জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালিত ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ক্রীড়া অফিস বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে। সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়াম (পুরাতন) প্রাঙ্গণ হতে র‌্যালিটি শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে শেষ হয়। র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাকিব হাসান তরফদার, জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহমুদুজ্জামান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, ক্রীড়া সংগঠক এবং বিভিন্ন ইভেন্টের কোচ-প্রশিক্ষকসহ খেলোয়াড়রা। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয়ভাবে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মিলিত হয়। ওই সভায় সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল হক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন / অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করেন। গোমস্তাপুর : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ র‌্যালির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। র‌্যালিটি উপজেলা চত্বর থেকে বের হয়ে ওই এলাকার সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এতে অংশ নেন— উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সি, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সুলতান আলম খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসাহাক আলী, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ফরহাদ আলম চৌধুরীসহ অন্যরা।

অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে আটক ২ : জব্দ দুটি ট্রাক্টর ও ১টি এস্কেভেটর

অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে আটক ২ : জব্দ দুটি ট্রাক্টর ও ১টি এস্কেভেটর চাঁপাইনবাবগঞ্জে রাতের আঁধারে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার দায়ে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে মাটি পরিবহনের দায়ে মাটিভর্তি দুটি ট্রাক্টর ও একটি এস্কেভেটর জব্দ করা হয়। গত রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেন ডাইং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতরা হলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের কল্যাণপুরের মৃত শুকুরুদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (৪০) ও নয়াগোলা হাটপাড়ার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে মো. হানিফ আলী (৩২)। জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এস.আই. পলাশ চন্দ্র চৌধুরী ও সদর মডেল থানার এস.আই. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে এই যৌথ অভিযানটি চালানো হয়। এ ঘটনায় ডিবির এস.আই. পলাশ চন্দ্র চৌধুরী বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সোমবার আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইকরাম হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে সবসময় সজাগ রয়েছে। আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করলে আমরা পুলিশের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। পুলিশ নিজেরাও এ ব্যাপারে কাজ করছে। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সবসময় সহযোগিতা করছে।

নববর্ষ উদযাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা

নববর্ষ উদযাপনে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীসহ সকল জাতিগোষ্ঠী তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখ সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হবে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে রচনা-চিত্রাঙ্কনসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলা ও লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও স্থানীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও রেডিও মহানন্দায় বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের কথা বলা হয়। সরকারি শিশু পরিবার, হাসপাতাল ও জেলাখানায় দই, চিড়া, মুড়ি ও খৈসহ উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত হয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার। দিবসটি ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থারও সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত হয় লোকজ মেলা আয়োজনের। দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, আমাদের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। আমরাই একমাত্র জাতি, যাদেরকে জীবন দিয়ে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী বৈশাখের অনুষ্ঠানমালা সুন্দরভাবে উদ্যাপ্নর জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন— জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন। এছাড়াও সভায় অংশগ্রহণ করেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক শুকলাল বৈদ্য, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম, জেলা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট আমজাদ হোসেন, জেলা তথ্য অফিসার রুপ কুমার বর্মন, জেলা কালচারাচাল অফিসার শাহাদত হোসেন, জেলা জাসাস’র সভাপতি জোনাব আলী ও সিনিয়র সহসভাপতি বাবলু হক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠার নেতা কর্নেলিউস মুর্ম, বাবুলাল টপ্পোসহ সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।

নাচোলে বন্ধ থাকা পেট্রোল পাম্প চালুর দাবিতে মানববন্ধন

নাচোলে বন্ধ থাকা পেট্রোল পাম্প চালুর দাবিতে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের প্রাণকেন্দ্র দক্ষিণ সাঁকোপাড়ায় অবস্থিত সুইটি ফিলিং স্টেশন (পেট্রোল পাম্প)টির মালিকদের পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। এই ভোগান্তি কমাতে পুনরায় অবিলম্বে পাম্পটি চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সর্বস্তরের ভুক্তভোগী জনসাধারণ। নাচোল মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি (এনমাস) ও নাচোল উন্নয়ন ফোরামের যৌথ আয়োজনে সোমবার সকাল ১০টার দিকে নাচোল বাসস্ট্যান্ডে আধাঘণ্টা পাম্পটি চালুর দাবিতে মানববন্ধন করেন তারা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন— উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুর কামাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তন্ময় আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপির সমবায় সম্পাদক বাবুল আখতার, নাচোল উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি আমানুল্লাহ আল মাসুদ ও এনমাস’র সভাপতি শাকিল রেজা। পাম্পমালিকদের সাতদিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বক্তারা বলেন, এখন জ্বালানি তেলের সংকটময় সময়ে আমাদের যদি ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে এই পাম্প থেকে লাভ কি। আপনারা যদি চালু করতে ব্যর্থ হয়ে থাকেন তাহলে বিক্রি করে দেন। নাচোলের সর্বস্তরের মানুষের ভোগান্তি কমাতে বক্তারা আরো বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব বুঝি না, পুনরায় পাম্পটি চালু দেখতে চাই। মানববন্ধন শেষে নাচোল উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হারানো ১৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হারানো ১৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাবার পর সংম্লিষ্ট থানায় হারানো জিডির প্রেক্ষিতে অনলাইন মনিটরিং এর মাধ্যমে ১৪টি মোবাইল ফোন মালিলদের হাতে তুলে দিয়েছেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ^াস| আজ সকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে হারানো ফোনগুলো ফেরৎ দেয়া হয়| উদ্ধার ফোনগুলোর মধ্যে সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল মোতাালেব ৯টি, নাচোল থানার এএসআই ফরহাদ হোসেন ৩টি ও জেলার গোয়েন্দা পুলিশের(ডিবি) উপ-পরিদর্শক(এসআই) কামরুল হাসান ২টি ফোন উদ্ধার করেন| অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ.এন.এম ওয়ূাসিম ফিরোজ সহ উর্ধতণ পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিস্টরা উপস্থিত ছিলেন|

গোমস্তাপুরে শিশু শরিফা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

গোমস্তাপুরে শিশু শরিফা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি ইউনিয়নের তেলিপাড়া বাজারে শিশু শরিফা হত্যার বিচার দাবি করে মানব বন্ধন হয়েছে| আজ বাঙ্গাবাড়ি দাড়িপাতা নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকাবাসী এই মানব বন্ধন আয়োজন করে| শরিফা এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল| মানব বন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি চেয়ারম্যান সারিকুল ইসলাম,সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বুলবুল, বাঙ্গাবাড়ি স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল,নুরানী মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুর রহিমসহ অন্যান্যরা| এর আগে গতকাল বিকালে দু’দিন যাবৎ নিখোঁজ শরিফা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ| সে গোমস্তাপুরের বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের যোগিবাড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে| গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গোমস্তাপুরের আলীনগর ইউনিয়নের নাদেরাবাদ গ্রাম সংলগ্ন বিজলির বিল এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে প্রায় অর্ধগলিত অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়| এ সময় তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল| শিশুর দুলাভাই অন্তর নামে এক যুবকের দেয়া তথ্যে মরদেহ উদ্ধার হয়| শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় পুলিশ| স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার(৩মার্চ) পরিবারের সাথে নাদেরাবাদ এলাকায় ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে আসার পর বিকেলের দিকে নিখোঁজ হয় শরিফা| পরদিন গত শনিবার(৪মার্চ) এ ঘটনায় তার দাদা আব্দুল করিম গোমস্তাপুর থানায় নিখোঁজ ডাইরি করেন| এরপর পুলিশ মেয়েটির খো&জঁ শুরু করে এবং মেয়ের দুলাভাই গোমস্তাপুরের বোয়ালিয়া ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের মো. ইব্রাহিমের ছেলে অন্তরকে (২৫) সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে| গোমস্তাপুর থানার অর্ফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে প্রথমে মাথায় আঘাত ও পরে শ^াসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে| তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলে মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ জানা যাবে| পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে অন্তর শশুড়ের টাকা-পয়সা বেশি পাবার লোভে শ্যালিকাকে খুন করেছে বলে ¯^ীকার করেছে| ওসি আরও বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে| আজ এ ঘটনায় মেয়ের দাদা একমাত্র অন্তরকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন|

জুগিডাইং-এ স্টার সানডে উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান 

জুগিডাইং-এ স্টার সানডে উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  স্টার সানডে উপলক্ষে সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার জুগিডাইং এলাকায় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায় পরিচালিত সানডে স্কুলের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আমনুরা মিশনের লুথারেন চার্চের রেভারেন্ড রাজেন সরেন এবং সমাজসেবক কামরুজ্জামান মন্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সানডে স্কুলের শিক্ষক সিপানিয়েল হেমরম। আলোচনা সভায় বক্তারা স্টার সানডের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শেষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ।

৩ উপজেলায় একযোগে শুরু হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি

৩ উপজেলায় একযোগে শুরু হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। গতকাল রবিবার সকাল ৯টায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান, হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদসহ অন্যরা। আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী টানা এই টিকা দেয়া হবে। এ জন্য জেলা হাসপাতাল ও  জেলার দুই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩টি স্থায়ী  ও এই ৩ উপজেলায় ৩৬টি অস্থায়ী কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলার অন্য শিশুদের পর্যায়ক্রমে এ টিকার আওতায় আনা হবে।  দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা প্রথম পর্যায়ে টিকার আওতায় এসেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, সরকার সারা দেশে ৩০টি উপজেলায় বিশেষ এ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট রয়েছে। আজ উদ্বোধনী দিনে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, গোবরাতলা, ঝিলিম, চরঅনুপনগর ও আলাতুলি ইউনিয়নে, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, মনাকষা, বিনোদপুর, পাঁকা ও উজিরপুর এবং ভোলাহাট উপজেলায় ভোলাহাট ও গোহালাবাড়ি ইউনিয়নে টিকা দেয়া হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই তিনটি উপজেলায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, এর মধ্যে সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে ৫৬ হাজার ৩১৮ জনকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ১৬ হাজার ২০৮ জনকে, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭৩ হাজার ৭৭ হাজার জনকে ও ভোলাহাট উপজেলায় ১২ হাজার ৬৮৪ জনকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার পূর্বে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেয়া হবে। এদিকে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার এবং সরকারের স্বাস্থ্যবিভাগসহ আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আরো কোনো শিশু যেন হাম রোগে আক্রান্ত না হয়। আপনারা খেয়াল রাখবেন কোনোভাবে যেন প্যানিক না ছড়ায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা মিল মালিক ও আতপ ধান-চাল ব্যবসায়ী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা শহরের সন্ধ্যা কমিউনিটি সেন্টারে এ সভা আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশিদ। সভার শুরুতে সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মসিউল করিম বাবু। এ সময় আলোচনায় অংশ নেন সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য ফারুক আহমেদ ও আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা। সভায় কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে হারুন-অর-রশিদ বলেন, “আমার বাবা মরহুম মোজাম্মেল হক যেভাবে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এই সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, আমিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।” সাধারণ সম্পাদক মসিউল করিম বাবু বলেন, “আপনাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সমিতি আজ অনেকদূর এগিয়েছে। ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে নিতে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে—এই প্রত্যাশা করছি।” সভাটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং সমিতির কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে আলোচনা সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ। সভায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা ক্রয় করার জন্য ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। এসময় তিনি বলেন, শুক্রবার প্রয়োজনে ডাক্তারদের ছুটি বাতিল করবেন। কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবা ব্যবহত না হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপরও জোর দেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন— রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। এসময় পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। জেলার হাম বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান। জেলার হামের সার্বিক চিত্র মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম। ‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ বলেন, হাম আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে লক্ষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে দিকনির্দেশনা এবং প্রতিটি হাসপাতালে হাম চিকিৎসা কর্নার স্থাপনের জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে পরামর্শ দেন দিনি। বিভাগীয় কমিশনার বলেন— অর্থের অভাব নেই। যেখানে যতটুকু দরকার আপনারা আমাদের জানান, সরকার ব্যবস্থা করবে। অর্থ নেই বলে কোনো অজুহাত শোনা হবে না। ডাক্তার ও নার্সের ঘাটতি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ইতোমধ্যে নিজের ব্যবস্থাপনায় কয়েকজন ডাক্তার দিয়েছেন, আমি অনুরোধ করব তিনি নার্সেরও ব্যবস্থা করে দেবেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগী যেতে পারে, তাদেরকেও হামের জন্য আলাদা কর্নার করার জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিদের্শনা প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বলেন, আমাদের জেলা পরিষদের প্রশাসক মহোদয়ের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালকে একটি মডেল হাসপাতাল করার। আমাদের অনেক যন্ত্রপাতিও আছে কিন্তু জনবলের অভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার। ‎সভায় জানানো হয়, আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া হামের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮৭০ জন শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। আরো জানানো হয়, এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন শিশু মারা গেছে। তবে তাদের মধ্যে স্যাম্পল সংগ্রহের আগেই মারা গেছে ৫ জন এবং একজনের স্যাম্পল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল কিন্তু পরীক্ষায় রেজাল্ট এসেছে নেগেটিভ। সভায় সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সকল উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসারসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।