নতুন যাত্রায় পুরনো অভিজ্ঞতার আলোয় পথ চলতে চান মিরাজ

নতুন যাত্রায় পুরনো অভিজ্ঞতার আলোয় পথ চলতে চান মিরাজ বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আজ দায়িত্ব পেয়ে প্রথবার সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সেখানে তিনি কীভাবে কাজ করবেন, নেতৃত্বে কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে চান, তরুণদের কিভাবে কাজে লাগাবেন, কোন অভিজ্ঞতা তাকে পথ দেখাবে সেটা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কথা বলেন নতুন এই অধিনায়ক। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা না থাকলেও দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা মিরাজকে তৈরি করেছে। তিনি জানান, “বাংলাদেশ দলে (ওয়ানডেতে) আমার অভিষেক হয়েছিল মাশরাফি ভাইয়ের অধীনে। আমি (খেলোয়াড় হিসেবে) অনেক অধিনায়ককে পেয়েছি। এটা আমার জন্য ভালো লাগার বিষয় যে তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। যেটা আমি হয়তো আমার এই অধিনায়কত্বের সময়ে কাজে লাগাতে পারব।” তিনি আরও বলেন, “তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন, শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতেন, সে জিনিসগুলো আমি অনুসরণ করেছি যে কীভাবে নিতেন। অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতিতে শক্তভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় নিজের। অনেক সময় পক্ষে আসবে, অনেক সময় আসবে না। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত কীভাবে নিচ্ছি, সেটা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।” নেতৃত্বে যেমন অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা। সেই দিকটাও ভেবেছেন মিরাজ, “যারা জুনিয়র আছে, তাদেরকে অবশ্যই পারফর্ম করতে হবে ওই পরামর্শগুলো দেব। আমরা যখন প্রথমে ঢুকেছিলাম, বড় ভাইয়েরা আমাদেরকে যেভাবে সাহায্য করেছে, চেষ্টা করব ওভাবে সাহায্য করার জন্য। ড্রেসিংরুমটাকে ওভাবে রাখার জন্য। যেন যেই ড্রেসিংরুমে থাকে না কেন, সে যেন অনুভব না করে আমি একা, আমার সঙ্গে সবাই আছে।”নেতৃত্বের ভার গ্রহণ করে শুধু মাঠের দায়িত্ব নয়, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ গঠন ও ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃঢ় ভিত্তি তৈরির কথা বললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার দেখার পালা, এই তরুণ নেতার হাতে ওয়ানডে দলে কতটা বদল আসে।

টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের দুইয়ে আদিল রশিদ

টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের দুইয়ে আদিল রশিদ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন আদিল রশিদ। টি-টোয়েন্টি বোলারদের আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ডের পেসার জ্যাকব ডাফির পেছনে এখন মাত্র ১৩ রেটিং পয়েন্টে পিছিয়ে আছেন ইংলিশ লেগ স্পিনার। আইসিসির সর্বশেষ সাপ্তাহিক হালনাগাদে দেখা যায়, ডাফির রেটিং পয়েন্ট ৭২৩, আর রশিদের ৭১০। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেও টি-টোয়েন্টির শীর্ষ বোলার ছিলেন রশিদ। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করতে বড় ভূমিকা ছিল তার। শেষ ম্যাচে ৩০ রানে ২ উইকেটের পাশাপাশি আগের দুটি ম্যাচেও একটি করে উইকেট নেন তিনি। এই পারফরম্যান্সে তিনি র‌্যাংকিংয়ে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও ভারুন চক্রবর্তীকে ছাড়িয়ে যান। ইংল্যান্ডের আরেক পেসার ব্রাইডন কার্স তিন ম্যাচে দুটি উইকেট নিয়ে ১৬ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৫২তম স্থানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার উন্নতি করেছেন ৩ ধাপ, অবস্থান করছেন ৬৬তম স্থানে (যৌথভাবে)। ব্যাটিং র‌্যাংকিংয়েও এসেছে বড় পরিবর্তন। টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড। তবে ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট দিয়েছেন সবচেয়ে বড় লাফ। শেষ ম্যাচে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে এক ধাক্কায় ৪৮ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ১৬তম স্থানে। হ্যারি ব্রুক ৬ ধাপ এগিয়ে এখন ৩৮ নম্বরে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শাই হোপ ১৪ ধাপ উন্নতি করে এখন আছেন ১৫তম স্থানে। শেষ ম্যাচে ৭৯ রান করে র‌্যাংকিংয়ে ৮ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে এসেছেন রভম্যান পাওয়েল।

