চার ম্যাচ হারলেও দলের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরেনি বলে জানিয়েছেন মাহেদি। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শীর্ষ দুই দলের মধ্যে শেষ করতে পারতাম, তাহলে ভালো হতো। তারপরও আমরা ভেঙ্গে পড়িনি। আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো বড় কিছু অর্জন করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে পারতাম তাহলে আমরা দু’বার সুযোগ পেতাম। আমরা এখন নকআউট পর্বে রয়েছি। এটা এখন আমাদের জন্য ডু-অর-ডাই ম্যাচ হয়ে গেছে। এটা নিশ্চিত যে আমরা নিজেদের সেরাটা উজার করে দিবো।’ শেষ চার ম্যাচে হার নিয়ে খুব বেশি চিন্তা না করে নিজেদের সামর্থ্যরে উপর আস্থা রাখতে চান মাহেদি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্যের উপর আস্থা আছে। প্রতিটি খেলোয়াড়ই ম্যাচ জয়ের জন্য মাঠে নামবে। কিন্তু প্রতিদিন একইরকম যায় না। আমরা শীর্ষ দু’দলের মধ্যে থাকতে পারিনি। কিন্তু বিষয়টা এই নয় যে সব কিছু শেষ হয়ে গিয়েছে।’ মাহেদি বলেন, ‘আমাদের এখনও সুযোগ আছে। আমরা এই সুযোগকে ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি। আমি মনে করি দলের সবাই ভালো ছন্দে আছে। কারণ এই সময়ে আমরা যদি দল হিসেবে ভেঙ্গে পড়ি আমরা এখান থেকে বের হতে পারবো না।’