রাতে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

রাতে হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান এশিয়া কাপে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে এই মহারণ। পরিসংখ্যান বলছে, টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১৩ বার। এর মধ্যে ভারত জিতেছে ১০ ম্যাচে, আর পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ৩ ম্যাচে। আজকের ম্যাচ তাই শুধু পয়েন্ট টেবিলের লড়াই নয়, বরং মর্যাদা রক্ষারও লড়াই। এবারের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে আবহ আগের তুলনায় বেশি উত্তেজিত। ইতোমধ্যেই দু’দলই বড় ব্যবধানে জয় দিয়ে আসর শুরু করেছে। ফলে দু’দল সমান তালে মাঠে নামবে, যেখানে আবেগের চাপ আরও প্রবল হয়ে উঠবে। ম্যাচ ঘিরে রাজনীতি, শোক, প্রতিবাদ আর প্রতিপক্ষকে খোঁচা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মাঠের ক্রিকেট হয়তো কখনোই আলাদা করে দেখা যাবে না। তবে ক্রিকেটপ্রেমীরা চান, অন্তত খেলার ভেতরে থাকুক লড়াই, বাইরে নয়।

এশিয়া কাপে আজ রাতে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা পরীক্ষা

এশিয়া কাপে আজ রাতে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা পরীক্ষা অবশেষে এলো আসল লড়াইয়ের দিন। আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের পঞ্চম ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। এশিয়া কাপের এবারের আসরের প্রথম দিকটা হয়েছে প্রত্যাশামতো। ভারত, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান সহজ জয় তুলে নিয়েছে। আর পাকিস্তানও এড়িয়েছে অঘটন। তবে আজকের লড়াইটা ভিন্ন রঙের। দুই দলই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সমানতালে লড়াই করেছে। শেষ ১০ বছরে ১৬টি ম্যাচে দুই দল জিতেছে সমান ৮ বার করে। সাম্প্রতিক ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষে: গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। তার আগে গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ডালাসে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে টাইগাররা। ঐ ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতেই আঘাত হেনেছিল এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়েছিল। লঙ্কানরা এবার আশা করছে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ভালো করবে, যদিও মাত্র দুই সপ্তাহ আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গুটিয়ে গিয়েছিল ৮০ রানে। বাংলাদেশের বাড়তি সুবিধা হলো- তারা ইতোমধ্যেই এই ভেন্যুতে খেলেছে। বৃহস্পতিবার হংকংয়ের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয় ছিল প্রায় নিখুঁত প্রদর্শনী। ফাস্ট বোলাররা উইকেট শিকার করেছে। ব্যাটসম্যানরা সহজেই রান তাড়া করেছে। লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনও নিয়েছেন উইকেট। যিনি লঙ্কানদের বিপক্ষে শেষ সিরিজে দুর্দান্ত ছিলেন। তিন ম্যাচে মাত্র ৫.৪৭ ইকোনমি রেটে বল করেছেন। শ্রীলঙ্কার নতুন শুরু: শ্রীলঙ্কা সিরিজ হারের পর এবার ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নেমেছে। মাসের শুরুতে জিম্বাবুয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারালেও তাদের ধারাবাহিকতার অভাব বড় সমস্যা। আসালঙ্কার নেতৃত্বাধীন দল অনেকটাই নির্ভর করছে স্পিন জুটি ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহিশ থিকশানার ওপর। গ্রুপ অব ডেথের চাপ: এই গ্রুপে আফগানিস্তানও আছে। মানে প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই। আজ যে দল হারবে, তাদের জন্য সুপার ফোরের পথ হবে কঠিন। বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অবশ্য আকাশচুম্বী। টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এশিয়া কাপে হংকংকে হারিয়ে সেই ছন্দ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার জন্য এটাই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ। ভেন্যু ও পিচ: শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেটে রান ওঠে ভালোই। তবে ম্যাচ যত গড়ায়, স্পিনাররা প্রভাব ফেলতে পারে। পাওয়ার প্লে’র ওভারগুলোই নির্ধারণ করবে ম্যাচের গতি। নজর রাখার খেলোয়াড়: বাংলাদেশের হয়ে লিটন দাস দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে করেছেন ১৪৫ রান। এশিয়া কাপেও হংকংয়ের বিপক্ষে খেলেছেন ৩৯ বলে ৫৯ রানের ঝড়ো ইনিংস। শ্রীলঙ্কার হয়ে দুশমন্ত চামিরা নজর কাড়তে পারেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন নতুন বলে কতটা কার্যকর। মাইলফলকের পথে: লিটন দাস ১১১ ম্যাচে করেছেন ২,৪৯৬ রান। মাত্র ৪ রান দূরে ২,৫০০ পূর্ণ করার থেকে। তাওহীদ হৃদয়ের চাই ৫৬ রান। তাহলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন ১,০০০ রানের মাইলফলক। লঙ্কান ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা আছেন ১,৯৫০ রানে। আর ৫০ রান করলে তিনিও ঢুকে পড়বেন দুই হাজারি ক্লাবে। বোলারদের মধ্যে হাসারাঙ্গার ঝুলিতে আছে ৭৯ ম্যাচে ১৩১ উইকেট। যেখানে চারবার নিয়েছেন চার উইকেট। বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকার আলি আনিক, রিশাদ হোসেন, মাহেদি হাসান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। শ্রীলঙ্কার সম্ভাব্য একাদশ: কুশল মেন্ডিস (উইকেটকিপার), পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা/নুয়ান থুশারা, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালঙ্কা (অধিনায়ক), কামিন্দু মেন্ডিস, দাসুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহিশ থিকশানা, দুশমন্ত চামিরা ও মাথিশা পাথিরানা।