২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরানের অবসর

২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পুরানের অবসর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন নিকোলাস পুরান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠা এই বাঁহাতি বোর্ডকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত-সমর্থকদের জন্য দিয়েছেন আবেগঘন বার্তাও। পুরান এমন সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, যখন তার সামনে এখনও অনেক বছর খেলার সুযোগ ছিল। সম্প্রতি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩৬ বছর বয়সে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন, হেনরিখ ক্লাসেনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেন ৩৩ বছর বয়সে। সেখানে পুরানের বিদায় যেন আরও বেশি প্রশ্ন ছুড়ে দিল ক্রিকেট ভক্তদের মনে। তার বিদায়ের পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অতিমাত্রায় ব্যস্ততাকে। বিশ্বের নানা প্রান্তে বছরজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগে খেলে বেড়ানো এই ব্যাটসম্যান অনেকদিন ধরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে ছিলেন। এমনকি চলতি ইংল্যান্ড সফরেও ছিলেন না স্কোয়াডে। তখন দলের অধিনায়ক শাই হোপ বলেছিলেন, আপাতত না খেললেও ভবিষ্যতে পুরানকে বিবেচনায় রাখা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কেবল এই সফর নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধ্যায়ই শেষ করে দিলেন পুরান। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল পুরানের। তবে শুরুটা ছিল হতাশাজনক। তিন ম্যাচ ব্যর্থতার পর তিনি দলের বাইরে চলে যান। এরপর দুই বছরের বেশি সময় অপেক্ষার পর ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামেন আবার। মাঠে ফিরেই নিজেকে প্রমাণ করেন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে। অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে ওঠেন ক্যারিবিয়ান দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সীমিত ওভারে দলের সেরা পারফর্মার হিসেবে। টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, সর্বোচ্চ রান ও সবচেয়ে বেশি ছক্কার মালিক তিনি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০৬ ম্যাচে ২ হাজার ২৭৫ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৩৬.৩৯। ক্যারিয়ারে ১৩টি ফিফটি করেছেন, সর্বোচ্চ ইনিংস ৯৮ রানের। ওয়ানডেতে ২০১৯ সালে অভিষেকের পর ৬১ ম্যাচে করেছেন ১ হাজার ৯৮৩ রান, গড় ৩৯.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট প্রায় ১০০। রয়েছে ৩টি সেঞ্চুরি ও ১১টি ফিফটির ইনিংস। মূলত উইকেটরক্ষক হলেও মাঝে মাঝে হাত ঘুরিয়ে নিয়েছেন উইকেটও। ওয়ানডেতে রয়েছে ৬টি উইকেট। নেতৃত্ব দিয়েছেন ওয়ানডেতে ১৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ২৩ ম্যাচে। বিদায়বার্তায় পুরান জানিয়েছেন, অনেক ভাবনার পরই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘অনেক চিন্তা ও ভেবে দেখার পর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ভালোবাসার এই খেলাটি আমাকে এতকিছু দিয়েছে এবং দিয়ে যাবে। আনন্দ, অভিপ্রায়, অবিস্মরণীয় স্মৃতি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মান। ’ ‘মেরুন জার্সি গায়ে চাপানো, জাতীয় সংগীতের জন্য মাঠে দাঁড়ানো এবং মাঠে নামার পর নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া। এসব আমার জন্য কতটা, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়াও ছিল অনেক বড় সম্মান এবং সবসময় তা আমার হৃদয়ের খুব কাছে থাকবে। ’ তিনি আরও জানান, ‘যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষ হয়ে যাচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য আমার ভালোবাসা মিইয়ে যাবে না। সামনের পথচলার জন্য এই দল ও এই অঞ্চলের প্রতি আমার কেবল শুভকামনাই থাকবে। ’পুরান অবসরের ঘোষণা দিলেও ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাস বলে, ভবিষ্যতে বড় কোনো আসর বা বিশ্বকাপে অবসর ভেঙে খেলায় ফেরার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ডোয়াইন ব্রাভো, আন্দ্রে রাসেলদের মতো তাকেও হয়তো আবার দেখা যেতে পারে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তবে আপাতত পুরানের পথচলায় বিশ্রামের ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা, বিশেষ করে যখন তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের হারানো গৌরব খুঁজে পেতে।

