তরুণদের প্রতি আস্থা রাখার আকুতি রাউফের

তরুণদের প্রতি আস্থা রাখার আকুতি রাউফের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাজে পারফরম্যান্সের পর বড় পরিবর্তন এসেছে পাকিস্তান দলে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে গিয়েছে দলটি। তবে কিউইদের বিপক্ষে পরপর দুটি ম্যাচে কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা না গড়েই হারতে হয় পাকিস্তানকে। এরপরও দেশটির গতি তারকা হারিস রাউফ আহ্বান জানালেন তরুণদের প্রতি আস্থা ও ধৈর্য রাখার। এই পেসারের বিশ্বাস, নবাগতদের প্রতি আস্থা রাখলে ভবিষ্যতে পুরস্কৃত হবে দলই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইতিমধ্যেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে পাকিস্তান। এই সিরিজে আব্দুল সামাদ, হাসান নওয়াজ এবং মোহাম্মদ আলীর মতো ক্রিকেটাররা খেলেছেন প্রথম দুই ম্যাচেই। যারা আবার নিউ জিল্যান্ড সফরের মাধ্যমেই পাকিস্তান স্কোয়াডে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন। এই ত্রয়ীকে সমর্থন জানিয়ে রাউফ সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারা যদি সমালোচনার ব্যাপারে বলেন, আমি মনে করি এটা পাকিস্তানে সাধারণ হয়ে গেছে। এরা তরুণ খেলোয়াড়। আপনি পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় যান, যে কোনো দলের দিকে তাকান, তারা তরুণদের পুরো স্বাধীনতা দেয়। যদি তারা তরুণদের সুযোগ দেয়, তবে তারা ১০-১৫টি ম্যাচের জন্যই সুযোগ দেয়। এর মাধ্যমে তারা খেলোয়াড় হয়ে ওঠে।” রাউফের মতে তরুণরা সব সময়ই প্রথমে সংগ্রাম করেন। তবে তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকলে সে ব্যাপারটা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। পাকিস্তানের এই দলে তরুণ এবং অভিজ্ঞতার সেই মিশ্রণটা আছে। রাউফ বলেন, “যে কেউই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসলে, শুরুতে সংগ্রাম করে। আপনি সমালোচনার কথা বলছেন, এটা এখন একটা প্রথা হয়ে গেছে। সবাই বসে থাকে এবং পাকিস্তান দল হারলে তারা সেই নিয়ে কথা বলে।” রাউফ আরও যোগ করেন, “সমালোচকদের মতামত আছে, কিন্তু আমরা আমাদের দল গড়ার চেষ্টা করছি। আমরা তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি, সিনিয়ররাও সেখানে আছেন। আমরা সিনিয়ররা আমাদের জুনিয়রদের অনুপ্রাণিত করি, এবং তাদের পরামর্শ দেই যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে কী কী দরকার। তারা যত দ্রুত শিখবে, তাদের জন্য ততো ভালো হবে।”প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৯ উইকেটে হারার পর, পাকিস্তান মঙ্গলবার (১৮ মার্চ, ২০২৫) বৃষ্টিতে সংক্ষিপ্ত হওয়া দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে হারে। ১৫ ওভারে পাকিস্তানকে ১৩৫/৯ রানে সীমাবদ্ধ রাখার পর, ব্ল্যাক ক্যাপসরা ১১ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য অতিক্রম করে। রাউফ বিশ্বাস করেন, পাকিস্তানের পেসাররা ডানেডিনে ভালো পারফর্ম করলেও ভাগ্য সহায় হয়নি, “সব খেলোয়াড়ই চেষ্টা করেছে। এখানে যে ধরনের মাঠ রয়েছে, সেখানে সাধারণত আমরা হাই স্কোরিং ম্যাচ দেখি। এমন না যে, আমরা ভালো বলিং করিনি, আমাদের ভাগ্য কিছুটা খারাপ বটে। কয়েকটি টপ এজ ছিল, যেগুলো ছক্কা হয়ে গেছে। মাঠ ছোট, সাথে বাতাসের কারণে বল ওভার বাউন্ডারি হয়ে গেছে। আমরা বোলিং ইউনিট হিসেবে চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা চাওয়া অনুযায়ী ফল পাইনি।” রাউফ আশাবাদী যে, নবাগতদের প্রতি আস্থা রাখা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। কারণ পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য অর্জনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, যা তরুণরাই এনে দিবে। রাউফ বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের ক্রিকেট ধীরে-ধীরে অবনতির দিকে গেছে। তবে আমরা একটি দল হিসেবে গড়ে উঠছি এবং একটি সমন্বয় তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন জিনিস চেষ্টা করছি। যখন নতুন কিছু চেষ্টা করবেন, তখন কিছু পরাজয় আসবেই। কিন্তু আমরা শিখব। ভবিষ্যতে এমন এক দিন আসবে যখন আপনি পাকিস্তান দলের ভালো ক্রিকেট দেখতে পাবেন।”
শচীনের নেতৃত্বে ভারতের ঘরে আরও একটি শিরোপা

শচীনের নেতৃত্বে ভারতের ঘরে আরও একটি শিরোপা ভারতের ইনিংসের সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় দেখানো হলো গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতি ৪৭ হাজার ৩২২ জন। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের একেকটি শটে দর্শকদের সে কী উল্লাস। তাদের আনন্দ দ্বিগুণ করে ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার্স লিগের শিরোপা জিতলেন শচীন টেন্ডুলকার, যুবরাজ সিংরা। সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজিত ছয় দলের প্রতিযোগিতাটির প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত মাস্টার্স দল। রায়পুরে গতকাল ফাইনালে ব্রায়ান লারার নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাস্টার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে টেন্ডুলকারের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। ফাইনালে লারা অবশ্য ভালো করতে পারেননি। ৬ বলে ৬ রান করে আউট হয়ে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান। লেন্ডল সিমন্সের ৪১ বলে ৫৭ ও ডোয়াইন স্মিথের ৩৫ বলে ৪৫ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ১৪৮ রান করতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৬৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভারতের ভিত গড়ে দেন টেন্ডুলকার ও আম্বাতি রায়ডু। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ সেঞ্চুরির মাইলফলক ছোঁয়ার ১৩ বছর পূর্তির দিনে ২ চার ও এক ছক্কায় ১৮ বলে ২৫ রান করেন টেন্ডুলকার। রায়ডু ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৫০ বলে করেন ৭৪ রান। ইউসুফ পাঠান শূন্য রানে ফিরলেও, দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন যুবরাজ (১৩*) ও স্টুয়ার্ট বিনি (১৬*)। ১৭ বল হাতে রেখেই জিতে যায় ভারত।
পাকিস্তানকে পাত্তাই দিলোনা নিউজিল্যান্ড

পাকিস্তানকে পাত্তাই দিলোনা নিউজিল্যান্ড ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হার দিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল সফরকারী পাকিস্তান। আজ সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৯ উইকেটে হেরেছে পাকিস্তান। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। ক্রাইস্টচার্চে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে দুই ওপেনার মোহাম্মদ হারিস ও হাসান নাওয়াজকে হারায় পাকিস্তান। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের দুই ওপেনার খালি হাতে সাজঘরে ফিরলেন। এর আগে ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানের দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও কামরান আকমল রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন। এরপর ইরফান খান ১ ও শাদাব খান ৩ রানে থামলে দলীয় ১১ রানে চতুর্থ উইকেট পতন হয় পাকিস্তানের। টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম রানে প্রথম ৪ উইকেট পতনে এটি পাকিস্তানের নয়া রেকর্ড। পাকিস্তানের পতন হওয়া ৪ উইকেটের তিনটি নেন নিউজিল্যান্ড পেসার কাইল জেমিসন। পঞ্চম উইকেটে ৩৯ বলে ৪৬ রানের জুটিতে পাকিস্তানকে চাপমুক্ত করেন অধিনায়ক সালমান আগা ও খুশদিল শাহ। দলীয় ৬৪ রানের মধ্যে সালমান-খুশদিলের বিদায়ে পাকিস্তানের লড়াকু সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায়। সালমান ১৮ ও খুশদিল ৩২ রান করেন। লোয়ার-অর্ডারে জাহানদাদ খানের ১৭ রানের সুবাদে কোনমতে নব্বইয়ের ঘরে পা রাখতে পারে পাকিস্তান। ১৮.৪ ওভারে ৯১ রানে অলআউট হয় তারা। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এটিই সর্বনিম্ন রান পাকিস্তানের। জ্যাকব ডাফি ১৪ রানে ৪টি এবং জেমিসন ৮ রানে ৩ উইকেট নেন। স্পিনার ইশ সোধি নেন ২ উইকেট। ৯২ রানের সহজ টার্গেটে ৩৫ বলে ৫৩ রানের সূচনা করেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। পাওয়ার প্লে শেষ হবার ১ বল আগে থামেন ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৯ বলে ৪৪ রান করা সেইফার্ট। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৫৯ বল বাকী রেখে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন অ্যালেন ও টিম রবিনসন। ঘরের মাঠে তৃতীয় সর্বোচ্চ বল হাতে রেখে জয়ের স্বাদ পেল কিউইরা। এই তালিকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশী বল বাকী রেখে ম্যাচ জিতেছিল নিউজিল্যান্ড। ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৭৯ রানের টার্গেট ৭০ বল বাকী রেখে ১০ উইকেটে জয় পেয়েছিল ব্ল্যাকক্যাপসরা। ২টি করে চার-ছক্কায় অ্যালেন ১৭ বলে ২৯ ও রবিনসন ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচ সেরা হন নিউজিল্যান্ডের জেমিসন। আগামী ১৮ মার্চ ডানেডিনে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে দু’দল।
আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ

আফগানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগামী অক্টোবরে এই সিরিজ মাঠে গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেছে দুই বোর্ড। মূলত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই সিরিজ আয়োজন করবে বিসিবি। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানায় ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। বিসিবির এক কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাথে পূর্বে স্থগিত হওয়া সিরিজ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। রমজান পরবর্তী সময়ে আরো আলোচনা হবে এবং আমরা তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার আশা করছি, কারণ আমরা এটিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করছি। ’ সিরিজটি অক্টোবরে হতে পারে জানিয়ে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি মনে করি, যদি আপনি এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) দেখেন, তাহলে আপনি তথ্য পাবেন যে অক্টোবর ২ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে একটি উইন্ডো (সময়) রয়েছে এবং আমরা তারিখ ও বিস্তারিত চূড়ান্ত করতে আলোচনা করছি। ’আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ সর্বশেষ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে গত বছরের নভেম্বরে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সিরিজটি আয়োজিত হয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি হিসেবে। এছাড়া গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল দলটির। তবে ওয়ার্কলোডের কারণে বিসিবি সেটি স্থগিত করেছে। এবার অবশ্য আত্মবিশ্বাসী দুই বোর্ড। বিস্তারিত জানা যাবে অফিসিয়াল ঘোষণা আসলেই।
ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে মাহমুদউল্লাহর অবসর যা বলছে বিসিবি

ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে মাহমুদউল্লাহর অবসর যা বলছে বিসিবি আগেই টেস্ট ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শুধু চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেট। সেখান থেকেও অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মিস্টার সাইলেন্ট কিলার। এতে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন মাহমুদউল্লাহ। বুধবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার সকল সতীর্থ, কোচ এবং বিশেষ করে আমার ভক্তদের ধন্যবাদ দিতে চাই, যারা সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়েছে।’ মাহমুদউল্লাহর অবসর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাহমুদউল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বাংলাদেশ দলে অসাধারণ অবদানের জন্য মাহমুদউল্লাহকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে। বুধবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ১৮ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি টেনেছেন।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন ফরম্যাটে সব মিলিয়ে মাহমুদউল্লাহ ৪৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন যেখানে রান করেছেন ১১,০৪৭ রান এবং উইকেট নিয়েছেন ১৬৬টি। আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে সর্বাধিক সেঞ্চুরি (৪) করার গৌরব তার রয়েছে এবং ওয়ানডেতে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ এবং টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। তিনি ছয়টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৪৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।’ মাহমুদউল্লাহর অবদানের প্রশংসা করে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সকলের জন্য একটি হৃদয়বিদারক মুহূর্ত, কারণ মাহমুদউল্লাহ প্রায় দুই দশক ধরে জাতীয় দলের শক্তির স্তম্ভ হয়ে আছেন। চাপের মধ্যেও তার ধারাবাহিকতা এবং সাফল্য তাকে অমূল্য সম্পদে পরিণত করেছে। তার নিষ্ঠা এবং পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং তাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’ বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘মাহমুদউল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পারফর্মারদের একজন হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ব্যাটিং হোক বা বোলিং, যখন দলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তখনই তিনি সেরাটা করে দেখিয়েছেন। চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে তার শান্ত আচরণ এবং মাঠে তার নেতৃত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে তার মর্যাদাকে সুদৃঢ় করেছে।’ ফারুক আহমেদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে, আমরা মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ ক্যারিয়ার উদযাপন করছি এবং দল এবং খেলাধুলার প্রতি তার অমূল্য সেবার জন্য আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা তার ভবিষ্যতের সকল প্রচেষ্টায় তার সাফল্য কামনা করি এবং আত্মবিশ্বাসী যে তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করে তুলবে।’
রোহিতকে ২০২৭ বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক দেখতে চান পন্টিং

