চাঁপাইনবাবগঞ্জে চরাঞ্চলের ১৪টি সহ ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ১১৫ টি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চরাঞ্চলের ১৪টি সহ ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ১১৫ টি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫টি উপজেলার তিনটি সংসদীয় আসনে এবাওে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৫১৫টি। পোষ্টাল ব্যালটের নিবন্ধিত ১৮ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার ছাড়া কেন্দ্রের ভোটার ১৪ লক্ষ ২৯ হাজার ৬৬০ জন। ইতিমধ্যে প্রশাসন ১১৫টি ভোট কেন্দ্রকে ঝঁকিপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জেলার চরাঞ্চল সমূহে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ১৪টি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জ আসনে ২৩টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ৬৬টি। নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে গোমস্তাপুরে ৩২টি,নাচোলে ২১টি ও ভোলাহাটে ১৪টি কেন্দ্রকে ঝঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনের ২৫ কেন্দ্র ঝূঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ওয়াসিম ফিরোজ ও জেলা নির্বাচন অফিসার আজাদুল হেলাল এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে নূন্যতম ১ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ন্যূণতম ২ জন সশস্ত্র পুলিশ ফিক্সড দায়িত্ব পালন করবে। জেলার ৫টি থানা এলাকায় ১হাজার ৮২ জন পুলিশ দায়িত্বরত থাকবে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসন শিবগঞ্জে ২৯২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন (গোমস্তাপুরে-১৯০,নাচোলে-১২৬ ও ভোলাহাটে-৯০ জন) ৪০৬ জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন সদরে ৩৮৪ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট আরিফুর রহমান বলেন, ঝূঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন সশস্ত্র আনসার, ৬ জন লাঠিদারী আনসার ও ৪ জন নারী আনসার ও ভিডিপি সদস্য( মোট-১৩ জন) ফিক্সড দায়িত্ব পালন করবে। সাধারণ কেন্দ্রে ফিক্সড দায়িত্বে থাকবে ২জন অস্ত্রধারী আনসার,৭ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসার সদস্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩বিজিবি) অধিনায়ক লে.কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনে ১৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন হবে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ শিবগঞ্জে ৩ প্লাটুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ২ আসনের ভোলাহাটে ৪ প্লাটুন, নাচোলে ২ প্লাটুন ও গোমস্তাপুরে ২ প্লাটুন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ সদর আসনে ১ প্লাটুন রিজার্ভ সহ ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রির্টার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরে স্থাপিত নির্বাচন সেলে দায়িত্বরত এক্্িরকিউটিভ ম্যাজিষ্টেট আজামাইন মাহতাব বলেন, জেলাব্যাপী নির্বাচনী দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে ১০ জন জুডিশিয়াল এবং ২১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্টেটকে। কর্মকর্তারা বলছেন, এর বাইরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক র‌্যাব ও সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং পোর্ষ হিসেবে ও মোবাইল টিম নিয়ে মাঠে থাকবে। চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিয়ে যথা সময়ে ভোট সামগ্রী প্রেরণ ও ভোটগ্রহণ শেষে নিয়ে আসা হবে বলেও জানানো হয়েছে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি,রাজশাহীর উপস্থিতিতে সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ সভায়। মানুষের শংকা কাটাতে ভোটের দিন সামনে রেখে বাহিনীগুলো ক্রমান্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলেও ওই সভায় জানানো হয়।

নাচোলে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

নাচোলে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার নাচোলে ১ কেজি গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সদস্যরা। আটককৃতরা হলো— মৃত হারুনের ছেলে দানেশ আলী ও তার স্ত্রী তাহেরা বেগম। আজ সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা স্বামী-স্ত্রী নিজ বাড়িতে পরস্পর যোগসাজশে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নাচোল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

নাচোলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

নাচোলে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত নাচোলে মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। আজ সকালে বিদ্যালয় মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগীতা উপলক্ষে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান শিক্ষক সাাদিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দুলাল উদ্দিন খান, নাচোল সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অবসর প্রাপ্ত প্রভাষক শফিকুল আলম, নাচোল মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান, মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইয়াসিন আলী, মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। বিকেলে বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

কারাগারে নাচোলের সাবেক ইউএনও কামাল হোসেন

কারাগারে নাচোলের সাবেক ইউএনও কামাল হোসেন চাচাকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিসিএস ক্যাডার হওয়ার অভিযোগে দুদকের করা মামলায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তার জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ মামলায় কামাল হোসেন গতবছরের ১৫ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতার শর্তে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে দুই দফায় জামিনের শর্ত পালন না করায় দুদকের পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত কামাল হোসেনের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ / ৪৬৭ / ৪৬৮ / ৪৭১ ধারার অভিযোগ আনা হয়। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, মো. কামাল হোসেনের প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে তিনি আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজান। এই জালিয়াতির মাধ্যমেই তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পান। খবর বাসসের। উল্লেখ্য, মো. কামাল হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ছিলেন।

নাচোলে সরকারি গোখাদ্য পাচারের সময় হাতেনাতে আটক ২

নাচোলে সরকারি গোখাদ্য পাচারের সময় হাতেনাতে আটক ২ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সরকারি বরাদ্দের গোখাদ্য (ফিড) পাচারের চেষ্টার সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউসার আলীসহ চার স্টাফকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে তারা মুক্তি পেলেও পাচারের সঙ্গে জড়িত ক্রেতা ও চালককে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নাচোল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সরকারি গোখাদ্য পাচারের উদ্দেশ্যে একটি ভুটভুটিতে তোলা হচ্ছিল। এসময় রেলস্টেশন বাজার এলাকার পাহারাদার দোষ মোহাম্মদ ও খাদ্য গুদামের লেবার সরদার রিপন আলীর বিষয়টি নজরে আসে। তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে পাচারকারীদের ঘিরে ফেলে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গোমস্তাপুর উপজেলার বচনাতলা গ্রামের ফারিকুল (ভুটভুটি চালক) এবং ফিড ক্রেতা বোয়ালিয়া গ্রামের গাজু আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে বুধবার সকাল থেকে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে জমায়েত হতে থাকে। এসময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কাউসার আলী ও তার স্টাফরা দপ্তরের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম রব্বানী সরদার যৌথবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। তিনি বলেন, ডা. কাউসার আলীসহ তার ৪ স্টাফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আটককৃত ভুটভুটি চালক ও ক্রেতার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ডা. কাউসার আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। রাতের আঁধারে সরকারি বরাদ্দ চুরির এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাচোলে শেষ হলো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ

নাচোলে শেষ হলো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে নাচোল উপজেলায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হয়েছে। আজ নাচোল সরকারি কলেজের সম্মেলন কক্ষে এই প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন— জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার শাহাদাত হোসেন মাসুদ। তিনি একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার গোলাম রাব্বানী সরদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, সেনাবাহিনীর নাচোল ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আসিক, জেলা নির্বাচন অফিসার আজাদুল হেলাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) হাসান তারেক। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া, উপজেলা নির্বাচন অফিসার দুলাল হোসেন এবং নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আছলাম আলী। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মোট ৪৬০ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। ৫টি পৃথক হলরুমে ৫ জন দক্ষ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এতে প্রিজাইডিং অফিসার ৬০ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২৭০ জন এবং পোলিং অফিসার হিসেবে ১৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং ভোটারদের আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নাচোলে শিক্ষক রইশুদ্দীনেক অবসরজনিত সংবর্ধনা

নাচোলে শিক্ষক রইশুদ্দীনেক অবসরজনিত সংবর্ধনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মোহা. রইশুদ্দীন অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। রবিবার এই সংবর্ধনার আয়োজন করে বিদ্যালয়টি। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম, বাশিস নাচোল উপজেলা শাখার সভাপতি ও গোলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজামুল হক, রাকাব সোনাইচন্ডী শাখার ব্যবস্থাপক ওয়াহুদুজামান ও শিক্ষানুরাগী মাহবুবুল আলম। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ফান্ডের পক্ষ থেকে সঞ্চয়কৃত ১ লাখ ৭১ হাজার টাকার চেক তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন রইশুদ্দীন। মোহা. রইশুদ্দীন ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ে গণিত বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ১৯৮৯ সালের ১ জুন থেকে রাধানগর এএনসি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীকে গাণিতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সব্দলপুর গ্রামের এই কৃতী সন্তান শৈশব থেকেই মেধাবী ছিলেন। ১৯৭৫ সালে সোনাইচন্ডী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে বৃত্তি লাভ করেন। এরপর ১৯৮১ সালে সোনাইচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৪ সালে আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৬ সালে রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। তার জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজশাহী কলেজ থেকে এবং মেজ কন্যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি (অনার্স-মাস্টার্স) সম্পন্ন করেছেন। ছোট কন্যা বর্তমানে রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত।

নাচোলে গৃবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নাচোলে গৃবধুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার নাচোল উপজেলা থেকে দুই শিশু সন্তানের জননী এক গৃহবধুর গলায় রশির ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ফতেপুর ইউনিয়নের আলিশাপুর গ্রামের সলেমান আলীর স্ত্রী মুনজেলা খাতুন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত গতকাল রাতে স্বামীর বাড়িতে খাবার পর স্বামী সন্তানসহ একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন মুনজেলা। আজ ভোর রাতের দিকে সন্তানের কান্নার শব্দে স্বামী সোলেমানের ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি ঘরের দরজা খোলা ও স্ত্রীকে ঘরে অনুপস্থিত দেখেন। পরে তিনি ঘরের বাইরে এসে স্ত্রীকে বারান্দার ছাদের বাঁশের তীরের সাথে ঝুলতে দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এসময় পরিবারের অনান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা এসে মুনজেলাকে মৃত অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানান ওসি।

নাচোলে খড়ের গাদা আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত

নাচোলে খড়ের গাদা আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত নাচোলে আগুনে পুড়ে খড়ের গাদা ভস্মীভূত হয়েছে। আজ দুপুরে নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কেন্দুয়া গ্রামের হেফায়েজ মন্ডলের ছেলে মহবুল আলীর বাড়ির ছাদের উপর থাকা খড়ের গাদায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মহবুল আলী বলেন, আজ দুপুরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে খড়ের গাদায় আগুনের সূত্রপাত ঘটে। নাচোল ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা দ্রুত এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় নাচোল ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইনচার্জ এমদাদ হোসেন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জনবল সংকট : খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে নাচোল রেলস্টেশন

জনবল সংকট : খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে নাচোল রেলস্টেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ নাচোল রেলওয়ে স্টেশনটি এখন জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মাত্র তিনজন কর্মচারী দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্টেশনের কার্যক্রম। এর সাথে যোগ হয়েছে অবকাঠামোগত বেহাল দশা। কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার বালাই নেই বললেই চলে। পুরো স্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দুজন বুকিং সহকারী এবং একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। স্টেশন মাস্টারের অভাব এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দাপ্তরিক কাজ থেকে শুরু করে যাত্রীসেবা— সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মটি এখন আর যাত্রীদের জন্য নিরাপদ নয়। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্ল্যাটফর্মের ওপর দিয়েই যখন-তখন চলাচল করছে রিকশাভ্যান, অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন রেলযাত্রীরা। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্মের বড় একটি অংশ বিভিন্ন ভাসমান দোকানের দখলে চলে গেছে। হকার ও যানবাহনের দাপটে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করায় এখন যাত্রীদের দায় হয়ে পড়েছে। এছাড়া স্টেশনের ওয়াশরুমটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে নারী ও শিশুযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়ছেন। অন্যদিকে, স্টেশনে নেই কোনো কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই প্ল্যাটফর্ম বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়, তখন নোংরা পানি মাড়িয়ে যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে হয়। বর্ষাকালে এই দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এ বিষয়ে বুকিং সহকারী (ইনচার্জ) জানান, স্টেশনের এই দুরবস্থার কথা জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘এসএসএই (ওয়ার্কস) বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহী’কে বিভিন্ন সময়ে লিখিত আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। আবেদনের পর আবেদন জমা পড়লেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নাচোল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আল মাসুদ, সঞ্চয় বন্ধনে আমরা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম এবং স্থানীয় যাত্রী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নাচোল রেলস্টেশনের জনবল সংকট দূর এবং সংস্কারের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান ফিরিয়ে আনা হোক।