চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে আলোচনা সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নির্মূলে টিকাদান কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন এই সভার আয়োজন করে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ। সভায় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা ক্রয় করার জন্য ২ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। এসময় তিনি বলেন, শুক্রবার প্রয়োজনে ডাক্তারদের ছুটি বাতিল করবেন। কোনোভাবেই চিকিৎসা সেবা ব্যবহত না হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপরও জোর দেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন— রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। এসময় পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান। জেলার হাম বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেন সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন, জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান। জেলার হামের সার্বিক চিত্র মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিবুল ইসলাম। ‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ বলেন, হাম আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে লক্ষে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে দিকনির্দেশনা এবং প্রতিটি হাসপাতালে হাম চিকিৎসা কর্নার স্থাপনের জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে পরামর্শ দেন দিনি। বিভাগীয় কমিশনার বলেন— অর্থের অভাব নেই। যেখানে যতটুকু দরকার আপনারা আমাদের জানান, সরকার ব্যবস্থা করবে। অর্থ নেই বলে কোনো অজুহাত শোনা হবে না। ডাক্তার ও নার্সের ঘাটতি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ইতোমধ্যে নিজের ব্যবস্থাপনায় কয়েকজন ডাক্তার দিয়েছেন, আমি অনুরোধ করব তিনি নার্সেরও ব্যবস্থা করে দেবেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগী যেতে পারে, তাদেরকেও হামের জন্য আলাদা কর্নার করার জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিদের্শনা প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বলেন, আমাদের জেলা পরিষদের প্রশাসক মহোদয়ের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, ২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালকে একটি মডেল হাসপাতাল করার। আমাদের অনেক যন্ত্রপাতিও আছে কিন্তু জনবলের অভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার। ‎সভায় জানানো হয়, আগামী রবিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া হামের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮৭০ জন শিশুকে হামের টিকা দেয়া হবে। আরো জানানো হয়, এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৬ জন শিশু মারা গেছে। তবে তাদের মধ্যে স্যাম্পল সংগ্রহের আগেই মারা গেছে ৫ জন এবং একজনের স্যাম্পল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল কিন্তু পরীক্ষায় রেজাল্ট এসেছে নেগেটিভ। সভায় সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সকল উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসারসহ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১৭ শিশু হাসপাতালে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১৭ শিশু হাসপাতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমছে না হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিদিন বেশ কিছু শিশু নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এ নিয়ে রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছে স্বাস্থ্য বিভাগকে। জেলা প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা হাসপাতালের হামবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদেরকে হামবিষয়ক আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এই ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই হাসপাতালে পূর্বে রোগী ভর্তি ছিল ৬৭ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ২৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৮ জন শিশু রোগী। হামের এই বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশীদ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, হামের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে— প্রথমে জ্বর হয় ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম এক-দুই দিন তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে উঠতে পারে। চোখ লাল হয়ে যেতে পারে, চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে এবং হাঁচিও হতে পারে। শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় বিশেষত শিশুরা কিছুই খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলাশহরের অক্ট্রয় মোড়ে চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহীনূর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিনূর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রণব কুমার দাশ। বক্তারা বলেন, যেখানে সুযোগ রয়েছে সেখানে গাছ লাগিয়ে এই কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে একটি সবুজ ও বৃক্ষসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গে আরও ২৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের উপসর্গে আরও ২৭ শিশু হাসপাতালে ভর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন করে ২৫ থেকে ৩০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। জেলা হাসপাতালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ১৬ জন ছেলে ও ১১ জন মেয়ে। এর আগের দিনও একই সংখ্যক—২৭ জন শিশু—একই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, হামের পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। হামের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া, যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিশুরা সাধারণত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারে অনীহা দেখা যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সী বালক-বালিকাদের জন্য মাসব্যাপী সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২০২৬-এর আওতায় জেলা ক্রীড়া অফিসের উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সুইমিং পুলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহমুদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক স্বপন কুমার কর্মকার। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রশিক্ষক মো. খালেকুজ্জামান। এই কর্মসূচিতে মোট ৩০ জন সাঁতারু অংশগ্রহণ করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, ক্রীড়া সংগঠকসহ জেলা ক্রীড়া অফিস ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নবাগত জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী। আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদারের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক উজ্জল কুমার ঘোষ, জেলা তথ্য কর্মকর্তা রূপ কুমার বর্মণসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ। স্বাগত বক্তব্য শেষে, সভায় উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলায় তেল সংকটে সৃষ্ট সমস্যা, বালুমহল, বিভিন্ন অফিসে কাজের জন্য অবৈধ লেনদেন, আমের মৌসুমে বাগানে অবৈধ ইটভাটা, আম সংরক্ষণ, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন, মুক্ত সাংবাদিকতা ও তথ্য প্রদানে সহযোগিতা, শহরের রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজি, সোনামসজিদ স্থলবন্দরের গাড়িগুলোতে চাঁদাবাজি, নিয়মিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়, জেলার বিভিন্ন বাজারে মুল্যবৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার ও বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা, মাদকের ব্যভহার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ভূমিসেবা, বিশ্বরোড় মোড়ে আমচত্বর, জেলায় গরু খামারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের গরুচুরি ও সমস্যা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা ও পানি সংকট, বর্তমানে জেলায় হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভোগের করণীয়, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, আঞ্চলিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা, গণমাধ্যমের জন্য সঠিক তথ্য সরবরাহ ও সংরক্ষণ, সার ডিলার, সংকট, সমস্যা, পর্যটন খাত ইত্যাদি। সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। শেষে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো: মুসা জঙ্গী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রথম আলোর বিভাগীয় প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন দিলু, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা মন্টু, দৈনিক গৌড়বাংলা ও রেডিও মহানন্দার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিব হোসেন, চাঁপাই দর্পণের প্রকাশক ও সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, সাপ্তাহিক সোনামসজিদের সম্পাদক জোনাব আলী, যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার মনোয়ার হোসন জুয়েল, ডাবলু কুমার ঘোষসহ জেলায় বিভিন্ন মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ। শেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন নবাগত জেলা প্রশাসক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পের তেল মজুতের সীমা নির্ধারণে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাম্পের তেল মজুতের সীমা নির্ধারণে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল মজুত বা ‘ডেড স্টক’ নিয়ে গ্রাহক ও পাম্প মালিকদের মধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে মাঠে নেমেছে বিএসটিআই। তেলের রিজার্ভ ট্যাংকে কতটুকু তেল অবশিষ্ট রাখা বাধ্যতামূলক—তা নির্ধারণে রাজশাহী বিএসটিআই’র একটি বিশেষজ্ঞ দল পাম্পগুলো পরিদর্শন শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলার বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত মেসার্স হোসেন পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দলটি ডিজেল ও পেট্রোলের রিজার্ভ ট্যাংক পরীক্ষা করে। পরিদর্শন শেষে সেখানে ডিজেলের জন্য ১৬৩২ লিটার এবং পেট্রোলের জন্য ৭৫০ লিটার ‘ডেড স্টক’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। রাজশাহী বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক আজিজুল হাকিম জানান, ফিলিং স্টেশনে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সংরক্ষণ করা প্রযুক্তিগতভাবে জরুরি। এই পরিমাণের নিচে নেমে গেলে পাম্প পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় গ্রাহকরা ট্যাংক প্রায় খালি হয়ে গেলেও মেশিন চালু রাখার দাবি করেন, কিন্তু এতে মিটার রিডিং ঠিক থাকলেও গ্রাহক প্রকৃত পরিমাণ তেল নাও পেতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি কমাতে ইতোমধ্যে রাজশাহীর বিভিন্ন পাম্পে ‘ডেড স্টক’ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একই কার্যক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জেও চলছে। পরিদর্শনের সময় বিএসটিআই’র মেট্রোলজি বিভাগের পরিদর্শক জয় কুমার ঘোষ, সংশ্লিষ্ট পাম্পের ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান এবং পাম্পের স্বত্বাধিকারী আলমগীর মুরশেদ শিমুলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে হাম, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা সেবায় চাপ বেড়েছে। চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোট ২৯৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যা নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অনেক বেশি। এর মধ্যে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ২৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে—যাদের মধ্যে ১৯ জন ছেলে ও ৮ জন মেয়ে। আগের দিন ভর্তি ছিল ৭৪ জন। সুস্থ হয়ে ১৩ জন হাসপাতাল ছেড়েছে, আর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হামে আক্রান্ত ৭৭ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঢাকার মহাখালীতে পাঠানো নমুনার মধ্যে ৩১টি রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব শিশু নিয়মিত টিকা নেয়নি, তাদের মধ্যেই বেশি হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী মে মাসে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালু হবে। এবার ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হবে, যেখানে আগে ৯ ও ১৫ মাস বয়সে দুই ধাপে টিকা দেওয়া হতো। অন্যদিকে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতকের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন নবজাতক ভর্তি ছিল, নতুন করে এসেছে ৭ জন। সুস্থ হয়ে ১২ জন ছাড়পত্র পেয়েছে, বর্তমানে ভর্তি আছে ২৫ জন। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত একদিনে ২৯ জন এই সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কম নয়। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানে ৬৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় গুরুতর রোগীদের দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড, নবজাতক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। স্বজনদের উপস্থিতিতে ওয়ার্ডগুলোতে ভ্যাপসা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে জ্বর, শরীর ব্যথা, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া উল্লেখযোগ্য। আক্রান্ত শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন  রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কসিমুদ্দীনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বিকেলে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে দাফনের পূর্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বালিয়াডাঙ্গা ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে স্থানীয় কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে রোববার তিনি পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং স্ট্রোক করেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। তিনি দুই ছেলে, চার মেয়ে এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। মো. কসিমুদ্দীন ১৯৪০ সালের ১ জুলাই বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে বীরত্বের পরিচয় দেন। ভোলাহাটের মুশরিভুজা বিদ্যালয়ে সংঘটিত সম্মুখযুদ্ধের বর্ণনা নিয়ে প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’ গ্রন্থে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন।

সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল

সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম, শ্বসকষ্টের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সবমিলিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৬৫০ জন রোগী ভর্তি আছেন বলে খোদ তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬ জন শিশু। তাদের মধ্যে ছেলে ১৩ জন ও মেয়ে ৩ জন। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ৭১ জন। তাদের মধ্যে ৪১ জন ছেলে ৩০ জন মেয়ে। তাদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায় ৭ জন ছেলে ও ৪ জন মেয়েসহ ১১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়া অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে ৭৪ জন রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ৪৫ জন ছেলে ও ২৯ জন মেয়ে রয়েছে। হামে আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু। সূত্রটি আরো জানায়, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৬৬ জন রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সিভিল সার্জন অফিসের ডায়রিয়া বিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে ৬৮ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে জেলা হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৬৯ জন রোগী। অপরদিকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯ জন রোগী। তাদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী রয়েছেন। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দেশের জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ব্যবস্থা চালু না থাকায় কোনো রোগীর অবস্থা খারাপ হলেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হামে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন— হামের পরীক্ষা একমাত্র ঢাকার মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে হয়। আমরা এখানকার রোগীদের স্যাম্পল সংগ্রহ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিদের কাছে দিচ্ছি। তারা মহাখালী নিয়ে যাচ্ছেন। পরীক্ষা রিপোর্ট তিন মাস পর পাওয়া যায়। কিন্তু ততদিন তো রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে থাকা যায় না। তাই আমরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র রয়েছে। তিনি আরো জানান, অন্যবার রোজার মাসে রোগীর সংখ্যা কমে যায়। কিন্তু এবার বাড়ছে। হাম ছাড়াও ডায়রিয়া ও শ্বসকষ্টজনিত রোগীও প্রচুর। বর্তমানে হামের রোগীদের জন্য ৮ জন নার্স নিযুক্ত করা হয়েছে এবং শিশু ওয়ার্ডে ২ জন বিশেষজ্ঞ ও ১ জন মেডিকেল অফিসারসহ তিনজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াটা পর্যন্ত রোগী দেখার সময় হলেও বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রোগী দেখছেন। বর্তমানে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৫০ জন। এদিকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান তার ফেসবুক আইডিতে রোগীদের অভিভাবকদের নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা আসলেই অদ্ভুত এক জাতি। ২ মাস আগে যখন ৫-৭টা ঝঁংঢ়বপঃবফ গবধংষবং (হাম) সাসপেকটেড হাম আক্রান্ত বাচ্চা ভর্তি থাকতো, তখন মাত্র এ কয়টা রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এই রোগের লক্ষণ কমতে বেশ সময় লাগে, এজন্য অভিভাবকরা অভিযোগ, ঝগড়া, অশালীন আচরণ করতেই থাকতেন। ডাক্তার, নার্সের সাথে ঝগড়া, বেড পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে অভিভাবকরা একে অপরের সাথে একরকম যুদ্ধে লিপ্ত হতেন। কিন্তু গত ৩ সপ্তাহে চিত্র বদলে গেছে। অভিভাবকরা রোগটা সম্পর্কে বুঝতে শিখেছেন, ধৈর্য ধরতে শিখে গেছেন। মনের ভিতর তীব্র ভয়, শঙ্কা থাকলেও ধৈর্য সহকারে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং হাসপাতালের নিয়ম মানছেন। অভিভাবক রা একে অপরকে সহযোগিতা করছেন, খাবার ভাগ করে খাচ্ছেন, বিছানা শেয়ার করছেন, একে অপরকে কাউন্সেলিং করছেন। অভূতপূর্ব চিত্র। মহান আল্লাহ এই অসুখ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।” প্রসঙ্গত, হামের লক্ষণের মধ্যে রয়েছে— প্রথমে জ্বর হয় ও শরীর ম্যাজ ম্যাজ করে বা হালকা ব্যথা লাগে। প্রথম এক-দুই দিন তীব্র জ্বরও হতে পারে। চোখ-মুখ ফুলে উঠতে পারে। চোখ লাল হয়ে যেতে পারে, চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে এবং হাঁচিও হতে পারে। শরীরে ছোট ছোট লালচে গুটি/ফুসকুড়ি দেখা দেয় এবং দ্রুতই তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ সময় বিশেষত শিশুরা কিছুই খেতে চায় না এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে।