বাখের আলী সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে বিজিবির ফাঁকা গুলি ১০টি মহিষ জব্দ

বাখের আলী সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে বিজিবির ফাঁকা গুলি ১০টি মহিষ জব্দ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে গিয়ে ২ রাইন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। এ সময় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে সেখান থেকে ১০টি মহিষ জব্দ করা হয়। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ৫৩ বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে বাখের আলী সীমান্তের পদ্মা নদীর আলিমের ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সেখানে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীদের দেখতে পান। চোরাকারবারীরা সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকায় বিজিবি সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান। পরে অবৈধ পথে ভারত থেকে আনা ১০টি মহিষ জব্দ করা হয়। বিজিবি অধিনায়ক বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চোরকারবারীদের বেশি দূর ধাওয়া করতে পারেননি বিজিবি সদস্যরা। ফলে তাদের কাউকে আটক করা যায়নি। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নাচোলে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনতে কর্মসূচি

নাচোলে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনতে কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে শতভাগ শিশুকে মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনতে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় এসেডো ও গণসাক্ষরতা অভিযানের কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপ, গার্লস ফোরাম ও ইয়ুথ গ্রুপের সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী একটি কর্মশালা শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদের বিআরডিবি হলরুমে জিপিই’র সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় জানানো হয়— শতভাগ শিশুকে মানসম্মত শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসার জন্য নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি করার লক্ষে একটি কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কর্মশালায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এসেডোর নির্বাহী পরিচালক রবিউল আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা আফিসার মৃনাল কান্তি সরকার, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার হারুন অর রশিদ, সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা আফিসার দুলাল উদ্দিন খান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দুলাল হোসেন, নাচোল ৩নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সফিকুল ইসলাম, গণসাক্ষরতা অভিযান ঢাকার প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুর রউফ, সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজার (ফিন্যান্স অ্যান্ড একাউন্টস) খলিলুর রহমান, প্রোগ্রাম অফিসার সিজুল ইসলাম, এসেডোর ফিন্যান্স অ্যাডমিন ম্যানেজার আজাহার আলী, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ডেইজী খাতুন ও সুমি খাতুন। ‎বক্তারা বলেন— মানসম্মত শিক্ষার অন্যতম স্তর হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা। যেখানে শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য শারীরিক ও মানসিক যত্ন, উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো স্কুল হতে ঝরে পড়া ও বাল্যবিয়ে। এ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে শিক্ষা সম্পর্কিত স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা যায় এজন্য এ‎ ‎কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৮৫ ডেঙ্গু আক্রান্ত : হাসপাতালে ভর্তি ৭৪ জন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৮৫ ডেঙ্গু আক্রান্ত : হাসপাতালে ভর্তি ৭৪ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ জন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভেতর বিভাগে ৩৫ জন এবং বহির্বিভাগে ৪৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে গোমস্তাপুর ও শিবগঞ্জে ১ জন করে রোগী শনাক্ত হন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে  বুধবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭১ জন। তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ, ৩২ জন মহিলা ও ৭ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া শিবগঞ্জে ১ জন ও গোমস্তাপুরে ২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। আর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে শনাক্তরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ২১ জনকে। এই ২১ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ১০ জন মহিলা ও ১ জন শিশু রয়েছেন। অন্যদিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৪ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ৪ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ১ জন শিশু রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০৩৬ জনে। একই সময়ে বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫৬২ জনে।

মা ও শিশুর পুষ্টি ও জলবায়ু উন্নয়নে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ

মা ও শিশুর পুষ্টি ও জলবায়ু উন্নয়নে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৪টি ইউনিয়ন ও সদর পৌরসভায় মোট ১৭শ পরিবারকে ৫ ধরনের ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর এরিয়া প্রোগ্রামের উদ্যোগেগতকাল ও আজ মা ও শিশুর অপুষ্টি নিরসন ও জলবায়ু উন্নয়নে (Enough Campaign) এই চারাগুলো বিতরণ করা হয়। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আওতায় হতদরিদ্রপরিবার, প্রতিবন্ধী পরিবার, ওয়ার্ল্ড ভিশন কর্তৃক নিবন্ধনকৃত শিশুর পরিবার, বিদ্যালয় এবং দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। চারা বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার জেমস বিশ্বাস, ৫টি কর্মএলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্যগণ এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের কর্মকর্তাগণ। বিতরণকৃত গাছের মধ্যে রয়েছে আম, সফেদা, মাল্টা, পেয়ারা ও নিম এবং বালিয়াডাঙা, সুন্দরপুর, দেবীনগর, চরঅনুপনগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মধ্যে এই চারাগুলো বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৭৭ ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৭৭ ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭৭ জন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভেতর বিভাগে ৪১ জন এবং বহির্বিভাগে ৩৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। অন্যান্য উপজেলায় কোনো রোগী শনাক্ত হননি। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে মঙ্গলবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬১ জন। তাদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ, ৩৩ জন মহিলা ও ৬ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া শিবগঞ্জে ১ জন, গোমস্তাপুরে ১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। আর বহির্বিভাগে শনাক্তরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঘরে ফিরে গেছেন। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৩৪ জনকে। এই ৩৪ জনের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ১২ জন মহিলা ও ৬ জন শিশু রয়েছেন। অন্যদিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও ১ জনকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০০১ জনে। একই সময়ে বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৫১৪ জনে।

বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন পেলেন রিমন

বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন পেলেন রিমন বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃতী সন্তান তরুণ ব্যবসায়ী আখতারুল ইসলাম রিমন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দৈনিক গৌড় বাংলাকে রিমন নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আখতারুল ইসলাম রিমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আয়ান ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী। বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বিজনেস ফোরামের পরিচালক হিসেবে মনোনীত করার জন্য আখতারুল ইসলাম রিমন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলোহাব সাইদানি, বিজনেস ফোরামের সভাপতি নুরুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক আলি হায়দার চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রিমন গৌড় বাংলাকে বলেন, নতুন দায়িত্ব আমাকে নতুন উদ্যোগ, দৃঢ় পরিকল্পনা ও আন্তরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক মজবুত ও সম্প্রসারিত করার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করবে। তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সহজ যোগাযোগ, তরুণ উদ্যোগীদের জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে কাজ করব আমরা। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় শিল্প, কৃষি ও সেবা খাত উন্নয়ন ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলোহাব সাইদানি। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, আলজেরিয়ায় গিয়ে বাংলাদেশীরা আমবাগান গড়ে তুললে বিনামূল্যে জমি দেয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হবে।

ভোলাহাটের সেই রোমানের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

ভোলাহাটের সেই রোমানের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে অটোরিকশা চালিয়ে বাবার চিকিৎসা ও সংসারের খরচ যুগিয়ে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া রোমান আলীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। তাকে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য শিক্ষা সহায়তার চেক তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক শিক্ষা খরচ বাবদ তাৎক্ষণিক সহায়তা তুলে দেন এবং ভবিষ্যতে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ সময় উপজেলার মুশরীভূজা গ্রামের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী মো. নিয়ামত আলীকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। গৌড় বাংলায় রোমান আলীর জীবনসংগ্রাম ও কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামানের নজরে এলে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসককে অবহিত করে। পরে জেলা প্রশাসক এই উদ্যোগ নেন। উল্লেখ্য, ভোলাহাট উপজেলার তাঁতীপাড়া গ্রামের রোমান আলী বজরাটেক সবজা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই বাবার অসুস্থতা, সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও রোমান অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমানের পড়ালেখার জন্য আর্থিকভাবে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ে বন্ধে ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিয়ে বন্ধে ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ বন্ধে, ধর্র্র্মীয় নেতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক ৩দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। “বাল্য বিবাহ মুক্ত সমাজ গড়তে সকলের উদ্দ্যোগ প্রয়োজন” শ্লোগানে আজ সদর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটির সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিসেফের অর্থায়নে ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ’র স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ প্রকল্পের আয়োজনে ধর্মীয় নেতাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিন ছিল আজ। প্রশিক্ষণে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ২০ জন ইমাম, কাজী, হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধমের ধর্মগুরুগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণটি সমন্বয় করেন এসবিসি প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মি. উত্তম মণ্ডল। ৩ দিনের প্রশিক্ষণে আলোচক ছিলেন— ইসলামিক চিন্তাবিদ এবং বক্তা মুফতী মাওলানা হানিফ মো. আব্দুল কাদের, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জয়নাল আবেদিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিসার এ বি জি এম গোলাম কিবরিয়া, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানাজার জেমস বিশ্বাস। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীগণ বাল্যবিয়ে বন্ধে জনঅংশগ্রহণমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি শপথ করেন, যেখানে বাল্যবিয়ে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।

নাচোলে ফল সংরক্ষণে মিনি হিমাগার নির্মাণ

নাচোলে ফল সংরক্ষণে মিনি হিমাগার নির্মাণ  নাচোল উপজেলায় ফল ও সবজি সংরক্ষণের জন্য একটি মিনি হিমাগার নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের শিবপুর মেলাডাঙ্গা গ্রামে ১০ টন ধারণ ক্ষমতার ফল সংরক্ষণের জন্য এই মিনি হিমাগারটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পরীক্ষামূলকভাবে সংরক্ষণের জন্য স্থাপিত এ ধরনের মিনি হিমাগারে আম, ড্রাগন, গাজর, টমেটো ও শাকসবজি রাখা যাবে। এ হিমাগার নির্মাণ হওয়ায় ফলচাষি ও ব্যবসায়ীরা আনন্দিত। কারণ এটি তাদের উৎপাদিত ফল সংরক্ষণে সহায়ক হবে এবং পচন রোধ করে লাভবান হতে সাহায্য করবে বলে জানান তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আব্দুল হালিম বলেন, এই হিমাগারের মাধ্যমে সবজি ও ফলভেদে ৩০ থেকে ৯০ দিন সংরক্ষণ করা যাবে। কৃষকের জন্য এই হিমাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা, যারা সাধারণত ফল ও সবজির সংরক্ষণে সমস্যার সম্মুখীন হয়। উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম বলেন, বাংলাদেশ সবজি ও ফল উৎপাদনে পৃথিবীতে রোল মডেল হয়ে উঠেছে। তবে হিমাগার নির্মাণ করলে কৃষকরা ফল ও সবজির অনাকাঙ্ক্ষিত সংগ্রহ উত্তর ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। এটি নির্মাণ হবার ফলে চাষিরা উপকৃত হবেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মিনি হিমাগার নির্মাণ করে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের বিপ্লব সাধিত হতে পারে। ফলচাষি রফিকুল ইসলাম ও রুবেল বলেন, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে এই এলাকায় মিনি হিমাগার নির্মাণ হওয়ায় আম, ড্রাগন রাখতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭০ হাসপাতালে ভর্তি ৫৭ 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৭০ হাসপাতালে ভর্তি ৫৭ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন। তাদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ভেতর বিভাগে ২৭ জন এবং বহির্বিভাগে ৪২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া শিবগঞ্জে ১ জন শনাক্ত হয়েছেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৫ জন। তাদের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ ও ২১ জন মহিলা ও ৮ জন শিশু রয়েছেন। এছাড়া শিবগঞ্জে ১ জন, গোমস্তাপুরে ১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। আর বহির্বিভাগে শনাক্তরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঘরে ফিরে গেছেন। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৪৩ জনকে। এই ৪৩ জনের মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ২২ জন মহিলা ও ১ জন শিশু রয়েছেন। অন্যদিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১ জনকে রামেকে স্থানান্তর করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৬০ জনে। একই সময়ে বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৭৮ জনে।