চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষক/মেন্টর তৈরি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় আইসিটি ল্যাবে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মতিন। প্রধান আলোচক ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খাঁন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লা আল মামুন। কর্মশালায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকম-লী অংশগ্রহণ করেন।
রানীহাটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটির ওরিয়েন্টেশন

রানীহাটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটির ওরিয়েন্টেশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর হাটে ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ রুখসানা খানম। ওরিয়েন্টেশান পরিচালনা করেন লাইট হাউজের দি ইউএসএআইডি আইন সহায়তা এক্টিভিটি প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন জুয়েল। সভায় ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। দি ইউএসএআইডি আইন সহায়তা এ্যাকটিভির অর্থায়নে, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর বাস্তবায়নে লাইট হাউজ এই ওরিয়েন্টেশনের আয়োজন করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএমডিএ’র ২৫০ কোটি টাকার সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএমডিএ’র ২৫০ কোটি টাকার সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকায় গভীর নলকূপের সাহায্যে দীর্ঘদিন ধরে পানি উত্তোলনের ফলে যখন ভূগর্ভের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে, যে কারণে কিছু এলাকায় যখন বোরো আবাদ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে তখন নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে বিএমডিএ’র ২৫০ কোটি টাকার ‘বরেন্দ্র এলাকার খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প’। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ। জমিতে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন সেচ দিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়বন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় বেশ কিছু খাল ও খাড়ি পুনর্খনন করা হয়েছে এবং এ কাজ এখনো চলমান রয়েছে। মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি তুলে সেইসব খালে ও খাড়িতে সংরক্ষণ করা হবে এবং সোলার বিদ্যুতের মাধ্যমে ৯৮টি সেচ পাম্প দিয়ে সেই পানি কৃষকের জমিতে সরবরাহ দেয়া হবে। বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা গোবরাতলা ইউনিয়নের গণির মোড় এলাকায় মহানন্দা নদীতে ১টি পন্টুন স্থাপন করে পন্টুনের ওপর ৮টি প্রতিটি ৫ কিউসেক ক্ষমতার সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প দিয়ে মোট ৪০ কিউসেক পানি উত্তালন করা হবে। ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ২টি এবং ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ২টি মোট ৪টি ভূগর্ভস্থ ৪৫০-৫০০ মি.মি. ডায়া এমএস পাইপের মাধ্যমে তেঘড়িয়া-মির্জাপুর খাড়িতে পানি সরবরাহ করে সংরক্ষণ করা হবে। খালে ৩০টি সোলার পাম্প স্থাপন করে খালের উভয় পাশে পানি সেচের মাধ্যমে ৫৭০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হবে। এছাড়া ওই এলাকায় ৪০টি গভীর নলকূপ দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বালিপাথর নির্গত হয়ে প্যাক্টআপ হওয়ায় সেচ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প দিয়ে সরাসরি ওই গভীর নলকূপ এলাকায় ৬০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হবে। তাছাড়া ৭ কিলোমিটার তেঘড়িয়া খাল পলি পড়ে ভরাট হওয়ায় পুনঃখনন করা প্রয়োজন হচ্ছে। ওই এলাকায় সেচের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে ফসল উৎপাদন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে পরিণত হবে। ফলে প্রায় ৯৩৬০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুনুর রশীদ বলেন, জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর এলাকায় প্রকল্পের কাজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে এবং গোমস্তাপুরের কাজ এরই মধ্যে ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার গোবরাতলার কাজটি ২০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের ধাইনগর অংশের পানি সরবরাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই শুরু হবে। এছাড়া অন্য দুটির কাজ শেষ হতে আরো মাস ছয়েক লাগবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় সবমিলিয়ে ২ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৩২০ মেট্রিক টন। তিনি বলেন— এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়ন, নাচোল উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর, রাধানগর ও পার্বতীপুর ইউনিয়নে এবার বোরো আবাদা না করে গমসহ সেচ কম লাগে এমন ফসল চাষাবাদ করতে কৃষকদের বলা হয়েছে। কারণ, এইসব অঞ্চলের ভূগর্ভের পানি অনেক নিচে নেমে গেছে। এই ভূগর্ভের পানির বিষয়টি মাথা রেখেই ‘বরেন্দ্র এলাকার খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প’টি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। এদিকে মহানন্দায় রাবার ড্যামে পানি সংরক্ষণ শুরু হওয়ায় ভূউপরিস্থ পানিরও অনেকটা সমাধান হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমছে ডেঙ্গু রোগী, নতুন আক্রান্ত ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমছে ডেঙ্গু রোগী, নতুন আক্রান্ত ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব করমে এসেছে। কোনো কোনো দিন শনাক্ত হচ্ছে না ডেঙ্গু রোগী। গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে গত রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছেন। ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে ১ জন বয়স্ক ও ১ জন শিশু ভর্তি আছেন। একই সময়ে সুস্থ হওয়ায় ৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর জেলায় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫২৮ জনে।
নাচোলে মল্লিকপুরে জোড়া খুনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

নাচোলে মল্লিকপুরে জোড়া খুনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন নাচোল উপজেলার মল্লিকপুরে জোড়াখুনের ঘটনায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-গোমস্তাপুর সড়কের মল্লিকপুর বাজারে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। বিকেলে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খলশী বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মল্লিকপুর বাজারে গিয়ে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, নিহত মাসুদ রানার পিতা এজাবুল হক, নিহত রায়হানের পিতা আব্দুর রহিম, রায়হানের ভাই জাহাঙ্গীর, আকবর, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আফজাল হোসেন। এসময় তারা নৃশংস এই জোড়া খুনের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দাবি করেন। এসময় তারা রাস্তা অবরোধ করেন। এসময় পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নিয়ে ঘরে ফিরে যান। উল্লেখ, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গরুর হাটের মাছ বিক্রির টিনশেডে প্রতিপক্ষের হামলায় ৬ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশষ্ট জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে উপজেলার খলসী গ্রামের এজাবুলের ছেলে মাসুদ ও চাঁনপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে রায়হান মারা যান। ওই ঘটনায় ৪ জন আহত হন। আহতরা হলেন- খলসী গ্রামের জালালের ছেলে সুমন, আলমের ছেলে রজব আলী ওরফে রনি, রব্বানী ওরফে পাতুর ছেলে আরমান ও ফিরোজের ছেলে ইমন। তাদের মধ্যে সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এঘটনায় নাচোল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মল্লিকপুর গ্রামের বাহার আলী মন্ডলের ছেলে আজিজুল হক, এজাবুলের ছেলে তাসিমকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
শিবগঞ্জ সীমান্তে ৩১ ভারতীয় স্মার্ট ফোন উদ্ধার

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৩১ ভারতীয় স্মার্ট ফোন উদ্ধার ভারতীয় সীমান্তে পড়ে থাকা ৩১টি মালিবহিন স্মার্ট ফোন উদ্ধার করেছে বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। গতকাল রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের একটি মাঠ থেকে জব্দ করা হয়। আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানন্দা ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন,সীমান্তে চোরাচালান বন্ধসহ অবৈধ অনুপ্রেবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। এরই মাঝে চোরাকারবারিরা মোবাইল ফোনগুলো পাচার করার সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে একটি ব্যাগ তল্লাশী চালিয়ে ৩১টি ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো কাষ্টমসে জমা দেয়া হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক জেলাপর্যায়ের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সকালে ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামুলক প্রচার কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জেলা তথ্য অফিস এই সভার আয়োজন করে। ইউনিসেফ-বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত সভাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক ও সরকারের উপসচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও। প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও বলেন, “একজন শিশু যখন দেশের মধ্যে জন্মগ্রহণ করে তখন সে দেশের সম্পদে পরিণত হয়। তার ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব তখন রাষ্ট্রের হয়ে যায়। এই শিশুদের নির্যাতন ও বাল্যবিয়ের কারণে দেশের মুখ যেন মলিন না হয়।” তিনি বলেন, “শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে রোধ করা সম্ভব হবে না। আইন মানতে হবে।” তিনি বলেন, “মাথা যার, ব্যথা তার। অর্থাৎ যার সন্তান, তাকেই বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হবে। আর আমরা যারা বাল্যবিয়ে বন্ধে কাজ করছি তাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে।” বাল্যবিয়ে মুক্ত একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাহমুদুর রশিদ বলেন, বাল্যবিয়ের কারণে একজন কিশোরী যখন মা হন এবং সেই মায়ের যখন স্বাভাবিকভাবে বাচ্চা প্রসব করানো হয় তখন অনেক সময় সেই মায়ের প্র¯্রাব ও পায়খানার পথ একীভূত হয়ে যায়। ফিস্টুলা রোগ হয়। ফলে সেই মায়ের অনবরত প্র¯্রাব-পায়খানা হতে থাকে। এর ফলে তার শরীর দিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এতে তার স্বামীসহ শ^শুরবাড়ির লোকেরা বিরক্ত হয় এবং একটা সময় সেই কিশোরী মাকে তালাক দিয়ে দেয়। একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেনÑ এমনই এক কিশোরী মাকে তালাক দেয়ায় তিনি বাপের বাড়ি চলে আসেন। কিন্তু সেখানে তার ঠাঁই হয়েছে গোয়ালঘরের এক কোণায়। কী অমানবিক!, বলেন সিভিল সার্জন। পরামর্শ সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন রাজশাহী পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. তৌহিদুজ্জামান। ধারণাপত্রে তিনি জানান, এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিয়ে হয় বাংলাদেশে এবং বিশে^ আমাদের অবস্থান সপ্তম। আর দেশের মধ্যে পিরোজপুরের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাল্যবিয়ে হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এখানে বাল্যবিয়ের হার ৬৫ শতাংশ। এসময় তিনি বাল্যবিয়ের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জনসংখ্যা, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা তুলে ধরেন এবং বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন। জেলা তথ্য অফিসার রূপ কুমার বর্মণের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবুল কালাম সাহিদ। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিপ্তরের উপপরিচালক সাহিদা আখতার, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, রেডিও মহানন্দার টেকনিক্যাল অফিসার রেজাউল করিমসহ অন্যরা। সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রচারণা বাড়ানো, জন্মনিবন্ধনে বয়স পরিবর্তন রোধ, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি বাড়ানো, সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থাসহ বিবিধ সুপারিশ পেশ করেন। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, ইমাম, পুরোহিত এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
নাচোলে ছুরিকাঘাতে ২ কিশোর নিহতের ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

নাচোলে ছুরিকাঘাতে ২ কিশোর নিহতের ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ২ জন কিশোর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ জন। নিহতরা হলেন- নাচোল উপজেলার খলসী গ্রামের মো. এজাবুলের ছেলে মো. মাসুদ (২০) ও চাঁনপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে রায়হান (১৪)। গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গরুর হাটের মাছ বিক্রির টিনশেডের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহতরা হলেন- খলসী গ্রামের জালালের ছেলে মো. সুমন (১৮), মো. আলমের ছেলে মো. রজব আলী ওরফে রনি (১৪), মো. রব্বানী ওরফে পাতুর ছেলে মো. আরমান (১৬) ও ফিরোজের ছেলে মো. ইমন (১৫)। বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম সাহিদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফ করেন তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খলসী গ্রামের একটি পেয়ারা বাগানে স্থানীয় লেবার সরদার সালাম ও সাধারণ লেবার শাহীন পলিথিন (পিপি) বাঁধার কাজ করছিল। কাজ করাকালীন কোনো এক সময়ে শাহীন গোপনে লেবার সরদার সালামের প্রসাব করার ভিডিও ধারণ করে এবং সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেয়। বিষয়টি সালামের নজরে এলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আবুল কালাম সাহিদ আরো বলেন- মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) মল্লিকপুর গরুরহাটে মল্লিকপুর শহীদ জিয়া স্মৃতি সংঘ আয়োজিত বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে আগে থেকেই শাহীন ও তার লোকজন ধারালো অস্ত্রসহ নিয়ে ওঁতপেতে ছিল। সেই অনুষ্ঠানে সালাম ও তার লোকজন গেলে শাহীন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা সালাম ও তার লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৬ জনকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে। পথে আহত মাসুদ ও রায়হান মৃত্যুবরণ করে। আহত সুমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বাকি ৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং নাচোল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নাচোল থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে মল্লিকপুর গ্রামের বাহার আলী মন্ডলের ছেলে মো. আজিজুল হক (৫২), মো. এজাবুলের ছেলে মো. তাসিম (৩২)কে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকা-ে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। প্রেস ব্রিফিংয়ে নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রইস উদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলতি বছর বিদেশে গেছেন ৭ হাজার ৬৯৩ জন কর্মী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলতি বছর বিদেশে গেছেন ৭ হাজার ৬৯৩ জন কর্মী ‘প্রবাসীর অধিকার-আমাদের অঙ্গীকার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ-আমাদের সবার’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসন এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। স্থানীয় সরকার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক ও সরকারের উপসচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁওয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন- অভিবাসনের ক্ষেত্রে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা হলো নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা। আমরা যদি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে পারি তাহলে এটি ব্যক্তিপর্যায়ে যেমন নিরাপদ হবে, পরিবারের পক্ষেও নিরাপদ হবে, তেমনি সামগ্রিকভাবে দেশ লাভবান হবে। আমাদের বাংলাদেশ থেকে যারা প্রবাসে যান অভিবাসী হিসেবে, তাদের প্রায় সবাই অদক্ষ লেবার বা শ্রমিক হিসেবে যান। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যার যে বিষয়ে অভিজ্ঞতা নেই, ওই জাতীয় কাজ তিনি কখনোই করেননি, তেমন কাজই তাদের বিদেশে গিয়ে করতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন- সাইপ্রাসে প্রধান কাজ হলো সমুদ্রে মাছ ধরা। কিন্তু যার মাছ ধরার দক্ষতা নেই, সে কি করে মাছ ধরবে? এই জন্য যখন আমরা দেশ থেকে বিদেশে যাবো, তখন খুব সতর্কতার সাথে জানতে হবে যে, ওই দেশে গিয়ে আমি কি কাজ করব? তিনি বলেন, যারা যাচ্ছেন, তাদের করণীয় হলো, তার ভিসার কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা, রিক্রুটিং এজেন্সিটি বৈধ কিনা, তারা সঠিকভাবে নিয়ে যাবে কিনা, নিয়োগকর্তার সাথে কোনো কন্ট্রাক্ট আছে কি না, অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে কিনা, কত টাকা বেতন দেয়া হবে, কি কি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে তা চুক্তিপত্রে আছে কিনা- এইসব বিষয় জেনে নিতে হবে। নইলে বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এজন্য জেনে-বুঝে বিদেশ যেতে হবে। যদি দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়া যায়, তাহলে এখন যে পরিমাণ টাকা আনতে পারছে তখন এর থেকেও বেশি আনা যাবে। জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার চেষ্টা করছে, পৃষ্ঠপোষকতা করছে। আপনাদের বিএমইটি, টিটিসির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি আছে, বোয়েসেল আছে, সেখানে একদম ন্যূনতম ব্যয়ে আমরা বিদেশ যেতে পারব। আমাদের জানতে হবে, কোথায় গেলে আমরা এই সেবাগুলো পেতে পারি। আপনারা নিজেরা জানবেন, অন্যদের জানতে ও জানাতে সহযোগিতা করবেন। তাহলে কেউ প্রতারিত হবেন না। আর দালালচক্রের মাধ্যমে কেউই বিদেশ যাবো না। নিজে দক্ষ হবো, প্রশিক্ষিত হবো তারপর বিদেশ যাবো। আব্দুস সামাদ বলেন- শুধুমাত্র দক্ষতা অর্জন করে বিদেশ যাবার কারণে ফিলিপাইনের প্রবাসীরা অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন। পক্ষান্তরে আমাদের কর্মীদের দক্ষতা না থাকায় অনেক বেশি লোক বিদেশে যাবার পরও তাদের থেকে অনেক কম মুদ্রা আয় করেন। কাজেই যে কাজে যাবেন, সেই কাজটির বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে বৈভাবে বিদেশে যাবেন, তাহলে বেশি পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হবেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র-টিটিসির অধ্যক্ষ মো. মঈন উদ্দিন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক চাঁপাইনবাবগঞ্জের দ্বিতীয় কর্মকর্তা কার্ত্তিক কুমার প্রাং। সূচনা বক্তব্যে অভিবাসন সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আখলাক-উজ-জামান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির মানবপাচার প্রতিরোধ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক দুরুল ইসলাম, ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর আশিকুজ্জামান, সফল প্রবাসী মনিরুল ইসলাম। পরে একজন ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়। এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে এ উপলক্ষে র্যালি বের করা হয়। জেলা প্রশাসন এবং জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসসহ কর্মসূচিতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ও ব্র্যাক অংশগ্রহণ করে। জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আখলাক-উজ-জামান জানান, গত একযুগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা থেকে ৬২ হাজার ৯৩৩ জন কর্মী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি জমিয়েছেন। তার মধ্যে ২০১৫ সালে গেছেন ৪ হাজার ৫৩৮ জন, ২০১৬ সালে ৫ হাজার ৬৮৩ জন, ২০১৭ সালে ৬ হাজার ৬০২ জন, ২০১৮ সালে ৬ হাজার ৮৮৯ জন, ২০১৯ সালে ৫ হাজার ৬১২ জন, ২০২০ সালে করোনা মহামারির বছরে কমে গিয়ে বিদেশ যান ১ হাজার ৮৮১ জন, ২০২১ সালে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন দেশে যান ৪ হাজার ২৬২ জন, ২০২২ সালে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে বিদেশ যান ৯ হাজার ১১৪ জন কর্মী, ২০২৩ সালে ১০ হাজার ৬৫৯ জন এবং চলতি বছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৭ হাজার ৬৯৩ জন। কানসাটে ফুটবল খেলা : কানসাটে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে কানসাট ফুটবল মাঠে খেলার উদ্বোধন করেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আখলাক-উজ-জামান। খেলার ধারাবিবরণী দেয়ার সময় দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ও নিরাপদ অভিবাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন স্লোগান প্রচার করা হয়। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলকে পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- শিবগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মো. আব্দুল তৈয়াব, কানসাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেফাউল মূলক, মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুর রহমান, কানসাট ক্লাবের সভাপতি মো. শহিদুল হক হাইদারী ও প্রয়াসের এফএসটিআইপি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. দুরুল ইসলাম। উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএসএআইডির আর্থিক সহায়তায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির এফএসটিআইপি প্রকল্পের অধীনে এই খেলার আয়োজন করা হয়।
প্রয়াসের স্মার্ট প্রকল্পের ঋণ বিতরণ ও অবহিতকরণ সভা

প্রয়াসের স্মার্ট প্রকল্পের ঋণ বিতরণ ও অবহিতকরণ সভা গোমস্তাপুরের আড্ডায় সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট) প্রকল্পের অববিহতকরণ সভা ও ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র সহযোগিতায় স্মার্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি। আজ সকালে প্রয়াসের ইউনিট-৩০ আড্ডা অফিসে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রয়াসের পরিচালক পঙ্কজ কুমার সরকার। স্মার্ট প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও স্মার্ট প্রকল্পের ফোকাল পার্সন ফারুক আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন- প্রয়াসের সহকারী পরিচালক জুলফিকার আলী, কনিষ্ঠ সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও শাহাদাৎ হোসেন, ইউনিট-৩০ ব্যবস্থাপক রাজিবুল ইসলাম, স্মার্ট প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার রিফাত আমিন হিরা, পরিবেশ কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ, এমআইএস ও ডকুমেন্টেশন অফিসার মোমেনা ফেরদৌসসহ অন্যরা। এসময় দুজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে ঋণের চেক বিতরণ করা হয় এবং উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে স্মার্ট প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। স্মার্ট প্রকল্প নিয়ে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলা এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলায় কার্যক্রম বাস্তাবায়ন করবে। এই প্রকল্পের মেয়াদকাল ৪ বছর। এর মাধ্যমে লক্ষিত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ১ হাজার ৫০০ জনকে ঋণ, অনুদান এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রিসোর্স ইফিশিয়েন্ট অ্যান্ড ক্লিনার প্রোডাকশন (আরইসিপি) চর্চার মাধ্যমে আম উৎপাদনকারী/ আমচাষি / আম ব্যবসায়ী / আম প্রক্রিয়াজাতকারী (আমসত্ব, আচার, ম্যাংগোবার, ম্যাংগোজুস, ম্যাংগো পাউডার)/ আমবাজারতাকারী (দেশ ও বিদেশ)/ আম উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে সরঞ্জাম বা মেশিনারিজ যানবাহন/নার্সারি/ জৈব সার উৎপাদন ও বাজারজাতকারী অর্থাৎ আমের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাগণ এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবে।b