বিতর্কিত কান্ড করে শাস্তির মুখে ভারতের সহ-অধিনায়ক

বিতর্কিত কান্ড করে শাস্তির মুখে ভারতের সহ-অধিনায়ক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলি টেস্টে এক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ভারতের সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্ত। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রকাশ্য অসন্তোষ দেখিয়ে তিনি আইসিসির আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পন্তকে শাস্তির মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে। ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৬১তম ওভারে। মোহাম্মদ সিরাজের করা ওভারের পঞ্চম বলে হ্যারি ব্রুক একটি বাউন্ডারি হাঁকানোর পর পন্ত বলের অবস্থা নিয়ে আপত্তি জানান এবং আম্পায়ার পল রাইফেলের কাছে বল বদলের আবেদন করেন। রাইফেল গজ দিয়ে বল পরীক্ষা করে জানান, বলে কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে পন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে বলটি ব্যাকহ্যান্ডে মাটিতে ছুঁড়ে দেন এবং সেখান থেকে সরে দাঁড়ান। ঘটনার পরপরই পরবর্তী ওভারে আম্পায়ারদের বল পরীক্ষা করতে দেখা যায় এবং শুবমান গিল ও যশপ্রীত বুমরাহকেও আম্পায়ারদের সঙ্গে আলোচনায় জড়াতে দেখা যায়।

শেষ টেস্ট খেলতে গল থেকে কলোম্বোতে বাংলাদেশ দল

শেষ টেস্ট খেলতে গল থেকে কলোম্বোতে বাংলাদেশ দল দাপট দেখিয়েও গল টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে টাইগারদের। এবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে চোখ নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। আজ দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু কলোম্বোতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। দলের সঙ্গে সকল ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফের সদস্যরা সেখানেই পৌঁছেছেন। কলোম্বো পৌঁছে অবশ্য ক্রিকেটাররা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঘুরে ফিরে দেখছেন ক্রিকেটাররা। কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও। আগামীকাল থেকে মাঠের অনুশীলনে নামার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। আগামী দুইদিন অনুশীলন শেষে আগামী ২৫ জুন সিরিজের শেষ টেস্টে মাঠে নামবে দুই দল। শেষ টেস্টে দলে দেখা যাবে মেহেদী হাসান মিরাজকে। কলম্বো টেস্ট নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক শান্ত। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এই ম্যাচ আত্মবিশ্বাস দেবে। মিরাজ সুস্থ আছে পুরোপুরি। আশা করি পরের ম্যাচে খেলতে পারবে। কন্ডিশন ভিন্ন হবে। ওই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা খুব কম প্লেয়ারেরই আছে। মুশফিক (মুশফিকুর রহিম) ভাইয়ের সম্ভবত ১ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এছাড়া আর কেউ খেলেনি। কন্ডিশনে বুঝে টিম কম্বিনেশন হবে। ব্যাটিং অইখানে যাওয়ার পর বুঝতে পারব। এই ম্যাচ অবশ্যই দলকে আত্মবিশ্বাস দেবে।’

 অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট পেলো কানাডা

অপরাজিত থেকেই বিশ্বকাপের টিকিট পেলো কানাডা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেলো কানাডা। আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বাহামাসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা। গতকাল টস জিতে বাহমাসকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় কানাডা। কালিম সানা ও শিবম শর্মার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয় বাহামাস। ৩টি করে উইকেট নেনে কালিম সানা ও শিবম শর্মা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫ ওভার ৩ বলে জয় তুলে নেয় কানাডা। ১৪ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংস খেলেন দিলপ্রীত বাজওয়ার। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে কানাডা। বাছাইপর্বে এখনও একটি ম্যাচ বাকি থাকলেও আগেই নিশ্চিত হয়েছে তাদের টিকিট। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত খেলেছে কানাডা। প্রথম ম্যাচেই বারমুডাকে হারায় ১১০ রানে। এরপর কেম্যান আইল্যান্ডসকে ৫৯ রানে এবং বাহামাসকে আগেও হারায় ১০ উইকেটে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে অপরাজিত দলটি। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বসবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। আয়োজক দুই দেশের পাশাপাশি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে—আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান। কানাডাসহ মোট ১৩টি দল নিশ্চিত হয়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে। বাকি ৭টি দল নির্ধারিত হবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে। ইউরোপ থেকে ২টি (৫-১১ জুলাই), আফ্রিকা থেকে ২টি (১৯ সেপ্টেম্বর-৪ অক্টোবর) এবং এশিয়া ও ইস্ট এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ৩টি (১-১৭ অক্টোবর) দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।

ইংল্যান্ডে ভারতের রানবন্যা, ইতিহাস গড়লেন জয়সওয়াল-গিল

ইংল্যান্ডে ভারতের রানবন্যা, ইতিহাস গড়লেন জয়সওয়াল-গিল ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের রোমাঞ্চকর টেস্ট সিরিজ শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। যেখানে প্রথম দিনেই স্বাগতিক বোলারদের নাস্তানাবুদ করে শুভমান গিলের দল বড় পুঁজি পেয়েছে। হেডিংলিতে চলমান এই ম্যাচ দিয়ে অধিনায়ক গিলের অধ্যায় শুরু করল ভারত। যেখানে তিনি সামনে থেকেই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় নাম তুলে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন যশস্বী জয়সওয়াল ও গিল। প্রথম টেস্টের প্রথম দিন শেষে ইংলিশদের বিপক্ষে ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৫৯ রান। স্বাগতিক বেন স্টোকসের দল যে বাজবলের ক্রিকেটে দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টায় নামবে, তা তাদের সাম্প্রতিক টেস্টের ইতিহাসই বলে দিচ্ছে। তবে আগে ব্যাট করতে নামা ভারতের কাছ থেকেই তাদের একই ধাক্কা সামলাতে হলো। ৮৫ ওভার ব্যাট করে ৪.২২ গড়ে রান তুলেছেন গিল-জয়সওয়ালরা। ওপেনার জয়সওয়ালের ইতিহাসগড়া ইনিংস ১০১ রানে থামলেও, গিল অপরাজিত আছেন ১২৭ রানে। এ ছাড়া লোকেশ রাহুল করেন ৪২, ঋষভ পান্ত অপরাজিত ৬৫–তে। হেডিংলি টেস্টের প্রথম দিনেই বেশকিছু রেকর্ড গড়েছে ভারত জয়সওয়াল ইংল্যান্ডে এদিন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন ভারতীয় এই তরুণ ওপেনার। অভিষেক দিনেই তিনি সেঞ্চুরি করেছেন। এ নিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি পেলেন। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার খেলতে নেমেই সেঞ্চুরির কীর্তি আছে তিন ভারতীয় ব্যাটারের– মোতগানহালি জয়সিমা, সুনীল গাভাস্কার ও জয়সওয়াল। আর ইংল্যান্ডে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেন ৬ জন। জয়সওয়াল ছাড়া বাকিরা হচ্ছেন– বিজয় মাঞ্জরেকার, আব্বাস আলি বেগ, সন্দ্বীপ পাতিল, সৌরভ গাঙ্গুলি ও মুরালি বিজয়। তবে জয়সওয়ালই একমাত্র ব্যাটার হিসেবে দুই ভূমিতেই একই কীর্তি গড়লেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিজের ভূখণ্ডসহ পাঁচ দেশে খেলতে নেমে চারটিতেই অভিষেক টেস্টে ৫০+ রানের ইনিংস খেললেন ভারতীয় এই ওপেনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরুটা হয়েছিল ১৭১ রান দিয়ে, ঘরের মাটিতে ৮০ (আরেক ইনিংসে ১৫), অস্ট্রেলিয়ায় ১৬১ (প্রথম ইনিংসে শূন্য) ও ইংল্যান্ডে ১০১ দিয়ে শুরুটা করলেন জয়সওয়াল। কেবল দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম টেস্টে করেন ১৭ ও ৫ রান। গিল চতুর্থ ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে নিজের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন শুভমান গিল। ১৯৫১ সালে বিজয় হাজারে (১৬৪*, ঘরের মাঠে), সুনীল গাভাস্কার ১৯৭৬ সালে (১১৬, নিউজিল্যান্ড), ২০১৪ সালে বিরাট কোহলি (১১৫, অস্ট্রেলিয়া) এবং শুভমান গিল (১০২*) যুক্ত হলেন তালিকায়।এ ছাড়া বিদেশ সফরের প্রথম দিনেই দুই ভারতীয় ব্যাটারের সেঞ্চুরি এ নিয়ে তৃতীয়বার দেখা গেল। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপক্ষে ২০০১ সালে শচীন টেন্ডুলকার ও বীরেন্দর শেবাগ, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেখর ধাওয়ান ও চেতেশ্বর পূজারা এবং গিল-জয়সওয়াল ২০২৫ সালে প্রথম দিনেই করলেন জোড়া সেঞ্চুরি। ভারত গতকাল পুরো ৯০ ওভার না খেললেও ৩৫৯ রান তুলেছে স্কোরবোর্ডে। যা দেশের বাইরে টেস্টের প্রথম দিনে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ। এর আগে গলে লঙ্কানদের বিপক্ষে ৩৯৯/৩ এবং ২০০১ সালে ব্লুমফন্টেনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তারা ৩৭২/৭ করেছিল। এ ছাড়া পাকিস্তানের মুলতানে ২০০৪ সালে তুলেছিল ৩৫৬/২।

ইতিহাসের পাতায় শান্ত, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন বিরল রেকর্ড

ইতিহাসের পাতায় শান্ত, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন বিরল রেকর্ড শেষ কবে একজন বাংলাদেশি ব্যাটার টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন? উত্তরটা খোঁজা খুব একটা কঠিন না। ২০২৩ সালেই মাত্র দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৭৬ আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন ১২৪। এর আগে এই কীর্তি ছিল কেবল মুমিনুল হকের। তার কীর্তি ছিল এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই.২০১৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে। ১৭৬ রান করেছিলেন প্রথম ইনিংসে, দ্বিতীয় ইনিংসে তার উইলো থেকে আসে ১০৫ রান। নাজমুল শান্তর সামনে সুযোগ ছিল বাংলাদেশের প্রথম ‘অধিনায়ক হিসেবে’ টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘দুইবার’ একই টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়ার। গলের প্রথম টেস্টে শান্ত করেছেন এই দুটি রেকর্ডই। ৫ম দিনে লাঞ্চের আগে বৃষ্টি হানা দেয়। তার আগ পর্যন্ত করেন ৮৯ রান। লাঞ্চের পর ব্যাট করতে নেমে বাকি ১১ রান নেন দেখেশুনে। আরও ২২ বল খেলেন সেঞ্চুরি পূরণ করতে। সবমিলিয়ে টেস্টে এটি তার ৭ম সেঞ্চুরি। মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেরিয়ে শান্ত এখন বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে একই টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির ঘটনা ঘটে দেশের মাটিতে। শান্তর কীর্তিটা তাই একটু ভিন্ন। টাইগার অধিনায়ক তার এবারের জোড়া সেঞ্চুরি পেয়েছেন গলে, অর্থাৎ দেশের বাইরে। শান্তর কীর্তি হয়েছে আরও একটি। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি তার। নিজে অধিনায়ক থাকা অবস্থায় এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। সবচেয়ে বেশি ৪ সেঞ্চুরি আছে মুশফিকুর রহিমের। মুমিনুল হক, মোহাম্মদ আশরাফুল আর হাবিবুল বাশারের ছিল ২টি করে সেঞ্চুরি। সবমিলিয়ে টেস্ট ইতিহাসে দুইবার এক টেস্টে দুই সেঞ্চুরি পাওয়া ১৫তম ক্রিকেটার হলেন শান্ত। এদের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার, রিকি পন্টিং ও সুনীল গাভাস্কারই কেবল ৩ বার করে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। একনজরে শান্তর যত কীর্তি : ১ম বাংলাদেশি হিসেবে দুইবার টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি ১ম বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি দেশের বাইরে ১ম টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি টেস্ট ইতিহাসে মাত্র ১৫তম ব্যাটার হিসেবে দুইবার টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি মাত্র ১৬তম অধিনায়ক হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি

৩৭ ওভারে শ্রীলঙ্কার সামনে ২৯৬ রানের টার্গেট

৩৭ ওভারে শ্রীলঙ্কার সামনে ২৯৬ রানের টার্গেট নাজমুল হোসেন শান্ত সেঞ্চুরির অপেক্ষা করছিলেন, সেটা বোঝা গেল স্পষ্টভাবে। লাঞ্চের পর সেঞ্চুরি করতে সময় নিয়েছিলেন ২২ বল। এরপর ২৫ রান করেছেন মাত্র ৯ বলে। ১২৫ রানে নিজে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। দলের স্কোর হয়েছে ২৮৫। এমন সময়েই ইনিংসের ইতি টানেন শান্ত। শ্রীলঙ্কার সামনে টার্গেট ২৯৬। গল টেস্টের ৫ম দিনে খেলা বাকি ৩৭ ওভারের। এরমাঝে অবশ্য বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফল বের করতে চাইবে নাকি সময় পার করবে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে আগ্রাসী বল করতে চাইবে, সেটা অনেকটাই অনুমেয়। ৫ম দিনের খেলার শুরুতেও ১৮৭ রানের লিড ছিল বাংলাদেশের। অপরাজিত ছিলেন শান্ত এবং মুশফিকুর রহিম। দুজনের এদিনের শুরুটা ছিল সাবধানী আর ধীরগতির। সেখান থেকে অবশ্য বাংলাদেশ খুব একটা পিছিয়েও ছিল না। লাঞ্চের আগে বৃষ্টি হানা দেয়। তার ঠিক আগের বলে মুশফিক রানআউট হন ৪৯ রানে। শান্ত তখন সেঞ্চুরি থেকে ১১ রান দূরে। এই একটা সেঞ্চুরিই শান্তর নাম তুলতে পারতো বৈশ্বিক কিংবদন্তিদের রেকর্ডে। শান্ত তাই সাবধানী হয়েই খেললেন। ১১ রান করতে খরচ করেছেন ২২ বল। তবে অপরপাশে স্পিনের দুর্দান্ত সুইংয়ে বোকা হয়ে ফিরতে হয়েছে লিটন কুমার দাস এবং জাকের আলী অনিককে। এরপর নাইম সঙ্গ দিয়েছেন দারুণভাবে। সেঞ্চুরির পর শান্তও ছিলেন আগ্রাসী। শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশ জমা করে ২৯৫ রানের বড় এক লিড। দিনের বাকি সময়ে অন্তত হারতে হচ্ছে না এমন আভাস পেয়েই হয়ত ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত।

আরচ্যারিতে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়

আরচ্যারিতে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয় এশিয়ান কাপ আরচ্যারিতে বাংলাদেশের আরচ্যার আব্দুর রহমান আলিফ স্বর্ণ জিতেছেন। ফাইনালে জাপানের মিয়াতা গাকুতোকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে পরাজিত করেন আসিফ। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আজ শুক্রবার (২০ জুন) রিকার্ভ পুরুষ ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রথম সেটে আলিফ ২৮ স্কোর করেন। তার প্রতিপক্ষ জাপানি আরচ্যার মিয়াতা করেন ২৭ পয়েন্ট। তাতে বাংলাদেশের আলিফ ২-০ সেট পয়েন্টে লিড পায়৷ দ্বিতীয় সেটে আলিফ ২৯ আর জাপানি আরচ্যার ২৮ করলে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। পরের দুই সেটের একটি জিতলে শেষ সেট প্রয়োজন হতো না। বাংলাদেশের আরচ্যার আলিফ তৃতীয় ও চতুর্থ সেটে হেরে যান৷ মিয়াতার ২৮ ও ২৭ স্কোরের বিপরীতে আলিফ করেন ২৭ ও ২৬। ফলে ৪-৪ সেট পয়েন্টে সমতা আসে। পঞ্চম ও শেষ সেট শিরোপা নির্ধারণীতে পরিণত হয়। আলিফ শেষ সেটে ৩০ এর মধ্যে ২৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। জাপানি আরচ্যার মিয়াতা ২৬ পয়েন্ট পেলে আলিফ শেষ সেট জেতেন৷ এতে ৬-৪ সেট পয়েন্টে রিকার্ভ পুরুষ ব্যক্তিগত ইভেন্টে বাংলাদেশের স্বর্ণ নিশ্চিত হয়। আলিফ বাংলাদেশের উদীয়মান রিকার্ভ আরচ্যার। বিকেএসপির এই আরচ্যার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলছেন কয়েক বছর যাবত। এশিয়ান কাপ আরচ্যারির স্বর্ণ জয় তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য। তার আগে বাংলাদেশের রোমান সানা এমন কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন৷

নিশাঙ্কার দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসে হতাশায় বাংলাদেশ

নিশাঙ্কার দেড়শ ছাড়ানো ইনিংসে হতাশায় বাংলাদেশ ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন পাথুম নিশাঙ্কা। যদিও দুইশর ঘরে নিয়ে যেতে পারেননি নিজের ইনিংস। গল টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৬৮ রান। কামিন্দু মেন্ডিস ৩৭ ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ১৭ রানে আগামীকাল খেলতে নামবেন। বাংলাদেশ থেকে ১২৭ রানে এগিয়ে আছে তাদের দল। আজ ৯ উইকেটে ৪৮৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ থেমে যায় ৪৯৫ রানেই। ৮৮ বলে ফিফটি হাঁকানো নিশাঙ্কা ১৩৬ বলে পূর্ণ করে নেন দেশের মাটিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। নাঈমের বল সাদমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫৪ রানে ফেরেন এই লঙ্কান ব্যাটার। চারে নামা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস নেমেও ভালো শুরু করেন। নিশাঙ্কাকে সঙ্গ দিয়ে এগোতে থাকেন তিনি। হাসানের দারুণ ডেলিভারিতে স্টাম্প এলোমেলো হয়ে যায় তার। ২৫৬ বলে ২৩ চার ও এক ছক্কায় ১৮৭ রান করে ফেরেন তিনি।

আইনি লড়াইয়ে আবারও হার, ৫৩৯ কোটি রুপি গুনতে হবে বিসিসিআইকে

আইনি লড়াইয়ে আবারও হার, ৫৩৯ কোটি রুপি গুনতে হবে বিসিসিআইকে আইপিএলের দল কোচি টাস্কার্স কেরালার চুক্তি বাতিলের ঘটনায় আবারও বড় ধাক্কা খেলো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। সাবেক আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে চলমান মামলায় এবার আদালত বিসিসিআইকে দিতে বলেছেন প্রায় ৫৩৯ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ। বোম্বে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, কোচি ক্রিকেট প্রাইভেট লিমিটেডকে ৩৮৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি এবং রন্দেভু স্পোর্টস ওয়ার্ল্ডকে ১৫৩ কোটি ৫৪ লাখ রুপি পরিশোধ করতে হবে বিসিসিআইকে। কোচি টাস্কার্স কেরালার মালিকানা ছিল এই দুই প্রতিষ্ঠানের হাতে। মূলত ২০১৫ সালে এই মামলার জন্য আদালত যেসব সালিশকারীদের নিয়োগ দিয়েছিলেন, তাদের রায়ই এবার বহাল রাখা হয়েছে। ওই রায়ে বিসিসিআইকে প্রাথমিকভাবে ৫৫০ কোটি রুপি জরিমানা করার কথা বলা হয়েছিল। যদিও সে সময় ফ্র্যাঞ্চাইজিটির পক্ষ থেকে অর্থের বদলে আইপিএলে ফেরার সুযোগ চাওয়া হয়েছিল। বিসিসিআই তখন আপিল করে, যার ফল এসেছে এখন। ২০১০ সালে আইপিএলে অন্তর্ভুক্ত হয় কোচি টাস্কার্স কেরালা। তবে বিতর্কিতভাবে সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দলটির বিরুদ্ধে। ২০১১ আসরে অংশ নিলেও একই বছর সেপ্টেম্বরে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে আইপিএল কর্তৃপক্ষ। মূলত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ফ্র্যাঞ্চাইজি ফির ১০ শতাংশ। যার পরিমান প্রায় ১৫৬ কোটি রুপি। এই পরিমান অর্থ জমা না দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমগুলোতে তখন জানানো হয়, মালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এই বিলম্ব ঘটে। এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় দুই পক্ষের দীর্ঘ আইনি লড়াই, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি ১৪ বছরেও। বোম্বে হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ের বিরুদ্ধেও বিসিসিআই চাইলে আপিল করতে পারবে। এ জন্য তাদের হাতে সময় আছে ছয় সপ্তাহ।

আবারও রিশাদকে দলে ভেড়াল হোবার্ট

আবারও রিশাদকে দলে ভেড়াল হোবার্ট অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে আবারও জায়গা করে নিয়েছেন রিশাদ হোসেন। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে এই জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার। আজ মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত বিদেশি ক্রিকেটারদের ড্রাফটে দ্বিতীয় ডাকেই তাকে দলে টেনে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হোবার্ট হারিকেনস। ড্রাফট থেকে শুধু রিশাদই নন, হোবার্ট তাদের স্কোয়াডে যুক্ত করেছে ইংলিশ পেসার ক্রিস জর্ডান ও লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার রেহান আহমেদকেও। আগের মৌসুমেও রিশাদকে দলে নিয়েছিল হোবার্ট। তবে তখন জাতীয় দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর ও বিপিএল সামনে থাকায় মাঠে নামা হয়নি তার। বিসিবি ৯ দিনের জন্য ছাড়পত্র দিলেও শেষ পর্যন্ত নানা জটিলতায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়া হয়নি রিশাদের। তবে এবার আর শুধু সুযোগ নয়, পূর্ণ মৌসুমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রেখেই নাম লিখিয়েছেন ২৩ ছুঁইছুঁই এই লেগ স্পিনার। বিগ ব্যাশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল, আসন্ন আসরে পুরো সময় খেলার লক্ষ্যে ড্রাফটে নাম দিয়েছেন রিশাদ। ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হতে যাওয়া বিগ ব্যাশের ১৫তম আসরের সময় বাংলাদেশ দলের কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ নেই, এমনটাই দেখা যাচ্ছে আইসিসির এফটিপি সূচিতে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে বিপিএলের পরবর্তী আসর কিছুটা এগিয়ে আনা হতে পারে। ফলে সূচির সংঘাত হলে বিপিএল ও বিগ ব্যাশের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হতে পারে রিশাদকে। গত বছর সাকিব আল হাসানের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিগ ব্যাশে সুযোগ পেয়েছিলেন রিশাদ। তবে ড্রাফট থেকে সরাসরি দলে নেওয়া প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। আর সাকিব খেলেছিলেন বদলি হিসেবে। ২০১৪ সালে অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সের হয়ে দুটি এবং ২০১৫ সালে মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন এই অলরাউন্ডার। রিশাদ নিজের বড় মঞ্চে উত্থান ঘটান ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া আসরটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ উইকেট শিকার করে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের পরই কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টির ডাক পান তিনি। তবে ভিসা জটিলতায় অংশ নিতে পারেননি। এরপর বিগ ব্যাশও মিস করেন। অবশেষে চলতি বছরের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) দিয়ে বিদেশি লিগে অভিষেক হয় তার। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। এবার বিগ ব্যাশে নিজের প্রাপ্য জায়গা ফিরে পেয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন রিশাদ। যদিও এবারের ড্রাফটে তার সঙ্গে নাম লিখিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদী হাসানসহ আরও ১০ জন বাংলাদেশি ক্রিকেটার, তবে কেউই দল পাননি।