পাকিস্তান সফর থেকে সরে দাঁড়ালেন রানা, যাচ্ছেন না দুই বিদেশি কোচও

পাকিস্তান সফর থেকে সরে দাঁড়ালেন রানা, যাচ্ছেন না দুই বিদেশি কোচও পাকিস্তান সফরের দল ঘোষণার পরই স্পষ্ট ছিল—এই সফরটা হবে ভিন্ন রকমের। কারণ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতেই এই সফরের জন্য চূড়ান্ত দল গঠন করেছে। সেই সুযোগেই পাকিস্তান সফর থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা এবং দলের দুই বিদেশি কোচ। নাহিদের সঙ্গে সফরে যাচ্ছেন না স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ নাথান কেলি ও ফিল্ডিং কোচ জেমস প্যামেন্ট। যদিও স্কোয়াডে থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সফর না করার সিদ্ধান্ত নেন নাহিদ। সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতাই হয়তো এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। পিএসএলের গত আসরে পেশোয়ার জালমির হয়ে স্কোয়াডে ছিলেন নাহিদ রানা। তবে ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও দলের সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট চলাকালীন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধাবস্থার কারণে অনেক বিদেশি খেলোয়াড়ের মতো তিনিও ফিরে আসেন, সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের আরেক তরুণ—রিশাদ হোসেন। তবে রিশাদ এই সফরে যাচ্ছেন। পিএসএলে লাহোর কালান্দার্সর হয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলা এই লেগস্পিনার পাকিস্তান সফরের দলে রয়েছেন এবং লাহোরে অনুষ্ঠিতব্য তিন ম্যাচেই বিবেচনায় থাকবেন। প্রাথমিকভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের একটি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তা নেমে এসেছে তিন ম্যাচে। আজ (২১ মে) পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিরিজের সূচি ঘোষণা করেছে। প্রথম ম্যাচ: ২৮ মে দ্বিতীয় ম্যাচ: ৩১ মে তৃতীয় ম্যাচ: ১ জুন সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আজ অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ, যেখানে সিরিজ জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে দুই দলই একটি করে জয় পেয়েছে। এই সিরিজ শেষেই আগামী ২৫ মে আরব আমিরাত থেকে সরাসরি পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ দল।
পাকিস্তানে পাঁচ দিনে বাংলাদেশের তিন টি-টোয়েন্টি

পাকিস্তানে পাঁচ দিনে বাংলাদেশের তিন টি-টোয়েন্টি আগেই জানা গিয়েছিল, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল পাঁচ টি-টোয়েন্টির পরিবর্তে পাকিস্তানে তিন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। সিরিজের সূচি নিয়ে দুই বোর্ড কাজ করছিল। বুধবার (২১ মে) সেই সূচি চূড়ান্ত করে ঘোষণা করলো আয়োজক পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) । লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচদিনে দুই দল তিন টি-টোয়েন্টি খেলবে। ২৮ মে প্রথম ম্যাচ। একদিন বিরতি দিয়ে ৩০ মে দ্বিতীয় ম্যাচ। সবশেষ ম্যাচ পহেলা জুন। প্রতিটি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় শুরু হবে। বাংলাদেশ ২৫ মে পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছাবে। ২৬ ও ২৭ মে নেবে প্রস্তুতি। এরপর ম্যাচ খেলতে নামবে। পিসিবি বাংলাদেশকে আতিথ্য দেওয়ার এবং গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে কৃত্রিম আলোর নিচে উচুঁমানের ক্রিকেট এবং উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজ আয়োজনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচি অনুযায়ী এই সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ দলের। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ভাবনায় রেখে পরে দুই দেশের বোর্ডের আলোচনায় ওয়ানডে সিরিজ বাদ দিয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ চূড়ান্ত করা হয়। ২৫ মে শুরু হওয়ার কথা ছিল সিরিজ। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রভাব পড়ে এই সিরিজে। পিএসএল প্রথমে স্থগিত হয়। পরবর্তীতে আবার শুরু হলে নতুন সূচিতে ফাইনাল রাখা হয় ২৫ মে। তাতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজও পিছিয়ে যায়। এদিকে উদ্দীপ্ত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা সিরিজটি সংক্ষিপ্ত করার কথা বলেছেন। বিসিবি সেই প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তানকে, আর তাতে রাজিও হয়েছে পিসিবি। অবশেষে সিরিজটি এখন আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ বাংলাদেশ শেষ টি-টোয়েন্টি খেলবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে। দুদিন দল দুবাইতেই থাকবে। সেখান থেকে যাবে পাকিস্তানে।
দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করলেন পারভেজ হোসেন ইমন

দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করলেন পারভেজ হোসেন ইমন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় দিয়ে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতরাতে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ২৭ রানে হারিয়েছে আরব আমিরাতকে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯১ রান করে বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে ৫৪ বলে ১০০ রান করেন পারভেজ। জবাবে ২০ ওভারে ১৬৪ রানে অলআউট হয় আরব আমিরাত। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। সতীর্থরা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলেও, এক প্রান্ত আগলে ৫৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের অষ্টম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা পারভেজ। তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি করলেন পারভেজ। এর আগে ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ৬০ বলে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত ৫টি চার ও ৯টি ছক্কায় ৫৪ বলে ১০০ রান করেন পারভেজ। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডও গড়েন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। এছাড়াও বাংলাদেশ ইনিংসে তাওহিদ হৃদয় ২০, জাকের আলি ১৩, অধিনায়ক লিটন দাস ১১ ও তানজিদ হাসান ১০ রান করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুহাম্মদ জাওয়াদুল্লাহ ২১ রানে ৪ উইকেট নেন। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঝড়ো শুরু এনে দেন অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম। তার ৩৯ বলে ৫৪ রানের ইনিংসের কল্যাণে ১১ ওভারেই ১শ পেয়ে যায় আরব আমিরাত। ওয়াসিম ফেরার পর দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন রাহুল চোপড়া ও আসিফ খান। কিন্তু রাহুলের ২২ বলে ৩৫ এবং আসিফের ২১ বলে ৪২ রানের পরও হার এড়াতে পারেনি আরব আমিরাত। বাংলাদেশের হাসান মাহমুদ ৩টি, তানজিম হাসান, মাহেদি হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নেন। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগামী ১৯ মে একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
দুবাই বিমানবন্দরে ৩ দিন আটকে থেকে অবশেষে দলের সঙ্গে রিশাদ-নাহিদ

দুবাই বিমানবন্দরে ৩ দিন আটকে থেকে অবশেষে দলের সঙ্গে রিশাদ-নাহিদ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনদিন আটকে থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশের তরুণ দুই ক্রিকেটার রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানা দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। শুক্রবার ভোররাতে তারা মুক্তি পান এবং শারজাহতে দলের সঙ্গে যুক্ত হন। এই ঘটনায় প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ঠিক ১৮ ঘণ্টা আগে তারা টিম হোটেলে পৌঁছান। গত ১৪ মে বাংলাদেশ দল প্রথম দফায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমায়। বাকি খেলোয়াড়রা নির্বিঘ্নে ইমিগ্রেশন পার হলেও রিশাদ ও নাহিদকে আটকে রাখা হয় ‘ডকুমেন্ট যাচাই’-এর জন্য। বিষয়টি এতটাই দীর্ঘায়িত হয় যে, একপর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু জানান, “তাদের ভিসা বৈধ ছিল। তারা দলের সঙ্গেই গিয়েছিল। কিন্তু ইমিগ্রেশনে আটকে গিয়ে তারা ‘রিভিউ’র মধ্যে পড়ে। মাঝখানে তাদের খুঁজে পাওয়াই যাচ্ছিল না। ” বিসিবি দ্রুত আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড এবং দুবাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে। শেষপর্যন্ত ১৭ মে ভোর ২:৩০টার দিকে তাদের মুক্তি মেলে। এই বিলম্বের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান থেকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা দুবাই হয়ে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন। তখন পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ) স্থগিত হওয়ায় তারা দুবাইয়ে স্বল্প সময় অবস্থান করেন। সেসময় কোনো ডকুমেন্টসে ঘাটতি থাকায় হয়তো এবার ইমিগ্রেশনে বাধা সৃষ্টি করেছে। তিন দিনের জটিলতায় রিশাদ ও নাহিদ দলের দুটি প্রস্তুতি সেশন মিস করেছেন। তাদের ১৮ মে’র প্রথম ম্যাচে মাঠে নামানো হবে কি না, তা নির্ভর করবে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপর। বাংলাদেশ ১৮ ও ২০ মে শারজাহতে দুটি টি-টোয়েন্টি খেলবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে।
বিসিবিতে ফের দুদকের অভিযান

বিসিবিতে ফের দুদকের অভিযান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগে ফের অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ দুপুর ১টার দিকে এই অভিযান শুরু হয়। দুদকের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযান পরিচালনা করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল। এর আগে ১৬ এপ্রিল মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১৯ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। সেসময় অভিযোগ-সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। সম্প্রতি বিসিবির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। তার বিরুদ্ধে বিসিবি ও সরকারি অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিসিবির কাছে ২৭ ধরনের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক সাইদুজ্জামান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমা।
অবশেষে আইপিএল খেলার ছাড়পত্র পেলেন মুস্তাফিজ

অবশেষে আইপিএল খেলার ছাড়পত্র পেলেন মুস্তাফিজ অবশেষে আইপিএলে খেলার জন্য বিসিবির ছাড়পত্র পেয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১৭ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভারতে রওনা হবেন তিনি। বিসিবি তাকে ১৮ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) প্রদান করেছে। আজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মুস্তাফিজকে এনওসি দেওয়ার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি। এদিকে বিরতির পর আগামীকাল থেকে আবারও শুরু হচ্ছে আইপিএল। তবে দিল্লির খেলা ১৮ মে। তার মানে প্রথম ম্যাচ থেকে মুস্তাফিজকে পাচ্ছে দলটি। উল্লেখ্য, আইপিএলের এবারের আসরের মেগা নিলামে নাম থাকলেও অবিক্রিত ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
পাকিস্তান সফরের জন্য সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় বিসিবি

পাকিস্তান সফরের জন্য সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় বিসিবি ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পর পিএসএল স্থগিত করে দেয় পাকিস্তান। যদিও পরে আসরটি ফের চালু করা হয়, কিন্তু এই টুর্নামেন্টের পরেই বাংলাদেশ সফর নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। গতকাল অবশ্য নতুন সূচির প্রস্তাব করে পিসিবি। তবে পাঁচ ম্যাচের এই টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বিসিবি। আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে পাকিস্তানে যাওয়ার কথা বাংলাদেশ দলের। তবে বিসিবি জানায়, সফরটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের অনুমোদন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে। নিরাপত্তা শঙ্কা থাকায় বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে বিসিবি। ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানান, ‘আমরা গতকাল এই বিষয়ে (১৩ মে) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে চিঠি পাঠিয়েছি যেন তারা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এর আগের দিন উপদেষ্টাকে জানিয়েছিলাম। আজও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ’ সবার সঙ্গে কথা বললেও বিসিবি প্রধানের এখনও খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করা বাকি রয়েছে, ‘পিএসএল শুরু হয়েছে, আইপিএলও পুনরায় শুরু হবে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সফরে যাওয়া আদৌ ঠিক হবে কিনা, তা বলা কঠিন। তবে সরকারের দিক থেকে কোনো নির্দেশনা পেলে তারপর আমরা খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বাকিদের সঙ্গে আলোচনা করব। ’ সরকারের অনুমোদন ছাড়া পাকিস্তান সফরে যাবে না বাংলাদশে। একা তিনি এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না জানিয়ে বলেন ‘প্রথমে সরকার অনুমোদন নিতে হবে। এরপর খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ভেন্যু কিংবা অন্যান্য বিষয়ও দেখা লাগবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, একা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। ’ পিএসএলের নতুন সূচি চূড়ান্ত করার পর বাংলাদেশ সফরের জন্যও নতুন করে সূচি তৈরি করেছে পিসিবি। এই সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ মে থেকে শুরু হবে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি। ৫ জুন শেষ টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে শেষ হবে সিরিজটি।
একই দিনে শুরু আইপিএল-পিএসএল, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ সিরিজে

একই দিনে শুরু আইপিএল-পিএসএল, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশ সিরিজে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কারণে বন্ধ হয়ে যায় দুই দেশের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)। যুদ্ধ বন্ধের পর আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এই দুই দেশের জনজীবন। এরইমাঝে আইপিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ১৭ মে থেকে পুনরায় শুরু হবে মাঠের খেলা। এবার তাতে যোগ দিলো পিএসএল। ১৭ মে তারিখেই মাঠে গড়াচ্ছে স্থগিত হওয়া পিএসএল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নিজের এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফের খেলা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন সূচি অনুযায়ী ১৭ মে থেকে শুরু হবে পিএসএলের বাকি খেলাগুলো। ফাইনাল হবে ২৫ মে। পিএসএলের নতুন এই সূচির সুবাদেই পিছিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সিরিজ। দুই দেশের মধ্যেকার ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করা ছিল ২৫ মে তারিখ থেকেই। ফাইনাল ২৫ তারিখেই হলে, পিছিয়ে যাবে বাংলাদেশ সিরিজ। টুর্নামেন্ট নতুন করে শুরুর ঘোষণা দিয়ে মহসিন নাকভি লিখেছেন, ‘এইচবিএল পিএসএল-টেন ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে যেখানে সেটা ছিল। ৬ দল। শূন্য শঙ্কা। আসুন সবাই এক হয়ে ক্রিকেটের চেতনাকে সম্মান জানাই। ১৭ মে থেকে শুরু হচ্ছে ৮ রোমাঞ্চকর। যেটা আমাদের নিয়ে যাবে ২৫ মে ফাইনালের পথে। সব দলের জন্য শুভকামনা।’পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো আগেই আভাস দিয়েছিল, ১৬ থেকে ১৮ মে তারিখের মধ্যে পিএসএল শুরু হতে পারে। যদিও এই দফায় বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। বিদেশি ক্রিকেটারদের দুবাইয়ে সরিয়ে নেওয়ার পর অনেকেই নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
নিজের বক্তব্য ঘিরে বিভ্রান্তি, ফেসবুক পোস্টে ক্ষমা চাইলেন রিশাদ

নিজের বক্তব্য ঘিরে বিভ্রান্তি, ফেসবুক পোস্টে ক্ষমা চাইলেন রিশাদ ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের কারণে স্থগিত করা হয় পিএসএল। ক্রিকেটারদেরও নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয় দুবাইতে। ফিরে আসেন আসরটিতে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটার রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানাও। কিন্তু ফেরার সময় নিজের ও বিদেশি ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা জানান রিশাদ। সেগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন এই লেগ স্পিনার। গতকাল রাতে নিজের ফেসবুকে পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে রিশাদ ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি জানান, মিডিয়া বিষয়গুলোকে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানতে পেরেছি আমার সম্প্রতি করা কিছু মন্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমের ভুল ব্যাখ্যায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দরে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সেই মন্তব্য করেছিলাম। এটাতে পুরো প্রসঙ্গ উঠে আসেনি এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে আবেগকে অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হয়েছে। ’ সতীর্থদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করে রিশাদ বলেন, ‘আমার কারণে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য আমি অনুশোচনা প্রকাশ করছি। কারান এবং মিচেলের কাছেও নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি আমি। সতীর্থদের জন্য আমার মধ্যে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আমি (লাহোর) কালান্দার্সের ভ্রাতৃত্ববোধকে ধারণ করি- যেখানে আমরা সবাই যেকোনো পরিস্থিতিতে একে অপরের পাশে দাঁড়াই। পাকিস্তান সুপার লিগ আবার শুরু হলে আমি নিজের দলে যোগদানের জন্য মুখিয়ে আছি। ’মূলত কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে হামলা চালায় ভারত। প্রতিউত্তরে ভারতেও হামলা চালায় পাকিস্তান। এরইমধ্যে রাওয়ালপিন্ডিতে ম্যাচ গড়ানোর আগে ড্রোন হামলা করে ভারত। তখন ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। পরে পুরো আসরই স্থগিত করে দেওয়া হয়। আর ক্রিকেটারদের পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফেরার পথে দুবাইয়ের ট্রানজিটে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন রিশাদ। তিনি ক্রিকবাজকে বলেন, ‘স্যাম বিলিংস, ড্যারিল মিচেল, কুশল পেরেরা, ডেভিড ভিসা, টম কারান…সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। দুবাইয়ে নামার পর মিচেল বললেন, তিনি আর কখনও পাকিস্তানে যাবেন না, বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে। ’ইংল্যান্ডের টম কারানকে নিয়ে রিশাদ বলেন, ‘বিমান ধরার জন্য এয়ারপোর্টে গিয়ে তিনি (কারান) শুনতে পান সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। যা শুনে ছোট বাচ্চার মতো কাঁদতে শুরু করেন কারান। ওই সময় তাকে সামলাতে দুই-তিনজন লোক লেগেছিল। ’এই বক্তব্যগুলোর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা। তৈরি হয় বিভ্রান্তি। সেই বিভ্রান্তিই সংশোধন করতে পরিস্কার বিবৃতি দেন রিশাদ।
টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বললেন কোহলি

টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বললেন কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার জন্য বিসিসিআইকে চিঠি দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। জানা যায়, বোর্ড সেটা গ্রহণ করেনি। তবে থেমে থাকেননি এই ভারতীয় ব্যাটার। আজ নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ব্যাগি ব্লু পরে টেস্ট ক্রিকেটে আমার ১৪ বছর হয়ে গেছে। আমি কল্পনাও করিনি, এই যাত্রা এবং এই ফরম্যাট আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে আসবে। এটা আমাকে পরীক্ষা করেছে, গঠন করেছে, আর সারাজীবনের জন্য শিখিয়েছে। ’‘সাদা পোশাকে খেলার নিজস্বতা আছে। শান্ত পরিবেশ, লম্বা একটি দিন এবং ছোট ছোট কিছু মুহূর্ত যা কেউ হয়তো দেখেনা। কিন্তু নিজের সঙ্গে থাকে সারাজীবন। এই সংস্করণ থেকে বিদায় নেওয়া সহজ নয়। কিন্তু সঠিক মনে হয়েছে আমার কাছে। আমি আমার সবকিছু এখানে দিয়েছি। আর এটি আমার আশার চেয়েও বেশি কিছু দিয়েছে। ’‘আমি বিদায় নিচ্ছি হৃদয়ভরা কৃতজ্ঞতা নিয়ে। কৃতজ্ঞতা জানাই এই খেলাকে, যাদের সঙ্গে খেলেছি তাদের এবং যারা আমাকে এই যাত্রায় সঙ্গ দিয়েছে সবাইকে। আমি সবসময় টেস্ট ক্যারিয়ারের দিকে তাকাবো হাসিমুখেই। ’ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১১ সালের জুনে টেস্ট অভিষেক হয় কোহলির। শুরুটা ভালো না হলেও ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০১৪-১৫ মৌসুমে অ্যাডিলেডে দুই ইনিংসেই করেন সেঞ্চুরি। পরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্ন ও সিডনিতেই পান সেঞ্চুরির দেখা। ওই সিরিজে ৬৯২ রান করে আসেন লাইমলাইটে। এই সিরিজে মাহেন্দ্র সিং ধোনি অবসর নিরে অধিনায়কের দায়িত্ব ওঠে কোহলির কাঁধে। এরপর তার নেতৃত্বে ৬৮ ম্যাচের ৪০ টেস্টেই জয়লাভ করে ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলি (৪৯ টেস্টে ২১ জয়) ও ধোনিকে (৬০ টেস্টে ২৭ জয়) ছাপিয়ে ভারতের ইতিহাসের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক হন তিনি। এখনও এই রেকর্ড তারই দখলে। অসংখ্য রেকর্ড গড়া এই তারকার রয়েছে ভারতের জার্সিতে সাতটি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। অধিনায়ক হিসেবে ২০ সেঞ্চুরি ও ৫ হাজার ৮৬৪ রান করা এই ব্যাটারের ধারেকাছেও নেই কেউ। সবমিলিয়ে ১২৩ খেলা কোহলি ৩০ সেঞ্চুরি ও ৩১ ফিফটিতে ৯ হাজার ২৩০ রানে শেষ করেন ক্যারিয়ার।