রোহিতকে ২০২৭ বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক দেখতে চান পন্টিং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রোহিত শর্মা। শিরোপা জয়ের পর অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েই এখন অবসর না নেওয়ার কথা জানান তিনি। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকছেন দলের সঙ্গে। ওই সময় পর্যন্ত দলের অধিনায়ক হিসেবে রোহিতকে দেখতে চান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিটি পন্টিংও। আইসিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পন্টিং বলেন, ‘এই পর্যায়ে এসে সবাই আপনার অবসর নেওয়ার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু আপনি যদি এখনো সেরা খেলোয়াড়দের একজন হয়ে থাকেন, তাহলে অবসরের দরকার কী? আমার মনে হয়, রোহিতের মাথায় ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালের হার এখনো ঘুরছে। তিনি চাইবেন আরেকবার সুযোগ নিতে, আইসিসি হোয়াইট-বল ট্রেবল (ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) সম্পন্ন করতে। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষ করে অবসর প্রসঙ্গে রোহিত শর্মা বলেছিলেন, ‘আমি বর্তমানে এক ধাপ করে এগোতে চাই। ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই বেশি ভাবতে চাই না। এটা বলা ঠিক হবে না যে আমি খেলব বা খেলব না। আমি আমার ক্রিকেট উপভোগ করছি, দলকে নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসি। এখন শুধু এটুকুই গুরুত্বপূর্ণ। ’
হারলেও ব্যাটে-বলে সেরা নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা

হারলেও ব্যাটে-বলে সেরা নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা আরও একবার শিরোপার একদম কাছ থেকে ফিরে যেতে হলো নিউজিল্যান্ডকে। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে জমজমাট লড়াই করেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি কিউইরা। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রবিবার (৯ মার্চ) ৪ উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে এক যুগ পর শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ভারত। ফাইনালে একাধিক ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ৪ উইকেটের পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে উজ্জ্বল ছিলেন কিউই ক্রিকেটাররা। রাচিন রবীন্দ্র: ব্যাট হাতে আসরের সেরা টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র। প্রথম ম্যাচে না খেললেও বাকি চার ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিসহ ২৬৩ রান করেন তিনি, যা তাকে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বানিয়েছে। ম্যাট হেনরি: বল হাতে শীর্ষে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেরা বোলারও নিউজিল্যান্ডের। পেসার ম্যাট হেনরি ফাইনালে না খেললেও ১০ উইকেট নিয়ে সবার শীর্ষে আছেন। ফাইনালের সেরা রোহিত শর্মা ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। ৮৩ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন তিনি, যা ভারতকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার নির্বাচিত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র ও ম্যাট হেনরি। তবে শিরোপা জিতে তাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর ছাপিয়ে গেছে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতের সাফল্য।
জয়রথ চলছেই, আগামী ৮ বছরেও প্রতিপক্ষদের সতর্কবার্তা কোহলির

জয়রথ চলছেই, আগামী ৮ বছরেও প্রতিপক্ষদের সতর্কবার্তা কোহলির আইসিসির বড় আসরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের ধারায় রয়েছে ভারত। গত ১৫ বছরে চারটি আইসিসি ট্রফি জয় সেই ধারাবাহিকতারই প্রমাণ। গতকাল দুবাইয়ে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এক যুগ পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে ভারত। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পর এক বছরেরও কম সময়ে দুটি বড় ট্রফি জিতে অনন্য কীর্তি গড়ল রোহিত শর্মার দল। অভিজ্ঞ রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদের দারুণ সমন্বয় ভারতকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। ব্যাট হাতে শুভমান গিল, হার্দিক পান্ডিয়া ও লোকেশ রাহুল নিজেদের দায়িত্ব নেওয়া শিখে গেছেন। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র জসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়াই খেলতে নেমেছিল ভারত, তবে তরুণ বোলাররা তার অভাব বুঝতেই দেননি। অভিজ্ঞতার শেষ পর্যায়ে থাকা বিরাট কোহলিও ভারতীয় দলের এই অগ্রগতিতে খুশি। জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও তরুণদের পারফরম্যান্স দেখে স্বস্তিতে আছেন তিনি। কোহলি বলেন, “যখন আপনি ছাড়তে চান, তখন চেষ্টা করেন দলকে ভালো অবস্থানে রেখে যাওয়ার। আমাদের দলের ভবিষ্যৎ ভালো হাতে রয়েছে। আগামী ৮ থেকে ১০ বছর ক্রিকেট শাসনের জন্য আমরা প্রস্তুত।” ট্রফি জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় কোহলি জানান, “কঠিন অস্ট্রেলিয়া সফরের পর আমরা চেয়েছিলাম ঘুরে দাঁড়াতে। বড় টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, এবং শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়েছে। দলের প্রতিটি ক্রিকেটার ম্যাচের দায়িত্ব নিচ্ছে, যা আমাদের শক্তি বাড়াচ্ছে।” শিরোপা জয়ের পর প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের প্রশংসাও করেছেন কোহলি। তিনি বলেন, “নিউজিল্যান্ড দারুণ একটি দল। তারা প্রতিবার বড় মঞ্চে পরিকল্পনা নিয়ে নামে এবং সেটিকে কার্যকর করতে অসাধারণ দক্ষতা দেখায়। বিশ্বের খুব কম দলই এত নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে।” বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের জয়রথ চলছেই। সামনের দিনগুলোতেও এই আধিপত্য ধরে রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কোহলি।
মিরপুর বাদ দিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের সূচি প্রকাশ বিসিবির

মিরপুর বাদ দিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের সূচি প্রকাশ বিসিবির ঈদের পরেই বাংলাদেশে আসছে জিম্বাবুয়ে। দুই টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে যে আসছে জিম্বাবুয়ে তা আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। আজ দুই টেস্টের সিরিজের সময়সূচি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। সিরিজের কোনো টেস্ট নেই মিরপুরে। দুই টেস্টের একটি চট্টগ্রামে। অন্যটি সিলেট। ২০ এপ্রিল সিলেট টেস্ট দিয়ে সিরিজ শুরু হবে। আর সফর শেষ হবে ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও দুই টেস্টের সিরিজের একটিও ছিল না হোম অব ক্রিকেট নামে পরিচিত মিরপুরে। গত বছর ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সঙ্গে ২টি টেস্ট খেলার কথা ছিল দুই দলের। তবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপের বছর হওয়ায় সেই সফরে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে। স্থগিত হওয়ায় টেস্ট সিরিজটিই এবার খেলতে আসছে জিম্বাবুয়ে।
ভারত-নিউজিল্যান্ডের লড়াইয়ে আম্পায়ার-রেফারির নাম প্রকাশ

ভারত-নিউজিল্যান্ডের লড়াইয়ে আম্পায়ার-রেফারির নাম প্রকাশ নানা নাটকীয়তার পর্দা নামতে যাচ্ছে ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। আর এই ম্যাচকে সামনে রেখে চারজন আম্পায়ার এবং ম্যাচ রেফারির নামের তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। পল রাইফেল এবং রিচার্ড ইলিংওয়ার্থকে ম্যাচ চলাকালীন ফিল্ড আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা যাবে। ম্যাচের তৃতীয় আম্পায়ার হবেন জোয়েল উইলসন, আর চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে দেখা যাবে কুমার ধর্মসেনাকে। ম্যাচ রেফারির ভূমিকায় থাকবেন রঞ্জন মাদুগালে। আজ নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এবার ভারত ও নিউজিল্যান্ডের দল ফাইনাল খেলছে, তাই এই দুই দেশের আম্পায়ারদের প্যানেলে জায়গা দেওয়া হয়নি।