২৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক দূরপাল্লার বাস চলাচল

২৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক দূরপাল্লার বাস চলাচল রাজশাহী ও নাটোরের বাস মালিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধ থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটের দূরপাল্লার বাস চলাচল আবার শুরু হয়েছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বুধবার দুপুর পৌনে ২টা থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নাটোর হয়ে রংপুর রুটে অতিরিক্ত বাস সংযোজনকে কেন্দ্র করে নাটোর ও রাজশাহীর বাস মালিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে নাটোর-রাজশাহী রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে এর প্রভাব পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকেও দূরপাল্লার বাস চলাচলে। একদিন পর বুধবার দুপুরে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বাস মালিকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সমঝোতা হওয়ায় পুনরায় বাস চলাচল শুরু হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা বাস টার্মিনালের টিকিট কাউন্টার মাস্টারদের সংগঠন ‘ঢাকা কোচ মাস্টার সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক এবং দেশ ট্রাভেলসের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অ্যাপস-নিয়ন্ত্রিত তেল বিক্রি: দাম বাড়লেও কমেনি ভোগান্তি

অ্যাপস-নিয়ন্ত্রিত তেল বিক্রি: দাম বাড়লেও কমেনি ভোগান্তি জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণের পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি। পূর্বের মতোই সকাল থেকে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে প্রতিদিন জ্বালানি সরবরাহ না দেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বুধবার জেলা শহরের মেসার্স এমদাদুল হক অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। আগের মতোই অ্যাপসের মাধ্যমে মোটরসাইকেলের নম্বর এন্ট্রি করে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলকে ৭০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। বেলা ১২টার দিকে লাইন কিছুটা ছোট হলেও প্রচণ্ড রোদের মধ্যেই চালকদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। দোগাচ্ছির ইব্রাহিম নামের এক চালক জানান, তিনি দেড় ঘণ্টা লাইনে থাকার পর তেল পেয়েছেন। বিশাল নামের এক গ্রাহক বলেন, দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি তেল পান। ফিলিং স্টেশনটির ব্যবস্থাপক শামসুল আলম জানান, আগের নিয়মেই অ্যাপসের মাধ্যমে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন নিয়মিত তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে এই ভোগান্তি থাকত না। “একদিন পাচ্ছি, তো একদিন পাচ্ছি না,”—যোগ করেন তিনি। এদিকে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সেবাখাতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শহরের শান্তি মোড় এলাকায় অটোরিকশা যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে মাহিন্দ্রা চালকরা ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে নিত্যপণ্যের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে অনেক পরিবহন মালিক গাড়ি রাস্তায় নামাচ্ছেন না, ফলে খেত থেকে সবজি আড়তে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এর ফলে বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল হওয়ায় ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সেচ পাম্পের খরচও বেড়ে যাবে, যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াবে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, বর্তমান আম ও বোরো মৌসুমে এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি উৎপাদন ব্যয়ে প্রভাব ফেলবে। কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “তেলের দাম বাড়লে সারের দামও বাড়ে, আবার গাড়ি ভাড়াও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত আমরা কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হই।” এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসের নেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে তেলের দাম বাড়ানো হলেও বাস ভাড়া এখনও বাড়ানো হয়নি। তবে শিগগিরই ভাড়া বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহভাজন আরো ২৫ শিশু ভর্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহভাজন আরো ২৫ শিশু ভর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে আরো ২৫ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে| তাদের মধ্যে ১৩ জন ছেলে ও ১২ জন কন্যাশিশু রয়েছে| গত ২৪ ঘণ্টায় তাদেরকে ভর্তি করা হয়| আজ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের হামবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এর আগের দিন ৪৩ জন ছেলে ও ৪৯ জন কন্যাশিশুসহ ৯২ জন শিশু ভর্তি ছিল| তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ২৬ জন ছেলে ও ১৪ জন কন্যাশিশুসহ ৪০ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে| এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৪ জন ছেলে ও ১ কন্যাশিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে| বতর্মানে ভর্তি শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ জনে| তাদের মধ্যে ২৬ জন ছেলে ও ৪৬ জন কন্যাশিশু রয়েছে| হামের সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হবার পর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ও নিচতলায় হাম আইসোলেশন কক্ষে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে|

চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স অভিযানে হেরোইনসহ ৮ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার; আটক ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স অভিযানে হেরোইনসহ ৮ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার; আটক ২ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায় জেলা মাদকদ্রব্য কার্যালয়ের উদ্যোগে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব ও পুলিশসহ টাস্কফোর্স অভিযানে, ১৫৮ গ্রাম হেরোইন ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে| গ্রেপ্তার কৃতরা হলেন সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুরহাট দিহির মাঠ এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম ভুট্টু এবং তার সহযোগি ও প্রতিবেশি এনামুল হকের মেয়ে আমেনা খাতুন| জেলা মাদকদ্রব্য কার্যালয় সূত্র জানায়, আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রামচন্দ্রপুর হাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়| অভিযানে প্রথমে ভুট্টুকে তার বাড়ির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়| পরে তার স্বীকারোক্তিতে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন আমেনা| এ সময় তাদের হেফাজত থেকে জব্দ হয় ১৫৮ গ্রাম হেরোইন ও মাদক বিক্রির ৮ লক্ষ ২০ হাজার ৯১৪ টাকা| জেলা মাদকদ্রব্য কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা করে আসামীদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে|

সদর উপজেলার ইসলামপুরে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নারী সমাবেশ 

সদর উপজেলার ইসলামপুরে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নারী সমাবেশ  জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচী প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়ন শীর্ষক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে| আজ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়| জেলা তথ্য অফিসার রূপ কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে নারী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ| এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কাঞ্চন কুমার দাস, ইসলামপুর প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা| অনুষ্ঠানে বক্তারা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকের অপব্যবহার প্রতিরোধ, যৌতুক প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন ও কন্যা শিশুর প্রতি ˆবষম্য, বৃক্ষরোপন, পলিথিন বর্জন, শিশুদের মোবাইলের অপব্যবহার প্রতিরোধ, সামাজিক মূল্যবোধ গঠন, সুষম খাদ্য গ্রহণ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন| সেখানে শিক্ষকমন্ডলী, নারী, পুরুষ, শিশুসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন|

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত, অপরজন আহত, দেড়ঘন্টা রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত, অপরজন আহত, দেড়ঘন্টা রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে পেছন থেকে দ্রুতগতির ট্রাক চাপায় আবির নামে বাইসাইকেল আরোহি এক কিশোর নিহত হয়েছে| সে শহরের শাহিবাগ মহল্লার সুজনের ছেলে| একই ঘটনায় আহত হয়েছে একই বাইসাইকেল আরোহি আবু তালহা নামে অপর এক কিশোর| সে একই মহল্লার পলাশ আলমের ছেলে| তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেবার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে| ঘটনার পরপরই ট্রাকটি পালিয়ে গেলেও ক্ষুদ্ধ জনতা অন্তত: দেড়ঘন্টা রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে| পরে উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মহাসড়কে যান চলাচল ¯^াভাবিক হয়| স্থার্নীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়ক ধরে একই বাইসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিল প্রতিবেশী দুই বন্ধু| এসময় হরিপুর নামক স্থানে রাজশাহীর দিক থেকে আসা সোনামসজিদ স্থলবন্দরগামী একটি দশ চাকাট্রাক পেছন থেকে বাইসাইকেলটিকে পেছন থেকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় আবির| গুরুতর আহত হয় আবু তালহা| সদর থানার ওসি একরামুল হক বলেন, পুলিশ ট্রাকটি আটকে অভিযান শুরু করেছে| আবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে| ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে| এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীণ বলেও জানান ওসি|

প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন হাম, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালটির পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের সামনের মেঝেতেও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মায়েদের বসে থাকতে দেখা গেছে। পুরাতন ভবনের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়াই কষ্ট। সবখানেই রোগী ও তাদের স্বজনরা বসে বা শুয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় হাম আইসোলেশন কক্ষে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় কিছুটা কমেছে। কারণ হিসেবে জানা গেল, তুলনামূলক অবস্থা ভালো শিশু রোগীদের নিচতলায় নতুন হাম আইসোলেশন কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সুস্থ হয়ে ওঠা শিশুদের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান হ্যান্ডমাইকে রোগীর স্বজনদের হাম বিষয়ে সচেতন করছেন। ছাড়পত্র পাবার পর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন— হাম থেকে সুস্থ হয়ে গেলেও শরীরের ভেতরে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নিতে হবে। এজন্য শিশুদের ফলমূলসহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। বাড়িতে নিয়ে যাবার পর যদি কোনো কারণে শিশুর অবস্থা খারাপ হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে তৃতীয় তলায় মায়েদের অসুস্থ শিশুদের বুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ডাক্তার এলে শিশুদের চিকিৎসা করাবেন বলে তারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে কক্ষটি আগের মতো ভ্যাপসা নেই। কারণ অনেক রোগী নিচতলায় চলে গেছে। সদর উপজেলার ইসলামপুর থেকে আসা এক মা জানান, তার ৮ মাস বয়সী সন্তান নিশানকে বুধবার রাতে হাম সন্দেহভাজন হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুরের আরেক মা জানান, ২ বছর ৫ মাস বয়সী মেয়ে তাহমিনাকে কয়েকদিন আগে ভর্তি করেছেন। হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ঢুকতেই দেখা গেল, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে মেঝেতে বসে আছেন উপররাজারামপুরের এক মা। কথা হলো চকআলমপুরের এক মায়ের সঙ্গেও। তিনি জানান, এক বছরের শিশু রায়ান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে গত রবিবার ভর্তি করেন। ওষুধপত্র ঠিকমতো পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, কিছু পাচ্ছেন আবার কিছু কিনতেও হচ্ছে। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সন্দেহভাজন শিশু হাম রোগী ভর্তি আছে ৭৩ জন, শ্বাসকষ্টজনিত ১৭ জন এবং ডায়রিয়া রোগী ৮৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জ্বরসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো অনেক রোগী ভর্তি আছে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে এত রোগীকে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ৯ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে চক্ষু ও ফিজিক্যাল বিভাগে কনসালটেন্ট প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন— জনবল সংকটের পরও হাম সন্দেহভাজন শিশুদের কথা ভেবে নতুন আরেকটি কক্ষকে হাম আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে চালু করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বুধবার বিকেলে বেলুন উড়িয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। বিসিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার। সূচনা বক্তব্য দেন— বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। মেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ জন উদ্যোক্তা ও জেলার বাইরের আরো ২৫ জনসহ ৫০ জন উদ্যোক্তা ৫০টি স্টলে লোকজ পণ্যসহ নানান ধরনের পণ্য বিক্রয় করছেন। পাশাপাশি এবারের মেলায় শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নাগরদোলা, ডাইনোসর ট্রেন, জাম্পিংসহ বিভিন্ন ধরনের রাইডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলোচনাকালে জেলা প্রশাসক দেশের উন্নয়নে বিসিক ও উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম নিয়ে ছোট ও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি আম থেকে নানান ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরির পাশাপাশি আমের আঁটি নিয়েও কাজ করার আহ্বান জানান। এর গুণাগুনও তুলে ধরেন তিনি। পরে অতিথিবৃন্দ স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিসিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় এই মেলার আয়োজন করেছে।

