রাত পোহালে সোহানদের ফাইনাল আগামীকাল

রাত পোহালে সোহানদের ফাইনাল আগামীকাল গায়ানায় চলমান গ্লোবাল সুপার লিগ (জিএসএল) পৌঁছে গেছে শেষ প্রান্তে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এখন প্রস্তুত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স। নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন দলটি এবারও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে। বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৫টায় গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে তারা। এবারের আসরে রংপুর রাইডার্সের অন্যতম চমক ছিল সাকিব আল হাসানকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা। এই টুর্নামেন্টে সাকিব খেলেছেন দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে, কিন্তু সোহান বাহিনীই ছিটকে দেয় সাকিবের দলকে। রংপুর রাইডার্সের স্কোয়াডে রয়েছেন বাংলাদেশের একঝাঁক পরিচিত মুখ। সৌম্য সরকার, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি, সাইফ হাসান, রাকিবুল হাসান, খালেদ আহমেদ ও আবু হায়দার রনি। বিদেশি কোটায় আছেন আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান, পাকিস্তানের ইফতিখার আহমেদ, দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার তাবরাইজ শামসি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইল মায়ার্স, যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলা ভারতীয় ক্রিকেটার হারমিত সিং, পাকিস্তানের আকিফ জাভেদ এবং খাওয়াজা নাফি। টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাট-বলে সমন্বিত পারফরম্যান্সে আলো ছড়ানো রংপুর এখন তাকিয়ে ব্যাক-টু-ব্যাক শিরোপার দিকে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ঢাকায় পাকিস্তান দল

টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ঢাকায় পাকিস্তান দল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বুধবার সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রথম বহর। অধিনায়ক সালমান আলি আগা ছাড়াও ছিলেন ফখর জামান, মোহাম্মদ নওয়াজ, সাইম আয়ুব, আবরার আহমেদ, খুশদিল শাহ ও ফাহিম আশরাফসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফ। করাচি থেকে দুবাই হয়ে ঢাকায় পৌঁছান তারা। দলের বাকি সদস্যদের বিকেলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ সফরের আগে করাচিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষকে নিয়ে যথেষ্ট শ্রদ্ধার কথা বলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান। তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ যেকোনো কন্ডিশনে ভালো খেলে, নিজেদের মাঠে তো আরও ভয়ংকর। তাদের হোম রেকর্ড ঘাটলেই বোঝা যায়, কত বড় বড় দল এখানে হোঁচট খেয়েছে। আমরা জানি, কাজটা সহজ হবে না। সেই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছি। ’নিজের নেতৃত্ব এবং দায়িত্ব নিয়ে সালমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই চ্যালেঞ্জ। প্রতিদিনই নতুন কিছু আসবে। জীবন যেমন, ক্যারিয়ারও তেমন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েই পথ চলতে হবে। তাই খুব বেশি না ভেবে শুধু খেলার দিকেই মন দিচ্ছি। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও সুপার জানিয়েছে, বাকি ক্রিকেটাররাও বুধবারের মধ্যেই দলের সঙ্গে ঢাকায় যোগ দেবেন। বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের তিনটি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০, ২২ ও ২৪ জুলাই, মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই পাকিস্তান সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ দল। এবার ঘরের মাঠে সেই হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নামবে লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তরা।
২৭ রানে অলআউট হয়ে লজ্জার রেকর্ড উইন্ডিজের