বড় জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

বড় জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের হংকংকে ৭ উইকেটে হারিয়ে এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক লিটন দাসের হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে ১৪৪ রানের লক্ষ্য ১৪ বল হাতে রেখেই পূর্ণ করেছে টাইগাররা। যদিও সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের প্রথম বলটি ডট হলেও পরের দুই বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ভালো সূচনা করেন পারভেজ হোসেন ইমন। আয়ুস শুক্লার করা দ্বিতীয় বলটিতে ড্রাইভ করে কাভারের ওপর দিয়ে চার মারেন ইমন। পরের বলেও ইন সাইড এজ হয়ে আরেকটি চার পেয়ে যান তিনি। তবে তৃতীয় ওভারে আয়ুসকে মারতে গিয়ে ১৪ বলে ১৯ রান করে আউট হয়ে ফিরে যান ইমন। এরপর তানজিদ হাসান দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করতে গিয়ে ১৮ বলে ১৪ রান করে আউট হন। আতিক ইকবালের বলে মিড অফে ক্যাচ দেন তানজিদ। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস ৭০ বলে ৯৫ রানের একটি জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ধরে রাখেন। যদিও লিটন ইনিংসের ১৮তম ওভারে ৩৯ বলে ৫৯ রান করে বোল্ড হয়ে যান। তবে এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। হৃদয় ৩৬ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং দলকে জয় এনে দেন। হংকংয়ের ব্যাটিংয়ে প্রথম আঘাতটি দেন তাসকিন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তিনি আনশুমান রাঠকে আউট করেন। পরে বাবর হায়াতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রতিরোধ গড়তে থাকলেও তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে ১২ বলে ১৪ রান করে আউট হন। পাওয়ার প্লে শেষে হংকং ৩৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি। এরপর জিসান আলী ও নিজাকাত খান কিছুটা জুটি গড়ে রান বাড়াতে থাকেন। কিন্তু তানজিম সাকিবের পরবর্তী ওভারে জিসান ৩৪ বলে ৩০ রান করে আউট হন। এরপর মুর্তজা ও নিজাকাত কিছুটা রান বাড়ান, তবে তারা দ্রুত রান তুলতে পারছিলেন না। ১৮তম ওভারে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান মুর্তজা, ২৮ রান করে। পরবর্তীতে নিজাকাত খান ৪২ রান (এক ছক্কা, দুই চারে) নিয়ে রিশাদ হোসেনের বলে আউট হন। হংকং শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন, রিশাদ এবং তানজিম।

আম্পায়ার সাইমন টাফেল বাংলাদেশে আসছেন কাল

আম্পায়ার সাইমন টাফেল বাংলাদেশে আসছেন কাল বাংলাদেশি আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণের জন্য আগামীকাল ঢাকায় আসছেন আইসিসির সাবেক এলিট প্যানেল আম্পায়ার সাইমন টাফেল। টাফেলের সাথে দুই বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আম্পায়ারদের দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের মান বাড়ানোর জন্য কাজ করবেন টাফেল। টানা ৫ বার আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জিতেছেন টাফেল। ১৯৯৯ সালে আম্পায়ারিং ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং ২০০০ সালে প্রথম টেস্ট আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন টাফেল। আইসিসির মেগা ইভেন্ট এবং অ্যাশেজের মতো জনপ্রিয় সিরিজের আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ৭৪টি টেস্ট, ১৭৪টি ওয়ানডে এবং ৩৪টি টি-টোয়েন্টিতে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন টাফেল। ২০০৪-২০০৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ার নির্বাচিত হওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে টাফেল উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এশিয়া কাপ মিশনে টস জিতে হংকংকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো বাংলাদেশ

এশিয়া কাপ মিশনে টস জিতে হংকংকে ব্যাটিংয়ে পাঠালো বাংলাদেশ এশিয়া কাপ মিশনে নেমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে টস জিতে হংকংকে ব্যাটিংয়ে পাঠাল বাংলাদেশ। আজ আবুধাবির শেখ আবু জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে হংকংকে আমন্ত্রণ জানান টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস। এবারের টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ দল ভালোই প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকা-সিলেটে দুই দফায় হয়েছে ট্রেনিং ক্যাম্প। পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের কাছ থেকে তালিম নিয়েছে লিটন-শান্তরা। এছাড়া টানা তিন সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি নিয়েই দুবাইয়ে গেছে বাংলাদেশ দল। এবার মাঠের ক্রিকেটে নিজেদের প্রমাণ করার পালা। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৯৪ রানে হেরে আসা হংকংয়ের জন্য এই ম্যাচ টিকে থাকার লড়াই। টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত একবারই মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-হংকং। ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে হংকংয়ের কাছে ২ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ রাতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের একাদশ পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), তাওহিদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলী, মাহেদি হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। হংকংয়ের একাদশ জিশান আলী (উইকেটকিপার), অংশুমান রথ, বাবর হায়াত, নিজাকাত খান, কালহান চাল্লু, কিঞ্চিৎ শাহ, ইয়াসিম মুর্তজা (অধিনায়ক), আইজাজ খান, এহসান খান, আয়ুষ শুক্লা ও আতিক ইকবাল।

নেপাল থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন জামালরা

নেপাল থেকে বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন জামালরা আজ ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ একটি ফ্লাইটে যাত্রা শুরু করেন হাভিয়ের কাবরেরা, জামাল ভূঁইয়ারা। এর ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে দেশে অবতরণ করে তাদের বহনকারী বিমানটি। দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গত ৩ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ডু গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। তখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল। এর মধ্যে ৬ সেপ্টেম্বর দুদল একটি প্রীতি ম্যাচও খেলে। যেটায় শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে। কিন্তু তারপর মাত্র এক-দেড় দিনের মধ্যে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে যায় নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সরকারবিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। তাতে ৯ সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় ম্যাচটি বাতিল হয়। নির্ধারিত দিনে দেশে ফেরার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায় বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। টানা দেড় দিন ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকার পর গতকাল সন্ধ্যায় ফের সচল হয় কাঠমান্ডু বিমানবন্দর। এ সুযোগে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সরকার মিলে জামালদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা নেয়। যদিও এদিন বেলা সাড়ে ১১টার পর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা ছিল জামালদের। তবে দীর্ঘক্ষণ বিমানবন্দরে অপেক্ষা করার পর অবশেষে প্রায় ৩টার সময় তারা রওনা দেন।

ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম; ওয়ানডে বিশ্বকাপে দায়িত্বে থাকবেন কেবল নারীরাই

ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম; ওয়ানডে বিশ্বকাপে দায়িত্বে থাকবেন কেবল নারীরাই ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। পুরো আসরটি পরিচালনা ও তদারকি করবেন শুধুমাত্র নারী আম্পায়ার ও রেফারিরা। মোট ১৮ জন ম্যাচ অফিসিয়াল—এর মধ্যে ১৪ জন আম্পায়ার ও ৪ জন রেফারি—নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৩১ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে, যা শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর। নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে এটাই প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে অল-উইমেন প্যানেলের দায়িত্বপ্রাপ্তি। এর আগে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসেও আংশিকভাবে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল। অভিজ্ঞ আম্পায়ারদের মধ্যে ক্লেয়ার পোলসাক, জ্যাকুলিন উইলিয়ামস ও সু রেডফার্ন থাকছেন তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপে। এছাড়া ২০২২ সালের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করা লরেন এজেনব্যাগ ও কিম কটনও এবার ফিরছেন। এলোইজ শেরিডানও থাকছেন অফিসিয়াল প্যানেলে। তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশি আম্পায়ার সাথিরা খান জেসিও। রেফারিদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের জি এস লক্ষ্মী, পাশাপাশি ট্রুডি অ্যান্ডারসন, শান্দ্রে ফ্রিটজ ও মিশেল পেরেইরা। আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এই উদ্যোগকে বলেছেন ‘নারী ক্রিকেটের যাত্রায় এক সংজ্ঞায়িত মুহূর্ত। ’ তিনি বলেন, ‘এটি শুধু একটি মাইলফলক নয়, বরং ক্রিকেটে জেন্ডার সমতায় আইসিসির অঙ্গীকারের শক্তিশালী প্রতিফলন। বিশ্বকাপ মঞ্চে শুধু নারী অফিসিয়ালদের অন্তর্ভুক্তি দৃশ্যমানতা, সুযোগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার মতো রোল মডেল তৈরির এক বড় পদক্ষেপ। ’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রতীকী নয়। এটি দেখাবে, ক্রিকেটে নেতৃত্ব ও প্রভাবের কোনো লিঙ্গভেদ নেই। ’

ফেব্রুয়ারিতে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা

ফেব্রুয়ারিতে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে রঙিন আসর আবারও দোরগোড়ায়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্দা উঠছে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের, যা চলবে ৮ মার্চ পর্যন্ত। ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবরে এমনটাই বলা হয়েছে। এবারের আসর যৌথভাবে আয়োজন করছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। আইসিসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতের অন্তত পাঁচটি এবং শ্রীলঙ্কার দুটি ভেন্যুতে হবে ম্যাচ। ফাইনালের ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে দুই জায়গায়— আহমেদাবাদ বা কলম্বো। তবে পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোতে, অন্যথায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে হবে শিরোপা লড়াই। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত–পাকিস্তান একে অপরের মাটিতে খেলতে রাজি নয়। তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী এবারও একই নিয়ম মানা হবে। ফলে আয়োজক সমীকরণে থাকছে বাড়তি উত্তেজনা। ২০ দলের এ মহাযুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছে ১৫ দলের নাম। আফ্রিকা, এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে বাকি পাঁচটি দল আসবে বাছাইপর্বের মাধ্যমে। ইতিহাস গড়ে ইতালি প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপে। ইতিমধ্যে যারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও ইতালি। ফরম্যাট থাকছে আগের মতোই। ২০ দলকে ভাগ করা হবে চার গ্রুপে, প্রতিটিতে পাঁচটি করে দল। প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দুই দল যাবে সুপার এইটে। সেখান থেকে আবার দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়াই করবে সেমিফাইনালের জন্য। এরপরই শুরু হবে শিরোপা জয়ের শেষ লড়াই।

৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের

৭ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসন্ন আসর। আসরের পর্দা নামবে ৮ মার্চ। এমন তথ্যই জানিয়েছে ক্রিকেট ভিত্তিক ভারতীয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। ২০ দলের এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ও ভারত। ভারতের পাঁচটি ভেন্যু ও শ্রীলঙ্কার অন্তত দুটি ভেন্যুতে খেলা হবে। তবে ফাইনাল কোথায় হবে তা নির্ভর করছে পাকিস্তানের ফলাফলের ওপর।পাকিস্তান যদি ফাইনালে উঠে তাহলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি হবে কলম্বোতে। কারণ আগামী ৩ বছর ভারতের মাটিতে কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না পাকিস্তান। আর পাকিস্তান যদি আগেই বিদায় নেয় তাহলে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আহমেদাবাদে। বিশ্বকাপের সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করলেও ইতোমধ্যেই অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে বিশ্বকাপের উইন্ডো জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ক্রিকইনফোর খবরে এমনটাই বলা হয়েছে। চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়বে ২০ দল। প্রতি গ্রুপ থেকে দুটি দল খেলবে সুপার এইটে। এরপর সেখানে তারা একে অপরের মুখোমুখি হবে একবার করে। সেখানে ৮ দল খেলবে দুই গ্রুপে। সেখান থেকে দুটি করে দল অংশ নেবে সেমি ফাইনালে। পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৫৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে ১৫টি দল বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা নিশ্চিত করেছে। দেশগুলো হলো ভারত, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও ইতালি।

দ্বিগুণ হচ্ছে এশিয়া কাপের প্রাইজমানি!

দ্বিগুণ হচ্ছে এশিয়া কাপের প্রাইজমানি! নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এবার এশিয়া কাপের পুরস্কারমূল্যও বাড়ছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দ্বিগুণ বেড়েছে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স দলের পুরস্কারমূল্য। এখনও পর্যন্ত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল কোনো ঘোষণা না দিলেও ইতোমধ্যেই পুরস্কারমূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ২০২৩ সালে এশিয়া কাপ জিতে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা পেয়েছিল ভারত। এবার তা দ্বিগুণ বাড়ছে। এবার চ্যাম্পিয়নরা ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা পাবে। এবার যে দল রানার্স হবে তারা ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা পাবে। টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারকে দেওয়া হবে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।এ বারের এশিয়া কাপের আয়োজক দেশ ভারত। কিন্তু আসরটি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দুবাই ও আবু ধাবির মাঠে হবে সব খেলা। মোট আটটি দল খেলছে এ বারের প্রতিযোগিতায়। গ্রুপ ‘এ’তে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। গ্রুপ ‘বি’তে রয়েছে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও হংকং। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দল প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলবে। দু’টি গ্রুপ থেকে চারটি দল উঠবে সুপার ফোরে। সেখানেও প্রতিটি দল প্রতিটি দলের বিরুদ্ধে খেলবে। তার পর শীর্ষে থাকা দুই দল ফাইনালে উঠবে।আজ ৯ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠছে এই আসরের। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে আফগানিস্তান ও হংকং। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ভারত।কয়েক মাস পর ভারতের মাটিতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে এশিয়া কাপকে প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে দেখছে দলগুলো। তাই এবারের আসর হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে।