প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন হাম, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালটির পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের সামনের মেঝেতেও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মায়েদের বসে থাকতে দেখা গেছে। পুরাতন ভবনের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়াই কষ্ট। সবখানেই রোগী ও তাদের স্বজনরা বসে বা শুয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় হাম আইসোলেশন কক্ষে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় কিছুটা কমেছে। কারণ হিসেবে জানা গেল, তুলনামূলক অবস্থা ভালো শিশু রোগীদের নিচতলায় নতুন হাম আইসোলেশন কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সুস্থ হয়ে ওঠা শিশুদের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান হ্যান্ডমাইকে রোগীর স্বজনদের হাম বিষয়ে সচেতন করছেন। ছাড়পত্র পাবার পর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন— হাম থেকে সুস্থ হয়ে গেলেও শরীরের ভেতরে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নিতে হবে। এজন্য শিশুদের ফলমূলসহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। বাড়িতে নিয়ে যাবার পর যদি কোনো কারণে শিশুর অবস্থা খারাপ হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে তৃতীয় তলায় মায়েদের অসুস্থ শিশুদের বুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ডাক্তার এলে শিশুদের চিকিৎসা করাবেন বলে তারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে কক্ষটি আগের মতো ভ্যাপসা নেই। কারণ অনেক রোগী নিচতলায় চলে গেছে। সদর উপজেলার ইসলামপুর থেকে আসা এক মা জানান, তার ৮ মাস বয়সী সন্তান নিশানকে বুধবার রাতে হাম সন্দেহভাজন হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুরের আরেক মা জানান, ২ বছর ৫ মাস বয়সী মেয়ে তাহমিনাকে কয়েকদিন আগে ভর্তি করেছেন। হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ঢুকতেই দেখা গেল, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে মেঝেতে বসে আছেন উপররাজারামপুরের এক মা। কথা হলো চকআলমপুরের এক মায়ের সঙ্গেও। তিনি জানান, এক বছরের শিশু রায়ান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে গত রবিবার ভর্তি করেন। ওষুধপত্র ঠিকমতো পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, কিছু পাচ্ছেন আবার কিছু কিনতেও হচ্ছে। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সন্দেহভাজন শিশু হাম রোগী ভর্তি আছে ৭৩ জন, শ্বাসকষ্টজনিত ১৭ জন এবং ডায়রিয়া রোগী ৮৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জ্বরসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো অনেক রোগী ভর্তি আছে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে এত রোগীকে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ৯ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে চক্ষু ও ফিজিক্যাল বিভাগে কনসালটেন্ট প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন— জনবল সংকটের পরও হাম সন্দেহভাজন শিশুদের কথা ভেবে নতুন আরেকটি কক্ষকে হাম আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে চালু করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বুধবার বিকেলে বেলুন উড়িয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। বিসিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার। সূচনা বক্তব্য দেন— বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। মেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ জন উদ্যোক্তা ও জেলার বাইরের আরো ২৫ জনসহ ৫০ জন উদ্যোক্তা ৫০টি স্টলে লোকজ পণ্যসহ নানান ধরনের পণ্য বিক্রয় করছেন। পাশাপাশি এবারের মেলায় শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নাগরদোলা, ডাইনোসর ট্রেন, জাম্পিংসহ বিভিন্ন ধরনের রাইডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলোচনাকালে জেলা প্রশাসক দেশের উন্নয়নে বিসিক ও উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম নিয়ে ছোট ও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি আম থেকে নানান ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরির পাশাপাশি আমের আঁটি নিয়েও কাজ করার আহ্বান জানান। এর গুণাগুনও তুলে ধরেন তিনি। পরে অতিথিবৃন্দ স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিসিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় এই মেলার আয়োজন করেছে।

অংশীজনদের ওরিয়েন্টেশন সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একসাথে কাজের আহ্বান

অংশীজনদের ওরিয়েন্টেশন সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একসাথে কাজের আহ্বান বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদে সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়| স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ (SSBC) প্রকল্প, World Vision Bangladesh -এর আয়োজনে এবং UNICEF – এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মী, যুব প্রতিনিধি এবং শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করেন| সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উত্তম মণ্ডল| এছাড়া বক্তব্য দেন মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মেনুয়ার জাহান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইয়াসমিন খাতুন, জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মুখতার আলী, এবং মানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম| সভায় বক্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন— “আমরা সবাই সচেতন, তারপরেও কেন বাল্যবিয়ে হচ্ছে?” আলোচনায় উঠে আসে, আইন সম্পর্কে জানা থাকলেও সামাজিক চাপ, দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এখনও বাল্যবিবাহ বন্ধ হচ্ছে না| জনপ্রতিনিধি মোসা. ইয়াসমিন খাতুন বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরে বলেন, অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে| পেশ ইমাম মো. মুখতার আলী ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরোধিতা করেন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান| বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং পরিবার ও সমাজে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়| এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়| প্রকল্প ব্যবস্থাপক উত্তম মণ্ডল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহের হার এখনও বেশি থাকার কারণ বিশ্লেষণ করে তা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান| তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে|” পাশাপাশি তিনি শিশুদের হাম (Measles) টিকা গ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন| সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন|

জেলার হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৪০ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০৪ রোগি

জেলার হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৪০ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০৪ রোগি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাম সন্দেহে নতুন করে ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| জেলা হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, আজ জেলা হাসপাতালে নতুন করে ৩৯ রোগি ভর্তি হয়েছে| বর্তমানে হাসপাতালে রেকর্ড ১০৩ জন সন্দেজনক হাম রোগি| যার বেশিরভাগই শিশু| হাম সন্দেহে প্রচুর রোগি এখনও আসছে| ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ড, ডায়ারিয়া,পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের পর হাসপাতালের চালু না হওয়া ডায়ালাইসিস ইউনিটকে আইসোলেশন ইউনিট করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে| প্রচুর রোগি আসছে| এ অবস্থায় ব্যবস্থা করে আরও একটি আইসোলেশন ইউনিট ১/২ দিনের মধ্যেই চালু করা হবে| অপরদিকে সিভিল সার্জন ডা. এ,কে,এম সাহাবুদ্দীন বলেন, জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১ জন রোগি ভর্তি হয়েছে| এ নিয়ে পূর্বের ভর্তিসহ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন ১০৪ রোগি চিকিৎসাধীন| জেলার হাম পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ| সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলায় হাম সন্দেহে গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ৭৩০ রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| যার মধ্যে ৭০২ জন শুধুমাত্র জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| শুধু জেলা হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০২ রোগি ভর্তি রয়েছে| জেলায় সন্দেহজনক হামে আক্রাস্ত ৬ শিশু এখন পর্যন্ত মারা গেছে| মার্চে সকল শিশুর মৃত্যু হয়| এদিকে জেলা সদর,শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে চলছে হামের বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচী| বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ওই ৩ উপজেলার টার্গেট ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুর মধ্যে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩১১ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে যা প্রায় ৭৩ শতাংশ| আগামী ২০ এপ্রিল থেকে জেলার বাকী দুই উপজেলা নাচোল ও গোমস্তাপুরে টিকাদান শুরু হবে| এদিকে এ পর্যন্ত জেলা থেকে পাঠানো ১৭৩ জনের নমুণা পরীক্ষা করে ৪৩ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে|

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুন উদ্দীপনায় পথচলার নির্মল আনন্দে বরণ করা হয়েছে বাংলা সন ১৪৩৩কে। পুরাতন গ্লানি মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে নতুর বছরকে নানা আয়োজনে বরণ করেছেন জেলাবাসী। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণিল শোভাযাত্রাটি বের হয়ে জেলাশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নজর কাড়ে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, মাথাল মাথায় ও কাস্তে হাতে কৃষক, মাছ ধরার জাল, কলসি কাঁকে গৃহবধূ, পাল্কি, গরুর গাড়িসহ আবহমান গ্রামবাংলার লোকজ নানা উপকরণ। সেই সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ঢাকঢোল, নানা রকমের প্রতিকৃতি, অংশগ্রহণকারীদের বৈশাখের বাহারি পোশাক আর কুলায় লেখা শুভ নববর্ষ ইত্যাদি। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নারী পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। শোভযাত্রা শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে শুরু হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। গাওয়া হয়— ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানটিসহ বৈশাখী গান। অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি, প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট, জাসাস শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন করে। এছাড়াও মঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত হয় দিন ব্যাপী লোকজ মেলা। জেলা প্রশাসন আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করা হয়। প্রয়াসের শিল্পীদের লাঠি খেলাসহ অন্যান্য উপস্থাপনা দর্শকদের মনজয় করে। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। এ সময় পুলিশ সুপার গৌতম কুমার ঘোষ, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদারসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিওসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াসের বৈশাখী শোভাযাত্রা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রয়াসের বৈশাখী শোভাযাত্রা চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাঁকমকপূর্ণ পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করেছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। এ উপলক্ষে বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের মিশেলে ভরপুর ছিল বৈশাখী শোভাযাত্রা। যার নেতৃত্ব দেন প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। শোভাযাত্রায় আকর্ষণ ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি। মঙ্গলবার সকালে বৈশাখী শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বেলেপুকুরে অবস্থিত প্রয়াসের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— প্রয়াসের পরিচালক (মানবসম্পদ প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ বিভাগ) ও রেডিও মহানন্দার স্টেশন ম্যানেজার আলেয়া ফেরদৌস, যুগ্ম পরিচালক নাসের উদ্দিন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবুল খায়ের খান, সহকারী পরিচালক মু. তাকিউর রহমান, কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ, ফিরোজ আলম, আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক গৌড় বাংলার বার্তা সম্পাদক সাজিদ তৌহিদসহ প্রয়াস, রেডিও মহানন্দা, প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট, প্রয়াস হাসপিটালসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তরা। বৈশাখী শোভাযাত্রা শেষে গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন— প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন। এসময় তিনি বলেন এই বছরে আমরা স্বল্প পরিসরে বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করেছি। বিগত দিনে আমরা এর চেয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করতে পেরেছিলাম। তার মধ্যেও আমরা উল্লেখ্যযোগ্য পরিসরে সহকর্মীরা ও আমাদের পরিবারের লোকজনরাও উপস্থিত হয়েছি সেটি আমাদের প্রেরণার জায়গা। হাসিব হোসেন আরো বলেন, উৎসব নতুন সম্পর্ক তৈরি করে, সোহার্দ বাড়ায়, সম্পর্ক আরো গভীর করে। আমার বিশ্বাস নববর্ষের আয়োজন গুলোর মধ্য দিয়ে এবং ছোট ছোট পরিসরে আয়োজন করে প্রয়াস পরিবার সামনের দিকে এগিয়ে যাবে সকলের সহযোগিতায়, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায়। তিনি আরো বলেন, আমাদের ভুল থাকবে সেখান থেকে আমরা শিক্ষা নিব। গতবছর আমাদের আয়োজনে হয়ত কিছু ভুল ছিল তবে সফলতাও ছিল, সেই সফলতা আমরা ধরে রাখব। এছাড়াও ব্যর্থতা বা ভুল সংশোধন করে সেটাকে জয় করব। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে যেমন খুশি তেমন সাজ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ১৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

বাল্যবিয়ে ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সংলাপ অনুষ্ঠিত

বাল্যবিয়ে ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সংলাপ অনুষ্ঠিত বাল্যবিয়ে ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রভাব বিস্তারকারী স্টেক হোল্ডার অংশীজনদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে| আজ সকালে সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়| স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল এন্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ প্রকল্প ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এই সংলাপের আয়োজন করে| অনুষ্ঠিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন নরেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহনেওয়াজ| এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন নাটোরের প্রাইমারি ইনস্ট্রাক্টর শাহাদাত হোসেন, শাহজাহান ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আব্দুল আউয়াল, রাজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম, মোল্লাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাদিকুল ইসলাম ও এসএসবিসি প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উত্তম মণ্ডল, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ¯^াস্থ্য ও সমাজকর্মী, অভিভাবক ও শিক্ষক মন্ডলীসহ সুধীজন|

স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের পরিকল্পনা সভা

স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের পরিকল্পনা সভা স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে চাই সমতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ’-এই প্রতিপাদ্যে কাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম| এ দুটি ফোরামের পরিকল্পনা সভা আজ সকালে জেলাশহরের বেলেপুকুরে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ের নকীব হোসেন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে| সভায় সভাপতিত্ব করেন নাচোল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান | সভায় সূচনা বক্তব্য দেন- প্রয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হাসিব হোসেন| সভা সঞ্চালনা করেন- স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফোকালপার্সন ও প্রয়াসের কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ফারুক আহমেদ| এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সহ সভাপতি বাবর আলী, তথ্যায়ন ও গবেষণা সম্পাদক সাজিদ তৌহিদ, যুব সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আবদুল ওয়াহেদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন মুক্তা, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার যুব ফোরামের স্বমন্বয়কারী রাফিউল ইসলামসহ ফোরামের অন্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন| সভায় নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি তানজিলা খাতুন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান মানিকসহ অন্যরা অংশ নেন| কর্মপরিকল্পনা সভার সহযোগী হিসেবে ছিলেন- প্রয়াসের সিনিয়র অফিসার শাহরিয়ার শিমুল| পরিকল্পনা সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে বেশ কিছু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়| উল্লেখ্য, স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিকার ও স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বচ্ছতা ˆতরি, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং সকল পর্যায়ে জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য সেবা খাতে টেকসই উন্নয়ন সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষে কাজ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম এবং যুব ফোরাম| এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ ও প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি|

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সন্দেহজনক হাম রোগী 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সন্দেহজনক হাম রোগী  দেশে গত মার্চ মাসে হঠাৎ করেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে হাম। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৬০২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রোববার (১২ এপ্রিল) নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৯ জন রোগী। এদিকে, জেলার ১২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার প্রায় ৩৬ শতাংশ। সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম সাহাবুদ্দীন জানান, ঢাকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমর্থিত দেশের একমাত্র পরীক্ষাগার—ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরি (এনপিভিএল)—এসব নমুনা পরীক্ষা করছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ নমুনা আসায় পরীক্ষাগারে চাপ বেড়েছে, ফলে রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ চলছে। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে পাঠানো ৩৫টি নমুনার মধ্যে ১৫টি পজিটিভ এসেছে, যা প্রায় ৪৩ শতাংশ। এছাড়া আরও শতাধিক নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮টি গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে; বাকিগুলো পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, শুরুতে আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু, বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী ছিল। তবে বর্তমানে অল্পসংখ্যক প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির সুফল পেতে অন্তত এক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক এবং সংক্রমণ আরও কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডা. মশিউর রহমানের মতে, শুধু টিকাদানে ঘাটতি নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুকভিত্তিক নেতিবাচক প্রচারণাও টিকাগ্রহণে অনীহা তৈরি করেছে। এর প্রভাব শুধু হাম নয়, এইচপিভি ও কোভিড-১৯ টিকাতেও পড়েছে। তিনি আরও বলেন, আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুম নিয়েও চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছে আরও ১৮ জন। পাশাপাশি ডায়রিয়ার প্রকোপও কিছুটা বেড়েছে; বর্তমানে হাসপাতালে ৬৪ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৪ জন শিশু জেলা হাসপাতালে এবং ২ জন শিশু রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। সবগুলো মৃত্যুই ঘটেছে মার্চ মাসে। যদিও আরও কয়েকটি মৃত্যুর বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সন্দেহ থাকলেও সেগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেনি। এদিকে, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার তিনটি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৭০ হাজার ৫৯৯ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: অ্যাপস চালু, কমছে ভোগান্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: অ্যাপস চালু, কমছে ভোগান্তি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকেই সারাদেশে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। সেই সময় দেশে রমজান মাস থাকায় অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। দাম বাড়ার আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে লাইন দীর্ঘতর হয়। এর প্রভাব পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জেও। সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় পাশের দেশ ভারতে পাচারের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই জ্বালানি তেল পাচার রোধে পরিস্থিতির শুরু থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। সীমান্ত দিয়ে যেন কোনোভাবেই জ্বালানি তেল ভারতে পাচার না হতে পারে সেজন্য চেকপোস্টও বসানো হয়। পাশাপাশি প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাচার রোধে তৎপরতা শুরু করে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম বেশি। স্থানভেদে ভারতে জ্বালানি তেলের দাম ১২৫ থেকে ১৪৫ টাকার কাছাকাছি। এমন পরিস্থিতিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে, তেল মজুত করার অভিযোগ উঠলেও পাচার সম্পর্কিত কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এছাড়া মজুত রোধে জেলার সব ফিলিং স্টেশনেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। কয়েকটি পাম্পকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাও করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ মজুতকৃত জ্বালানি তেলও উদ্ধার করা হয়। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক জেলার সব পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে ৫৩ বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন, ৫৯ বিজিবির মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ও ১৬ বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়ন। এই তিন ব্যাটালিয়নের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার একাংশ, মহানন্দা ব্যাটালিয়ন শিবগঞ্জের একাংশ ও ভোলাহাট উপজেলা সীমান্ত এবং নওগাঁ ব্যাটালিয়ন গোমস্তাপুর উপজেলার সীমান্ত সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করে। জ্বালানি তেল নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির শুরু থেকে এই তিন ব্যাটালিয়ন সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছে। ৫৯ বিজিবি সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাক তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। যাতে ভারতীয় ট্রাকগুলো পণ্য খালাস করে খালি ট্রাক নিয়ে ফিরে যাবার সময় বাংলাদেশের জ্বালানি তেল নিয়ে যেতে না পারে। অন্যদিকে জেলা পুলিশ বিভিন্ন রাস্তায় চেকপোস্ট বসায়, মজুত ও পাচার রোধে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করার পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়। এছাড়া পাচার রোধে প্রকৃত কৃষকদের কৃষি বিভাগের ও বেসরকারি হাসপাতালের জেনারেটরের জন্য সিভিলে সার্জনের সুপারিশের ভিত্তিতে ডিজেল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। সতর্কতার অংশ হিসেবে কয়েক দফা পাম্পমালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈঠকও করা হয়। ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন— সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল যেন পাচার হতে না পারে সেজন্য বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে। এছাড়াও কেউ অবৈধভাবে মজুত করতে না পারে সে জন্যও বিজিবি কাজ করছে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া এর আগে জানিয়েছিলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন— পরিস্থিতির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় আছে। চেকিংয়ের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান— পাচার রোধে সংকট পরিস্থিতির শুরুতেই আমরা জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেছি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে বিজিবি সতর্ক আছে এবং চেকপোস্ট বসিয়েছে। পুলিশেরও বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট আছে এবং তারাও পাচার রোধে সচেষ্ট আছে। আমরা জেলা প্রশসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক সতর্ক আছি। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। যে কোনো ধরনের অপরাধের খবর পেলে আমাদের জানাবেন, আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন— সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই, বরং গতবারের তুলনায় এবার বেশি সরবরাহ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভোক্তাদের মধ্যে একটু মজুত করার একটি প্রবণতা থাকে এবং আতঙ্ক থাকার কারণে একটু বেশি করে তেল নিতে চায়তেন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা তেল নিতে আসতেন এবং পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় জমে যেত। এছাড়া কিছু অসাধু লোকজন সুযোগ যে নেয়নি তা নয়। আমরা দেখেছি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মজুতদারি করার একটা চেষ্টা ছিল। আমরা সেটা রোধ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের এখানে দুটি ইন্সিডেন্ট হয়েছিল। যদিও তেলের পরিমাণ খুব বেশি না, তবুও আমরা মোবাইল কোর্ট করে রিকভার করেছি। একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানাও করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট প্রতিনিয়তই চলছে। এর পাশাপাশি আমরা নতুন একটি ইনিসিয়েটিভ নিয়েছি। সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি বিতরণ সিস্টেম চালু করেছি। বুধবার (৮ এপ্রিল) শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলায় চালু করার পর বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সদর উপজেলায় অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৫০০ টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেল চালকদের ৫ দিনের তেল দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। একজন মোটরসাইকেল চালক ৫ দিনের আগে জেলার অন্য কোনো পাম্পে গেলেও তেল পাবেন না। প্রমাণ হলে তার নম্বরটি ব্লক হয়ে যাবে। এই অ্যাপস চালুর ফলে জনমনে একটা স্বস্তি ফিরে আসছে এবং ভোগান্তি কমে যাবে বলে আশা করছি। সূত্র: দৈনিক গৌড়বাংলা