আইসিসি ‘হল অব ফেমে’ একসঙ্গে সাত কিংবদন্তি

আইসিসি ‘হল অব ফেমে’ একসঙ্গে সাত কিংবদন্তি ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের সম্মানে অনন্য এক সন্ধ্যা দেখা গেল লন্ডনের ঐতিহাসিক অ্যাবি রোড স্টুডিওসে। ‘আ ডে উইথ দ্য লেজেন্ডস’ শিরোনামে আয়োজনটি স্মরণীয় হয়ে থাকল ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে। আইসিসি তাদের ‘হল অব ফেম’-এ এবার একসঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করল সাতজন কিংবদন্তিকে। সংখ্যায় বেশি বলেই সংস্থাটি এটিকে বলছে ‘মেগা ইনডাকশন। ’ নতুন এই সদস্যরা হলেন: মাহেন্দ্র সিং ধোনি, ম্যাথু হেইডেন, হাশিম আমলা, গ্রায়েম স্মিথ, ড্যানিয়েল ভেটোরি, সারাহ টেইলর ও সানা মির। এর মাধ্যমে আইসিসি হল অব ফেমের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১২২ জনে। আগের সদস্য, সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ভোটে নির্বাচিত হয় এই তালিকা। সবসময় এমন জমকালো আয়োজন দেখা যায় না আইসিসির পক্ষ থেকে। অনেক সময় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সেরে নেওয়া হয় সম্মাননা প্রদান। কিন্তু এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের আগেই জাঁকজমকপূর্ণভাবে হল অব ফেমে স্বাগত জানানো হলো ক্রিকেটের সাত তারকাকে। তাদের নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মাহেন্দ্র সিং ধোনি তো একাই ইতিহাস! সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি যে ফিনিশারের সংজ্ঞা নতুন করে লিখেছেন, তা এখনো আদর্শ হয়ে আছে অনেক তরুণ ক্রিকেটারের কাছে। একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে তিনটি ভিন্ন আইসিসি ট্রফি জেতার রেকর্ডটি আজও অটুট। ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এছাড়া ধোনির নেতৃত্বেই ভারত প্রথমবারের মতো শীর্ষে উঠেছিল টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে। কিপার হিসেবে তার প্রতিভা এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে তার ভূমিকা তাকে বানিয়েছে অনন্য এক প্রতীক। ধোনি খেলেছেন ৯০ টেস্ট, ৩৫০ ওয়ানডে ও ৯৮ টি-টোয়েন্টি। হাশিম আমলা ছিলেন রানের কারিগর। উইলো থেকে যেন ছন্দ বের করতেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। দেশের হয়ে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির কৃতিত্বও তার। টেস্ট ও ওয়ানডেতে একসময় ছিলেন বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। আমলার ক্যারিয়ার সংখ্যার বিচারে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি ছিল মাধুর্যে ভরপুর। তারই সতীর্থ গ্রায়েম স্মিথ ক্রিকেট দুনিয়ায় পরিচিত ছিলেন একাধারে সাহসী অধিনায়ক ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে। মাত্র ২২ বছর বয়সে নেতৃত্বের ভার কাঁধে তুলে নেন, আর দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে যান শীর্ষে। টেস্টে সর্বাধিক ম্যাচে অধিনায়কত্ব ও সর্বোচ্চ জয় সংখ্যার রেকর্ড আজও তার দখলে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন ছিলেন দুর্দান্ত ওপেনার। দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য ২০০১ সালে ভারতের মাটিতে দারুণ পারফরম্যান্সের পর নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নেন। তার ব্যাটিংয়ে ছিল দাপট ও ধারাবাহিকতা। প্রতিপক্ষের জন্য এক আতঙ্ক ছিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেটোরি শুধু দলের প্রাণভোমরাই ছিলেন না, ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ৪ হাজার টেস্ট রান ও ৩০০ উইকেটের ডাবল রয়েছে তার নামের পাশে, যা বলেই দেয় ভেটোরির সুন্দর পারফরম্যান্সের কথা। স্পিনে তার কৌশল, পাশাপাশি নিচের সারিতে ব্যাটিংয়ের কার্যকারিতা নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য ছিল অমূল্য সম্পদ। নারী ক্রিকেটেও এবার জায়গা পেল দুই তারকা। ইংল্যান্ডের সারাহ টেইলর কিপার হিসেবে গড়েছেন ইতিহাস। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই নিজের জাত চিনিয়ে নারী দলের ব্যাটিং লাইনআপে হয়ে ওঠেন অমূল্য রত্ন। দুটি বিশ্বকাপ জয়ের অংশ তিনি। অন্যদিকে পাকিস্তানের সানা মির নারী ক্রিকেটের পথিকৃত। দেশের হয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসি হল অব ফেমে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের নারী দলকে, এনে দিয়েছেন এশিয়ান গেমসের দুটি সোনা।

কোচের বিরুদ্ধে রাজার বর্ণবাদের অভিযোগ

কোচের বিরুদ্ধে রাজার বর্ণবাদের অভিযোগ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা দেশটির স্থানীয় কোচ ব্লেসিং মাফুওয়ার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ করেছেন। মেট্রোপলিটন ক্রিকেট অ‌্যাসোসিয়েশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এই অলরাউন্ডার। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে সাময়িকভাবে ওই কোচকে বহিস্কার করা হয়েছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে। রাজার দাবি, মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রাজাকে ইঙ্গিত করে বর্ণবাদী ও অবমাননাকর মন্তব‌্য করেছিলেন কোচ। যা মোটেও ভালোভাবে নেননি তিনি। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদও করেছেন। পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার ভাষ‌্য, ‘‘দোষী প্রমাণিত হলে তাকে দিয়ে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যেন বর্তমানে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কারও এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হতে হয়।” গত ১ জুন ওল্ড হারারিয়ান্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠের ঘটনা সেটি। ভিনিয়া কাপের ম্যাচে ওল্ড হারারিয়ান্সের হয়ে রাজা খেলছিলেন রেইনবো ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে। ম‌্যাচে রাজার দল ১৪২ রানে জয় পায়। রাজা ৫৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন।  রাজার অভিযোগের পর রেইনবো ক্রিকেট ক্লাবের কোচকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ক্লাবটির কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ‘‘বর্ণবাদের অভিযোগকে আমরা কখনও হালকা করে নেই না। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত করব আমরা।”

সফল রান তাড়ায় সিরিজ ইংল‌্যান্ডের

সফল রান তাড়ায় সিরিজ ইংল‌্যান্ডের প্রথম ম‌্যাচে আগে ব‌্যাটিং করে জিতেছিল ইংল‌্যান্ড। এবার সফলভাবে রান তাড়া করল ইংলিশরা। তাতে এক ম‌্যাচ হাতে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম‌্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিল সাবেক বিশ্ব চ‌্যাম্পিয়নরা। রোববার ব্রিস্টলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ইংল‌্যান্ড। আগে ব‌্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে ১৯৬ রান করে। জবাব দিতে নেমে ইংল‌্যান্ড ৯ বল হাতে রেখে লক্ষ‌্য ছুঁয়ে ফেলে। ইংল‌্যান্ডের এবারের ম‌্যাচে জয়ের নায়ক পেসার লুক উড। ২৫ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম‌্যাচ সেরা নির্বাচিত হন দ্রুতগতির বোলার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ব‌্যাটিংয়ে এদিন সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন অধিনায়ক শেই হোপ। ৩৮ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। তার চেয়ে ২ রান কম করেছেন জনসন চার্লস। ৩৯ বলে ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪৭ রান করেন চার্লস। দুজন ৯০ রানের জুটি গড়েন দ্বিতীয় উইকেটে। এই জুটি ভাঙার পর তেমন জুটি হয়নি। তবে বড় রানের জন‌্য ব‌্যক্তিগত ইনিংসগুলো কাজে এসেছে। রোভমান পাওয়েল ১৫ বলে ৩৪ রান করেন ৩ চার ও ২ ছক্কায়। ১১ বলে ১৯ রান করেন রোমারিও শেফার্ড। সাতে নেমে জেসন হোল্ডার ৯ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কার ঝড়ে ২৯ রান করলে দুইশর কাছাকাছি যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুঁজি। লুক উড বাদে ইংল‌্যান্ডের হয়ে ১টি করে উইকেট পেয়েছেন ব্রাইডন চার্স, জ‌্যাকব বেথেল ও আদীল রশিদ। জবাব দিতে নেমে দলীয় ৯ রানে জেমি স্মিথ (৪) সাজঘরে ফেরেন। সেখান থেকে বেন ডাকেট ও জস বাটলার দলকে এগিয়ে নেন। আগের দিন মাত্র ৪ রানের জন‌্য সেঞ্চুরি মিস করেন বাটলার। আজ ৩ রানের জন‌্য ফিফটি বঞ্চিত হন তিনি। ৩৬ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৭ রান করেন বাটলার। ডাকেট ১৮ বলে ৩০ করেন ৪ চার ও ১ ছক্কায়। মিডল অর্ডারে দলের হাল ধরেন হ‌্যারি ব্রুক ও বেথেল। ব্রুক ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। বেথেল ১০ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ২৬ রান করেন। তবে ব‌্যবধান গড়ে দেন টম ব‌্যানটন। ১১ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় দ্রুত ৩০ রান করলে ইংল‌্যান্ডের সহজ জয় নিশ্চিত হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আলজারি জোসেফ ৪৫ রানে ২ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন আকিল হোসেন, জেসন হোল্ডার, রোমারিও শেফার্ড ও রস্টন চেজ। সাউদাম্পটনে ১০ জুন তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে। সিরিজ হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

রিঙ্কুর বাজিমাত, এমপির সঙ্গে গাঁটছড়া বাধলেন

রিঙ্কুর বাজিমাত, এমপির সঙ্গে গাঁটছড়া বাধলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ৫ বলে ৫ ছক্কা মেরে রিঙ্কু সিং এমন আলোচনায় এসেছিলেন যে, তার দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খান তার বিয়েতে নাচবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই বলিউড বাদশাহর মেয়ে সুহানা খানের সঙ্গে রিঙ্কুর প্রেম চলছে এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শাহরুখ তার মান্নাতে রিঙ্কুকে ডিনারে ডাকায় গুঞ্জনটা আরো চর্চা হওয়া শুরু করে। কিন্তু সেসবের আদতে কিছুই হয়নি। আইপিএলের পর ভারতের জার্সি গায়ে জড়িয়ে মহাতারকা হয়েছেন রিঙ্কু। এবার বাজিমাত করলেন গাঁটছড়া বেধে। ভারতের রাজনীতিতে প্রিয়া সরোজ এখন পরিচিত মুখ। রাজনীতিতে নবাগত এবং বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী নারী এমপি প্রিয়া সরোজ। তার সঙ্গেই নিজের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছেন রিঙ্কু। দুজন প্রেম করেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাদের সম্পর্কের খবর সামনে আসে। এরপর পারিবারিক আলোচনায় বিয়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা সম্পন্ন হয়। রোববার লক্ষ্ণৌর একটি সাত তারকা হোটেলে তাদের বাগদান হয়। আর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে ১৮ নভেম্বর, বেনারসে। ২০২৩ সালের আইপিএলের পরেই প্রিয়ার সাথে বন্ধুত্বের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে রিঙ্কুর। তারপরেই শুরু হয় দুজনের প্রেম। অবশেষে তাদের চারহাত এক হলো। রিঙ্কু সর্বশেষ জাতীয় দলে খেলেছেন ফেব্রুয়ারিতে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আইপিএলে খেলেন শাহরুখ খানের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সে। কলকাতার হয়ে শিরোপা জিতেছিলেন মারকুটে ব্যাটসম্যান।

বাটলার ঝড়ে উড়ে গেলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বাটলার ঝড়ে উড়ে গেলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করেছিলো ইংল্যান্ড। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তিন ম্যাচের এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে হারতে হয়েছে শাই হোপের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ২১ রানের জয়ে সিরিজে শুভ সূচনা করলো ইংলিশরা। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান সংগ্রহ করে ইংলিশরা। জস বাটলার ঝড় তোলেন তিনি করেন ৯৬ রান। জবাব দিতে নেমে লিয়াম ডসনের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে ৯ উইকেটে ১৬৭ রানে থেমে যেতে বাধ্য হয় ক্যারিবীয়রা। চেস্টার লি স্ট্রিটের রিভারসাইড গ্রাউন্ডে টস জেতেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুরুতে বেন ডাকেটের (১) উইকেট হারালেও জেমি স্মিথ এবং জস বাটলার ঝড় তোলেন। ৮ ওভারে তারা দলীয় স্কোরকে উন্নীত করেন ৯৫ রানে। এ সময় আউট হন জেমি স্মিথ। ২০ বলে ৩৮ রান করেন তিনি। এরপর হ্যারি ব্রুক ৬ রান করে, টম ব্যান্টন ৩ রান করে আউট হওয়ার পর জ্যাকব বেথেলকে নিয়ে ঝড় অব্যাহত রাখেন বাটলার। দলের ১৭৬ রানের মাথায় আউটর হন তিনি। আফসোস মাত্র ৪টি রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি। ৫৯ বলে ৬ বাউন্ডারি এবং ৪ ছক্কা মেরে ৯৬ রান করে আউট হন বাটলার। জ্যাকব বেথেল ২৩ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ইনিংসের একেবারে শেষ বলে ৯ রান করে রানআউট হন উইল জ্যাকস। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। রোমারিও শেফার্ড নেন ২ উইকেট। জবাব দিতে নেমে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের কেউ খুব বড় কোনো ইনিংষ খেলতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৩ বলে ৩৯ রান করেন এভিন লুইস। এছাড়া ২০ বলে ২৪ রান করেন রস্টোন চেজ। রোমারিও শেফার্ড এবং জ্যাসন হোল্ডার ১৬ রান করে সংগ্রহ করেন। আন্দ্রে রাসেল ১৩ বলে করেন ১৫ রান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকটে হারিয়ে ১৬৭ রান তুলতে সক্ষম হয় ক্যারিবীয়রা। লিয়াম ডসন ৪ ওভার ২০ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। ম্যাথিউ পটস ৪৮ রান দিয়ে এবং জ্যাকব বেথেল ২৭ রান দিয়ে নেন ২টি করে উইকেট।

এবার মামলা হলো কোহলির বিরুদ্ধে

এবার মামলা হলো কোহলির বিরুদ্ধে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা উদযাপনে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় এবার থানায় মামলা হলো বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে। মামলার এজাহারে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর জন্য কোহলিকেই দায়ী করা হলো। স্থানীয় সমাজকর্মী এইচএম বেঙ্কটেশ এই মামলা করেন। উল্লেখ্য, বুধবার বেঙ্গালুরুতে বেঙ্গালুরুর আইপিএল উৎসবে শামিল হতে গিয়ে প্রাণ হারান ১১ জন। কর্নাটকের শিবমোগা জেলার সমাজকর্মী বেঙ্কটেশ মামরা দায়ের করেছেন বেঙ্গালুরুর কাবন পার্ক থানায়। তিনি জানান, কোহলির জন্যই স্টেডিয়ামের বাইরে এত বেশি সমর্থক হাজির হয়েছিলো! পদপিষ্ট হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও কেন উৎসব চালিয়ে যাওয়া হল, তাও জানতে চেয়েছেন তিনি। কাবন পার্ক থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেঙ্কটেশের মামলায় যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলার সময় এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। এখনই কোহলির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। শোনা গেছে, সেই অনুষ্ঠানের পরই স্ত্রী আনুশকা শর্মা এবং সন্তানদের নিয়ে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছেন কোহলি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিজয়োৎসবের দায়িত্বে থাকা ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট, কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (কেএসসিএ) বিরুদ্ধে স্বঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। গ্রেফতারের আশঙ্কা করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কর্নাটক ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা। সেই মামলায় শুক্রবার বিচারপতি এসআর কৃষ্ণ কুমার নির্দেশ দেন, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেয়া যাবে না। কর্নাটক ক্রিকেট বোর্ডের যে সব কর্মকর্তা এই মামলায় জড়িয়ে পড়েন, তাদেরও আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন বিচারপতি। তার আরও নির্দেশ, বোর্ডের কর্মকর্তাদের তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এরইমধ্যে বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারকে বরখাস্ত করেন। বহিস্কার করা হয়েছে পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকেও। বৃহস্পতিবারই তিনি জানিয়েছিলেন, আরসিবি এবং কেএসসিএ কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সরকার। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে বিপর্যয়ের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা শুনছে কর্নাটক হাইকোর্ট। রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছ থেকেও। সেখানেই কর্নাটক সরকার জানিয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত করবে সিআইডি। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে ১৫ দিনের মধ্যে। কাউকে রেহাই দেয়া হবে না বলেই আদালতে জানিয়েছে সিদ্দারামাইয়া সরকার। যদিও আদালতের নির্দেশে খানিক স্বস্তি পেলেন বোর্ডের কর্তারা।

বেঙ্গালুরুতে পদদলিত হয়ে নিহত ১১, শচিনের শোক

বেঙ্গালুরুতে পদদলিত হয়ে নিহত ১১, শচিনের শোক বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া পদদলনের ঘটনাকে ‘মর্মান্তিকের চেয়েও বেশি’ বলে উল্লেখ করেছেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচিন টেন্ডুলকার। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৩ জন। ঘটনাটি ঘটেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) ইতিহাসের প্রথম আইপিএল শিরোপা জয়ের উদযাপনের সময়, যা মুহূর্তেই পরিণত হয় এক ভয়াবহ বিপর্যয়ে। এই ব্যাপারে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টেন্ডুলকার লিখেছেন, ‘বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে যা ঘটেছে, তা মর্মান্তিকের চেয়েও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারের প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রইল। সবাই যেন শান্তি পায় এবং ধৈর্যধারণ করতে পারে। ’ এই ঘটনার জন্য স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতাকে দায়ী করে রাজ্যের একজন মন্ত্রী জানান, ‘স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা মাত্র ৩৫,০০০ হলেও, সেখানে উপস্থিত হয়েছিল প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ। ’ এই কারণে বিজয় উদযাপনের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত রোড প্যারেড বাতিল করা হয়, কারণ প্রশাসনের ধারণা ছিল জনতার ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনা জয়োল্লাসের আনন্দকেও মুছে দিয়েছে। ’ তিনি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আরও বলেন, ‘আমি এই ঘটনা নিয়ে কোনোরকম রাজনীতি করতে চাই না। এই দুঃখজনক ঘটনার দায় এড়াতে চাই না। আমরা ভিক্টিমদের পাশে আছি। ’