আইপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের ৭ ক্রিকেটার, নেই সাকিব

আইপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের ৭ ক্রিকেটার, নেই সাকিব আইপিএল-২০২৬ এর মিনি নিলামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। যেখানে জায়গা পাওয়া ৩৫০ ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন ২৪০ জন ভারতীয় এবং ১১০ জন বিদেশি তারকা। যাদের মধ্যে আছেন কুইন্টন ডি কক ও স্টিভ স্মিথের মতো বিশ্বসেরা ক্রিকেটাররাও। আসন্ন মৌসুমের ১০ ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য মোট শূন্যপদ ৭৭টি। আর সেই আসনগুলোর দখল নিতে হবে এই তারকাদেরই। অবশ্য ৩৫০ জনের চূড়ান্ত তালিকায় নেই সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে রয়েছেন আরও ৭ বাংলাদেশি। তার মধ্যে ২ কোটি রূপি ভিত্তিমূল্যের তালিকায় আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তাসকিন আহমেদ, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, নাহিদ রানা ও মো. শরীফুল ইসলাম আছেন ৭৫ লাখ রূপি ভিত্তমূল্যের তালিকায়। আর ৩০ লাখ রূপি ভিত্তিমূল্যের তালিকায় আছেন রাকিবুল হাসান। এবারের নিলামের জন্য শুরুতে নিবন্ধন করেছিলেন ১,৩৯০ জন ক্রিকেটার। সেখান থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে তালিকা নামানো হয় ১,০০৫ জনে। শেষ পর্যন্ত কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ৩৫০ জনকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। যারা লড়বেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি লিগের ১৯তম আসরের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার-ব্যাটার কুইন্টন ডি কক প্রথমে নিবন্ধন না করলেও পরে যুক্ত হয়েছেন তালিকায়। সদ্য ওয়ানডে থেকে অবসর ভেঙে ফিরেছেন তিনি। তার ভিত্তিমূল্য রাখা হয়েছে ১ কোটি রুপি। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার স্টিভ স্মিথ, যিনি শেষ আইপিএল খেলেছিলেন ২০২১ সালে, তিনিও তালিকায় স্থান পেয়েছেন ২ কোটি রুপি ভিত্তিমূল্যে। ভারতের দুই তরুণ প্রতিভা পৃথ্বী শ ও সারফরাজ খান নিলামের প্রথম সেটেই আছেন। দু’জনেই নিজের ভিত্তিমূল্য রেখেছেন ৭৫ লাখ রুপি। আইপিএলের প্রকাশিত তালিকায় আরও আছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন ও জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক, নিউ জিল্যান্ড ও চেন্নাই সুপার কিংসের সাবেক ওপেনার ডেভন কনওয়ে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী ব্যাটার ডেভিড মিলার। এদের প্রত্যেকের ভিত্তিমূল্যই ২ কোটি রুপি।

মোস্তাফিজের ফের ২ উইকেট, এবার জিতল দল

মোস্তাফিজের ফের ২ উইকেট, এবার জিতল দল দুবাইয়ে আইএল টি-টোয়েন্টিতে নিজের অভিষেক জয়ে রাঙাতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। বল হাতে নিজে ২ উইকেট নিলেও দুবাই ক‌্যাপিটালস জিততে পারেনি। তবে জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হয়নি বাংলাদেশের পেসারের।  নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় ম‌্যাচে বড় জয় পেয়েছে তারা। রোববার আবুধাবি নাইট রাইডার্সকে ৮৩ রানের বিশাল ব‌্যবধানে হারিয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানদের দুবাই ক‌্যাপিটালস। আগে ব‌্যাটিং করে দুবাই ৪ উইকেটে ১৮৬ রান করে। জবাব দিতে নেমে আবুধাবি নাইট রাইডার্স গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৩ রানে। আসরের প্রথম জয়ের সঙ্গে কিছু রান রেটও বাড়িয়ে নিতে পেরেছে দুবাই। যা সম্ভব হয়েছে মোস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে। বাঁহাতি পেসার জয় পাওয়া ম‌্যাচেও পেয়েছেন ২ উইকেট। ৩ ওভারে ২২ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। পাওয়ার প্লে’তে দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে উন্মুক্ত চাঁদকে ফেরান মোস্তাফিজ। এরপর আক্রমণাত্মক ব‌্যাটসম‌্যান ফিল সল্টের উইকেট নেন। সল্টের ব‌্যাটেই দুই চার ও এক ছক্কা হজম করেন তিনি। পরে প্রতিশোধ নিয়ে শেষ হাসিটা তিনিই হাসেন।  দুবাইয়ের সেরা বোলার ছিলেন ওয়াকার সালামখেইল। ৩.৩ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট নেন। তবে তাদের জয়ের নায়ক রোভমান পাওয়েল। প্রথম ইনিংসে তার ঝড়ো ব‌্যাটিংয়েই দল জিতেছে। ৫২ বলে ৯৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই হার্ডহিটার। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংস। এছাড়া জর্ডান কক্স ৩৬ বলে ৫২ রান করেন।

দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নেবেন সাকিব

দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নেবেন সাকিব ঘরের মাঠে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির পূর্ণাঙ্গ একটি সিরিজ খেলে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। সাকিব ঘোষণা দিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এখনও কোনো ফরম‌্যাট থেকে অবসর নেননি। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। দেশে ফিরে আবার দেশের বাইরে যাওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু নীতিনির্ধারকদের থেকে সাড়া পাননি। ‘হুমকি’ থাকায় তাকে নিয়ে ঝুঁকিও নেননি তারা। কানপুরে সাকিব টি-টোয়েন্টি থেকে সরে যাওয়ার এবং ভবিষ‌্যতে প্রয়োজন হলে ফেরার কথা বলেছিলেন। ২০২৫ সালে চ‌্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলে ওয়ানডে ছাড়ার ইচ্ছা ছিল তার। সেটাও হয়নি। আর টেস্টেও সুযোগ হয়নি। ফলে মাঠ থেকে অবসর নেওয়ার বাসনা পূরণ হয়নি বিশ্বের অন‌্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিবের। তবে এখনও সেই ইচ্ছাটা পুষে রেখেছেন তিনি। । রোববার প্রকাশিত ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্ট-এ নিজের ইচ্ছা কথা বলেছেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার, “আনুষ্ঠানিকভাবে সব সংস্করণ থেকে অবসর নেইনি আমি। এই প্রথম এটি প্রকাশ করছি। আমার পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে ওয়ানডে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নেওয়া।” “আমি বলতে চাই, একটি সিরিজে সব সংস্করণ থেকে অবসর নিতে পারি। এটি টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু করে ওয়ানডে ও টেস্ট, অথবা টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি-এভাবে হতে পারে। এর যেভাবেই হোক, আমি খুশি; কিন্তু আমি একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নিতে চাই। এটাই আমি চাই।” – যোগ করেন তিনি।

নতুন ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া

নতুন ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘ বিরতির পর আবারও টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের পর আর কখনও অজিদের মাটিতে সাদা পোশাকের ম্যাচ পায়নি টাইগাররা। প্রায় ২৩ বছর পর ২০২৬ সালের আগস্টে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। তবে এবার তাদের অপেক্ষা করতে হতে পারে একেবারেই নতুন এক ভেন্যুর জন্য। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ (সিএ) এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু চূড়ান্ত না করলেও অভ্যন্তরীণ আলোচনা থেকে জানা গেছে, কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাইয়ে অবস্থিত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনাকে বিবেচনা করা হচ্ছে। নতুন এই ভেন্যুটি হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার ১২তম টেস্ট স্টেডিয়াম। সেখানেই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সিএ। স্টেডিয়ামটিতে ১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার গ্র্যান্ডস্ট্যান্ড, আধুনিক সম্প্রচার সুবিধা এবং উন্নত ট্রেনিং কমপ্লেক্স নির্মাণে রাজ্য সরকার প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ইতোমধ্যে পুরুষ দলের দুটি ওয়ানডে এবং নারী দলের একাধিক ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতাও রয়েছে মাঠটির। আগস্টে সিরিজ হওয়ায় এটি অস্ট্রেলিয়ার মূল ক্রিকেট মৌসুমের আগের সময়। ফলে সিডনি, মেলবোর্ন বা ব্রিসবেনের মতো প্রধান ভেন্যুগুলো সে সময় অন্য ব্যস্ততা ও প্রস্তুতির কারণে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সারাবছরই ক্রিকেট উপযোগী দেশটির উত্তরাঞ্চলের ভেন্যুগুলোকে বিকল্প হিসেবে দেখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার পাশাপাশি কেয়ার্নস, ডারউইন ও টাউনসভিলও আলোচনায় আছে। ডারউইনের ক্রিকেট নর্দার্ন টেরিটরির প্রধান নির্বাহী গ্যাভিন ডোভি ইতিমধ্যেই আশা প্রকাশ করেছেন যে অন্তত একটি ম্যাচ তাদের এখানেও হতে পারে। কেয়ার্নস ও ডারউইন দুটো স্থানেই আগে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় দুই যুগ। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে, তবে নতুন এক অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে। নতুন ভেন্যু, নতুন পরিবেশ সব মিলিয়ে অজিদের মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতি যাত্রা হতে পারে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।

ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে এ্যাশেজে ২–০তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া

ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে এ্যাশেজে ২–০তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত দিবা–রাত্রির দ্বিতীয় এ্যাশেজ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে সিরিজে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে স্টিভ স্মিথ গাস অ্যাটকিনসনের ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া ২ উইকেট হারায়। এর আগে পার্থে দুই দিনের মধ্যেই ইংল্যান্ডকে বিধ্বস্ত করে সিরিজ দুর্দান্তভাবে শুরু করেছিল অজিরা। ফলে এডিলেড, মেলবোর্ন ও সিডনির বাকি তিন টেস্টেও অস্ট্রেলিয়াই বড় ফেবারিট। ম্যাচ নিয়ে স্মিথের প্রতিক্রিয়া ম্যাচ শেষে অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বলেন,“দারুণ একটি দিন ছিল। প্রথম দুই দিন কিছুটা লড়াই হয়েছিল। তবে লাইটের আলোতে নতুন বল হাতে নেওয়ার মুহূর্ত থেকেই ম্যাচ আমাদের দিকে চলে আসে। গোলাপি বলে খেলা কঠিন—প্রতি মুহূর্তে বলের আচরণ বদলায়, সেটির সঙ্গে মানিয়েই খেলতে হয়।” ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ব্যর্থতা ও ফিল্ডিং দুর্বলতা ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম ইনিংসে জো রুট ও জ্যাক ক্রলি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে বেন স্টোকস ও উইল জ্যাকস ছাড়া কেউই টিকতে পারেননি। গ্যাবার বাউন্সি উইকেটে বেশ কয়েকজন ব্যাটার বাজে শট খেলে আউট হয়েছেন। ফিল্ডিংয়েও ভয়াবহ ব্যর্থ ইংল্যান্ড—প্রথম ইনিংসে ৫টি ক্যাচ মিস করে তারা। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া একটিও সুযোগ হাতছাড়া করেনি। বিশেষ করে জস ইংলিসের দুর্দান্ত রানআউটে স্টোকসকে ফেরানো ম্যাচের চিত্রই পাল্টে দেয়। স্টোকস ম্যাচ শেষে বলেন,“সম্পূর্ণ বিষয়ই হতাশার। ম্যাচটা অনেকটাই আমাদের হাতে ছিল—কিন্তু চাপ সামলাতে পারিনি।” অস্ট্রেলিয়ার ১৭৭ রানের লিড অস্ট্রেলিয়ার টেলএন্ডারদের দৃঢ়তায় প্রথম ইনিংসে দল তোলে ৫১১ রান, যা ইংল্যান্ডের ওপর ১৭৭ রানের লিড এনে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড ১২৮ রানে ৬ উইকেটে পড়ে আবারও বিপদে পড়ে। এই অবস্থায় স্টোকস–জ্যাকস জুটি ৯৬ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। স্টোকস ২২৯ বলে ৫০ জ্যাকস ১৮৩ বলে ৪১ দুজনকেই শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার মাইকেল নেসার। অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয় ৬৫ রানের টার্গেটে অজিরা দলীয় ৩৭ রানে ট্রাভিস হেড এবং চার রান পর মার্নাস লাবুশেনকে হারায়। স্মিথ ও জেক ওয়েদারাল্ড ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। স্মিথ অপরাজিত ২৩ ওয়েদারাল্ড অপরাজিত ১৭ ম্যাচ সেরা স্টার্ক দুই ইনিংসে মোট ৮ উইকেট শিকার করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিচেল স্টার্ক। পরবর্তী ম্যাচ এ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৭ ডিসেম্বর, এডিলেডে।

গিলকে খেলায় ফেরা নিয়ে সুখবর পেল ভারত

গিলকে খেলায় ফেরা নিয়ে সুখবর পেল ভারত ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক শুভমান গিল চোটমুক্ত হয়ে অবশেষে মাঠে ফিরতে প্রস্তুত। বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স (সিওই) শনিবার জানায়, ঘাড়ের ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা গিলকে খেলায় ফেরার জন্য মেডিক্যাল ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ সবুজ সংকেত দিয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই তাকে মাঠে দেখা যেতে পারে। কলকাতা টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ঘাড়ের ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে গিলকে দুই দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। ইনজেকশন নেওয়ার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি রিহ্যাবে যান এবং চলমান ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েন। তবে সিওই-এর কঠোর রিটার্ন টু প্লে (আরটিপি) প্রোটোকল অনুসরণ করে তিনি পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরে এসেছেন। সিওই থেকে দল ব্যবস্থাপনার স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন টিমকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, ‘শুভমান গিল সফলভাবে সব রিহ্যাব ধাপ সম্পন্ন করেছে এবং সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করেছে।’

আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তির কবলে ফখর জামান

আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে শাস্তির কবলে ফখর জামান গত মাসের শেষ দিকে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে জরিমানার কবলে পড়েছেন পাকিস্তানের বাঁ-হাতি ব্যাটার ফখর জামান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনাল ম্যাচে ‘আইসিসি কোড অব কনডাক্টের ২ দশমিক ৮ ধারা’ লঙ্ঘন করেছেন জামান। তারই শাস্তি হিসেবে জামানকে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা এবং একটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি। গতকাল এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। ফাইনালে পাকিস্তান ইনিংসের ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার পর মাঠে আম্পায়ারদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন জামান। জামানের শাস্তি নিশ্চিত করেছেন ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্বে থাকা রিয়ন কিং। ফখর জামান অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।  

পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ তিক্ততার স্বাদ নয়, এবার হাসিমুখেই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। ৬ বল হাতে রেখে পাকিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে মেয়েরা। কক্সবাজারের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত সংস্করণের দ্বিতীয়টিতে ৮১ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। তাড়া করতে নেমে দলীয় ৪ রানের মাথায় বিদায় নেন অধিনায়ক অরিত্রী মণ্ডল (২)। একে একে আরো তিন সতীর্থকে ড্রেসিংরুমের পথ ধরতে দেখলেন ওপেনার সুমাইয়া আক্তার। তাতে শঙ্কা জেগেছিল প্রথম ম্যাচের মতোই ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয় দেখবে কিনা বাংলাদেশ। তবে সেই শঙ্কা দূর করেন সুমাইয়া। দলীয় ৩৬ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখান তিনি। পঞ্চম উইকেটে ফারজানা ইয়াসমিনকে সঙ্গী করে ২৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ বের করে আনেন তিনি। জয় নিয়ে অবশ্য মাঠ ছাড়তে পারেননি সুমাইয়া-ইয়াসমিন। দুজনই দলীয় ৬৩ রানে বিদায় নেন। ইয়াসমিনের ১০ রানের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন সুমাইয়া। পরে আরো এক উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে ১৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছেন সাদিয়া আক্তার। পাকিস্তানের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন আলিশা মুক্তিয়ার ও মেমোনা খালিদ। এর আগে হাবিব ইসলাম পিংকির পেস তোপে ৮০ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তানের মেয়েরা। অধিনায়ক ইমান নাসেরকে আউট করে শুরুটা অতসী মজুমদার করলেও পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দেন পিংকি। ১৭ রান খরচ করে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান এই পেসার। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন উইকেটরক্ষক কমল খান। তৃতীয় ম্যাচ ৭ ডিসেম্বর, কক্সবাজারেই।

হোপের ব্যাটে শেষদিনে গড়াল ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট

হোপের ব্যাটে শেষদিনে গড়াল ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে জয় পেতে হলে ইতিহাসই নতুন করে লিখতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কারণ সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লক্ষ্যটা শুধু বড়ই নয়, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বড় রানতাড়ারও। চ্যালেঞ্জ মোট ৫৩১ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় অসম্ভবটাকে সম্ভব করার স্বপ্ন এখনো বেঁচে আছে। প্রথম ইনিংসে টসে জিতে নিউ জিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল ক্যারিবীয়রা। কিউইরা থেমেছে ২৩১ রানে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ভুল–ত্রুটিতে ১৬৭ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলে ৬৪ রানের লিড তোলে নিউ জিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে দারুণ আগ্রাসী ছিল ল্যাথামের দল। ৮ উইকেটে ৪৬৬ তুলে ইনিংস বন্ধ ঘোষণা করে তারা। বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন কেমার রোচ। মাত্র ৭৮ রানে পেয়েছেন ৫ উইকেট।  তারপরই শুরু হয় অসম্ভব এক যাত্রা। ৫৩১ রানের হিমালয়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও ধস নামতে দেননি শাই হোপ ও জাস্টিন গ্রিভস। চতুর্থ দিন শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১২। কঠিন পরিস্থিতিতেও ব্যাট হাতে লড়াইটা বাঁচিয়ে রেখেছেন এ দুজন। অপরাজিত হোপ খেলছেন ১৮৩ বলে ১১৬ রানের ঝলমলে সেঞ্চুরি। পাশে গ্রিভসের ব্যাটও সমান দৃঢ়- ১৪৩ বল থেকে ৫৫ রানের মূল্যবান ইনিংস। শেষ দিনে জিততে হলে দরকার আরও ৩১৯ রান, হাতে আছে ৬ উইকেট। টেস্টে রানতাড়া করে জয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই। ২০০৩ সালে ৪১৮ রান তাড়া করে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল ব্রায়ান লারার সেই দল। এবার সুযোগ আছে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে অবশ্য রানতাড়ার ইতিহাস আছে। গত বছরই এই মাঠে নিউ জিল্যান্ড ২৮৫ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল। তবে এবারকার লক্ষ্য তার প্রায় দ্বিগুণ। তাই চ্যালেঞ্জটাও মহাকাব্যিক। শেষ দিনের সকালই বলে দেবে- এই লড়াই শুধু প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ক্রিকেট ইতিহাসে জন্ম নেবে নতুন এক বিস্ময়।

দেশ পুনর্গঠনে ‘৩০ কোটি’ রুপি দিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট

দেশ পুনর্গঠনে ‘৩০ কোটি’ রুপি দিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট সাইক্লোন দিতওয়া’র তাণ্ডবে বিপর্যস্ত দেশকে পুনর্গঠনে সহায়তা করতে সরকার ঘোষিত ‘রিবিল্ডিং শ্রীলঙ্কা’ তহবিলে ৩০ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। এসএলসি সভাপতি শাম্মি সিলভা ও নির্বাহী কমিটির নির্দেশনায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বোর্ড জানায়, জাতীয়ভাবে মূল্যবান একটি খেলাধুলার অভিভাবক সংস্থা হিসেবে দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এটি। এক বিবৃতিতে এসএলসি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিধ্বস্ত অঞ্চলে জরুরি জনসেবামূলক কাঠামো পুনরুদ্ধারে সরকারের উদ্যোগকে সহায়তা করতেই তাদের এই অবদান। এছাড়া যে কোনো দুর্যোগ, পুনর্গঠন বা জাতীয় প্রয়োজনে দেশকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতিও আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। বোর্ডের ভাষ্য- শ্রীলঙ্কার পুনর্জাগরণ ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় তারা সব সময় প্রস্তুত।