২৭ রানে অলআউট হয়ে লজ্জার রেকর্ড উইন্ডিজের জ্যামাইকায় দিবা-রাত্রির টেস্টের তৃতীয় দিন বল হাতে আগুন ঝরালেন শততম টেস্ট খেলতে নামা মিচেল স্টার্ক। রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে মাত্র ৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি এই পেসার। পরে বোল্যান্ড হ্যাটট্রিকে মাত্র ২৭ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। ২০৪ রানের মাঝারি লক্ষ্য দিয়েও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে যায় ১৭৬ রানের ব্যবধানে। টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা আছে মাত্র একটি। ১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অকল্যান্ড টেস্টে মাত্র ২৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। প্রায় ৭০ বছর পর অল্পের জন্য সেই রেকর্ডে বসেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের নাম। সেই হিসাবে লজ্জার তালিকায় নিউজিল্যান্ডের পরের স্থানে ঠাঁই পেয়েছে উইন্ডিজ। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম দুই টেস্ট হেরেছিল যথাক্রমে ১৫৯ ও ১৩৩ রান ব্যবধানে। পেসারদের দাপটের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেই আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে যাত্রা শুরু করল অস্ট্রেলিয়া। জ্যামাইকায় ক্যারিবিয় টপ-অর্ডারে ধস নামিয়ে নিজের প্রথম ১৫ বলেই ৫ উইকেট নিয়ে নেন স্টার্ক। টেস্ট ইতিহাসে এত কম বলে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি নেই আর কারও। সব মিলিয়ে ৭.৩ ওভারে ৯ রানে তার শিকার ৬টি। শততম টেস্টে এটিই সেরা বোলিংয়ে রেকর্ড। গোলাপি বলের টেস্টে আগে থেকেই সবার সেরা স্টার্ক। সেই রেকর্ড আরেকটু সমৃদ্ধ করে ২৭ ইনিংসে এখন তার শিকার ৮১ উইকেট। আর কারও ৫০ উইকেটও নেই। ইনিংসে ৫ উইকেট পাঁচবার। আর কারও নেই দুইবারের বেশি। টেস্টে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার দশম বোলার বোল্যান্ড। নিজ দেশের হয়ে ২০১০ সালে পিটার সিডলের পর তিনিই প্রথম পেলেন হ্যাটট্রিকের দেখা। স্টার্ক ও বোল্যান্ডের তোপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাত ব্যাটসম্যান আউট হন রানের খাতা খোলার আগে। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ইনিংসে দেখা গেল এত ব্যাটসম্যানের শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনা। আজ ম্যাচের তৃতীয় দিনে উইন্ডিজকে জয়ের জন্য ২০৪ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই তিন উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। মিচেল স্টার্কের সেই ওভারে কোনো রানই নিতে পারেনি ক্যারিবীয়রা। ইনিংসের প্রথম এবং নিজের তৃতীয় ওভারে আরও দুই শিকার করেন স্টার্ক। তখন উইন্ডিজের বোর্ডে ৭ রান, নেই ৫ উইকেট। মাত্র ১৫ বলে ৫ উইকেট শিকারে ইতিহাস গড়েছেন স্টার্ক। টেস্টে দ্রুততম ফাইফার এখন এই অজি পেসারের। ১৯ বলে ৫ উইকেট শিকার করে এতদিন রেকর্ডটি ছিল যৌথভাবে- আর্নি টোসাক, স্টুয়ার্ট ব্রড এবং স্কট বোল্যান্ডের। বিশ্বরেকর্ড গড়ে ৪০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলকেও পৌঁছে গেছেন মিচেল স্টার্ক। স্টার্কের ফাইফারের পরের ওভারে আঘাত হানেন জশ হ্যাজলউড। তিনি আউট করেন স্বাগতিক অধিনায়ক রস্তন চেজকে। এরপর ক্ষণিকের জন্য থামে উইকেট বৃষ্টি। তারপর ১৪তম ওভারে বোল্যান্ডের তাণ্ডব। প্রথম তিন বলে তিন উইকেট শিকার করে হ্যাটট্রিক করে বসেন। তখন উইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ২৬ রান। ভাগ্যক্রমে আরেকটি রান পায় উইন্ডিজ। তাই অন্তত নিউজিল্যান্ডের লজ্জা ভাগাভাগি করতে হয়নি। দলীয় ২৭ রানে তাদের দশম উইকেটের পতন ঘটে স্টার্কের গতিতে। ইতিহাস গড়া দিনে ৭.৩ ওভারে ৯ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে অজি পেসার। উইন্ডিজের সাত ব্যাটার আউট হন শূন্য রানে।
পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়ের অমৃত স্বাদ

পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়ের অমৃত স্বাদ এতোদিন বাংলাদেশ যা করে এসেছে, আজ তা-ই করলো শ্রীলঙ্কা। যদি এক শব্দে বলতে হয়, শ্রীলঙ্কা এলোমেলো। আর বাংলাদেশ গোছালো। গোছালো সেই পারফরম্যান্সের সুর ধরেই পরাজয়ের মিছিল পেরিয়ে জয়সূর্যর দেখা পেল বাংলাদেশ। ছয় ম্যাচ পর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। ক্যান্ডিতে বাংলাদেশ ৮৩ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ এ সমতা ফেরাল। এদিন ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সবকিছুতেই বাংলাদেশ এ প্লাস। গোল্ডেনও হতে পারত। দুয়েকটি ভুলে হয়েছে। ওগুলো না হলে শ্রীলঙ্কাকে দর্শক বানিয়ে পুরো ম্যাচটিতেই বাংলাদেশের আধিপত্য থাকত। টস হেরে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৭৭ রান করে। জবাবে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ৯৪ রানে। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংস ছিল রোলার কোস্টার রাইডের মতো। এই নিচে নামে তো এই উপরে উঠে। পথ হারাতে সময় লাগে না…আবার ছন্দে ফিরতেও সময় নেয় না। ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা একদমই যুৎসই হয়নি। ৭ রানে দুই ওপেনার সাজঘরে। পারভেজ হোসেন ইমন (০) ও তানজিদ হাসান (৫) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। সেখান থেকে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো শুরু। অফফর্মে থাকা লিটনের সঙ্গী তাওহীদ হৃদয়। শুরুর আক্রমণটা তাওহীদ করেছিলেন। পরে লিটন সব আলো নিজের ওপর নিয়ে নেন। ৫৫ বলে ৬৯ রান যোগ করেন দুজন। ইনিংসের ১২তম ওভারে তাওহীদ ২৫ বলে ৩১ রান করে বিদায় নিলে ভাঙে এই জুটি। মিরাজ এসে টিকতে পারেননি। ২ বলে ১ রান করে একই ওভারে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে আবার চাপে বাংলাদেশ। কিন্তু শামীম ক্রিজে এসে সেই চাপ গায়ে লাগতে দেননি। প্রতি আক্রমণে গিয়ে রান তুলে ২৭ বরে করেন ৪৭ রান। ৫ চারের সঙ্গে হাঁকান ২ ছক্কা। লিটন ও শামীম পঞ্চম উইকেটে খেলার চিত্র পাল্টে দেন। ৩৯ বলে ৭৭ রান যোগ করেন দুজন। তাতে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে প্রাণ ফিরে পায়। প্রবল চাপে ছিলেন লিটন। রানই পাচ্ছিলেন না। আজ ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ১২ ইনিংস পর পেয়েছেন ফিফটি। ৫০ বলে ১ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৬ রান করেন তিনি। শেষ দিকে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে কেবল সাইফউদ্দিন যোগ করতে পারেন ৬ রান। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে বিনুরা ফার্নান্দো নেন ৩ উইকেট। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন থুসারা ও থিকসানা। জবাব দিতে নেমে পাওয়ার প্লে’তেই ইউটার্ন শ্রীলঙ্কার। ৩০ রানে তারা হারায় ৪ উইকেট। বাংলাদেশের জন্য ভয়ের কারণ ছিল কুশল মেন্ডিস ও পাথুম নিশাঙ্কার উইকেট। এই জুটি ভাঙে শামীমের থ্রোতে। সরাসরি থ্রোতে শামীম ফেরান মেন্ডিসকে। এরপর শরিফুল ফেরান কুশল পেরেরা ও আভিশকা ফার্নান্দোকে। সাইফ উদ্দিন নেন অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কার উইকেট। ব্যাটসম্যানরা কেউই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। শুরুর সেই ধাক্কা হজমের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন পাথুম নিশাঙ্কা ও দাসুন শানাকা। ৩১ বলে ৪১ রান করেন করেন তারা। কিন্তু মাত্র ৬ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা আরও বিপদে পড়ে। সেখান থেকে তারা কেউ আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। নিশাঙ্কা ৩২, শানাকা ২০ রান করেন। ১৫.২ ওভারেই শেষ হয়ে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ ১৮ রানে নেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম ও সাইফ উদ্দিন। দলকে বহু প্রত্যাশিত জয় এনে দেওয়ায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন লিটন দাস। আগামী ১৬ জুলাই কলম্বোতে হবে সিরিজের শেষ ম্যাচ।
কাজাখস্তানকে ৬-২ গোলে হারালো বাংলাদেশের মেয়েরা

কাজাখস্তানকে ৬-২ গোলে হারালো বাংলাদেশের মেয়েরা অনূর্ধ্ব-১৮ উইমেন’স এশিয়া কাপ হকির শেষটা জয়ে রাঙাল বাংলাদেশ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কাজাখস্তানকে উড়িয়ে বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে মেয়েরা পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক। চীনের দাঝুতে রোববার স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কাজাখস্তানকে ৬-২ গোলে হারায় বাংলাদেশ। টপ-ফোর পুলে নিজেদের শেষ ম্যাচেও কাজাখস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাচটি ২-২ ড্র হওয়ায় স্থান নির্ধারণী ম্যাচও তাদের বিপক্ষে খেলতে হয় আইরিন-শারিকাদের। দলের জয়ে হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছেন আইরিন রিয়া। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন শারিকা রিমন, কনা আক্তার ও রাইসা রিশি। শক্তিশালী জাপানের বিপক্ষে ১১-০ গোলে হেরে পুল পর্ব শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর উজবেকিস্তান ও হংকংকে হারিয়ে সেরা চারের মঞ্চে ওঠার কীর্তি গড়ে মেয়েরা। টপ-ফোর পুলে অবশ্য বাংলাদেশ দেখাতে পারেনি কোনো চমক। চীনের বিপক্ষে ৯-০ গোলে হারের পর কাজাখস্তানের বিপক্ষে ওই ড্র। একই দিনে ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের ছেলেরা ৫-২ গোলে হেরে যায় মালয়েশিয়ার কাছে।
ইতালি ক্রিকেট বিশ্বকাপে

ইতালি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ফুটবলের দেশ হিসেবেই ইতালি বিশ্বে বেশি পরিচিত। চারটি বিশ্বকাপ তারা জিতেছে। যদিও তাদের ফুটবলে এখন ভাটার টান! সেই জায়গাটাই দখল করতে যাচ্ছে ইতালির জাতীয় ক্রিকেট দল। দেশটির এখন বড় পরিচয়,তারা প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে ইতালি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ হারলেও নেট রান রেট ভালো থাকায় ইতালি চলে গেছে ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্তম ফরম্যাটের বিশ্বকাপে। যা নিশ্চিতভাবেই তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য। ইতালির সঙ্গে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে নেদারল্যান্ডসও। আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল ইতালি। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বড় হার এড়াতে পারলেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত। তাদের প্রত্যাশা মতোই সব কাজ হয়েছে। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ইতালি ৭ উইকেটে ১৩৪ রান করে। জবাবে নেদারল্যান্ডস ১৬.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। জয় পায় ৯ উইকেটে। চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে নেদারল্যান্ডস। তারা শীর্ষে থেকেই নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। ইতালির সমান ম্যাচে পয়েন্ট ৫। সমান ম্যাচে জার্সিরও পয়েন্ট ৫। পিঠাপিঠি অবস্থান তাদের। তবে জার্সির (০.৩০৬) চেয়ে নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় ইতালির (০.৬১২) বিশ্বকাপের ভাগ্য খুলেছে। আগামী বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বসবে ২০ দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ১৫ দল এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। ইষ্ট-এশিয়া প্যাসিফিক কোয়ালিফায়ার থেকে তিনটি এবং আফ্রিকা অঞ্চল থেকে দুটি দল সামনে নির্বাচিত হবে।
মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন সাকিব

মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন সাকিব ২৪ ঘণ্টাতেই সাকিব আল হাসান যেন পুরো অচেনা! আগের দিন ব্যাট-বল হাতে জ্বলে উঠে পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়েছিলেন। গতকাল বিবর্ণ তার ব্যাট। নির্বিষ তার বোলিং। তাতে মুদ্রার উল্টো পিঠটাই দেখলেন বাংলাদেশের সুপারস্টার। এটাই তো ক্রিকেট, একদিন হাসাবে…একদিন কাঁদাবে! গায়ানায় গ্লোবাল সুপার লিগে সাকিব দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন। নিজের প্রথম ম্যাচে বাঁহাতি অলরাউন্ডার ছিলেন দুর্বার। নিউ জিল্যান্ডের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের বিপক্ষে ৩৭ বলে ৫৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এরপর ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ১৩ রান খরচে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। দুবাই প্রথম ম্যাচ জেতে ২২ রানে। সাকিব হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। অবশ্য শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচেই সাকিব এলোমেলো। ব্যাটিংয়ে ১০ বলে মাত্র ৭ রান করেন। যেখানে একটি ছক্কা ছিল। আর বোলিংয়ে ৪ ওভারে খরচ ৩৪ রান। উইকেট পাননি কোনো। হেরেছে তার দলও। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে দুবাই ৮ উইকেটে ১৪১ রান করে। জবাবে হোবার্ট হারিকেন্স ১৮ বল আগে ৭ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। দুবাইয়ের ব্যাটিং-বোলিং কোনোটাই ভালো হয়নি। ব্যাটিংয়ে তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন গুলবাদিন নাইব। এছাড়া সাদেকুল্লাহ অটল ২৫, কাদিম আলায়েন ১৪ এবং জেস বোটান ১৮ রান করেন। সাকিব পাঁচে নেমে একটি ছক্কা হাঁকান কেবল। আউট হন মোহাম্মদ নবীর বলে। জবাব দিতে নেমে হারিকেন্স বেন ম্যাকডরমটের ৪৮ ও ম্যাকাললিস্টার ওয়েস্টের ৫০ রানে সহজেই ম্যাচ জিতে নেয়। ২৩ রান করেন জেক ডোরান। ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে সাকিব ৩৪ রান দেন। ১০ ডট বল ছিল তার বোলিং স্পেলে। কোনো ছক্কা হজম করেননি। ৪ খেয়েছেন ৬টি।
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান টেস্ট সিরিজ শেষ। ওয়ানডে সিরিজের রেশ এখনো কাটেনি। এখন আবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মাঠে নামার পালা। ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গেছে শ্রীলঙ্কায়। টেস্ট, ওয়ানডের পর শেষ গন্তব্য টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এসে থামছে এই যাত্রা। পাল্লেকেল্লেতে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টির প্রথমটি আজ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হবে ম্যাচ। এর আগে দুই দলের পরিসংখ্যানে চোখ বোলানো যাক— ৫ দুই দল এখন পর্যন্ত ৫টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে। ২০১৩ সালে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে দুই দল। সবশেষ ২০২৪ সালে। শ্রীলঙ্কা চারটি সিরিজ জিতেছে। একটি সিরিজ কেবল ড্র হয়েছে। ১৭ মুখোমুখি ১৭ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয় ১১ ম্যাচে। বাংলাদেশের ৬ ম্যাচে। ২১৫/৫ দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে নিদাহাস ট্রফির ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২১৫ রান করে ম্যাচ জিতেছিল। ৮৩ সর্বোচ্চ রানের সঙ্গে সর্বনিম্ন রানের রেকর্ডটিও বাংলাদেশের দখলে। ২০০৭ সালে জোহানেসবার্গে ৮৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার সর্বনিম্ন রান ৭ উইকেটে ১২৩। ৭৫ রানের হিসেবে সবচেয়ে বড় জয় শ্রীলঙ্কার। ২০১৮ সালে সিলেটে বাংলাদেশকে ২১১ রান টার্গেট দিয়ে ৭৫ রানে জিতেছিল তারা। উইকেটের হিসেবে বাংলাদেশের জয় আবার বড়। গত বছর সিলেটে ১৬৬ রান তাড়া করতে নেমে ১৮.১ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় বাংলাদেশ। ৪৪২ দুই দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান কুশল মেন্ডিসের। ৯ ম্যাচে ৪৪২ রান করেছেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৫ ইনিংসে ৩৬৮ রান করেছেন তিনি। ৮৬ এক ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৮৬। ২০২৪ সালে সিলেটে মেন্ডিস ৫৫ বলে ৬টি করে চার ও ছক্কায় ৮৬ রান করেছিলেন। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ রান সাব্বির রহমানের। ২০১৬ এশিয়া কাপে ৮০ রান করেছিলেন সাব্বির রহমান। ২৫ দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ ছক্কা মেরেছেন কুশল মেন্ডিস। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫ ছক্কা মেরেছেন। ৭ রিশাদ হোসেন এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭ ছক্কা হাঁকিয়েছেন। গত বছর সিলেটে ৩০ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলার পথে ৭ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ১৮১ দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ১৮১ রান দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। গত বছর সিলেটে তিন টি-টোয়েন্টিতে ১৮১ রান করেছিলেন মেন্ডিস। ১৭ মোস্তাফিজুর রহমান দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। ১৩ ম্যাচে ২৪.৯৪ গড় ও ৮.৮৩ ইকোনমিতে এই উইকেট নিয়েছেন। ২০/৫ পেসার নুয়ান থুসারা ২০ রানে ৫ উইকেট পেয়েছেন। যা দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। একটিই মাত্র ৫ উইকেট আছে। সেটা থুসারা পেয়েছেন গত বছর। ৪ ওভারে ৫৬ মাহিশা পাথিরানা দুই দলের বোলারদের মধ্যে এক স্পেলে সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন। গত বছর ৪ ওভারে ৫৬ রান দিয়েছিলেন অফস্পিনার। ১ উইকেট অবশ্য পেয়েছিলেন। ১৩ সৌম্য সরকার দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ ক্যাচ নিয়েছেন। ৯৮ ৯৮ রানের জুটি দুই দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৮ সালে সিলেটে মেন্ডিস ও গুনাথিলাকা উদ্বোধনী জুটিতে ৯৮ রান করেছিলেন।
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টি-টোয়েন্টি সন্ধ্যায়

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রথম টি-টোয়েন্টি সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। পাল্লেকেল্লে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ম্যাচটি শুরু হবে। অন্য দুই ফরম্যাটের মতো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও ভালো সময় যাচ্ছে না বাংলাদেশের। সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হার, এরপর পাকিস্তানে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। লিটন দাসের নেতৃত্বে দ্বীপ-দেশটিতে এবার টি-টোয়েন্টির চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের। নিজেদের শেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হারের পর তাই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের পক্ষে বাজি ধরার লোক খুব একটা নেই। রেকর্ডও বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছে না। দুই দলের ১৭ দেখায় ৬ ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। বাকি ১১টিতেই শ্রীলঙ্কার জয়। এবারের শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ পারফরম্যান্স ধারাবাহিকতায় ভুগেছে। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি ড্র হলেও দ্বিতীয়টিতে হেরে যায় বড় ব্যবধানে। তাতে টেস্ট সিরিজ হাতছাড়া হয়। কলম্বোতে প্রথম ওয়ানডেতে প্রচন্ড বাজেভাবে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ালেও ক্যান্ডিতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পুরোনো চিত্র। হারের আগেই ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করে। তাইতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নিজেদের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশের এখন তিন অধিনায়ক। টেস্টে শান্ত, ওয়ানডেতে মিরাজ দলকে তেমন সুখস্মৃতি এনে দিতে পারেননি। শেষটায় লিটন রাঙাতে পারবেন কী? আশার কথা শুনিয়েছেন লিটন। পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে সিরিজ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটনও বলেছেন, ‘এটা আলাদা একটা সংস্করণ। সবাই জানে টি–টোয়েন্টি কীভাবে খেলতে হয়। আমরা সেভাবেই চেষ্টা করব।’ শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে। শেষ ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ায় আজ খেলতে পারছেন না তারকা লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। যা বাংলাদেশের জন্য নিশ্চিতভাবেই ভালো খবর। বাংলাদেশকে সমীহ করে শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশ ভালো টি–টোয়েন্টি দল। তবে তারাও আমাদের মতোই অনভিজ্ঞ। আমি মনে করি না যে আমরা তাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে। সিরিজটা কঠিন হবে।’’ সত্যিই কী তা-ই? পুরোনো ব্যর্থতা ঝেরে বাংলাদেশ কী সত্যিই লঙ্কানদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবে? সময়ের কাছেই প্রশ্নটা তোলা থাক।
কুশলের সেঞ্চুরি, বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল শ্রীলঙ্কা

কুশলের সেঞ্চুরি, বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল শ্রীলঙ্কা আগের ম্যাচটা জিতে সমতায় ফিরেছিল বাংলাদেশ। সেই ধারা বজায় রাখতে পারলেই ঐতিহাসিক সিরিজ বিজয়, এমন সমীকরণ সামনে রেখে আজ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছে টাইগাররা। পাল্লেকেল্লেতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটিতে টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নেয় শ্রীলঙ্কা। এরপর কুশল মেন্ডিসের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ভর করে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রান করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ এই ম্যাচে একাদশের বোলিং বিভাগে একটি পরিবর্তন আনে। হাসান মাহমুদের জায়গায় আসেন তাসকিন আহমেদ। বল হাতে মোটামুটি ভালোই করেছেন তিনি। ১০ ওভারে ৫১ রান খরচে তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজও। টাইগার দলপতি ১০ ওভারে ৪৮ রানে নিয়েছেন তাসকিনের সমান ২ উইকেট। তবে বাংলাদেশের বাকি বোলাররা তেমন কিছু করতে পারেননি। বরং পুরো ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন শ্রীলঙ্কার টপ অর্ডার ব্যাটার কুশল মেন্ডিস। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি শেষ পর্যন্ত ঠেকেছে ১২৪ রানে। মাত্র ১১৪ বলে ১৮টি চার দিয়ে ইনিংসটি সাজিয়েছেন তিনি। মেন্ডিস যেখানে লঙ্কান ইনিংসের ভিত্তি, চারিথ আসালাঙ্কা তার পিলার। তার ৬৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটির কল্যাণে রানের পাহাড়ে চড়তে সক্ষম হয় স্বাগতিক দল। যদিও বোলিংয়ের শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। নিশান মাদুশকা (১)-কে বিদায় করে লঙ্কান ওপেনিং জুটিকে দাঁড়াতে দেননি বাংলাদেশি পেসার তানজিম হাসান সাকিব। এরপর আরেক ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কাকে নিয়ে ধাক্কা সামাল দেন কুশল মেন্ডিস। তাদের জুটিতে ৫৬ রান যোগ হওয়ার পর আঘাত হানেন বাংলাদেশের তরুণ বাঁহাতি পেসার তানভীর ইসলাম। নিসাঙ্কা ফেরেন ৩৫ রান করে। এরপর কামিন্দু মেন্ডিস (১৬) কিছুক্ষণ সঙ্গ দিলেও মেহেদী হাসান মিরাজের বলে লেগ বিফোর হয়ে ফেরেন। দলীয় ১০০ রানে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। তবে এরপর থেকে উইকেটে জেঁকে বসেন কুশল ও আসালাঙ্কা। দুজনে মিলে বড় জুটি গড়ে দলকে শক্ত ভিত এনে দেন। দুজনেই পান ফিফটির দেখা। আসালাঙ্কা দলকে ২২৪ রানে রেখে চতুর্থ উইকেট হিসেবে বিদায় নেন। শেষদিকে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। বোলারদের হাত ধরে আসে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাফল্য। ২৪৯/৫ থেকে একসময় লঙ্কানদের স্কোর দাঁড়ায় ২৫৯/৭। কিন্তু ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (১৪ বলে ১৮*) ও চামিরা (৮ বলে ১০*) মিলে বাকিটা ভালোভাবেই পাড়ি দেন। ফলে বড় লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামবে বাংলাদেশ।