চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ১০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে ৫ জন ও বহির্বিভাগে ৩ জন এবং গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৩ জন রোগী। একই সময়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল থেকে ১ জন ও গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৭ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১২ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন পুরুষ এবং ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ পুরুষ ও ২ জন মহিলাসহ ৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। সিভিল সার্জন অফিস ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে সোমবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাবমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৬৫৯ জন।

পর্দা নামল মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের, চ্যাম্পিয়ন গোমস্তাপুর

পর্দা নামল মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের, চ্যাম্পিয়ন গোমস্তাপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’, ‘মাদক নয়-আম চাষে করব বিশ্বজয়’, ‘মাদককে না বলুন’— এমন সব স্লোগানে আয়োজিত মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫ শেষ হয়েছে। আজ বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নতুন স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই টুর্নামেন্ট। ফাইনাল খেলায় অংশগ্রহণ করে শিবগঞ্জ উপজেলা ও গোমস্তাপুর উপজেলা ফুটবল দল। নির্ধারিত সময়ে উভয় দলই গোল করতে ব্যর্থ হলে খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে শিবগঞ্জ উপজেলা দলকে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে গোমস্তাপুর উপজেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলা শেষে ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সোলায়মান। তিনি গোমস্তাপুর উপজেলা দলকে ‘মাদকবিরোধী বিশেষ দূত’ ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত। সভাপতির বক্তব্য দেন— মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক আলী আসলাম হোসেন। এসময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাহার আলী, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিনার জাকির মুন্সী, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজনসহ অন্যরা। জেলা প্রশাসক বলেন— আজকের এই ফুটবল টুর্নামেন্টের মূল সুর ছিল তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে সরিয়ে স্মার্ট, ফিট, হ্যান্ডসাম নাগরিক তৈরি করা। ফুটবল খেলোয়াড়রা হবে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়, তাদের কাজ চাল-চলন হবে অন্যরকম। ফুটবল খেলোয়াড়রা শুধু ফুটবল খেলবে না, সমাজের বিভিন্ন ভালো কাজ ও দুর্যোগে সবার আগে এগিয়ে গিয়ে যাবে, তারা সমাজের আইকন হবে। এ খেলা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তিনি আরো বলেন, উদ্বোধনের দিন তোমরা শপথ করেছ মাদকের বিরুদ্ধে লড়বে। আজকের চ্যাম্পিয়ন গোমস্তাপুর উপজেলা ফুটবল দল হচ্ছে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ দূত। যেখানেই মাদকের ছোবল সেখানেই তারা হানা দিয়ে তাদের বলবে, চল ভাই খেলতে যাই। উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। সহযোগিতা করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। টুর্নামেন্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, শিবগঞ্জ উপজেলা, গোমস্তাপুর উপজেলা, নাচোল উপজেলা ও ভোলাহাট উপজেলা ফুটবল দল অংশগ্রহণ করে।

মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট : জয় পেয়েছে গোমস্তাপুর

মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট : জয় পেয়েছে গোমস্তাপুর ‘খেলাধুলায় বাড়ে বল, মাদক ছেড়ে খেলতে চল’, ‘মাদক নয়-আম চাষে করব বিশ্বজয়’, ‘মাদককে না বলুন’— এমন সব স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৫। বুধবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নতুন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা বনাম গোমস্তাপুর উপজেলা ফুটবল দল। খেলার প্রথমার্ধে ৯ নম্বর জার্সি পরিহিত রনি একটি গোল করে গোমস্তাপুর দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে নিয়ে যান। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দলই গোল করতে ব্যর্থ হলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গোমস্তাপুর উপজেলা দল। আক্রমণে থেকেও গোল করতে ব্যর্থ হয় সদর উপজেলা দল। এসময় উপস্থিত ছিলেন— সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী, জেলা ক্রীড়া অফিসার আবু জাফর মাহমুদুজ্জামান। খেলার শুরুতে সকলকে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। আজ বৃহস্পতবিার বিকালে একই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে শিবগঞ্জ বনাম ভোলাহাট উপজেলা ফুটবল দল। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সোলায়মান। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন সাবেকরা। সাবেকদের ওপরেই ভরসা রেখেছে দলটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি সংসদীয় আসনেই সাবেকদের ওপরই আস্থা রেখেছে দলটি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে লড়বেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও শিবগঞ্জ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শাহজাহান মিঞা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনে লড়বেন বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সহসম্পাদক ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে লড়বেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ। তাদেরকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। আর এর মধ্যদিয়ে সমস্ত জল্পনা কল্পনার শেষ হয়ে গেল। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭ আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গোমস্তাপুরে খেলোয়াড় বাছাই ফুটবল ক্যাম্পের উদ্বোধন

গোমস্তাপুরে খেলোয়াড় বাছাই ফুটবল ক্যাম্পের উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মেধাবী খেলোয়াড় বাছাই করতে ১৫ দিনব্যাপী ফুটবল ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার বোয়ালিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল আলম শ্যামল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওই ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। ক্যাম্পের উদ্বোধনী খেলা পরিচালনা করেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ সাহাবুদ্দিন আহমেদ। এ সময় অন্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন+ গোমস্তাপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ইমামুল হুদা, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন শাখা জামায়াতের আমির রাইশুল ইসলাম, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তারুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রানাসহ অন্যরা। ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল আলম শ্যামল বলেন, বোয়ালিয়া ইউনিয়ন থেকে মেধাবী খেলোয়াড় বের করায় এই ফুটবল ক্যাম্পের উদ্দেশ্য। এই মেধাবী খেলোয়াড়রা বিকেএসপিসহ জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারে সেজন্য, এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় “সাম্য ও সমতায়, দেশ গড়বে সমবায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫৪তম জাতীয় সমবায় দিবস নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে। জেলার গোমস্তাপুর, শিবগঞ্জ, রহনপুর, নাচোল ও ভোলাহাটে স্থানীয় সমবায় অফিসের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আজ সকাল ১০টায় গোমস্তাপুরে উপজেলা চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা এলাকার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। শিবগঞ্জে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা সমবায় অফিসার মাহবুব আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাহার আলী। নাচোলেও সমবায় কার্যালয় ও স্থানীয় সমবায়ীগণের আয়োজনে শোভাযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা সমবায় অফিসার আব্দুল মান্নান হোসেন আকন্দ সভাপতিত্ব করেন। এেিদক ভোলাহাটে দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার, কৃষি কর্মকর্তা, থানা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

গোমস্তাপুরে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গোমস্তাপুরে কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে আবু সফিয়ান নামে এক কৃষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পার্বতীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের গরবাড়ি গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে বাড়ির অদুরে ইউপি ভবন এলাকার একটি আমবাগানের আমগাছের ডালের সাথে গলায় রশির ফাঁস দেয়া মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সুফিয়ান আত্মহত্যা করেছেন। তবে এর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায় নি। গোমস্তাপুর থানার ওসি ওয়াদুদ আলম বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে সুপিয়ানের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীণ বলেও জানান ওসি। সংশ্লিস্ট ইউপি চেয়ারম্যন মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সুফিয়ানের আত্মহত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায় নি।

গোমস্তাপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

গোমস্তাপুরে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা গোমস্তাপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। এতে বক্তব্য দেন— রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি ফরিদ উজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আছহাবুর রহমান, শিক্ষা অফিসার ইসাহাক আলী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াসিম আকরাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ, আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মুহাম্মদ মাসুম, রহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সোহরাব, চৌডালা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হাবিব, বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল আলম শ্যামলসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাসহ অন্যরা। সভায় আইনশৃঙ্খলাসহ উপজেলার সার্বিক বিষয়ে আলোচনা ও পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

গোমস্তাপুরে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার পাচ্ছন সাড়ে ১২ হাজার কৃষক

গোমস্তাপুরে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও সার পাচ্ছন সাড়ে ১২ হাজার কৃষক গোমস্তাপুরে রবি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে চলতি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনার বীজ ও রাসায়নিক সার পাচ্ছেন ১২ হাজার ৩০০ কৃষক।  আজ সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপজেলা চত্বরে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন— উপজেলা কৃষি অফিসার সাকলাইন হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শুভ ভৌমিক ও জেসমিন আক্তার লাবনী, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পঙ্কজ কুমার দাস, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফজলুর রহমান, রাকীব উদ্দীন, গানিউল হক, মিঠুন চন্দ্রসহ উপকারভোগী কৃষকরা। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গম, সরিষা, শীতকালীন পেঁয়াজ, চিনা বাদাম, মসুর, খেসারি, অড়হর ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে ১২ হাজার ৩০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার প্রদান করা হচ্ছে।

