চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সন্দেহজনক হাম রোগী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সন্দেহজনক হাম রোগী দেশে গত মার্চ মাসে হঠাৎ করেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হাম। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৬০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রোববার (১২ এপ্রিল) নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৯ জন রোগী। এদিকে, জেলার ১২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার প্রায় ৩৬ শতাংশ। সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম সাহাবুদ্দীন জানান, ঢাকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থিত দেশের একমাত্র পরীক্ষাগার—ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরি (এনপিভিএল)—এসব নমুনা পরীক্ষা করছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ নমুনা আসায় পরীক্ষাগারে চাপ বেড়েছে, ফলে রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে পাঠানো ৩৫টি নমুনার মধ্যে ১৫টি পজিটিভ এসেছে, যা প্রায় ৪৩ শতাংশ। এছাড়া আরও শতাধিক নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮টি গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে; বাকিগুলো পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, শুরুতে আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু, বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী ছিল। তবে বর্তমানে অল্পসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির সুফল পেতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক এবং সংক্রমণ আরও কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডা. মশিউর রহমানের মতে, শুধু টিকাদানে ঘাটতি নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুকভিত্তিক নেতিবাচক প্রচারণাও টিকাগ্রহণে অনীহা তৈরি করেছে। এর প্রভাব শুধু হাম নয়, এইচপিভি ও কোভিড-১৯ টিকাতেও পড়েছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুম নিয়েও চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছে আরও ১৮ জন। পাশাপাশি ডায়রিয়ার প্রকোপও কিছুটা বেড়েছে; বর্তমানে হাসপাতালে ৬৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৪ জন শিশু জেলা হাসপাতালে এবং ২ জন শিশু রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে মার্চ মাসে। যদিও আরও কয়েকটি মৃত্যুর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সন্দেহ থাকলেও সেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। এদিকে, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৭০ হাজার ৫৯৯ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: অ্যাপস চালু, কমছে ভোগান্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: অ্যাপস চালু, কমছে ভোগান্তি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকেই সারাদেশে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সেই সময় দেশে রমজান মাস থাকায় অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। দাম বাড়ার আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে লাইন দীর্ঘতর হয়। এর প্রভাব পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও। সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় পাশের দেশ ভারতে পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই জ্বালানি তেল পাচার রোধে পরিস্থিতির শুরু থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনোভাবেই জ্বালানি তেল ভারতে পাচার না হতে পারে সেজন্য চেকপোস্টও বসানো হয়। পাশাপাশি প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাচার রোধে তৎপরতা শুরু করে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বেশি। স্থানভেদে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম ১২৫ থেকে ১৪৫ টাকার কাছাকাছি। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, তেল মজুত করার অভিযোগ উঠলেও পাচার সম্পর্কিত কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এছাড়া মজুত রোধে জেলার সব ফিলিং স্টেশনেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। কয়েকটি পাম্পকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেলও উদ্ধার করা হয়। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জেলার সব পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে ৫৩ বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন, ৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ও ১৬ বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়ন। এই তিন ব্যাটালিয়নের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার একাংশ, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন শিবগঞ্জের একাংশ ও ভোলাহাট উপজেলা সীমান্ত এবং নওগাঁ ব্যাটালিয়ন গোমস্তাপুর উপজেলার সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করে। জ্বালানি তেল নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির শুরু থেকে এই তিন ব্যাটালিয়ন সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে। ৫৯ বিজিবি সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাক তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। যাতে ভারতীয় ট্রাকগুলো পণ্য খালাস করে খালি ট্রাক নিয়ে ফিরে যাবার সময় বাংলাদেশের জ্বালানি তেল নিয়ে যেতে না পারে। অন্যদিকে জেলা পুলিশ বিভিন্ন রাস্তায় চেকপোস্ট বসায়, মজুত ও পাচার রোধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করার পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়। এছাড়া পাচার রোধে প্রকৃত কৃষকদের কৃষি বিভাগের ও বেসরকারি হাসপাতালের জেনারেটরের জন্য সিভিলে সার্জনের সুপারিশের ভিত্তিতে ডিজেল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সতর্কতার অংশ হিসেবে কয়েক দফা পাম্পমালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈঠকও করা হয়। ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন— সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল যেন পাচার হতে না পারে সেজন্য বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে। এছাড়াও কেউ অবৈধভাবে মজুত করতে না পারে সে জন্যও বিজিবি কাজ করছে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এর আগে জানিয়েছিলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন— পরিস্থিতির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় আছে। চেকিংয়ের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান— পাচার রোধে সংকট পরিস্থিতির শুরুতেই আমরা জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে বিজিবি সতর্ক আছে এবং চেকপোস্ট বসিয়েছে। পুলিশেরও বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট আছে এবং তারাও পাচার রোধে সচেষ্ট আছে। আমরা জেলা প্রশসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সতর্ক আছি। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। যে কোনো ধরনের অপরাধের খবর পেলে আমাদের জানাবেন, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন— সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই, বরং গতবারের তুলনায় এবার বেশি সরবরাহ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভোক্তাদের মধ্যে একটু মজুত করার একটি প্রবণতা থাকে এবং আতঙ্ক থাকার কারণে একটু বেশি করে তেল নিতে চায়তেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা তেল নিতে আসতেন এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় জমে যেত। এছাড়া কিছু অসাধু লোকজন সুযোগ যে নেয়নি তা নয়। আমরা দেখেছি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারি করার একটা চেষ্টা ছিল। আমরা সেটা রোধ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের এখানে দুটি ইন্সিডেন্ট হয়েছিল। যদিও তেলের পরিমাণ খুব বেশি না, তবুও আমরা মোবাইল কোর্ট করে রিকভার করেছি। একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানাও করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট প্রতিনিয়তই চলছে। এর পাশাপাশি আমরা নতুন একটি ইনিসিয়েটিভ নিয়েছি। সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি বিতরণ সিস্টেম চালু করেছি। বুধবার (৮ এপ্রিল) শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় চালু করার পর বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সদর উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৫০০ টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেল চালকদের ৫ দিনের তেল দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। একজন মোটরসাইকেল চালক ৫ দিনের আগে জেলার অন্য কোনো পাম্পে গেলেও তেল পাবেন না। প্রমাণ হলে তার নম্বরটি ব্লক হয়ে যাবে। এই অ্যাপস চালুর ফলে জনমনে একটা স্বস্তি ফিরে আসছে এবং ভোগান্তি কমে যাবে বলে আশা করছি। সূত্র: দৈনিক গৌড়বাংলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে ৪২% পজিটিভ, রিপোর্ট পেতে দেরি: স্বাস্থ্য বিভাগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে ৪২% পজিটিভ, রিপোর্ট পেতে দেরি: স্বাস্থ্য বিভাগ চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সন্দেহভাজন হাম রোগীদের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ৪২ শতাংশ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম সাহাবুদ্দীন জানান, এখন পর্যন্ত জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঠানো ১০১টি নমুনার মধ্যে ৪২টির রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এসব পরীক্ষা ঢাকায় অবস্থিত সরকারি ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে নমুনা আসায় ল্যাবে চাপ বেড়েছে, ফলে নতুন নমুনার রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে, জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল থেকে পাঠানো নমুনাগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পজিটিভ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, যাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে তাদের প্রায় অর্ধেকের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আরও অনেক নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও সেগুলোর সব রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি। তিনি আরও জানান, আগে হাম আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ছিল, বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যেও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে অন্তত ২৮ দিন সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে, টিকাদানে ঘাটতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণাও সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ। এতে অনেক মানুষ টিকা নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন। এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন করে ২৯ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে জেলায় বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ার প্রকোপ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বহির্বিভাগে আরও ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৬৩ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৪২ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি হাম সন্দেহভাজন আরো ৩৫ শিশু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাসপাতালে ভর্তি হাম সন্দেহভাজন আরো ৩৫ শিশু চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমছে না হামের প্রকোপ| গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহভাজন আরো ৩৫ শিশুকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে| গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত তাদেরকে ভর্তি করা হয়| এর আগের দিন ভর্তি হয়েছিল ২৫ জন রোগী| এছাড়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ১ জন কন্যাশিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে| বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ জনে| এদের মধ্যে ৩৫ জন ছেলে ও ৩৪ জন কন্যাশিশু রয়েছে| একই সময়ে সুস্থ হওয়ায় ২১ জন ছেলে ও ১৭ জন কন্যাশিশুসহ ৩৮ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে| আজ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের হামবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে|
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ্যাপসে মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি কার্যক্রম চালু, স্বস্তিতে ভোক্তারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আ্যাপসে মোটরসাইকেলে তেল বিক্রি কার্যক্রম চালু, স্বস্তিতে ভোক্তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলে তেল বিক্রির জন্য মোবাইল আ্যাপভিত্তিক কার্যক্রম উদ্ধোধন করা হয়েছে| আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের একটি ফিলিং ষ্টেশনে এই কার্যক্রম উদ্বোধণ করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী| এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, ˆবশি^ক তেল সংকটে দেশে তেল বিতরণ বিশেষ করে মোটরসাইকেলে তেল দেয়া নিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এ পদ্ধতি সফল হবে| সকলকে সংযমী হতে হবে এবং আতংকিত না হয়ে ˆধর্য্য ধরতে হবে| অসাধু কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে| জেলা প্রশাসনের এমন কার্যক্রমকে ¯^স্তিদায়ক বলে ¯^াগত জানিয়েছেন অনেক ভোক্তা| তাাঁরা বলেছেন এই আ্যাপ তেল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দূওে সাহায্য করবে| জানা গেছে,আ্যাপের মাধ্যমে ˆবধ ন¤^রপ্লে&ট যুক্ত প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ৫০০ টাকার তেল দেয়া হচ্ছে| এরপর ৫ দিনের জন্য ওই ন¤^রটি ব্লক করে দেয়া হচ্ছে| ৫দিন পর ওই ন¤^রটি ¯^য়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে| অর্থাৎ প্রতি মোটরস&ইাকেলে ৫দিনের জন্য ৫০০ টাকার তেল পাচ্ছে| এরমধ্যে ওই মোটরসাইকেল জেলার অন্য কোন ফিলিং ষ্টেশনে তেল নিতে গেলে সংশ্লিস্টরা তা আ্যাপে বুঝুতে পারবেন এবং ওই মোটরসাইকেলে তেল দেয়া হবে ন| এমনকি ওই মোটরসাইকেলটি শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে| সেটির ব্লক সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়া হতে পারে| আরও জানা গেছে, তেল নেবার সময় ন¤^রপ্লেটের ন¤^রটি মূখ্য বিষয় হলেও চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স,মোটরসাইকেলের রেজিষ্ট্রেশন সনদ সহ অন্য সকল ˆবধ কাগজপত্র রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে| যাতে তেল নেবার সময় পুলিশ বা ম্যাজিষ্টেট কর্তৃক চেকিং এর মুখোমুখি হলে সে সব প্রদর্শণ করা যায়| প্রতি পাম্পে ট্যাগ অফিসার ও একজন স্টাফের নিকট এই আ্যাপ রয়েছে| এসময় আ্যাপ উদ্ধোধন কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন সহ জেলা ও উপজেলা প্রমাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্টেটগণ| উল্লেখ্য, এর আগে জেলার শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় এই আ্যাপ চালু করা হয়| জেলায় ৩২টি ফিলিং ষ্টেশন রয়েছে|

গোমস্তাপুরে ফুটবলার ইউসুফ আলীকে সংবর্ধনা মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ অনূর্ধ্ব -২০ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিযন বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ইউসুফ আলীকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে গোমস্তাপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা। বুধবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ মাঠে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কৃতি ফুটবলার এনামুল হক, বাফুফের অনুর্ধ-১৯ দলের কোচ আব্দুর রাজ্জাক, গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম, সংবর্ধিত ফুটবলার ইউসুফ আলীর বাবা গোলাম মোর্তুজা,রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের প্রভাষক আতিকুর রহমানসহ এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।এরআগে রহনপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে পৌর এলাকা সড়ক প্রদক্ষিন করা হয়। উল্লেখ্য সাফ জয়ের পর গত সোমবার বিকেলে বিমানযোগে রাজশাহী এসে পৌঁছান ফুটবলার ইউসুফ আলী। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বন্ধু ও পরিবারের লোকজন। রাতে সে তার জন্মস্থান রহনপুর পৌর এলাকার কলেজ পাড়ায় এসে পৌঁছায়। বুধবার তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হলো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইট বোঝাই ট্রলি উল্টে চালক নিহত, সহোদর আহত শিবগঞ্জ উপজেলায় ইটভর্তি একটি ট্রলি উল্টে আব্দুস সামাদ নামে ওই ট্রলির চালক নিহত হয়েছেন| তিনি শিবগঞ্জের চককীর্তি ইউনিয়নের রানীবাড়ি চাঁদপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে| একই ঘটনায় আহত হয়েছেন সামাদের সহদোর ছোটভাই মো সারোয়ার| তাঁকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে| স্থানীয় ও পুলিশ সুত্র জানায়, আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনগর মোড় এলাকায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলিটি উল্টে গেলে এর নিচে চাপা পড়েন চালক সামাদ ও তাঁর ভাই সারোয়ার| তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সামাদকে মৃত ঘোষণা করেন| শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস.এম শাকিল হাসান বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে| ঘটনার তদন্ত চলছে| এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীণ বলে জানায় পরিদর্শক|
চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে আরও ৩৯ রোগি হাসপাতালে ভর্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে আরও ৩৯ রোগি হাসপাতালে ভর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে আরও ৩৯ রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| ফলে জেলায় এখন ভর্তি রোগি ৭৮| এনিয়ে গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত জেলা ৫০২ জন হাসপাতালে সন্দেহজনক হামের রোগি হিসেবে ভর্তি হয়েছে যাদের বেশিরভাগই শিশু| ভর্তিদের মধ্যে ৪ জন শিশু জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে| বাকী ২ শিশু রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ডের পর সেখানে মারা গেছে| সকল মৃত্যুর ঘটনা মার্চ মাসের| জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ভর্তি রোগির সংখা ৪৮৪ জন| যার মধ্যে আজ ভর্তি হয়েছে ৩৮ জন| জেলা হাসপাতালে ভর্তি রোগি এখন ৭৩| রোগি ভর্তির চাপ এখনও অব্যহত রয়েছে| সিভিল সার্জন ডা. এ,কে,এম সাহাবুদ্দীন বলেন, জেলা থেকে এ পর্য়ন্ত সন্দেহজনক ১০১ জনের নমুণা পরীক্ষা করে ৩৯ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে(কনফার্ম) যা পরীক্ষার প্রায় ৪০ শতাংশ| সন্দেহজনক ৬ মৃত্যুর কোনটি কনফার্ম হামের রোগি নয়| তবে তাদের মাত্র ১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে| তবে সিভিল সার্জন আরও বলেন, আরও কয়েকটি মৃত্যু নিয়ে জনমনে সন্দেহ থাকলেও বিশ^ ¯^াস্থ্য সংস্থা(হু) সেগুলো সন্দেহজনক মৃত্যুর তালিকায় রাখে নি| সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শিবগঞ্জ উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ও গোমস্তাপুরে ২ জন রোগি ভর্তি রয়েছে| ফলে জেলায় ভর্তি রোগি এখন ৭৮| এনিয়ে জেলায় জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ৫০২ জন রোগি ভর্তি হয়েছে| এ দিকে জেলার সদর,শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় হামের বিশেষ টিকাদান চলছে| গত ৫ এপ্রিল(রোববার) চালু হওয়া এ কর্মসূচীতে মানুষের আগ্রহ প্রচুর| বুধবার পর্যন্ত ৪১ হাজার ৩৪৫ শিশু টিকা নিয়েছে| জেলার ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮৭ রোগিকে এ টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র|
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরসহ ৪ উপজেলায় হালকা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। আজ বিকেলে হওয়া এ বৃষ্টিতে আমসহ মাঠকৃষির কিছু ক্ষতি হলেও লাভের পরিমাণ বেশি বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও নাচোলে উপজেলায় বৃষ্টি হয়েছে, কোথাও কোথাও হালকা ও ছোট আকারে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শিলাবৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও এ বৃষ্টিতে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। তিনি পরামর্শ দেন, যেসব এলাকায় শিলাবৃষ্টি বেশি হয়েছে, সে সকল এলাকার চাষিরা আমবাগানে একটি ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে পারেন, ফলছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এখনো ওষুধ স্প্রে করে না থাকলে, তারা একটি কীটনাশকও স্প্রে করতে পারেন। জেলাজুড়ে কী পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, সেই সাথে মাঠকৃষির ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, আগামীকাল (আজ বুধবার) বিস্তারিত জানাতে পারবেন তিনি জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ক্ষতির শংকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ক্ষতির শংকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি| আজ সকাল থেকে রোদজ্জল থাকার পর বিকেল ৩টার পর থেকে মেঘডাকা শুরু হয়| কালো হয়ে ওঠে আকাশ| বিকাল ৪টার পর থেকেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়| এরপরই প্রথমে হালকা শিল পড়তে শুরু করে| সোয়া ৪টা নাগাদ মাঝারি শিলাবৃষ্টি শুরু হয় যা ক্রমাš^য়ে কোথাও কোথাও মাঝারি বৃষ্টির সাথে কয়েক মিনিটের ভারী শিলাবৃষ্টিতে রুপ নেয়| শিল পড়ে সাদা চাদও হয়ে যায় মাটি| সাড়ে ৪টার পর শিলাবৃষ্টি কমতে থাকে এবং পৌনে ৫টা নাগাদ বৃষ্টি ও সাথে শিলপড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়| এলাকা ভেদে জেলায় প্রায় ১৫ থেকে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত হালকা থেকে ভারী শিল পড়েছে| এদিকে শিলাবৃষ্টির পর জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম এবং মাঠে শিষ ফুটতে থাকা বোরো-ইরি ধান এবং জমিতে থাকা অল্প গম,বুট,যব.মসুর,খেসারীর মত রবিশষ্য নিয়ে ক্ষতির শংকা করছেন কৃষকরা| শিলাবৃষ্টির সময়ই ঝরে গেছে অনেক আমের গুটি| গাছের নীচে বিছিয়ে আছে গুটিগুলো| আনেক গুটি ফেটে গেছে| জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন,মাঠ থেকে পুরো খবর আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও করণীয় বলা যাবে| সমগ্র জেলাজুড়ে পাঁচ উপজেলাতেই শিলাবৃষ্টি হয়েছে| বেশি হয়েছে শিবগঞ্জ এবং কম হয়েছে ভোলাহাট উপজেলায়| সদরের চরাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি তেমন হয় নি| বিছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি শিল পড়ায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না| তবে মাঠ থেকে রিপোর্ট আসলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে| তবে আমে কিছু ক্ষতি হতে পারে| যে সব গমে পানি পড়েছে সেগুলো বীজের জন্য রাখা যাবে না| তিনি আরও বলেন, তবে শুধু বৃষ্টি সকল ফসলের জন্য উপকারী হবে| সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, আম ও ধানে দ্রুত ছত্রাকনাশক দিয়ে ক্ষতি কমানো যায়| তবে তা সবস্থানে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে| আমে কিছু ক্ষতি হবে বলে তিনি ¯^ীকার করেন| সদরের বিদিরপুর গ্রামের আমচাষী বিষু মিয়া বলেন, এবার আমের গুটি মুকুলের তুলনায় কম| এর উপরে শিলাবৃষ্টিতে গুটি আমের ক্ষতি হবে| কয়েকদিনে ঝরে যাবে বেশিরভাগ আঘাতপ্রাপ্ত আম| আমে দাগ হবে| ফলন কমবে| সদরের রামকৃষ্টপুর গ্রামের আমচাসী মন্টু হাজী বলেন, আমের গুটি ছোট থাকায় ক্ষতি কিছু কম হবে| জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,জেলায় ৪৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে| আম উৎপাদন এলাকা হল ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর| গম চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে যার ৮০ শতাংশ কাটা সম্পন্ন হয়েছে|