অংশীজনদের ওরিয়েন্টেশন সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একসাথে কাজের আহ্বান

অংশীজনদের ওরিয়েন্টেশন সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একসাথে কাজের আহ্বান বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদে সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়| স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ (SSBC) প্রকল্প, World Vision Bangladesh -এর আয়োজনে এবং UNICEF – এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মী, যুব প্রতিনিধি এবং শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করেন| সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উত্তম মণ্ডল| এছাড়া বক্তব্য দেন মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মেনুয়ার জাহান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইয়াসমিন খাতুন, জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মুখতার আলী, এবং মানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম| সভায় বক্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন— “আমরা সবাই সচেতন, তারপরেও কেন বাল্যবিয়ে হচ্ছে?” আলোচনায় উঠে আসে, আইন সম্পর্কে জানা থাকলেও সামাজিক চাপ, দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এখনও বাল্যবিবাহ বন্ধ হচ্ছে না| জনপ্রতিনিধি মোসা. ইয়াসমিন খাতুন বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরে বলেন, অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে| পেশ ইমাম মো. মুখতার আলী ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরোধিতা করেন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান| বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং পরিবার ও সমাজে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়| এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়| প্রকল্প ব্যবস্থাপক উত্তম মণ্ডল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহের হার এখনও বেশি থাকার কারণ বিশ্লেষণ করে তা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান| তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে|” পাশাপাশি তিনি শিশুদের হাম (Measles) টিকা গ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন| সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন|

জেলার হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৪০ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০৪ রোগি

জেলার হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৪০ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০৪ রোগি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাম সন্দেহে নতুন করে ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| জেলা হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, আজ জেলা হাসপাতালে নতুন করে ৩৯ রোগি ভর্তি হয়েছে| বর্তমানে হাসপাতালে রেকর্ড ১০৩ জন সন্দেজনক হাম রোগি| যার বেশিরভাগই শিশু| হাম সন্দেহে প্রচুর রোগি এখনও আসছে| ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ড, ডায়ারিয়া,পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের পর হাসপাতালের চালু না হওয়া ডায়ালাইসিস ইউনিটকে আইসোলেশন ইউনিট করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে| প্রচুর রোগি আসছে| এ অবস্থায় ব্যবস্থা করে আরও একটি আইসোলেশন ইউনিট ১/২ দিনের মধ্যেই চালু করা হবে| অপরদিকে সিভিল সার্জন ডা. এ,কে,এম সাহাবুদ্দীন বলেন, জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১ জন রোগি ভর্তি হয়েছে| এ নিয়ে পূর্বের ভর্তিসহ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন ১০৪ রোগি চিকিৎসাধীন| জেলার হাম পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ| সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলায় হাম সন্দেহে গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ৭৩০ রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| যার মধ্যে ৭০২ জন শুধুমাত্র জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| শুধু জেলা হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০২ রোগি ভর্তি রয়েছে| জেলায় সন্দেহজনক হামে আক্রাস্ত ৬ শিশু এখন পর্যন্ত মারা গেছে| মার্চে সকল শিশুর মৃত্যু হয়| এদিকে জেলা সদর,শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে চলছে হামের বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচী| বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ওই ৩ উপজেলার টার্গেট ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুর মধ্যে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩১১ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে যা প্রায় ৭৩ শতাংশ| আগামী ২০ এপ্রিল থেকে জেলার বাকী দুই উপজেলা নাচোল ও গোমস্তাপুরে টিকাদান শুরু হবে| এদিকে এ পর্যন্ত জেলা থেকে পাঠানো ১৭৩ জনের নমুণা পরীক্ষা করে ৪৩ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে|