ভারতের জন্য সহজ গ্রুপিং, ডেথ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ

ভারতের জন্য সহজ গ্রুপিং, ডেথ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ আগামী বছরের শুরুর দিকে বসতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপিং সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও আইসিসি আগামী ২৫ নভেম্বর মুম্বাইয়ে আনুষ্ঠানিক ড্র ও গ্রুপিং প্রকাশ করবে। তবে প্রকাশিত গ্রুপিংয়ে দেখা যাচ্ছে- ভারত ও শ্রীলঙ্কা; দুই সহ-আয়োজক দল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের গ্রুপিং পেয়েছে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারতকে রাখা হয়েছে তুলনামূলক সহজ গ্রুপে। পাকিস্তানও চাইলে একই দাবি করতে পারে। তবে শ্রীলঙ্কা নিজেদের ভাগ্যকে এতটা সহায়ক মনে নাও করতে পারে। একই কথা বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যও প্রযোজ্য। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কাকে পড়তে হয়েছে তিনটি শক্তিশালী টেস্ট খেলুড়ে দেশ অস্ট্রেলিয়া (২), জিম্বাবুয়ে (১১) ও আয়ারল্যান্ডের (১২) গ্রুপে। এর বাইরে আছে ওমান (২০)। সব মিলিয়ে এটি একেবারেই ‘গ্রুপ অব ডেথ’ বলা যায়। অন্যদিকে, ভারতের গ্রুপটি বেশ সহজ। এখানে টেস্ট খেলুড়ে দল কেবল ভারত ও পাকিস্তান (৭)। বাকি তিন দল হলো- নেদারল্যান্ডস (১৩), নামিবিয়া (১৫) ও যুক্তরাষ্ট্র (১৮)। গ্রুপ পর্ব থেকে দুটি দল সুপার এইটে উঠবে। সে হিসেবে ভারত-পাকিস্তানের যাত্রা খুব বেশি জটিল হওয়ার কথা নয়। তাদের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইটি হবে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে ১৫ ফেব্রুয়ারি। তবে এই গ্রুপেও সতর্কবার্তা থাকছে। কারণ, ২০২৪ আসরে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই হেরে গিয়েছিল। মোট চারটি গ্রুপে পাঁচটি করে দল রয়েছে। আর কয়েকটি গ্রুপেও দেখা যাচ্ছে কঠিন পরিস্থিতি। উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ড (৩) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৬); দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন একই গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশের (৯) সঙ্গে। উপমহাদেশে বাংলাদেশ যে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ, তা সবাই জানে। এই গ্রুপে আরও আছে নেপাল (১৭) এবং ২৮তম স্থানে থাকা ইতালি। পরের রাউন্ডে যেতে হলে বাংলাদেশকে ইংল্যান্ড কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতেই হবে। রানার্স-আপ দক্ষিণ আফ্রিকাও (৫) কঠিন পরীক্ষার মুখে। পরের রাউন্ডে উঠতে হলে তাদের অন্তত নিউ জিল্যান্ড (৪) বা আফগানিস্তান (১০) যে কোনো একটিকে হারিয়ে এগোতে হতে পারে। কারণ, গ্রুপের বাকি দুই দল সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৬) ও কানাডা (১৮)। ভারতের ম্যাচসূচি ও ভেন্যু: ভারত তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস। পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভারত–পাকিস্তান হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোয়। এছাড়া ভারতের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাই, দিল্লি ও আহমেদাবাদ বরাদ্দ করা আছে। শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ হবে কলম্বোর দুই আন্তর্জাতিক ভেন্যু ছাড়াও ক্যান্ডিতে। ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত আছে আহমেদাবাদ। তবে পাকিস্তান ফাইনালে উঠলে পরিবর্তন আসতে পারে। সেমিফাইনালের ম্যাচগুলো আয়োজনের দৌড়ে আছে মুম্বাই ও কলকাতা। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় সেমিফাইনাল ও ফাইনালের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে শর্টলিস্ট করা হয়েছে কলম্বোকে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল উঠবে সুপার এইটে। সেখান থেকে শীর্ষ চার দল যাবে সেমিফাইনালে। এরপর হবে ফাইনাল।
নারী আইপিএল নিলামে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার

নারী আইপিএল নিলামে বাংলাদেশের ৩ ক্রিকেটার আগামী ২৭ নভেম্বর ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে নারী আইপিএলের মেগা নিলাম। ওই নিলামের জন্য বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছেন। সবশেষ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বল করে আলোচনায় আসেন পেসার মারুফা আক্তার। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত দুই ডেলিভারিতে পাকিস্তানের ব্যাটার ওমাইমা সোহেল ও সিদরা আমিনকে আউট করেছিলেন তিনি। তার সেই ইনসুইং ডেলিভারিতে ওমাইমাকে বোল্ড করার ভিডিও ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়। সে সময় মারুফাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। সহজাত ইনসুইং ডেলিভারিতে সবার নজর কাড়া মারুফা নাম লিখিয়েছেন নারী আইপিএলে। মারুফার পাশাপাশি আইপিএলে নাম নিবন্ধন করিয়েছেন স্বর্ণা আক্তার। বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ১১৬ রান করার পাশাপাশি বোলিংয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া নাম দিয়েছেন রাবেয়া খানও। ৭ ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ৮৭ রান করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটারেরই ভিত্তিমূল্য ৩০ লাখ রুপি। আইপিএলের মেগা নিলামের জন্য ২২৭ ক্রিকেটার নিবন্ধন করেছেন। যাদের মধ্যে ৮৩ জন বিদেশি ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে মাত্র ২৩ জন বিদেশি ক্রিকেটার মেগা নিলাম থেকে দল পাবেন।
ভারতের বিপক্ষে বড় পুঁজি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের

ভারতের বিপক্ষে বড় পুঁজি বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হাবিবুর রহমান সোহান ও জিশান আলমের ব্যাটে ভালো শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ব্যর্থ হয় মিডল অর্ডার। তবে একপ্রান্তে হাল ধরেন সোহান। শেষ দিকে মেহরাবের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে ১৯৪ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ‘এ’ দল। আজ কাতারের দোহায় রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত। ওপেনিং জুটিতে ৪৩ রান যোগ করেন সোহান-জিশান। ১৪ বলে ২৬ রান করে আউট হন জিশান। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। তবে অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি তুলে নেন সোহান। ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৬ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। সোহানের বিদায়ের পর শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন এস এম মেহরাব। ৬ ছক্কা ও ১ চারে ১৮ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
৩৬৭ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ বাংলাদেশের

৩৬৭ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ বাংলাদেশের ঢাকা টেস্টে দাপট ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রান করে টাইগাররা। জবাবে ২৬৫ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। এতে ২১১ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু করেছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার মাহমুদুল জয় ও সাদমান ইসলামের ফিফটিতে ৩৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করে তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। এতেই ৩৬৭ রানের বড় লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।
অ্যাশেজের প্রথম দিনেই ১৯ উইকেট, পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া

অ্যাশেজের প্রথম দিনেই ১৯ উইকেট, পিছিয়ে অস্ট্রেলিয়া শুরু হয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহ্যের লড়াই অ্যাশেজ টেস্ট সিরিজ। পার্থে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই দাপট দেখিয়েছে দুই দলের বোলাররা। এক দিনেই পড়েছে ১৯ উইকেট। প্রথমে মিচেল স্টার্কের তাণ্ডবের পর বল হাতে ঝড় তুলেছেন ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস। ক্ষ্যাপাটে এমন দিন শেষে ১ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৯ রানে পিছিয়ে অজিরা। আজ পার্থে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মিচেল স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। একাই ৭ উইকেট তুলে নিয়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইন ধসিয়ে দেন এই অজি পেসার। ১২ ওভার ৫ বলে ৫৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেন স্টার্ক। দলীয় ৭৬ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া আর্চার ও কার্স নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
আইরিশদের ৫ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ

আইরিশদের ৫ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করল বাংলাদেশ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে রীতিমতো সংগ্রাম করেছে আয়ারল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৪৭৬ রানের জবাবে দিন শেষে আইরিশদের সংগ্রহ ৩৮ ওভারে ৫ উইকেটে মাত্র ৯৮। তারা এখনও পিছিয়ে আছে ৩৭৮ রানে। দিনের শুরুতে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংস ৪৭৬ রানে শেষ করে। ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে টাইগাররা ব্যাট হাতে আধিপত্য দেখিয়েছে। মুশফিকুর রহিম শততম টেস্টে পেয়েছেন শতকের দেখা। লিটন দাসও হাঁকিয়েছেন সেঞ্চুরি। মুমিনুল হক পেয়েছেন ফিফটির দেখা। তবে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। তৃতীয় দিনের শুরুতেই আয়ারল্যান্ডের প্রধান লক্ষ্য হবে ফলো-অন এড়ানো। এর জন্য এখনো তাদের সামনে প্রয়োজন বিশাল সংগ্রহ। হাতে বাকি মাত্র ৫ উইকেট। অন্যদিকে, বাংলাদেশ চাইবে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে আরও বড় লিড নিয়ে চালকের আসনেই থাকতে।
পেছাল বিপিএল নিলাম, ব্যাংক গ্যারান্টি পায়নি বিসিবি

পেছাল বিপিএল নিলাম, ব্যাংক গ্যারান্টি পায়নি বিসিবি প্রথমে ১৭ নভেম্বর। এরপর ২৩ নভেম্বর। এবার ৩০ নভেম্বর। সাত দিন বাড়িয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নিলাম পুনর্নিধারণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যদি ৩০ নভেম্বর বিসিবির নিলাম হয় তাহলে ১৮-১৯ দিন পরই বিপিএল শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত খবর, বিপিএল না-ও আয়োজন করতে পারে বিসিবি। আয়োজন এবং দ্বিতীয় দফায় নিলাম পেছানোর কারণ এখন পর্যন্ত পাঁচ ফ্র্যাঞ্চাইজি কারোর কাছ থেকেই ব্যাংক গ্যারান্টি পায়নি বিসিবি। বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিদের পেশাদারিত্ব নিয়ে বারবারই প্রশ্ন তোলা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। নতুন করে পাঁচ বছরের জন্য দল নেওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে নিয়েও বিপাকে আয়োজকরা। নতুন করে দল পেতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার কথা ছিল। দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর পর গতকাল ছিল ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার শেষ দিন। অথচ কেউই এখন পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়নি। যদিও আরেক সূত্রের দাবি, দুটি দল আংশিক ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছ থেকে সাড়া না পাওয়াতে নিলামের সময় বাড়িয়েছে বিসিবি। তবে নিলামের আগে প্রস্তুতি নিয়ে ভালো খবর না পাওয়ায় বিপিএল আয়োজনের ইচ্ছা হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছে বিসিবি। শেষ পর্যন্ত যদি বিপিএল হয়-ও তাহলে বিসিবি একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা নিতে পারে।
‘সেঞ্চুরিতে’ সেঞ্চুরির ফুল ফুটিয়ে মুমিনুলের পাশে মুশফিকুর

‘সেঞ্চুরিতে’ সেঞ্চুরির ফুল ফুটিয়ে মুমিনুলের পাশে মুশফিকুর ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাড়ে নয়টা থেকেই মিরপুর শের-ই-বাংলার সব ক্যামেরা তাক করা মুশফিকুর রহিমের ওপর। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছিলেন। সাত সকালেই মুশফিকুর ছুঁয়ে ফেলবেন সেঞ্চুরি এমনটাই আশা করা হচ্ছিল। সেটাও বিশেষ এক উপলক্ষে। মুশফিকুর রহিম নিজের সেঞ্চুরি ম্যাচে করবেন সেঞ্চুরি। টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাসে এর আগে কেবল দশ ব্যাটসম্যানই নিজেদের সেঞ্চুরি ম্যাচে তিন অঙ্ক ছুঁতে পেরেছিলেন। রিকি পন্টিং একটু আলাদা। নিজের সেঞ্চুরির ম্যাচে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি তার। নিজেকে এবং পুরো বাংলাদেশকে অপেক্ষায় রাখলেন না মুশফিকুর। দ্বিতীয় দিনের নবম এবং নিজের খেলা অষ্টম বলে ১ রান নিয়ে ল্যান্ডমার্কে পৌঁছে যান। সেঞ্চুরির টেস্টে সেঞ্চুরি রান ক্রিকেট ইতিহাসের একাদশতম ক্রিকেটার মুশফিকুর। ইতিহাসের অক্ষয় কালিতে নিজের নাম লিখে ফেললেন এমআরফিফটিন। ১৯৬৮ সালে যেই যাত্রা শুরু করেছিলে কলিন কাউড্রে। এরপর জাভেদ মিয়াদাঁদ, গর্ডন গ্রিনিজ, ইনজামাম, আমলা, রুট সহ ওয়ার্নারের নাম আছে। এলিট এই ক্লাবের নবীনতম সদস্য মুশফিকুর। পুরো রাত যেই অপেক্ষায় ছিলেন মু্শফিকুর সেই ১ রান নিশ্চিত করেই ভো দৌড়। মাঝ ক্রিজে দুই হাত উপরে তুলে উদযাপন শুরু হয়ে যায় তার। রান পূর্ণ করার পর একটু রয়েশয়েই উদযাপন করেন। এরপর হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে এরপর সিজদাতে নিজেকে সপে দেন। সতীর্থ লিটনকে জড়িয়ে ধরার আগে গ্যালারিতে ব্যাট নাড়িয়ে মুশফিকুর সমর্থনদের জবাব দেন। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি পেলেন মুশফিকুর। দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান করা মুশফিকুর এই সেঞ্চুরিতে মুমিনুল হককে ছুঁয়ে ফেললেন। মুমিনুল ১৩ সেঞ্চুরি নিয়ে আগে শীর্ষে ছিলেন। সেঞ্চুরি ম্যাচে সেঞ্চুরির ল্যান্ডমার্ক ছুঁয়ে মুশফিকুর এখন মুমিনুলের পাশে। তবে সেঞ্চুরির পর ইনিংসটি আর লম্বা করতে পারেননি। বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু হামফ্রিজের ছোবল দেওয়া ডেলিভারিতে ব্যাট সরাতে পারেননি। ২১৪ বলে ১০৬ রানে থেমে যায় তার ইনিংস।
মুশফিক-লিটনের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৭৬ রানে থামল বাংলাদেশ

মুশফিক-লিটনের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৭৬ রানে থামল বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৭৬ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে আইরিশ অফ স্পিনার অ্যান্ডি ম্যাকব্রিনের ঘূর্ণিতে অলআউট হওয়ার আগে বড় স্কোরের শক্ত ভিত পায় স্বাগতিকরা। প্রথম দিনের সাবধানী শুরুর পর দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ইনিংসের মূল চালিকাশক্তি ছিল মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ব্যাট। বিশেষ করে নিজের শততম টেস্টে ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। লিটন-মুশফিকের দাপট দিনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী মেলে ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ২১৪ বল মোকাবিলা করে ১০৬ রানের ধ্রুপদী এক ইনিংস খেলেন মুশফিক। ধৈর্য, সঠিক শট নির্বাচন এবং অভিজ্ঞতার মিশেলে সাজানো তার এই ইনিংসটি থামে হাম্প্রিজের বলে বালবিরনির হাতে ক্যাচ দিয়ে। আউট হওয়ার আগে অবশ্য তিনি গড়েছেন ইতিহাস—বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। অন্যদিকে, উইকেটে শান্ত অথচ আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন লিটন দাস। অসাধারণ টাইমিংয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে ১৯২ বলে ১২৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। টপ ও মিডল অর্ডারের অবদান এর আগে, ইনিংসের শুরুতে দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৩৪) ও সাদমান ইসলাম (৩৫) ভালো শুরু এনে দিলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। তবে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর দলের হাল ধরেন মুমিনুল হক। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ১২৮ বলে ৬৩ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ২০২ রানের মাথায় দলীয় স্কোরে তিনি আউট হন। লোয়ার অর্ডারের লড়াই ও মিরাজের আক্ষেপ লিটন-মুশফিকের বিদায়ের পর লোয়ার অর্ডারে দলের রান বাড়ানোর দায়িত্ব নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরিণত ব্যাটিংয়ে এগোতে থাকলেও ফিফটি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে গ্রাহাম হিউমের (হোয়ে) শিকার হন তিনি (৪৭)। শেষ দিকে ইবাদত হোসেনের ১৮ ও হাসান মুরাদের ১১ রানের সুবাদে ৪৭৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। ম্যাকব্রিনের ৬ উইকেট বাংলাদেশের রান উৎসবেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন আয়ারল্যান্ডের অ্যান্ডি ম্যাকব্রিন। একাই ৬ উইকেট শিকার করে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুড়িয়ে দেন। এছাড়া আইরিশদের হয়ে হাম্প্রিজ ও হিউম (হোয়ে) প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট লাভ করেন।
শততম টেস্টে ফিফটি মুশফিকের

শততম টেস্টে ফিফটি মুশফিকের মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারে আজ বিশেষ এক দিন। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০তম টেস্ট খেলতে নেমেছেন তিনি। আর এমন দিনে এরই মধ্যে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ব্যাট হাতে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৯৭ রান। মুশফিক ৫৩ আর মুমিনুল ৬২ রানে অপরাজিত আছেন। এর আগে শেরে বাংলায় টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আরও একবার ওপেনিংয়ে ভালো শুরু করেন সাদমান ইসলাম আর মাহমুদুল হাসান জয়। সিলেটে আগের টেস্টে ওপেনিং জুটিতে ১৬৮ রান তুলেছিলেন দুইজন। এবারও ওপেনিং জুটিতে ভরসা দিয়েছেন জয়-সাদমান। টেস্টের প্রথম দিনে প্রথম ঘণ্টা দারুণভাবে পার করেন তারা। জুটিতে পঞ্চাশও পার করেন। তবে ঘণ্টা পেরোতেই এই জুটিটা ভেঙে দেন অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন। সাদমানের প্যাডে বল লাগলে শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে জেতে আয়ারল্যান্ড। ৩৫ করে ফেরেন সাদমান। ৫১ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ম্যাকব্রাইনের দ্বিতীয় শিকার হন আরেক ওপেনার জয়। তিনিও সেট হয়ে আউট হন। মিডঅফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৪ রান করে। এরপর বেশি দেরি করেননি নাজমুল হোসেন শান্তও। বাংলাদেশ অধিনায়ক ম্যাকব্রাইনকে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। পরের বলেই ব্যাট-প্যাডের বিশাল ফাঁক গলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৮ রান করে। একশর আগে (৯৫ রানে) ৩ উইকেট হারানোর পর মুশফিকুর রহিম আর মুমিনুল হকের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৩ উইকেটে ১৯২ রান নিয়ে প্রথম দিনের চা-বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। বিরতির পরই ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। মুমিনুল আগেই পেয়েছেন হাফসেঞ্চুরি।