রহনপুরে মমতাজ বেগমের পোশালু উৎসব

রহনপুরে মমতাজ বেগমের পোশালু উৎসব শিশুদের মেধার বিকাশ ঘটাতে স্কুল শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের এবারের পোশালুতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। এবার তিনি শিশুদের মেধার বিকাশ ঘটাতে আয়োজন করেন পোশালু। পুনর্ভবা নদী ঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার প্রাণ কেন্দ্র রহনপুর পৌর এলাকার বাবুরঘোন মহল্লার ওই শিক্ষিকার বাড়িতে চলে এই আয়োজন। ৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশ নেন। শনিবার পোশালুতে নানা আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশুসহ গ্রামের নারীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শিশু শিক্ষার্থীরা গানের তালে নৃত্য, গান, কবিতা, নাটক, গম্ভীরা পরিবেশন করেন। এতে তারা গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে গ্রামের নারীরা পোশালু উৎসবের রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করেন। তারা কেউ কেউ গল্পের তালে পোশালুর সিদ্ধ ডিম থেকে খোসা ছড়াচ্ছেন। আবার কেউ ভাত রান্না করছেন। রান্না শেষে নারীরা হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলায় অংশ নিয়েছেন। দুপুরে সকলে একসঙ্গে সারিবদ্ধ হয়ে বসে খাবার খেয়েছেন। উত্তর রহনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মমতাজ বেগম এসবের আয়োজন করেন। শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়ায় সংস্কৃতিগুলো তুলে ধরতে তার এ প্রচেষ্টা বলে জানান। সেই সঙ্গে তাদের মেধার মনোনিবেশ ঘটানো ছিল তার উদ্দেশ্য। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতি বছরের বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রিয় শিক্ষিকা মমতাম বেগম গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিগুলো তুলে ধরতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এবার তিনি শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে পোশালু উৎসবের আয়োজন করেন। তারা প্রাথমিক পর্যায়ের ৭৫ জন ছাত্র-ছাত্রী এতে অংশ নিয়েছেন। তারা জানান, মমতাজ ম্যাডামের আন্তরিকতা তাদের মুগ্ধ করেছে। নতুন কিছু শিখতে ও জানতে পারলাম। ৫ম শ্রেণির ছাত্র নিরবসহ অন্য ছাত্ররা জানান, পোশালু কি তা আজ জানতে পারলাম। কিভাবে করতে হয় তা দেখলাম ও জানলাম। খেলাধুলার পাশাপাশি নাচ, গান, নাটিকাতে অংশ নিয়েছি। নানা-দাদাতের আমলে তারা কি করতেন সেটা আজ উপলদ্ধি করলাম। জেলা সদর থেকে আসা সাজিদ তৌহিদ জানান, পরিবার নিয়ে এই আয়োজনে অংশ নিয়েছি। বউ ও ছেলে বেশ খুশি। ছেলে মমতাজ আপার বাড়ির উঠানে ধান রাখার কুটি প্রথম দেখল। এছাড়া তার বাড়িতে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র রেখেছেন। পুরনো আমলের সংস্কৃতিগুলো নতুনদের সামনে তুলে ধরছেন এটা প্রশংসার দাবি রাখেন তিনি। এখানে এসে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো ভেসে উঠেছে। রহনপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হাবিবা সাত্তার জানান, এসব আয়োজন শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধার বিকাশ ঘটাবে। শিশুরা হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি জানতে পারছে, কিভাবে হতো সেটা আবার জানতে পারছে। তাদের মধ্যে মনোবিকাশ ঘটছে। এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে বেশ ভালো লাগছে। মমতাজ বেগম গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুনদের কাছে তুলে ধরছেন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আয়োজনে। এ বিষয়ে শিক্ষিকা মমতাজ বেগম বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি অনেকটা বিলুপ্তির দিকে। এসব নতুন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের উৎসব পালন করি। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য তুলে ধরতে পোশালু উৎসব করি। গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা তাকে এ উৎসবে সহায়তা করেছেন বলে তিনি জানান।