৩৪ ম্যাচের বিপিএল শুরু ২৬ ডিসেম্বর

৩৪ ম্যাচের বিপিএল শুরু ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর আগে সবগুলো আসরের ম্যাচ শুরু হয়েছিল ঢাকায়। এবার ঢাকার পরিবর্তে সিলেটে পর্দা উঠবে বিপিএলের। ২৬ ডিসেম্বর প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ফাইনাল হবে আগামী ২৩ জানুয়ারি ঢাকায়। এবারও তিনটি ভেনু্যতে হবে বিপিএল। সিলেট ও ঢাকার পাশাপাশি ম্যাচ হবে চট্টগ্রামে। রাজশাহী ও বগুড়াতেও ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়নি। ৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠেয় টুর্নামেন্টের প্রাথমিক পর্বে ম্যাচ হবে ৩০টি। আর প্লেঅফ ও ফাইনাল মিলে আসরে মোট ৩৪টি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। ১৯ জানুয়ারি হবে এলিমিনেটর ও প্রথম কোয়ালিফায়ার। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ২১ জানুয়ারি আর ফাইনাল ২৩ তারিখ। এই ম্যাচগুলো সবই হবে ঢাকাতে। এই পর্বের ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক পর্বে প্রতিদিন মাঠে গড়াবে দুটি করে ম্যাচ। প্রতি দুই দিন পর রাখা হয়েছে একদিন করে বিরতি। ঢাকা পর্বে প্রাথমিক পর্বের তিনটি ম্যাচ ডের মাঝে নেই কোনো বিরতি। দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে বেলা ১টায়, দ্বিতীয়টি সন্ধ্যা ৬টায়। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার প্রথম ম্যাচ বেলা ২টা ও পরেরটি সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে। ২৬ ডিসেম্বর সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ম্যাচ দিয়ে বিপিএল শুরু হবে দুপুর ২টায়। সন্ধ্যার ম্যাচে মুখোমুখি হবে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও চট্টগ্রাম রয়্যালস। পরের দিন দুপুর ১টায় ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স খেলবে। সন্ধ্যার ম্যাচে লড়বে সিলেট টাইটান্স ও নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
জয় দিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশের সেরা টি-টোয়েন্টি বছর

জয় দিয়েই শেষ হলো বাংলাদেশের সেরা টি-টোয়েন্টি বছর দুশ্চিন্তার শুরু ছিল সিরিজের প্রথম ম্যাচেই। তবে শেষ পর্যন্ত হাসিমুখেই বছরটা শেষ করল বাংলাদেশ। আজ চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটের সহজ জয়ে হারিয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২–১ ব্যবধানে জিতল টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে একটি পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি ১৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের জাতীয় রেকর্ডও গড়েছে দল। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। শুরুটা ভালো করেও শরীফুল, মোস্তাফিজ ও রিশাদের বোলিংঝড়ে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে অতিথিরা। ধারাবাহিক আক্রমণে আইরিশরা পঞ্চম ওভারের পর টানা ৪১ বল বাউন্ডারি পায়নি। শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতে অলআউট হয় তারা। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রিশাদ হোসেন। একাদশে ফিরেই নেন ৩ উইকেট। তার গুগলিতেই বোল্ড হন ক্যাম্পার। শরীফুলও তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকথ্রু, আর মোস্তাফিজ সাফল্য এনে দেন নিয়মিত বিরতিতে। ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক নিঃসন্দেহে তানজিদ হাসান। ব্যাট হাতে দারুণ হাফ সেঞ্চুরি (ছক্কায় শেষ করা) করার আগে তিনি গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫টি ক্যাচ! এর আগে কোনো বাংলাদেশি এ কীর্তি গড়তে পারেননি। ব্যাট হাতে তাকে সঙ্গ দেন পারভেজ হোসেন। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসানের ছোট ইনিংস ও লিটনের ব্যর্থতা কাটিয়ে চতুর্থ উইকেটে পারভেজ-তানজিদের অবিচ্ছিন্ন ৫০ বলে ৭৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে এনে দেয় জয়ের বন্দরে। এই বছর বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছক্কার মালিক ছিলেন তানজিদ, দ্বিতীয় পারভেজ। আজ তিন ছক্কা হাঁকিয়ে তানজিদের বছরের মোট ছক্কা দাঁড়াল ৪১টি, পারভেজের ৩৪টি।
আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন ম্যাক্সওয়েলও

আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন ম্যাক্সওয়েলও দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে শেষপর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। এক আবেগঘন বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, আইপিএল ২০২৬ নিলামে তিনি নিজের নাম রাখেননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত সেই দীর্ঘ পোস্টে ম্যাক্সওয়েল লিখেছেন, আইপিএল তাকে বদলে দিয়েছে ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও।’ প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন বিদেশি ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন তিনি। কিন্তু পাঞ্জাব কিংস তাকে ছেড়ে দেওয়ার পর এ বছর নিলামে নাম তালিকাভূক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী ক্রিকেটার। ম্যাক্সওয়েল লিখেছেন, “আইপিএলে এত বছর অবিস্মরণীয় সময় কাটানোর পর এ বছর নিলামে না ওঠার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লিগটি আমাকে যে সম্মান, ভালোবাসা আর অভিজ্ঞতা দিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “আইপিএল আমাকে গড়ে তুলেছে। অসাধারণ সব সতীর্থ পেয়েছি, দুর্দান্ত সব ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছি, আর এমন সব দর্শকের সামনে খেলেছি যাদের আবেগের তুলনা নেই। ভারতের স্মৃতি, চ্যালেঞ্জ আর উন্মাদনা সারাজীবন থেকে যাবে।” শেষে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে ম্যাক্সওয়েলের বার্তা, “এত বছর পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আশা করছি আবারও কোথাও দেখা হবে।” এর আগে ফাফ ডু প্লেসিস ও মঈন আলির মতো বড় নামও আইপিএল ২০২৬ মিনি নিলামে না ওঠার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় ম্যাক্সওয়েল কি তাদের পথ ধরে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ২০২৬ মৌসুমে নাম লেখান কি না। আইপিএলে ১৪১ ম্যাচে ২,৮১৯ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। স্ট্রাইক রেট ১৫৫ এরও বেশি। সবচেয়ে বেশি খেলেছেন পাঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে। পাশাপাশি অল্প সময়ের জন্য মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়েও খেলেছেন তিনি। তবে আইপিএলে তার ক্যারিয়ার ছিল উত্থান-পতনে ভরা। একদিকে বিস্ময়কর সব পারফরম্যান্স, অন্যদিকে অনেক মৌসুমেই হতাশা। একমাত্র আইপিএল শিরোপা জিতেছিলেন ২০১৩ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে, তাও মূল স্কোয়াডে খুব বেশি সুযোগ না পেয়ে। আইপিএল ২০২৫-এ পাঞ্জাব কিংস ৪.২ কোটি রুপিতে তাকে দলে নিলেও চোটে ভরা এক অনুজ্জ্বল মৌসুম শেষে তাকে আর ধরে রাখেনি ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অর্থমূল্যে আইপিএলের অন্যতম ‘হট প্রপার্টি’ ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তার সবচেয়ে বড় চুক্তি ছিল ২০২১ সালে। সেবার আরসিবি তাকে কিনেছিল ১৪.২৫ কোটি রুপিতে। ২০১৩ সালের নিলামেও তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়া খেলোয়াড়, যখন মুম্বাই তাকে দলে ভেড়ায়।
পাকিস্তান সিরিজের বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা

পাকিস্তান সিরিজের বাংলাদেশ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। এই সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ সাদিয়া ইসলামকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করে বিসিবি। ঘোষিত সেই দলে আছেন সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, আরিত্রি মন্ডল নির্জনা, ইমান নাসের। সিরিজের সবগুলো ম্যাচ কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বুধবার সিরিজের প্রথম ম্যাচ। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ খেলতে গত ৩০ নভেম্বর ঢাকায় পা রাখে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। বাংলাদেশ: সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা (উইকেটরক্ষক), আরিত্রি মন্ডল নির্জনা, সাদিয়া ইসলাম (অধিনায়ক), মোসাম্মৎ ফারজানা ইয়াসমিন, মাইমুনা নাহার স্বর্ণামনি, রুমানা আহমেদ, সাদিয়া আক্তার, হাবিবা ইসলাম পিংকি, অতশি মজুমদার, জারিন তাসনিম লাবণ্য, লামিয়া মৃদা, আচিনা জান্নাত ইমান্তা (উইকেটরক্ষক), মোসাম্মৎ সাদিয়া নুসরাত, মোসাম্মৎ সামিয়া খাতুন ও কুমারি রানি শিল। পাকিস্তান: বারিরাহ সাইফ, ফিজা ফিয়াজ, রাহিমা সাইদ, মেমুনা খালিদ, ইমান নাসের (অধিনায়ক), রোজিনা আকরাম, আরিশা আনসারি, কোমাল খান, রাভাইল ফারহান, আকসা হাবিব, শাহার বানো, মাহনুর জাব, আয়েশা রিয়াজ, জুফিসান আয়াজ ও আলিশা মুখতিয়ার।
বিশ্ব রেকর্ডগড়া তামিমের ফিফটি, সহজ জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

বিশ্ব রেকর্ডগড়া তামিমের ফিফটি, সহজ জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছিল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছিল লিটন দাসের দল। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের ম্যাচেই সমতা ফেরায় টাইগাররা। তাই শেষ ম্যাচটি ছিল সিরিজ নির্ধারণী। যেখানে ব্যাটে-বলে আইরিশদের উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভার ৫ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৭ রান করে আয়ারল্যান্ড। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করে পল স্টার্লিং। জবাবে ১৩ ওভার ৪ বলে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ে তানজিদ তামিমের নতুন সঙ্গী হিসেবে ছিলেন সাইফ হাসান। দুজনে মিলে উদ্বোঢনী জুটিতে যোগ করেন ৩৮ রান। ১৪ বলে ১৯ রান করে সাইফ ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। তিনে নেমে ব্যর্থ লিটন দাস। অধিনায়কের ইনিংস ছিল মাত্র ৬ বলের। ৭ রান করে লিটন দ্রুত ফিরলে কিছুটা বিপাকে পড়ে দল। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সেই বিপর্যয় সামলে দলের জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমন। আজকে ফিল্ডিংয়ে দুর্দান্ত ছিলেন তামিম। একাই ধরেছেন ৫টি ক্যাচ। টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ফিল্ডারের এক ম্যাচে এটিই সর্বোচ্চ। ফিল্ডিংয়ে এমন রেকর্ড গড়ার পর ব্যাটিংয়ে ফিফটি পেয়েছেন তামিম। ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করেন তিনি। আর ইমন ২৬ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থেকেছেন। এর আগে বোলিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। আয়ারল্যান্ডকে প্রথম ওভারে ১৩ রান দেন মেহেদী হাসান। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে শরিফুল ইসলামের শিকার হওয়ার আগে টিম টেক্টর (১৭) দুই চার ও এক ছয়ে ১৪ রান তোলেন। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে হ্যারি টেক্টর সিঙ্গেল নিলে আয়ারল্যান্ড পঞ্চাশে পৌঁছায়। ওই ওভারে ১২ রান তোলে সফরকারীরা। বল হাতে নিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান দ্বিতীয় ডেলিভারিতে উইকেট পান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে হ্যারি (৫) অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা করে আউট হন। হ্যারি সামনের পায়ে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাট চালান। বল ব্যাটে লেগে তা স্টাম্পের দিকে ছোটে। আইরিশ ব্যাটার বিপদ টের পেয়ে তাড়াতাড়ি পা দিয়ে বলটা সরাতে গিয়েও পারেননি। বল স্টাম্পে আঘাত করে। মুস্তাফিজ ওই ওভারে মাত্র এক রান দেন। তাতে পাওয়ার প্লে শেষে আয়ারল্যান্ড করেছে ২ উইকেটে ৫১ রান। ভালো শুরুর পরও মিডল অর্ডার ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ পায়নি আয়ারল্যান্ড। পল স্টার্লিং এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও আরেক প্রান্তে ছিল ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল। লরকান টাকার-কুর্তিস ক্যাম্পাররা কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। শেষদিকে জজ ডকরেল ও গ্যারেথ ডেলানি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে দুজনই থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ডেলানি করেছেন ১০ রান, আর ডকরেলের ব্যাট থেকে এসেছে ১৯ রান।
‘ফাইনাল’ ম্যাচে সরল ভাবনায় বাংলাদেশ

‘ফাইনাল’ ম্যাচে সরল ভাবনায় বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের মিশনে বাংলাদেশ। ১-১ সমতায় থাকা সিরিজটির শেষ ম্যাচ আগামীকাল চট্টগ্রামে দুপুর ২টায় শুরু হবে। বিশ্বকাপের আগে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর লম্বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরতি। মাঝে ক্রিকেটাররা খেলবেন বিপিএল। বছরের শেষ ম্যাচ, শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ কি ভাবছেন ক্রিকেটাররা? ড্রেসিংরুমেই বা কি চলছে? জানতে চাওয়া হয়েছিল দলের কোচ শন টেইটের কাছে। পেস বোলিং কোচ জানালেন, স্রেফ ম্যাচটা জিতে সিরিজ নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে টেইট বলেছেন, “আমার মনে হয় আমাদের চিন্তাভাবনাকে খুব বেশি জটিল করার প্রয়োজন আছে। আমার মনে হয় আমাদের শুধু ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এবং খেলা জিততে হবে। যখনই আপনি একটি ম্যাচ জেতেন আপনি তা থেকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন। আমরা যা করতে পারি তা হল, আমাদের শেষ জেতা ম্যাচের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ভালো খেলা এবং সেটাকে আগামীকালের ম্যাচে কাজে লাগানো। আশা করি, আমরা জিতব। যদি আমরা জয় নিশ্চিত করতে পারি, তবে বিরতির আগে এটাই আমাদের জন্য সেরা প্রাপ্তি হবে। সুতরাং, আমার মনে হয় না আমাদের চিন্তাভাবনাকে খুব বেশি জটিল করার দরকার আছে।’’ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সহজেই বাংলাদেশ সিরিজ জিতবে এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। আয়ারল্যান্ডর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩৯ রানে হারায়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন যুদ্ধ করে ৪ উইকেটে জয় পায়। চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচটি লড়াই হবে এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। টেইট আইরিশ শক্তিকে বেশ সমীহ করছেন। তবে তার কাছে নিজেদের ভালো ক্রিকেট খেলা, প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করার গুরুত্ব অনেক, ‘‘সত্যি বলতে, প্রতিপক্ষ কে তা বড় কথা নয়। আমরা আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই খেলি না কেন, আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের শুধু ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। ভালো দিক হলো, আমরা আগামীকাল আরেকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, যেখানে আমরা আবারও ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করতে পারব এবং এটাই আমাদের কাম্য। যদিও আয়ারল্যান্ড কিছু ভালো ক্রিকেট খেলেছে, তারা কী করছে তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কীভাবে খেলছি। আমাদের কাল মাঠে গিয়ে ভালো খেলতে হবে। এটাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট; এখানে ভালো পারফর্ম করার প্রত্যাশা থাকে।”
বিশ্বকাপের আগে জয়ের মানসিকতাই মূল লক্ষ্য: শন টেইট

বিশ্বকাপের আগে জয়ের মানসিকতাই মূল লক্ষ্য: শন টেইট টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলিং কোচ শন টেইট। তার মতে, প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ের মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়াটাই মূল লক্ষ্য। রোববার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে টেইট দলের পরিকল্পনা ও পেসারদের নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। শেষ ম্যাচ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে টেইট বলেন, ‘বিষয়টি খুব জটিল করে দেখতে চাই না। আমরা ভালো খেলে ম্যাচটি জিততে চাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জয় সব সময়ই আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। গত ম্যাচের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে কালও (রোববার) আমরা জিততে চাই।’ আয়ারল্যান্ডের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আয়ারল্যান্ড বেশ ভালো ও গোছানো দল। টি-টোয়েন্টিতে তারা কঠিন প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আমরা এমন চ্যালেঞ্জই চেয়েছিলাম, যা আমাদের প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে।’ বাংলাদেশের বর্তমান পেস অ্যাটাক নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। দেশে এখন মানসম্পন্ন পেসারের সংখ্যা বাড়ায় দলে সুযোগ পাওয়ার প্রতিযোগিতা বেড়েছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক। টেইট বলেন, ‘সম্ভবত বাংলাদেশের ক্রিকেটে এবারই প্রথম এতজন হাই কোয়ালিটি পেসার থেকে আমাদের সেরাটা বেছে নিতে হচ্ছে। সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে, আর প্রত্যেক বোলার জানে প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র।’ তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তাসকিন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন ভালো লিডার। তার সাথে আমার নিয়মিত কথা হয়। অন্যদিকে মোস্তাফিজ অভিজ্ঞতায় ভরপুর এবং বিশ্বমানের। সে নিজের শক্তির জায়গাটা ভালো চেনে, তাই সব জায়গাতেই তার কদর রয়েছে।’
দ্বিতীয় ম্যাচে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

দ্বিতীয় ম্যাচে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে টসে জিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ফিল্ডিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে টসে হেরেও সেই ফিল্ডিংই পেয়েছেন লিটন দাসরা। এদিকে দলে তিন পরিবর্তন নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে খেলা জাকের আলী, রিশাদ হোসেন ও শরীফুল ইসলাম নেই আজকের স্কোয়াডে। তাদের বদলে আজ টাইগারদের হয়ে নামছেন নুরুল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান। বিপরীতে আয়ারল্যান্ড দলে এসেছে একটি পরিবর্তন। গত ম্যাচে খেলা কার্টিস ক্যাম্ফারের জায়গায় খেলবেন বেন কালিজ। বাংলাদেশ দল–লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, নুরুল হাসান, পারভেজ হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ ও তানজিম হাসান। আয়ারল্যান্ড দল-পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), টিম টেক্টর, হ্যারি টেক্টর, লোরকান টাকার, বেন কালিজ, জর্জ ডকরেল, গ্যারেথ ডেলানি, মার্ক অ্যাডাইর, ব্যারি ম্যাকার্থি, ম্যাথু হামফ্রিস ও জশ লিটল।
টেস্ট সিরিজের ১ম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

টেস্ট সিরিজের ১ম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে রঙিন পারফরম্যান্সের পর এবার টাইগারদের সামনে সাদা বলের চ্যালেঞ্জ। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। আজ চট্টগ্রামের শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। ম্যাচটি শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ টেস্ট সিরিজে আয়ারল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে রঙিন পারফরম্যান্সের পর এবার টাইগারদের সামনে সাদা বলের চ্যালেঞ্জ। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আজ মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। আজ চট্টগ্রামের শহীদ ফ্লাইট লেফট্যানেন্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়। বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে যথারীতি তানজিদ হাসান তামিম এবং সাইফ হাসানকে দেখা যাবে। তিন নম্বরে লিটন দাস, চার নম্বরে দেখা যেতে পারে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে। পাঁচে জাকের আলি অনিককে খেলানো হতে পারে। স্পিন নির্ভর একাদশ গড়তে পারে বাংলাদেশ। একাদশে দেখা যেতে পারে নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেনকে। দুই দলের সম্ভাব্য একাদশ : বাংলাদেশ : তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জাকের আলী অনিক, নুরুল হাসান সোহান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান। আয়ারল্যান্ড : পল স্টার্লিং (অধিনায়ক), হ্যারি টেক্টর, গ্যারেথ ডিলানি, লরকান টাকার (উইকেটরক্ষক), কার্টিস ক্যাম্ফার, জর্জ ডকরেল, ম্যাথু হামফ্রেস, মার্ক অ্যাডায়ার, জশ লিটল, ব্যারি ম্যাককার্থি, ক্রেইগ ইয়ং।