চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পের তেল মজুতের সীমা নির্ধারণে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পের তেল মজুতের সীমা নির্ধারণে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল মজুত বা ‘ডেড স্টক’ নিয়ে গ্রাহক ও পাম্প মালিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই। তেলের রিজার্ভ ট্যাংকে কতটুকু তেল অবশিষ্ট রাখা বাধ্যতামূলক—তা নির্ধারণে রাজশাহী বিএসটিআই’র একটি বিশেষজ্ঞ দল পাম্পগুলো পরিদর্শন শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলার বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দলটি ডিজেল ও পেট্রোলের রিজার্ভ ট্যাংক পরীক্ষা করে। পরিদর্শন শেষে সেখানে ডিজেলের জন্য ১৬৩২ লিটার এবং পেট্রোলের জন্য ৭৫০ লিটার ‘ডেড স্টক’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। রাজশাহী বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক আজিজুল হাকিম জানান, ফিলিং স্টেশনে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সংরক্ষণ করা প্রযুক্তিগতভাবে জরুরি। এই পরিমাণের নিচে নেমে গেলে পাম্প পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় গ্রাহকরা ট্যাংক প্রায় খালি হয়ে গেলেও মেশিন চালু রাখার দাবি করেন, কিন্তু এতে মিটার রিডিং ঠিক থাকলেও গ্রাহক প্রকৃত পরিমাণ তেল নাও পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি কমাতে ইতোমধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন পাম্পে ‘ডেড স্টক’ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একই কার্যক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জেও চলছে। পরিদর্শনের সময় বিএসটিআই’র মেট্রোলজি বিভাগের পরিদর্শক জয় কুমার ঘোষ, সংশ্লিষ্ট পাম্পের ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং পাম্পের স্বত্বাধিকারী আলমগীর মুরশেদ শিমুলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হাম, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবায় চাপ বেড়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ২৯৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যা নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে—যাদের মধ্যে ১৯ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে। আগের দিন ভর্তি ছিল ৭৪ জন। সুস্থ হয়ে ১৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে, আর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো নমুনার মধ্যে ৩১টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব শিশু নিয়মিত টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যেই বেশি হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী মে মাসে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু হবে। এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে, যেখানে আগে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দুই ধাপে টিকা দেওয়া হতো। অন্যদিকে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন নবজাতক ভর্তি ছিল, নতুন করে এসেছে ৭ জন। সুস্থ হয়ে ১২ জন ছাড়পত্র পেয়েছে, বর্তমানে ভর্তি আছে ২৫ জন। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত একদিনে ২৯ জন এই সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানে ৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড, নবজাতক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। স্বজনদের উপস্থিতিতে ওয়ার্ডগুলোতে ভ্যাপসা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া উল্লেখযোগ্য। আক্রান্ত শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন  রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে দাফনের পূর্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বালিয়াডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে স্থানীয় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে রোববার তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং স্ট্রোক করেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি দুই ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মো. কসিমুদ্দীন ১৯৪০ সালের ১ জুলাই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে বীরত্বের পরিচয় দেন। ভোলাহাটের মুশরিভুজা বিদ্যালয়ে সংঘটিত সম্মুখযুদ্ধের বর্ণনা নিয়ে প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’ গ্রন্থে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।

সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল

সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম, শ্বসকষ্টের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সবমিলিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৬৫০ জন রোগী ভর্তি আছেন বলে খোদ তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬ জন শিশু। তাদের মধ্যে ছেলে ১৩ জন ও মেয়ে ৩ জন। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ৭১ জন। তাদের মধ্যে ৪১ জন ছেলে ৩০ জন মেয়ে। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ৭ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়েসহ ১১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৭৪ জন রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ৪৫ জন ছেলে ও ২৯ জন মেয়ে রয়েছে। হামে আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু। সূত্রটি আরো জানায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৬৬ জন রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সিভিল সার্জন অফিসের ডায়রিয়া বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৬৮ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে জেলা হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৬৯ জন রোগী। অপরদিকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী রয়েছেন। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ব্যবস্থা চালু না থাকায় কোনো রোগীর অবস্থা খারাপ হলেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হামে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন— হামের পরীক্ষা একমাত্র ঢাকার মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে হয়। আমরা এখানকার রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিদের কাছে দিচ্ছি। তারা মহাখালী নিয়ে যাচ্ছেন। পরীক্ষা রিপোর্ট তিন মাস পর পাওয়া যায়। কিন্তু ততদিন তো রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে থাকা যায় না। তাই আমরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র রয়েছে। তিনি আরো জানান, অন্যবার রোজার মাসে রোগীর সংখ্যা কমে যায়। কিন্তু এবার বাড়ছে। হাম ছাড়াও ডায়রিয়া ও শ্বসকষ্টজনিত রোগীও প্রচুর। বর্তমানে হামের রোগীদের জন্য ৮ জন নার্স নিযুক্ত করা হয়েছে এবং শিশু ওয়ার্ডে ২ জন বিশেষজ্ঞ ও ১ জন মেডিকেল অফিসারসহ তিনজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াটা পর্যন্ত রোগী দেখার সময় হলেও বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রোগী দেখছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৫০ জন। এদিকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান তার ফেসবুক আইডিতে রোগীদের অভিভাবকদের নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা আসলেই অদ্ভুত এক জাতি। ২ মাস আগে যখন ৫-৭টা ঝঁংঢ়বপঃবফ গবধংষবং (হাম) সাসপেকটেড হাম আক্রান্ত বাচ্চা ভর্তি থাকতো, তখন মাত্র এ কয়টা রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এই রোগের লক্ষণ কমতে বেশ সময় লাগে, এজন্য অভিভাবকরা অভিযোগ, ঝগড়া, অশালীন আচরণ করতেই থাকতেন। ডাক্তার, নার্সের সাথে ঝগড়া, বেড পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে অভিভাবকরা একে অপরের সাথে একরকম যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। কিন্তু গত ৩ সপ্তাহে চিত্র বদলে গেছে। অভিভাবকরা রোগটা সম্পর্কে বুঝতে শিখেছেন, ধৈর্য ধরতে শিখে গেছেন। মনের ভিতর তীব্র ভয়, শঙ্কা থাকলেও ধৈর্য সহকারে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং হাসপাতালের নিয়ম মানছেন। অভিভাবক রা একে অপরকে সহযোগিতা করছেন, খাবার ভাগ করে খাচ্ছেন, বিছানা শেয়ার করছেন, একে অপরকে কাউন্সেলিং করছেন। অভূতপূর্ব চিত্র। মহান আল্লাহ এই অসুখ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।” প্রসঙ্গত, হামের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে— প্রথমে জ্বর হয় ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম এক-দুই দিন তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে উঠতে পারে। চোখ লাল হয়ে যেতে পারে, চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে এবং হাঁচিও হতে পারে। শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় বিশেষত শিশুরা কিছুই খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিম উদ্দিনের ইন্তেকাল, রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিম উদ্দিনের ইন্তেকাল, রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের বোর্ডঘর এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিম উদ্দিন(৮৬) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি ওই এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দীনের ছেলে। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাদীণ অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ২ ছেলে ৪ মেয়ে সহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বোর্ডঘর প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বালিয়াডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজের পর বালিয়াডাঙ্গা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদ,সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সূকোমল চন্দ্র দেবনাথ সহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাপসা’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাপসা’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমিতি (বাপসা)’র জেলা শাখার ত্রিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আয়োজিত এই নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি পদে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম ২০ ভোট পেয়ে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। এটি তার টানা তৃতীয়বারের মতো সভাপতি হওয়া। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি পাল পেয়েছেন ১৩ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ভোলাহাট উপজেলার দলদলি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুল করিম ডিগন ১৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মেনুয়ার জাহান পেয়েছেন ১০ ভোট। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে বিকেল ৩টার দিকে বারঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুণ অর রশিদ ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনের প্রধান দায়িত্ব পালন করেন ইউনিয়ন পরিষদের অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সেরাজুল ইসলাম।

মেসার্স লুনা ট্রেডার্স ও সানজানা এন্টারপ্রাইজের বার্ষিক হালখাতা ও হিসাব নবায়ন অনুষ্ঠিত

মেসার্স লুনা ট্রেডার্স ও সানজানা এন্টারপ্রাইজের বার্ষিক হালখাতা ও হিসাব নবায়ন অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেসার্স লুনা ট্রেডার্স ও সানজানা এন্টারপ্রাইজের যৌথ উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে বার্ষিক হালখাতা ও হিসাব নবায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে নবাবগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। মেসার্স লুনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রাইহানুল ইসলাম লুনার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত উৎসবে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন-ট্রাষ্ট ব্যাংক পিএলসি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মিসেস রুবিনা, শাহ সিমেন্টের রিজিওনাল ম্যানেজার আল মারুফ, সেভেন রিংস সিমেন্টের আর এস এম শ্রী নিশিত বাবু, একেএস রডের এরিয়া ম্যানেজার শ্রী সুজিত কুমার বিশ্বাস, গরু মার্কা ঢেউটিনের এরিয়া ম্যানেজার চঞ্চল কুমার দাস, বিএসআরএম রডের ডেপুটি ম্যানেজার প্রদীপ কুমার পাল, আনোয়ার সিমেন্ট সিটের সিনিয়র ম্যানেজার মো. খায়রুজ্জামান লিটু, আনোয়ার সিমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং মি. শাহীন, মীর সিমেন্টের এরিয়া ম্যানেজার মো. আমিরুল ইসলাম, জিপিএইচ ইস্পাতের এসিসটেন্ট ম্যানেজার মোঃ সোলাইমান হোসেন, যমুনা গ্যাসের ডেপুটি ম্যানেজার আদম শফিউল্লাহ, শরিফ হোম অ্যাপ্লায়েন্সের মি. পিন্টু, কিয়াম মেটালের আর এম শামিম হোসাইন সহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। বক্তারা বলেন- রাইহানুল ইসলাম লুনার হাত ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুধু রড সিমেন্ট নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাবে এই জেলা। এসময় তিনি লুনার সামাজিক কর্মকাণ্ড ও তুলে ধরেন। রাইহানুল ইসলাম লুনা উপস্থিত ব্যবসায়ীদের বলেন- ইট বিক্রি হয় আগাম টাকায়, রড বিক্রি হয় আগাম টাকায়, তাহলে শুধু সিমেন্ট কেন বাকিতে বিক্রি করবেন। এখন থেকে আপনারা সকল পণ্য নগদ টাকায় বিক্রি করবেন। তাহলে আপনার, আমার এবং কোম্পানির লাভ হবে। তা না হলে আপনারা ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবেন না। আলোচনা শেষে র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উৎসবে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মেসার্স লুনা ট্রেডার্স ও সানজানা এন্টারপ্রাইজের ডিলার ও বিক্রেতারা অংশগ্রহণ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লালন স্মরণে ভক্ত-সাধু সঙ্গ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লালন স্মরণে ভক্ত-সাধু সঙ্গ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে লালন স্মরণ উৎসব উপলক্ষে ভক্ত-সাধুসঙ্গ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বিকেলে জেলা শিল্পকরা একাডেমি মিলনায়তনে ‘চাঁপাই বাউল ভক্তকুল’ নামের একটি সংগঠন অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান চিশতীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও অনুষ্ঠান কমিটি আহব্বায়ক কাওসার রিপনের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে লালনের বানী ও দর্শণ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনায় অংশ নেন আলাল সাধু, হুমায়ুন সাধু, কবি আনিফ রুবেদ, জনপ্রিয় আঞ্চলিক গান গম্ভীরা গানের ‘নানা’ ও জেলার সিনিয়র সাংবাদিক মাহবুব আলম, পলাশ আহমেদ, কাব্য মোল্ল সহ সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিরা এবং লালন ভক্তকুল।সবশেষে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে লালন সঙ্গীত পরিবশেন করেন ওয়াহাব বাউল, কালাম ভান্ডারী, ইসমাইল ভান্ডারী, মনিরা পারভীন, শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার সংস্কৃতিমনার উপস্থিত সকলেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপন  চাঁপাইনবাবগঞ্জে যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি বেসরকারি ভবনে জাতীয পতাকা উত্তোলন ও ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচী শুরু হয়। এরপর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে, জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামাংকিত স্মৃতিস্তম্ভে পূস্প স্তবক অর্পণ করেন, জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি সহ সর্বস্তরের মানুষ। এদিকে, সকাল ৮টায় নতুন ষ্টেডিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী তাদের নিজ নিজ কমসূর্চী পালন করে।

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ থানায় মামলা

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ থানায় মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার রানীহাটী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কুথানীপাড়া ও শিবগঞ্জ ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কুথানীপাড়া গ্রামের স্থানীয় দুই গ্রুপের সালিশ চলাকালীন ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ২টি মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল সদর ও শিবগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনের একাধিক ধারায় পৃথক মামলা দুটি দায়ের করেন দু’পক্ষের স্থানীয় দুই ব্যাক্তি। তবে এসব মামলায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, শুধু সদর থানা এলাকার ঘটনার জন্য সদর থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলায় এজাহারনামীয় আসামী করা হয়েছে ২১ জনকে। অজ্ঞাতনামা আসামী রয়েছেন আরও কয়েকজন। অপরদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেন জানান, মূল ঘটনাস্থল শিবগঞ্জ থানা এলাকার ঘটনার জন্য সাবেক ২৫ জনকে এজাহারনামীয় সহ অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পূর্ব শত্রুতার জের মীমাংসার সালিশের সময় গত ২৪ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিক থেকে দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ ছাড়াও খড়ের গাদায় আগুন, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের মত ঘটনাও ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ফায়ার সার্ভিস। ককটেলের আঘাতে গুরুতর আহত স্থানীয় এক বৃদ্ধকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রানীহাটী ইউপি চেয়ারম্যান রহমত আলীর নেতৃত্বে সালিশটি শুরু হবার পরপরই দু’পক্ষের বাকবিতন্ডা শুরু হয় এবং প্রথমে ৪/৫ টি ও পরে মূহুর্মুহু ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান হয়। এসময় রানীহাটী ও প্রতিপক্ষ গোড়াপাখিয়া এলাকার লোকজন পরস্পরের প্রতি ককটেল ছুঁড়ে মারে। এ সময় এলাকায় ব্যপক আতংকের সৃষ্টি হয়। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনার কোন রাজনৈতিক সংশ্লিস্টতা পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ।